| বাংলার জন্য ক্লিক করুন

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   বিশেষ প্রতিবেদন -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী সমাজ ও নারী উন্নয়নের কান্ডারী ছিলেন

॥ রুবিনা শওকত উল্লাহ ॥

এই উপমহাদেশের একমাত্র খেতাব প্রাপ্ত প্রথম নারী যিনি নবাব উপাধি অর্জন করেছিলেন নিজ যোগ্যতার বলে নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী। তিনি দীর্ঘ ৪৫ বৎসর ন্যায়পরায়ন ভাবে জমিদারী শাসন করেছিলেন। নবাব ফয়জুন্নেছা বাংলার প্রথম মুসলিম মহিলা কবি যার কাব্যগ্রন্থ ‘রূপজালাল’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৭৬ সালে। তার জীবনের উদ্দেশ্য ছিল মানবকল্যাণ। তিনি সূদীর্ঘ কাল সমাজের কল্যাণে দুঃস্থ মানবতার জন্য সমাজের উন্নয়নমূলক কল্যাণমুখী নানান কাজ করে গেছেন। স্বল্প পরিসরে তার বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব নয়।

ফয়জুন্নেছার অনেক কর্মকান্ড ইতিহাসের কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে তারপরও তার কিছু কর্মকান্ড এখনো উদ্বজীবিত। জাতির উন্নয়নের জন্য তার শিক্ষা বিস্তার প্রশংসনীয়। স্বাস্থ্য সেবায় অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। তিনি সমাজের নারী উন্নয়নের সর্বদা সচেতন ছিলেন। আমাদের দেশের নারী উন্নয়নের প্রথম অগ্রদূত নবাব ফয়জুন্নেছা। অথচ আমরা বেগম রোকেয়া সাখাওয়াতকে নারী মুক্তির অগ্রদূত বলি এ কথা সঠিক নয় কারণ বেগম রোকেয়ার জন্মেরও আগে ফয়জুন্নেছা নারীদের উন্নয়নের জন্য বহু পদক্ষেপ নিয়ে উন্নয়নমূলক কাজ করেছিলেন। আর রোকেয়ার জন্মের ৭ বৎসর পূর্বেই ১৮৭৩ খ্রীঃ নবাব ফয়জুন্নেছা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়টি স্থাপন করেন। বেগম রোকেয়ার প্রতিষ্ঠিত সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ফয়জুন্নেছার প্রতিষ্ঠিত বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৪৬ বৎসর পর ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে। অথচ আমরা ভুল ইতিহাস পড়ে আসছি। ফয়জুন্নেছাকে নারী মুক্তির অগ্রদূত হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছিনা। যে নারী একটা অন্ধকার যুগে সাহসিকতার সঙ্গে সমাজের জন্য নিজেকে সমর্পণ করেছিলেন, অথচ আজ বর্তমান প্রজন্ম ফয়জুন্নেছা সম্পর্কে অবগত নন। ইতিহাসের পাতায় তাকে স্থান দিতে পারিনি। যেটা কিনা অনেক দুঃখকর।

নবাব ফয়জুন্নেছার জন্ম ১৮৩৪ খ্রিঃ কুমিল্লা জেলার অর্ন্তগত লাকসামের পশ্চিমগাঁওস্থ পৈত্রিক বাড়িতে, তার পিতা জমিদার আহমদ আলী মাতা নন্দিনী আরফান্নেছা, তার দুই ভাই ইয়াকুব আলী চৌধুরী ও ইউসুফ আলী চৌধুরী, ছোট বোন লতিফুন্নেছা চৌধুরানী, তিনি তৃতীয় সন্তান ছিলেন। ফয়জুন্নেছার পড়াশোনার প্রতি অতি আগ্রহ দেখে তার বাবা উপযুক্ত গৃহ শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। তখনকার সময় নারীদের জন্য পুরুষ শিক্ষক দ্বারা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন ছিলনা কিন্তু ফয়জুন্নেছা সামাজিক প্রতিকূলতার সুকঠোর নিয়মের বাইরে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন উস্তাদ তাজউদ্দিন এর কাছে।

ফয়জুন্নেছা অল্প বয়সেই পিতৃহারা হন। বাল্যকাল শেষ না হতেই পিতৃ বিয়োগ তার জীবনকে বিপর্যয় করল। জমিদারী চালাবার মত কোন ভাই বোন সক্ষমতা লাভ করেনি সবাই নাবালক। ফয়জুন্নেছার বয়স যখন কম গাজী চৌধুরী ফয়জুন্নেছার রূপে পাগল হয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন, ফয়জুন্নেছার মা মেয়ে অপ্রাপ্ত বয়স বলে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। এরপর গাজী চৌধুরী নাজমুন্নেছাকে বিয়ে করেন। কিন্তু মন থেকে ফয়জুন্নেছাকে পরিত্যাগ করতে পারেনি। তাইতো বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে, বিভিন্ন কৌশলে দীর্ঘ বিশ বছর ফয়জুন্নেছার বিয়ে ঠেকিয়ে রেখেছিলেন এত রূপবতী হওয়া সত্ত্বেও, ফয়জুন্নেছার বিয়ে অনেক দেরিতে হয়েছিল। গাজী চৌধুরী ফয়জুন্নেসার আত্মীয় ছিলেন এই গাজী চৌধুরী প্রবল প্রতাপশালী, ত্রিপুরা জেলার স্থানীয় জমিদারদের মধ্যে মহারাজার পরেই ছিল তার স্থান। গাজী চৌধুরীর বিয়ের দীর্ঘ সময় সন্তান প্রাপ্তি না হওয়ায় নাজমুন্নেছাকে সন্তানদানের ব্যর্থতার অজুহাতে প্রথম স্ত্রীকে দ্বিতীয় বিয়েতে রাজি করে তারি হস্তক্ষেপে নানান কুটিলতার মাধ্যমে ফয়জুন্নেছাকে বিয়ে করেন। এই বিয়ে খুব ঘটনাবহুল, নাটকীয় ও জৌলষতায় পরিপূর্ণতায় হয়। বিয়ের শর্ত অনুযায়ী ফয়জুন্নেছা মায়ের কাছে থেকে যান।

ফয়জুন্নেছার কোল জুড়ে দুটি কন্যা সন্তান আসে, তাদের নাম আরশাদুন্নেছা ও বদরুন্নেছা। বিয়ের পর তিনি দুবার স্বামীর বাড়ী গিয়েছিলেন প্রথমবার বিয়ের ৫ বছর পর দ্বিতীয়বার গাজী চৌধুরীর মৃত্যুর সময়। ফয়জুন্নেছার প্রতি স্বামীর অত্যধিক অনুরাগ তৎকারণে সম্পত্তির ঈষা থেকে সৃষ্ট পারিবারিক দ্বন্ব আর সতীনের দুর্ব্যবহার স্বামীর বিরাগ এবং সেই সতিনের হাতেই ফয়জুন্নেছার প্রথমা কন্যাকে পালনের জন্য ইন্ধন যুগিয়ে গাজী চৌধুরীকে বাধ্য করে নাজমুন্নেছা নিয়ে যায় ফয়জুন্নেছার বড় মেয়েকে ফলে অনেক কারণে গাজী চৌধুরীর মুখ দেখবেননা এ কথা ফয়জুন্নেছা জানিয়ে দিয়ে বুকে পাথর বেঁধে চিরতরে স্বামীর গৃহ পরিত্যাগ করেন।

ফয়জুন্নেছার মাতৃ বিয়োগের আগেই জমিদারি দেখাশুনার ভার বর্তায়। তার ভাইয়েরা বিদ্যমান সত্ত্বেও এই দায়িত্ব পাওয়ার কারণ, তিনি বিদ্যা বুদ্ধিতে ব্যক্তিত্বে বিচক্ষণতায় ও কর্মদক্ষতায় ছিলেন যোগ্যতমা। কথিত আছে তার জমিদারী সীমানার মধ্যে বাঘে, ছাগলে এক ঘাটে পানি খেতো। প্রজা সাধারণের অবস্থা স্বচক্ষে অবলোকনের অভিপ্রায়ে প্রায়ই তিনি পালকিতে চড়ে, হাতিতে করে বিভিন্ন মৌজা পরিদর্শনে বেরুতেন নারী পুরুষ নির্বিশেষে সাধারণ প্রজাদের সুখ দুঃখের তত্ত্বতল্লাশী করতেন। তার কাছে প্রতিটি ধর্মের মানুষ, ধনী, দরিদ্র সবাই সম্মান ছিল। তার জমিদারীর বেশীর ভাগ আমলরা ছিল ভিন্ন ধর্মের। তিনি মানুষদের জন্য পানি সমস্যার লাঘব করার জন্য বহু দীঘি, খাল, পুকুর খনন করেন, রাস্তাঘাট, পুল নির্মাণ। মুসাফির থানা সহ অসংখ্য কাজ করে গেছেন। যে কোন প্রয়োজনে ছোট বড় কেউই তার নিকট হতে খালি হাতে ফেরেননি। ফয়জুন্নেছার সমগ্র জীবন ছিল নিয়ম তান্ত্রিক ও শৃঙ্খলার মধ্যে সুনিয়ন্ত্রিত। তার জীবনের দু’টি প্রধান সাধনা ছিল আল্লাহর ইবাদত দ্বিতীয়টি সাহিত্য সাধনা, তার গড়া পাঠাগার ছিল সাহিত্য চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। শতবর্ষ পূর্বে নিজের গ্রামের গন্ডি পেরিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন সম-সাময়িকী, সাহিত্য পত্রিকা, দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকা সমূহে অর্থ সাহায্যের এক বিস্ময়কর সাক্ষর রেখে গেছেন তিনি।
জনস্বাস্থ্যমূলক কর্মকান্ডের মধ্যে প্রথম বিষয়টি, নারীদের স্বাস্থ্য সেবার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছিলেন। কারণ তৎকালীন নারীরা শরিফি প্রথার জন্য অকালে মৃত্যুর মূখে পতিত হয়েছেন অসুস্থ্য অবস্থায় কোন ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা করানোর প্রচোলন ছিলনা। নারীরা ধুকে ধুকে মরেছেন কারণ একটাই পুরুষ ডাক্তার দেখাবেনা, পূর্ববঙ্গের এ অঞ্চলে হিন্দু মুসলমান সবার জন্য একই নিয়ম ছিল। নারীদের চিকিৎসা ক্ষেত্রে দূর্গতির অন্ত ছিলনা। ফয়জুন্নেছা বাঙ্গালী জাতির দুর্ভাগ্যের এই ব্যাপারটি অনুধাবন করেছিলেন। তাই নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য স্থাপন করেন দাতব্য চিকিৎসালয় লাকসামের সরকারি দাতব্য চিকিৎসালয় নামে আজও অবধি বিদ্যমান। ১৮৯৩ মনে কুমিল্লায় জানান হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেনা নারী কল্যাণের লক্ষে উনবিংশ শতাব্দীতে মহিলা সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক স্বয়ং সম্পূর্ণ একটি হাসপাতাল স্থাপন করা প্রকৃত পক্ষে তার যুগের চেয়েও অগ্রগামী চিন্তার ফসল। তখনকার সময় মহিলাদের জন্য কোনো চিকিৎসালয় আলাদা ভাবে ছিলনা। তার এই কর্মকান্ড একটি অনন্যকীতি ছিল। ফয়জুন্নেছার ভিন্নমুখী কর্মের মাধ্যমে নারীদের সাহায্য করতেন এর মধ্যে অন্যতম ১৮৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সমিতি সখি নামে প্রতিষ্ঠিত হয়, এটি আদি বাহ্মসমাজের, স্বর্ণকুমারী দেবীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি হয়। সে সময় এই প্রতিষ্ঠানে কোন মুসলমান নারী সদস্য হয়নি, ফয়জুন্নেছাই একমাত্র মুসলমান নারী ছিলেন এই সদস্যের তিনি সখি সমিতিকে অর্থদানের মাধ্যমে উৎযোগীদের উৎসাহিত করতেন। এই সমিতিটির কাজ ছিল বিভিন্ন শ্রেণী ও ভিন্ন ধর্মের মেয়েদের মধ্যে সম্ভাব্য সৃষ্টি করা ও দুঃস্থ অসহায় নারীদের সাহায্যার্থে বিভিন্ন কর্মসূচী নিয়ে কাজ করা, তার মধ্যে হস্তশিল্প ছিল অন্যতম, তখনকার সময় এই কর্মকান্ড এখানকার নারীদের চিন্তার বাইরে ছিল। তিনি নিজেকে আবদ্ধ না রেখে নারীদের জন্য এই ধরনের অনেক কাজে নিয়োজিত রেখেছিলেন। ফয়জুন্নেছার একটি অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট ছিল তিনি গ্রামাঞ্চলে বসবাসরত হয়েও একজন পর্দানশিন শরিফ মহিলা হওয়া সত্ত্বেও সমাজ ও দেশের সর্বদিকেই খেয়াল রাখতেন।

শিক্ষা বিস্তারে ফয়জুন্নেছার অবদান বিস্তৃত তিনি সবচেয়ে শিক্ষা বিস্তারে বিষে নজর দিয়েছিল। আমাদের সমগ্র বাংলাদেশে তার পূর্বে কোন সংস্কারবাদী নারী বা পুরুষ নারীদের জন্য ইংরেজি মাধ্যমের বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেননি ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ফয়জুন্নেছা কুমিল্লা শহরে তাল পুকুর পাড়ে শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য ইংরেজী মাধ্যমের স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এটি সরকারি স্কুল এবং অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুশিক্ষা দান করে যাচ্ছে। শিক্ষকদের জন্য তিনি জমিদারীর বিভিন্ন মৌজায় অজ¯্র প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করে গেছেন। তার শিক্ষা বিস্তারে বিশাল কর্মকান্ড শুধমাত্র নিজ জমিদারী এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিলনা এর পরিধি বিদেশের মাটিতেও বিসৃত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কৃষ্ণনগর নদীয়াতেও তিনি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি মক্কা মদিনাতেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করেছিলেন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিয়মিত টাকা পাঠাতেন। তিনি মক্কায় যোবায়দা নহর পুনঃ খনন করেছিলেন হাজীদের পানির সমস্যা দূর করার জন্য এবং আরাফাতগামী একটি রাস্তা নির্মাল ও মেছফালায় একটি মুসাফির খানা স্থাপন করেছিলেন। তিনি শীত ঋতুতের দরিদ্রদের মধ্যে কাপড় বিতরণ করতেন তার পরবর্তীদের উপর এরূপ কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন লিখিতভাবে ফয়জুন্নেছার মানবদরদী অনেক কর্ম যা অগনীত। তার সেবা আজও চলছে যুগ যুগ ধরে তার গড়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।

জমিদার থেকে নওয়াব উপাধি অর্জন করেছিলেন নিজ কর্ম যোগ্যতায়। তখনকার সময় ত্রিপুরার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিঃ ডগলাস একটি সমাজ কল্যাণমূলক কাজের পরিকল্পনা হাতে নিয়ে প্রচুর টাকার প্রয়োজন হওয়ায় সরকার হতে টাকা প্রাপ্তি বিলম্ব হওয়ায় ডগলাস স্থানীয় জমিদার, ধনাঢ্য ব্যক্তি এবং আগরতলার মহারাজার কাছেও এ প্রকল্পের জন্য ধার চেয়ে ব্যর্থ হউন। এরপর ফয়জুন্নেছার কাছে টাকা চেয়ে ঋণ হিসেবে পেয়েছিল। কিছুদিন পর মিঃ ডগলাস এই টাকা ফেরত দিতে গেলে ফয়জুন্নেছা টাকা ফেরত নেননি তিনি বলেন আমি যখন অর্থ দেই তা দান হিসেবেই দেই কর্জ হিসেবে নয়। ফয়জুন্নেছার এই কথাগুলো ডগলাসকে বিমোহিত করেছে তাই তিনি এ সংবাদটুকু ইংল্যান্ডের রাণীর নিকট পৌছে দিয়েছিলেন। একজন মুসলিম জমিদার নারীর এরকম আচরণে মুগ্ধ হয়ে রানী ফয়জুন্নেছাকে বেগম উপাধিতে ভূষিত করলেন, কিন্তু ফয়জুন্নেছা এই উপাধিকে প্রত্যাখান করেন। দুনিয়া জোড়া বিশাল সা¤্রাজ্যের অধিকারী, সর্বোচ্চ পদে অধিষ্টাত্রী মহারানী ভিক্টোরিয়ার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান? মহারানী স্বয়ং এক বিব্রতকর অবস্থায় পতিত হন বলে কথিত আছে। তখন ভিক্টোরিয়া অধিবেশন ডেকে পরামর্শক্রমে সিদ্ধান্ত নেন ফয়জুন্নেছাকে নওয়াব উপাধিতে ভূষিত করা হবে। এরপর রানী ভিক্টোরিয়া এই তেজস্বী মহিলা জমিদারের কার্যকলাপ পরিদর্শনের জন্য এক প্রতিনিধি দল পশ্চিম গায়ে পাঠান দলটি ইংল্যান্ড হতে এসে ফয়জুন্নেছার কাজকর্ম দেখলেন তৎকালীন অধিকাংশ পুরুষরাও তারমত সফলতার সাথে জমিদারী পরিচালনা করতে পারেনি এমনকি তার ভ্রাতাগণও না। তার নিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি এই গুনাগুনগুলোর সম্পর্কে শুনতে পান প্রতিনিধিরা, ফয়জুন্নেছা জমিদারী দর্শনে যাওয়ার সময় পর্দানশিন অবস্থায় নন্দিতভাব অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে সুসজ্জিত হাতিতে আরোহন করার দৃশ্য দেখে প্রতিনিধি দল বিমুগ্ধ চিত্তে প্রত্যক্ষ করে রানী ভিক্টোরিয়ার দূত প্রকাশ্যেই ব্যাক্ত করেছিলেন যে এ নারী শুধু নারী নন তিনি সাধারণের চেয়ে উর্ধ্বে এবং তার জন্য ‘নওয়াব’ খেতাবই উপযুক্ত। এরপর প্রতিনিধি দলটি ইংল্যান্ড যাওয়ার কিছুদিন পরই ঘোষিত হলো পশ্চিমগাঁয়ের জমিদার ফয়জুন্নেছার জন্য নওয়াব খেতবা এ সবই জনশ্রুতি।

অবশেষে তারকাকৃতি হীরক খচিত মহামূল্যবান পদকটি বিশেষভাবে সরকারি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফয়জুন্নেছাকে ‘নওয়াব’ উপাধি প্রদান করা হয়। ফয়জুন্নেছার এই পদকটি বর্তমানে জাতীয় জাদুঘরে জমা দেয়া আছে।

সময়ের স্রোতে কালের আবর্তনে ফয়জুন্নেছার ইতিহাস হারিয়ে যাচ্ছে কেউ কোন খবর রাখছেনা তার সম্পর্কে। অথচ এই নারী সমাজ ও দেশের উন্নয়নের জন্য বিশাল অবদান রেখেছিল কিন্তু এ কথা অনেকেরই অজানা। নবাব ফয়জুন্নেছার মৃত্যুর এতকাল অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও আমরা তাকে তার কর্মের স্বীকৃতি দিতে পারিনি। তাকে তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছি। এখন আমাদের উচিত ফয়জুন্নেছাকে যথাযথ মর্যাদায় তার প্রাপ্য স্থানে প্রতিষ্ঠিত করা তাকে বাংলার নারী মুক্তির অগ্রদূত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া।

নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী সমাজ ও নারী উন্নয়নের কান্ডারী ছিলেন
                                  

॥ রুবিনা শওকত উল্লাহ ॥

এই উপমহাদেশের একমাত্র খেতাব প্রাপ্ত প্রথম নারী যিনি নবাব উপাধি অর্জন করেছিলেন নিজ যোগ্যতার বলে নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী। তিনি দীর্ঘ ৪৫ বৎসর ন্যায়পরায়ন ভাবে জমিদারী শাসন করেছিলেন। নবাব ফয়জুন্নেছা বাংলার প্রথম মুসলিম মহিলা কবি যার কাব্যগ্রন্থ ‘রূপজালাল’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৭৬ সালে। তার জীবনের উদ্দেশ্য ছিল মানবকল্যাণ। তিনি সূদীর্ঘ কাল সমাজের কল্যাণে দুঃস্থ মানবতার জন্য সমাজের উন্নয়নমূলক কল্যাণমুখী নানান কাজ করে গেছেন। স্বল্প পরিসরে তার বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব নয়।

ফয়জুন্নেছার অনেক কর্মকান্ড ইতিহাসের কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে তারপরও তার কিছু কর্মকান্ড এখনো উদ্বজীবিত। জাতির উন্নয়নের জন্য তার শিক্ষা বিস্তার প্রশংসনীয়। স্বাস্থ্য সেবায় অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। তিনি সমাজের নারী উন্নয়নের সর্বদা সচেতন ছিলেন। আমাদের দেশের নারী উন্নয়নের প্রথম অগ্রদূত নবাব ফয়জুন্নেছা। অথচ আমরা বেগম রোকেয়া সাখাওয়াতকে নারী মুক্তির অগ্রদূত বলি এ কথা সঠিক নয় কারণ বেগম রোকেয়ার জন্মেরও আগে ফয়জুন্নেছা নারীদের উন্নয়নের জন্য বহু পদক্ষেপ নিয়ে উন্নয়নমূলক কাজ করেছিলেন। আর রোকেয়ার জন্মের ৭ বৎসর পূর্বেই ১৮৭৩ খ্রীঃ নবাব ফয়জুন্নেছা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়টি স্থাপন করেন। বেগম রোকেয়ার প্রতিষ্ঠিত সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ফয়জুন্নেছার প্রতিষ্ঠিত বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৪৬ বৎসর পর ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে। অথচ আমরা ভুল ইতিহাস পড়ে আসছি। ফয়জুন্নেছাকে নারী মুক্তির অগ্রদূত হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছিনা। যে নারী একটা অন্ধকার যুগে সাহসিকতার সঙ্গে সমাজের জন্য নিজেকে সমর্পণ করেছিলেন, অথচ আজ বর্তমান প্রজন্ম ফয়জুন্নেছা সম্পর্কে অবগত নন। ইতিহাসের পাতায় তাকে স্থান দিতে পারিনি। যেটা কিনা অনেক দুঃখকর।

নবাব ফয়জুন্নেছার জন্ম ১৮৩৪ খ্রিঃ কুমিল্লা জেলার অর্ন্তগত লাকসামের পশ্চিমগাঁওস্থ পৈত্রিক বাড়িতে, তার পিতা জমিদার আহমদ আলী মাতা নন্দিনী আরফান্নেছা, তার দুই ভাই ইয়াকুব আলী চৌধুরী ও ইউসুফ আলী চৌধুরী, ছোট বোন লতিফুন্নেছা চৌধুরানী, তিনি তৃতীয় সন্তান ছিলেন। ফয়জুন্নেছার পড়াশোনার প্রতি অতি আগ্রহ দেখে তার বাবা উপযুক্ত গৃহ শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। তখনকার সময় নারীদের জন্য পুরুষ শিক্ষক দ্বারা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন ছিলনা কিন্তু ফয়জুন্নেছা সামাজিক প্রতিকূলতার সুকঠোর নিয়মের বাইরে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন উস্তাদ তাজউদ্দিন এর কাছে।

ফয়জুন্নেছা অল্প বয়সেই পিতৃহারা হন। বাল্যকাল শেষ না হতেই পিতৃ বিয়োগ তার জীবনকে বিপর্যয় করল। জমিদারী চালাবার মত কোন ভাই বোন সক্ষমতা লাভ করেনি সবাই নাবালক। ফয়জুন্নেছার বয়স যখন কম গাজী চৌধুরী ফয়জুন্নেছার রূপে পাগল হয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন, ফয়জুন্নেছার মা মেয়ে অপ্রাপ্ত বয়স বলে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। এরপর গাজী চৌধুরী নাজমুন্নেছাকে বিয়ে করেন। কিন্তু মন থেকে ফয়জুন্নেছাকে পরিত্যাগ করতে পারেনি। তাইতো বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে, বিভিন্ন কৌশলে দীর্ঘ বিশ বছর ফয়জুন্নেছার বিয়ে ঠেকিয়ে রেখেছিলেন এত রূপবতী হওয়া সত্ত্বেও, ফয়জুন্নেছার বিয়ে অনেক দেরিতে হয়েছিল। গাজী চৌধুরী ফয়জুন্নেসার আত্মীয় ছিলেন এই গাজী চৌধুরী প্রবল প্রতাপশালী, ত্রিপুরা জেলার স্থানীয় জমিদারদের মধ্যে মহারাজার পরেই ছিল তার স্থান। গাজী চৌধুরীর বিয়ের দীর্ঘ সময় সন্তান প্রাপ্তি না হওয়ায় নাজমুন্নেছাকে সন্তানদানের ব্যর্থতার অজুহাতে প্রথম স্ত্রীকে দ্বিতীয় বিয়েতে রাজি করে তারি হস্তক্ষেপে নানান কুটিলতার মাধ্যমে ফয়জুন্নেছাকে বিয়ে করেন। এই বিয়ে খুব ঘটনাবহুল, নাটকীয় ও জৌলষতায় পরিপূর্ণতায় হয়। বিয়ের শর্ত অনুযায়ী ফয়জুন্নেছা মায়ের কাছে থেকে যান।

ফয়জুন্নেছার কোল জুড়ে দুটি কন্যা সন্তান আসে, তাদের নাম আরশাদুন্নেছা ও বদরুন্নেছা। বিয়ের পর তিনি দুবার স্বামীর বাড়ী গিয়েছিলেন প্রথমবার বিয়ের ৫ বছর পর দ্বিতীয়বার গাজী চৌধুরীর মৃত্যুর সময়। ফয়জুন্নেছার প্রতি স্বামীর অত্যধিক অনুরাগ তৎকারণে সম্পত্তির ঈষা থেকে সৃষ্ট পারিবারিক দ্বন্ব আর সতীনের দুর্ব্যবহার স্বামীর বিরাগ এবং সেই সতিনের হাতেই ফয়জুন্নেছার প্রথমা কন্যাকে পালনের জন্য ইন্ধন যুগিয়ে গাজী চৌধুরীকে বাধ্য করে নাজমুন্নেছা নিয়ে যায় ফয়জুন্নেছার বড় মেয়েকে ফলে অনেক কারণে গাজী চৌধুরীর মুখ দেখবেননা এ কথা ফয়জুন্নেছা জানিয়ে দিয়ে বুকে পাথর বেঁধে চিরতরে স্বামীর গৃহ পরিত্যাগ করেন।

ফয়জুন্নেছার মাতৃ বিয়োগের আগেই জমিদারি দেখাশুনার ভার বর্তায়। তার ভাইয়েরা বিদ্যমান সত্ত্বেও এই দায়িত্ব পাওয়ার কারণ, তিনি বিদ্যা বুদ্ধিতে ব্যক্তিত্বে বিচক্ষণতায় ও কর্মদক্ষতায় ছিলেন যোগ্যতমা। কথিত আছে তার জমিদারী সীমানার মধ্যে বাঘে, ছাগলে এক ঘাটে পানি খেতো। প্রজা সাধারণের অবস্থা স্বচক্ষে অবলোকনের অভিপ্রায়ে প্রায়ই তিনি পালকিতে চড়ে, হাতিতে করে বিভিন্ন মৌজা পরিদর্শনে বেরুতেন নারী পুরুষ নির্বিশেষে সাধারণ প্রজাদের সুখ দুঃখের তত্ত্বতল্লাশী করতেন। তার কাছে প্রতিটি ধর্মের মানুষ, ধনী, দরিদ্র সবাই সম্মান ছিল। তার জমিদারীর বেশীর ভাগ আমলরা ছিল ভিন্ন ধর্মের। তিনি মানুষদের জন্য পানি সমস্যার লাঘব করার জন্য বহু দীঘি, খাল, পুকুর খনন করেন, রাস্তাঘাট, পুল নির্মাণ। মুসাফির থানা সহ অসংখ্য কাজ করে গেছেন। যে কোন প্রয়োজনে ছোট বড় কেউই তার নিকট হতে খালি হাতে ফেরেননি। ফয়জুন্নেছার সমগ্র জীবন ছিল নিয়ম তান্ত্রিক ও শৃঙ্খলার মধ্যে সুনিয়ন্ত্রিত। তার জীবনের দু’টি প্রধান সাধনা ছিল আল্লাহর ইবাদত দ্বিতীয়টি সাহিত্য সাধনা, তার গড়া পাঠাগার ছিল সাহিত্য চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। শতবর্ষ পূর্বে নিজের গ্রামের গন্ডি পেরিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন সম-সাময়িকী, সাহিত্য পত্রিকা, দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকা সমূহে অর্থ সাহায্যের এক বিস্ময়কর সাক্ষর রেখে গেছেন তিনি।
জনস্বাস্থ্যমূলক কর্মকান্ডের মধ্যে প্রথম বিষয়টি, নারীদের স্বাস্থ্য সেবার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছিলেন। কারণ তৎকালীন নারীরা শরিফি প্রথার জন্য অকালে মৃত্যুর মূখে পতিত হয়েছেন অসুস্থ্য অবস্থায় কোন ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা করানোর প্রচোলন ছিলনা। নারীরা ধুকে ধুকে মরেছেন কারণ একটাই পুরুষ ডাক্তার দেখাবেনা, পূর্ববঙ্গের এ অঞ্চলে হিন্দু মুসলমান সবার জন্য একই নিয়ম ছিল। নারীদের চিকিৎসা ক্ষেত্রে দূর্গতির অন্ত ছিলনা। ফয়জুন্নেছা বাঙ্গালী জাতির দুর্ভাগ্যের এই ব্যাপারটি অনুধাবন করেছিলেন। তাই নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য স্থাপন করেন দাতব্য চিকিৎসালয় লাকসামের সরকারি দাতব্য চিকিৎসালয় নামে আজও অবধি বিদ্যমান। ১৮৯৩ মনে কুমিল্লায় জানান হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেনা নারী কল্যাণের লক্ষে উনবিংশ শতাব্দীতে মহিলা সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক স্বয়ং সম্পূর্ণ একটি হাসপাতাল স্থাপন করা প্রকৃত পক্ষে তার যুগের চেয়েও অগ্রগামী চিন্তার ফসল। তখনকার সময় মহিলাদের জন্য কোনো চিকিৎসালয় আলাদা ভাবে ছিলনা। তার এই কর্মকান্ড একটি অনন্যকীতি ছিল। ফয়জুন্নেছার ভিন্নমুখী কর্মের মাধ্যমে নারীদের সাহায্য করতেন এর মধ্যে অন্যতম ১৮৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সমিতি সখি নামে প্রতিষ্ঠিত হয়, এটি আদি বাহ্মসমাজের, স্বর্ণকুমারী দেবীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি হয়। সে সময় এই প্রতিষ্ঠানে কোন মুসলমান নারী সদস্য হয়নি, ফয়জুন্নেছাই একমাত্র মুসলমান নারী ছিলেন এই সদস্যের তিনি সখি সমিতিকে অর্থদানের মাধ্যমে উৎযোগীদের উৎসাহিত করতেন। এই সমিতিটির কাজ ছিল বিভিন্ন শ্রেণী ও ভিন্ন ধর্মের মেয়েদের মধ্যে সম্ভাব্য সৃষ্টি করা ও দুঃস্থ অসহায় নারীদের সাহায্যার্থে বিভিন্ন কর্মসূচী নিয়ে কাজ করা, তার মধ্যে হস্তশিল্প ছিল অন্যতম, তখনকার সময় এই কর্মকান্ড এখানকার নারীদের চিন্তার বাইরে ছিল। তিনি নিজেকে আবদ্ধ না রেখে নারীদের জন্য এই ধরনের অনেক কাজে নিয়োজিত রেখেছিলেন। ফয়জুন্নেছার একটি অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট ছিল তিনি গ্রামাঞ্চলে বসবাসরত হয়েও একজন পর্দানশিন শরিফ মহিলা হওয়া সত্ত্বেও সমাজ ও দেশের সর্বদিকেই খেয়াল রাখতেন।

শিক্ষা বিস্তারে ফয়জুন্নেছার অবদান বিস্তৃত তিনি সবচেয়ে শিক্ষা বিস্তারে বিষে নজর দিয়েছিল। আমাদের সমগ্র বাংলাদেশে তার পূর্বে কোন সংস্কারবাদী নারী বা পুরুষ নারীদের জন্য ইংরেজি মাধ্যমের বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেননি ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ফয়জুন্নেছা কুমিল্লা শহরে তাল পুকুর পাড়ে শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য ইংরেজী মাধ্যমের স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এটি সরকারি স্কুল এবং অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুশিক্ষা দান করে যাচ্ছে। শিক্ষকদের জন্য তিনি জমিদারীর বিভিন্ন মৌজায় অজ¯্র প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করে গেছেন। তার শিক্ষা বিস্তারে বিশাল কর্মকান্ড শুধমাত্র নিজ জমিদারী এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিলনা এর পরিধি বিদেশের মাটিতেও বিসৃত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কৃষ্ণনগর নদীয়াতেও তিনি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি মক্কা মদিনাতেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করেছিলেন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিয়মিত টাকা পাঠাতেন। তিনি মক্কায় যোবায়দা নহর পুনঃ খনন করেছিলেন হাজীদের পানির সমস্যা দূর করার জন্য এবং আরাফাতগামী একটি রাস্তা নির্মাল ও মেছফালায় একটি মুসাফির খানা স্থাপন করেছিলেন। তিনি শীত ঋতুতের দরিদ্রদের মধ্যে কাপড় বিতরণ করতেন তার পরবর্তীদের উপর এরূপ কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন লিখিতভাবে ফয়জুন্নেছার মানবদরদী অনেক কর্ম যা অগনীত। তার সেবা আজও চলছে যুগ যুগ ধরে তার গড়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।

জমিদার থেকে নওয়াব উপাধি অর্জন করেছিলেন নিজ কর্ম যোগ্যতায়। তখনকার সময় ত্রিপুরার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিঃ ডগলাস একটি সমাজ কল্যাণমূলক কাজের পরিকল্পনা হাতে নিয়ে প্রচুর টাকার প্রয়োজন হওয়ায় সরকার হতে টাকা প্রাপ্তি বিলম্ব হওয়ায় ডগলাস স্থানীয় জমিদার, ধনাঢ্য ব্যক্তি এবং আগরতলার মহারাজার কাছেও এ প্রকল্পের জন্য ধার চেয়ে ব্যর্থ হউন। এরপর ফয়জুন্নেছার কাছে টাকা চেয়ে ঋণ হিসেবে পেয়েছিল। কিছুদিন পর মিঃ ডগলাস এই টাকা ফেরত দিতে গেলে ফয়জুন্নেছা টাকা ফেরত নেননি তিনি বলেন আমি যখন অর্থ দেই তা দান হিসেবেই দেই কর্জ হিসেবে নয়। ফয়জুন্নেছার এই কথাগুলো ডগলাসকে বিমোহিত করেছে তাই তিনি এ সংবাদটুকু ইংল্যান্ডের রাণীর নিকট পৌছে দিয়েছিলেন। একজন মুসলিম জমিদার নারীর এরকম আচরণে মুগ্ধ হয়ে রানী ফয়জুন্নেছাকে বেগম উপাধিতে ভূষিত করলেন, কিন্তু ফয়জুন্নেছা এই উপাধিকে প্রত্যাখান করেন। দুনিয়া জোড়া বিশাল সা¤্রাজ্যের অধিকারী, সর্বোচ্চ পদে অধিষ্টাত্রী মহারানী ভিক্টোরিয়ার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান? মহারানী স্বয়ং এক বিব্রতকর অবস্থায় পতিত হন বলে কথিত আছে। তখন ভিক্টোরিয়া অধিবেশন ডেকে পরামর্শক্রমে সিদ্ধান্ত নেন ফয়জুন্নেছাকে নওয়াব উপাধিতে ভূষিত করা হবে। এরপর রানী ভিক্টোরিয়া এই তেজস্বী মহিলা জমিদারের কার্যকলাপ পরিদর্শনের জন্য এক প্রতিনিধি দল পশ্চিম গায়ে পাঠান দলটি ইংল্যান্ড হতে এসে ফয়জুন্নেছার কাজকর্ম দেখলেন তৎকালীন অধিকাংশ পুরুষরাও তারমত সফলতার সাথে জমিদারী পরিচালনা করতে পারেনি এমনকি তার ভ্রাতাগণও না। তার নিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি এই গুনাগুনগুলোর সম্পর্কে শুনতে পান প্রতিনিধিরা, ফয়জুন্নেছা জমিদারী দর্শনে যাওয়ার সময় পর্দানশিন অবস্থায় নন্দিতভাব অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে সুসজ্জিত হাতিতে আরোহন করার দৃশ্য দেখে প্রতিনিধি দল বিমুগ্ধ চিত্তে প্রত্যক্ষ করে রানী ভিক্টোরিয়ার দূত প্রকাশ্যেই ব্যাক্ত করেছিলেন যে এ নারী শুধু নারী নন তিনি সাধারণের চেয়ে উর্ধ্বে এবং তার জন্য ‘নওয়াব’ খেতাবই উপযুক্ত। এরপর প্রতিনিধি দলটি ইংল্যান্ড যাওয়ার কিছুদিন পরই ঘোষিত হলো পশ্চিমগাঁয়ের জমিদার ফয়জুন্নেছার জন্য নওয়াব খেতবা এ সবই জনশ্রুতি।

অবশেষে তারকাকৃতি হীরক খচিত মহামূল্যবান পদকটি বিশেষভাবে সরকারি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফয়জুন্নেছাকে ‘নওয়াব’ উপাধি প্রদান করা হয়। ফয়জুন্নেছার এই পদকটি বর্তমানে জাতীয় জাদুঘরে জমা দেয়া আছে।

সময়ের স্রোতে কালের আবর্তনে ফয়জুন্নেছার ইতিহাস হারিয়ে যাচ্ছে কেউ কোন খবর রাখছেনা তার সম্পর্কে। অথচ এই নারী সমাজ ও দেশের উন্নয়নের জন্য বিশাল অবদান রেখেছিল কিন্তু এ কথা অনেকেরই অজানা। নবাব ফয়জুন্নেছার মৃত্যুর এতকাল অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও আমরা তাকে তার কর্মের স্বীকৃতি দিতে পারিনি। তাকে তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছি। এখন আমাদের উচিত ফয়জুন্নেছাকে যথাযথ মর্যাদায় তার প্রাপ্য স্থানে প্রতিষ্ঠিত করা তাকে বাংলার নারী মুক্তির অগ্রদূত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া।

অবক্ষয় ঠেকাতে মানবিকতার চর্চা অপরিহার্য
                                  

॥ মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥

দিন দিন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে আমাদের সমাজ। সামাজিক অস্থিরতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ে সংকট ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে পারিবারিক জীবনে এ অবক্ষয়ের পরিণতি হচ্ছে ভয়াবহ। সম্প্রতি পর পর দুটি জোড়া খুনের ঘটনা তার সাক্ষ্য বহন করে। রাজধানীর কাকরাইলে ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় নিজ বাসায় খুন হয় মা ও ছেলে।

এ ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে বাড্ডায় একটি বাড়িতে নিহত হয়েছে বাবা-মেয়ে। এর আগে নরসিংদীতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে। রাজধানীর দুটি হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহ-বিরোধ থাকার বিষয়ে সন্দেহ করা হচ্ছে। কাকরাইলে মা-ছেলে খুনের ঘটনায় পারিবারিক দ্বন্দ্বকে সন্দেহ করছে পুলিশ।

বাড়ির মালিক আবদুল করিম তিনটি বিয়ে করেছেন। এর মধ্যে নিহত গৃহবধূ শামসুন্নাহার তার প্রথম স্ত্রী। আর দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তৃতীয় স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে।

আর বাড্ডায় বাবা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের পেছনে স্ত্রীর পরকীয়া জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আটক করা হয়েছে স্ত্রী আর্জিনাসহ তিনজনকে। বস্তুতঃ আমাদের সমাজ জীবনে মানবিক বৈশিষ্ট্যগুলো যেন হারিয়ে যাচ্ছে। পারিবারিক বন্ধন ক্রমশঃ শিথিল হচ্ছে।

মানবিকতার আবেদন হ্রাসের পাশাপাশি আমাদের পরস্পরের প্রতি মমত্ববোধ দুর্বল হয়ে পড়ছে। আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠছি আমরা। পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন এবং পরস্পরের প্রতি নির্ভরশীলতার বিষয়টি ক্রমেই লোপ পাচ্ছে।

বিত্তবান কিংবা ধনাঢ্য পরিবার থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারেও এ অবক্ষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাই সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে এই যে অবক্ষয়, তা ঠেকাতে মূল্যবোধের লালন ও মানবিকতার চর্চা অপরিহার্য।

আরকটি উদ্বেগের বিষয় হলো সমাজে সহিংসতার শিকার বেশি হচ্ছে শিশু-কিশোররা। তুচ্ছ ঘটনায় তাদেরকে নির্মম নির্যাতন করা হচ্ছে, এমনকি মেরে ফেলা হচ্ছে। সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বামনীতে।

পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, বামনীর ভুঁইয়ারহাট এলাকায় ল্যাপটপ থেকে একটি গেমস ফোল্ডার মুছে ফেলার সন্দেহে চার বছরের শিশুকে বস্তায় ভরে নির্মমভাবে নির্যাতন করে সুপারিবাগানে ফেলে রাখা হয়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর আগে ঢাকার চকবাজারে এক কিশোরকে চাকু মেরে হত্যা করা হয় তুচ্ছ কারণে।

দেখা যাচ্ছে এসব বর্বর-নিষ্ঠুর নির্যাতন বা হত্যাকাণ্ড যারা ঘটাচ্ছে তাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র মানবিকতা কাজ করছে না।

সমাজ থেকে সব নৈতিকতাবোধ যেন উধাও হয়ে গেছে। যেভাবে আমাদের ছেলে-মেয়ে ও শিশুরা পারিবারিক, সামাজিক বিরোধের শিকারে পরিণত হচ্ছে তা খুবই উদ্বেগের। এ জাতীয় সব অপরাধের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।

পাশাপাশি কেন এই অবক্ষয় দানা বেঁধে উঠছে, সে বিষয়েও গবেষণা করে কারণ উদ্ঘাটন প্রয়োজন।

গ্রাফিক্স ডিজাইনার তারেকের অকাল মৃত্যু
                                  


॥ মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥

না ফেরার দেশে চলে গেলেন মানবাধিকার খবরের গ্রাফিক্স ডিজাইনার তারেক হোসেন (২৬)। তিনি ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ( ইন্না লিল্লøাহি ওয়াইন্নাইলাইহী রাজেউন)। দীর্ঘ একমাস যাবৎ তিনি ব্ল্যাড কান্সারে ভুগতে ছিলেন। রাতেই জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মানবাধিকার খবরের পক্ষ থেকে তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও তার আত্মার শান্তি কামনা করা হয়েছে।

ক্ষমা কর তারেক
অসুস্থ মা ও শাশুড়িকে দেখতে আমি যখন অবস্থান করছি বাগেরহাট ও পিরোজপুরে। আমাদের গ্রাফিক্স ডিজাইনার তারেকের মা মৃত্যুর দিন সন্ধ্যায় যখন ফোন করে জানালো তারেক আমাদের মাঝে আর বেচে নেই। আপনাদের আর বিরক্ত করবেনা। কথাগুলি শোনার সাথে সাথে আমার ভিতর বর্ণনাতীত ও মারাত্মক অপরাধবোধ কাজ করতে থাকে। অসুস্থ তারেক হাসপাতালে থাকা অবস্থায় আমাকে দেখার জন্য তার মায়ের কাছে আকুতি জানিয়েছিল।

তার মা আমাকে তারেকের ইচ্ছার কথা বার বার বললেও কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রান বিতরন ও অন্যান্য মানবকল্যানের কাজে ব্যস্ত থাকার কারনে আমি সময়ের অভাবে যেতে পারিনি। তবে পিরোজপুর ও বাগেরহাট সফর শেষে তারেককে দেখার ইচ্ছা ছিল আমার। সেই সময় আর দিল না সে। না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি। এছাড়া অফিসের কাজের স্বার্থে আমরা হয়তো অনেক সময় অনাকাংখিত ব্যবহার করেছি। ক্ষমা চাওয়ার সেই সময় ও সুযোগটুকুও পেলাম না।

অফিসের স্টাফ পাঠিয়ে তার অসুস্থতার খবর নিতে পারলেও নিজে গিয়ে দেখা করতে না পারায় অপরাধবোধ আমাকে তারা করছে। তারেক ছিল শারীরিক প্রতিবন্ধী। মানবিক কারনে, তাকে আমি মানবাধিকার খবর পত্রিকায় চাকুরী দেই। এই লেখাটির সময়, এসব কথা ভেবে আমার দু`চোখে অশ্রু ঝরছিল। ক্ষমা কর তারেক আমাদেরকে। এই উপলব্ধি থেকে সবাই কে বলছি ক্ষনিকের এ পৃথিবীতে কেউর সাথে কেউ দুর্ব্যবহার না করার জন্য। হয়তো ক্ষমা চাওয়ার সময় ও সুযোগটুকুও পাবেন না।

বিশ্বমানবাধিকার আজ কোথায়?
                                  



॥ রুবিনা শওকত উল্লাহ ॥

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের মানবাধিকার সংরক্ষনের মাধ্যমেই বিশ্বকে মানবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে হবে।

পৃথিবীর অতীতের সমস্ত পেশাচিকতাকেও হাড় মানিয়েছে মিয়ানমার সরকার। কুখ্যাত ষ্প্যানিশ ইনকুইজিশন, নাৎসি বাহিনী, মুসোলিনির ফ্যাসিষ্ট বাহিনী, ইয়াহিয়ার বরবরতাকেও হাড় মানতে হয়েছে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া রোহিঙ্গা নির্যাতন। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের চিরতরে শেষ করার নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে অত্যান্ত কৌশলে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এতে ইন্দন যোগাচ্ছে বাংলাদেশের বন্ধু রূপি প্রিয় শত্রুরা যারা গাছের গোড়া কেটে উপড়ে পানি ঢালে। হরহামেশা এ দেশকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অস্থিরতায় রেখে, উন্নয়নকে রুখে দেওয়ার চেষ্টায় থাকে।

মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী দেশ। সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চরম দমন নীপিড়ন গনহত্যা চলছে। ২৫ আগষ্টের পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে মেরে ফেলা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে আগুন দিয়ে জ¦ালিয়ে দিচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীরা দেখা মাত্রই রোহিঙ্গাদের গুলি করে , আগুনে পুুড়িয়ে, জবাই করে, মৃত দেহগুলো পানিতে ভাসিয়ে দিচ্ছে। সেনাদের কাছে কোনো আকুতিতে, পায়ে পড়েও বাচতে পারেনা। তারা রোহিঙ্গাদের উপর দীর্ঘ দিন চলা অত্যাচার বিশ্ববাসী যেন জানতে না পারে সেখানে এখন পর্যন্ত সাংবাদিক বা পর্যবেক্ষক দলদের স্বাধীন ভাবে যাওয়া দূষ্কর, আর যদিও স্বল্প পরিসরে যাওয়ার অনুমতি হয় এর পূর্বশর্ত থাকে বিশেষ স্থানের বাইরে যাওয়া যাবেনা। ঐ স্থানগুলো আগে থেকে ক্লিন করে রাখে সরকার , যেন বিশ্ব জানতে না পারে তাদের এই নিষ্ঠুরতম কর্মকান্ড। ফলে বিশ্ব মিডিয়ায় রোহিঙ্গা সর্ম্পকে মিথ্যা প্রচার করে। যার কারনে সেই রোহিঙ্গাদের উপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের সব সত্য অজানা রয়ে যাচ্ছে। কেবল বাংলাদেশে আশা নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের কাছে এ সব বর্বরতার কথা জানা যায়।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী এ সম্প্রদায় আজ তারা মুসলমান বলে নির্যাতনের মাধ্যমে নির্মূল করে দিচ্ছে মিয়ানমার সরকার। তাদের উপর নির্মম চাপ প্রয়োগ করে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সেনা ও মগদের, তাদের প্রতি ভাষ্য ‘হয় মর নয় বাংলাদেশে যা’। এমন কি গত ১১ ও ১২ ২০১৭ তে সেনাবাহিনী রেহিঙ্গাদের উদ্দেশ্য করে মাইক দিয়ে বলেছে হুমকি দিয়ে মিয়ানমার ত্যাগ না করলে ব্রাশ ফায়ার করবে, কোন রোহিঙ্গাকে বাঁচিয়ে রাখা হবেনা। ফলে প্রান ভয়ে বাপ-দাদার ভিটে-মাটি ছেড়ে ওরা অজানা গনতব্যে ¯্রােতের মত এসে বাংলাদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। ১৯৭৮ সালের প্রথম সামরিক হামলার মুখে রোহিঙ্গারা তাদের জন্মভূমি থেকে উচ্ছেদ হয়ে এ দেশে এসে আশ্রয় নেয় এরপর ১৯৮১-১৯৮২ তারপর ১৯৯১-১৯৯২ সালে, তারপর ২০১২সালে, তারপর ২০১৫-২০১৬, এবার ২০১৭ এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের আসা বন্ধ হচ্ছেনা। বিগত সময়গুলোতে আসা রোহিঙ্গাদের অনেককেই মিয়ানমার সরকার ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় আবার অনেকে রয়ে যায়। আগের ৫ লাখ রোহিঙ্গা শরনার্থী এদেশে বাস করে আসছিল। এবার আরোও যোগ হলো ৫ লাখেরও বেশী। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে।

এবারের নির্যাতনের সূএপাত শুরু হয় যখন মহাসচিব কফি আনান তার নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের প্রতিবেদন দাখিল করেন। ১৮ আগষ্টে উল্লেখ থাকে মিয়ানমারের দোসর মগ-দুস্য ও সেনাবাহিনীদের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর নির্যাতনের সব চিএ তুলে ধরে এ অবস্থা থেকে উত্তরনের কিছু সুপারিশ। দন্ধ নিরসনের শান্তিপূর্ন উপায় খোজার পরামর্শ প্রদান করে কফি আনান কমিটি। এরপর থেকেই শুরু হয় রাখাইন রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার ২৪ টি পুলিশ পোস্ট ও স্টেশনে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ এনে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মির (এ আর,এস,এ) বিরুদ্ধে মিয়ানমারের গনমাধ্যমে খবরে বলা হয় ১০ পুলিশ সদস্য এক সেনাসদস্য এবং এক ইমিগ্রেশন কর্মকতা নিহিত হয়েছে বিদ্রোহীদের হামলায়।

এগুলো ছিল মিয়ানমার সরকারের সাজানো নাটক নিজেরাই এসব ঘটিয়ে বিদ্রোহীদের নামে চালিয়ে দিয়ে একটি মুসলিম জনগোষ্ঠী কে নির্মূল করা। তথ্যের সূত্রে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে জানা যায় ওখানকার প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে, যারা প্রান নিয়ে বাংলাদেশে আসতে পেরেছে। পুলিশ স্টেশন ঘেষে বসবাসকারী যারা ছিলেন, তখন কেউবা বাড়ীর বাইরে কেউ বা ধান ক্ষেতে। অনেকে স্বচক্ষে দেখেছে হঠাৎ গাড়ী থেকে নেমে আর্মিরা পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় পাশে মগদের দেখা গেছে। আবার কেউবা আগুনের লেলিহান দেখে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে, আর্মিরা চলে যাওয়ার পর মগরা উপস্থিত রোহিঙ্গাদের বলে তোরা আগুন দিয়েছিস বাঁচতে হলে বাংলাদেশে চলে যা। এরপর শুরু হয় সেনাদের তান্ডব লিলা হত্যাযজ্ঞ একটা জনগোষ্টীকে, বিধংশ করার খেলা মানুষ পুড়িয়ে, সন্তানের সামনে বাবাকে হত্যা, ছোট শিশুকে আছাড় মেরে হত্যা, স্ত্রীর সামনে স্বামীকে হত্যা, মানুষকে উলঙ্গ করে ঝুলিয়ে হত্যা চলছে, বেয়নেট দিয়ে খোঁচিয়ে খোঁচিয়ে মানুষ মারছে। নারীদের গনহাড়ে ধর্ষন করছে , এতো নৃশংসতা। বাধ্য হয়ে চরম নির্যাতনের মুখে পূর্বসরিদের ঘরবাড়ী ছেড়ে, পথে পথে স্বজনদের লাশের সারির উপর দিয়ে তাদের আসতে হয়েছে বাংলাদেশে।

সেনা সদস্যরা রোহিঙ্গা পাড়ায় এসে নাটকীয়ভাবে সন্দেহের নামে, রোহিঙ্গাদের শনাক্ত শুরুর মাধ্যমে রোহিঙ্গা নিধন সেনাবাহিনী পরিচালিত এ গন হত্যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’।

বিনা অপরাধে তাদের দোষী করে নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত করল সেনারা। রোহিঙ্গারা প্রান বাঁচাতে নদী পার হয়ে, দূর্গম পাহাড়ি বনাঞ্চল পেরিয়ে অনেক বাঁধা, বিপদ অতিক্রম করে বাংলাদেশ সিমান্তে প্রবেশ করেছে। এ ক্ষেত্রে অনেক রোহিঙ্গাদের নদীপার হতে গিয়ে দালালদের কারনে মাঝিরা ৫০-১০ হাজার টাকা করে নিচ্ছে, টাকা না পেলে মহিলাদের কানের, গলার অলংকারের বিনিময়ে পারাপার করছে। কিন্তু পয়েন্টে নামতে না পারা দেশে ফেরৎ যেতে না পেরে দীর্ঘ সময় নদীর মাঝে নৌকায় না খেয়ে, আবার ছোট নৌকায় বেশী মানুষের ফলে নৌকাডুবিতে অনেকের মৃত্যু ঘটেছে। এখন মিয়ানমার আর বাংলাদেশের সীমান্তে চারদিকে শুধু মানুষের আর্তনাদ চিৎকার আর কান্না তাদের এই কষ্টে প্রকৃতিও কাঁদে। তাদের উপর এতো বছর ধরে চলছে ইতিহাসের জঘন্যতম অত্যাচার, মানুষ হয়েও নেই তাদের কোন মানবাধিকার তাদের নিজেদের জন্মভূমিতেই ভিন দেশীদের মত বাস করে। নেই তাদের কোন অধিকার স্বাধীনভাবে চলার, নিজ ধর্ম আদায় নামাজ পড়তেও বাধা, মুসলিম রোহিঙ্গাদের সংখ্যা যেন বৃদ্ধি না পায় সে জন্য তাদের বিয়ে পর্যন্ত নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছে। মিয়ানমার সরকারের এত অত্যচার বর্বরতা মনে হয় আমরা এখনোও কোনো গুহার জগৎ এ বাস করছি। এ যুগেও মানুষকে বাস করতে হচ্ছে দাসের মত।

সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে মিয়ানমার সেনাদের অপকর্ম নির্যাতনের চিত্র সবাই জানতে পারে, সেনারা নিজেরাই নিজেদের কু-কর্ম রোহিঙ্গাদের নিধনের চিত্র পাঠায়, এ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচারের যত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেই অ্যাকাউন্টের পোষ্টগুলো সরিয়ে দিচ্ছে ফেসবুক, এর অর্থ কি?

গত ১৯/৯/২০১৭ অবশেষে অং সান সুচি রোহিঙ্গা বিষয়ে মুখ খুলেছেন। জাতির উদ্দেশ্যে ভাষন দিয়ে ছিলেন তার ভাষন ছিল মিথ্যায় ভরা। ইউরোপিয়ান রোহিঙ্গা কাউন্সিলর (ই আরবি) প্রতিষ্ঠা ইব্রাহিম মোহম্মদ বিডি নিইউাজকে বলেছেন রাখাইন সেনাবাহিনী যে ‘গনহত্যা চালাচ্ছে’ তা আড়াল করার প্রায়াস করেছে সুচি দিয়েছে নানা ‘মিথ্যা তথ্য’। সুচি ভাষনে বলেন সেপ্টেম্বর মাসের ৫ তারিখের পর থেকে রাখাইনে কোনো অভিযান চালানো হয়নি। অথচ এ কথা মিথ্যে। সেপ্টেম্বর মাসের ৫ তারিখের পর জোনাথন হেড মিয়ানমার সরকারের তত্ত্বাবধানে রাখাইনে গিয়ে ছিলেন সেখানে তিনি দেখতে পান রোহিঙ্গাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করতে। সুচি আরোও বলেন ‘বেশ কিছু মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে এ ধরনের খবর শুনে আমরা উদ্বিগ্ন। তবে যে ভাবে বলা হচ্ছে সেভাবে সব মুসলিমের বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়নি। অধিকাংশ মুসলিম রাখাইন অঞ্চলে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবং এতে বোঝা যায় সেখানে পরিস্থিতি খুব মারাক্ত নয়।

সুচি নাকি জানেনই না তার দেশ থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিমরা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিচ্ছে। তিনি তো বললেন আর্ন্তজাতিক চাপকে ভয় করেনা। এর অর্থ কি বোঝাতে চেয়েছেন, সুচি কি কোনো কিছুকে ভয় করেনা। গনতন্ত্রের জন্য যিনি জীবনে অনেক ত্যাগ, কষ্ট করেছেন, শান্তিতে নোবেল পর্যন্ত পেলেন তার মুখে এসব কথা শুনবে বিশ্ব এটা ভাবা অনেক কষ্টকর। তিনি ক্ষমতায় থাকার জন্য সব মেনে নিচ্ছেন। ক্ষমতার লোভে নিজ দেশে অশান্তি প্রতিষ্ঠা করে রাখা সুচির গলায় শান্তির মালা শোভা পায়না। এখন সময় সুচির রোহিঙ্গাদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার, বিশ্বে বিপর্যয়ের কারনে বিশ্ববাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার। নয়তো বিশ্ব ইতিহাসে হিটলারদের তালিকায় তার নাম উঠে আসবে মানুষ তাকে ঘৃনা করবে।
এখন সবাই টের পেয়ে গেছে, বিপাকে মিয়ানমার সরকার কারন তাদের এই নিলনকশার মধ্যে আরোও একটি কারন নিহিত মানুষ হত্যা করে আরাকানে কলকারখানা গড়বে। কেঁচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে আসছে। যুগ যুগ ধরে রোহিঙ্গাদের উপর যে ধরনের নির্যাতন করে আসছিল। এবং মিয়ানমার সামরিক বাহিনীরা নিজেরাই বিশ্ব থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল রোহিঙ্গা ইস্যুতে সব ফাঁস হয়ে গেল। এবার দেখার পালা বিশ্ব শক্তি ধরদের চাপে মিয়ানমার সরকার কি করে।
সব জাতি ধর্মের সমঅধিকারের মহামিলনের স্থান এই বাংলাদেশ। প্রাচীনকাল থেকেই লোভিদের কু-দৃষ্টি এই দেশের উপর ওরা ঠান্ডা মাথায় এ দেশে বিশৃঙ্খলা বাঁধিয়ে রাখে, উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ্য করতে কুচক্রিরা বেতিব্যস্ত থাকে।

পথ খুজে প্রতিবেশী দেশের সাথে গন্ডগোল বাধিয়ে এই দেশকে হড়ন করতে। কিন্তু আমরা বুঝেও না বুঝার ভাব করে এড়িয়ে যাই কারন আমাদের একটু বোকমীতে আমাদের জাতির চরম ক্ষতি হয়ে যাবে। এ জন্য ধৈর্য্যরে সাথে সবাইকে এক হয়ে দেশের স্বার্থে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের ছোট্ট একটি দেশ মানুষ বেশী। এবারের বন্যার পর আমাদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এ ধকল না সামলাতেই রোহিঙ্গা ইস্যু সামনে এসে দাড়িয়েছে। নির্যাতিত আশ্রহীন রোহিঙ্গারা প্রান বাঁচাতে আমাদের দেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মানুষ হিসেবেতো বিতারিত করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারিন। এখন প্রয়োজন রোহিঙ্গা শরনার্থীদের সংকটময় সময়ে তাদের পাশে দাড়ানো। তাদের নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য, বস্ত্রের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও কোন দালালদের খপ্পরে যেন না পরে সেই খেয়াল রাখা। এবং তাদের ত্রান নিয়ে যেন কোন রকমের র্দুনীতি না হয়। সবাইকে সর্তক থাকতে হবে শরনার্থীরা যেন কোন অপরাধমূলোক কর্মে সন্ত্রাসের সাথে জড়িয়ে না পরে, ওরা যেন এ দেশের কোনো সমস্যার কারন হয়ে না দাড়ায় এসব ব্যাপারে সরকারকে কাঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এবং রোহিঙ্গা ইস্যুটির দ্রুত সমাধান করতে হবে। বিশ্ব নেতাদের ও বিশ্ব মুসলিম নেতাদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে চেষ্টার মাধ্যমে মিয়ানমার সমস্যা থেকে এ দেশকে মুক্ত করতে হবে। রোহিঙ্গা শরনার্থী দের সসম্মানে তাদের ভিটেমাটিতে সুন্দরভাবে পাঠানোর ব্যবস্থা করে দিতে হবে। যুগ যুগ ধরে অবহেলিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের মানবাধিকার সংরক্ষনের মাধ্যমেই বিশ্বকে মানবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে হবে।

লংগদুতে আদিবাসীদের ওপর হামলার বিচার নিশ্চিত করতে হবে
                                  


দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক ও গোষ্ঠীগত হামলা হুমকি নাগরিকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকার ও সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আদীবাসীদের ওপর হামলায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণবাসন দাবিতে এইচ আরএফবি’র সংবাদ সম্মেলন।
১ জুন দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি সড়কের চারমাইল এলাকায় মূল সড়কের পাশে লংগদু উপজেলার সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের লাশ পাওয়া যায়। পেশায় তিনি মোটরসাইকেল চালক। তাঁর লাশ পুলিশ উদ্ধার করে প্রথমে খাগড়াছড়ি সদর থানায় নিয়ে যায়। নিহত নয়ন লংগদু বাইট্রাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। নয়নের লাশ পাওয়ার ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে লংগদু এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যার দিকে লংগদু বাজারে নয়নের মৃত্যুর জন্য বাঙ্গালীরা ঢালাওভাবে আদিবাসীদের দোষারোপ করে নানা উষ্কানিমূলক কথা বলতে থাকে তখন অরুনতম চাকমা নামে একজন আদিবাসীকে বাঙ্গালীরা মারধর করে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে আদিবাসীদের সন্দেহ শুরু হয় যে তাদের উপর হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। ১৯৮৯ সালেও লংগদু উপজেলা চেয়ারম্যানের (বাঙ্গালী) মৃত্যুর পর আদিবাসীদের উপর ব্যাপক হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা হয়েছিল। এবার সেই আশঙ্কা থেকে আদিবাসী নেতৃবৃন্দ বারবার পুলিশ, সেনা-বাহিনীর জোন অধিনায়ক ও প্রশাসনকে তাদের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য অনুরোধ জানান। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের আশ্বস্ত করে বলা হয় যে, এবার কোনো সমস্যা হবে না, আদিবাসীকে পূর্ণ নিরাপত্তার জন্য কঠোর পদক্ষেপ/ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কিন্তু পরদিন (২ জুন, ২০১৭) সকালে খাগড়াছড়ি থেকে নয়নের লাশ লংগদু থানায় আনা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। আদিবাসীরা তখন আবারও পুলিশ, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য। বাইট্রাপাড়ার জানাযা শেষে বাঙ্গালীরা নয়নের লাশ নিয়ে মিছিল করে লংগদু থানা সদরে আসে। তখনই ঐ মিছিল থেকে আদিবাসীদের বাড়িঘরে হামলার জন্য উস্কানীমূলক স্লোগান দেয়া হয়। এত কিছুর মধ্যে বারংবার অনুরোধ করা হলেও প্রশাসন থেকে আদিবাসীদের নিরাপত্তার জন্য কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে আদিবাসীরা অভিযোগ করেন। এক পর্যায়ে সকাল নয়টার দিকে কয়েক হাজার বাঙ্গালী দা, কুড়াল, বল্লম, লাঠিসোটা সহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আদিবাসীদের বাড়িঘরে
আক্রমণ শুরু করে। তখন তাদের হাতে পেট্রোল ও অকটেনের ছোট ছোট ড্রাম ছিল। এরপর তারা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং পর্যায়ক্রমে তিন টিলা, মানিক জোড় ছড়া ও বাইট্রাপাড়া পাহাড়ী আদিবাসীদের ঘরবাড়িতে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অীগ্নসংযোগ করে, পাহাড়ীদের প্রায় প্রতিটি বাড়িই আগুনে পুড়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। আগুনে শুধু তাদের ঘরগুলো ভস্মীভূত হয়নি, আগুনে ছাই হয়েছে তাদের সব কিছু আসবাবপত্র ও সারা বছরের উৎপাদিত ধানসহ বিভিন্ন ফসল। ঘটনার সময় গুনমালা চাকমা ৭০ বছর বয়সী অসুস্থ এক আদিবাসী বৃদ্ধা লংগদু সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বাড়িতে তিনটিলা গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ওই বাড়িতে আগুন দেওয়ার সময় সবাই বেরিয়ে গেলেও তিনি ঘর থেকে বের হতে পারেননি পরে তাঁর হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহটি আগুনে পুড়ে এমন অবস্থা হয়েছে যে, তাঁর মৃতদেহটি সৎকার করারও সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশের লোকজন তাঁর হাড়গুলো উদ্ধার করে নিয়ে যায়। তাঁর মেয়ের অভিযোগ লংগদু থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) “উদ্ধারকৃত হাড়গোড়গুলোকে কোনো পশুর হতে পারে” বলে মন্তব্য করেন।
  এইচআরএফবি একটি হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকার আদিবাসীদের ওপর এমন হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ফোরাম মনে করে, নিহত যুবলীগ নেতার হত্যার সাথে জড়িতদের যেমন যথাযথ আইনানুগ বিচার হওয়া প্রয়োজন ঠিক তেমনি এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সাধারণ নাগরিকদের মৌলিক অধিকার যে চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে, তার ন্যায্য প্রতিকার হওয়া অপরিহার্য। সরকারের কাছে ফোরামের দাবীসমুহ রেখেছেন ঃ
স্বল্প মেয়াদের দাবীঃ
১. লংগদুর ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তসহ দায়ী ব্যক্তিদের যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শাস্তি প্রদান।
২. ঘটনার সময় প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সেনা সদস্যদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করা এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
৩. ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতির সার্বিক বিবরণসহ একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরী করা এবং তার ভিত্তিতে অতি দ্রুত পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ সহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেয়া। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ ব্য শিশুদের জন্য পাঠ্যবই সরবরাহের ব্যবস্থা করা।
৪. স্থানীয় আদিবাসীদের মধ্যে যে ভীতি,
আতঙ্ক কাজ করছে তা দূর করার জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক দিক নির্দেশনা ও প্রশাসন থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া।
দীর্ঘমেয়াদে দাবী ঃ
১. আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান।
২. আদিবাসীদের ওপর সহিংসতা ও নির্যাতনের সব অভিযোগ গুরুত্বসহকারে
নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা।
৩. আর সময়ক্ষেপন না করে পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করা।
   ৪. আইন শৃঙ্খলা, পুলিশ (স্থানীয়), ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও বন বিষয়ে অগ্রাধিকার প্রদান করে শান্তি চুক্তি অনুযায়ী ৩টি পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।
৫. শান্তিচুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সকল অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহার ও অপারেশন উত্তরণ এর নামে পার্বত্য চট্টগ্রামের সামরিকীকরণ বন্ধ করা।

কৃষি উন্নয়নে অবদানে বাকৃবিতে ১১ ব্যক্তিকে সংবর্ধনা
                                  


কৃ ষি
কৃষি উন্নয়নে অবদানে বাকৃবিতে ১১ ব্যক্তিকে সংবর্ধনা
নিজস্ব প্রতিবেদন




বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ১১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে সংবর্ধনার আয়োজন করে বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ সোসাইটি (বিএইএস)।
সংবর্ধনা প্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন- কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আব্দ ুল হালিম, খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. সু লাউত্জ, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুঃ আবুল কাসেম, ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ সুলতান উদ্দিন ভূঞা, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ শাদাত উল্লাহ, বাকৃবি জার্মপ্লাজম সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুর রহিম, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পারিষদের কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মহা-পরিচালক ড. গোলাম মারুফ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনিস্টিটিউটের মহা-পরিচালক ড. আবুল কালাম আযাদ, এনএসএফ ইন্টারন্যাশনালের কনসালটেন্ট ড. ক্রেইং এ মেসনার, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ সেকেন্দার আলী। বিএইএসের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ জুলফিকার রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোঃ আবদুর রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মোঃ মোতাহার হোসেন মণ্ডল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোঃ হাম্মাদুর রহমান ও বিএইএসের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জিয়াউল হক।




বামাফা’র জঙ্গীবাদ সন্ত্রাসবাদ ও মাদক বিরোধী সেমিনার অনুষ্ঠিত
                                  


বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার উদ্যোগে ২০মে শনিবার বিকাল ৪টায় কাওলার সিভিল এভিয়েশন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ”জঙ্গীবাদ সন্ত্রাসবাদ ও মাদক বিরোধী সেমিনার ২০১৭’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র ডাক ও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রি এ্যাড. সাহারা খাতুন। সেমিনারটি উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাবেক অতিরিক্ত আই.জি.পি .প্রঃ ডঃ আব্দুর রহিম খান পি.পি.এম। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের  ভাইস চ্যান্সেলর প্রঃ ডঃ হারুন-উর-রশিদ, এআইজি শেখ মোঃ রফিকুল ইসলাম,উত্তরা জোনের উপÑ পুলিশ কমিশনার বিধান ত্রিপুরা ও বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের মহাসচিব এ্যাড. মোঃ জামাল হোসেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টুঙ্গিপাড়ার মেয়র শেখ আহম্মদ হোসেন মির্জা। দক্ষিনখান ইউপির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এস.এম. তোফাজ্জল হোসেন, ব্যারিষ্টার শেখ ফজলে নাইম, বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মোঃ বরকত খান ও সিভিল এভিয়েশন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস.এম. আমান-উর-রশিদ। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের মানবাধিকার ফাউন্ডেশন গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি আঃ রশিদ ভুঁইয়া ও বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ঢাকা মহানগর দক্ষিনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রকিবুজ্জামান রকি। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি কে.এম. মোস্তাফিজুর রহমান।

খাদে ভরা স্বর্ণ ব্যবসা
                                  


ইলিয়াস সাগর
দেশে সোনা ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়ার বড় অংশই অস্বচ্ছ। ব্যবসায়ীদের কারও কাছেই অলংকার তৈরিতে ব্যবহৃত সোনার বৈধ কাগজপত্র নেই। ঋণপত্র খুলে বিদেশ থেকে বৈধভাবে সোনা আমদানির সুযোগ থাকলেও কেউই তা করেন না। এই মূল্যবান ধাতুর জোগানের বড় উৎস বর্তমানে ব্যাগেজ রুলস ও চোরাচালানের মাধ্যমে আসা সোনার অলংকার কিংবা বার।
সোনা ক্রয়-বিক্রয়ের বড় বাজার পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা। সেখানকার ‘পোদ্দার’ ব্যবসায়ীরাই এটি নিয়ন্ত্রণ করেন। তাঁদের কাছ থেকে কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সোনা কেনেন জুয়েলার্স মালিকেরা। এ ছাড়া হাতে গোনা তিন-চারজন ব্যবসায়ী অল্পবিস্তর হীরা আমদানি করেন। তবে গ্রাহকদের কাছ থেকে কাগজপত্র ছাড়াই পুরোনো হীরা কেনেন ব্যবসায়ীরা।
ফলে যে অভিযোগে আপন জুয়েলার্সের বিক্রয়কেন্দ্র সিলগালা করা হয়েছে, সেই একই দোষে অনেক জুয়েলার্সই দোষী। এ কারণে বহুল আলোচিত আপন জুয়েলার্সে শুল্ক গোয়েন্দাদের অভিযানের পর আতঙ্কে আছেন অধিকাংশ ব্যবসায়ী।
কয়েকজন জুয়েলার্স ব্যবসায়ী স্বীকার করেন, সোনা ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়ে অস্বচ্ছতা রয়ে গেছে। তবে তাঁরা স্বচ্ছভাবে ব্যবসা করতে চান। কিন্তু বর্তমান নীতিমালায় সোনা আমদানির প্রক্রিয়া জটিল ও ব্যয়বহুল। বহুদিন ধরে সরকারের কাছে বৈধভাবে সোনা বিক্রির ব্যবস্থা করার দাবি করলেও কাজের কাজ হচ্ছে না।
বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় প্রধান আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে শাফাত আহমেদ। দিলদার আহমেদের অবৈধ সম্পদ খুঁজতে আপন জুয়েলার্সের পাঁচটি বিক্রয়কেন্দ্রে অভিযান চালায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। অভিযানকালে গুলশান ২ নম্বরের সুবাস্তু ইমাম টাওয়ারে আপন জুয়েলার্সের সিলগালা করে দেওয়া বিক্রয়কেন্দ্রের কর্মীরা ১৮৭ কেজি সোনার অলংকারের নথিপত্র দেখাতে পারেননি।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ঋণপত্র খুলে কোনো ব্যবসায়ী সোনা আমদানি করেন না। কারণ, প্রক্রিয়াটি খুবই জটিল ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। দামও বেশি পড়ে। ব্যাগেজ রুলেও সোনা আনলে দাম ৫০০ টাকা বেশি পড়ে। পাশের দেশ ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুমোদিত এজেন্টের মাধ্যমে সোনা বিক্রি করে। এমন একটি ব্যবস্থা করার জন্য ২০ বছর ধরে দাবি করছি আমরা।’
এ বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান বলেন, ‘জুয়েলার্স ব্যবসায় কিছু সমস্যা আছে। সে জন্য আমরা তাদের নীতি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘চোরাচালান ও আইন ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পরই তা খতিয়ে দেখতে আপন জুয়েলার্সে অভিযান চালানো হয়েছে। ঢালাওভাবে কোথাও অভিযান চালানো হচ্ছে না। সে জন্য অন্যদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’
জুয়েলার্স সমিতি জানায়, তাদের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৭০০। তার বাইরে হাজার দশেক জুয়েলার্স আছে সারা দেশে। ব্যবসায়ীদের সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স এবং জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে ডিলিং লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করার বিধান আছে। অলংকার বিক্রিতে সরকারকে ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) দিতে হয়।
পোদ্দার সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান আজাদ বলেন, ‘আমরা যাদের কাছ থেকে সোনা কিনে থাকি, তারা কোনো কাগজপত্র দেন না। তাই আমরা যাদের কাছে বিক্রি করি, তাদেরও দিতে পারি না। তাঁর দাবি, চোরাচালানের সোনা তাঁতীবাজারে আসে না।
অন্যদিকে চোরাচালানে আসা সোনার অধিকাংশই ভারতে চলে যায় বলে দাবি করলেন জুয়েলার্স সমিতির সহসভাপতি এনামুল হক খান। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের মধ্যে সোনার চাহিদা সবচেয়ে বেশি ভারতে। সে জন্য চোরাকারবারিরা বাংলাদেশকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। ব্যাগেজ রুলসের মাধ্যমে যে সোনা আসে, তা দিয়েই আমাদের চাহিদা মিটে যায়।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে প্রায় ১১৫ মণ সোনা জমা আছে। এর অর্ধেকেরই মালিকানা কেউ দাবি করেনি। বাকি কিছু অংশের মালিকানা নিয়ে মামলা চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বশেষ ২০০৮ সালে নিলামের মাধ্যমে আটক করা সোনা বিক্রি করেছিল।
জানা গেছে, সোনা আটকের পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংককে তা বুঝে নিতে বলে। নিরাপত্তার জন্য একই চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয় পুলিশ কমিশনারকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী একজন স্বর্ণকারের উপস্থিতিতে তা জমা নেওয়া হয়। প্রথমে সোনা অস্থায়ী খাতে জমা হয়। মালিকানা পাওয়া গেলে মামলা হয়। এতে কাস্টমস জয়ী হলে তা স্থায়ী খাতে যায়। মালিকেরা জয়ী হলে তা ফেরত দেওয়া হয়। যেসব সোনার কোনো মালিকানা পাওয়া যায় না, তা বাজেয়াপ্ত করে স্থায়ী খাতে জমা করা হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষ থেকে সম্প্রতি আটক করা সোনা নিলাম করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেওয়া হয়। নিলাম হলে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অবৈধ চালান বন্ধ হতে পারে বলে মনে করে সংস্থাটি।
দেশ থেকে স্বর্ণালঙ্কার রফতানির লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালে প্রথম স্বর্ণালঙ্কার নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আজও কার্যকর করা হয়নি। এর পেছনে এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতাকে দায়ী করেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। ওই নীতিমালায় বৈধ ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যিকভাবে স্বর্ণ আমদানির অনুমতি দিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণে সুপারভাইজড ওয়্যার হাউসে স্বর্ণ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু এনবিআর ও অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের এ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওই নীতিমালার অগ্রগতি হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা মনে করেন, সুনির্দিষ্ট নীতিমালার পাশাপাশি সরকার এ খাতের দিকে নজর দিলে দেশে স্বর্ণালঙ্কার শিল্পের প্রসার ঘটত। এ খাত থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ তৈরি হতো।
এদিকে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর আপন জুয়েলার্সে অভিযান পরিচালনার পর থেকে আতঙ্ক বিরাজ করছে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে। অভিযানের পর রাজধানীর নামিদামি অনেক শোরুম থেকে স্বর্ণালঙ্কার সরিয়ে ফেলা হয়েছে। রাজধানীর বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে গত ২৮ মার্চ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে শীর্ষস্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত ও তার বন্ধু নাঈমের ধর্ষণের ঘটনার পর অভিযানে নামে এনবিআরের অধীন শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। শুল্ক কর্মকর্তারা বলেছেন, আপন জুয়েলার্স থেকে যেসব স্বর্ণালঙ্কার জব্দ করা হয়েছে, সেগুলোর পক্ষে মালিকপক্ষ বৈধ কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশের কোনো ব্যবসায়ী এলসি খুলে বাণিজ্যিকভাবে এক তোলা স্বর্ণও আমদানি করেননি। অথচ রাজধানীর বড় স্বর্ণের দোকানগুলোতে শত শত কেজি স্বর্ণ রয়েছে। এসব স্বর্ণের বেশিরভাগই চোরাপথে দেশে আনা হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। শুল্ক গোয়েন্দারা মনে করেন, চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে বিভিন্ন সময়ে বহনকারী বা বিমানের কেবিন ক্রু ধরা পড়লেও মূল হোতারা থেকে যান আড়ালে। বিমানের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় দেশে এসব স্বর্ণ নিয়ে আসেন একশ্রেণির ব্যবসায়ী।
জানা গেছে, স্বর্ণের উৎস জানতে বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, ট্যারিফ কমিশন ও শিল্প মন্ত্রণালয় ২০১১ সালে যৌথভাবে একটি তদন্ত পরিচালনা করেছে। তদন্তে দেখা যায়, দেশে বৈধ উপায়ে কোনো স্বর্ণ আমদানি হয় না। দুবাই, সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি দেশ থেকে একশ্রেণির চোরাকারবারির সহায়তায় স্বর্ণ এনে তা এখানকার বাজারে বিক্রি করা হয়।
বাংলাদেশে সোনা-ডায়মন্ডের বিশাল বাজার রয়েছে। এই বাজার নিয়ন্ত্রণ হয় পুরোটাই অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। সব খাতের ব্যবসায় সরকারি নীতিমালা থাকলেও সোনা-ডায়মন্ডের ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা নেই। নেই কোনো বৈধ আমদানি নীতিমালাও। ২০১৩ সালের পর মণকে মণ স্বর্ণ চোরাচালান হয়েছে। অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে অবৈধ পথে আসা সোনা ধরা পড়েছে মাত্র পাঁচ কেজি। ২০১৩ সালে ধরা পড়ে ৫৬৫ কেজি। প্রতিবছরই এ হার বৃদ্ধি পেয়েছে।
আপন জুয়েলার্স থেকে জব্দকৃত স্বর্ণ ফেরত ও অন্যান্য দাবি আদায়ের লক্ষে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা ১১জুন থেকে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
জুয়েলার্স সমিতির সভাপতি ভেনাস জুয়েলার্সের কর্ণধার গঙ্গা চরণ মালাকার, আমিন জুয়েলার্সের কর্ণধার কাজী সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সহ-সভাপতি এনামুল হক খান ও চৈতী জুয়েলার্সের কর্ণধার রতন কুমার পাইক এই প্রতিবেদককে জানান যতদিন না তাদের দাবি মেনে না নিবে ততদিন তারা ধর্মঘট চালিয়ে যাবে। সচেতন মহলের ধারনা স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের এ ধর্মঘট সরকারকে তেমন বেকায়দায়তো ফেলতে পারবেই না বরং তারা নিজেরাই বিপাকে পড়বে।
বাংলাদেশে স্বচ্ছ্ব স্বর্ণ আমদানী নীতিমালা প্রণয়ণ ও বাস্তবায়ন হলে অচিরেই এক শ্রেনীর আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ হবে। এবং সেই সঙ্গে অপরাধ অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করেন।

একজন ক্রীড়া সংগঠক - দক্ষ রাজনীতিবিদ - সফল মেয়র বাগেরহাটের সর্বস্তরের জনপ্রিয় একটি নাম খাঁন হাবিবুর রহমান
                                  


আজাদ রুহুল আমিন, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি, বাগেরহাট
১৯৬৯-৭০ সালের প্রথম দিকে একজন তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবল খেলোয়ার হিসেবে যিনি বাগেরহাট স্টেডিয়ামকে মাতিয়ে তুলে দর্শকদের মাঝে ঝড় তুলতেন। ফুটবলকে ভালোবেসে মাঠ কাঁপাতেন। এরপর তিনি খুলনা ঐতিহ্যবাহী আবাহনী ক্লাবে কৃতি খেলোয়ার হিসেবে ৭০ ও ৮০ এর দশক পর্যন্ত অত্যন্ত সুনামের সাথে ক্রীড়া নৈপূন্য প্রদর্শন করেন। বিন্দু বিন্দু করে তিনি ১৯৭৮ - ৭৯ সালে ঢাকা ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবে প্রথম বিভাগ ফুটবল খেলার সৌভাগ্য অর্জন করেন। শেরে বাংলা কাপ জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়ন খুলনা জেলা ফুটবল দলের সদস্য হিসেবে গৌরব অর্জন করেন। খাঁন হাবিবুর রহমান বাগেরহাট জেলার একজন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে নিজেকে সব সময় যুব সমাজকে মাদকমুক্ত ও সমাজের অবক্ষয় রোধকল্পে সুস্থ দেহ সুস্থ মন এ শ্লোগানকে বক্ষে ধারন করে শরীর চর্চা ও খেলাধুলায় তিনি অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছেন।
বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র খাঁন হাবিবুর রহমান পৌরসভার উদ্যোগে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ঞ-২০ আন্তঃ ওয়ার্ড ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। দড়াটানা ভৈরব নদীতে ঐতিহাসিক নৌকা বাইচ। প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগ ২০১৬। হা-ডু-ডু প্রতিযোগীতা ২০১৬। ৩য় শহীদ শেখ আবু নাসের আন্তঃজেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০১৭ সফলভাবে আয়োজন করেন। এছাড়া বছরের অধিকাংশ সময় জুড়ে বাগেরহাট স্টেডিয়াম এখন নবরুপায়নে শেখ হেলাল উদ্দিন স্টেডিয়ামে ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, ভলিবল প্রতিযোগীতা সহ খেলোয়ারদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খান হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাগেরহাট জেলা ক্রীড়া সংস্থা একটি বৃহত্তর ইনস্টিটিউটে পূর্নতা লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া অনুর্ধ্ব ১৪, ১৬ ও ১৮ বছর বয়সী তরুন শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিয়মিত দক্ষ খেলোয়ার গড়ে তুলতে হাতে কলমে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত হয়ে তারা ইতোমধ্যে জেলা, উপজেলা, জেলার বাইরে এবং দেশের বাইরেও দক্ষ খেলোয়ার হিসেবে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
জাতীয় ক্রিকেটার রুবেল সহ অনেক তরুন খেলোয়ার যোগ্য হিসেবে খান হাবিবুর রহমানের পৃষ্টপোষকতায় দেশ বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। খান হাবিবুর রহমানের প্রিয় ক্লাব নাগেরবাজারের উন্মোচন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা। তার নেতৃত্বে উন্মোচন ক্লাবের এক ঝাক তরুন খেলোয়ার বিভিন্ন সময়ে খেলায় নৈপুণ্যতা প্রদর্শন করে ট্রফি ছিনিয়ে আনে।
এছাড়া সর্বশেষ শেখ শহীদ আবু নাসের আন্তঃজেলা ফুটবল টুর্নামেন্টে পরপর তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে খেলার নৈপুন্যতার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। জনাব খান হাবিবুর রহমান বাগেরহাট জেলা ফুটবল এ্যাসোসিয়োসনের সভাপতি। বাগেরহাট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ- সভাপতি। বাগেরহাট জেলা ক্রিকেট আম্প্যায়ার এন্ড স্কোরার এ্যাসোসিয়োসনের সভাপতি। তারই সুদক্ষ নেতৃত্বে বাগেরহাট স্টেডিয়ামকে এখন শেখ হেলাল উদ্দিন স্টেডিয়াম নামাকরনে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. শ্রী বীরেন সিকদার এমপি শেখ হেলাল উদ্দিন স্টেডিয়াম এবং নবনির্মিত প্যাভেলিয়ন ভবন গ্যালারী নামকরনে ভিত্তি ফলকের আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন করেন। এবং তিনি বাগেরহাট স্টেডিয়ামকে পূর্নাঙ্গ জাতীয় স্টেডিয়াম করার ঘোষনা দেন এবং একটি আধুনিক জিমন্যাশীয়াম নির্মান করার ঘোষনা প্রদান করেন। এরই ধারাবাহিকতায় মাননীয় সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের একই ঘোষনা দেন। এরই আলোকে বাগেরহাট হেলাল উদ্দিন স্টেডিয়ামকে সম্প্রসারন গ্যালারী নির্মান, মাঠের সৌন্দর্য্য বিকাশ সাধন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ক্রীড়াই শক্তি ক্রীড়াই বল। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত মৌসুম বছর জুড়েই বিভিন্ন খেলার আয়োজন বাগেরহাটের দর্শকদের মাতিয়ে তোলে। ক্রীড়াঙ্গনে ক্রীড়া সংগঠক জনাব খান হাবিবুর রহমানের খুব একান্ত কাছের মানুষ সাবেক কমিশনার এবং ক্রিকেট আম্প্যারার্স ও স্কোরার্স এ্যাসোসিয়েসনের খুনলা বিভাগীয় সাবেক নির্বাচিত সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ও বর্তমান বাগেরহাট জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য জনাব তানুজী নাগ মানসম্মত খেলাধুলায় অনুপ্রেরনা জোগান এবং তার সাফল্য জনক সার্বিক ক্রীড়াঙ্গনের নেতৃত্বকে ভূয়সী প্রশংসা করেন। জনাব খান হাবিবুর রহমান জীবনের প্রথম থেকে অধ্যাবধি হেলাল উদ্দিন স্টেডিয়াম ও খেলা তার প্রান ও ভালবাসা। এর মধ্যেই তিনি নিজেকে এখনও একজন প্রানবন্ত খেলোয়ার হিসেবে সময় পেলেই তিনি ফুটবল নিয়ে তার সহকর্মীদের নিয়ে মাঠে এখনও সৌখিন ও সৌজন্য খেলার আয়োজন করে থাকেন।
বাগেরহাটের রাজনৈতিক অঙ্গনে খান হাবিবুর রহমান তেজদীপ্ত সাহসি প্রতিবাদী বঙ্গবন্ধু আদর্শের রাজপথের সৈনিক হিসেবে তিনি কখনও কোন দলের সাথে আপোষ করেন নি। তাই বাগেরহাটে হাবিবুর রহমান হাবি খাঁ বলতে আওয়ামীলীগের একজনকেই বোঝায়। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও চেতনায় বিশ্বাসী আওয়ামীলীগের সহযোগী যুবলীগের কর্মী পরবর্তীতে বাগেরহাট জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এবং পরবর্তীতে সম্মেলনের মাধ্যমে বাগেরহাট জেলা যুবলীগের নির্বাচিত দীর্ঘকালীন সংগ্রামী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সাহসি ভূমিকা রাখেন। জামায়াত বিএনপি জোট সরকার এবং ১৯৯১ এর বিএনপি সরকারের সময় একাধিকবার জেল জুলুম নির্যাতনের স্বীকার হয়েও বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শ হতে বিচ্যুত হন নি। তিনি বর্তমান বাগেরহাট জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সংগ্রামী যুগ্ন সাধারন সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্ব প্রদান করছেন। তার হাতে অনেক ছাত্রলীগ যুবলীগ কর্মী বর্তমান ক্ষমতাসীন জেলা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পদে আসীন।
সকল আন্দোলন সংগ্রাম কর্মসূচীতে তিনি কখনও পিছিয়ে ছিলেন না বলেই বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত স্নেহভাজন এবং অতি পরিচিত মুখ। পদ্মার এপাড়ের জননন্দিত বাগেরহাটের উন্নয়নের রুপকার জনাব শেখব হেলাল উদ্দিন এমপি। বাগেরহাট জেলা আওয়ামীলীগের সংগ্রামী সভাপতি প্রাক্তনমন্ত্রী আলহাজ্ব ডা. মোজাম্মেল হোসেন এমপি। বাগেরহাট জেলা আওয়ামীলীগের সংগ্রামী সাধারন সম্পাদক বাগেরহাট জেলা পরিষদের সুযোগ্য চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব কামরুজ্জামান টুকু। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় সাবেক মেয়র, প্রাক্তনমন্ত্রী ও মোংলা রামপালের আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক এমপির অত্যন্ত আস্থাভাজন।
১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত খান হাবিবুর রহমান বাগেরহাট পৌরসভার বৃহত্তর ৭,৮,৯ দু`বার বিপুল ভোটে কমিশনার নির্বাচিত হন। তিনি সাধারন মানুষের দ্বারে দ্বারে তাদের সুখ দুঃখের সমব্যাথী হয়েছেন। যার সফলতা হিসেবে ২০০৪ সালে বাগেরহাট পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে সরকার কর্তৃক চেয়ারম্যান পদ বাতিল করে মেয়র হিসেবে রুপদান করেন। ২০১১ সাল থেকে দ্বিতীয় মেয়াদ এবং ২০১৬ সালে তৃতীয় মেয়াদে জাতীয় নৌকা প্রতীক পেয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হন। তার উল্লেখযোগ্য কর্মকান্ডের মধ্যে বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী খানজাহান আলী (রহঃ) মাজারের প্রবেশ পথে টুওয়ে গেট যার ষাট শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাগেরহাট পৌরসভার নিজস্ব তহবিল কর্তৃক এ নির্মান কাজে ব্যায় হবে দু`কোটি টাকা। এটি দেশ বিদেশের পর্যাটকদের দৃষ্টি আকর্ষন করবে। বাগেরহাট পৌরসভা কর্তৃক বাগেরহাট পৌর এলাকাকে ২৯.১১.২০১৬ আনুষ্ঠানিকভাবে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষনা করা হয়। মেয়র খান হাবিবুর রহমান নিজস্ব তহবিল কর্তৃক অর্থ এবং পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীদের তিনদিনের বেতন কর্তন করে এই ভিক্ষুক ফান্ড তৈরী করেন। (ঈঞঊওচ) উপকূলীয় শহর পরিবেশ অবোকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দশানী পৌর শিশু পার্ক কে আরো আধুনিকায়ন এবং চিত্ত বিনোদনের উপযোগী করে তোলা এবং বাসাবাটি ভৈরব নদীর তীরে বাগেরহাট পৌর পার্ক ঈদগাহ কে পূর্নাঙ্গ রুপে গড়ে তোলার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া খানজাহান আলী দরগাহ, মহাসড়ক ও শহররক্ষাবাধ জুড়ে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যাবস্থা নিশ্চিত করেছেন। বাগেরহাট সদর হাসপাতাল ও দরগাহ ক্যাম্পাস পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে বাগেরহাট পৌরসভা নিয়মিত জনবল ও অর্থ ব্যয় করছে। বাগেরহাট শহররক্ষাবাধের পূর্ব এবং দক্ষিনে পুটিমারি খাল পর্যন্ত ৪০টি স্লুইচ গেট মেরামত আধুনিকায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন বাস্তবায়নের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে পৌরসভার তদারকিতে সামাজিক বনায়ন বিভাগ শহররক্ষাবাধের দু`কিলোমিটার জুড়ে বনায়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করবে। দড়াটানা থেকে মুনিগঞ্জ পর্যন্ত শহররক্ষাবাধ মেরামত কল্পে ইতোমধ্যে টেন্ডার ও বাগেরহাট পৌরসভার নিজস্ব তহবিল কর্তৃক ৯টি প্যাকেজে ২৯টি রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। পৌর সার্ভিস সেন্টার নির্মান কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া ভিআইপি, মিঠাপুকুর ও রেললাইনের রাস্তাটি নির্মান কাজে প্রস্তুতি চলছে। বাগেরহাট পৌরসভার উদ্যোগে সোনাতলায় সোনাতলা ফার্মে শহরের ময়লা আবর্জনা ও বর্জ্য থেকে ডধংঃব ঞড় ইরড়মধং ঢ়ষধহঃ এর কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বাগেরহাট পৌরসভার উদ্যোগে নিজস্ব অর্থায়নে দৃষ্টিনন্দন খারদ্বার জামে মসজিদ নির্মান করা হয়েছে। খুলনা বিভাগের বাগেরহাট পৌরসভার অনুকূলে একনেকের বৈঠকে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ১২৫ কোটি টাকা এবং বাগেরহাট পৌরসভার পানি সরবরাহ এনভায়রনমেন্টাল সেনিটেশন ব্যাবস্থার উন্নতিকরন প্রকল্পে ৫০ কোটি টাকা অনুমোদিত হওয়ায় বাগেরহাটবাসীর পানির সমস্যা অচিরেই দূর হবে। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে এশিয়া আরবান রিজিলিয়্যান্স ফাইনান্স ফোরাম ২০১৭ অর্থ্যাৎ এশীয়া অঞ্চলের নগরায়নকে স্থিতিশীল অবস্থা ফিরিয়ে নানা বিষয়ক অর্থনৈতিক ফোরামে বাগেরহাট পৌরসভার প্রতিনিধি এ ফোরামে যোগ দিয়ে বৈশ্বিক অবস্থা হ্রাস করনে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে স্ব - স্ব ক্ষেত্রে অর্থ ছাড়ের ব্যাপারে প্রতিনিধিত্ব করেন। সামাজিক ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানে বাংলাদেশ সরকারের সোস্যাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডটি বাগেরহাট পৌরসভা লাভ করেন। বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র জনাব খান হাবিবুর রহমান বাগেরহাট বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুল, দশানী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, হাড়িখালী সরকারী প্রাথমক বিদ্যালয়, তার নিজ এলাকা নাগেরবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। এছাড়া বাগেরহাট পৌরসভার মধ্যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের গুরুত্বপূর্ন তদারকি শিক্ষার্থীদের পোশাক বিতরন কার্যক্রম অব্যহত রেখেছেন। আর্ত মানবতার সেবায় নিয়োজিত বাগেরহাট রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
১৯৫৫ সালে খারদ্বারের সম্ভ্রান্ত খান পরিবারে জনাব খান হাবিবুর রহমান জন্মগ্রহন করেন। তিনি এক পূত্র ও দু`কন্যার জনক। তার প্রিয় শখ বড়শি দিয়ে মাছ ধরা। সেটি সমুদ্র নয় নদীও নয়। এটি পুকুর, দীঘি, লেক অথবা বিল বা বদ্ধ জলাশয়।
রাজনীতির বলায়ে গড়ে ওঠা ত্যাগী কর্মী থেকে জেলার সবচেয়ে বড় শায়ত্ব শাসিত প্রতিষ্ঠান প্রথম শ্রেনীর বাগেরহাট পৌরসভার বার বার নির্বাচিত পৌর মেয়র হওয়ার গৌরব অর্জন রাশি আর ভাগ্য দিগন্ত জোড়া কপালে রাজ টিকা পরিহিত জনপ্রতিনিধি জনাব খান হাবিবুর রহমান একটি নাম একটি ইতিহাস। একটি উন্নয়নের ধারা পিছু হটবে না জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ। উন্নয়নের রোল মডেল এ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ আরো বহুদূর।
লেখকঃ ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি, মানবাধিকার খবর।
বাগেরহাট প্রতিনিধি, সময় নিউজ।
সাবেক জেলা প্রতিনিধি, বিটিভি ও চ্যালেন ওয়ান।
সাবেক সাধারন সম্পাদক, বাগেরহাট প্রেসক্লাব।

মানবাধিকার খবরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন মায়ের কাছে ফিরেছে ভারতীয় কিশোরী বৈশাখী
                                  


বৈশাখীর পরিবারের সাথে মানবাধিকার খবর’র সম্পাদক
মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন
মোঃ রিয়াজ উদ্দিন/মনোয়ার ইমাম
গত বছর জুন মাসে প্রেমের টানে বাংলাদেশী যুবক স্বপনের সাথে পালিয়ে আসে ভারতীয় কিশোরী বৈশাখী কান্ডার (১৫)। অবশেষে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বরিশালের বানরীপাড়া থেকে উদ্ধার হয়ে গত বছর ১ডিসেম্বার আবার ফিরে যায় মায়ের কাছে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের দঃ ২৪ পরগনা সুন্দরবনের কোলে গোসবা থানার জটিরামপুর গ্রামে। বাংলাদেশ থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুল ছাত্রি বৈশাখী কেমন আছে মায়ের কাছে জানতে অনুসন্ধান চালায় মানবাধিকার বিষয়ক বিশ্বের একমাত্র নিয়মিত সৃজনশীল বাংলা প্রকাশনা মানবাধিকার খবর। গত ২এপ্রিল গোসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্রী সুবিদ ঢালীর আমন্ত্রনে আমরা চলে যাই সেখানে। গোসবা থানায় এই ব্যাপারে একটি মামলা রয়েছে। ঘটনার বিবরণ ও অনুসন্ধানের পূর্ব প্রস্তুতি হিসাবে আমরা কলকাতা থেকে ঐ দিন খুব সকালে শিয়ালদাহ থেকে দক্ষিণের ট্রেনে উঠে চলে যাই ক্যানিং। ক্যানিংয়ে হচ্ছে পূর্ব ভারতের রেল ওয়ের সুন্দরবন কোলের সর্বশেষ স্টেশন। ক্যানিংহর নেমে বাসে করে চলে যাই গদখালী নামক স্থানে। এর পর আমরা ট্রলারে বঙ্গোপ সাগর থেকে উঠে আসা সুন্দরবনের বিশাল খরস্রোত গোসবা নদী পাড়ি দিয়ে পৌছায় গোসবা থানার মূল দ্বীপে। গোসবা থানাটি ৭/৮ টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। প্রাকৃতি দৃশ্যে ভরপুর কলকাতার সর্বদক্ষীনে সুন্দরবনের কোল ঘেষে থানাটি । এই নদীতে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর কুমিরের বসবাস। যা হোক আমরা সাতসকালে গোসবা থানায় যেয়ে দেখি থানার বড় বাবু (ওসি) সুবিদ আলী সরকারী পোশাকে অপেক্ষা করছেন। আমরা থানায় পৌছাতে তিনি আমাদেরকে মিষ্টি হাঁসি দিয়ে স্বাগতম জানান। ভারতীয় পুলিশের মুখ উজ্বল কারিদের মধ্যে সুবিদ ঢালী একজন। সরকারী চাকুরীর পাশাপাশি সবসময় তিনি মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। যার কারনে তিনি বৈশাখীকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে যথেষ্ট সময় ও শ্রম ব্যয় করেছন। তার অন্যতম আন্তরিকতার কারনে বৈশাখী আজ তার মায়ের কাছে ভালোই আছে। বৈশাখী উদ্ধারে তিনি মানবাধিকার খবর কে একাধিকার সহযোগীতার জন্য অনুরোধ জানান। বৈশাখী মায়ের কাছে ফিরে আসার পিছনে মানবাধিকার খবরের সহযোগীতা কথা তুলে ধরে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। স¥ৃতি রোমন্থনের সময় বৈশাখী ও তার মা নিবেদিতা কান্ডার উপস্থিত ছিলেন। ওসি আগে থাকতে বৈশাখীর ও তার মাকে খবর দিয়ে থানায় নিয়ে আসে। আমাদের পরিচয় জানতে পেরে বৈশাখী ও তার মা বাধ ভাঙা খুশিতে আতœহারা হয়ে পড়ে। বৈশাখী জানায় তার মায়ের কাছে এখন সে খুবই ভাল আছে। আর বৈশাখীর মা নিবেদিতা কান্ডার বলেন আমার মেয়েকে কাছে ফিরে পেয়ে আমি খুবই খুশি। আপনাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আপনাদের সহযোগীতা না পেলে হয়তো মেয়েকে ফিরে পেতাম না। বৈশাখী না বুঝে বাংলাদেশী যুবকের ফাদে পড়ে চলে যাওয়াটা ভুল স্বীকার করে বলেন, মাকে আমি অনেক কষ্ট দিয়েছি। মা আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছে। আমি আবার ও লেখাপড়ায় মন দিয়েছি। বৈশাখী তার মায়ের একমাত্র সন্তান। তার বাবা নেই। বৈশাখী রাঙ্গাবালিয়া যে স্কুলে পড়ে সেই স্কুলটিও আমাদের কে ঘুরিয়ে দেখান। তাদের জটিরামপুর গ্রামের বাড়ি ঘুরিয়ে দেখান। স্থানীয় খাবার দিয়ে আমাদের কে আপ্যায়ন করেন। তাদের পরিবারের সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। আমাদের কে আবার ও তাদের বাড়িতে আসার আমন্ত্রন জানান । বৈশাখীদের বাড়ি থানা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে। বৈশাখীদের বাড়ি পরিদর্শনের সময় আমাদের সাথে ছিলেন গোসবা থানার এস আই বিষুদেব রায় চৌধুরী।
উল্লেখ্য যে, গত বছর ৮ জুলাই বৈশাখীর মা নিবেদিতা কান্ডার কলকাতার আলীপুর ভবানী ভবনে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার পুলিশ সুপার শান্তি দাসকে এক লিখিত অভিযোগ জানান। আমার নাবালিকা কন্যা বৈশাখী গোসাবা থানার রাঙা বেলিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। তার বাড়ির পাশে রয়েছে একটি রিসোর্ট। সেখানে ঠিকাদার অনিমেশ মন্ডলের লোকজন ঐ রিসোর্টে কাজ করত। তার কন্যা কুমারী বৈশাখীকে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া আসার পথে অনিমেশ ও লেবার স্বপন মল্লিক প্রতিনিয়ত উত্ত্যক্ত করত। অশ্লীল কথাবার্তা, কু প্রস্তাব দিত। বৈশাখী আমাদের জানালে আমরা তাদেরকে এ ধরনের কথাবার্তা না বলার জন্য নিষেধ করি। কোন কথা কর্ণপাত না করে বৈশাখীকে প্রতিনিয়ত তারা উত্ত্যক্ত করতে থাকে। গত ২১ জুন সকাল ১০টায় বৈশাখী স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। সর্বত্র খোঁজাখুজি করে না পেয়ে ঠিকাদার অনিমেশকে জিজ্ঞাসা করলে, সে বলে তার লেবার স্বপন মল্লিক বৈশাখীকে ফুসলিয়ে নিয়ে গেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসবা থানায় গত বছর ২৫ জুন এ বিষয়ে একটি ডায়েরি করা হয়। যার সং-১২৬। বৈশাখীর মা বলেন, অনিমেশ ও তার স্ত্রীর সহযোগীতায় স্বপন তার নাবালিকা কন্যাকে অপহরণ করে অসৎ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ পাচার করেছে। তার মেয়েকে উদ্ধার ও পাচারকারীদের শাস্তি কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে বৈশাখীর মা অনিমেশকে ১নং ও তার স্ত্রীকে ২নং সর্ব সাং কদমতলা মোড়, বেহালা ঠাবুর পুকুর, কলকাতা, ফোনঃ ৯০৫১০৬৬৩৬৫ এবং স্বপন মল্লিককে ৩নং সাং- কলাভিটা, পোঃ বেশার পল্লী, বানরীপাড়া, বরিশাল, বাংলাদেশ, ফোনঃ ০১৮২৭-৯১৮৭১১ কে আসামী করে অভিযোগ দায়ের করে।
বৈশাখীর মা জানান, নিখোঁজের সময় সে থ্রিপিচ (চুরিদার) পরে ছিল। তার উচ্চতা ৪.৭ ফুট, গড়ন মাঝারি, রং ফর্সা, বয়স ১৫ বছর।
 
ডান থেকে গোসাবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবীধ ঢালী সাথে বৈশাখী ও তার মা, মানবাধিকার খবর
সম্পাদক এবং তদন্ত কর্মকর্তা বিষ্ণুদেব রায় চৌধুরী
নিখোঁজের পর অভিযোগের ভিত্তিতে মানবাধিকার খবর অনুসন্ধান করে জানতে পারে, বৈশাখী স্বপনের সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। তখন বৈশাখীর মা-বাবা বৈশাখীকে অন্যত্র বিবাহ দেওয়ার উদ্যোগ নিলে সে স্বপনের সাথে পালানো চেষ্টা করে। স্বপন তাকে নিয়ে বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা করে ২ দিন সীমান্ত এলাকায় থেকে অবৈধ পথে বালাদেশে প্রবেশ করে সরাসরি স্বপনের গ্রামের বাড়ি বরিশালের বানরী পাড়ায় চলে আসে। বৈশাখীর মা আরও অভিযোগ করেন, বানরী পাড়া থানায় ফোনে অভিযোগ করলে তাকে কোন গুরুত্ব না দিয়ে স্বপনের পক্ষে কথা বলে । এ ব্যাপারে বানরীপাড়া থানাও ওসি জিয়াউল হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন বরিশাল র‌্যাব-৮ আমাদেরকে না জানিয়ে তাকে গত ২২ জুলাই উদ্ধার করে নিয়ে গেছে। পশ্চিম বঙ্গের দঃ চব্বিশ পরগনা গোসাবা থানার ওসি সুবিদ ঢালী মানবাধিকার খবরকে জানান বাংলাদেশে উদ্ধারকৃত বৈশাখীকে ভারতে ফেরত আনার ব্যাপারে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসকে সব ধরনের কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। আমরা অধীর আগ্রহে বৈশাখীকে ফেরত পাবার জন্য অপেক্ষা করছি। এ ব্যাপারে মানবাধিকার খবরের কাছে সবধরনের সহযোগিতা চেয়েছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ভারতীয় দূতাবাস জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সহায়তায় বরিশালের উজিরপুর থানা থেকে র‌্যাব-৮ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী মনিরা বেগম এ প্রতিবেদককে বলেন ভারতীয় নাবালিকা মেয়ে বৈশাখী বরিশালের বানরীপাড়া অবস্থান করছেন জানতে পেরে আমরা উদ্ধারে তৎপর হই। তার ব্যাপারে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গত বছর ২২ জুলাই সন্ধ্যায় উজিরপুর থেকে উদ্ধার করি র‌্যাব-৮ এর সহায়তায়। জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক এড. সালমা আলী এ প্রতিবেদককে বলেন মেয়েটি বর্তমানে আমাদের গাজীপুর সেফহোমে রয়েছে। তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। আমরা এ ব্যাপারে ভারতীয় দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছি। আশাকরি, খুব শীঘ্রই সকল আইন প্রক্রিয়া শেষ করে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো যাবে।
এ ব্যাপারে বরিশাল র‌্যাব-৮ এর কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান আমরা মেয়েটিকে উদ্ধার করে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির কাছে হস্তান্তর করেছি।
লেফটেন্যান্ট রুহুল আমিন জানান, মেয়েটি স্বীকার করেছে জামবাড়ী গ্রামের স্বপন মল্লিক কলকাতায় তাদের বাড়িতে রঙের কাজ করতেন। এক পর্যায়ে স্বপনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়। অভিযানে স্বপন মল্লিককে আটক করা যায়নি।

বৈশাখীর পরিবারের সাথে মানবাধিকার খবর’র সম্পাদক
মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন
মোঃ রিয়াজ উদ্দিন/মনোয়ার ইমাম
গত বছর জুন মাসে প্রেমের টানে বাংলাদেশী যুবক স্বপনের সাথে পালিয়ে আসে ভারতীয় কিশোরী বৈশাখী কান্ডার (১৫)। অবশেষে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বরিশালের বানরীপাড়া থেকে উদ্ধার হয়ে গত বছর ১ডিসেম্বার আবার ফিরে যায় মায়ের কাছে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের দঃ ২৪ পরগনা সুন্দরবনের কোলে গোসবা থানার জটিরামপুর গ্রামে। বাংলাদেশ থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুল ছাত্রি বৈশাখী কেমন আছে মায়ের কাছে জানতে অনুসন্ধান চালায় মানবাধিকার বিষয়ক বিশ্বের একমাত্র নিয়মিত সৃজনশীল বাংলা প্রকাশনা মানবাধিকার খবর। গত ২এপ্রিল গোসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্রী সুবিদ ঢালীর আমন্ত্রনে আমরা চলে যাই সেখানে। গোসবা থানায় এই ব্যাপারে একটি মামলা রয়েছে। ঘটনার বিবরণ ও অনুসন্ধানের পূর্ব প্রস্তুতি হিসাবে আমরা কলকাতা থেকে ঐ দিন খুব সকালে শিয়ালদাহ থেকে দক্ষিণের ট্রেনে উঠে চলে যাই ক্যানিং। ক্যানিংয়ে হচ্ছে পূর্ব ভারতের রেল ওয়ের সুন্দরবন কোলের সর্বশেষ স্টেশন। ক্যানিংহর নেমে বাসে করে চলে যাই গদখালী নামক স্থানে। এর পর আমরা ট্রলারে বঙ্গোপ সাগর থেকে উঠে আসা সুন্দরবনের বিশাল খরস্রোত গোসবা নদী পাড়ি দিয়ে পৌছায় গোসবা থানার মূল দ্বীপে। গোসবা থানাটি ৭/৮ টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। প্রাকৃতি দৃশ্যে ভরপুর কলকাতার সর্বদক্ষীনে সুন্দরবনের কোল ঘেষে থানাটি । এই নদীতে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর কুমিরের বসবাস। যা হোক আমরা সাতসকালে গোসবা থানায় যেয়ে দেখি থানার বড় বাবু (ওসি) সুবিদ আলী সরকারী পোশাকে অপেক্ষা করছেন। আমরা থানায় পৌছাতে তিনি আমাদেরকে মিষ্টি হাঁসি দিয়ে স্বাগতম জানান। ভারতীয় পুলিশের মুখ উজ্বল কারিদের মধ্যে সুবিদ ঢালী একজন। সরকারী চাকুরীর পাশাপাশি সবসময় তিনি মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। যার কারনে তিনি বৈশাখীকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে যথেষ্ট সময় ও শ্রম ব্যয় করেছন। তার অন্যতম আন্তরিকতার কারনে বৈশাখী আজ তার মায়ের কাছে ভালোই আছে। বৈশাখী উদ্ধারে তিনি মানবাধিকার খবর কে একাধিকার সহযোগীতার জন্য অনুরোধ জানান। বৈশাখী মায়ের কাছে ফিরে আসার পিছনে মানবাধিকার খবরের সহযোগীতা কথা তুলে ধরে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। স¥ৃতি রোমন্থনের সময় বৈশাখী ও তার মা নিবেদিতা কান্ডার উপস্থিত ছিলেন। ওসি আগে থাকতে বৈশাখীর ও তার মাকে খবর দিয়ে থানায় নিয়ে আসে। আমাদের পরিচয় জানতে পেরে বৈশাখী ও তার মা বাধ ভাঙা খুশিতে আতœহারা হয়ে পড়ে। বৈশাখী জানায় তার মায়ের কাছে এখন সে খুবই ভাল আছে। আর বৈশাখীর মা নিবেদিতা কান্ডার বলেন আমার মেয়েকে কাছে ফিরে পেয়ে আমি খুবই খুশি। আপনাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আপনাদের সহযোগীতা না পেলে হয়তো মেয়েকে ফিরে পেতাম না। বৈশাখী না বুঝে বাংলাদেশী যুবকের ফাদে পড়ে চলে যাওয়াটা ভুল স্বীকার করে বলেন, মাকে আমি অনেক কষ্ট দিয়েছি। মা আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছে। আমি আবার ও লেখাপড়ায় মন দিয়েছি। বৈশাখী তার মায়ের একমাত্র সন্তান। তার বাবা নেই। বৈশাখী রাঙ্গাবালিয়া যে স্কুলে পড়ে সেই স্কুলটিও আমাদের কে ঘুরিয়ে দেখান। তাদের জটিরামপুর গ্রামের বাড়ি ঘুরিয়ে দেখান। স্থানীয় খাবার দিয়ে আমাদের কে আপ্যায়ন করেন। তাদের পরিবারের সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। আমাদের কে আবার ও তাদের বাড়িতে আসার আমন্ত্রন জানান । বৈশাখীদের বাড়ি থানা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে। বৈশাখীদের বাড়ি পরিদর্শনের সময় আমাদের সাথে ছিলেন গোসবা থানার এস আই বিষুদেব রায় চৌধুরী।
উল্লেখ্য যে, গত বছর ৮ জুলাই বৈশাখীর মা নিবেদিতা কান্ডার কলকাতার আলীপুর ভবানী ভবনে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার পুলিশ সুপার শান্তি দাসকে এক লিখিত অভিযোগ জানান। আমার নাবালিকা কন্যা বৈশাখী গোসাবা থানার রাঙা বেলিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। তার বাড়ির পাশে রয়েছে একটি রিসোর্ট। সেখানে ঠিকাদার অনিমেশ মন্ডলের লোকজন ঐ রিসোর্টে কাজ করত। তার কন্যা কুমারী বৈশাখীকে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া আসার পথে অনিমেশ ও লেবার স্বপন মল্লিক প্রতিনিয়ত উত্ত্যক্ত করত। অশ্লীল কথাবার্তা, কু প্রস্তাব দিত। বৈশাখী আমাদের জানালে আমরা তাদেরকে এ ধরনের কথাবার্তা না বলার জন্য নিষেধ করি। কোন কথা কর্ণপাত না করে বৈশাখীকে প্রতিনিয়ত তারা উত্ত্যক্ত করতে থাকে। গত ২১ জুন সকাল ১০টায় বৈশাখী স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। সর্বত্র খোঁজাখুজি করে না পেয়ে ঠিকাদার অনিমেশকে জিজ্ঞাসা করলে, সে বলে তার লেবার স্বপন মল্লিক বৈশাখীকে ফুসলিয়ে নিয়ে গেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসবা থানায় গত বছর ২৫ জুন এ বিষয়ে একটি ডায়েরি করা হয়। যার সং-১২৬। বৈশাখীর মা বলেন, অনিমেশ ও তার স্ত্রীর সহযোগীতায় স্বপন তার নাবালিকা কন্যাকে অপহরণ করে অসৎ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ পাচার করেছে। তার মেয়েকে উদ্ধার ও পাচারকারীদের শাস্তি কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে বৈশাখীর মা অনিমেশকে ১নং ও তার স্ত্রীকে ২নং সর্ব সাং কদমতলা মোড়, বেহালা ঠাবুর পুকুর, কলকাতা, ফোনঃ ৯০৫১০৬৬৩৬৫ এবং স্বপন মল্লিককে ৩নং সাং- কলাভিটা, পোঃ বেশার পল্লী, বানরীপাড়া, বরিশাল, বাংলাদেশ, ফোনঃ ০১৮২৭-৯১৮৭১১ কে আসামী করে অভিযোগ দায়ের করে।
বৈশাখীর মা জানান, নিখোঁজের সময় সে থ্রিপিচ (চুরিদার) পরে ছিল। তার উচ্চতা ৪.৭ ফুট, গড়ন মাঝারি, রং ফর্সা, বয়স ১৫ বছর।
 
ডান থেকে গোসাবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবীধ ঢালী সাথে বৈশাখী ও তার মা, মানবাধিকার খবর
সম্পাদক এবং তদন্ত কর্মকর্তা বিষ্ণুদেব রায় চৌধুরী
নিখোঁজের পর অভিযোগের ভিত্তিতে মানবাধিকার খবর অনুসন্ধান করে জানতে পারে, বৈশাখী স্বপনের সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। তখন বৈশাখীর মা-বাবা বৈশাখীকে অন্যত্র বিবাহ দেওয়ার উদ্যোগ নিলে সে স্বপনের সাথে পালানো চেষ্টা করে। স্বপন তাকে নিয়ে বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা করে ২ দিন সীমান্ত এলাকায় থেকে অবৈধ পথে বালাদেশে প্রবেশ করে সরাসরি স্বপনের গ্রামের বাড়ি বরিশালের বানরী পাড়ায় চলে আসে। বৈশাখীর মা আরও অভিযোগ করেন, বানরী পাড়া থানায় ফোনে অভিযোগ করলে তাকে কোন গুরুত্ব না দিয়ে স্বপনের পক্ষে কথা বলে । এ ব্যাপারে বানরীপাড়া থানাও ওসি জিয়াউল হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন বরিশাল র‌্যাব-৮ আমাদেরকে না জানিয়ে তাকে গত ২২ জুলাই উদ্ধার করে নিয়ে গেছে। পশ্চিম বঙ্গের দঃ চব্বিশ পরগনা গোসাবা থানার ওসি সুবিদ ঢালী মানবাধিকার খবরকে জানান বাংলাদেশে উদ্ধারকৃত বৈশাখীকে ভারতে ফেরত আনার ব্যাপারে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসকে সব ধরনের কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। আমরা অধীর আগ্রহে বৈশাখীকে ফেরত পাবার জন্য অপেক্ষা করছি। এ ব্যাপারে মানবাধিকার খবরের কাছে সবধরনের সহযোগিতা চেয়েছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ভারতীয় দূতাবাস জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সহায়তায় বরিশালের উজিরপুর থানা থেকে র‌্যাব-৮ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী মনিরা বেগম এ প্রতিবেদককে বলেন ভারতীয় নাবালিকা মেয়ে বৈশাখী বরিশালের বানরীপাড়া অবস্থান করছেন জানতে পেরে আমরা উদ্ধারে তৎপর হই। তার ব্যাপারে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গত বছর ২২ জুলাই সন্ধ্যায় উজিরপুর থেকে উদ্ধার করি র‌্যাব-৮ এর সহায়তায়। জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক এড. সালমা আলী এ প্রতিবেদককে বলেন মেয়েটি বর্তমানে আমাদের গাজীপুর সেফহোমে রয়েছে। তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। আমরা এ ব্যাপারে ভারতীয় দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছি। আশাকরি, খুব শীঘ্রই সকল আইন প্রক্রিয়া শেষ করে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো যাবে।
এ ব্যাপারে বরিশাল র‌্যাব-৮ এর কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান আমরা মেয়েটিকে উদ্ধার করে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির কাছে হস্তান্তর করেছি।
লেফটেন্যান্ট রুহুল আমিন জানান, মেয়েটি স্বীকার করেছে জামবাড়ী গ্রামের স্বপন মল্লিক কলকাতায় তাদের বাড়িতে রঙের কাজ করতেন। এক পর্যায়ে স্বপনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়। অভিযানে স্বপন মল্লিককে আটক করা যায়নি।

বাবা-মেয়ের আত্মহত্যা এ দায় কার?
                                  


ইলিয়াস সাগর
প্রশাসন ও সমাজপতীদের কাছে বারবার অভিযোগ করেও গাজীপুরে সন্ত্রাসী চক্রের হাত থেকে অন্যায়ের প্রতিকার না পেয়ে এক বাবা ও মেয়ের ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা প্রমাণ করেছে আইনের শাসনের ব্যত্যয় কী বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আত্মহত্যাকারী হতভাগ্য বাবার নাম হজরত আলী। তার শিশু কন্যার নাম আয়েশা। গাজীপুরের শ্রীনগরে বাবা-মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনা আমাদের সমাজ, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের হতশ্রী চেহারা তুলে ধরেছে। মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠার পর যে বাবা বখাটে পুত্রকে শাসন করার বদলে অভিযোগকারীকে ধমক দেন তিনি অধঃপতনের কোন স্তরের বাসিন্দা তা সহজে অনুমেয়। যে ইউপি মেম্বার তার এলাকার একজন বালিকার সম্ভ্রমহানির চেষ্টার প্রতিকার না করে বখাটের পক্ষাবলম্বন করেন, তার আসল পরিচয় কী সে প্রশ্নটি সামনে আসা স্বাভাবিক। আর দুর্জনকে দমন ও সুজনকে পালন পুলিশের ধর্ম হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তার ব্যত্যয় ঘটছে। সুজনদের বদলে দুর্জনদের পৃষ্ঠপোষকতা এই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সুনামকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।  
মাত্র এক দিন বয়সে আয়েশা আক্তারকে নিজেদের কাছে নিয়ে এসেছিলেন নিঃসন্তান দম্পতি হযরত আলী ও হালিমা বেগম। গত আট বছরে এক দিনের জন্যও মেয়েকে কাছ ছাড়া করেননি। সেই মেয়েকে সুরক্ষা দিতে না পেরে আত্মঘাতী হলেন বাবা।
২৯ এপ্রিল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রীপুর রেলস্টেশনের পশু হাসপাতাল-সংলগ্ন এলাকায় দেওয়ানগঞ্জগামী তিস্তা ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন হযরত আলী (৪৫) ও তাঁর মেয়ে আয়েশা আক্তার (৮)। পরিবার বলছে, হযরত আলী মেয়েকে নিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন।
এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন হালিমা বেগম। কান্না থামাতে পারছিলেন না সব হারানো ওই নারী। ওই কাহিনীর পরতে পরতে ছিল সমাজ, স্থানীয় সরকার আর পুলিশ প্রশাসনের উপেক্ষার কথা।
হালিমা বলছিলেন, তাঁদের ৮ বছরের মেয়েটি হেরাপটকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। আয়েশা প্রায়ই অভিযোগ করত স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক হোসেনের (২২) নামে। ফারুক তাকে জোর করে সাইকেলে ওঠাত। জঙ্গলের দিকে নিয়ে যেতে চাইত জোর করে। বেশ কয়েকবার একই অভিযোগ করায় হযরত আলী গিয়েছিলেন ফারুক হোসেনের বাবা ফজলু মিয়ার কাছে। কোনো প্রতিকার তিনি পাননি। অনেকটা নিরুপায় হয়েই পরে তিনি গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য এবং ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য আবুল হোসেন ব্যাপারীর কাছে যান। তিনিও বিচার করেননি। পাগল বলে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন হযরত আলীকে। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের কাছে অভিযোগ করায় ফারুক হোসেন জোর করে হযরত আলীর গরু নিয়ে যান। এ ঘটনারও বিচার হয়নি। শেষ পর্যন্ত গত ৪ এপ্রিল হযরত আলী শ্রীপুর থানায় অভিযোগ করেন। তাতেও কোনো কাজ হয়নি। বিচার না পাওয়ায় কষ্ট পেয়েছিলেন হযরত আলী। ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। বেঁচে থেকেও সন্তানকে নিরাপত্তা দিতে না পারায় বিপন্ন বোধ করেছিলেন।

 

 


তবে হালিমা আক্তার একবারও ভাবতে পারেননি মেয়েকে সঙ্গে করে বাবা মরতে যাচ্ছেন। ঘটনার দিন সকালবেলা নাশতা করে মেয়ের হাত ধরে খুব স্বাভাবিকভাবেই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন হযরত আলী। ঘণ্টা দেড়েকের ব্যবধানে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে শোনেন স্বামী-সন্তানের মৃত্যুর খবর।
হযরত আলীদের বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কর্ণপুর গ্রামে। লোকের অভাবে বাড়ি খাঁ খাঁ করছিল কাল। প্রতিবেশী মাজেদা বেগম বলেন, ফারুক হোসেন শিশু আয়েশাকে উত্ত্যক্ত করতেন এ কথা তাঁরা আগেও শুনেছেন। তিনি নিজেই মেয়েটির পায়ে আঘাতের চিহ্ন ও ব্যান্ডেজ দেখেছিলেন। কী করে পা কাটল জানতে চাইলে আয়েশার বাবা-মা সে সময় জানিয়েছিলেন, ফারুক হোসেন জোর করে সাইকেলে তোলার চেষ্টা করছিলেন। সাইকেলের চেইনে আটকে আয়েশার পা মারাত্মকভাবে কেটে যায়।
প্রতিবেশীরা বলছিলেন, সে সময় যদি স্থানীয় প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, পুলিশ এগিয়ে আসত, তাহলে হয়তো এভাবে বাবা-মেয়ের প্রাণ যেত না। বাবা ও মেয়ের এই আত্মহত্যার দায় কার?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, হালিমা বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে দুবার তাঁর বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ঘটনার পর আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল হোসেন ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে যে ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে ৮ বছরের শিশুকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ, তিনি এখন পলাতক। বাবা-মেয়ের আত্মঘাতী হওয়ার খবর নাড়া দিয়েছে সবাইকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও চলছে আলোচনা। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকেয়া রহমান বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। বিপদে পড়ে অনেক মানুষ তাঁদের কাছে আসেন। কিন্তু হযরত আলী আসেননি। এ ঘটনার পর হালিমা বেগম যেন সুবিচার পান, সে ব্যাপারে তাঁদের নজর থাকবে।
মানবাধিকার খবরের গাজীপুর প্রতিনিধি গাজী আতাউর রহমান সোহেল জানান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক গোসিঙ্গা ইউনিয়নের কর্ণপুর শীতপাড়া গ্রাম পরিদর্শন করেন। তিনি নিহত বাবা-মেয়ের পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেন।
মর্যাদাহানি, লজ্জা, ক্ষোভ সর্বোপরি বিচারহীনতার কারণেই হযরত আলী ও তার মেয়ে আয়েশা আক্তার আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবী করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, হালিমার অভিযোগ অনুযায়ী তার ৮ বছরের মেয়েকে যে নির্যাতন এবং মর্যাদাহানি করা হয়েছে, সে ব্যাপারে থানায় জিডি হয়েছিল। সেটি একটি স্পেসিফিক এলিগেশন ছিল। কি কি ধরণের অন্যায় তার প্রতি করা হয়েছে সেগুলো জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সে ব্যাপারে তারা (পুলিশ) তদন্ত করেছে এবং বাদীর সাথে কথা বলেছে। কিন্তু সে ব্যাপারে তারা (পুলিশ) কোনো লিখিত প্রতিবেদনও দেয়নি।
কাজী রিয়াজুল হক বলেন, আমি যেটা মনে করি সেটা হচ্ছে এ অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে ট্রিট করে বিবাদীদের ধরার জন্য আরো অনেক বেশি সক্রিয় হওয়ার কথা ছিল। হালিমা বেগম বলেছে থানা এ বিষয়টাকে গুরুত্ব দেয়নি। এটাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়ার দরকার ছিল। তার মেয়েকে মর্যাদাহানির জন্য দুঃখ, ক্ষোভ, লজ্জা, গ্লানি থেকে মনে হয়েছে, হয়তো হযরত আলী মনে করেছে তারা তাকে পাগল বানিয়ে ফেলবে। এ অবস্থায় আমার (হযরত আলীর) বেঁচে থাকার যুক্তি নেই। সমাজ, আইনের প্রতি তার বিশ^াসের অভাবের কারণেই তাকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে। মানবাধিকারের বিষয়টা হচ্ছে যে, আইন বলেছে রাষ্ট্র যাকে যে দায়িত্ব বা ক্ষমতা দিয়েছে তা যদি সে সঠিকভাবে ব্যবহার না করে তবে তার দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে ধরে নেয়া হবে। সে ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘন যারা করেছেন তাদের সাথে পুলিশও এ দায়বদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। আমাদের বিচার ব্যবস্থা, আমাদের সিস্টেম এগুলো মানুষকে পাগল বানিয়ে দেয়। বার বার বিচারহীনতার কারণে মানুষের মধ্যে এ্যাবনর্মালিটি আসতে পারে। তাকে প্রকৃত পক্ষে পাগল হিসেবে ভাবা যাবেনা। হালিমাকে সত্যিকার অর্থে বদ্ধ পাগল এটা বলা যাবে না। তা মেডিকেল সায়েন্স ভাল বলতে পারবে।

 




হযরত আলী মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকতে চেয়েছিল। বার বার সংগ্রাম করে ব্যার্থ হয়েছেন তিনি। জনপ্রতিনিধি, সমাজ তার প্রত্যাশার প্রাপ্তিতে ব্যার্থ হয়েছে। তবে এরকম অবস্থাতে পড়লে যে কোনো মানুষের মধ্যে পাগলামি ভাব আসতে পারে। তার সম্পত্তির ওপর একদল স্বার্থান্বেষী মানুষের লোভ পড়েছে। সম্পত্তি তার কাল হয়েছিল। গত চার মাসে হালিমা বেগমের মেয়ের প্রতি যে নির্যাতন হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে, যার জন্য সে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে এবং থানায় অভিযোগ করেছে, তা থেকে সে কোনো বিচার পায়নি। এ কারণেই সে ও তার স্বামী হতাশ হয়েছে। আত্মহত্যাটা হতাশার একটি অভিব্যাক্তি। যার কারণে বাবা মেয়েকে সাথে নিয়ে আত্মহত্যা করতে সে বাধ্য হয়েছে।
 
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যারা এর জন্য দায়ী তা বলতে গেলে বলতে হবে এক ধরণের স্বার্থান্বেষী লোকেরা দীর্ঘদিন যাবত তার দখলে থাকা প্রায় তিন বিঘা সরকারী সম্পত্তি দখল করার জন্য তার ওপর অত্যাচার জুলুম করেছে তারা দায়ী, যারা তার মেয়েকে লাঞ্ছিত করেছে মর্যাদার সাথে তাকে বাঁচতে দেয়নি তারা দায়ী,  এবং সেই সাথে আমাদের যাদের প্রটেকশন দেয়ার দায়িত্ব ছিল তারা অর্থাৎ (জনপ্রতিনিধি) তা করেনি। এমন মর্যাদাহানির মামলায় সালিশীর কোনো দায়িত্ব তাদের থাকে না, তারা দায়ী। পুলিশ প্রশাসন এ ব্যাপারে আবেদন পেয়েও কোনো অ্যাকশন নেয়নি এরকম একটা ঘটনায় তারাও তাদের দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতে পারে না। এটি শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনের দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, তাদেরকে ফৌজদারী বিচারের আওতায় এনে আইনের কাঠগড়ায় তাদের সোপর্দ করতে হবে।আমরা অর্থাৎ মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে লিগ্যাল এইড সাপোর্টের এক্সটেন্ড করেছি। নিহত পরিবারের বাদী হালিমা বেগমের জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সকল আদালতে লড়ে যাব।
তাকে কেন্দ্র করে অসহায়ের প্রতি বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করব। এতে সফল হলে আমরা অনেক ক্ষেত্রে সফল হব।
মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, বিচারহীনতার জন্য বাবা ও মেয়ে যে জীবন দিল এটা আমাদের জন্য জাতির জন্য একটা লজ্জাষ্কর বিষয়। আইনের শাসনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ এখনও আসেনি। আইনের শাসন থেকে আমরা এখনও অনেকটা দূরে আছি। যার কারণে একটা মানুুষকে কোনো জায়গায় বিচার না পেয়ে জীবন দিয়ে বিচারের জন্য একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হল, দেশের অসহায় মানুষ যেন বিচার পায়। আমাদেরকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, অসহায় মানুষদের বাাঁচিয়ে রাখতে হবে।
আমাদের দেশে যত মানবাধিকার লঙ্গনের ঘটনা হয়েছে, নাসিরনগরের হিন্দুদের ওপরে বলেন, সেখানে হচ্ছে যে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল জমি গ্রাস করার উদ্দেশ্য নিয়েই এসমস্ত অসহায় মানুষের ওপর নির্যাতন করে। একসময় তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হলে জমিটুকু তারা গ্রাস করে ফেলে।
এখানেই আইনের শাসন আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। আইনের শাসনের প্রতি আমাদের বিশ^াসহীনতার কারণেই হযরত আলীকে তার মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়েছে। এখন হালিমাকে দেখে রাখার দায়িত্ব স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের। পুলিশকে তার সম্পত্তি, তার গরু, ঘর প্রটেকশন দিতে হবে। তাছাড়া তাকে বয়ষ্কভাতা, বিধবা ভাতা সকল কিছু দিতে হবে।
পরিদর্শনের সময় মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যানের সাথে ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাহেনুল ইসলাম, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুস সবুর, শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রেজা, শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মন্ডল বুলবুল, শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান, শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জনাব মোঃ কামরুল হাসান সহ প্রমূখ।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক এর নির্দেশে এক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির প্রধান ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ হেড কোয়াটার্স) সাদিরা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঢাকা রেঞ্জ) আকতারুজ্জামান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জেলা বিশেষ শাখা-গাজীপুর) মো. সোলাইমান।

পরিবারের সাত সদস্য পাগল।
                                  


সাতক্ষীরার তালা উপজেলার প্রসাদপুর গ্রামের রহমত বিশ্বাসের বাড়িতে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে পরিবারটির সাতজন পাগল হয়ে গেছে। বৃদ্ধ রহমত বিশ্বাস ও তার স্ত্রী নবীজান বিবি জানান,  তাদের  বড় মেয়ে ফরিদা বেগমের বিয়ে হয়েছে ঝিনাইদহ জেলার বুয়াভাটিয়া গ্রামে। তার স্বামীর নাম গফফার বিশ্বাস। শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে নানাভাবে নির্যাতন করে আসছে। এ সময় তাকে তারা পাগল বলে আখ্যায়িত করে তারা তাকে নিয়ে যাবার কথা বলে। খবর পেয়ে রহমত বিশ্বাসের ছেলে হায়দর বিশ্বাস বোন ফরিদাকে খানিকটা অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে আসছিলেন। যশোরে আসার পর ফরিদা তাকে বলেন ‘ আমাকে বাপের বাড়ি নিয়ে গেলে তোরা সবাই পাগল হয়ে যাবি’।  নয়দিন আগে বাপের বাড়ি নিয়ে আসা হয় ফরিদাকে। এরপর থেকে বাপের বাড়ির সবাই একে একে  পাগল হতে শুরু করে। এদের মধ্যে রয়েছে রহমতের ছেলে আবদুস সবুর বিশ্বাস (২৫), আবদুল হালিম বিশ্বাস ( ২৮), আবদুল গফুর বিশ্বাস (১৬), ফরিদার মেয়ে আয়েশা খাতুন(৬), ফরিদার বোনের ছেলে যশোরের সাগরদাঁড়ি গ্রামের বাবু বিশ্বাসের ছেলে মেহেদি বিশ্বাস (১৩) ও ফরিদার বোন সালেহা খাতুন ( ১৪) ।
গ্রামবাসী বলছে ‘ কিছুদিন আগে রহমত বিশ্বাসের বড় মেয়ে ফরিদা প্রসাদপুরের  বিলের মধ্যে একটি স্বর্ণমুর্তি পেয়েছিল। এবং স্বপ্নে দেখানো হয়েছিল নাকি এই মুর্তির অর্ধেক টাকা মসজিদে এবং মন্দিরে দিতে হবে আর বাকি টাকা নিজেরা খরচ করতে পারবে কিন্তু ফরিদা মুর্তির সব টাকায় নিজেদের প্রয়জনে কাজে লাগায়। তখন থেকে প্রথমে ফরিদা ও পরে অন্যরা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। তবে রহমতের পরিবারের দাবি তাদের মেয়ে ফরিদাকে তদবির করে পাগল বানিয়ে ফেলেছে শ্বশুর বাড়ির লোকজন।
রহমত বিশ্বাসের প্রতিবেশি আবদুর রহমান ও জাহিদ বিশ্বাস জানান, ওরা এক সময় খুব গরিব ছিল। বছর কয়েক হলো তারা এখন ধনী পরিবার। দালান বাড়ি করেছেন, জমি কিনেছেন রহমত বিশ্বাস। তার মেয়ে সালেহা খাতুন খলিলনগর স্কুলের  দশম শ্রেণির ছাত্রী। নাতি মেহেদি হাসান একই স্কুলের নবম শ্রেনির ছাত্র। তারাও অস্বাভাবিক আচরন করছে। রহমত বিশ্বাসের ছেলেরা চাষবাস করে। তারাও হঠাৎ বেসামাল হয়ে পড়ে বাড়িময় তান্ডব জুড়ে দিয়েছে। প্রতিবেশিরা জানান, শনিবার পর্যন্ত সাতজনই পাগল হয়ে গেছে। বাড়ির অন্য সদস্যরা নিজেরাও পাগল হয়ে যাবার আতংকে রয়েছেন। তবে তারা সবাই ঝাড় ফুঁক ও কবিরাজী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সোমবার দুপুরে রহমত বিশ্বাসের বাড়ি যেয়ে দেখা গেল  পা শিকল বাঁধা অবস্থায় অস্বাভাবিক আচরন করছে তারা। পাগলদের কান্ডকারখানা দেখতে রহমতের বাড়িতে এখন সব সময় ভিড় করছে গ্রামের মানুষ। খবর পেয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফরিদ হোসেন রহমতের বাড়িতে সোমবার দুপুরে যান। নির্বাহী অফিসার ফরিদ হেসেন বলেন, তারা দৈহিকভাবে সুস্থ, তবে মানসিকভাবে অসুস্থ। মানসিক ভারসাম্যহীনের মতো অকাজ করছে তারা। অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছে। কখনও কখনও মারমুখী আচরন করছে। পুলিশের লোক তাদের সাথে কথা বলতে গেলে অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন ‘আমরা চেষ্টা করেছি তাদেরকে তালা অথবা সাতক্ষীরা হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দেওয়ার। কিন্তু বাড়ির লোকজন বলছে এসব জ্বীনের দোষ। বাড়ির বাইরে পাঠালে আরও সমস্যা হবে’। ‘দুই ঘন্টা ধরে তাদের বাড়িতে বসে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসেছি আমরা।’

মাস্তান প্রকৃতির লোক রাখা হচ্ছে পরিবহনে চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা
                                  

অতিরিক্ত ভাড়া, গাড়ির কৃতিম সঙ্কট, যাত্রী-শ্রমিক বাক-বিতন্ডাসহ নানা অনিয়মে চলছে রাজধানীর যাত্রী পরিবহনগুলো। বিআরটিএর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৬ এপ্রিল থেকে রাজধানীতে সিটিং সার্ভিস বন্ধ হলেও এখনো অব্যাহত আছে সিটিং সার্ভিসের চিটিংবাজি। শুধু কৌশলটা একটু ভিন্ন। আর সিটিং সার্ভিস বন্ধে লাভবান মূলত বাস মালিক-শ্রমিকরাই। ভোগান্তি কমেনি যাত্রীদের। বিআরটিএ অভিযান চালিয়েছে অনিয়ম বন্ধে। ডিএসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্রেট মামুন সর্দার বলেছেন,  বাস শ্রমিকদের জরিমানা করা হয়েছে এখন থেকে জেলে পাঠানো হবে।  রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সিটিং সার্ভিস বন্ধ  ঘোষণা করা হলেও কিছু কিছু পরিবহন সিটিং সার্ভিস চালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু যাত্রীদের প্রতিরোধ এবং বিআরটিএর অভিযানে কোনো  কোনো জায়গায় সিটিং সার্ভিস বন্ধ হলেও পরিবহন শ্রমিকরা ভিন কৌশলের আশ্রয় নেয়। তারা কিছু গাড়ি বন্ধ করে দিয়ে কৃত্রিম পরিবহন সঙ্কট তৈরি করে। এর পর গাড়ি বোঝাই করে যাত্রী তুলে আগের নিয়মে ভাড়া নেয়। রাজধানীর সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, গাবতলী, মিরপুর, উত্তরাসহ সব জায়গায় একই চিত্র দেখা যায়। এদের মধ্যে অনিয়মে এগিয়ে আছে মিরপুর ও সাভার রুটের পরিবহনগুলো। উত্তরার বিজিএমইএ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মাহাবুবা ইসলাম ইরা জানান, তিনি প্রতিদিন মিরপুর ১০ নম্বর  থেকে উত্তরায় সিটিং সার্ভিসে আসতেন। সকালে একই গাড়িতে এসেছেন। কিন্তু গাড়ি চলছে  লোকাল বাস হিসেবে। বহু কষ্টে বসুমতি পরিবহনের একটি গাড়িতে উঠেন। লোকাল বাস অনুযায়ী ভাড়া কম হওয়ার কথা থাকলেও      মাহাবুবার কাছ থেকে আগের মতোই ৩০ টাকা ভাড়া নেয় বসুমতি পরিবহন। একই অভিযোগ করেন বনশ্রী থেকে বসুন্ধরা গেটে আসা আসিম পরিবহনের যাত্রী সোহেল। তিনি বলেন, সিটিং সার্ভিস বন্ধ হওয়ায় ভাড়া কম হওয়ার কথা থাকলেও এখনো পরিবহনগুলো আগের মতোই ভাড়া নিচ্ছে। বনশ্রী থেকে বসুন্ধরা আগে ২৫ টাকা ভাড়া ছিল এখনো ২৫ টাকাই নেয়া হচ্ছে। তাহলে লাভ কি হলো? সড়কে গাড়ি কম থাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে বলাকা পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব ১১-৭৬২৮) কন্ট্রাকটার মোহাম্মদ সবুজ জানান, সরকার সিটিং সার্ভিস বন্ধ করায় মালিকরা প্রায় অর্ধেক গাড়ি বন্ধ করে রেখেছে। আমরা অল্প কয়েকজন গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হইছি। তাই রাস্তায় গাড়ি কম। সবুজ আরো বলেন, কাল আরো গাড়ি বন্ধ থাকবে। তহন বুঝবেন মজা। অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে সবুজ বলেন, আমরা ঠিকমতোই ভাড়া নিচ্ছি। তবে কিছু কিছু গাড়ি ভাড়া বেশি নিচ্ছে। একই কথা জানালেন উত্তরা থেকে ছেড়ে আসা সুপ্রভাত, তুরাগ, ছালছাবিল ও ৩ নম্বর পরিবহনের শ্রমিকরা। সিটিং সার্ভিস বন্ধ হওয়ায় সব থেকে বেশি লাভবান হয়েছেন ছাত্ররা। একমাত্র তাদের ভাড়াই কমেছে। এখন তারা সকল গাড়িতে হাফ-ভাড়া দিতে পারছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ (নৈশ) বিভাগের ছাত্র মাজেদুর রহমান শুভ জানান, উত্তরা থেকে আগে নিলক্ষেতে আসতে ভিআইপি-২৭ পরিবহন ৫০ টাকা নিত। আজ ৩০ টাকা ভাড়া হারে পনেরো টাকা দিয়েছিলাম। কন্ট্রাকটারের অনুরোধে ২০ টাকা দিয়েছি। ৩০ টাকাতো বাঁচলো। আবার সিটিং সার্ভিস একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেককে অসন্তুষ্ট হতে দেখা গেছে। বিশেষ করে মহিলা এবং স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীদের। তাদের দাবী অল্প কিছু হলেও সিটিং সার্ভিস রাখা উচিত ছিলো। তবে সেটা একটা নির্দিষ্ট হারে। বিমানবন্দর থেকে আসা ধানমন্ডির একটি বেসরকারি বিশ্ববদ্যালয়ের নাদিয়া জানান, আগে তিনি বিমানবন্দর থেকে ২৭ পরিবহনে ধানমন্ডি আসতেন। ভাড়া একটু বেশি হলেও অনেকটা ঝামেলাহীন ভাবেই বসে আসতে পারতেন। এখন গাড়িতে সিট পাওয়া দুষ্কর হয়ে গেছে। একমাত্র ভরসা সংরক্ষিত মহিলা আসন। আর সেটা না পাওয়া গেলে গাদাগাদী করে দাঁড়িয়ে আসতে হবে।এদিকে সিটিং সার্ভিস বন্ধ এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়েছেন বিআরটিএ। এ সময় ট্রাস্ট, খাজা বাবা, স্বাধীন, নিউ ভিশন পরিবহনসহ বেশ কয়েকটি পরিবহনকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও গাড়ির মধ্যে ভাড়ার তালিকা না রাখার দায়ে ২ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালত।খাজা বাবা পরিবহনের যাত্রী আসাদ বলেন, গুলিস্তান থেকে ফার্মগেট যাবো। আগে ১৫ টাকা নিতো আজও তাই নিয়েছে। সরকারি তালিকা অনুযায়ী ভাড়া হওয়ার কথা ১০ টাকা। তালিকা দেখাতে বললাম দেখালো না। এখন আমাদের বসিয়ে রেখে জরিমানা গুনছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী বিআরটিএ’র আদালত -২ এর নির্বাহী পরিচালক মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, সরকার রাজধানীতে সিটিং সার্ভিস বন্ধ ঘোষণা করেছে। পরিবহনগুলো তা মানছে কিনা দেখার জন্য মোবাইল কোর্ট বসানো হয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগে আধা ঘণ্টায় ২৫ থেকে ৩০টি পরিবহনকে ২ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অন্য দিকে নিউ মার্কেট এলাকায় ভাড়ার তালিকা না থাকায় ও যাত্রীদের অভিযোগের কারণে ঠিকানা পরিবহনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ডিএসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্রেট মামুন সর্দার। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন রাজধানীর সিটিং সার্ভিসের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযানের মধ্যেই যাত্রীদের শায়েস্তা করতে বাসে তিন চারজন করে মাস্তান প্রকৃতির লোক রাখা হচ্ছে। মিরপুর রুটসহ অধিকাংশ রুটের বাসগুলোতে এমনটি করা হচ্ছে। তাই যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে সরকারের পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি । সংবাদ সম্মেলনে সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন,সরকার নির্ধারিত ভাড়া দিতে চাইলে যাত্রীদের শায়েস্তা করতে বাসে থাকা মাস্তান প্রকৃতির লোক তাদের দিকে তেড়ে আসে এবং নানাভাবে অপদস্ত করে। সিটিং বাস লোকাল হয়েছে ঘোষণা দিয়ে কিন্তু কমেনি অতিরিক্ত ভাড়া। এ নিয়ে বিতর্ক,ঝগড়া, হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে এর মধ্যে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার প্রতিবাদ করায় ১৭ এপ্রিল দুই গণমাধ্যমকর্মীকে পিটুনির শিকার হয়েছে।ভাড়া আদায়সহ যাত্রী হয়রানির নানা অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, রাজধানীতে সিটিং সার্ভিস বন্ধ ঘোষণা করলেও মালিকরা নানা টালবাহানা শুরু করেছেন। জনমনে এখন প্রশ্ন-সিটিং বন্ধের পরও কেন যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সিটিং সার্ভিস বন্ধে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে,তা প্রশংসনীয়। কিন্তু মাঝে মাঝে হলে চলবে না,এটা চলমান থাকতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার বিরুদ্ধে যে উদ্যোগ নিয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।অভিযান চলাকালে কয়েকদিন দুর্ভোগ হতে পারে এই মানসিকতা তৈরি করতে হবে উল্লেখ করে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন,এই অবস্থা চলতে দেয়া যায় না,দীর্ঘমেয়াদী সুবিধার জন্য একটু কষ্ট করতে হবে। অভিযানের মধ্যে যে সব বাস রাস্তায় নামানো হচ্ছে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকে। এই সব গাড়ির রুট পারমিট বাতিল করতে হবে।
বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমে ব্যাপক সমোলোচনার কারণে পরিবহন মালিকরা ইমেজ সংকটে পড়ে সিটিং সার্ভিস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযান শুরুর পর থেকে মালিকরা প্রায় ৪০ শতাংশ গাড়ি বন্ধ রাখে। এতে যাত্রীরা আরও ভোগান্তিতে পড়ে। সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন সময় সিটিং সার্ভিসের ভাড়া নৈরাজ্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা করলেও তাতে কর্ণপাত করেনাই মালিকÑশ্রমিক পক্ষ। এখন মালিকপক্ষ সিটিং সার্ভিস বন্ধের নামে আগের ভাড়া আদায় করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবির হিরু, এফবিসিসিআই পরিচালক ও গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ আব্দুল হক, নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরীফ প্রমুখ।

নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় যত্নবান হতে হবে : হেলেনা জাহাঙ্গীর
                                  

 

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ১৯১০ সালে ডেনমার্কে অনুষ্ঠিত নারীদের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার পর থেকেই দিনটি ঘটা করে পালন করা হতো সমাজতন্ত্রী শিবিরে। সোভিয়েত বিপ্লবের পর পরই নারী দিবস সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের নারীমুক্তি আন্দোলনের প্রত্যয়দীপ্ত দিন হয়ে দাঁড়ায়।

১৯৮৪ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের স্বীকৃতি দেয় এবং তার পর থেকে জাতিসংঘভুক্ত প্রায় সব দেশেই এই দিনটি বিশেষ গুরুত্বের সাথে পালন করা হয়।

নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমাজের অগ্রগতি কতখানি সে বিশ্লেষণও করা হয় এই দিনে। বাংলাদেশে নারী উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়নের পথ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারীর উন্নয়ন ছাড়া যে জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়, এটি অনুধাবন করেই দেশের নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিটি সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এর ফলে দেশের রাজনীতিতে যেমন নারীরা দ্রুত স্থান করে নিতে সক্ষম হচ্ছেন তেমন জাতীয় অর্থনীতিতেও নারীর ভূমিকা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকশিল্পে যে ৪০ লাখ শ্রমিক কর্মরত আছেন তাদের সিংহভাগই নারী।

গত দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের সরকারপ্রধান এবং বিরোধীদলীয় প্রধানের পদ নারী রাজনীতিকদের দখলে। এ মুহূর্তে দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার ও সংসদ উপনেতা পদে যারা আছেন তারা নারী। বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পরিচালনার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন এ দেশের নারীরা। অর্থনীতি ও রাজনীতিতে নারীর ভূমিকা উন্নত দেশগুলোর তুলনায় খুব বেশি পিছিয়ে না থাকলেও এখনো এ দেশের নারীরা ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং সামাজিক অনাচারের শিকার।

অভিযোগ করা হয়, দেশের ৮০ ভাগ নারীই কোনো না কোনোভাবে সহিংসতার শিকার। পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব নারীর ক্ষমতায়নে এখনো অন্তরায় হয়ে বিরাজ করছে। নারীর প্রতি সহিংসতার ক্ষেত্রে তাদের কারো কারো আচরণ ‘আইয়ামে জাহেলিয়াকে’-ও হার মানায়। নিজেদের সভ্যসমাজের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে চাইলে নারীর অধিকার এবং মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় যত্নবান হতে হবে।

জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম পূর্ব শর্ত হচ্ছে নারী উন্নয়ন। বর্তমান সরকার নারীর সার্বিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। অতীতে আমাদের সমাজে নারীশিক্ষার বিষয়টি ছিল উপেক্ষিত। কিন্তু সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের ফলে আমাদের দেশে নারী শিক্ষায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, এ কথা আজ জোর দিয়েই বলা যায়। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকেই চিহ্নিত করে।

নারী-পুরুষ নিজ অবস্থানে সমুজ্জ্বল। পরিবার ও সমাজে কন্যা-জায়া-জননী হিসেবে নারীর ভূমিকা বৈচিত্র্য ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। একই সঙ্গে নারীর মানবিক মর্যাদা ও ভূমিকাও অনস্বীকার্য। আসলে একটি আধুনিক সমাজে নারী-পুরুষের আলাদা আলাদা ভূমিকার কথা অস্বীকার করা যায় না।

নারী এবং পুরুষ পরস্পরের প্রতিপক্ষ তো নয়ই, বরং একে অপরের পরিপূরক।

সমকালীন বিশ্বে নারী নেতৃত্ব অনেকটাই সুপ্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ কথা আরও সত্যি। এ দেশের দুটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রধান নারী। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার, বিরোধীদলীয় নেত্রীও নারী। সরকার, প্রশাসনসহ বিভিন্ন পেশায় নারীদের অবস্থান সুদৃঢ়। নারীরা পুরুষের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও তারা অগ্রগণ্য। কিন্তু তারপরও কোন কোন ক্ষেত্রে নারী এখনও বৈষম্যের শিকার।

নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পেলেও দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারীসমাজ এখনও অনেকটাই পিছিয়ে। যৌতুকসহ নানাবিধ কারণে এখনও অনেক নারীকে নির্যাতিত হতে হয়, কখনও কখনও জীবনও দিতে হয়। কর্মক্ষেত্রেও নারীর বৈষম্য সেভাবে কমেনি। কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার নারী, এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির অন্যতম গার্মেন্টস সেক্টরে শ্রমিকদের বেশিরভাগই নারী। আর কৃষিক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ তো সেই অতীতকাল থেকে।

এদেশের নারীরা এখনও বহুবিধ সমস্যায় জর্জরিত। পরিবার, সমাজ, বাইরের কর্মজগৎ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে অধিকার আদায়ে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাদের। সামাজিক অবক্ষয়, ধর্মান্ধতা এবং অশিক্ষার কারণেও নারী তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে নারীর মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বৈষম্য আমরা দেখছি। এছাড়া যৌতুক, বাল্যবিবাহ, একাধিক কন্যাসন্তানের জন্মদানের কারণে স্ত্রী তালাক, পারিবারিক সহিংসতা, এসিড নিক্ষেপ বা হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে।

আমি মনে করি, নারীর সত্যিকার উন্নয়ন করতে হলে রাষ্ট্রীয় সব ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পাশাপাশি নারীর প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে।

মানবাধিকার খবর/এ/ মোশতাক রাইহান/০৮/০৩/১৭

প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটি: ১৯ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ
                                  

মানবািধকার খবর রিপোর্ট

বিমান বাংলাদেশপ্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় দায়ের মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবী এ দিন ধার্য করেন।

আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলী জানান, আজ ধার্য দিনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের পরিদর্শন মো. মাহবুবুল আলম মামলার প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি পুনরায় তারিখ ধার্য করেছেন।

গত ২০ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজে মানবসৃষ্ট ত্রুটির ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া বিমানের ৯ কর্মকর্তা-কর্মীকে আসামি করে বিমানের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) এমএম আসাদুজ্জামান মামলা করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- বিমানের প্রধান প্রকৌশলী (প্রডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী (কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স) এস এ সিদ্দিক ও প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ডসিস্টেম কন্ট্রোল) বিল্লাল হোসেন, প্রকৌশল কর্মকর্তা এস এম রোকনুজ্জামান, সামিউল হক, লুৎফর রহমান, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস ও জাকির হোসাইন এবং টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমান।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজে (বোয়িং-৭৭৭) যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এ কারণে তুর্কমেনিস্তানে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি। এ ঘটনার পর অন্য একটি উড়োজাহাজ পাঠিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বুদাপেস্টে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে ত্রুটি সারিয়ে ওই উড়োজাহাজেই হাঙ্গেরি যান প্রধানমন্ত্রী।

মানবাধিকার খবরের উদ্যোগ ভারত থেকে দেশে ফিরছেন দুই কিশোর এক নারী
                                  

মোঃ রিয়াজ উদ্দিন, ভারত থেকে ফিরে:

আমার বুকের ধন আদরের একমাত্র সন্তান, দেশের মাটি ছেড়ে পড়ে রয়েছে বহু দুরে ভারতে। যে কোন মূল্যে হোক আমার বুকের ধন আমার বুকে ফিরিয়ে এনে দিন। ওকে ছেড়ে আমি বাঁচতে পারব না। কান্না জড়িত কণ্ঠে গত ১ ডিসেম্বর ঢাকার মতিঝিল¯দ মানবাধিকার খবর অফিসে তখন ভারত থেকে ঘুরে আসা পত্রিকার সম্পাদককে এ কথাগুলো বলছিলেন নিখোঁজ হয়ে ভারতে অব¯দানরত  কিশোর ছামিরুল(১৪) এর মা রোজিনা আক্তার(৩৪)। তিনি সন্তানকে পাওয়ার আশায় চোখের পানি ফেলে বিলাপ করতে থাকেন, পত্রিকা অফিসে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়। এ সময় ছামিরুলের বাবা মোঃ শামীম(৪০)ও উপ¯িদত ছিলেন। মায়ের কান্না দেখে অনেকেই তাদের চোখে পানি ধরে রাখতে পারেনি।
ভারতে অব¯দানরত দুই কিশোর ছামিরুল ও শারীরিক প্রতিবন্ধী সজীব ঢালী(১৪)মানষিক প্রতিবন্ধী সালমা(৩৯) মানবাধিকার খবর পত্রিকার উদ্যোগে সকল প্রকার আইনি প্রক্রিয়া শেষে খুব শিঘ্রই দেশে ফিরতে যাচ্ছেন বলে আশা করা যাচ্ছে। ৩ জন কিভাবে ভারতে গেলেন এবং দেশে ফিরে আসার ব্যাপারে  সর্বশেষ অব¯দা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হল:
কেসস্টাডি(১) ছামিরুলঃ কিশোর ছামিরুল ও তার মা বাবা জানান, ছামিরুলের পড়াশুনা তেমন ভাল লাগত না। সে ঢাকার মিরপুর কালসীতে ¯দানীয় একটি মাদ্রাসায় ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে পড়াশুনা করত। সে ছিল চঞ্চল ও চতুর প্রকৃতির। প্রায়ই সে মা বাবাকে না বলে ১০/১৫ দিন ঘুরে ফিরে বাসায় ফিরে আসতো। মা বাবাকে প্রায়ই ভারতে আজমীর শরীফে যাওয়ার কথা বলত। মা-বাবা তাকে বড় হলে ওখানে যাওয়া যাবে বুঝিয়ে আস্ব¯দ করত। কিšদ সে মনে মনে পরিকল্পনা করে একদিন সে আজমীর শরীফে যাবেই। যেই কথা, সেই কাজ, গত ১৫ মার্চ পরিকল্পনা মাফিক ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থেকে লালমনিরহাটগামী ট্রেনে চড়ে বাংলাদেশ বিজিবি ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে।  এর পর ট্রেনে চলে আসে  কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশনে। ইতিমধ্যে তার কাছে থাকা বাড়ি থেকে নেওয়া খাওয়ার টাকা শেষ হয়ে যায়। ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকে ধরা পড়ে শিয়ালদহ রেলওয়ে পুলিশের হাতে। তার কাছে কোন অবৈধ কিছু না থাকায় শিশু-কিশোর হিসেবে নিয়মমাফিকভাবে রেল পুলিশ তুলে দেয় শিশু কল্যাণ কমিটির(সি.ডব্লিউসি) হাতে। কলকাতা থেকে প্রায় দু’শ কিলমিটার দূরে লক্ষীকান্তপুরের মন্দির বাজার থানায় বিজয়ঙ্গী বাজারে সিডব্লিউসির নিয়ন্ত্রনাধীন আমরা সবাই উন্নয়ন সমিতির(হাসুস) সেফ হোমে ঠাই হয় ছামিরুলের। ছামিরুলের বাবা শামীম ঢাকার পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী(জিডি) করেন। যার নং-১৭০৫, তারিখ: ২১/০৮/২০১৬। দীর্ঘ চার মাস পর ছামিরুলকে অনেক খোজাখুজির পর বাবা মা জানতে পারে ভারতে পশ্চিম বঙ্গের দক্ষিন ২৪ পরগনা লক্ষীকান্তপুরে হাসুস সেফহোমে আছে। বাবা একজন কসমেটিক্স বিক্রেতা আর মা সেলাই এর কাজ করেন। ঠিকানার অভাবে সেফহোম কর্তৃপক্ষ ছামিরুলের বাবা-মার কাছে খবর দিতে পারছিল না। ছামিরুলের বাবা-মা ঐ সেফহোমের ঠিকানা, ফোন নাম্বার সংগ্রহের চেষ্টা চালায়। রাইট্স যশোর নামে একটি সেচ্ছাসেবি সংগঠন থেকে উক্ত সেফহোমের ঠিকানা সংগ্রহ করতে সক্ষম হণ। কিন্ত যোগাযোগ করে ছেলেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার কোন উপায় খুজে পাচ্ছিলেন না। এমতব¯দায় মানবাধিকার খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক  রোটারিয়ান মোঃ রিয়াজ রউদ্দিন গত ২০ নভেম্বর ভারতে পূর্বের নির্ধারিত প্রতিবন্ধি সজিব ঢালি ও সালমা বেগম কে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সেফহোমে যান, তখন সম্পাদক  সেফহোমে গিয়ে জানতে পারেন ছামিরুল নামে আরও একজন বাংলাদেশী কিশোর রয়েছে।  হোম কতৃপক্ষ ছামিরুলকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সম্পাদককে অনুরোধ জনান। সম্পাদক তাৎক্ষনিকভাবে ছামিরুলের সাথে সেফ হোমের অফিস কক্ষে হোমের বালক শাখার সুপারিন্টেড বাবুসোনা পাইকের উপ¯িদতিতে কথা বলেন। ছামিরুলের কাছ থেকে তার পলায়নের বিস্তারিত তথ্য নিয়ে ছামিরুলের মায়ের ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে ছামিরুলকে তার মায়ের সাথে কথা বলিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পর মা-ছেলের কথোপকথন দুজনকে সান্তনার তীরে নিয়ে যায়। এর পর ছামিরুলের নাগরিকত্ব প্রমানের জন্য তার মা বাবার মাধ্যমে সকল কাগজ পত্র সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে সজিব ও ছামিরুল যে বাংলাদেশী নাগরিক তার সত্যতা প্রমান স্বরূপ দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ডিআইবি তদন্ত রিপোর্ট গত ৪ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দেয়। যার মেমো নাম্বার-৫০৫৩/২৯-১৬।
কেসস্টাডি(২) সজিব ঢালী ঃ ঘটনার বিবরনে ও তথ্যানুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, গত বছর যশোরের শার্শা থানার আমলাই গ্রামের দিনমজুর খলিলুর রহমানের ছেলে স্কুল ছাত্র সাইদুল ইসলাম(১৪) নিখোঁজ হওয়ার এক অভিযোগের ভিত্তিতে মানবাধিকার খবরের সম্পাদক ভারতে গিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার লক্ষীকান্তপুরে হাসুস সেফহোমে তার সন্ধান পান। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সকল আইনী প্রক্রিয়া শেষে সাইদুলকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি মা-বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঐ সময় জানা যায়, আর এক বাংলাদেশী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সজিব ঢালী এই সেফহোমে আছে। তাৎক্ষণিকভাবে মানবাধিকার খবরের সম্পাদক তার সাথে দেখা করেন। দীর্ঘক্ষণ কথা বলার পর জানা যায় তার বাড়ি বাগেরহাটের মোল্লারহাট থানায়। সে থাকতো মায়ের সাথে খুলনার দিঘলীয়ায়। মা ও নানীর সাথে অভিমান করে চলে আসে ভারতে। সজিব দেশে মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য সম্পাদকের কাছে কান্নাকাটি  ও আকুতি জানায়। তখন সম্পাদক সজিবকে আশ্বস্ত করেন- আইনি প্রকৃয়া শেষে যে কোন উপায়ে তাকে দেশে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেবেন। সজীবের কাছে দেওয়া ওয়াদা অনুযায়ী সম্পাদক পরবর্তীতে সজীবের মায়ের ঠিকানা ও ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে সজিবকে উদ্ধারের জন্য তার মাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে বলেন। সে মোতাবেক সজিবের মা ঢাকার মতিঝিল¯দ মানবাধিকার খবর অফিসে এসে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও ছবি সম্পাদককে প্রদান করেন। সজিব এতদিন সঠিক কাগজপত্রের অভাবে দেশে ফিরতে পারছিল না। সজিবের চিন্তায় শয্যাশায়ী মা শাহীদা আক্তার সুমী অনাবরত কান্নাজড়িত কণ্ঠে মানবাধিকার খবরকে ফোনে বলেন, ‘আমার ছেলেকে যে কোন উপায়ে দেশে এনে আমার বুকের ধন অমার কাছে ফিরিয়ে দিন, ওকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারব না।’ সজীবের মা একজন নৃত্যশিল্পী। সজীবের নিখোঁজ সংক্রান্ত ব্যাপারে গত ১৯ জুন ২০১৬ বাগেরহাটের মোল্লারহাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী(জিডি) করা হয়। যার নাম্বার ৭৭৬।
সজিবের ব্যাপারে গত জুলাই মাসে সম্পাদক ভারতে গিয়ে সকল ধরনের নাগরিকত্ব প্রমানের কাগজপত্র  সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পৌছালে দক্ষিন ২৪ পরগনা ইন্টেলিজেন্ট ব্রান্ড (ডি আই বি) সজিবের ব্যাপারে তদন্ত করতে গেলে সজিব ভুল বসত তার আসল পিতার নাম মাসুদ ঢালির পরিবর্তে  পালিত পিতা  মুজিবর রহমানের নাম বলে সেখানেই দেখা দেয় বিপত্তি। তা না হলে অনেক আগেই সজিব দেশে ফিরতে পারত। অনুসন্ধানে জানা যায় সজিব ছোট বেলাতেই তার পিতাকে হারায়।  পিতার কথা তার মনে নেই। পিতা হারাবার পর সে একবার নিজেই হারিয়ে যায়। মোল্লার হাট থেকে চলে আসে বাগেরহাট সদরে সে ভবঘুরের মত সে ঘুরতে থাকে। ¯দানীয় সাংবাদিকরা জেলখানা গেটে তাকে কান্নারত অব¯দায় দেখতে পেয়ে পত্রিকা অফিসে নিয়ে তার পরিচয় জানতে চায়। কিন্ত সে ছোট থাকার কারনে তার পূর্ণ পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়। তখন সে বলে আমার কেউ নেই। বাগেরহাট পুলিশ লাইনের নিকট অধিবাসী মজিবুর রহমান মানবিক কারনে সšাÍনের মর্যাদা দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যায়। সজিবকে নিজের সন্তানের মত লালন পালন করতে থাকে। সজিব ২ মাস সেখানে থাকে। এর পর সজিবের মা শাহিদা খবর পায় তার ছেলে বাগেরহাটে মজিবর রহমান নামে এক ব্যক্তির কাছে আছে। সজিবের মা ছুটে যায় সেখানে। সজিবকে তার কাছে নিয়ে আসে। সেই থেকে সজিব জানে মুজিবর রহমানই তার পিতা। এদিকে কাগজপত্রে সজিবের আসল পিতার সাথে পালিত পিতার মিল না থাকায় বিভ্রান্ত তৈরি হয়। হাই কমিশন থেকে সর্বস্তরে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো গত ২০ নভেম্বর মানবাধিকার খবরের সম্পাদক সজিবের পিতার নাম ঠিক করে দিয়ে আসার কারনে সজিবকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আর কোন বাধা থাকল না। আশা করা যাচ্ছে সজিব চলতি ডিসেম্বর মাসের মধ্যে দেশে ফিরতে পারবে। এর আগে মানবাধিকার খবর পত্রিকার ভারত প্রতিনিধি মনোয়ার ইমামের মাধ্যমে লোকসভার সাংসদ শ্রীমতি পতিমা ম-ল বিপ্লব নামের কিশোরের সন্ধান দিয়েছিলেন মানবাধিকার খবরকে।
কেসস্টাডি(৩) সালমা ঃ এ দিকে গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জের ৩ সন্তানের জননী সালমা বেগম(৩৯) প্রায় ৩ বছর আগে গোলাপী নামে প্রতিবেশী এক পরিচিত নারীর সঙ্গে মানসিক রোগের চিকিৎসা করাতে ভারতে এসে হারিয়ে গিয়েছিলেন। কিছুই মনে ছিল না তার। পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলা পুলিশ তাকে গত বছর এপ্রিল মাসে আরামবাগ থেকে খুঁজে পায়। নিয়ম অনুযায়ী আদালতে তোলা হলে তাদের নির্দেশে সালমা বেগমকে হুগলী উত্তরাপাড়া একটি আবাসে রাখা হয়েছিল। ডাক্তারি পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে তিনি মানসিক রোগে ভুগছেন, হারিয়েছেন স্মৃতি। শুরু হয় মানসিক রোগের চিকিৎসা। মাস ছয়েক চিকিৎসার পরেই তিনি কিছুটা স্মৃতি ফিরে পান। মনে পড়ে যায় যে বাংলাদেশের গাইবান্ধায় তার বাড়ির কথা, গ্রামের কথা হোমের কর্তৃপক্ষকে জানান তিনি। সালমা বেগম আরো জানান, যে তিনি যার সঙ্গে চিকিৎসা করাতে ভারতে এসেছিলেন, সেই গোলাপী বেগম তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। অপরদিকে, সালমার মানষিকরোগ বেড়ে যাওয়ায় কোন এক ফাকে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গিয়ে ভবঘুরের মত ঘুরতে থাকে। অনেক খোজাখুজির পর তাকে না পেয়ে গোলাপী বেগম দেশে ফিরে আসেন। কলকাতা¯দ বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের কাউন্সিলর জামাল হোসেন মানবাধিকার খবরকে বলেন, ‘ওই হোমের থেকে খবর পেয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারপরেই আমরা ওই নারীর পরিচয় নিশ্চিতকরণের জন্য বাংলাদেশে খবর পাঠাই’। সালমা বেগমের আত্মীয়রা উপদূতাবাসের কাছে ছবি ও অন্যান্য পরিচয়পত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। জামাল হোসেইন বলেন, ‘পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরে আমি নিজেই হুগলীর ওই হোমে গিয়ে সালমা বেগমের কাছ থেকে দেশে ফেরত পাঠানোর একটি আবেদনে টিপ সই করিয়ে এনেছি। খুব তাড়াতাড়ি যাতে তিনি দেশে ফিরতে পারেন, আমরা সেই চেষ্টা করছি।’ উদ্ধার করার পরের ১৯ মাস হোমেই কাটিয়েছেন সালমা। এবার সময় এসেছে সাময়িক আবাস ছেড়ে নিজের দেশে, নিজের সংসারে ফিরে যাওয়ার। সেই আশাতেই দিন গুনতে শুরু করেছেন সালমা বেগম।
কাউন্সিলর জামাল হোসেন মানবাধিকার খবরকে আরও জানান সালমার নাগিরত্ব প্রমানের পূর্ণাঙ্গ কাগজপত্র না থাকলেও বিশেষ ব্যব¯দায় আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে দেশে পাঠানো হচ্ছে। আশা করছি চলতি ডিসেম্বর মাসের মধ্যে দেশে ফিরতে পারছেন সালমা বেগম।
এর পর মানবাধিকার খবরের পক্ষ থেকে সম্পাদক যোগাযোগ করেন কলকাতা¯দ উপ হাই কমিশনার জকি আহাদ কাউন্সিলর ও হেড অব চ্যাঞ্চেলর মিয়া মোঃ মাইনুল কবির ফাষ্ট সেক্রেটারী (প্রেস)মোঃ মোযাফ্ফারুল ইকবাল, কাউন্সিলর বি এম জামাল হোসেন সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তা , পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নপরাজিৎ মূখার্জি  আলিপুর ভবানী ভবনে দক্ষিন ২৪ পরগনায় জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্রীমতি শান্তি দাস, জেলা ইন্টেলিজেন্ট ব্রান্ডের নিবেদিতা তালুকদার এডিশন সেক্রেটারি ফরেনার্স  গভ পশ্চিমবঙ্গ হোম ডিপার্টমেন্ট গৌরাঙ্গ  সরকার, রাজ্য সভার সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় বিষয়ক সংসদীয় ¯দায়ী কমিটির সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য, লোকসভার সংসদ সদস্য ও চাইল্ড ওয়েলফেয়ার  কমিটির চেয়ারম্যান শ্রীমতি প্রতিমা ম-ল। জেলা শিশুরক্ষা সমিতির কর্মকর্ত অনিন্দ ঘোষ, কলকাতার সল্টলেকে বিকাশ ভবনে অব¯িদত শিশু রক্ষা প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুচরিতা সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
প্রত্যেকেই জানান, তারা চেষ্টা করেছেন শিশুদুটি ও সালমাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে। কলকাতা¯দ উপ-হাইকমিশনের কাউন্সিলর জি এম জামাল হোসেন মানবাধিকার খবরকে জানান, সকলের নাগরিকত্ব ও অন্যান্য কাগজপত্র  আমাদের হাতে এসে পৌঁচেছে। তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে সবাইকে দেশে পাঠানো যাবে বলে আমা করা যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ^স্ত সুত্রে জানা যায় প্রতিমাসে গড়ে ৩/৪ শত নারী ও শিশু ভারত সিমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ হচ্ছে। তাই তাদের নাগরিকত্ব প্রমানের কোন কাগজপত্র লাগে না। তবে কেন বৈধ প্রক্রিয়ায় নারী শিশু দেশে ফেরত আনতে নাগরিক প্রমানের একগাদা কাগজপত্র লাগবে। যে কোন উপায়ে ভারতে যাওয়া  দেশে আসতে ইচ্ছুক  তাদের সাথে কথা বললেই বোঝা যায়, বাংলাদেশের তাদের ঠিকানা কোথায়। আর কাগজ পত্র যা পাওয়া যায় তা দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব। তাহলে আইনি জটিলতার অনেক ঝামেলা এড়িয়ে অবৈধভাবে অব¯দানরত নারী ও শিশুদেরকে সহজেই দেশে পাঠানো সম্ভব। পশ্চিমবঙ্গের ২০/২৫টি সেফহোমে প্রায় ২ শতাধিক নারী ও শিশু রয়েছে দেশে ফেরার অপেক্ষায় বলে জানা যায়।
উল্লেখ্য যে, মানবাধিকার খবর এর আগে ভারতের উত্তরাখ- প্রদেশের রুদ্রপুর থেকে পাচার হয়ে যাওয়া বাংলাদেশী কলেজছাত্রী সাবানা আক্তার চায়না, হায়দ্রাবাদ থেকে গৃহবধু মুন্নি, পশ্চিমবঙ্গের লক্ষীকান্তপুর থেকে কিশোর বিপ্লব, দিল্লীর তিহার জেল থেকে বিউটি আক্তারসহ সাফল্যের সাথে অসংখ্য নারী ও শিশুকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে এনে মা বাবা ও আইনের হাতে তুলে দিয়ে সাফল্য দেখিয়েছে। যা বাংলাদেশের জনপ্রিয় প্রথম শ্রেনীর দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোসহ দেশ বিদেশের বিভিন্ন মিডিয়াতে গুরুত্ব সহকারে প্রচার হয়।
উদ্ধার প্রক্রিয়ায় সার্বিক সহযোগিতা করছেন প্রথম আলোর কলকাতা প্রতিনিধি অমর সাহা, মানবাধিকার খবর পত্রিকার কলকাতা প্রতিনিধি দিশা বিশ্বাস, ভারত প্রতিনিধি মনোয়ার ইমাম, বারাসাত প্রতিনিধি প্রদীপ রায় চৌধুরী, মানবাধিকার খবরের কলকাতা¯দ আইন উপদষ্টা রাজীব মুখার্জি, নিলোৎপল মৈত্র, রিয়াসহ অন্যান্য।


   Page 1 of 2
     বিশেষ প্রতিবেদন
নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী সমাজ ও নারী উন্নয়নের কান্ডারী ছিলেন
.............................................................................................
অবক্ষয় ঠেকাতে মানবিকতার চর্চা অপরিহার্য
.............................................................................................
গ্রাফিক্স ডিজাইনার তারেকের অকাল মৃত্যু
.............................................................................................
বিশ্বমানবাধিকার আজ কোথায়?
.............................................................................................
লংগদুতে আদিবাসীদের ওপর হামলার বিচার নিশ্চিত করতে হবে
.............................................................................................
কৃষি উন্নয়নে অবদানে বাকৃবিতে ১১ ব্যক্তিকে সংবর্ধনা
.............................................................................................
বামাফা’র জঙ্গীবাদ সন্ত্রাসবাদ ও মাদক বিরোধী সেমিনার অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
খাদে ভরা স্বর্ণ ব্যবসা
.............................................................................................
একজন ক্রীড়া সংগঠক - দক্ষ রাজনীতিবিদ - সফল মেয়র বাগেরহাটের সর্বস্তরের জনপ্রিয় একটি নাম খাঁন হাবিবুর রহমান
.............................................................................................
মানবাধিকার খবরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন মায়ের কাছে ফিরেছে ভারতীয় কিশোরী বৈশাখী
.............................................................................................
বাবা-মেয়ের আত্মহত্যা এ দায় কার?
.............................................................................................
পরিবারের সাত সদস্য পাগল।
.............................................................................................
মাস্তান প্রকৃতির লোক রাখা হচ্ছে পরিবহনে চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা
.............................................................................................
নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় যত্নবান হতে হবে : হেলেনা জাহাঙ্গীর
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটি: ১৯ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ
.............................................................................................
মানবাধিকার খবরের উদ্যোগ ভারত থেকে দেশে ফিরছেন দুই কিশোর এক নারী
.............................................................................................
দেশ ও মানবতার কল্যাণে কার্যকরী ব্যবস্থা জরুরী
.............................................................................................
সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ, অপপ্রচার ও কুচক্রের শিকার
.............................................................................................
সংকট উত্তরণের উপায় কি নেই? জঙ্গিবাদ : মানবাধিকারের উপর চরম হুমকি
.............................................................................................
মসজিদের আর্থিক ‘কর্তৃত্ব পেতে’ পুরান ঢাকায় দু’বছরের পরিকল্পনায় মুয়াজ্জিন খুন
.............................................................................................
আমি সবার প্রেসিডেন্ট
.............................................................................................
যুক্তরাজ্যের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন বাংলাদেশসহ ৩০টি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

Editor & Publisher: Rtn. Md Reaz Uddin
Mobile:+88-01711391530, Email: md.reaz09@yahoo.com Corporate Office
53,Modern mansion(8th floor),Motijheel C/A, Dhaka
E-mail:manabadhikarkhabar@gmail.com,manabadhikarkhabar34@yahoo.com,
Tel:+88-02-9585139
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-9585140
    2015 @ All Right Reserved By manabadhikarkhabar.com    সম্পাদকীয়    Adviser List

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]