| বাংলার জন্য ক্লিক করুন

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   খেলাধুলা -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড

মূল ম্যাচের নির্ধারিত ১০০ ওভারের খেলায় পিছিয়ে ছিল না কেউই। আগে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ডের করা ২৪১ রানের জবাবে, নিজেদের ৫০ ওভার শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহও দাঁড়ায় ঠিক ২৪১ রানই। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টাই হয় ফাইনাল ম্যাচ এবং শিরোপা নির্ধারণের জন্য ম্যাচ নেয়া হয় সুপার ওভারে। 

যেখানে মুনসিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন কিউই অলরাউন্ডার জিমি নিশাম। বাঁহাতি কিউই পেসার ট্রেন্ট বোল্টের ওভারে বাটলার ও স্টোকস মিলে করেছিলেন ১৫ রান। পরে ইংল্যান্ডের পক্ষে বল হাতে আসেন জোফরা আর্চার। সে ওভারের ৫ বলেই ১৩ রান করে ফেলেন নিশাম। শেষ বলে ১ রান নিতে সক্ষম হন গাপটিল। 

ফলে টাই হয় সুপার ওভারও। কিন্তু মূল ম্যাচে বেশি বাউন্ডারি হাঁকানোয় প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। ম্যাচে আগে ব্যাট করা নিউজিল্যান্ড ১৪টি চার ও ২টি ছক্কায় মোট বাউন্ডারি পায় ১৬টি। অন্যদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২২টি চারের সঙ্গে ২টি ছয় মারে ইংল্যান্ড। যে কারণে সুপার ওভারের নিয়মানুযায়ী চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। 

নিয়মানুযায়ী মূল ম্যাচে পরে ব্যাটিং করা ইংল্যান্ডকে সুপার ওভারে দেয়া হয় আগে ৬টি বল খেলতে। স্বাগতিকদের পক্ষে আসেন ম্যাচের দুই সফল ব্যাটসম্যান বেন স্টোকস এবং জস বাটলার। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে বল হাতে তুলে নেন ট্রেন্ট বোল্ট। 

সুপার ওভারের প্রথম বলে স্ট্রাইক নেন স্টোকস। বোল্টের করা প্রথম বলে তিনি নেন ৩ রান। দ্বিতীয় বলে বাটলারের ব্যাট থেকে আসে ১ রান। তৃতীয় ডেলিভারিতে স্টোকস ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ৪ মারলে রান গিয়ে পৌঁছায় আটে। 

চতুর্থ বলে অফসাইডের লো ফুলটস বলে ১ রান নেন স্টোকস। স্ট্রাইক পেয়ে পঞ্চম বলে ২ রান নেন বাটলার এবং শেষ বলে লো ফুলটস ডেলিভারিতে ৪ মেরে দলীয় সংগ্রহকে ১৫তে নিয়ে যান এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

ফলে নিউজিল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য ৬ বলে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬ রানের। যা তাড়া করতে কিউইদের পক্ষে নামেন মার্টিন গাপটিল ও জিমি নিশাম। অন্যদিকে ইংলিশদের পক্ষে বল হাতে তুলে নেন গতি তারকা জোফরা আর্চার। যিনি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১ ওভারে সর্বোচ্চ খরচ করেছেন ১৫ রান। এবার ইংল্যান্ডের হয়ে শিরোপা জিততে তাকে ডিফেন্ড করতে হতো ১৬ রান। 

ওভারের প্রথম বলে স্ট্রাইক নেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার জিমি নিশাম। অতিরিক্ত চাপে শুরুর বলটি নিশামের ব্যাট থেকে অনেক দূরে করে বসেন আর্চার। আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা দুই হাত প্রসারিত করে জানিয়ে দেন এট ই ওয়াইড বল। ফলে ৬ বলে ১৫ রানে নেমে আসে সমীকরণ। 

পরের বলটিই ইয়র্কার করেন আর্চার। তবু সে বল থেকে ২ রান নিতে সক্ষম হন নিশাম। ৫ বলে বাকি থাকে ১৩ রান। দ্বিতীয় বলেই বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে বসেন নিশাম। ২ বলে ৯ রান করে ফেলায় শেষের ৪ বলে কিউইদের বাকি থাকে ৭ রান। 

ছন্দে থাকা নিশাম তৃতীয় বলে নেন আরও ২ রান। সমীকরণ নেমে আসে ৩ বলে ৫ রানে। চাপের মুখে চতুর্থ বলটি করেন স্লোয়ার। যে বলে আবার ২ রান নেন নিশাম। কিন্তু শেষ ২ বল থেকে নিশাম ও গাপটিল মিলে ২ রানের বেশি করতে পারেননি। ফলে সুপার ওভারও টাই হয় এবং শিরোপা উঠে যায় ইংল্যান্ডের ট্রফি কেসে। 

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড
                                  

মূল ম্যাচের নির্ধারিত ১০০ ওভারের খেলায় পিছিয়ে ছিল না কেউই। আগে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ডের করা ২৪১ রানের জবাবে, নিজেদের ৫০ ওভার শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহও দাঁড়ায় ঠিক ২৪১ রানই। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টাই হয় ফাইনাল ম্যাচ এবং শিরোপা নির্ধারণের জন্য ম্যাচ নেয়া হয় সুপার ওভারে। 

যেখানে মুনসিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন কিউই অলরাউন্ডার জিমি নিশাম। বাঁহাতি কিউই পেসার ট্রেন্ট বোল্টের ওভারে বাটলার ও স্টোকস মিলে করেছিলেন ১৫ রান। পরে ইংল্যান্ডের পক্ষে বল হাতে আসেন জোফরা আর্চার। সে ওভারের ৫ বলেই ১৩ রান করে ফেলেন নিশাম। শেষ বলে ১ রান নিতে সক্ষম হন গাপটিল। 

ফলে টাই হয় সুপার ওভারও। কিন্তু মূল ম্যাচে বেশি বাউন্ডারি হাঁকানোয় প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। ম্যাচে আগে ব্যাট করা নিউজিল্যান্ড ১৪টি চার ও ২টি ছক্কায় মোট বাউন্ডারি পায় ১৬টি। অন্যদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২২টি চারের সঙ্গে ২টি ছয় মারে ইংল্যান্ড। যে কারণে সুপার ওভারের নিয়মানুযায়ী চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। 

নিয়মানুযায়ী মূল ম্যাচে পরে ব্যাটিং করা ইংল্যান্ডকে সুপার ওভারে দেয়া হয় আগে ৬টি বল খেলতে। স্বাগতিকদের পক্ষে আসেন ম্যাচের দুই সফল ব্যাটসম্যান বেন স্টোকস এবং জস বাটলার। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে বল হাতে তুলে নেন ট্রেন্ট বোল্ট। 

সুপার ওভারের প্রথম বলে স্ট্রাইক নেন স্টোকস। বোল্টের করা প্রথম বলে তিনি নেন ৩ রান। দ্বিতীয় বলে বাটলারের ব্যাট থেকে আসে ১ রান। তৃতীয় ডেলিভারিতে স্টোকস ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ৪ মারলে রান গিয়ে পৌঁছায় আটে। 

চতুর্থ বলে অফসাইডের লো ফুলটস বলে ১ রান নেন স্টোকস। স্ট্রাইক পেয়ে পঞ্চম বলে ২ রান নেন বাটলার এবং শেষ বলে লো ফুলটস ডেলিভারিতে ৪ মেরে দলীয় সংগ্রহকে ১৫তে নিয়ে যান এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

ফলে নিউজিল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য ৬ বলে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬ রানের। যা তাড়া করতে কিউইদের পক্ষে নামেন মার্টিন গাপটিল ও জিমি নিশাম। অন্যদিকে ইংলিশদের পক্ষে বল হাতে তুলে নেন গতি তারকা জোফরা আর্চার। যিনি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১ ওভারে সর্বোচ্চ খরচ করেছেন ১৫ রান। এবার ইংল্যান্ডের হয়ে শিরোপা জিততে তাকে ডিফেন্ড করতে হতো ১৬ রান। 

ওভারের প্রথম বলে স্ট্রাইক নেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার জিমি নিশাম। অতিরিক্ত চাপে শুরুর বলটি নিশামের ব্যাট থেকে অনেক দূরে করে বসেন আর্চার। আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা দুই হাত প্রসারিত করে জানিয়ে দেন এট ই ওয়াইড বল। ফলে ৬ বলে ১৫ রানে নেমে আসে সমীকরণ। 

পরের বলটিই ইয়র্কার করেন আর্চার। তবু সে বল থেকে ২ রান নিতে সক্ষম হন নিশাম। ৫ বলে বাকি থাকে ১৩ রান। দ্বিতীয় বলেই বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে বসেন নিশাম। ২ বলে ৯ রান করে ফেলায় শেষের ৪ বলে কিউইদের বাকি থাকে ৭ রান। 

ছন্দে থাকা নিশাম তৃতীয় বলে নেন আরও ২ রান। সমীকরণ নেমে আসে ৩ বলে ৫ রানে। চাপের মুখে চতুর্থ বলটি করেন স্লোয়ার। যে বলে আবার ২ রান নেন নিশাম। কিন্তু শেষ ২ বল থেকে নিশাম ও গাপটিল মিলে ২ রানের বেশি করতে পারেননি। ফলে সুপার ওভারও টাই হয় এবং শিরোপা উঠে যায় ইংল্যান্ডের ট্রফি কেসে। 

বাংলাদেশের যে তিন ভুলে সেমিতে খেলা হলো না
                                  

 

মোঃ রবিউল ইসলাম: বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য ২০১৫ অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে। সেবার ইংল্যান্ডের মত দলকে পেছনে ফেলে শেষ আটে খেলেছিল বাংলাদেশ। ২০০৭ বিশ্বকাপেও শেষ আটে খেলেছিল টাইগাররা। তবে সেবার ছিল সুপার এইট। ২০১৫ সালে ছিল কোয়ার্টার ফাইনাল।

এবার বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল সেমিফাইনাল। ১৯৯২ সালের ফরম্যাট ফিরিয়ে আনার কারণে যদিও সেমিতে খেলার লক্ষ্যটা ছিল খুব বড়। কারণ, গ্রুপ পর্বেই খেলতে হবে ৯টি ম্যাচ। এত লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে সত্যি সত্যি সেমিতে খেলা যাবে কি না তা নিয়ে ছিল যথেষ্ট সন্দেহ-সংশয়।

তবে, সেমিতে খেলার জন্য যে পরিকল্পনা ছিল, তার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল প্রথম থেকেই। লন্ডনের দ্য ওভালে প্রথম ম্যাচেই ৩৩০ রানের বিশাল স্কোর গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মত শক্তিশালী দলকে হারিয়ে দিয়েছিল ২১ রানের ব্যবধানে। সূচনাটা এমন উড়ন্ত হবে, ভাততে পারেনি কেউ। তবে টাইগারদের এমন সূচনায় নড়ে-চড়ে বসে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। সেমিফাইনালে খেলা স্বপ্নটা আরও বড় হতে থাকে তখন থেকে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনাল খেলতে পারছে না বাংলাদেশ। ৬ষ্ঠ দল হিসেবে টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে ভারতের কাছে ২৮ রানে হারের পর। ৫ম দল হিসেবে সেমির আগে বিদায় নিশ্চিত হচ্ছে পাকিস্তানের। যার আনুষ্ঠানিকতা হয়ে যাবে আগামীকাল। সেমিফাইনাল খেলবে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ড।

কেন দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও সেমিফাইনাল খেলতে পারলো না বাংলাদেশ? কেন হতাশা সঙ্গী করে ফিরে যেতে হচ্ছে? বাংলাদেশ দলের প্রাণভোমরা সাকিব আল হাসান জানিয়ে দিয়েছেন, দলের ক্রিকেটারদের আরেকটু মরিয়া হয়ে চেষ্টা করা উচিৎ ছিল।

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে তিনি এক টিভির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমরা যথেষ্ট ভালো খেলেছি বটে; কিন্তু কেবল যথেষ্ট ভালোই আমরা খেলতে চাইনি। আমরা চেয়েছি জিততে। সেটা সম্ভব হয়নি। এত বড় টুর্নামেন্টে যে আশা নিয়ে আমরা এসেছিলাম তা পূরণ করতে পারলাম না, সেদিক থেকে হতাশাজনক। যদি ছোট ছোট কিছু জিনিস ঠিক করতে পারতাম, তাহলে হয়ত ফল ভিন্ন হত।’

সাকিবের ভাষায় সেই ছোট ছোট বিষয়গুলোই এখন অনেক বড় হয়ে গেছে বাংলাদেশের জন্য। ছোট ছোট ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে অন্তত কয়েকটি নিশ্চিত জয়ের ম্যাচে। সেই ভুলগুলো না হলে ম্যাচের ফল ভিন্নও হতে পারতো।

তবে, বাংলাদেশের সেমিফাইনালে খেলতে না পারার পেছনে ছোট ছোট নয়, তিনটি বড় ভুলই সবচেয়ে বেশি দায়ী। ওই তিনটি বড় ভুল যদি না হতো, তাহলে হয়তো বা আজ পয়েন্টে টেবিলের অবস্থা হতো অন্যরকম। এমনকি হয়তো বা বাংলাদেশ তৃতীয় কিংবা দ্বিতীয় সেরা দল হিসেবেই সেমিফাইনালে নাম লিখে ফেলতে পারতো।

কি সেই তিন ভুল, যে গুলোর কারণে সেমিফাইনালে খেলা সম্ভব হলো না বাংলাদেশের? আসুন জেনে নেয়া যাক।

 

১. নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মুশফিকের ‘বাচ্চাসূলভ’ রানআউট মিস

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ একেবারে শেষ মুহূর্তে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে গিয়েছিল মাত্র ২ উইকেটের ব্যবধানে। ২৪৪ রান করেও দারুণ লড়াই করেছিল টাইগাররা।

কিন্তু ওই ম্যাচে ২৪৪ রান নিয়েও জিততে পারতো বাংলাদেশ। যদি না ইনিংসের দ্বাদশ ওভারে ৮ রানে থাকা কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসকে ‘বাচ্চাসূলভ’ ভুল করে মুশফিকুর রহীম রানআউটটা মিস কর না করতেন! 

দ্বাদশ ওভারের দ্বিতীয় বলের ঘটনা। সদ্যই উইকেটে আসা রস টেলরের ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে বিপদে পড়েন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। মিড অফ থেকে তামিম ইকবালের থ্রো ধরে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহীম যখন উইকেট ভেঙে দেন, তখনো পপিং ক্রিজের অনেক বাইরে উইলিয়ামসন।

কিন্তু উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহীম করে বসেন এক অমার্জনীয় ভুল। তামিমের করা থ্রোটি সরাসরি ছিলো উইকেট বরাবরই। কিন্তু বাড়তি সতর্কতা নিতে গিয়ে স্ট্যাম্পের সামনে এসে বল ধরে উইকেট ভাঙতে যান মুশফিক। ঠিক তখন তার হাতে লেগে আগেই পড়ে যায় বেলস। যে কারণে আর আউট হলেন না উইলিয়ামসন। শেষ পর্যন্ত তিনি করেন ৪০ রান।

২. ডেভিড ওয়ার্নারের ক্যাচ মিস সাব্বিরের

অস্ট্রেলিয়ার কাছে বাংলাদেশে হেরেছিল ৪৮ রানের ব্যবধানে। অসিদের করা ৩৮১ রানের বিশাল ইনিংসের জবাবে বাংলাদেশ করেছিল রেকর্ড ৩৩৩ রান। রেকর্ড গড়েও জিততে না পারার আক্ষেপ বাংলাদেশ সমর্থকদের মনে। কিন্তু সেই ম্যাচে জিততেও পারতো বাংলাদেশ। একটা বড় ভুলের কারণেই ম্যাচটাতে এত ভালো খেলেও জেতা হলো না।

ওই ম্যাচে ডেভিড ওয়ার্নার ১০ রানের মাথায় যে জীবন পেয়েছিলেন সাব্বির রহমানের কল্যানে, সেই জীবন দিয়ে বাংলাদেশকেই হারিয়ে দিলেন তিনি।

 

ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই মাশরাফি বিন মর্তুজার বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। সেখানে ফিল্ডার ছিলেন সাব্বির রহমান। কিন্তু সেই ক্যাচটি তিনি তালুবন্দী করতে পারেননি। এই এক ভুলেই ব্যক্তিগত ১০ রানের মাথায় জীবন পেয়ে যান অসি ওপেনার ওয়ার্নার।

সেই জীবন কাজে লাগিয়েই দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। শুধু সেঞ্চুরি করেই ক্ষান্ত হননি। নিজের ইনিংসকে নিয়ে গেছেন ১৬৬ রানে। অর্থ্যাৎ, সাব্বিরের এক ভুলে ১৫৬ রান বোনাস পেয়েছেন ওয়ার্নার এবং অস্ট্রেলিয়া। যদি এই অসি ওপেনার ১০ রানেই আউট হতেন, তাহলে শেষ পর্যন্ত জিততেও পারতো বাংলাদেশ।

৩. ১০ রানে রোহিত শর্মাকে জীবন দিলেন তামিম ইকবাল

ভারতের বিপক্ষে ডু-অর-ডাই ম্যাচ এজবাস্টনে। জিতলে টিকে থাকবে সেমির স্বপ্ন। হারলেই বিদায়। এমন সমীকরণের ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নামা ভারতকে শুরুতেই চেপে ধরতে পারতো বাংলাদেশ।

ভারতীয় ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন রোহিত শর্মা। ওই সময় তিনি ছিলেন ১০ রানে। মোস্তাফিজুর রহমানের শর্ট ডেলিভারিটি স্কয়ার লেগের দিকে উড়িয়ে মেরেছিলেন রোহিত। সেখানে ফিল্ডার ছিলেন তামিম ইকবাল। দৌড়ে গিয়ে সেটি একদম হাতেও পেয়ে গিয়েছিলেন; কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে হাত ফসকে পড়ে যায় ক্যাচটি।

 

১০ রানের মাথায় জীবন পেয়ে গেলেন রোহিত। তার মতো ভয়ংকর একজন ব্যাটসম্যানকে জীবন দেয়া বাংলাদেশ দলকে কতটা ভোগালো, সেটা ম্যাচের মাঝপথেই টের পেয়ে যায় টাইগাররা। ১০৪ রান করে আউট হন রোহিত। ৯৪ রান পেলেন তিনি বোনাস। আর বাংলাদেশ হারলো মাত্র ২৮ রানে। বোঝাই যাচ্ছে, কত বড় ভুলটা করেছিলেন তামিম ইকবাল। নিশ্চিত ক্যাচ নয়, ম্যাচটাই তিনি ফেলে দিয়েছিলেন ওই সময়।

এই তিনটি বড় ভুলের কারণে তিনটি ম্যাচ জেতা হলো না বাংলাদেশের। যদি বড় এই তিন ভুলের সঙ্গে ছোট ছোট ভুলগুলো না করতো টাইগাররা, তাহলে নিশ্চিত ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের আগেই সেমিফাইনালে নাম লেখাতো বাংলাদেশ।

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ অনেক ভালো করছে। ভবিষ্যতেও ভালো করবে। কিন্তু ছোট ছোট এসব ভুলের সঙ্গে মাঝে-মধ্যে বড় দু’একটি ভুল থেকে যতদিন বের হতে না পারবে বাংলাদেশ, ততদিন সত্যিকার বড় দল হয়ে উঠতে পারবে না। উন্নতিটাও খুব বেশি চোখে পড়বে না।

ক্রীড়া প্রতিবেদকঃ মানবাধিকার খবর

আফগানদের উড়িয়ে টাইগারদের দাপুটে জয়
                                  
                             টাইগারদের দাপুটে জয়
 
মোঃ রবিউল ইসলাম: সাকিব আল হাসানের অসাধারণ নৈপুণ্যে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৬২ রানের ব্যবধানে। ব্যাটে-বলে ম্যাচের অবিসংবাদিত নায়ক সাকিব আল হাসানই। যিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে একই ম্যাচে ৫০ রান ও ৫ উইকেট নেয়ার রেকর্ড গড়েছেন।
 
আগে ব্যাট করে মুশফিকুর রহীমের ৮৩ ও সাকিব আল হাসানের ৫১ রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ পায় ২৬২ রানের লড়াকু পুঁজি। যা কি-না ঢের প্রমাণিত হয় আফগানদের জন্য। সাকিবের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে আফগানিস্তান অলআউট হয় ২০০ রানে। টাইগাররা জয় পায় ৬২ রানের ব্যবধানে।
 
লক্ষ্য ২৬৩ রানের। এ রান তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তানের ওপেনিং জুটি চোখ রাঙাচ্ছিল। পাওয়ার প্লে`র প্রথম ১০ ওভার নির্বিঘ্নেই কাটিয়ে দেন গুলবাদিন নাইব আর রহমত শাহ। ১১তম ওভারে এসে বল হাতে নিয়েই এই জুটিটা ভেঙে দেন সাকিব আল হাসান।
 
সাকিবের বলটি মিডঅনে তুলে মারতে গিয়েছিলেন রহমত শাহ। জায়গা থেকে কিছুটা পেছনে সরে গিয়ে ক্যাচ নেন তামিম ইকবাল। ৩৫ বলে আফগান ওপেনার করেন ২৪ রান।
 
পরের ১০ ওভারে ৩০ রানের জুটি হাসমতউল্লাহ শহীদি আর গুলবাদিন নাইবের। ধুঁকতে ধুঁকতে এগিয়ে চলা হাসমতউল্লাহ শহীদি ২১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে রানআউটের হাত থেকে বেঁচে যান। তবে মোসাদ্দেকের ওভারের পঞ্চম বলেই পড়েন স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে। পা-টা একটু বেরিয়ে এসেছিল শহীদির। মুশফিক চোখের পলকে স্ট্যাম্পিং করে দেন। ৩১ বল খেলে শহীদি তখন ১১ রানে।
 
নেতৃত্বের ঝলক দেখালেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ওপেনিংয়ে নেমে গুলবাদিন নাইব যেন মাটি কামড়ে ধরেছিলেন। শেষ পর্যন্ত মাশরাফির দুর্দান্ত ক্যাপ্টেনসিকে আটকা পড়ে গেলেন আফগান অধিনায়ক।
 
শর্ট মিড অফে লিটনকে নিয়ে এসেছিলেন মাশরাফি। সেখানেই ক্যাচ দেন নাইব। চোখের পলকে সেই ক্যাচটি নিয়ে নেন লিটন। আফগান অধিনায়ক ৭৫ বলে ৪৭ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন এক বুক হতাশা নিয়ে।
 
ওই ওভারেই শূন্য রানে মোহাম্মদ নবীকে বোল্ড করেন সাকিব। বাংলাদেশের সহ-অধিনায়কের করা আর্মার ডেলিভারিটি বুঝতেই পারেননি নবী। ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গোলে তা সরাসরি আঘাত হানে স্ট্যাম্পে। রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরে যান নবী।
 
অনেকক্ষণ ধরে উইকেটে থিতু হয়েছিলেন সাবেক অধিনায়ক আসগর আফগান। রানরেটের চাপটাও টের পাচ্ছিলেন ভালোভাবেই। তাই তো ইনিংসের ৩৩তম সাকিবের বলকে মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে বসেন তিনি।
 
ফল হয় যা হওয়ার তাই। জায়গামতো দাঁড়িয়ে থাকা সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচে পরিণত হন আসগর। আউট হওয়ার আগে ৩৮ বল থেকে ২০ রান করেন তিনি। এরপর সরাসরি থ্রোতে উইকেটরক্ষক ইকরাম আলি খিলকে সাজঘরে ফেরত পাঠান লিটন দাস।
 
তবে সপ্তম উইকেটে পাল্টা প্রতিরোধের আভাস দেন সামিউল্লাহ শিনওয়ারি ও নাজিবউল্লাহ জাদরান। দুজন মিলে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গড়ে ফেলেন ৫৬ রানের জুটি। তাদের প্রতিরোধ ভাঙতে ফের বল হাতে হাজির হন সাকিব।
 
ইনিংসের ৪৩তম ওভারে সাকিবকে উড়িয়ে মারার চেষ্টা উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন নাজিবউল্লাহ। সুযোগের অপেক্ষায় থাকা মুশফিক বল গ্লাভসে জমিয়ে উইকেট ভাঙতে সময় নেননি একদমই।
 
এ উইকেটের সঙ্গে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে পাঁচ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখান সাকিব। একইসঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে একই ম্যাচে ফিফটি ও পাঁচ উইকেট নিলেন সাকিব। তার আগে ২০১১ সালের বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এ কৃতিত্ব দেখান যুবরাজ সিং।
 
সাকিবের বোলিং স্পেল শেষ হয় ১০ ওভারে এক মেইডেনের সহায়তায় ২৯ রান খরচায়। মাঝে রশিদ খানকে মাশরাফির হাতে ক্যাচ বানান মোস্তাফিজ। সাকিবের স্পেল শেষ হবার পর দাওলাত জাদরানকে উইকেটের পেছনে ক্যাচে পরিণত করেন কাটার মাস্টার।
 
ইনিংসের ৪৬তম ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে যায় আফগানরা। তবু একা খানিক লড়াই করেন শিনওয়ারি।
 
এর আগে ৭ উইকেটে ২৬২ রানের পুঁজি গড়তে পারে বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় টাইগাররা। ইনিংসের ৪ ওভার পেরোতেই আউট লিটন দাস। দলের রান তখন মাত্র ২৩। যদিও ক্যাচটা বিতর্কিত ছিল।
 
বলটা মনে হচ্ছিল, মাটিতে লেগেছে। টিভি আম্পায়ার আলিম দার কয়েকবার রিপ্লে টেনে টেনে দেখলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আউটের সিদ্ধান্তই দিলেন। মুজিব উর রহমানের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন।
 
শর্ট কভারে হাসমতউল্লাহ শহীদি ক্যাচটা নেয়ার পরও লিটন ক্রিজে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আলিম দারও নিশ্চিত হতে পারছিলেন না ক্যাচটা আসলে মাটিতে লেগেছে কিনা। একবার মনে হচ্ছিল, বলের নিচে আঙুল আছে। আরেক দিক থেকে মনে হচ্ছিল, মাটিতে বলের ছোঁয়া লেগেছে। ভাগ্যটা লিটনের বিপক্ষেই গেছে।
 
অথচ লিটনের শুরুটা হয়েছিল বেশ ভালোই। মূলত ওপেনিং জুটিতে তিনিই ভালো খেলছিলেন। ১৭ বলে ২ বাউন্ডারিতে ডান হাতি এই ব্যাটসম্যান করেন ১৬ রান। ২৩ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ৬১ বলে ৫১ রানের জুটি তামিম ইকবাল আর সাকিব আল হাসানের।
 
১ উইকেটে ৭৪ রানে পৌঁছে যাওয়া টাইগাররা ১৫তম ওভারের শেষ বলে এসে তামিমকে হারিয়ে বসে। মোহাম্মদ নবীর বলটি ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন টাইগার ওপেনার, ৫৩ বলে ৪ বাউন্ডারিতে তামিম করেন ৩৬ রান।
 
পরের ওভারে রশিদ খানের এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে আবারও আঙুল তুলে দিয়েছিলেন আম্পায়ার। এবার সাকিব রিভিউ নিয়ে জিতে যান। বল দেখা যায় স্ট্যাম্পের উপর দিয়ে চলে যেত।
 
তৃতীয় উইকেটে ৬১ রানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন সাকিব-মুশফিক। সাকিব একবার রিভিউ নিয়ে বেঁচে গেলেও ৩০তম ওভারে এসে বাঁচতে পারেননি। মুজিব উর রহমানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেছেন তিনি। ৬৯ বলে গড়া সাকিবের ৫১ রানের ধৈর্যশীল ইনিংসটিতে ছিল মাত্র একটি বাউন্ডারির মার।
 
মুজিবের পরের ওভারে আবারও ঝলক। এবার তিনি ফিরিয়ে দেন ওপেনিং থেকে মিডল অর্ডারে আসা সৌম্য সরকারকে। এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে সৌম্য করেন মাত্র ৩ রান। ১৫১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন ফের বিপদে বাংলাদেশ।
 
এরই মধ্যে পায়ের কাফে টান পড়ে নতুন ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহর। তিনি তখন মাত্র ৩ রানে। টাইগার সমর্থকরা ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। তবে মাহমুদউল্লাহ ওই ব্যথা নিয়েই ব্যাটিং চালিয়ে গেছেন।
 
পঞ্চম উইকেটে মুশফিক আর মাহমুদউল্লাহ যোগ করেন ৫৬ রান। ৩৮ বলে ২ বাউন্ডারিতে ২৭ রান করে মাহমুদউল্লাহ গুলবাদিন নাইবের শিকার হন।
 
এমন উত্থান পতনের মধ্যে একটা প্রান্ত ধরে দলকে টেনে নিয়ে গেছেন মুশফিক। ষষ্ঠ উইকেটে মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়ে ৩৩ বলে ৪৪ রানের জুটি তার। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু ইনিংসের ৪৯তম ওভারে এসে দৌলত জাদরানের বলে মারতে গিয়ে ক্যাচ হয়ে যান মুশফিক। ৮৭ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় তখন তিনি ৮৩ রানে।
 
এরপর মোসাদ্দেক শেষের কাজটা করে দিয়েছেন। ২৪ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৩৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে একদম শেষ বলে আউট হয়েছেন ডান হাতি এই ব্যাটসম্যান।
 
আফগানিস্তানের পক্ষে মুজিব উর রহমান ৩টি আর গুলবাদিন নাইব নিয়েছেন ২টি উইকেট।
বাংলাদেশ বিশ্বকাপের মূল বাছাইপর্বে
                                  

                বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব নিশ্চিতের পর ফুটবলারদের উচ্ছ্বাস

ব্রিস্টলে বৃষ্টিতে ভেসে গেছে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ। বৃষ্টিতে ক্রিকেটম্যাচ ভেস্তে যাওয়ার পর বঙ্গবন্ধুতে উপস্থিত ফুটবলপ্রেমীরাই নন, গোটা দেশ চেয়েছে লাওসের বিপক্ষে জয় নিয়ে রঙধনুর সাত রঙে সেজে মাঠ ছাড়বেন জামাল ভূঁইয়া, মামুনুলরা। কিন্তু একের পর এক গোল মিসে জয় বঞ্চিত হয়েই মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ। তবে সফরকারী লাওসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র হলেও কাতার বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব খেলার সুযোগ নষ্ট হয়নি একটুও। অ্যাওয়ে ম্যাচে জয়ের সুবিধা নিয়ে এশিয়ার সেরা ৪০ দলের সঙ্গে বাছাইপর্ব খেলবে জেমি ডে শিষ্যরা।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্বে খেলতে প্রস্তুত হচ্ছে গোটা বিশে^র ২০৭টি দেশ। প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশও। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খেলার জন্য প্রাক-বাছাইপর্ব খেলছে বেঙ্গল টাইগাররা। পাঁচ দিন আগে লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েনে ১-০ গোলে জয় পায় বাংলাদেশ। সেই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে জামাল বাহিনী গতকাল একাদশে দুটি পরিবর্তন নিয়ে খেলতে নামে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। মতিন মিয়া ও আরিফুর রহমানের জায়গায় খেলেছেন মামুনুল ও রবিউল। ড্র করলেই চলবে- এমন চাপে ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিট সুর-তালহীন ফুটবল খেলে জেমি ডের শিষ্যরা। পরবর্তীতে অবশ্য চাপ সামলে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। শুরুতে খেঁই হারিয়ে ফেললেও প্রথম আক্রমণে যায় ৮ মিনিটে। জামাল ভূঁইয়ার ফ্রি-কিকে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডার ব্যাক হেড করলে বল বিপজ্জনক অবস্থায় পরলেও ইয়াসিন পা ছোঁয়াতে পারেননি। পরের মিনিটে রবিউল হাসানের বাঁ পায়ের বাঁকানো কর্নার লাওসের গোলরক্ষক কায়সাবা ফিস্ট করেন। দুই দুটি আক্রমণের পর থেকে নিজেদের মেলে ধরে আক্রমণের ধারা বাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। ১৬ মিনিটে জনির পাস বক্সে ঢুকেও দুর্বল শট করেন নাবীব নেওয়াজ জীবন। এরমধ্যে সফরকারী লাওস যে আক্রমণ করেনি, সেটা নয়। ২৪ মিনিটে ইয়াছিনের ব্যাক পাসে বিপদে পড়তে যেয়েও স্ট্রাইকার ভানসান্নার ব্যর্থতায় পারেনি সফরকারীরা। পাঁচ মিনিট পর রবিউলের লম্বা থ্রোকে কাজে লাগাতে পারেননি জীবন। ৩৮ মিনিটে প্রথমার্ধের সবচেয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন জীবন। দ্বিতীয়ার্ধেও উভয় দল গোলের সুযোগ পেলেও কেউ কাজে লাগাতে পারেনি। ড্র করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। তবে দিনটি হয়ে থাকল বাংলাদেশের। ক্রিকেটে হতাশার দিনে কাতার বিশ্বকাপে বাছাইপর্বে জায়গা করে নিয়েছে জামালরা। উৎসব করেই মাঠ ছেড়েছেন ফুটবলাররা।

বিশ্বকাপের ১২তম আসরের চতুর্থ ম্যাচে আজ মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তান
                                  

পার্থে আফগানিস্তানকে নিয়ে ছেলেখেলায় মেতেছিল অস্ট্রেলিয়া। গত বিশ্বকাপের ম্যাচটিতে ডেভিড ওয়ার্নার ১৭৮ ও স্টিভেন স্মিথ খেলেন ৯৫ রানের ইনিংস। অস্ট্রেলিয়া জয় পায় ২৭৫ রানে। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের এবারের বিশ্বকাপের শুরুটা আজ হচ্ছে সেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে। ম্যাচটা ডেভিড ওয়ার্নার আর স্টিভেন স্মিথের ফেরার মঞ্চও। বল বিকৃতি কেলেঙ্কারি পেছনে ফেলে কয়েকটা অনুশীলন ম্যাচ খেললেও আজ প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক খেলায় দেখা যেতে পারে তাঁদের।

স্টিভেন স্মিথ নিশ্চিতভাবে একাদশে থাকলেও ডেভিড ওয়ার্নারকে নিয়ে শঙ্কা কাটেনি। ঊরুর পেশিতে টান পড়ায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেননি ওয়ার্নার। আজ তিনি খেলতে না পারলে অ্যারন ফিঞ্চের সঙ্গে ওপেন করবেন উসমান খাজা। আর তিন নম্বরে নামবেন শন মার্শ। তবে ওয়ার্নারের আশা ছাড়ছেন না কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার, ‘খেলার জন্য মুখিয়ে ওয়ার্নার। অন্য ১৫ জনের মতো উদ্দীপ্ত হয়ে আছে, হাসছে সারাক্ষণ। এটা ভালো ইঙ্গিত।’

গত বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার ৪১৭ রানের জবাবে ১৪২-এ গুটিয়ে যাওয়া আফগানিস্তান বদলে গেছে অনেকটা। বোলিং শক্তি বাড়িয়েছে রশিদ খান ও মুজিব-উর-রহমানের মতো দুটি বিস্ময়কর অস্ত্র। দুজনকেই খেলতে হিমশিম খাচ্ছেন বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যানরা। তাঁদের সঙ্গে মোহাম্মদ নবীর মতো অভিজ্ঞ স্পিনার থাকায় শচীন টেন্ডুলকারের মতো কিংবদন্তি বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের সেরা স্পিন আক্রমণ আফগানিস্তানের।’

২০০৮ সালেও ওয়ার্ল্ড লিগ ডিভিশন ফাইভে খেলত আফগানিস্তান। সেখান থেকে একেকটা ধাপ উতরে এই পর্যন্ত আসাটা রূপকথাকে হার মানানোর মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে আরো একবার চমকে দিয়েছে তারা। তবে বিশ্বকাপের ঠিক আগে অধিনায়ক আসগর আফগানের চেয়ারে গুলবাদিন নাইবকে বসানোয় ‘বিদ্রোহ’ ছড়িয়ে পড়ে দলে। আফগানিস্তান সরকারপ্রধানকেও এ নিয়ে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান কজন ক্রিকেটার। গুলবাদিন নাইব টিকে গেছেন এর পরও। নেতৃত্বের এমন বদল দলে তেমন প্রভাব ফেলবে না বলে বিশ্বাস প্রধান নির্বাচক দৌলত খান আহমদজাইয়ের, ‘দলে ঐক্য অটুট আছে। নাইব অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চেয়েছে আসগর আফগানের। ২০১৫ সালে রশিদ আর মুজিব ছিল না। ওদের পেয়ে এবার আমরা সেমিফাইনালের স্বপ্ন দেখছি। (সেটা না হলেও) দলের যা ভারসাম্য তাতে আমরা চমকে দিতে পারি অনেককে।’

সেই চমকের শুরুটা অস্ট্রেলিয়াকে দিয়ে হবে না বলেই বিশ্বাস কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গারের। দলের ব্যাটসম্যানদের মতো পেসার মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, নাথান কোল্টার-নাইলদের ওপর অগাধ আস্থা তাঁর। পাশাপাশি উইকেট দেখে বোলিং আক্রমণ স্পিনার দিয়েও করানোর পরিকল্পনা আছে তাঁর, ‘ইমরান তাহিরের মতো অ্যাডাম জাম্পাও ইনিংসের শুরু করতে পারে। সেটা উইকেট দেখে সিদ্ধান্ত নেব। আমাদের পেসাররা এ ধরনের উইকেটে ভালো বাউন্স পাবে। প্রতিপক্ষ যে-ই হোক আমাদের পরিকল্পনা একই (দাপটে খেলা)।’

বল বিকৃতি কেলেঙ্কারির জন্য গ্যালারির দর্শকদের দুয়োর মুখে পড়তে পারেন ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথ। এ নিয়ে স্মিথ আগেই জানিয়েছেন, ‘এসব গায়ে মাখি না আমি।’ দর্শকদের দুয়োয় মেজাজ না হারানোর পরামর্শ দিয়ে রাখলেন অস্ট্রেলিয়ান সাবেক পেসার ব্রেট লিও, ‘স্মিথ-ওয়ার্নারের নতুন করে প্রমাণের কিছু নেই। ইংল্যান্ডে গ্যালারির সমালোচনা শুনতে হতে পারে ওদের, এ জন্য মাঠে নামতে হবে চামড়া মোটা করে।’

ওয়ার্নার খেললে বিস্ময়করভাবে বাদ পড়তে পারেন উসমান খাজা। কারণ তিন নম্বরে অস্ট্রেলিয়ার পছন্দ শন মার্শ। অথচ গত বছর বিরাট কোহলি ও অ্যারন ফিঞ্চকে পেছনে ফেলে ৫৯.১৫ গড়ে সবচেয়ে বেশি ৭৬৯ ওয়ানডে রান খাজার! দলটা এত বেশি ভারসাম্যপূর্ণ বলেই ষষ্ঠ বিশ্বকাপের স্বপ্ন নিয়ে ইংল্যান্ডে অ্যারন ফিঞ্চরা।

আজ মুখোমুখি ইংল্যান্ড-দঃ আফ্রিকা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে
                                  

বিশ্বকাপের ঠিক আগে দল দুটি ঠিক বিপরীতমুখী অবস্থানে আছে। একদিকে ইংল্যান্ড দলটা এবারের আসরের অন্যতম ফেভারিট দল। আর স্বাগতিক দল বলে তাদের ওপর নজর অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি থাকবে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তাই আকাশ সমান চাপ নিয়েই মাঠে নামবে ইয়ন মরগ্যানের দল।

তাদের প্রতিপক্ষ আজ দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্য যে কোনো সময়ে ফেভারিটদের তালিকাতে থাকলেও এবার তাদের নিয়ে তেমন একটা আলোচনা নেই বললেই চলে। যদিও, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর এই দলটিও। তবে, মূল মঞ্চে পারফর্ম করতে না পারার আক্ষেপ তাদের বহুদিনের। ফলে, আজকের ম্যাচে তাদেরও চাপের কোনো কমতি নেই।

১৯৯২ সাল থেকে ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফেভারিট না হয়েও, সেমিফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারে তারা। এরপর আরো ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেয় প্রোটিয়ারা। প্রতিটি বিশ্বকাপের ফেভারিটের তকমা গায়ে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। সেরা খেলোয়াড় স্কোয়াডে রেখে, খেলোয়াড়দের সেরা ফর্ম নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল প্রোটিয়ারা। কিন্তু কোনো বারই সাফল্যে নিজেদের রঙিন করতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাওয়াটাই এখন অবধি দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা অর্জন। চার সেমিফাইনালে পৌঁছে প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছে তারা। সর্বশেষ ২০১৫ সালে যেমন হেরেছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের খুব বাজে একটা স্মৃতিও এই ইংল্যান্ডের মাঠেই। সেটা ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপের কথা। সেই আসরে বার্মিংহামে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাই হওয়া ম্যাচটি রীতিমতো ক্রিকেট ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। চাপের মুখে প্রোটিয়ারা কতটা ভেঙে পড়ে তারই প্রমাণ সেই ম্যাচটি। আজকের ম্যাচ দিয়ে সেই স্মৃতির জুজু কাটাতেই মাঠে নামবে ফাফ ডু প্লেসির দল।

ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম তিনটি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই ইংল্যান্ডে। এরপর সর্বশেষ ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপেরও আয়োজক ছিল ইংল্যান্ড। ২০ বছর পর ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফিরেছে ইংল্যান্ডে। যদিও, গেল ১১টি বিশ্বকাপে কখনোই শিরোপা জেতা হয়নি ক্রিকেটের আঁতুরঘরের। ইয়ন মরগ্যানরা এবার দেশের মাটিতে বিশ্বকাপে সেই আক্ষেপ আর রাখতে চান না। ম্যাচের আগে ইংলিশদের জন্য ‘সুসংবাদ’ হলো ইনজুরির কারণে ম্যাচটিতে খেলা হচ্ছে না ডেল স্টেইনের। ম্যাচের আগে অনুশীলনেই এই খবরটা নিশ্চিত করেন প্রোটিয়াদের কোচ ওটিস গিবসন। তিনি বলেন, ‘স্টেইন এখনো ম্যাচ খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। এটা একটা ছয় সপ্তাহের লম্বা টুর্নামেন্টে। প্রথমেই ওকে আমরা বাড়তি চাপ নেই। তবে, সামনের ম্যাচগুলোতে ও অবশ্যই খেলবে।’

মুখোমুখি লড়াই

মোট ম্যাচ ৫৬

ইংল্যান্ডের জয় ২৬

দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ২৯

টাই ০১

ক্রিকেটে ভিন্ন বাংলাদেশকে দেখবে বিশ্ব’
                                  

                                         অনীল কুম্বল

শোয়েব আখতার, রশিদ লতিফ, রমিজ রাজার পর এবার অনীল কুম্বলের কন্ঠে মাশরাফি বন্দনা। ভারতের কিংবদন্তি লেগস্পিনার কুম্বলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে ‘আদর্শ’ নেতার খেতাব দিয়েছেন। আর মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশ দলটিকে যথেষ্ট শক্তিশালী মনে করছেন ভারতের সাবেক এই কোচ। তিনি বলেন, ‘মুর্তজা অনেক ভালো একজন নেতা। সে দলকে সংঘবদ্ধ করতে পারে। মাশরাফি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। তার নেতৃত্বে আপনি ভিন্ন বাংলাদেশকে দেখতে পাবেন। বাংলাদেশকে হালকাভাবে নিতে পারেন না আপনি। গত কয়েক বছর ধরে দারুণ ক্রিকেট খেলছে তারা।’
ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে মাশরাফি এক প্রেরণার নাম। ডান হাঁটুতে এতগুলো অস্ত্রোপচারের পরও দেশের টানে খেলে যাচ্ছেন। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতকে হারিয়ে সুপার সিক্সে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে দারুণ বোলিং করেছিলেন মাশরাফি। ঘরের মাটিতে ২০১১ বিশ্বকাপ মিস করেন চোটের কারণে। তবে ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত আসরে মাশরাফির নেতৃত্বে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ গড়ে ইতিহাস। তার নেতৃত্বে আন্তজার্তিক কোনো আসরে প্রথম বারের মতো শিরোপার স্বাদপায় বাংলাদেশ। গত সপ্তাহে আয়ারল্যন্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে এই শিেেরাপা জেতে টাইগাররা। এখন পর্যন্ত ২০৯ ওয়ানডেতে মাশরাফি নিয়েছেন ২৬৫ উইকেট। গত সপ্তাহে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ জেতার পর পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা মাশরাফির নেতৃত্ব গুণ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। রজিম বলেন, ‘মাশরাফি একজন অনবদ্য অধিনায়ক। ঠাণ্ডা মেজাজে খেলা পরিচালনা করে। কঠিন পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্তটা নিয়ে থাকে।’ এর আগে ‘লড়াকু’ মাশরাফির প্রশংসায় পাকিস্তানের সাবেক গতিতারকা শোয়েব আখতার বলেন, ‘আমার মতে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের সেরা অধিনায়ক মাশরাফি।’ পাকিস্তানের সাবেক উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান রশিদ লতিফও মাশরাফির ভূয়সী প্রশংসা করে করেন। তিনি বলেন, ‘পায়ে বড় ধরনের ইনজুরি থাকা সত্ত্বেও মাশরাফি দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। একজন চোটাক্রান্ত ক্রিকেটারের জন্য এটা বেশ কঠিন কাজ। বাংলাদেশে তার অনেক সুনাম রয়েছে। ২০১৪, ২০১৫, ২০১৬ সালে দারুণ ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। তারা ঘরের মাঠে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে ওয়ানডেতে। ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়েছিল তারা। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা দারুণ স্ট্রাইক রোটেট করে খেলতে পারে যেটি তাদের একটি প্লাস পয়েন্ট।’
আয়ারল্যান্ডের মাটিতে কিছুদিন আগে ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের প্রতি ম্যাচেই টাইগাররা দাপুটে পারফরম্যান্স দেখায়। এরপর ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান ক্রিকেট বিশ্লেষক আকাশ চোপড়া বলেন, বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার জোর সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশের। এর আগে পাকিস্তানের শোয়েব আখতারও বলেন, বিশ্বকাপে তাক লাগিয়ে দিতে পারে টাইগাররা। তবে শোয়েব একটা শর্ত দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, বড় ম্যাচের চাপ সামলাতে না পারার ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে হবে বাংলাদেশকে। আর গতকাল কুম্বলে বলেন, ‘বড় ম্যাচে চাপ সামলে উঠাটা বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ।’ ২রা জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে তাদের প্রথম ম্যাচে খেলতে নামবে। রাউন্ড রবিন লীগ পদ্ধতিতে এবারের টুর্নামেন্টে অন্তত ৯টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন মাশরাফি-সাকিবরা। আর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ চারে থাকতে পারলে মিলবে সেমিফাইনালের টিকিট।

ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
                                  


মোঃ রবিউল ইসলাম: সৌম্য সরকারের ঝড়, এরপর শেষ দিকে এসে ঝড় তুললেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। সৌম্যর ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরির পর মোসাদ্দেকের ২০ বলে হাফ সেঞ্চুরি। এই দুই ঝড়ো ইনিংসের ওপর ভর করে এই প্রথম নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে কোনো টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতলো বাংলাদেশ।

ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ২৪ ওভারে ২১০ রানের বিশাল লক্ষ্য পাড়ি দিতে নেমে মোসাদ্দেকের ঝড়ের সামনে ৭ বল হাতে রেখেই শিরোপা জিতে বাংলাদেশ।

সৌম্য সরকারের ব্যাটে জয়ের স্বপ্নটা চওড়া হচ্ছিল খুব। ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে সেটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ৪১ বলে ৬৬ রান করার পর সৌম্য বিদায় নিতেই জয়ের কাজটা ধীরে ধীরে কঠিন হতে শুরু করে।

মুশফিকুর রহীম, মোহাম্মদ মিঠুনরাও চেষ্টা করেন রানের চাকা সমানতালে এগিয়ে নিতে। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় সেটা আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

দলীয় ১০৯ রানের মাথায় রেমন রেইফারের স্পিন ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে ছক্কা মারতে যান সৌম্য। লং অনে ধরা পড়েন সেলডন কটরেলের হাতে। মুশফিকুর রহীম করেন ২২ বলে ৩৬ রান। মিঠুনের ব্যাট থেকে আসে ১৪ বলে ১৭ রান।

এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করে ২৪ ওভরে ১৫২ রান। জিততে হলে বাংলাদেশকে করতে হবে ২১০ রান। ক্রিকেটের অদ্ভুত বৃষ্টি আইন এটা। ডাকওয়ার্থ আর লুইস তৈরি করেছেন এই গাণিতিক হিসাব-নিকাশ।

জয়ের জন্য ২১০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনাই করেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকারের দুর্দান্ত সূচনার পর ৫.৩ ওভারেই তারা গড়ে ফেলে ৫৯ রানের জুটি। ১৩ বলে ১৮ রান করে আউট হয়ে যান তামিম ইকবাল।

তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামেন সাব্বির রহমান। কিন্তু যে কারণে তাকে আগে নামানো হলো, সেটা মোটেও কাজে লাগল না। 

শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলে এলবিডবিস্নউ হয়ে কোনো রান না করেই ফিরে যান সাব্বির রহমান। সাকিব আল হাসান না থাকার অভাবটা ভালোই টের পাওয়া গেল। চার নম্বরে ব্যাট করতে নামেন মুশফিকুর রহীম।

এর আগে বৃষ্টির কারণে লম্বা সময় ধরে ম্যাচ বন্ধ থাকার পর আবারও খেলা শুরু হয় বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টায়। কার্টেল ওভারে ম্যাচটি নির্ধারণ করা হয় ২৪ ওভারের। সেই নির্ধারিত ২৪ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেছে ১৫২ রান।

কিন্তু বৃষ্টি আইন ডার্কওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়াল ২১০ রান। ওভার সেই ২৪টিই।

টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট করতে নামার পর ২০.১ ওভারে বিনা উইকেটে ১৩১ রান তোলার পরই নামে বৃষ্টি। সে অবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে খেলা বন্ধ থাকার পর আবার বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১০টায় খেলা শুরুর ঘোষণা দেয়া হয়।

বৃষ্টির আগে সাই হোপ ছিলেন ৫৬ বলে ৬৮ এবং সুনিল আমব্রিস ৬৫ বলে ব্যাট করছিলেন ৫৯ রানে। এরপর খেলা শুরু হলে ৬৪ বলে ৭৪ রান করে আউট হন সাই হোপ। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে তার ক্যাচ ধরেন মোসাদ্দেক সৈকত।

সুনিল আমব্রিস ৭৮ বলে থাকেন ৬৯ রানে অপরাজিত। ড্যারেন ব্র্যাভো অপরাজিত থাকেন ৩ বলে ৩ রান করে।

ভয়ে দেশে ফিরছেন না প্রথম ইরানি নারী বক্সার
                                  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
প্রথম ইরানি কোনো নারী বক্সার হিসেবে ফ্রান্সে একটি অফিশিয়াল বক্সিং প্রতিযোগিতা শেষে নিজ দেশে ফিরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সাদাফ খাদেম। তার বিরুদ্ধে জারি হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। ইরানের বাধ্যতামূলক পোশাক না পরার কারণে এমন হতে পারে বলে সাদাফ খাদেমের ধারনা। ১৩ এপ্রিল এক অপেশাদার প্রতিযোগিতায় ফরাসি বক্সার এনি চৌভিনকে হারান সাদাফ খাদেম। এ সপ্তাহেই তিনি তার ফরাসী-ইরানী প্রশিক্ষকের সাথে তেহরানে ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন। একটি ক্রীড়া সংবাদপত্রের খবরের সূত্রের বরাত দিয়ে সাদাফ খাদেম বলেন, তার ধারনা ভেস্ট ও শর্টস পরে বক্সিংএ অংশ নিয়ে সে ইরানের পোশাক পরার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। ইরান কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে অবশ্য কোনো মন্তব্য করেননি, তবে দেশে ফিরলে খাদেম কে গ্রেপ্তার
করা হবে এ বিষয়ে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ইরান
বক্সিং ফেডারেশনের প্রধান।
হোসেন সুরি বলেন, সাদাফ. খাদেম ইরানের

বক্সিংয়ের জন্যে আয়োজিত অ্যাথলেটদের সদস্য নন, এছাড়া বক্সিং ফেডারেশনের দৃষ্টিকোণ থেকে তার সমস্ত কার্যকলাপ ব্যক্তিগত।
প্রতিযোগিতায় খাদেমের পরনে ইরানের জাতীয় পতাকার রংয়ের সাথে মিলিয়ে ছিল সবুজ ভেস্ট ও লাল শর্টস এবং সাদা বেল্ট। ফ্রান্সের শহর রয়ানে হয় ম্যাচটি। নিজ দেশের ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের সমর্থন না থাকার পরও দেশের বাইরে প্রতিযোগিতায় আসা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের ছিল ২৪ বছর বয়সী এই বক্সারের জন্যে। খাদেম আশা করেছিলেনে যখন দেশে ফিরবেন তখন বীরোচিত সম্বর্ধনা পাবেন। কিন্তু প্যারিসের শার্স দ্য গ্যল বিমান বন্দরে এসে তিনি জানান, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। খাদেমের সাথে ছিলেন তার প্রশিক্ষক মাহয়ার মনসুর, যিনি ইরানে জন্মগ্রহণকারী বিশ্ব বক্সিং এসোসিয়েশন চ্যাম্পিয়ন এবং ফরাসি ক্রীড়া মন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা। একটি সংবাদপত্রকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সাদাফ খাদেম বলেন, ফ্রান্সে আমি একটি অনুমোদিত প্রতিযোগিতাতেই অংশ নেই। কিন্তু আমার পরনে ছিল ছোট প্যান্ট এবং টি-শার্ট, যা কিনা পুরো বিশ্বের চোখে স্বাভাবিক হলেও আমার নিজের দেশের নিয়মকে সেটি অসন্তুষ্ট করেছিল। আমি কোনো হিজাব পরিনি, একজন পুরুষ আমাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে-কেউ কেউ এটি ভালো চোখে দেখেনি।
প্যারিসে ইরানের দূতাবাসের মুখপাত্র খাদেমের ইরানে না ফেরার সিদ্ধান্ত বা তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করেনি। ইরানের আইন অনুযায়ী ৯ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো নারীকে যদি জনসম্মুখে মাথায় আবৃত কোনো কাপড় ছাড়া দেখা যায়, তবে ১০ দিন থেকে দুই মাসের জেল বা জরিমানার শাস্তি বিধান রয়েছে। দেশটির নারী খেলোয়াড়দের চুল, ঘাড়, বাহু এবং পা পুরোপুরি ঢেকে রাখার নিয়ম।

সাম্প্রতিক সময়ের আগে পর্যন্ত, খাদেম অফিশিয়াল বক্সিং ম্যাচে হিজাব এবং পুরো শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক ছাড়া অংশ নেবার অনুমতিই পেত না। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে আন্তর্জাতিক বক্সিং এসোসিয়েশনের অপেশাদার বক্সিংয়ের গভর্নিং বডি এই পোশাকের নিয়ম শিথিল করে।

 

মানবাধিকার খবর

বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের ম্যাচ পরিত্যক্ত: পয়েন্ট ভাগাভাগি
                                  
ডাবলিনের আকাশে সকাল থেকেই মেঘ ছিল। টসের আগেই নামে বৃষ্টি। সেই বৃষ্টি থেকে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু পরেই শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। সঙ্গে হাড়ে কামড় দেওয়া ঠান্ডা। টস হতে তাই বিলম্ব হয়। কিন্তু বৃষ্টি থামার নাম-গন্ধ না পেয়ে টসের সময় প্রায় সাতে তিন ঘন্টা পেরিয়ে গেলে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
 
এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড। বাংলাদেশ আবার নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সহজ জয় পায়। আয়ারল্যান্ডের জন্য তাই বাংলাদেশের ম্যাচ ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর। কিন্তু বৃষ্টির কারণে মাঠেই গড়াল না বল। বাংলাদেশও বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুত হওয়ার জন্য পাওয়া চারটি ম্যাচের একটি হারালো।
 
তবে শুধু ত্রিদেশীয় সিরিজের চিন্তায় এই ম্যাচ ভেসে যাওয়ায় বাংলাদেশের খুব একটা ক্ষতি হয়নি। পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে আছে মাশরাফিরা। দুই ম্যাচে এক জয় এবং এক টাই বাংলাদেশের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এক জয় এবং এক হার। আর আয়ারল্যান্ড দুই ম্যাচে খেলে এক হারের পাশাপাশি এই ম্যাচ থেকে পেয়েছে দুই পয়েন্ট।
 
বাংলাদেশ দলের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৬। আর এক ম্যাচে জিতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট পাঁচ। তারা আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে থেকে পেয়েছে একটি বোনাস পয়েন্ট। নেট রান রেটের হিসেবে বাংলাদেশ চেয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঢের এগিয়ে। টাইগারদের নেট রান রেট .৬৪৭। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের নেট রান রেট ১.৬৯৪। বোনাস ওই পয়েন্টটি যোগ হয়েছে উইন্ডিজের মূল পয়েন্টের সঙ্গে।    
 
ত্রিদেশীয় এই সিরিজে বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ আগামী ১৩ মে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচের পরে ১৫ মে আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে স্টিভ রোডসের শিষ্যরা। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল চারটি করে ম্যাচ খেলবে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল খেলবে ফাইনালে। এরপর বাংলাদেশ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে।
পথশিশু বিশ্বকাপে সেমিতে বাংলাদেশ
                                  

মোঃ রবিউল ইসলামঃ পথশিশুদের নিয়ে লন্ডনের স্ট্রিট চাইল্ড ইউনাইটেডের প্রথমবার আয়োজিত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ দল। অন্য তিন সেমিফাইনালিস্ট দক্ষিণ ভারত, তানজানিয়া ও ইংল্যান্ড। লর্ডসে আজ হবে দুই সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। প্রতিটি দলে ৪ জন করে মেয়ে ও ছেলে খেলছে। বাংলাদেশ দলে খেলছে সানিয়া মির্জা, জেসমিন আক্তার, স্বপ্না আক্তার, আরজু রহমান, রাসেল ইসলাম রুমেল, আবুল কাশেম, রুবেল ও নিজাম হোসেন। সিক্স-এ সাইড এ টুর্নামেন্টে রোববার ৪ ম্যাচের দুটিতে জিতে শেষ চার নিশ্চিত করে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশু দল। শেষ চার ওঠার পথে ইংল্যান্ড ও তানজানিয়ার কাছে হারলেও উত্তর ভারত ও নেপালের বিপক্ষে জিতে লাল-সবুজ ছেলেরা। বাংলাদেশ দল টুর্নামেন্ট শেষে আন্তর্জাতিক কংগ্রেস ও আর্ট ফেস্টিভ্যালে অংশ নেবে, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট মেম্বারদের বিশেষ আমন্ত্রণে যোগ দেবে হাউস অব কমন্সের নৈশ্যভোজে। এছাড়া সংসদ সদস্যদের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচেও অংশ নেবে তারা।

 

টাইগারদের জার্সিতে আবারও পরিবর্তন
                                  

মোঃ রবিউল ইসলাম : জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত সোমবার প্রকাশ্যে আসে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ জার্সি। ওই দিন মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তা উন্মোচন করেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। পরে সেই জার্সি গায়ে জড়িয়ে ফটোসেশন করেন ক্রিকেটাররা। এরপর থেকেই বিতর্ক তুঙ্গে।

এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জন্য দুটি জার্সি বেছে নেয় বিসিবি। একটি লাল, আরেকটি সবুজ। এ সবুজ রঙের জার্সি নিয়েই যত হট্টগোল। কারণ, তাতে দেশের পতাকার লাল-সবুজের মিশ্রণ ছিল না। অনেকে সেটিকে পাকিস্তানের জার্সি বলে অ্যাখ্যায়িত করেন। কেউ বলেন আয়ারল্যান্ডের জার্সি।

তীব্র সমালোচনার মুখে বাধ্য হয়ে বিশ্বকাপের জার্সিতে পরিবর্তন আনে বোর্ড। আইসিসির অনুমতি নিয়েই তা করা হয়। পরদিনই দেখা মেলে বাংলাদেশের নতুন বিশ্বকাপ জার্সির। তবে তাতেও কটাক্ষ থামেনি। ফলে আরেক দফা পরিবর্তন হলো এর ডিজাইন।

এর আগে গেল মঙ্গলবার নতুন জার্সির ডিজাইন দেখান বিসিবি মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন।

নতুন সেই জার্সিতে দেখা যায়, জার্সির হাতায় এবং বুকে লালের ছোঁয়া দেয়া হয়েছে। অন্যান্য ডিজাইনে খুব একটা পরিবর্তন আনা হয়নি।

দুই দিনের ব্যবধানে আরেক দফা পরিবর্তন হলো বাংলাদেশের বিশ্বকাপ জার্সির ডিজাইন। এতে দেখা যাচ্ছে, সবুজ জার্সির বুকে লাল রঙের ছোঁয়া আছে। তবে হাতা থেকে লাল শেডটি বাদ দেয়া হয়েছে। এছাড়া লাল জার্সিটির হাতায় এবং বুকে সবুজ রঙের ছোঁয়া আনা হয়েছে।

বড় স্বপ্ন নিয়েই শেষ বিশ্বকাপে মাশরাফি
                                  

মোঃ রবিউল ইসলাম” ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বিশ্বকাপকে বিদায় জানাবেন ইংল্যান্ডেই। আর নিজের শেষটা রাঙাতে  চান তিনি।  তার চোখ সেমিফাইনালে। তবে মুখে মুখে নয় মাঠেই সেই প্রমাণ রাখতে আহ্বান জানালেন তার সহযোদ্ধাদের। এমনকি জানিয়ে দিলেন বিশ্বকাপ জেতাও সম্ভব। তবে তার জন্য উজাড় করে দিতে হবে নিজেদের শতভাগ। দেশের মাটিতে টাইগারদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতির শেষ দিনে গতকাল স্বপ্ন ও বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন অধিনায়ক। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য দেশ ছাড়ার আগে তার কথোপকথনের মূল অংশ তুলে ধরা হলো-
অভিজ্ঞ হলে ভালো হবে তা নয়
অভিজ্ঞ ক্রিকেটার অনেক আছে এটা না বলে, এবারের দলটাকে ব্যালেন্স বলা যায়। যারা জুনিয়র খেলোয়াড় তাদেরও বেশির ভাগের ওয়ার্ল্ড কাপ খেলার অভিজ্ঞতা আছে।  তার মানে এই নয় যে, অভিজ্ঞতা থাকলে ভালো খেলা যাবে।

 

অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। 
সেমিফাইনাল অসম্ভব নয় 
অসম্ভব কোনো কিছুই  না,  তবে সেমিফাইনালে খেলা অনেক কঠিন।  এর আগে বিশ্বকাপের  গ্রুপ পর্বে একটা বড় দলকে হারাতে পারলে সম্ভাবনা তৈরি হতো। তবে এবার এখানে ৯টা ম্যাচ। যারা প্রত্যাশা করছে সেমিফাইনাল খেলবে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর অনেক সুযোগ থাকবে।  
আমার শেষ বিশ্বকাপ 
সম্ভবত না, এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। আলাদা করে নিজেকে তৈরি করার কিছু নেই।  আমার কাছে মনে হয় না আলাদা করে  তৈরি হয়ে ওখানে কিছু করতে পারবো। প্লেয়ার হিসেবে আমাকে পারফর্ম করতে হবে। অবশ্যই অধিনায়কত্বটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে। 
বোলারদের চ্যালেঞ্জ
ইংল্যান্ড কিংবা নিউজিল্যান্ডে দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোতে আমরা জানতাম যে ব্যাটিং করা কঠিন। আর বিশ্বকাপে আইসিসির চাওয়া থাকে ফ্ল্যাট উইকেট ও প্রচুর রানের। তাই সব দলের বোলারদের জন্যই চ্যালেঞ্জ। আমাদের কোনো রিস্ট স্পিনার নেই। এটা আরো বেশি কঠিন। কারণ অন্যান্য দলে যারা আছে তারা ব্রেক থ্রু দিয়ে দেয় মাঝখানে এসে। 
৩ শ’  করার সামর্থ্য আছে
রান করার সামর্থ্য যে আমাদের নেই তা বলবো না। অতীতে হয়তো এরকম রেকর্ড খুব একটা নেই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমরা ৩২৯ করে ছিলাম। এরকম যদি ব্যাটিং করি তাহলে পসিবল। অন্যান্য দল যেরকম নিয়মিত করছে। একটা কারণ হতে পারে, আমাদের হোম কন্ডিশনে এতো রান হয় না। অভ্যাসের একটা ব্যাপার আছে। তবে আমাদের ব্যাটিং অর্ডার অনেক অভিজ্ঞ।  কিন্তু ২২ গজে চাপটা সামাল দিতে হবে। 
পেসারদের ওপর আস্থা
শেষবার আমরা বিশ্বকাপ খেলেছিলাম অস্ট্রেলিয়ায়। পেসাররা ভালো করেছিল।  আমাদের ইংল্যান্ডেও ভালো করার সামর্থ্য আছে।  আমি সিউর, ওখানে যেকোনো দলের পেস বোলারদের ভালো করার সুযোগ বেশি থাকবে।  স্পিনারদের হেল্প ততটা থাকবে না। পেসাররা যদি শুরুটা ভালো করে জয়ের সুযোগ বেশি থাকবে। নির্দিষ্ট একজন নয়, পুরো পেস ইউনিটকে ভালো করতে হবে। আর কখনো কখনো ছোটখাটো চোট নিয়েই খেলতে হয়। এটা অভ্যাসের ব্যাপার। 
ফেসবুক থেকে দূরে থাকলে ভালো
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের ভালো কিংবা খারাপ ক্রিকেট খেলতে কখনো হেল্প করবে না।  আমার কাছে মনে হয় এটার দিকে নজর না রাখাই ভালো।  এটা আবার যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তো আমি আছি, সাকিব আছে  কিন্তু আমাদের ইফেক্ট করে না।  যাকে করে সেটা তার বুঝতে হবে।  এটার জন্য টিম রুলস জারি করার কিছু নেই। 
ব্যক্তিগত চাওয়া নেই
আমার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই।  ভালো হলে সবাই খুশি হবে।  আমারও ভালো লাগবে। বাড়তি প্রেসার আমি কখনো নিতে চাই না। শেষ বিশ্বকাপ খেলছি এখানে ভালো কিছু করে ফেলবো তা নয়, আমি ভাগ্যে বিশ্বাসী।  পুরো দলের ভাগ্যে যেটা আছে সেটাই হবে। পরিশ্রম করতে হবে। সেরা দল নিয়ে অনেকেই বিশ্বকাপ জেতেনি কিংবা সেমিফাইনালেও ওঠেনি। আমাদের ওপরে এরকম  কোনো চাপ নেই যে আমাদেরকে বিশ্বকাপ জিততে হবে, কিংবা সেমিফাইনালে উঠতে হবে। তবে আমরা ভালো খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। 
সেরা দল বলার কারণ নেই
সেরা দল, এইটা গুরুত্বপূর্ণ না। এশিয়া কাপে এই দল নিয়েই  ট্রফি জিততে পারিনি। শেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলেছিলাম, এই দলই ছিল। দুই বছর আগে এই দলই খেলেছে। নতুন করে এমন কিছু তাদের ভেতর আসেনি যে তারা এই মুহূর্তেই সেরা দল। তবে বিশ্বাস রাখি যে ওরা ভালো খেলবে ও ভালো রেজাল্টও করবে। কারণ আগেরবার যখন সৌম্য এসেছিল বিশ্বকাপে তখন কিন্তু একই রকম ছিল। প্রথমবার বিশ্বকাপে, এখন তো তার চার বছরের অভিজ্ঞতা। সম্প্রতি রান করেছে। বলবো না যে ফর্মে আছে। এক দুই ম্যাচে রান করলে তো ফর্ম আসে না। ধারাবাহিকতা থাকার পর বলা যায় ফর্ম আছে। যেটা তামিম, সাকিব, মুশফিক, রিয়াদদের আছে। 
৯টা ম্যাচই কঠিন
বিশ্বকাপে এক মাসে নয়টা ম্যাচ খেলতে হবে। আমার মনে হয় প্রতিটা দলের খারাপ ভালো দিয়ে যাবে। এটা খুব ইম্পরট্যান্ট যে নেক্সট ডে’তে কামব্যাক করা। এখানে প্রতিটা ম্যাচ আমাদের জন্য সমান যাবে না। যে ম্যাচ খারাপ যাবে পরের ম্যাচে যেন সেই রেশটা না থাকে। 
বিশ্বকাপ জেতা কঠিন, অসম্ভব নয়
বিশ্বকাপ জেতার কথাটা অবশ্যই মাথায় আছে। আবার কিছু নেতিবাচক ব্যাপারও আছে। হয়তোবা শেষ এশিয়া কাপ জিতলে এই ধরনের টুর্নামেন্ট কীভাবে জিততে হয় এটার অভ্যাস হতো। এর আগে সেমিফাইনাল, কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা হয়েছে। এশিয়া কাপে তিনবার ফাইনালে উঠেও ট্রফি জিততে পারিনি। বিশ্বকাপ জেতা খুব কঠিন,  কিন্তু অসম্ভব বলবো না।
তাসকিনকে নিয়ে ভাবনা
কোচ মনে করেছেন অতিরিক্ত কিছু পেসার সঙ্গে রাখা। যদি আল্লাহ না করুক কোনো সমস্যা হয়। যেহেতু তিন চারজনের চোট আছে। আয়ারল্যান্ডে গিয়েও পাঁচটা ম্যাচ খেলতে হবে যদি ফাইনালে উঠি। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে একজন ব্যাকআপে আছে আর ওই কন্ডিশনে গিয়ে  তৈরি আছে। 
সাব্বির-সৌম্য-লিটনরা স্বাধীন 
আপনারা দেখেছেন তামিমকে আমরা যে ভূমিকা দিয়েছি লম্বা সময় ব্যাট করার, ও লম্বা সময় ব্যাট করলে আমাদের রানটা বড় হয়। ও এখন ফোকাস করে ৪০ ওভার  ব্যাট করার।  তামিমকে যখন এই ভূমিকা দিচ্ছি তখন বাকিদের লিটন বা সৌম্যকে, সাব্বির ওই স্বাধীনতা দিতে হয় যাতে শটস খেলতে পারে। আপনি যদি দেখেন বীরেন্দর সেওয়াগ বা গিলক্রিস্টরা কীভাবে মারতো। কিন্তু ওদের ধারাবাহিকতা ছিল। ওদেরকেও এটা এডজাস্ট করতে হবে। ওরা যদি পারফর্ম করতে পারে তাহলে দলের জন্য ভালো হবে।  

নভোএয়ার কাপ গলফ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত
                                  

বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ

মানবাধিকার ডেস্ক:
চট্টগ্রামের শাহীন গলফ এন্ড কান্ট্রি ক্লাবে অনুষ্ঠিত নভোএয়ার কাপ গলফ টুর্নামেন্টের বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। গত ১৮ জানুয়ারী সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহীন গলফ ও কাউন্ট্রি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ও বিএএফ জহুরুল হক ঘাঁটির এয়ার অফিসার কমান্ডিং- এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ মফিদুর রহমান, বিএসপি, বিইউপি, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নভোএয়ার এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান।
প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথি বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। নভোএয়ার এর পৃষ্ঠপোষকতায় শাহীন গলফ এন্ড কান্ট্রি ক্লাব এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করে।
দুই দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টে৪টিবিভাগে প্রায় ১৯৩ গলফার অংশ নেন। টুর্নামেন্টের বিজয়ী হিসেবে ক্যাপ্টেন মনজুরুল হোসেন খান, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট আর এম সালমান আলী, আনোয়ার সাজ্জাদ লিপন, লেডিস উইনার হিসেবে মিসেস ফেরদৌসী সালেহ এবং জুনিয়র উইনার হিসেবে মাহিবা মাহাসিন উদ্দিন পুরস্কার গ্রহন করেন। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শাহীন গলফ এন্ড কান্ট্রি ক্লাবসহ অন্যান্য গলফ ক্লাব ও নভোএয়ার এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। নভোএয়ার সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই দেশের ক্রীড়ান্নোয়নে গলফ ছাড়াও ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, হকি খেলাসহ অন্যান্য খেলাধূলার উন্নয়নে কাজ করে আসছে। সূচনালগ্ন থেকেই নভোএয়ার বিভিন্ন গলফটুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। খবর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।

ফিরে দেখা : আন্তর্জাতিক ফুটবল ২০১৮
                                  




আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্বকাপের বছরে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনের বাকি সবই একপ্রকার গৌণ। সব মনোযোগ কেড়ে নেওয়া সেই বিশ্ব আসর বসেছিল এ বছর রাশিয়ায়, যেখানে ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে ফ্রান্স। এ দলটির হয়ে আগামীর বিশ্ব ফুটবলে দাপুটে একজন হয়ে ওঠার ছাপ রেখেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফ্রান্স এবং এক ফরাসির উত্থানের বছরে অনন্য এক নজির গড়েছেন লুকা মডরিচ। বিগত এক দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলের সেরার পুরস্কারটি ভাগাভাগি করে নিচ্ছিলেন লিওনেল মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এবার তাদের রাজত্বে হানা দিয়ে ব্যালন ডি`অর, ফিফা দ্য বেস্টসহ সেরার সব পুরস্কারই বাগিয়ে নিয়েছেন রিয়ালে খেলা ক্রোয়েশিয়া অধিনায়ক। এ ছাড়া বিশ্বকাপের ডামাডোলের মধ্যেও দল বদলিয়ে ঢেউ তুলেছিলেন রোনালদো, নয় বছরের অবস্থান শেষে রিয়াল ছেড়ে চলে গেছেন ইতালির জুভেন্তাসে। তারকা ফুটবলারদের মধ্যে মেসির জন্য বছরটি ছিল মিশ্র অনুভূতির। ক্লাবের হয়ে লা লীগা, কোপা দেল জিতেছেন, ছন্দে আছেন চলতি মৌসুমেও। কিন্তু আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ ভালো যায়নি, পরবর্তীতে আর জাতীয় দলের জার্সিতে ফেরেনওনি। নেইমার বছরের শুরুর দিকে ছিলেন চোটে, বিশ্বকাপে ফিরে ভালো খেললেও অতি অভিনয়ের কারণে হয়েছেন সমালোচিত। বছর শেষে তার নাম এখন অনেকটাই পেছনে। এ ছাড়া মে মাসে লিভারপুলকে হারিয়ে রিয়ালের হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা, ২২ বছর পর আর্সেন ওয়েঙ্গারের আর্সেনাল ত্যাগের ঘটনাও ছিল আলোচনার শীর্ষে। সেসব কিছুই ফিরে দেখা এ সালতামামি পর্বে ...

ব্যালন ডি`অর

বছরের শেষ পুরস্কার ব্যালন ডি`অরেও পড়েছে মডরিচের হাতের ছোঁয়া। লিওনেল মেসির তিনে না থাকা নিয়ে বিতর্ক হলেও তার পুরস্কার পাওয়া নিয়ে কোনো কথা হয়নি। ব্যালন ডি`অর ঘোষণার আগেই অনেকে ধরে নিয়েছিলেন এবার মডরিচে ভাঙবে পুরনো সব রীতি। বাস্তবে সেটাই হলো, প্যারিসের সব আলো কেড়ে নেন মডরিচ। হানা দেন রোনালদো-মেসির আধিপত্যে। ক্যারিয়ারে প্রথমবার এত বড় একটা পদক জেতেন লুকা। তালিকায় থাকা একঝাঁক নামিদামি তারকাকে পাশ কাটিয়ে যেন সোনার হরিণ শিকার করেন তিনি। প্রতিযোগিতায় ৭৫৩ পয়েন্ট নিয়ে এই পুরস্কার উঁচিয়ে ধরেন মডরিচ। তার পরে দুইয়ে থাকা ক্রিশ্চিয়ানোর পয়েন্ট ৪৭৮। তিন নম্বর অবস্থানে ছিলেন ফ্রান্সের অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ স্টার গ্রিজম্যান। তিনি পান ৪১৪ পয়েন্ট। বাকিদের পয়েন্ট প্রাপ্তির পাল্লাটা খুব একটা ভারী ছিল না।

 

ফিফার বর্ষসেরা

ফিফার বর্ষসেরা `দ্য বেস্ট` পুরস্কারও উঠে মডরিচের হাতে। এই ক্যাটাগরিতেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও মোহামেদ সালাহকে হারিয়ে সেরার তকমা নিজের দখলে নেন মডরিচ। সবচেয়ে বেশিবার বর্ষসেরা হওয়া মেসি ছিলেন তালিকার আরও পরে। ক্রোয়াটদের হয়ে এত বছর কেউ পারেনি এই কীর্তিতে নাম লেখাতে। তবে কেউ না পারলেও মডরিচ ঠিকই পেরেছেন। প্রথম কোনো ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলার হিসেবে ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কার জিতেছেন। মূলত রাশিয়া বিশ্বকাপে দেশকে ফাইনালে ওঠাতে চোখজুড়ানো পারফর্মের সুবাদে এই খেতাব পান তিনি। বিশ্বকাপের আগে যে ক্রোয়েশিয়াকে কেউ খুব একটা পাত্তা দেয়নি, রাখেনি ফেভারিটদের কাতারে। লুকার নেতৃত্বে তারাই কি-না বিশ্বকে চমকে দেন। লেখেন নতুন রূপকথার গল্প। কেবল দলনেতা হিসেবে নয়, পুরো মাঠে বল পায়ে প্রতিপক্ষকে বেশ ভুগিয়েছেন এই মডরিচ।

 

বছরজুড়ে মডরিচ

এমন একটা বছর আসবে ভাবিনি কখনও, বোধ হয় এটাই আমার ক্যারিয়ারের সেরা বছর। সারাজীবন মনে থাকবে ২০১৮ কে- সর্বশেষ খেতাব ব্যালন ডি`অর জেতার পর চোখেমুখে দারুণ রোমাঞ্চ নিয়ে এমন কথাই বলেছিলেন লুকা মডরিচ।

সত্যিই স্বপ্নের মতো একটা বছর ছিল। ক্লাব বলি আর জাতীয় দল- দুই অঙ্গনেই হিরো যে মডরিচ। পুরো বছরজুড়ে একের পর এক পুরস্কার হাতে তুলেছেন। ছোট-বড় মিলিয়ে যার সংখ্যা ১৫ ছুঁয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য পুরস্কারের মধ্যে ছিল- উয়েফা ও ফিফার বর্ষসেরা মুকুট, বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় এবং ব্যালন ডি`অর খেতাব।

তবু মডরিচের পারফর্ম হয়তো অনেকের কাছে দৃষ্টিগোচর হয়নি। যে কারণে তার এত এত পুরস্কার পাওয়া নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্নও করেছেন। তবে সাদা চোখে বিষয়টি একটু খটকা লাগলেও তিনি যে মাঝমাঠের কারিগর, অস্বীকার করার উপায় নেই। পুরো বছরে গোল করেছেন তিনটি। কেবল গোল করা নিয়ে সব কিছু বিচার-বিবেচনা হয় না বলেই মডরিচ এবারের দ্য বেস্ট। ক্রোয়েশিয়ান এই ফুটবল জাদুকরের মাঠের দক্ষতা নিয়ে বলতে গিয়ে নিজের এক নিবন্ধে উয়েফার টেকনিক্যাল টিমের ফুটবলবোদ্ধা জেরার্ড লিখেছিলেন, `মডরিচ আহামরি কোনো পরিশ্রম করে না। তবে সে খুবই তীক্ষষ্ট বুদ্ধিসম্পন্ন। মাঝমাঠে বল পায়ে চমৎকার সব নৈপুণ্য দিয়ে প্রতিপক্ষকে ভড়কে দিতে ভালোই পারে।`

 

উয়েফার বর্ষসেরা

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, অ্যান্তোনিও গ্রিজমনসহ ১০ তারকা খেলোয়াড় প্রাথমিক তালিকায় স্থান পান। সেখান থেকে সবাইকে পেছনে ফেলে নাম্বার ওয়ান পজিশন লুফে নেন মডরিচ। ৩১৩ পয়েন্ট নিয়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো জিতে নেন উয়েফার প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার পুরস্কার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা রোনালদো পান ২২৩ পয়েন্ট আর মিসরের মোহামেদ সালাহ ১৩৪। বাকিদের কেউই একশ`র ঘরে পা রাখতে পারেননি। যে পুরস্কার এতদিন ছিল মেসি-রোনালদোদের দখলে। সবচেয়ে বেশি- তিনবার জিতেছেন ক্রিশ্চিয়ানো। বার্সা স্টার মেসির শোকেসে গেছে দু`বার। একবার জেতেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। এবার সেখানে ভাগ বসান মডরিচ। এ বছর তার উয়েফা সেরা হওয়ার পেছনে ছিল রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জেতা। ইউরোপ সেরার মিশনে লস ব্লাঙ্কোসদের জার্সিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন তিনি।

 

 

 

 

বিশ্বকাপ ফুটবল রাশিয়া-২০১৮
                                  

খেলাধুলা
বিশ্বকাপ ফুটবল রাশিয়া-২০১৮
যে দেশে গরিবের গায়ে ঈেেদর পোশাক জোটেনা, সে দেশে উড়ে হাজারো ভিনদেশী পতাকা
॥ আছিয়া আক্তার স্বপ্না॥
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুটবল-প্রেমিদের মনে উঠে এসেছে আনন্দের জোয়ার । বিশ্বকাপ এলেই দেখা যায় বাংলাদেশের ফুটবল প্রেমিকদের তুফান । আকাশে উড়তে থাকে নানা রঙের ভিন্ন দেশের পতাকা ।
বাঙালিরা একটু বেশি সাংস্কৃতিক ও সাচ্ছন্দ্য প্রিয়। বিশ্বকাপ সামনে এলে দেখা যায় বিভিন্ন দলের সমর্থকরা পতাকা তৈরী করছেন তাদের নিজ জায়গা জমি বিক্রি করে। বাড়ির রঙ করছে প্রিয় সমর্থন দলের পতাকায় ।
কিন্তু কথা হচ্ছে এটা কতটা যুক্তি সংগত ?। যে দেশে গরিবরা সচ্ছলভাবে জীবন যাপন করতে অক্ষম, ঈদে নতুন পোশাক কেনাকাটা তাদের কাছে দুস্কর । সেই দেশের লোকেরা তাদের অর্থ ব্যয় করছে ভিন্ন দেশের পতাকা ক্রয়ে।
কিন্তু কেন ? বাংলাদেশ ছাড়া আমরা কি পারছি অন্য কোনো দেশে গিয়ে আমাদের দেশের পতাকা উওোলন করতে?
না, পারছিনা । তবে আমাদের কেন এতো জোয়ার ? মানব কল্যানে অসহায় ও হত দরীদ্রদের পাশে থেকে এমন কিছু করা উচিত যাতে বাংলাদেশে সচ্ছল ও উন্নত রাষ্ট্র হিসিবে পরিচিতি পায়, যাতে আমরা সম্মানের সহিত আমাদের পতাকা উত্তোলন করতে পারি।
রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ালেন ফুটবলার এমেকা
॥মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন॥
কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখতে গিয়েছেন বিশ্বকাপ ফুটবলে নাইজেরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করা এমেকা ইউজিগো। ৭ মে সকালে ঢাকার হাতিরপুলে পিকামলি সেন্টার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে রওয়ানা দেন তিনি।ওয়ার্ল্ড ফুটবলারস্ ফোরামের আহ্বায়ক ড. আব্দুল ওয়াদুদের আমন্ত্রণে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে দাঁড়াতে আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন এমেকা ইউজিগো।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের অর্থ সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহে তিনি মাঠে নেমেছেন । তার এই উদ্যোগের সঙ্গে রয়েছে ওয়ার্ল্ড ফুটবলারস ফোরাম। বিপন্ন ও মানবতার পাশে দাঁড়াতে সবার সহমর্মিতা নিতে কলকাতা হয়ে সড়ক পথে দৌড়ে ঢাকায় আসেন এমেকা। ঢাকা থেকে দৌড়ে কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্যাম্পে যাবেন তিনি।
দু’টি প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের কথাও জানান এমেকা। রোহিঙ্গাদের সাহায্য করতে ইতালির সাবেক ফুটবলার এবং নাইজেরিয়ার সাবেক ফুটবলারদের নিয়ে প্রতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের কথাও জানান এই নাইজেরিয়ান। এছাড়াও ভারতের মাটিতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য ফান্ড আয়োজনের কথা জানান এমেকা।


   Page 1 of 3
     খেলাধুলা
বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড
.............................................................................................
বাংলাদেশের যে তিন ভুলে সেমিতে খেলা হলো না
.............................................................................................
আফগানদের উড়িয়ে টাইগারদের দাপুটে জয়
.............................................................................................
বাংলাদেশ বিশ্বকাপের মূল বাছাইপর্বে
.............................................................................................
বিশ্বকাপের ১২তম আসরের চতুর্থ ম্যাচে আজ মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তান
.............................................................................................
আজ মুখোমুখি ইংল্যান্ড-দঃ আফ্রিকা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে
.............................................................................................
ক্রিকেটে ভিন্ন বাংলাদেশকে দেখবে বিশ্ব’
.............................................................................................
ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
.............................................................................................
ভয়ে দেশে ফিরছেন না প্রথম ইরানি নারী বক্সার
.............................................................................................
বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের ম্যাচ পরিত্যক্ত: পয়েন্ট ভাগাভাগি
.............................................................................................
পথশিশু বিশ্বকাপে সেমিতে বাংলাদেশ
.............................................................................................
টাইগারদের জার্সিতে আবারও পরিবর্তন
.............................................................................................
বড় স্বপ্ন নিয়েই শেষ বিশ্বকাপে মাশরাফি
.............................................................................................
নভোএয়ার কাপ গলফ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
ফিরে দেখা : আন্তর্জাতিক ফুটবল ২০১৮
.............................................................................................
বিশ্বকাপ ফুটবল রাশিয়া-২০১৮
.............................................................................................
কচিকাঁচার ফুটবল উৎসব
.............................................................................................
দুদকের শুভেচ্ছা দূত সাকিব
.............................................................................................
রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদ সিদ্দিকুরের
.............................................................................................
সাফজয়ী ফুটবলারদের সংবর্ধনা প্রধানমন্ত্রীর
.............................................................................................
আদালতের রায়ে গেইল নির্দোষ
.............................................................................................
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে সাকিব
.............................................................................................
শুরুতেই ফিরে গেছেন টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল
.............................................................................................
জবান রাখলেন মাশরাফি
.............................................................................................
সিরিজ জয়ে টাইগারদের দরকার ২৮১
.............................................................................................
টাইগারদের টার্গেট ৪৫৯
.............................................................................................
প্রথম দিনের ৪০ ওভারে দেড়’শ করলো বাংলাদেশ
.............................................................................................
টাইগারদের হারিয়ে ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় কিউইরা
.............................................................................................
সম্মাননা পেলেন মার্কেন্টাইল ব্যাংকের এমডি
.............................................................................................
সৌদি আরবে শাখা খোলার অনুমোদন পেয়েছে এসআইবিএল ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক
.............................................................................................
ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্রাইডাল মেলা
.............................................................................................
২০ হাজার গ্রামের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে ইসলামী ব্যাংক
.............................................................................................
জাতীয় সংসদে ওঠছে ২ জুন আসছে ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার বাজেট
.............................................................................................
দাম বাড়ল ছোলা-চিনি-রসুনের রমযানকে ঘিরে তৎপর অসাধূ ব্যবসায়ীরা
.............................................................................................
প্রাইম ব্যাংকের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
ইসলামী ব্যাংকের সভা অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
দুদিনের ডেনিম এক্সপো শুরু বাংলাদেশের ডেনিম কাপড় ও পোশাকে বৈচিত্র্য বাড়ছে
.............................................................................................
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
রানার মোটরস লিমিটেডের ডিলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

Editor & Publisher: Rtn. Md Reaz Uddin
Corporate Office
53,Modern mansion(8th floor),Motijheel C/A, Dhaka
E-mail:manabadhikarkhabar34@gmail.com,manabadhikarkhabar34@yahoo.com,
Tel:+88-02-9585139
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-9585140
    2015 @ All Right Reserved By manabadhikarkhabar.com    সম্পাদকীয়    Adviser List

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]