| বাংলার জন্য ক্লিক করুন

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   বিশেষ প্রতিবেদন -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
সুশাসন ও জবাবদিহিতার চরম অভাব মানুষ হত্যা ও পরিবহনের নৈরাজ্য, কেরে নিচ্ছে নাগরিক অধিকার


বিশেষ প্রতিবেদন
সুশাসন ও জবাবদিহিতার চরম অভাব
মানুষ হত্যা ও পরিবহনের নৈরাজ্য, কেরে নিচ্ছে নাগরিক অধিকার
॥ মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥
মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, সমস্যা সমাধানে সরকারের মনে হয় এই একটিই উপায় আছে। তা হচ্ছে ‘বন্দুকযুদ্ধ’। যখন দেশে সুশাসন ও জবাবদিহির চরম অভাব হয়, তখনই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ জাতি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে।
পরিবেশ আন্দোলনকর্মী উত্তম হত্যার বিচার, সড়কপথে পরিবহন নৈরাজ্য ও মানুষ হত্যা বন্ধের দাবিতে এক প্রতিবাদ সভায় কথাগুলো বলেন সুলতানা কামাল। রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে ২ জুন সকালে এ সভার আয়োজন করে ২৪টি নাগরিক সংগঠন। গত ২১ মে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডে বাসের ধাক্কার পর ট্রাকচাপায় নিহত হন পরিবেশ আন্দোলনকর্মী উত্তমকুমার দেবনাথ।
সমাবেশে বাপার সহসভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ জন মানুষ মারা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এ দেশের মানুষ যেখানেই যাচ্ছে, মরিয়া হয়ে ছুটে যাচ্ছে। অন্যকে মাড়িয়ে কেন সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এ অসুস্থ প্রতিযোগিতা? এর কারণ পুরো সমাজে অনাচার ঢুকে পড়েছে, যার খেসারত দিচ্ছি আমরা সবাই মিলে।’
সুলতানা কামাল বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই, সংবেদনশীলতা ভোঁতা হয়ে গেছে। যাঁরা দেশ পরিচালনা করছেন, এ বিষয়গুলো নিয়ে তাঁদের ভাবতে হবে।
আমরা সচেতনতা সৃষ্টির জন্য দাঁড়িয়েছি। সমাবেশে বাপার আরেক সহসভাপতি রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় ভুক্তভোগীদের কান্না নীতিনির্ধারকদের কানে পৌঁছায় না। আমরা তাঁদের দেশ পরিচালনার অর্থ জোগান দিচ্ছি, তাঁরা আমাদের স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এ দেশের মানুষকে সোচ্চার হতে হবে।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা, বাপার সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন, যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হাবিব, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, সড়ক পরিবহনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এ কাজে সরকারকে সহায়তা করতে প্রস্তুত তাঁরা।
সমাবেশে উত্তমের পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণ ও ১৬টি দাবি জানিয়েছে ২৪টি সংগঠন।

রাজধানীর সহ গণপরিবহনে নজিরবিহীন নৈরাজ্য অব্যাহত রয়েছে। নগরীর পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগও নেই। ভাড়া আদায়ে স্বেচ্ছাচারিতা, সিটিং, গেটলক, স্পেশাল সার্ভিসের নামে প্রতারণা, যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ফিটনেসবিহীন গাড়ির ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল, ট্রাফিক অব্যবস্থাপনাসহ নানা কারণে গণপরিবহন এখন যাত্রীদুর্ভোগের নিত্য বাহন হয়ে উঠেছে। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের স্বার্থের সিন্ডিকেটের কারণে পদে পদে লাঞ্ছনা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, রাজধানীতে ছোট গাড়ির বিস্তার, সিটি সার্ভিসে ট্রাফিক নৈরাজ্য, চালকদের আইন না মানার প্রবণতা, অতিরিক্ত যাত্রী তুলতে বাসের প্রতিযোগিতা সহ বিভিন্ন কারণেই রাজধানীর গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। উপরন্তু যানবাহনের তুলনায় নগরীতে রাস্তার পরিমাণও কম, মাত্র ৮৮ কিলোমিটার। এর মধ্যেই চলছে রিকশা ও হিউম্যান হলার বাদেই প্রায় সাড়ে ৫ লাখ যানবাহন। বিদ্যমান রাস্তার ও এক-তৃতীয়াংশ বেদখল হয়ে আছে। আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী যান চলাচলের জন্য কোনো শহরের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ রাস্তা থাকা উচিত। রাজধানীতে সড়ক রয়েছে আয়তনের প্রায় ৮ শতাংশ। ফলে যানজট নগরবাসীর নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। তার পরও প্রতিদিন নগরীতে ব্যক্তিগত গাড়ি নামছে ৬০টির বেশি। অন্যদিকে দিনে দেড় শর বেশি মোটরবাইক নামছে রাজপথে। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে রাজধানীর গণপরিবহনে নৈরাজ্য বন্ধ করা যাবে না।
এদিকে নগর পরিবহনে সিটিং, ডাইরেক্ট, গেটলক ও স্পেশাল সার্ভিসের নামে নজিরবিহীন নৈরাজ্য চলছে। মোটরযান আইন, সরকার নির্ধারিত ভাড়া সবকিছু উপেক্ষা করে যথেচ্ছ হয়রানিতে লিপ্ত পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। ফলে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে মালিকদের নির্ধারিত অতিরিক্ত ভাড়া। সেটাও কিলোমিটার হিসাবে নয়, পরিবহন মালিকদের ইচ্ছামতো চাপিয়ে দেওয়া। অল্প দূরত্বের যাত্রীকে গুনতে হচ্ছে পুরো পথের ভাড়া। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অল্প দূরত্বের যাত্রীদের বাসেও তোলা হচ্ছে না। বিশেষ করে সিটি সড়কের মধ্যবর্তী এলাকার যাত্রীদের ভোগান্তিকে সঙ্গী করে গন্তব্যে যাতায়াত করতে হয়। রাজধানীর শেওড়াপাড়া থেকে মতিঝিলে অফিস করেন সরকারি বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য কর্মজীবি মানুষ। তাদের প্রতিদিন সকালে অফিসে যেতে রীতিমতো যুদ্ধে নামতে হয়। সকালে মিরপুর-পল্লবী থেকে যেসব বাস ছেড়ে আসে তার প্রায় সবই “সিটিং”, “গেটলক” হিসেবে দরজা বন্ধ করে মাঝপথের হাজার হাজার যাত্রীর সামনে দিয়ে গন্তব্যের দিকে চলে যায়। তারা হাঁ করে তাকিয়ে থাকে। তালতলা, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়ার যাত্রীরা এ সময় বাসে উঠতে পারেন না। এজন্য তাদের সকাল ৯টার অফিস ধরতে ৭টার আগেই রাস্তায় নামতে হয়।
ভাড়া ডাইরেক্ট, সার্ভিস লোকাল রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসগুলোর মালিক সমিতি সিটিং, ডাইরেক্ট, লোকাল সিটিং, গেটলক, স্পেশাল ইত্যাদি বাহারি নামে যাত্রীপীড়নের সব পন্থা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছে। অনেক বাসে একটাই ভাড়া, যাত্রী যেখানেই নামুক না কেন। ভাড়া ডাইরেক্ট হলেও যাত্রী কম পেলে তারা যে কোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে লোকাল বাসের মতোই যাত্রী তুলতে দ্বিধা করে না। টঙ্গী-সদরঘাট রুটে চলাচলকারী সুপ্রভাত পরিবহন একসময় ছিল এই রুটের সবচেয়ে খারাপ বাস সার্ভিস। এটি এখন ‘সুপ্রভাত স্পেশাল সার্ভিস’ নাম দিয়ে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে। তাদের ১৫ টাকার নিচে কোনো ভাড়া নেই। যাত্রী তোলে হাত দেখালেই। পরিবহন কর্মীরা ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে প্রায়ই দুর্ব্যবহার করেন। সম্পতি ‘আকাশ সুপ্রভাত স্পেশাল সার্ভিস’ নামে উত্তরা দিয়াবাড়ী থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত নতুন সার্ভিস চালু করেছেন তাদেরই সহযোগীরা। জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার দিয়ে টঙ্গী থেকে মিরপুরে চলাচলকারী বাসগুলোও গলা কাটা ভাড়া আদায় করে। শুধু ফ্লাইওভার পার হতেই ২০ টাকা আদায় করে এই রুটে চলাচলকারী সব পরিবহন।
লোকাল বাসের খোঁজ নেই যানবাহন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বিআরটিএর কার্যকর তদারকির অভাবে বর্তমানে মিরপুর-মতিঝিল বা মিরপুর-গুলিস্তান রোডে কোনো লোকাল বাস নেই। সব সার্ভিসই ডাইরেক্ট, সিটিং। কিন্তু অফ পিকআওয়ারে এসব বাস চলে লোকালের মতো, ভাড়া দিতে হয় ডাইরেক্ট বাসের। একই অবস্থা মিরপুর থেকে নগরীর অন্য রুট গুলোয় চলাচলকারী বাস সার্ভিসের ক্ষেত্রেও। মিরপুর থেকে চলাচলকারী চয়েজ, সিল্কসিটি, বিকল্প, বিহঙ্গ, শিখর, ইটিসি, ইউনাইটেড, দিশারী, নিউভিশন, সুপার সিটিং, শিকড়সহ বিভিন্ন কোম্পানির মিনিবাস সিটিং সার্ভিস হিসেবে চলছে। এ ছাড়া বিমানবন্দর সড়কে চলাচলকারী গাজীপুর পরিবহন, প্রভাতী, আজমেরী, সুপ্রভাত স্পেশালসহ আরও কয়েকটি পরিবহন একই কায়দায় সিটিংয়ের নামে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যখন বিভিন্ন কারণে রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা কমে যায় তখন যাত্রীদের দুর্ভোগ পুঁজি করে লোকাল মিনিবাসগুলোও ‘সিটিং সার্ভিস’ ঘোষণা করে। এমনকি দ্বিগুণ-তিন গুণ ভাড়া আদায় করতেও দ্বিধা করে না। অভিযোগ শোনার কেউ নেই : অনিয়ম দূর করা দায়িত্ব যাদের, তাদের নাকের ডগায় এভাবে অনিয়ম ঘটছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএতে যাত্রীদের অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থাই নেই। তারা মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার উদ্যোগ নিলেও পুলিশি সহযোগিতার অভাবে তা কার্যকর হয় না। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা নিজেদের স্বার্থের ব্যাপারে বেপরোয়া। পুলিশও প্রায় সব ক্ষেত্রেই নির্বিকার থাকে। যাত্রী তুলতে এবং আগে যেতে পরস্পরের সঙ্গে বাসের রেষারেষিতে প্রায়ই জীবনহানির মতো ঘটনা ঘটে। মাঝে মাঝেই দুই বাসের মাঝে পড়ে পথচারীর মৃত্যু ঘটছে সড়কে।সম্প্রতি রাজধানীর ফার্মগেটে দুই বাসের মাঝে পড়ে বাঁ হাত হারিয়েছেন রাজীব হোসেন (২২) নামে এক যুবক।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, নগর পরিবহনের নৈরাজ্য রোধে যাত্রীদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। ঢাকা মেট্রোপলিটন রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট কমিটিতে (মেট্রো আরটিসি) যাত্রীদের কোনো প্রতিনিধি নেই। পরিবহন মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে নগর পরিবহনে নৈরাজ্য বন্ধ হচ্ছে না। পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এস এম সালেহ উদ্দিন বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, মহাসড়কে লেন যত বাড়ানো হবে কিংবা সড়ক যত বাড়বে গাড়ির সংখ্যা তত বাড়তে থাকবে। ঢাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক গাড়ি নামছে। এসব ব্যক্তিগত ছোট গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে রাজধানীর ভোগান্তি কমানো যাবে না। তিনি বলেন, সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে চালকদের ট্রাফিক আইন মানতে বাধ্য করতে হবে। ছোট গাড়ি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণকরতে হবে। সড়ক ও ফুটপাথ দখল কঠোরভাবে ঠেকাতে হবে। বন্ধ করতে হবে রাস্তায় অবাধে গাড়ি রাখার প্রবণতা।
বাঁচানো গেল না দুই বাসের চাপায় হাত হারানো রাজীবকে
রাজধানীর কাওরান বাজারে দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানো পর অনেক চেষ্টা করেও বাঁচানো গেলোনা কলেজছাত্র রাজীব হোসেনকে।১৬ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মারা যান তিনি।
৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে বিআরটিসি বাসের সঙ্গে স্বজন পরিবহনের বাস টক্কর দিতে গেলে বাস দু’টির চিপায় পড়ে ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় রাজীবের। সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের এ ছাত্রকে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরদিন ঢামেকে নিয়ে আসা হয়। সেখানে সরকারের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামের রাজীব তৃতীয় শ্রেণিতে থাকাকালে মাকে এবং অষ্টম শ্রেণিতে থাকাকালে বাবাকে হারান। এরপর মতিঝিলে খালা জাহানারা বেগমের বাসায় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। মহাখালীর তিতুমীর কলেজে স্নাতকে ভর্তি হওয়ার পর যাত্রাবাড়ীতে মেসে ভাড়ায় থেকে পড়াশোনা করছিলেন রাজীব। এর পাশাপাশি তিনি একটি কম্পিউটারের দোকানেও কাজ করছিলেন। নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি ছোট দুই ভাইয়ের খরচও চালাতে হতো রাজীবকে।
রাজীবের হাত বিছিন্ন করে ফেলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৪ এপ্রিল বিআরটিসি বাসের চালক ওয়াহিদ (৩৫) ও স্বজন বাসের চালক খোরশেদকে (৫০) গ্রেফতার করা হয়। ৫ এপ্রিল দু’জনকে আদালতে তোলা হলে তাদের দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। ৮ এপ্রিল দু’জনকে পাঠানো হয় কারাগারে। রাজীবের মামলা এখনো ঝুলে আছে হাইকোর্টে
কে দিবে রাজীবের ১ কোটি টাকা ক্ষতি পূরণ বিআরটিসি না স্বজন পরিবহন আদো রাজীবের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবে কি ?
রাজীবের পর চলে গেলেন রোজিনাও
রাজীবের পর চলে গেলেন রাজধানীর বনানীতে বাসের চাপায় পা হারানো রোজিনা আক্তারও। ২৯ এপ্রিল সকাল ৭টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রজিনা(২১)। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে রোজিনার বাবা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ময়মনসিংহের মেয়ে রোজিনা গত ১০ বছর ধরে ঢাকায় সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজার বাসায় কাজ করে আসছিলেন।
গত ২০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টার দিকে বনানীর চেয়ারম্যান বাড়িতে রাস্তা পার হওয়ার সময় বিআরটিসির একটি বাসের চাপায় তার পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর পর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন রোজিনা।
হাসপাতালে প্রথমবার অস্ত্রোপচারে রোজিনার ডান পা উরু থেকে কেটে ফেলা হয়। কিন্তু সেখানে পচন ধরায় আবারও অস্ত্রোপচার করে বাকি অংশটুকু ফেলে দিতে হয়।
এর পর থেকে ক্রমে তার অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকে।
এ ছাড়া গত ১০ এপ্রিল ফার্মগেটে বাসচাপায় পা থেঁতলে যায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী রুনি আক্তারের।

গণপরিবহনে নারীদের হেনস্তা ও যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদী হয়ে উঠছেন নারীরা। ফেসবুকে প্রতিবাদ হচ্ছে।মানববন্ধন হচ্ছে। আবার কেউ কেউ একাই নেমে পড়েছেন রাস্তায়। গতকাল দুপুরে কাঠফাঁটা রোদ মাথায় নিয়ে রাজধানীর শ্যামলীতে সড়কের আইল্যান্ডে পোস্টার হাতে একাই দাঁড়িয়ে ছিলেন এক তরুণী।
হাতে লেখা পোস্টারে যৌন নিপীড়নবিরোধী বার্তা নিয়ে রাস্তায় দাঁড়ানো এই তরুণীর নাম কানিজ ফাতেমা। রাস্তা পারাপারের সময় অনেকই দেখছেন তার এ প্রতিবাদ। এর আগে গত ২ এপ্রিল ধর্ষণের প্রতিবাদ করতে রাজধানীর উত্তরায় একাই পথে নেমেছিলেন আফসানা কিশোয়ার লোচন নামের এক নারী।
কানিজ ফাতেমা পড়াশোনা করছেন সিটি কলেজে। যখনই সুযোগ পান, পোস্টার নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন তিনি। গণপরিবহনে নারীদের হেনস্তা ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করেন। পোস্টারে তিনি লিখেছেন, এই অসুস্থ সমাজটাকে সুস্থ করার দায়িত্ব আমাদের সবার। এগিয়ে আসুন, যেন নিরাপদ থাকে প্রত্যেকটি ঘরের নারী। দিন শেষে যেন কোনো মেয়েকে হতে না হয় ‘ধর্ষিতা’। বন্ধ হোক গণপরিবহনে যৌন হয়রানি, হেল্প লাইন ৯৯৯। মানুষের সচেতনতা বাড়াতেই রাস্তায় নেমেছেন বলে জানান ফাতেমা। বলেন, কেবল আজকেই প্রতিবাদ করছি তা নয়। যখনই সুযোগ হয় তখনই রাস্তায়, বাসে পোস্টার নিয়ে দাঁড়াই। যাতে মানুষ এসব নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। লোকজনের প্রতিক্রিয়া কেমন জানতে চাইলে কানিজ ফাতেমা বলেন, ‘অনেকই প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ নিজে দাঁড়াবেন বলে জানিয়েছেন। আবার অনেকে বিদ্রুপের চোখে দেখেছেন। কেউ বা প্রশ্ন করেছেনÑ আমি যৌন নিপীড়নের কী বুঝি। আবার কেউ বলছেন সব পোশাকের দোষ।’ কেন এভাবে একা দাঁড়ানো প্রশ্নে কানিজ ফাতেমা বলেন, গণপরিবহনে একের পর এক এ ধরনের ঘটনা কোনো সুস্থ সমাজে হতে পারে না। গণপরিবহনে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তাসহ নারীর স্বাধীনভাবে চলাচল নিশ্চিতকরণের দাবি সবার হওয়া উচিত। নাগরিক সমাজকে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাতে আমার এ উদ্যোগ।
রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় গত ২১ এপ্রিল তুরাগ পরিবহনে উত্তরা ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত উত্তরা ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য ওই ছাত্রী উত্তর বাড্ডা থেকে তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। তখন বাসে যাত্রী ছিল ৭-৮ জন। নাটকীয়ভাবে বাস কর্মচারীরা বাস সামনে যাবে বলে যাত্রীদের নামাতে থাকে এবং নতুন কোনো যাত্রী উঠানো বন্ধ রাখে। এসময় ওই ছাত্রীর সন্দেহ হলে তিনি বাস থেকে নামার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাসের হেলপার দরজা বন্ধ করে দেয় এবং কন্ডাক্টর ছাত্রীর হাত ধরে টানতে শুরু করে। কন্ডাক্টর ও হেলপারের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে চলন্ত গাড়ি থেকে রাস্তায় লাফিয়ে পড়েন ওই ছাত্রী। এরপর তিনি অন্য একটি বাসে চড়ে ইউনিভার্সিটিতে চলে আসেন।
বাস ড্রাইভার শ্রমিক ও মালিকদের নৈরাজ্য লাগাম টানতে কঠোর আইন প্রয়োগ ও সরকারের উচচ মহলের কঠিন হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি যাত্রী ও পথচারীদের সচেতনতার সাথে চলাফেরা করতে উদ্ভুত করতে হবে। তাহলে হয়তো পরিবহনের লাগামহীন নৈরাজ্য থেকে রক্ষা পাবে তাজা প্রাণ।

 

সুশাসন ও জবাবদিহিতার চরম অভাব মানুষ হত্যা ও পরিবহনের নৈরাজ্য, কেরে নিচ্ছে নাগরিক অধিকার
                                  


বিশেষ প্রতিবেদন
সুশাসন ও জবাবদিহিতার চরম অভাব
মানুষ হত্যা ও পরিবহনের নৈরাজ্য, কেরে নিচ্ছে নাগরিক অধিকার
॥ মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥
মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, সমস্যা সমাধানে সরকারের মনে হয় এই একটিই উপায় আছে। তা হচ্ছে ‘বন্দুকযুদ্ধ’। যখন দেশে সুশাসন ও জবাবদিহির চরম অভাব হয়, তখনই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ জাতি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে।
পরিবেশ আন্দোলনকর্মী উত্তম হত্যার বিচার, সড়কপথে পরিবহন নৈরাজ্য ও মানুষ হত্যা বন্ধের দাবিতে এক প্রতিবাদ সভায় কথাগুলো বলেন সুলতানা কামাল। রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে ২ জুন সকালে এ সভার আয়োজন করে ২৪টি নাগরিক সংগঠন। গত ২১ মে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডে বাসের ধাক্কার পর ট্রাকচাপায় নিহত হন পরিবেশ আন্দোলনকর্মী উত্তমকুমার দেবনাথ।
সমাবেশে বাপার সহসভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ জন মানুষ মারা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এ দেশের মানুষ যেখানেই যাচ্ছে, মরিয়া হয়ে ছুটে যাচ্ছে। অন্যকে মাড়িয়ে কেন সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এ অসুস্থ প্রতিযোগিতা? এর কারণ পুরো সমাজে অনাচার ঢুকে পড়েছে, যার খেসারত দিচ্ছি আমরা সবাই মিলে।’
সুলতানা কামাল বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই, সংবেদনশীলতা ভোঁতা হয়ে গেছে। যাঁরা দেশ পরিচালনা করছেন, এ বিষয়গুলো নিয়ে তাঁদের ভাবতে হবে।
আমরা সচেতনতা সৃষ্টির জন্য দাঁড়িয়েছি। সমাবেশে বাপার আরেক সহসভাপতি রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় ভুক্তভোগীদের কান্না নীতিনির্ধারকদের কানে পৌঁছায় না। আমরা তাঁদের দেশ পরিচালনার অর্থ জোগান দিচ্ছি, তাঁরা আমাদের স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এ দেশের মানুষকে সোচ্চার হতে হবে।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা, বাপার সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন, যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হাবিব, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, সড়ক পরিবহনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এ কাজে সরকারকে সহায়তা করতে প্রস্তুত তাঁরা।
সমাবেশে উত্তমের পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণ ও ১৬টি দাবি জানিয়েছে ২৪টি সংগঠন।

রাজধানীর সহ গণপরিবহনে নজিরবিহীন নৈরাজ্য অব্যাহত রয়েছে। নগরীর পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগও নেই। ভাড়া আদায়ে স্বেচ্ছাচারিতা, সিটিং, গেটলক, স্পেশাল সার্ভিসের নামে প্রতারণা, যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ফিটনেসবিহীন গাড়ির ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল, ট্রাফিক অব্যবস্থাপনাসহ নানা কারণে গণপরিবহন এখন যাত্রীদুর্ভোগের নিত্য বাহন হয়ে উঠেছে। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের স্বার্থের সিন্ডিকেটের কারণে পদে পদে লাঞ্ছনা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, রাজধানীতে ছোট গাড়ির বিস্তার, সিটি সার্ভিসে ট্রাফিক নৈরাজ্য, চালকদের আইন না মানার প্রবণতা, অতিরিক্ত যাত্রী তুলতে বাসের প্রতিযোগিতা সহ বিভিন্ন কারণেই রাজধানীর গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। উপরন্তু যানবাহনের তুলনায় নগরীতে রাস্তার পরিমাণও কম, মাত্র ৮৮ কিলোমিটার। এর মধ্যেই চলছে রিকশা ও হিউম্যান হলার বাদেই প্রায় সাড়ে ৫ লাখ যানবাহন। বিদ্যমান রাস্তার ও এক-তৃতীয়াংশ বেদখল হয়ে আছে। আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী যান চলাচলের জন্য কোনো শহরের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ রাস্তা থাকা উচিত। রাজধানীতে সড়ক রয়েছে আয়তনের প্রায় ৮ শতাংশ। ফলে যানজট নগরবাসীর নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। তার পরও প্রতিদিন নগরীতে ব্যক্তিগত গাড়ি নামছে ৬০টির বেশি। অন্যদিকে দিনে দেড় শর বেশি মোটরবাইক নামছে রাজপথে। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে রাজধানীর গণপরিবহনে নৈরাজ্য বন্ধ করা যাবে না।
এদিকে নগর পরিবহনে সিটিং, ডাইরেক্ট, গেটলক ও স্পেশাল সার্ভিসের নামে নজিরবিহীন নৈরাজ্য চলছে। মোটরযান আইন, সরকার নির্ধারিত ভাড়া সবকিছু উপেক্ষা করে যথেচ্ছ হয়রানিতে লিপ্ত পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। ফলে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে মালিকদের নির্ধারিত অতিরিক্ত ভাড়া। সেটাও কিলোমিটার হিসাবে নয়, পরিবহন মালিকদের ইচ্ছামতো চাপিয়ে দেওয়া। অল্প দূরত্বের যাত্রীকে গুনতে হচ্ছে পুরো পথের ভাড়া। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অল্প দূরত্বের যাত্রীদের বাসেও তোলা হচ্ছে না। বিশেষ করে সিটি সড়কের মধ্যবর্তী এলাকার যাত্রীদের ভোগান্তিকে সঙ্গী করে গন্তব্যে যাতায়াত করতে হয়। রাজধানীর শেওড়াপাড়া থেকে মতিঝিলে অফিস করেন সরকারি বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য কর্মজীবি মানুষ। তাদের প্রতিদিন সকালে অফিসে যেতে রীতিমতো যুদ্ধে নামতে হয়। সকালে মিরপুর-পল্লবী থেকে যেসব বাস ছেড়ে আসে তার প্রায় সবই “সিটিং”, “গেটলক” হিসেবে দরজা বন্ধ করে মাঝপথের হাজার হাজার যাত্রীর সামনে দিয়ে গন্তব্যের দিকে চলে যায়। তারা হাঁ করে তাকিয়ে থাকে। তালতলা, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়ার যাত্রীরা এ সময় বাসে উঠতে পারেন না। এজন্য তাদের সকাল ৯টার অফিস ধরতে ৭টার আগেই রাস্তায় নামতে হয়।
ভাড়া ডাইরেক্ট, সার্ভিস লোকাল রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসগুলোর মালিক সমিতি সিটিং, ডাইরেক্ট, লোকাল সিটিং, গেটলক, স্পেশাল ইত্যাদি বাহারি নামে যাত্রীপীড়নের সব পন্থা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছে। অনেক বাসে একটাই ভাড়া, যাত্রী যেখানেই নামুক না কেন। ভাড়া ডাইরেক্ট হলেও যাত্রী কম পেলে তারা যে কোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে লোকাল বাসের মতোই যাত্রী তুলতে দ্বিধা করে না। টঙ্গী-সদরঘাট রুটে চলাচলকারী সুপ্রভাত পরিবহন একসময় ছিল এই রুটের সবচেয়ে খারাপ বাস সার্ভিস। এটি এখন ‘সুপ্রভাত স্পেশাল সার্ভিস’ নাম দিয়ে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে। তাদের ১৫ টাকার নিচে কোনো ভাড়া নেই। যাত্রী তোলে হাত দেখালেই। পরিবহন কর্মীরা ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে প্রায়ই দুর্ব্যবহার করেন। সম্পতি ‘আকাশ সুপ্রভাত স্পেশাল সার্ভিস’ নামে উত্তরা দিয়াবাড়ী থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত নতুন সার্ভিস চালু করেছেন তাদেরই সহযোগীরা। জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার দিয়ে টঙ্গী থেকে মিরপুরে চলাচলকারী বাসগুলোও গলা কাটা ভাড়া আদায় করে। শুধু ফ্লাইওভার পার হতেই ২০ টাকা আদায় করে এই রুটে চলাচলকারী সব পরিবহন।
লোকাল বাসের খোঁজ নেই যানবাহন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বিআরটিএর কার্যকর তদারকির অভাবে বর্তমানে মিরপুর-মতিঝিল বা মিরপুর-গুলিস্তান রোডে কোনো লোকাল বাস নেই। সব সার্ভিসই ডাইরেক্ট, সিটিং। কিন্তু অফ পিকআওয়ারে এসব বাস চলে লোকালের মতো, ভাড়া দিতে হয় ডাইরেক্ট বাসের। একই অবস্থা মিরপুর থেকে নগরীর অন্য রুট গুলোয় চলাচলকারী বাস সার্ভিসের ক্ষেত্রেও। মিরপুর থেকে চলাচলকারী চয়েজ, সিল্কসিটি, বিকল্প, বিহঙ্গ, শিখর, ইটিসি, ইউনাইটেড, দিশারী, নিউভিশন, সুপার সিটিং, শিকড়সহ বিভিন্ন কোম্পানির মিনিবাস সিটিং সার্ভিস হিসেবে চলছে। এ ছাড়া বিমানবন্দর সড়কে চলাচলকারী গাজীপুর পরিবহন, প্রভাতী, আজমেরী, সুপ্রভাত স্পেশালসহ আরও কয়েকটি পরিবহন একই কায়দায় সিটিংয়ের নামে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যখন বিভিন্ন কারণে রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা কমে যায় তখন যাত্রীদের দুর্ভোগ পুঁজি করে লোকাল মিনিবাসগুলোও ‘সিটিং সার্ভিস’ ঘোষণা করে। এমনকি দ্বিগুণ-তিন গুণ ভাড়া আদায় করতেও দ্বিধা করে না। অভিযোগ শোনার কেউ নেই : অনিয়ম দূর করা দায়িত্ব যাদের, তাদের নাকের ডগায় এভাবে অনিয়ম ঘটছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএতে যাত্রীদের অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থাই নেই। তারা মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার উদ্যোগ নিলেও পুলিশি সহযোগিতার অভাবে তা কার্যকর হয় না। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা নিজেদের স্বার্থের ব্যাপারে বেপরোয়া। পুলিশও প্রায় সব ক্ষেত্রেই নির্বিকার থাকে। যাত্রী তুলতে এবং আগে যেতে পরস্পরের সঙ্গে বাসের রেষারেষিতে প্রায়ই জীবনহানির মতো ঘটনা ঘটে। মাঝে মাঝেই দুই বাসের মাঝে পড়ে পথচারীর মৃত্যু ঘটছে সড়কে।সম্প্রতি রাজধানীর ফার্মগেটে দুই বাসের মাঝে পড়ে বাঁ হাত হারিয়েছেন রাজীব হোসেন (২২) নামে এক যুবক।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, নগর পরিবহনের নৈরাজ্য রোধে যাত্রীদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। ঢাকা মেট্রোপলিটন রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট কমিটিতে (মেট্রো আরটিসি) যাত্রীদের কোনো প্রতিনিধি নেই। পরিবহন মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে নগর পরিবহনে নৈরাজ্য বন্ধ হচ্ছে না। পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এস এম সালেহ উদ্দিন বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, মহাসড়কে লেন যত বাড়ানো হবে কিংবা সড়ক যত বাড়বে গাড়ির সংখ্যা তত বাড়তে থাকবে। ঢাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক গাড়ি নামছে। এসব ব্যক্তিগত ছোট গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে রাজধানীর ভোগান্তি কমানো যাবে না। তিনি বলেন, সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে চালকদের ট্রাফিক আইন মানতে বাধ্য করতে হবে। ছোট গাড়ি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণকরতে হবে। সড়ক ও ফুটপাথ দখল কঠোরভাবে ঠেকাতে হবে। বন্ধ করতে হবে রাস্তায় অবাধে গাড়ি রাখার প্রবণতা।
বাঁচানো গেল না দুই বাসের চাপায় হাত হারানো রাজীবকে
রাজধানীর কাওরান বাজারে দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানো পর অনেক চেষ্টা করেও বাঁচানো গেলোনা কলেজছাত্র রাজীব হোসেনকে।১৬ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মারা যান তিনি।
৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে বিআরটিসি বাসের সঙ্গে স্বজন পরিবহনের বাস টক্কর দিতে গেলে বাস দু’টির চিপায় পড়ে ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় রাজীবের। সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের এ ছাত্রকে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরদিন ঢামেকে নিয়ে আসা হয়। সেখানে সরকারের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামের রাজীব তৃতীয় শ্রেণিতে থাকাকালে মাকে এবং অষ্টম শ্রেণিতে থাকাকালে বাবাকে হারান। এরপর মতিঝিলে খালা জাহানারা বেগমের বাসায় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। মহাখালীর তিতুমীর কলেজে স্নাতকে ভর্তি হওয়ার পর যাত্রাবাড়ীতে মেসে ভাড়ায় থেকে পড়াশোনা করছিলেন রাজীব। এর পাশাপাশি তিনি একটি কম্পিউটারের দোকানেও কাজ করছিলেন। নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি ছোট দুই ভাইয়ের খরচও চালাতে হতো রাজীবকে।
রাজীবের হাত বিছিন্ন করে ফেলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৪ এপ্রিল বিআরটিসি বাসের চালক ওয়াহিদ (৩৫) ও স্বজন বাসের চালক খোরশেদকে (৫০) গ্রেফতার করা হয়। ৫ এপ্রিল দু’জনকে আদালতে তোলা হলে তাদের দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। ৮ এপ্রিল দু’জনকে পাঠানো হয় কারাগারে। রাজীবের মামলা এখনো ঝুলে আছে হাইকোর্টে
কে দিবে রাজীবের ১ কোটি টাকা ক্ষতি পূরণ বিআরটিসি না স্বজন পরিবহন আদো রাজীবের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবে কি ?
রাজীবের পর চলে গেলেন রোজিনাও
রাজীবের পর চলে গেলেন রাজধানীর বনানীতে বাসের চাপায় পা হারানো রোজিনা আক্তারও। ২৯ এপ্রিল সকাল ৭টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রজিনা(২১)। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে রোজিনার বাবা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ময়মনসিংহের মেয়ে রোজিনা গত ১০ বছর ধরে ঢাকায় সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজার বাসায় কাজ করে আসছিলেন।
গত ২০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টার দিকে বনানীর চেয়ারম্যান বাড়িতে রাস্তা পার হওয়ার সময় বিআরটিসির একটি বাসের চাপায় তার পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর পর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন রোজিনা।
হাসপাতালে প্রথমবার অস্ত্রোপচারে রোজিনার ডান পা উরু থেকে কেটে ফেলা হয়। কিন্তু সেখানে পচন ধরায় আবারও অস্ত্রোপচার করে বাকি অংশটুকু ফেলে দিতে হয়।
এর পর থেকে ক্রমে তার অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকে।
এ ছাড়া গত ১০ এপ্রিল ফার্মগেটে বাসচাপায় পা থেঁতলে যায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী রুনি আক্তারের।

গণপরিবহনে নারীদের হেনস্তা ও যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদী হয়ে উঠছেন নারীরা। ফেসবুকে প্রতিবাদ হচ্ছে।মানববন্ধন হচ্ছে। আবার কেউ কেউ একাই নেমে পড়েছেন রাস্তায়। গতকাল দুপুরে কাঠফাঁটা রোদ মাথায় নিয়ে রাজধানীর শ্যামলীতে সড়কের আইল্যান্ডে পোস্টার হাতে একাই দাঁড়িয়ে ছিলেন এক তরুণী।
হাতে লেখা পোস্টারে যৌন নিপীড়নবিরোধী বার্তা নিয়ে রাস্তায় দাঁড়ানো এই তরুণীর নাম কানিজ ফাতেমা। রাস্তা পারাপারের সময় অনেকই দেখছেন তার এ প্রতিবাদ। এর আগে গত ২ এপ্রিল ধর্ষণের প্রতিবাদ করতে রাজধানীর উত্তরায় একাই পথে নেমেছিলেন আফসানা কিশোয়ার লোচন নামের এক নারী।
কানিজ ফাতেমা পড়াশোনা করছেন সিটি কলেজে। যখনই সুযোগ পান, পোস্টার নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন তিনি। গণপরিবহনে নারীদের হেনস্তা ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করেন। পোস্টারে তিনি লিখেছেন, এই অসুস্থ সমাজটাকে সুস্থ করার দায়িত্ব আমাদের সবার। এগিয়ে আসুন, যেন নিরাপদ থাকে প্রত্যেকটি ঘরের নারী। দিন শেষে যেন কোনো মেয়েকে হতে না হয় ‘ধর্ষিতা’। বন্ধ হোক গণপরিবহনে যৌন হয়রানি, হেল্প লাইন ৯৯৯। মানুষের সচেতনতা বাড়াতেই রাস্তায় নেমেছেন বলে জানান ফাতেমা। বলেন, কেবল আজকেই প্রতিবাদ করছি তা নয়। যখনই সুযোগ হয় তখনই রাস্তায়, বাসে পোস্টার নিয়ে দাঁড়াই। যাতে মানুষ এসব নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। লোকজনের প্রতিক্রিয়া কেমন জানতে চাইলে কানিজ ফাতেমা বলেন, ‘অনেকই প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ নিজে দাঁড়াবেন বলে জানিয়েছেন। আবার অনেকে বিদ্রুপের চোখে দেখেছেন। কেউ বা প্রশ্ন করেছেনÑ আমি যৌন নিপীড়নের কী বুঝি। আবার কেউ বলছেন সব পোশাকের দোষ।’ কেন এভাবে একা দাঁড়ানো প্রশ্নে কানিজ ফাতেমা বলেন, গণপরিবহনে একের পর এক এ ধরনের ঘটনা কোনো সুস্থ সমাজে হতে পারে না। গণপরিবহনে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তাসহ নারীর স্বাধীনভাবে চলাচল নিশ্চিতকরণের দাবি সবার হওয়া উচিত। নাগরিক সমাজকে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাতে আমার এ উদ্যোগ।
রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় গত ২১ এপ্রিল তুরাগ পরিবহনে উত্তরা ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত উত্তরা ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য ওই ছাত্রী উত্তর বাড্ডা থেকে তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। তখন বাসে যাত্রী ছিল ৭-৮ জন। নাটকীয়ভাবে বাস কর্মচারীরা বাস সামনে যাবে বলে যাত্রীদের নামাতে থাকে এবং নতুন কোনো যাত্রী উঠানো বন্ধ রাখে। এসময় ওই ছাত্রীর সন্দেহ হলে তিনি বাস থেকে নামার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাসের হেলপার দরজা বন্ধ করে দেয় এবং কন্ডাক্টর ছাত্রীর হাত ধরে টানতে শুরু করে। কন্ডাক্টর ও হেলপারের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে চলন্ত গাড়ি থেকে রাস্তায় লাফিয়ে পড়েন ওই ছাত্রী। এরপর তিনি অন্য একটি বাসে চড়ে ইউনিভার্সিটিতে চলে আসেন।
বাস ড্রাইভার শ্রমিক ও মালিকদের নৈরাজ্য লাগাম টানতে কঠোর আইন প্রয়োগ ও সরকারের উচচ মহলের কঠিন হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি যাত্রী ও পথচারীদের সচেতনতার সাথে চলাফেরা করতে উদ্ভুত করতে হবে। তাহলে হয়তো পরিবহনের লাগামহীন নৈরাজ্য থেকে রক্ষা পাবে তাজা প্রাণ।

 

ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
                                  

ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
॥ মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল লেখেন, ‘একটি ঘরে ছয় বছর গৃহবন্দী থাকতে থাকতে আমি আজ উল্লেখযোগ্যভাবে অসুস্থ। আমার হার্টে আটটা ব্লক ধরা পড়েছে। এরই মধ্যে কাউকে না জানিয়ে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। সেখানে সিসিইউতে চার দিন ছিলাম। আগামী ১০ দিনের মধ্যে হার্টের বাইপাস সার্জারি করানোর জন্য প্রস্তুত আছি।’ ফেসবুকের এ পোস্টটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার নজরে এলে তিনি আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।‘প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল যেখানে চিকিৎসাসেবা নিতে চান, সেখানেই করা হবে। সেভাবেই সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
শারীরিকভাবে অসুস্থতা অনুভব করলে ১০ মে ঢাকার ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি হন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। চার দিন করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাসেবা নেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে জানা যায়, তাঁর হার্টে আটটি ব্লক ধরা পড়েছে, এর মধ্যে দুটি মেজর। ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও অধ্যাপক লিয়াকত আলী তাঁর চিকিৎসার তত্ত্বাবধানে ছিলেন।
হঠাৎ এই গুণী সংগীত পরিচালকের অসুস্থতার খবর শুনে সংগীতাঙ্গনের সবাই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই বুলবুলের সুস্থতা কামনা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও দিয়েছেন।

কৃষি মাশরুম চাষ : ঘরে বসে আয়
                                  

মাশরুম পরিচিতি: মাশরুম এক প্রকার ছত্রাক। এটা একটি সুস্বাদু খাবার। বর্তমানে বাংলাদেশেও মাশরুম খাবার হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কিন্তু সবধরনের মাশরুম খাবার হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। পৃথিবীতে প্রায়৩ লাখ প্রজাতির মাশরুম রয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার প্রজাতি খাওয়ার অযোগ্য। আনুমানিক ১০ হাজার প্রজাতির মাশরুমের ওপর গবেষণা চলছে। এদের ভেতরে মাত্র ১০ প্রজাতির মাশরুম খাবার হিসেবে গ্রহণ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে ঋষি মাশরুম, গুটি বা বাটন মাশরুম, মিল্ক হোয়াইট মাশরুম, ওয়স্টোর মাশরুম, দস্ট্র মাশরুমের চাষ করা হচ্ছে। অধিক পরিমাণ লাভজনক হওয়ায় অনেক লোক মাশরুম চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। মাশরুম চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা। ক্ষুদ্র বা ব্যাপক পরিসরে মাশরুম চাষ করা যায়। স্পূন থেকে মাশরুম চাষ করা হয়। এই স্পূনগুলো ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়।
যেকোনো সমান জায়গায় কম আলোয় মাশরুম চাষ করা যায়। বীজ বোনার পাঁচ-সাত দিনের মধ্যেই ফলন। আট থেকে দশ হাজার বীজ থেকে দৈনিক ১৫-১৮ কেজি মাশরুম পাওয়া যায়। ১০০ গ্রাম কাঁচা মাশরুম ২০-২৬ টাকা, শুকনা ১৭০-১৮৫ টাকা এবং গুঁড়া ১৭০-১৮৫ টাকা বিক্রি করা যায়। তাই বাড়তি আয়ের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিতে পারেন মাশরুম চাষ। একসময় মাশরুমকে ব্যাঙের ছাতা বলে কত হাসাহাসিই না করেছি আমরা। সেই মাশরুম আজ হয়ে গেছে অর্থকরী সবজি। মাশরুম হলো একধরনের ছত্রাক। পৃথিবীর সর্বত্র এই ছত্রাক সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। গ্রিক, রোমান ও চীনারা মাশরুমকে দেবতার খাবার হিসেবে মনে করেন। প্রাচীন দেব-দেবীদের এটি দিয়ে পুজো দেওয়া হতো। এমনকি রাজা-মহারাজাদেরও মাশরুম উপহার হিসেবে পাঠানো হতো। যেকোনো সবজির চেয়ে এর খাদ্যগুণ বেশি। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, খনিজ পদার্থ ও ভিটামিন আছে। সুস্বাদু এই খাবারের স্বাদ অনেকটা মাংসের মতো। মাশরুম দাঁত ও হাড়ের গঠনে বিশেষ উপযোগী। রক্তহীনতা, বেরিবেরি ও হূদরোগ প্রতিরোধে এবং বহুমূত্র রোগে বিশেষ কার্যকরী। প্রায় তিন লাখ ছত্রাকের মধ্য থেকে মাত্র ১০ প্রজাতির ছত্রাক খাওয়ার উপযোগী।
মাশরুমের ব্যবহার
মাশরুম দিয়ে বিভিন্ন খাবার তৈরি হয়। যেমন- ফ্রাই, চপ, চিংড়ি মাশরুম, মাশরুম চিকেন স্যুপ, নুডলস, কারি, আচার, রোল, সালাদ, মাশরুম চিকেন বিরিয়ানি ইত্যাদি। এ ছাড়া মাশরুম মাংস রান্নায় এবং রূপচর্চায় ব্যবহূত হয়।
যেভাবে শুরু করবেন
মাশরুম চাষের জন্য সবার আগে প্রয়োজন কোন খামারে বা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জানতে পারবেন মাশরুমের চাষাবাদ, সংগ্রহ, সংরক্ষণ প্রণালি, বাজারজাতকরণসহ অন্যান্য বিষয়। প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর প্রয়োজন পুঁজি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঠিক করতে হবে কী পরিমাণ ও কতটুকু জায়গায় চাষ করবেন। এরপর চাষের খরচ, স্থান নির্বাচন, প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ, বীজ সংগ্রহ করতে হবে ইত্যাদি।


পুঁজি যখন এক লাখ
সাধারণত ১৬ ফুট বাই ৩২ ফুট এবং ১০ ফুট উচ্চতার ঘরে সমতলে ছয়টি মাচা বা তাক (১ ফুট অন্তর অন্তর) তৈরি করত হবে। ৪ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৩ ফুট প্রস্থের একটি তাকে ৮০০-১০০০ বীজ চাষ করা যায়। চাষের জন্য বীজ পাওয়া যাবে পুরনো চাষিদের কাছে এবং সাভারে সোবহানবাগের মাশরুম উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পে। বিভিন্ন জাতের মাশরুমের জন্য বিভিন্ন ধরনের তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার প্রয়োজন। বাংলাদেশে গ্রীষ্ম এবং বর্ষায় ‘স্ট্র মাশরুম’ এবং শীতকালে ‘ওয়েস্টার’ জাতের মাশরুম চাষ উপযোগী। তা ছাড়া মিল্কী মাশরুমও চাষ করা যায়। মাশরুম চাষের জন্য প্রাথমিক অবস্থায় ২০-৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে ছনের চালা বা টিনের ঘরে সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ঘরটি গাছের নিচে হলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব। আর তাক তৈরির সময় যাতায়াত, পরিচর্যা ও সংরক্ষণের জন্য ন্যূনতম জায়গা রাখতে হবে। বীজের পরিচর্যা, ফলন তোলা ও সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন প্রকারের উপকরণের প্রয়োজন হবে।
কম সময়ে দ্রুত ফলন
প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সব ঠিক করে বীজ আনার পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে প্রথম ফলন পাওয়া যাবে। একটি বীজ থেকে তিন-চার দিন অন্তর অন্তর ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি বীজ থেকে দু-তিন মাস পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। এভাবে প্রাথমিক অবস্থায় আট থেকে দশ হাজার বীজ থেকে দৈনিক ১৫-১৮ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। তবে বীজ পুরনো হলে ধীরে ধীরে ফলন কমতে থাকে। তখন নতুন বীজ সংযোজন করলে আবার ফলন বেড়ে যায়। যেখানে বিক্রি করবেন বিভিন্ন চেইন শপে (যেমন আগোরা, নন্দন, স্বপ্ন, মিনাবাজার) মাশরুম সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। উত্পাদনকারীরা প্যাকেটজাত করে সরাসরি চেইন শপগুলোতে পাইকারি দরে সরবরাহ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন চায়নিজ রেস্তোরা, ফাস্টফুড খাবারের দোকান এবং রাস্তার ধারে মুখরোচক বিভিন্ন খাবারের দোকানে মাশরুম বিক্রি করা যায়। অনেক ক্রেতা সরাসরি খামারে এসেও মাশরুম কেনেন। তিনভাবে মাশরুম বিক্রি হয়- ফ্রেশ বা কাঁচা মাশরুম, শুকনা মাশরুম এবং পাউডার মাশরুম। কাঁচা মাশরুম ১০০ গ্রাম প্যাকেট হিসেবে ২০-২৬ টাকা, শুকনা ১০০ গ্রাম ১৭০-১৮৫ টাকা এবং পাউডার ১০০ গ্রাম হিসেবে ১৭০-১৮৫ টাকায় বিক্রি হয়।
ঝুঁকি
সঠিক পদ্ধতিতে উৎপাদন করতে না পারলে ঝুঁকির পরিমাণ বেড়ে যায়। সঠিক তাপমাত্রার অভাব ছাড়াও বিভিন্ন পোকামাকড় যেমন- তেলাপোকা, মাছি, ইঁদুর, মাকড়সা ইত্যাদি আক্রমণের শঙ্কা আছে। এসব ক্ষতিকর পোকামাকড়কে সঠিক পদ্ধতিতে প্রতিকার করতে হবে।
প্রশিক্ষণ
সরকারিভাবে জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কেন্দ্র বিনা খরচে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাশরুম চাষের জন্য বিভিন্ন কারিগরি সহায়তা করে থাকে। আর প্রশিক্ষণের জন্য বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং খামার তো রয়েছেই।

পেঁপে চাষ পদ্ধতি
                                  

পেঁপে বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান ফল। কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে এবং পাকা পেঁপে ফল হিসেবে বেশ সমাদর রয়েছে। নাটোর, রাজশাহী, পাবনা, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিকভাবে পেঁপের চাষ করা হয়। পুষ্টিমানে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এই ফল মানব দেহে রোগ প্রতিরোধে কাজ করে। পেঁপে স্বল্প মেয়াদী ফল, এর চাষের জন্য বেশি জায়গারও প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আঙ্গিনায় দু’চারটি গাছ লাগালে তা থেকে সারা বছর সবজি ও ফল পাওয়া যায়।
পুষ্টিমান: পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি ও আয়রন বিদ্যমান। প্রতি ১০০ গ্রাম ভক্ষণযোগ্য পাকা পেঁপেতে ৮৮.৪ ভাগ জলীয় অংশ, ০.৭ গ্রাম খনিজ, ০.৮ গ্রাম আঁশ, ১.৯ গ্রাম আমিষ, ০.২ গ্রাম চর্বি, ৮.৩ গ্রাম শর্করা, ৩১.০ মি.গ্রা.লৌহ, ০.০৮ মি.গ্রা. ভিটামিন বি-১, ০.০৩ মি.গ্রা. বি-২, ৫৭.০ মি.গ্রা. ভিটামিন সি, ৮১০০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন ও ৪২ কিলোক্যালরী খাদ্য শক্তি রয়েছে।
ওষুধিগুণ: অজীর্ণ, কৃমি সংক্রমণ, আলসার, ত্বকে ঘা, একজিমা, কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা ডিপথেরিয়া, আন্ত্রিক ও পাকস্থলীর ক্যানসার প্রভৃতি রোগ নিরাময়ে কাঁচা পেঁপের পেপেইন ব্যবহার করা হয়। পেঁপের আঠা ও বীজ কৃমিনাশক প্লীহা যকৃতের জন্য উপকারী।
জাত: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৯৯২ সালে শাহী নামের একটি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করে। জাতটির  বৈশিষ্ট্য হলো- এটি একটি একলিঙ্গী জাত। গাছের উচ্চতা ১.৬ থেকে ২.০ মিটার। কান্ডের খুব নিচু থেকে ফল ধরে। ফল ডিম্বাকৃতি এবং ওজন ৮০০ থেকে ১০০০ গ্রাম। ফল প্রতি বীজের সংখ্যা ৫০০ থেকে ৫৫০ টি। রং গাঢ় কমলা থেকে লাল। ফল বেশ মিষ্টি ও সুস্বাদু। গাছ প্রতি ফলের সংখ্য ৪০ থেকে ৬০টি। জাতটি দেশের সব জায়গায় চাষ উপযোগী।
জমি নির্বাচন ও তৈরী: পেঁপে গাছ মোটেও জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। তাই পেঁপের জন্য নির্বাচিত জমি হতে হবে জলাবদ্ধতা মুক্ত এবং সেচ সুবিধাযুক্ত। জমি বারবার চাষ ও মই দিয়ে উত্তমরূপে তৈরী করতে হবে। দ্রুত পানি নিকাশের সুবিধার্থে বেড পদ্ধতি অবলম্বন করা উত্তম। পাশাপাশি দু’টি বেডের মাঝে ৩০সে.মি চওড়া এবং ২০সে.মি. গভীর নালা থাকবে। নালাসহ প্রতিটি বেড ২মিটার চওড়া এবং জমি অনুযায়ী লম্বা হবে।
চারা তৈরী: পেঁপের চার বীজতলা ও পলিথিন ব্যাগে তৈরী করা যায়। বীজতলায় চারা তৈরীর ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ সে.মি. সারি করে প্রতি সারিতে ৩ থেকে ৪ সে.মি. গভীরে বীজ বপন করতে হবে। পলিথিন ব্যাগে চারা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ১৫*১০ সে.মি. আকারের পলিব্যাগে সমপরিমাণ পলি মাটি, বালি ও পচা গোবরের মিশ্রণ দ্বারা প্রায় সম্পূর্ণরূপে ভর্তি করতে হবে। পলিব্যাগের তলায় ২ থেকে ৩টি ছিদ্র করতে হবে এবং প্রতিটি ব্যাগে ২ থেকে ৩টি বীজ বপন করতে হবে। বীজ বপনের পর ২ থেকে ৩ দিন অন্তর পানি দিতে হবে। বপনের ১৫ থেকে ২০ দিন পর চারা বের হয় এবং ৪০ থেকে ৫০ দিন পর তা রোপণের উপযোগী হয়।
বীজ ও চারার পরিমাণ: পেঁপের জন্য ২*২ মি. দূরত্বে গত তৈরী করে প্রতি গর্তে ৩টি করে চারা রোপণ করা হলে হেক্টর প্রতি ৭৫০০ চারা লাগবে এব শেষাবধি ২৫০০ গাছ থাকবে। এই সংখ্যক সুস্থ সবল চারা পেতে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়। তবে হাইব্রীড পেঁপের জন্য ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম বীজই যথেষ্ঠ।
গর্ত তৈরী: চারা রোপণের ১৫ থেকে ২০ দিন পূর্বে বেডের মাঝ বরাবর ২ মিটার দূরত্বে ৬০* ৬০*৪৫ সে.মি. আকারে গর্ত তৈরী করতে হবে। গর্ত প্রতি ১৫ কেজি পচা গোবর, ৫০০ গ্রাম টিএসপি, ২৫০ গ্রাম জিপসাম, ২০ গ্রাম বরিক এসিড এবং ২০ গ্রাম জিংক সালফেট সার প্রয়োগ করে মাটির সাথে ভালভাবে মেশাতে হবে। সার মিশ্রিত মাটি দ্বারা গর্ত পূরণ করে সেচ দিতে হবে।
বীজ বপন ও চারা রোপণের সময়: আশ্বিন এবং পৌষ মাস হল পেঁপের বীজ বপনের উত্তম সময় এবং বীজ বপনের ৪০ থেকে ৫০ দিন পর অর্থাত মাঘ-ফালগুণ মাসে চারা রোপণের উপযোগী হয়।
চারারোপণ: চারা রোপণের আগে গর্তের মাটি ভালভাবে উলটপালট করে নিতে হবে। প্রতি গর্তে ৩০সে.মি. দূরত্বে ত্রিভূজ আকারে ৩টি করে চারা রোপণ করতে হবে। বীজ তলায় উৎপাদিত চারার উন্মুক্ত পাতা গুলি রোপণের আগে ফেলে দিলে রোপণ করা চারার মৃত্যু হার হ্রাস পায় এবং চারা দ্রুত প্রতিষ্ঠিত হয়। পলিব্যাগে উৎপাদিত চারার ক্ষেত্রে পলিব্যাগটি খুব সাবধানে অপসারণ করতে হবে, যাতে মাটির বলটি ভেঙ্গে না যায়। পড়ন্ত বিকেল চারা রোপণের জন্য উত্তম সময়। রোপণের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে চারার গোড়া বীজতলা বা পলিব্যাগে মাটির যতটা গভীরে ছিল তার চেয়ে গভীরে না যায়।
গাছে সার প্রয়োগ: ভাল ফলন পেতে হলে পেঁপেতে সময় মতো সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে। প্রতি গাছে ৪৫০ থেকে ৫০০ গ্রাম ইউরিয়া এবং ৪৫০ থেকে ৫০০ গ্রাম এমওপি সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। চারা রোপণের এক মাস পর হতে প্রতিমাসে গাছ প্রতি ৫০ গ্রাম ইউরিয়া ও ৫০ গ্রাম এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে। গাছে ফুল আসার পর এই মাত্রা দ্বিগুণ করতে হবে। মাটিতে রসের অভাব হলে পানি সেচের ব্যবস্থা করতে হবে।
পরিচর্যা: পেঁপের জমি সব সময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। বর্ষা মৌসুমে আগাছা দমন করতে গিয়ে মাটি যাতে বেশি আলগা না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
পানি সেচ ও নিকাশ: শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সেচ দিতে হবে। সেচের ও বৃষ্টির পানি যাতে জমিতে জমে না থাকে সে জন্য পানি নিকাশের সুব্যবস্থা রাখতে হবে।
রোগবালাই ও পোকামাকড় দমন: পেঁপের রোগবালাইয়ের মধ্যে ঢলেপড়া ও কান্ডপচা, এ্যানথ্রাকনোজ, মোজাইক ও পাতা কোঁকড়ানো রোগ অন্যতম। আর পোকার মধ্যে মিলিবাগ উল্লেখযোগ্য।
ঢলেপড়া ও কান্ডপচা রোগ: মাটি স্যাঁতস্যাঁতে থাকলে বীজতলায় চারায় ঢলে পড়া রোগ দেখা দিতে পারে। এছাড়া বর্ষাকালে কান্ডপচা রোগ দেখা দিতে পারে। কান্ডপচা রোগ হলে গাছের গোড়ায় বাদামী বর্ণের পানি ভেজা দাগের সৃষ্টি হয়। আক্রান্ত চারা গাছ মারা যায় এবং ঢলে পড়ে। প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা হিসেবে বীজতলার মাটি বীজ বোনার আগে শুকনা রাখতে হবে এবং সিকিউর নামক ছত্রাক নাশক ২ থেকে ৩ গ্রাম প্রতি কেজি বীজের সাথে মিশিয়ে শোধন করতে হবে। এ রোগের প্রতিকার হিসেবে রোগাক্রান্ত চারা গাছ উঠিয়ে পুড়ে ফেলতে হবে। এ ছাড়া প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম রিডোমিল এম জেড-৭২ ছত্রাকনাশক মিশিয়ে আক্রান্ত কান্ডে ছিটিয়ে দিলে সুফল পাওয়া যায়।
এ্যানথ্রাকনোজ: এ রোগের কারণে ফলের গায়ে বাদামী পচন রোগ দেখা দেয়। ফল খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যায়।
প্রতিকার: ২ গ্রাম নোইন বা ব্যাভিস্টিন নামক ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানির সাথে মিশিয়ে ১০ থেকে ১৫ দিন পর পর ২ থেকে ৩বার ফলে গায়ে স্প্রে করতে হবে।

†cu†c evsjv†`†ki GKwU Ab¨Zg cªavb dj| KvuPv †cu†c mewR wn†m†e Ges cvKv †cu†c dj wn†m†e †ek mgv`i i†q†Q| bv†Uvi, ivRkvnx, cvebv, h†kvimn †`†ki wewfbœ ¯’v†b evwYwR¨Kfv†e †cu†ci Pvl Kiv nq| cywógv†b AZ¨šÍ mg„× GB dj gvbe †`†n †ivM cªwZ†iv†a KvR K†i| †cu†c ¯^í †gqv`x dj, Gi Pv†li Rb¨ †ewk RvqMviI cª†qvRb nq bv| evwoi Avw½bvq `yÕPviwU MvQ jvMv†j Zv †_†K mviv eQi mewR I dj cvIqv hvq|

cywógvb: †cu†c†Z cªPzi cwigvY wfUvwgb G, wfUvwgb we, wfUvwgb wm I Avqib we`¨gvb| cªwZ 100 Mªvg f¶Y†hvM¨ cvKv †cu†c†Z 88.4 fvM Rjxq Ask, 0.7 Mªvg LwbR, 0.8 Mªvg Avuk, 1.9 Mªvg Avwgl, 0.2 Mªvg Pwe©, 8.3 Mªvg kK©iv, 31.0 wg.Mªv.†jŠn, 0.08 wg.Mªv. wfUvwgb we-1, 0.03 wg.Mªv. we-2, 57.0 wg.Mªv. wfUvwgb wm, 8100 gvB†µvMªvg K¨v†ivwUb I 42 wK†jvK¨vjix Lv`¨ kw³ i†q†Q|

Ilywa¸Y: ARxY©, K…wg msµgY, Avjmvi, Z¡†K Nv, GKwRgv, wKWwb msµvšÍ RwUjZv wWc†_wiqv, Avwš¿K I cvK¯’jxi K¨vbmvi cªf„wZ †ivM wbivg†q KvuPv †cu†ci †c†cBb e¨envi Kiv nq| †cu†ci AvVv I exR K…wgbvkK c­xnv hK…†Zi Rb¨ DcKvix|

RvZ: evsjv†`k K…wl M†elYv Bbw÷wUDU 1992 mv†j kvnx bv†gi GKwU D”P djbkxj RvZ D™¢veb K†i| RvZwUi  ˆewkó¨ n†jv- GwU GKwU GKwj½x RvZ| Mv†Qi D”PZv 1.6 †_†K 2.0 wgUvi| Kv†Ûi Lye wbPz †_†K dj a†i| dj wW¤^vK…wZ Ges IRb 800 †_†K 1000 Mªvg| dj cªwZ ex†Ri msL¨v 500 †_†K 550 wU| is Mvp Kgjv †_†K jvj| dj †ek wgwó I my¯^v`y| MvQ cªwZ d†ji msL¨ 40 †_†K 60wU| RvZwU †`†ki me RvqMvq Pvl Dc†hvMx|

Rwg wbe©vPb I ˆZix: †cu†c MvQ †gv†UI Rjve×Zv mn¨ Ki†Z cv†i bv| ZvB †cu†ci Rb¨ wbe©vwPZ Rwg n†Z n†e Rjve×Zv gy³ Ges †mP myweavhy³| Rwg evievi Pvl I gB w`†q DËgiƒ†c ˆZix Ki†Z n†e| `ªæZ cvwb wbKv†ki myweav†_© †eW c×wZ Aej¤^b Kiv DËg| cvkvcvwk `yÕwU †e†Wi gv†S 30†m.wg PIov Ges 20†m.wg. Mfxi bvjv _vK†e| bvjvmn cªwZwU †eW 2wgUvi PIov Ges Rwg Abyhvqx j¤^v n†e|

Pviv ˆZix: †cu†ci Pvi exRZjv I cwjw_b e¨v†M ˆZix Kiv hvq| exRZjvq Pviv ˆZixi †¶†Î 10 †_†K 15 †m.wg. mvwi K†i cªwZ mvwi†Z 3 †_†K 4 †m.wg. Mfx†i exR ecb Ki†Z n†e| cwjw_b e¨v†M Pviv Drcv`†bi †¶†Î 15*10 †m.wg. AvKv†ii cwje¨v†M mgcwigvY cwj gvwU, evwj I cPv †Mve†ii wgkªY Øviv cªvq m¤ú~Y©iƒ†c fwZ© Ki†Z n†e| cwje¨v†Mi Zjvq 2 †_†K 3wU wQ`ª Ki†Z n†e Ges cªwZwU e¨v†M 2 †_†K 3wU exR ecb Ki†Z n†e| exR ec†bi ci 2 †_†K 3 w`b AšÍi cvwb w`†Z n†e| ec†bi 15 †_†K 20 w`b ci Pviv †ei nq Ges 40 †_†K 50 w`b ci Zv †ivc†Yi Dc†hvMx nq|

exR I Pvivi cwigvY: †cu†ci Rb¨ 2*2 wg. `~i†Z¡ MZ ˆZix K†i cªwZ M†Z© 3wU K†i Pviv †ivcY Kiv n†j †n±i cªwZ 7500 Pviv jvM†e Ge †klvewa 2500 MvQ _vK†e| GB msL¨K my¯’ mej Pviv †c†Z 400 †_†K 500 Mªvg ex†Ri cª†qvRb nq| Z†e nvBeªxW †cu†ci Rb¨ 100 †_†K 150 Mªvg exRB h†_ô|

MZ© ˆZix: Pviv †ivc†Yi 15 †_†K 20 w`b c~†e© †e†Wi gvS eivei 2 wgUvi `~i†Z¡ 60* 60*45 †m.wg. AvKv†i MZ© ˆZix Ki†Z n†e| MZ© cªwZ 15 †KwR cPv †Mvei, 500 Mªvg wUGmwc, 250 Mªvg wRcmvg, 20 Mªvg ewiK GwmW Ges 20 Mªvg wRsK mvj†dU mvi cª†qvM K†i gvwUi mv†_ fvjfv†e †gkv†Z n†e| mvi wgwkªZ gvwU Øviv MZ© c~iY K†i †mP w`†Z n†e|

exR ecb I Pviv †ivc†Yi mgq: Avwk¦b Ges †cŠl gvm nj †cu†ci exR ec†bi DËg mgq Ges exR ec†bi 40 †_†K 50 w`b ci A_©vZ gvN-dvj¸Y gv†m Pviv †ivc†Yi Dc†hvMx nq|

Pviv†ivcY: Pviv †ivc†Yi Av†M M†Z©i gvwU fvjfv†e DjUcvjU K†i wb†Z n†e| cªwZ M†Z© 30†m.wg. `~i†Z¡ wÎf~R AvKv†i 3wU K†i Pviv †ivcY Ki†Z n†e| exR Zjvq Drcvw`Z Pvivi Db¥y³ cvZv ¸wj †ivc†Yi Av†M †d†j w`†j †ivcY Kiv Pvivi g„Zz¨ nvi n«vm cvq Ges Pviv `ªæZ cªwZwôZ nq| cwje¨v†M Drcvw`Z Pvivi †¶†Î cwje¨vMwU Lye mveav†b AcmviY Ki†Z n†e, hv†Z gvwUi ejwU †f†½ bv hvq| cošÍ we†Kj Pviv †ivc†Yi Rb¨ DËg mgq| †ivc†Yi mgq j¶¨ ivL†Z n†e hv†Z Pvivi †Mvov exRZjv ev cwje¨v†M gvwUi hZUv Mfx†i wQj Zvi †P†q Mfx†i bv hvq|

Mv†Q mvi cª†qvM: fvj djb †c†Z n†j †cu†c†Z mgq g†Zv mylg gvÎvq mvi cª†qvM Ki†Z n†e| cªwZ Mv†Q 450 †_†K 500 Mªvg BDwiqv Ges 450 †_†K 500 Mªvg GgIwc mvi Dcwi cª†qvM Ki†Z n†e| Pviv †ivc†Yi GK gvm ci n†Z cªwZgv†m MvQ cªwZ 50 Mªvg BDwiqv I 50 Mªvg GgIwc mvi cª†qvM Ki†Z n†e| Mv†Q dzj Avmvi ci GB gvÎv wظY Ki†Z n†e| gvwU†Z i†mi Afve n†j cvwb †m†Pi e¨e¯’v Ki†Z n†e|

cwiPh©v: †cu†ci Rwg me mgq AvMvQv gy³ ivL†Z n†e| el©v †gŠmy†g AvMvQv `gb Ki†Z wM†q gvwU hv†Z †ewk AvjMv bv nq †mw`†K j¶¨ ivL†Z n†e|

cvwb †mP I wbKvk: ﮋ †gŠmy†g cª†qvRb Abyhvqx cvwb †mP w`†Z n†e| †m†Pi I e„wói cvwb hv†Z Rwg†Z R†g bv _v†K †m Rb¨ cvwb wbKv†ki mye¨e¯’v ivL†Z n†e|

†ivMevjvB I †cvKvgvKo `gb: †cu†ci †ivMevjvB†qi g†a¨ X†jcov I KvÛcPv, G¨vb_ªvK†bvR, †gvRvBK I cvZv †KvuKov†bv †ivM Ab¨Zg| Avi †cvKvi g†a¨ wgwjevM D†j­L†hvM¨|

X†jcov I KvÛcPv †ivM: gvwU m¨vuZm¨vu†Z _vK†j exRZjvq Pvivq X†j cov †ivM †`Lv w`†Z cv†i| GQvov el©vKv†j KvÛcPv †ivM †`Lv w`†Z cv†i| KvÛcPv †ivM n†j Mv†Qi †Mvovq ev`vgx e†Y©i cvwb †fRv `v†Mi m„wó nq| AvµvšÍ Pviv MvQ gviv hvq Ges X†j c†o| cªwZ†iva g~jK e¨e¯’v wn†m†e exRZjvi gvwU exR †evbvi Av†M ïKbv ivL†Z n†e Ges wmwKDi bvgK QÎvK bvkK 2 †_†K 3 Mªvg cªwZ †KwR ex†Ri mv†_ wgwk†q †kvab Ki†Z n†e| G †iv†Mi cªwZKvi wn†m†e †ivMvµvšÍ Pviv MvQ DwV†q cy†o †dj†Z n†e| G Qvov cªwZ wjUvi cvwb†Z 2 Mªvg wi†Wvwgj Gg †RW-72 QÎvKbvkK wgwk†q AvµvšÍ Kv†Û wQwU†q w`†j mydj cvIqv hvq|

G¨vb_ªvK†bvR: G †iv†Mi Kvi†Y d†ji Mv†q ev`vgx cPb †ivM †`Lv †`q| dj LvIqvi Abyc†hvMx n†q hvq|

cªwZKvi: 2 Mªvg †bvBb ev e¨vwfw÷b bvgK QÎvKbvkK cªwZ wjUvi cvwbi mv†_ wgwk†q 10 †_†K 15 w`b ci ci 2 †_†K 3evi d†j Mv†q †¯úª Ki†Z n†e|

 

ভারতের পাচারকৃত তিন কিশোর দেশে ফেরার অপেক্ষায়
                                  


কে থামাবে কিশোর ও অবিভাবকদের আর্তচিৎকার, আহাজারি ও কান্নার মাতম
মোঃ রিয়াজ উদ্দিন ভারত থেকে ফিরে ঃ
আঙ্কেল আমি কি দেশে মায়ের কাছে যেতে পারবো, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি মায়ের কাছে ফিরে যেতে চাই, আমাকে আপনার সাথে নিয়ে যান। কথাগুলো গত ১লা মার্চ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের লক্ষীকান্তপুরের হাসুস সেফ হোমে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেই হাউমাউ করে আর্তচিৎকার করতে থাকে ভারতে পাচার হয়ে যাওয়া নড়াইলের সেখহাটি ইউনিয়নের আপন (১২)। আপনের কান্না দেখে পাশে থাকা আরেক কিশোর পাচার হয়ে যাওয়া আশিকও কেঁদে ফেলে। এ দৃশ্য দেখে হোমের কর্মকর্তা, অন্যান্য নারী ও শিশুদেরও মন ভারী হয়ে উঠে।
আপন ও আশিকের পাচার হওয়ার খবর মানবাধিকার খবরে গত ফেব্রুয়ারী-১৮ সংখ্যায় বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়। তাদেরকে ভারত থেকে উদ্ধারের জন্য অবিভাবকদের কাছ থেকে নাগরিকত্বের সকল ধরনের কাগজ পত্র সংগ্রহ করে গত ২২শে ফেব্রুয়ারী আমি ভারতে গমন করি। এরপর আপন ও আশিকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুলো কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস, হাসুস সেফ হোম সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সরবরাহ করে ২মার্চ দেশে ফিরে আসি। আশা করছি, সকল আইনি প্রক্রিয়ার শেষে আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে এনে দুই কিশোরকে তাদের মা-বাবার হাতে তুলে দেওয়া যাবে। এব্যাপারে আপনের নানী মোছা: শৈয়রন বিবি যশোরের শার্শায় থানার একটি সাধারন ডায়েরী করেন যার নম্বর-২০৮, তারিখ-০৬/০১/২০১৮ এবং মোঃ রাব্বি হাসান আশিকের পিতা মোঃ রবিউল মোল্লা যশোরের অভয়নগর থানায় একটি সাধরন ডায়েরী করেন যার নং-২৮৭, তারিখ-০৭/০১/২০১৮।
আপন ও আশিকের দেশে ফেরার জন্য এই জিডির কপি, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের প্রত্যায়নপত্র, জন্ম সনদ ও স্কুলের প্রত্যায়ন পত্র সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা প্রদান করা হয়েছে।
এ দিকে ছামিরুল নামে আরেক কিশোর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে লক্ষীকান্তপুরে হাসুস সেফ হোমে একই সাথে রয়েছে। তার পুলিশ তদন্তে নাম ও ঠিকানায় ত্রুটি থাকায় দেশে আসতে বিলম্ব হচ্ছে। আশা করছি চলতি মার্চ মাসে সকল আইনি প্রক্রিয়ায় শেষে তাকেও দেশে ফিরিয়ে আনা যাবে। তিন কিশোরের বুক ফাটা আহাজারিতে মানবিক কারনে মানবাধিকার বিষয়ক বিশ্বের একমাত্র নিয়মিত সৃজনশীল জনপ্রিয় বাংলা প্রকাশনা মানবাধিকার খবর উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে এনে মা-বাবার হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহন করেছে। তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে মানবাধিকার খবর সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ৩য় বারের মত গত ১৫মার্চ মানবাধিকার খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক রোটারিয়ান মোঃ রিয়াজ উদ্দিন ভারতে গমন করে; তিন কিশোরের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার অগ্রগতির খোঁজ খবর নিয়ে ১৭মার্চ আবার দেশে ফেরেন। অপরি দিকে পাচারকৃত তিন কিশেরের মা-বাবা ও অবিভাবকদের হৃদয় বিদারক কান্নায় মানবাধিকার খবর পত্রিকার কর্তৃপক্ষ হিমসিম খাচ্ছে। যত দিন পর্যন্ত তাদেরকে পিতা-মাতার হাতে তুলে দিতে পারা  না যায়, ততদিন এই তিন কিশোর ও তাদের মা-বাবার আর্তচিৎকার, আহাজারি, কান্নার মাতম চলতেই থাকবে। কে স্তব্দ করবে তাদের এ আর্তচিৎকার, আহাজারি ও কান্নার মাতম। মানবাধিকার খবরেরও আর্থিক সীমাবদ্ধতা। মানবাধিকার খবরকে এমুহূর্তে কোন সরকারী সংস্থা বা এনজিও কোন প্রকার আর্থিক সহায়তা করছে না। এধরনের মানবিক কাজে সরকারী- বেসরকারী সংস্থা, এনজিও এবং বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে রোটারি ক্লাব অব গুলশান লেকসিটি নারী ও শিশু উদ্ধারে মানবাধিকার খবরকে সার্বিক ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছে।
ফিরে দেখা
আপন ও আশিকঃ
আপন আর আশিক দুজনই  বাংলাদেশী কিশোর। দুস্কৃতীকারিরা এই দুই কিশোরকে অপহরণ করে গোপনে নিয়ে আসে কলকাতায়। উদ্দেশ্য, কলকাতা থেকে এই দুই কিশোরকে অন্যরাজ্যে পাচার করা। আশিক বয়স ১৩ বছর আর আপনের বয়স ১২ বছর।
আশিকের বাড়ি বাংলাদেশের নড়াইল জেলার শেখহাটি মোজেরপাড়া গ্রামে। বাবার নাম রবিউল মোল্লা। স্থানীয় বিমহিষকুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র আশিক। বাবা কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। তারা দু’ভাই দু’বোন তাদের মধ্যে আশিক তৃতীয় । আশিক মাস দুয়েক আগে গ্রামের বাড়ীর আফড়ার মেলায় গিয়েছিল। সেখান থেকে ৫ দুস্কৃতকারী মুখে গামছা বেঁধে জোর করে নিয়ে আসে বেনাপোল সীমান্তে। তারপর আশিকের মুখে লিকো প্লাস্টার টেপ লাগিয়ে তাকে একটি পণ্যবাহী ট্রাকের নিচে চেসিসের সঙ্গে বেঁধে পার করে বেনাপোল সীমান্ত। সেখান থেকে তাঁকে বনগাঁ রেলস্টেশনে এনে ট্রেনে করে নিয়ে আসা হয় রানাঘাট রেল স্টেশনে। এখানে   এসে দেখে আরও ৫জন দুস্কৃতকারী অপেক্ষা করছে।  সেখান থেকে  কৌশলে পালিয়ে যায় আশিক। তারপর একসময় ট্রেনে করে শিয়ালদহ স্টেশনে নামে। শিয়ালদহ নামার পর তার ক্ষিধে পেলে এক চায়ের দোকানদার তাকে খাওয়াবে এই শর্তে রেখে দেয় বাসনকোসন ধোয়ার কাজে। ইতিমধ্যে শিয়ালদহের রেলওয়ের সংস্থা রেলওয়ে চাইল্ড লাইন খবর পেয়ে উদ্ধার করে আশিক কে। তারপর তুলে দেয় রেল পুলিশের হাতে। রেল পুলিশ আশিককে পাঠিয়ে দেয় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সরকারি হোম হাসুস বা হরিপুর আমরা সবাই উন্নয়ন সমিতির কাছে। গত বছর ১৫ ডিসেম্বর থেকে আশিক বারুইপুরের লক্ষীকান্তপুরের হাসুস’এ রয়েছে।
আপনের বয়স ১২ বছর। বাড়ি যশোর শার্শা থানার নাভারনের দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামে। পিতার নাম রাজু হোসেন। বাবার-মার বিচ্ছেদের পর মা অন্যত্র চলে গেছে। আপন মানুষ হয় নানীর কাছে। নানীর নাম শৈরন বিবি। নাভারণ বাজারে আছে নানীর ফলের দোকান। আপন স্থানীয় মিন্টুর ভাই ভাই চটপটির দোকানে কাজ করতো। মাসখানেক আগে আপন বেনাপোলের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে আসে। সেখান থেকে দুস্কৃতকারীরা আপনকে ধরে নিয়ে যায়। তারপর তাকে সীমান্ত পাচার করে নিয়ে আসে বনগাঁ রেলস্টেশনে। বনগাঁ স্টেশনে দালালরা তার  টিকিট কাটতে গেলে সেই সুযোগে সে পালিয়ে যায় স্টেশন থেকে। তারপর ট্রেনে করে চলে আসে শিয়ালদহ স্টেশনে। সেখানে এসে রেল পুলিশের হাতে ধরা পড়ে আপন। তারপর রেলওয়ের চাইল্ড লাইন আপনকে উদ্ধার করে পাঠিয়ে দেয় বারুইপুরের হাসুস হোমে। গত বছর ১৯ ডিসেম্বর থেকে আপনের ঠাঁই হয় এই হোমে।
আশিক ও আপন দুজন এখন রয়েছে হাসুস হোমে। গত বছর ২৫ ডিসেম্বর কলকাতা থেকে দক্ষিণে প্রায় ১০০ কি.মি. দূরে লক্ষীকান্তপুর বিজয়াঙ্গি বাজারে ওই হোমে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মানবাধিকার খবর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক রোটারিয়ান মো: রিয়াজ উদ্দিন  পরিদর্শনে গেলে, সেখানে হোমের কর্মকর্তারা তাঁকে জানান ওই দুই বাংলাদেশী কিশোরের কথা।  ওই কিশোরদ্বয় বাংলাদেশে ফেরার জন্য সম্পাদকের কাছে কান্না-কাটি করে। চাইছে অবিলম্বে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। বলেছে, তারা ফিরে যেতে চায় তাদের বাবা মায়ের কাছে। সম্পাদক গত ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশে এসে ঐ দুই কিশোরের বাড়ীর ঠিকানায় এবং সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করে। সর্বশেষ গত ৬ জানুয়ারী তাদের অবিভাবকদের খুজে পাওয়া যায়। আপনের নানী শৈরন ও মামা ফলের দোকানদার মিজানুর রহমান জানতে পেরে সম্পাদকের কাছে দাবী জানান- যে করে হোক তাদের আপনকে যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের কাছে দেয়া হয়। আপনের মায়ের নাম নাসিমা । অনেক আগে পিতার সাথে সম্পর্ক বিচ্ছেদ হওয়ায় মা অন্যত্র বিবাহ করে সংসার করছেন আর পিতা কোন খোজ-খবর নেয় না। নানীর কাছেই দুঃখে ও কষ্টে বড় হচ্ছিল আপন। অপর দিকে আশিকের বাবা হলেন যাত্রীবাহী মটর সাইকেল চালক। দরিদ্রতার মধ্যে তাদের দিন চলে। আশিকের বাব-মা ও দাবী জানান  তাদের বুকের ধন কে যে কোন ভাবে হোক দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের কাছে দেওয়ার জন্য। আশিকের মায়ের নাম নাজমা বেগম। আশিক ও আপন বেঁচে আছে প্রায় ২মাস পর জানতে পেরে দুই পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। এতদিন তারা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করে, না পেয়ে তাদের জীবিত পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। ভারতে সেফ হোমে আশিক ও আপন এবং হোমের কর্মকর্তারা সম্পাদককে পেয়েও আনন্দিত হন। সেফ হোমের কর্মকর্তারা তাদের সঠিক ঠিকানা না থাকায় অনেকটা বিপদে ছিলেন। সম্পাদকের কারনে বাচ্চা দু’টিকে এবার দেশে ফিরিয়ে নেওয়ায় সার্বিক সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলে আশাবাদি হন। বাচ্চা দু’টির বর্তমানে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের কাজ চালানো হয়।
ছামিরুল
এদিকে কিশোর ছামিরুলের বাংলাদেশের ঢাকার মিরপুরের সঠিক ঠিকানা খুজে না পাওয়ায় পুলিশ সঠিক ঠিকানা ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও কলকাতা উপ-দূতাবাসে পাঠাতে পারেনি। ফলে তার দেশে ফেরার বিষয়টি বিলম্বিত হতে থাকে। গত বছর ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ও মানবাধিকার খবরের পক্ষে ভারতীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উপ-দূতাবাসের কাউন্সিলের মোঃ জামাল হোসেনের কাছে ছামিরুলের সঠিক ঠিকানা ও মা-বাবার ফোন নম্বর সরবরাহ করা হয়েছে। আশা করছি ছামিরুল খুব শীঘ্রই দেশে তার মা-বাবার কাছে ফিরতে পারবে। ছামিরুল দেশে ফিরতে না পারায় তার মা-বাবা খুবই উদ্বিঘœ হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত মানবাধিকার খবরের কাছে স্মরণাপন্ন হয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছে। মানবাধিকার খবর ছামিরুল ও তার মা-বাবার সাথে ভিডিও কলের মাধ্যমে কথা বলিয়ে দিচ্ছে। ছামিরুল ও তার মা-বাবার আবেগ ও কষ্টের কথা শুনতে পেরে কান্দাকাটিতে আকাশ ভারী হয়ে উঠছে। মানবাধিকার খবর নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে। জামিরুলের পাচার হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার খবরের গত মার্চ ২০১৭ সংখ্যায় বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে মানবাধিকার খবরের সহযোগিতায় ছামিরুলের পিতা দু’বার ভারতে গিয়ে ছামিরুলের সাথে সাক্ষাৎ করে  এসেছেন।
উল্লেখ্য যে, মানবাধিকার খবর এর আগে ভারতের উত্তরাখ- প্রদেশের রুদ্রপুর থেকে পাচার হয়ে যাওয়া বাংলাদেশী কলেজছাত্রী সাবানা আক্তার চায়না, হায়দ্রাবাদ থেকে গৃহবধু মুন্নি, পশ্চিমবঙ্গের লক্ষীকান্তপুর থেকে শার্শার কিশোর বিপ্লব, হুগলী থেকে গাইবান্ধায় সালমা, দিল্লীর তিহার জেল থেকে পটুয়াখালীর বিউটি আক্তার, খুলনার শিশু সুমনসহ সাফল্যের সাথে অসংখ্য নারী ও শিশুকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে এনে মা বাবা ও আইনের হাতে তুলে দিয়ে সাফল্য দেখিয়েছে। এছাড়া ভারতীয় কিশোরী বৈশাখী ও পাকিস্তানের নাগরিক প্রকৌশলী অনিল কুমারকে বাংলাদেশ থেকে উদ্ধারের সার্বিক সহযোগিতা করে সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠিয়েছে। যা বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও প্রথম শ্রেনীর দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মিডিয়াতে গুরুত্ব সহকারে প্রচার হয়।
নারী ও শিশু উদ্ধার অভিযানে যারা মানবাধিকার খবরকে সার্বিক সহযোগিতা, পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়েছেন তাদের মধ্য রয়েছেন, কলকাতাস্থ উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান, কাউন্সিলর ও হেড অব চ্যাঞ্চেলর মিয়া মোঃ মাইনুল কবির, ফাষ্ট সেক্রেটারী (প্রেস) মোঃ মোযাফ্ফারুল ইকবাল, কাউন্সিলর বি এম জামাল হোসেন সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে চেয়ারম্যান  কাজী রিয়াজুল হক, পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নপরাজিৎ মূখার্জি, রাজ্য সভার সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য, লোকসভার সংসদ সদস্য ও চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান শ্রীমতি প্রতিমা ম-ল, আলিপুর ভবানী ভবনে দক্ষিন ২৪ পরগনায় জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্রীমতি শান্তি দাস, জেলা ইন্টেলিজেন্ট ব্রাঞ্চের নিবেদিতা তালুকদার এডিশন সেক্রেটারি ফরেনার্স গভ পশ্চিমবঙ্গ হোম ডিপার্টমেন্ট গৌরাঙ্গ  সরকার। জেলা শিশুরক্ষা সমিতির কর্মকর্ত অনিন্দ ঘোষ, কলকাতার সল্টলেকে বিকাশ ভবনে অবস্থিত শিশু রক্ষা প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুচরিতা সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর,  প্রথম আলোর কলকাতা প্রতিনিধি অমর সাহা, মানবাধিকার খবর পত্রিকার কলকাতা প্রতিনিধি দিশা বিশ্বাস, ভারত প্রতিনিধি মনোয়ার ইমাম, বারাসাত প্রতিনিধি প্রদীপ রায় চৌধুরী, মানবাধিকার খবরের কলকাতাস্থ আইন উপদষ্টা রাজীব মুখার্জি, নিলোৎপল মৈত্র, রিয়াসহ অন্যান্য।




স্থগিতই থাকছে খালেদার জামিন
                                  


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আগামী ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। পাশাপাশি হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেছেন সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগ দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে এ আদেশ  দেন। একই সঙ্গে আগামী ৮ মে আপিল শুনানির দিন ধার্য করেন। আদালত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতের পাশাপাশি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের সার-সংক্ষেপ দাখিলের নির্দেশ দেন। এ ছাড়া আসামিপক্ষকে তার পরের দুই সপ্তাহের মধ্যে দাখিল করতে বলা হয়। আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশের পর এদিন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা ৮ মে  থেকে সময় এগিয়ে আনতে বারবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। তারা এ আদেশকে `নজিরবিহীন` বলে মন্তব্য করেছেন। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আপিল বিভাগ থেকে জামিন না হওয়ায় শিগগিরই মুক্তি পাচ্ছেন না সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। সম্প্রতি কুমিল্লøার একটি নাশকতার মামলায় তাকে প্রডাকশন ওয়ারেন্ট (পিডব্লিউ) দেখানো হয়েছে। ২৮ মার্চ ওই মামলায় তাকে হাজির করার জন্য কারাগারে হাজিরা পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে। মুক্তি পেতে হলে ওই মামলায়ও তাকে জামিন নিতে হবে।


বিদায় বীরমাতা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী
                                  


নির্যাতিত হয়েছিলেন একাত্তরে, জীবন থেমে থাকেনি তার পরও। দুর্বিষহ অতীত ভুলে সামনের দিকে এগিয়ে এসে তিনি হয়েছিলেন একাত্তরের নির্যাতিতদের মুখপাত্র। কাঠের মাঝে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর সেই ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর জীবন প্রদীপ নিভে গেল। রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭১। তিনি স্বামী আহসানউলল্লাহ, তিন ছেলে, দুই মেয়েসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এমপি, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।
এ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠানমূহ তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে।

পরকিয়ায় সংসার ভাংলো পারভিনের. স্বামী জেল হাজতে
                                  

॥ ফুলবাড়ীগেট, খুলনা ॥
পরকিয়া এবং যৌতুকের দাবি পূরন করতে না পারায় সংসার ভাংলো দুই সন্তানের জননী অসহায় এতিম পারভিনের। স্বামীকে ফিরে পেতে এবং বিচারের দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে ঘুরে বিচার না পেয়ে অবশেষে আদালতের স্বরনাপর্ন হলে আদালত আসামী তাহেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন। ছেলে মেয়ের ভবিষ্যৎ এবং পৃত্রি হারা কথা ভেবে স্বামীর সকল অত্যাচার-নির্যাতন দিনের পর দিন সহ্য করেও স্বামীকে ধরে রাখতে পারলেন না অসহায় পারভীন আক্তার। কলেজ পড়–য়া মেধাবী ছাত্র ১৬ বছরের পুত্র এবং ৭ম শ্রেনীর স্কুল পড়ুয়া কণ্যা সন্তানের কথা না ভেবে শেষ পর্যন্ত কুয়েট কর্মচারী আবু তাহের হাওলাদার তালাক দিলেন পরভীনকে। স্বামীকে ফিরে পেতে যৌতুকসহ অত্যাচার-নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে পারভীন আদালত এবং কুয়েট কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছেন। অভিযুক্ত তাহের ২০/১১/১৭ স্ত্রীকে গোপনে তালাক দিয়ে ২৩/১/১৮ তারিখ আদালতে ক্ষমা প্রর্থনা করে এমন ঘটনা আর না ঘটানো অঙ্গীকার করে আপোষ মিমাংশা করেন নেয়। আপোষ মিমাংশার দ্ইু মাসের মাথায় ঘটনার পুনঃরাবৃত্তি ঘটায় পারভীন স্বামী তাহেরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালকে অবহিত করলে বিজ্ঞ আদালত অভিযুক্ত তাহের-কে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
মামলার বিবরণে এবং ভুক্তভোগী সুত্রে জানাগেছে কুয়েটের ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী বাবুর্চি মোঃ আবু তাহের (৪০) সাথে গোপালগঞ্জের দিগনগরের মৃত জসিম হাওলাদারের কণ্যা পারভীন আক্তারের সাথে ১৯৯৯ সালে বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকে স্বামী তাহের দুই লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে স্ত্রীর উপর চাপ প্রয়োগ করে। পরবর্তীতে পারভীন পৃত্রি হারা হলে টাকা দিতে না পারায় তার উপর শারীরিক ও মানবিক নির্যাতন চালানো হয়। এ অবস্থায় তাহেরের পূর্ব পরিচিত এক সন্তানের জননীর অর্থলোভে তার সাথে পরকিয়ায় অবৈধ সম্পর্কে গড়ে তোলে। স্বামীর অত্যাচার এবং পরকিয়ায় দ্বিতীয় বিবাহ থেকে বিরত রাখতে ২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুয়েট ভাইস চ্যান্সেলর বরাবর সু-বিচার চেয়ে পারভীন একটি আবেদন করলে তার উপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। স্বামীর অমানবিক নির্যাতনে পারভীনকে খুলনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি আদালতেও গড়ায়। আদালত মামলা আমলে নিয়ে যোগীপোল ইউনিয়ন পরিষদকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন। যোগীপোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও দুই মেম্বার সমন্বয় তদন্ত কমিটি যৌতুক এবং নির্যাতন সহ সকল অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। চালাক চতুর তাহের সাজা নিশ্চিত বুঝতে পেরে যৌতুক দাবি করবে না, নির্যাতন করবে না, স্ত্রী সন্তানদের খোরপোষ, ভরন পোষন দিয়ে প্রতিপালন, শিক্ষা ও চিকিৎসা সহ সকল ব্যায় বহন এবং স্ত্রী সন্তানদের দিয়ে সংসার করার অঙ্গীকার করে আদালতে আপোষ নামার মাধ্যমে মিটিয়ে নেয়। আপোষ মিমাংশার দুই মাসের মধ্যে বিষয়টির পূনবাবৃত্তি ঘটায় ২২শে ফেব্রুয়ারি খুলনা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল আদালত অভিযুক্ত তাহেরকে জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণ করেন। পারভীন স্বামীকে ফিরে পেতে এবং বিচারের দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে দ্বারে ঘুরে ঘুরে বিচার না পেয়ে অবশেষে আদালতের সু-বিচারের জন্য স্বরনার্প হয়েছে।


দুরমুজখালী সীমান্তে উদ্ধার হওয়া লাশ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য
                                  

॥ রফিকুল ইসলাম, সাতক্ষীরা ॥
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার নুরনগরের  দুরমুজখালী সীমান্ত থেকে ফিরে মীর আবু বক্কার নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সংবাদটি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ হলেও এর আড়ালে থেকে গেছে ভিন্ন ঘটনা।  আবু বক্কারের  লাশ নদীর চরে পুতে রেখে ঘটনা ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানায়, দুরমুজখালী গ্রামের মৃত বাদল মন্ডলের ছেলে গণেশ মন্ডল, কুলতলী গ্রামের মৃত বেলাত গাজীর ছেলে মহববত আলী, দক্ষিণ কুলতলী গ্রামের গোপাল মন্ডলের ছেলে নিমাই মন্ডল, অধির মন্ডলের ছেলে হেমাংশু মন্ডল, বিভুতি ভুশনের ছেলে সুধাংশ মন্ডল মুত হরেনন্দ্র মন্ডলের ছেলে রবিন্দ্র মন্ডল, দাসকাটি গ্রামের রুপচাঁদ গাজীর ছেলে রাশেদ গাজী, রামচন্দ্রপুর গ্রামের কালু গাজীর ছেলে শহিদুল গাজী সহ কয়েকজন মিলে দুরমুজখালী মানব পাচার গড়ে উঠেছে। এই চক্রের কয়েকজন লাশটি চরের মাটি খুঁড়ে পুতে রাখার চেষ্টা করছিলো এ সময়  এলাকাবাসী দেখে ফেলায় মুত লাশটি টেনে নিয়ে একটু দুরেই ফেলে রেখে চলে যায় তারা। এরপর বি জি বি কতৃক খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায় শ্যামনগর থানা পুলিশ। সংঘবদ্ধ ওই চক্রটি হলো সীমান্ত এলাকার চোরাকারবারী সদস্য ও মানব পাচারকারীদের দল, এদেরকে বলা হয় ঘাট মালিক। এ ছাড়া দুরমুজখালী গ্রামের গণেশ মন্ডলের মাধ্যমে ভারত থেকে ধুড় পারাপারকারী শ্যামনগর উপজেলার বাদঘাটা গ্রামের নেপাল বহুদিন যাবৎই দালাল চক্রের মাধ্যমে পাচার করে বলে জানা গেছে। এর ফলশ্রুতিতে এ দালাল চক্রের মাধ্যমে ৫ ফেব্রুয়ারী সোমবার দুরমুজখালী সীমান্তের ওপারে চাড়াল খালী এলাকায় এসে জড় হয় ২৫/৩০ জন। ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত কালিন্দী নদী  দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পাড়ী দেওয়ার উদ্দেশ্যে। একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায় মাঝ রাতে এদেরকে ছোট নৌকায় করে বাংলাদেশে পাড়ী দেওয়ার সময় ভারতের সীমানাত রক্ষী বাহিনী বি এস এফ এর ধাওয়ার মুখে পড়ে এবং নৌকা ফেলে যে যার মতো লাফিয়ে নদীতে ঝাপ দেয়। এক পর্যায়ে বি এস এফ এর বহনকারী স্প্রীড বোটের ধাক্কায় কাশিমাড়ীর আবু বক্কার পানির নিচে ডুবে যায়। এ খবর দুরমুজখালীর দালাল চক্র জানতে পেরে সবার অলক্ষ্যে আবু বক্কারে লাশ খুঁজতে থাকে। ৫ দিনের মাথায় লাশ খুঁজে পেয়ে নিজেদের অপকর্মের প্রমাণ মুছে ফেলতে তড়িঘড়ি করে নদীর চরে লাশ পুতে রাখার চেষ্টা চালায়। এ ছাড়া ঐ সময় নাম না জানা বিভিন্ন এলাকার আরো ৩/৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ বিষয় দুরমুজখালী ক্যাম্প কমান্ডারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন আমার জানামতে এই এলাকায় কোন ধুড় পারাপার কারী নেই  এবং আবু বক্কারের লাশ ভাসতে ভাসতে দুরমুজখালী ক্যাম্প থেকে ৬০০ গজ দুরে এসে পড়ে থাকলে আমরা শ্যামনগর থানায় খবর দিলে তারা লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ষনহশষ,লমমভলভললভ



ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ জটিলতার অবসান হলো
                                  

॥ মোঃ জাহেরুল ইসলাম, পঞ্চগড় ॥
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের বামনকুমার শাহাপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলীর বাড়ীতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে প্রতিবেশী জাহেরুল ইসলাম বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনকে বাধা দেয়। খোরশেদ আলী বিদ্যুৎ লাইন সংযোগের বাধা সৃষ্টির  বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট প্রতিবেশী নজরুল ও জাহেরুলের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পেক্ষিতে বিষয়টি নিরসনের জন্য ১৩ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন সুলতানার নেতৃত্বে ওসি(তদন্ত) জয়ন্ত কুমার সাহা, এসআই আবু রায়হান, এএসআই গৌতম সহ পিকআপ ভর্তি পুলিশ ফোর্স, পল্লøী বিদ্যুৎ আটোয়ারী অঞ্চলের ইনচার্জ মকসেদুল ইসলাম সহ বিদ্যুৎ বিভাগের অন্যান্য কর্মচারীবৃন্দ সরেজমিনে উপস্থিত থেকে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে আপোষ করে তাৎক্ষনিক বিদ্যুৎ সংযোগ দেন। অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অত্যান্ত গরীব হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতিনিধি হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন সুলতানা ওই তিনটি পরিবারের মাঝে পৃথক পৃথকভাবে ৩টি শাড়ী , ৩টি লুঙ্গি এবং ১১ প্রকার শুকনা খাবার বিতরণ করেন। এসময় উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক ইউসুফ আলী ও যুগ্ন সম্পাদক জাহেরুল ইসলামসহ এলাকার সুধিজন উপস্থিত ছিলেন।


থাই পেয়ারার চাষ পদ্ধতি ও রোগ বালাই
                                  

পেয়ারা আমাদের দেশে একটি অতি পরিচিত ও জনপ্রিয় ফল। এটি একটি দ্রুত বর্ধণশীল গ্রীষ্মকালীন ফল। আমাদের দেশে কম বেশী সব অঞ্চলে এ ফলের চাষ করা হয়। পেয়ারার মধ্যে থাই পেয়ারা খেতে খুবই মজাদার ও সুস্বাদু।
পেয়ারার পুষ্টিগুণ
পেয়ারা ভিটামিন ´সি´ সমৃদ্ধ একটি ফল। এ ছাড়া পেয়ারাতে প্রচুর পরিমান ভিটামিন-বি ও প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ যেমন- ক্যালশিয়াম ও আয়রণ রয়েছে। পেয়ারা কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থায় খাওয়া যায়। এছাড়া পেয়ারায় যথেষ্ট পরিমাণে পেকটিন থাকায় এ থেকে সহজেই জ্যাম, জেলী, চাটনী ইত্যাদি মুখরোচক খাবার   তৈরী করা যায়।
পেয়ারার জাত
আমাদের দেশে বেশ কয়েক জাতের পেয়ারা পাওয়া যায়। এর মধ্যে কাজী পেয়ারা, বারি পেয়ারা-২, বারি পেয়ারা-৩, বাউ পেয়ারা-১ (মিষ্টি), বাউ পেয়ারা-২ (রাংগা), বাউ পেয়ারা-৩ (চৌধুরী) এবং বাউ পেয়ারা-৪ (আপেল) ইত্যাদি। এছাড়াও থাই পেয়ারা, পলি পেয়ারা, আঙ্গুর পেয়ারা ইত্যাদি রয়েছে।
চাষ পদ্ধতি
অন্যান্য জাতের পেয়ারার মতোই জ্যৈষ্ঠ আশ্বিন মাস পর্যন্ত থাই পেয়ারা-৭ এর চারা রোপণ করা যায়। এ পেয়ারা চাষের জন্য নিকাশযুক্ত বেলে দো-আঁশ মাটিই উত্তম। বংশবৃদ্ধির জন্য বীজ থেকে চারা বা গুটি কলম ব্যবহার করা উচিত।  ৪*৪ বা ৩*৩ মিটার দূরত্ব ছকে এ জাতের পেয়ারার চারা রোপণ করতে হয়। রোপণের কয়েক সপ্তাহ আগে ৫০ সেন্টিমিটার  দৈর্ঘ্য, ৫০ সেন্টিমিটার প্রস্থ ও ৫০ সেন্টিমিটার চওড়া গর্ত খনন করতে হবে।  চারা রোপণের ১৫-২০ দিন পূর্বে প্রতিটি গর্তের মাটির সঙ্গে চারা ২০-২৫ কেজি পচা গোবর সার, ১৫০ গ্রাম টিএসপি ও ১৫০ গ্রাম এমওপি সার মিশিয়ে দিতে হবে।  তার পর সার মিশ্রিত মাটি দ্বারা গর্ত ভরাট করে গর্তের ঠিক মাঝখানে চারাটি রোপণ করতে হবে। চারা রোপণের পর গর্তের চারদিকে মাটি দ্বারা উঁচু করে বেঁধে দিতে হবে, যাতে বাইরের পানি এসে গাছের গোড়ায় না জমে।  গাছটি যাতে বাতাসে হেলে না পড়ে সেজন্য বাঁশের খুঁটির সঙ্গে হালকাভাবে বেঁধে দিতে হবে। মাটিতে রসের অভাব হলে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে।
পুনঃরুৎপাদন
বীজ দ্বারা বংশবিস্তার পুনঃরুৎপাদন করা খুব সহজ। কিন্তু বীজের গাছে মাতৃগুনাগুন সম্পন্ন পেয়ারা নাও পাওয়া যেতে পারে। তাই বীজ দিয়ে পুনঃরুৎপাদন না করে কলমের দ্বারাই পুনঃরুৎপাদন করা উত্তম। প্রধানত গুটি কলমের মাধ্যমে পুনঃরুৎপাদন করা হয়। কিন্তু আজকাল দেখা যায় গুটি কলমে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন রোগে আক্রন্ত হয়। তাই গুটি কলমের পরিবর্তে রোগ প্রতিরোধী জাত যেমন -পলি পেয়ারার রুটষ্টকের উপর সংযুক্ত জোড় বা ফাটল জোড় কলমের মাধ্যমে পুনঃরুৎপাদন করা হয়। মে- জুলাই মাস কলম করার উপযুক্ত সময়।
সেচ পদ্ধতি
পেয়ারার ভাল ফলন পেতে হলে ১৫ দিন পর পর গাছে সেচ দিতে হবে। তাছাড়া প্রতিবার গাছে সার প্রয়োগ করে গাছের গোড়ায় প্রয়োজনীয় রস সরবরাহের জন্য সেচ দিতে হবে। এ ছাড়াও বর্ষা কালে পানি নিকাশ ও খরা মৌসুমে নিয়মিত সেচ দিতে হবে।
সার প্রয়োগ
পেয়ারা গাছ থেকে অধিক ফলন পেতে পাঁচ বছরের নিচের একটি গাছে বছরে পচা গোবর ২০ থেকে ২৫ কেজি, ইউরিয়া ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম, টিএসটি ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ও এমওপি ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম এবং পাঁচ বছরের ওপরের প্রতিটি গাছে প্রতি বছর পচা গোবর ২৫ থেকে ৩০ কেজি, ইউরিয়া ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম, টিএসপি ৪৫০ থেকে ৫৫০ গ্রাম, এমওপি ৪৫০ থেকে ৫৫০ গ্রাম সার ব্যবহার করতে হবে।  উল্লিøখিত পরিমাণ সার সমান দুইভাগে ভাগ করে বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ এবং আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে দুই কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। সার প্রয়োগের পর প্রয়োজনে সেচ দিতে হবে।  অনেক সময় জিংকের অভাবে পাতার শিরায় ক্লোরোসিস দেখা যায়। সেক্ষেত্রে ৮০ লিটার পানিতে ৪০০ গ্রাম জিঙ্ক ও ৪০০ গ্রাম চুন মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে হবে। গাছের বয়স ভেদে গাছের গেড়ার ২৫-৫০ সেমিঃ বাদ দিয়ে দুপুর বেলায় গাছ যে পরিমাণ জায়গা জুড়ে ছায়া প্রদান করে সে পরিমাণ জায়গায় গাছের গোড়ার চারদিকে সার প্রয়োগের পর সম্পূর্ণ জায়গা কুপিয়ে উপরোক্ত সার মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে। এসময় পঁচা গোবর, ইউরিয়া, টিএসপি, পটাশ ইত্যাদি সার পরিমাণ মত প্রদান করতে হবে।
অঙ্গ ছাঁটাই
গাছের মরা, রোগাক্রান্ত ও অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ছাঁটাই করতে হবে। বয়স্ক গাছে আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ফল সংগ্রহের পর অঙ্গ ছাঁটাই করতে হবে। অঙ্গ ছাঁটাই এর সময় গাছের গোড়াতে গজানো অফসুট পাতাসমূহ অবশ্যই ছাঁটাই করতে হবে। এতে গাছে নতুন ডালপালা গজায় এবং তাতে প্রচুর ফল ধরে। পেয়ারা গাছের উল্লম্ব ডাল/খাড়া ডাল একটু সমান্তরালভাবে নুইয়ে দিলে উক্ত ডালে পেয়ারার ফলধারণ বৃদ্ধি পায়।
রোগ বালাই
ছাতরা পোকা, সাদা মাছি পোকা, ফল ছিদ্রকারী পোকা ও মাছি পোকাসহ বিভিন্ন রকমের পোকা দ্বারা পেয়ারার গাছ আক্রান্ত হয়। এসব পোকা-মাকড় দমনের জন্য সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করতে হবে। যেমন মাটিতে পড়ে থাকা পোকা বা আক্রান্ত ফল কুড়িয়ে ধ্বংস করা, ফেরোমোন ফাঁদ ও বিষ টোপ ব্যবহার করা। মার্বেল আকার হলে পেয়ারা পলি দিয়ে মুড়ে দেয়া ইত্যাদি। সাদা মাছি দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে পাঁচ গ্রাম ডিটারজেন্ট পাউডার মিশিয়ে গাছে স্প্রে করা যেতে পারে। আর অন্যান্য পোকা দমনের জন্য পেয়ারা গাছে ১০ থেকে ১৫ দিন পর পর দুই থেকে তিনবার সিমবুশ বা মেলাথিয়ন জাতীয় কীটনাশকের যে কোনো একটি প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২৫ মিলি মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। এছাড়া পেয়ারা গাছে অ্যানথ্রাকনোজ রোগ দেখা দিলে প্রথমে পেয়ারার গায়ে ছোট ছোট বাদামি রঙের দাগ দেখা দেয়। দাগগুলো ক্রমান্বয়ে বড় হয়ে পেয়ারার গায়ে ক্ষতের সৃষ্টি করে। আক্রান্ত ফল পরিপক্ব হলে অনেক সময় ফেটে যায়। এ রোগ দমনের জন্য গাছের নিচে ঝরে পড়া পাতা ও ফল সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। গাছে ফুল ধরার পর টপসিন-এম প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর স্প্রে করতে হবে। ভালোভাবে যতœ নিলে একটি পূর্ণবয়স্ক গাছে গ্রীষ্মকালে ৬০ থেকে ৭০ কেজি এবং হেমন্তকালে ৫০ থেকে ৬০ কেজি ফলন পাওয়া যায়।





৫৭ ধারা বাতিল ॥ আসছে ভয়ঙ্কর ৩২ ধারা
                                  

॥ মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥
তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বহুল আলোচিত কয়েকটি ধারা বিলুপ্ত করা হলেও ৫৭ ধারায় বর্ণিত অপরাধ ও শাস্তির বিধান পুনর্বিন্যাস করে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে নতুন আইনে সর্বনিম্ন সাত বছরের শাস্তির বিধান তুলে দেওয়া হয়েছে এবং অপরাধের মাত্রা ও ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে নতুন আইনের ১৭ থেকে ৩৮ ধারায় বিভিন্ন অপরাধ ও শাস্তির বিষয় উল্লেøখ রয়েছে। আইনটির ৩২ ধারা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ ধারায় ডিজিটাল অপরাধের বদলে গুপ্তচরবৃত্তির সাজার বিধান রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়, কোনো সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ঢুকে কেউ কোনো কিছু রেকর্ড করলে, তা গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ হবে। এর জন্য ১৪ বছরের জেল এবং ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোনো তথ্য-উপাত্ত দেশের সংহতি, অর্থনৈতিক কর্মকার, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ বা জনশৃঙ্খলা ক্ষুন্ন করলে বা জাতিগত বিদ্বেষ ও ঘৃণা সৃষ্টি করলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তা ব্লক বা অপসারণের জন্য টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে অনুরোধ করতে পারবে। খসড়া আইনে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের জন্য জাতীয় কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। অনুমোদনের পর আইনটির ব্যাপারে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিবিসি বাংলাকে বলেন, আইসিটি অ্যাক্টের অপরিচ্ছন্ন যে  ৫৭ ধারা ছিল, সেটিকে বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ৫৭ ধারার যে অপরাধ, সেগুলো বিস্তারিতভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল হলেও নতুন আইনে আগের মতো হয়রানির আশঙ্কা থাকবে কি-না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অযথা হয়রানি যাতে না হয় সে জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপপ্রয়োগের সুযোগ ৯৭ ভাগ বন্ধ হবে। এ ব্যাপারে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার মিডিয়াকে বলেন, সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ডিজিটাল অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নতুন আইনে রাখা হয়েছে। এ আইনে সর্বনিম্ন শাস্তির বিধান বেঁধে না দেওয়ার কারণে কাউকে ধরে নিয়ে অপরাধ প্রমাণ করলেই সাত বছরের সাজা হবে না। বিচারক অপরাধের মাত্রা ও ধরন বিবেচনা করে শাস্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।
এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল মিডিয়াকে বলেন, এর আগে ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ নিয়ে সাংবাদিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তখনও বলা হয়েছিল, এ আইন পেশাগত কাজে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে, অতি তুচ্ছ কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একের পর এক ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ করা হয়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও ৫৭ ধারার আদলে কিছু বিধান রাখা হয়েছে, যা মত প্রকাশের এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বড় বাধা হতে পারে। এ আইনটি শুধু মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে, আইনটি চূড়ান্তভাবে পাসের আগে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ মানবাধিকার কর্মীদের বক্তব্য নেওয়া এবং আইনের অপপ্রয়োগ রোধে পূর্ব নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাসহ আইনটি পাস করা। এ ব্যাপারে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহ্দীন মালিক বলেন, এ ধারার সংযোজনে অনুসন্ধানী এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাও গুরুতর আপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হবে। এর ফলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ভীষণভাবে কমে যাবে। অন্যদিকে সরকারি-আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা এবং বেআইনি কাজের সুযোগ প্রসারিত হবে। তথ্যপ্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার সিনিয়র ফেলো আবু সাঈদ খান বলেন, এ আইনের বিষয়ে নানা ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। সে কারণে আইনটি সংসদে পাসের আগে একটি গণশুনানি করে মতামত নেওয়া উচিত। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত যে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি রয়েছে, তারাই এ আয়োজন করতে পারে। তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালের টেলিযোগাযোগ আইন পাসের আগেও এ ব্যাপারে গণশুনানির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাই গণশুনানির মাধ্যমে আইনটি পাস হলে এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে এবং সরকারেরও সুনাম হবে। এ ব্যাপারে সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, খুব শিগগিরই প্রস্তাবিত এই খসড়া আইন নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করবেন তারা।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, নতুন আইনের আওতায় কেউ যদি ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনো ধরনের প্রপাগান্ডা চালায় তাহলে ১৪ বছরের জেল ও এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ২৮ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি ধর্মীয় বোধ ও অনুভূতিতে আঘাত করে, তাহলে ১০ বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
৫৭ ধারা বাতিল হলেও এ ধারায় দায়ের করা মামলাগুলোর কী হবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যেহেতু ধারাটি থাকবে না, বিচারকের রায়ই এখানে চূড়ান্ত। তবে বিদায়ী আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ অনুমোদন হলেও বিলুপ্ত ধারায় হওয়া আগের মামলাগুলোর কার্যক্রম চলবে। ওই ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নিশ্চিত করেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭ ও ৬৬ ধারা পুরোপুরি বিলুপ্ত করার বিধান রেখে মন্ত্রিসভায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া অনুমোদন হয়েছে।
নতুন আইনের ২৯ ধারায় বলা হয়েছে, মানহানিকর কোনো তথ্য দিলে তিন বছরের জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া, ৩২ ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কেউ যদি বেআইনিভাবে প্রবেশ করে কোনো ধরনের তথ্য-উপাত্ত, যে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে গোপনে রেকর্ড করে, তাহলে সেটা গুপ্তচরবৃত্তি অপরাধ হবে এবং এ অপরাধে ১৪ বছর কারাদন্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, কেউ যদি বেআইনিভাবে কারও ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে তাহলে তাকে সাত বছরের জেল ও ২৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ড দেওয়া হবে। বেআইনিভাবে অন্য সাইটে প্রবেশ করার পর যদি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হন তাহলে অপরাধীর ১৪ বছরের জেল ও এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। আবার কেউ যদি বেআইনিভাবে কারও ডিভাইসে প্রবেশ করে তাহলে এক বছরের জেল ও তিন লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কেউ যদি কারও ডিভাইসে প্রবেশে সহায়তা করে তাহলে তিন বছরের জেল ও তিন লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আইনের ১৭ ধারায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে কেউ যদি জনগণকে ভয়ভীতি দেখায় এবং রাষ্ট্রের ক্ষতি করে, তাহলে ১৪ বছরের জেল ও এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।
২৫ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল মাধ্যমে আক্রমণাত্মক ভয়ভীতি দেখায় তাহলে তাকে তিন বছরের জেল ও তিন লাখ টাকা জরিমানাসহ উভয় দন্ডের বিধান থাকছে। ৩০ ধারায় বলা হয়েছে, না জানিয়ে কেউ যদি কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে, ব্যাংক-বীমায় ই-ট্রানজেকশন করে, তাহলে পাঁচ বছরের জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
৩১ ধারায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করলে সাত বছরের জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
গত কয়েক বছরে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের বিরুদ্ধে নানা সময়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ এনে ৫৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ধর্মীয় অনুভূতির সংজ্ঞা কী হবে- প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, পেনাল কোডে ধর্মীয় অনুভূতির যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে সেটা এখানে প্রযোজ্য হবে। সাইবার সিকিউরিটি ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরের দেওয়া তথ্য মতে, ২০১৭ সালের জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের হওয়া ৭৪০টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৬০ শতাংশ মামলা রয়েছে ৫৭ ধারায়। ২০১৩ সালে প্রথম তিনটি মামলা হওয়ার পর প্রতি বছর মামলার সংখ্যা বেড়েছে। ২০১৪ সালে সারাদেশে ৩৩টি মামলা হলেও ২০১৫ সালে এসে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫২তে। ২০১৬ সালে ৫৭ ধারায় মামলা হয় ২৩৩টি, আর ২০১৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এই ধারায় মামলা হয়েছে ৩২৩টি।

মানবাধিকার খবর’র উদ্যোগ
                                  

॥ মোঃ রিয়াজ উদ্দিন ও দিশা বিশ্বাস ॥
 আপন আর আশিক দুজনই  বাংলাদেশী কিশোর। দুস্কৃতীকারিরা এই দুই কিশোরকে অপহরণ করে গোপনে নিয়ে আসে কলকাতায়। উদ্দেশ্য, কলকাতা থেকে এই দুই কিশোরকে অন্যরাজ্যে পাচার করা। আশিক বয়স ১৩ বছর আর আপনের বয়স ১২ বছর।
আশিকের বাড়ি বাংলাদেশের নড়াইল জেলার শেখহাটি মোজেরপাড়া গ্রামে। বাবার নাম রবিউল মোল্লা। স্থানীয় বিমহিষকুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র আশিক। বাবা কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। তারা দু’ভাই দু’বোন তাদের মধ্যে আশিক তৃতীয় । আশিক মাস দুয়েক আগে গ্রামের বাড়ীর আফড়ার মেলায় গিয়েছিল। সেখান থেকে ৫ দুস্কৃতকারী মুখে গামছা বেঁধে জোর করে নিয়ে আসে বেনাপোল সীমান্তে। তারপর আশিকের মুখে লিকো প্লাস্টার টেপ লাগিয়ে তাকে একটি পণ্যবাহী ট্রাকের নিচে চেসিসের সঙ্গে বেঁধে পার করে বেনাপোল সীমান্ত। সেখান থেকে তাঁকে বনগাঁ রেলস্টেশনে এনে ট্রেনে করে নিয়ে আসা হয় রানাঘাট রেল স্টেশনে। এখানে   এসে দেখে আরও ৫জন দুস্কৃতকারী অপেক্ষা করছে।  সেখান থেকে  কৌশলে পালিয়ে যায় আশিক। তারপর একসময় ট্রেনে করে শিয়ালদহ স্টেশনে নামে। শিয়ালদহ নামার পর তার ক্ষিধে পেলে এক চায়ের দোকানদার তাকে খাওয়াবে এই শর্তে রেখে দেয় বাসনকোসন ধোয়ার কাজে। ইতিমধ্যে শিয়ালদহের রেলওয়ের সংস্থা রেলওয়ে চাইল্ড লাইন খবর পেয়ে উদ্ধার করে আশিক কে। তারপর তুলে দেয় রেল পুলিশের হাতে। রেল পুলিশ আশিককে পাঠিয়ে দেয় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সরকারি হোম হাসুস বা হরিপুর আমরা সবাই উন্নয়ন সমিতির কাছে। গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে আশিক বারুইপুরের লক্ষীকান্তপুরের হাসুস’এ রয়েছে।
আপনের বয়স ১২ বছর। বাড়ি যশোর শার্শা থানার নাভারনের দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামে। পিতার নাম রাজু হোসেন। বাবার-মার বিচ্ছেদের পর মা অন্যত্র চলে গেছে। আপন মানুষ হয় নানীর কাছে। নানীর নাম শৈরন বিবি। নাভারণ বাজারে আছে নানীর ফলের দোকান। আপন স্থানীয় মিন্টুর ভাই ভাই চটপটির দোকানে কাজ করতো। মাসখানেক আগে আপন বেনাপোলের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে আসে। সেখান থেকে দুস্কৃতকারীরা আপনকে ধরে নিয়ে যায়। তারপর তাকে সীমান্ত পাচার করে নিয়ে আসে বনগাঁ রেলস্টেশনে। বনগাঁ স্টেশনে দালালরা তার  টিকিট কাটতে গেলে সেই সুযোগে সে পালিয়ে যায় স্টেশন থেকে। তারপর ট্রেনে করে চলে আসে শিয়ালদহ স্টেশনে। সেখানে এসে রেল পুলিশের হাতে ধরা পড়ে আপন। তারপর রেলওয়ের চাইল্ড লাইন আপনকে উদ্ধার করে পাঠিয়ে দেয় বারুইপুরের হাসুস হোমে। গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে আপনের ঠাঁই হয় এই হোমে।
আশিক ও আপন দুজন এখন রয়েছে হাসুস হোমে। গত ২৫ ডিসেম্বর কলকাতা থেকে দক্ষিণে প্রায় ১০০ কি.মি. দূরে লক্ষীকান্তপুর বিজয়াঙ্গি বাজারে ওই হোমে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মানবাধিকার খবর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক রোটারিয়ান মো: রিয়াজ উদ্দিন  পরিদর্শনে গেলে, সেখানে হোমের কর্মকর্তারা তাঁকে জানান ওই দুই বাংলাদেশী কিশোরের কথা।  ওই কিশোরদ্বয় বাংলাদেশে ফেরার জন্য সম্পাদকের কাছে কান্না-কাটি করে। চাইছে অবিলম্বে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। বলেছে, তারা ফিরে যেতে চায় তাদের বাবা মায়ের কাছে। সম্পাদক গত ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশে এসে ঐ দুই কিশোরের বাড়ীর ঠিকানায় এবং সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করে। সর্বশেষ গত ৬ জানুয়ারী তাদের অবিভাবকদের খুজে পাওয়া যায়। আপনের নানী শৈরন ও মামা ফলের দোকানদার মিজানুর রহমান জানতে পেরে সম্পাদকের কাছে দাবী জানান- যে করে হোক তাদের আপনকে যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের কাছে দেয়া হয়। আপনের মায়ের নাম নাসিমা । অনেক আগে পিতার সাথে সম্পর্ক বিচ্ছেদ হওয়ায় মা অন্যত্র বিবাহ করে সংসার করছেন আর পিতা কোন খোজ-খবর নেয় না। নানীর কাছেই দুঃখে ও কষ্টে বড় হচ্ছিল আপন। অপর দিকে আশিকের বাবা হলেন যাত্রীবাহী মটর সাইকেল চালক। দরিদ্রতার মধ্যে তাদের দিন চলে। আশিকের বাব-মা ও দাবী জানান  তাদের বুকের ধন কে যে কোন ভাবে হোক দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের কাছে দেওয়ার জন্য। আশিকের মায়ের নাম নাজমা বেগম। আশিক ও আপন বেঁচে আছে প্রায় ২মাস পর জানতে পেরে দুই পরিবারে আনন্দের বন্যা বইছে। এতদিন তারা বিভিন্ন জায়গায় খোজাখুজি করে, না পেয়ে তাদের জীবিত পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। ভারতে সেফ হোমে আশিক ও আপন এবং হোমের কর্মকর্তারা সম্পাদককে পেয়েও আনন্দিত হন। সেফ হোমের কর্মকর্তারা তাদের সঠিক ঠিকানা না থাকায় অনেকটা বিপদে ছিলেন। সম্পাদকের কারনে বাচ্চা দু’টিকে এবার দেশে ফিরিয়ে নেওয়ায় সার্বিক সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন। বাচ্চা দু’টির বর্তমানে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের কাজ চলছে। কাগজপত্র হাতে পেলেই অতিদ্রুত মানবাধিকার খবরের উদ্যোগ তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এ ব্যাপারে মানবাধিকার খবর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে মানবাধিকার খবর মা-বাবার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য আপ্রান চেষ্টা করছে।
অপরদিকে, বাচ্চা দু’টিকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাবেক শ্রম মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় বোর্ডের চেয়ারম্যান ও মেম্বার তথ্য-প্রযুক্তি সংসদীয় কমিটি, মেম্বার নিরাপত্তা  বিশ্লেøষক সংসদীয় কমিটি এবং রাজ্যসভার এমপি শ্রী প্রফেসর প্রদীপ ভট্টাচার্য, পশ্চিমবঙ্গ চাইল্ড ওয়েল ফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান ও রাজ্য সভার এমপি প্রতিমা মন্ডল, কলকাতায় বাংলাদেশস্থ উপ-দূতাবাসের কাউন্সিলর মোঃ জামাল হোসেন, হাসুস সেফ হোমের প্রিন্সিপল বাবু সোনা পাইকসহ সংশ্লিষ্ট সকলে মানবাধিকার খবরকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেছেন। লক্ষীকান্তপুর হাসুস সেফ হোম পরিদর্শনের সময় মানাবাধিকার খবরের সম্পাদকের সাথে কলকাতা মানবাধিকার খবরের এক্সিকিউটিভ রিয়া সেন ছিলেন।
রোটারি ক্লাব অব গুলশান লেকসিটি নারী ও শিশু উদ্ধার মানবাধিকার খবরকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এই মহতি কাজে মানবাধিকার খবরের পক্ষ থেকে বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।

১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত
                                  

॥ মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥
১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সিপ্পো, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রিনি হোলেন স্টেইন প্রমূখ। সেমিনারের মাধ্যমে সমতা, ন্যায় বিচার এবং মানুষের মর্যদা নিশ্চিত করার প্রত্যয়কে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান করেছেন। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান করেছে। মানবাধিকার মানুষ জন্মসূত্রে অর্জন করে। আমাদের দেশের সংবিধান মানুষের সে অধিকারের গ্যারান্টি দিয়েছে। মানবাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি বেসকারি প্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসতে হবে। শুধু দেশের মানুষেরই না সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্য রুখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মানবাধিকার নিশ্চিত করতে বিপদে যে কোন মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। রোহিঙ্গাদের প্রথমিক চাহিদা পূরনে কাজ করে চলছে বাংলাদেশ জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উত্থাপিত পাঁচ দফা প্রস্থাবেই সুরক্ষিত হবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার। আরও বলেন নারীদের শিক্ষা এবং কাজের পরিবেশ তৈরী করতে হবে। নারীরা শিক্ষিত হয়ে পুরুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চললেই অর্জিত হবে সমতা এবং অবসান ঘটবে লিঙ্গ বৈষম্যের। দরিদ্রতাকে হার মানিয়ে এগিয়ে চলছে দেশ। এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্ব দরবারে প্রতিফলিত হয়েছে। সমতা, ন্যায় বিচার এবং মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে দেশ এসডিজি  অর্জনেও একই রকম সাফল্য দেখাবে। গওহর রিজভী বলেন, সমতা নিশ্চিত করে দলীত হরিজন সংখ্যালঘু সব সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত করতে ইতিবাচক উদ্যোগ এবং মূল্যবোধ থাকতে হবে। সংবিধান সেভগার্ড হিসেবে অধিকার দিয়েছে মানুষকে তার বাস্তবায়ন করতে হবে। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক যে কোন প্লাটফর্ম থেকেই মানবাধিকার লঙ্গনকারীদের রুখতে হবে। সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রিনি হোলেন স্টেইন বলেন, মানবাধিকার নাগরিকদের অধিকার, সমতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়। রোহিঙ্গা উস্যুতে মানবাধিকার চ্যালেঞ্জের মুখে পরেছে। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। এত বড় জনগোষ্ঠীর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশ মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে। এই ইস্যু মীমাংসা করতে বিশ্ব জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিন সাপোর্ট প্রয়োজন বাংলাদেশের। মিয়া সিপ্পো বলেছেন, মানুষ হিসাবে জন্মগ্রহন করার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ তার মানবাধিকার অর্জন করে।  কোন ব্যাক্তি, সংগঠন বা রাষ্ট্র তার এই অধিকার কেড়ে নিতে পারেনা। মানবাধিকার নিশ্চিত করতে আমাদের সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘন ঠেকানোর জন্য সংগঠন বা ইউনিয়ান জরুরি নয় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ব্যাক্তির উদ্যোগ ও মানবিকতা।
অপরদিকে গুমের শিকার ২৯টি পরিবারের সদস্যরা জাতীয় প্রেসক্লাবে সমবেত হয়ে সরকারের কাছে তাঁদের দাবির কথা জানিয়ে বলেন-বাবা-মায়ের চোখের সামনে থেকে সন্তানকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো, সন্তানের সামনে থেকে বাবাকে, বোনের সামনে থেকে ভাইকে...। তুলে নেওয়ার সময় কেউ পরিচয় দিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য,  কেউ এসেছিল সাদাপোশাকে। এখন এসে সরকার বলছে তারা কিছু জানে না। তাহলে কে জানে? আমরা এর জবাব চাই। হয়, আমাদের প্রিয়জনদের ফিরিয়ে দিন, নয় জবাব দিন। আর প্রতীক্ষা করতে পারছি না। পরের বছরও একই দাবিতে একইভাবে আমরা আর সমবেত হতে চাই না।’
গত কয়েক বছরের মতো এবারও নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা একত্র হয়েছিলেন। ‘মায়ের ডাক, সন্তানদের মায়ের কোলে ফিরিয়ে দাও’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর নিখোঁজ হওয়া সাজেদুল ইসলাম সুমনের বৃদ্ধ মা হাজেরা খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমার একটাই চাওয়া, মৃত্যুর আগে একবার ছেলেটাকে দেখে যেতে চাই।’ শোকবিহ্বল পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন। সবার হাতে ছিল প্রিয়জনের ছবি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ছোট্ট মেয়ে আদিবা ইসলাম কাঁদতে কাঁদতে বলে, ‘আমি তো বড় হয়ে যাচ্ছি, আমার বাবা ফিরে আসছে না কেন?’ আদিবার আশা, তার বাবা ফিরবেনই। চার বছর আগে ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর ঢাকার শাহবাগ থেকে নিখোঁজ হন তার বাবা পারভেজ  হোসেন।
আলোচনায় লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন পড়ে  শোনান ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নিখোঁজ সাজেদুল ইসলামের দুই বোন মারুফা ইসলাম ও আফরোজা ইসলাম। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘আজ আমাদের গুম পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচিত হতে হচ্ছে। এর মধ্যে গুম হওয়া মুন্নার বাবা ও পারভেজের বাবা মারা  গেছেন। এর থেকে পরিত্রাণ চাই। আমাদের স্বজনেরা কোথায়, কী অবস্থায় রয়েছে, তা জানতে চাই। গুমের তালিকায় আমরা আর নতুন নাম দেখতে চাই না।’
২০১৩ সালে মিরপুর পল্লøবী থেকে গুম হওয়া বিএনপিকর্মী সেলিম রেজা পিন্টুর বোন বলেন, ‘আমরা পুলিশের কাছে কোনো তথ্য পাই না। সিআইডির কাজেরও কোনো অগ্রগতি নাই।’
অনুষ্ঠানে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লøাহ চৌধুরী গুমের জন্য সরকারকে দায়ী করে বলেন, ‘ফরহাদ মজহারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে আলোচনায় আমি বুঝতে পেরেছি, পুলিশ ও র‌্যাব সক্রিয় ছিল বলে উনি ফিরে আসতে পেরেছেন। এতে  বোঝা যায়, তাঁর নিখোঁজ হওয়ার পেছনে অন্য  কোনো শক্তি কাজ করেছিল। তাই পুলিশ ও র‌্যাবকে সক্রিয় করার জন্য জোর অনুরোধ জানাচ্ছি।’
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমি গুমের পরিস্থিতির শিকার। এই কঠিন সময়টি সম্পর্কে আমি জানি। গুম অস্বীকার করার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এসব গুম রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতেই করা হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) পরিচালক সি আর আবরার বলেন, একটা ভয়ের আবহ ও পরিস্থিতির মধ্য নিখোঁজের স্বজনেরা এখানে এসেছেন। যারা গুমের পেছনে জড়িত, তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হোক। গুম পরিবারগুলোর যে অভিযোগ রাষ্ট্রের দায়িত্ব তার জবাব  দেওয়া।
মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, ‘গত চার বছর আমরা নানাভাবে গুমের বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছি। আমরা এখন আর আবেদন জানাতে চাই না। এই পরিস্থিতিতে আমরা মার্চ মাসের মধ্যে গণশুনানি করতে চাই। ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চাই।’
মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের পরিচালক নাসিরউদ্দিন এলান বলেন, ২০১৭ সালের আগে দেখা যেত প্রশাসন পরিচয় দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখন উধাও হয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজ হলো, না মারা গেল, নাকি গুম, তা  বোঝাও যাচ্ছে না। আমরা জানতে চাই কী হচ্ছে?’
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক ব্যারিস্টা রুমিন ফারহানা বলেন, প্রতি মুহূর্তের অপেক্ষা মৃত্যুর চেয়ে অনেক কঠিন। গুমের শিকার পরিবারগুলো  সেই কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
১১ ডিসেম্বর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক মিডিয়াকে বলেন- আমাদের মানবাধিকার তো অনেক বড় সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের অধিকার বিষয়ে নিয়ে আমরা কাজ করি, তারপরও গুম বা নিখোজ হওয়ার অনেক অভিযোগ আমাদের কাছে আসে, এ জাতীয় অভিযোগ আসলেও আমাদের কাছে এমন কোন মেশিনারিজ নেই যে আমরা তাদের খুজে বের করতে পারি বা প্রকৃত অপরাধীকে ধরতে পারি, আমরা
এ অভিযোগ গুলো সরকারের কাছে পাঠিয়ে দিই এবং সরকারকে অনুরোধ করি প্রকৃত অপরাধীদের সনাক্ত করতে হোক সে সাধারন নাগরিক, কিবা সরকারী লোক বা প্রশাসনের কেউ।
তিনি বলেন- এখন অবশ্য তারা আমাদের জবাব দিচ্ছে, আর আমাদের আইনের সীমাবদ্ধতার কারনে অনেক তদন্তই আমরা সরকারী করতে পারছিনা আমাদের তাদের উপর নির্ভরশীল হতেই হচ্ছে, কারন এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব রাষ্ট্রই সকল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ আর এটা থেকে বের হতে হলে যেটা করতে হবে সেটা হলো আমাদের আইনটা কে রি-ভিসিট করতে হবে, পার্টিকুলার একটি সেকশন, যে সেকশন এ বলা আছে এ জাতীয় ঘটনা ঘটলে রাষ্ট্রকে জানাতে হবে, এ সেকশনটা রি-ভিসিট করতে হবে, আরেকটা কথা আবার বলছি আমরা যে তদন্ত গুলি করি করে রাষ্ট্রকে সেটা আমরা সাভমিট করি। এ ক্ষেত্রে এটা হতে পারে কোন আইন বা ক্ষমতা বলে যদি আমরা আমাদের তদন্ত গুলি সরাসরি আদালতে সাভমিট করতে পারি যেটা গ্রহনযোগ্য হবে সে প্রচেষ্টাই আমরা করে যাচ্ছি আমরা দেখছি রাষ্ট্রের তদন্ত অনেক সময় সত্য বের হয়ে আসেনা।
কাজী রিয়াজুল হক বলেন- আসলে সরকারের অধিনে কিন্তু মানবাধিকার কমিশন নেই, পৃথিবীতে যত মানবাধিকার কমিশন আছে সবাইকে রাষ্ট্র অর্থায়ন করে কিন্তু রাষ্ট্র এ কমিশনকে পরিচালনা করেনা, মূলত জাতিসংঘ দ্বারা প্যারিসে অনুষ্ঠিত সম্মেলন এ সিদ্ধান্ত হয় প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্রে একটি করে মানবাধিকার কমিশন থাকবে, যদিও এটা বাধ্যতামূলক নয় তারপরেও ৮০ টির বেশী রাষ্ট্রে এ কমিশন রয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি।
সমপ্রতি আগষ্ট মাসে থেকে অপহরন হয়েছে শিক্ষক থেকে শুরু করে ডাক্তার, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ডিপলোম্যাটরা, সব ক্ষেত্রে এ অপকর্মের জন্য আঙ্গুল কিন্তু আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর দিকে উঠেছে এটাকে উদ্বেক জনক বলবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন-
উদ্বেক জনক বলেছিতো বহুবার এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব এই লোক গুলোকে খুজে বের করে তাদের পরিবারের নিকট ফেরত দিতে হবে। এ কাজে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে আমরা অনুরোধ করছি। এ নিয়ে একটা প্রক্রিয়া আছে পুলিশ তদন্ত করে তা আদালতে দাখিল করবে। আদালত যদি মনে করেন তদন্তে নিষ্ঠা বা সততার অভাব আছে তাহলে সে ক্ষেত্রে আদালতের অন্য পক্ষ থেকে নারাজী পিটিশন দাখিল করলে আদালত পুনরায় তদন্ত করার করার আদেশ দিতে পারে।
আমাদের দেশে বিভিন্ন আইনের যে ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে, এতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ ভাব-মূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে কাজী রিয়াজুল হক বলেন- ভাল কথা বলেছেন বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূতি অর্থনৈতিক ভাবে ও সামাজিক ভাবে অনেক উজ্জল এই যে গুম, অপহরন ও বিচার বহির্ভূত হত্যাগুলো হচ্ছে এ গুলো সব উজ্জলতাকে ম্লান করে দিচ্ছে রাষ্ট্রের উচিত দেশের ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে ঠিক রাখা।
আইনের সীমাবদ্বতার কারনে আপনারা কাজ করতে না পারা এটা পরিবর্তনের জন্য কোন জোরালো আবেদন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন- অবশ্যই জোরালো আবেদন করে যাচ্ছি, এই যে আপনাদের মাধ্যমে বলছি এটাও  তো আবেদন। আমরা আবারও একটি মিটিং করে আবেদন পাঠাবো, যেন আইনি প্রতিবন্ধকতা থেকে বের হয়ে আমরা সরাসরি গুম ও অপহরন নির্যাতন এসব বিষয়ে মানবাধিকার কমিশন নিজে তদন্ত করে আদালতে দাখিল করে মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে চাই।
মানবাধিকার পরিস্থিতি বিশিষ্ট জনের মতামত
সাম্প্রতিক গুম, নিখোঁজ ও বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত থাকলেও মানবাধিকারের  ক্ষেত্রে তা ব্যাহত হচ্ছে। দেশের সব  শ্রেণী- পেশার মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী মানবাধিকার সুরক্ষা এখনও প্রত্যাশার কাছাকাছি নেই। বিশিষ্টজনের অভিমত, গুম ও নিখোঁজের ঘটনার দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারে না। মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে জোর দেওয়ার আহ্বান জানান তারা। তবে সরকারের দাবি-  বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির আগের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। বিনা বিচারে হত্যাকারের সংখ্যা অনেক কমেছে। মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে। এমন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে  পালিত হলো বিশ্ব মানবাধিকার দিবস।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাংলাদেশের সংবিধানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সব মানবাধিকার ও সুশাসনের নিশ্চয়তা বিধান করা হয়েছে উল্লেøখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার মানবাধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর। সর্বস্তরে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০০৯ প্রণয়ন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এক বাণীতে বলেন, আমরা স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছি। সংবিধান সংশোধন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ করেছি। সকল মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার করার মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছি।
গত আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ১৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এর মধ্যে চারজনের খোঁজ পাওয়া  গেলেও বাকিদের খোঁজ মেলেনি। এর মধ্যে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক এবং সাবেক রাষ্ট্রদূতও রয়েছেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তথ্যমতে, চলতি বছর ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত কমিশনের কাছে গুম ও বিচার-বহির্ভূত হত্যাকারসহ বিভিন্ন ঘটনায় মোট ৪৩৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৪৪টি। গত বছর অভিযোগ ছিল ৬৬৫টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৩৯২টি।
মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের  দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি অনেক ভালো, অনেক উন্নত। তার কারণ হচ্ছে, মানুষের কথা বলার সুযোগ আছে। জনগণের অধিকার সংরক্ষণের জন্য বর্তমান সরকার অনেক কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি অনেক সুদৃঢ়। তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সব নাগরিকের মৌলিক অধিকারকে সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছে সরকার।
সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, সার্বিকভাবে বলা যেতে পারে- বাংলাদেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি ভালো নয়। বিশ্বের মানবাধিকার পরিস্থিতিও খারাপ। তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণেই মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এরপর রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক গুম-নিখোঁজের ঘটনায় আমরা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। ধরে নিয়ে মুক্তিপণ চেয়ে টাকা আদায়ও মানবাধিকার লঙ্ঘন। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, মানবাধিকারের কতগুলো শর্ত আছে, যেখানে একজন মানুষ সমাজে স্বাধীনভাবে বসবাস করবে। সে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হবে না। কিন্তু সমাজের সবাই এ সুবিধা পাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, একের পর এক রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক নিখোঁজ হচ্ছে, তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তারা বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে- তাদের খুঁজে বের করার মূল দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র এ দায় কিছুতেই এড়াতে পারে না।সুলতানা কামাল আরও বলেন, নারী নির্যাতনের হার উদ্বেগজনক। সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে অহরহ। আমরা শঙ্কার মধ্যে  বেঁচে আছি। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে উল্লেøখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে উন্নতি করছে, কিন্তু মানবাধিকার রক্ষায় সরকারকে আরও বেশি উন্নতি করতে হবে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ বা গুম হলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তাকে খুঁজে  বের করা। কিন্তু রাষ্ট্রের তৎপরতা সেভাবে দৃশ্যমান নয়। এখানেই আমাদের আশঙ্কা। তিনি বলেন, গুমের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের আদালতে সোপর্দ করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্বে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে অস্থিরতা চলছে। রোহিঙ্গাদের সমস্যায় আমরা জর্জরিত। আমাদের এই বিশাল বোঝা টানতে হচ্ছে। বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বের দরবারে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রাখছে। দেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন,  বেসামরিক লোক নিখোঁজ হচ্ছে, যা খুবই উদ্বেগজনক। একের পর এক লোকজনকে কে বা কারা তুলে নিয়ে যাচ্ছে, এটা রাষ্ট্রকে খুঁজে  বের করতে হবে। একটি মানবাধিকারবান্ধব সমাজ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, দেশে ততই মানবাধিকার পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ চরম মানবাধিকার বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। বিশ্ব মানবাধিকার দিবসের কর্মসূচি : `সমতা, ন্যায় বিচার ও মানবিক মর্যাদা`- এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে  আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হলো ৬৯তম বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে এ দিবসটি পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছিলো।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে থেকে শোভাযাত্রা বের হয়েছিল।
অপরদিকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মানবাধিকার বিষয়ক পত্রিকা মানবাধিকার খবর, বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি সংগঠন শোভাযাত্রা বের করে।  এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দু`দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিলো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন  চৌধুরী। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেছিলেন মানবাধিকার কমিশনের  চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।
দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সেমিনারে বিভিন্ন সেশনে কয়েকটি দেশ থেকে প্রতিনিধিগন অংশগ্রহন করে।

১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত
                                  

॥ মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥
১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সিপ্পো, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রিনি হোলেন স্টেইন প্রমূখ। সেমিনারের মাধ্যমে সমতা, ন্যায় বিচার এবং মানুষের মর্যদা নিশ্চিত করার প্রত্যয়কে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান করেছেন। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান করেছে। মানবাধিকার মানুষ জন্মসূত্রে অর্জন করে। আমাদের দেশের সংবিধান মানুষের সে অধিকারের গ্যারান্টি দিয়েছে। মানবাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি বেসকারি প্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসতে হবে। শুধু দেশের মানুষেরই না সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্য রুখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মানবাধিকার নিশ্চিত করতে বিপদে যে কোন মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। রোহিঙ্গাদের প্রথমিক চাহিদা পূরনে কাজ করে চলছে বাংলাদেশ জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উত্থাপিত পাঁচ দফা প্রস্থাবেই সুরক্ষিত হবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার। আরও বলেন নারীদের শিক্ষা এবং কাজের পরিবেশ তৈরী করতে হবে। নারীরা শিক্ষিত হয়ে পুরুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চললেই অর্জিত হবে সমতা এবং অবসান ঘটবে লিঙ্গ বৈষম্যের। দরিদ্রতাকে হার মানিয়ে এগিয়ে চলছে দেশ। এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্ব দরবারে প্রতিফলিত হয়েছে। সমতা, ন্যায় বিচার এবং মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে দেশ এসডিজি  অর্জনেও একই রকম সাফল্য দেখাবে। গওহর রিজভী বলেন, সমতা নিশ্চিত করে দলীত হরিজন সংখ্যালঘু সব সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত করতে ইতিবাচক উদ্যোগ এবং মূল্যবোধ থাকতে হবে। সংবিধান সেভগার্ড হিসেবে অধিকার দিয়েছে মানুষকে তার বাস্তবায়ন করতে হবে। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক যে কোন প্লাটফর্ম থেকেই মানবাধিকার লঙ্গনকারীদের রুখতে হবে। সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রিনি হোলেন স্টেইন বলেন, মানবাধিকার নাগরিকদের অধিকার, সমতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়। রোহিঙ্গা উস্যুতে মানবাধিকার চ্যালেঞ্জের মুখে পরেছে। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। এত বড় জনগোষ্ঠীর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশ মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে। এই ইস্যু মীমাংসা করতে বিশ্ব জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিন সাপোর্ট প্রয়োজন বাংলাদেশের। মিয়া সিপ্পো বলেছেন, মানুষ হিসাবে জন্মগ্রহন করার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ তার মানবাধিকার অর্জন করে।  কোন ব্যাক্তি, সংগঠন বা রাষ্ট্র তার এই অধিকার কেড়ে নিতে পারেনা। মানবাধিকার নিশ্চিত করতে আমাদের সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘন ঠেকানোর জন্য সংগঠন বা ইউনিয়ান জরুরি নয় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ব্যাক্তির উদ্যোগ ও মানবিকতা।
অপরদিকে গুমের শিকার ২৯টি পরিবারের সদস্যরা জাতীয় প্রেসক্লাবে সমবেত হয়ে সরকারের কাছে তাঁদের দাবির কথা জানিয়ে বলেন-বাবা-মায়ের চোখের সামনে থেকে সন্তানকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো, সন্তানের সামনে থেকে বাবাকে, বোনের সামনে থেকে ভাইকে...। তুলে নেওয়ার সময় কেউ পরিচয় দিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য,  কেউ এসেছিল সাদাপোশাকে। এখন এসে সরকার বলছে তারা কিছু জানে না। তাহলে কে জানে? আমরা এর জবাব চাই। হয়, আমাদের প্রিয়জনদের ফিরিয়ে দিন, নয় জবাব দিন। আর প্রতীক্ষা করতে পারছি না। পরের বছরও একই দাবিতে একইভাবে আমরা আর সমবেত হতে চাই না।’
গত কয়েক বছরের মতো এবারও নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা একত্র হয়েছিলেন। ‘মায়ের ডাক, সন্তানদের মায়ের কোলে ফিরিয়ে দাও’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর নিখোঁজ হওয়া সাজেদুল ইসলাম সুমনের বৃদ্ধ মা হাজেরা খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমার একটাই চাওয়া, মৃত্যুর আগে একবার ছেলেটাকে দেখে যেতে চাই।’ শোকবিহ্বল পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন। সবার হাতে ছিল প্রিয়জনের ছবি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ছোট্ট মেয়ে আদিবা ইসলাম কাঁদতে কাঁদতে বলে, ‘আমি তো বড় হয়ে যাচ্ছি, আমার বাবা ফিরে আসছে না কেন?’ আদিবার আশা, তার বাবা ফিরবেনই। চার বছর আগে ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর ঢাকার শাহবাগ থেকে নিখোঁজ হন তার বাবা পারভেজ  হোসেন।
আলোচনায় লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন পড়ে  শোনান ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নিখোঁজ সাজেদুল ইসলামের দুই বোন মারুফা ইসলাম ও আফরোজা ইসলাম। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘আজ আমাদের গুম পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচিত হতে হচ্ছে। এর মধ্যে গুম হওয়া মুন্নার বাবা ও পারভেজের বাবা মারা  গেছেন। এর থেকে পরিত্রাণ চাই। আমাদের স্বজনেরা কোথায়, কী অবস্থায় রয়েছে, তা জানতে চাই। গুমের তালিকায় আমরা আর নতুন নাম দেখতে চাই না।’
২০১৩ সালে মিরপুর পল্লøবী থেকে গুম হওয়া বিএনপিকর্মী সেলিম রেজা পিন্টুর বোন বলেন, ‘আমরা পুলিশের কাছে কোনো তথ্য পাই না। সিআইডির কাজেরও কোনো অগ্রগতি নাই।’
অনুষ্ঠানে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লøাহ চৌধুরী গুমের জন্য সরকারকে দায়ী করে বলেন, ‘ফরহাদ মজহারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে আলোচনায় আমি বুঝতে পেরেছি, পুলিশ ও র‌্যাব সক্রিয় ছিল বলে উনি ফিরে আসতে পেরেছেন। এতে  বোঝা যায়, তাঁর নিখোঁজ হওয়ার পেছনে অন্য  কোনো শক্তি কাজ করেছিল। তাই পুলিশ ও র‌্যাবকে সক্রিয় করার জন্য জোর অনুরোধ জানাচ্ছি।’
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমি গুমের পরিস্থিতির শিকার। এই কঠিন সময়টি সম্পর্কে আমি জানি। গুম অস্বীকার করার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এসব গুম রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতেই করা হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) পরিচালক সি আর আবরার বলেন, একটা ভয়ের আবহ ও পরিস্থিতির মধ্য নিখোঁজের স্বজনেরা এখানে এসেছেন। যারা গুমের পেছনে জড়িত, তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হোক। গুম পরিবারগুলোর যে অভিযোগ রাষ্ট্রের দায়িত্ব তার জবাব  দেওয়া।
মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, ‘গত চার বছর আমরা নানাভাবে গুমের বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছি। আমরা এখন আর আবেদন জানাতে চাই না। এই পরিস্থিতিতে আমরা মার্চ মাসের মধ্যে গণশুনানি করতে চাই। ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চাই।’
মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের পরিচালক নাসিরউদ্দিন এলান বলেন, ২০১৭ সালের আগে দেখা যেত প্রশাসন পরিচয় দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখন উধাও হয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজ হলো, না মারা গেল, নাকি গুম, তা  বোঝাও যাচ্ছে না। আমরা জানতে চাই কী হচ্ছে?’
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক ব্যারিস্টা রুমিন ফারহানা বলেন, প্রতি মুহূর্তের অপেক্ষা মৃত্যুর চেয়ে অনেক কঠিন। গুমের শিকার পরিবারগুলো  সেই কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
১১ ডিসেম্বর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক মিডিয়াকে বলেন- আমাদের মানবাধিকার তো অনেক বড় সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের অধিকার বিষয়ে নিয়ে আমরা কাজ করি, তারপরও গুম বা নিখোজ হওয়ার অনেক অভিযোগ আমাদের কাছে আসে, এ জাতীয় অভিযোগ আসলেও আমাদের কাছে এমন কোন মেশিনারিজ নেই যে আমরা তাদের খুজে বের করতে পারি বা প্রকৃত অপরাধীকে ধরতে পারি, আমরা
এ অভিযোগ গুলো সরকারের কাছে পাঠিয়ে দিই এবং সরকারকে অনুরোধ করি প্রকৃত অপরাধীদের সনাক্ত করতে হোক সে সাধারন নাগরিক, কিবা সরকারী লোক বা প্রশাসনের কেউ।
তিনি বলেন- এখন অবশ্য তারা আমাদের জবাব দিচ্ছে, আর আমাদের আইনের সীমাবদ্ধতার কারনে অনেক তদন্তই আমরা সরকারী করতে পারছিনা আমাদের তাদের উপর নির্ভরশীল হতেই হচ্ছে, কারন এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব রাষ্ট্রই সকল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ আর এটা থেকে বের হতে হলে যেটা করতে হবে সেটা হলো আমাদের আইনটা কে রি-ভিসিট করতে হবে, পার্টিকুলার একটি সেকশন, যে সেকশন এ বলা আছে এ জাতীয় ঘটনা ঘটলে রাষ্ট্রকে জানাতে হবে, এ সেকশনটা রি-ভিসিট করতে হবে, আরেকটা কথা আবার বলছি আমরা যে তদন্ত গুলি করি করে রাষ্ট্রকে সেটা আমরা সাভমিট করি। এ ক্ষেত্রে এটা হতে পারে কোন আইন বা ক্ষমতা বলে যদি আমরা আমাদের তদন্ত গুলি সরাসরি আদালতে সাভমিট করতে পারি যেটা গ্রহনযোগ্য হবে সে প্রচেষ্টাই আমরা করে যাচ্ছি আমরা দেখছি রাষ্ট্রের তদন্ত অনেক সময় সত্য বের হয়ে আসেনা।
কাজী রিয়াজুল হক বলেন- আসলে সরকারের অধিনে কিন্তু মানবাধিকার কমিশন নেই, পৃথিবীতে যত মানবাধিকার কমিশন আছে সবাইকে রাষ্ট্র অর্থায়ন করে কিন্তু রাষ্ট্র এ কমিশনকে পরিচালনা করেনা, মূলত জাতিসংঘ দ্বারা প্যারিসে অনুষ্ঠিত সম্মেলন এ সিদ্ধান্ত হয় প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্রে একটি করে মানবাধিকার কমিশন থাকবে, যদিও এটা বাধ্যতামূলক নয় তারপরেও ৮০ টির বেশী রাষ্ট্রে এ কমিশন রয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি।
সমপ্রতি আগষ্ট মাসে থেকে অপহরন হয়েছে শিক্ষক থেকে শুরু করে ডাক্তার, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ডিপলোম্যাটরা, সব ক্ষেত্রে এ অপকর্মের জন্য আঙ্গুল কিন্তু আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর দিকে উঠেছে এটাকে উদ্বেক জনক বলবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন-
উদ্বেক জনক বলেছিতো বহুবার এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব এই লোক গুলোকে খুজে বের করে তাদের পরিবারের নিকট ফেরত দিতে হবে। এ কাজে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে আমরা অনুরোধ করছি। এ নিয়ে একটা প্রক্রিয়া আছে পুলিশ তদন্ত করে তা আদালতে দাখিল করবে। আদালত যদি মনে করেন তদন্তে নিষ্ঠা বা সততার অভাব আছে তাহলে সে ক্ষেত্রে আদালতের অন্য পক্ষ থেকে নারাজী পিটিশন দাখিল করলে আদালত পুনরায় তদন্ত করার করার আদেশ দিতে পারে।
আমাদের দেশে বিভিন্ন আইনের যে ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে, এতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ ভাব-মূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে কাজী রিয়াজুল হক বলেন- ভাল কথা বলেছেন বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূতি অর্থনৈতিক ভাবে ও সামাজিক ভাবে অনেক উজ্জল এই যে গুম, অপহরন ও বিচার বহির্ভূত হত্যাগুলো হচ্ছে এ গুলো সব উজ্জলতাকে ম্লান করে দিচ্ছে রাষ্ট্রের উচিত দেশের ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে ঠিক রাখা।
আইনের সীমাবদ্বতার কারনে আপনারা কাজ করতে না পারা এটা পরিবর্তনের জন্য কোন জোরালো আবেদন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন- অবশ্যই জোরালো আবেদন করে যাচ্ছি, এই যে আপনাদের মাধ্যমে বলছি এটাও  তো আবেদন। আমরা আবারও একটি মিটিং করে আবেদন পাঠাবো, যেন আইনি প্রতিবন্ধকতা থেকে বের হয়ে আমরা সরাসরি গুম ও অপহরন নির্যাতন এসব বিষয়ে মানবাধিকার কমিশন নিজে তদন্ত করে আদালতে দাখিল করে মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে চাই।
মানবাধিকার পরিস্থিতি বিশিষ্ট জনের মতামত
সাম্প্রতিক গুম, নিখোঁজ ও বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত থাকলেও মানবাধিকারের  ক্ষেত্রে তা ব্যাহত হচ্ছে। দেশের সব  শ্রেণী- পেশার মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী মানবাধিকার সুরক্ষা এখনও প্রত্যাশার কাছাকাছি নেই। বিশিষ্টজনের অভিমত, গুম ও নিখোঁজের ঘটনার দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারে না। মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে জোর দেওয়ার আহ্বান জানান তারা। তবে সরকারের দাবি-  বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির আগের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। বিনা বিচারে হত্যাকারের সংখ্যা অনেক কমেছে। মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে। এমন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে  পালিত হলো বিশ্ব মানবাধিকার দিবস।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাংলাদেশের সংবিধানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সব মানবাধিকার ও সুশাসনের নিশ্চয়তা বিধান করা হয়েছে উল্লেøখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার মানবাধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর। সর্বস্তরে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০০৯ প্রণয়ন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এক বাণীতে বলেন, আমরা স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছি। সংবিধান সংশোধন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ করেছি। সকল মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার করার মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছি।
গত আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ১৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এর মধ্যে চারজনের খোঁজ পাওয়া  গেলেও বাকিদের খোঁজ মেলেনি। এর মধ্যে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক এবং সাবেক রাষ্ট্রদূতও রয়েছেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তথ্যমতে, চলতি বছর ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত কমিশনের কাছে গুম ও বিচার-বহির্ভূত হত্যাকারসহ বিভিন্ন ঘটনায় মোট ৪৩৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৪৪টি। গত বছর অভিযোগ ছিল ৬৬৫টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৩৯২টি।
মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের  দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি অনেক ভালো, অনেক উন্নত। তার কারণ হচ্ছে, মানুষের কথা বলার সুযোগ আছে। জনগণের অধিকার সংরক্ষণের জন্য বর্তমান সরকার অনেক কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি অনেক সুদৃঢ়। তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সব নাগরিকের মৌলিক অধিকারকে সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছে সরকার।
সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, সার্বিকভাবে বলা যেতে পারে- বাংলাদেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি ভালো নয়। বিশ্বের মানবাধিকার পরিস্থিতিও খারাপ। তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণেই মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এরপর রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক গুম-নিখোঁজের ঘটনায় আমরা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। ধরে নিয়ে মুক্তিপণ চেয়ে টাকা আদায়ও মানবাধিকার লঙ্ঘন। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, মানবাধিকারের কতগুলো শর্ত আছে, যেখানে একজন মানুষ সমাজে স্বাধীনভাবে বসবাস করবে। সে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হবে না। কিন্তু সমাজের সবাই এ সুবিধা পাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, একের পর এক রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক নিখোঁজ হচ্ছে, তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তারা বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে- তাদের খুঁজে বের করার মূল দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র এ দায় কিছুতেই এড়াতে পারে না।সুলতানা কামাল আরও বলেন, নারী নির্যাতনের হার উদ্বেগজনক। সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে অহরহ। আমরা শঙ্কার মধ্যে  বেঁচে আছি। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে উল্লেøখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে উন্নতি করছে, কিন্তু মানবাধিকার রক্ষায় সরকারকে আরও বেশি উন্নতি করতে হবে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ বা গুম হলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তাকে খুঁজে  বের করা। কিন্তু রাষ্ট্রের তৎপরতা সেভাবে দৃশ্যমান নয়। এখানেই আমাদের আশঙ্কা। তিনি বলেন, গুমের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের আদালতে সোপর্দ করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্বে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে অস্থিরতা চলছে। রোহিঙ্গাদের সমস্যায় আমরা জর্জরিত। আমাদের এই বিশাল বোঝা টানতে হচ্ছে। বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বের দরবারে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রাখছে। দেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন,  বেসামরিক লোক নিখোঁজ হচ্ছে, যা খুবই উদ্বেগজনক। একের পর এক লোকজনকে কে বা কারা তুলে নিয়ে যাচ্ছে, এটা রাষ্ট্রকে খুঁজে  বের করতে হবে। একটি মানবাধিকারবান্ধব সমাজ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, দেশে ততই মানবাধিকার পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ চরম মানবাধিকার বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। বিশ্ব মানবাধিকার দিবসের কর্মসূচি : `সমতা, ন্যায় বিচার ও মানবিক মর্যাদা`- এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে  আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হলো ৬৯তম বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে এ দিবসটি পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছিলো।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে থেকে শোভাযাত্রা বের হয়েছিল।
অপরদিকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মানবাধিকার বিষয়ক পত্রিকা মানবাধিকার খবর, বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি সংগঠন শোভাযাত্রা বের করে।  এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দু`দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিলো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন  চৌধুরী। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেছিলেন মানবাধিকার কমিশনের  চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।
দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সেমিনারে বিভিন্ন সেশনে কয়েকটি দেশ থেকে প্রতিনিধিগন অংশগ্রহন করে।

নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী সমাজ ও নারী উন্নয়নের কান্ডারী ছিলেন
                                  

॥ রুবিনা শওকত উল্লাহ ॥

এই উপমহাদেশের একমাত্র খেতাব প্রাপ্ত প্রথম নারী যিনি নবাব উপাধি অর্জন করেছিলেন নিজ যোগ্যতার বলে নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী। তিনি দীর্ঘ ৪৫ বৎসর ন্যায়পরায়ন ভাবে জমিদারী শাসন করেছিলেন। নবাব ফয়জুন্নেছা বাংলার প্রথম মুসলিম মহিলা কবি যার কাব্যগ্রন্থ ‘রূপজালাল’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৭৬ সালে। তার জীবনের উদ্দেশ্য ছিল মানবকল্যাণ। তিনি সূদীর্ঘ কাল সমাজের কল্যাণে দুঃস্থ মানবতার জন্য সমাজের উন্নয়নমূলক কল্যাণমুখী নানান কাজ করে গেছেন। স্বল্প পরিসরে তার বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব নয়।

ফয়জুন্নেছার অনেক কর্মকান্ড ইতিহাসের কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে তারপরও তার কিছু কর্মকান্ড এখনো উদ্বজীবিত। জাতির উন্নয়নের জন্য তার শিক্ষা বিস্তার প্রশংসনীয়। স্বাস্থ্য সেবায় অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। তিনি সমাজের নারী উন্নয়নের সর্বদা সচেতন ছিলেন। আমাদের দেশের নারী উন্নয়নের প্রথম অগ্রদূত নবাব ফয়জুন্নেছা। অথচ আমরা বেগম রোকেয়া সাখাওয়াতকে নারী মুক্তির অগ্রদূত বলি এ কথা সঠিক নয় কারণ বেগম রোকেয়ার জন্মেরও আগে ফয়জুন্নেছা নারীদের উন্নয়নের জন্য বহু পদক্ষেপ নিয়ে উন্নয়নমূলক কাজ করেছিলেন। আর রোকেয়ার জন্মের ৭ বৎসর পূর্বেই ১৮৭৩ খ্রীঃ নবাব ফয়জুন্নেছা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়টি স্থাপন করেন। বেগম রোকেয়ার প্রতিষ্ঠিত সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ফয়জুন্নেছার প্রতিষ্ঠিত বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৪৬ বৎসর পর ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে। অথচ আমরা ভুল ইতিহাস পড়ে আসছি। ফয়জুন্নেছাকে নারী মুক্তির অগ্রদূত হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছিনা। যে নারী একটা অন্ধকার যুগে সাহসিকতার সঙ্গে সমাজের জন্য নিজেকে সমর্পণ করেছিলেন, অথচ আজ বর্তমান প্রজন্ম ফয়জুন্নেছা সম্পর্কে অবগত নন। ইতিহাসের পাতায় তাকে স্থান দিতে পারিনি। যেটা কিনা অনেক দুঃখকর।

নবাব ফয়জুন্নেছার জন্ম ১৮৩৪ খ্রিঃ কুমিল্লা জেলার অর্ন্তগত লাকসামের পশ্চিমগাঁওস্থ পৈত্রিক বাড়িতে, তার পিতা জমিদার আহমদ আলী মাতা নন্দিনী আরফান্নেছা, তার দুই ভাই ইয়াকুব আলী চৌধুরী ও ইউসুফ আলী চৌধুরী, ছোট বোন লতিফুন্নেছা চৌধুরানী, তিনি তৃতীয় সন্তান ছিলেন। ফয়জুন্নেছার পড়াশোনার প্রতি অতি আগ্রহ দেখে তার বাবা উপযুক্ত গৃহ শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। তখনকার সময় নারীদের জন্য পুরুষ শিক্ষক দ্বারা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন ছিলনা কিন্তু ফয়জুন্নেছা সামাজিক প্রতিকূলতার সুকঠোর নিয়মের বাইরে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন উস্তাদ তাজউদ্দিন এর কাছে।

ফয়জুন্নেছা অল্প বয়সেই পিতৃহারা হন। বাল্যকাল শেষ না হতেই পিতৃ বিয়োগ তার জীবনকে বিপর্যয় করল। জমিদারী চালাবার মত কোন ভাই বোন সক্ষমতা লাভ করেনি সবাই নাবালক। ফয়জুন্নেছার বয়স যখন কম গাজী চৌধুরী ফয়জুন্নেছার রূপে পাগল হয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন, ফয়জুন্নেছার মা মেয়ে অপ্রাপ্ত বয়স বলে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। এরপর গাজী চৌধুরী নাজমুন্নেছাকে বিয়ে করেন। কিন্তু মন থেকে ফয়জুন্নেছাকে পরিত্যাগ করতে পারেনি। তাইতো বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে, বিভিন্ন কৌশলে দীর্ঘ বিশ বছর ফয়জুন্নেছার বিয়ে ঠেকিয়ে রেখেছিলেন এত রূপবতী হওয়া সত্ত্বেও, ফয়জুন্নেছার বিয়ে অনেক দেরিতে হয়েছিল। গাজী চৌধুরী ফয়জুন্নেসার আত্মীয় ছিলেন এই গাজী চৌধুরী প্রবল প্রতাপশালী, ত্রিপুরা জেলার স্থানীয় জমিদারদের মধ্যে মহারাজার পরেই ছিল তার স্থান। গাজী চৌধুরীর বিয়ের দীর্ঘ সময় সন্তান প্রাপ্তি না হওয়ায় নাজমুন্নেছাকে সন্তানদানের ব্যর্থতার অজুহাতে প্রথম স্ত্রীকে দ্বিতীয় বিয়েতে রাজি করে তারি হস্তক্ষেপে নানান কুটিলতার মাধ্যমে ফয়জুন্নেছাকে বিয়ে করেন। এই বিয়ে খুব ঘটনাবহুল, নাটকীয় ও জৌলষতায় পরিপূর্ণতায় হয়। বিয়ের শর্ত অনুযায়ী ফয়জুন্নেছা মায়ের কাছে থেকে যান।

ফয়জুন্নেছার কোল জুড়ে দুটি কন্যা সন্তান আসে, তাদের নাম আরশাদুন্নেছা ও বদরুন্নেছা। বিয়ের পর তিনি দুবার স্বামীর বাড়ী গিয়েছিলেন প্রথমবার বিয়ের ৫ বছর পর দ্বিতীয়বার গাজী চৌধুরীর মৃত্যুর সময়। ফয়জুন্নেছার প্রতি স্বামীর অত্যধিক অনুরাগ তৎকারণে সম্পত্তির ঈষা থেকে সৃষ্ট পারিবারিক দ্বন্ব আর সতীনের দুর্ব্যবহার স্বামীর বিরাগ এবং সেই সতিনের হাতেই ফয়জুন্নেছার প্রথমা কন্যাকে পালনের জন্য ইন্ধন যুগিয়ে গাজী চৌধুরীকে বাধ্য করে নাজমুন্নেছা নিয়ে যায় ফয়জুন্নেছার বড় মেয়েকে ফলে অনেক কারণে গাজী চৌধুরীর মুখ দেখবেননা এ কথা ফয়জুন্নেছা জানিয়ে দিয়ে বুকে পাথর বেঁধে চিরতরে স্বামীর গৃহ পরিত্যাগ করেন।

ফয়জুন্নেছার মাতৃ বিয়োগের আগেই জমিদারি দেখাশুনার ভার বর্তায়। তার ভাইয়েরা বিদ্যমান সত্ত্বেও এই দায়িত্ব পাওয়ার কারণ, তিনি বিদ্যা বুদ্ধিতে ব্যক্তিত্বে বিচক্ষণতায় ও কর্মদক্ষতায় ছিলেন যোগ্যতমা। কথিত আছে তার জমিদারী সীমানার মধ্যে বাঘে, ছাগলে এক ঘাটে পানি খেতো। প্রজা সাধারণের অবস্থা স্বচক্ষে অবলোকনের অভিপ্রায়ে প্রায়ই তিনি পালকিতে চড়ে, হাতিতে করে বিভিন্ন মৌজা পরিদর্শনে বেরুতেন নারী পুরুষ নির্বিশেষে সাধারণ প্রজাদের সুখ দুঃখের তত্ত্বতল্লাশী করতেন। তার কাছে প্রতিটি ধর্মের মানুষ, ধনী, দরিদ্র সবাই সম্মান ছিল। তার জমিদারীর বেশীর ভাগ আমলরা ছিল ভিন্ন ধর্মের। তিনি মানুষদের জন্য পানি সমস্যার লাঘব করার জন্য বহু দীঘি, খাল, পুকুর খনন করেন, রাস্তাঘাট, পুল নির্মাণ। মুসাফির থানা সহ অসংখ্য কাজ করে গেছেন। যে কোন প্রয়োজনে ছোট বড় কেউই তার নিকট হতে খালি হাতে ফেরেননি। ফয়জুন্নেছার সমগ্র জীবন ছিল নিয়ম তান্ত্রিক ও শৃঙ্খলার মধ্যে সুনিয়ন্ত্রিত। তার জীবনের দু’টি প্রধান সাধনা ছিল আল্লাহর ইবাদত দ্বিতীয়টি সাহিত্য সাধনা, তার গড়া পাঠাগার ছিল সাহিত্য চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। শতবর্ষ পূর্বে নিজের গ্রামের গন্ডি পেরিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন সম-সাময়িকী, সাহিত্য পত্রিকা, দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকা সমূহে অর্থ সাহায্যের এক বিস্ময়কর সাক্ষর রেখে গেছেন তিনি।
জনস্বাস্থ্যমূলক কর্মকান্ডের মধ্যে প্রথম বিষয়টি, নারীদের স্বাস্থ্য সেবার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছিলেন। কারণ তৎকালীন নারীরা শরিফি প্রথার জন্য অকালে মৃত্যুর মূখে পতিত হয়েছেন অসুস্থ্য অবস্থায় কোন ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা করানোর প্রচোলন ছিলনা। নারীরা ধুকে ধুকে মরেছেন কারণ একটাই পুরুষ ডাক্তার দেখাবেনা, পূর্ববঙ্গের এ অঞ্চলে হিন্দু মুসলমান সবার জন্য একই নিয়ম ছিল। নারীদের চিকিৎসা ক্ষেত্রে দূর্গতির অন্ত ছিলনা। ফয়জুন্নেছা বাঙ্গালী জাতির দুর্ভাগ্যের এই ব্যাপারটি অনুধাবন করেছিলেন। তাই নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য স্থাপন করেন দাতব্য চিকিৎসালয় লাকসামের সরকারি দাতব্য চিকিৎসালয় নামে আজও অবধি বিদ্যমান। ১৮৯৩ মনে কুমিল্লায় জানান হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেনা নারী কল্যাণের লক্ষে উনবিংশ শতাব্দীতে মহিলা সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক স্বয়ং সম্পূর্ণ একটি হাসপাতাল স্থাপন করা প্রকৃত পক্ষে তার যুগের চেয়েও অগ্রগামী চিন্তার ফসল। তখনকার সময় মহিলাদের জন্য কোনো চিকিৎসালয় আলাদা ভাবে ছিলনা। তার এই কর্মকান্ড একটি অনন্যকীতি ছিল। ফয়জুন্নেছার ভিন্নমুখী কর্মের মাধ্যমে নারীদের সাহায্য করতেন এর মধ্যে অন্যতম ১৮৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সমিতি সখি নামে প্রতিষ্ঠিত হয়, এটি আদি বাহ্মসমাজের, স্বর্ণকুমারী দেবীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি হয়। সে সময় এই প্রতিষ্ঠানে কোন মুসলমান নারী সদস্য হয়নি, ফয়জুন্নেছাই একমাত্র মুসলমান নারী ছিলেন এই সদস্যের তিনি সখি সমিতিকে অর্থদানের মাধ্যমে উৎযোগীদের উৎসাহিত করতেন। এই সমিতিটির কাজ ছিল বিভিন্ন শ্রেণী ও ভিন্ন ধর্মের মেয়েদের মধ্যে সম্ভাব্য সৃষ্টি করা ও দুঃস্থ অসহায় নারীদের সাহায্যার্থে বিভিন্ন কর্মসূচী নিয়ে কাজ করা, তার মধ্যে হস্তশিল্প ছিল অন্যতম, তখনকার সময় এই কর্মকান্ড এখানকার নারীদের চিন্তার বাইরে ছিল। তিনি নিজেকে আবদ্ধ না রেখে নারীদের জন্য এই ধরনের অনেক কাজে নিয়োজিত রেখেছিলেন। ফয়জুন্নেছার একটি অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট ছিল তিনি গ্রামাঞ্চলে বসবাসরত হয়েও একজন পর্দানশিন শরিফ মহিলা হওয়া সত্ত্বেও সমাজ ও দেশের সর্বদিকেই খেয়াল রাখতেন।

শিক্ষা বিস্তারে ফয়জুন্নেছার অবদান বিস্তৃত তিনি সবচেয়ে শিক্ষা বিস্তারে বিষে নজর দিয়েছিল। আমাদের সমগ্র বাংলাদেশে তার পূর্বে কোন সংস্কারবাদী নারী বা পুরুষ নারীদের জন্য ইংরেজি মাধ্যমের বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেননি ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ফয়জুন্নেছা কুমিল্লা শহরে তাল পুকুর পাড়ে শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য ইংরেজী মাধ্যমের স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এটি সরকারি স্কুল এবং অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুশিক্ষা দান করে যাচ্ছে। শিক্ষকদের জন্য তিনি জমিদারীর বিভিন্ন মৌজায় অজ¯্র প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করে গেছেন। তার শিক্ষা বিস্তারে বিশাল কর্মকান্ড শুধমাত্র নিজ জমিদারী এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিলনা এর পরিধি বিদেশের মাটিতেও বিসৃত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কৃষ্ণনগর নদীয়াতেও তিনি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি মক্কা মদিনাতেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করেছিলেন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিয়মিত টাকা পাঠাতেন। তিনি মক্কায় যোবায়দা নহর পুনঃ খনন করেছিলেন হাজীদের পানির সমস্যা দূর করার জন্য এবং আরাফাতগামী একটি রাস্তা নির্মাল ও মেছফালায় একটি মুসাফির খানা স্থাপন করেছিলেন। তিনি শীত ঋতুতের দরিদ্রদের মধ্যে কাপড় বিতরণ করতেন তার পরবর্তীদের উপর এরূপ কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন লিখিতভাবে ফয়জুন্নেছার মানবদরদী অনেক কর্ম যা অগনীত। তার সেবা আজও চলছে যুগ যুগ ধরে তার গড়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।

জমিদার থেকে নওয়াব উপাধি অর্জন করেছিলেন নিজ কর্ম যোগ্যতায়। তখনকার সময় ত্রিপুরার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিঃ ডগলাস একটি সমাজ কল্যাণমূলক কাজের পরিকল্পনা হাতে নিয়ে প্রচুর টাকার প্রয়োজন হওয়ায় সরকার হতে টাকা প্রাপ্তি বিলম্ব হওয়ায় ডগলাস স্থানীয় জমিদার, ধনাঢ্য ব্যক্তি এবং আগরতলার মহারাজার কাছেও এ প্রকল্পের জন্য ধার চেয়ে ব্যর্থ হউন। এরপর ফয়জুন্নেছার কাছে টাকা চেয়ে ঋণ হিসেবে পেয়েছিল। কিছুদিন পর মিঃ ডগলাস এই টাকা ফেরত দিতে গেলে ফয়জুন্নেছা টাকা ফেরত নেননি তিনি বলেন আমি যখন অর্থ দেই তা দান হিসেবেই দেই কর্জ হিসেবে নয়। ফয়জুন্নেছার এই কথাগুলো ডগলাসকে বিমোহিত করেছে তাই তিনি এ সংবাদটুকু ইংল্যান্ডের রাণীর নিকট পৌছে দিয়েছিলেন। একজন মুসলিম জমিদার নারীর এরকম আচরণে মুগ্ধ হয়ে রানী ফয়জুন্নেছাকে বেগম উপাধিতে ভূষিত করলেন, কিন্তু ফয়জুন্নেছা এই উপাধিকে প্রত্যাখান করেন। দুনিয়া জোড়া বিশাল সা¤্রাজ্যের অধিকারী, সর্বোচ্চ পদে অধিষ্টাত্রী মহারানী ভিক্টোরিয়ার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান? মহারানী স্বয়ং এক বিব্রতকর অবস্থায় পতিত হন বলে কথিত আছে। তখন ভিক্টোরিয়া অধিবেশন ডেকে পরামর্শক্রমে সিদ্ধান্ত নেন ফয়জুন্নেছাকে নওয়াব উপাধিতে ভূষিত করা হবে। এরপর রানী ভিক্টোরিয়া এই তেজস্বী মহিলা জমিদারের কার্যকলাপ পরিদর্শনের জন্য এক প্রতিনিধি দল পশ্চিম গায়ে পাঠান দলটি ইংল্যান্ড হতে এসে ফয়জুন্নেছার কাজকর্ম দেখলেন তৎকালীন অধিকাংশ পুরুষরাও তারমত সফলতার সাথে জমিদারী পরিচালনা করতে পারেনি এমনকি তার ভ্রাতাগণও না। তার নিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি এই গুনাগুনগুলোর সম্পর্কে শুনতে পান প্রতিনিধিরা, ফয়জুন্নেছা জমিদারী দর্শনে যাওয়ার সময় পর্দানশিন অবস্থায় নন্দিতভাব অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে সুসজ্জিত হাতিতে আরোহন করার দৃশ্য দেখে প্রতিনিধি দল বিমুগ্ধ চিত্তে প্রত্যক্ষ করে রানী ভিক্টোরিয়ার দূত প্রকাশ্যেই ব্যাক্ত করেছিলেন যে এ নারী শুধু নারী নন তিনি সাধারণের চেয়ে উর্ধ্বে এবং তার জন্য ‘নওয়াব’ খেতাবই উপযুক্ত। এরপর প্রতিনিধি দলটি ইংল্যান্ড যাওয়ার কিছুদিন পরই ঘোষিত হলো পশ্চিমগাঁয়ের জমিদার ফয়জুন্নেছার জন্য নওয়াব খেতবা এ সবই জনশ্রুতি।

অবশেষে তারকাকৃতি হীরক খচিত মহামূল্যবান পদকটি বিশেষভাবে সরকারি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফয়জুন্নেছাকে ‘নওয়াব’ উপাধি প্রদান করা হয়। ফয়জুন্নেছার এই পদকটি বর্তমানে জাতীয় জাদুঘরে জমা দেয়া আছে।

সময়ের স্রোতে কালের আবর্তনে ফয়জুন্নেছার ইতিহাস হারিয়ে যাচ্ছে কেউ কোন খবর রাখছেনা তার সম্পর্কে। অথচ এই নারী সমাজ ও দেশের উন্নয়নের জন্য বিশাল অবদান রেখেছিল কিন্তু এ কথা অনেকেরই অজানা। নবাব ফয়জুন্নেছার মৃত্যুর এতকাল অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও আমরা তাকে তার কর্মের স্বীকৃতি দিতে পারিনি। তাকে তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছি। এখন আমাদের উচিত ফয়জুন্নেছাকে যথাযথ মর্যাদায় তার প্রাপ্য স্থানে প্রতিষ্ঠিত করা তাকে বাংলার নারী মুক্তির অগ্রদূত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া।


   Page 1 of 3
     বিশেষ প্রতিবেদন
সুশাসন ও জবাবদিহিতার চরম অভাব মানুষ হত্যা ও পরিবহনের নৈরাজ্য, কেরে নিচ্ছে নাগরিক অধিকার
.............................................................................................
ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
.............................................................................................
কৃষি মাশরুম চাষ : ঘরে বসে আয়
.............................................................................................
পেঁপে চাষ পদ্ধতি
.............................................................................................
ভারতের পাচারকৃত তিন কিশোর দেশে ফেরার অপেক্ষায়
.............................................................................................
স্থগিতই থাকছে খালেদার জামিন
.............................................................................................
বিদায় বীরমাতা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী
.............................................................................................
পরকিয়ায় সংসার ভাংলো পারভিনের. স্বামী জেল হাজতে
.............................................................................................
দুরমুজখালী সীমান্তে উদ্ধার হওয়া লাশ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য
.............................................................................................
ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ জটিলতার অবসান হলো
.............................................................................................
থাই পেয়ারার চাষ পদ্ধতি ও রোগ বালাই
.............................................................................................
৫৭ ধারা বাতিল ॥ আসছে ভয়ঙ্কর ৩২ ধারা
.............................................................................................
মানবাধিকার খবর’র উদ্যোগ
.............................................................................................
১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত
.............................................................................................
১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত
.............................................................................................
নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী সমাজ ও নারী উন্নয়নের কান্ডারী ছিলেন
.............................................................................................
অবক্ষয় ঠেকাতে মানবিকতার চর্চা অপরিহার্য
.............................................................................................
গ্রাফিক্স ডিজাইনার তারেকের অকাল মৃত্যু
.............................................................................................
বিশ্বমানবাধিকার আজ কোথায়?
.............................................................................................
লংগদুতে আদিবাসীদের ওপর হামলার বিচার নিশ্চিত করতে হবে
.............................................................................................
কৃষি উন্নয়নে অবদানে বাকৃবিতে ১১ ব্যক্তিকে সংবর্ধনা
.............................................................................................
বামাফা’র জঙ্গীবাদ সন্ত্রাসবাদ ও মাদক বিরোধী সেমিনার অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
খাদে ভরা স্বর্ণ ব্যবসা
.............................................................................................
একজন ক্রীড়া সংগঠক - দক্ষ রাজনীতিবিদ - সফল মেয়র বাগেরহাটের সর্বস্তরের জনপ্রিয় একটি নাম খাঁন হাবিবুর রহমান
.............................................................................................
মানবাধিকার খবরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন মায়ের কাছে ফিরেছে ভারতীয় কিশোরী বৈশাখী
.............................................................................................
বাবা-মেয়ের আত্মহত্যা এ দায় কার?
.............................................................................................
পরিবারের সাত সদস্য পাগল।
.............................................................................................
মাস্তান প্রকৃতির লোক রাখা হচ্ছে পরিবহনে চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা
.............................................................................................
নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় যত্নবান হতে হবে : হেলেনা জাহাঙ্গীর
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটি: ১৯ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ
.............................................................................................
মানবাধিকার খবরের উদ্যোগ ভারত থেকে দেশে ফিরছেন দুই কিশোর এক নারী
.............................................................................................
দেশ ও মানবতার কল্যাণে কার্যকরী ব্যবস্থা জরুরী
.............................................................................................
সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ, অপপ্রচার ও কুচক্রের শিকার
.............................................................................................
সংকট উত্তরণের উপায় কি নেই? জঙ্গিবাদ : মানবাধিকারের উপর চরম হুমকি
.............................................................................................
মসজিদের আর্থিক ‘কর্তৃত্ব পেতে’ পুরান ঢাকায় দু’বছরের পরিকল্পনায় মুয়াজ্জিন খুন
.............................................................................................
আমি সবার প্রেসিডেন্ট
.............................................................................................
যুক্তরাজ্যের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন বাংলাদেশসহ ৩০টি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

Editor & Publisher: Rtn. Md Reaz Uddin
Corporate Office
53,Modern mansion(8th floor),Motijheel C/A, Dhaka
E-mail:manabadhikarkhabar34@gmail.com,manabadhikarkhabar34@yahoo.com,
Tel:+88-02-9585139
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-9585140
    2015 @ All Right Reserved By manabadhikarkhabar.com    সম্পাদকীয়    Adviser List

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]