| বাংলার জন্য ক্লিক করুন

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ইসলাম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
বাইয়াতের ইসলামী দৃষ্টিকোণ

মাওলানা মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দীক আদ্দাঈ

আল্লাহর তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে নিজের জান ও মালকে হকপন্থী আমীর বা নেতার নিকট আনুগত্যের শপথের মাধ্যমে আল্লাহর পথে সপে দেয়ার শপথ, ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতির নাম বাইয়াত। সত্যিকার মুসলিম রূপে আত্ম পরিচয় পেশ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

হাদীসের আলোকে বাইয়াতের প্রকার:

রাসূলে করিম (সঃ) এর নবুওয়াতে জিন্দেগির ২৩ বছর পর্যালোচনা করলে অন্তত পাঁচ ধরনের বাইয়াতের প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন:

১. ঈমানী বাইয়াত
২.বিষয় ভিত্তিক বাইয়াত
৩.আমলের বাইয়াত
৪.আনুগত্যের বাইয়াত
৫. জিহাদের বাইয়াত

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাইয়াতের প্রয়োজনীয়তা:

মুসলিম সমাজ আজ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন । একতার অভাব সমাজের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে । সর্বত্র মতবিরোধ আর গোলযোগে ভরপুর । মানবতার ভয়ঙ্কর আর্তনাদ ভারী করছে আকাশ-বাতাস । বিশ্ব জুড়ে মানবতাবাদীদের মানবতা বিরোধী আখ্যা দিয়ে চলছে মুসলিম নির্মুলের পায়তারা। আমরা ভুলতে বসেছি বংশগত মুসলমান আর প্রকৃত মুসলমান এক নয়। ইচ্ছা-অনিচ্ছা জানা-অজানা অবস্থায় আমাদের জীবনের সাথে মিশে গিয়েছে শিরক আর বিদয়াত। এমত অবস্থায় নিজেদের ঈমানকে পরিপুষ্ট এবং বাস্তব জীবন থেকে কর্ম বৈষম্য দূরীভূত করতে এক জন হকপন্থী নেতার নিকট জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান মেনে চলার অঙ্গীকার করা ধ্বংসের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা পেতে ঈমানের দাবি ।

আজ সমস্বরে গোটা মুসলিম মিল্লাতের পড়ে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন "বলো, নিশ্চয়ই আমার নামায, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মরণ, সব কিছু বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক আল্লাহ তা’য়ালার জন্য।" (সূরা-আনয়াম: ১৬২)

বাইয়াত কার নিকট হতে হবে :

কুরআন-সুন্নাহের কোন বক্তব্যই একাকী বাইয়াতকে সমর্থন করে না। বরং বাইয়াত সংক্রান্ত সকল হাদীস এবং আয়াতে কারীমা কোন নেতা বা আমীরের নিকট বাইয়াত করাকে ইঙ্গিত করে। যেমন বাইয়াতে রিদওয়ানের ব্যাপারে মহান আল্লøাহর বাণী " হে রাসূল (সঃ) যে সব লোক আপনার নিকট বাইয়াত হচ্ছিল তারা আসলে আল্লøাহর নিকটই বাইয়াত হচ্ছিল। তাদের হাতের ওপর আল্লাহর কুদরতের হাত ছিলো। (সূরা আল ফাতহ: ১০)

এ আয়াতে কারীমায় নবী (সঃ) এর নিকট বাইয়াত করার কথাই বলা হয়েছে । যেহেতু নবী করিম (সঃ) আমাদের মাঝে নেই সেহেতু তাঁর আদর্শের ধারক-বাহক কোন আমীরের নিকট বাইয়াত হওয়াটাই যুক্তিবহ।

নবী করিম (সঃ) ইমাম মাহদীর হাতে বাইয়াত হওয়া প্রসঙ্গে বলেছেন, "তোমরা যখন তাদেরকে দেখতে পাবে তখন তাদের নেতার হাতে বাইয়াত করবে।" (কিতাবুল ফিতান " ইবনে মাজাহ)

সুতরাং বাইয়াত যে হকপন্থী আমীর বা নেতার নিকট করতে হবে তা সুস্পষ্ট ।

বাইয়াত শুদ্ধ হওয়ার শর্তাবলী :

১. বাইয়াত অবশ্যই কুরআন-সুন্নাহের আলোকে হতে হবে । বাইয়াতের রীতি -পদ্ধতি বিষয়বস্তু নবী করিম (সঃ) এর দেখানো পথে হওয়া বাঞ্চনীয়।
২. নবী করিম (সঃ) এর আদর্শের ধারক- বাহক কোন আমীর বা নেতার নিকট হতে হবে।
৩. বাইয়াতের ওয়াদাকৃত বিষয় বস্তুর সাথে কাজের মিল থাকতে হবে। অর্থাৎ বাইয়াত কৃত বিষয়ের ওপর অটুট থাকা অপরিহার্য ।

হযরত উবাদা ইবনে সামিত (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লøাহ্ ( স:) এর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করেছি শ্রবণ ও আনুগত্যের ব্যাপারে এবং এটা স্বাভাবিক অবস্থা, কঠিন অবস্থা, আগ্রহ ও অনাগ্রহ সর্বাবস্থার জন্য প্রযোজ্য ।

আমরা আরো বাইয়াত গ্রহণ করেছি যে, যে কোন ব্যাপারে আমীরের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হবো না এবং সর্বাবস্থায় সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবো এ ব্যাপারে কোন তিরস্কার কারীর তিরস্কারকে পরোয়া করবো না। (নাসায়ী )

এই হাদীসের আলোকে বাইয়াতের দাবি আমাদের নিকট দৃশ্যমান হয়।

"বাইয়াত বিহীন মৃত্যু জাহেলিয়াতের নামান্তর"- হাদীসটির ব্যাখ্যা :

হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রা:) রাসূলে করিম (সঃ) থেকে বর্ণনা করেন "যে ব্যক্তি বাইয়াতের রজ্জু গলদেশে ঝুলানো অবস্থা ছাড়া মারা যাবে তার মৃত্যু হবে জাহেলিয়াতের মৃত্যু।" (মুসলিম ) অধিকাংশ ওলামায়ে কিরামদের মতে, হাদীসটি মূলত ঈমানী বাইয়াতের সাথে সম্পৃক্ত, যে বাইয়াতের মাধ্যমে কোন ব্যক্তি ঈমানদারের কাতারে গণ্য হয়। সকল আমল কবুলিয়াতের প্রধান শর্ত হলো ঈমান। আর ঈমানী বাইয়াত আল্লাহ তায়ালাকে রব (প্রভু, প্রতিপালক, বিধানদাতা, সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক) এবং নবী (সঃ) কে তাঁর মনোনীত রাসূল হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ) এর আনুগত্যের মধ্যে প্রবেশ করলো না নিঃসন্দেহে সে ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করলে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বা ইসলাম বিমুখ বেঈমানের মৃত্যু হিসেবে পরিগণিত হবে।

লেখক ঃ ধর্মীয় গবেষক, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত
আলোচক ও সহকারী সম্পাদক, মানবাধিকার খবর

বাইয়াতের ইসলামী দৃষ্টিকোণ
                                  

মাওলানা মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দীক আদ্দাঈ

আল্লাহর তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে নিজের জান ও মালকে হকপন্থী আমীর বা নেতার নিকট আনুগত্যের শপথের মাধ্যমে আল্লাহর পথে সপে দেয়ার শপথ, ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতির নাম বাইয়াত। সত্যিকার মুসলিম রূপে আত্ম পরিচয় পেশ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

হাদীসের আলোকে বাইয়াতের প্রকার:

রাসূলে করিম (সঃ) এর নবুওয়াতে জিন্দেগির ২৩ বছর পর্যালোচনা করলে অন্তত পাঁচ ধরনের বাইয়াতের প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন:

১. ঈমানী বাইয়াত
২.বিষয় ভিত্তিক বাইয়াত
৩.আমলের বাইয়াত
৪.আনুগত্যের বাইয়াত
৫. জিহাদের বাইয়াত

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাইয়াতের প্রয়োজনীয়তা:

মুসলিম সমাজ আজ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন । একতার অভাব সমাজের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে । সর্বত্র মতবিরোধ আর গোলযোগে ভরপুর । মানবতার ভয়ঙ্কর আর্তনাদ ভারী করছে আকাশ-বাতাস । বিশ্ব জুড়ে মানবতাবাদীদের মানবতা বিরোধী আখ্যা দিয়ে চলছে মুসলিম নির্মুলের পায়তারা। আমরা ভুলতে বসেছি বংশগত মুসলমান আর প্রকৃত মুসলমান এক নয়। ইচ্ছা-অনিচ্ছা জানা-অজানা অবস্থায় আমাদের জীবনের সাথে মিশে গিয়েছে শিরক আর বিদয়াত। এমত অবস্থায় নিজেদের ঈমানকে পরিপুষ্ট এবং বাস্তব জীবন থেকে কর্ম বৈষম্য দূরীভূত করতে এক জন হকপন্থী নেতার নিকট জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান মেনে চলার অঙ্গীকার করা ধ্বংসের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা পেতে ঈমানের দাবি ।

আজ সমস্বরে গোটা মুসলিম মিল্লাতের পড়ে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন "বলো, নিশ্চয়ই আমার নামায, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মরণ, সব কিছু বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক আল্লাহ তা’য়ালার জন্য।" (সূরা-আনয়াম: ১৬২)

বাইয়াত কার নিকট হতে হবে :

কুরআন-সুন্নাহের কোন বক্তব্যই একাকী বাইয়াতকে সমর্থন করে না। বরং বাইয়াত সংক্রান্ত সকল হাদীস এবং আয়াতে কারীমা কোন নেতা বা আমীরের নিকট বাইয়াত করাকে ইঙ্গিত করে। যেমন বাইয়াতে রিদওয়ানের ব্যাপারে মহান আল্লøাহর বাণী " হে রাসূল (সঃ) যে সব লোক আপনার নিকট বাইয়াত হচ্ছিল তারা আসলে আল্লøাহর নিকটই বাইয়াত হচ্ছিল। তাদের হাতের ওপর আল্লাহর কুদরতের হাত ছিলো। (সূরা আল ফাতহ: ১০)

এ আয়াতে কারীমায় নবী (সঃ) এর নিকট বাইয়াত করার কথাই বলা হয়েছে । যেহেতু নবী করিম (সঃ) আমাদের মাঝে নেই সেহেতু তাঁর আদর্শের ধারক-বাহক কোন আমীরের নিকট বাইয়াত হওয়াটাই যুক্তিবহ।

নবী করিম (সঃ) ইমাম মাহদীর হাতে বাইয়াত হওয়া প্রসঙ্গে বলেছেন, "তোমরা যখন তাদেরকে দেখতে পাবে তখন তাদের নেতার হাতে বাইয়াত করবে।" (কিতাবুল ফিতান " ইবনে মাজাহ)

সুতরাং বাইয়াত যে হকপন্থী আমীর বা নেতার নিকট করতে হবে তা সুস্পষ্ট ।

বাইয়াত শুদ্ধ হওয়ার শর্তাবলী :

১. বাইয়াত অবশ্যই কুরআন-সুন্নাহের আলোকে হতে হবে । বাইয়াতের রীতি -পদ্ধতি বিষয়বস্তু নবী করিম (সঃ) এর দেখানো পথে হওয়া বাঞ্চনীয়।
২. নবী করিম (সঃ) এর আদর্শের ধারক- বাহক কোন আমীর বা নেতার নিকট হতে হবে।
৩. বাইয়াতের ওয়াদাকৃত বিষয় বস্তুর সাথে কাজের মিল থাকতে হবে। অর্থাৎ বাইয়াত কৃত বিষয়ের ওপর অটুট থাকা অপরিহার্য ।

হযরত উবাদা ইবনে সামিত (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লøাহ্ ( স:) এর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করেছি শ্রবণ ও আনুগত্যের ব্যাপারে এবং এটা স্বাভাবিক অবস্থা, কঠিন অবস্থা, আগ্রহ ও অনাগ্রহ সর্বাবস্থার জন্য প্রযোজ্য ।

আমরা আরো বাইয়াত গ্রহণ করেছি যে, যে কোন ব্যাপারে আমীরের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হবো না এবং সর্বাবস্থায় সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবো এ ব্যাপারে কোন তিরস্কার কারীর তিরস্কারকে পরোয়া করবো না। (নাসায়ী )

এই হাদীসের আলোকে বাইয়াতের দাবি আমাদের নিকট দৃশ্যমান হয়।

"বাইয়াত বিহীন মৃত্যু জাহেলিয়াতের নামান্তর"- হাদীসটির ব্যাখ্যা :

হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রা:) রাসূলে করিম (সঃ) থেকে বর্ণনা করেন "যে ব্যক্তি বাইয়াতের রজ্জু গলদেশে ঝুলানো অবস্থা ছাড়া মারা যাবে তার মৃত্যু হবে জাহেলিয়াতের মৃত্যু।" (মুসলিম ) অধিকাংশ ওলামায়ে কিরামদের মতে, হাদীসটি মূলত ঈমানী বাইয়াতের সাথে সম্পৃক্ত, যে বাইয়াতের মাধ্যমে কোন ব্যক্তি ঈমানদারের কাতারে গণ্য হয়। সকল আমল কবুলিয়াতের প্রধান শর্ত হলো ঈমান। আর ঈমানী বাইয়াত আল্লাহ তায়ালাকে রব (প্রভু, প্রতিপালক, বিধানদাতা, সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক) এবং নবী (সঃ) কে তাঁর মনোনীত রাসূল হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ) এর আনুগত্যের মধ্যে প্রবেশ করলো না নিঃসন্দেহে সে ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করলে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বা ইসলাম বিমুখ বেঈমানের মৃত্যু হিসেবে পরিগণিত হবে।

লেখক ঃ ধর্মীয় গবেষক, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত
আলোচক ও সহকারী সম্পাদক, মানবাধিকার খবর

নারী অধিকারের স্বরূপ বিশ্লেষণ প্রেক্ষিতঃ ইসলাম ও আধুনিক সভ্যতা
                                  



মাওলানা মোহাম্মদ আবুবকর সিদ্দীক আদ্দাঈ

পূর্ব প্রকাশের পর ...একজন নারী নবী (স:) এর দরবারে এসে নিবেদন করে বলল, আমার পিতা তার সামাজিক মর্যাদা রক্ষার জন্যে আমার চাচাতো ভাইয়ের সাথে আমাকে বিয়ে দিয়েছেন কিন্তু এতে আমি সন্তুষ্ট নই। মহানবী তাকে বললেন, “তোমার ইচ্ছা হলে বিয়ে বহাল রাখতে পার অথবা বাতিল করেও দিতে পার।”(আহমদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)

এ থেকে বুঝা যায় মহানবী (স:) শুধু নারী সম্পর্কে পুরুষের নয় বরং নারীরও মনোবৃত্তির প্রতিফলন ঘটাতে পূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও আভিজাত্যের অধিকার দিয়েছেন। ইসলাম একজন নারীকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবার অধিকার ও স্বাধীনতা যেমন দিয়েছে, তেমনিভাবে দিয়েছে বিশেষ প্রয়োজনে বিবাহ বিচ্ছেদের স্বাধীনতা ও অধিকার। তবে তালাক পেতে স্ত্রী কর্তৃক স্বামী বা আদালতের নিকট তালাকের আবেদন করার বিধান রাখা হয়েছে। বিবাহের পরে নির্যাতিত জীবন যাপনে শরীয়ত কখনো তাকে বাধ্য করেনি। স্বামী তাকে জুলুম নির্যাতন করবে, তার অধিকার চূর্ণ-বিচুর্ণ করে তাকে জীবিকা নির্বাহের উপকরণ থেকে বঞ্চিত রাখবে, তার ইজ্জত সম্মানের হানী ঘটাবে এর পরও স্ত্রী তা নিরবে সহে যাবে এমন কোন বাধ্য-বাধকতা ইসলামে নেই। তবে এর অর্থ এই নয় যে, সামান্য কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটানো যাবে। যেমনটি পাশ্চাত্য সমাজে আমরা দেখতে পাই। রাসূলে করিম (স:) এ ব্যাপারে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।“যে নারী অকারণে তার স্বামীর নিকট তালাক চাইবে, তার জন্য জান্নাতের সুঘ্রাণও হারাম হয়ে যাবে।” (মিশকাত)

বিবাহবিচ্ছেদের শরীয়ত অনুমদিত কারণসমূহ হলো: ১. খেয়ারে বুলুগ তথা নাবালেগ অবস্থায় কোন মেয়েকে বিয়ে দেয়া হলে বালেগা হওয়ার পর বিয়ে ঠিক রাখা বা না রাখার ইখতিয়ার, ২. কুফু বা সমতা না হওয়া, ৩. স্বামী নিখোঁজ বা উধাও হওয়া, ৪. স্বামী পাগল হওয়া, ৫. স্বামীর নপুংসকতা বা পুরষত্বহীনতা, ৬. স্বামী শ্বেত রোগী বা কুষ্ঠ রোগী হওয়া, ৭. স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে খোরপোষদানে অক্ষমতা বা খোরপোষদানের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও না দেয়া, ৮. ইসলাম স্ত্রীকে যেসব অধিকার দিয়েছে তা স্বামী কর্তৃক লঙ্ঘিত হওয়া, ৯. নির্যাতন করা, ১০.স্বামীর ফাসেকী কর্মকা-ে লিপ্ত থাকা, যেমন মদ্যপ বা নেশাখোর হওয়া যা স্ত্রীর ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, ১১. শরীয়ত বিরোধী কাজে স্ত্রীকে বাধ্য করা, ইত্যাদি। (ইসলাম মে আওরাত কা মাকাম)

এছাড়া, ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ৩২৩ ধারায় স্বামীর চার বছর ধরে নিখোঁজ থাকা, দুই বছর ধরে স্ত্রীর ভরণ পোষণের ব্যর্থতা এবং স্বামীর ্ওপর সাত বছরের কারাদ-ের আদেশকে বিবাহ বিচ্ছেদের ঐচ্ছিক কারণ হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

অভিন্ন আইনের অধিকারঃ প্রাচীন ধর্মগুলো নারীকে নগণ্য কর্ম মর্যাদা এবং পুরুষকে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী মনে করে পৃথক আইন রচনা করেছিলো। কিন্তু ইসলামে নারী-পুরুষের মর্যাদা সমান এবং তাদের জন্য অভিন্ন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। কুরআনে এরশাদ হয়েছে: পুরুষ যেমন কাজ করবে তেমনি ফল পাবে এবং নারী যেমন কাজ করবে ঠিক তেমনি তার ফল লাভ করবে। আরও বলা হয়েছে,“ চোর পুরুষ হোক বা নারী উভয়কে হাত কেটে দাও।”(সূরা আল মায়েদা: ৩৮ ) অর্থাৎ নারী যদি এমন অপরাধ করে যা সাধারণ আইনে দ-নীয় তবে সে পুরুষের সমান শাস্তিই পাবে। বিচারের ক্ষেত্রে নারী এবং পুরুষের মধ্যে কোন পার্থক্য করা হয় নি। জারীকৃত আইনের একটি ধারা হচ্ছে, “স্ত্রীলোকের হত্যাকারী কোন পুরুষ হলে শাস্তি স্বরূপ তাকে হত্যা করা হবে।” অর্থাৎ সমস্ত ক্ষেত্রেই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমান আইন প্রযোজ্য।

মত প্রকাশ ও পরামর্শের অধিকারঃ একজন পুরুষ যেমন শরীয়তের সীমারেখার ভিতরে থেকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা রাখে, এমনিভাবে একজন মহিলারও অধিকার আছে সম্পূর্ণ স্বাধীন ভাবে তার মত প্রকাশের। চাই ধর্মীয় ব্যাপার হোক বা পার্থিব ব্যাপারে। রাসূলে করিম (স:) এর সম্মুখে মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে সব সাহাবাই স্বাধীন ভাবে প্রশ্ন করার ও মত প্রকাশের সুযোগ পেতেন। তাই ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় সমাজ জীবনের বিভিন্ন ব্যাপারে মেয়েদের অভিমত ও হৃদয়াবেগ প্রকাশের অবাধ অধিকার রয়েছে। এটা তারা মৌখিকভাবে বা লেখনির মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারে। নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থেকে এই মত প্রকাশের অধিকার তাদের রয়েছে। হযরত হাসান বসরী (র:) বলেছেন, নবী (স:) মেয়েদের সাথেও পরামর্শ করতেন এবং কোন কোন সময় তাদের অভিমত গ্রহণ করতেন। মহানবী (স:) বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নারীদের মতামতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। হুদায়বিয়ার সন্ধির একটা শর্ত ছিল যে, এই বছর মুসলমানরা উমরা না করেই ফিরে যাবে। তাই রাসূল (স:) সকলকে মাথা মু-ন করতে এবং নিয়ে আসা পশুগুলোকে জবাই করার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু সাহাবাগণ যেহেতু এই সন্ধির শত দেখে মর্মাহত হয়েছিলেন, সে কারণে তারা কেউ এই নির্দেশ পালনে কোন তৎপরতাই দেখালেন না। এরূপ অবস্থা রাসূল (স:) হযরত উম্মে সালমা (রা:) এর নিকট প্রকাশ করলে তিনি সাহাবাদের মনস্তত্ব লক্ষ করে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা সহকারে পরামর্শ দিলেন যে, আপনি এর পর আর কাউকে কিছু না বলে যা কিছু করার নিজেই অগ্রসর হয়ে করে ফেলুন। দেখবেন, সকলেই আপনার দেখাদেখি সব কাজই করবে। রাসূল (স:) এই পরামর্শ সানন্দে গ্রহণ করলেন এবং যখনই তিনি করণীয় সব কাজ করলেন সাহাবায়ে কেরামরাও তাঁর অনুসরণ শুরু করে দিলেন। এভাবে হযরত উম্মে সালমার(রা:) যথার্থ ও সুচিন্তিত পরামর্শ উপস্থিত অচলাবস্থা দূর করাতে সক্ষম হল এবং বাস্তবে প্রমান করে দিল যে, মহিলাদেরও যথেষ্ট জ্ঞান-বুদ্ধি আছে এবং তাদের পরামর্শ জাতীয় জীবনে অনেক সমস্যারই সমাধান করতে সক্ষম।

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে প্রতিটি বিবেকবান মানুষের নিকট অবশ্যই দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হবে যে, অন্যান্য ধর্ম এবং আধুনিক সভ্যতার তুলনায় ইসলামই সর্বাধিক নারী অধিকার নিশ্চিত করেছে। বাস্তবিক অর্থে ইসলাম বর্ণিত নারী অধিকার সমূহ যদি আমাদের সমাজে বাস্তবায়িত হত তবে নারী জাতির জন্য এর থেকে কল্যাণ দায়ক আর কিছুই হতো না। সমাজের সর্বস্তরে ইসলাম বর্ণিত নারী অধিকার সমূহ নিশ্চিত হোক এ প্রত্যাশা রেখে শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ।
...সমাপ্ত

লেখক: ধর্মীয় গবেষক, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত আলোচক ও সহকারী সম্পাদক, মানবাধিকার খবর

ঈদ-উল্ ফিতর ঃ জয় হোক মানবতার
                                  


শান্তি আর মানবতার বাণী নিয়ে ধরায় আসে পবিত্র ঈদ। ভ্রাতৃত্বের মোহনী সুরে ডেকে যায় বারংবার। উন্মোচিত হয় সৌহার্দ আর সম্পৃতির দ্বার। প্রবাহিত হয় খুশির জোয়ার। আনন্দের বন্যা বয়ে যায় সমাজের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে।
ঈদ-উল ফিতর উৎসব হিসেবে যেমন আনন্দের তেমনি তাৎপর্যের। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ আর মাৎসর্য এই ষড়রিপুগুলোকে নিয়ন্ত্রণের অদম্য বাসনা নিয়ে এবং আত্মগঠন ও জাতি গঠনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মুসলিম বিশ্ব পালন করে ঈদ-উল ফিতর।
ঈদ-উল-ফিতর সর্বাধিক অর্থবহ একটি মহান দিবস। আত্মত্যাগ, সহমর্মিতা আর ভালোবাসায় ভরপুর এক স্বর্গীয় পরশ। যা পাপ পঙ্কিল সমাজ থেকে স্বার্থপরতার মূলোচ্ছেদ ঘটিয়ে শান্তিময় সমাজ ও দেশ গড়তে উৎসাহ প্রদান করে। প্রতি বছর ঈদ আসে ধনী-দরিদ্রের আকাশ-পতাল প্রভেদ দূরীভূত করতে সাম্য ও অধিকারের মহান শিক্ষা নিয়ে। ঈদ-উল্ ফিতরের প্রাক্কালে এক মাস রোজা রাখার বিধান দিয়ে ইসলাম তার অনুসারীদের এই মহান শিক্ষাই দেয় অনাহারে থাকা ক্ষুধার যন্ত্রণা কত বেদনার; কত নিস্পৃহ।
কিন্তু এই রোজা বা ঈদ থেকে আমরা কতটুকু শিক্ষা নিজেদের চরিত্রে লালন করতে পারি এটাই ভাবনার বিষয়। আমরা কি পেরেছি অন্নহীন-বস্ত্রহীন মানুষের দুঃখ বুঝে তাদের মুখে খাবার কিংবা শরীরে বস্ত্র তুলে দিতে? আজও অনাহারে অর্ধাহারে অগণিত মানুষ হাত পাতছে অন্যের দ্বারে।
ঈদের ছুটিতে শহরের লাখ লাখ মানুষ পাড়ি জমায় গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু বাড়ী যাবার পূর্বে ফুতপাতে যে হত দরিদ্র মানুষকে অন্ন-বস্ত্রহীন দেখেছিল তার খবর কে রাখে। একবারও কি ঈদ আয়োজনের অর্থ থেকে তাদের জন্য হয়েছে কোন বরাদ্ধ?
নির্বাচন এলে প্রার্থীদের কত অঙ্গীকার! ঈদের ব্যানার ফেস্টুনে সে দৃশ্য কম নয়। কিন্তু সে অঙ্গীকার পূরণে বাস্তবতা কতটুকু? শিল্পপতি, ধনবান, রাজনীতিবদদের কেউ কেউ বিতরণ করেন যাকাতের শাড়ি কিংবা লুঙ্গি। আর তা আনতে গিয়ে পদপৃষ্ঠ হয়ে প্রাণ হারানোর নির্মম ঘটনা শুনিনি এমন নয়। যাকাত গরিবের প্রতি ধনীর করুণা নয় বরং ধনীর সম্পদে গরিবের অধিকার। বাংলাদেশ দারিদ্র্য প্রধান দেশ। তারপরেও এদেশের কিছু কিছু বিত্তবানদের বিদেশী ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। বাদ দিলাম সে কথা। শুধুমাত্র এ দেশের ব্যাংকে যে পরিমান টাকা জমা আছে তা থেকে যদি যাকাত প্রদান করা হয় তাহলে এক বছরের যাকাতের অর্থ দিয়ে এ দেশের হত দরিদ্র মানুষেরা পাঁচ বছর চলতে পারবে সুতরাং ৮৯.৭% মুসলমানের এ দেশে যাকাতের মত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ কাজ থেকে আমরা আছি অনেক দূরে।
ঈদ যে ভ্রাতৃতের শিক্ষা দেয় তা আমরা নিজেদের জীবনে কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পেবেছি? পবিত্র করআনের ভাষ্য “ইন্নামাল মু’মিনুনা ইখওয়া-নিশ্চয়ই মুমিন মুসলমানেরা ভ্রাতৃ সম্পর্কীয়।” হাদিস শরিফে বলা হয়েছে মুসলমানেরা একটি দেহের ন্যায়।’ শরীরের একটি অংশ কাটলে যেমন সমগ্র শরীরে ব্যথা অনুভূত হয় তেমনি পৃথিবীর কোন প্রান্তে একজন মুসলমান নির্যাতিত হলে কিংবা কষ্ট পেলে গোটা মুসলিম জাতি তার পাশে এসে দাড়াবে। তাহলে, আরকানের রোহিঙ্গা মুসলমানরা কি আমাদের ভাই নয়? যদি তাই হতো তবে অথৈ সমুদ্র মাঝে অজানা পথে আমরা তাদের ছেড়ে দিতাম! আমরা তাদেরকে বলতাম ঠাঁই হবে না এদেশের বুকে! অবশ্যই না। বরং আমাদের মুখ থেকেই বেরিয়ে যেত- “আয় ভাই আমাদের বুকে, থাক আমাদের সাথে”
আজ পৃথিবীতে অর্ধশত মুসলিম দেশ রয়েছে। রয়েছে প্রায় দুইশতকোটি মুসলমান। আছে মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন ওআইসি। প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয়, কোথায় সেই ওআইসি? তারা কি দায়িত্ব মুক্ত মিয়ানমার, ইরাক, সিরিয়া, মিশরে মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানো থেকে!
ঈদের শিক্ষা নৈতিকতার অবক্ষয় নয়। রমজানের রোজা আমাদেরকে শিখিয়েছিলো  কুপ্রবৃত্তি পরিহার করে নৈতিক পদস্খলন থেকে দূরে থাকতে, খোদাভীতির চেতনা বাস্তব চরিত্রে লালন করতে। আমরা কি পেরেছি? তাহলে কেন ঘটছে নারীর শীলতাহানী ? এক সময় প্রতিবেশী দেশ ভারতে এ জাতীয় ঘটনার অবতারণায় আমরা শিউরে উঠতাম। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আজ সেই ঘটনাগুলোকেও যেন হারাতে বসেছি। চলছে শয়তানি, নোংড়ামি, আর বদরামির প্রতিযোগিতা। মাইক্রোতে, বাসে, ট্রাকে এমনকি নৌকায়ও ঘটছে এমন ঘটনা। জলপথ আর স্থলপথ শেষ; এখন অবশিষ্ট শুধু আকাশপথ। হতভাগ্য লম্পটগুলোর হাত থেকে জানিনা সে পথটিও রক্ষা পাবে কি না! অথচ ইতিহাস বলে, ঈদ ও রোজার প্রকৃত শিক্ষা মুসলমানেরা যখন ধারণ করেছিল তখন উন্মুক্ত হয়ে কোন নারী হেটে গেলেও কেউ তার দিকে ফিরে তাকাতো না। দল-মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জীবনে নেমে এসেছিল শান্তির ছায়া। সুখে-দুঃখে, জীবনে-মরনে এক সাথে ছিল তাদের প্রতিটি কাজ।
হায়! আজ আমরা কোন পথে?
ঈদের জামাতে কী চমৎকার দৃশ্য! একসাথে দাঁড়ানো, একসাথে বাসা, একসাথে সিজদা আর কোলাকুলি। যা আমাদের শিক্ষা দেয় শৃঙ্খলাপূর্ণ শান্তিময় সমাজ গঠনে। কিন্তু পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র আমাদের ভূমিগুলো গোলযোগে ভরপুর। প্রতি মূহুর্তে ঘটছে রক্তক্ষয়। কখনও শিয়া-ছুন্নির দ্বন্দ্ব, কখনো রাজনৈতিক সংঘাত। চলছে দুর্বলদের ওপর সবলদের অত্যাচার। ইসলামের মূল শিক্ষা থেকে আমরা অনেক দূরে। তাইতো আজ আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিয়েছে মানবতা। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে “তোমরা পরস্পর সংঘবদ্ধ হয়ে আল্লাহর রজ্জুকে আকড়ে ধরো এবং বিচ্ছিন্ন থেকো না।”
(সূরা আলে ইমরান-১০৩)
নবী করিম (স) বিদায় হজ্বের ভাষণে বলেছিলেন, “আমি তোমাদের নিকট রেখে যাচ্ছি দুটি নির্দেশনামা, তোমরা কখনও পথভ্রষ্ট হবে না যদি এই দুটো জিনিসকে মেনে চলতে পার। এক-আল্লাহর কিতাব কুরআন আর দুই-আমার সুন্নাহ-রীতি পদ্ধতি।”
জানিনা কবে শুভবোধদয় হবে বিশ্ব মুসলিমের। ঈদের শিক্ষা আকড়ে ধরার মাধ্যমে ফিরে আসবে মানবতা। আরকানে রোহিঙ্গাদের জীবনে আসবে সোনালী দিন আর বিশ্ব জুড়ে বন্ধ হবে মানবাধিকার লঙ্ঘন।
সমাগত ঈদে এই প্রত্যাশা রেখে শেষ করেছি- ঈদ-উল-ফিতর জয় হোক মানবতার।
লেখক ঃ ধর্মীয় গবেষক, জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত আলোচক ও সহকারী সম্পাদক, মানবাধিকার খবর

নামাজে বিনয়াবনত মানুষই সফল ও সৌভাগ্যবান
                                  

মাধ্যম হলো- নামাজ

 

নামাজ মুসলমানদের জন্য অবশ্য পালনীয় ফরজ ইবাদত। নামাজ শুধুমাত্র আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আদায় করতে হবে। নবী করিম (সা.) এ প্রসঙ্গে বলেন, নামাজ ইসলামি বিধি-বিধানের অংশ এবং এই নামাজের মধ্যেই রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি।

 

একবার হজরত রাসূলুল্লাহ (সা) মসজিদে নববীতে বেশ প্রফুল্লচিত্তে উপস্থিত হয়ে সাহাবিদের সামনে নামাজের ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে পাওয়া সুসংবাদ তুলে ধরেন। 

তিনি বলেন, তোমরা কি জানো আল্লাহতায়ালা নামাজিদের জন্য কি সুসংবাদ দিয়েছেন? উপস্থিত সাহাবিরা বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভালো জানেন, আমরা শোনার জন্য প্রস্তুত। 

তখন নবী করিম (সা.) আল্লাহতায়ালার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করবে এবং নামাজের যত্ন নেবে ও এই অবস্থায় আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, আমি তাকে বেহেশতে প্রবেশের ওয়াদা দিচ্ছি। আর যে নামাজ আদায় করবে না, তার সম্পর্কে আমার এ ধরনের কোনো ওয়াদা নেই। আমি চাইলে তাকে শাস্তি দেব অথবা ক্ষমা করবো। 

এই সুসংবাদ শোনার পর মুসলমানদের চোখ থেকে আনন্দাশ্রু গড়িয়ে পড়লো এবং এই নেয়ামতের জন্য তারা কৃতজ্ঞতা জানালো মহান আল্লাহর প্রতি। এরপর সবাই আরও সুশৃঙ্খলভাবে ও বেশি উদ্দীপনা নিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করলো এবং নামাজের প্রতি আরও যত্নবান হলো।

উল্লেখিত হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, আল্লাহতায়ালা নামাজিকে কতো বেশি ভালোবাসেন। নামাজ ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির অংশ ও সবচেয়ে সেরা ইবাদত বলে অন্য অনেক ইবাদতের চেয়ে এর পুরস্কার অনেক বড়। 

আল্লাহতায়ালার সঙ্গে সংযোগের সুনিশ্চিত পথ এবং আত্মাকে উন্নত করার মাধ্যম হলো- নামাজ। এই উন্নত ইবাদতের ইতিবাচক শিক্ষা নামাজির মন-মানসিকতায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে এবং সবচেয়ে উন্নত গুণবালীর সমাবেশ ঘটে তার মধ্যে। ইসলামে নামাজের ওপর ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়ার অন্যতম কারণ এটাই। 

‘বিশ্বাসীরা অবশ্যই সফলকাম, যারা বিনয়াবনত তাদের নামাজে’ –সূরা মুমিনুন 
পবিত্র কোরআনের সূরা আহকাফের ১৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, প্রত্যেকের মর্যাদা তার কর্মানুযায়ী, এটা এ জন্য যে আল্লাহ প্রত্যেকের কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিফল দেবেন এবং তাদের প্রতি অবিচার করা হবে না।’

একজন নিষ্ঠাবান নামাজি সুখে ও দুঃখে সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রেমে মত্ত থাকেন এবং তারই সাহায্য কামনা করেন। আল্লাহতায়ালাও তার বিনম্র ও ভীত-বিহ্বল বান্দাদের জন্য নিজ রহমতের অসীম দিগন্ত খুলে রাখেন। 

অবশ্য প্রকৃত নামাজিরা পুরস্কারের আশায় বা দোজখের শাস্তির ভয়ে নামাজ আদায় করেন না। তারা একমাত্র আল্লাহর প্রেমে বিভোর হয়েই নামাজ পড়েন। আল্লাহর স্মরণ তাদের অন্তরকে সজীব করে এবং তারা মহান আল্লাহর নৈকট্যের সুবাদে ব্যাপক কল্যাণের অধিকারী হন। আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিফল বৃথা যেতে দেন না। আর তাই তিনি সৎকর্মশীল ও নামাজিদেরকে ব্যাপক নেয়ামত ও পুরস্কার দান করে থাকেন।

নামাজিদের জন্য আল্লাহর পুরস্কারগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার হলো- তাদেরকে নিজের নৈকট্য প্রদান। পবিত্র কোরআনের সূরা আলাকে আল্লাহতায়ালা নবী করিমকে (সা.) তার (আল্লাহর) নৈকট্য লাভের জন্য নামাজ ও সিজদা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহর নেয়ামতগুলোর মধ্যে আল্লাহর নৈকট্য লাভ একটি তুলনাহীন ও অমূল্য নেয়ামত। আর এ নৈকট্য নামাজের মাধ্যমে অর্জিত হয়। 

নামাজ এমন এক সৌভাগ্যের পরশমনি যা মানুষের অন্তরাত্মায় গভীরে প্রভাব ফেলে তাকে আধ্যাত্মিক গুণাবলী ও পরিপূর্ণতার সৌন্দর্য্যময় শিখরে উন্নীত করে। এ অবস্থায় বান্দাও আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট হয়ে যায়। আল্লাহতায়ালাও এমন ব্যক্তির ব্যাপারে সূরা ফজরের শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘হে প্রশান্ত চিত্ত! তোমার প্রতিপালকের দিকে ফিরে আসো এমন এক অবস্থায় যখন তুমি তার প্রতি সন্তুষ্ট এবং তিনিও তোমার প্রতি সন্তুষ্ট। এরপর আমার দাসদের অন্তর্ভুক্ত হও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।’

সৌভাগ্যের অর্থ হলো- মানুষের আত্মার উন্নতি। মানুষ সঠিক-সরল পথে চলে আন্তরিক চিত্তে ইবাদত ও সৎকর্ম করার মাধ্যমে চিরন্তন সৌভাগ্য এবং মুক্তি অর্জন করতে পারে। নামাজ অসচেতন মানুষকে সচেতন করে এবং তাকে মুক্তি ও সৌভাগ্যের পথ দেখিয়ে দেয়। আল্লাহতায়ালা সূরা মুমিনুনের প্রথম আয়াতে এ বিষয়ে ইরশাদ করেন, ‘বিশ্বাসীরা অবশ্যই সফলকাম, যারা বিনয়াবনত তাদের নামাজে।’

সৌম্যকে আরেকটি সুযোগ দিতে চান কোচ চন্ডিকা হাতুরুসিংহ
                                  

স্পোর্টস ডেস্ক | মানাধিকার খবর ::

নিজের ফর্মটা যেন কোনোভাবেই ফেরাতে পারছেন না সৌম্য সরকার। একের পর এক সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারছেন না। ফলে সমর্থকদের থেকে দুয়ো পেতে হচ্ছে। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজে সৌম্যকে আরেকটি সুযোগ দিতে চান কোচ চন্ডিকা হাতুরুসিংহে।



পুরো ২০১৬ সালেই বাজে খেলা সৌম্যকে টি-২০ স্কোয়াডে রেখেছেন নির্বাচকরা। গত বছর ১৬টি টি-২০’তে ১৪.৩৫ গড়ে মাত্র ২৮৭ রান করেছিলেন তিনি। যেখানে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেছিলেন গত এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে। সেই ম্যাচটিতে অবশ্য তার ব্যাটেই জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।

কিউই সফরে প্রথম ওয়ানডে খেলেছিলেন বাঁহাতি এ তারকা ব্যাটসম্যান। কিন্তু এক রান করতেই বিদায় নিতে হয় তাকে। ফলে পরের দুই ম্যাচে সাইড বেঞ্চে বসে থাকতে হয়। হাতুরুসিংসে মনে করেন, সৌম্য নিজেকে ইতোমধ্যে ম্যাচ উইনার হিসেবে প্রমাণ করেছে, ‘সে (সৌম্য) রান করলে আমরা ম্যাচ জিতি। যার কারণে এখনও আমরা তার আশায় থাকি। আসলে ৪০ এর বেশি গড় ও ১’শ মতো স্ট্রাইক রেটের ক’জন ব্যাটসম্যান বাংলাদেশে আছে! এমনকি বিশ্বেই বা কয়জন আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ছেলেটির আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার মতো যোগ্যতা রয়েছে। যদি প্রতিটি ভালো ক্রিকেটারের ইতিহাস ঘাটেন দেখবেন, স্টিভেন স্মিথ বা জো রুটের মতো ক্রিকেটারও বাজে সময় কাটিয়েছে। এখন তারা নিজেদের ঠিকভাবে ফিরিয়ে এনেছে। আমি আশাকরি সৌম্য খুব দ্রুতই ফিরতে পারবে।’

এদিকে টি-২০ দলে নেওয়া অলরাউন্ডার ‍শুভাগত হোম চৌধুরী প্রসঙ্গে কোচ বলেন, ‘সে জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ টি-২০ খেলেছে। নির্বাচকদের খেলোয়াড় বাছাইয়ে ধারাবাহিক হতে হয়। সে গত বিশ্বকাপেও খেলেছে এবং ভালো বল করেছে। এই কারণেই সে দলে।’

টি-২০ দলে না থাকলেও ওয়ানডে দলে ছিলেন লেগ স্পিনার তানভির হায়দার। যদিও শেষ দুটি ম্যাচ খেলে কোনো উইকেটের দেখা পাননি তিনি। তবে এই লেগির ওপর ভবিষ্যতে আস্থা রাখতে চান কোচ। এমনকি আগামী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও বিশ্বকাপে তাকে দলে দেখতে চান তিনি।

ব্যাটসম্যানদের নিয়ে আলাদা মিটিং করলেন হাথুরুসিংহে
                                  

 

ডেস্ক, মানাধিকার খবর::

নিউজিল্যান্ড সফরে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ওয়ানডে সিরিজের তিন ম্যাচ হেরে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে টাইগাররা। নেলসনের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে শুরুর দিকে ব্যাটসম্যানরা ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে শেষ দিকে ব্যাটসম্যানরা ছন্দে না থাকায় ওয়ানডে হতাশ হতে হয় টাইগারদের। তাই টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে আলাদা মিটিং করলেন টাইগার কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে।

সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২৫২ রান করতে গিয়ে খুব ভালো শুরু না হলেও দ্বিতীয় উইকেটে ইমরুল কায়েস আর সাব্বির রহমান রুম্মনের হাত ধরে ধীরে ধীরে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে থাকা। ৩০ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পরও একপর্যায়ে স্কোর ছিল এক উইকেটে ১০৫।

ঠিক সেখান থেকে ছন্দপতন। মিডল অর্ডার ভেঙে পড়লো তাসের ঘরের মতো। ১৮৪-তে অলআউট। ইমরুল ৫৯। আর সাব্বির ৩৮। তারপর ব্যর্থতার মিছিল। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (১), সাকিব আল হাসান (৭), মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (৩) ও তানবির হায়দার (২) ফিরে গেলেন অল্প সময় ও নামমাত্র সংগ্রহে।

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে প্রথম ব্যাটিংয়ে নামার পর প্রথম উইকেটে উঠলো ১০২ রান। তা-ও মাত্র ২১.২ ওভারে। ওভার পিছু প্রায় ৫। ৫০ ওভারের ম্যাচে আদর্শ সূচনা। ওয়ানডে ফরম্যাটে এতো ভালো, সুন্দর ও সাবলীল শুরু খুব কমই দেখা যায়। এমন উড়ন্ত সূচনার পর খুব খারাপ হলেও রান আড়াইশো পার হয়ে পৌনে তিনশোর আশাপাশে থাকার কথা। সেখানে বাংলাদেশ থামলো ২৩৬ রানে।

ওয়ানডের হতাশা কাটিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভালো করতে হলে ব্যাটসম্যানদের জ্বলে ওঠার কোন বিকল্প নেই। তাই ব্যাটসম্যানদের দিকে আলাদা করেই নজর রাখছেন টাইগার কোচ।

জাতীয় শাটলাররা লাঞ্ছিত
                                  




নামে শাটলার প্লেয়ার অ্যাসোসিয়েশন কমিটি, অথচ সং¯দাটি জন্য শাটলাররাই আছেন এখন বিপদে। গতকাল তো জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা শাটলারদের গায়ে হাত তোলার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে সাবেক শাটলার এনায়েত উল্লাহর নেতৃত্বে উডেন ফোর জিমনেসিয়ামে। জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা মহিলা এককের চ্যাম্পিয়ন শাপলা আক্তার এ অভিযোগ করে বলেন, দজাতীয় দলের শাটলারদের গায়ে হাত তোলার ঘটনা বাংলাদেশে অতীতে কখনোই ঘটেনি। এনায়েত উল্লাহ একজন সাবেক চ্যাম্পিয়ন। তার কাছ থেকে এ ধরনের ব্যবহার আমরা আশা করিনি। তিনি জাতীয় দলের শাটলারদের ওপর যে ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা করেছেন, তা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্যাম্পে ফিরে যাব না।দ
মূলত ঘটনার শুরু প্লেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি গঠন নিয়ে। জাতীয় দলের বর্তমান ও সাবেক শাটলারদের নিয়ে গঠিত এ কমিটি গত মাসের ১৪ তারিখে সভাপতি হিসেবে অহিদুজ্জামান রাজু আর সাধারণ সম্পাদক সিব্বির আহম্মেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। যেখানে আগের কমিটির সহসভাপতি এনায়েতকে রাখা হয়নি। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এনায়েত। তাই গতকাল দুপুরে অনুশীলনের আগে খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুম থেকে বের করে দিয়ে এনায়েত বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে প্লেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে মিটিংয়ের আয়োজন করতে যান, এতে শাটলাররা বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা করা হয় বলে জানান শাপলা। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে এনায়েত উল্লাহ বলেন, দপ্লেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আগের কমিটি এখনও বহাল আছে। আমরা আজ (গতকাল) নতুন করে কমিটি করতে এসেছিলাম। রাজু-সিব্বির সেখানে এসে আমাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছে। আমাদের কেউ তাদের ওপর হামলা করেনি।দ

বিপিএল উপস্থাপনায় আমব্রিন ও শিনা
                                  

 

মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন:

 

উপস্থাপিকা হিসেবে লাক্স সুন্দরী আমব্রিনকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। আর বলিউড অভিনেত্রী শিনা চৌহানকে আমরা চিনি ‘পিঁপড়াবিদ্যা’ ছবির নায়িকা হিসেবে। এবার এই দুই সুন্দরীকে বিপিএলের মাঠে দেখবে দর্শক।

 

বিপিএলের উপস্থাপিকা হিসেবে পরিচিত শিনা চৌহান। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) প্রথম আসরে মাত করেছেন। ছিলেন দ্বিতীয় আসরেও। মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনার কারণে প্রথম দুই আসরেই দারুণ জনপ্রিয় হয়েছেন শিনা। তাই ক্রিকেট পাড়ায় সবার কাছ থেকেই দারুণ প্রশংসা পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পাঁচ বছরের চুক্তি থাকলেও মাত্র দুই বছর দায়িত্ব পালন করা শিনার সঙ্গে উপস্থাপনার চুক্তি বাতিল করে পামেলা ভাটুরিয়ার সঙ্গে নতুন চুক্তি করে চ্যানেল নাইন কর্তৃপক্ষ। গত আসরেই দায়িত্ব পালন করেন ভারতীয় এই অভিনেত্রী। যদিও তার সঙ্গে চতুর্থ আসরে আর চুক্তি বাড়ায়নি চ্যানেল নাইন কর্তৃপক্ষ। চ্যানেল নাইনের হেড অব প্রোগ্রাম তানভীর খান বলেন, ‘অনেক যাচাই-বাছাইয়ের পরই আমরা অনুষ্ঠান সঞ্চালক হিসেবে শিনা ও আমব্রিনকে বাছাই করেছি।’

মুম্বাইয়ের বাসিন্দা শিনা বাংলাদেশে উপস্থাপনা দিয়ে শুরু করলেও তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রে একজন অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত। এর আগে ভারতের মালয়ালাম ছবি ‘দ্য ট্রেন’ দিয়ে বড় পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। এরপর বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের ‘মুক্তি’ ও ‘পত্রলেখা’ নামের দুটি হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের ‘পিঁপড়াবিদ্যা’ ছবিতে তিনি কাজ করেছেন নায়িকা হিসেবে।

ফ্র্যাঞ্চাইজিদের জন্য পছন্দের ক্রিকেটার ডেকেছেন সাকিব আল হাসান
                                  

 

মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন:

 

তারকা ক্রিকেটাদের উপস্থিতিতেই হয়ে গেল বিপিএলের নিলাম। এবারই প্রথম বিপিএলের ড্রাফটে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সাথে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের তারকা চার ক্রিকেটার। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের এ প্লাস ক্যাটাগরির ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা ছিলেন ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সাথে। ঢাকা ডায়নামাইটসের ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সাথে থেকে দলের জন্য পছন্দের ক্রিকেটার ডেকেছেন সাকিব আল হাসান।

লটারির মাধ্যমে খুলনা প্রথমে কল করার সুযোগ পেয়ে মোশররফ হোসেন রুবেলকে দলে নেয়। সদ্যই আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঘোষিত তৃতীয় ওয়ানডের দলে সুযোগ পেয়েছেন বাঁহাতি এই স্পিনার। এরপর রাজশাহী পরপর দুইবার কল করার সুযোগ পেয়ে নুরুল হাসান সোহান এবং মেহেদী হাসান মিরাজকে দলে নেয়। সর্বশেষ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের নেতৃত্বে ছিলেন মিরাজ।  নতুন দুই দুইজন করে স্থানীয় খেলোয়াড় নেয়ার পর, সব দলকে লটারীর মাধ্যমে বিদেশি ক্রিকেটার নেয়ার সুযোগ দেয়। প্রথম দুই রাউন্ডে প্রতিটি দলই দুইজন করে বিদেশি ক্রিকেটারকে ড্রাফটের মাধ্যমে দলে নেয়। এরপর স্থানীয় ক্রিকেটারদের কল হয়।

নিলামের উপস্থিত ছিলেন বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, ড্রাফটের পরিচালক মাহবুব আনাম, বিসিবি পরিচালক জালাল ইউনুস, ইসমাইল হায়দার মল্লিক, আ জ ম নাসির। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিসিবির সাবেক সভাপতি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের মালিক আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সর্বশেষ দল তালিকা

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স

দেশিঃ মাশরাফি বিন মর্তুজা, ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, মোহাম্মদ আল-আমিন, নাজমুল হোসেন শান্ত, নাহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মোহাম্মদ শরীফ, নাবিল সামাদ, জসীমউদ্দিন, সৈকত আলী, রাসেল আল মামুন,

বিদেশিঃ ইমাদ ওয়াসিম, আসহার জাইদি, সোহেল তানভির, নুয়ান কুলাসেকারা, রশিদ খান, রোভম্যান পাওয়েল, থিসারা পেরেরা, খালেদ লতিফ, শাহজিব হাসান, জেসন হোল্ডার।

চিটাগাং ভাইকিংস

দেশিঃ তামিম ইকবাল, তাসকিন আহমেদ, এনামুল হক বিজয়, আব্দুর রাজ্জাক, শুভাশীষ রয়, জহুরুল ইসলাম, নাজমুল হাসান মিলন, জাকির হাসান, সাকলাইন সজীব, শহিদুল ইসলাম, ইয়াসির আলী, জুবায়ের হোসেন লিখন।

বিদেশিঃ ক্রিস গেইল, চতুরঙ্গা ডি সিলভা, ডোয়াইন স্মিথ, শোয়েব মালিক, মোহাম্মদ নবী, গ্র্যান্ট ইলিয়ট, ইমরান খান জুনিয়র, জীবন মেন্ডিস, টাইমাল মিলস।

রংপুর রাইডার্স

দেশিঃ সৌম্য সরকার, আরাফাত সানি, মোহাম্মদ মিথুন, রুবেল হোসেন, সোহাগ গাজী, জিয়াউর রহমান, নাঈম ইসলাম, মোহাম্মদ ইলিয়াস সানি, পিনাক ঘোষ, মুক্তার আলী, মেহরাব হোসেন জোসি, শাহবাজ চৌহান।

বিদেশিঃ শহিদ আফ্রিদি, গিড্রন পোপ,শারজিল খান, বাবর আজম, মোহাম্মদ শাহজাদ, দাসুন শানাকা, রিচার্ড গ্লিসন, নাসির জামসেদ, সচিত্রা সেনানায়েকে, জীহান রুপাসিংহে।

বরিশাল বুলস

দেশিঃ মুশফিকুর রহীম, আল-আমিন হোসেন, তাইজুল ইসলাম, শামসুর রহমান শুভ, আবু হায়দার রনি, কামরুল ইসলাম রাব্বি, নাদিফ চৌধুরী, মেহেদী হাসান, মনির হোসেন, শাহরিয়ার নাফীস।

বিদেশিঃ দিলশান মুনাবিরা, মোহাম্মদ নেওয়াজ, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট, জশুয়া কব।

রাজশাহী কিংস

দেশিঃ সাব্বির রহমান, নুরুল হাসান সোহান, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুমিনুল হক, ফরহাদ রেজা, নাজমুল হোসেন অপু, রকিবুল হাসান, আবুল হাসান রাজু, রনি তালুকদার, সালমান হোসেন, ইবাদত হোসেন।

বিদেশিঃ ড্যারেন স্যামি, মোহাম্মদ সামি, মিলিন্দা সিরিবর্ধনে, উপুল থারাঙ্গা, সামিত প্যাটেল।

খুলনা টাইটান্স

দেশিঃ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোশারফ হোসেন রুবেল, শফিউল ইসলাম, শুভাগত হোম, আরিফুল হক, আব্দুল মজিদ, অলক কাপালী, হাসানুজ্জান, নাঈম ইসলাম জুনিয়র, নুর হোসেন সাদ্দাম, তাইবুর রহমান, আব্দুল হালিম।

বিদেশিঃ কেভন কুপার, মোহাম্মদ আসগর, নিকোলাস পুরান, রিকি ওয়েসেলস, বেনি হাওয়েল, লেন্ডল সিমন্স, ব্যান লাফলিন, আন্দ্রে ফ্লেচার, জুনায়েদ খান।

মানুষ মানুষের জন্য বন্যা দূর্তদের সহায়তায় এগিয়ে এলেন মাশরাফি-সুমন
                                  

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

বন্যাদুর্গতের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন নড়াইল এক্সপ্রেস। বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দিতে প্রাণ ড্রিংকিং ওয়াটার আয়োজন করে ‘ওয়াকাথন’ প্রতিযোগিতা। ২৬ আগস্ট সকালে রাজধানীর পূর্বাচল এক্সপ্রেস হাইওয়েতে (৩০০ ফুট) পাঁচ কিলোমিটারব্যাপী এ হাঁটা প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রাণের এমন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং বিসিবির নির্বাচক ও সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন।

প্রাণ ড্রিংকিং ওয়াটারের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর মাশরাফি, সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন, প্রাণ বেভারেজ লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, বিপণন প্রধান আতিকুর রহমান ও সহকারী ব্র্যান্ড ম্যানেজার আবদুল্লাহ আল জুবায়েরসহ প্রায় ২ হাজার মানুষ এ ওয়াকাথনে অংশগ্রহণ করেন। যতজন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন সেই পরিমাণ বোতল পানি বন্যাকবলিত মানুষকে সহায়তা করা হবে। এ আয়োজন নিয়ে মাশরাফি বলেন, প্রাণ ড্রিংকিং ওয়াটার একটি শুভ উদ্যোগ নিয়েছে। বন্যাকবলিত মানুষের জন্য এটা একটা ভালো উদ্যোগ। মানুষকে সাহায্য করার এ ইভেন্টে সবার সম্পৃক্ততা দেখে ভালো লাগছে।

হাঁটার এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সকাল থেকেই তরুণ-তরুণীদের ভিড়ে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পূর্বাচল এক্সপ্রেস হাইওয়ে।

অলিম্পিক পদক বিক্রি ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুকে বাঁচাতে সহায়তায় অলিম্পিয়ান
                                  

 

মানবাধিকার খবর ডেস্ক :

 

একবিংশ শতকে স্পোর্টসম্যানশিপের অতি বিরল ঘটনা বোধহয় এটাই। রিও অলিম্পিকে পদকজয়ী অ্যাথলিট নিজের রূপোর পদক বিক্রি করে আর্থিক সাহায্য করলেন ৩ বছরের ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুকে। ৩৩ বছর বয়সী ডিসকাস বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পোল্যান্ডের পিয়ত্র মালাচোয়াস্কি রিও অলিম্পিকে রূপো জিতেছেন। ৪ বছরের নিরলস প্রচেষ্টার পর যে সম্মান, বিশ্ব জয়ের যে স্পর্ধা তিনি অর্জন করেছেন, সেটাই অবলীলাক্রমে তিনি বিক্রি করে দিলেন। কারণ, তাঁর কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়েছিল ওই ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর মা। তাই নিজের সবথেকে বরপ্রাপ্তিই ‘বিসর্জন’ দিলেন পোল্যান্ডের অলিম্পিয়ান পিয়ত্র মালাচোয়াস্কি।

নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অলিম্পিয়ান, পিয়ত্র মালাচোয়াস্কি লেখেন, “আমি অলিম্পিকে সোনার জন্য লড়াই করেছি। তবে এই লড়াই অলিম্পিকে সোনার থেকেও বড়, অমূল্য। আমার রূপো পদকের মূল্য আরও বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ এটাই”। শুধু নিজের পদক বিক্রিই নয়, অন্যদেরকেও ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুকে সাহায্য করার আবেদন জানিয়েছেন মালাচোয়াস্কি।

অভিমানেই অধিনায়কত্ব ছাড়লেন মুশফিক ?
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সুপার লিগ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে টস করতে নামা ব্যক্তিটির দিকে হঠাৎই চোখ আটকে গেল সকলের। একি, তামিম ইকবালের সঙ্গে টসের কয়েন ছুঁড়তে মুশফিকুর রহিম কোথায়? মুশফিকের পরিবর্তে যে নাঈম ইসলাম নামছেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, হঠাৎই অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন মুশফিক। যার কারণ খুঁজতে যেয়ে সামনে চলে এলো হরেক রকমের তত্ত্ব।

বিকেএসপিতে ১৫ জুন মুখোমুখি হয়েছে দুই চিরপ্রতিদ্ব›দ্ধী আবাহনী-মোহামেডান। যাতে মুশফিকের পরিবর্তে টসে নামা নাঈম ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তখনো হয়তো ভাবেননি দিনটি নাঈমের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়েই ধরা দেবে। তামিমের দল যে বাংলাদেশের মাটিতে লিস্ট-এ ম্যাচে সর্বোচ্চ রানের সংগ্রহ গড়ার রেকর্ড গড়ে মোহামেডানকে পাহাড়সম রানের লক্ষ্য দিয়েছে এদিন। লিটন দাস আর দিনেশ কার্তিকের সেঞ্চুরি ও সাকিব আল হাসানের ঝড়ো ফিফটিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৭১ রান তুলেছে আবাহনী।

তবে আবাহনীর বিস্ময়কর ব্যাটিংয়ের আগে বড় বিস্ময় হয়ে এলো মুশফিকের টস করতে না নামা। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে অধিনায়ক বদল। নতুন অধিনায়ক নাঈম ইসলাম। অর্থাৎ, অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন মুশফিকুর রহিম। চলতি লিগে নিয়মিতই মোহামেডানের অধিনায়কত্ব করে আসছিলেন টাইগারদের সাদা পোশাকের দলপতি।

মুশফিকের হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে ছড়াতে থাকল নানা গুঞ্জন। মোহামেডান কর্মকর্তারাও তখন অন্ধকারে। নয়তো কিছু জানাতে চাইলেন না! পরে কেউ জানালেন, কারণটা মুশফিকের ব্যক্তিগত হতে পারে। কেউ আবার বললেন, ব্যাটিংয়ে আরো বেশি করে মনোযোগ দিতেই অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন মুশফিক। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দেয়ার কারণটিই মোহামেডানের বক্তব্য বলে জানা গেল।

আবার ভিন্ন বক্তব্যও আছে। সুপার লিগের প্রথম ম্যাচে হেরে মোহামেডানের শিরোপার স্বপ্ন কঠিনই হয়ে উঠেছে। সেই ম্যাচে মুশফিকের অধিনায়কত্ব নিয়েও নাকি প্রশ্ন তুলেছিলেন দলটির কোনো কোনো কর্মকর্তা। দলের একটি সূত্রই বলছে, অনেকটা অভিমানেই অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন জাতীয় দল তারকা মুশফিক!

ফেসবুকে তামিমের দুঃখ প্রকাশ
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেটের সুপার লিগে ১২ জুন ম্যাচে আম্পায়ারদের সঙ্গে বাজে আচরণের কিছুটা হলেও অনুশোচনায় পুড়ছেন আবাহনী অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

ক্রিকেটানুরাগী, ভক্ত, সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের এই মারকুটে ওপেনার। মঙ্গলবার মধ্যরাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এ বার্তা দেন তামিম।

তামিম লিখেছেন, রবিবার বিকেএসপিএতে প্রাইম দোলেশ্বরের বিপক্ষে ম্যাচে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এজন্য আমি সত্যিই খুব দুঃখিত ও বিব্রত। সাময়িক উত্তেজনায় হুট করে সেন্টিমেন্টাল এক্সপ্লোশন হয়ে গিয়েছিল। জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটার হিসেবে, অনেক শিশু-কিশোর ও উঠতি ক্রিকেটারের আদর্শ হিসেবে এরকম করা আমার উচিৎ হয়নি।

লিগের এমন একটা পর্যায়ে আমরা আছি, যেখানে প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি পয়েন্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আম্পায়ারের একটি সিদ্ধান্তই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে তাই অনেক সময় ক্রিকেটারদের নিজেকে ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। মাঠে আমরা নিজেদের সবটুকু উজার করে দেই।

তবে অজুহাত দেবো না। পরিস্থিতি যেমনই হোক, এরকম প্রতিক্রিয়া দেখানো আমার কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। অবশ্যই আরো ভালোভাবে সামলাতে পারতাম পরিস্থিতি। ক্রিকেটানুরাগী, ভক্ত, সমর্থক সবার কাছে আবারও দুঃখ প্রকাশ করছি।

প্রসঙ্গত, বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে প্রাইম দোলেশ্বরের ইনিংসের ১৬তম ওভারে সাকলাইন সজীবের বলে ব্যাট করছিলেন রকিবুল হাসান। এ সময় একটি স্ট্যাম্পিংয়ের আবেদনে সাড়া না দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তামিম ইকবাল। ফিল্ড আম্পায়ার গাজী সোহেল ও তানভির হায়দারকে প্রকাশ্যে গালমন্দ করেন তামিমসহ আবাহনীর সমর্থকরা।

এরপর আরো এক ওভার খেলা চললেও গালি অব্যাহত রাখলে এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে ম্যাচ রেফারির সঙ্গে কথা বলে মাঠ ছাড়েন আম্পায়াররা। তামিম-কা-ে ম্যাচটি আর অনুষ্ঠিত হয়নি। ম্যাচের ভাগ্য ঠিক করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

‘আরো অনেক বড় হোক, সুনাম বৃদ্ধি করুক’ মুস্তাফিজের একদিনের ইফতারে আড়াই লাখ টাকা খরচ
                                  

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

আইপিএল জয় করে বেশকিছু দিন আগেই দেশে ফিরেছেন হালের বিশ^ মিডিয়ায় ঝড়তোলা বাংলাদেশের তরুন ক্রিকেটার কাটার মাস্টার খ্যাত মোস্তাফিজ। দেশে ফিরে বেশ কিছু দিন তিনি গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার তেঁতুলিয়ায় অবস্থান করছেন। এরইমধ্যে চলে এসেছে পবিত্র রমজান মাস। আর প্রথম রমজানেই রোজাদারদের সম্মানে এলাকার পার্শ্ববর্তী ৬টি মসজিদে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে ইফতার করালেন কাটার মাস্টার। ইফতারির আয়োজনে খেজুরের সঙ্গে ছিল গরুর মাংস আর খিঁচুড়ি।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মুস্তাফিজের গাড়ির ড্রাইভার রেজাউল ইসলাম। তিনি জানান, ইফতারের জন্য মুস্তাফিজ এক লাখ টাকা মূল্যের একটি গরু কিনেছিলেন। এতে সব মিলিয়ে তার প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে।

দেশ সেরা এই পেসারের ইফতারে শরীক হওয়া তেঁতুলিয়া এলাকার বাসিন্দারা বলেন, মুস্তাফিজ আমাদের গ্রামের ছেলে। সে বয়সে ছোট হলেও সম্মানে অনেক বড় হয়েছে। আমাদের গ্রামের নাম উজ্জ্বল করেছে। দোয়া করি সে আরো অনেক বড় হোক, এলাকার সুনাম বৃদ্ধি করুক।

লক্ষ কোটি ভক্তকে আশাহত করে কোপা থেকে ব্রাজিলের বিদায়
                                  

মানবধিকার খবর ডেস্ক :

ব্রাজিলকে কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে পেরু। ১৩ জুন খেলার ৭৫ মিনিটের মাথায় রাউল রুইডিয়াজের একটি বিতর্কিত গোলে ১-০ গোলে জয় পায় পেরু।

রিপ্লেতে দেখা যায়, এন্ডি পোলোর ক্রস গোললাইন পার করতে বদলি খেলোয়াড় রাউল তার হাত ব্যবহার করেছিলেন।

ব্রাজিলের প্রতিবাদের মুখে রেফারি তার লাইন্সম্যানদের সাথে আলোচনা করেন, তবে শেষপর্যন্ত গোলের সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন। খেলাটি অনুষ্ঠিত হয় ম্যাসাচুসেটসের ফক্সবোরোর জিলেট স্টেডিয়ামে।  ১৯৮৭ সালের পর এই প্রথম ব্রাজিল কোপা আমেরিকার গ্রুপপর্ব থেকে বাদ পড়লো।

পেরু কোপা আমেরিকার গতপর্বেও সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলেছিল।

 

বরখাস্ত ব্রাজিল কোচ দুঙ্গা

 

এদিকে ব্রাজিলের কোচের পদ থেকে দুঙ্গাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ১৪ জুন  এক বিবৃতিতে ব্রাজিলের ফুটবল ফেডারেশন দুঙ্গাসহ পুরো কোচিং স্টাফকে ছাটাই করার সংবাদ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমকে।

কোপা আমেরিকার গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল ব্রাজিল। এরপরের ম্যাচে হাইতিকে ৭-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ আটে ওঠার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছিল। কিন্তু তৃতীয় ম্যাচে পেরুর কাছে বিতর্কিত এক গোলে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল।

পেরুর কাছে হারার পর সাংবাদিকদের কাছে ব্রাজিলের কোচ দুঙ্গা জানিয়েছিলেন, তিনি চাকরি হারানো নিয়ে ভীত নন। ব্রাজিল দলকে পুনর্গঠন করার জন্য আরও সময়ের প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাকরিটা আর রাখতে পারলেন না তিনি।

আইপিএলে হায়দরাবাদ চ্যাম্পিয়ন সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় মুস্তাফিজ
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

লেগ স্ট্যাম্পের ওপরে থাকা ভুবনেশ্বর কুমারের বলটি স্কুপ করে লং লেগ অঞ্চল দিয়ে বাউন্ডারির বাইরে পাঠালেন ইকবাল আবদুল্লাহ; কিন্তু উচ্ছাস নেই তার মুখে। মেগা স্ক্রিনে তখন ভেসে উঠলো উল্লাসিত ডেভিড ওয়ার্নারের মুখ। কারণ শেষ বলটি যে ছিল শুধুই আনুষ্ঠানিকতা! তার আগেই নিশ্চিত হয়ে গেছে শিরোপা লড়াইয়ের জয়-পরাজয়।

নবম আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হলো ওয়ার্নার-মুস্তাফিজের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ২৯ মে ফাইনালে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের ঘরের মাঠে তাদেরকে ৮ রান হারিয়ে শিরোপা জেতে ওয়ার্নার-মুস্তাফিজ বাহিনী। ২০৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে কোহলি বাহিনী ৭ উইকেটে করতে পেরেছে ২০০ রান। হায়দরাবাদের এটি প্রথম শিরোপা। অন্যদিকে তৃতীয় বারের মত ফাইনাল খেলেও শিরোপা অধরাই থেকে গেল ব্যাঙ্গালোরের।

অপরদিকে প্রথমবারের মত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ(আইপিএল) খেলতে গিয়েই বাজিমাত করলেন বাংলাদেশী পেস সেনসেশন মুস্তাফিজুর রহমান। দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর তিনি জিতেছেন সেরা উদীয়মান ক্রিকেটারের পুরস্কার।

ফাইনালে জয়ের মুল নায়ক দলের দুই পেসার ভুবনেশ্বর কুমার ও মোস্তাফিজুর রহমান। এর মধ্যে ভুবনেশ্বর কুমার ছিলেন এদিন ব্যাটসম্যানদের কাছে সবচেয়ে বড় ধাঁধাঁ। দলের হয়ে বোলিং শুরু করা উত্তর প্রদেশের এই পেসার প্রথম দুই ওভারে গেইল তা-বের মধ্যেও দিয়েছে মাত্র ১১ রান। তার সাথে মুস্তাফিজুর রহমানও করে দুর্দান্ত বোলিং ৩৭ রানে ১ উইকেট নেন। মোস্তাফিজও ডেথ ওভারে হাত খুলে খেলতে দেননি ব্যাঙ্গালোরের ব্যাটসম্যানদের।

২০৯ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে হায়দরাবাদের বোলারদের ওপর টর্নোডো বইয়ে দেন ক্রিস গেইল। মাত্র ২৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই ক্যারিবীয় ব্যাটিং দানব। বেন কাটিংয়ের বলে আউট হওয়ার আগে ৩৮ বলে ৭৬ রান করেন গেইল। তার ইনিংসে ছিল ৮টি ছক্কা আর ৪টি চারের মার।

গেইল যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন অনেকটা দর্শক হয়েই ছিলেন বিরাট কোহলি। গেইল আউট হওয়ার পর এতক্ষণ শান্ত মেজাজে থাকা বিরাট কোহলি যেন বুঝতে পারেন এবার তার পালা! একের পর এক বোলারদের কচুকাটা করতে শুরু করেন। তবে ৩২ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করা কোহলি ১৩ তম ওভারের শেষ বলে ফিরে যান সাজঘরে।

আইপিএলের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় মুস্তাফিজ। আইপিএলের পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন কর্মকর্তারা। পুরস্কারের অর্থমূল্য ১০ কোটি ভারতীয় রুপি।

পুরো আসর জুড়েই ক্রিকেট দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিলেন তরুণ এই বাংলাদেশী পেসার। আর প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের কাছে তো ছিলেন রহস্যময় এক ধাঁধার নাম। কাটার, স্লোয়ার আর ইয়র্কারে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত করেছেন বিশ্বের বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানদের। টুর্নামেন্টের ১৬ ম্যাচে মোস্তাফিজের উইকেট সংখ্যা ১৭টি, সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলারের তালিকায় যা পাঁচ নম্বরে; কিন্তু পরিসংখ্যানের সাধ্য কী তার বোলিংয়ের মহাত্ম বোঝানোর। যারা তার বোলিং দেখেছেন তারাই শুধুমাত্র বুঝতে পারবেন দলের জন্য কতখানি গুরুত্বপূর্ণ ছিল মুস্তাফিজের প্রতিটি ডেলিভারী।

দলের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, কোচিং স্টাফ, ভাষ্যকার এবং সমর্থক-সবাইকে মুগ্ধ করে রেখেছেন এই বাম হাতি পেসার।

মানবাধিকার খবর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ওয়ার্নার-মুস্তাফিজের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে, অভিনন্দন বাংলার গৌরব মুস্তাফিজকে।


   Page 1 of 2
     ইসলাম
বাইয়াতের ইসলামী দৃষ্টিকোণ
.............................................................................................
নারী অধিকারের স্বরূপ বিশ্লেষণ প্রেক্ষিতঃ ইসলাম ও আধুনিক সভ্যতা
.............................................................................................
ঈদ-উল্ ফিতর ঃ জয় হোক মানবতার
.............................................................................................
নামাজে বিনয়াবনত মানুষই সফল ও সৌভাগ্যবান
.............................................................................................
সৌম্যকে আরেকটি সুযোগ দিতে চান কোচ চন্ডিকা হাতুরুসিংহ
.............................................................................................
ব্যাটসম্যানদের নিয়ে আলাদা মিটিং করলেন হাথুরুসিংহে
.............................................................................................
জাতীয় শাটলাররা লাঞ্ছিত
.............................................................................................
বিপিএল উপস্থাপনায় আমব্রিন ও শিনা
.............................................................................................
ফ্র্যাঞ্চাইজিদের জন্য পছন্দের ক্রিকেটার ডেকেছেন সাকিব আল হাসান
.............................................................................................
মানুষ মানুষের জন্য বন্যা দূর্তদের সহায়তায় এগিয়ে এলেন মাশরাফি-সুমন
.............................................................................................
অলিম্পিক পদক বিক্রি ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুকে বাঁচাতে সহায়তায় অলিম্পিয়ান
.............................................................................................
অভিমানেই অধিনায়কত্ব ছাড়লেন মুশফিক ?
.............................................................................................
ফেসবুকে তামিমের দুঃখ প্রকাশ
.............................................................................................
‘আরো অনেক বড় হোক, সুনাম বৃদ্ধি করুক’ মুস্তাফিজের একদিনের ইফতারে আড়াই লাখ টাকা খরচ
.............................................................................................
লক্ষ কোটি ভক্তকে আশাহত করে কোপা থেকে ব্রাজিলের বিদায়
.............................................................................................
আইপিএলে হায়দরাবাদ চ্যাম্পিয়ন সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় মুস্তাফিজ
.............................................................................................
আইপিএল নিয়ে জমজমাট জুয়া বাংলাদেশে
.............................................................................................
সংবর্ধিত হলো স্বর্ণকন্যারা
.............................................................................................
মুস্তাফিজের একটি বলে ৫ ধরনের গুণাবলী!!!!!
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

Editor & Publisher: Rtn. Md Reaz Uddin
Mobile:+88-01711391530, Email: md.reaz09@yahoo.com Corporate Office
53,Modern mansion(8th floor),Motijheel C/A, Dhaka
E-mail:manabadhikarkhabar@gmail.com,manabadhikarkhabar34@yahoo.com,
Tel:+88-02-9585139
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-9585140
    2015 @ All Right Reserved By manabadhikarkhabar.com    সম্পাদকীয়    Adviser List

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]