| বাংলার জন্য ক্লিক করুন

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   বিশেষ প্রতিবেদন -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় মানবপাচারের ফাঁদ # স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কড়াকড়ি আরোপ #

মানবাধিকার খবর প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক চেষ্টায় বাংলাদেশিদের জন্য ইন্দোনেশিয়াসহ কয়েকটি দেশে চালু হয় অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা। পর্যটনসমৃদ্ধ এসব দেশে বাংলাদেশি ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য দরজা খুলে দিলেও সেটাকে পুঁজি করে নীরবে ব্যবসা ফেঁদে বসেছিল মানবপাচারকারীরা। অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধাযুক্ত দেশগুলোকে ট্রানজিট বানিয়ে চাকরি প্রত্যাশীদের পাঠিয়ে দেওয়া হতো অন্য দেশে। তাই ভিসা ছাড়া বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন। এছাড়া, পাসপোর্ট ছাড়া যারা ট্রাভেল পারমিট নিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরছেন তাদের জন্যও এই কড়াকড়ি রয়েছে। ইমিগ্রেশন বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার ভিসা বন্ধ থাকায় ইন্দোনেশিয়ার অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় সেদেশে (মালয়েশিয়ায়) প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। আর সাগর পাড়ি দিয়েই মালয়েশিয়া পৌঁছানোর আশ্বাস দেয় পাচারকারীরা। তাই অবৈধ অনুপ্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছে দুই দেশই। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় যারা যাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ভিসা ছাড়া অনেক যাত্রীকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশন থেকে, পাসপোর্টে মেরে দেওয়া হচ্ছে ‘অফলোডেড’ সিল। এবছরের ৬ ফেব্রুয়ারি ইন্দোনেশিয়ায় মেদান শহরের একটি তালাবদ্ধ দোকান থেকে ১৯৩ জনকে উদ্ধার করে দেশটির পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এদের পাচার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। এর ঠিক দু’দিন পর ৮ ফেব্রুয়ারি ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে আরও ৫৯ বাংলাদেশিকে। তাদের সবারই গন্তব্য ছিল মালয়েশিয়া। মেদান শহরের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থারপ্রধান মোনাং শিহিতি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, আমরা ধারণা করছি তারা নৌকায় করে এখানে এসেছে। তাদের কাছে কোনও বৈধ কাগজপত্র নেই। আমরা এ বিষয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে তাদেরকে ফেরত পাঠানো হবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফিরে আসা ভুক্তভোগী ও ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইন্দোনেশিয়া হয়ে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের কারণে এরইমধ্যে আরও নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেছে ইন্দোনেশিয়াকে। ইন্দোনেশিয়ার বালি ও মেদান দ্বীপকে ব্যবহার করে নৌকা এবং ঢাকা থেকে বিমানে কুয়ালালামপুর হয়ে জাকার্তায় এবং সেখানে নেমে চলে যাচ্ছে সোরাবাইয়া,বালি,বাতাম এবং মেদানে। সুযোগ বুঝে পাচারের অপেক্ষায় রাখা হয় দীর্ঘদিন। এর আগেও পাচারের অপেক্ষায় রাখা বহু বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয় বালি থেকে। অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের চেষ্টার সময় ২০১৮ সালের এপ্রিলে ৩০ বাংলাদেশিকে আটক করে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ও মেরিন পুলিশ। কর্মকর্তারা আরও জানান, অনেক বাংলাদেশি নাগরিক অন অ্যারাইভাল ভিসার সুযোগে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, ভানুয়াতু এবং জামাইকার মতো দেশে পাচারের শিকার হন। অন অ্যারাইভাল ভিসা প্রাপ্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইন্দোনেশিয়া হয়ে মালয়েশিয়া, ভিয়েতনামের মতো দেশে গিয়ে অন্য দেশে যাওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে। এছাড়া, দালালের মাধ্যমে শ্রুীলঙ্কা হয়ে মালদ্বীপ, কেনিয়া হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকার মতো দেশগুলোতে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা বলেন, অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় মূলত অনেককে অন্য কোনও দেশে পাঠানোর উদ্দেশে নিয়ে আসা হয়। মালয়েশিয়ার কলিং ভিসা বন্ধ থাকায় ইন্দোনেশিয়া দিয়ে সেদেশে প্রবেশের একটা প্রবণতা দেখা যায়। তাই এখন দুই দেশের সীমান্তেই কড়াকড়ি আরোপ করা আছে। ইন্দোনেশিয়ায় পাচারের শিকার অনেককেই দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অন অ্যারাইভাল ভিসা দিয়ে মালিন্দো এয়ারে কুয়ালালামপুরে ট্রানজিট দেওয়া হয়েছিল তাদের। এরপর কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে সবুজ নামের এক বাংলাদেশি দালাল তাদের বলেন, এখান থেকে মালয়েশিয়ায় ঢোকা যাবে না,সেক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়া থেকে ফের মালয়েশিয়া আসতে হবে। একথা বলে যুবকদের ইন্দোনেশিয়া পাঠান। বালি থেকে জাকার্তা,তারপর চার দিন বাস যোগে ম্যাডোনা নামক এলাকায় পৌঁছে একটি গোডাউনে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। সেখানে তারা ২৯৫ জন বাংলাদেশিকে আটক অবস্থায় দেখতে পান।

অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় মানবপাচারের ফাঁদ # স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কড়াকড়ি আরোপ #
                                  

মানবাধিকার খবর প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক চেষ্টায় বাংলাদেশিদের জন্য ইন্দোনেশিয়াসহ কয়েকটি দেশে চালু হয় অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা। পর্যটনসমৃদ্ধ এসব দেশে বাংলাদেশি ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য দরজা খুলে দিলেও সেটাকে পুঁজি করে নীরবে ব্যবসা ফেঁদে বসেছিল মানবপাচারকারীরা। অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধাযুক্ত দেশগুলোকে ট্রানজিট বানিয়ে চাকরি প্রত্যাশীদের পাঠিয়ে দেওয়া হতো অন্য দেশে। তাই ভিসা ছাড়া বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন। এছাড়া, পাসপোর্ট ছাড়া যারা ট্রাভেল পারমিট নিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরছেন তাদের জন্যও এই কড়াকড়ি রয়েছে। ইমিগ্রেশন বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার ভিসা বন্ধ থাকায় ইন্দোনেশিয়ার অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় সেদেশে (মালয়েশিয়ায়) প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। আর সাগর পাড়ি দিয়েই মালয়েশিয়া পৌঁছানোর আশ্বাস দেয় পাচারকারীরা। তাই অবৈধ অনুপ্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছে দুই দেশই। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় যারা যাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ভিসা ছাড়া অনেক যাত্রীকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশন থেকে, পাসপোর্টে মেরে দেওয়া হচ্ছে ‘অফলোডেড’ সিল। এবছরের ৬ ফেব্রুয়ারি ইন্দোনেশিয়ায় মেদান শহরের একটি তালাবদ্ধ দোকান থেকে ১৯৩ জনকে উদ্ধার করে দেশটির পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এদের পাচার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। এর ঠিক দু’দিন পর ৮ ফেব্রুয়ারি ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে আরও ৫৯ বাংলাদেশিকে। তাদের সবারই গন্তব্য ছিল মালয়েশিয়া। মেদান শহরের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থারপ্রধান মোনাং শিহিতি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, আমরা ধারণা করছি তারা নৌকায় করে এখানে এসেছে। তাদের কাছে কোনও বৈধ কাগজপত্র নেই। আমরা এ বিষয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে তাদেরকে ফেরত পাঠানো হবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফিরে আসা ভুক্তভোগী ও ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইন্দোনেশিয়া হয়ে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের কারণে এরইমধ্যে আরও নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেছে ইন্দোনেশিয়াকে। ইন্দোনেশিয়ার বালি ও মেদান দ্বীপকে ব্যবহার করে নৌকা এবং ঢাকা থেকে বিমানে কুয়ালালামপুর হয়ে জাকার্তায় এবং সেখানে নেমে চলে যাচ্ছে সোরাবাইয়া,বালি,বাতাম এবং মেদানে। সুযোগ বুঝে পাচারের অপেক্ষায় রাখা হয় দীর্ঘদিন। এর আগেও পাচারের অপেক্ষায় রাখা বহু বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয় বালি থেকে। অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের চেষ্টার সময় ২০১৮ সালের এপ্রিলে ৩০ বাংলাদেশিকে আটক করে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ও মেরিন পুলিশ। কর্মকর্তারা আরও জানান, অনেক বাংলাদেশি নাগরিক অন অ্যারাইভাল ভিসার সুযোগে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, ভানুয়াতু এবং জামাইকার মতো দেশে পাচারের শিকার হন। অন অ্যারাইভাল ভিসা প্রাপ্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইন্দোনেশিয়া হয়ে মালয়েশিয়া, ভিয়েতনামের মতো দেশে গিয়ে অন্য দেশে যাওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে। এছাড়া, দালালের মাধ্যমে শ্রুীলঙ্কা হয়ে মালদ্বীপ, কেনিয়া হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকার মতো দেশগুলোতে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা বলেন, অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় মূলত অনেককে অন্য কোনও দেশে পাঠানোর উদ্দেশে নিয়ে আসা হয়। মালয়েশিয়ার কলিং ভিসা বন্ধ থাকায় ইন্দোনেশিয়া দিয়ে সেদেশে প্রবেশের একটা প্রবণতা দেখা যায়। তাই এখন দুই দেশের সীমান্তেই কড়াকড়ি আরোপ করা আছে। ইন্দোনেশিয়ায় পাচারের শিকার অনেককেই দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অন অ্যারাইভাল ভিসা দিয়ে মালিন্দো এয়ারে কুয়ালালামপুরে ট্রানজিট দেওয়া হয়েছিল তাদের। এরপর কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে সবুজ নামের এক বাংলাদেশি দালাল তাদের বলেন, এখান থেকে মালয়েশিয়ায় ঢোকা যাবে না,সেক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়া থেকে ফের মালয়েশিয়া আসতে হবে। একথা বলে যুবকদের ইন্দোনেশিয়া পাঠান। বালি থেকে জাকার্তা,তারপর চার দিন বাস যোগে ম্যাডোনা নামক এলাকায় পৌঁছে একটি গোডাউনে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। সেখানে তারা ২৯৫ জন বাংলাদেশিকে আটক অবস্থায় দেখতে পান।

দেশের পর্যটন শিল্প বিকাশে মহাপরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন : ড. ভুবন চন্দ্র বিশ্বাস
                                  

মানবাধিকার খবর প্রতিবেদবক

দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে মহাপরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. ভুবন চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি বলেন, পর্যটন খাতে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মকান্ডের মাধ্যমে গতিশীলতা আনতে মহাপরিকল্পনার কাজ এগিয়ে চলেছে। পর্যটন ব্যবসা ও সেবার সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুনের আওতায় নিয়ে আসতে ট্যুর অপারেটর ও ট্যুরিস্ট গাইড আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। আইনে সংশ্লিষ্টদের জন্য সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি রয়েছে। আইনানুযায়ী ট্যুর গাইডদের নূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। ট্যুর অপারেটররাও একটি গাইড লাইনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০১৯ উপলক্ষে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন ড. ভুবন চন্দ্র বিশ্বাস। এসময় তিনি জানান, বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে দেশে এবারই প্রথম ৬৪টি জেলায় স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। যার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন স্ব-স্ব জেলার প্রশাসক। এছাড়া জেলাগুলোতে দিবসটি ঘিরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। অন্য বারের মতো এবারও বিশ্ব পর্যটন দিবসটি যথাযথ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালনের ব্যবস্থা করা হয়। ড. ভুবন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, বাংলাদেশ পর্যটনে ব্যাপক সম্ভাবনার দেশ। এই খাতকে শক্তিশালী ও গতিশীল করা গেলে দেশের অর্থনীতি ও প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। আর সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কাজ করছে। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর ভারতের দিল্লিতে রোড-শো`র আয়োজন। বিজনেস টু বিজনেস সেশনের পাশাপাশি ভারতে বছরব্যাপী পর্যটনবিষয়ক প্রচারণা চালানো। এছাড়া পর্যটন বিষয়ে ফ্লায়ার ও টিভিসি নির্মাণ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে পর্যটনপ্রেমিদের আকর্ষণের লক্ষে। দেশেও জেলা প্রশাসকদের দেয়া হয়েছে এ বিষয়ে প্রচারণা চালানোর জন্য। পর্যটনের বিকাশে এতদিন রাজধানীকেন্দ্রিক কর্মকান্ড হলেও এবার তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। জানতে চাইলে ট্যুরিজম বোর্ডের সিইও বলেন, পর্যটনের মুল লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যিক গুরুত্ব প্রচার করা। সে লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে যেমন গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে, তেমনি বহির্বিশ্বেও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা চলছে। স্কুল-কলেজের পাঠ্যক্রমে পর্যটনবিষয়ক প্রবন্ধ-নিবন্ধ অন্তর্ভুক্তি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ড. ভুবন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, পাঠ্যক্রমে পর্যটনবিষয়ক রচনা থাকলে দেশের মানুষ এ বিষয়ে উৎসাহ পাবে। তিনি বলেন, পর্যটন একটি বহুমাত্রিক শিল্প। এটি সকল শিল্পের সমন্বিত রূপ। পর্যটনের জন্য আর্থিক সামর্থ্য জরুরি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের মানুষের সে সামর্থ্য তৈরি হয়েছে বলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণে যাচ্ছেন বাঙালিরা। তবে পর্যটনের বিকাশে যে কোনো দেশেরই অবকাঠমো উন্নয়ন ও বিনোদন ব্যবস্থার সুযোগ থাকা দরকার বলে মনে করেন তিনি। সেটা না হলে বাংলাদেশের পর্যটন পিপাসুরা যেমন বাইরে যাবেন ভ্রমণ পিপাসা ও চিত্ত তৃষ্ণা মেটাতে, তেমনি বিদেশি পর্যটক টানতে প্রতিবন্ধকতা বাড়বে। ড. ভুবন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশে পর্যটনের অপার সম্ভাবনার বিষয়টি অনুধাবন করে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আর তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যটন আইন-২০১০ এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন। একই বছরে গঠন করা হয় ট্যুরিস্ট পুলিশ। এর মাধ্যমে পর্যটন খাত অনেকটাই গতিশীল হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটনের নীতি-নির্ধারণ, প্রচার-প্রসার, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, বিপণন, জনমত সৃষ্টি ও সচেতনতা সৃষ্টিতে নানা ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে ড. ভুবন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী সংগঠনসহ সব শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে। তিনি বলেন, আমরা পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে সারাদেশে কাজ করছি। সাসটেইনেবল ট্যুরিজম নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ স্থাপন করছি। তার মতে, পর্যটনমনস্ক জাতি গঠিত না হলে বাংলাদেশে পর্যটন খাতে সাফল্যের সম্ভাবনা কমে আসবে। সেজন্য দেশের প্রতিটি স্তরে থাকা ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতার বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মানবাধিকার খবর পত্রিকার সম্পাদক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন : ভারতে পিস এ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন
                                  

মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন :
মানবাধিকার খবর সম্পাদক ও প্রকাশক রোটারিয়ান মো ঃ রিয়াজ উদ্দিন “পিস সম্মান ২০১৯” পাচ্ছেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বর্ধমান জেলার সীমান্তপল্লী, রুপনারায়নপুরের পিস ওয়েলফেয়ার অর্গানইজেশন এই এ্যাওয়ার্ড প্রদান করবে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও সমাজকর্মী হিসেবে তাকে এই এ্যাওয়ার্ড দেয়া হবে।
রুপনারায়নপুরের পিস ওয়েলফেয়ার অর্গানইজেশসন এর সভাপতি শুভদীপ সেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে মানবাধিকার খবর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিনকে বলা হয়, বারো মাসে তেরো পার্বনের এই বাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রেখে, বাংলা ও বাঙালীর সবচেয়ে বড় উৎসব গুলির মধ্যে দূর্গাপুজা অন্যতম। উৎসবে মেতে থাকার আনন্দের চেয়ে ও অপার আনন্দ বুঝি নিরন্ন দুঃখী পথ শিশুদের মুখে একটু হাসি ফোঁটানো। যে কাজটি রুপনারায়নপুরের পিস ওয়েলফেয়ার অর্গানইজেশন নীরবে নিভৃতে করে চলেছে ২০১০ সাল থেকে। পিসের নবম বর্ষপুর্তি অনুষ্ঠান উপলক্ষে আগামী ২৮ শে সেপ্টেম্বর ২০১৯ মহালয়ার পুণ্য তিথিতে আগমনীর নব আনন্দ সবাই কে নিয়ে ভাগ করে নিতে এক সান্ধ্যকালীন গুনীজন সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ভিন্ন ধারার গুণী ব্যক্তিত্বদের মধ্যে আপনিও সামাজিক দায়বদ্ধতার যে নিদর্শন রেখেছেন তাই পিসের পক্ষ থেকে উক্ত দিনে আপনাকে “পিস সম্মান ২০১৯” প্রদান করে সম্মানিত করতে পারলে আমরা গর্ব অনুভব করবো। প্রসঙ্গত, মানবাধিকার খবর সম্পাদক মো ঃ রিয়াজ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে দেশ-বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া নারী-শিশু উদ্ধারে কাজ করে আসছেন। এই সময়ের মধ্যে ভারতের পশিচমবঙ্গ, দিল্লীসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে অর্ধশতাধিক নারী-শিশু উদ্ধার করে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি সমাজকর্মী হিসেবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রিড়া, সাংস্কৃতি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন। অধিকার বঞ্চিত অসহায় মানুষের পাশে থেকে মানবিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এর আগেও মানবাধিকার ও সমাজ সেবায় দেশÑবিদেশ থেকে অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন।

সুস্থ্য ও শৃঙ্খল জীবনের পথ দেখায় কোয়ান্টাম মেথড
                                  

সৈয়দ সফি :
সুস্থ্য ও শৃঙ্খল জীবনের পথ দেখায় কোয়ান্টাম মেথড। আত্মশক্তির জাগরণ ঘটিয়ে মেধা, প্রতিভা ও বিশুদ্ধ সম্ভাবনার পরিপূর্ণ বিকাশের মাধ্যমে নিজেকে অনন্য মানুষে রূপান্তরিত করাই এর লক্ষ্য। আর নিজের মেধাকে সমবেত ও সমন্বিতভাবে মানবতা ও সৃষ্টির সেবায় নিয়োজিত করে বিশ্বকে মানবিক মহাসমাজে রূপান্তরিত করাই কোয়ান্টামের স্বপ্ন। সুস্থ্য দেহ সুন্দর মন, কর্মব্যস্ত সুখী জীবন। এমন জীবন সবারই কাম্য। মানুষ তার কর্মের মাধ্যমেই জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে পারে।
কিভাবে সুন্দর জীবন গড়ে তোলা যায় সে সম্পর্কে চমৎকারভাবে ধারণা পাওয়া যাবে কোয়ান্টাম মেথডে। কোয়ান্টাম মেথড সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো।

কোয়ান্টাম মেথড :
কোয়ান্টাম মেথড জীবন যাপনের বিজ্ঞান। এ বিজ্ঞান জীবনকে বদলে দেয়ার, জীবনে ভালো রাখার। শুরু হয় জীবনদৃষ্টি বদলের মধ্য দিয়ে। নতুন দৃষ্টিভঙ্গি মস্তিষ্কের নিউরোনে নতুন ডেনড্রাইট সৃষ্টি করে, সূচিত হয় নিউরোনে নতুন সংযোগায়ন প্রক্রিয়া। ফলে মস্তিষ্ক বদলে যায় ইতিবাচকভাবে। আর এর প্রভাব পড়ে ব্যক্তির আচরণ ও দৈনন্দিন প্রতিটি কাজে। অশান্তি পরিণত হয় প্রশান্তিতে। রোগ সুস্থতায় আর ব্যর্থতা সাফল্যে। তিনি লাভ করেন সুস্থ দেহ, প্রশান্ত মন, কর্মব্যস্ত সুখীজীবন।
প্রাচ্যের সাধনা আর আধুনিক বিজ্ঞানের নির্যাসে সঞ্জীবিত কোয়ান্টাম মেথড মেডিটেশন প্রক্রিয়া। সাধকদের সাধনা ও মনোবিজ্ঞানের প্রক্রিয়ার সমন্বয়ের ফলে সহজে মেডিটেটিভ লেভেলে পৌছে আত্মনিমগ্ন হওয়া যায়। গভীর আত্মনিমগ্নতা আত্মশক্তির জাগরণ ঘটায় ভেতর থেকেই। আর অন্তরের জাগরণ বদলে দেয় জীবনের বাকি সবকিছু। সৃষ্টির সেবায় স্ব-অর্থায়নেই যেকোনো কাজ করা সম্ভব। এক যুগ নিরলস পরিশ্রমে কোয়ান্টাম গড়ে তুলেছে রক্তদাতাদের সবচেয়ে বড় ডোনার পুল ও আধুনিক ল্যাব, রক্ত দিয়ে বাঁচাতে সাহায্য করেছে আড়াই লাখ মানুষের প্রাণ। ধ্যানচর্চার শত কেন্দ্রসহ বান্দরবানের লামার দুর্গম এলাকায় গড়ে তুলেছে এক আলোকিত জনপদ। বিশুদ্ধ পানির জন্যে নলকূপ স্থাপন, সুন্নতে খতনা, মাতৃমঙ্গল, ত্রাণ ও দাফন কার্যক্রমসহ সেবার যেকোনো সুযোগ গ্রহণ করেছে আন্তরিক মমতায়। স্বনির্ভরয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তুলেছে অবহেলিত পরিবারগুলোকে। হাজার হাজার মানুষকে সঙ্ঘবদ্ধ করেছে সৎ দানে ও সৎ কাজে।

কোয়ান্টামের মূল উদ্দেশ্য :
কোয়ান্টামের মূল উদ্দেশ্য প্রতিটি মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তি এবং সম্ভাবনাকে জাগ্রত করা যাতে সে তার মেধার সর্বোত্তম বিকাশ ঘটিয়ে একজন সফল মানুষে পরিণত হতে পারে। সেই সাথে সঙ্ঘবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে তার একক কল্যাণশক্তিকে বহুগুণে বৃদ্ধি করা। কারণ একক ব্যক্তির প্রচেষ্টায় বড় কোনো কল্যাণমূলক কাজ করা না গেলেও অনেকে যখন সমবেত হন, তখন এটা দিয়েই সম্ভব দূরপ্রসারি কিছু করা। অবশ্য সবকিছুর আগে প্রয়োজন ব্যক্তির আত্মনির্মাণ, ব্যক্তির সাফল্য। কারণ ব্যক্তি যদি সফল না হয়, তাহলে সমাজ সফল হবে না, রাষ্ট্র সফল হবে না। তাই ব্যক্তির আত্মিক, বৈষয়িক, পারিবারিক স্বাস্থ্যগত উন্নয়নের মধ্য দিয়ে সফল মানুষদের সঙ্ঘশক্তি সৃষ্টি করে বিশ্বকে কল্যাণের পথে নেতৃত্ব দেয়াই কোয়ান্টামের মূল উদ্দেশ্য।

কোয়ান্টামের কার্যক্রম :
কোয়ান্টামের কার্যক্রম মূলত দুটি ধারায় পরিচালিত হচ্ছে, আত্মউন্নয়ন এবং সৃষ্টির সেবামূলক। আত্মউন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে এর সদস্যদের সফল জীবনের সূত্রের পাশাপাশি একজন মানুষ যাতে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি আয়ত্ত করে অনন্য মানুষ হয়ে উঠতে পারে সেজন্যে সারা মাসজুড়ে পরিচালিত হচ্ছে কোয়ান্টামের নানা ধরনের আত্মউন্নয়নমূলক কাজ।
এর পাশাপাশি সৃষ্টির সেবার জন্যে ফাউন্ডেশন করছে সৃষ্টির সেবামূলক কার্যক্রম। স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রম, বান্দরবানের লামায় বঞ্চিত শিশুদের আলোকিত মানুষররুপে গড়ে তোলার জন্যে কোয়ান্টাম শিশুকানন, রাজশাহীতে অভিভাবকহীন শিশুদের আলোকিত মানুষরুপে গড়ে তোলার জন্যে কোয়ান্টাম শিশুসদন, খতনা কার্যক্রম, বিশুদ্ধ খাবার পানি কার্যক্রম, চিকিৎসাসেবা, এবং দুস্থদের ঋণমুক্তি ও পুনর্বাসন কার্যক্রম।

নামকরণ কোয়ান্টাম কেন :
কোয়ান্টাম ফিজিক্স, নিউরো সাইন্স এবং জেনিটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ শতকে বিজ্ঞানমনস্ক মানুষের বিশ্বদৃষ্টিকেই পাল্টে দেয়। যে বিজ্ঞান ছিলো দীর্ঘদিন বস্তুকেন্দ্রিক, নিউটনিয়ান মেকানিক্সের নিগড়ে বন্দি, কোয়ান্টাম মেকানিক্স আসার পর সে বিজ্ঞান এখন হয়ে উঠেছে চেতনানির্ভর। যেহেতু কোয়ান্টাম মেকানিক্স বিজ্ঞান থেকে নির্বাসিত মনকে বিজ্ঞানে পুনর্বাসিত করেছে, তাই চেতনার শক্তিকে, মনের অসীম ক্ষমতাকে মানবতার কল্যাণে ব্যবহারের সহজ ও পরীক্ষিত এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিটির নাম আমরা রেখেছি কোয়ান্টাম মেথড। কোয়ান্টাম মেকানিক্স বলে পরমাণুর ভেতরে নিউক্লিয়াসকে ঘিরে একটি ইলেকট্রন যখন তার কক্ষপথে ঘোরে তখন ঘুরতে ঘুরতে কেন্দ্রের দিকে এগুতে থাকে। এরই একপর্যায়ে সে একটা উচ্চতর কক্ষপথে লাফ দেয়। খুব দ্রুত ঘটা এ পরিবর্তনটিকে বলা হয় কোয়ান্টাম লিপ বা কোয়ান্টাম উলম্ফন। তেমনি একজন মানুষ যখন ধ্যান করে, আত্মনিমগ্নতার গভীরে হারিয়ে যায়, তখন তার মধ্যেও একটা উপলব্ধির স্ফূরণ ঘটে যা তাকে আগের চেয়ে উন্নততর স্তরে নিয়ে যায়। ধ্যানের স্তরে যখন একজন মানুষ যায় তখন কোয়ান্টাম লিপের মতো তার চেতনার জগতেও একটা উলম্ফন হয়। কোয়ান্টাম মেথড নামকরণের এটাও একটা কারণ। আর কোয়ান্টাম শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো পরিমিতি। কারণ সুস্থ, সুন্দর ও সার্থক জীবনের জন্যে প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ জীবনদৃষ্টি এবং সবকিছুর মধ্যে একটা পরিমিতি। কোয়ান্টাম হচ্ছে সাইন্স অফ লিভিং বা সাইন্স অব ওয়েল বিয়িং। জীবন যাপনের বিজ্ঞান বা ভালো থাকার বিজ্ঞান যা বলে দেয় জীবনটাকে কীভাবে সুন্দর করা যায়, ভুল থেকে কীভাবে দূরে থাকা যায়, আর ভালো বা কল্যাণ কত বেশি করা যায়। তাই আমরা কোয়ান্টামকে বলি জীবন যাপনের বিজ্ঞান, জীবন আচরণের বিজ্ঞান। কোয়ান্টাম চর্চা করে আমরা ভালো থাকছি, আমরা আলোকিত হচ্ছি এবং আলোকিত করছি সাধারণ মানুষকে। বদলে দিচ্ছি নিজেদের এবং পরিচিতজনদের জীবনকে।

কোয়ান্টামের অর্থের উৎস :
কোয়ান্টামের প্রতিটি সৃষ্টির সেবামূলক কার্যক্রমের অর্থায়ন হয় ফাউন্ডেশনের সদস্যদের অর্থায়নে। শুধু অর্থায়নই নয়, পরিকল্পনা এবং উদ্যোগও ফাউন্ডেশনের নিজস্ব।কারণ আমরা বিশ্বাস করি, স্ব-উদ্যোগ, স্ব-পরিকল্পনা ও স্ব-অর্থায়নে সৃষ্টির সেবায় যেকোনো কাজ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে আমাদের অর্থায়নের একটি জনপ্রিয় উৎস হলো মাটির ব্যাংক। এছাড়াও রয়েছে সদস্যদের অনুদান ও বিশেষ দান।
কোয়ান্টাম মেথডে যেসব ফল পাওয়া যায়-
১. সচেতনভাবে দেহ এবং স্নায়ুর শিথিলায়ন :
ঘুমের সময় একজন মানুষের দেহ ও স্নায়ু শিথিল হলে তার চেতনাও তখন হয়ে পড়ে অচেতন। কিন্তু মেডিটেশনে আমাদের দেহ ও স্নায়ু যেমন শিথিল হয়, তেমনি চেতনাও থাকে সজাগ। ফলে সচেতন মন তখন অবচেতন মনকে যথাযথ নির্দেশ প্রদান করতে ও সৃজনশীলভাবে কাজে লাগাতে পারে।
২. মনকে বর্তমানে নিয়ে আসা আমাদের মন হয় অতীত নিয়ে অনুশোচনা করে, না হয় ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তা করে, বর্তমানে থাকতে চায় না। মেডিটেশন মনকে বর্তমানে নিয়ে আসে। ফলে দুশ্চিন্তা বা আশঙ্কায় সময় নষ্ট না করে মনের শক্তি নিয়োজিত হয় দেহের স্বাস্থ্য উদ্ধারে, সৃজনশীলতার বিকাশে, চেতনার অভ্রভেদী বিস্তারে।
৩. মনোযোগায়ন
মনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মনোযোগ। আর মনোযোগায়ন হলো একটি বিষয়ের উপর মনকে নিবদ্ধ করা। ক্রমাগত মেডিটেশনের মধ্য দিয়েই একজন মানুষ অর্জন করে মনকে সূচাগ্র করার এই শক্তি অর্জন করতে।
৪. ব্রেনকে বেশি পরিমাণে ব্যবহার
মানবদেহের সবচেয়ে জটিল, রহস্যময় ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে ব্রেন বা মস্তিষ্ক। ব্রেনই মানুষকে প্রথম পাথরের অস্ত্র তৈরি করতে শিখিয়েছে। আর সেই ব্রেনের জেনেটিক উত্তরসূরীরাই বানিয়েছে মহাশূন্য যান। মানুষ অতীতে যা করেছে, ভবিষ্যতে যা করবে তা এই ব্রেনেরই ফসল। ব্রেনই মানুষকে মানুষ বানিয়েছে। এই ব্রেনকে বেশ পরিমাণে কাজে লাগাবার জন্যে যে সুসংহত মানসিক প্রস্তুতি প্রয়োজন তা গঠনেই সাহায্য করে মেডিটেশন।
৫. আত্ম-নিমগ্নতা
মেডিটেশন মানে একজন মানুষের নিজের গভীরে নিমগ্ন হওয়া এবং অন্তরতম আমি-র সাথে সংযুক্ত হওয়া। তখনই একজন মানুষের অনুভবের দরজা খুলে যায় এবং সে নতুন সত্যকে অনুভব করতে পারে।

কোয়ান্টাম সম্পর্কে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ :
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ কোয়ান্টাম সম্পর্কে বলেন,
একটি যুগের ভেতর যে দুঃখ আর বেদনাগুলো থাকে সে যুগের প্রতিটি সচেতন ও বেদনাবান মানুষকে সেসব বেদনা আর দুঃখের সাধ্যমতো জবাব দিতে হয়। মানবিক মুক্তির জন্যে এই সংগ্রাম আর আত্মোৎসর্গের পথ ধরেই মানুষ তার নিজের অসহায়তাগুলো অতিক্রম করে, রচিত হয় মানবসভ্যতার উচ্চতর সোপান। মহাজাতক শহীদ আল বোখারী একসময় তার চারপাশের মানুষের ভেতর আধ্যাত্মিক নিঃস্বতার এই কালো অন্ধকার লক্ষ্য করেছিলেন । দেখেছিলেন আত্মশক্তি বা আত্মোৎবোধনের অভাবে, মনের একাগ্রতা ও শৃঙ্খলার অনটনে বহু মানুষ এক ধরনের শারীরিক ও মানসিক নৈরাজ্য ও নিষ্কিয়তায় ভুগে দুর্লভ মানবজন্মের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তো হারিয়ে ফেলছেই, সেই সঙ্গে নিজেদের ন্যুনতম সুস্থতা রক্ষা করতেও অপারগ হচ্ছে। কোয়ান্টাম মেথড মেডিটেশনের মাধ্যমে তিনি তাদের দিকে শুশ্রুশার হাত বাড়িয়ে দিয়েছন। তার চেষ্টার ফলশ্রুতিতে বহু মানুষ নানা মানসিক ও নিষ্ক্রিয়তা থেকে সেরে উঠে আলোকিত জীবনের পথ খুঁজে পেয়েছ। যে আত্মাহীন নৈরাজ্যপূর্ণ যুগের আক্রমণে আজ আমাদের প্রতিটি মানুষের স্নায়ু ভেঙে গুড়িয়ে যাচ্ছে, মানুষ প্রতি মুহূর্তে সুস্থতা হারাচ্ছে সে মুহূর্তে মহাজাতকের এই সেবার উদ্যোগ সেই মানবিক ধসের বিরুদ্ধে একটি সুস্পষ্ট প্রতিরোধ । আজ তিনি কোয়ান্টামকে পারিবারিক রুপ দিয়েছন। তার পরিবারের সভ্যরা সবাই সবার দোসর হিসেবে বন্ধু হিসেবে যে অভিন্ন একাত্মতায় জেগে উঠেছেন, তা-ও মনকে মুগ্ধ করে। তাদের মাধ্যমে তিনি যেসব সামাজিক কার্যক্রম সফল করে চলেছেন যেমনÑ রক্তদান কর্মসূচি, স্বেচ্ছা দাফন কার্যক্রম, মাতৃমঙ্গল কার্যক্রম, যাকাত ফান্ড, মেডিকেল ক্যাম্প থেকে শুরু করে অনান্য কার্যক্রম- সেসবের সাফল্যও অনন্য। কোয়ান্টাম মেথড কোর্সের ৩০০ তম পর্বের পূতি উপলক্ষে এই প্রতিষ্ঠানের বিরল সাফল্যকে আমি অভিনন্দন জানাই। আজকের বাংলাদেশের আতœস্বার্থসর্বস্ব পরিবেশে এমন অভাবিত সাফল্য বিরল।

পরিশেষে :
এখানে প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে, প্রতিমাসেই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে কোয়ান্টাম মেথড কোর্স। কোর্স করে প্রশান্তি সুস্বাস্থ্য সাফল্যের পথে ফাউন্ডেশনের আজীবনের একজন সদস্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের জন্য দান করা যায়, কোয়ান্টাম মাটির ব্যাংকসহ ফাউন্ডেশনের শিশুকানন, শিশুসদন, টিউবওয়েল, খতনা, দাফনসহ অন্য যেকোনো খাতে। রক্ত দিতে পারেন যে কেউ। ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমে রক্ত দান করা যায়।


মানবিক বিশ্বায়নের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবেই
প্রফেসর আনু মোহম্মদ

অন্তর্গতভাবে মানুষ একক, অখন্ড একটি জাতি। অর্থ্যাৎ মানবজাতি। কিন্ত সৃষ্টির নিয়মেই তার মধ্যে কিছু বৈচিত্র আছে, পার্থক্য আছে। যেমন, গায়ের রঙ, জাতীয়তা, ধর্ম, ভাষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে যা খুব স্বাভাবিক। কিন্ত এ পার্থক্যগুলোর ভিত্তিতে যদি তার সাথে বৈষম্য করা হয়, নিপীড়ন, নির্যাতন করা হয় বা তাকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে সেটা খুবই অযৌক্তিক একটি ব্যাপার। কারণ এ বৈশিষ্ট্যগুলো তার ইচ্ছানিরাপেক্ষ। যেমন, একজন মানুষ কেন দেশে, কোন বর্ণে, কোন ধর্মে বা কোন ভাষা নিয়ে জন্মাবে এটা সে নিজে নির্ধারণ করে না।
এটা নির্ধারিত হয়। বৈষম্যের এই যে নানা রূপ, নানা মাত্রা- এর বিপরীতে একটি অখন্ড মানবসমাজের ঐক্যের জন্যেই বিশ্বায়নের ধারণার উদ্ভব। বলাবাহুল্য, তাতে মানবসমাজের স্বাভাবিক বৈচিত্রপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলো থাকবে। কিন্তু তারপরও তারা হবে অখন্ড একটি মানবসমাজ। সেটা বিশ্বায়নের প্রচলিত ধারণা নয়; বরং সেটা হলো এক মানবিক বিশ্বায়ন, যেখানে একটি দেশ বাকি পৃথিবীর সঙ্গে তার শক্তি এবং দুর্বলতাগুলোর বিনিমযের মাধ্যমে সুস্থ ভারসাম্য পৌছাতে পারে । আরও আশার কথা হলো, যে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও সম্পদের অবস্থা- তা দিয়েই অর্জিত হতে পারে এই কাক্সিক্ষত বিশ্বায়ন। আমাদের সম্পদের অভাব আছে- এ বাংলাদেশ বা পৃথিবী- দুই ক্ষেত্রেই খুবই ভুল একটি কথা। বলা হয় পৃথিবীর ৬০০ কোটি মানুষের অর্ধেকেরও বেশি দরিদ্র । বাংলাদেশের ৭ কোটিরও বেশি মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে। এ দারিদ্র সম্পদের অভাবের জন্যে নয়, এ দারিদ্র সম্পদের অসম ব্যবহার এবং অসম বন্টনের জন্যে হয়েছ। যেমন, জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচি একটি হিসেব করে দেখিয়েছিলো যে, পৃথিবীর জমি, পানি এবং প্রযুক্তি এই তিনের সমন্বয় ঘটিয়েযে খাদ্য উৎপাদন করা যাবে তাতে ৬,০০০ কোটি মানষের খাবারের সংস্থান হবে যেখানে পৃথিবীর জনসংখ্যা হলো মাত্র ৬০০ কোটি। গত ৩৪ বছরে বাংলাদেশে জনসংখ্যা বেড়েছে ১০০ ভাগ এবং এ সময়ে খাদ্যোৎপাদন বেড়েছে ১৭০ ভাগ।
এখন বাংলাদেশে মাথাপিছু খাদ্যের উৎপাদনও বেশি। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশের ৬০ ভাগ শিশু অপুষ্টির শিকার । এখন সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ হয় যে খাতে তা খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান চিকিৎসা বা শিক্ষা নয়, তা হলো সমরাস্ত্র এবং যুদ্ধ সরগ্রাম। প্রতিবছর ৯০০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয় এ খাতে । আর এর ৬০ ভাগ অর্থাৎ ৬০০ বিলিয়ন ডলার খরচ করে একা আমেরিকাই। তারপরও আমেরিকা প্রতিনিয়তই হুমকি মনে করে এমন সব দেশকে যারা এর ১ ভাগও খরচ করে না। বাংলাদেশের মতো এত সমৃদ্ধ অঞ্চল খুব কমই আছে। মাটি যদি উর্বর হয়, তাহলে তা সোনার খনির চেয়েও দামী হতে পারে। কারণ সোনার খনি তুলে ফেললেই শেষ। কিন্তু যে মাটি উর্বর তা-তো অনন্তকাল ধরে উৎপাদন দিতে থাকে।
বাংলাদেশের আছে সেই মাটি। বাংলাদেশের মতো এত সমৃদ্ধ পানিসম্পদ খুব কম দেশেই আছে। এমনকি এর বিপুল জনসংখ্যাও এর জন্যে সম্পদ হতে পারে যদি এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হয়। কারণ মানুষ শুধু মুখ নিয়েই জন্মায় নি, এর সাথে আরো আছে তার হাত, পা এবং অমিত সম্ভাবনাময় ব্রেন। একটা কম্পিউটার নষ্ট হয়েগেলে আমরা কত আফসোস করি কিন্তু এই কম্পিউটারের চেয়েও হাজার গুণ শক্তিশালী যে মস্তিষ্কগুলো ফুটপাতে বস্তিতে হেলায় নষ্ট হচ্ছে তা নিয়ে আমাদের ভাবনা নেই । এগুলো তো মাটির ওপরের সম্পদ।
মাটির নিচের সম্পদের মধ্যে রয়েছ গ্যাস, কয়লা । কিন্ত একটি দেশের শাসকগোষ্ঠী যদি ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্যে কতিপয় কোম্পানি বা বিদেশি গোষ্ঠীর ক্রীড়নকের ভূমিকা গ্রহণ করে তাহলে এতসব সম্পদ বরং সে দেশের জন্যে বিপদ হিসেবে আবির্ভূত হয়। বিশেষত সে চক্রান্ত যদি অনবায়নযোগ্য সম্পদ নিয়ে হয়। বাংলাদেশের অবস্থাও অনেকটা তা-ই । আগে একজন বিশেষজ্ঞের কাছে শুনছিলাম, পৃথিবীতে যে দুটি তেলভান্ডারকে কিছুই করা হয় নি তার একটি হলো আলাস্কা এবং আরেকটি হলো বঙ্গোপসাগর এই তেল বা গ্যাসকে যদি আমরা আমাদের কাজে ব্যবহার করি তাহলে কত কিছুই না করতে পারবো । এখন বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানষের কাছে বিদ্যুৎ নেই। গ্যাস দিয়ে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবো । কমে যাবে আমাদের উৎপাদন সম্পদ উত্তোলন বা ব্যবহার করার সামর্থ্য আমাদের নেই। এর জন্যে বিদেশি বিনিয়োগ লাগবে, বিদেশি কনসালটেন্ট লাগবে । তারা এসে মাইলের পর মাইল কৃষিজমি নষ্ট করবে, লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাস্তচ্যুত করবে, পানি শুকিয়ে মরুভূমি বানাবে। তারপর গ্যাস বা কয়লা সব তুলে নিয়ে গিয়ে আমাদের কাছেই আবার বিক্রি করবে দ্বিগুণ, তিনগুণ বেশি দামে।
“দাতা সংস্থা" বা “বিদেশি সাহায্য শব্দগুলো আমাদের খুব পরিচিত। আমরা কেউ কেউ মনে করি এটা বোধ হয় হাতেম তাঈ, হাজী মুহস্মদ মুহসীন বা আর পি সাহার দান। আসলে তা নয়। “দাতা সংস্থা" বলতে বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ বা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে বোঝায়, আর `সাহায্য` বলতে বোঝায় এ সংস্থাগুলোর নিজস্ব কৌশল বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেশকে খণ দেয়া। আর এরকম বিদেশি সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পের নেমে এসেছে আর্সেনিক নামের এক ভয়াবহ বিপর্যযের খন্ড । গভীর নলকৃপ দিয়েনির্বিচার পানি উত্তোলনের ফলে মাটির নিচে পানির ভারসাম্য নষ্ট হয়েগেছে। আবার এখন এই আর্সেনিক সমস্যা নিয়ে চলছে তাদের হাজার কোটি টাকার নতুন নতুন প্রকল্পে ঝাপিয়ে পড়ার প্রতিযোগিতা । বলা বাহুল্য, এসব প্রকল্পের কাজ আর্সেনিক সমস্যার কারণ উদঘাটন নয়, সমাধানও নয়। কাজ হলো নানারকম জরিপ করা আর কনসালটেন্টের লাখ লাখ টাকার বেতন গোনা । এ প্রেক্ষাপটে মানবিক বিশ্বায়নের পথ যতই দুর্গম হোক, আমি বিশ্বাস করি সেটা অসম্ভব নয়। কারণ এ অবস্থা বদলানো যাবে না বা বাংলাদেশ পারবে না- এ ধরনের মানসিক হতাশা হীনম্মন্যতা থেকে আন্তে আস্তে আমরা বেরিয়ে আসছি। মানুষের ভেতরের অমিত সম্ভাবনা এবং তার সঙ্গে সম্পদের যোগ করে যে বিপুল ক্ষমতার স্ফুরণ সম্ভব সেটা ভাবলেই বিশ্বাস হয় যে, এ পরিবর্তন অবশ্যই আমরা করতে পারবো। সকল প্রকার জাতিগত হীনম্মন্যতা ঝেড়ে ফেলে এ আত্মবিশ্বাস এবং এ স্বপ্ন দেখার প্রক্রিয়া কোয়ান্টাম ইতোমধ্যেই শুরু করেছে- এটা খুবই ইতিবাচক একটি দিক।
[কোয়ান্টাম মুক্ত আলোচনায় প্রদত্ত ভাষণের অনুলিখন]

ছিন্নমূল ও অবহেলিত শিশুরা কি সমাজের অভিশাপ?
                                  

                                ছবিটি গত ২৫ মে কলাবাগান বাস স্টান্ড থেকে তোলা

 

মোঃ রিয়াজ উদ্দিন :  আদর, স্নেহ, ভালোবাসা জড়িয়ে থাকা কথাটির নাম শিশু। সেই শিশুরা আবার অনেক সময় টোকাই বা পিচ্চি নামে পরিচিত হয়। ওরা আর সব সাধারণ শিশুর মতো নয়। এ বয়সে ওদের কেউ মায়ের কোলে, কেউ স্কুলে থাকতে পারত। থাকতে পারত পরিবারের অটুট বন্ধনে। কিন্তু নিয়তির ফেরে এসব কিছুই পাওয়া হয় না ওদের। ওরা রাস্তায় ঘুমায়। পথে পথে ঘোরে। ক্ষুধার দায়ে রাস্তায়ই বেছে নেয় জীবিকার পথ। ওরা টোকাই, ওরা ছিন্নমূল পথশিশুমানুষগুলোর জন্য সচ্ছল প্রত্যেক মানুষ সাহায্যের হাত প্রসারিত করে মানবতার সেবা করবে বলে আশা করি।

এখন ইচ্ছা সারা বিশ্বকে দেখা
                                  

৯ বছরে আসমা আজমেরীর শততম দেশ ভ্রমন ঃ দাঁড়াতে চান অসহায় মানুষের পাঁশে

 

সৈয়দ সফি :
খুলনার মেয়ে কাজী আসমা আজমেরী। ছোট বেলা থেকেই তার প্রবল ইচ্ছা ছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমন করার। অনেক সময় ইচ্ছা থাকলেও সব ইচ্ছা সব সময় পূরণ হয় না। তবে, ইচ্ছার সঙ্গে যদি দৃঢ়তা আর মনোবল থাকে তা’হলে সে ইচ্ছা যে বিফলে যায়না সেটি প্রমাণ করেছে আজমেরী। মাত্র ৯ বছরে শততম দেশ ভ্রমন করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তরুণী আসমা। এখন নতুন করে তার ইচ্ছা গোটা বিশ্বকে দেখা।

কাজী আসমা আজমেরী ২০০৮ সালে থাইল্যান্ড ভ্রমণের মধ্য দিয়ে দেশ ভ্রমণ করতে শুরু করেন। এর পর ২০০৯ সালেই ভ্রমণ করেন আরও ৬টি দেশ- ভারত, নেপাল, ভুটান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং। ২০১০ সালে তাকে ভ্রমণের নেশা পেয়ে বসে। সে বছর ঘুরে বেড়ান কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম, ব্রুনেই, চীন, ম্যাকাও, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, সাইপ্রাস, তুরস্ক, মিশর, মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরাত। সব মিলিয়ে ১৪টি দেশ। ২০১১ সালে ঘুরে দেখেন আরও ১৫টি দেশ- স্কটল্যান্ড, ওয়েলস, চেক প্রজাতন্ত্র, স্লোভাকিয়া, স্পেন, জার্মানি, পর্তুগাল, মিয়ানমার, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ। ২০১২ সালে ৫টি দেশ- অস্ট্রেলিয়া, ফিজি, নিউজিল্যান্ড, কুক দ্বীপ ও টঙ্গা। ২০১৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্টসহ ৭টি দেশ। বাকিগুলো হচ্ছে- নিউ ক্যালেডোনিয়া, তাহিতি, সলোমন দ্বীপ, নিউ কিরিবাটি, তাইওয়ান, ভানুয়াতু। ২০১৪ সালে মেক্সিকো, গুয়াতেমালা, এল সালভাডর, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া, কোস্টারিকা, পানামা, কলম্বিয়া, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে, বলিভিয়া, পেরু, ইকুয়েডর মিলিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার ১৩টি দেশে যান। ২০১৫ সালে পোর্টোরিকো, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, হাইতি, বেলিজ, জ্যামাইকা, বাহামা, আরুবা মিলিয়ে আরও ৭ দেশ ভ্রমণ করেন।২০১৬ সালে এক বছরে সর্বোচ্চ ১৯টি দেশ ভ্রমণ করেন। এবছর যান- ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, মন্টিনিগ্রো, কোসোভো, আবলানিয়া, ম্যাসেডোনিয়া, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, মোল্দাভিয়া, পোল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, সুইডেন, ডেনমার্ক, ইতালি, হাঙ্গেরি, সার্বিয়া, নরওয়ে, কুয়েত। ২০১৭ সালে কিউবা, সামোয়া ও কাতার এই তিন দেশ ভ্রমণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন। আর ২০১৮ সালে এসে ফিলিপাইন, মঙ্গোলিয়া, রাশিয়া, কানাডা, জর্জিয়া, বেলারুশ, আজারবাইজান, চেচনিয়া, উজবেকিস্তান হয়ে তুর্কমেনিস্তান-এর মধ্যদিয়ে ১০০টি দেশ ভ্রমণ শেষ করেন।

আসমা জন্মগ্রহণ করেন খুলনার বিখ্যাত কাজী পরিবারে। বড় হয়েছেন খুলনা শহরে। তার বাবার নাম কাজী গোলাম কিবরিয়া। মায়ের নাম কাজী সাহিদা আহমেদ। বাবা মায়ের এক মাত্র মেয়ে কাজী আসমা আজমেরী। আসমা ইকবালনগর গার্লস হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। তারপর খুলনা মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর তিনি নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে (বিবিএ) মার্কেটিং-এ স্নাতক করেন। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে একই বিষয়ে এমবিএ করেন। কাজী আসমা আজমেরী কয়েক বছর ধরে নিউজিল্যান্ডের রেড ক্রসে কাজ করেছেন। তিনি একজন রোটারিয়ানও। বর্তমানে সমাজসেবামূলক কাজে নিজেকে জড়িত রেখেছেন।

 

দেশ ভ্রমণ কিভাবে শুরু হলো জানতে চাই কাজী আসমা আজমেরী বলেন, ছোটবেলায় মায়ের সাথে স্কুলে আসা-যাওয়া করতাম। একদিন স্কুল ছুটির পর তার মা নিতে এলেন না। অবশেষে আমি একাই সাহস করে বাসার উদ্দেশে হাঁটা শুরু করলাম। হাঁটছি আর তাকিয়ে দেখছি আকাশটাকে। আকাশ দেখে মনে হলো, আকাশের শেষ সীমানা দেখব। কিন্তু আকাশের শেষ সীমানা আর দেখা পায় না। সে দিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হাঁটেছিলাম। পরে খুলনা কাজী বাড়ি ছোট্ট মেয়েকে দেখে এলাকাবাসী আমাকে ধরে নিয়ে বাসায় পৌঁচ্ছে দেন। তারপর থেকে দেশ ভ্রমণ করার ইচ্ছাটা লালন করি। আকাশের সীমান খুঁজে চলেছি। যখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই, তখন আমার এক বন্ধুর মা আমাকে বলেছিলেন, তুমি একজন দুর্বল ও যোগত্যহীন মেয়ে। আমার ছেলে ২০ দেশ ঘুরেছে। আর তুমি মাত্র দুটো দেশ ঘুরেছ। এইতেই তোমার অংহকার। বন্ধু মায়ের কথাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে ছিলাম। আমিও দেশ ভ্রমণ করে দেখিয়ে দেব। কমপক্ষে হলেও ৫০টি দেশ ঘুরব। ৫০টি দেশ ভ্রমণ করে থেমে থাকেনি। আমি ঘুরছি। আমি শততম দেশ ভ্রমণ করে ফেলেছি। ইচ্ছা আছে পৃথিবীর সব দেশ ভ্রমণ করব। কাজী আসমা আজমেরী বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের কত না ঘটনা কত না স্মৃতি তার ঝুলিতে। কখন আনন্দের কখন বেদনার। কিছু কিছু দেশে গিয়ে তার অনেক ভোগান্তি হয়েছে, বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু বিশ্বকে ঘুরে ঘুরে দেখার ঐকান্তিক সাধনায় তিনি পিছিয়ে পড়েননি। ২০০৯ সালে ভিয়েতনাম ভ্রমণে গিয়ে ফিরতি টিকিট না থাকায় তাকে ২৩ ঘণ্টা জেলে আটকিয়ে রাখা হয়। তারপর ২০১৪ সালে ব্রাজিল ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে গিয়ে মানিব্যাগসহ ব্যাংকের কার্ড অনেকে কিছু চুরি হয়ে গিয়েছিল। তখন বেশ কয়েকদিন টাকার অভাবে খাওয়ার কষ্ট হয়েছিল তার। আসমা ছোটবেলা থেকেই খেতে খুব পছন্দ করেন। দেশে ভ্রমণে তিনি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিয়ত প্রায় নতুন নতুন খাবার খান। অদ্ভুত রকমে খাবারগুলো বেশি খেয়ে থাকেন। এর মধ্যে তিনি জানান, জর্জিয়ার কিংকালি তার প্রিয় খাবারের একটি। এ ছাড়া পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল খাবারের মধ্যে একটি চায়নার অ্যাবালন ফুড। ভারতের জয়পুরের ফালাক। অস্ট্রেলিয়ার পর্ন কোকটেন। কাজী আসমা আজমেরী বাবা বলেছিলেন, যে দেশে যাবে, সে দেশে গিয়ে আগে জাতীয় জাদুঘর দেখবে। আসমা তাই করেন। 

 

যে দেশে যান, সে দেশে প্রথমেই জাদুঘর দেখেন। জাদুঘর দেখলে তিনি সে দেশের সংস্কৃতি সম্পর্ক ধারণা পেয়ে যান। পৃথিবীর অনেক জাদুঘর দেখেছেন কিন্তু ভালো লেগেছে শিকাগোর ফিল্ডং জাদুঘর। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম জাদুঘর রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ হারমিটেজ। সেখানে গিয়ে তিন বন্ধু একসাথে ঘুরতে ঘুরতে হারিয়ে গিয়েছিলেন। তার সাথে ছিল অস্ট্রেলিয়ার বন্ধু মার্ক ও সুইডেন্টের বন্ধু টয়। কাজী আসমা মিশরীয় পিরামিড থেকে শুরু করে মরক্কোর ইবনে বতুতার বাড়ি, বার্লির সেভেন উন্টার গ্রেট ওয়ান। ফ্রান্সের প্যারিস শহরে আইফেল টাওয়ার। স্ট্যাট অব লিবার্টিসহ বিভিন্ন দেশের ভাস্কর্য দেখেছেন। আসমা মানবাধিকার খবরকে বলেন, অসম্ভবকে সম্ভব করে আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছে সে জন্য আমি কৃতজ্ঞ মা-বাবার প্রতি। এছাড়া যাদের সহযোগিতা আমার শততম দেশ ভ্রমণে সফলতা এসেছে তাদের সবার প্রতি আমি ঋনি। আমার এ অর্জন শুধু আমার নয়, আমি মনে করি এটা সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের অর্জন। আমি পেরেছি বাংলাদেশের পতাকাকে বিশ্বের ১০০ দেশে পৌঁছে দিতে। প্রতিটি দেশে বাংলাদেশের ছাপ রেখে এসেছি। আমার এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে, আমি চাই বিশ্বের প্রতিটি দেশে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে। তিনি বলেন, বিগত দিনে আমাকে যারা সহযোগীতা করেছেন আগামীতেও তাদেরকে পাশে পাবো এই বিশ্বাস আমার আছে।

তিনি বলেন, আমি আমার অলঙ্কার বিক্রি করে ভ্রমণের যাত্রা শুরু করি। কারণ অলঙ্কার পরায় আমার কোনো লাভ হবে না। বাঙালি মেয়েরা শাড়ি কেনে, আমি কিনেছি টিকেট। আমি চাই আমার ভ্রমণ হোক দুঃসাহসিক। আর আমার ভ্রমণ থেকে আমি শিখতে পেরেছি যে আমি যথেষ্ট শক্তিশালী। মেয়েরা দুর্বল নামে যে ধারণা প্রচলিত তা ভুল।
কাজী আসমা আজমেরী জানালেন, মানুষের মঙ্গলের জন্য সেবামূলক কাজ করার প্রবল আগ্রহ তার। সে কারণে মানবিক দিক বিবেচনা করে দেশের অসহায় মানুষের জন্য তিনি একটি চক্ষু হাসপাতাল, একটি ডেন্টাল হাসপাতাল ও একটি ট্রেনিং সেন্টর এবং একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবেন। পাশাপাশি দুস্থ অসহায় মানুষের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে আজীবন তাদের পাশে থাকতে চান খুলনা মেয়ে কাজী আসমা আজমেরী। 

মানবাধিকার খবর

পরিবারের কাছে হস্তান্তর ভারত থেকে উদ্ধার আরো ৭ নারী
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ভারতে পাচার হয়ে যাওয়া আরো সাত নারীকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির (বিএনডব্লিউএলএ) সার্বিক সহায়তায় ১৮ এপ্রিল বিমানযোগে দিল্লী-কলকাতা হয়ে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়। যাদেরকে উদ্ধার করা হয় তারা হচ্ছেন, নারায়নগঞ্জের রুুবিনা আকতার (১৮), ঢাকা দক্ষিন খানের শারমিন আকতার (২১), বাগেরহাট, রাখি বেগম (২৬), ঢাকার জুরাইনের শিল্পি ( ৩১), রংপুরের, আমিনা খাতুন (২২), আলমডাঙ্গা, জেলা : চুয়াডাঙ্গা, রুবিনা খাতুন এবং মুন্সীগঞ্জের মায়া আকতার (২২)। ভারতের দিল্লী থেকে উদ্ধার ৭ নারীকে বাংলাদেশে প্রর্ত্যাবসনের বিষয়ে হায়দ্রাবাদের প্রাজোলা হোম তাদের সার্বিক সহায়তা করে।বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি প্রজেক্ট হেড মালিহা সুলতানা রীনা আক্তার জানান, ভারত থেকে ফিরিয়ে আনা সাত (৭) জনকে হযরত শাহজালাল(র) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে গ্রহন করার পর ঢাকায় অবস্থিত সমিতির সেফহোম ”প্রশান্তি” রেখে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয়। এরপর তাদেরকে ২৫ এপ্রিল পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 
এরআগে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ভারতে পাচার হওয়া ২৪ জন বাংলাদেশি যুবক দীর্ঘ আড়াই বছর ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ৫ এপ্রিল সকালে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরে আসে তারা। ওইদিন বেলা ১১টার দিকে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদেরকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ায় বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে হস্তান্তর করে। 
ইমিগ্রেশন পুলিশ আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদেরকে বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে বেনাপোল পোর্ট থানা কাগজপত্র যাচাই শেষে তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে রাইটস যশোর নামে একটি এনজিও সংস্থার হাতে তুলে দিয়েছে বলে পুলিশ জানায়। ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে ১১ জন কিশোর ও ১৩ জন যুবক রয়েছে। তাদের বাড়ি সাতক্ষীরা, যশোর, নড়াইলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। তারা হচ্ছে- খুলনা জেলার জাফর চৌধুরীর ছেলে জুয়েল চৌধুরী (২৩), মাজেদুল ইসলামের ছেলে সফিকুল ইসলাম (৩৩), বরকত শেখের ছেলে তরিকুল ইসলাম (২৩), আমিন সরদারের ছেলে লিটন মোহাম্মাদ (২৮), শাহাদতের ছেলে রফিকুল ইসলাম (২৬), আব্দুল ছাত্তার খানের ছেলে বাবু খান (২৭), রফিকুল ইসলামের ছেলে রিফাত খান (২২), রেজাউল ইসলামের ছেলে সাগর হোসেন (২৪), আখতার খানের ছেলে রাকিব খান (২৪), রেজাউল শেখের ছেলে হাসান শেখ (২২), জাহাঙ্গীর হাওলাদারের ছেলে রনি হাওলাদার (২৩), যশোর জেলার আমজাদ হোসেনের ছেলে সাজ্জাদ মোল্যা (২৬), আব্দুল হোসেনের ছেলে জামাল মোল্যা (২৪), জহুর আলী সরদারের ছেলে নজরুল ইসলাম (২৩), গফফার গাজির ছেলে ইমাম হোসেন (২২), আবুল হোসেনের ছেলের আল- আমিন (২৩), হাবিবুর রহমানের ছেলে সাদ্দাম বেপারী (২৮), আব্দুল খায়েরের ছেলে আলামিন (২৫), মহাসিন শেখের ছেলে রাজিব শেখ (২০), আবুল খালেকের ছেলে সাব্বির হোসেন (২২), আলমগীর মোলার ছেলে আশরাফ হোসেন (২৫), বাগেরহাট জেলার মহিমুদ এর ছেলে নুর ইসলাম (৪৬), আছাদের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৪৬) ও সাতক্ষীরা জেলার সবেদ আলীর ছেলে আব্দুল গনি (৩৮)।
এছাড়া মানবাধিকার খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক রোটা. মো. রিয়াজ উদ্দিন অনুসন্ধানী অভিযান চালিয়ে গত চার বছরে ভারতে পাচার হয়ে যাওয়া প্রায় ৩০ জন শিশু-নারীকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিয়েছেন তাদের পরিবারের কাছে। উদ্ধার হওয়া এসব শিশু-নারীরা ফিরে পেয়েছে এক নতুন জীবন। ফলে, মহা আনন্দে মাতোহারা এসব পরিবার। সফলতার সঙ্গে একের পর এক শিশু-নারীদেরকে উদ্ধারে সক্ষম হওয়ায় অনেক পরিবার এখন ছুটে আসছেন মানবাধিকার খবর অফিসে। কেউ তার সন্তান, কেউ তার পরিবারের সদস্যকে উদ্ধারে চাইছেন সহায়তা।

বিভিন্ন দেশে পাচার : তৃতীয় বিশ^ বা গরীব দেশ থেকে বিভিন্ন দেশে নারী ও শিশু পাচারের মতো জঘন্যতম, নিকৃষ্ট, অমানবিক ও সমাজবিরোধী অপরাধমূলক কাজটি বহুকাল থেকে চলে আসছে। তবে, বিগত দু’আড়াই যুগ ধরে এই অপরাধের প্রবণতা যেন বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশ থেকেও অসখ্য নারী ও শিশু পাচার হচ্ছে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে। বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির (বিএনডব্লিউএলএ) এর তথ্যে মতে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ২০ হাজার নারী ও শিশু পাচার হচ্ছে।
পাচার রোধে সরকারের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও পাচারকারীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের একাধিক রুট দিয়ে নিত্যনতুন কৌশলে তারা নারী-শিশুদের ফাঁদে ফেলে পাচার করছে। কলেজপড়–য়া ছাত্রীদের বিয়ের প্রলোভন, দরিদ্র-অসহায় নারীদের বিদেশে গৃহপরিচারিকার কাজ, গার্মেন্টের নারীদেরও ভালো কাজের কথা বলে পাচার করা হচ্ছে। আর পাচারের শিকার ৬০ ভাগের বয়সই ১২ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। নারী ও শিশুদের সহজে ফাঁদে ফেলতে পাচার কাজে নারী দালালদের বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে বলে । বিএনডব্লিউএলএ-এর গবেষণা থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভারতীয় একটি চক্র তাদের দালালদের মাধ্যমে প্রথমে পাচারকৃত নারীদের সংগ্রহ করে। আর প্রত্যেক নারীর জন্য দালালদের ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে এসব নারীকে কলকাতা, মুম্বাই, হায়দরাবাদসহ বিভিন্ন শহরের পাচারকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিভিন্ন রুটের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের বিভিন্ন রুট দিয়ে আর সাতক্ষীরার কয়েকটি সীমান্ত দিয়েও ভারতে নারী পাচার হচ্ছে। অন্যদিকে সেন্টার ফর উইমেন্স অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজের তথ্যে, স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি নারী ও শিশু পাচার হয়েছে। এসব পাচার হয়ে যাওয়া উল্লেখসংখ্যক নারীদেরকে দিয়ে ভারত ও পাকিস্তানে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেহ ব্যবসা ছাড়াও নারী-শিশুদের দিয়ে অশ্লীল ছবি নির্মাণ, ঝুঁকিপূর্ণ 

কাজ করানোসহ মধ্যপ্রাচ্যের ধনী ব্যক্তিদের কাছে দাসী হিসেবে বিক্রি করা হয়। পাচারের উদ্দেশে কলকাতা, মুম্বাই ও হায়দরাবাদকেন্দ্রিক পাচারকারী চক্র দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। তারা ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মফস্বলের ও গ্রামের উঠতি বয়সের কিশোরীদের ফাঁদে ফেলছে।

ভারতের যৌনপল্লিতে বাংলাদেশি নারী-শিশু : বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের সঙ্ঘবদ্ধ পাচারকারীরা ভাগ্য বিড়ম্বিত নারী ও শিশুদের সরলতা ও অসচেতনতাকে পুঁজি কওে তাদেরকে পণ্য হিসেবে বিক্রি করে দিচ্ছে যৌনপল্লিতে। ফলে ভারতের যৌনপল্লিগুলোতে শিশু, কিশোরী ও নারীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও কুষ্টিয়া ছাড়াও অন্যান্য এলাকার গ্রামাঞ্চলের অসহায় পরিবারের শিশু-নারীরাই প্রতারক চক্রের খপ্পড়ে পড়ছে। অনেক সময় এসব চক্রের সদস্যরা তাদের কাছের বা দূরের স্বজনদেরকেও টার্গেট করতে কুন্ঠাবোধ করেনা। এদিকে ভারতের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে আসা একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানান, ভারতের মুম্বাই, গোয়া, পুনে এই শহরগুলোর যৌনপল্লিগুলোতে উদ্বেগজনক হারে বাংলাদেশিদের সংখ্যা বাড়ছে। সূত্র মতে, ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৬ সালে ডিসেম্বর পর্যন্ত মুম্বাই, গোয়া, পুনে, 
কেরালা, দামান ও তামিলনাডু থেকে উদ্ধারের পর অন্তত ৩৭০ জন নারী ও শিশুকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। 

নারী-শিশু উদ্ধারে মানবাধিকার খবরের অনুসন্ধান শুরু যেভাবে : ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের কথা। এক কলেজছাত্রীকে পাত্র দেখানোর নাম করে গ্রামের বাড়ি থেকে জেলা শহরে নিয়ে যায় তাঁর চাচাতো দুলাভাই। কলেজছাত্রী সাবানা আক্তারের বাড়ি বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার একটি গ্রামে। পরিবার জানায়, ২৭ ফেব্রুয়ারি পাত্র দেখিয়ে বাড়িতে দিয়ে যাওয়ার কথা বলে মেয়েটিকে নিয়ে যায় আল আমিন (২৮) নামের তাঁর চাচাতো দুলাভাই। পরে মেয়েটি আর বাড়ি ফেরেননি। এ ঘটনায় এক সপ্তাহ বাদে ৮ মার্চ মেয়েটির বাবা আজাহার আলী শেখ কচুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। একমাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পর ১ এপ্রিল রাতে সাবানা ফোন করে তার মায়ের কাছে। ফোনে সে জানায়, দুলাভাই তাকে না জানিয়ে সাতক্ষীরা নিয়ে এক মহিলার হাতে তুলে দেয়। ওই মহিলা তাকে ঢাকায় নিয়ে আসে। সাবানা জানায়, সে ভালো আছে বলে ফোন কেটে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার কল ব্যাক করেও সংযোগ পওয়া যায়নি। এরপর ঢাকায় বসবাসকারি সাবানার মামা মানবিধাকার খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক রোটা. মো. রিয়াজ উদ্দিনকে বিষয়টি জানানোর পর রিয়াজ উদ্দিন ওই নাম্বারে কল দেয়। তখন অন্য এক মহিলা কলটি রিসিভ করে এবং সে জানায় তার নাম সীমা। বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নন্দী গ্রামে। মহিলাকে রিয়াজ উদ্দিন নিজের পরিচয় দিয়ে তার ভাগ্নিকে সে কিভাবে পেল, ভারতেই বা গেল কিভাবে এসব প্রশ্ন করা হলে মহিলাটি এসব প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করে। কিছুটা জোরজবরদোস্তি করার পর মহিলাটি এক পর্যায়ে জানায়, সাবানাকে একটি বাসের মধ্যে অসহায় অবস্থায় দেখে ওর সাথে কথা বলে জানতে পারলাম বাড়ি বাংলাদেশে। মেয়েটির অসহাত্বের কথা বিবেচনা করে ওকে আমার বাড়িতে নিয়ে আসি এবং আমার বিউটি পার্লারে একটি কাজ দিয়েছি। ও এখন ভালো আছে। এসময় মহিলাটি জানায়, অভিভাবকদের কেউ এলে তাঁর হাতে সাবানাকে তুলে দেওয়া হবে। এসময় ভাগ্নি সাথে কথা বলতে চাইলে মহিলাটি জানায় ঘন্টা খানেক পরে কথা বলিয়ে দেব। অথচ, ওই রাতে তাকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি। পরদিন সকাল থেকে চেষ্টার পর বিকেলে সংযোগ পাওয়া গেলে মহিলাটি জানায়, অধাঘন্টা পর কথা বলিয়ে দেব বলে বিষয়টি এড়িয়ে যায়। আগাগোড়া মহিলার অসলগ্ন কথাবার্তায় সন্দেহ হওয়ায় ভাগ্নির খোঁজ করতে সাবানার মামা রিয়াজ উদ্দিন দ্রুত চলে যান কোলকাতায়। কোলকাতায় গিয়ে ওই নাম্বারে কল দেয়া হলে মহিলাটি অসৌজন্যমূলক আচরণ করে কলটি কেটে দেয় এবং ২-৩ দিন নাম্বারটি বন্ধ রাখে। অনেক চেষ্টা করে দিন তিনেক বাদে আবার সংযোগ পাওয়া গেলে এক পর্যায়ে মহিলাটি আমার ভাগ্নির সাথে আমাকে কথা বলিয়ে দেয়। কিন্তুৃ ১০-১২ মিনিটের ফোনালাপে ভাগ্নির মুখ থেকে কোন তথ্য বের করা যায়নি। কারণ, সে যে একটি ভীতিকর পরিস্থিতিতে রয়েছে ফোনের কথাবার্তায় তা’ স্পষ্ঠ আভাষ পাওয়া যায়। প্রকৃত পক্ষে তার মুখ থেকে পাচারকারি চক্রের শিখিয়ে দেয়া বুলি’র প্রতিধ্বনি ফুটে উঠে। এক পর্যায়ে তার অবস্থান সম্পর্কে আমাকে কিছুই বলতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে ফোনটি কেটে দেয়। কয়েক ঘন্টা বাদে আবার কল দেয়া হলে মহিলাটি হুমকির সুরে বলে মেয়েটির ভালো চাইলে এই নাম্বারে আর কল দিবেন না। রিয়াজ উদ্দিন জানান, এই পরিস্থিতিতে পরদিন ৬ মে কলেজ শিক্ষার্থী সাবানাকে উদ্ধারের ব্যাপরে সহায়তা চেয়ে কোলকাতাস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন, পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশন, রাজ্য পুলিশের কাছে আবেদন জানায়। পুলিশ উক্ত মোবাইল ফোন নাম্বারটি ট্র্যাকিং করে জানতে পারে মোবাইলের সিমটি ভারতের বিহার অথবা ঝাড়খ- রাজ্য থেকে ক্রয় করা। তবে, এইটি দিল্লিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। পাচারে সহায়তা করা স্বজনের ওপর চাপ সৃষ্টি, মোবাইল নাম্বারের সূত্র ধরে ও নানা ভাবে অনুসন্ধান চালানো হয়। ঢাকা-কোলকাতা-দিল্লি দৌড়-ঝাপ করতে হয় একাধিকবার। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে নিশ্চিত হওয়া যায় দিল্লি থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে রুদ্রপুরে সাবানা অবস্থান করছে। দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন ও দিল্লির স্টপ নামের একটি মানবাধিকার সংগঠনের সহযোগিতায় প্রায় আড়াই মাস বাদে উত্তরাখন্ড রাজ্যের রুদ্রপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। ফিরে আসে মা-বাবার কোলে। উদ্ধারের পর সাবানা জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ হয়ে তাকে দিল্লিতে এক মহিলার হাতে তুলে দেয়া হয়। ওই মহিলার ইশারায় তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। চার দেয়ালের মধ্যে আটকে রাখা হয় তাকে। অনেক দফা চেষ্টার পর পালিয়ে দিল্লির গ্রীন পার্ক এলাকায় প্রিয়া নামের এক মহিলার কাছে আশ্রয় নেয়। প্রিয়ার কাছে আশ্রয় নেয়ার পর বাংলাদেশে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে সাবানা। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ফেরতের ব্যাপরে সহায়তা চাওয়া হলে প্রিয়া পাশ কাটিয়ে যায়। পরে সাবানা বুঝতে পারে আবারো সে দুষ্টু প্রকৃতির মহিলার খপ্পরে পড়েছে। প্রিয়াও অসৎ উদ্দেশে তাকে আশ্রয় দিয়েছে। সাবানার বাড়ি বাংলাদেশে এবং সে এখন বিপদগ্রস্থ্য জানিয়ে ওই বাড়ি কেয়ার টেকারের অমিতের সাহায্য প্রার্থনা করে। মানবিক দিক বিবেচনা করে অতি গোপনে ও সুকৌশলে সাবানাকে দিল্লি থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে নিজ গ্রামের বাড়ি রুদ্রপুরে নিয়ে যায় অমিত। তারপর পরিবারকে খবর দেয়া হলে সেই খবরের ভিত্তিতে পাচারকারিদের হাত থেকে রক্ষা পায় সাবানা। 
এদিকে প্রায় আড়াই মাস অনুসন্ধান চালিয়ে ভাগ্নিকে পাচারকারির হাত থেকে উদ্ধারে সফল হওয়ার খবরটি চারিদিক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে, পাচার হয়ে যাওয়া শিশু-নারী’র অনেক পরিবারের সদস্য এবং স্বজনেরা ছুটে আসে মানবিধাকার খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক রোটা. মো. রিয়াজ উদ্দিনের কাছে। কেউ তাদের সন্তান আবার কেউ স্বজনকে উদ্ধারে সহায়তা চান তারা। নিজ ভাগ্নি পাচার হয়ে যাওয়ার ঘটনায় অনুভূত মনের ব্যাথা ও মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে শিশু-নারী’ উদ্ধার কাজ শুরু করেন রোটা. মো. রিয়াজ উদ্দিন। এক এক করে ভারতের উত্তরাখ- প্রদেশের রুদ্রপুর থেকে পাচার হয়ে যাওয়া বাংলাদেশী কলেজছাত্রী সাবানা আক্তার চায়না, হায়দ্রাবাদ থেকে গৃহবধু মুন্নি, পশ্চিমবঙ্গের লক্ষীকান্তপুর থেকে শার্শার কিশোর বিপ্লব, হুগলী থেকে গাইবান্ধার মানুষিক প্রতিবন্ধী সালমা, দিল্ল¬ীর তিহার জেল থেকে পটুয়াখালীর বিউটি আক্তার, খুলনার শিশু সুমন, শারীরিক প্রতিবন্ধী সজীব ঢালী ও সর্বশেষ কিশোর ছামিরুলসহ এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ নারী-শিশুকে ভারত থেকে সাফল্যের উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে এনে মা-বাবা ও আইনের হাতে তুলে দিয়ে সাফল্য দেখিয়েছে।
এছাড়া ভারতীয় কিশোরী বৈশাখী ও পাকিস্তানের নাগরিক প্রকৌশলী অনিল কুমারকে বাংলাদেশ থেকে উদ্ধারের সার্বিক সহযোগিতা করে নিজ দেশে পাঠাতে সহায়তা করে মানবাধিকার খবর।

সর্ব শেষ উদ্ধার : ভারত থেকে সর্বশেষ উদ্ধারকৃত যে ৭ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে তারা হচ্ছে, ১. রুুবিনা আকতার (১৮), গ্রাম : আমলা বো থানা- রুপগঞ্জ, জেলা : নারায়নগঞ্জ, ২. শারমিন আকতার এইচ বেথী (২১), গ্রাম- দাকিমপারা,আশকোনা জায়োর,হাজি ক্যাম্প পো: আশকোনা,হাজি ক্যাম্প থানা- দক্ষিন খান , জেলা- ঢাকা. ৩. রাখি বেগম (২৬), গ্রাম- পূর্বশালাবইনা, পো: +থানা- মংলা বন্দর, জেলা- বাগেরহাট,৪. শিল্পি ( ৩১) গ্রাম: পূর্ব জুরাইন মিষ্টির দোকান মোড়,থানা- জুরাইন, জেলা : ঢাকা,৫. আমিনা খাতুন (২২), গ্রাম: জামকুঠি পো: নাওডাঙ্গা, থানা- ফুলবারী, জেলা : রংপুর,৬.মধু@ রুবিনা খাতুন(২৭) গ্রাম: নোলামারি, পো: রামদিয়া থানা- আলমদাঙ্গা, জেলা : চাঁদগাঁও,৭.মায়া আকতার (২২), গ্রাম: বিক্রমপুর , মুন্সিপারা, পো:+থানা- শ্রীনগর, জেলা : মুন্সীগঞ্জ। 
উদ্ধার কাজে সহায়তায় দিয়েছেন যারা : মানবাধিকার খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক রোটা. মো. রিয়াজ উদ্দিন জানান, পাচার হয়ে যাওয়া নারী-শিশু উদ্ধার কাজে দু’দেশে যাদের সহযোগীতা-সহায়তা পেয়েছেন তারা হচ্ছেন, কলকাতাস্থ উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান, কাউন্সিলর ও হেড অব চ্যাঞ্চেলর মিয়া মো. মাইনুল কবির, ফাষ্ট সেক্রেটারী (প্রেস) মো. মোফাক্কারুল ইকবাল, কাউন্সিলর বি এম জামাল হোসেনসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান ও কাজী রিয়াজুল হক, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি গিরিশ চন্দ্র গুপ্ত, পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান নপরাজিৎ মূখার্জি, রাজ্য সভার সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য, লোকসভার সংসদ সদস্য ও চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান শ্রীমতি প্রতিমা ম-ল, আলিপুর ভবানী ভবনে দক্ষিন ২৪ পরগনায় জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্রীমতি শান্তি দাস, জেলা ইন্টেলিজেন্ট ব্রাঞ্চের নিবেদিতা তালুকদার এডিশন সেক্রেটারি ফরেনার্স গভ পশ্চিমবঙ্গ হোম ডিপার্টমেন্ট গৌরাঙ্গ সরকার। জেলা শিশুরক্ষা সমিতির কর্মকর্তা অনিন্দ ঘোষ, কলকাতার সল্টলেকে বিকাশ ভবনে অবস্থিত শিশু রক্ষা প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুচরিতা, প্রথম আলোর কলকাতা প্রতিনিধি অমর সাহা, মানবাধিকার খবর পত্রিকার কলকাতা প্রতিনিধি দিশা বিশ্বাস, ভারত প্রতিনিধি মনোয়ার ইমাম, বারাসাত প্রতিনিধি প্রদীপ রায় চৌধুরী, মানবাধিকার খবরের কলকাতাস্থ আইন উপদষ্টা রাজীব মুখার্জি, নিলোৎপল মৈত্র প্রমুখ।

মানবাধিকার খবরঃ মোঃ রবিউল ইসলাম 

 

উন্নত বাংলাদেশের সন্ধানে- মাহাথির মোহাম্মদের দেশে ঢাবি হিসাববিজ্ঞানের আমরা
                                  

জন্মের পর থেকে মায়ের কোমল কোল থেকে নেমে হাটছি পথ চলছি । চাকার আবিস্কার পায়ে পথ চলা মানুষের গতি বাড়িয়েছে বহুগুন। জন্মস্থান দেশ মহাদেশ পাড়ি দিয়ে মানব মানবী আজ মহাকাষ যাত্রী।দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তঃদেশ যাত্রা আজ কোটি কোটি মানুষের। দেশে বড় বড় দলঁেবধে বড় যাত্রা শেষে আমরা যাত্রা করলাম তুন মাহাথিরের দেশে।কেমন দেশ গড়লেন-ভ্রমন আনন্দও শেখার নেশায়।আমরা ৩৮ জন।বেশী দুরে নয়-বাংলাদেশের পূর্ব সীমা অতিক্রম করে মিয়ানমার-থাইল্যান্ডের পরেই মালয়েশিয়া।একেবারে হিমালয়ের পূর্ব প্রান্তসীমা। হিমালয়ের ল্যাজ বলা চলে। কক্সবাজার টেকনাখ সাগর পাড় ধরে দক্ষিন দিকে এগোলে পাওয়া যায় মালয় উপদ্বীপ।বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে মাত্র ৪ ঘন্টার পথ।মাহাথির আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার।অমীয় সম্ভাবনার সোনাল আশের ১৩০০ নদীর সুন্দর বনের দীর্ঘতম সাগর সৈকতের হিমালয়ে মূল পাদদেশে পলল গঠিত শস্য শ্যামলা আমাদের সোনার বাংলাদেশ।১৯৭১ থেকে আজ অবধি ইতোমধ্যে উন্নত দেশ হবার কথা।আমাদের পূর্বে দেশগুলো সেকথা বলে ।বোয়িং বিমানটি প্রায় ৫০০ যাত্রী নিয়ে উড়তে শুরু করল তখন আমি লিখছিলাম এমন একটি বিমান যেদিন বাংলাদেশ তৈরী করতে পারবে সেইদিন বাংলাদেশ উন্নত হবে।কুয়ালা লামপুর বিমানবন্দরে বিমানটি যখন আস্তে আস্তে অবতরণ করল তখন বন্দরের বিশালতা ব্যাপকতা দেখে প্রশান্ত হল মন। বিমান থেকে নেমে বিমান বন্দরের নক্স্রা সাজানো গোছানো ছুনসান রং ঢং দেখে নতুন দুনিয়ার বাতাস অনুভব করলাম।বুকিত বিতান কুয়ালা লামপুর ঐ দেখাখা যায় টুইন টাওয়ার। নীট এন্ড ক্লীন প্রসস্ত রাস্তা-অদূরে মেট্রোরেল।ক্ষনিকের জন্য ও মাটিতে আমরা।দ্রুত বেরিয়ে পড়লাম।দেখছি শুধু।সবকিছু মন মগজে ।আর তার সংক্ষিপ্ত সার অক্ষর শব্দে।
দেখতে গেলাম গেন্টিং হাইল্যান্ড।কুয়লা লামপুর থেকে ৬০ কি মি দূরে গেন্টিং হাইল্যান্ড।৫৭১০ ফুট উচুতে কেবল স্কাইকারে চড়ে তীব্র কুয়াশা শীত পাড়ি দিয়ে গেন্টিং হাইল্যান্ড এ ওঠা সাহসী ও থিলিং।পাহাড়ের চ’ড়া থেকে প্রায় খাড়াভাবে নামতে থাকে তখন প্রান আতকে ওঠে। ৫৭১০ টি রুম বিশিষ্ট হোটেল বিশ্বের বৃহত্তম।স্কাইকারে চড়ে আমার মনে হল- আমরাও তো স্কাই কার দিয়ে আমাদের পাহাড়ে পাহাড়ে চড়ার ব্যবস্থা করে ভ্রমন-শিক্ষা পিপাসুদের মন ভরাতে পারি।আমাদের কক্সবাজার,রাঙামাটি,বান্দরবন,পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে পারে বিশ্বের আকর্ষনীয় টুরিষ্ট স্পট।
গেলাম পুত্র জায়া। মালয়েশিয়ার সরকারের কেন্দ্রবিন্দু হল পুত্রজায়া । মালয়েশিার সংসদ,মন্ত্রনালয়, সচিবালয়।কুয়ালালামপুর থেকে ২৫ কি. মি দক্ষিনে অত্যন্ত পরিকল্পিত উপায়ে নির্মিত।পুত্রজায়াকে মাহাথিরের ব্রেইন চাইল্ড বলা হয়।ছুটির দিনে ছিল বলে আমরা কোন অফিস ভ্রমন করতে পারিনি।ছোট টুরিষ্ট শীপে করে ভ্রমন করেছি। মনে হতে থাকল আমাদের সংসদ ভবনের কথা।লেকের কথ।ইটিকে বর্বিত ও গভীর করে সিমীত আকারে হলেও টুরিষ্টদের জন্য খুলে দিলে কিছুটা হলেও পুত্রজায়ার মত মনে হবে।আগারগাও, শেরে বাংলানগর, সংসদ এলাকাকে সেভাবে তৈরী করা যায় বলে আমার বিশ্বাস।আমাদের লেকগুলোর গভীরতা বাড়িয়ে টুরিষ্ট শীপ, ভাসমান হোটেল চালু করা য়ায়।
পিঙ্ক মসজিদঃ পুত্রজায়া
পেনাং? পেনাং মালয়েশিয়ার একটি প্রদেশ-কুয়ালা লামপুরের ঊত্তর পশ্চিমে সাগর মাঝে অবস্থান।১৮ কিমি এর ২ টি ব্রীজকরে মূল ভুভাগের সাথে সংযোগ করা হয়েছে। কুয়ালা থেকে উত্তরে পেনাংয়ে পাহাড়ী মসৃন পথে চলতে চলতে মনে হল আরো চলতে চলতে কক্সজাজারে মিলে যাই। তথাকথিত শিক্ষিত মানুষের ভিমরতী; সাম্পান-টলারে করে বাঙালী কাজের সন্ধানে মালয় দ্বীপে মালয়েশিয়া সিংগাপুর যেতে পারলে আমরা যাবার বাস্তা তৈরী করতে পারছি না -রেল তৈরী করছি না! দোহাজারী-কক্সবাবাজার-গনদুম রেল-রোড মিলবে মিয়ানমারের সাথে সে পথ যাবে চীনসহ পূর্ব এশিয়ার সকল দেশে। তাহলে বাংলাদেশ পাবে পূর্ব এশিয়ার সংযোগ আর এ অঞ্চল হবে পৃথিবীর সচচে গুরুত্বপূর্ন অঞ্চল।পেনাং পাতাইয়ার অতিথিরা আসবে আমাদের কক্সবাজারে-সোনার বাংলা হবে পৃথিবী সেরা।
পেনাং
বাটু কেভ ঃ
বাটু নদীর ধারে পাহাড়ের গুহায় হিন্দু মন্দির-২৭২ টি সিড়ি বেয়ে উঠতে হয়।এটি মুরুগাং দেবতার মন্দির। মুরুগাং যুদ্ধের দেবতা।তামিলদের দেবতাও বলা হয়ে থাকে।কুয়ালালামপুর থেকে ১৫ কিমি দূরত্বে অবস্থিত।
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়াঃ
বন্ধু রমজান বলেছিল-রাস্তার কোথাও ভাঙা দেখলাম না।রিক্সা ভিক্ষুক ময়লা নেই।খুব কঠিন নয় রাস্তা ক্লীন করা রাখা।ইচ্ছা থাকলে কি না হয়?কিবরিয়া-ভাবী গেন্টিং ব্যাগ ফেলে এসেছিল।দীর্ঘপথ ফিরে এসে খেয়াল হল। ফিরে গিয়ে দেখল যেখারকার ব্যাগ সেখানেই-কেউ ধরেনি।পেনাং এ কালাম-ভাবী ছেলেকে হারিয়ে ফেলেছিল-পরে ফিরে পেল-অত্যন্ত সাবধান হতে হয় ভ্রমনে।সকলের কথা মনে আছে-সময় স্থানাভাবে লিখছি না।আল্লার অশেষ রহমত মেহেরবানী।কুয়ালাতে শামসু থাকে-ও আমাদের দেখতে এসেছিল। ১০ লক্ষ বাঙালী থাকে।প্রায়শঃ দেশী ভাইকে খুঁজেছি ।সুখে থাকে যেন ওরা। কুয়ালা-মালাক্কা-পেনাং-পুত্রজায়া-যোহর বাহরু-বুকিতবিতান আজশুধু স¥ৃতি-প্রান মন টানে।দেখে যেতে পারব কি মায়াবিনী পৃথিবীটা ঘুরে ঘুরে?ঢাকা-কুয়ালা-কুনমিং রেল-রোড আর কত দূর?বাংলাদেশ;দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার সেতু বন্ধন। সবকিছু ছাড়িয়ে আমার আমাদের বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার থেকে উন্নত হবার মত অমীয় সম্ভাবনার।রমজানের কথিত বিদেশীর মুখে-মালয়েশিয়া শুধু পাম পাম আর পাম। আর বাংলাদেশ-ফসলে ভরা মাঠ-নদী-সুন্দরবন-পাহাড়-সাগর-হাজারো ফল-ফুল-লতাগুল্ম-গাছগাছালি ভরা।তাই প্রতি পায়ে পায়ে নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে বলল-বাংলাদেশ তোমাকে ভালবাসি।চলুন গড়ে তুলি পৃথিবী শ্রেষ্ঠ দেশ-উন্নত বঅংলাদেশ।
মোঃ মহিদুল ইসলাম
যুগ্ম কর কমিশনার, কেন্দ্রীয় কর জরীপ অঞ্চল, ঢাকা।সমাজ কর্ম ঃ পাবলিক প্লেসে ফল বৃক্ষয়ন।
যোগাযোগঃ ঃধীসড়যরফঁষ@মসধরষ.পড়স ০১৭২০৩৪৩৫৬৯
জন্মের পর থেকে মায়ের কোমল কোল থেকে নেমে হাটছি পথ চলছি । চাকার আবিস্কার পায়ে পথ চলা মানুষের গতি বাড়িয়েছে বহুগুন। জন্মস্থান দেশ মহাদেশ পাড়ি দিয়ে মানব মানবী আজ মহাকাষ যাত্রী।দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তঃদেশ যাত্রা আজ কোটি কোটি মানুষের। দেশে বড় বড় দলঁেবধে বড় যাত্রা শেষে আমরা যাত্রা করলাম তুন মাহাথিরের দেশে।কেমন দেশ গড়লেন-ভ্রমন আনন্দও শেখার নেশায়।আমরা ৩৮ জন।বেশী দুরে নয়-বাংলাদেশের পূর্ব সীমা অতিক্রম করে মিয়ানমার-থাইল্যান্ডের পরেই মালয়েশিয়া।একেবারে হিমালয়ের পূর্ব প্রান্তসীমা। হিমালয়ের ল্যাজ বলা চলে। কক্সবাজার টেকনাখ সাগর পাড় ধরে দক্ষিন দিকে এগোলে পাওয়া যায় মালয় উপদ্বীপ।বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে মাত্র ৪ ঘন্টার পথ।মাহাথির আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার।অমীয় সম্ভাবনার সোনাল আশের ১৩০০ নদীর সুন্দর বনের দীর্ঘতম সাগর সৈকতের হিমালয়ে মূল পাদদেশে পলল গঠিত শস্য শ্যামলা আমাদের সোনার বাংলাদেশ।১৯৭১ থেকে আজ অবধি ইতোমধ্যে উন্নত দেশ হবার কথা।আমাদের পূর্বে দেশগুলো সেকথা বলে ।বোয়িং বিমানটি প্রায় ৫০০ যাত্রী নিয়ে উড়তে শুরু করল তখন আমি লিখছিলাম এমন একটি বিমান যেদিন বাংলাদেশ তৈরী করতে পারবে সেইদিন বাংলাদেশ উন্নত হবে।কুয়ালা লামপুর বিমানবন্দরে বিমানটি যখন আস্তে আস্তে অবতরণ করল তখন বন্দরের বিশালতা ব্যাপকতা দেখে প্রশান্ত হল মন। বিমান থেকে নেমে বিমান বন্দরের নক্স্রা সাজানো গোছানো ছুনসান রং ঢং দেখে নতুন দুনিয়ার বাতাস অনুভব করলাম।বুকিত বিতান কুয়ালা লামপুর ঐ দেখাখা যায় টুইন টাওয়ার। নীট এন্ড ক্লীন প্রসস্ত রাস্তা-অদূরে মেট্রোরেল।ক্ষনিকের জন্য ও মাটিতে আমরা।দ্রুত বেরিয়ে পড়লাম।দেখছি শুধু।সবকিছু মন মগজে ।আর তার সংক্ষিপ্ত সার অক্ষর শব্দে।
দেখতে গেলাম গেন্টিং হাইল্যান্ড।কুয়লা লামপুর থেকে ৬০ কি মি দূরে গেন্টিং হাইল্যান্ড।৫৭১০ ফুট উচুতে কেবল স্কাইকারে চড়ে তীব্র কুয়াশা শীত পাড়ি দিয়ে গেন্টিং হাইল্যান্ড এ ওঠা সাহসী ও থিলিং।পাহাড়ের চ’ড়া থেকে প্রায় খাড়াভাবে নামতে থাকে তখন প্রান আতকে ওঠে। ৫৭১০ টি রুম বিশিষ্ট হোটেল বিশ্বের বৃহত্তম।স্কাইকারে চড়ে আমার মনে হল- আমরাও তো স্কাই কার দিয়ে আমাদের পাহাড়ে পাহাড়ে চড়ার ব্যবস্থা করে ভ্রমন-শিক্ষা পিপাসুদের মন ভরাতে পারি।আমাদের কক্সবাজার,রাঙামাটি,বান্দরবন,পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে পারে বিশ্বের আকর্ষনীয় টুরিষ্ট স্পট।
গেলাম পুত্র জায়া। মালয়েশিয়ার সরকারের কেন্দ্রবিন্দু হল পুত্রজায়া । মালয়েশিার সংসদ,মন্ত্রনালয়, সচিবালয়।কুয়ালালামপুর থেকে ২৫ কি. মি দক্ষিনে অত্যন্ত পরিকল্পিত উপায়ে নির্মিত।পুত্রজায়াকে মাহাথিরের ব্রেইন চাইল্ড বলা হয়।ছুটির দিনে ছিল বলে আমরা কোন অফিস ভ্রমন করতে পারিনি।ছোট টুরিষ্ট শীপে করে ভ্রমন করেছি। মনে হতে থাকল আমাদের সংসদ ভবনের কথা।লেকের কথ।ইটিকে বর্বিত ও গভীর করে সিমীত আকারে হলেও টুরিষ্টদের জন্য খুলে দিলে কিছুটা হলেও পুত্রজায়ার মত মনে হবে।আগারগাও, শেরে বাংলানগর, সংসদ এলাকাকে সেভাবে তৈরী করা যায় বলে আমার বিশ্বাস।আমাদের লেকগুলোর গভীরতা বাড়িয়ে টুরিষ্ট শীপ, ভাসমান হোটেল চালু করা য়ায়।
পিঙ্ক মসজিদঃ পুত্রজায়া
পেনাং? পেনাং মালয়েশিয়ার একটি প্রদেশ-কুয়ালা লামপুরের ঊত্তর পশ্চিমে সাগর মাঝে অবস্থান।১৮ কিমি এর ২ টি ব্রীজকরে মূল ভুভাগের সাথে সংযোগ করা হয়েছে। কুয়ালা থেকে উত্তরে পেনাংয়ে পাহাড়ী মসৃন পথে চলতে চলতে মনে হল আরো চলতে চলতে কক্সজাজারে মিলে যাই। তথাকথিত শিক্ষিত মানুষের ভিমরতী; সাম্পান-টলারে করে বাঙালী কাজের সন্ধানে মালয় দ্বীপে মালয়েশিয়া সিংগাপুর যেতে পারলে আমরা যাবার বাস্তা তৈরী করতে পারছি না -রেল তৈরী করছি না! দোহাজারী-কক্সবাবাজার-গনদুম রেল-রোড মিলবে মিয়ানমারের সাথে সে পথ যাবে চীনসহ পূর্ব এশিয়ার সকল দেশে। তাহলে বাংলাদেশ পাবে পূর্ব এশিয়ার সংযোগ আর এ অঞ্চল হবে পৃথিবীর সচচে গুরুত্বপূর্ন অঞ্চল।পেনাং পাতাইয়ার অতিথিরা আসবে আমাদের কক্সবাজারে-সোনার বাংলা হবে পৃথিবী সেরা।
পেনাং
বাটু কেভ ঃ
বাটু নদীর ধারে পাহাড়ের গুহায় হিন্দু মন্দির-২৭২ টি সিড়ি বেয়ে উঠতে হয়।এটি মুরুগাং দেবতার মন্দির। মুরুগাং যুদ্ধের দেবতা।তামিলদের দেবতাও বলা হয়ে থাকে।কুয়ালালামপুর থেকে ১৫ কিমি দূরত্বে অবস্থিত।
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়াঃ
বন্ধু রমজান বলেছিল-রাস্তার কোথাও ভাঙা দেখলাম না।রিক্সা ভিক্ষুক ময়লা নেই।খুব কঠিন নয় রাস্তা ক্লীন করা রাখা।ইচ্ছা থাকলে কি না হয়?কিবরিয়া-ভাবী গেন্টিং ব্যাগ ফেলে এসেছিল।দীর্ঘপথ ফিরে এসে খেয়াল হল। ফিরে গিয়ে দেখল যেখারকার ব্যাগ সেখানেই-কেউ ধরেনি।পেনাং এ কালাম-ভাবী ছেলেকে হারিয়ে ফেলেছিল-পরে ফিরে পেল-অত্যন্ত সাবধান হতে হয় ভ্রমনে।সকলের কথা মনে আছে-সময় স্থানাভাবে লিখছি না।আল্লার অশেষ রহমত মেহেরবানী।কুয়ালাতে শামসু থাকে-ও আমাদের দেখতে এসেছিল। ১০ লক্ষ বাঙালী থাকে।প্রায়শঃ দেশী ভাইকে খুঁজেছি ।সুখে থাকে যেন ওরা। কুয়ালা-মালাক্কা-পেনাং-পুত্রজায়া-যোহর বাহরু-বুকিতবিতান আজশুধু স¥ৃতি-প্রান মন টানে।দেখে যেতে পারব কি মায়াবিনী পৃথিবীটা ঘুরে ঘুরে?ঢাকা-কুয়ালা-কুনমিং রেল-রোড আর কত দূর?বাংলাদেশ;দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার সেতু বন্ধন। সবকিছু ছাড়িয়ে আমার আমাদের বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার থেকে উন্নত হবার মত অমীয় সম্ভাবনার।রমজানের কথিত বিদেশীর মুখে-মালয়েশিয়া শুধু পাম পাম আর পাম। আর বাংলাদেশ-ফসলে ভরা মাঠ-নদী-সুন্দরবন-পাহাড়-সাগর-হাজারো ফল-ফুল-লতাগুল্ম-গাছগাছালি ভরা।তাই প্রতি পায়ে পায়ে নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে বলল-বাংলাদেশ তোমাকে ভালবাসি।চলুন গড়ে তুলি পৃথিবী শ্রেষ্ঠ দেশ-উন্নত বঅংলাদেশ।
মোঃ মহিদুল ইসলাম
যুগ্ম কর কমিশনার, কেন্দ্রীয় কর জরীপ অঞ্চল, ঢাকা।সমাজ কর্ম ঃ পাবলিক প্লেসে ফল বৃক্ষয়ন।
যোগাযোগঃ ঃধীসড়যরফঁষ@মসধরষ.পড়স ০১৭২০৩৪৩৫৬৯
জন্মের পর থেকে মায়ের কোমল কোল থেকে নেমে হাটছি পথ চলছি । চাকার আবিস্কার পায়ে পথ চলা মানুষের গতি বাড়িয়েছে বহুগুন। জন্মস্থান দেশ মহাদেশ পাড়ি দিয়ে মানব মানবী আজ মহাকাষ যাত্রী।দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তঃদেশ যাত্রা আজ কোটি কোটি মানুষের। দেশে বড় বড় দলঁেবধে বড় যাত্রা শেষে আমরা যাত্রা করলাম তুন মাহাথিরের দেশে।কেমন দেশ গড়লেন-ভ্রমন আনন্দও শেখার নেশায়।আমরা ৩৮ জন।বেশী দুরে নয়-বাংলাদেশের পূর্ব সীমা অতিক্রম করে মিয়ানমার-থাইল্যান্ডের পরেই মালয়েশিয়া।একেবারে হিমালয়ের পূর্ব প্রান্তসীমা। হিমালয়ের ল্যাজ বলা চলে। কক্সবাজার টেকনাখ সাগর পাড় ধরে দক্ষিন দিকে এগোলে পাওয়া যায় মালয় উপদ্বীপ।বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে মাত্র ৪ ঘন্টার পথ।মাহাথির আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার।অমীয় সম্ভাবনার সোনাল আশের ১৩০০ নদীর সুন্দর বনের দীর্ঘতম সাগর সৈকতের হিমালয়ে মূল পাদদেশে পলল গঠিত শস্য শ্যামলা আমাদের সোনার বাংলাদেশ।১৯৭১ থেকে আজ অবধি ইতোমধ্যে উন্নত দেশ হবার কথা।আমাদের পূর্বে দেশগুলো সেকথা বলে ।বোয়িং বিমানটি প্রায় ৫০০ যাত্রী নিয়ে উড়তে শুরু করল তখন আমি লিখছিলাম এমন একটি বিমান যেদিন বাংলাদেশ তৈরী করতে পারবে সেইদিন বাংলাদেশ উন্নত হবে।কুয়ালা লামপুর বিমানবন্দরে বিমানটি যখন আস্তে আস্তে অবতরণ করল তখন বন্দরের বিশালতা ব্যাপকতা দেখে প্রশান্ত হল মন। বিমান থেকে নেমে বিমান বন্দরের নক্স্রা সাজানো গোছানো ছুনসান রং ঢং দেখে নতুন দুনিয়ার বাতাস অনুভব করলাম।বুকিত বিতান কুয়ালা লামপুর ঐ দেখাখা যায় টুইন টাওয়ার। নীট এন্ড ক্লীন প্রসস্ত রাস্তা-অদূরে মেট্রোরেল।ক্ষনিকের জন্য ও মাটিতে আমরা।দ্রুত বেরিয়ে পড়লাম।দেখছি শুধু।সবকিছু মন মগজে ।আর তার সংক্ষিপ্ত সার অক্ষর শব্দে।
দেখতে গেলাম গেন্টিং হাইল্যান্ড।কুয়লা লামপুর থেকে ৬০ কি মি দূরে গেন্টিং হাইল্যান্ড।৫৭১০ ফুট উচুতে কেবল স্কাইকারে চড়ে তীব্র কুয়াশা শীত পাড়ি দিয়ে গেন্টিং হাইল্যান্ড এ ওঠা সাহসী ও থিলিং।পাহাড়ের চ’ড়া থেকে প্রায় খাড়াভাবে নামতে থাকে তখন প্রান আতকে ওঠে। ৫৭১০ টি রুম বিশিষ্ট হোটেল বিশ্বের বৃহত্তম।স্কাইকারে চড়ে আমার মনে হল- আমরাও তো স্কাই কার দিয়ে আমাদের পাহাড়ে পাহাড়ে চড়ার ব্যবস্থা করে ভ্রমন-শিক্ষা পিপাসুদের মন ভরাতে পারি।আমাদের কক্সবাজার,রাঙামাটি,বান্দরবন,পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে পারে বিশ্বের আকর্ষনীয় টুরিষ্ট স্পট।
গেলাম পুত্র জায়া। মালয়েশিয়ার সরকারের কেন্দ্রবিন্দু হল পুত্রজায়া । মালয়েশিার সংসদ,মন্ত্রনালয়, সচিবালয়।কুয়ালালামপুর থেকে ২৫ কি. মি দক্ষিনে অত্যন্ত পরিকল্পিত উপায়ে নির্মিত।পুত্রজায়াকে মাহাথিরের ব্রেইন চাইল্ড বলা হয়।ছুটির দিনে ছিল বলে আমরা কোন অফিস ভ্রমন করতে পারিনি।ছোট টুরিষ্ট শীপে করে ভ্রমন করেছি। মনে হতে থাকল আমাদের সংসদ ভবনের কথা।লেকের কথ।ইটিকে বর্বিত ও গভীর করে সিমীত আকারে হলেও টুরিষ্টদের জন্য খুলে দিলে কিছুটা হলেও পুত্রজায়ার মত মনে হবে।আগারগাও, শেরে বাংলানগর, সংসদ এলাকাকে সেভাবে তৈরী করা যায় বলে আমার বিশ্বাস।আমাদের লেকগুলোর গভীরতা বাড়িয়ে টুরিষ্ট শীপ, ভাসমান হোটেল চালু করা য়ায়।
পিঙ্ক মসজিদঃ পুত্রজায়া
পেনাং? পেনাং মালয়েশিয়ার একটি প্রদেশ-কুয়ালা লামপুরের ঊত্তর পশ্চিমে সাগর মাঝে অবস্থান।১৮ কিমি এর ২ টি ব্রীজকরে মূল ভুভাগের সাথে সংযোগ করা হয়েছে। কুয়ালা থেকে উত্তরে পেনাংয়ে পাহাড়ী মসৃন পথে চলতে চলতে মনে হল আরো চলতে চলতে কক্সজাজারে মিলে যাই। তথাকথিত শিক্ষিত মানুষের ভিমরতী; সাম্পান-টলারে করে বাঙালী কাজের সন্ধানে মালয় দ্বীপে মালয়েশিয়া সিংগাপুর যেতে পারলে আমরা যাবার বাস্তা তৈরী করতে পারছি না -রেল তৈরী করছি না! দোহাজারী-কক্সবাবাজার-গনদুম রেল-রোড মিলবে মিয়ানমারের সাথে সে পথ যাবে চীনসহ পূর্ব এশিয়ার সকল দেশে। তাহলে বাংলাদেশ পাবে পূর্ব এশিয়ার সংযোগ আর এ অঞ্চল হবে পৃথিবীর সচচে গুরুত্বপূর্ন অঞ্চল।পেনাং পাতাইয়ার অতিথিরা আসবে আমাদের কক্সবাজারে-সোনার বাংলা হবে পৃথিবী সেরা।
পেনাং
বাটু কেভ ঃ
বাটু নদীর ধারে পাহাড়ের গুহায় হিন্দু মন্দির-২৭২ টি সিড়ি বেয়ে উঠতে হয়।এটি মুরুগাং দেবতার মন্দির। মুরুগাং যুদ্ধের দেবতা।তামিলদের দেবতাও বলা হয়ে থাকে।কুয়ালালামপুর থেকে ১৫ কিমি দূরত্বে অবস্থিত।
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়াঃ
বন্ধু রমজান বলেছিল-রাস্তার কোথাও ভাঙা দেখলাম না।রিক্সা ভিক্ষুক ময়লা নেই।খুব কঠিন নয় রাস্তা ক্লীন করা রাখা।ইচ্ছা থাকলে কি না হয়?কিবরিয়া-ভাবী গেন্টিং ব্যাগ ফেলে এসেছিল।দীর্ঘপথ ফিরে এসে খেয়াল হল। ফিরে গিয়ে দেখল যেখারকার ব্যাগ সেখানেই-কেউ ধরেনি।পেনাং এ কালাম-ভাবী ছেলেকে হারিয়ে ফেলেছিল-পরে ফিরে পেল-অত্যন্ত সাবধান হতে হয় ভ্রমনে।সকলের কথা মনে আছে-সময় স্থানাভাবে লিখছি না।আল্লার অশেষ রহমত মেহেরবানী।কুয়ালাতে শামসু থাকে-ও আমাদের দেখতে এসেছিল। ১০ লক্ষ বাঙালী থাকে।প্রায়শঃ দেশী ভাইকে খুঁজেছি ।সুখে থাকে যেন ওরা। কুয়ালা-মালাক্কা-পেনাং-পুত্রজায়া-যোহর বাহরু-বুকিতবিতান আজশুধু স¥ৃতি-প্রান মন টানে।দেখে যেতে পারব কি মায়াবিনী পৃথিবীটা ঘুরে ঘুরে?ঢাকা-কুয়ালা-কুনমিং রেল-রোড আর কত দূর?বাংলাদেশ;দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার সেতু বন্ধন। সবকিছু ছাড়িয়ে আমার আমাদের বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার থেকে উন্নত হবার মত অমীয় সম্ভাবনার।রমজানের কথিত বিদেশীর মুখে-মালয়েশিয়া শুধু পাম পাম আর পাম। আর বাংলাদেশ-ফসলে ভরা মাঠ-নদী-সুন্দরবন-পাহাড়-সাগর-হাজারো ফল-ফুল-লতাগুল্ম-গাছগাছালি ভরা।তাই প্রতি পায়ে পায়ে নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে বলল-বাংলাদেশ তোমাকে ভালবাসি।চলুন গড়ে তুলি পৃথিবী শ্রেষ্ঠ দেশ-উন্নত বঅংলাদেশ।
মোঃ মহিদুল ইসলাম
যুগ্ম কর কমিশনার, কেন্দ্রীয় কর জরীপ অঞ্চল, ঢাকা।সমাজ কর্ম ঃ পাবলিক প্লেসে ফল বৃক্ষয়ন।
যোগাযোগঃ ঃaxmohidul@gmail.com  ০১৭২০৩৪৩৫৬৯

অধিকার চায় নির্যাতিত মিসু
                                  

রুবিনা শওকত উল্লাহ :
শ^শুর বাড়ীর লোকজনের প্রতিহিংসায় তছনছ করে দিয়েছে তাহমিনা মিসুর সংসার। পরিবার সদস্যদের কু-পরামর্শে তাকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে নির্বোধ স্বামী। ফলে, একমাত্র কন্যা সন্তানকে নিয়ে অমানবিক জীবন-যাপন করছে মিসু। সমাজের কাছে মিসু তার শিশুটি সন্তানের প্রাপ্য ন্যায্য অধিকার ও পারিবারিক সমস্যার সমাধান চায়।
লোকমুখে মানবিক কর্মকা-ের কথা শুনে কয়েকদিন আগে মানবাধিকার খবর পত্রিকা অফিসে আসে তাহমিনা মিসু নামের এক গৃহিনী। সে এই প্রতিবেদককে জানায় তার কষ্টের কথা, শ^শুর বাড়ীর লোকজনের অত্যাচার, মানসিক-শারিরীক নির্যাতন ও নিপীড়নের কথা, স্বামীর অমানবিক আচরণের কথা। তাহমিনা মিসু জানায়, বাবা মুসলিমাদ কেরাণীগঞ্জের ছোট খাটো স্থানীয় ডেন্টিস্ট মো: মজিবর রহমান মা ও এক ভাই নিয়ে তাদের সংসার। মিসুর স্বপ্ন ছিল বড় হবে অনেক লেখাপড়া করবে, তার একটা সুন্দর সুখের সংসার হবে। মিসুর এইচএসসি পরীক্ষার পর বিয়ের প্রস্তাব আসে তখন মিসু বলে এখন বিয়ে নয় আগে পড়া। মা-বাবা তাকে বুঝায় ভালো ঘড় সবসময় আসেনা ওরা যদি পড়তে দেয় তাহলে তোমাকে রাজি হতে হবে। বরপক্ষ রাজি হলো যতটুকু পড়তে চায় বউকে ওরা পড়াবে বাধা নেই। মিসু রাজি হয় বিয়ে হলো সৌদি ফেরৎ আমবাগিচা দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ এর আরশ আলীর পুত্র মাহবুবের সাথে। বিয়ের কিছুদিন পর মিসু স্বামীকে জানায় বি.এ. ভর্তি হবে বলে। তখন শ^শুর বাড়ী খেকে নিষেধ করে দেয় আর পড়তে পারবেনা। এই নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে ঝগড়া সৃষ্টি হয় কোনো লাভ হলোনা। ওদের সিদ্ধান্ত মিসু মেনে নিল। শুরু থেকে সব কিছুতেই ওদের নেগেটিভ চিন্তা ভাবনা। পড়তে গিয়ে বউ যদি কলেজের অন্য ছেলেকে নিয়ে পালায়, এই কারণ দেখিয়ে মিসুর লেখাপড়া বন্ধ করে দেয় শ^শুর বাড়ীর লোকজন। মাহবুব বিদেশ চলে যায়, যাওয়ার পর দীর্ঘ ৯মাস মিসুর কোনো খবর নেয়নি যোগাযোগ পর্যন্ত করেনি। এ বিষয় নিয়ে স্বামীর সাথে কোনো বাড়াবাড়িতে যায়নি, একজন বাঙালী হিসেবে সে চিন্তা করলো এক স্বামীর সংসারে জীবন কাটানো উচিৎ। সব মেনে নিয়ে কিভাবে সংসারকে সুখের করা যায় সেই চেষ্টায় চালিয়ে গেছে মিশু।
এদিকে মাহবুবের সাথে ভাই বোনদের প্রায়ই ঝগড়া হতো কারণ মাহবুবের ১৪ বছরের রোজগার করা অর্থ তার ভাই বোনেরা আত্মসাৎ করে, এই নিয়ে চরম পর্যায় মাহবুব ভাই-বোনদের নামে ৮-২-২০১৩ ইং তারিখে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় জিডি করে। এসব কারণে মাহবুব গ্রামে সালিশ পর্যন্ত হয়। সালিশ বিচারে সবাই ওদেরকে মিল-মিশ করে দেয়। মাহবুবের কেনা দুটি জমি ছিল একটি বিক্রী করে আরেকটিতে বাড়ীর কাজে হাত দেয় সে। ঠিক সে সময় মিসুর জীবনে অন্য রকম আনন্দের মুহূর্ত এলো, সে মা হতে চলেছে। মিসু তখন সব ভুলে চিন্তা করলো যা হবার হয়েছে তার সন্তান এসে যেন একটা ভালো পরিবেশ পায়। তার সব স্বপ্ন তখন গর্ভে থাকা সন্তান কে নিয়ে, সে পরিকল্পনা নিল একটা সুন্দর ভবিষ্যতের। এ অবস্থায় মাহবুব বিদেশ চলে যায়। একাই ছয়তলা ফাউন্ডেশনে চারতলা বাড়ী নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করে মিশু। বাড়ীটি করতে তার অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয় গর্ভে সন্তান নিয়ে। মা-বাবার দেয়া গহনা পর্যন্ত বিক্রী করে এ বাড়ীটি সে ঢেলে সাজায় তার স্বপ্ন দিয়ে।
মিসু তার শ^শুর বাড়ীর নীচতলায় শ^শুরকে নিয়ে থাকতেন। তার নতুন বাড়ীটি ভাড়া দিয়ে দেয়। এমন অবস্থায় হঠাৎ করে তার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। সৌদি থেকে আসে একটি দু:সংবাদ, মাহবুব সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাত ভেঙেছে ও মুখের কথা বন্ধ। কিছুদিন চিকিৎসার পর মাহবুব ভিডিও কলে মিসুকে বলে তুমি যে ভাবেই পার যে কিছুর বিনিময়ে হলেও আমাকে দেশে নিয়ে যাও। সৌদিতে মিসুর বড় ভাসুরও থাকতেন তখন তিনি বলেন মাহবুবের হসপিটালের বিল পরিশোধ ও দেশে পাঠাতে খরচ ৫ লক্ষ টাকা লাগবে। মিসু বলে আমি এতো টাকা কোথায় পাব তখন মিসুর বড় ভাসুর বলে যেভাবেই পার পাঠিয়ে দাও। শ^শুড় বাড়ীর সবাই মিসুকে বলে বাবার বাড়ী থেকে এই ৫ লক্ষ টাকা এনে দাও। তখন মিসু বলে আপনারা ভাই বোন এতো বছর ওর টাকা খেয়েছেন এখন যেহেতু ওর বিপদ অন্তত ওর জন্য হলেও আমাকে আপনারা ৫ লক্ষ টাকা ধার দিন। সবাই বলে উঠে আমরা পারবনা তোমার বাপের বাড়ী থেকে আন, উত্তরে মিসু বলে আমার বাবার অত টাকা নেই, ও আপনাদের ভাই ওকে বাঁচান। এ কথা বলার পর সবাই মিসুর সাথে খারাপ আচরণ এমনকি শারিরীকভাবে তাকে নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে চাপের মুখে উপায়ন্তর না দেখে মেঝ ভাসুরের পরামর্শে নিজের করা বাড়ীর একটি ফ্ল্যাট ভাড়াটিয়ার কাছে বন্ধক রেখে ৫ লক্ষ টাকা নেয় মিসু। সে টাকা মেঝ ভাসুর আক্তারের হাতে তুলে দেয়। এরপর থেকে মিসুর উপর শ^শুর বাড়ীর অত্যাচার-নির্যাতনের মাত্র বেড়ে যায়। কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলেই মারধোর খেতে হতো তাকে। এতো কিছুর পরও ভাবলো স্বামী দেশে ফিরলে শ^শুর বাড়ীর অত্যাচার থেকে রক্ষা পাবে। মাহবুব দেশে ফেরার দিন বিমান বন্দর যেতে চাইলো মিসু। কিন্তু ভাসুর তাকে জানিয়ে দিল একাই ভাইকে আনতে সে বিমানবন্দর যাবে।
নিরুপায় মিসু বাচ্চা নিয়ে পথ চেয়ে রইল স্বামীর অপেক্ষায়। এক সময় স্বামী মাহবুব এলো বাড়িতে। কিন্তু মিসুর দিকে তাকালো না একটুও। এমনকি তার সন্তানকেও স্পর্শ না করে সোজা পাশ কেটে দোতলায় ভাইয়ের রুমে চলে যায়। কিছুক্ষণ বাদে মাহবুব মিসুর সামনে এসে শুধু একটি কথায় জিজ্ঞেস করলো ৫ লক্ষ টাকা কেন বাবার বাড়ী থেকে মিসু এনে দিল না। এ নিয়ে মিসুকে গালি দেয়া শুরু করে মা-বাবাকে নিয়ে। এক পর্যায় পা দিয়ে লাথি মেরে ফ্লোরে ফেলে দেয় মিসুকে। এ ধরনের অত্যাচার দিনে দিনে বাড়তে থাকে। প্রায় প্রতিদিন মারধর শুরু করে মাহবুব। মিসুর শ^শুর বাড়ীর মানুষদের প্রথম থেকেই
অনেক লোভ ছিল, পরে মিসুর প্রতি একটাই কথা বাবার কাছ থেকে টাকা আন। বহু চেষ্টায় সব সহ্য করেও ব্যর্থ হয়ে। অত্যাচারের মুখে বাধ্য হয়ে অবশেষে অনেক দু:খ কষ্ট বুকে নিয়ে এক কাপড়ে মিসু তার সন্তানকে নিয়ে মা-বাবার কাছে চলে আসে। বাবার বাড়ী এসেও শান্তি নেই তার,শ^শুর বাড়ীর লোকেরা চারিদিকে দুর্নাম ছড়ায় মিসু টাকা নিয়ে গহনা সহ পালিয়েছে। বাড়ী বাড়ী গিয়ে ওরা বলে বেড়ায় আজে-বাজে কথা। তখন এ ধরনের কথার প্রেক্ষিতে মিসু সবাইকে একটিই উত্তর দেয় বিয়ের পর থেকে মাহবুব ও তার পরিবার অনেক অত্যাচার করেছে। মাহবুব একসাথে কখনও কোনো মাসে দশ হাজার টাকা মিসুকে দেয়নি। উল্টো বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে মিসুকে চলতে হতো এ ব্যাপারে সব সময় তার বাবাকে বাড়তি চাপ সয়তে হয়। সে জানায়, যদি টাকা পয়সার লোভ হতো জায়গা বিক্রীর টাকা নিয়ে পালাতাম, এতো কষ্ট করে গর্ভে সন্তান নিয়ে নিজের গহনা বেঁচে এই বাড়ীটি নির্মাণ করতাম না। এতো কিছুর পরও মিসু চেয়েছে তার স্বামীকে নিয়ে সংসার সাজাতে কিন্তু সে বার বার ব্যর্থ হয়। মিসুর ভাসুর তার বাবার পরিবারকে নানান ধরনের হুমকি দেয়। তার বাবার বাড়ীটি পর্যন্ত বিক্রী করিয়ে ছাড়বে বলে ভয় দেখায়। এতো কিছু করার পরও মিসুর শ^শুর বাড়ীর মানুষ ক্ষান্ত হননি তার বিরুদ্ধে ওখানকার চেয়ারম্যানের কাছেও সালিসী করে। মিসু তার ভাসুরকে যে ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিল এ টাকার কথা অস্বীকার করে। মিসুর নামে যত ধরনের অপবাদ তাই দেয় এবং মিথ্যে সাক্ষী দেওয়ার জন্য টাকা দিয়ে লোকও আনে। চেয়ারম্যান সাহেব বুঝতে পেরে যুক্তির মাধ্যমে কথার এমন মারপ্যাচে ফেলে ওদের। এক পর্যায়ে ভাসুর আক্তার স্বীকার করে মিসু তাকে ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছে। গত দুই বছর ধরে তাদের বিচার শালিসী চলে আসছে। মিসু যে ফ্ল্যাটটি টাকার বিনিময়ে বন্ধক রেখেছিল ভাড়াটিয়াদের কাছে, ওদের টাকা না দিয়েই তার ভাসুর তাদেরকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছে। গু-া-পা-াদের দিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে ওরা যেন এ বাসা ছেড়ে দূরে চলে যায়। এ অবস্থায় ঐ পরিবারটি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও জানায় মিশু।
প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, মিসুর শ^শুর বাড়ীর লোকদের নজর তার করা ওই ৪তলা বাড়ীটির দিকে। পরিকল্পনা করে মাহবুবকে ওরা কূটকৌশলের মাধ্যমে এমনভাবে ব্রেনওয়াশ করেছে, তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন সব কথা বলেছে, যে কারণে মাহবুব মিসুকে ভুল বুঝে অত্যাচারের মুখে দূরে সরিয়ে দেয়। ঐ বাড়ী থেকে মিসু চলে আসার পর থেকে ২ বছরে মাহবুব স্ত্রী সন্তানের ভরণ পোষণ, কোনো খবরা খবর নেয়নি,এমন কি ফোনেও একটু নিজের সন্তানের সাথে কথা পর্যন্ত বলেনি। বিয়ের পর থেকেই মিসুর সাথে ওদের আচরণ ভালো ছিল না। একটার পর একটা মিথ্যে অপবাদ দিয়ে আসছে। পরিবারের সদস্যদের প্ররোচনায় মাহবুব ও মিসুর সংসার ধ্বংসের পথে। অবুঝ শিশুটিও তার বাবার ¯েœহ-ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত। মিসু তার মেয়ে মিমিসাকে স্কুলে দিয়েছে মেয়েটির খরচ বেড়েছে এ অবস্থায় বাচ্চাটিকে নিয়ে সে অনেক কষ্টে জীবন যাপন করছে। কারণ তার বৃদ্ধ বাবা একাই সংসারের ভার বহন করে, ফলে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এখন মিসুর একটাই চাওয়া তার সন্তানের সুন্দর একটা ভবিষ্যৎ ও তাদের প্রাপ্য ন্যায্য অধিকার।

আট বছরেও বিচার পেল না ফেলানীর পরিবার
                                  

সীমান্তে হত্যাকান্ডের নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত : উপেক্ষিত মানবাধিকার  

নিজস্ব প্রতিবেদক:
আট বছর আগে যে হত্যাকা- বিশ^ বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ঝড় তুলেছিল সারা দুনিয়াজুড়ে। থমকে দাঁড়িয়েছিল মানবতা। সকল নৃশংসতা যেখানে হার মেনেছিল। সেই হত্যার বিচার এখন পর্যন্ত পেল না কিশোরী ফেলানীর পরিবার। এই ধরণের জঘন্যতম হত্যা কা-ের বিচার কার্য দীর্ঘায়িত করার মাধ্যমে চরমভাবে মানবাধিকার উপেক্ষিত হচ্ছে। ফেলানী হত্যাটি বিগত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের ওপর ভারত সরকারের সীমান্ত ভূমিকার একটি নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত।
এখন থেকে আট বছর আগে জীবিকার সন্ধানে সেদিন মা-বাবার সঙ্গে ইটভাটায় কাজ করতে ভারতে গিয়েছিল ১৪ বছর বয়সী বাংলাদেশের কুড়িগ্রামের কিশোরী ফেলানী। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরবেলা কাঁটাতারের প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে নিজ দেশে ফেরার চেষ্টা করে ফেলানী। এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কিশোরী ফেলানীকে লক্ষ্য করে গুলি করে। গুলি করার পর তাকে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়। চার ঘণ্টা প্রাণ নিয়ে পানি পানি করে চিৎকার করতে থাকে ফেলানী। কিন্তু ভারতীয় নরপিশাচদের কাছে এক ফোটা পানিও পায়নি বাংলাদেশের কিশোরী ফেলানী। এক সময় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত এলাকায়
কাঁটাতারে ঝুলন্ত অবস্থায় ছটফট করতে করতে তার মৃত্যু ঘটে। দীর্ঘক্ষণ কাঁটাতারের বেড়ার ওপরেই ঝুলিয়ে রাখা হয় ফেলানীর নিথর দেহ। এই অমানবিক ঘটনার ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিএসএফ’র পৈশাচিক-বর্বোরচিত এই হত্যাকা- নিয়ে দুনিয়াজুড়ে নিন্দা ও সমালোচনা চলতে থাকে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই হত্যাকা-ের জন্য বিএসএফের তীব্রনিন্দা জানায়। শুধু তাই নয় কথিত বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশীর এই দেশটির প্রতি ভারতীয়দের কেমন দৃষ্টিভঙ্গি সেটিও দেখতে পায় বিশ্ববাসী। ফেলানী হত্যাকে বাংলাদেশের ওপর ভারতের আগ্রাসী ভূমিকার নিকৃষ্ট উদাহরণ উল্লেখ করে নিন্দা জানায় বিভিন্ন সংস্থা। বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড়ের পর বিএসএফের ১৮১ নম্বর ব্যাটালিয়নের কনেস্টেবল অমিয় ঘোষের বিরুদ্ধে ভারতীয় দ-বিধির ৩০৪ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুন এবং বিএসএফ আইনের ১৪৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু বিএসএফ’র নিজস্ব আদালত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে (জিএসএফসি) ২০১৩ ও ২০১৫ সালে দুই দফায় যে প্রহসনমূলক বিচার হয়েছিল তাতে ফেলানি হত্যার সঙ্গে জড়িত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ রায়ে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় বাংলাদেশের সব শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে। ফলে মামলাটি আবার পুনর্বিচেনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসএফ। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ফেলানীর পিতা নুরুল ইসলাম নুরু এবং ভারতের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) অভিযুক্তের শাস্তি এবং পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে রিট আবেদন করে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবির মামলাটি দুবার শুনানি ছাড়া সেই মামলারও কোনো অগ্রগতি নেই। আজও সেই বিচারের পথ চেয়ে আছে হতভাগা কিশোরীর পরিবার। ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে ফেলানী খাতুন হত্যা মামলার নিষ্পত্তি কবে হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। হত্যার আট বছরেও ন্যায়বিচার নিয়ে এখনো সন্দেহ প্রকাশ করছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
হত্যা প্রসঙ্গে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বিএসএফের বিশেষ আদালতে ফেলানী হত্যার ন্যায়বিচার না পেয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে মাসুমের সহযোগিতায় রিট আবেদন করেছি। ভারতের সর্বোচ্চ এ আদালতে ফেলানী হত্যার ন্যায়বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। তিনি বলেন, আমি ভারতের কাছে মেয়ে ফেলানী হত্যার সুষ্ঠু ও ন্যয় বিচার চাই। বিচারের তারিখ বারবার পরিবর্তন হওয়ায় আমরা হতাশ হয়েছি। ফেলানীর মা জাহানারা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে কাঁটাতারের বেড়ায় নির্মমভাবে হত্যা করেছে বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ। আমি ভারতের উচ্চ আদালতে তার ফাঁসি চাই। তিনি বলেন,অমিয় ঘোষের ফাঁসি হলে ফেলানীর আত্মা শান্তি পাবে।।
অন্যদিকে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলামের আইন সহায়তাকারী ও কুড়িগ্রাম আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্রাহাম লিংকন সাংবাদিকদের জানান, কাঁটাতারে ফেলানী হত্যার ঘটনা ৭ বছর পেরিয়ে ৮ বছওে পড়েছে। ন্যায়বিচার না পেয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন করেছেন ফেলানীর বাবা। রিট আবেদনের ভিত্তিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ফেলানী হত্যা মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারণ থাকলেও বেঞ্চ পুনর্গঠনের কারণে পিছিয়ে গেছে বিচারিক কার্যক্রম। বিলম্ব হলেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করছি। ওই হত্যার পর থেকে সীমান্তে হত্যার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। ভারত সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। ফেলানীর হত্যার পরও অসংখ্য বাংলাদেশিকে প্রতিনিয়ত জীবন দিতে হচ্ছে প্রতিবেশী এই দেশটির সীমান্তরক্ষীর হাতে।

চার বছরে ত্রিশোধিক নারী-শিশু উদ্ধার : অপেক্ষায় চার
                                  

মানবাধিকার খবরের দেশ-বিদেশে অনুসন্ধানী অভিযান

এই মহতী  উদ্যোগে সরকারি-বেসরকারি ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে সার্বিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহবান।

সৈয়দ সফি :
বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পাচার হচ্ছে প্রায় ২০ হাজারের ও বেশি নারী ও শিশু। তাই, “মানবাধিকার খবর” একটি মানবাধিকার খবর বিষয়ক পত্রিকা হওয়া সত্বেও কেবল সংবাদ পরিবেশন নয়, পাঠকদের কাছে সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া নারী-শিশু উদ্ধারের মতো মহৎ ও সামাজিক-মানবিক কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও মানবাধিকার খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক রোটা. মো. রিয়াজ উদ্দিন অনুসন্ধানী অভিযান চালিয়ে গত চার বছরে ভারতে পাচার হয়ে যাওয়া ত্রিশোধিক শিশু-নারীকে দেশ-বিদেশ থেকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিয়েছেন তাদের পরিবারের কাছে। উদ্ধার হওয়া এসব শিশু-নারীরা ফিরে পেয়েছে এক নতুন জীবন। ফলে, মহা আনন্দে মাতোহারা এসব পরিবার। সফলতার সঙ্গে একের পর এক শিশু-নারীদেরকে উদ্ধারে সক্ষম হওয়ায় অনেক পরিবার এখন ছুটে আসছেন মানবাধিকার খবর অফিসে। কেউ তার সন্তান, কেউ তার পরিবারের সদস্যকে উদ্ধারে চাইছেন সহায়তা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পাচার হয়ে যাওয়া নারী-শিশুদের পরিবারগুলো গরীব ও অভাবগ্রস্থ। ফলে, সময় সাপেক্ষ ও উদ্ধার কাজ ব্যয় বহুল হওয়ায় মানবাধিকার খবরের পক্ষে খুব বেশি তৎপরতা চালানো সম্ভব হয়ে উঠে না। মানব কল্যানে সমাজের দয়াশীল শ্রেনীর মানুষ ও প্রতিষ্ঠান এ ব্যাপরে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিলে আরো অনেককেই উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে জানান মো. রিয়াজ উদ্দিন। মানবাধিকার খবরের সম্পাদক এই প্রতিবেদককে বলেন, একজনকে উদ্ধার করার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার যাতায়াত করতে হয়। ফলে যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, খোঁজ-খবর করা বা উদ্ধারের জন্য অনুসন্ধান চালানোসহ বিভিন্ন কাজে বহুটাকা ব্যয় করতে হয়।
অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্বেও মানবতার কল্যাণে সাধ্যমতো তিনি এই কাজটি চালিয়ে যাচ্ছেন। এই মূহুর্তে বিক্রমপুরের কিশোরী মায়া, বাগেরহাটের কুলসুম, যশোরের কিশোর আপন এবং নড়াইলের আশিকসহ আরো ৪-৫ শিশু-নারী উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

নারী ও শিশু পাচার :
তৃতীয় বিশ^ বা গরীব দেশ থেকে বিভিন্ন দেশে নারী ও শিশু পাচারের মতো জঘন্যতম, নিকৃষ্ট, অমানবিক ও সমাজবিরোধী অপরাধমূলক কাজটি বহুকাল থেকে চলে আসছে। তবে, বিগত দু’আড়াই যুগ ধরে এই অপরাধের প্রবণতা যেন বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশ থেকেও অসখ্য নারী ও শিশু পাচার হচ্ছে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে। বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির (বিএনডব্লিউএলএ) এর তথ্যে মতে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ২০ হাজারের ও বেশি নারী ও শিশু পাচার হচ্ছে।
পাচার রোধে সরকারের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও পাচারকারীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের একাধিক রুট দিয়ে নিত্যনতুন কৌশলে তারা নারী-শিশুদের ফাঁদে ফেলে পাচার করছে। কলেজপড়–য়া ছাত্রীদের বিয়ের প্রলোভন, দরিদ্র-অসহায় নারীদের বিদেশে গৃহপরিচারিকার কাজ, গার্মেন্টের নারীদেরও ভালো কাজের কথা বলে পাচার করা হচ্ছে। আর পাচারের শিকার ৬০ ভাগের বয়সই ১২ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। নারী ও শিশুদের সহজে ফাঁদে ফেলতে পাচার কাজে নারী দালালদের বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে বলে । বিএনডব্লিউএলএ-এর গবেষণা থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভারতীয় একটি চক্র তাদের দালালদের মাধ্যমে প্রথমে পাচারকৃত নারীদের সংগ্রহ করে। আর প্রত্যেক নারীর জন্য দালালদের ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে এসব নারীকে কলকাতা, মুম্বাই, হায়দরাবাদসহ বিভিন্ন শহরের পাচারকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিভিন্ন রুটের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের বিভিন্ন রুট দিয়ে আর সাতক্ষীরার কয়েকটি সীমান্ত দিয়েও ভারতে নারী পাচার হচ্ছে। অন্যদিকে সেন্টার ফর উইমেন্স অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজের তথ্যে, স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি নারী ও শিশু পাচার হয়েছে। এসব পাচার হয়ে যাওয়া উল্লেখসংখ্যক নারীদেরকে দিয়ে ভারত ও পাকিস্তানে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেহ ব্যবসা ছাড়াও নারী-শিশুদের দিয়ে অশ্লীল ছবি নির্মাণ, ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানোসহ মধ্যপ্রাচ্যের ধনী ব্যক্তিদের কাছে দাসী হিসেবে বিক্রি করা হয়। পাচারের উদ্দেশে কলকাতা, দিল্লী, মুম্বাই ও হায়দরাবাদকেন্দ্রিক পাচারকারী চক্র দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। তারা ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মফস্বলের ও গ্রামের উঠতি বয়সের কিশোরীদের ফাঁদে ফেলছে।
ভারতের যৌনপল্লিতে বাংলাদেশি নারী-শিশু :
বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের সঙ্ঘবদ্ধ পাচারকারীরা ভাগ্য বিড়ম্বিত নারী ও শিশুদের সরলতা ও অসচেতনতাকে পুঁজি করে তাদেরকে পণ্য হিসেবে বিক্রি করে দিচ্ছে যৌনপল্লিতে। ফলে ভারতের যৌনপল্লিগুলোতে শিশু, কিশোরী ও নারীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও কুষ্টিয়া ছাড়াও অন্যান্য এলাকার গ্রামাঞ্চলের অসহায় পরিবারের শিশু-নারীরাই প্রতারক চক্রের খপ্পড়ে পড়ছে। অনেক সময় এসব চক্রের সদস্যরা তাদের কাছের বা দূরের স্বজনদেরকেও টার্গেট করতে কুন্ঠাবোধ করেনা। এদিকে ভারতের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে আসা একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানান, ভারতের মুম্বাই, গোয়া, পুনে এই শহরগুলোর যৌনপল্লিগুলোতে উদ্বেগজনক হারে বাংলাদেশিদের সংখ্যা বাড়ছে। সূত্র মতে, ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৬ সালে ডিসেম্বর পর্যন্ত মুম্বাই, গোয়া, পুনে, কেরালা, দামান ও তামিলনাডু থেকে উদ্ধারের পর অন্তত ৩৭০ জন নারী ও শিশুকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

নারী-শিশু উদ্ধারে মানবাধিকার খবরের অনুসন্ধান শুরু যেভাবে :
২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের কথা। এক কলেজছাত্রীকে পাত্র দেখানোর নাম করে গ্রামের বাড়ি থেকে জেলা শহরে নিয়ে যায় তাঁর চাচাতো দুলাভাই। কলেজছাত্রী নাজমা বেগমের (ছদ্বনাম)
বাড়ি বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার একটি গ্রামে। পরিবার জানায়, ২৭ ফেব্রুয়ারি পাত্র দেখিয়ে বাড়িতে দিয়ে যাওয়ার কথা বলে মেয়েটিকে নিয়ে যায় আল আমিন (২৮) নামের তাঁর চাচাতো দুলাভাই। পরে মেয়েটি আর বাড়ি ফেরেননি। এ ঘটনায় এক সপ্তাহ বাদে ৮ মার্চ মেয়েটির বাবা কচুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। একমাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পর ১ এপ্রিল রাতে নাজমা ফোন করে তার মায়ের কাছে। ফোনে সে জানায়, দুলাভাই তাকে না জানিয়ে সাতক্ষীরা নিয়ে এক মহিলার হাতে তুলে দেয়। ওই মহিলা তাকে ঢাকায় নিয়ে আসে। নাজমা জানায়, সে ভালো আছে বলে ফোন কেটে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার কল ব্যাক করেও সংযোগ পওয়া যায়নি। এরপর ঢাকায় বসবাসকারি নাজমার মামা মানবিধাকার খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক রোটা. মো. রিয়াজ উদ্দিনকে বিষয়টি জানানোর পর রিয়াজ উদ্দিন ওই নাম্বারে কল দেয়। তখন অন্য এক মহিলা কলটি রিসিভ করে এবং সে জানায় তার নাম সীমা। বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নন্দী গ্রামে। মহিলাকে রিয়াজ উদ্দিন নিজের পরিচয় দিয়ে তার ভাগ্নিকে সে কিভাবে পেল, ভারতেই বা গেল কিভাবে এসব প্রশ্ন করা হলে মহিলাটি এসব প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করে। কিছুটা জোরজবরদোস্তি করার পর মহিলাটি এক পর্যায়ে জানায়, নাজমাকে একটি বাসের মধ্যে অসহায় অবস্থায় দেখে ওর সাথে কথা বলে জানতে পারলাম বাড়ি বাংলাদেশে। মেয়েটির অসহাত্বের কথা বিবেচনা করে ওকে আমার বাড়িতে নিয়ে আসি এবং আমার বিউটি পার্লারে একটি কাজ দিয়েছি। ও এখন ভালো আছে। এসময় মহিলাটি জানায়, অভিভাবকদের কেউ এলে তাঁর হাতে নাজমাকে তুলে দেওয়া হবে। এসময় ভাগ্নি সাথে কথা বলতে চাইলে মহিলাটি জানায় ঘন্টা খানেক পরে কথা বলিয়ে দেব। অথচ, ওই রাতে তাকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি। পরদিন সকাল থেকে চেষ্টার পর বিকেলে সংযোগ পাওয়া গেলে মহিলাটি জানায়, অধাঘন্টা পর কথা বলিয়ে দেব বলে বিষয়টি এড়িয়ে যায়। আগাগোড়া মহিলার অসলগ্ন কথাবার্তায় সন্দেহ হওয়ায় ভাগ্নির খোঁজ করতে নাজমার মামা রিয়াজ উদ্দিন দ্রুত চলে যান কোলকাতায়। কোলকাতায় গিয়ে ওই নাম্বারে কল দেয়া হলে মহিলাটি অসৌজন্যমূলক আচরণ করে কলটি কেটে দেয় এবং ২-৩ দিন নাম্বারটি বন্ধ রাখে। অনেক চেষ্টা করে দিন তিনেক বাদে আবার সংযোগ পাওয়া গেলে এক পর্যায়ে মহিলাটি আমার ভাগ্নির সাথে আমাকে কথা বলিয়ে দেয়। কিন্তুৃ ১০-১২ মিনিটের ফোনালাপে ভাগ্নির মুখ থেকে কোন তথ্য বের করা যায়নি। কারণ, সে যে একটি ভীতিকর পরিস্থিতিতে রয়েছে ফোনের কথাবার্তায় তা’ স্পষ্ঠ আভাষ পাওয়া যায়। প্রকৃত পক্ষে তার মুখ থেকে পাচারকারি চক্রের শিখিয়ে দেয়া বুলি’র প্রতিধ্বনি ফুটে উঠে। এক পর্যায়ে তার অবস্থান সম্পর্কে আমাকে কিছুই বলতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে ফোনটি কেটে দেয়। কয়েক ঘন্টা বাদে আবার কল দেয়া হলে মহিলাটি হুমকির সুরে বলে মেয়েটির ভালো চাইলে এই নাম্বারে আর কল দিবেন না। রিয়াজ উদ্দিন জানান, এই পরিস্থিতিতে পরদিন ৬ মে কলেজ শিক্ষার্থী নাজমাকে উদ্ধারের ব্যাপরে সহায়তা চেয়ে কোলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশন, রাজ্য পুলিশের কাছে আবেদন জানায়। পুলিশ উক্ত মোবাইল ফোন নাম্বারটি ট্র্যাকিং করে জানতে পারে মোবাইলের সিমটি ভারতের বিহার অথবা ঝাড়খ- রাজ্য থেকে ক্রয় করা। তবে, এইটি দিল্লিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। পাচারে সহায়তা করা স্বজনের ওপর চাপ সৃষ্টি, মোবাইল নাম্বারের সূত্র ধরে ও নানা ভাবে অনুসন্ধান চালানো হয়। ঢাকা-কোলকাতা-দিল্লি দৌড়-ঝাপ করতে হয় একাধিকবার। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে নিশ্চিত হওয়া যায় দিল্লি থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে রুদ্রপুরে নাজমা অবস্থান করছে। দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন ও দিল্লির স্টপ নামের একটি মানবাধিকার সংগঠনের সহযোগিতায় প্রায় আড়াই মাস বাদে উত্তরাখন্ড রাজ্যের রুদ্রপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। ফিরে আসে মা-বাবার কোলে। উদ্ধারের পর নাজমা জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ হয়ে তাকে দিল্লিতে এক মহিলার হাতে তুলে দেয়া হয়। ওই মহিলার ইশারায় তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। চার দেয়ালের মধ্যে আটকে রাখা হয় তাকে। অনেক দফা চেষ্টার পর পালিয়ে দিল্লির গ্রীন পার্ক এলাকায় প্রিয়া নামের এক মহিলার কাছে আশ্রয় নেয়। প্রিয়ার কাছে আশ্রয় নেয়ার পর বাংলাদেশে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে নাজমা। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ফেরতের ব্যাপরে সহায়তা চাওয়া হলে প্রিয়া পাশ কাটিয়ে যায়। পরে নাজমা বুঝতে পারে আবারো সে দুষ্টু প্রকৃতির মহিলার খপ্পরে পড়েছে। প্রিয়াও অসৎ উদ্দেশে তাকে আশ্রয় দিয়েছে। সাবানার বাড়ি বাংলাদেশে এবং সে এখন বিপদগ্রস্থ্য জানিয়ে ওই বাড়ি কেয়ার টেকারের অমিতের সাহায্য প্রার্থনা করে। মানবিক দিক বিবেচনা করে অতি গোপনে ও সুকৌশলে নাজমাকে দিল্লি থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে নিজ গ্রামের বাড়ি রুদ্রপুরে নিয়ে যায় অমিত। তারপর পরিবারকে খবর দেয়া হলে সেই খবরের ভিত্তিতে পাচারকারিদের হাত থেকে রক্ষা পায় নাজমা।
এদিকে প্রায় আড়াই মাস অনুসন্ধান চালিয়ে ভাগ্নিকে পাচারকারির হাত থেকে উদ্ধারে সফল হওয়ার খবরটি চারিদিক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে, পাচার হয়ে যাওয়া শিশু-নারী’র অনেক পরিবারের সদস্য এবং স্বজনেরা ছুটে আসে মানবিধাকার খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক রোটা. মো. রিয়াজ উদ্দিনের কাছে। কেউ তাদের সন্তান আবার কেউ স্বজনকে উদ্ধারে সহায়তা চান তারা। নিজ ভাগ্নি পাচার হয়ে যাওয়ার ঘটনায় অনুভূত মনের ব্যাথা ও মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে শিশু-নারী’ উদ্ধার কাজ শুরু করেন রোটা. মো. রিয়াজ উদ্দিন। এক এক করে ভারতের উত্তরাখ- প্রদেশের রুদ্রপুর থেকে পাচার হয়ে যাওয়া বাংলাদেশী কলেজছাত্রী নাজম বেগম, হায়দ্রাবাদ থেকে গৃহবধু মুন্নি, পশ্চিমবঙ্গের লক্ষীকান্তপুর থেকে শার্শার কিশোর বিপ্লব, হুগলী থেকে গাইবান্ধার মানুষিক প্রতিবন্ধী সালমা, দিল্ল¬ীর তিহার জেল থেকে পটুয়াখালীর বিউটি আক্তার, খুলনার শিশু সুমন, শারীরিক প্রতিবন্ধী সজীব ঢালী, দিল্লী থেকে কলেজ ছাত্রী অর্থি ও সর্বশেষ কিশোর ছামিরুলসহ এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ নারী-শিশুকে ভারত থেকে সাফল্যের উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে এনে মা-বাবা ও আইনের হাতে তুলে দিয়ে সাফল্য দেখিয়েছে।
এছাড়া ভারতীয় কিশোরী বৈশাখী ও পাকিস্তানের নাগরিক প্রকৌশলী অনিল কুমারকে বাংলাদেশ থেকে উদ্ধারের সার্বিক সহযোগিতা করে নিজ দেশে পাঠাতে সহায়তা করে মানবাধিকার খবর।
সংসার করছে, ভালো আছে নাজমা :
স্বজনের সহযোগিতায় কলেজ ছাত্রী নাজমা পাচার হয়ে গিয়েছিল ভারতে। একাধিক পাচারকারি চক্রের কবলে পড়ে চার দেয়ালের অভ্যন্তরে বন্দী হয় সে। তার জীবনে নেমে আসে এক অন্ধকার জগৎ। বন্দী অবস্থায় তাকে অনেক অত্যাচার, অনাচার, নীপিড়ন, নির্যাতন সহ্য করতে হয়। কয়েকদফা প্রচেষ্ঠার পর এক সহানভুতিশীল মানুষের আন্তরিক সহযোগীতায় নিরাপদ আশ্রয় পায় সে। এরপর মামা রিয়াজ উদ্দিন ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্যের রুদ্রপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে উদ্ধার করে। ফলে, প্রায় আড়াই মাসের মাথায় পিতা-মাতার কোলে ফিরে আসে নাজমা ফিরে পায় এক নতুন জীবন। এরই মধ্যে নাজমার বিয়ে হয়ে গেছে। স্বামী একজন মৎস্য ব্যবসায়ী। নাজমার কোলে এখন এক বছর বয়সের পুত্রসন্তান। স্বামী ও শিশুকে নিয়ে সংসার করছে এবং ভালো আছে নাজমা।

মানবাধিকার খবরের সহায়তায় ভারতে ফিরলো বৈশাখী :
ভারতে পাচার হয়ে যাওয়া নারী-শিশু উদ্ধারের পাশাপাশি ভারত থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা এক কিশোরীকে তিন বছর আগে মায়ের কাছে ফেরত পাঠাতে সহায়তা করেছে মানবাধিকার খবর। বৈশাখীর মা নিবেদিতা কান্ডার কলকাতার আলীপুর ভবানী ভবনে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার পুলিশ সুপার শান্তি দাসকে এক লিখিত অভিযোগ জানান। আমার নাবালিকা কন্যা বৈশাখী গোসাবা থানার রাঙা বেলিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেুণীর ছাত্রী। প্রতিদিনের ন্যায় বিগত ২০১৬ সালের ২১ জুন সকাল ১০টায় বৈশাখী স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। স্কুলে যাওয়ার সময় ঠিকাদার ব্যবসায়ী অনিমেশের এক কর্মচারি বৈশাখীকে উক্ততো করার অভিযোগ রয়েছে। তাই, সর্বত্র খোঁজাখুজি করে না পেয়ে উক্ত অনিমেশকে জিজ্ঞাসা করা হলে, সে জানায় তার কর্মচারি স্বপন মালি¬ক বৈশাখীকে ফুসলিয়ে নিয়ে গেছে। এই কথা শুনে বৈশাখীর অভিযোগ করে বলেন, অনিমেশ ও তার স্ত্রীর সহযোগীতায় স্বপন তার নাবালিকা কন্যাকে অপহরণ করে অসৎ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ পাচার করেছে। তার মেয়েকে উদ্ধার ও পাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার জন্য পুলিশের সাহায্য প্রার্থনা করেন বৈশাখীর মা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসবা থানায় একই বছর ২৫ জুন মাসে এ সংক্রান্ত একটি ডায়েরিও করা হয়। যার সং-১২৬। অন্যদিকে বৈশাখীর মায়ের অনুরোধের ভিত্তিতে মানবাধিকার খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক রোটা. মো. রিয়াজ উদ্দিন বিষয়টি অনুসন্ধান করেন। মানবাধিকার খবর অনুসন্ধান করে জানতে পারে, বৈশাখী স্বপনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তখন বৈশাখীর মা-বাবা বৈশাখীকে অন্যত্র বিবাহ দেওয়ার উদ্যোগ নিলে সে স্বপনের সাথে পালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বৈশাখীকে নিয়ে স্বপন বাংলাদেশে চলে আসে এবং বরিশালের বানরী পাড়ায় তার নিজ গ্রামের বাড়িতে উঠে। পরবর্তীতে মানবাধিকার খবরের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশস্থ ভারতীয় দূতাবাস, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, প্রশাসন, র‌্যাব ও পুলিশের বিশেষ ভূমিকায় বৈশাখীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এবং একই বছরের ডিসেম্বর মাসে মানবাধিকার খবরের পক্ষ থেকে বৈশাখীকে সব ধরণের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার মায়ের হাতে তুলে দেয়া হয়।
সর্ব শেষ উদ্ধার :
মানবাধিকার খবরের প্রচেষ্ঠায় সর্ব শেষ ভারত থেকে উদ্ধার করা হয় ১১ বছরের বাংলাদেশী কিশোর মো. ছামিরুল। বাবা-মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে ৬ বছর আগে ২০১৩ সালে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল কিশোর ছামিরুল। অনেকদিন আগে থেকে আজমীর শরীফ দেখবার স্বপ্ন ছিল কিশোর ছামিরুলের। তাই, ভারতে পালিয়ে সোজা চলে যায় আজমীর শরীফ। সেখানে কাটিয়ে দেয় কয়েক বছর। ওখানে এক দোকানে দর্জির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে সে। আজমীর শরীফ দেখবার শখ মিটে গেলে স্বদেশের ফিরে আসবার উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গ অভিমুখে রওনা দেয়। পশ্চিমবঙ্গে কোলকাতায় পৌঁছে ট্রেন থেকে নামার পর রেল স্টেশনেই পুলিশের হাতে ধরা পড়ে ছামিরুল। পরে তাকে পশ্চিমবঙ্গের একটি এনজিও’র হেফাজতে পঠিয়ে দেয় পুলিশ।
এদিকে শোকে কাতর নিখোঁজ হওয়া সন্তানের বাবা-মা’র অনুরোধে মানবাধিকার খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক রোটা. মো. রিয়াজ উদ্দিন ছামিরুলকে উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। একাধিকবার ভারতে গিয়ে ছামিরুলকে উদ্ধারে বিভিন্ন পর্যায়ে অনুসন্ধান ও প্রচেষ্ঠা চালিয়ে সফল হন তিনি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে উদ্ধার করে এনে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে ছামিরুলকে তুলে দেন পিতা-মাতার হাতে।
উদ্ধার কাজে সহায়তায় দিয়েছেন যারা :
মানবাধিকার খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক রোটা. মো. রিয়াজ উদ্দিন জানান, পাচার হয়ে যাওয়া নারী-শিশু উদ্ধার কাজে দু’দেশে যাদের সহযোগীতা-সহায়তা পেয়েছেন তারা হচ্ছেন, দিল্লিীর হাই হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন, কলকাতাস্থ উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান, কাউন্সিলর ও হেড অব চ্যাঞ্চেলর মিয়া মো. মাইনুল কবির, ফাষ্ট সেক্রেটারী (প্রেস) মো. মোফাক্কারুল ইকবাল, কাউন্সিলর বি এম জামাল হোসেনসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান ও কাজী রিয়াজুল হক, জাতীয় মহিলা আইনজিবী সমিতি, যশোর রাইট, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও প্রধান বিচারপতি গিরিশ চন্দ্র গুপ্ত, পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান নপরাজিৎ মূখার্জি, রাজ্য সভার সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য, লোকসভার সংসদ সদস্য ও চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান শ্রীমতি প্রতিমা ম-ল, আলিপুর ভবানী ভবনে দক্ষিন ২৪ পরগনায় জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্রীমতি শান্তি দাস, জেলা ইন্টেলিজেন্ট ব্রাঞ্চের নিবেদিতা তালুকদার এডিশন সেক্রেটারি ফরেনার্স গভ পশ্চিমবঙ্গ হোম ডিপার্টমেন্ট গৌরাঙ্গ সরকার। জেলা শিশুরক্ষা সমিতির কর্মকর্তা অনিন্দ ঘোষ, কলকাতার সল্টলেকে বিকাশ ভবনে অবস্থিত শিশু রক্ষা প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুচরিতা, প্রথম আলোর কলকাতা প্রতিনিধি অমর সাহা, মানবাধিকার খবর পত্রিকার কলকাতা প্রতিনিধি দিশা বিশ্বাস, ভারত প্রতিনিধি মনোয়ার ইমাম, বারাসাত প্রতিনিধি প্রদীপ রায় চৌধুরী, মানবাধিকার খবরের কলকাতাস্থ আইন উপদষ্টা রাজীব মুখার্জি, নিলোৎপল মৈত্র এবং রিয়া সেন প্রমুখ।

সুশাসন ও জবাবদিহিতার চরম অভাব মানুষ হত্যা ও পরিবহনের নৈরাজ্য, কেরে নিচ্ছে নাগরিক অধিকার
                                  


বিশেষ প্রতিবেদন
সুশাসন ও জবাবদিহিতার চরম অভাব
মানুষ হত্যা ও পরিবহনের নৈরাজ্য, কেরে নিচ্ছে নাগরিক অধিকার
॥ মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥
মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, সমস্যা সমাধানে সরকারের মনে হয় এই একটিই উপায় আছে। তা হচ্ছে ‘বন্দুকযুদ্ধ’। যখন দেশে সুশাসন ও জবাবদিহির চরম অভাব হয়, তখনই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ জাতি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে।
পরিবেশ আন্দোলনকর্মী উত্তম হত্যার বিচার, সড়কপথে পরিবহন নৈরাজ্য ও মানুষ হত্যা বন্ধের দাবিতে এক প্রতিবাদ সভায় কথাগুলো বলেন সুলতানা কামাল। রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে ২ জুন সকালে এ সভার আয়োজন করে ২৪টি নাগরিক সংগঠন। গত ২১ মে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডে বাসের ধাক্কার পর ট্রাকচাপায় নিহত হন পরিবেশ আন্দোলনকর্মী উত্তমকুমার দেবনাথ।
সমাবেশে বাপার সহসভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ জন মানুষ মারা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এ দেশের মানুষ যেখানেই যাচ্ছে, মরিয়া হয়ে ছুটে যাচ্ছে। অন্যকে মাড়িয়ে কেন সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এ অসুস্থ প্রতিযোগিতা? এর কারণ পুরো সমাজে অনাচার ঢুকে পড়েছে, যার খেসারত দিচ্ছি আমরা সবাই মিলে।’
সুলতানা কামাল বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই, সংবেদনশীলতা ভোঁতা হয়ে গেছে। যাঁরা দেশ পরিচালনা করছেন, এ বিষয়গুলো নিয়ে তাঁদের ভাবতে হবে।
আমরা সচেতনতা সৃষ্টির জন্য দাঁড়িয়েছি। সমাবেশে বাপার আরেক সহসভাপতি রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় ভুক্তভোগীদের কান্না নীতিনির্ধারকদের কানে পৌঁছায় না। আমরা তাঁদের দেশ পরিচালনার অর্থ জোগান দিচ্ছি, তাঁরা আমাদের স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এ দেশের মানুষকে সোচ্চার হতে হবে।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা, বাপার সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন, যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হাবিব, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, সড়ক পরিবহনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এ কাজে সরকারকে সহায়তা করতে প্রস্তুত তাঁরা।
সমাবেশে উত্তমের পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণ ও ১৬টি দাবি জানিয়েছে ২৪টি সংগঠন।

রাজধানীর সহ গণপরিবহনে নজিরবিহীন নৈরাজ্য অব্যাহত রয়েছে। নগরীর পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগও নেই। ভাড়া আদায়ে স্বেচ্ছাচারিতা, সিটিং, গেটলক, স্পেশাল সার্ভিসের নামে প্রতারণা, যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ফিটনেসবিহীন গাড়ির ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল, ট্রাফিক অব্যবস্থাপনাসহ নানা কারণে গণপরিবহন এখন যাত্রীদুর্ভোগের নিত্য বাহন হয়ে উঠেছে। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের স্বার্থের সিন্ডিকেটের কারণে পদে পদে লাঞ্ছনা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, রাজধানীতে ছোট গাড়ির বিস্তার, সিটি সার্ভিসে ট্রাফিক নৈরাজ্য, চালকদের আইন না মানার প্রবণতা, অতিরিক্ত যাত্রী তুলতে বাসের প্রতিযোগিতা সহ বিভিন্ন কারণেই রাজধানীর গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। উপরন্তু যানবাহনের তুলনায় নগরীতে রাস্তার পরিমাণও কম, মাত্র ৮৮ কিলোমিটার। এর মধ্যেই চলছে রিকশা ও হিউম্যান হলার বাদেই প্রায় সাড়ে ৫ লাখ যানবাহন। বিদ্যমান রাস্তার ও এক-তৃতীয়াংশ বেদখল হয়ে আছে। আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী যান চলাচলের জন্য কোনো শহরের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ রাস্তা থাকা উচিত। রাজধানীতে সড়ক রয়েছে আয়তনের প্রায় ৮ শতাংশ। ফলে যানজট নগরবাসীর নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। তার পরও প্রতিদিন নগরীতে ব্যক্তিগত গাড়ি নামছে ৬০টির বেশি। অন্যদিকে দিনে দেড় শর বেশি মোটরবাইক নামছে রাজপথে। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে রাজধানীর গণপরিবহনে নৈরাজ্য বন্ধ করা যাবে না।
এদিকে নগর পরিবহনে সিটিং, ডাইরেক্ট, গেটলক ও স্পেশাল সার্ভিসের নামে নজিরবিহীন নৈরাজ্য চলছে। মোটরযান আইন, সরকার নির্ধারিত ভাড়া সবকিছু উপেক্ষা করে যথেচ্ছ হয়রানিতে লিপ্ত পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। ফলে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে মালিকদের নির্ধারিত অতিরিক্ত ভাড়া। সেটাও কিলোমিটার হিসাবে নয়, পরিবহন মালিকদের ইচ্ছামতো চাপিয়ে দেওয়া। অল্প দূরত্বের যাত্রীকে গুনতে হচ্ছে পুরো পথের ভাড়া। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অল্প দূরত্বের যাত্রীদের বাসেও তোলা হচ্ছে না। বিশেষ করে সিটি সড়কের মধ্যবর্তী এলাকার যাত্রীদের ভোগান্তিকে সঙ্গী করে গন্তব্যে যাতায়াত করতে হয়। রাজধানীর শেওড়াপাড়া থেকে মতিঝিলে অফিস করেন সরকারি বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য কর্মজীবি মানুষ। তাদের প্রতিদিন সকালে অফিসে যেতে রীতিমতো যুদ্ধে নামতে হয়। সকালে মিরপুর-পল্লবী থেকে যেসব বাস ছেড়ে আসে তার প্রায় সবই “সিটিং”, “গেটলক” হিসেবে দরজা বন্ধ করে মাঝপথের হাজার হাজার যাত্রীর সামনে দিয়ে গন্তব্যের দিকে চলে যায়। তারা হাঁ করে তাকিয়ে থাকে। তালতলা, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়ার যাত্রীরা এ সময় বাসে উঠতে পারেন না। এজন্য তাদের সকাল ৯টার অফিস ধরতে ৭টার আগেই রাস্তায় নামতে হয়।
ভাড়া ডাইরেক্ট, সার্ভিস লোকাল রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসগুলোর মালিক সমিতি সিটিং, ডাইরেক্ট, লোকাল সিটিং, গেটলক, স্পেশাল ইত্যাদি বাহারি নামে যাত্রীপীড়নের সব পন্থা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছে। অনেক বাসে একটাই ভাড়া, যাত্রী যেখানেই নামুক না কেন। ভাড়া ডাইরেক্ট হলেও যাত্রী কম পেলে তারা যে কোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে লোকাল বাসের মতোই যাত্রী তুলতে দ্বিধা করে না। টঙ্গী-সদরঘাট রুটে চলাচলকারী সুপ্রভাত পরিবহন একসময় ছিল এই রুটের সবচেয়ে খারাপ বাস সার্ভিস। এটি এখন ‘সুপ্রভাত স্পেশাল সার্ভিস’ নাম দিয়ে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে। তাদের ১৫ টাকার নিচে কোনো ভাড়া নেই। যাত্রী তোলে হাত দেখালেই। পরিবহন কর্মীরা ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে প্রায়ই দুর্ব্যবহার করেন। সম্পতি ‘আকাশ সুপ্রভাত স্পেশাল সার্ভিস’ নামে উত্তরা দিয়াবাড়ী থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত নতুন সার্ভিস চালু করেছেন তাদেরই সহযোগীরা। জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার দিয়ে টঙ্গী থেকে মিরপুরে চলাচলকারী বাসগুলোও গলা কাটা ভাড়া আদায় করে। শুধু ফ্লাইওভার পার হতেই ২০ টাকা আদায় করে এই রুটে চলাচলকারী সব পরিবহন।
লোকাল বাসের খোঁজ নেই যানবাহন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বিআরটিএর কার্যকর তদারকির অভাবে বর্তমানে মিরপুর-মতিঝিল বা মিরপুর-গুলিস্তান রোডে কোনো লোকাল বাস নেই। সব সার্ভিসই ডাইরেক্ট, সিটিং। কিন্তু অফ পিকআওয়ারে এসব বাস চলে লোকালের মতো, ভাড়া দিতে হয় ডাইরেক্ট বাসের। একই অবস্থা মিরপুর থেকে নগরীর অন্য রুট গুলোয় চলাচলকারী বাস সার্ভিসের ক্ষেত্রেও। মিরপুর থেকে চলাচলকারী চয়েজ, সিল্কসিটি, বিকল্প, বিহঙ্গ, শিখর, ইটিসি, ইউনাইটেড, দিশারী, নিউভিশন, সুপার সিটিং, শিকড়সহ বিভিন্ন কোম্পানির মিনিবাস সিটিং সার্ভিস হিসেবে চলছে। এ ছাড়া বিমানবন্দর সড়কে চলাচলকারী গাজীপুর পরিবহন, প্রভাতী, আজমেরী, সুপ্রভাত স্পেশালসহ আরও কয়েকটি পরিবহন একই কায়দায় সিটিংয়ের নামে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যখন বিভিন্ন কারণে রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা কমে যায় তখন যাত্রীদের দুর্ভোগ পুঁজি করে লোকাল মিনিবাসগুলোও ‘সিটিং সার্ভিস’ ঘোষণা করে। এমনকি দ্বিগুণ-তিন গুণ ভাড়া আদায় করতেও দ্বিধা করে না। অভিযোগ শোনার কেউ নেই : অনিয়ম দূর করা দায়িত্ব যাদের, তাদের নাকের ডগায় এভাবে অনিয়ম ঘটছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএতে যাত্রীদের অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থাই নেই। তারা মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার উদ্যোগ নিলেও পুলিশি সহযোগিতার অভাবে তা কার্যকর হয় না। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা নিজেদের স্বার্থের ব্যাপারে বেপরোয়া। পুলিশও প্রায় সব ক্ষেত্রেই নির্বিকার থাকে। যাত্রী তুলতে এবং আগে যেতে পরস্পরের সঙ্গে বাসের রেষারেষিতে প্রায়ই জীবনহানির মতো ঘটনা ঘটে। মাঝে মাঝেই দুই বাসের মাঝে পড়ে পথচারীর মৃত্যু ঘটছে সড়কে।সম্প্রতি রাজধানীর ফার্মগেটে দুই বাসের মাঝে পড়ে বাঁ হাত হারিয়েছেন রাজীব হোসেন (২২) নামে এক যুবক।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, নগর পরিবহনের নৈরাজ্য রোধে যাত্রীদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। ঢাকা মেট্রোপলিটন রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট কমিটিতে (মেট্রো আরটিসি) যাত্রীদের কোনো প্রতিনিধি নেই। পরিবহন মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে নগর পরিবহনে নৈরাজ্য বন্ধ হচ্ছে না। পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এস এম সালেহ উদ্দিন বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, মহাসড়কে লেন যত বাড়ানো হবে কিংবা সড়ক যত বাড়বে গাড়ির সংখ্যা তত বাড়তে থাকবে। ঢাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক গাড়ি নামছে। এসব ব্যক্তিগত ছোট গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে রাজধানীর ভোগান্তি কমানো যাবে না। তিনি বলেন, সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে চালকদের ট্রাফিক আইন মানতে বাধ্য করতে হবে। ছোট গাড়ি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণকরতে হবে। সড়ক ও ফুটপাথ দখল কঠোরভাবে ঠেকাতে হবে। বন্ধ করতে হবে রাস্তায় অবাধে গাড়ি রাখার প্রবণতা।
বাঁচানো গেল না দুই বাসের চাপায় হাত হারানো রাজীবকে
রাজধানীর কাওরান বাজারে দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানো পর অনেক চেষ্টা করেও বাঁচানো গেলোনা কলেজছাত্র রাজীব হোসেনকে।১৬ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মারা যান তিনি।
৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে বিআরটিসি বাসের সঙ্গে স্বজন পরিবহনের বাস টক্কর দিতে গেলে বাস দু’টির চিপায় পড়ে ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় রাজীবের। সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের এ ছাত্রকে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরদিন ঢামেকে নিয়ে আসা হয়। সেখানে সরকারের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামের রাজীব তৃতীয় শ্রেণিতে থাকাকালে মাকে এবং অষ্টম শ্রেণিতে থাকাকালে বাবাকে হারান। এরপর মতিঝিলে খালা জাহানারা বেগমের বাসায় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। মহাখালীর তিতুমীর কলেজে স্নাতকে ভর্তি হওয়ার পর যাত্রাবাড়ীতে মেসে ভাড়ায় থেকে পড়াশোনা করছিলেন রাজীব। এর পাশাপাশি তিনি একটি কম্পিউটারের দোকানেও কাজ করছিলেন। নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি ছোট দুই ভাইয়ের খরচও চালাতে হতো রাজীবকে।
রাজীবের হাত বিছিন্ন করে ফেলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৪ এপ্রিল বিআরটিসি বাসের চালক ওয়াহিদ (৩৫) ও স্বজন বাসের চালক খোরশেদকে (৫০) গ্রেফতার করা হয়। ৫ এপ্রিল দু’জনকে আদালতে তোলা হলে তাদের দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। ৮ এপ্রিল দু’জনকে পাঠানো হয় কারাগারে। রাজীবের মামলা এখনো ঝুলে আছে হাইকোর্টে
কে দিবে রাজীবের ১ কোটি টাকা ক্ষতি পূরণ বিআরটিসি না স্বজন পরিবহন আদো রাজীবের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবে কি ?
রাজীবের পর চলে গেলেন রোজিনাও
রাজীবের পর চলে গেলেন রাজধানীর বনানীতে বাসের চাপায় পা হারানো রোজিনা আক্তারও। ২৯ এপ্রিল সকাল ৭টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রজিনা(২১)। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে রোজিনার বাবা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ময়মনসিংহের মেয়ে রোজিনা গত ১০ বছর ধরে ঢাকায় সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজার বাসায় কাজ করে আসছিলেন।
গত ২০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টার দিকে বনানীর চেয়ারম্যান বাড়িতে রাস্তা পার হওয়ার সময় বিআরটিসির একটি বাসের চাপায় তার পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর পর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন রোজিনা।
হাসপাতালে প্রথমবার অস্ত্রোপচারে রোজিনার ডান পা উরু থেকে কেটে ফেলা হয়। কিন্তু সেখানে পচন ধরায় আবারও অস্ত্রোপচার করে বাকি অংশটুকু ফেলে দিতে হয়।
এর পর থেকে ক্রমে তার অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকে।
এ ছাড়া গত ১০ এপ্রিল ফার্মগেটে বাসচাপায় পা থেঁতলে যায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী রুনি আক্তারের।

গণপরিবহনে নারীদের হেনস্তা ও যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদী হয়ে উঠছেন নারীরা। ফেসবুকে প্রতিবাদ হচ্ছে।মানববন্ধন হচ্ছে। আবার কেউ কেউ একাই নেমে পড়েছেন রাস্তায়। গতকাল দুপুরে কাঠফাঁটা রোদ মাথায় নিয়ে রাজধানীর শ্যামলীতে সড়কের আইল্যান্ডে পোস্টার হাতে একাই দাঁড়িয়ে ছিলেন এক তরুণী।
হাতে লেখা পোস্টারে যৌন নিপীড়নবিরোধী বার্তা নিয়ে রাস্তায় দাঁড়ানো এই তরুণীর নাম কানিজ ফাতেমা। রাস্তা পারাপারের সময় অনেকই দেখছেন তার এ প্রতিবাদ। এর আগে গত ২ এপ্রিল ধর্ষণের প্রতিবাদ করতে রাজধানীর উত্তরায় একাই পথে নেমেছিলেন আফসানা কিশোয়ার লোচন নামের এক নারী।
কানিজ ফাতেমা পড়াশোনা করছেন সিটি কলেজে। যখনই সুযোগ পান, পোস্টার নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন তিনি। গণপরিবহনে নারীদের হেনস্তা ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করেন। পোস্টারে তিনি লিখেছেন, এই অসুস্থ সমাজটাকে সুস্থ করার দায়িত্ব আমাদের সবার। এগিয়ে আসুন, যেন নিরাপদ থাকে প্রত্যেকটি ঘরের নারী। দিন শেষে যেন কোনো মেয়েকে হতে না হয় ‘ধর্ষিতা’। বন্ধ হোক গণপরিবহনে যৌন হয়রানি, হেল্প লাইন ৯৯৯। মানুষের সচেতনতা বাড়াতেই রাস্তায় নেমেছেন বলে জানান ফাতেমা। বলেন, কেবল আজকেই প্রতিবাদ করছি তা নয়। যখনই সুযোগ হয় তখনই রাস্তায়, বাসে পোস্টার নিয়ে দাঁড়াই। যাতে মানুষ এসব নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। লোকজনের প্রতিক্রিয়া কেমন জানতে চাইলে কানিজ ফাতেমা বলেন, ‘অনেকই প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ নিজে দাঁড়াবেন বলে জানিয়েছেন। আবার অনেকে বিদ্রুপের চোখে দেখেছেন। কেউ বা প্রশ্ন করেছেনÑ আমি যৌন নিপীড়নের কী বুঝি। আবার কেউ বলছেন সব পোশাকের দোষ।’ কেন এভাবে একা দাঁড়ানো প্রশ্নে কানিজ ফাতেমা বলেন, গণপরিবহনে একের পর এক এ ধরনের ঘটনা কোনো সুস্থ সমাজে হতে পারে না। গণপরিবহনে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তাসহ নারীর স্বাধীনভাবে চলাচল নিশ্চিতকরণের দাবি সবার হওয়া উচিত। নাগরিক সমাজকে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাতে আমার এ উদ্যোগ।
রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় গত ২১ এপ্রিল তুরাগ পরিবহনে উত্তরা ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত উত্তরা ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য ওই ছাত্রী উত্তর বাড্ডা থেকে তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। তখন বাসে যাত্রী ছিল ৭-৮ জন। নাটকীয়ভাবে বাস কর্মচারীরা বাস সামনে যাবে বলে যাত্রীদের নামাতে থাকে এবং নতুন কোনো যাত্রী উঠানো বন্ধ রাখে। এসময় ওই ছাত্রীর সন্দেহ হলে তিনি বাস থেকে নামার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাসের হেলপার দরজা বন্ধ করে দেয় এবং কন্ডাক্টর ছাত্রীর হাত ধরে টানতে শুরু করে। কন্ডাক্টর ও হেলপারের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে চলন্ত গাড়ি থেকে রাস্তায় লাফিয়ে পড়েন ওই ছাত্রী। এরপর তিনি অন্য একটি বাসে চড়ে ইউনিভার্সিটিতে চলে আসেন।
বাস ড্রাইভার শ্রমিক ও মালিকদের নৈরাজ্য লাগাম টানতে কঠোর আইন প্রয়োগ ও সরকারের উচচ মহলের কঠিন হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি যাত্রী ও পথচারীদের সচেতনতার সাথে চলাফেরা করতে উদ্ভুত করতে হবে। তাহলে হয়তো পরিবহনের লাগামহীন নৈরাজ্য থেকে রক্ষা পাবে তাজা প্রাণ।

 

ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
                                  

ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
॥ মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল লেখেন, ‘একটি ঘরে ছয় বছর গৃহবন্দী থাকতে থাকতে আমি আজ উল্লেখযোগ্যভাবে অসুস্থ। আমার হার্টে আটটা ব্লক ধরা পড়েছে। এরই মধ্যে কাউকে না জানিয়ে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। সেখানে সিসিইউতে চার দিন ছিলাম। আগামী ১০ দিনের মধ্যে হার্টের বাইপাস সার্জারি করানোর জন্য প্রস্তুত আছি।’ ফেসবুকের এ পোস্টটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার নজরে এলে তিনি আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।‘প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল যেখানে চিকিৎসাসেবা নিতে চান, সেখানেই করা হবে। সেভাবেই সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
শারীরিকভাবে অসুস্থতা অনুভব করলে ১০ মে ঢাকার ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি হন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। চার দিন করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাসেবা নেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে জানা যায়, তাঁর হার্টে আটটি ব্লক ধরা পড়েছে, এর মধ্যে দুটি মেজর। ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও অধ্যাপক লিয়াকত আলী তাঁর চিকিৎসার তত্ত্বাবধানে ছিলেন।
হঠাৎ এই গুণী সংগীত পরিচালকের অসুস্থতার খবর শুনে সংগীতাঙ্গনের সবাই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই বুলবুলের সুস্থতা কামনা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও দিয়েছেন।

কৃষি মাশরুম চাষ : ঘরে বসে আয়
                                  

মাশরুম পরিচিতি: মাশরুম এক প্রকার ছত্রাক। এটা একটি সুস্বাদু খাবার। বর্তমানে বাংলাদেশেও মাশরুম খাবার হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কিন্তু সবধরনের মাশরুম খাবার হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। পৃথিবীতে প্রায়৩ লাখ প্রজাতির মাশরুম রয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার প্রজাতি খাওয়ার অযোগ্য। আনুমানিক ১০ হাজার প্রজাতির মাশরুমের ওপর গবেষণা চলছে। এদের ভেতরে মাত্র ১০ প্রজাতির মাশরুম খাবার হিসেবে গ্রহণ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে ঋষি মাশরুম, গুটি বা বাটন মাশরুম, মিল্ক হোয়াইট মাশরুম, ওয়স্টোর মাশরুম, দস্ট্র মাশরুমের চাষ করা হচ্ছে। অধিক পরিমাণ লাভজনক হওয়ায় অনেক লোক মাশরুম চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। মাশরুম চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা। ক্ষুদ্র বা ব্যাপক পরিসরে মাশরুম চাষ করা যায়। স্পূন থেকে মাশরুম চাষ করা হয়। এই স্পূনগুলো ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়।
যেকোনো সমান জায়গায় কম আলোয় মাশরুম চাষ করা যায়। বীজ বোনার পাঁচ-সাত দিনের মধ্যেই ফলন। আট থেকে দশ হাজার বীজ থেকে দৈনিক ১৫-১৮ কেজি মাশরুম পাওয়া যায়। ১০০ গ্রাম কাঁচা মাশরুম ২০-২৬ টাকা, শুকনা ১৭০-১৮৫ টাকা এবং গুঁড়া ১৭০-১৮৫ টাকা বিক্রি করা যায়। তাই বাড়তি আয়ের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিতে পারেন মাশরুম চাষ। একসময় মাশরুমকে ব্যাঙের ছাতা বলে কত হাসাহাসিই না করেছি আমরা। সেই মাশরুম আজ হয়ে গেছে অর্থকরী সবজি। মাশরুম হলো একধরনের ছত্রাক। পৃথিবীর সর্বত্র এই ছত্রাক সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। গ্রিক, রোমান ও চীনারা মাশরুমকে দেবতার খাবার হিসেবে মনে করেন। প্রাচীন দেব-দেবীদের এটি দিয়ে পুজো দেওয়া হতো। এমনকি রাজা-মহারাজাদেরও মাশরুম উপহার হিসেবে পাঠানো হতো। যেকোনো সবজির চেয়ে এর খাদ্যগুণ বেশি। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, খনিজ পদার্থ ও ভিটামিন আছে। সুস্বাদু এই খাবারের স্বাদ অনেকটা মাংসের মতো। মাশরুম দাঁত ও হাড়ের গঠনে বিশেষ উপযোগী। রক্তহীনতা, বেরিবেরি ও হূদরোগ প্রতিরোধে এবং বহুমূত্র রোগে বিশেষ কার্যকরী। প্রায় তিন লাখ ছত্রাকের মধ্য থেকে মাত্র ১০ প্রজাতির ছত্রাক খাওয়ার উপযোগী।
মাশরুমের ব্যবহার
মাশরুম দিয়ে বিভিন্ন খাবার তৈরি হয়। যেমন- ফ্রাই, চপ, চিংড়ি মাশরুম, মাশরুম চিকেন স্যুপ, নুডলস, কারি, আচার, রোল, সালাদ, মাশরুম চিকেন বিরিয়ানি ইত্যাদি। এ ছাড়া মাশরুম মাংস রান্নায় এবং রূপচর্চায় ব্যবহূত হয়।
যেভাবে শুরু করবেন
মাশরুম চাষের জন্য সবার আগে প্রয়োজন কোন খামারে বা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জানতে পারবেন মাশরুমের চাষাবাদ, সংগ্রহ, সংরক্ষণ প্রণালি, বাজারজাতকরণসহ অন্যান্য বিষয়। প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর প্রয়োজন পুঁজি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঠিক করতে হবে কী পরিমাণ ও কতটুকু জায়গায় চাষ করবেন। এরপর চাষের খরচ, স্থান নির্বাচন, প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ, বীজ সংগ্রহ করতে হবে ইত্যাদি।


পুঁজি যখন এক লাখ
সাধারণত ১৬ ফুট বাই ৩২ ফুট এবং ১০ ফুট উচ্চতার ঘরে সমতলে ছয়টি মাচা বা তাক (১ ফুট অন্তর অন্তর) তৈরি করত হবে। ৪ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৩ ফুট প্রস্থের একটি তাকে ৮০০-১০০০ বীজ চাষ করা যায়। চাষের জন্য বীজ পাওয়া যাবে পুরনো চাষিদের কাছে এবং সাভারে সোবহানবাগের মাশরুম উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পে। বিভিন্ন জাতের মাশরুমের জন্য বিভিন্ন ধরনের তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার প্রয়োজন। বাংলাদেশে গ্রীষ্ম এবং বর্ষায় ‘স্ট্র মাশরুম’ এবং শীতকালে ‘ওয়েস্টার’ জাতের মাশরুম চাষ উপযোগী। তা ছাড়া মিল্কী মাশরুমও চাষ করা যায়। মাশরুম চাষের জন্য প্রাথমিক অবস্থায় ২০-৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে ছনের চালা বা টিনের ঘরে সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ঘরটি গাছের নিচে হলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব। আর তাক তৈরির সময় যাতায়াত, পরিচর্যা ও সংরক্ষণের জন্য ন্যূনতম জায়গা রাখতে হবে। বীজের পরিচর্যা, ফলন তোলা ও সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন প্রকারের উপকরণের প্রয়োজন হবে।
কম সময়ে দ্রুত ফলন
প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সব ঠিক করে বীজ আনার পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে প্রথম ফলন পাওয়া যাবে। একটি বীজ থেকে তিন-চার দিন অন্তর অন্তর ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি বীজ থেকে দু-তিন মাস পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। এভাবে প্রাথমিক অবস্থায় আট থেকে দশ হাজার বীজ থেকে দৈনিক ১৫-১৮ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। তবে বীজ পুরনো হলে ধীরে ধীরে ফলন কমতে থাকে। তখন নতুন বীজ সংযোজন করলে আবার ফলন বেড়ে যায়। যেখানে বিক্রি করবেন বিভিন্ন চেইন শপে (যেমন আগোরা, নন্দন, স্বপ্ন, মিনাবাজার) মাশরুম সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। উত্পাদনকারীরা প্যাকেটজাত করে সরাসরি চেইন শপগুলোতে পাইকারি দরে সরবরাহ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন চায়নিজ রেস্তোরা, ফাস্টফুড খাবারের দোকান এবং রাস্তার ধারে মুখরোচক বিভিন্ন খাবারের দোকানে মাশরুম বিক্রি করা যায়। অনেক ক্রেতা সরাসরি খামারে এসেও মাশরুম কেনেন। তিনভাবে মাশরুম বিক্রি হয়- ফ্রেশ বা কাঁচা মাশরুম, শুকনা মাশরুম এবং পাউডার মাশরুম। কাঁচা মাশরুম ১০০ গ্রাম প্যাকেট হিসেবে ২০-২৬ টাকা, শুকনা ১০০ গ্রাম ১৭০-১৮৫ টাকা এবং পাউডার ১০০ গ্রাম হিসেবে ১৭০-১৮৫ টাকায় বিক্রি হয়।
ঝুঁকি
সঠিক পদ্ধতিতে উৎপাদন করতে না পারলে ঝুঁকির পরিমাণ বেড়ে যায়। সঠিক তাপমাত্রার অভাব ছাড়াও বিভিন্ন পোকামাকড় যেমন- তেলাপোকা, মাছি, ইঁদুর, মাকড়সা ইত্যাদি আক্রমণের শঙ্কা আছে। এসব ক্ষতিকর পোকামাকড়কে সঠিক পদ্ধতিতে প্রতিকার করতে হবে।
প্রশিক্ষণ
সরকারিভাবে জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কেন্দ্র বিনা খরচে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাশরুম চাষের জন্য বিভিন্ন কারিগরি সহায়তা করে থাকে। আর প্রশিক্ষণের জন্য বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং খামার তো রয়েছেই।

পেঁপে চাষ পদ্ধতি
                                  

পেঁপে বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান ফল। কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে এবং পাকা পেঁপে ফল হিসেবে বেশ সমাদর রয়েছে। নাটোর, রাজশাহী, পাবনা, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিকভাবে পেঁপের চাষ করা হয়। পুষ্টিমানে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এই ফল মানব দেহে রোগ প্রতিরোধে কাজ করে। পেঁপে স্বল্প মেয়াদী ফল, এর চাষের জন্য বেশি জায়গারও প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আঙ্গিনায় দু’চারটি গাছ লাগালে তা থেকে সারা বছর সবজি ও ফল পাওয়া যায়।
পুষ্টিমান: পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি ও আয়রন বিদ্যমান। প্রতি ১০০ গ্রাম ভক্ষণযোগ্য পাকা পেঁপেতে ৮৮.৪ ভাগ জলীয় অংশ, ০.৭ গ্রাম খনিজ, ০.৮ গ্রাম আঁশ, ১.৯ গ্রাম আমিষ, ০.২ গ্রাম চর্বি, ৮.৩ গ্রাম শর্করা, ৩১.০ মি.গ্রা.লৌহ, ০.০৮ মি.গ্রা. ভিটামিন বি-১, ০.০৩ মি.গ্রা. বি-২, ৫৭.০ মি.গ্রা. ভিটামিন সি, ৮১০০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন ও ৪২ কিলোক্যালরী খাদ্য শক্তি রয়েছে।
ওষুধিগুণ: অজীর্ণ, কৃমি সংক্রমণ, আলসার, ত্বকে ঘা, একজিমা, কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা ডিপথেরিয়া, আন্ত্রিক ও পাকস্থলীর ক্যানসার প্রভৃতি রোগ নিরাময়ে কাঁচা পেঁপের পেপেইন ব্যবহার করা হয়। পেঁপের আঠা ও বীজ কৃমিনাশক প্লীহা যকৃতের জন্য উপকারী।
জাত: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৯৯২ সালে শাহী নামের একটি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করে। জাতটির  বৈশিষ্ট্য হলো- এটি একটি একলিঙ্গী জাত। গাছের উচ্চতা ১.৬ থেকে ২.০ মিটার। কান্ডের খুব নিচু থেকে ফল ধরে। ফল ডিম্বাকৃতি এবং ওজন ৮০০ থেকে ১০০০ গ্রাম। ফল প্রতি বীজের সংখ্যা ৫০০ থেকে ৫৫০ টি। রং গাঢ় কমলা থেকে লাল। ফল বেশ মিষ্টি ও সুস্বাদু। গাছ প্রতি ফলের সংখ্য ৪০ থেকে ৬০টি। জাতটি দেশের সব জায়গায় চাষ উপযোগী।
জমি নির্বাচন ও তৈরী: পেঁপে গাছ মোটেও জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। তাই পেঁপের জন্য নির্বাচিত জমি হতে হবে জলাবদ্ধতা মুক্ত এবং সেচ সুবিধাযুক্ত। জমি বারবার চাষ ও মই দিয়ে উত্তমরূপে তৈরী করতে হবে। দ্রুত পানি নিকাশের সুবিধার্থে বেড পদ্ধতি অবলম্বন করা উত্তম। পাশাপাশি দু’টি বেডের মাঝে ৩০সে.মি চওড়া এবং ২০সে.মি. গভীর নালা থাকবে। নালাসহ প্রতিটি বেড ২মিটার চওড়া এবং জমি অনুযায়ী লম্বা হবে।
চারা তৈরী: পেঁপের চার বীজতলা ও পলিথিন ব্যাগে তৈরী করা যায়। বীজতলায় চারা তৈরীর ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ সে.মি. সারি করে প্রতি সারিতে ৩ থেকে ৪ সে.মি. গভীরে বীজ বপন করতে হবে। পলিথিন ব্যাগে চারা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ১৫*১০ সে.মি. আকারের পলিব্যাগে সমপরিমাণ পলি মাটি, বালি ও পচা গোবরের মিশ্রণ দ্বারা প্রায় সম্পূর্ণরূপে ভর্তি করতে হবে। পলিব্যাগের তলায় ২ থেকে ৩টি ছিদ্র করতে হবে এবং প্রতিটি ব্যাগে ২ থেকে ৩টি বীজ বপন করতে হবে। বীজ বপনের পর ২ থেকে ৩ দিন অন্তর পানি দিতে হবে। বপনের ১৫ থেকে ২০ দিন পর চারা বের হয় এবং ৪০ থেকে ৫০ দিন পর তা রোপণের উপযোগী হয়।
বীজ ও চারার পরিমাণ: পেঁপের জন্য ২*২ মি. দূরত্বে গত তৈরী করে প্রতি গর্তে ৩টি করে চারা রোপণ করা হলে হেক্টর প্রতি ৭৫০০ চারা লাগবে এব শেষাবধি ২৫০০ গাছ থাকবে। এই সংখ্যক সুস্থ সবল চারা পেতে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়। তবে হাইব্রীড পেঁপের জন্য ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম বীজই যথেষ্ঠ।
গর্ত তৈরী: চারা রোপণের ১৫ থেকে ২০ দিন পূর্বে বেডের মাঝ বরাবর ২ মিটার দূরত্বে ৬০* ৬০*৪৫ সে.মি. আকারে গর্ত তৈরী করতে হবে। গর্ত প্রতি ১৫ কেজি পচা গোবর, ৫০০ গ্রাম টিএসপি, ২৫০ গ্রাম জিপসাম, ২০ গ্রাম বরিক এসিড এবং ২০ গ্রাম জিংক সালফেট সার প্রয়োগ করে মাটির সাথে ভালভাবে মেশাতে হবে। সার মিশ্রিত মাটি দ্বারা গর্ত পূরণ করে সেচ দিতে হবে।
বীজ বপন ও চারা রোপণের সময়: আশ্বিন এবং পৌষ মাস হল পেঁপের বীজ বপনের উত্তম সময় এবং বীজ বপনের ৪০ থেকে ৫০ দিন পর অর্থাত মাঘ-ফালগুণ মাসে চারা রোপণের উপযোগী হয়।
চারারোপণ: চারা রোপণের আগে গর্তের মাটি ভালভাবে উলটপালট করে নিতে হবে। প্রতি গর্তে ৩০সে.মি. দূরত্বে ত্রিভূজ আকারে ৩টি করে চারা রোপণ করতে হবে। বীজ তলায় উৎপাদিত চারার উন্মুক্ত পাতা গুলি রোপণের আগে ফেলে দিলে রোপণ করা চারার মৃত্যু হার হ্রাস পায় এবং চারা দ্রুত প্রতিষ্ঠিত হয়। পলিব্যাগে উৎপাদিত চারার ক্ষেত্রে পলিব্যাগটি খুব সাবধানে অপসারণ করতে হবে, যাতে মাটির বলটি ভেঙ্গে না যায়। পড়ন্ত বিকেল চারা রোপণের জন্য উত্তম সময়। রোপণের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে চারার গোড়া বীজতলা বা পলিব্যাগে মাটির যতটা গভীরে ছিল তার চেয়ে গভীরে না যায়।
গাছে সার প্রয়োগ: ভাল ফলন পেতে হলে পেঁপেতে সময় মতো সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে। প্রতি গাছে ৪৫০ থেকে ৫০০ গ্রাম ইউরিয়া এবং ৪৫০ থেকে ৫০০ গ্রাম এমওপি সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। চারা রোপণের এক মাস পর হতে প্রতিমাসে গাছ প্রতি ৫০ গ্রাম ইউরিয়া ও ৫০ গ্রাম এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে। গাছে ফুল আসার পর এই মাত্রা দ্বিগুণ করতে হবে। মাটিতে রসের অভাব হলে পানি সেচের ব্যবস্থা করতে হবে।
পরিচর্যা: পেঁপের জমি সব সময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। বর্ষা মৌসুমে আগাছা দমন করতে গিয়ে মাটি যাতে বেশি আলগা না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
পানি সেচ ও নিকাশ: শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সেচ দিতে হবে। সেচের ও বৃষ্টির পানি যাতে জমিতে জমে না থাকে সে জন্য পানি নিকাশের সুব্যবস্থা রাখতে হবে।
রোগবালাই ও পোকামাকড় দমন: পেঁপের রোগবালাইয়ের মধ্যে ঢলেপড়া ও কান্ডপচা, এ্যানথ্রাকনোজ, মোজাইক ও পাতা কোঁকড়ানো রোগ অন্যতম। আর পোকার মধ্যে মিলিবাগ উল্লেখযোগ্য।
ঢলেপড়া ও কান্ডপচা রোগ: মাটি স্যাঁতস্যাঁতে থাকলে বীজতলায় চারায় ঢলে পড়া রোগ দেখা দিতে পারে। এছাড়া বর্ষাকালে কান্ডপচা রোগ দেখা দিতে পারে। কান্ডপচা রোগ হলে গাছের গোড়ায় বাদামী বর্ণের পানি ভেজা দাগের সৃষ্টি হয়। আক্রান্ত চারা গাছ মারা যায় এবং ঢলে পড়ে। প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা হিসেবে বীজতলার মাটি বীজ বোনার আগে শুকনা রাখতে হবে এবং সিকিউর নামক ছত্রাক নাশক ২ থেকে ৩ গ্রাম প্রতি কেজি বীজের সাথে মিশিয়ে শোধন করতে হবে। এ রোগের প্রতিকার হিসেবে রোগাক্রান্ত চারা গাছ উঠিয়ে পুড়ে ফেলতে হবে। এ ছাড়া প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম রিডোমিল এম জেড-৭২ ছত্রাকনাশক মিশিয়ে আক্রান্ত কান্ডে ছিটিয়ে দিলে সুফল পাওয়া যায়।
এ্যানথ্রাকনোজ: এ রোগের কারণে ফলের গায়ে বাদামী পচন রোগ দেখা দেয়। ফল খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যায়।
প্রতিকার: ২ গ্রাম নোইন বা ব্যাভিস্টিন নামক ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানির সাথে মিশিয়ে ১০ থেকে ১৫ দিন পর পর ২ থেকে ৩বার ফলে গায়ে স্প্রে করতে হবে।

†cu†c evsjv†`†ki GKwU Ab¨Zg cªavb dj| KvuPv †cu†c mewR wn†m†e Ges cvKv †cu†c dj wn†m†e †ek mgv`i i†q†Q| bv†Uvi, ivRkvnx, cvebv, h†kvimn †`†ki wewfbœ ¯’v†b evwYwR¨Kfv†e †cu†ci Pvl Kiv nq| cywógv†b AZ¨šÍ mg„× GB dj gvbe †`†n †ivM cªwZ†iv†a KvR K†i| †cu†c ¯^í †gqv`x dj, Gi Pv†li Rb¨ †ewk RvqMviI cª†qvRb nq bv| evwoi Avw½bvq `yÕPviwU MvQ jvMv†j Zv †_†K mviv eQi mewR I dj cvIqv hvq|

cywógvb: †cu†c†Z cªPzi cwigvY wfUvwgb G, wfUvwgb we, wfUvwgb wm I Avqib we`¨gvb| cªwZ 100 Mªvg f¶Y†hvM¨ cvKv †cu†c†Z 88.4 fvM Rjxq Ask, 0.7 Mªvg LwbR, 0.8 Mªvg Avuk, 1.9 Mªvg Avwgl, 0.2 Mªvg Pwe©, 8.3 Mªvg kK©iv, 31.0 wg.Mªv.†jŠn, 0.08 wg.Mªv. wfUvwgb we-1, 0.03 wg.Mªv. we-2, 57.0 wg.Mªv. wfUvwgb wm, 8100 gvB†µvMªvg K¨v†ivwUb I 42 wK†jvK¨vjix Lv`¨ kw³ i†q†Q|

Ilywa¸Y: ARxY©, K…wg msµgY, Avjmvi, Z¡†K Nv, GKwRgv, wKWwb msµvšÍ RwUjZv wWc†_wiqv, Avwš¿K I cvK¯’jxi K¨vbmvi cªf„wZ †ivM wbivg†q KvuPv †cu†ci †c†cBb e¨envi Kiv nq| †cu†ci AvVv I exR K…wgbvkK c­xnv hK…†Zi Rb¨ DcKvix|

RvZ: evsjv†`k K…wl M†elYv Bbw÷wUDU 1992 mv†j kvnx bv†gi GKwU D”P djbkxj RvZ D™¢veb K†i| RvZwUi  ˆewkó¨ n†jv- GwU GKwU GKwj½x RvZ| Mv†Qi D”PZv 1.6 †_†K 2.0 wgUvi| Kv†Ûi Lye wbPz †_†K dj a†i| dj wW¤^vK…wZ Ges IRb 800 †_†K 1000 Mªvg| dj cªwZ ex†Ri msL¨v 500 †_†K 550 wU| is Mvp Kgjv †_†K jvj| dj †ek wgwó I my¯^v`y| MvQ cªwZ d†ji msL¨ 40 †_†K 60wU| RvZwU †`†ki me RvqMvq Pvl Dc†hvMx|

Rwg wbe©vPb I ˆZix: †cu†c MvQ †gv†UI Rjve×Zv mn¨ Ki†Z cv†i bv| ZvB †cu†ci Rb¨ wbe©vwPZ Rwg n†Z n†e Rjve×Zv gy³ Ges †mP myweavhy³| Rwg evievi Pvl I gB w`†q DËgiƒ†c ˆZix Ki†Z n†e| `ªæZ cvwb wbKv†ki myweav†_© †eW c×wZ Aej¤^b Kiv DËg| cvkvcvwk `yÕwU †e†Wi gv†S 30†m.wg PIov Ges 20†m.wg. Mfxi bvjv _vK†e| bvjvmn cªwZwU †eW 2wgUvi PIov Ges Rwg Abyhvqx j¤^v n†e|

Pviv ˆZix: †cu†ci Pvi exRZjv I cwjw_b e¨v†M ˆZix Kiv hvq| exRZjvq Pviv ˆZixi †¶†Î 10 †_†K 15 †m.wg. mvwi K†i cªwZ mvwi†Z 3 †_†K 4 †m.wg. Mfx†i exR ecb Ki†Z n†e| cwjw_b e¨v†M Pviv Drcv`†bi †¶†Î 15*10 †m.wg. AvKv†ii cwje¨v†M mgcwigvY cwj gvwU, evwj I cPv †Mve†ii wgkªY Øviv cªvq m¤ú~Y©iƒ†c fwZ© Ki†Z n†e| cwje¨v†Mi Zjvq 2 †_†K 3wU wQ`ª Ki†Z n†e Ges cªwZwU e¨v†M 2 †_†K 3wU exR ecb Ki†Z n†e| exR ec†bi ci 2 †_†K 3 w`b AšÍi cvwb w`†Z n†e| ec†bi 15 †_†K 20 w`b ci Pviv †ei nq Ges 40 †_†K 50 w`b ci Zv †ivc†Yi Dc†hvMx nq|

exR I Pvivi cwigvY: †cu†ci Rb¨ 2*2 wg. `~i†Z¡ MZ ˆZix K†i cªwZ M†Z© 3wU K†i Pviv †ivcY Kiv n†j †n±i cªwZ 7500 Pviv jvM†e Ge †klvewa 2500 MvQ _vK†e| GB msL¨K my¯’ mej Pviv †c†Z 400 †_†K 500 Mªvg ex†Ri cª†qvRb nq| Z†e nvBeªxW †cu†ci Rb¨ 100 †_†K 150 Mªvg exRB h†_ô|

MZ© ˆZix: Pviv †ivc†Yi 15 †_†K 20 w`b c~†e© †e†Wi gvS eivei 2 wgUvi `~i†Z¡ 60* 60*45 †m.wg. AvKv†i MZ© ˆZix Ki†Z n†e| MZ© cªwZ 15 †KwR cPv †Mvei, 500 Mªvg wUGmwc, 250 Mªvg wRcmvg, 20 Mªvg ewiK GwmW Ges 20 Mªvg wRsK mvj†dU mvi cª†qvM K†i gvwUi mv†_ fvjfv†e †gkv†Z n†e| mvi wgwkªZ gvwU Øviv MZ© c~iY K†i †mP w`†Z n†e|

exR ecb I Pviv †ivc†Yi mgq: Avwk¦b Ges †cŠl gvm nj †cu†ci exR ec†bi DËg mgq Ges exR ec†bi 40 †_†K 50 w`b ci A_©vZ gvN-dvj¸Y gv†m Pviv †ivc†Yi Dc†hvMx nq|

Pviv†ivcY: Pviv †ivc†Yi Av†M M†Z©i gvwU fvjfv†e DjUcvjU K†i wb†Z n†e| cªwZ M†Z© 30†m.wg. `~i†Z¡ wÎf~R AvKv†i 3wU K†i Pviv †ivcY Ki†Z n†e| exR Zjvq Drcvw`Z Pvivi Db¥y³ cvZv ¸wj †ivc†Yi Av†M †d†j w`†j †ivcY Kiv Pvivi g„Zz¨ nvi n«vm cvq Ges Pviv `ªæZ cªwZwôZ nq| cwje¨v†M Drcvw`Z Pvivi †¶†Î cwje¨vMwU Lye mveav†b AcmviY Ki†Z n†e, hv†Z gvwUi ejwU †f†½ bv hvq| cošÍ we†Kj Pviv †ivc†Yi Rb¨ DËg mgq| †ivc†Yi mgq j¶¨ ivL†Z n†e hv†Z Pvivi †Mvov exRZjv ev cwje¨v†M gvwUi hZUv Mfx†i wQj Zvi †P†q Mfx†i bv hvq|

Mv†Q mvi cª†qvM: fvj djb †c†Z n†j †cu†c†Z mgq g†Zv mylg gvÎvq mvi cª†qvM Ki†Z n†e| cªwZ Mv†Q 450 †_†K 500 Mªvg BDwiqv Ges 450 †_†K 500 Mªvg GgIwc mvi Dcwi cª†qvM Ki†Z n†e| Pviv †ivc†Yi GK gvm ci n†Z cªwZgv†m MvQ cªwZ 50 Mªvg BDwiqv I 50 Mªvg GgIwc mvi cª†qvM Ki†Z n†e| Mv†Q dzj Avmvi ci GB gvÎv wظY Ki†Z n†e| gvwU†Z i†mi Afve n†j cvwb †m†Pi e¨e¯’v Ki†Z n†e|

cwiPh©v: †cu†ci Rwg me mgq AvMvQv gy³ ivL†Z n†e| el©v †gŠmy†g AvMvQv `gb Ki†Z wM†q gvwU hv†Z †ewk AvjMv bv nq †mw`†K j¶¨ ivL†Z n†e|

cvwb †mP I wbKvk: ﮋ †gŠmy†g cª†qvRb Abyhvqx cvwb †mP w`†Z n†e| †m†Pi I e„wói cvwb hv†Z Rwg†Z R†g bv _v†K †m Rb¨ cvwb wbKv†ki mye¨e¯’v ivL†Z n†e|

†ivMevjvB I †cvKvgvKo `gb: †cu†ci †ivMevjvB†qi g†a¨ X†jcov I KvÛcPv, G¨vb_ªvK†bvR, †gvRvBK I cvZv †KvuKov†bv †ivM Ab¨Zg| Avi †cvKvi g†a¨ wgwjevM D†j­L†hvM¨|

X†jcov I KvÛcPv †ivM: gvwU m¨vuZm¨vu†Z _vK†j exRZjvq Pvivq X†j cov †ivM †`Lv w`†Z cv†i| GQvov el©vKv†j KvÛcPv †ivM †`Lv w`†Z cv†i| KvÛcPv †ivM n†j Mv†Qi †Mvovq ev`vgx e†Y©i cvwb †fRv `v†Mi m„wó nq| AvµvšÍ Pviv MvQ gviv hvq Ges X†j c†o| cªwZ†iva g~jK e¨e¯’v wn†m†e exRZjvi gvwU exR †evbvi Av†M ïKbv ivL†Z n†e Ges wmwKDi bvgK QÎvK bvkK 2 †_†K 3 Mªvg cªwZ †KwR ex†Ri mv†_ wgwk†q †kvab Ki†Z n†e| G †iv†Mi cªwZKvi wn†m†e †ivMvµvšÍ Pviv MvQ DwV†q cy†o †dj†Z n†e| G Qvov cªwZ wjUvi cvwb†Z 2 Mªvg wi†Wvwgj Gg †RW-72 QÎvKbvkK wgwk†q AvµvšÍ Kv†Û wQwU†q w`†j mydj cvIqv hvq|

G¨vb_ªvK†bvR: G †iv†Mi Kvi†Y d†ji Mv†q ev`vgx cPb †ivM †`Lv †`q| dj LvIqvi Abyc†hvMx n†q hvq|

cªwZKvi: 2 Mªvg †bvBb ev e¨vwfw÷b bvgK QÎvKbvkK cªwZ wjUvi cvwbi mv†_ wgwk†q 10 †_†K 15 w`b ci ci 2 †_†K 3evi d†j Mv†q †¯úª Ki†Z n†e|

 

ভারতের পাচারকৃত তিন কিশোর দেশে ফেরার অপেক্ষায়
                                  


কে থামাবে কিশোর ও অবিভাবকদের আর্তচিৎকার, আহাজারি ও কান্নার মাতম
মোঃ রিয়াজ উদ্দিন ভারত থেকে ফিরে ঃ
আঙ্কেল আমি কি দেশে মায়ের কাছে যেতে পারবো, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি মায়ের কাছে ফিরে যেতে চাই, আমাকে আপনার সাথে নিয়ে যান। কথাগুলো গত ১লা মার্চ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের লক্ষীকান্তপুরের হাসুস সেফ হোমে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেই হাউমাউ করে আর্তচিৎকার করতে থাকে ভারতে পাচার হয়ে যাওয়া নড়াইলের সেখহাটি ইউনিয়নের আপন (১২)। আপনের কান্না দেখে পাশে থাকা আরেক কিশোর পাচার হয়ে যাওয়া আশিকও কেঁদে ফেলে। এ দৃশ্য দেখে হোমের কর্মকর্তা, অন্যান্য নারী ও শিশুদেরও মন ভারী হয়ে উঠে।
আপন ও আশিকের পাচার হওয়ার খবর মানবাধিকার খবরে গত ফেব্রুয়ারী-১৮ সংখ্যায় বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়। তাদেরকে ভারত থেকে উদ্ধারের জন্য অবিভাবকদের কাছ থেকে নাগরিকত্বের সকল ধরনের কাগজ পত্র সংগ্রহ করে গত ২২শে ফেব্রুয়ারী আমি ভারতে গমন করি। এরপর আপন ও আশিকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুলো কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস, হাসুস সেফ হোম সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সরবরাহ করে ২মার্চ দেশে ফিরে আসি। আশা করছি, সকল আইনি প্রক্রিয়ার শেষে আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে এনে দুই কিশোরকে তাদের মা-বাবার হাতে তুলে দেওয়া যাবে। এব্যাপারে আপনের নানী মোছা: শৈয়রন বিবি যশোরের শার্শায় থানার একটি সাধারন ডায়েরী করেন যার নম্বর-২০৮, তারিখ-০৬/০১/২০১৮ এবং মোঃ রাব্বি হাসান আশিকের পিতা মোঃ রবিউল মোল্লা যশোরের অভয়নগর থানায় একটি সাধরন ডায়েরী করেন যার নং-২৮৭, তারিখ-০৭/০১/২০১৮।
আপন ও আশিকের দেশে ফেরার জন্য এই জিডির কপি, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের প্রত্যায়নপত্র, জন্ম সনদ ও স্কুলের প্রত্যায়ন পত্র সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা প্রদান করা হয়েছে।
এ দিকে ছামিরুল নামে আরেক কিশোর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে লক্ষীকান্তপুরে হাসুস সেফ হোমে একই সাথে রয়েছে। তার পুলিশ তদন্তে নাম ও ঠিকানায় ত্রুটি থাকায় দেশে আসতে বিলম্ব হচ্ছে। আশা করছি চলতি মার্চ মাসে সকল আইনি প্রক্রিয়ায় শেষে তাকেও দেশে ফিরিয়ে আনা যাবে। তিন কিশোরের বুক ফাটা আহাজারিতে মানবিক কারনে মানবাধিকার বিষয়ক বিশ্বের একমাত্র নিয়মিত সৃজনশীল জনপ্রিয় বাংলা প্রকাশনা মানবাধিকার খবর উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে এনে মা-বাবার হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহন করেছে। তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে মানবাধিকার খবর সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ৩য় বারের মত গত ১৫মার্চ মানবাধিকার খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক রোটারিয়ান মোঃ রিয়াজ উদ্দিন ভারতে গমন করে; তিন কিশোরের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার অগ্রগতির খোঁজ খবর নিয়ে ১৭মার্চ আবার দেশে ফেরেন। অপরি দিকে পাচারকৃত তিন কিশেরের মা-বাবা ও অবিভাবকদের হৃদয় বিদারক কান্নায় মানবাধিকার খবর পত্রিকার কর্তৃপক্ষ হিমসিম খাচ্ছে। যত দিন পর্যন্ত তাদেরকে পিতা-মাতার হাতে তুলে দিতে পারা  না যায়, ততদিন এই তিন কিশোর ও তাদের মা-বাবার আর্তচিৎকার, আহাজারি, কান্নার মাতম চলতেই থাকবে। কে স্তব্দ করবে তাদের এ আর্তচিৎকার, আহাজারি ও কান্নার মাতম। মানবাধিকার খবরেরও আর্থিক সীমাবদ্ধতা। মানবাধিকার খবরকে এমুহূর্তে কোন সরকারী সংস্থা বা এনজিও কোন প্রকার আর্থিক সহায়তা করছে না। এধরনের মানবিক কাজে সরকারী- বেসরকারী সংস্থা, এনজিও এবং বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে রোটারি ক্লাব অব গুলশান লেকসিটি নারী ও শিশু উদ্ধারে মানবাধিকার খবরকে সার্বিক ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছে।
ফিরে দেখা
আপন ও আশিকঃ
আপন আর আশিক দুজনই  বাংলাদেশী কিশোর। দুস্কৃতীকারিরা এই দুই কিশোরকে অপহরণ করে গোপনে নিয়ে আসে কলকাতায়। উদ্দেশ্য, কলকাতা থেকে এই দুই কিশোরকে অন্যরাজ্যে পাচার করা। আশিক বয়স ১৩ বছর আর আপনের বয়স ১২ বছর।
আশিকের বাড়ি বাংলাদেশের নড়াইল জেলার শেখহাটি মোজেরপাড়া গ্রামে। বাবার নাম রবিউল মোল্লা। স্থানীয় বিমহিষকুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র আশিক। বাবা কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। তারা দু’ভাই দু’বোন তাদের মধ্যে আশিক তৃতীয় । আশিক মাস দুয়েক আগে গ্রামের বাড়ীর আফড়ার মেলায় গিয়েছিল। সেখান থেকে ৫ দুস্কৃতকারী মুখে গামছা বেঁধে জোর করে নিয়ে আসে বেনাপোল সীমান্তে। তারপর আশিকের মুখে লিকো প্লাস্টার টেপ লাগিয়ে তাকে একটি পণ্যবাহী ট্রাকের নিচে চেসিসের সঙ্গে বেঁধে পার করে বেনাপোল সীমান্ত। সেখান থেকে তাঁকে বনগাঁ রেলস্টেশনে এনে ট্রেনে করে নিয়ে আসা হয় রানাঘাট রেল স্টেশনে। এখানে   এসে দেখে আরও ৫জন দুস্কৃতকারী অপেক্ষা করছে।  সেখান থেকে  কৌশলে পালিয়ে যায় আশিক। তারপর একসময় ট্রেনে করে শিয়ালদহ স্টেশনে নামে। শিয়ালদহ নামার পর তার ক্ষিধে পেলে এক চায়ের দোকানদার তাকে খাওয়াবে এই শর্তে রেখে দেয় বাসনকোসন ধোয়ার কাজে। ইতিমধ্যে শিয়ালদহের রেলওয়ের সংস্থা রেলওয়ে চাইল্ড লাইন খবর পেয়ে উদ্ধার করে আশিক কে। তারপর তুলে দেয় রেল পুলিশের হাতে। রেল পুলিশ আশিককে পাঠিয়ে দেয় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সরকারি হোম হাসুস বা হরিপুর আমরা সবাই উন্নয়ন সমিতির কাছে। গত বছর ১৫ ডিসেম্বর থেকে আশিক বারুইপুরের লক্ষীকান্তপুরের হাসুস’এ রয়েছে।
আপনের বয়স ১২ বছর। বাড়ি যশোর শার্শা থানার নাভারনের দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামে। পিতার নাম রাজু হোসেন। বাবার-মার বিচ্ছেদের পর মা অন্যত্র চলে গেছে। আপন মানুষ হয় নানীর কাছে। নানীর নাম শৈরন বিবি। নাভারণ বাজারে আছে নানীর ফলের দোকান। আপন স্থানীয় মিন্টুর ভাই ভাই চটপটির দোকানে কাজ করতো। মাসখানেক আগে আপন বেনাপোলের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে আসে। সেখান থেকে দুস্কৃতকারীরা আপনকে ধরে নিয়ে যায়। তারপর তাকে সীমান্ত পাচার করে নিয়ে আসে বনগাঁ রেলস্টেশনে। বনগাঁ স্টেশনে দালালরা তার  টিকিট কাটতে গেলে সেই সুযোগে সে পালিয়ে যায় স্টেশন থেকে। তারপর ট্রেনে করে চলে আসে শিয়ালদহ স্টেশনে। সেখানে এসে রেল পুলিশের হাতে ধরা পড়ে আপন। তারপর রেলওয়ের চাইল্ড লাইন আপনকে উদ্ধার করে পাঠিয়ে দেয় বারুইপুরের হাসুস হোমে। গত বছর ১৯ ডিসেম্বর থেকে আপনের ঠাঁই হয় এই হোমে।
আশিক ও আপন দুজন এখন রয়েছে হাসুস হোমে। গত বছর ২৫ ডিসেম্বর কলকাতা থেকে দক্ষিণে প্রায় ১০০ কি.মি. দূরে লক্ষীকান্তপুর বিজয়াঙ্গি বাজারে ওই হোমে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মানবাধিকার খবর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক রোটারিয়ান মো: রিয়াজ উদ্দিন  পরিদর্শনে গেলে, সেখানে হোমের কর্মকর্তারা তাঁকে জানান ওই দুই বাংলাদেশী কিশোরের কথা।  ওই কিশোরদ্বয় বাংলাদেশে ফেরার জন্য সম্পাদকের কাছে কান্না-কাটি করে। চাইছে অবিলম্বে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। বলেছে, তারা ফিরে যেতে চায় তাদের বাবা মায়ের কাছে। সম্পাদক গত ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশে এসে ঐ দুই কিশোরের বাড়ীর ঠিকানায় এবং সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করে। সর্বশেষ গত ৬ জানুয়ারী তাদের অবিভাবকদের খুজে পাওয়া যায়। আপনের নানী শৈরন ও মামা ফলের দোকানদার মিজানুর রহমান জানতে পেরে সম্পাদকের কাছে দাবী জানান- যে করে হোক তাদের আপনকে যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের কাছে দেয়া হয়। আপনের মায়ের নাম নাসিমা । অনেক আগে পিতার সাথে সম্পর্ক বিচ্ছেদ হওয়ায় মা অন্যত্র বিবাহ করে সংসার করছেন আর পিতা কোন খোজ-খবর নেয় না। নানীর কাছেই দুঃখে ও কষ্টে বড় হচ্ছিল আপন। অপর দিকে আশিকের বাবা হলেন যাত্রীবাহী মটর সাইকেল চালক। দরিদ্রতার মধ্যে তাদের দিন চলে। আশিকের বাব-মা ও দাবী জানান  তাদের বুকের ধন কে যে কোন ভাবে হোক দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের কাছে দেওয়ার জন্য। আশিকের মায়ের নাম নাজমা বেগম। আশিক ও আপন বেঁচে আছে প্রায় ২মাস পর জানতে পেরে দুই পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। এতদিন তারা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করে, না পেয়ে তাদের জীবিত পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। ভারতে সেফ হোমে আশিক ও আপন এবং হোমের কর্মকর্তারা সম্পাদককে পেয়েও আনন্দিত হন। সেফ হোমের কর্মকর্তারা তাদের সঠিক ঠিকানা না থাকায় অনেকটা বিপদে ছিলেন। সম্পাদকের কারনে বাচ্চা দু’টিকে এবার দেশে ফিরিয়ে নেওয়ায় সার্বিক সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলে আশাবাদি হন। বাচ্চা দু’টির বর্তমানে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের কাজ চালানো হয়।
ছামিরুল
এদিকে কিশোর ছামিরুলের বাংলাদেশের ঢাকার মিরপুরের সঠিক ঠিকানা খুজে না পাওয়ায় পুলিশ সঠিক ঠিকানা ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও কলকাতা উপ-দূতাবাসে পাঠাতে পারেনি। ফলে তার দেশে ফেরার বিষয়টি বিলম্বিত হতে থাকে। গত বছর ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ও মানবাধিকার খবরের পক্ষে ভারতীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উপ-দূতাবাসের কাউন্সিলের মোঃ জামাল হোসেনের কাছে ছামিরুলের সঠিক ঠিকানা ও মা-বাবার ফোন নম্বর সরবরাহ করা হয়েছে। আশা করছি ছামিরুল খুব শীঘ্রই দেশে তার মা-বাবার কাছে ফিরতে পারবে। ছামিরুল দেশে ফিরতে না পারায় তার মা-বাবা খুবই উদ্বিঘœ হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত মানবাধিকার খবরের কাছে স্মরণাপন্ন হয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছে। মানবাধিকার খবর ছামিরুল ও তার মা-বাবার সাথে ভিডিও কলের মাধ্যমে কথা বলিয়ে দিচ্ছে। ছামিরুল ও তার মা-বাবার আবেগ ও কষ্টের কথা শুনতে পেরে কান্দাকাটিতে আকাশ ভারী হয়ে উঠছে। মানবাধিকার খবর নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে। জামিরুলের পাচার হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার খবরের গত মার্চ ২০১৭ সংখ্যায় বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে মানবাধিকার খবরের সহযোগিতায় ছামিরুলের পিতা দু’বার ভারতে গিয়ে ছামিরুলের সাথে সাক্ষাৎ করে  এসেছেন।
উল্লেখ্য যে, মানবাধিকার খবর এর আগে ভারতের উত্তরাখ- প্রদেশের রুদ্রপুর থেকে পাচার হয়ে যাওয়া বাংলাদেশী কলেজছাত্রী সাবানা আক্তার চায়না, হায়দ্রাবাদ থেকে গৃহবধু মুন্নি, পশ্চিমবঙ্গের লক্ষীকান্তপুর থেকে শার্শার কিশোর বিপ্লব, হুগলী থেকে গাইবান্ধায় সালমা, দিল্লীর তিহার জেল থেকে পটুয়াখালীর বিউটি আক্তার, খুলনার শিশু সুমনসহ সাফল্যের সাথে অসংখ্য নারী ও শিশুকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে এনে মা বাবা ও আইনের হাতে তুলে দিয়ে সাফল্য দেখিয়েছে। এছাড়া ভারতীয় কিশোরী বৈশাখী ও পাকিস্তানের নাগরিক প্রকৌশলী অনিল কুমারকে বাংলাদেশ থেকে উদ্ধারের সার্বিক সহযোগিতা করে সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠিয়েছে। যা বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও প্রথম শ্রেনীর দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মিডিয়াতে গুরুত্ব সহকারে প্রচার হয়।
নারী ও শিশু উদ্ধার অভিযানে যারা মানবাধিকার খবরকে সার্বিক সহযোগিতা, পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়েছেন তাদের মধ্য রয়েছেন, কলকাতাস্থ উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান, কাউন্সিলর ও হেড অব চ্যাঞ্চেলর মিয়া মোঃ মাইনুল কবির, ফাষ্ট সেক্রেটারী (প্রেস) মোঃ মোযাফ্ফারুল ইকবাল, কাউন্সিলর বি এম জামাল হোসেন সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে চেয়ারম্যান  কাজী রিয়াজুল হক, পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নপরাজিৎ মূখার্জি, রাজ্য সভার সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য, লোকসভার সংসদ সদস্য ও চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান শ্রীমতি প্রতিমা ম-ল, আলিপুর ভবানী ভবনে দক্ষিন ২৪ পরগনায় জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্রীমতি শান্তি দাস, জেলা ইন্টেলিজেন্ট ব্রাঞ্চের নিবেদিতা তালুকদার এডিশন সেক্রেটারি ফরেনার্স গভ পশ্চিমবঙ্গ হোম ডিপার্টমেন্ট গৌরাঙ্গ  সরকার। জেলা শিশুরক্ষা সমিতির কর্মকর্ত অনিন্দ ঘোষ, কলকাতার সল্টলেকে বিকাশ ভবনে অবস্থিত শিশু রক্ষা প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুচরিতা সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর,  প্রথম আলোর কলকাতা প্রতিনিধি অমর সাহা, মানবাধিকার খবর পত্রিকার কলকাতা প্রতিনিধি দিশা বিশ্বাস, ভারত প্রতিনিধি মনোয়ার ইমাম, বারাসাত প্রতিনিধি প্রদীপ রায় চৌধুরী, মানবাধিকার খবরের কলকাতাস্থ আইন উপদষ্টা রাজীব মুখার্জি, নিলোৎপল মৈত্র, রিয়াসহ অন্যান্য।





   Page 1 of 3
     বিশেষ প্রতিবেদন
অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় মানবপাচারের ফাঁদ # স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কড়াকড়ি আরোপ #
.............................................................................................
দেশের পর্যটন শিল্প বিকাশে মহাপরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন : ড. ভুবন চন্দ্র বিশ্বাস
.............................................................................................
মানবাধিকার খবর পত্রিকার সম্পাদক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন : ভারতে পিস এ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন
.............................................................................................
সুস্থ্য ও শৃঙ্খল জীবনের পথ দেখায় কোয়ান্টাম মেথড
.............................................................................................
ছিন্নমূল ও অবহেলিত শিশুরা কি সমাজের অভিশাপ?
.............................................................................................
এখন ইচ্ছা সারা বিশ্বকে দেখা
.............................................................................................
পরিবারের কাছে হস্তান্তর ভারত থেকে উদ্ধার আরো ৭ নারী
.............................................................................................
উন্নত বাংলাদেশের সন্ধানে- মাহাথির মোহাম্মদের দেশে ঢাবি হিসাববিজ্ঞানের আমরা
.............................................................................................
অধিকার চায় নির্যাতিত মিসু
.............................................................................................
আট বছরেও বিচার পেল না ফেলানীর পরিবার
.............................................................................................
চার বছরে ত্রিশোধিক নারী-শিশু উদ্ধার : অপেক্ষায় চার
.............................................................................................
সুশাসন ও জবাবদিহিতার চরম অভাব মানুষ হত্যা ও পরিবহনের নৈরাজ্য, কেরে নিচ্ছে নাগরিক অধিকার
.............................................................................................
ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
.............................................................................................
কৃষি মাশরুম চাষ : ঘরে বসে আয়
.............................................................................................
পেঁপে চাষ পদ্ধতি
.............................................................................................
ভারতের পাচারকৃত তিন কিশোর দেশে ফেরার অপেক্ষায়
.............................................................................................
স্থগিতই থাকছে খালেদার জামিন
.............................................................................................
বিদায় বীরমাতা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী
.............................................................................................
পরকিয়ায় সংসার ভাংলো পারভিনের. স্বামী জেল হাজতে
.............................................................................................
দুরমুজখালী সীমান্তে উদ্ধার হওয়া লাশ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য
.............................................................................................
ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ জটিলতার অবসান হলো
.............................................................................................
থাই পেয়ারার চাষ পদ্ধতি ও রোগ বালাই
.............................................................................................
৫৭ ধারা বাতিল ॥ আসছে ভয়ঙ্কর ৩২ ধারা
.............................................................................................
মানবাধিকার খবর’র উদ্যোগ
.............................................................................................
১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত
.............................................................................................
১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত
.............................................................................................
নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী সমাজ ও নারী উন্নয়নের কান্ডারী ছিলেন
.............................................................................................
অবক্ষয় ঠেকাতে মানবিকতার চর্চা অপরিহার্য
.............................................................................................
গ্রাফিক্স ডিজাইনার তারেকের অকাল মৃত্যু
.............................................................................................
বিশ্বমানবাধিকার আজ কোথায়?
.............................................................................................
লংগদুতে আদিবাসীদের ওপর হামলার বিচার নিশ্চিত করতে হবে
.............................................................................................
কৃষি উন্নয়নে অবদানে বাকৃবিতে ১১ ব্যক্তিকে সংবর্ধনা
.............................................................................................
বামাফা’র জঙ্গীবাদ সন্ত্রাসবাদ ও মাদক বিরোধী সেমিনার অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
খাদে ভরা স্বর্ণ ব্যবসা
.............................................................................................
একজন ক্রীড়া সংগঠক - দক্ষ রাজনীতিবিদ - সফল মেয়র বাগেরহাটের সর্বস্তরের জনপ্রিয় একটি নাম খাঁন হাবিবুর রহমান
.............................................................................................
মানবাধিকার খবরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন মায়ের কাছে ফিরেছে ভারতীয় কিশোরী বৈশাখী
.............................................................................................
বাবা-মেয়ের আত্মহত্যা এ দায় কার?
.............................................................................................
পরিবারের সাত সদস্য পাগল।
.............................................................................................
মাস্তান প্রকৃতির লোক রাখা হচ্ছে পরিবহনে চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা
.............................................................................................
নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় যত্নবান হতে হবে : হেলেনা জাহাঙ্গীর
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটি: ১৯ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ
.............................................................................................
মানবাধিকার খবরের উদ্যোগ ভারত থেকে দেশে ফিরছেন দুই কিশোর এক নারী
.............................................................................................
দেশ ও মানবতার কল্যাণে কার্যকরী ব্যবস্থা জরুরী
.............................................................................................
সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ, অপপ্রচার ও কুচক্রের শিকার
.............................................................................................
সংকট উত্তরণের উপায় কি নেই? জঙ্গিবাদ : মানবাধিকারের উপর চরম হুমকি
.............................................................................................
মসজিদের আর্থিক ‘কর্তৃত্ব পেতে’ পুরান ঢাকায় দু’বছরের পরিকল্পনায় মুয়াজ্জিন খুন
.............................................................................................
আমি সবার প্রেসিডেন্ট
.............................................................................................
যুক্তরাজ্যের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন বাংলাদেশসহ ৩০টি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

Editor & Publisher: Rtn. Md Reaz Uddin
Corporate Office
53,Modern mansion(8th floor),Motijheel C/A, Dhaka
E-mail:manabadhikarkhabar34@gmail.com,manabadhikarkhabar34@yahoo.com,
Tel:+88-02-9585139
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-9585140
    2015 @ All Right Reserved By manabadhikarkhabar.com    সম্পাদকীয়    Adviser List

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]