| বাংলার জন্য ক্লিক করুন

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   খেলাধুলা -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
ক্রিকেটে ভিন্ন বাংলাদেশকে দেখবে বিশ্ব’

                                         অনীল কুম্বল

শোয়েব আখতার, রশিদ লতিফ, রমিজ রাজার পর এবার অনীল কুম্বলের কন্ঠে মাশরাফি বন্দনা। ভারতের কিংবদন্তি লেগস্পিনার কুম্বলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে ‘আদর্শ’ নেতার খেতাব দিয়েছেন। আর মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশ দলটিকে যথেষ্ট শক্তিশালী মনে করছেন ভারতের সাবেক এই কোচ। তিনি বলেন, ‘মুর্তজা অনেক ভালো একজন নেতা। সে দলকে সংঘবদ্ধ করতে পারে। মাশরাফি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। তার নেতৃত্বে আপনি ভিন্ন বাংলাদেশকে দেখতে পাবেন। বাংলাদেশকে হালকাভাবে নিতে পারেন না আপনি। গত কয়েক বছর ধরে দারুণ ক্রিকেট খেলছে তারা।’
ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে মাশরাফি এক প্রেরণার নাম। ডান হাঁটুতে এতগুলো অস্ত্রোপচারের পরও দেশের টানে খেলে যাচ্ছেন। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতকে হারিয়ে সুপার সিক্সে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে দারুণ বোলিং করেছিলেন মাশরাফি। ঘরের মাটিতে ২০১১ বিশ্বকাপ মিস করেন চোটের কারণে। তবে ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত আসরে মাশরাফির নেতৃত্বে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ গড়ে ইতিহাস। তার নেতৃত্বে আন্তজার্তিক কোনো আসরে প্রথম বারের মতো শিরোপার স্বাদপায় বাংলাদেশ। গত সপ্তাহে আয়ারল্যন্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে এই শিেেরাপা জেতে টাইগাররা। এখন পর্যন্ত ২০৯ ওয়ানডেতে মাশরাফি নিয়েছেন ২৬৫ উইকেট। গত সপ্তাহে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ জেতার পর পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা মাশরাফির নেতৃত্ব গুণ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। রজিম বলেন, ‘মাশরাফি একজন অনবদ্য অধিনায়ক। ঠাণ্ডা মেজাজে খেলা পরিচালনা করে। কঠিন পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্তটা নিয়ে থাকে।’ এর আগে ‘লড়াকু’ মাশরাফির প্রশংসায় পাকিস্তানের সাবেক গতিতারকা শোয়েব আখতার বলেন, ‘আমার মতে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের সেরা অধিনায়ক মাশরাফি।’ পাকিস্তানের সাবেক উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান রশিদ লতিফও মাশরাফির ভূয়সী প্রশংসা করে করেন। তিনি বলেন, ‘পায়ে বড় ধরনের ইনজুরি থাকা সত্ত্বেও মাশরাফি দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। একজন চোটাক্রান্ত ক্রিকেটারের জন্য এটা বেশ কঠিন কাজ। বাংলাদেশে তার অনেক সুনাম রয়েছে। ২০১৪, ২০১৫, ২০১৬ সালে দারুণ ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। তারা ঘরের মাঠে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে ওয়ানডেতে। ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়েছিল তারা। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা দারুণ স্ট্রাইক রোটেট করে খেলতে পারে যেটি তাদের একটি প্লাস পয়েন্ট।’
আয়ারল্যান্ডের মাটিতে কিছুদিন আগে ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের প্রতি ম্যাচেই টাইগাররা দাপুটে পারফরম্যান্স দেখায়। এরপর ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান ক্রিকেট বিশ্লেষক আকাশ চোপড়া বলেন, বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার জোর সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশের। এর আগে পাকিস্তানের শোয়েব আখতারও বলেন, বিশ্বকাপে তাক লাগিয়ে দিতে পারে টাইগাররা। তবে শোয়েব একটা শর্ত দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, বড় ম্যাচের চাপ সামলাতে না পারার ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে হবে বাংলাদেশকে। আর গতকাল কুম্বলে বলেন, ‘বড় ম্যাচে চাপ সামলে উঠাটা বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ।’ ২রা জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে তাদের প্রথম ম্যাচে খেলতে নামবে। রাউন্ড রবিন লীগ পদ্ধতিতে এবারের টুর্নামেন্টে অন্তত ৯টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন মাশরাফি-সাকিবরা। আর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ চারে থাকতে পারলে মিলবে সেমিফাইনালের টিকিট।

ক্রিকেটে ভিন্ন বাংলাদেশকে দেখবে বিশ্ব’
                                  

                                         অনীল কুম্বল

শোয়েব আখতার, রশিদ লতিফ, রমিজ রাজার পর এবার অনীল কুম্বলের কন্ঠে মাশরাফি বন্দনা। ভারতের কিংবদন্তি লেগস্পিনার কুম্বলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে ‘আদর্শ’ নেতার খেতাব দিয়েছেন। আর মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশ দলটিকে যথেষ্ট শক্তিশালী মনে করছেন ভারতের সাবেক এই কোচ। তিনি বলেন, ‘মুর্তজা অনেক ভালো একজন নেতা। সে দলকে সংঘবদ্ধ করতে পারে। মাশরাফি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। তার নেতৃত্বে আপনি ভিন্ন বাংলাদেশকে দেখতে পাবেন। বাংলাদেশকে হালকাভাবে নিতে পারেন না আপনি। গত কয়েক বছর ধরে দারুণ ক্রিকেট খেলছে তারা।’
ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে মাশরাফি এক প্রেরণার নাম। ডান হাঁটুতে এতগুলো অস্ত্রোপচারের পরও দেশের টানে খেলে যাচ্ছেন। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতকে হারিয়ে সুপার সিক্সে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে দারুণ বোলিং করেছিলেন মাশরাফি। ঘরের মাটিতে ২০১১ বিশ্বকাপ মিস করেন চোটের কারণে। তবে ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত আসরে মাশরাফির নেতৃত্বে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ গড়ে ইতিহাস। তার নেতৃত্বে আন্তজার্তিক কোনো আসরে প্রথম বারের মতো শিরোপার স্বাদপায় বাংলাদেশ। গত সপ্তাহে আয়ারল্যন্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে এই শিেেরাপা জেতে টাইগাররা। এখন পর্যন্ত ২০৯ ওয়ানডেতে মাশরাফি নিয়েছেন ২৬৫ উইকেট। গত সপ্তাহে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ জেতার পর পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা মাশরাফির নেতৃত্ব গুণ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। রজিম বলেন, ‘মাশরাফি একজন অনবদ্য অধিনায়ক। ঠাণ্ডা মেজাজে খেলা পরিচালনা করে। কঠিন পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্তটা নিয়ে থাকে।’ এর আগে ‘লড়াকু’ মাশরাফির প্রশংসায় পাকিস্তানের সাবেক গতিতারকা শোয়েব আখতার বলেন, ‘আমার মতে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের সেরা অধিনায়ক মাশরাফি।’ পাকিস্তানের সাবেক উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান রশিদ লতিফও মাশরাফির ভূয়সী প্রশংসা করে করেন। তিনি বলেন, ‘পায়ে বড় ধরনের ইনজুরি থাকা সত্ত্বেও মাশরাফি দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। একজন চোটাক্রান্ত ক্রিকেটারের জন্য এটা বেশ কঠিন কাজ। বাংলাদেশে তার অনেক সুনাম রয়েছে। ২০১৪, ২০১৫, ২০১৬ সালে দারুণ ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। তারা ঘরের মাঠে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে ওয়ানডেতে। ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়েছিল তারা। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা দারুণ স্ট্রাইক রোটেট করে খেলতে পারে যেটি তাদের একটি প্লাস পয়েন্ট।’
আয়ারল্যান্ডের মাটিতে কিছুদিন আগে ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের প্রতি ম্যাচেই টাইগাররা দাপুটে পারফরম্যান্স দেখায়। এরপর ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান ক্রিকেট বিশ্লেষক আকাশ চোপড়া বলেন, বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার জোর সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশের। এর আগে পাকিস্তানের শোয়েব আখতারও বলেন, বিশ্বকাপে তাক লাগিয়ে দিতে পারে টাইগাররা। তবে শোয়েব একটা শর্ত দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, বড় ম্যাচের চাপ সামলাতে না পারার ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে হবে বাংলাদেশকে। আর গতকাল কুম্বলে বলেন, ‘বড় ম্যাচে চাপ সামলে উঠাটা বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ।’ ২রা জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে তাদের প্রথম ম্যাচে খেলতে নামবে। রাউন্ড রবিন লীগ পদ্ধতিতে এবারের টুর্নামেন্টে অন্তত ৯টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন মাশরাফি-সাকিবরা। আর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ চারে থাকতে পারলে মিলবে সেমিফাইনালের টিকিট।

ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
                                  


মোঃ রবিউল ইসলাম: সৌম্য সরকারের ঝড়, এরপর শেষ দিকে এসে ঝড় তুললেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। সৌম্যর ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরির পর মোসাদ্দেকের ২০ বলে হাফ সেঞ্চুরি। এই দুই ঝড়ো ইনিংসের ওপর ভর করে এই প্রথম নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে কোনো টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতলো বাংলাদেশ।

ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ২৪ ওভারে ২১০ রানের বিশাল লক্ষ্য পাড়ি দিতে নেমে মোসাদ্দেকের ঝড়ের সামনে ৭ বল হাতে রেখেই শিরোপা জিতে বাংলাদেশ।

সৌম্য সরকারের ব্যাটে জয়ের স্বপ্নটা চওড়া হচ্ছিল খুব। ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে সেটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ৪১ বলে ৬৬ রান করার পর সৌম্য বিদায় নিতেই জয়ের কাজটা ধীরে ধীরে কঠিন হতে শুরু করে।

মুশফিকুর রহীম, মোহাম্মদ মিঠুনরাও চেষ্টা করেন রানের চাকা সমানতালে এগিয়ে নিতে। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় সেটা আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

দলীয় ১০৯ রানের মাথায় রেমন রেইফারের স্পিন ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে ছক্কা মারতে যান সৌম্য। লং অনে ধরা পড়েন সেলডন কটরেলের হাতে। মুশফিকুর রহীম করেন ২২ বলে ৩৬ রান। মিঠুনের ব্যাট থেকে আসে ১৪ বলে ১৭ রান।

এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করে ২৪ ওভরে ১৫২ রান। জিততে হলে বাংলাদেশকে করতে হবে ২১০ রান। ক্রিকেটের অদ্ভুত বৃষ্টি আইন এটা। ডাকওয়ার্থ আর লুইস তৈরি করেছেন এই গাণিতিক হিসাব-নিকাশ।

জয়ের জন্য ২১০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনাই করেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকারের দুর্দান্ত সূচনার পর ৫.৩ ওভারেই তারা গড়ে ফেলে ৫৯ রানের জুটি। ১৩ বলে ১৮ রান করে আউট হয়ে যান তামিম ইকবাল।

তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামেন সাব্বির রহমান। কিন্তু যে কারণে তাকে আগে নামানো হলো, সেটা মোটেও কাজে লাগল না। 

শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলে এলবিডবিস্নউ হয়ে কোনো রান না করেই ফিরে যান সাব্বির রহমান। সাকিব আল হাসান না থাকার অভাবটা ভালোই টের পাওয়া গেল। চার নম্বরে ব্যাট করতে নামেন মুশফিকুর রহীম।

এর আগে বৃষ্টির কারণে লম্বা সময় ধরে ম্যাচ বন্ধ থাকার পর আবারও খেলা শুরু হয় বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টায়। কার্টেল ওভারে ম্যাচটি নির্ধারণ করা হয় ২৪ ওভারের। সেই নির্ধারিত ২৪ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেছে ১৫২ রান।

কিন্তু বৃষ্টি আইন ডার্কওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়াল ২১০ রান। ওভার সেই ২৪টিই।

টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট করতে নামার পর ২০.১ ওভারে বিনা উইকেটে ১৩১ রান তোলার পরই নামে বৃষ্টি। সে অবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে খেলা বন্ধ থাকার পর আবার বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১০টায় খেলা শুরুর ঘোষণা দেয়া হয়।

বৃষ্টির আগে সাই হোপ ছিলেন ৫৬ বলে ৬৮ এবং সুনিল আমব্রিস ৬৫ বলে ব্যাট করছিলেন ৫৯ রানে। এরপর খেলা শুরু হলে ৬৪ বলে ৭৪ রান করে আউট হন সাই হোপ। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে তার ক্যাচ ধরেন মোসাদ্দেক সৈকত।

সুনিল আমব্রিস ৭৮ বলে থাকেন ৬৯ রানে অপরাজিত। ড্যারেন ব্র্যাভো অপরাজিত থাকেন ৩ বলে ৩ রান করে।

ভয়ে দেশে ফিরছেন না প্রথম ইরানি নারী বক্সার
                                  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
প্রথম ইরানি কোনো নারী বক্সার হিসেবে ফ্রান্সে একটি অফিশিয়াল বক্সিং প্রতিযোগিতা শেষে নিজ দেশে ফিরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সাদাফ খাদেম। তার বিরুদ্ধে জারি হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। ইরানের বাধ্যতামূলক পোশাক না পরার কারণে এমন হতে পারে বলে সাদাফ খাদেমের ধারনা। ১৩ এপ্রিল এক অপেশাদার প্রতিযোগিতায় ফরাসি বক্সার এনি চৌভিনকে হারান সাদাফ খাদেম। এ সপ্তাহেই তিনি তার ফরাসী-ইরানী প্রশিক্ষকের সাথে তেহরানে ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন। একটি ক্রীড়া সংবাদপত্রের খবরের সূত্রের বরাত দিয়ে সাদাফ খাদেম বলেন, তার ধারনা ভেস্ট ও শর্টস পরে বক্সিংএ অংশ নিয়ে সে ইরানের পোশাক পরার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। ইরান কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে অবশ্য কোনো মন্তব্য করেননি, তবে দেশে ফিরলে খাদেম কে গ্রেপ্তার
করা হবে এ বিষয়ে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ইরান
বক্সিং ফেডারেশনের প্রধান।
হোসেন সুরি বলেন, সাদাফ. খাদেম ইরানের

বক্সিংয়ের জন্যে আয়োজিত অ্যাথলেটদের সদস্য নন, এছাড়া বক্সিং ফেডারেশনের দৃষ্টিকোণ থেকে তার সমস্ত কার্যকলাপ ব্যক্তিগত।
প্রতিযোগিতায় খাদেমের পরনে ইরানের জাতীয় পতাকার রংয়ের সাথে মিলিয়ে ছিল সবুজ ভেস্ট ও লাল শর্টস এবং সাদা বেল্ট। ফ্রান্সের শহর রয়ানে হয় ম্যাচটি। নিজ দেশের ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের সমর্থন না থাকার পরও দেশের বাইরে প্রতিযোগিতায় আসা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের ছিল ২৪ বছর বয়সী এই বক্সারের জন্যে। খাদেম আশা করেছিলেনে যখন দেশে ফিরবেন তখন বীরোচিত সম্বর্ধনা পাবেন। কিন্তু প্যারিসের শার্স দ্য গ্যল বিমান বন্দরে এসে তিনি জানান, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। খাদেমের সাথে ছিলেন তার প্রশিক্ষক মাহয়ার মনসুর, যিনি ইরানে জন্মগ্রহণকারী বিশ্ব বক্সিং এসোসিয়েশন চ্যাম্পিয়ন এবং ফরাসি ক্রীড়া মন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা। একটি সংবাদপত্রকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সাদাফ খাদেম বলেন, ফ্রান্সে আমি একটি অনুমোদিত প্রতিযোগিতাতেই অংশ নেই। কিন্তু আমার পরনে ছিল ছোট প্যান্ট এবং টি-শার্ট, যা কিনা পুরো বিশ্বের চোখে স্বাভাবিক হলেও আমার নিজের দেশের নিয়মকে সেটি অসন্তুষ্ট করেছিল। আমি কোনো হিজাব পরিনি, একজন পুরুষ আমাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে-কেউ কেউ এটি ভালো চোখে দেখেনি।
প্যারিসে ইরানের দূতাবাসের মুখপাত্র খাদেমের ইরানে না ফেরার সিদ্ধান্ত বা তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করেনি। ইরানের আইন অনুযায়ী ৯ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো নারীকে যদি জনসম্মুখে মাথায় আবৃত কোনো কাপড় ছাড়া দেখা যায়, তবে ১০ দিন থেকে দুই মাসের জেল বা জরিমানার শাস্তি বিধান রয়েছে। দেশটির নারী খেলোয়াড়দের চুল, ঘাড়, বাহু এবং পা পুরোপুরি ঢেকে রাখার নিয়ম।

সাম্প্রতিক সময়ের আগে পর্যন্ত, খাদেম অফিশিয়াল বক্সিং ম্যাচে হিজাব এবং পুরো শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক ছাড়া অংশ নেবার অনুমতিই পেত না। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে আন্তর্জাতিক বক্সিং এসোসিয়েশনের অপেশাদার বক্সিংয়ের গভর্নিং বডি এই পোশাকের নিয়ম শিথিল করে।

 

মানবাধিকার খবর

বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের ম্যাচ পরিত্যক্ত: পয়েন্ট ভাগাভাগি
                                  
ডাবলিনের আকাশে সকাল থেকেই মেঘ ছিল। টসের আগেই নামে বৃষ্টি। সেই বৃষ্টি থেকে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু পরেই শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। সঙ্গে হাড়ে কামড় দেওয়া ঠান্ডা। টস হতে তাই বিলম্ব হয়। কিন্তু বৃষ্টি থামার নাম-গন্ধ না পেয়ে টসের সময় প্রায় সাতে তিন ঘন্টা পেরিয়ে গেলে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
 
এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড। বাংলাদেশ আবার নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সহজ জয় পায়। আয়ারল্যান্ডের জন্য তাই বাংলাদেশের ম্যাচ ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর। কিন্তু বৃষ্টির কারণে মাঠেই গড়াল না বল। বাংলাদেশও বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুত হওয়ার জন্য পাওয়া চারটি ম্যাচের একটি হারালো।
 
তবে শুধু ত্রিদেশীয় সিরিজের চিন্তায় এই ম্যাচ ভেসে যাওয়ায় বাংলাদেশের খুব একটা ক্ষতি হয়নি। পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে আছে মাশরাফিরা। দুই ম্যাচে এক জয় এবং এক টাই বাংলাদেশের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এক জয় এবং এক হার। আর আয়ারল্যান্ড দুই ম্যাচে খেলে এক হারের পাশাপাশি এই ম্যাচ থেকে পেয়েছে দুই পয়েন্ট।
 
বাংলাদেশ দলের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৬। আর এক ম্যাচে জিতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট পাঁচ। তারা আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে থেকে পেয়েছে একটি বোনাস পয়েন্ট। নেট রান রেটের হিসেবে বাংলাদেশ চেয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঢের এগিয়ে। টাইগারদের নেট রান রেট .৬৪৭। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের নেট রান রেট ১.৬৯৪। বোনাস ওই পয়েন্টটি যোগ হয়েছে উইন্ডিজের মূল পয়েন্টের সঙ্গে।    
 
ত্রিদেশীয় এই সিরিজে বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ আগামী ১৩ মে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচের পরে ১৫ মে আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে স্টিভ রোডসের শিষ্যরা। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল চারটি করে ম্যাচ খেলবে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল খেলবে ফাইনালে। এরপর বাংলাদেশ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে।
পথশিশু বিশ্বকাপে সেমিতে বাংলাদেশ
                                  

মোঃ রবিউল ইসলামঃ পথশিশুদের নিয়ে লন্ডনের স্ট্রিট চাইল্ড ইউনাইটেডের প্রথমবার আয়োজিত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ দল। অন্য তিন সেমিফাইনালিস্ট দক্ষিণ ভারত, তানজানিয়া ও ইংল্যান্ড। লর্ডসে আজ হবে দুই সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। প্রতিটি দলে ৪ জন করে মেয়ে ও ছেলে খেলছে। বাংলাদেশ দলে খেলছে সানিয়া মির্জা, জেসমিন আক্তার, স্বপ্না আক্তার, আরজু রহমান, রাসেল ইসলাম রুমেল, আবুল কাশেম, রুবেল ও নিজাম হোসেন। সিক্স-এ সাইড এ টুর্নামেন্টে রোববার ৪ ম্যাচের দুটিতে জিতে শেষ চার নিশ্চিত করে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশু দল। শেষ চার ওঠার পথে ইংল্যান্ড ও তানজানিয়ার কাছে হারলেও উত্তর ভারত ও নেপালের বিপক্ষে জিতে লাল-সবুজ ছেলেরা। বাংলাদেশ দল টুর্নামেন্ট শেষে আন্তর্জাতিক কংগ্রেস ও আর্ট ফেস্টিভ্যালে অংশ নেবে, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট মেম্বারদের বিশেষ আমন্ত্রণে যোগ দেবে হাউস অব কমন্সের নৈশ্যভোজে। এছাড়া সংসদ সদস্যদের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচেও অংশ নেবে তারা।

 

টাইগারদের জার্সিতে আবারও পরিবর্তন
                                  

মোঃ রবিউল ইসলাম : জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত সোমবার প্রকাশ্যে আসে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ জার্সি। ওই দিন মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তা উন্মোচন করেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। পরে সেই জার্সি গায়ে জড়িয়ে ফটোসেশন করেন ক্রিকেটাররা। এরপর থেকেই বিতর্ক তুঙ্গে।

এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জন্য দুটি জার্সি বেছে নেয় বিসিবি। একটি লাল, আরেকটি সবুজ। এ সবুজ রঙের জার্সি নিয়েই যত হট্টগোল। কারণ, তাতে দেশের পতাকার লাল-সবুজের মিশ্রণ ছিল না। অনেকে সেটিকে পাকিস্তানের জার্সি বলে অ্যাখ্যায়িত করেন। কেউ বলেন আয়ারল্যান্ডের জার্সি।

তীব্র সমালোচনার মুখে বাধ্য হয়ে বিশ্বকাপের জার্সিতে পরিবর্তন আনে বোর্ড। আইসিসির অনুমতি নিয়েই তা করা হয়। পরদিনই দেখা মেলে বাংলাদেশের নতুন বিশ্বকাপ জার্সির। তবে তাতেও কটাক্ষ থামেনি। ফলে আরেক দফা পরিবর্তন হলো এর ডিজাইন।

এর আগে গেল মঙ্গলবার নতুন জার্সির ডিজাইন দেখান বিসিবি মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন।

নতুন সেই জার্সিতে দেখা যায়, জার্সির হাতায় এবং বুকে লালের ছোঁয়া দেয়া হয়েছে। অন্যান্য ডিজাইনে খুব একটা পরিবর্তন আনা হয়নি।

দুই দিনের ব্যবধানে আরেক দফা পরিবর্তন হলো বাংলাদেশের বিশ্বকাপ জার্সির ডিজাইন। এতে দেখা যাচ্ছে, সবুজ জার্সির বুকে লাল রঙের ছোঁয়া আছে। তবে হাতা থেকে লাল শেডটি বাদ দেয়া হয়েছে। এছাড়া লাল জার্সিটির হাতায় এবং বুকে সবুজ রঙের ছোঁয়া আনা হয়েছে।

বড় স্বপ্ন নিয়েই শেষ বিশ্বকাপে মাশরাফি
                                  

মোঃ রবিউল ইসলাম” ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বিশ্বকাপকে বিদায় জানাবেন ইংল্যান্ডেই। আর নিজের শেষটা রাঙাতে  চান তিনি।  তার চোখ সেমিফাইনালে। তবে মুখে মুখে নয় মাঠেই সেই প্রমাণ রাখতে আহ্বান জানালেন তার সহযোদ্ধাদের। এমনকি জানিয়ে দিলেন বিশ্বকাপ জেতাও সম্ভব। তবে তার জন্য উজাড় করে দিতে হবে নিজেদের শতভাগ। দেশের মাটিতে টাইগারদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতির শেষ দিনে গতকাল স্বপ্ন ও বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন অধিনায়ক। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য দেশ ছাড়ার আগে তার কথোপকথনের মূল অংশ তুলে ধরা হলো-
অভিজ্ঞ হলে ভালো হবে তা নয়
অভিজ্ঞ ক্রিকেটার অনেক আছে এটা না বলে, এবারের দলটাকে ব্যালেন্স বলা যায়। যারা জুনিয়র খেলোয়াড় তাদেরও বেশির ভাগের ওয়ার্ল্ড কাপ খেলার অভিজ্ঞতা আছে।  তার মানে এই নয় যে, অভিজ্ঞতা থাকলে ভালো খেলা যাবে।

 

অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। 
সেমিফাইনাল অসম্ভব নয় 
অসম্ভব কোনো কিছুই  না,  তবে সেমিফাইনালে খেলা অনেক কঠিন।  এর আগে বিশ্বকাপের  গ্রুপ পর্বে একটা বড় দলকে হারাতে পারলে সম্ভাবনা তৈরি হতো। তবে এবার এখানে ৯টা ম্যাচ। যারা প্রত্যাশা করছে সেমিফাইনাল খেলবে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর অনেক সুযোগ থাকবে।  
আমার শেষ বিশ্বকাপ 
সম্ভবত না, এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। আলাদা করে নিজেকে তৈরি করার কিছু নেই।  আমার কাছে মনে হয় না আলাদা করে  তৈরি হয়ে ওখানে কিছু করতে পারবো। প্লেয়ার হিসেবে আমাকে পারফর্ম করতে হবে। অবশ্যই অধিনায়কত্বটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে। 
বোলারদের চ্যালেঞ্জ
ইংল্যান্ড কিংবা নিউজিল্যান্ডে দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোতে আমরা জানতাম যে ব্যাটিং করা কঠিন। আর বিশ্বকাপে আইসিসির চাওয়া থাকে ফ্ল্যাট উইকেট ও প্রচুর রানের। তাই সব দলের বোলারদের জন্যই চ্যালেঞ্জ। আমাদের কোনো রিস্ট স্পিনার নেই। এটা আরো বেশি কঠিন। কারণ অন্যান্য দলে যারা আছে তারা ব্রেক থ্রু দিয়ে দেয় মাঝখানে এসে। 
৩ শ’  করার সামর্থ্য আছে
রান করার সামর্থ্য যে আমাদের নেই তা বলবো না। অতীতে হয়তো এরকম রেকর্ড খুব একটা নেই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমরা ৩২৯ করে ছিলাম। এরকম যদি ব্যাটিং করি তাহলে পসিবল। অন্যান্য দল যেরকম নিয়মিত করছে। একটা কারণ হতে পারে, আমাদের হোম কন্ডিশনে এতো রান হয় না। অভ্যাসের একটা ব্যাপার আছে। তবে আমাদের ব্যাটিং অর্ডার অনেক অভিজ্ঞ।  কিন্তু ২২ গজে চাপটা সামাল দিতে হবে। 
পেসারদের ওপর আস্থা
শেষবার আমরা বিশ্বকাপ খেলেছিলাম অস্ট্রেলিয়ায়। পেসাররা ভালো করেছিল।  আমাদের ইংল্যান্ডেও ভালো করার সামর্থ্য আছে।  আমি সিউর, ওখানে যেকোনো দলের পেস বোলারদের ভালো করার সুযোগ বেশি থাকবে।  স্পিনারদের হেল্প ততটা থাকবে না। পেসাররা যদি শুরুটা ভালো করে জয়ের সুযোগ বেশি থাকবে। নির্দিষ্ট একজন নয়, পুরো পেস ইউনিটকে ভালো করতে হবে। আর কখনো কখনো ছোটখাটো চোট নিয়েই খেলতে হয়। এটা অভ্যাসের ব্যাপার। 
ফেসবুক থেকে দূরে থাকলে ভালো
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের ভালো কিংবা খারাপ ক্রিকেট খেলতে কখনো হেল্প করবে না।  আমার কাছে মনে হয় এটার দিকে নজর না রাখাই ভালো।  এটা আবার যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তো আমি আছি, সাকিব আছে  কিন্তু আমাদের ইফেক্ট করে না।  যাকে করে সেটা তার বুঝতে হবে।  এটার জন্য টিম রুলস জারি করার কিছু নেই। 
ব্যক্তিগত চাওয়া নেই
আমার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই।  ভালো হলে সবাই খুশি হবে।  আমারও ভালো লাগবে। বাড়তি প্রেসার আমি কখনো নিতে চাই না। শেষ বিশ্বকাপ খেলছি এখানে ভালো কিছু করে ফেলবো তা নয়, আমি ভাগ্যে বিশ্বাসী।  পুরো দলের ভাগ্যে যেটা আছে সেটাই হবে। পরিশ্রম করতে হবে। সেরা দল নিয়ে অনেকেই বিশ্বকাপ জেতেনি কিংবা সেমিফাইনালেও ওঠেনি। আমাদের ওপরে এরকম  কোনো চাপ নেই যে আমাদেরকে বিশ্বকাপ জিততে হবে, কিংবা সেমিফাইনালে উঠতে হবে। তবে আমরা ভালো খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। 
সেরা দল বলার কারণ নেই
সেরা দল, এইটা গুরুত্বপূর্ণ না। এশিয়া কাপে এই দল নিয়েই  ট্রফি জিততে পারিনি। শেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলেছিলাম, এই দলই ছিল। দুই বছর আগে এই দলই খেলেছে। নতুন করে এমন কিছু তাদের ভেতর আসেনি যে তারা এই মুহূর্তেই সেরা দল। তবে বিশ্বাস রাখি যে ওরা ভালো খেলবে ও ভালো রেজাল্টও করবে। কারণ আগেরবার যখন সৌম্য এসেছিল বিশ্বকাপে তখন কিন্তু একই রকম ছিল। প্রথমবার বিশ্বকাপে, এখন তো তার চার বছরের অভিজ্ঞতা। সম্প্রতি রান করেছে। বলবো না যে ফর্মে আছে। এক দুই ম্যাচে রান করলে তো ফর্ম আসে না। ধারাবাহিকতা থাকার পর বলা যায় ফর্ম আছে। যেটা তামিম, সাকিব, মুশফিক, রিয়াদদের আছে। 
৯টা ম্যাচই কঠিন
বিশ্বকাপে এক মাসে নয়টা ম্যাচ খেলতে হবে। আমার মনে হয় প্রতিটা দলের খারাপ ভালো দিয়ে যাবে। এটা খুব ইম্পরট্যান্ট যে নেক্সট ডে’তে কামব্যাক করা। এখানে প্রতিটা ম্যাচ আমাদের জন্য সমান যাবে না। যে ম্যাচ খারাপ যাবে পরের ম্যাচে যেন সেই রেশটা না থাকে। 
বিশ্বকাপ জেতা কঠিন, অসম্ভব নয়
বিশ্বকাপ জেতার কথাটা অবশ্যই মাথায় আছে। আবার কিছু নেতিবাচক ব্যাপারও আছে। হয়তোবা শেষ এশিয়া কাপ জিতলে এই ধরনের টুর্নামেন্ট কীভাবে জিততে হয় এটার অভ্যাস হতো। এর আগে সেমিফাইনাল, কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা হয়েছে। এশিয়া কাপে তিনবার ফাইনালে উঠেও ট্রফি জিততে পারিনি। বিশ্বকাপ জেতা খুব কঠিন,  কিন্তু অসম্ভব বলবো না।
তাসকিনকে নিয়ে ভাবনা
কোচ মনে করেছেন অতিরিক্ত কিছু পেসার সঙ্গে রাখা। যদি আল্লাহ না করুক কোনো সমস্যা হয়। যেহেতু তিন চারজনের চোট আছে। আয়ারল্যান্ডে গিয়েও পাঁচটা ম্যাচ খেলতে হবে যদি ফাইনালে উঠি। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে একজন ব্যাকআপে আছে আর ওই কন্ডিশনে গিয়ে  তৈরি আছে। 
সাব্বির-সৌম্য-লিটনরা স্বাধীন 
আপনারা দেখেছেন তামিমকে আমরা যে ভূমিকা দিয়েছি লম্বা সময় ব্যাট করার, ও লম্বা সময় ব্যাট করলে আমাদের রানটা বড় হয়। ও এখন ফোকাস করে ৪০ ওভার  ব্যাট করার।  তামিমকে যখন এই ভূমিকা দিচ্ছি তখন বাকিদের লিটন বা সৌম্যকে, সাব্বির ওই স্বাধীনতা দিতে হয় যাতে শটস খেলতে পারে। আপনি যদি দেখেন বীরেন্দর সেওয়াগ বা গিলক্রিস্টরা কীভাবে মারতো। কিন্তু ওদের ধারাবাহিকতা ছিল। ওদেরকেও এটা এডজাস্ট করতে হবে। ওরা যদি পারফর্ম করতে পারে তাহলে দলের জন্য ভালো হবে।  

নভোএয়ার কাপ গলফ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত
                                  

বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ

মানবাধিকার ডেস্ক:
চট্টগ্রামের শাহীন গলফ এন্ড কান্ট্রি ক্লাবে অনুষ্ঠিত নভোএয়ার কাপ গলফ টুর্নামেন্টের বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। গত ১৮ জানুয়ারী সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহীন গলফ ও কাউন্ট্রি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ও বিএএফ জহুরুল হক ঘাঁটির এয়ার অফিসার কমান্ডিং- এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ মফিদুর রহমান, বিএসপি, বিইউপি, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নভোএয়ার এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান।
প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথি বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। নভোএয়ার এর পৃষ্ঠপোষকতায় শাহীন গলফ এন্ড কান্ট্রি ক্লাব এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করে।
দুই দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টে৪টিবিভাগে প্রায় ১৯৩ গলফার অংশ নেন। টুর্নামেন্টের বিজয়ী হিসেবে ক্যাপ্টেন মনজুরুল হোসেন খান, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট আর এম সালমান আলী, আনোয়ার সাজ্জাদ লিপন, লেডিস উইনার হিসেবে মিসেস ফেরদৌসী সালেহ এবং জুনিয়র উইনার হিসেবে মাহিবা মাহাসিন উদ্দিন পুরস্কার গ্রহন করেন। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শাহীন গলফ এন্ড কান্ট্রি ক্লাবসহ অন্যান্য গলফ ক্লাব ও নভোএয়ার এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। নভোএয়ার সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই দেশের ক্রীড়ান্নোয়নে গলফ ছাড়াও ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, হকি খেলাসহ অন্যান্য খেলাধূলার উন্নয়নে কাজ করে আসছে। সূচনালগ্ন থেকেই নভোএয়ার বিভিন্ন গলফটুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। খবর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।

ফিরে দেখা : আন্তর্জাতিক ফুটবল ২০১৮
                                  




আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্বকাপের বছরে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনের বাকি সবই একপ্রকার গৌণ। সব মনোযোগ কেড়ে নেওয়া সেই বিশ্ব আসর বসেছিল এ বছর রাশিয়ায়, যেখানে ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে ফ্রান্স। এ দলটির হয়ে আগামীর বিশ্ব ফুটবলে দাপুটে একজন হয়ে ওঠার ছাপ রেখেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফ্রান্স এবং এক ফরাসির উত্থানের বছরে অনন্য এক নজির গড়েছেন লুকা মডরিচ। বিগত এক দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলের সেরার পুরস্কারটি ভাগাভাগি করে নিচ্ছিলেন লিওনেল মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এবার তাদের রাজত্বে হানা দিয়ে ব্যালন ডি`অর, ফিফা দ্য বেস্টসহ সেরার সব পুরস্কারই বাগিয়ে নিয়েছেন রিয়ালে খেলা ক্রোয়েশিয়া অধিনায়ক। এ ছাড়া বিশ্বকাপের ডামাডোলের মধ্যেও দল বদলিয়ে ঢেউ তুলেছিলেন রোনালদো, নয় বছরের অবস্থান শেষে রিয়াল ছেড়ে চলে গেছেন ইতালির জুভেন্তাসে। তারকা ফুটবলারদের মধ্যে মেসির জন্য বছরটি ছিল মিশ্র অনুভূতির। ক্লাবের হয়ে লা লীগা, কোপা দেল জিতেছেন, ছন্দে আছেন চলতি মৌসুমেও। কিন্তু আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ ভালো যায়নি, পরবর্তীতে আর জাতীয় দলের জার্সিতে ফেরেনওনি। নেইমার বছরের শুরুর দিকে ছিলেন চোটে, বিশ্বকাপে ফিরে ভালো খেললেও অতি অভিনয়ের কারণে হয়েছেন সমালোচিত। বছর শেষে তার নাম এখন অনেকটাই পেছনে। এ ছাড়া মে মাসে লিভারপুলকে হারিয়ে রিয়ালের হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা, ২২ বছর পর আর্সেন ওয়েঙ্গারের আর্সেনাল ত্যাগের ঘটনাও ছিল আলোচনার শীর্ষে। সেসব কিছুই ফিরে দেখা এ সালতামামি পর্বে ...

ব্যালন ডি`অর

বছরের শেষ পুরস্কার ব্যালন ডি`অরেও পড়েছে মডরিচের হাতের ছোঁয়া। লিওনেল মেসির তিনে না থাকা নিয়ে বিতর্ক হলেও তার পুরস্কার পাওয়া নিয়ে কোনো কথা হয়নি। ব্যালন ডি`অর ঘোষণার আগেই অনেকে ধরে নিয়েছিলেন এবার মডরিচে ভাঙবে পুরনো সব রীতি। বাস্তবে সেটাই হলো, প্যারিসের সব আলো কেড়ে নেন মডরিচ। হানা দেন রোনালদো-মেসির আধিপত্যে। ক্যারিয়ারে প্রথমবার এত বড় একটা পদক জেতেন লুকা। তালিকায় থাকা একঝাঁক নামিদামি তারকাকে পাশ কাটিয়ে যেন সোনার হরিণ শিকার করেন তিনি। প্রতিযোগিতায় ৭৫৩ পয়েন্ট নিয়ে এই পুরস্কার উঁচিয়ে ধরেন মডরিচ। তার পরে দুইয়ে থাকা ক্রিশ্চিয়ানোর পয়েন্ট ৪৭৮। তিন নম্বর অবস্থানে ছিলেন ফ্রান্সের অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ স্টার গ্রিজম্যান। তিনি পান ৪১৪ পয়েন্ট। বাকিদের পয়েন্ট প্রাপ্তির পাল্লাটা খুব একটা ভারী ছিল না।

 

ফিফার বর্ষসেরা

ফিফার বর্ষসেরা `দ্য বেস্ট` পুরস্কারও উঠে মডরিচের হাতে। এই ক্যাটাগরিতেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও মোহামেদ সালাহকে হারিয়ে সেরার তকমা নিজের দখলে নেন মডরিচ। সবচেয়ে বেশিবার বর্ষসেরা হওয়া মেসি ছিলেন তালিকার আরও পরে। ক্রোয়াটদের হয়ে এত বছর কেউ পারেনি এই কীর্তিতে নাম লেখাতে। তবে কেউ না পারলেও মডরিচ ঠিকই পেরেছেন। প্রথম কোনো ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলার হিসেবে ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কার জিতেছেন। মূলত রাশিয়া বিশ্বকাপে দেশকে ফাইনালে ওঠাতে চোখজুড়ানো পারফর্মের সুবাদে এই খেতাব পান তিনি। বিশ্বকাপের আগে যে ক্রোয়েশিয়াকে কেউ খুব একটা পাত্তা দেয়নি, রাখেনি ফেভারিটদের কাতারে। লুকার নেতৃত্বে তারাই কি-না বিশ্বকে চমকে দেন। লেখেন নতুন রূপকথার গল্প। কেবল দলনেতা হিসেবে নয়, পুরো মাঠে বল পায়ে প্রতিপক্ষকে বেশ ভুগিয়েছেন এই মডরিচ।

 

বছরজুড়ে মডরিচ

এমন একটা বছর আসবে ভাবিনি কখনও, বোধ হয় এটাই আমার ক্যারিয়ারের সেরা বছর। সারাজীবন মনে থাকবে ২০১৮ কে- সর্বশেষ খেতাব ব্যালন ডি`অর জেতার পর চোখেমুখে দারুণ রোমাঞ্চ নিয়ে এমন কথাই বলেছিলেন লুকা মডরিচ।

সত্যিই স্বপ্নের মতো একটা বছর ছিল। ক্লাব বলি আর জাতীয় দল- দুই অঙ্গনেই হিরো যে মডরিচ। পুরো বছরজুড়ে একের পর এক পুরস্কার হাতে তুলেছেন। ছোট-বড় মিলিয়ে যার সংখ্যা ১৫ ছুঁয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য পুরস্কারের মধ্যে ছিল- উয়েফা ও ফিফার বর্ষসেরা মুকুট, বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় এবং ব্যালন ডি`অর খেতাব।

তবু মডরিচের পারফর্ম হয়তো অনেকের কাছে দৃষ্টিগোচর হয়নি। যে কারণে তার এত এত পুরস্কার পাওয়া নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্নও করেছেন। তবে সাদা চোখে বিষয়টি একটু খটকা লাগলেও তিনি যে মাঝমাঠের কারিগর, অস্বীকার করার উপায় নেই। পুরো বছরে গোল করেছেন তিনটি। কেবল গোল করা নিয়ে সব কিছু বিচার-বিবেচনা হয় না বলেই মডরিচ এবারের দ্য বেস্ট। ক্রোয়েশিয়ান এই ফুটবল জাদুকরের মাঠের দক্ষতা নিয়ে বলতে গিয়ে নিজের এক নিবন্ধে উয়েফার টেকনিক্যাল টিমের ফুটবলবোদ্ধা জেরার্ড লিখেছিলেন, `মডরিচ আহামরি কোনো পরিশ্রম করে না। তবে সে খুবই তীক্ষষ্ট বুদ্ধিসম্পন্ন। মাঝমাঠে বল পায়ে চমৎকার সব নৈপুণ্য দিয়ে প্রতিপক্ষকে ভড়কে দিতে ভালোই পারে।`

 

উয়েফার বর্ষসেরা

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, অ্যান্তোনিও গ্রিজমনসহ ১০ তারকা খেলোয়াড় প্রাথমিক তালিকায় স্থান পান। সেখান থেকে সবাইকে পেছনে ফেলে নাম্বার ওয়ান পজিশন লুফে নেন মডরিচ। ৩১৩ পয়েন্ট নিয়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো জিতে নেন উয়েফার প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার পুরস্কার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা রোনালদো পান ২২৩ পয়েন্ট আর মিসরের মোহামেদ সালাহ ১৩৪। বাকিদের কেউই একশ`র ঘরে পা রাখতে পারেননি। যে পুরস্কার এতদিন ছিল মেসি-রোনালদোদের দখলে। সবচেয়ে বেশি- তিনবার জিতেছেন ক্রিশ্চিয়ানো। বার্সা স্টার মেসির শোকেসে গেছে দু`বার। একবার জেতেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। এবার সেখানে ভাগ বসান মডরিচ। এ বছর তার উয়েফা সেরা হওয়ার পেছনে ছিল রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জেতা। ইউরোপ সেরার মিশনে লস ব্লাঙ্কোসদের জার্সিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন তিনি।

 

 

 

 

বিশ্বকাপ ফুটবল রাশিয়া-২০১৮
                                  

খেলাধুলা
বিশ্বকাপ ফুটবল রাশিয়া-২০১৮
যে দেশে গরিবের গায়ে ঈেেদর পোশাক জোটেনা, সে দেশে উড়ে হাজারো ভিনদেশী পতাকা
॥ আছিয়া আক্তার স্বপ্না॥
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুটবল-প্রেমিদের মনে উঠে এসেছে আনন্দের জোয়ার । বিশ্বকাপ এলেই দেখা যায় বাংলাদেশের ফুটবল প্রেমিকদের তুফান । আকাশে উড়তে থাকে নানা রঙের ভিন্ন দেশের পতাকা ।
বাঙালিরা একটু বেশি সাংস্কৃতিক ও সাচ্ছন্দ্য প্রিয়। বিশ্বকাপ সামনে এলে দেখা যায় বিভিন্ন দলের সমর্থকরা পতাকা তৈরী করছেন তাদের নিজ জায়গা জমি বিক্রি করে। বাড়ির রঙ করছে প্রিয় সমর্থন দলের পতাকায় ।
কিন্তু কথা হচ্ছে এটা কতটা যুক্তি সংগত ?। যে দেশে গরিবরা সচ্ছলভাবে জীবন যাপন করতে অক্ষম, ঈদে নতুন পোশাক কেনাকাটা তাদের কাছে দুস্কর । সেই দেশের লোকেরা তাদের অর্থ ব্যয় করছে ভিন্ন দেশের পতাকা ক্রয়ে।
কিন্তু কেন ? বাংলাদেশ ছাড়া আমরা কি পারছি অন্য কোনো দেশে গিয়ে আমাদের দেশের পতাকা উওোলন করতে?
না, পারছিনা । তবে আমাদের কেন এতো জোয়ার ? মানব কল্যানে অসহায় ও হত দরীদ্রদের পাশে থেকে এমন কিছু করা উচিত যাতে বাংলাদেশে সচ্ছল ও উন্নত রাষ্ট্র হিসিবে পরিচিতি পায়, যাতে আমরা সম্মানের সহিত আমাদের পতাকা উত্তোলন করতে পারি।
রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ালেন ফুটবলার এমেকা
॥মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন॥
কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখতে গিয়েছেন বিশ্বকাপ ফুটবলে নাইজেরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করা এমেকা ইউজিগো। ৭ মে সকালে ঢাকার হাতিরপুলে পিকামলি সেন্টার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে রওয়ানা দেন তিনি।ওয়ার্ল্ড ফুটবলারস্ ফোরামের আহ্বায়ক ড. আব্দুল ওয়াদুদের আমন্ত্রণে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে দাঁড়াতে আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন এমেকা ইউজিগো।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের অর্থ সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহে তিনি মাঠে নেমেছেন । তার এই উদ্যোগের সঙ্গে রয়েছে ওয়ার্ল্ড ফুটবলারস ফোরাম। বিপন্ন ও মানবতার পাশে দাঁড়াতে সবার সহমর্মিতা নিতে কলকাতা হয়ে সড়ক পথে দৌড়ে ঢাকায় আসেন এমেকা। ঢাকা থেকে দৌড়ে কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্যাম্পে যাবেন তিনি।
দু’টি প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের কথাও জানান এমেকা। রোহিঙ্গাদের সাহায্য করতে ইতালির সাবেক ফুটবলার এবং নাইজেরিয়ার সাবেক ফুটবলারদের নিয়ে প্রতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের কথাও জানান এই নাইজেরিয়ান। এছাড়াও ভারতের মাটিতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য ফান্ড আয়োজনের কথা জানান এমেকা।

কচিকাঁচার ফুটবল উৎসব
                                  

প্রাণহীন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে হঠাৎ প্রাণের জোয়ার। শূন্য গ্যালারিতে লোকে  লোকারণ্য। দেশের আনাচে-কানাচে থেকে উঠে আসা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় মুখর এই স্টেডিয়াম। ফুটবলের প্রাণকেন্দ্রের সবুজের ময়দানে কচিকাঁচা ফুটবলারদের লড়াই। লক্ষাধিক বিদ্যালয় থেকে গতকাল শ্রেষ্ঠত্বের অর্জনের লড়াইয়ে নামে ে ছেলে ও মেয়েদের মিলিয়ে চার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। সেই উৎসবের মধ্যমণি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কোমলমতি শিশুদের গলায় মেডেল পরিয়ে দিয়েছেন ক্রীড়াপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বপ্নের কথা শুনিয়েছেন, `একদিন আমরা বিশ্বকাপে খেলব। `সেই স্বপ্ন   তো খুদে ফুটবলারদের ঘিরেই। ফুটবলের প্রতিভা অন্বেষণের জন্য গত আট বছর ধরে হয়ে আসছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এ টুর্নামেন্ট। ২০১০ সালে প্রথম শুরু হয়েছিল বঙ্গবন্ধু  গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট। পরের বছরই যুক্ত হয় বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে টানা তৃতীয়বার শিরোপা গেছে কক্সবাজারে। জমজমাট ফাইনালে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ভুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কক্সবাজার পেকুয়া উপজেলার পূর্ব উজানটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বঙ্গমাতা ফুটবলে হয়েছে নতুন চ্যাম্পিয়ন। রোমাঞ্চর ফাইনালটির নিষ্পত্তি হয় ভাগ্যের টাইব্রেকারে। যেখানে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার পাঁচরুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পেনাল্টি শুট আউটে ৫-৪ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয়ের উৎসবে মেতে ওঠে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার দোহারো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেয়েরা। চ্যাম্পিয়ন দল ট্রফি ও এক লাখ টাকা পুরস্কার পায়। রানার্সআপ ৭৫ হাজার ও তৃতীয় স্থান হওয়া স্কুল পেয়েছে ৫০ হাজার টাকা।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং বাফুফের সহযোগিতায় এবারের দুটি ফাইনালে ছিল নানান বিনোদন ও মনোজ্ঞ ডিসপ্লে। ছেলেদের এবং মেয়েদের ফাইনালের মাঝ বিরতিতে দেশের কৃষ্টি-কালচার ফুটিয়ে  তোলেন শিল্পীরা। আর প্রধানমন্ত্রী মাঠে আসেন  মেয়েদের ফাইনালের বিরতিতে। তিনি আসার পর তার সম্মানে মধ্য বিরতিতে বেজে ওঠে ` মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি` গানটি। সেই গানের তালে ডিসপ্লেতে অংশ  নেয় একদল শিক্ষার্থী। আর বঙ্গমাতা ফুটবলের  রোমাঞ্চকর ফাইনালটি উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। ফাইনাল শেষে বিজয়ী ও বিজিতদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন শেখ হাসিনা। উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনসহ আরও অনেকে।
হোক না প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফুটবল টুর্নামেন্ট। দুই চ্যাম্পিয়ন দলের উচ্চ্বাস দেখে অনেকেই বলবেন তারা অনেক বড় টুর্নামেন্টে জিতেছে। আসলে তো তাই। বঙ্গবন্ধু  গোল্ডকাপে ৬৪ হাজার ৬৮৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে সেরা কক্সবাজার পেকুয়া উপজেলার পূর্ব উজানটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর পুরো মাঠে চক্কর দেয় বালকরা; যা দেখার মতো ছিল। ৫০ মিনিটের লড়াইটি তাদের কাছে কোনো ব্যাপারই ছিল না। আর বঙ্গমাতায় ৬৪ হাজার ৬৮৩টি স্কুলকে থেকে সেরা হয় শৈলকূপা  দোহারো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। উৎসবে আরও এক ধাপ এগিয়ে তারা। মাঠের এক  কোনায় এসে কোমর দুলিয়ে নাচতে থাকে, যা  দেখে গ্যালারিতে আসা খুদে সমর্থক থেকে সব বয়সীরা বিনোদন পেয়েছেন। বিপরীতে পরাজিত দুটি স্কুলের ছেলেমেয়েরা হতাশাগ্রস্ত। প্রধানমন্ত্রী যখন অংশগ্রহণ করা সব স্কুলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তখন আনন্দ-বেদনার দৃশ্যটা একাকার হয়ে যায়। সবাই আনন্দে হাততালি দিতে থাকেন।



দুদকের শুভেচ্ছা দূত সাকিব
                                  


দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) শুভেচ্ছা দূত হলেন বিশ্ববিখ্যাত ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। জনগণকে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে দুর্নীতি থেকে মুক্ত থাকার প্রচারাভিযানে তার ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে এই নিয়োগ দিয়েছে দুদক। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে ক্রিকেটের তিন ফর্মেই বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব এবং দুদকের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। যদিও পাঁচ মাস আগেই দুদক তাকে শুভেচ্ছা দূত নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়।
দুদকের পক্ষে মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. জাফর ইকবাল এবং সাকিব নিজেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে সাকিব বলেন, ‘আমি দুদকের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে অত্যন্ত গর্বিত। এতে আমার প্রচেষ্টায় যদি একজন মানুষও দুর্নীতি থেকে দূরে থাকে, তবে আমি নিজেকে সফল মনে করব।’ জাতিকে দুর্নীতি মুক্ত রাখা ক্ষেত্রে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর রুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে দুদকের সঙ্গে আমি আমার যাত্রা শুরু করলাম।’ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘সাকিব আল হাসান তার বুদ্ধিমত্তা, সৃজনশীলতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হয়েছেন, যা তাকে দেশের গর্বিত সন্তান এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।’  তরুণ প্রজন্মকে সকল শক্তির উৎস হিসেবে বর্ণনা করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘সাকিবের মতো যুব সমাজ যদি ক্ষতিকর কাজের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তাহলে কার এত সাহস আছে যে দুর্নীতি করে?’ দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং দেশকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে  তোলার লক্ষ্যে দুর্নীতির রিুদ্ধে সর্বশক্তি ব্যবহার করার জন্য তার সহযোগিদের পরামর্শ দিয়েছে দুদক।


রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদ সিদ্দিকুরের
                                  

॥ মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর বর্বর নির্যাতনের প্রতিবাদে মিয়ানমার ওপেন গলফ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বাংলাদেশের গলফার সিদ্দিকুর রহমান। সিদ্দিকুর রহমান সাম্প্রতিক খেলে এসেছেন সিঙ্গাপুর ওপেনে। ভালো করতে পারেননি, ৪৯তম হয়েছেন প্রথম এশিয়ান ট্যুরে। এরপর তাঁর সূচিতে ছিল মিয়ানমারের পুন হাইয়াং গলফ ক্লাবে শুরু হওয়া এশিয়ান ট্যুরের ৭ লাখ ৫০ হাজার ইউএস ডলার প্রাইজমানির (৬  কোটি ২৫ লাখ টাকা) লিওপ্যালেস টোয়েন্টি ওয়ান মিয়ানমার ওপেন। কিন্তু মিয়ানমারের  রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়ন-নির্যাতনের প্রতিবাদে মিয়ানমারে না গিয়ে সিদ্দিকুর ঢাকায়  খেলছেন মাত্র ৬০ হাজার ইউএস ডলার (৫০ লাখ টাকা) প্রাইজমানির দ্বিতীয় স্তরের ত্রিপক্ষীয় (এডিটি, পিজিটিআই ও বিপিজিএ) টুর্নামেন্ট সিটি ব্যাংক-আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংক ঢাকা ওপেনে। ঢাকা ওপেনের প্রথম রাউন্ড শেষে ৪ শট কম  খেলে লিডারবোর্ডর দুইয়ে আছেন সিদ্দিকুর। পারের চেয়ে ৫ শট কম খেলে বাংলাদেশের শাখাওয়াত হোসেন সোহেল রয়েছেন শীর্ষে।  শেষ শটটিতে যখন বার্ডি করেন সিদ্দিকুর, হাততালি দিয়েছেন জনা বিশেক। দেশসেরা গলফার এতেও কম খুশি নন! এ বছরে যত বেশি পারেন এশিয়ান ট্যুরে  খেলবেন বলে ঠিক করেছেন সিদ্দিকুর। কিন্তু মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন আর গণহত্যা ছুঁয়ে গেছে তাঁকে। তাই গলফার সত্তার ওপরে উঠে একজন বাংলাদেশি হিসেবে এ ঘটনার প্রতিবাদ করলেন মিয়ানমারে গলফ  খেলতে না গিয়ে। কাল ঢাকা ওপেনের প্রথম রাউন্ড শেষে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে সিদ্দিকুর বলছিলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুর জন্যই মিয়ানমারে খেলতে গেলাম না। ওরা  রোহিঙ্গাদের ওপর যা করছে একজন বাংলাদেশি হিসেবে ওই ঘটনার প্রতিবাদ করেই  সেখানে যাইনি।’ গত তিন বছর এশিয়ান ট্যুরের টুর্নামেন্ট হয়েছে ঢাকায়। এবার এশিয়ান ট্যুরের আয়োজন করতে পারেনি গলফ ফেডারেশন। সুযোগটা কাজে লাগিয়ে বিপিজিএ (বাংলাদেশ প্রফেশনাল গলফার্স অ্যাসোসিয়েশন) আয়োজন করেছে ত্রিপক্ষীয় এই টুর্নামেন্ট। এশিয়ান ট্যুরের বড় তারকাদের এখানে সমাগম হয়নি। তবে মিথুন  পেরেরা, শঙ্কর দাস, সুজান সিং, দিগি¦জয় সিং, শামীম খানদের মতো পিজিটিএর সেরা গলফাররা এসেছেন। আর সিদ্দিকুর এতে অংশ  নেওয়ায় টুর্নামেন্টের আকর্ষণ একটু বেড়েছে। হাতের তালুর মতো চেনা কোর্সে সিদ্দিকুর ৫টি বার্ডি ও ১টি বগি করেছেন। প্রথম রাউন্ড শেষে সিদ্দিকুর দুইয়ে থাকলেও অখুশি নন, ‘সিঙ্গাপুরের সঙ্গে তুলনা করলে এই কোর্স দশ গুণ কঠিন। আমি ওখানে যে স্কোর করেছি সেই অনুযায়ী এখানে হয়নি। কিন্তু যা করেছি ঠিক আছে।’

সাফজয়ী ফুটবলারদের সংবর্ধনা প্রধানমন্ত্রীর
                                  

॥ মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥ বিজয়ের মাসে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবলে শিরোপা জয় করেছে বাংলাদেশের কিশোরীরা। চ্যাম্পিয়ন দলকে গণভবনে সংবর্ধনা দেন প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতের উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মো. সালাহউদ্দিন, যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা। গত মাসে কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল  স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ নারী দল।

আদালতের রায়ে গেইল নির্দোষ
                                  

॥ মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥

জাতীয় দল ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ক্রিস গেইল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রঙিন পোশাকের সিরিজ খেলে এসছেন বেশ কয়েকদিন হলো। বর্তমানে টেস্ট নিয়ে ব্যস্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ, গেইল অনেক বছর ধরে এই ফরম্যাটে খেলছেন না। ফ্রেঞ্চাইজি ভিত্তিক নামকরা টি-টোয়েন্টি লিগগুলোও হচ্ছে না কোথাও। তারপরও ক্রিস গেইল নামটা খবরের শিরোনামে।

স্বাভাবিকভাবেই খবরের কারণটা মাঠের নয়, মাঠের বাইরের অনেকদিন যাবত ব্যাট হাতে আগের সেই ‘খুনে গেইলে’র দেখা নেই। সেই কারণেই হয়তো মাঠের বাইরের বিতর্কগুলো একসাথে ছেকে ধরেছে ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং দানবকে! অস্ট্রেলিয়ার এক ক্রীড়া সাংবাদিককে লাইভে ডেটিংয়ের প্রস্তাব দিয়ে বড় বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছে গেইলকে। ‘ গেইলের চরিত্র এমনই’ বলে অনেকেই অতীত নিয়েও খুঁচিয়েছে সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ককে।

সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছিল নতুন এক বিতর্ক। অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়, থেরাপি নেওয়ার সময় এক নারী থেরাপিস্টকে তোয়ালে খুলে গোপনাঙ্গ দেখিয়েছিলেন গেইল। ঘটনা সত্য নয় দাবি করে এতে তার ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে এই মর্মে মামলা ঠুকে দিয়েছিলেন গেইল। অস্ট্রেলিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স গ্রুে পর কয়েকটি পত্রিকার বিরুদ্ধে করা সেই মামলায় জয় পেয়েছেন গেইল।

নিউসাউথ ওয়েলসের আদালত গেইলের পক্ষে রায় দিয়েছেন। ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত না হওয়াতে গেইলকে নির্দোষ হিসেবে রায় দিয়েছেন আদালত। আদালতের রায় শোনার পর গেইল বেজায় খুশি। ক্যারিবিয়ান দানব বলেছেন, ‘অবশেষে আমি খুবই আনন্দিত। এটা খুবই আবেগী একটি মুহূর্ত। আমি ভালো লোক। আমি দোষী নই।’

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে সাকিব
                                  


॥ মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥

রোহিঙ্গাদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানিয়েছেন সাকিব। মিয়ানমার থেকে শরণার্থী হয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ালেন সাকিব আল হাসান।

জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) শুভেচ্ছা দূত হিসেবে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে দেশের মানুষকে রোহিঙ্গাদের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

বিসিবির কাছ থেকে ছুটি নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট খেলছেন না সাকিব। ছুটির এই সময়টায় মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে দুর্বিষহ জীবনযাপনরত রোহিঙ্গাদের দেখতে গেলেন তিনি।

বিভিন্ন ক্যাম্প ঘুরে দেখে চলমান সংকট উত্তরণের জন্য সবার সহায়তা চেয়েছেন তিনি। ইউনিসেফের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট হওয়া এক ভিডিও বার্তায় সাকিব আল হাসান বলেছেন, ‘আমি এখন এই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আছি। ইউনিসেফের সঙ্গে এসেছি। পুরো জায়গাটা ঘুরে দেখেছি, দেখেছি তাদের দুর্বিষহ জীবনযাপনের অবস্থা। আমি চাই আপনারা সবাই সাহায্য করুন।’

রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রমেও অংশ নিয়েছেন সাকিব।

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে নারী ও শিশুর সংখ্যা অনেক বেশি। এ জন্য আপনাদের সাহায্য প্রয়োজন। সাহায্য করতে ইউনিসেফের ওয়েবসাইটে গিয়ে ডোনেট বাটনে ক্লিক করুন ও সাহায্য করুন।’

উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে একটি পুলিশ পোস্টে সহিংসতার পর থেকেই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হয়। হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে আগুনসহ নানা নির্যাতনের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিচ্ছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। জাতিসংঘের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৩০ হাজার মানুষ বাংলাদেশে এসেছে। তবে স্থানীয় সূত্রমতে এই সংখ্যা আরও বেশি।


   Page 1 of 3
     খেলাধুলা
ক্রিকেটে ভিন্ন বাংলাদেশকে দেখবে বিশ্ব’
.............................................................................................
ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
.............................................................................................
ভয়ে দেশে ফিরছেন না প্রথম ইরানি নারী বক্সার
.............................................................................................
বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের ম্যাচ পরিত্যক্ত: পয়েন্ট ভাগাভাগি
.............................................................................................
পথশিশু বিশ্বকাপে সেমিতে বাংলাদেশ
.............................................................................................
টাইগারদের জার্সিতে আবারও পরিবর্তন
.............................................................................................
বড় স্বপ্ন নিয়েই শেষ বিশ্বকাপে মাশরাফি
.............................................................................................
নভোএয়ার কাপ গলফ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
ফিরে দেখা : আন্তর্জাতিক ফুটবল ২০১৮
.............................................................................................
বিশ্বকাপ ফুটবল রাশিয়া-২০১৮
.............................................................................................
কচিকাঁচার ফুটবল উৎসব
.............................................................................................
দুদকের শুভেচ্ছা দূত সাকিব
.............................................................................................
রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদ সিদ্দিকুরের
.............................................................................................
সাফজয়ী ফুটবলারদের সংবর্ধনা প্রধানমন্ত্রীর
.............................................................................................
আদালতের রায়ে গেইল নির্দোষ
.............................................................................................
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে সাকিব
.............................................................................................
শুরুতেই ফিরে গেছেন টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল
.............................................................................................
জবান রাখলেন মাশরাফি
.............................................................................................
সিরিজ জয়ে টাইগারদের দরকার ২৮১
.............................................................................................
টাইগারদের টার্গেট ৪৫৯
.............................................................................................
প্রথম দিনের ৪০ ওভারে দেড়’শ করলো বাংলাদেশ
.............................................................................................
টাইগারদের হারিয়ে ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় কিউইরা
.............................................................................................
সম্মাননা পেলেন মার্কেন্টাইল ব্যাংকের এমডি
.............................................................................................
সৌদি আরবে শাখা খোলার অনুমোদন পেয়েছে এসআইবিএল ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক
.............................................................................................
ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্রাইডাল মেলা
.............................................................................................
২০ হাজার গ্রামের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে ইসলামী ব্যাংক
.............................................................................................
জাতীয় সংসদে ওঠছে ২ জুন আসছে ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার বাজেট
.............................................................................................
দাম বাড়ল ছোলা-চিনি-রসুনের রমযানকে ঘিরে তৎপর অসাধূ ব্যবসায়ীরা
.............................................................................................
প্রাইম ব্যাংকের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
ইসলামী ব্যাংকের সভা অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
দুদিনের ডেনিম এক্সপো শুরু বাংলাদেশের ডেনিম কাপড় ও পোশাকে বৈচিত্র্য বাড়ছে
.............................................................................................
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
রানার মোটরস লিমিটেডের ডিলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

Editor & Publisher: Rtn. Md Reaz Uddin
Corporate Office
53,Modern mansion(8th floor),Motijheel C/A, Dhaka
E-mail:manabadhikarkhabar34@gmail.com,manabadhikarkhabar34@yahoo.com,
Tel:+88-02-9585139
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-9585140
    2015 @ All Right Reserved By manabadhikarkhabar.com    সম্পাদকীয়    Adviser List

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]