| বাংলার জন্য ক্লিক করুন

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   খেলাধুলা -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
ধর্ষকদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদ- দেয়া উচিত : আফ্রিদি

মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন
ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদ- দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদি।
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের কসুরে তিন শিশুকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সারা দেশের মানুষ রাগে ফুঁসছেন। সেই ঘটনায় ধিক্কার জানিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার।
ক্ষোভ প্রকাশ করে আফ্রিদি, রিসালাত-ই-মদিনা বা মদিনার আদলে রাষ্ট্রচালানোর সময় এসে গেছে। আফ্রিদি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, পাঞ্জাব প্রদেশ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য আপনার দলের কি কোনও উপযুক্ত ব্যক্তি নেই? মদিনায় অনেক সময়ই অপরাধীদের মৃত্যুদ- দেয়া হয়। এবার আমাদেরও সেই পথেই হাঁটা উচিত। টুইট বার্তায় তিনি লেখেন, যারা এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদ-দেয়া উচিত। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিলে পরবর্তীতে এমন জঘন্য অপরাধ করার কেউ সাহস পাবে না। সম্প্রতি পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের কসুর জেলার চুনিয়া এলাকা থেকে চার কিশোরী হারিয়ে যায়। প্রায় ৭০দিন পর তাদের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো একজনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। তবে তিন নাবালিকার মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাদের ডিএনএ টেস্ট করানো হবে।

ধর্ষকদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদ- দেয়া উচিত : আফ্রিদি
                                  

মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন
ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদ- দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদি।
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের কসুরে তিন শিশুকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সারা দেশের মানুষ রাগে ফুঁসছেন। সেই ঘটনায় ধিক্কার জানিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার।
ক্ষোভ প্রকাশ করে আফ্রিদি, রিসালাত-ই-মদিনা বা মদিনার আদলে রাষ্ট্রচালানোর সময় এসে গেছে। আফ্রিদি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, পাঞ্জাব প্রদেশ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য আপনার দলের কি কোনও উপযুক্ত ব্যক্তি নেই? মদিনায় অনেক সময়ই অপরাধীদের মৃত্যুদ- দেয়া হয়। এবার আমাদেরও সেই পথেই হাঁটা উচিত। টুইট বার্তায় তিনি লেখেন, যারা এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদ-দেয়া উচিত। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিলে পরবর্তীতে এমন জঘন্য অপরাধ করার কেউ সাহস পাবে না। সম্প্রতি পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের কসুর জেলার চুনিয়া এলাকা থেকে চার কিশোরী হারিয়ে যায়। প্রায় ৭০দিন পর তাদের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো একজনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। তবে তিন নাবালিকার মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাদের ডিএনএ টেস্ট করানো হবে।

বাংলাদেশ অধিনায়ককে ভারতের তিন ফুটবলার ভাবাচ্ছেন
                                  

ক্রিয়া প্রতিবেদক: গত বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে কাতারের বিপক্ষে দারুণ ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ দল। ম্যাচের ফল বলছে কাতার জিতেছে ২-০ গোলে। কিন্তু স্কোরলাইন দেখে বোঝার সাধ্য নেই ম্যাচে কতটা ভালো খেলেছে জেমি ডে’র শিষ্যরা।

এ ম্যাচের অনুপ্রেরণা কাজে লাগিয়ে এবার ভারতের বিপক্ষে নামার অপেক্ষায় জামাল ভূঁইয়ারা। আগামী মঙ্গলবার কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাভারতী স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।

 

র‍্যাংকিং অনুযায়ী বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে ভারত। এছাড়া যে কাতারের কাছে ০-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ, তাদের বিপক্ষেই আবার গোলশূন্য ড্র করেছে ভারত। ফলে মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে মঙ্গলবারের ম্যাচে এগিয়ে থাকবে স্বাগতিকরাই।

তবে এসব নিয়ে ভাবতে রাজি নন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তার মতে স্বাগতিক দল হওয়ায় ভারতই বেশি চাপে থাকবে। সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে জয়ের তাগিদ ও তারুণ্যকেই মূল হাতিয়ার বানিয়ে মাঠে নামার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জামাল।

ভারতের সংবাদ মাধ্যমে জামাল বলেন, ‘ঘরের মাঠে চাপটা বেশি ভারতেরই। কারণ ম্যাচটা ওদের জিততে হবে। প্রতিবেশী দেশের বিপক্ষে এই ফুটবল ম্যাচটা আমরা হারতে চাই না। ম্যাচে কড়া ট্যাকল, ধাক্কাধাক্কি হবেই। আমাদের দলে অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবলারের সংখ্যা বেশি। ভারতকে হারানোর জন্য মরিয়া তাগিদ ও তারুণ্যই আমাদের অস্ত্র।’

এসময় কাতারের বিপক্ষে ম্যাচের প্রসঙ্গ চলে আসলে জামাল বলেন, ‘কাতারের বিপক্ষে সুযোগ তৈরি করেও কাজে লাগাতে পারিনি আমরা। আমি নিজেই দু’টো সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেছি। তিনবার গোললাইন থেকে বল বিপদমুক্ত করেছে কাতার। আমাদের ভাগ্য সঙ্গে ছিল না।’

সাহস ও মানসিকতায় শক্ত অবস্থান পরিষ্কার করলেও ভারতের তিন ফুটবলারের ব্যাপারে সতর্ক থাকার কথাও জানিয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। তার মতে অধিনায়ক সুনিল ছেত্রি, উইঙ্গার উদান্ত সিং ও গোলরক্ষক গুরপ্রিত সিং সাধুর বিপক্ষে ভালো করতে পারলেই ফলাফল অনুকূলে আসতে পারে।

বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘এর আগে দু’বার ভারতের বিরুদ্ধে খেলেছি। প্রথমবার ১-১ শেষ হয়েছিল। দ্বিতীয়বার ফল হয় ২-২। ওই দু’টো ম্যাচেই গোল করেছিল সুনিল। ও আমাদের কাছে একটা বড়সড় বিপদ। ভারতের পুরো দলটার রিমোট কন্ট্রোলই সুনিলের হাতে, সঙ্গে উদান্তর গতি এবং গোলবারে গুরপ্রিত সিং সাধু! এই তিন জনের জন্যই ভারত ফেভারিট আমাদের বিরুদ্ধে।’

অসি অধিনায়কের দুই সেঞ্চুরির মাঝে কেটে গেছে ১৩ বছর
                                  

ক্রিয়া প্রতিবেদক: ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুটা দুর্দান্ত করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক টিম পেইন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের আগেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে করেছিলেন ডাবল সেঞ্চুরি। তাও কিনা ক্যারিয়ারের মাত্র সপ্তম ইনিংসে।

আজ থেকে প্রায় ১৩ বছর আগে ২০০৬ সালে পার্থে তাসমানিয়ার হয়ে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিটিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রুপ দিয়েছিলেন পেইন। ওয়েস্টার্ণ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেদিন ৪০৯ বলের ইনিংসে ২১৫ রান করেছিলেন তিনি। এমন শুরুর পর পেইনের প্রতি সবার প্রত্যাশা ছিলো অনেক বেশি।

কিন্তু এরপরের সময়টায় সবাইকে হতাশই করেছেন ব্যাটসম্যান পেইন। সেই হতাশার মাত্রাটা ঠিক এতোই বেশি যে, ক্যারিয়ারের সপ্তম ইনিংসে প্রথম সেঞ্চুরি বা ডাবল সেঞ্চুরি করা পেইন, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করতে সময় নিয়েছেন প্রায় ১৩টি বছর।

মাঝের সময়টায় তার সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিলো জিম্বাবুয়ে একাদশের বিপক্ষে ৯৮ রানে আউট হওয়া। এছাড়া ভারতের বিপক্ষে এক টেস্টে ৯২ রানে আউট হয়েছিলেন পেইন। কিন্তু পাওয়া হয়নি সেঞ্চুরি।

অবশেষে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অভিন্ন ভেন্যুতেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটি করলেন পেইন। শেফিল্ড শিল্ডের প্রথম রাউন্ডে ওয়েস্টার্ণ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১২১ রানের ইনিংস খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। ১৮৬ বলে সেঞ্চুরি করার পর ২০৮ বলে এই রান করে সাজঘরে ফিরে যান তিনি।

পাকিস্তান নিরাপদ’ ‘শুনে নাও বিশ্ব,
                                  

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের এবারের পাকিস্তান সফরটি অনেক দিক থেকেই ছিলো গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর পেছনে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সর্ববৃহৎ উদ্দেশ্য ছিলো সারা বিশ্বের সামনে নিজেদের দেশকে নিরাপদ প্রমাণ করা। যা করে দিচ্ছেন খোদ শ্রীলঙ্কার কোচ রুমেশ রত্নায়েকেই।

জাতীয় দলের নিয়মিত দশ ক্রিকেটারের আপত্তির কারণে মোটামুটি দ্বিতীয় সারির দল নিয়েই পাকিস্তানে খেলতে এসেছিলেন রত্নায়েকে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি ০-২ ব্যবধানে হেরে গেলেও, টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে ছেড়েছে শ্রীলঙ্কা।

 ফলে মোটামুটি সফলতার সঙ্গেই পাকিস্তান সফর শেষ করেছে লঙ্কানরা। আর এমন সফর কাটিয়ে লঙ্কান কোচ রত্নায়েকে নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন যে, সারা বিশ্বের সবার জন্যই এখন নিরাপদ দেশ পাকিস্তান। তাই কোনো দেশেরই পাকিস্তান সফরে আর কোনো সমস্যা হওয়ার কারণ নেই।

লঙ্কান কোচ বলেন, ‘আমাদের এই সফরটা আসলে সারা বিশ্বের জন্য একটা বার্তা। বিশেষ করে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে জানাতে চাই, এ সফরটা দারুণ কেটেছে আমাদের। আমরা এখানে ভালোভাবে খেলাটা আরও অন্যান্য দেশগুলোকেও পাকিস্তান সফরে অনুপ্রাণিত করবে।’

পাকিস্তানের আতিথেয়তার প্রশংসা করে রত্নায়েকে আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের আতিথেয়তায় আমি সত্যিই মুগ্ধ। দীর্ঘদিন পর এমন কিছুর অভিজ্ঞতা পেলাম। পুরো সিস্টেমের কঠোর পরিশ্রমের পরই এটা সম্ভব হয়েছে। আমাদের অনেকেই মনে সংশয় নিয়ে এলেও, পুরো সময়টা দারুণ উপভোগ করেছি। কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ এত সুন্দর ব্যবস্থা করায়।’

হারাতে চান কাতারকে বাংলাদেশ কোচ!
                                  

এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন কাতারকে হারাতে চান বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ জেমি ডে- শুনলে অনেকে ভ্রু কুঁচকে উঠবেন। এই তো গত সপ্তাহে ভুটানকে হারাতেই যে বাংলাদেশের নাভিঃশ্বাস উঠেছিল, সেই বাংলাদেশের কোচের কাতারকে হারানোর কথা বল দুঃসাহসই মনে করেন অনেকে। আজ (বুধবার) ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কোচ সরাসরি অবশ্য বলেননি বাংলাদেশ হারাবেই কাতারকে। বলেছেন একটু ঘুরিয়ে- ‘সব কোচই জিততে চান, আমিও জিততে চাই।’

হ্যাঁ। ম্যাচের আগেই হারতে চান না বাংলাদেশ কোচ। ঘরের মাঠে কাতারের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে খেলে ভালো রেজাল্ট করতে চান গত ১৫ মাস ধরে বাংলাদেশের দায়িত্বে থাকা এই ইংলিশ কোচ। হতে পারে এটা তার কথার কথা। আসলে তো জেমির লক্ষ্য থাকবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং কম ব্যবধানে হারা। ড্র হলে তো সেটা হবে বাংলাদেশের জন্য বড় এক চমক।

 

কাতারকে দুর্দান্ত এক দল উল্লেখ করে বাংলাদেশ কোচ বলেছেন, ‘এই দলের বিরুদ্ধে আমাদের তরুণ খেলোয়াড়দের দারুণ অভিজ্ঞতা হবে। কাতার এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন। তাদের দলে ভালোভালো খেলোয়াড় আছেন। এটা আমাদের জন্য অবশ্যই কঠিন ম্যাচ হবে।’

দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে ভুটানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এ জয় দুটি জামাল ভূঁইয়াদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে; কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাস দিয়ে কি কাতারের মতো দলের বিরুদ্ধে ফল বের করে আনা সম্ভব? ‘গত ১০ দিন আমাদের ভালো প্রস্তুতি হয়েছে। কাতারকে কিভাবে রুখতে হবে, তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। কাতারের দূর্বলতাগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করবো। সব দলই জয় চায়, আমরাও চাই। তবে কাতারের বিরুদ্ধে ভালো কিছু পেতে চলে ভাগ্যেরও দরকার হবে।’

হয়নি ব্যাটের ফিফটি, বলের সেঞ্চুরি তামিমের
                                  

গত ২০১৫ সালের অক্টোবরে সবশেষ ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলেছিলেন তামিম ইকবাল। চার বছর ঘুরে আবার এসেছে অক্টোবর, আবার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতে মাঠে নেমেছেন তামিম। তবে শুরুটা ঠিক ভালো করতে পারেননি দেশসেরা এ ওপেনার।

ব্যর্থতাময় বিশ্বকাপ ও পরে শ্রীলঙ্কা সফরের বাজে ফর্মের কারণে স্বেচ্ছায় ক্রিকেট থেকে বিরতি নিয়েছিলেন তামিম। ফিরেছেন চলতি জাতীয় ক্রিকেট লিগের মধ্য দিয়ে। বিশেষ করে আগামী মাসে ভারত সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের কথা মাথায় রেখে এবারের জাতীয় লিগের জন্য বেশ পরিশ্রম করেছেন তামিম।

কিন্তু মাঠের খেলায় এর প্রতিফলন ঘটাতে পারলেন না তিনি। নিজ বিভাগীয় শহর চট্টগ্রামের হয়ে খেলতে নেমে আউট হয়ে গেছেন মাত্র ৩০ রানেই। তবে ব্যাট হাতে ফিফটি করতে না পারলেও, বল খেলার সংখ্যায় ঠিকই সেঞ্চুরি পেরিয়েছেন তামিম। ত্রিশ রান করতে খেলেছেন ১০৫ বল।

বৃষ্টির বাধায় দিনের অন্যান্য ম্যাচগুলো যখন আটকে ছিলো, তখন মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঠিকই যথাসময়ে শুরু হয় ঢাকা মেট্রো ও চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যকার ম্যাচটি। যেখানে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক মুমিনুল হক।

আগে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রামের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সাদিকুর রহমান সাবধানী শুরু করেন। তামিম শুরু থেকেই ধীরেসুস্থে খেলতে থাকেন, তবে সাদিকুর খেলতে থাকেন বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। মধ্যাহ্ন বিরতির আগে ব্যক্তিগত ফিফটি তুলে নিয়ে ৬৯ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলে আউট হন তিনি। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বলে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে খেলতে গিয়ে স্ট্যাম্পিং হন এ ওপেনার।

সাদিকুর ফিরে গেলেও ধরে খেলে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যান তামিম। তবে দ্বিতীয় সেশনে আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। অবশ্য বেশ দুর্ভাগাই বলা চলে তাকে। মাহমুদউল্লাহর বোলিংয়ে সজোরে ড্রাইভ করেছিলেন তামিম। কিন্তু সেটি সিলি পয়েন্টে দাঁড়ানো ফিল্ডারের বুটে লেগে সরাসরি চলে যায় মাহমুদউল্লাহর হাতে। ফলে ইতি ঘটে তামিমের ১০৫ বলে ৩০ রানের সংগ্রামী ইনিংসের।

শুভ জন্মদিন মাশরাফি বিন মুর্তজা
                                  

ক্রীড়া প্রতিবেদক:  বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছে দেয়ার কারিগর মহানায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার ৩৭তম জন্মদিন আজ (৫ অক্টোবর) শনিবার। কাকতালীয়ভাবে একই দিন মাশরাফির সঙ্গে তার ছেলে সাহেলেরও জন্মদিন।

১৯৮৩ সালের আজকের ৫ অক্টোবর নড়াইলের চিত্রা নদীর পাড়ে মহিষখোলা গ্রামে জন্মেছিলেন এই কিংবদন্তী ক্রিকেটার মাশরাফি। তিনি নড়াইলে কৌশিক নামেই সমধিক পরিচিত।

ছোটবেলা থেকেই দুরন্ত টাইগার সেনাপতি মাশরাফি। শৈশব কেটেছে চিত্রা নদীর পাড়ে। ছোটবেলায় বন্ধুদের সর্দার (দলনেতা) ছিল কৌশিক। তার সঙ্গে চিত্রা নদীর এক ধরণের মিতালী ছিল। এই নদী তাকে খুব টানত। সময় পেলেই ঢাকা থেকে নড়াইল ছুটতেন মাশরাফি।

চিত্রা নদী তোলপাড় করায় সম্ভবত নড়াইলের কিশোরকুলের সর্বকালের সেরা ছিল এই কৌশিক। ‘মাশরাফি’ নামক বইয়ে তার মামা নাহিদুর রহমান বলেছিলেন, ‘ছেলেটা তার বাবার মতো খেলোয়াড় হতে পারে। তবে ফুটবল-ক্রিকেট নয়; ছেলেটা হবে হয়তো সাঁতারু।’

চিত্রা নদীই ছিল কৌশিকের ঘর, চিত্রাই তার বাড়ি। নদীতে সাঁতার কেটে তার আনন্দ যেন অন্য কিছুতে হতো না। নদী যেন তার পোষ মানা কেউ। একই রকম দখল বৃক্ষরাজির ওপর। আম-জাম-লিচু-নারকেল সব গাছেই তার শাখামৃগের আদলে বিচরণ। সেই দুরন্ত কিশোরটিই আজকের মাশরাফি। যিনি নির্বাচন নামক আরেকটি নদী পাড়ি দিয়েও সফল হয়েছেন।

গত বছর ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ক্রিকেটের ২২ গজে তুখোড় অধিনায়ক রাজনীতির ময়দানে নবীন হলেও সমান জনপ্রিয়। মাশরাফির পিতা গোলাম মর্তুজা ও মাতা হামিদা মুর্তজা। ডাকনাম স্বপন ও বলাকা।

১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর রাত ৮টায় নানাবাড়িতে জন্ম হয় মাশরাফির। মাতামহ ডাকনাম রাখলেন কৌশিক। নানির কাছেই শিশু কৌশিক লালিত হতে থাকে। সেই থেকে আজও কৌশিককে নানাবাড়িতেই আটকে রেখেছে।

এখনও মামা বাড়ির প্রতি ঝোঁক কাটেনি তার। মা বলাকা নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া ছেলেকে কাছে পান না। নানী-মামাদের কোলে-পিঠে চড়েই বড় হয়েছেন কৌশিক।

মাশরাফির বাবা স্বপন ছিলেন ফুটবলার ও অ্যাথলেট। যদিও তিনি চাইতেন না ছেলে ক্রিকেট খেলুক। তবে মাশরাফির মা স্কুলশিক্ষিকা হামিদা মর্তুজা চাইতেন মাশরাফির সব ইচ্ছা পূরণ করতে। তিনিই ক্রিকেট খেলার সামগ্রী কেনার টাকা দিতেন মাশরাফিকে।

মাশরাফির শিক্ষাজীবন শুরু হয় নড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০১ সালে এসএসসি পাস করেন। এইচএসসি পাস করেন নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ২০০৩ সালে। এরপর দর্শন শাস্ত্রে অনার্স কোর্সে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ক্রীড়াঙ্গনে তিনি ‘নড়াইল এক্সেপ্রেস’ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের এ যাবৎকালের সেরা পেসার। নব্বইয়ের দশকে নড়াইলের ক্রিকেটার-সংগঠক শরীফ মোহাম্মদ হোসেন উঠতি তরুণদের যত্ন নিতেন। তিনি ১৯৯১ সালের দিকে মাগুরায় বিকেএসপির প্রতিভা অন্বেষণ ক্যাম্পের বিকেএসপি কোচ বাপ্পির সান্নিধ্যে এসে বোলিংয়ের অনেক মৌলিক বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হন।

পরের বছর জাতীয় কোচ ওসমান খান নড়াইলে এক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প চালাচ্ছিলেন। ওই সময় কৌশিকের আমন্ত্রণ আসে খুলনায় খেলার জন্য। খুলনায় তার গতি ও সুইং হইচই ফেলে দেয়। সেই সূত্রে খুলনা বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলে সুযোগ, ঢাকায় আসা এবং আর পেছনে ফিরে না তাকানো। এভাবেই একদিন সুযোগ পেয়ে গেলেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলে।

সেখান থেকেই তিনি চোখে পড়েন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং কোচ অ্যান্ডি রবার্টসের। তার হাতে পড়েই ক্যারিয়ার বদলে যায় মাশরাফির। যে কারণে তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার যিনি প্রথম শ্রেণির কোনো ম্যাচ না খেলেই টেস্টে অভিষিক্ত হন।

২০০১ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেকেই নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। একই বছর ২৩ নভেম্বর ওয়ানডে ক্রিকেটে মাশরাফির অভিষেক হয়।

অভিষেক ম্যাচে মোহাম্মদ শরীফের সঙ্গে বোলিং ওপেন করে তিনি ৮.২ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নেন ২টি উইকেট। সেই থেকে যে শুরু পথচলা। তবে ইনজুরি তার টেস্ট ক্যারিয়ার দীর্ঘ হতে দেয়নি। মাত্র ৩৬ টেস্ট খেলে নিয়েছেন অবসর। এরই মাঝে নিয়েছেন ৭৮টি উইকেট। একই সঙ্গে তিনটি হাফ সেঞ্চুরিসহ রান করেছেন ৭৯৭।

টি-টুয়েন্টিতে থেকে সম্প্রতি অবসর নিয়েছেন তিনি। ক্রিকেটের এ ফরম্যাটে ৫৪ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ৪২টি উইকেট। সেই সঙ্গে ব্যাট হাতে করেছেন ৩৭৭ রান।

১৮ বছর যাবৎ দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন। দুই পায়ে সাতটি অস্ত্রোপচার। তবে এসব ইনজুরির দোহাই দিয়ে দলে টিকে নেই তিনি। বল হাতে, অধিনায়ক হিসেবে পারফর্ম করছেন বলেই টিকে আছেন।

চোটের সঙ্গে বসবাসের এই ক্যারিয়ারে ২০০১-২০১১ পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে ১১৮ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এ সময় দেশের হয়ে মিস করেছেন ৭৮ ম্যাচ।

মাশরাফির পায়ে সর্বশেষ বড় অস্ত্রোপচার হয়েছিল ২০১১ সালে। তারপর থেকে এখন অব্দি দেশের হয়ে ৯৪টি ম্যাচ খেলেছেন নড়াইল এক্সপ্রেস, মিস করেছেন ৩৩টি ম্যাচ। ফিটনেসের দিক থেকে বড়সড় উন্নতির প্রমাণ তার এই ধারাবাহিক অংশগ্রহণ।

২০১৪ সালে আবার ওয়ানডে দলে নেতৃত্বে ফেরার পর থেকে তার পারফরম্যান্সে চোখ রাখলে সমালোচকরা লজ্জাও পেতে পারেন। টানা ব্যর্থতায় ভঙ্গুর একটা দলের ভার মাশরাফির কাঁধে তুলে দিয়েছিল বিসিবি।

২০১৪ সালের শেষ দিকে, নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে সিরিজ দিয়ে তার নতুন যাত্রা। সেই থেকে ওয়ানডে দলের নেতৃত্বে এখনও আছেন তিনি। নেতৃত্বের পাশাপাশি বোলার মাশরাফিও সমানভাবে উজ্জ্বল এই সময়ে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সেরা বোলার মাশরাফি। ৭৩ ম্যাচে তিনি নিয়েছেন ৯২ উইকেট। সবমিলিয়ে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী (২৬৬) মাশরাফি।

চলতি বছরে বিশ্বকাপে ডানহাতি এই পেসারের প্লান পারফরম্যান্স ১৮ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার, দেশের জার্সিতে তার অর্জন, অধিনায়কের ভূমিকায় দেশের ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তার অবদান,নিবেদন সবই বাংলাদেশের ক্রিকেটের মহানায়কের খড়কুটোর মতো উড়ে যাচ্ছে মুহূর্তের সমালোচনার তোড়ে।

৩৭ বছরের মাশরাফি আর কত দিবে দেশের ক্রিকেটকে। মাশরাফির বিদায়টা অত্যাসন্ন বলতেই হচ্ছে। সাতটি অস্ত্রোপচারের পরও দেশের জন্য অদম্য সাহসিকতায় ছুটে বেড়ানো এই কিংবদন্তির শেষটা সম্মানের সঙ্গে বিদায়ের কথা শোনা যাচ্ছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের মহানায়কের বিদায় ধ্বনি বাজছে। দেশজুড়ে তারুণ্যেও প্রেরণার উৎস মাশরাফির অবসর এখন দৃষ্টিসীমায়।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অধিনায়ক হিসেবে, একজন আদর্শ দলনেতা হিসেবে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন ভক্তদের হৃদয়ে। তার নেতৃত্বে মুগ্ধ হয়ে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান দলের ওপেনার ও বর্তমানে ধারাভাষ্যকর ম্যাথু হেইডেন বলেছিলেন, ‘অধিনায়ক তো অনেকেই হতে পারে কিন্তু মাশরাফির মত ‘দলের মা’ কয়জন হতে পারে!’

২০০ টাকা জরিমানা ক্রিকেটার তাইজুলের
                                  
নলডাঙ্গা প্রতিনিধি : হেলমেট না পরে মোটরসাইকেল চালিয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার তাইজুল ইসলাম ২০০ টাকা জরিমানা দিয়েছেন। নাটোরের নলডাঙ্গা থানা পুলিশ বুধবার বিকালে এই জরিমানা আদায় করেছে।

নলডাঙ্গা থানার ওসি শফিকুর রহমান বলেন, বিকেলে থানার মোড়ে পুলিশের নিয়মিত যানবাহন তল্লাশি চলছিল। এ সময় জাতীয় দলের ক্রিকেটার তাইজুল ইসলাম মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে পৌঁছলে পুলিশ তাকে থামিয়ে দেয়।

‘তার মাথায় হেলমেট না থাকায় পুলিশের দায়িত্বরত কর্মকর্তা তাকে ২০০ টাকা জরিমানা করেন। তিনি জরিমানার টাকা পরিশোধ করে সেখান থেকে চলে যান।’

পরে তাইজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তিনি নাটোর শহরের নিজ বাড়ি থেকে নলডাঙ্গা ঘুরতে যাচ্ছিলেন। ভুলবশত হেলমেট বাড়িতে রেখেই মোটরসাইকেল চলাচ্ছিলেন। এ কারণে তাকে পুলিশ ২০০ টাকা জরিমানা করেছে। তিনি তা পরিশোধ করে দিয়েছেন।

ওসি শফিকুর রহমান আরও বলেন, আইনের বিধান মানতেই তাইজুল ইসলামকে জরিমানা করা হয়েছে। তিনি সবার কাছে জনপ্রিয় মানুষ হলেও আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। তাই তার প্রতি সম্মান বজায় রেখেই নূন্যতম জরিমানা করা হয়েছে।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড
                                  

মূল ম্যাচের নির্ধারিত ১০০ ওভারের খেলায় পিছিয়ে ছিল না কেউই। আগে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ডের করা ২৪১ রানের জবাবে, নিজেদের ৫০ ওভার শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহও দাঁড়ায় ঠিক ২৪১ রানই। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টাই হয় ফাইনাল ম্যাচ এবং শিরোপা নির্ধারণের জন্য ম্যাচ নেয়া হয় সুপার ওভারে। 

যেখানে মুনসিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন কিউই অলরাউন্ডার জিমি নিশাম। বাঁহাতি কিউই পেসার ট্রেন্ট বোল্টের ওভারে বাটলার ও স্টোকস মিলে করেছিলেন ১৫ রান। পরে ইংল্যান্ডের পক্ষে বল হাতে আসেন জোফরা আর্চার। সে ওভারের ৫ বলেই ১৩ রান করে ফেলেন নিশাম। শেষ বলে ১ রান নিতে সক্ষম হন গাপটিল। 

ফলে টাই হয় সুপার ওভারও। কিন্তু মূল ম্যাচে বেশি বাউন্ডারি হাঁকানোয় প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। ম্যাচে আগে ব্যাট করা নিউজিল্যান্ড ১৪টি চার ও ২টি ছক্কায় মোট বাউন্ডারি পায় ১৬টি। অন্যদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২২টি চারের সঙ্গে ২টি ছয় মারে ইংল্যান্ড। যে কারণে সুপার ওভারের নিয়মানুযায়ী চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। 

নিয়মানুযায়ী মূল ম্যাচে পরে ব্যাটিং করা ইংল্যান্ডকে সুপার ওভারে দেয়া হয় আগে ৬টি বল খেলতে। স্বাগতিকদের পক্ষে আসেন ম্যাচের দুই সফল ব্যাটসম্যান বেন স্টোকস এবং জস বাটলার। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে বল হাতে তুলে নেন ট্রেন্ট বোল্ট। 

সুপার ওভারের প্রথম বলে স্ট্রাইক নেন স্টোকস। বোল্টের করা প্রথম বলে তিনি নেন ৩ রান। দ্বিতীয় বলে বাটলারের ব্যাট থেকে আসে ১ রান। তৃতীয় ডেলিভারিতে স্টোকস ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ৪ মারলে রান গিয়ে পৌঁছায় আটে। 

চতুর্থ বলে অফসাইডের লো ফুলটস বলে ১ রান নেন স্টোকস। স্ট্রাইক পেয়ে পঞ্চম বলে ২ রান নেন বাটলার এবং শেষ বলে লো ফুলটস ডেলিভারিতে ৪ মেরে দলীয় সংগ্রহকে ১৫তে নিয়ে যান এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

ফলে নিউজিল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য ৬ বলে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬ রানের। যা তাড়া করতে কিউইদের পক্ষে নামেন মার্টিন গাপটিল ও জিমি নিশাম। অন্যদিকে ইংলিশদের পক্ষে বল হাতে তুলে নেন গতি তারকা জোফরা আর্চার। যিনি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১ ওভারে সর্বোচ্চ খরচ করেছেন ১৫ রান। এবার ইংল্যান্ডের হয়ে শিরোপা জিততে তাকে ডিফেন্ড করতে হতো ১৬ রান। 

ওভারের প্রথম বলে স্ট্রাইক নেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার জিমি নিশাম। অতিরিক্ত চাপে শুরুর বলটি নিশামের ব্যাট থেকে অনেক দূরে করে বসেন আর্চার। আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা দুই হাত প্রসারিত করে জানিয়ে দেন এট ই ওয়াইড বল। ফলে ৬ বলে ১৫ রানে নেমে আসে সমীকরণ। 

পরের বলটিই ইয়র্কার করেন আর্চার। তবু সে বল থেকে ২ রান নিতে সক্ষম হন নিশাম। ৫ বলে বাকি থাকে ১৩ রান। দ্বিতীয় বলেই বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে বসেন নিশাম। ২ বলে ৯ রান করে ফেলায় শেষের ৪ বলে কিউইদের বাকি থাকে ৭ রান। 

ছন্দে থাকা নিশাম তৃতীয় বলে নেন আরও ২ রান। সমীকরণ নেমে আসে ৩ বলে ৫ রানে। চাপের মুখে চতুর্থ বলটি করেন স্লোয়ার। যে বলে আবার ২ রান নেন নিশাম। কিন্তু শেষ ২ বল থেকে নিশাম ও গাপটিল মিলে ২ রানের বেশি করতে পারেননি। ফলে সুপার ওভারও টাই হয় এবং শিরোপা উঠে যায় ইংল্যান্ডের ট্রফি কেসে। 

বাংলাদেশের যে তিন ভুলে সেমিতে খেলা হলো না
                                  

 

মোঃ রবিউল ইসলাম: বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য ২০১৫ অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে। সেবার ইংল্যান্ডের মত দলকে পেছনে ফেলে শেষ আটে খেলেছিল বাংলাদেশ। ২০০৭ বিশ্বকাপেও শেষ আটে খেলেছিল টাইগাররা। তবে সেবার ছিল সুপার এইট। ২০১৫ সালে ছিল কোয়ার্টার ফাইনাল।

এবার বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল সেমিফাইনাল। ১৯৯২ সালের ফরম্যাট ফিরিয়ে আনার কারণে যদিও সেমিতে খেলার লক্ষ্যটা ছিল খুব বড়। কারণ, গ্রুপ পর্বেই খেলতে হবে ৯টি ম্যাচ। এত লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে সত্যি সত্যি সেমিতে খেলা যাবে কি না তা নিয়ে ছিল যথেষ্ট সন্দেহ-সংশয়।

তবে, সেমিতে খেলার জন্য যে পরিকল্পনা ছিল, তার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল প্রথম থেকেই। লন্ডনের দ্য ওভালে প্রথম ম্যাচেই ৩৩০ রানের বিশাল স্কোর গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মত শক্তিশালী দলকে হারিয়ে দিয়েছিল ২১ রানের ব্যবধানে। সূচনাটা এমন উড়ন্ত হবে, ভাততে পারেনি কেউ। তবে টাইগারদের এমন সূচনায় নড়ে-চড়ে বসে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। সেমিফাইনালে খেলা স্বপ্নটা আরও বড় হতে থাকে তখন থেকে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনাল খেলতে পারছে না বাংলাদেশ। ৬ষ্ঠ দল হিসেবে টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে ভারতের কাছে ২৮ রানে হারের পর। ৫ম দল হিসেবে সেমির আগে বিদায় নিশ্চিত হচ্ছে পাকিস্তানের। যার আনুষ্ঠানিকতা হয়ে যাবে আগামীকাল। সেমিফাইনাল খেলবে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ড।

কেন দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও সেমিফাইনাল খেলতে পারলো না বাংলাদেশ? কেন হতাশা সঙ্গী করে ফিরে যেতে হচ্ছে? বাংলাদেশ দলের প্রাণভোমরা সাকিব আল হাসান জানিয়ে দিয়েছেন, দলের ক্রিকেটারদের আরেকটু মরিয়া হয়ে চেষ্টা করা উচিৎ ছিল।

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে তিনি এক টিভির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমরা যথেষ্ট ভালো খেলেছি বটে; কিন্তু কেবল যথেষ্ট ভালোই আমরা খেলতে চাইনি। আমরা চেয়েছি জিততে। সেটা সম্ভব হয়নি। এত বড় টুর্নামেন্টে যে আশা নিয়ে আমরা এসেছিলাম তা পূরণ করতে পারলাম না, সেদিক থেকে হতাশাজনক। যদি ছোট ছোট কিছু জিনিস ঠিক করতে পারতাম, তাহলে হয়ত ফল ভিন্ন হত।’

সাকিবের ভাষায় সেই ছোট ছোট বিষয়গুলোই এখন অনেক বড় হয়ে গেছে বাংলাদেশের জন্য। ছোট ছোট ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে অন্তত কয়েকটি নিশ্চিত জয়ের ম্যাচে। সেই ভুলগুলো না হলে ম্যাচের ফল ভিন্নও হতে পারতো।

তবে, বাংলাদেশের সেমিফাইনালে খেলতে না পারার পেছনে ছোট ছোট নয়, তিনটি বড় ভুলই সবচেয়ে বেশি দায়ী। ওই তিনটি বড় ভুল যদি না হতো, তাহলে হয়তো বা আজ পয়েন্টে টেবিলের অবস্থা হতো অন্যরকম। এমনকি হয়তো বা বাংলাদেশ তৃতীয় কিংবা দ্বিতীয় সেরা দল হিসেবেই সেমিফাইনালে নাম লিখে ফেলতে পারতো।

কি সেই তিন ভুল, যে গুলোর কারণে সেমিফাইনালে খেলা সম্ভব হলো না বাংলাদেশের? আসুন জেনে নেয়া যাক।

 

১. নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মুশফিকের ‘বাচ্চাসূলভ’ রানআউট মিস

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ একেবারে শেষ মুহূর্তে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে গিয়েছিল মাত্র ২ উইকেটের ব্যবধানে। ২৪৪ রান করেও দারুণ লড়াই করেছিল টাইগাররা।

কিন্তু ওই ম্যাচে ২৪৪ রান নিয়েও জিততে পারতো বাংলাদেশ। যদি না ইনিংসের দ্বাদশ ওভারে ৮ রানে থাকা কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসকে ‘বাচ্চাসূলভ’ ভুল করে মুশফিকুর রহীম রানআউটটা মিস কর না করতেন! 

দ্বাদশ ওভারের দ্বিতীয় বলের ঘটনা। সদ্যই উইকেটে আসা রস টেলরের ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে বিপদে পড়েন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। মিড অফ থেকে তামিম ইকবালের থ্রো ধরে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহীম যখন উইকেট ভেঙে দেন, তখনো পপিং ক্রিজের অনেক বাইরে উইলিয়ামসন।

কিন্তু উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহীম করে বসেন এক অমার্জনীয় ভুল। তামিমের করা থ্রোটি সরাসরি ছিলো উইকেট বরাবরই। কিন্তু বাড়তি সতর্কতা নিতে গিয়ে স্ট্যাম্পের সামনে এসে বল ধরে উইকেট ভাঙতে যান মুশফিক। ঠিক তখন তার হাতে লেগে আগেই পড়ে যায় বেলস। যে কারণে আর আউট হলেন না উইলিয়ামসন। শেষ পর্যন্ত তিনি করেন ৪০ রান।

২. ডেভিড ওয়ার্নারের ক্যাচ মিস সাব্বিরের

অস্ট্রেলিয়ার কাছে বাংলাদেশে হেরেছিল ৪৮ রানের ব্যবধানে। অসিদের করা ৩৮১ রানের বিশাল ইনিংসের জবাবে বাংলাদেশ করেছিল রেকর্ড ৩৩৩ রান। রেকর্ড গড়েও জিততে না পারার আক্ষেপ বাংলাদেশ সমর্থকদের মনে। কিন্তু সেই ম্যাচে জিততেও পারতো বাংলাদেশ। একটা বড় ভুলের কারণেই ম্যাচটাতে এত ভালো খেলেও জেতা হলো না।

ওই ম্যাচে ডেভিড ওয়ার্নার ১০ রানের মাথায় যে জীবন পেয়েছিলেন সাব্বির রহমানের কল্যানে, সেই জীবন দিয়ে বাংলাদেশকেই হারিয়ে দিলেন তিনি।

 

ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই মাশরাফি বিন মর্তুজার বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। সেখানে ফিল্ডার ছিলেন সাব্বির রহমান। কিন্তু সেই ক্যাচটি তিনি তালুবন্দী করতে পারেননি। এই এক ভুলেই ব্যক্তিগত ১০ রানের মাথায় জীবন পেয়ে যান অসি ওপেনার ওয়ার্নার।

সেই জীবন কাজে লাগিয়েই দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। শুধু সেঞ্চুরি করেই ক্ষান্ত হননি। নিজের ইনিংসকে নিয়ে গেছেন ১৬৬ রানে। অর্থ্যাৎ, সাব্বিরের এক ভুলে ১৫৬ রান বোনাস পেয়েছেন ওয়ার্নার এবং অস্ট্রেলিয়া। যদি এই অসি ওপেনার ১০ রানেই আউট হতেন, তাহলে শেষ পর্যন্ত জিততেও পারতো বাংলাদেশ।

৩. ১০ রানে রোহিত শর্মাকে জীবন দিলেন তামিম ইকবাল

ভারতের বিপক্ষে ডু-অর-ডাই ম্যাচ এজবাস্টনে। জিতলে টিকে থাকবে সেমির স্বপ্ন। হারলেই বিদায়। এমন সমীকরণের ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নামা ভারতকে শুরুতেই চেপে ধরতে পারতো বাংলাদেশ।

ভারতীয় ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন রোহিত শর্মা। ওই সময় তিনি ছিলেন ১০ রানে। মোস্তাফিজুর রহমানের শর্ট ডেলিভারিটি স্কয়ার লেগের দিকে উড়িয়ে মেরেছিলেন রোহিত। সেখানে ফিল্ডার ছিলেন তামিম ইকবাল। দৌড়ে গিয়ে সেটি একদম হাতেও পেয়ে গিয়েছিলেন; কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে হাত ফসকে পড়ে যায় ক্যাচটি।

 

১০ রানের মাথায় জীবন পেয়ে গেলেন রোহিত। তার মতো ভয়ংকর একজন ব্যাটসম্যানকে জীবন দেয়া বাংলাদেশ দলকে কতটা ভোগালো, সেটা ম্যাচের মাঝপথেই টের পেয়ে যায় টাইগাররা। ১০৪ রান করে আউট হন রোহিত। ৯৪ রান পেলেন তিনি বোনাস। আর বাংলাদেশ হারলো মাত্র ২৮ রানে। বোঝাই যাচ্ছে, কত বড় ভুলটা করেছিলেন তামিম ইকবাল। নিশ্চিত ক্যাচ নয়, ম্যাচটাই তিনি ফেলে দিয়েছিলেন ওই সময়।

এই তিনটি বড় ভুলের কারণে তিনটি ম্যাচ জেতা হলো না বাংলাদেশের। যদি বড় এই তিন ভুলের সঙ্গে ছোট ছোট ভুলগুলো না করতো টাইগাররা, তাহলে নিশ্চিত ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের আগেই সেমিফাইনালে নাম লেখাতো বাংলাদেশ।

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ অনেক ভালো করছে। ভবিষ্যতেও ভালো করবে। কিন্তু ছোট ছোট এসব ভুলের সঙ্গে মাঝে-মধ্যে বড় দু’একটি ভুল থেকে যতদিন বের হতে না পারবে বাংলাদেশ, ততদিন সত্যিকার বড় দল হয়ে উঠতে পারবে না। উন্নতিটাও খুব বেশি চোখে পড়বে না।

ক্রীড়া প্রতিবেদকঃ মানবাধিকার খবর

আফগানদের উড়িয়ে টাইগারদের দাপুটে জয়
                                  
                             টাইগারদের দাপুটে জয়
 
মোঃ রবিউল ইসলাম: সাকিব আল হাসানের অসাধারণ নৈপুণ্যে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৬২ রানের ব্যবধানে। ব্যাটে-বলে ম্যাচের অবিসংবাদিত নায়ক সাকিব আল হাসানই। যিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে একই ম্যাচে ৫০ রান ও ৫ উইকেট নেয়ার রেকর্ড গড়েছেন।
 
আগে ব্যাট করে মুশফিকুর রহীমের ৮৩ ও সাকিব আল হাসানের ৫১ রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ পায় ২৬২ রানের লড়াকু পুঁজি। যা কি-না ঢের প্রমাণিত হয় আফগানদের জন্য। সাকিবের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে আফগানিস্তান অলআউট হয় ২০০ রানে। টাইগাররা জয় পায় ৬২ রানের ব্যবধানে।
 
লক্ষ্য ২৬৩ রানের। এ রান তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তানের ওপেনিং জুটি চোখ রাঙাচ্ছিল। পাওয়ার প্লে`র প্রথম ১০ ওভার নির্বিঘ্নেই কাটিয়ে দেন গুলবাদিন নাইব আর রহমত শাহ। ১১তম ওভারে এসে বল হাতে নিয়েই এই জুটিটা ভেঙে দেন সাকিব আল হাসান।
 
সাকিবের বলটি মিডঅনে তুলে মারতে গিয়েছিলেন রহমত শাহ। জায়গা থেকে কিছুটা পেছনে সরে গিয়ে ক্যাচ নেন তামিম ইকবাল। ৩৫ বলে আফগান ওপেনার করেন ২৪ রান।
 
পরের ১০ ওভারে ৩০ রানের জুটি হাসমতউল্লাহ শহীদি আর গুলবাদিন নাইবের। ধুঁকতে ধুঁকতে এগিয়ে চলা হাসমতউল্লাহ শহীদি ২১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে রানআউটের হাত থেকে বেঁচে যান। তবে মোসাদ্দেকের ওভারের পঞ্চম বলেই পড়েন স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে। পা-টা একটু বেরিয়ে এসেছিল শহীদির। মুশফিক চোখের পলকে স্ট্যাম্পিং করে দেন। ৩১ বল খেলে শহীদি তখন ১১ রানে।
 
নেতৃত্বের ঝলক দেখালেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ওপেনিংয়ে নেমে গুলবাদিন নাইব যেন মাটি কামড়ে ধরেছিলেন। শেষ পর্যন্ত মাশরাফির দুর্দান্ত ক্যাপ্টেনসিকে আটকা পড়ে গেলেন আফগান অধিনায়ক।
 
শর্ট মিড অফে লিটনকে নিয়ে এসেছিলেন মাশরাফি। সেখানেই ক্যাচ দেন নাইব। চোখের পলকে সেই ক্যাচটি নিয়ে নেন লিটন। আফগান অধিনায়ক ৭৫ বলে ৪৭ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন এক বুক হতাশা নিয়ে।
 
ওই ওভারেই শূন্য রানে মোহাম্মদ নবীকে বোল্ড করেন সাকিব। বাংলাদেশের সহ-অধিনায়কের করা আর্মার ডেলিভারিটি বুঝতেই পারেননি নবী। ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গোলে তা সরাসরি আঘাত হানে স্ট্যাম্পে। রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরে যান নবী।
 
অনেকক্ষণ ধরে উইকেটে থিতু হয়েছিলেন সাবেক অধিনায়ক আসগর আফগান। রানরেটের চাপটাও টের পাচ্ছিলেন ভালোভাবেই। তাই তো ইনিংসের ৩৩তম সাকিবের বলকে মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে বসেন তিনি।
 
ফল হয় যা হওয়ার তাই। জায়গামতো দাঁড়িয়ে থাকা সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচে পরিণত হন আসগর। আউট হওয়ার আগে ৩৮ বল থেকে ২০ রান করেন তিনি। এরপর সরাসরি থ্রোতে উইকেটরক্ষক ইকরাম আলি খিলকে সাজঘরে ফেরত পাঠান লিটন দাস।
 
তবে সপ্তম উইকেটে পাল্টা প্রতিরোধের আভাস দেন সামিউল্লাহ শিনওয়ারি ও নাজিবউল্লাহ জাদরান। দুজন মিলে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গড়ে ফেলেন ৫৬ রানের জুটি। তাদের প্রতিরোধ ভাঙতে ফের বল হাতে হাজির হন সাকিব।
 
ইনিংসের ৪৩তম ওভারে সাকিবকে উড়িয়ে মারার চেষ্টা উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন নাজিবউল্লাহ। সুযোগের অপেক্ষায় থাকা মুশফিক বল গ্লাভসে জমিয়ে উইকেট ভাঙতে সময় নেননি একদমই।
 
এ উইকেটের সঙ্গে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে পাঁচ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখান সাকিব। একইসঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে একই ম্যাচে ফিফটি ও পাঁচ উইকেট নিলেন সাকিব। তার আগে ২০১১ সালের বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এ কৃতিত্ব দেখান যুবরাজ সিং।
 
সাকিবের বোলিং স্পেল শেষ হয় ১০ ওভারে এক মেইডেনের সহায়তায় ২৯ রান খরচায়। মাঝে রশিদ খানকে মাশরাফির হাতে ক্যাচ বানান মোস্তাফিজ। সাকিবের স্পেল শেষ হবার পর দাওলাত জাদরানকে উইকেটের পেছনে ক্যাচে পরিণত করেন কাটার মাস্টার।
 
ইনিংসের ৪৬তম ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে যায় আফগানরা। তবু একা খানিক লড়াই করেন শিনওয়ারি।
 
এর আগে ৭ উইকেটে ২৬২ রানের পুঁজি গড়তে পারে বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় টাইগাররা। ইনিংসের ৪ ওভার পেরোতেই আউট লিটন দাস। দলের রান তখন মাত্র ২৩। যদিও ক্যাচটা বিতর্কিত ছিল।
 
বলটা মনে হচ্ছিল, মাটিতে লেগেছে। টিভি আম্পায়ার আলিম দার কয়েকবার রিপ্লে টেনে টেনে দেখলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আউটের সিদ্ধান্তই দিলেন। মুজিব উর রহমানের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন।
 
শর্ট কভারে হাসমতউল্লাহ শহীদি ক্যাচটা নেয়ার পরও লিটন ক্রিজে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আলিম দারও নিশ্চিত হতে পারছিলেন না ক্যাচটা আসলে মাটিতে লেগেছে কিনা। একবার মনে হচ্ছিল, বলের নিচে আঙুল আছে। আরেক দিক থেকে মনে হচ্ছিল, মাটিতে বলের ছোঁয়া লেগেছে। ভাগ্যটা লিটনের বিপক্ষেই গেছে।
 
অথচ লিটনের শুরুটা হয়েছিল বেশ ভালোই। মূলত ওপেনিং জুটিতে তিনিই ভালো খেলছিলেন। ১৭ বলে ২ বাউন্ডারিতে ডান হাতি এই ব্যাটসম্যান করেন ১৬ রান। ২৩ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ৬১ বলে ৫১ রানের জুটি তামিম ইকবাল আর সাকিব আল হাসানের।
 
১ উইকেটে ৭৪ রানে পৌঁছে যাওয়া টাইগাররা ১৫তম ওভারের শেষ বলে এসে তামিমকে হারিয়ে বসে। মোহাম্মদ নবীর বলটি ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন টাইগার ওপেনার, ৫৩ বলে ৪ বাউন্ডারিতে তামিম করেন ৩৬ রান।
 
পরের ওভারে রশিদ খানের এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে আবারও আঙুল তুলে দিয়েছিলেন আম্পায়ার। এবার সাকিব রিভিউ নিয়ে জিতে যান। বল দেখা যায় স্ট্যাম্পের উপর দিয়ে চলে যেত।
 
তৃতীয় উইকেটে ৬১ রানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন সাকিব-মুশফিক। সাকিব একবার রিভিউ নিয়ে বেঁচে গেলেও ৩০তম ওভারে এসে বাঁচতে পারেননি। মুজিব উর রহমানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেছেন তিনি। ৬৯ বলে গড়া সাকিবের ৫১ রানের ধৈর্যশীল ইনিংসটিতে ছিল মাত্র একটি বাউন্ডারির মার।
 
মুজিবের পরের ওভারে আবারও ঝলক। এবার তিনি ফিরিয়ে দেন ওপেনিং থেকে মিডল অর্ডারে আসা সৌম্য সরকারকে। এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে সৌম্য করেন মাত্র ৩ রান। ১৫১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন ফের বিপদে বাংলাদেশ।
 
এরই মধ্যে পায়ের কাফে টান পড়ে নতুন ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহর। তিনি তখন মাত্র ৩ রানে। টাইগার সমর্থকরা ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। তবে মাহমুদউল্লাহ ওই ব্যথা নিয়েই ব্যাটিং চালিয়ে গেছেন।
 
পঞ্চম উইকেটে মুশফিক আর মাহমুদউল্লাহ যোগ করেন ৫৬ রান। ৩৮ বলে ২ বাউন্ডারিতে ২৭ রান করে মাহমুদউল্লাহ গুলবাদিন নাইবের শিকার হন।
 
এমন উত্থান পতনের মধ্যে একটা প্রান্ত ধরে দলকে টেনে নিয়ে গেছেন মুশফিক। ষষ্ঠ উইকেটে মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়ে ৩৩ বলে ৪৪ রানের জুটি তার। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু ইনিংসের ৪৯তম ওভারে এসে দৌলত জাদরানের বলে মারতে গিয়ে ক্যাচ হয়ে যান মুশফিক। ৮৭ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় তখন তিনি ৮৩ রানে।
 
এরপর মোসাদ্দেক শেষের কাজটা করে দিয়েছেন। ২৪ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৩৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে একদম শেষ বলে আউট হয়েছেন ডান হাতি এই ব্যাটসম্যান।
 
আফগানিস্তানের পক্ষে মুজিব উর রহমান ৩টি আর গুলবাদিন নাইব নিয়েছেন ২টি উইকেট।
বাংলাদেশ বিশ্বকাপের মূল বাছাইপর্বে
                                  

                বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব নিশ্চিতের পর ফুটবলারদের উচ্ছ্বাস

ব্রিস্টলে বৃষ্টিতে ভেসে গেছে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ। বৃষ্টিতে ক্রিকেটম্যাচ ভেস্তে যাওয়ার পর বঙ্গবন্ধুতে উপস্থিত ফুটবলপ্রেমীরাই নন, গোটা দেশ চেয়েছে লাওসের বিপক্ষে জয় নিয়ে রঙধনুর সাত রঙে সেজে মাঠ ছাড়বেন জামাল ভূঁইয়া, মামুনুলরা। কিন্তু একের পর এক গোল মিসে জয় বঞ্চিত হয়েই মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ। তবে সফরকারী লাওসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র হলেও কাতার বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব খেলার সুযোগ নষ্ট হয়নি একটুও। অ্যাওয়ে ম্যাচে জয়ের সুবিধা নিয়ে এশিয়ার সেরা ৪০ দলের সঙ্গে বাছাইপর্ব খেলবে জেমি ডে শিষ্যরা।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্বে খেলতে প্রস্তুত হচ্ছে গোটা বিশে^র ২০৭টি দেশ। প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশও। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খেলার জন্য প্রাক-বাছাইপর্ব খেলছে বেঙ্গল টাইগাররা। পাঁচ দিন আগে লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েনে ১-০ গোলে জয় পায় বাংলাদেশ। সেই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে জামাল বাহিনী গতকাল একাদশে দুটি পরিবর্তন নিয়ে খেলতে নামে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। মতিন মিয়া ও আরিফুর রহমানের জায়গায় খেলেছেন মামুনুল ও রবিউল। ড্র করলেই চলবে- এমন চাপে ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিট সুর-তালহীন ফুটবল খেলে জেমি ডের শিষ্যরা। পরবর্তীতে অবশ্য চাপ সামলে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। শুরুতে খেঁই হারিয়ে ফেললেও প্রথম আক্রমণে যায় ৮ মিনিটে। জামাল ভূঁইয়ার ফ্রি-কিকে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডার ব্যাক হেড করলে বল বিপজ্জনক অবস্থায় পরলেও ইয়াসিন পা ছোঁয়াতে পারেননি। পরের মিনিটে রবিউল হাসানের বাঁ পায়ের বাঁকানো কর্নার লাওসের গোলরক্ষক কায়সাবা ফিস্ট করেন। দুই দুটি আক্রমণের পর থেকে নিজেদের মেলে ধরে আক্রমণের ধারা বাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। ১৬ মিনিটে জনির পাস বক্সে ঢুকেও দুর্বল শট করেন নাবীব নেওয়াজ জীবন। এরমধ্যে সফরকারী লাওস যে আক্রমণ করেনি, সেটা নয়। ২৪ মিনিটে ইয়াছিনের ব্যাক পাসে বিপদে পড়তে যেয়েও স্ট্রাইকার ভানসান্নার ব্যর্থতায় পারেনি সফরকারীরা। পাঁচ মিনিট পর রবিউলের লম্বা থ্রোকে কাজে লাগাতে পারেননি জীবন। ৩৮ মিনিটে প্রথমার্ধের সবচেয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন জীবন। দ্বিতীয়ার্ধেও উভয় দল গোলের সুযোগ পেলেও কেউ কাজে লাগাতে পারেনি। ড্র করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। তবে দিনটি হয়ে থাকল বাংলাদেশের। ক্রিকেটে হতাশার দিনে কাতার বিশ্বকাপে বাছাইপর্বে জায়গা করে নিয়েছে জামালরা। উৎসব করেই মাঠ ছেড়েছেন ফুটবলাররা।

বিশ্বকাপের ১২তম আসরের চতুর্থ ম্যাচে আজ মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তান
                                  

পার্থে আফগানিস্তানকে নিয়ে ছেলেখেলায় মেতেছিল অস্ট্রেলিয়া। গত বিশ্বকাপের ম্যাচটিতে ডেভিড ওয়ার্নার ১৭৮ ও স্টিভেন স্মিথ খেলেন ৯৫ রানের ইনিংস। অস্ট্রেলিয়া জয় পায় ২৭৫ রানে। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের এবারের বিশ্বকাপের শুরুটা আজ হচ্ছে সেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে। ম্যাচটা ডেভিড ওয়ার্নার আর স্টিভেন স্মিথের ফেরার মঞ্চও। বল বিকৃতি কেলেঙ্কারি পেছনে ফেলে কয়েকটা অনুশীলন ম্যাচ খেললেও আজ প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক খেলায় দেখা যেতে পারে তাঁদের।

স্টিভেন স্মিথ নিশ্চিতভাবে একাদশে থাকলেও ডেভিড ওয়ার্নারকে নিয়ে শঙ্কা কাটেনি। ঊরুর পেশিতে টান পড়ায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেননি ওয়ার্নার। আজ তিনি খেলতে না পারলে অ্যারন ফিঞ্চের সঙ্গে ওপেন করবেন উসমান খাজা। আর তিন নম্বরে নামবেন শন মার্শ। তবে ওয়ার্নারের আশা ছাড়ছেন না কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার, ‘খেলার জন্য মুখিয়ে ওয়ার্নার। অন্য ১৫ জনের মতো উদ্দীপ্ত হয়ে আছে, হাসছে সারাক্ষণ। এটা ভালো ইঙ্গিত।’

গত বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার ৪১৭ রানের জবাবে ১৪২-এ গুটিয়ে যাওয়া আফগানিস্তান বদলে গেছে অনেকটা। বোলিং শক্তি বাড়িয়েছে রশিদ খান ও মুজিব-উর-রহমানের মতো দুটি বিস্ময়কর অস্ত্র। দুজনকেই খেলতে হিমশিম খাচ্ছেন বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যানরা। তাঁদের সঙ্গে মোহাম্মদ নবীর মতো অভিজ্ঞ স্পিনার থাকায় শচীন টেন্ডুলকারের মতো কিংবদন্তি বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের সেরা স্পিন আক্রমণ আফগানিস্তানের।’

২০০৮ সালেও ওয়ার্ল্ড লিগ ডিভিশন ফাইভে খেলত আফগানিস্তান। সেখান থেকে একেকটা ধাপ উতরে এই পর্যন্ত আসাটা রূপকথাকে হার মানানোর মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে আরো একবার চমকে দিয়েছে তারা। তবে বিশ্বকাপের ঠিক আগে অধিনায়ক আসগর আফগানের চেয়ারে গুলবাদিন নাইবকে বসানোয় ‘বিদ্রোহ’ ছড়িয়ে পড়ে দলে। আফগানিস্তান সরকারপ্রধানকেও এ নিয়ে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান কজন ক্রিকেটার। গুলবাদিন নাইব টিকে গেছেন এর পরও। নেতৃত্বের এমন বদল দলে তেমন প্রভাব ফেলবে না বলে বিশ্বাস প্রধান নির্বাচক দৌলত খান আহমদজাইয়ের, ‘দলে ঐক্য অটুট আছে। নাইব অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চেয়েছে আসগর আফগানের। ২০১৫ সালে রশিদ আর মুজিব ছিল না। ওদের পেয়ে এবার আমরা সেমিফাইনালের স্বপ্ন দেখছি। (সেটা না হলেও) দলের যা ভারসাম্য তাতে আমরা চমকে দিতে পারি অনেককে।’

সেই চমকের শুরুটা অস্ট্রেলিয়াকে দিয়ে হবে না বলেই বিশ্বাস কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গারের। দলের ব্যাটসম্যানদের মতো পেসার মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, নাথান কোল্টার-নাইলদের ওপর অগাধ আস্থা তাঁর। পাশাপাশি উইকেট দেখে বোলিং আক্রমণ স্পিনার দিয়েও করানোর পরিকল্পনা আছে তাঁর, ‘ইমরান তাহিরের মতো অ্যাডাম জাম্পাও ইনিংসের শুরু করতে পারে। সেটা উইকেট দেখে সিদ্ধান্ত নেব। আমাদের পেসাররা এ ধরনের উইকেটে ভালো বাউন্স পাবে। প্রতিপক্ষ যে-ই হোক আমাদের পরিকল্পনা একই (দাপটে খেলা)।’

বল বিকৃতি কেলেঙ্কারির জন্য গ্যালারির দর্শকদের দুয়োর মুখে পড়তে পারেন ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথ। এ নিয়ে স্মিথ আগেই জানিয়েছেন, ‘এসব গায়ে মাখি না আমি।’ দর্শকদের দুয়োয় মেজাজ না হারানোর পরামর্শ দিয়ে রাখলেন অস্ট্রেলিয়ান সাবেক পেসার ব্রেট লিও, ‘স্মিথ-ওয়ার্নারের নতুন করে প্রমাণের কিছু নেই। ইংল্যান্ডে গ্যালারির সমালোচনা শুনতে হতে পারে ওদের, এ জন্য মাঠে নামতে হবে চামড়া মোটা করে।’

ওয়ার্নার খেললে বিস্ময়করভাবে বাদ পড়তে পারেন উসমান খাজা। কারণ তিন নম্বরে অস্ট্রেলিয়ার পছন্দ শন মার্শ। অথচ গত বছর বিরাট কোহলি ও অ্যারন ফিঞ্চকে পেছনে ফেলে ৫৯.১৫ গড়ে সবচেয়ে বেশি ৭৬৯ ওয়ানডে রান খাজার! দলটা এত বেশি ভারসাম্যপূর্ণ বলেই ষষ্ঠ বিশ্বকাপের স্বপ্ন নিয়ে ইংল্যান্ডে অ্যারন ফিঞ্চরা।

আজ মুখোমুখি ইংল্যান্ড-দঃ আফ্রিকা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে
                                  

বিশ্বকাপের ঠিক আগে দল দুটি ঠিক বিপরীতমুখী অবস্থানে আছে। একদিকে ইংল্যান্ড দলটা এবারের আসরের অন্যতম ফেভারিট দল। আর স্বাগতিক দল বলে তাদের ওপর নজর অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি থাকবে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তাই আকাশ সমান চাপ নিয়েই মাঠে নামবে ইয়ন মরগ্যানের দল।

তাদের প্রতিপক্ষ আজ দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্য যে কোনো সময়ে ফেভারিটদের তালিকাতে থাকলেও এবার তাদের নিয়ে তেমন একটা আলোচনা নেই বললেই চলে। যদিও, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর এই দলটিও। তবে, মূল মঞ্চে পারফর্ম করতে না পারার আক্ষেপ তাদের বহুদিনের। ফলে, আজকের ম্যাচে তাদেরও চাপের কোনো কমতি নেই।

১৯৯২ সাল থেকে ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফেভারিট না হয়েও, সেমিফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারে তারা। এরপর আরো ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেয় প্রোটিয়ারা। প্রতিটি বিশ্বকাপের ফেভারিটের তকমা গায়ে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। সেরা খেলোয়াড় স্কোয়াডে রেখে, খেলোয়াড়দের সেরা ফর্ম নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল প্রোটিয়ারা। কিন্তু কোনো বারই সাফল্যে নিজেদের রঙিন করতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাওয়াটাই এখন অবধি দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা অর্জন। চার সেমিফাইনালে পৌঁছে প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছে তারা। সর্বশেষ ২০১৫ সালে যেমন হেরেছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের খুব বাজে একটা স্মৃতিও এই ইংল্যান্ডের মাঠেই। সেটা ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপের কথা। সেই আসরে বার্মিংহামে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাই হওয়া ম্যাচটি রীতিমতো ক্রিকেট ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। চাপের মুখে প্রোটিয়ারা কতটা ভেঙে পড়ে তারই প্রমাণ সেই ম্যাচটি। আজকের ম্যাচ দিয়ে সেই স্মৃতির জুজু কাটাতেই মাঠে নামবে ফাফ ডু প্লেসির দল।

ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম তিনটি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই ইংল্যান্ডে। এরপর সর্বশেষ ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপেরও আয়োজক ছিল ইংল্যান্ড। ২০ বছর পর ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফিরেছে ইংল্যান্ডে। যদিও, গেল ১১টি বিশ্বকাপে কখনোই শিরোপা জেতা হয়নি ক্রিকেটের আঁতুরঘরের। ইয়ন মরগ্যানরা এবার দেশের মাটিতে বিশ্বকাপে সেই আক্ষেপ আর রাখতে চান না। ম্যাচের আগে ইংলিশদের জন্য ‘সুসংবাদ’ হলো ইনজুরির কারণে ম্যাচটিতে খেলা হচ্ছে না ডেল স্টেইনের। ম্যাচের আগে অনুশীলনেই এই খবরটা নিশ্চিত করেন প্রোটিয়াদের কোচ ওটিস গিবসন। তিনি বলেন, ‘স্টেইন এখনো ম্যাচ খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। এটা একটা ছয় সপ্তাহের লম্বা টুর্নামেন্টে। প্রথমেই ওকে আমরা বাড়তি চাপ নেই। তবে, সামনের ম্যাচগুলোতে ও অবশ্যই খেলবে।’

মুখোমুখি লড়াই

মোট ম্যাচ ৫৬

ইংল্যান্ডের জয় ২৬

দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ২৯

টাই ০১

ক্রিকেটে ভিন্ন বাংলাদেশকে দেখবে বিশ্ব’
                                  

                                         অনীল কুম্বল

শোয়েব আখতার, রশিদ লতিফ, রমিজ রাজার পর এবার অনীল কুম্বলের কন্ঠে মাশরাফি বন্দনা। ভারতের কিংবদন্তি লেগস্পিনার কুম্বলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে ‘আদর্শ’ নেতার খেতাব দিয়েছেন। আর মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশ দলটিকে যথেষ্ট শক্তিশালী মনে করছেন ভারতের সাবেক এই কোচ। তিনি বলেন, ‘মুর্তজা অনেক ভালো একজন নেতা। সে দলকে সংঘবদ্ধ করতে পারে। মাশরাফি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। তার নেতৃত্বে আপনি ভিন্ন বাংলাদেশকে দেখতে পাবেন। বাংলাদেশকে হালকাভাবে নিতে পারেন না আপনি। গত কয়েক বছর ধরে দারুণ ক্রিকেট খেলছে তারা।’
ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে মাশরাফি এক প্রেরণার নাম। ডান হাঁটুতে এতগুলো অস্ত্রোপচারের পরও দেশের টানে খেলে যাচ্ছেন। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতকে হারিয়ে সুপার সিক্সে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে দারুণ বোলিং করেছিলেন মাশরাফি। ঘরের মাটিতে ২০১১ বিশ্বকাপ মিস করেন চোটের কারণে। তবে ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত আসরে মাশরাফির নেতৃত্বে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ গড়ে ইতিহাস। তার নেতৃত্বে আন্তজার্তিক কোনো আসরে প্রথম বারের মতো শিরোপার স্বাদপায় বাংলাদেশ। গত সপ্তাহে আয়ারল্যন্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে এই শিেেরাপা জেতে টাইগাররা। এখন পর্যন্ত ২০৯ ওয়ানডেতে মাশরাফি নিয়েছেন ২৬৫ উইকেট। গত সপ্তাহে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ জেতার পর পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা মাশরাফির নেতৃত্ব গুণ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। রজিম বলেন, ‘মাশরাফি একজন অনবদ্য অধিনায়ক। ঠাণ্ডা মেজাজে খেলা পরিচালনা করে। কঠিন পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্তটা নিয়ে থাকে।’ এর আগে ‘লড়াকু’ মাশরাফির প্রশংসায় পাকিস্তানের সাবেক গতিতারকা শোয়েব আখতার বলেন, ‘আমার মতে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের সেরা অধিনায়ক মাশরাফি।’ পাকিস্তানের সাবেক উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান রশিদ লতিফও মাশরাফির ভূয়সী প্রশংসা করে করেন। তিনি বলেন, ‘পায়ে বড় ধরনের ইনজুরি থাকা সত্ত্বেও মাশরাফি দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। একজন চোটাক্রান্ত ক্রিকেটারের জন্য এটা বেশ কঠিন কাজ। বাংলাদেশে তার অনেক সুনাম রয়েছে। ২০১৪, ২০১৫, ২০১৬ সালে দারুণ ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। তারা ঘরের মাঠে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে ওয়ানডেতে। ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়েছিল তারা। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা দারুণ স্ট্রাইক রোটেট করে খেলতে পারে যেটি তাদের একটি প্লাস পয়েন্ট।’
আয়ারল্যান্ডের মাটিতে কিছুদিন আগে ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের প্রতি ম্যাচেই টাইগাররা দাপুটে পারফরম্যান্স দেখায়। এরপর ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান ক্রিকেট বিশ্লেষক আকাশ চোপড়া বলেন, বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার জোর সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশের। এর আগে পাকিস্তানের শোয়েব আখতারও বলেন, বিশ্বকাপে তাক লাগিয়ে দিতে পারে টাইগাররা। তবে শোয়েব একটা শর্ত দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, বড় ম্যাচের চাপ সামলাতে না পারার ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে হবে বাংলাদেশকে। আর গতকাল কুম্বলে বলেন, ‘বড় ম্যাচে চাপ সামলে উঠাটা বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ।’ ২রা জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে তাদের প্রথম ম্যাচে খেলতে নামবে। রাউন্ড রবিন লীগ পদ্ধতিতে এবারের টুর্নামেন্টে অন্তত ৯টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন মাশরাফি-সাকিবরা। আর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ চারে থাকতে পারলে মিলবে সেমিফাইনালের টিকিট।

ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
                                  


মোঃ রবিউল ইসলাম: সৌম্য সরকারের ঝড়, এরপর শেষ দিকে এসে ঝড় তুললেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। সৌম্যর ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরির পর মোসাদ্দেকের ২০ বলে হাফ সেঞ্চুরি। এই দুই ঝড়ো ইনিংসের ওপর ভর করে এই প্রথম নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে কোনো টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতলো বাংলাদেশ।

ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ২৪ ওভারে ২১০ রানের বিশাল লক্ষ্য পাড়ি দিতে নেমে মোসাদ্দেকের ঝড়ের সামনে ৭ বল হাতে রেখেই শিরোপা জিতে বাংলাদেশ।

সৌম্য সরকারের ব্যাটে জয়ের স্বপ্নটা চওড়া হচ্ছিল খুব। ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে সেটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ৪১ বলে ৬৬ রান করার পর সৌম্য বিদায় নিতেই জয়ের কাজটা ধীরে ধীরে কঠিন হতে শুরু করে।

মুশফিকুর রহীম, মোহাম্মদ মিঠুনরাও চেষ্টা করেন রানের চাকা সমানতালে এগিয়ে নিতে। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় সেটা আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

দলীয় ১০৯ রানের মাথায় রেমন রেইফারের স্পিন ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে ছক্কা মারতে যান সৌম্য। লং অনে ধরা পড়েন সেলডন কটরেলের হাতে। মুশফিকুর রহীম করেন ২২ বলে ৩৬ রান। মিঠুনের ব্যাট থেকে আসে ১৪ বলে ১৭ রান।

এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করে ২৪ ওভরে ১৫২ রান। জিততে হলে বাংলাদেশকে করতে হবে ২১০ রান। ক্রিকেটের অদ্ভুত বৃষ্টি আইন এটা। ডাকওয়ার্থ আর লুইস তৈরি করেছেন এই গাণিতিক হিসাব-নিকাশ।

জয়ের জন্য ২১০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনাই করেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকারের দুর্দান্ত সূচনার পর ৫.৩ ওভারেই তারা গড়ে ফেলে ৫৯ রানের জুটি। ১৩ বলে ১৮ রান করে আউট হয়ে যান তামিম ইকবাল।

তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামেন সাব্বির রহমান। কিন্তু যে কারণে তাকে আগে নামানো হলো, সেটা মোটেও কাজে লাগল না। 

শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলে এলবিডবিস্নউ হয়ে কোনো রান না করেই ফিরে যান সাব্বির রহমান। সাকিব আল হাসান না থাকার অভাবটা ভালোই টের পাওয়া গেল। চার নম্বরে ব্যাট করতে নামেন মুশফিকুর রহীম।

এর আগে বৃষ্টির কারণে লম্বা সময় ধরে ম্যাচ বন্ধ থাকার পর আবারও খেলা শুরু হয় বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টায়। কার্টেল ওভারে ম্যাচটি নির্ধারণ করা হয় ২৪ ওভারের। সেই নির্ধারিত ২৪ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেছে ১৫২ রান।

কিন্তু বৃষ্টি আইন ডার্কওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়াল ২১০ রান। ওভার সেই ২৪টিই।

টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট করতে নামার পর ২০.১ ওভারে বিনা উইকেটে ১৩১ রান তোলার পরই নামে বৃষ্টি। সে অবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে খেলা বন্ধ থাকার পর আবার বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১০টায় খেলা শুরুর ঘোষণা দেয়া হয়।

বৃষ্টির আগে সাই হোপ ছিলেন ৫৬ বলে ৬৮ এবং সুনিল আমব্রিস ৬৫ বলে ব্যাট করছিলেন ৫৯ রানে। এরপর খেলা শুরু হলে ৬৪ বলে ৭৪ রান করে আউট হন সাই হোপ। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে তার ক্যাচ ধরেন মোসাদ্দেক সৈকত।

সুনিল আমব্রিস ৭৮ বলে থাকেন ৬৯ রানে অপরাজিত। ড্যারেন ব্র্যাভো অপরাজিত থাকেন ৩ বলে ৩ রান করে।


   Page 1 of 3
     খেলাধুলা
ধর্ষকদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদ- দেয়া উচিত : আফ্রিদি
.............................................................................................
বাংলাদেশ অধিনায়ককে ভারতের তিন ফুটবলার ভাবাচ্ছেন
.............................................................................................
অসি অধিনায়কের দুই সেঞ্চুরির মাঝে কেটে গেছে ১৩ বছর
.............................................................................................
পাকিস্তান নিরাপদ’ ‘শুনে নাও বিশ্ব,
.............................................................................................
হারাতে চান কাতারকে বাংলাদেশ কোচ!
.............................................................................................
হয়নি ব্যাটের ফিফটি, বলের সেঞ্চুরি তামিমের
.............................................................................................
শুভ জন্মদিন মাশরাফি বিন মুর্তজা
.............................................................................................
২০০ টাকা জরিমানা ক্রিকেটার তাইজুলের
.............................................................................................
বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড
.............................................................................................
বাংলাদেশের যে তিন ভুলে সেমিতে খেলা হলো না
.............................................................................................
আফগানদের উড়িয়ে টাইগারদের দাপুটে জয়
.............................................................................................
বাংলাদেশ বিশ্বকাপের মূল বাছাইপর্বে
.............................................................................................
বিশ্বকাপের ১২তম আসরের চতুর্থ ম্যাচে আজ মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তান
.............................................................................................
আজ মুখোমুখি ইংল্যান্ড-দঃ আফ্রিকা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে
.............................................................................................
ক্রিকেটে ভিন্ন বাংলাদেশকে দেখবে বিশ্ব’
.............................................................................................
ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
.............................................................................................
ভয়ে দেশে ফিরছেন না প্রথম ইরানি নারী বক্সার
.............................................................................................
বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের ম্যাচ পরিত্যক্ত: পয়েন্ট ভাগাভাগি
.............................................................................................
পথশিশু বিশ্বকাপে সেমিতে বাংলাদেশ
.............................................................................................
টাইগারদের জার্সিতে আবারও পরিবর্তন
.............................................................................................
বড় স্বপ্ন নিয়েই শেষ বিশ্বকাপে মাশরাফি
.............................................................................................
নভোএয়ার কাপ গলফ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
ফিরে দেখা : আন্তর্জাতিক ফুটবল ২০১৮
.............................................................................................
বিশ্বকাপ ফুটবল রাশিয়া-২০১৮
.............................................................................................
কচিকাঁচার ফুটবল উৎসব
.............................................................................................
দুদকের শুভেচ্ছা দূত সাকিব
.............................................................................................
রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদ সিদ্দিকুরের
.............................................................................................
সাফজয়ী ফুটবলারদের সংবর্ধনা প্রধানমন্ত্রীর
.............................................................................................
আদালতের রায়ে গেইল নির্দোষ
.............................................................................................
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে সাকিব
.............................................................................................
শুরুতেই ফিরে গেছেন টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল
.............................................................................................
জবান রাখলেন মাশরাফি
.............................................................................................
সিরিজ জয়ে টাইগারদের দরকার ২৮১
.............................................................................................
টাইগারদের টার্গেট ৪৫৯
.............................................................................................
প্রথম দিনের ৪০ ওভারে দেড়’শ করলো বাংলাদেশ
.............................................................................................
টাইগারদের হারিয়ে ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় কিউইরা
.............................................................................................
সম্মাননা পেলেন মার্কেন্টাইল ব্যাংকের এমডি
.............................................................................................
সৌদি আরবে শাখা খোলার অনুমোদন পেয়েছে এসআইবিএল ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক
.............................................................................................
ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্রাইডাল মেলা
.............................................................................................
২০ হাজার গ্রামের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে ইসলামী ব্যাংক
.............................................................................................
জাতীয় সংসদে ওঠছে ২ জুন আসছে ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার বাজেট
.............................................................................................
দাম বাড়ল ছোলা-চিনি-রসুনের রমযানকে ঘিরে তৎপর অসাধূ ব্যবসায়ীরা
.............................................................................................
প্রাইম ব্যাংকের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
ইসলামী ব্যাংকের সভা অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
দুদিনের ডেনিম এক্সপো শুরু বাংলাদেশের ডেনিম কাপড় ও পোশাকে বৈচিত্র্য বাড়ছে
.............................................................................................
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
রানার মোটরস লিমিটেডের ডিলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

Editor & Publisher: Rtn. Md Reaz Uddin
Corporate Office
53,Modern mansion(8th floor),Motijheel C/A, Dhaka
E-mail:manabadhikarkhabar34@gmail.com,manabadhikarkhabar34@yahoo.com,
Tel:+88-02-9585139
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-9585140
    2015 @ All Right Reserved By manabadhikarkhabar.com    সম্পাদকীয়    Adviser List

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]