| বাংলার জন্য ক্লিক করুন

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   পর্যটন -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
বেড়ানো দিল্লীর কুতুব মিনার


দিল্লীর কুতুব মিনারটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে। কুতুবউদ্দিন আইবেক এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। লাল বেলেপাথরে নির্মিত ২৩৮ ফুট উচ্চতার এ মিনার এখন পর্যন্ত বিশ্বের সর্বোচ্চ পাথর নির্মিত মিনার বা স্তম্ভ বলে স্বীকৃত। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিও পেয়েছে। লাল বেলেপাথরের কুতুব মিনারটি দেখে সত্যিই অবাক হই। কেবল পাথর দিয়েই ২৩৮ ফুট উচ্চতার এ স্তম্ভটি তৈরি হয়েছিল প্রায় সাড়ে ৮০০ বছর আগে। আর এখন পর্যন্ত এটিই পাথর নির্মিত বিশ্বের সর্বোচ্চ মিনার বা স্তম্ভ বলে স্বীকৃত। এ মিনারের পাদদেশেই দিল্লি সফরের এক দুপরে হাজির হই। সঙ্গে ছিল আমার পরিবার ও দিল্লীবাসী সুজিত মন্ডল। মিনারের আশপাশে আছে আরও অনেক প্রাচীন স্থাপনা। সব মিলিয়ে কুতুব কমপ্লেক্স। ইনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিও পেয়েছে এ কমপ্লেক্স।

টিকিট কেটে কমপ্লেøক্সে ঢুকতেই আছে বড় একটি গেট। এ গেটের নাম আলাই দরজা। ছোট-বড় পাথরের মিশেলে ১৩১১ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত এ গেট অনেকটা মসজিদের গেটের মতো। ধারণা করা হয় এ কমপ্লেøক্সে প্রবেশ করার জন্য এই গেটই প্রধান দরজা হিসেবে ব্যবহূত হতো, সে জন্য এর নাম আলাই দরজা। আলাই দরজা পার হয়ে সামনে এগোই আমরা। প্রথমেই আসি কুতুব মিনারের পাদদেশে। ইতিহাস থেকে জানি, কুতুবউদ্দিন আইবেক ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে এ মিনারের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। পরবর্তী সময় ইলতুতমিশের রাজত্বকালে (১২১১-৩৮) মিনারের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। তারপর বেশ কয়েক বছর পর আলাউদ্দিন খিলজির রাজত্বকালে (১২৯৬-১৩১৬) মিনারের প্রাঙ্গণের নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ হয়। নির্মাণের অনেক বছর পর বজ্রপাতে মিনারের কিছুটা ক্ষতি হয়, তবে পরবর্তীতে তা সংস্কারও করা হয়। কুতুবউদ্দিন আইবেক ছিলেন মধ্যযুগীয় ভারতের একজন তুর্কি শাসক।

দিল্লির প্রথম সুলতান ও গোলাম বা মামলুক সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। সুলতান হিসেবে তিনি ১২০৬ থেকে ১২১০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসন করেন। অবশ্য তার জন্ম কোথায় তা জানা যায়নি। ধারণা করা হয় মধ্য এশিয়ার কোনো এক স্থানে তার জন্ম। তার পূর্ব পুরুষরা ছিলেন তুর্কি। শিশু বয়সেই তাকে দাস হিসেবে বিক্রি করা হয় ইরানের খোরাসান অঞ্চলের নিসাপুরের প্রধান কাজী সাহেবের কাছে। কাজী মারা গেলে কাজীর ছেলে কুতুবউদ্দিন আইবেককে আবারও বিক্র করেন গজনির গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ ঘুরির কাছে। নিচ থেকে মিনারের ওপরের দিকে তাকিয়ে সত্যিই বিস্মিত হই। বেলেপাথরের এ উঁচু মিনারটি কেবল মিনারই নয়, নান্দনিক কারুকার্যের স্তম্ভও বটে। মিনারটির নিচের অংশের ব্যাস ৪৭ ফুট। আর একেবারে ওপরের অংশের ব্যাস ৯ ফুট। গোলাকার এ মিনারের চারপাশে লাল বেলেপাথরে খোদাই করা আরবি ক্যালিগ্রাফি বা কোরআনের আয়াত লেখা। আবার এ ক্যালিগ্রাফির ওপর ও নিচে আছে বেলেপাথরেরই খোদাই করা বিভিন্ন নকশা। এসব নকশার মধ্যে আছে ফুল, পাতা ও বিভিন্ন জ্যামিতিক অবয়ব। দূর থেকে দেখলে এ নকশাগুলোকে ক্যালিগ্রাফির ফ্রেমের মতোই দেখায়। মিনারের নিচ থেকে কিছুটা পর পরই মিনারের চারপাশে এ ক্যালিগ্রাফি ও নকশা। ক্যালিগ্রাফি ও নকশা ছাড়াও মিনারের চারটি স্তরে বারান্দা বা বেলকুনির মতো জায়গা আছে। সেই সঙ্গে আছে জানালা। আর মিনারের ভিতর দিয়ে ওপরে উঠার সিঁড়িও আছে। তবে এ সিঁড়ি দর্শনার্থীরা ব্যবহার করতে পারেন না। অবশ্য মিনারের পাদদেশের চারপাশে স্টিলের রেলিং দেওয়া আছে, যাতে দর্শনার্থীরা মিনারের দেয়াল ধরতে না পারেন।

বিস্ময়ের কুতুব মিনার থেকে আসি কুব্বত-উল-ইসলাম মসজিদ প্রাঙ্গণে। মূলত এটি মসজিদের ধ্বংসপ্রাপ্ত অংশ। ধ্বংসপ্রাপ্তের পরও মসজিদটির মূল গেটের অনেকটা এখনো অক্ষত। এ গেটের দেয়ালজুড়েই আছে পাথরের খোদাই করা আরবি ক্যালিগ্রাফি ও নানা ধরনের জ্যামিতিক নকশা। রাজপুতদের ওপর বিজয়ের স্মারক হিসেবে কুতুবউদ্দিন আইবেক ১১৯৩ খ্রিস্টাব্দে এ মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন।

মসজিদটির মূল গেটের সামনে খোলা প্রাঙ্গণ। আর পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে আছে একতলা সমপরিমাণ স্থাপনা। পাথরে খোদাই করা নকশি খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে আছে এ স্থাপনা। এর ছাদও দেওয়া হয়েছে বড় বড় পাথর কেটে। প্রতিটি খুঁটির চারপাশেই আছে নকশি কারুকাজ। সত্যি বিস্ময় জাগে এতদিন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা নান্দনিক নকশার এসব খুঁটির স্থাপনা দেখে। মসজিদের গেটের সামনে লোহার একটি স্তম্ভ দেখি। এটিকে দিল্লির লৌহ স্তম্ভ বলে। এর উচ্চতা ২৩.৭ ফুট। এ স্তম্ভেরও রয়েছে ইতিহাস। কথিত সে ইতিহাস থেকে জানি, ৪০২ খ্রিস্টাব্দে গুপ্ত সাম্রাজ্যের উদয়গিরিতে এ স্তম্ভ প্রথম স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে ১২৩৩ খ্রিস্টাব্দে এটি বর্তমান স্থানে আনা হয়। স্তম্ভটির নিচের অংশের ব্যাস ১৭ ইঞ্চি ও ওপরের অংশের ব্যাস ১২ ইঞ্চি। স্তম্ভটির গায়ে ব্রাহ্মী লিপিতে লেখা আছে এর ইতিহাস। এছাড়া মসজিদের খোলা প্রাঙ্গণে তিনটি সমাধিও আছে। মসজিদ প্রাঙ্গণ ছেড়ে এবার আসি কুতুব কমপ্লেøক্সের আরেক বিস্ময় আলাউদ্দিন খিলজির মাদ্রাসা ভবনে। অনেক কক্ষ নিয়ে এ মাদ্রাসা ভবন। অবশ্য এ ভবনও ধ্বংসপ্রাপ্ত। নানা আকৃতির ছোট-বড় পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এ মাদ্রাসা ভবন। এটা দেখে আবারও বিস্মিত হই সে সময়কার মানুষের নির্মাণ দক্ষতার কথা ভেবে। মাদ্রাসা ভবনের পাশে আছে আলাউদ্দিন খিলজির সমাধি। এর পাশেই আছে ইলতুতমিশের সমাধি ভবন। এ সমাধি ভবনের দেয়াল ও দরজায়ও আছে পাথরে খোদাই করা আরবি ক্যালিগ্রাফি ও নান্দনিক নকশার কারুকাজ।

খিলজির সমাধির পাশে আরও আছে আলাই মিনারের অসমাপ্ত স্তূপ। এ মিনারটির কিছুটা নির্মাণ হলেও পরে আর তা সমাপ্ত হয়নি। অসমাপ্ত এ মিনারের পাশে অব্যবহূত একটি কূপও আছে। এছাড়াও কমপ্লেøক্সের ভিতর দেখি আরও কয়েকটি সমাধি।
যেভাবে যাবেন

বাস, ট্রেন বা বিমানে কলকাতা। শিয়ালদহ বা হাওড়া স্টেশন থেকে রাজধানী এক্সপ্রেস বা দূরন্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে যাওয়া যাবে দিল্লিø। চাইলে কলকাতা থেকে বিমানেও দিল্লি যেতে পারবেন। দিল্লি শহরের যে কোনো স্থান থেকেই ট্যাক্সিতে যেতে পারবেন কুতুব মিনার। এছাড়া দিল্লি শহরের অনেক স্থানে মেট্রোরেলের যাতায়াত আছে। চাইলে মেট্রোরেলে কুতুব মিনার স্টেশনে নেমে সেখান থেকে হেঁটে কুতুব মিনার যাওয়া যাবে।

যেখানে থাকবেন

দিল্লি শহরজুড়েই আছে পাঁচ তারকাসহ নানা মানের হোটেল। অনেক বেশি হোটেল পাবেন পাহাড়গঞ্জ এলাকায়। এটা দিল্লিøর পুরোনো শহর বা বাজার। এখানে নানা মানের হোটেল আছে। ভাড়া ৬০০ রুপি থেকে শুরু করে ৬ হাজার রুপি পর্যন্ত। মোটামুটি মানের হোটেল ৬০০ বা ৮০০ বা ১ হাজার রুপিতে পাবেন এবং দুইজন থাকতে পারবেন ভালোভাবে

খাওয়া-দাওয়া

পাহাড়গঞ্জ এলাকায় ছোট-বড় নানা মানের রেস্টুরেন্ট আছে। সাদাভাত, বিরিয়ানি, মাছ, মাংস, শাক-সবজি সবই পাবেন। ১৫০ থেকে ২০০ রুপিতে থালি প্যাকেজ পাবেন। এক থালিতে ভাত, ডাল, সবজি, সালাদ থাকে। ২০০ বা ২৫০ রুপির মধ্যে মাছ-মাংসও পাবেন।

কেনাকাটা

ভারতের রাজধানী শহর দিল্লিø। তাই শহরজুড়েই আছে ছোট-বড় অসংখ্য শপিং মল। আর এসব শপিং মলে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী পণ্যগুলো পাবেন। বিশেষ করে পাবেন দার্জিলিংয়ের চা, কাশ্মীরের রেশমি কাপড়, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ বা বিভিন্ন রাজ্যের তাঁতের কাপড়। আর পাবেন নানা স্বাদের চকোলেট। এক দামের দোকান ছাড়া দরাদরি কেরে কেনার সুযোগও আছে। তবে যেখানে এক দাম সেখানে দরাদরি করতে যাবেন না।

প্যাকেজ ব্যবস্থাঃ

ঢাকা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেল্সসহ বিভিন্ন ট্যুরিজম কোম্পানী সারা বছর ট্যুরস প্যাকেজ ব্যবস্থা করে থাকেন।

যোগাযোগঃ
ঢাকা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেল্স ৫৩ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ ০২৯৫৮৫১৪০, মোবাঃ +৮৮০ ১৯৭৯ ৮৭৪০৪২,
+৮৮০ ১৯৭৮ ৮৮২২২৩ +৮৮০ ১৯৭৮ ৮৮২ ২২৩

বেড়ানো দিল্লীর কুতুব মিনার
                                  


দিল্লীর কুতুব মিনারটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে। কুতুবউদ্দিন আইবেক এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। লাল বেলেপাথরে নির্মিত ২৩৮ ফুট উচ্চতার এ মিনার এখন পর্যন্ত বিশ্বের সর্বোচ্চ পাথর নির্মিত মিনার বা স্তম্ভ বলে স্বীকৃত। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিও পেয়েছে। লাল বেলেপাথরের কুতুব মিনারটি দেখে সত্যিই অবাক হই। কেবল পাথর দিয়েই ২৩৮ ফুট উচ্চতার এ স্তম্ভটি তৈরি হয়েছিল প্রায় সাড়ে ৮০০ বছর আগে। আর এখন পর্যন্ত এটিই পাথর নির্মিত বিশ্বের সর্বোচ্চ মিনার বা স্তম্ভ বলে স্বীকৃত। এ মিনারের পাদদেশেই দিল্লি সফরের এক দুপরে হাজির হই। সঙ্গে ছিল আমার পরিবার ও দিল্লীবাসী সুজিত মন্ডল। মিনারের আশপাশে আছে আরও অনেক প্রাচীন স্থাপনা। সব মিলিয়ে কুতুব কমপ্লেক্স। ইনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিও পেয়েছে এ কমপ্লেক্স।

টিকিট কেটে কমপ্লেøক্সে ঢুকতেই আছে বড় একটি গেট। এ গেটের নাম আলাই দরজা। ছোট-বড় পাথরের মিশেলে ১৩১১ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত এ গেট অনেকটা মসজিদের গেটের মতো। ধারণা করা হয় এ কমপ্লেøক্সে প্রবেশ করার জন্য এই গেটই প্রধান দরজা হিসেবে ব্যবহূত হতো, সে জন্য এর নাম আলাই দরজা। আলাই দরজা পার হয়ে সামনে এগোই আমরা। প্রথমেই আসি কুতুব মিনারের পাদদেশে। ইতিহাস থেকে জানি, কুতুবউদ্দিন আইবেক ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে এ মিনারের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। পরবর্তী সময় ইলতুতমিশের রাজত্বকালে (১২১১-৩৮) মিনারের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। তারপর বেশ কয়েক বছর পর আলাউদ্দিন খিলজির রাজত্বকালে (১২৯৬-১৩১৬) মিনারের প্রাঙ্গণের নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ হয়। নির্মাণের অনেক বছর পর বজ্রপাতে মিনারের কিছুটা ক্ষতি হয়, তবে পরবর্তীতে তা সংস্কারও করা হয়। কুতুবউদ্দিন আইবেক ছিলেন মধ্যযুগীয় ভারতের একজন তুর্কি শাসক।

দিল্লির প্রথম সুলতান ও গোলাম বা মামলুক সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। সুলতান হিসেবে তিনি ১২০৬ থেকে ১২১০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসন করেন। অবশ্য তার জন্ম কোথায় তা জানা যায়নি। ধারণা করা হয় মধ্য এশিয়ার কোনো এক স্থানে তার জন্ম। তার পূর্ব পুরুষরা ছিলেন তুর্কি। শিশু বয়সেই তাকে দাস হিসেবে বিক্রি করা হয় ইরানের খোরাসান অঞ্চলের নিসাপুরের প্রধান কাজী সাহেবের কাছে। কাজী মারা গেলে কাজীর ছেলে কুতুবউদ্দিন আইবেককে আবারও বিক্র করেন গজনির গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ ঘুরির কাছে। নিচ থেকে মিনারের ওপরের দিকে তাকিয়ে সত্যিই বিস্মিত হই। বেলেপাথরের এ উঁচু মিনারটি কেবল মিনারই নয়, নান্দনিক কারুকার্যের স্তম্ভও বটে। মিনারটির নিচের অংশের ব্যাস ৪৭ ফুট। আর একেবারে ওপরের অংশের ব্যাস ৯ ফুট। গোলাকার এ মিনারের চারপাশে লাল বেলেপাথরে খোদাই করা আরবি ক্যালিগ্রাফি বা কোরআনের আয়াত লেখা। আবার এ ক্যালিগ্রাফির ওপর ও নিচে আছে বেলেপাথরেরই খোদাই করা বিভিন্ন নকশা। এসব নকশার মধ্যে আছে ফুল, পাতা ও বিভিন্ন জ্যামিতিক অবয়ব। দূর থেকে দেখলে এ নকশাগুলোকে ক্যালিগ্রাফির ফ্রেমের মতোই দেখায়। মিনারের নিচ থেকে কিছুটা পর পরই মিনারের চারপাশে এ ক্যালিগ্রাফি ও নকশা। ক্যালিগ্রাফি ও নকশা ছাড়াও মিনারের চারটি স্তরে বারান্দা বা বেলকুনির মতো জায়গা আছে। সেই সঙ্গে আছে জানালা। আর মিনারের ভিতর দিয়ে ওপরে উঠার সিঁড়িও আছে। তবে এ সিঁড়ি দর্শনার্থীরা ব্যবহার করতে পারেন না। অবশ্য মিনারের পাদদেশের চারপাশে স্টিলের রেলিং দেওয়া আছে, যাতে দর্শনার্থীরা মিনারের দেয়াল ধরতে না পারেন।

বিস্ময়ের কুতুব মিনার থেকে আসি কুব্বত-উল-ইসলাম মসজিদ প্রাঙ্গণে। মূলত এটি মসজিদের ধ্বংসপ্রাপ্ত অংশ। ধ্বংসপ্রাপ্তের পরও মসজিদটির মূল গেটের অনেকটা এখনো অক্ষত। এ গেটের দেয়ালজুড়েই আছে পাথরের খোদাই করা আরবি ক্যালিগ্রাফি ও নানা ধরনের জ্যামিতিক নকশা। রাজপুতদের ওপর বিজয়ের স্মারক হিসেবে কুতুবউদ্দিন আইবেক ১১৯৩ খ্রিস্টাব্দে এ মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন।

মসজিদটির মূল গেটের সামনে খোলা প্রাঙ্গণ। আর পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে আছে একতলা সমপরিমাণ স্থাপনা। পাথরে খোদাই করা নকশি খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে আছে এ স্থাপনা। এর ছাদও দেওয়া হয়েছে বড় বড় পাথর কেটে। প্রতিটি খুঁটির চারপাশেই আছে নকশি কারুকাজ। সত্যি বিস্ময় জাগে এতদিন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা নান্দনিক নকশার এসব খুঁটির স্থাপনা দেখে। মসজিদের গেটের সামনে লোহার একটি স্তম্ভ দেখি। এটিকে দিল্লির লৌহ স্তম্ভ বলে। এর উচ্চতা ২৩.৭ ফুট। এ স্তম্ভেরও রয়েছে ইতিহাস। কথিত সে ইতিহাস থেকে জানি, ৪০২ খ্রিস্টাব্দে গুপ্ত সাম্রাজ্যের উদয়গিরিতে এ স্তম্ভ প্রথম স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে ১২৩৩ খ্রিস্টাব্দে এটি বর্তমান স্থানে আনা হয়। স্তম্ভটির নিচের অংশের ব্যাস ১৭ ইঞ্চি ও ওপরের অংশের ব্যাস ১২ ইঞ্চি। স্তম্ভটির গায়ে ব্রাহ্মী লিপিতে লেখা আছে এর ইতিহাস। এছাড়া মসজিদের খোলা প্রাঙ্গণে তিনটি সমাধিও আছে। মসজিদ প্রাঙ্গণ ছেড়ে এবার আসি কুতুব কমপ্লেøক্সের আরেক বিস্ময় আলাউদ্দিন খিলজির মাদ্রাসা ভবনে। অনেক কক্ষ নিয়ে এ মাদ্রাসা ভবন। অবশ্য এ ভবনও ধ্বংসপ্রাপ্ত। নানা আকৃতির ছোট-বড় পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এ মাদ্রাসা ভবন। এটা দেখে আবারও বিস্মিত হই সে সময়কার মানুষের নির্মাণ দক্ষতার কথা ভেবে। মাদ্রাসা ভবনের পাশে আছে আলাউদ্দিন খিলজির সমাধি। এর পাশেই আছে ইলতুতমিশের সমাধি ভবন। এ সমাধি ভবনের দেয়াল ও দরজায়ও আছে পাথরে খোদাই করা আরবি ক্যালিগ্রাফি ও নান্দনিক নকশার কারুকাজ।

খিলজির সমাধির পাশে আরও আছে আলাই মিনারের অসমাপ্ত স্তূপ। এ মিনারটির কিছুটা নির্মাণ হলেও পরে আর তা সমাপ্ত হয়নি। অসমাপ্ত এ মিনারের পাশে অব্যবহূত একটি কূপও আছে। এছাড়াও কমপ্লেøক্সের ভিতর দেখি আরও কয়েকটি সমাধি।
যেভাবে যাবেন

বাস, ট্রেন বা বিমানে কলকাতা। শিয়ালদহ বা হাওড়া স্টেশন থেকে রাজধানী এক্সপ্রেস বা দূরন্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে যাওয়া যাবে দিল্লিø। চাইলে কলকাতা থেকে বিমানেও দিল্লি যেতে পারবেন। দিল্লি শহরের যে কোনো স্থান থেকেই ট্যাক্সিতে যেতে পারবেন কুতুব মিনার। এছাড়া দিল্লি শহরের অনেক স্থানে মেট্রোরেলের যাতায়াত আছে। চাইলে মেট্রোরেলে কুতুব মিনার স্টেশনে নেমে সেখান থেকে হেঁটে কুতুব মিনার যাওয়া যাবে।

যেখানে থাকবেন

দিল্লি শহরজুড়েই আছে পাঁচ তারকাসহ নানা মানের হোটেল। অনেক বেশি হোটেল পাবেন পাহাড়গঞ্জ এলাকায়। এটা দিল্লিøর পুরোনো শহর বা বাজার। এখানে নানা মানের হোটেল আছে। ভাড়া ৬০০ রুপি থেকে শুরু করে ৬ হাজার রুপি পর্যন্ত। মোটামুটি মানের হোটেল ৬০০ বা ৮০০ বা ১ হাজার রুপিতে পাবেন এবং দুইজন থাকতে পারবেন ভালোভাবে

খাওয়া-দাওয়া

পাহাড়গঞ্জ এলাকায় ছোট-বড় নানা মানের রেস্টুরেন্ট আছে। সাদাভাত, বিরিয়ানি, মাছ, মাংস, শাক-সবজি সবই পাবেন। ১৫০ থেকে ২০০ রুপিতে থালি প্যাকেজ পাবেন। এক থালিতে ভাত, ডাল, সবজি, সালাদ থাকে। ২০০ বা ২৫০ রুপির মধ্যে মাছ-মাংসও পাবেন।

কেনাকাটা

ভারতের রাজধানী শহর দিল্লিø। তাই শহরজুড়েই আছে ছোট-বড় অসংখ্য শপিং মল। আর এসব শপিং মলে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী পণ্যগুলো পাবেন। বিশেষ করে পাবেন দার্জিলিংয়ের চা, কাশ্মীরের রেশমি কাপড়, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ বা বিভিন্ন রাজ্যের তাঁতের কাপড়। আর পাবেন নানা স্বাদের চকোলেট। এক দামের দোকান ছাড়া দরাদরি কেরে কেনার সুযোগও আছে। তবে যেখানে এক দাম সেখানে দরাদরি করতে যাবেন না।

প্যাকেজ ব্যবস্থাঃ

ঢাকা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেল্সসহ বিভিন্ন ট্যুরিজম কোম্পানী সারা বছর ট্যুরস প্যাকেজ ব্যবস্থা করে থাকেন।

যোগাযোগঃ
ঢাকা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেল্স ৫৩ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ ০২৯৫৮৫১৪০, মোবাঃ +৮৮০ ১৯৭৯ ৮৭৪০৪২,
+৮৮০ ১৯৭৮ ৮৮২২২৩ +৮৮০ ১৯৭৮ ৮৮২ ২২৩

ত্রিমাত্রিক সবুজ ক্যানভাস পানিহাতা
                                  

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। ভ্রমন করে না অথবা করতে চায় না এমন মানুষ এই দুনিয়ায় পাওয়া বড় মুশকিল। একঘেয়ে জীবন যাত্রায় মানুষ যখন হাঁপিয়ে ওঠেন, তখন তার অন্তত কিছু সময়ের জন্য একটু আরাম, একটু বিরাম, একটু শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পরেন সৃষ্টিকর্তার অপারময় সৃষ্টির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখার জন্য কাছে বা দূরে কোথাও। একজন পর্যটক হিসেবে আপনি ঘুরে আসতে পারেন সারা বিশ্ব। ঢাকার বাইরে ঘুরে আসতে চান? তবে স্বল্প মূল্যে পরিবার নিয়েঘুরে আসতে পারেন দেশের দর্শনীয় স্থান।

আমাদের সুজলা-সুফলা নদী মার্তৃক এই দেশের মধ্যেই রয়েছে পাহাড়, পর্বত সমুদ্র, জঙ্গল, স্থাপত্য, পুরাকীর্তি ইত্যাদি। পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য রয়েছে বিনোদনের নানান ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক সম্পদের অফুরন্ত সম্ভার। আর আপনি যদি একজন পর্যটক হিসেবে ভ্রমণ করতে চান, তবে মাথার ওপর নীল চাঁদোয়া, মেঘে-বৃষ্টিতে ভেজা বাতাস। পায়ের নিচে অন্য এক পৃথিবী। উপভোগ করতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন ত্রিমাত্রিক সবুজ ক্যানভাস হালুয়াঘাটের পানিহাতা।

ভ্রমণ পিপাসুদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন- আলমগীর কবির যারা বৈশ্বিক জলবায়ু সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন, তারা একটি বিষয় নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন থাকেন। সাত’শ কোটি মানুষের উনুন জ্বালানোর ঠেলায় পৃথিবী নাকি ক্রমেই উত্তপ্ত। যার ফলে ঘটছে খরা, সুনামি আর উষ্ণায়ন। এতে দেখা দিয়েছে প্রাণভরে সবুজ উপভোগ করার শঙ্কা। এ শঙ্কার কিছুটা হলেও লাঘব হবে হালুয়াঘাটের পানিহাতা ঘুরে এলে।

প্রশাসনিকভাবে পানিহাতা শেরপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও স্থানীয়দের চলাচল ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট দিয়ে। তাই এর পরিচিতিটা হালুয়াঘাটকে কেন্দ্র করেই। ওখানে গেলে মনে হবে, এ ত্রিমাত্রিক সবুজ ক্যানভাস, তার ওপর উজ্জ্বল রঙের আলপনা এঁকে চলেছে বৃষ্টি অরণ্যের ফুল, অদ্ভুত সব রঙিন পাখিরা, ব্যাঙ, মাকড়সা, আর প্রজাপতির দল।

হালুয়াঘাট থেকে পানিহাতার দূরত্ব ৯ কিলোমিটার। স্থানীয় উত্তরবাজার থেকে মোটরসাইকেল যেতে লাগে ২০ মিনিট। তবে মূল জায়গায় পৌঁছানোর আগে হাঁটতে হয় বেশ কিছুটা পথ। পাহাড়ি পথ ধরে এগোনোর সময় যে দৃশ্যপট চোখে পড়বে, মনে হবে রোদের খেলার মাঝে এ এক নতুন মায়া জালের বুনন। সারিবদ্ধ গাছ সরু রাস্তা, কোনো ছিনতাইকারীর কবলে পড়ার আশঙ্কা নেই। তবে মাঝে মধ্যে এলাকাটিতে হাতি আক্রমণ করে। এ বিষয়ে যাওয়ার পথেই স্থায়ীয় বাসিন্দা আর বিজিবির পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেয়া হবে। পানিহাতার মূল আকর্ষণের জায়গাটা হলো খ্রিষ্টান মিশনারি ‘কারিতাস’। এটি তৈরি করা হয়েছে পাহাড়ের ওপর। এটার ভেতরে প্রবেশের সময় সাথে করে বাক্স-পেঁটরা নিয়ে গেলে এখানকার গারো দারোয়ান আপনাকে বা আপনার দলকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেবে না। যেতে হলে বাক্স-পেঁটরা কোথাও রেখে যেতে হবে। অনেকে পিকনিক করতে এসে কারিতাসের মূল এলাকার ভেতরে থাকা ফুলের বাগানের ফুল ছেঁড়া ও তাদের স্থাপনার বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিসাধন করায় এ পদক্ষেপ নিয়েছে তারা।

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের অংশটা দেখতে চাইলে কারিতাসের এই পাহাড়ে উঠতে হবে। কারিতাসে পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে যিশুর বিভিন্ন রকমের বিশেষ কিছু খুঁটি চোখে পড়বে। চমৎকার কিছু স্থাপনাও আছে। এলাকাটায় গারোদের রাজত্ব। ওপর থেকে চার পাশের দৃশ্যটা দেখতে মনোরম। বেশ কাছেই ভারতে মেঘালয় রাজ্যের একটি সেতু চোখে পড়বে। মনে হবে যেন হাতের নাগালের ভেতরই। সেতুর নিচ দিয়ে বয়ে চলেছে ভোগাই নদী। এই নদীই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। শ্রাবণের বৃষ্টিতে মেঘালয়ে পাহাড়ি ঢলের তৈরি হয়। সেই পানি গড়িয়ে পড়ে এই নদীতে। নদী হয়ে ওঠে খরস্রোতা। প্রচণ্ড স্রোতে প্রায়ই ভারতীয় অংশের বড় বড় গাছ ভেঙে নদীতে ভেসে বাংলাদেশের ভেতর এসে পড়ে। স্থানীয় লোকজন এসব গাছ সংগ্রহ করে বিক্রি করে।

বর্ষায় পানি খরস্রোতা থাকায় নদীতে পা ভেজানোর ইচ্ছে পোষণ না করাই ভালো। তবে বৈশাখে পানি কম থাকে। ওই সময়টায় ইচ্ছে করলে গোসলও করা যাবে ভোগাই নদীর স্বচ্ছ পানিতে। স্থানীয় লোকজন নিয়মিতই নদীর পানিতে গোসল করে, খাবারের জন্যও নদীর পানি ব্যবহার করে। গারোদের দেখা যায়, নদী থেকে ঝিনুক সংগ্রহ করতে। স্থানীয় কয়েকজন ছেলের কাছ থেকে জানা গেল, শামুক-ঝিনুক রান্না করে খায় তারা। আরেকটি বিষয় খুব চমকিত হওয়ার মতো, গারো ছেলেমেয়েরা নিজেদের গারো ভাষার পাশাপাশি খুব ভালো বাংলা বলতে পারে। আর এদের দেখলে মনে হয় মোটামুটি বেশির ভাগই শিক্ষিত। পানিহাতা থেকে হালুয়াঘাট ফিরে যেতে পারেন কড়ইতলা। এটি একটি কয়লার বন্দর। প্রতিদিন ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে অসংখ্য ট্রাকভর্তি কয়লা এসে এই স্থলবন্দরে খালাস হয়। অসংখ্য কর্মী সারা দিন ব্যস্ত থাকে বাংলাদেশী ট্রাকগুলোতে কয়লা তুলতে। এদের একেকজনের চেহারা দেখার মতো! হঠাৎ করে দেখলে অনেককেই মনে হবে ঠিক যেন কয়লা-ভূত। তবে এরা দিনভর পরিশ্রম করে পেট চালায়। উপার্জনও নেহাত কম নয়। এদের কেউ কেউ যে পরিসংখ্যান দিলেন, তাতে অনেকেই মাসে ৩০ হাজার টাকাও রোজগার করেন। অর্থাৎ দিনে এক হাজার টাকা করে। তবে চেহারায় সেটি বোঝার উপায় নেই। এই কড়ইতলার আশপাশেই আছে দেখার মতো কয়েকটি জায়গা। রয়েছে প্রচুর গাছপালা। হাতে সময় নিয়ে এর ভেতরটা ঘুরে আসতে পারেন। স্থানীয় কাউকে গাইড হিসেবে নিলে ভালো করবেন।

যেভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে যাওয়া যায়। এই বাস যেখানে থামবে সেটিকে নতুন বাসস্ট্যান্ড বলে। ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে শ্যামলী বাংলা, ইমাম ট্রেইলওয়েজ, ছোঁয়া পরিবহন নামের বাসগুলো নিয়মিত এই রুটে চলাচল করে। ভাড়া বাসভেদে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পড়বে। এগুলোর সবই এসিবিহীন। নতুন বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রথমে যেতে হবে উত্তরবাজার। বিদ্যুৎ চালিত অটোতে এই স্থানটিতে যেতে জনপ্রতি খরচ পড়বে ১০ টাকা উত্তরবাজার থেকে দুইভাবে পানিহাতায় যাওয়া যায়। প্রথম উপায় হলো মোটরসাইকেল এবং দ্বিতীয় উপায় হলো অটো ভাড়া করা। মোটরসাইকেলে শুধু যেতে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৮০ টাকা লাগবে। সময় লাগবে ২০ থেকে ৩০ মিনিট। তবে মোটরসাইকেল ভাড়া করার আগে যতটা সম্ভব দরদাম করতে হবে। নতুন লোক দেখলেই এবং পার্টি মালদার মনে হলে এরা দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। কোনোভাবেই ভাড়া ৮০ টাকার বেশি দিতে যাবেন না।

কোথায় থাকবেন : হালুয়াঘাটে বাস থেকে নেমেই একটু খোঁজ করলে আপনি বেশ কিছু আবাসিক হোটেল পেয়ে যাবেন। রুমের ভাড়া ৫০০-৬০০ টাকা।

ঘুরে আসুন সিঙ্গাপুর
                                  


একঘেয়ে জীবন যাত্রায় মানুষ যখন হাঁপিয়ে ওঠেন, তখন তার অন্তত কিছু সময়ের জন্য একটু আরাম, একটু বিরাম,একটু শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পড়েন সৃষ্টিকর্তার অপরময় সৃষ্টির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য কাছে বা দূরে কোথাও। ভ্রমণ করে না অথবা করতে চায় না এমন মানুষ এই দুনিয়ায় পাওয়া বড় দুষ্কর। একজন পর্যটক হিসেবে আপনি ঘুরে আসতে পারেন সারা বিশ্ব। দেশের বাইরে ঘুরে আসতে চান? তবে ঘুরে আসতে পারেন সিঙ্গাপুর। ভ্রমণ পিপাসু পাঠকদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন- মোঃ রিয়াজ উদ্দিন।

‘পুর’ মানে নগর। জনপদের নামের সঙ্গে ‘পুর’ যুক্ত হলে বিস্তৃত হয় তাৎপর্য। রংপুর, গাজীপুর, ফরিদপুর প্রভৃতি। সিঙ্গাপুরও তেমনই এক নগর। সাগরঘেরা একটা দ্বীপ-দেশ। সেই দেশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বিশাল এক সিংহমূর্তি—নাম মারলায়ন। সিঙ্গাপুর সদলবলে বেড়াতে যাওয়ার পর আমাদের এক বন্ধু ঘোষণা করল, নামটা ছিল আসলে সিংহপুর। এরা ঠিকমতো উচ্চারণ করতে পারে না দেখে সিঙ্গাপুরের মতো শোনায়।

ঢাকা থেকে আকাশপথে কমবেশি চার ঘণ্টার দূরত্ব। কিন্তু গিয়ে মনো হলো সিঙ্গাপুর যেন বাংলাদেশেরই কোনো অংশ। রাস্তায় চলতে দেখা মেলে অনেক বাংলাদেশির। সিঙ্গাপুর শহরটা প্রায় পুরোটাই কৃত্রিম। প্রাকৃতিক বলতে শান্ত-সমাহিত সমুদ্রটাই শুধু। কিন্তু বিশ্বজুড়ে যেখানে যা কিছু ভালো, যা কিছু মহান—সবই যেন কপি-পেস্ট করে রাখা হয়েছে সিঙ্গাপুরে। দারুণ কিছু বানিয়ে ফেলতে তাদের উৎসাহে ভাটা পড়ে না মোটেও। সেটার পেছনে দিন-রাত সে কি যতœআত্তি আর রক্ষণাবেক্ষণ, না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন—তা সে কংক্রিটের ইমারত হোক আর সবুজ বন বা তৃণভূমিই হোক।

এত্তটুকুন একটা শহর, অথচ তার সবকিছু ঠিকঠাক ঘুরেফিরে দেখেশুনে নিতে সপ্তাহ খানেক সময় লাগবেই। অবশ্য ‘সিঙ্গাপুর ফ্লায়ার’ নামে বিশাল যে চরকি বানিয়ে রাখা আছে, সেটায় চড়লে এক দফাতেই একনজর দেখে ফেলা যায় এ-মাথা ও-মাথা।

শহরের প্রাণকেন্দ্র অরচার্ড পয়েন্টে ব্র্যান্ড দোকানগুলোয় উইন্ডো শপিং আর সত্যিকারের কেনাকাটার পর্ব হয়তো চায়না টাউন, ধোবি ঘাট বা লিটল ইন্ডিয়ায়। বাংলাদেশিদের প্রধান আকর্ষণ ‘মোস্তফা সেন্টার’-এর জন্য চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় রাখাই উচিত, অন্তত পুরোটা ঘুরে দেখতে হলেও।

একদিন সন্ধ্যায় খুব আয়োজন করে গেলাম নাইট সাফারিতে। শহরের পশ্চিম প্রান্তে ছোটখাটো কৃত্রিম জঙ্গল বানিয়ে রাখা আছে। পর্যটকদের ট্রামে চড়িয়ে জঙ্গল ঘোরানো হয়। রাতের আঁধারে বাঘ, সিংহ, হাতি, হরিণ, জেব্রা দেখার মধ্যে একধরনের গা-ছমছমে অনুভূতি কাজ করে। ছোট বাচ্চাদের মজাটাই মনে হয় বেশি, তবে বড়রাও কিছু কম যান না।

আরেক দিন খুব সকালে উঠে গেলাম ইউনিভার্সাল স্টুডিওতে। দিনভর সময় কাটানোর দারুণ একটা জায়গা। সকাল ১০টায় খোলে, বিকেল পাঁচটা বাজলেই বন্ধ। কাজেই দেরি করার উপায় নেই। একপাশে মাদাগাস্কারের সব চরিত্র। সেখান থেকে দুর্র্ধষ ওয়াটার ওয়ার্ল্ডের শো। তারপর জুরাসিক পার্কে বহু যুগের হারিয়ে যাওয়া পৃথিবী দেখতে দেখতে আচমকা পানিতে পতন। পাশেই হয়তো প্রাচীন মিসর। সেখানে মমির প্রতিশোধ যে কত ভয়াবহ হতে পারে, সেটা বলার নয়। এরপর চতুর্মাত্রিক ‘শ্রেক’ দেখা শেষ করে, ‘ট্রান্সফরমার মোশন সিমুলেটর’-এ ১০০তলা থেকে পতনের অভিজ্ঞতা নিতেই হবে।ক্যাবল কারে চড়ার জন্য আরেক দিন সকাল-সকাল উঠতে হলো। মাউন্ট ফেবার থেকে সোজা সান্তোসা আইল্যান্ড। সেখানে নানা রকম রাইড।

যাহোক, ‘গার্ডেন বাই দ্য বে’-র টিকিট আগেই করা ছিল। কৃত্রিম ঝরনা, জলপ্রপাত, মেঘ, বৃষ্টি আর হাজার হাজার ফুলের মেলা। এই দারুণ গ্রিন হাউসের বাইরে বিশাল বিশাল সুপার ট্রি। রাত নামলে সেখানে আলো জ্বলে। মুগ্ধ চোখে সেটা কিছুক্ষণ দেখার পর গেলাম মারলায়ন পার্কে। উদ্দেশ্য, রিভার ক্রুজ। সমুদ্রের পানি টেনে এনে শহরের মাঝখানে নদী বানানো হয়েছে। সেই নদীতে নৌকায় চড়ে শহরটা দেখা আর আকাশছোঁয়া দালানগুলো কোনটা কততলা, সেটা গুনতে থাকা।

অভিভূত হওয়ার কিছু বাকি ছিল। রাতের বেলা মেরিনা বের চারপাশে শুরু হয় চোখজুড়ানো লেজার শো। সেটা না দেখলে সিঙ্গাপুর যাওয়াই বৃথা। সিঙ্গাপুরে খাওয়াদাওয়ার অভাব নেই। হরেক দেশের, হরেক স্বাদের। দামি রেস্তোরাঁ যেমন আছে, তেমনি বেশ কিছু হকার্স সেন্টার আর ফুড কোর্টও দেখলাম। সবচেয়ে পছন্দ হলো একধরনের আইসক্রিম। রাস্তার পাশে বিক্রি করে। দামে সস্তা, কিন্তু স্বাদ সেই রকম!

সমস্ত দ্বীপ ঘিরে ছোট ছোট জলাভূমি আর ডোবা। এসবের পাশাপাশি সমস্ত শহর জুড়েও রয়েছে বিলাস বৈভবের এক নান্দনিক অধ্যায়। সন্ধ্যের আলো ঝলমলে শহরে দেদারছে খানাপিনা আর আমোদ প্রমোদের সুব্যবস্থা। এখানকার রেস্তোরাঁয় ঢুকে ‘রুটি পরোটা’র স্বাদ নিতে ভুলবেন না। সবমিলিয়ে সিঙ্গাপুর একবার গেলে শহরটির অনিন্দ্য সৌন্দর্য সারাজীবন আপনার চোখে বিনা সুতোয় সেলাই হয়ে থাকবে।

সিটি ট্যুর

সাড়ে তিন ঘন্টা সময়ের সিটি ট্যুরে দেখানো হয় ‘ক্রিকেট ক্লাব’ ‘পার্লামেন্ট হাউস’ ‘সুপ্রীম কোর্ট’ সিটি হল। এছাড়া চায়না টাউন,শ্রী মারিম্পাম টেম্পল,মাউণ্ট ফাবের, লোকাল হ্যাণ্ডিক্রাফট সেন্টার, ন্যাশনাল অর্কিড গার্ডেন, বোটানিক্যাল গার্ডেন প্রভৃতি। দুপুরের চিড়িয়াখানা ভ্রমণে বন্য জন্তুদের মাঝে দেখা যাবে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত জন্তুদের বিশেষ শো। রাতের বেলা জঙ্গলে যেতে চাইলে রয়েছে ‘নাইট সাফারী’র ব্যবস্থা। রয়েছে ‘সেন্টোসা ওয়াটার ওয়ার্ল্ড’ ট্যুর। যেখানে কেবল কারে চেপে সাগর সান্নিধ্যে কাটাতে পারবেন একান্ত সময়।

শপিং করতে

সিঙ্গাপুরের মত উন্নত আর নান্দনিক শহরে পদার্পন করবেন আর শপিংয়ে যাবেন না তা কি হয়? সারা সিঙ্গাপুর জুড়েই আপনার শপিংয়ের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য রয়েছে অসংখ্য শপিং মল। অরচার্ড রোড এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এখানে পোশাক, জুতো, ইলেকট্রনিক্স গুডস, ফার্নিচার, কসমেটিকস সহ যাবতীয় জিনিস কিনতে পারবেন।

কীভাবে যাবেনঃ

ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর দূতাবাসের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, থাই এয়ারলাইন্সের বিমানযোগে সিঙ্গাপুর যেতে পারেন। বাংলাদেশ বিমানেও যাওয়া যায় সিঙ্গাপুর।

কোথায় থাকবেন

থাকার জন্য সেরাঙ্গুন রোডের ‘গোল্ডেন টেম্পল’ হোটেল,ভিক্টোরিয়া ষ্ট্রিটের ‘হোটেল ভিক্টোরিয়া’ কম বাজেটের পর্যটকের জন্য সুবিধাজনক। যাদের মাঝারী বাজেট তারা ‘হোটেল ইম্পিরিয়াল’ ‘গ্রাণ্ড সেন্ট্রাল’ প্রভৃতি হোটেলে থাকতে পারবেন। বুকিং না করে গিয়েও বিমানবন্দরে পৌঁছেও এইসব হোটেলে অনায়াসে আপনার কাঙ্খিত রুমের বুকিং দিতে পারবেন।

প্যাকেজ ব্যবস্থাঃ

ঢাকা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেল্সসহ বিভিন্ন ট্যুরিজম কোম্পানী সারা বছর ট্যুরস প্যাকেজ ব্যবস্থা করে থাকেন।

যোগাযোগঃ

ঢাকা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেল্স ৫৩ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। ফোনঃ ০১৯৭৭৩৩৮০৯৪,
০১৯৭৭৩৩৮০৯৪, ০২৯৫৮৫১৪০।
লেখক ঃ সম্পাদক, মানবাধিকার খবর।
ই-মেইল ঃ md.reaz09@yahoo.com

ঘুরে আসুন লালমাই
                                  



মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। ভ্রমন করে না অথবা করতে চায় না এমন মানুষ এই দুনিয়ায় পাওয়া বড় মুশকিল। একঘেয়ে জীবন যাত্রায় মানুষ যখন হাঁপিয়ে ওঠেন, তখন তার অন্তত কিছু সময়ের জন্য একটু আরাম, একটু বিরাম, একটু শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পরেন সৃষ্টিকর্তার অপারময় সৃষ্টির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখার জন্য কাছে বা দূরে কোথাও। একজন পর্যটক হিসেবে আপনি ঘুরে আসতে পারেন সারা বিশ্ব। ঢাকার বাইরে ঘুরে আসতে চান? তবে স্বল্প মূল্যে পরিবার নিয়েঘুরে আসতে পারেন দেশের দর্শনীয় স্থান। আমাদের সুজলা-সুফলা নদী মার্তৃক এই দেশের মধ্যেই রয়েছে পাহাড়, পর্বত সমুদ্র, জঙ্গল, স্থাপত্য, পুরাকীর্তি ইত্যাদি। পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য রয়েছে বিনোদনের নানান ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক সম্পদের অফুরন্ত সম্ভার। আর আপনি যদি একজন পর্যটক হিসেবে ভ্রমণ করতে চান, তবে তার আদি গোড়াপত্তন ওইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে জানা দরকার।

ভ্রমণ পিপাসুদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন- আলমগীর কবির কর্ম ব্যস্ততার চাপে ইচ্ছে করলেই দূরে কোথাও ঘুরতে বের হওয়া যায় না। ছুটির জন্য আবেদন, ভ্রমণসঙ্গীদের সাথে ছুটি মেলানোসহ নানা ঝামেলার কারণে শেষ পর্যন্ত আক্ষেপ ছাড়া কিছুই করার থাকে না। এরকম পরিস্থিতিতে পরিকল্পনাটা যদি ভিন্নভাবে সাজানো যায় ভ্রমণ তৃপ্তির অভিজ্ঞতা নিতে পারেন খুব সহজেই। রাজধানী ঢাকা থেকে যারা ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছেন, ছুটি মেলাতে পারছেন না, তাদের জন্য লালমাই হতে পারে পলিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ। আলাদাভাবে কোনো ছুটির প্রয়োজন নেই। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেই গিয়ে দেখে আবার তৃপ্তি নিয়ে ফিরে আসতে পারবেন।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে সড়কপথে চলতে গিয়ে কুমিল্লøা পৌঁছার অনেক আগেই চোখ আটকে যাবে একটি পাহাড়ে। উত্তর দক্ষিণে এঁকে-বেঁকে চলে গেছে পাহাড়টি। এর নাম লালমাই পাহাড়। পাহাড়টি ডানে রেখে আরেকটু এগিয়ে গেলে হাতের ডানে ময়নামতি সেনানিবাস। লালমাই পাহাড় অঞ্চল এবং ময়নামতি এলাকার অনেকটা জায়গা জুড়েই প্রাচীন বাংলার মানুষের গড়া নানা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় অধ্যায়ে ময়নামতি অঞ্চলে পাথরযুগের মানুষেরও সন্ধান পাওয়ার কথা লেখা হয়েছে। লালমাই ছাড়াও এ এলাকাটি ময়নামতি ও হিলটিয়া নামে পরিচিত।

বাংলাদেশের উল্লেখ্য যোগ্য বিহারগুলো হচ্ছে- শালবন বিহার, ভাসু বিহার, সোমপুর বিহার, সীতাকোট বিহার ও দেবীকোট বিহার। মধ্যযুগে বৌদ্ধ রাজত্বের রাজধানী ছিল এই ময়নামতি। ঐতিহাসিকদের মতে, রাজা মানিকচন্দ্রের স্ত্রী রাণী ময়নামতির নামানুসারে লালমাই অনুচ্চ পাহাড়ী এলাকার নাম রাখা হয় ময়নামতি। কুমিল্ল­া জেলার অধিকাংশ প্রত্মতাত্ত্বিক নিদর্শনাদি এখানে অবস্থিত। শালবন বিহার, আনন্দবিহার প্রভৃতি দেশের বৃহত্তম ধ্বংসাবশেষ ময়নামতিতে অবস্থিত। এসব বৌদ্ধবিহারে প্রাচীন বৌদ্ধসভ্যতার বহু নিদর্শনাদি পাওয়া গেছে। ১৯৫৫ সালে এখানে যখন খনন কাজ শুরু হয় তখন এসব নির্দেশনের সন্ধান পাওয়া যায়। বৌদ্ধ ধর্ম ছাড়াও এখানে জৈন ও হিন্দ দেবদেবীর মূর্তিও পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এখানকার আবিষ্কৃত প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণের জন্য একটি জাদুঘরও স্থাপিত হয়েছে। বর্তমানে ময়নামতিতে একটি সেনানিবাস রয়েছে, যেটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশদের একটি যুদ্ধঘাটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

শালবন বৌদ্ধ বিহার বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম। কুমিল্লা জেলার লালমাই-ময়নামতি প্রতস্থলের অসংখ্য প্রাচীন স্থাপনাগুলোর একটি এই বৌদ্ধ বিহার। এতে সপ্তম-১২ শ’ শতকের প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া যায়।

ধারণা করা হয় যে, খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্র্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন। শালবন বিহারের ছয়টি নির্মাণ ও পুননির্মাণ পর্বের কথা জানা যায়। খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীর মধ্যে তৃতীয় পর্যায়ে কেন্দ্রীয় মন্দিরটি নির্মাণ ও বিহারটির সার্বিক সংস্কার হয় বলে অনুমান করা হয়। চতুর্থ ও পঞ্চম পর্যায়ের নির্মাণকাজ ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয় নবম-দশম শতাব্দীতে।

আকারে এটি চৌকো। শালবন বিহারের প্রতিটি বাহু ১৬৭.৭ মিটার দীর্ঘ। বিহারের চার দিকের দেয়াল পাঁচ মিটার পুরু। কক্ষগুলো বিহারের চারদিকের বেষ্টনী দেয়াল পিঠ করে নির্মিত। বিহারে ঢোকা বা বের হওয়ার মাত্র একটাই পথ ছিল। এ পথ বা দরজাটি উত্তর ব্লকের ঠিক মাঝামাঝি স্থানে রয়েছে। প্রতিটি কক্ষের মাঝে ১.৫ মিটার চওড়া দেয়াল রয়েছে। বিহার অঙ্গনের ঠিক মাঝে ছিল কেন্দ্রীয় মন্দির। বিহারে সর্বমোট ১৫৫টি কক্ষ আছে। কক্ষের সামনে ৮.৫ ফুট চওড়া টানা বারান্দা ও তার শেষ প্রান্তে রয়েছে অনুচ্চ দেয়াল। প্রতিটি কক্ষের দেয়ালে তিনটি করে কুলুঙ্গি রয়েছে। কুলুঙ্গিতে দেবদেবী, তেলের প্রদীপ ইত্যাদি রাখা হতো। এই কক্ষগুলোতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা থাকতেন। সেখানে বিদ্যাশিক্ষা ও ধর্মচর্চা করতেন

বিহারের বাইরে প্রবেশ দ্বারের পাশে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে একটি হলঘর রয়েছে। চার দিকে দেয়াল ও সামনে চারটি বিশাল গোলাকার স্তম্ভের ওপর নির্মিত সে হলঘরটি ভিক্ষুদের খাবার ঘর ছিল বলে ধারণা করা হয়। হলঘরের মাপ ১০ মিটার গুণন ২০ মিটার। হলঘরের চার দিকে ইটের চওড়া রাস্তা রয়েছে। প্রতœতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে বিহারটির ধ্বংসাবশেষ থেকে আটটি তাম্রলিপি, প্রায় ৪০০টি স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, অসংখ্য পোড়া মাটির ফলক বা টেরাকোটা, সিলমোহর, ব্রৌঞ্জ ও মাটির মূর্তি পাওয়া গেছে। এগুলো বাংলাদেশের প্রাচীন প্রতœতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের স্বাক্ষর বহন করছে।

সকালে গিয়ে বিকেলে যখন ঢাকায় ফিরবেন সাথে করে নিয়ে আসাতে পারেন কুমিল্লøার বিখ্যাত রসমালাইও।

যেভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে সহজেই বাসযোগে অথবা ট্রেনযোগে পৌঁছা যাবে কুমিল্লøা। কুমিল্লøা শহর থেকে আট কিলোমিটার দূরে লালমাই অবস্থিত। তবে শুধু বৌদ্ধ সভ্যতার প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখতে কুমিল্লøা ক্যান্টনম্যান্ট পেরিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে পাঁচ কিলোমিটার সামনে গিয়ে ডানদিকে তিন কিলোমিটার গেলেই চলবে।

দূর থেকেই দেখতে হবে তাজমহল
                                  



একঘেয়ে জীবন যাত্রায় মানুষ যখন হাঁপিয়ে ওঠেন, তখন তার অন্তত কিছু সময়ের জন্য একটু আরাম, একটু বিরাম,একটু শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পড়েন সৃষ্টিকর্তার অপরময় সৃষ্টির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য কাছে বা দূরে কোথাও। ভ্রমণ করে না অথবা করতে চায় না এমন মানুষ এই দুনিয়ায় পাওয়া বড় দুষ্কর। একজন পর্যটক হিসেবে আপনি ঘুরে আসতে পারেন সারা বিশ্ব। দেশের বাইরে ঘুরে আসতে চান? তবে ঘুরে আসতে পারেন আমাদের চির চেনা পরিচিত আগ্রার তাজমহল থেকে। ভ্রমণ পিপাসু পাঠকদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন- শাহীন আলম জয়।

পদভারে শাহী তাজ কম্পমান!
পর্যটকের ভিড়ে টলমল করছে তাজমহল। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মূল অবস্থান থেকে সামান্য হলেও বিচ্যুত হয়েছে তাজমহলের মিনার। মূল কাঠামোটির ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা। আর এর জন্য পর্যটকদের পায়ের চাপকেই মূলত দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে পর্যটকদের হাতের ঘষা, নিঃশ্বাসের কার্বন ডাই অক্সাইডও তাজের ক্ষতি করছে বলে দেখা গিয়েছে। তাজকে বাঁচাতে তাই অবিলম্বে মার্বেলের কাঠামোর উপরে পর্যটকদের ওঠা বন্ধ করতে চাইছে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (এএসআই)। এ দেশের পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলির রক্ষণাবেক্ষণের দায়ত্বি তাদেরই।

তাজমহলে পর্যটকদের ভিড় রুখতে প্রথম পদক্ষেপ করা হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি সেই প্রথম সপ্তাহে এক দিন তাজমহল বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয়। কিন্তু সেটাই যথেষ্ট নয় বলে এখন মনে করছে এএসআই।

এএসআই-এর পক্ষ থেকে সম্প্রতি ‘সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’কে দায়িত¦ দেওয়া হয়েছিল, তাজমহলের মূল কাঠামোর জিওডেটিক (ভূত্বক) সমীক্ষা করার। এই জাতীয় সমীক্ষা এবং মানচিত্র তৈরির কাজ এই কেন্দ্রীয় ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থাই করে থাকে।

ভবিষ্যতে হয়তো এই চবুতরার সামনে থেকেই তাজ দর্শন করতে হবে।

সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, তাজমহলের চার কোণে যে চারটি মিনার রয়েছে, সেগুলি তাদের নিজেদের অবস্থান থেকে কিছুটা হেলে গিয়েছে। কতটা হেলে গিয়েছে, সেটা এখনই প্রকাশ করা হয়নি। তবে এবার থেকে প্রতি বছর জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে তাজের বিভিন্ন অংশের সরণ ঘটছে কি না, পরীক্ষা করে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এএসআই-কে।
তাজমহলের উপর প্রথম বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয় ১৯৪১ সালে। তখনই দেখা গিয়েছিল, তাজের চারটি মিনারের মধ্যে তিনটি মিনার ৩.৭ থেকে ১১.৪ সেন্টিমিটার হেলে রয়েছে। আর দক্ষিণ প্রান্তের মিনারটি প্রায় ২১.৬ সেন্টিমিটার হেলে রয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছিল, দু’টি কারণে মিনারগুলি হেলে থাকতে পারে। প্রথমত, ওই মিনারগুলি তৈরির সময়েই কিছুটা কাত করে নির্মাণ করা হয়ে থাকতে পারে। (অনেকের মতে, ভূমিকম্প হলে মিনারগুলি যাতে কোনও অবস্থাতেই মূল কাঠামোর উপর না পড়ে, সেই জন্যই বাইরের দিকে কাত করে তৈরি করা হয়েছিল সেগুলি) দ্বিতীয়ত, এলাকাটি যমুনা সংলগ্ন হওয়ায় ভূমিক্ষয়ের কারণে মিনারগুলি হেলে পড়ে থাকতে পারে। ১৯৪১ থেকে ২০১২। মাঝের বছরগুলোয় তাজ যেটুকু হেলেছে, তার পিছনে কিন্তু যমুনার ভূমিক্ষয়ের থেকেও পর্যটকদের চাপকেই দায়ী করছে নতুন রিপোর্ট। পর্যটকদের পায়ের চাপ সব থেকে বেশি পড়ছে মূল সমাধি কক্ষে। তা হলে মিনারগুলি হেলছে কেন? এএসআই বলছে, মিনারগুলি মূল মার্বেল কাঠামোরই অঙ্গ। কয়েক মিটার উঁচু ওই মিনারগুলি মূল কাঠামোর ভিত্তিভূমি থেকে সেই অর্থে কোনও অবলম্বন ছাড়াই দাঁড়িয়ে রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মূল কাঠামোতে ক্ষতি হওয়ায় তার প্রভাব প্রথমে পড়েছে মিনারগুলিতেই।

একটি বেসরকারি রিপোর্টেও একই ধরনের সাক্ষ্য মিলছে। বলা হচ্ছে, শাহজাহান ও মমতাজের সমাধিটি যেখানে রয়েছে, সেই মেঝের উত্তর দিকের অংশটি দক্ষিণ দিকের অংশের থেকে এক ইঞ্চি ঢালু। মুঘল স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ ও রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আর নাথের কথায়, সম্ভবত মূল কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াতেই এই ঢাল তেরি হয়েছে।এএসআইয়ের বক্তব্য, তাজমহলের মূল কাঠামোটিকে দৃঢ় করার জন্য সে সময়কার স্থপতিরা যথাসম্ভব নির্ভুল প্রযুক্তির সাহায্যই নিয়েছিলেন। মার্বেলের ওজন ধরে রাখার জন্য একাধিক স্তম্ভ, ধনুকাকৃতি ছাদ বা খিলান ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতি দিন প্রায় সহস্রাধিক মানুষ এই সৌধ দেখতে আসবেন, স্বাভাবিক ভাবেই এটা তাঁদের চিন্তায় ছিল না।এখন সাধারণ দিনে ২৫ থেকে ৩০ হাজার পর্যটক আসেন তাজমহল দেখতে। শীতকালে সংখ্যাটি বেয়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার হয়ে দাঁড়ায়। গত দু’-তিনটি উৎসবের মওসুমে এএসআই দেখেছে প্রতি দিন লক্ষাধিক মানুষ ভিড় জমিয়েছেন তাজ দর্শনে। সংস্থার মতে, এক লক্ষ পর্যটকদের মধ্যে প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যটক কোনও এক সময়ে তাজের মূল চত্বরে উপস্থিত থাকেন। শুধু পায়ের চাপই নয়। এএসআইয়ের এক কর্তার কথায়, “লক্ষ করলে দেখা যাবে, ক্রমাগত হাতের ঘষায় বিভিন্ন স্থানে মার্বেলের কিনারাগুলি মসৃণ হয়েছে গিয়ছে। জানলার জালিগুলিও নোংরা হয়ে পড়ছে। হারাচ্ছে সূক্ষ্মতা।” এক শ্রেণির পর্যটকের মধ্যে সাদা মার্বেলে পেন দিয়ে নিজেদের নাম লিখে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। এমনকী পরিশ্রান্ত দর্শকেরা তাজের পিছন দিকে চাতালে যে অংশগুলিতে বসেন, সেটিও ক্ষয়িষ্ণু। বর্তমানে মার্বেলের সিঁড়ি কাঠের ধাপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। গর্ভগৃহের ভিতরে কবরের চারপাশে যে সূক্ষ্ম জালির কাজ রয়েছে, সেগুলির চারপাশে কাঠের ব্যারিকেড তৈরি করে দেওয়া আছে। কিন্তু তাতেও সুরাহা হয়নি। কারণ যে বিপুল সংখ্যক মানুষ ওই গর্ভগৃহে প্রবেশ করেন, তাঁদের শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড ও মার্বেলের বিক্রিয়া ঘটছে। সুতরাং তাজকে বাঁচাতে হলে কড়া সিদ্ধান্ত নিতেই হবে বলে মনে করছে এএসআই।
কী সেই সিদ্ধান্ত?

এখন যেখানে জুতো ছেড়ে পর্যটকেরা তাজের মূল চত্বরে ওঠেন, অদূর ভবিষ্যতে সেখান থেকেই বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যটিকে দেখার প্রস্তাব দিতে চলেছে এএসআই। এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছেন ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর আর্ট অ্যান্ড কালচারাল হেরিটেজ-এর অন্যতম শীর্ষ কর্তা এ জি কৃষ্ণ মেনন। তাঁর কথায়, “পর্যটকেরাই তাজমহলের বিপদের কারণ। তাই এই ধরনের সিদ্ধান্ত যত দ্রুত নেওয়া যায় তত ভাল।” গ্রিস, স্পেন বা কম্বোডিয়ার মতো বহু দেশ অনেক আগেই এই ধরনের পদক্ষেপ করেছে। গ্রিসের পার্থেনন ও অ্যাক্রোপলিস-সহ সমস্ত মন্দির বাইরে থেকে দর্শন করতে হয়। কম্বোডিয়ার আঙ্কোরভাট মন্দিরে উপরের অংশে পর্যটকদের যেতে দেওয়া হয় না। স্পেনের আলতামিরা গুহাচিত্র দেখার ক্ষেত্রেও বাধানিষেধ রয়েছে পর্যটকদের জন্য। ইতালিতে পিসার হেলানো মিনারেও বেশ কিছু দিন পর্যটক ওঠা বন্ধ রাখা হয়েছিল। বর্তমানে অবশ্য পর্যটকরা আবার উপরে ওঠার সুযোগ পাচ্ছেন। তাজের ক্ষেত্রে এমন কড়াকড়ি করা হলে পর্যটন শিল্পে তার প্রভাব পড়তে পারে। এএসআই-এর ডিরেক্টর জেনারেল গৌতম সেনগুপ্ত তাই বলছেন, “প্রতি বছর এখানে কত পর্যটক আসেন এবং কাঠামোটি ওই ভার নেওয়ার জন্য কতটা সক্ষম, সেটা আগে খতিয়ে দখবে ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইন্সটিটিউট (নিরি)।” অজন্তার গুহাগুলিতেও ‘নিরি’কে দিয়ে সমীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই সমীক্ষার রিপোর্ট আসার পরেই পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাববে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক। তাজের মূল কাঠামোয় উঠতে না পারলে পর্যটকদের উৎসাহ কমে যাবে কি? ‘ট্র্যাভেল এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া’র প্রাক্তন চেয়ারম্যান অনিস কলসি অবশ্য তেমন আশঙ্কা করছেন না। তাঁর কথায়, “যারা সত্যি তাজমহল দেখতে ইচ্ছুক, তাদের দূর থেকে দেখতেও আপত্তি থাকবে না।”
কিভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে ভারত দূতাবাসের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আগ্রা যাবার রাস্তা হচ্ছে তিনটি- আকাশ পথ, রেলপথ ও গনপরিবহন অথবা রিজার্ভ গাড়ি দিয়ে যেতে পারেন।
কোথায় থাকবেন?

আগ্রার তাজমহল যেহেতু পর্যটন এলাকা তাই থাকার জায়গার সমস্যা নেই। এখানে মাঝারি দাম থেকে স্বল্প দামের হোটেল পাবেন। প্রতি সিঙ্গেল কক্ষের ভাড়া পড়বে ১০০০ রুপি, ডাবল কক্ষের ভাড়া পড়বে ১২০০-১৫০০ রুপি পর্যন্ত।

কি খাবেন?

ভোজন রসিকদের জন্য খুব জনপ্রিয় স্থান হচ্ছে আগ্রা। তবে রেস্টুরেন্টে খাবারের দাম খুব বেশি। তাই আপনি বেছে নিতে পারেন টেস্টি ফুড।

প্যাকেজ ব্যবস্থাঃ

ঢাকা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেল্সসহ বিভিন্ন ট্যুরিজম কোম্পানী সারা বছর ট্যুরস প্যাকেজ ব্যবস্থা করে থাকেন।
যোগাযোগঃ

ঢাকা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেল্স ৫৩ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। ফোনঃ ০১৯৭৭৩৩৮০৯৪, ০১৯৭৭৩৩৮০৯৪, ০২৯৫৮৫১৪০।

 

ঘুড়ে আসুন সিঙ্গাপুর
                                  

ভ্রমণ
ঘুড়ে আসুন ঃ সিঙ্গাপুর
একঘেয়ে  জীবন  যাত্রায় মানুষ  যখন হাঁপিয়ে ওঠেন, তখন তার অন্তত কিছু সময়ের জন্য একটু আরাম,
একটু বিরাম,একটু শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পড়েন সৃষ্টিকর্তার অপরময় সৃষ্টির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য কাছে বা দূরে কোথাও। ভ্রমণ করে না অথবা করতে চায় না এমন মানুষ এই দুনিয়ায় পাওয়া বড় দুষ্কর। একজন পর্যটক হিসেবে আপনি ঘুরে আসতে পারেন সারা বিশ্ব। দেশের বাইরে ঘুরে আসতে চান? তবে  ঘুরে আসতে পারেন সিঙ্গাপুর। ভ্রমন পিপাসু পাঠকদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন- মোঃ রিয়াজ উদ্দিন।

‘পুর’ মানে নগর। জনপদের নামের সঙ্গে ‘পুর’ যুক্ত হলে বিস্তৃত হয় তাৎপর্য। রংপুর, গাজীপুর, ফরিদপুর প্রভৃতি। সিঙ্গাপুরও তেমনই এক নগর। সাগরঘেরা একটা দ্বীপ-দেশ। সেই দেশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বিশাল এক সিংহমূর্তি—নাম মারলায়ন। সিঙ্গাপুর সদলবলে বেড়াতে যাওয়ার পর আমাদের এক বন্ধু ঘোষণা করল, নামটা ছিল আসলে সিংহপুর। এরা ঠিকমতো উচ্চারণ করতে পারে না দেখে সিঙ্গাপুরের মতো শোনায়।
ঢাকা থেকে আকাশপথে কমবেশি চার ঘণ্টার দূরত্ব। কিন্তু গিয়ে মনো হলো সিঙ্গাপুর যেন বাংলাদেশেরই কোনো অংশ। রাস্তায় চলতে দেখা মেলে অনেক বাংলাদেশির। সিঙ্গাপুর শহরটা প্রায় পুরোটাই কৃত্রিম। প্রাকৃতিক বলতে শান্ত-সমাহিত সমুদ্রটাই শুধু। কিন্তু বিশ্বজুড়ে যেখানে যা কিছু ভালো, যা কিছু মহান—সবই যেন কপি-পেস্ট করে রাখা হয়েছে সিঙ্গাপুরে। দারুণ কিছু বানিয়ে ফেলতে তাদের উৎসাহে ভাটা পড়ে না মোটেও। সেটার পেছনে দিন-রাত সে কি যতœআত্তি আর রক্ষণাবেক্ষণ, না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন—তা সে কংক্রিটের ইমারত হোক আর সবুজ বন বা তৃণভূমিই হোক।
এত্তটুকুন একটা শহর, অথচ তার সবকিছু ঠিকঠাক ঘুরেফিরে দেখেশুনে নিতে সপ্তাহ খানেক সময় লাগবেই। অবশ্য ‘সিঙ্গাপুর ফ্লায়ার’ নামে বিশাল যে চরকি বানিয়ে রাখা আছে, সেটায় চড়লে এক দফাতেই একনজর দেখে ফেলা যায় এ-মাথা ও-মাথা।
শহরের প্রাণকেন্দ্র অরচার্ড পয়েন্টে ব্র্যান্ড দোকানগুলোয় উইন্ডো শপিং আর সত্যিকারের কেনাকাটার পর্ব হয়তো চায়না টাউন, ধোবি ঘাট বা লিটল ইন্ডিয়ায়। বাংলাদেশিদের প্রধান আকর্ষণ ‘মোস্তফা সেন্টার’-এর জন্য চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় রাখাই উচিত, অন্তত পুরোটা ঘুরে দেখতে হলেও।
একদিন সন্ধ্যায় খুব আয়োজন করে গেলাম নাইট সাফারিতে। শহরের পশ্চিম প্রান্তে ছোটখাটো কৃত্রিম জঙ্গল বানিয়ে রাখা আছে। পর্যটকদের ট্রামে চড়িয়ে জঙ্গল ঘোরানো হয়। রাতের আঁধারে বাঘ, সিংহ, হাতি, হরিণ, জেব্রা দেখার মধ্যে একধরনের গা-ছমছমে অনুভূতি কাজ করে। ছোট বাচ্চাদের মজাটাই মনে হয় বেশি, তবে বড়রাও কিছু কম যান না।

 

 


আরেক দিন খুব সকালে উঠে গেলাম ইউনিভার্সাল স্টুডিওতে। দিনভর সময় কাটানোর দারুণ একটা জায়গা। সকাল ১০টায় খোলে, বিকেল পাঁচটা বাজলেই বন্ধ। কাজেই দেরি করার উপায় নেই। একপাশে মাদাগাস্কারের সব চরিত্র। সেখান থেকে দুর্র্ধষ ওয়াটার ওয়ার্ল্ডের শো। তারপর জুরাসিক পার্কে বহু যুগের হারিয়ে যাওয়া পৃথিবী দেখতে দেখতে আচমকা পানিতে পতন। পাশেই হয়তো প্রাচীন মিসর। সেখানে মমির প্রতিশোধ যে কত ভয়াবহ হতে পারে, সেটা বলার নয়। এরপর চতুর্মাত্রিক ‘শ্রেক’ দেখা শেষ করে, ‘ট্রান্সফরমার মোশন সিমুলেটর’-এ ১০০তলা থেকে পতনের অভিজ্ঞতা নিতেই হবে।
ক্যাবল কারে চড়ার জন্য আরেক দিন সকাল-সকাল উঠতে হলো। মাউন্ট ফেবার থেকে সোজা সান্তোসা আইল্যান্ড। সেখানে নানা রকম রাইড।
যাহোক, ‘গার্ডেন বাই দ্য বে’-র টিকিট আগেই করা ছিল। কৃত্রিম ঝরনা, জলপ্রপাত, মেঘ, বৃষ্টি আর হাজার হাজার ফুলের মেলা। এই দারুণ গ্রিন হাউসের বাইরে বিশাল বিশাল সুপার ট্রি। রাত নামলে সেখানে আলো জ্বলে। মুগ্ধ চোখে সেটা কিছুক্ষণ দেখার পর গেলাম মারলায়ন পার্কে। উদ্দেশ্য, রিভার ক্রুজ। সমুদ্রের পানি টেনে এনে শহরের মাঝখানে নদী বানানো হয়েছে। সেই নদীতে নৌকায় চড়ে শহরটা দেখা আর আকাশছোঁয়া দালানগুলো কোনটা কততলা, সেটা গুনতে থাকা।
অভিভূত হওয়ার কিছু বাকি ছিল। রাতের বেলা মেরিনা বের চারপাশে শুরু হয় চোখজুড়ানো লেজার শো। সেটা না দেখলে সিঙ্গাপুর যাওয়াই বৃথা।
সিঙ্গাপুরে খাওয়াদাওয়ার অভাব নেই। হরেক দেশের, হরেক স্বাদের। দামি রেস্তোরাঁ যেমন আছে, তেমনি বেশ কিছু হকার্স সেন্টার আর ফুড কোর্টও দেখলাম। সবচেয়ে পছন্দ হলো একধরনের আইসক্রিম। রাস্তার পাশে বিক্রি করে। দামে সস্তা, কিন্তু স্বাদ সেই রকম!
সমস্ত দ্বীপ ঘিরে ছোট ছোট জলাভূমি আর ডোবা। এসবের পাশাপাশি সমস্ত শহর জুড়েও রয়েছে বিলাস বৈভবের এক নান্দনিক অধ্যায়। সন্ধ্যের আলো ঝলমলে শহরে দেদারছে খানাপিনা আর আমোদ প্রমোদের সুব্যবস্থা। এখানকার রেস্তোরাঁয় ঢুকে ‘রুটি পরোটা’র স্বাদ নিতে ভুলবেন না। সবমিলিয়ে সিঙ্গাপুর একবার গেলে শহরটির অনিন্দ্য সৌন্দর্য সারাজীবন আপনার চোখে বিনা সুতোয় সেলাই হয়ে থাকবে।
সিটি ট্যুর
সাড়ে তিন ঘন্টা সময়ের সিটি ট্যুরে দেখানো হয় ‘ক্রিকেট ক্লাব’ ‘পার্লামেন্ট হাউস’ ‘সুপ্রীম কোর্ট’ সিটি হল। এছাড়া চায়না টাউন,শ্রী মারিম্পাম টেম্পল,মাউণ্ট ফাবের, লোকাল হ্যাণ্ডিক্রাফট সেন্টার, ন্যাশনাল অর্কিড গার্ডেন, বোটানিক্যাল গার্ডেন প্রভৃতি। দুপুরের চিড়িয়াখানা ভ্রমণে বন্য জন্তুদের মাঝে দেখা যাবে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত জন্তুদের বিশেষ শো। রাতের বেলা জঙ্গলে যেতে চাইলে রয়েছে ‘নাইট সাফারী’র ব্যবস্থা। রয়েছে ‘সেন্টোসা ওয়াটার ওয়ার্ল্ড’ ট্যুর। যেখানে কেবল কারে চেপে সাগর সান্নিধ্যে কাটাতে পারবেন একান্ত সময়।
শপিং করতে
সিঙ্গাপুরের মত উন্নত আর নান্দনিক শহরে পদার্পন করবেন আর শপিংয়ে যাবেন না তা কি হয়? সারা সিঙ্গাপুর জুড়েই আপনার শপিংয়ের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য রয়েছে অসংখ্য শপিং মল। অরচার্ড রোড এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এখানে পোশাক, জুতো, ইলেকট্রনিক্স গুডস, ফার্নিচার, কসমেটিকস সহ যাবতীয় জিনিস কিনতে পারবেন।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর দূতাবাসের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, থাই এয়ারলাইন্সের বিমানযোগে সিঙ্গাপুর যেতে পারেন। বাংলাদেশ বিমানেও যাওয়া যায় সিঙ্গাপুর।
কোথায় থাকবেন
থাকার জন্য সেরাঙ্গুন রোডের ‘গোল্ডেন টেম্পল’ হোটেল,ভিক্টোরিয়া ষ্ট্রিটের ‘হোটেল ভিক্টোরিয়া’ কম বাজেটের পর্যটকের জন্য সুবিধাজনক। যাদের মাঝারী বাজেট তারা ‘হোটেল ইম্পিরিয়াল’ ‘গ্রাণ্ড সেন্ট্রাল’ প্রভৃতি হোটেলে থাকতে পারবেন। বুকিং না করে গিয়েও বিমানবন্দরে পৌঁছেও এইসব হোটেলে অনায়াসে আপনার কাঙ্খিত রুমের বুকিং দিতে পারবেন।
প্যাকেজ ব্যবস্থা
ঢাকা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস সহ অনেক ট্যুরিজম কোম্পানী সারা বছর প্যাকেজের ব্যবস্থা করে থাকে। ফোন ঃ ০২৯৫৮৫১৩৯।

লেখক , সম্পাদক, মানবাধিকার খবর।




ঘুরে আসুন সাগরকন্যা
                                  

 ইতিহাস বলছে, অষ্টাদশ শতকে মোগল শাসকরা বার্মায় (মিয়ানমার) বসবাসরত আরাকানিদের সেখান থেকে বিতাড়িত করেন। পরে আরাকানিরা বর্তমান বাংলাদেশের একেবারে দক্ষিণে সাগর পারে বসতি স্থাপন করেন। তখন এখানে তারা সুপেয় পানির অভাব পূরণ করতে প্রচুর কুয়া বা কূপ খনন করেন। সেই থেকেই এ অঞ্চলের নাম ‘কুয়াকাটা’। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নে অবস্থিত কুয়াকাটা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সমুদ্রসৈকত ও পর্যটন কেন্দ্র।  ভ্রমণপিয়াসুদের কাছে কুয়াকাটা সাগরকন্যা হিসেবে পরিচিত। এ সৈকতে একই জায়গা থেকে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় দেখার বিরল অভিজ্ঞতা সত্যিই বিমোহিত করে। সবচেয়ে ভালোভাবে সূর্যোদয় দেখা যায় সৈকতের গঙ্গামতীর বাঁক থেকে আর সূর্যাস্ত দেখা যায় পশ্চিম সৈকত থেকে। আরও আছে সৈকত-লাগোয়া নারিকেল গাছের দীর্ঘ সারি; যা অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। সেই সঙ্গে দূর সাগরে মন কেড়ে নেওয়া জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য দেখতে দেখতে কোথায় হারিয়ে যাবেন নিজেই। বাংলাদেশের অন্যতম নৈসর্গিক এ সমুদ্রসৈকত ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। এখানে এলে দেখতে পাবেন আরও কিছু দর্শনীয় স্থান। আসুন জেনে নিই এসব স্থান সম্পর্কে।
ইকো পার্ক
সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার পুব দিকে ৭০০ একর জায়গাজুড়ে তৈরি হয়েছে পরিকল্পিত ইকো পার্ক। এ পার্কের বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও শোভাবর্ধক ৪২ হাজার গাছ রয়েছে। আছে পার্কের লেকে প্যাডল বোট নিয়ে ঘুরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকনের অফুরন্ত সুযোগ। ১ হাজার ফুট দীর্ঘ এ লেক যে কাউকে আকৃষ্ট করে। জনপ্রতি মাত্র ২০ টাকা ভাড়ায় মোটরসাইকেলে ঘুরে আসতে পারেন ইকো পার্কটি।
শত বছরের পুরনো নৌকা
পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সৈকতে বালুর বুক চিরে জেগে ওঠে শত বছরের পুরনো নৌকা। ২০১২ সালের জুলাইয়ে সৈকতের বালুর মধ্যে জেগে ওঠা এ নৌকাটির অংশবিশেষ প্রথম দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে দেশি ও আন্তর্জাতিক নৌকা বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে এটি উত্তোলন করা হয়। প্রাচীন নিদর্শনের চিহ্ন হিসেবে বাংলাদেশ প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর নৌকাটি কুয়াকাটার শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ মন্দিরসংলগ্ন একটি বেষ্টনীর ভিতর সংরক্ষণ করে। নৌকাটির দৈর্ঘ্য ৭২ ফুট, প্রস্থ ২২ ফুট, ওজন প্রায় ৯০ টন।
শুঁটকিপল্লী
কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের পশ্চিম প্রান্তে আছে জেলেপল্লী। এখানে প্রচুর জেলের বাস। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত এখানে চলে মূলত শুঁটকি তৈরির কাজ। সমুদ্র থেকে মাছ ধরে এনে সৈকতেই শুঁটকি তৈরি করেন জেলেরা।
গঙ্গামতীর জঙ্গল
কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত শেষ হয়েছে পুব দিকে গঙ্গামতীর খালে। এখান থেকেই শুরু গঙ্গামতীর জঙ্গল। অনেকে একে গজমতীর জঙ্গলও বলেন। এখানেও ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন পর্যটকরা।
কাঁকড়ার দ্বীপ
গঙ্গামতীর জঙ্গল ছাড়িয়ে আরও সামনে কাঁকড়ার দ্বীপ। এখানে লাল কাঁকড়ার বাস। নির্জনতা পেলেই সৈকত লাল করে চষে বেড়ায় কাঁকড়ার দল। অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত সমুদ্রসৈকত থেকে স্পিডবোটে যাওয়া যায় কাঁকড়ার দ্বীপে।
ফাতরার বন
কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের পশ্চিম পাশে নদী পার হলেই সুন্দরবনের শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল দেখতে পাবেন। এর নাম ফাতরার বন। সুন্দরবনের সব বৈশিষ্ট্য রয়েছে এখানে। তাই সমুদ্রকন্যা দেখার পাশাপাশি এখানে এলে পাবেন সুন্দরবনের স্বাদও। তবে এ বনে নেই কোনো হিংস্র জানোয়ার। বনমোরগ, বানর আর নানান পাখি দেখা যায় এ বনে। কদাচিৎ বুনো শূকরের দেখাও মেলে। কুয়াকাটা থেকে ফাতরার বনে যেতে হবে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ে।
কুয়াকাটার কুয়া
কুয়াকাটা নামকরণের পেছনে যেসব কুয়া, তার একটি এখনো টিকে আছে। কয়েক বছর আগে এটি সংস্কার করা হয়। সমুদ্রসৈকতের কাছে রাখাইনদের বাসস্থল কেরানিপাড়ার শুরুতেই প্রাচীন এ কুয়ার অবস্থান, যা সবার দৃষ্টি কাড়বে।
সীমা বৌদ্ধ মন্দির
কুয়াকাটার প্রাচীন কুয়ার সামনেই রয়েছে সীমা বৌদ্ধ মন্দির। কাঠের তৈরি এ মন্দির কয়েক বছর আগে ভেঙে পাকা দালান করা হয়েছে। মন্দিরের মধ্যে আছে প্রায় ৩৭ মণ ওজনের প্রাচীন অষ্টধাতুর তৈরি বুদ্ধমূর্তি।
কেরানিপাড়া সীমা বৌদ্ধ মন্দির থেকে সামনেই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রাখাইনদের আবাসস্থল। তাদের তৈরি শীতের চাদর বেশ আকর্ষণীয়।
‘বিচ কার্নিভাল’
যারা কাছাকাছি সময়ে কুয়াকাটা যাওয়ার প্ল্যান করেছেন তাদের জন্য এ মুহূর্তে রয়েছে বাড়তি পাওনা। প্রতি বছর ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে হয় ‘বিচ কার্নিভাল’।
এতে থাকছে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য নানা আয়োজন। এ সমুদ্রসৈকতকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে এ আয়োজন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের। সমুদ্রসৈকতে ঘুড়ি ওড়ানো থেকে শুরু করে বালু ভাস্কর্য প্রদর্শনী দেখার অভিজ্ঞতা, বলী খেলা, সার্ফিং, প্যারাসেইলিং, ফানুস ওড়ানো, ডিজে শোসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে চমৎকার সময় উপভোগের সুযোগ পাবেন পর্যটকরা। তাই এখনই ব্যাগ গুছিয়ে ব্যস্ত নগরীকে কিছু সময়ের জন্য বিদায় জানিয়ে ঘুরে আসতে পারেন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের এ বেলাভূমি থেকে।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বেশ কয়েকটি বাস এখন সরাসরি কুয়াকাটা যায়। বাসে গেলে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে ২০০ মিটার দূরে নামিয়ে দেবে। আর ঢাকা থেকে বাসে যেতে লাগে ১২-১৩ ঘণ্টা।
কোথায় থাকবেন
কুয়াকাটায় আবাসনের জন্য রয়েছে দুটি ডাকবাংলো ও কুয়াকাটা সাগরকন্যা পর্যটন হলিডে হোমস। রেস্ট হাউস রয়েছে এলজিইডির দুটি, সড়ক ও জনপথের একটি, জেলা পরিষদের দুটি এবং রাখাইন কালচার একাডেমির একটি। এসব জায়গায় থাকতে হলে সংশ্লিষ্ট দফতরের পূর্বানুমতি নিতে হয়। এ ছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে এখানে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অর্ধশতাধিক আবাসিক হোটেল ও মোটেল।
প্যাকেজ ব্যবস্থা
ঢাকা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস সহ অনেক ট্যুরিজম কোম্পানী সারা বছর প্যাকেজের ব্যবস্থা করে থাকে। ফোন ঃ ০২৯৫৮৫১৩৯।
 ইতিহাস বলছে, অষ্টাদশ শতকে মোগল শাসকরা বার্মায় (মিয়ানমার) বসবাসরত আরাকানিদের সেখান থেকে বিতাড়িত করেন। পরে আরাকানিরা বর্তমান বাংলাদেশের একেবারে দক্ষিণে সাগর পারে বসতি স্থাপন করেন। তখন এখানে তারা সুপেয় পানির অভাব পূরণ করতে প্রচুর কুয়া বা কূপ খনন করেন। সেই থেকেই এ অঞ্চলের নাম ‘কুয়াকাটা’। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নে অবস্থিত কুয়াকাটা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সমুদ্রসৈকত ও পর্যটন কেন্দ্র।  ভ্রমণপিয়াসুদের কাছে কুয়াকাটা সাগরকন্যা হিসেবে পরিচিত। এ সৈকতে একই জায়গা থেকে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় দেখার বিরল অভিজ্ঞতা সত্যিই বিমোহিত করে। সবচেয়ে ভালোভাবে সূর্যোদয় দেখা যায় সৈকতের গঙ্গামতীর বাঁক থেকে আর সূর্যাস্ত দেখা যায় পশ্চিম সৈকত থেকে। আরও আছে সৈকত-লাগোয়া নারিকেল গাছের দীর্ঘ সারি; যা অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। সেই সঙ্গে দূর সাগরে মন কেড়ে নেওয়া জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য দেখতে দেখতে কোথায় হারিয়ে যাবেন নিজেই। বাংলাদেশের অন্যতম নৈসর্গিক এ সমুদ্রসৈকত ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। এখানে এলে দেখতে পাবেন আরও কিছু দর্শনীয় স্থান। আসুন জেনে নিই এসব স্থান সম্পর্কে।
ইকো পার্ক
সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার পুব দিকে ৭০০ একর জায়গাজুড়ে তৈরি হয়েছে পরিকল্পিত ইকো পার্ক। এ পার্কের বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও শোভাবর্ধক ৪২ হাজার গাছ রয়েছে। আছে পার্কের লেকে প্যাডল বোট নিয়ে ঘুরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকনের অফুরন্ত সুযোগ। ১ হাজার ফুট দীর্ঘ এ লেক যে কাউকে আকৃষ্ট করে। জনপ্রতি মাত্র ২০ টাকা ভাড়ায় মোটরসাইকেলে ঘুরে আসতে পারেন ইকো পার্কটি।
শত বছরের পুরনো নৌকা
পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সৈকতে বালুর বুক চিরে জেগে ওঠে শত বছরের পুরনো নৌকা। ২০১২ সালের জুলাইয়ে সৈকতের বালুর মধ্যে জেগে ওঠা এ নৌকাটির অংশবিশেষ প্রথম দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে দেশি ও আন্তর্জাতিক নৌকা বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে এটি উত্তোলন করা হয়। প্রাচীন নিদর্শনের চিহ্ন হিসেবে বাংলাদেশ প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর নৌকাটি কুয়াকাটার শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ মন্দিরসংলগ্ন একটি বেষ্টনীর ভিতর সংরক্ষণ করে। নৌকাটির দৈর্ঘ্য ৭২ ফুট, প্রস্থ ২২ ফুট, ওজন প্রায় ৯০ টন।
শুঁটকিপল্লী
কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের পশ্চিম প্রান্তে আছে জেলেপল্লী। এখানে প্রচুর জেলের বাস। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত এখানে চলে মূলত শুঁটকি তৈরির কাজ। সমুদ্র থেকে মাছ ধরে এনে সৈকতেই শুঁটকি তৈরি করেন জেলেরা।
গঙ্গামতীর জঙ্গল
কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত শেষ হয়েছে পুব দিকে গঙ্গামতীর খালে। এখান থেকেই শুরু গঙ্গামতীর জঙ্গল। অনেকে একে গজমতীর জঙ্গলও বলেন। এখানেও ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন পর্যটকরা।
কাঁকড়ার দ্বীপ
গঙ্গামতীর জঙ্গল ছাড়িয়ে আরও সামনে কাঁকড়ার দ্বীপ। এখানে লাল কাঁকড়ার বাস। নির্জনতা পেলেই সৈকত লাল করে চষে বেড়ায় কাঁকড়ার দল। অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত সমুদ্রসৈকত থেকে স্পিডবোটে যাওয়া যায় কাঁকড়ার দ্বীপে।
ফাতরার বন
কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের পশ্চিম পাশে নদী পার হলেই সুন্দরবনের শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল দেখতে পাবেন। এর নাম ফাতরার বন। সুন্দরবনের সব বৈশিষ্ট্য রয়েছে এখানে। তাই সমুদ্রকন্যা দেখার পাশাপাশি এখানে এলে পাবেন সুন্দরবনের স্বাদও। তবে এ বনে নেই কোনো হিংস্র জানোয়ার। বনমোরগ, বানর আর নানান পাখি দেখা যায় এ বনে। কদাচিৎ বুনো শূকরের দেখাও মেলে। কুয়াকাটা থেকে ফাতরার বনে যেতে হবে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ে।
কুয়াকাটার কুয়া
কুয়াকাটা নামকরণের পেছনে যেসব কুয়া, তার একটি এখনো টিকে আছে। কয়েক বছর আগে এটি সংস্কার করা হয়। সমুদ্রসৈকতের কাছে রাখাইনদের বাসস্থল কেরানিপাড়ার শুরুতেই প্রাচীন এ কুয়ার অবস্থান, যা সবার দৃষ্টি কাড়বে।
সীমা বৌদ্ধ মন্দির
কুয়াকাটার প্রাচীন কুয়ার সামনেই রয়েছে সীমা বৌদ্ধ মন্দির। কাঠের তৈরি এ মন্দির কয়েক বছর আগে ভেঙে পাকা দালান করা হয়েছে। মন্দিরের মধ্যে আছে প্রায় ৩৭ মণ ওজনের প্রাচীন অষ্টধাতুর তৈরি বুদ্ধমূর্তি।
কেরানিপাড়া সীমা বৌদ্ধ মন্দির থেকে সামনেই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রাখাইনদের আবাসস্থল। তাদের তৈরি শীতের চাদর বেশ আকর্ষণীয়।
‘বিচ কার্নিভাল’
যারা কাছাকাছি সময়ে কুয়াকাটা যাওয়ার প্ল্যান করেছেন তাদের জন্য এ মুহূর্তে রয়েছে বাড়তি পাওনা। প্রতি বছর ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে হয় ‘বিচ কার্নিভাল’।
এতে থাকছে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য নানা আয়োজন। এ সমুদ্রসৈকতকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে এ আয়োজন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের। সমুদ্রসৈকতে ঘুড়ি ওড়ানো থেকে শুরু করে বালু ভাস্কর্য প্রদর্শনী দেখার অভিজ্ঞতা, বলী খেলা, সার্ফিং, প্যারাসেইলিং, ফানুস ওড়ানো, ডিজে শোসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে চমৎকার সময় উপভোগের সুযোগ পাবেন পর্যটকরা। তাই এখনই ব্যাগ গুছিয়ে ব্যস্ত নগরীকে কিছু সময়ের জন্য বিদায় জানিয়ে ঘুরে আসতে পারেন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের এ বেলাভূমি থেকে।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বেশ কয়েকটি বাস এখন সরাসরি কুয়াকাটা যায়। বাসে গেলে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে ২০০ মিটার দূরে নামিয়ে দেবে। আর ঢাকা থেকে বাসে যেতে লাগে ১২-১৩ ঘণ্টা।
কোথায় থাকবেন
কুয়াকাটায় আবাসনের জন্য রয়েছে দুটি ডাকবাংলো ও কুয়াকাটা সাগরকন্যা পর্যটন হলিডে হোমস। রেস্ট হাউস রয়েছে এলজিইডির দুটি, সড়ক ও জনপথের একটি, জেলা পরিষদের দুটি এবং রাখাইন কালচার একাডেমির একটি। এসব জায়গায় থাকতে হলে সংশ্লিষ্ট দফতরের পূর্বানুমতি নিতে হয়। এ ছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে এখানে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অর্ধশতাধিক আবাসিক হোটেল ও মোটেল।
প্যাকেজ ব্যবস্থা
ঢাকা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস সহ অনেক ট্যুরিজম কোম্পানী সারা বছর প্যাকেজের ব্যবস্থা করে থাকে। ফোন ঃ ০২৯৫৮৫১৩৯।

বেড়াতে যাইতে পারেন থাইলেন্ড
                                  


বিশ্বের অন্যতম পর্যটন সমৃদ্ধ দেশ থাইল্যান্ড। সাজানো গোছানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর দেশটি। নয়নাভিরাম দেশটি দেখার জন্য আমি গত ২০১৫ সালে ১৭ ডিসেম্বরে উড়ে যাই থাইল্যান্ড। একজন পর্যটক হিসাবে চেষ্টা করি প্রতিবছর কোন না কোন দেশ বা দেশের যে কোন পর্যটন এলাকায় ঘুরে আসতে। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। সৃষ্টিকর্তা কোথায় কি বানিয়ে রেখেছে তা দেখে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা  জানানো উচিত প্রত্যেকটি মানুষের। আমি ও তার ব্যতিক্রম নই। যা হোক, থাই দূতাবাসের ভিসার আনুষ্ঠানিকতা শেষে

 

 

বাংলাদেশ বিমানের থাইল্যান্ডের সূবর্ণভূমি বিমান বন্দরে অবতরন করি। উক্ত বিমানবন্দরটি বিশ্বের অন্যতম নান্দনিক বিমানবন্দর। বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠিকতা শেষে সরাসরি বাসে চলে যাই পাতায়া সমূদ্র সৈকত। হোটেলে রাত্রিযাপন করে, পরের দিন সকালে চলে যাই পাতায়া বিচ। যেখানে দেখা গেল আমার মত হাজার হাজার পর্যটক বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসে বীচে সূর্য¯œান করছে। সেখানে নিরাপত্তায় কোন অভাব নেই। যার কারনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা এসে ভিড় করছে। এর পর চলে আসি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে। ব্যাংকক শহরে হোচেল এ্যাম্বাসেডরে পরিচয় হয় বাংলাদেশী যুবক শফি জামালের সাথে। তিনি ব্যাংককের গাইড লাইন হলিডে ট্যুর নামক একটি ট্যুরিজম কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি আমাকে সময় ও শ্রম দিয়ে ব্যাংকক শহর ও বিভিন্ন পর্যটন এলাকা ঘুরিয়ে দেখানোর ব্যবস্থা করেন।
মসৃণ রাস্তায় চলতে লাগলো আমাদের গাড়ী। দু’পাশে সুরমা অট্টালিকা, ফ্লাই-ওভার, বাগান- সব মিলিয়ে এলাম নতুন দেশে। পথ চলতে চলতেই দেখতে লাগলাম বাইওক স্কাই হোটেল (পৃথিবীর উচ্চতম বাড়িগুলির একটি), মনুমেন্ট, রাজা নবম রামের প্রাসাদ ইত্যাদি। রাজা নবম রামের রাজপ্রাসাদ চত্বরের মধ্যে ‘চিত্রদা প্যালেস’ খুবই সুন্দর। একশ একরেরও বেশি জমি জুড়ে গড়ে উঠেছে ব্যক্তিগত মালিকানা ভিত্তিক এই সম্পত্তি। রাজা নবম রামের রাজপ্রাসাদের কাছেই ব্যাংককের চিড়িয়াখানা। এখানকার ওরাং-ওটাং এর কান্ডকারখানা দেখার মতো।
এরপর আমাদের গন্তব্য ছিল ‘ডুসিট প্যালেস’। উনিশ শতকের প্রথম দশকে বানানো এই প্রাসাদ। এই চত্বরের ‘ভিমানমেক’ ম্যানসন হল পৃথিবীর বৃহত্তম সোনালী কাঠের স্বর্গের আভাস এখানকার বাগানে পা দিলেই পাওয়া যায়। এখানকার মিউজিয়াম সত্যিই দেখার মতো। কি নেই এই মিউজিয়ামে। হাতির দাঁতের নানা জিনিসে ভর্তি আইভরি রুম, রাজাদের ব্যবহৃত পোসিলিনের জিনিস, পিয়ানো, আসবাবপত্র, পালকি আরো অনেক কিছু। টুক্ করে দেখে নিলাম থাই কাপড়ের ‘এক্সিবিশন হল’। ‘ভিমানমেক’-এর খুব কাছেই থাইল্যান্ডের পার্লামেন্ট। ইতালিয়ান মার্বেল দিয়ে তৈরি। এখানকার মুরাল দেখবার মত।
আমাদের এর পরের গন্তব্য ‘গ্র্যান্ড প্যালেস’। গ্র্যান্ড প্যালেসের’ স্থাপনা শুরু হয় রাজা প্রথম রামের আমলে ১৭৮২ খৃষ্টাব্দে। এখানেই আছে এমারেল্ড বুদ্ধের বিখ্যাত মূর্তি। এমারেল্ড বুদ্ধের গ্রীষ্মকালীন পোশাক নীল। বছরের বিভিন্ন ঋতুতে পোশাকের রং পাল্টানো হয়। চিয়াং রাই-এর স্তূপ থেকে সবুজ রঙের জেড পাথরের এমারেল্ড বুদ্ধকে ১৪৩৪ খৃষ্টাব্দে পাওয়া যায়। এই মনেস্ট্রির মধ্যে মুরালের অনন্য কাজ দেখা যায়। ভিতরের আলো-আবছায়া পরিবেশ মনকে যে কোন সুদূর অতীতে নিয়ে যায়। সময় অল্প তাই নিজের মনকে নিজেই ধমকে  উঠে বাকি স্ত’প ও প্রাসাদ দেখতে শুরু করলাম। এত রঙের বাহার চারিদিকে যে মনেই হয়না পৃুথবীতে ’মন-খারাপ-করা বিকেলের’কালো মেঘ থাকতে পারে। গাঢ় সুনীল আকাশও আমাদের সারাদিনের বেড়ানোর সঙ্গী।
রয়েল প্যালেস থেকে একটু দূরেই বুদ্ধের মুন্দরে গেলাম। মন্দিরের পোষাকি নাম ’ওয়াট পো’। শায়িত বুদ্ধ বা রিক্লাইনিং বুদ্ধ’র ছবি আগেই দেখেছি (কিন্তু এর বিশালত্ব! সেটা চোখের সামনে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। মন্দির চত্বরও বিশাল। এই মন্তির থাইল্যান্ডের প্রাচীনতম মন্দিরগুলির অন্যতম। রাজা তৃতীয় রামের সময়কালে এইমন্দিরটি নতুন করে সাজানো হয়। প্রাচীন থাই-মেডিসিনে’র আঁতুড়ঘর হল এই মন্দির-চত্বর। মন্দিরের ভেতরে দানপাত্রে পয়সা ফেলার অদ্ভুত আওয়াজ। থাম ও দেওয়াল কারুকার্যম-িত। বুদ্ধ পদক্ষিণ করে বেরিয়ে দেখি, দিন প্রায় শেষ। মন্দিরের বাইরে অনেকেই ঘুরে ঘুরে ছবি,ছাতা বিক্রি করছে আকারে-ইঙ্গিতে, ভঙা-ভাঙা ইংরেজিতে চলছে দরদাম। আস্তে আসেÍ দোকানপাট দেখতে দেখতে এলাম ৎধসধ ৮ঃয নৎরফমব’এর কাছে। সেখান থেকে শুরু চাউ ফ্রায়া নদীতে ভ্রমণ। এর জন্য আগে থেকেই ই-মেল পাঠিয়ে যোগাযোগ করে রেখেছিলাম। দুই তীরে ঝলমলে আলোর মাঝে, নদীর প্রাণ জুড়ানো হাওয়ায় কোথা থেকে যে দু-ঘন্টা কেটে গেল বোঝাই গেল না। ব্যাংকক শহরে বোধহয় রাত্রি নামলÑঅন্তত আমার জন্য। আসলে ব্যাংকক শহরে রাত্রি নামে না। কিনÍু আমার যে কাল সকালেই অন্য দেশ, অন্য কোনোখানের জন্য যাত্রা শুরু।
কখন যাবেন ঃ সবসময় একই রকম আবহাওয়া থাকার কারনে যে কোন সময় থাইল্যান্ড ভ্রমন করা যায়। কিভাবে যাবেনঃ ঢাকা থেকে থাই এ্যাম্বাসির ভিসার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বিমানযোগে ব্যাংকক। ব্যাংকক থেকে পর্যটন স্থান পাতায়া, ফুকেটসহ বিভিন্নস্থানে বাস ও বিমানে যাওয়া যায়।
থাকার ব্যবস্থা ঃ ব্যাংককের সুকুমবিত এলাকায় ভাল মানের হোটেলে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ব্যাংককে বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন সুন্দর সুন্দর রিসোর্ট ও হোটেল রয়েছে।
প্যাকেজ ব্যবস্থা ঃ ঢাকা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলসহ অসংখ্য ট্যুরিজম কোম্পানী সারা বছর প্যাকেজের ব্যবস্থা করে থাকে।
ঢাকা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস-৯৫৮৫১৪০, মাহিমা ট্যুরস-০১৯৭১৩১৭৩৩৬ সহ আরো অনেকে।
লেখক ঃ সম্পাদক, মানবাধিকার খবর।


প্রকৃতির নৈসর্গিক মনলোভা দৃশ্যের হাতছানি ঘুরে আসুন পতেঙ্গা
                                  


মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। ভ্রমন করে না অথবা করতে চায় না এমন মানুষ এই দুনিয়ায় পাওয়া বড় মুশকিল। একঘেয়ে জীবন যাত্রায় মানুষ যখন হাঁপিয়ে ওঠেন, তখন তার অন্তত কিছু সময়ের জন্য একটু আরাম, একটু বিরাম, একটু শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পরেন সৃষ্টিকর্তার অপারময় সৃষ্টির  প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখার জন্য কাছে বা দূরে কোথাও। একজন পর্যটক হিসেবে আপনি ঘুরে আসতে পারেন সারা বিশ্ব। ঢাকার বাইরে ঘুরে আসতে  চান? তবে স্বল্প মূল্যে পরিবার নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন দেশের দর্শনীয় স্থান। আমাদের সুজলা-সুফলা নদী মার্তৃক এই দেশের মধ্যেই রয়েছে  পাহাড়, পর্বত, সমুদ্র, জঙ্গল, স্থাপত্য, পুরাকীর্তি ইত্যাদি। পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য রয়েছে বিনোদনের নানান ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক সম্পদের অফুরন্ত সম্ভার। আর আপনি যদি একজন পর্যটক হিসেবে ভ্রমন করতে চান, তবে তার আদি গোড়াপত্তন ও ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে জানা দরকার। পতেঙ্গা সমূদ্র সৈকত ঘুরে এসে ভ্রমণ পিপাসু পাঠকদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন- মমতাজ আক্তার লিপি
 
পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতটি বন্দরনগরী চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে কর্ণফুলী নদী মোহনায় অবস্থিত। কোনো উৎসব, পার্বণ কিংবা ছুটির দিনগুলোতে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার আগ্রহ দেখান না এমন মানুষ খুজে পাওয়া ভার। সৈকতে যাওয়ার পথে চোখে পড়বে পাহাড়, উঁচু উঁচু শিল্প কারখানা, পুরো পথের একপাশে বয়ে চলা নদী-সাগর।
সৈকতের চারপাশে প্রকৃতির নৈসর্গিক মনলোভা দৃশ্যের হাতছানি সঙ্গে সমুদ্রবন্দরের কর্মব্যস্ততা ও বিশাল সমুদ্রের সঙ্গে কর্ণফুলী নদীর মিলনমেলা। সৈকতজুড়ে চার কোণ বিশিষ্ট কংক্রিটের ব্লকগুলো দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। বর্তমানে সমুদ্র সৈকতে সিসি ব্লক দিয়ে বেড়িবাঁধ দেওয়া হয়েছে। এতে সৈকতের সৌন্দর্য অনেকটা বেড়েছে। ােজয়ারের সময় সিসি ব্লকের ওপর আছড়ে পড়া সমুদ্রের ঢেউ এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা করে। এতসব মনোমুগ্ধকর পরিবেশের কারণে চট্টগ্রাম শহরের পতেঙ্গা সৈকতটি অন্যান্য সৈকত থেকে খানিকটা আলাদা। ইতোমধ্যে এই সৈকত বিশ্ব পরিচিতি পেয়েছে। বিকেল হতে না হতেই হাজার হাজার পর্যটক ভিড় জমায় এই সমুদ্র সৈকতে। পরিবেশটা এতটাই মনোমুগ্ধকর এখানে এলে যে কারও মন পুলকিত হবে। সৈকত তীরে দাঁড়ালেই কানে বাজে সাগরের কল্লোল, পায়ে এসে লুটিয়ে পড়বে নীল জলরাশির অপার ঢেউ, দেখা মিলবে বিশ্বের নানা দেশের নানা পতাকাবাহী নোঙর করা সারি সারি জাহাজ। নয়নাভিরাম এসব দৃশ্যের দিকে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন সূর্যটা সমুদ্রে ডুবে যাবে টের পাওয়া মুশকিল। পৃথিবীর অঅর কোথাও এমন সৌন্দর্যে ভরপুর দ্বিতীয় কোনো নদীর মোহনা সত্যিই বিরণ। দিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্রের সফেদ জলরাশি আর সাগরপাড়ে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের মাতম অনমনা করে তোলে দর্শনার্থীদের। তাছাড়া পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত হতে সূর্যাস্ত দেখার অপূর্ব সুযোগ তো আছেই। সূর্যাস্তের এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মনকে আরও বেশি পুলকিত করে। সবচেয়ে ভালো লাগবে সন্ধ্যার পরিবেশ।
কর্ণফুলী নদীর পূর্ব পাড়ে কাফকো ও ইউরিয়া সার কারখানার লাল-নীল বাতির আলোকছড়া সমুদ্রের জলতরঙ্গে মিশে সৃষ্টি এক চোখ জুড়ানো দৃশ্য। সবকিছু মিলে এক অসাধারন অন্যান্য এই সমুদ্র সৈকত।
এ সৈকতে আছে কক্সবাজারের আদলে এক বিশাল বার্মিজ মার্কেট। এতে শামুক-ঝিনুক ও বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেছে প্রায় ৪৩৬ টি দোকান। বাঁধ পেরিয়ে সমুদ্রের বালুকা বেলায় পর্যটকদের রসনা বিলাসের জন্য প্রস্তুত অসংখ্য খাবার হোটেল।
যেভাবে যাবেন
বাস, ট্রেন অথবা বিমানযোগে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম শহরের রেলষ্টেশন, এ কে খান কিংবা জিইসি থেকে খুব সহজে যেতে পারেন সৈকতে। সি বিচ লেখা বাসগুলোতে চেপে বসলেই হবে। আর এসব জায়গা থেকে ২২০-২৫০ টাকায় সিএনজি অটোরিক্সা নিয়েও যাওয়া যায়।
কোথায় থাকবেন
পতেঙ্গা সৈকতের আশপাশে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো আবাসিক হোটেল-মোটেল নেই। আবাসিক হোটেলের জন্য সিইপিজেড কিংবা আগ্রাবাদে আসতে হবে। তবে সিইপিজেড এলাকায় চেয়ে ভালোমানের একাধিক আবাসিক হোটেল রয়েছে বাণিজ্যিক এলাকা নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায়।
খেয়াল রাখুন
সৈকতে ঘুরতে গিয়ে কোনো উদ্ভুত পরিস্থিতি এড়াতে দল বেঁধে যাওয়াই ভালো। কোনো বিপদ কিংবা অভিযোগ থাকলে সৈকতের ভ্রাম্যমাণ পুলিশ ফাঁড়িতে জানাতে পারেন। তবে অধিক লোকের সমাগম আছে ওই দিকটায় থাকাই শ্রেয়। বিকেলের দিকে মন চাইলে পানিতে নেমে আনন্দের মাত্রা আরও বাড়াতে পারবেন। পাবেন ২০ টাকায় ঘোড়ার পিঠে চড়ার সুযোগ। স্পিডবোট, নৌকা, ঘোড়া যেখানেই চড়–ন আগে দেখেশুনে দরদাম করে নেওয়াই ভালো।

নাজিরপুরে বিশ্ব বই দিবস উদযাপন
                                  

২৩ এপ্রিল ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব বই দিবস ২০১৬। পৃথিবীর প্রায় ১০০টি দেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। এই দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য তরুনদের বই পড়ায় আগ্রহী করে তোলার জন্য পাঠাভ্যাসের প্রসার ও সুযোগ বৃদ্ধি করা। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র এবং শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সেকায়েপ প্রকল্প এ লক্ষ্যে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। বই পড়ার  গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ২৩ এপ্রিল ২০১৬ ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব বই দিবসে সেকায়েপ প্রকল্প উক্ত ২১৫ টি উপজেলায় প্রায় ১০০০০(দশ হাজার) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ব  সাহিত্য কেন্দ্রে বিভিন্নমূখী কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে সেকায়েপভূক্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ ও প্রদর্শনী, বই পড়ার গুরুত্ব বিষয়ে সেমিনার ও আলোচনা সভা, র‌্যালি, বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও উপস্থিত বক্তৃতা ইত্যাদির আয়োজন করা হয়েছে।

 নাজিরপুর উপজেলায় ৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০১৬ সালে এই উপজেলায় ১২টি মাদ্রাসা ও ৫৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মোট ৯০০০ (নয় হাজার) জন শিক্ষার্থী বই পড়া কর্মসূচীতে অংশ গ্রহন করেছে। বিশ্ব বই দিবস উপলক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহযোগিতায় ৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই পড়ার গুরুত্ব বিষয়ে সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। বই পড়া কর্মসূচী সদস্যদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এসকল সেমিনারে শিক্ষক, অভিভাবক, ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ডি আর এইচ ইউজার্স কমিটির প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেরাই বই পড়ার গুরুত্ব নিয়ে এই সেমিনারে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেছে। উপস্থিত সকলেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরীর উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তাদের বক্তব্যে তুলে ধরে। শ্রীরামকাঠী ইউ, জে, কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাবু সুনিল কুমার মিস্ত্রী (সভাপতি, কার্য্যনির্বাহী পরিষদ), বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাবু তৃপ্তি রঞ্জন রায় (সভাপতি, পিটিএ)। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মোঃ জাফর হোসেন, প্রোগ্রাম অফিসার (বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র) অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন বাবু রমেন্দ্র নাথ মন্ডল, প্রধান শিক্ষক, শ্রীরামকাঠী ইউ, জে, কে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

ইউনেস্কো ১৯৯৫ সাল থেকে এ দিনটি বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস হিসাবে উদযাপন করে আসছে এবং সব সদস্য দেশকে উদযাপন করতে অনুরোধ করেছে। বিশ্ব বই দিবস উন্নত দেশগলোতে দিবসটি পালিত হয়, বইকে জীবনের সঙ্গে জড়িত করার জন্য, জীবনে চলার পথে সঙ্গী করার জন্য। ইউনেস্কো বিশ্ব বই দিবস হিসেবে ২৩ এপ্রিলকে নির্বাচন করে। কালজয়ী ইংরেজ লেখক উইলিয়াম সেক্সপিয়ার এবং প্রেমভিয়াম লেখক গার্সিলাসো দে লা ভেগাকে স্মরন করা জন্য। উল্লিখিত দুই লেখক এই দিনে মৃত্যুবরন করেন। বিশ্ব ব্যাপী এই দিবসের উদ্দেশ্য হলো-

 

বই পাঠের অভ্যাসকে বাড়ানের জন্য জনসচেতনতা তৈরী ও বইয়ের প্রসার ঘটানো ;

সব বয়সের মানুষের মধ্যে পাঠের অভ্যাস বাড়ানো ;

 বই প্রকাশ এবং বইয়ের কপিরাইট সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা।

রনজিত কুমার মিস্ত্রী, পিরোজপুর থেকে

গাজীপুরে ইউপি নির্বাচন আওলীগ ১৭, বিদ্রোহী ৩ প্রার্থীর জয়
                                  

গাজীপুরের ৩টি উপজেলা যথাক্রমে শ্রীপুর, কাপাসিয়া ও গাজীপুর সদর উপজেলার মোট ২০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গত ২৩ শে এপ্রিল। তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের ৩টি উপজেলায় ২০টি ইউপি নির্বাচনে ১৭টি ইউপিতে নৌকা মনোনিত প্রার্থী ও ৩টিতে আওয়ামীলাগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। শ্রীপুর উপজেলায় যারা বিজয়ী হলেন শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে জাহাঙ্গীর আলম খোকন  (নৌকা), গাজীপুর ইউনিয়নে নুরুল ইসলাম (প্রেস নুরু) (নৌকা), তেলিহাটি ইউনিয়নে আব্দুল বাতেন সরকার  (নৌকা), কাওরাইদ ইউনিয়নে রফিকুল ইসলাম মন্ডল (নৌকা), বরমী ইউনিয়নে বাদল সরকার (নৌকা), গোসিঙ্গা ইউনিয়নে শাহজাহান সরকার (নৌকা), রাজাবাড়ী ইউনিয়নে ফারুক হোসেন, প্রহলাদপুর ইউনিয়নে নুরুল ইসলাম (নৌকা) অন্যদিকে গাজীপুর সদর উপজেলার ১টি ইউপিতে বিজয়ী হয়েছেন আক্তারুজ্জামান আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকে। এছাড়া কাপাসিয়া উপজেলার ১১টি ইউপিতে যারা বিজয়ী হলেন, কাপাসিয়া সদর ইউনিয়নে শাখাওয়াত হোসেন প্রধান, দুর্গাপুর ইউনিয়নে এস এ গাফফার; চাঁদপুর ইউনিয়নে মিজানুর রহমান মাস্টার; তরগাও ইউনিয়নে আইয়ুবুর রহমান সিকদার; কাড়িহাতা ইউনিয়নে মাহবুবুল আলম মোড়ল; বায়েদ ইউনিয়নে আব্দুল হাই; বারিযাব ইউনিয়নে বাবলু; ঘাগটিয়া ইউনিয়নে শাহীনুল আলম সেলিম; সম্মানিয়া ইউনিয়নে শাহাদাত প্রার্থী এবং আ’লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন সিংহশ্রী ইউনিয়নে আশরাফ উদ্দিন খান আনারস মার্কা ও টোক ইউনিয়নে মোঃ ওয়াহিদ আনারস মার্কা।

আতাউর রহমান সোহেল

মোবাইল ফোন অপব্যবহার বাড়ছে অপ্রাপ্ত বয়সে প্রেমে জড়াচ্ছে শিক্ষার্থীরা
                                  

ছেলেটির নাম ইমন(ছদ্মনাম)। একাদশ শ্রেণীর  ছাত্র সে। ভাল পড়াশুনা করার জন্য গ্রাম থেকে ঢাকায় পাঠানো  হয় তাকে। তার  বাবা  একজন  সাধারণ  কৃষক। প্রতি  মাসে মাসে ছেলেকে পড়াশুনার জন্য  টাকা পাঠানো হয় বাড়ি থেকে। অভাবের সংসার এর পরেও  ছেলের  দাবি  অনুয়ায়ী  পড়াশুনার খরচসহ একটি  দামি ফোনও কিনে দেয়া  হয়  তাকে। মা-বাবা জানে  তাদের  সন্তান  ঢাকাতে ভাল পড়াশুনা  করছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্নরূপ। তাদের  সন্তান পড়াশুনা  করার বদলে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে অন্য ধর্মের একটি মেয়ের  সাথে  গভীর প্রেমে  জড়িয়ে  পড়ে। এখানে শুধু প্রেম  করেই  ক্ষান্ত নয়। সে মেয়েটিকে কোর্টের  মাধ্যমে  বিয়ে করে  ধর্মান্তরিত হয়েছে। অথচ কিছুই জানেনা তার অভিভাবকেরা। একমাত্র  সন্তানের এ ঘটনা জানতে পেরে তার মা-বাবা  এখন  পাগল  প্রায়। এমন ঘটনা যেন  এখন  নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার।

বাগেরহাটের  চিতলমারীতে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এমন  অসংখ্য মোবাইল প্রেমের  ঘটনা  এলাকায়  ব্যাপক  আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলেছে। নাড়া  দিয়েছে  অভিভাবক মহলে। তাদের  সন্তানরা  পড়াশুনার  বদলে কোন  পথে  যাচ্ছে এমনই  প্রশ্ন  এখন  অনেকের।

এলাকাবাসীর  সাথে  কথা  বলে  জানা গেছে, মোবাইল ফোনে প্রেমের ভয়ঙ্কর নানা কাহিনী। এতে  দারুন ভাবে বিপথে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি নানা  অনৈতিক  কাজে জড়িয়ে  পড়ছে তারা এক শ্রেনীর তরুণ-তরুণীরা।  উপজেলার  সাবোখালী  গ্রামের  এক  কলেজছাত্রী সর্ম্পকে  জানা যায়, সে মোবাইলে এক  যুবকের  সাথে প্রেমে জড়িয়ে  পড়ে।  এর পর ঐ  যুবক এক  পর্যায়  তার  সাথে  প্রতারণা  করলে  মেয়েটি  বিয়ের  দাবিতে   ওই প্রেমিক  বাড়িতে  অবস্থান নেন। তাকে  ওই  বাড়ি থেকে  তাড়িয়ে দেয়া  হলে  তার  মা পূনরায় এক  প্রতিবেশি  যুবককে  কিছু  টাকা  দিয়ে  তার মেয়েকে প্রেমিকের  বাড়িতে রেখে  আসার জন্য পাঠিয়ে দেন। এ সুযোগে প্রতিবেশি  যুবক  ওই মেয়েটিকে তার প্রেমিকের বাড়িতে পৌঁছে দেবার কথা বলে একটি নির্জন ঘরে তাকে আটকে রেখে  বন্ধুদের  নিয়ে সম্ভ্রমহানির চেষ্টা  চালায়।  পরে  পুলিশ  খবর পেয়ে  মেয়েটিকে  উদ্ধার  করেছে। মেয়েটি  ঘরে  ফিরে লোক লজ্জার  ভয়ে  গলায় ওড়না পেঁচিয়ে গত ৪-৫ দিন আগে আত্মহত্যার চেষ্টা  চালালে অন্যরা টের পেয়ে  তাকে  উদ্ধার করেছে। বর্তমানে সে খুলনা মেডিকেল  কলেজ  হাসপাতালে  মৃত্যুর  সাথে  পাঞ্জা লড়ছে।  

এছাড়া  উপজেলার  সন্তোষপুর  গ্রামের  ঝুমা  নামে  এক  স্কুল  ছাত্রী মোবাইলে  প্রেম   করে  এখন  বিপাকে  পড়েছে। ঝুমার পরিবার ও  প্রতিবেশিদের  সাথে  কথা  বলে  জানা গেছে, গত ৫-৬ মাস  আগে  একই  উপজেলার বাঁশবাড়িয়া  গ্রামের  দেবেন  মন্ডলের  পুত্র তারাশংকরের সাথে মোবাইল ফোনের  মাধ্যমে  সন্তোষপুর মাধ্যমিক  বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী ঝুমার প্রেমের  সম্পর্ক  গড়ে  ওঠে। এর  পর থেকে  তাদের  মধ্যে  চলে  মন দেয়া-নেয়া । অল্প  দিনের  মধ্যে  গভীর  সম্পর্কে  জড়িয়ে  পড়ে  তারা। এ  অবস্থায় তারাশংকরের  পরিবার  বিষয়টি  জানতে পেরে এ কাজে  বাঁধ সাধে। কোন  ভাবে  বিষয়টি  তারা মেনে  নিতে রাজি নয়। এমন  পরিস্থিতে গত চার-পাঁচ  দিন  আগে ঝুমা তারাশংকরের  সাথে দেখা  করতে  বাড়ি থেকে বের  হয়। এদিন সে  আর  বাড়িতে  ফিরে  না  আসায় পরিবারের লোকজন খোঁজ নেন।  পরে  জানা  যায়, ঝুমা ও  তারাশংকর থানায়  আছে। তাদের চলাফেরা সন্দেহ জনক হওয়ায় এলাকাবাসি  তাদের  থানায় সোপর্দ  করেছে। বিষয়টি  নিয়ে  এলাকায়  ব্যাপক  জানাজানি  হলে ঝুমার  পরিবার থেকে  তারাশংকরের  পরিবারের  কাছে  বিয়ের প্রস্তাব  পাঠানো  হয়। কিন্তু  তার  পরিবার এ বিয়ে কোন ভাবেই মেনে নিতে রাজি  নয়। এ পরিস্থিতে  থানা থেকে বেরিয়ে ঝুমাকে রেখে তারাশংকর  বর্তমানে  গা ঢাকা   দিয়েছে। লোকলজ্জার  ভয়ে  ঝুমা  আর বাড়িতে ফিরে যেতে পারছে  না। বিযের দাবিতে সে এখন এলাককার জনপ্রতিনিধিসহ  বিভিন্ন লোকের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। আর এ দাবি আদায়ের  জন্য গত তিনদিন ধরে অনশন করছে সে।

এ  বিষয়ে অভিভাবক শ্রেণীর  রবিউল  ইসলাম  খান  জানান, আজকাল মোবাইল ফোন  অধিকাংশ  ছাত্র-ছাত্রীর  হতে দেখা  যায়। তারা  পড়াশুনার  প্রতি  আগ্রহ  হারাচ্ছে। দেখা  যায়  রাত জেগে ফোনে  কথা  বলে  নতুবা ফেসবুক দেখে। তারা  মুল্যবান  সময়  নষ্ট  করে  বিপথ গামী  হচ্ছে। 

 

চিতলমারী  সদর বাজারের  হাসিনা বেগম মাধ্যমিক  বালিকা  বিদ্যালয়ের  প্রধান  শিক্ষক শৈলেন্দ্র  নাথ বাড়ৈ  জানান, পড়াশুনার পেছনে  বড় বাঁধা  হয়ে  দাঁড়িয়েছে মোবাইল ফোন। এর  সঠিক  ব্যবহার  না  করে  ছাত্র-ছাত্রীরা  খারাপ দিকে  অগ্রসর  হচ্ছে। বিষয়টি চেষ্টা  করেও  নিয়ন্ত্রণে  আনা  অনেকটা  অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবে  ক্লাসে মোবাইল  আনতে  নিষেধ  করা  হয়েছে  ছাত্রীদের।

এ ব্যাপারে  ভারপ্রাপ্ত  উপজেলা নির্বাহী  অফিসার ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও  মো.  আনোয়ার  পারভেজ  জানান, অপরিণত   বয়সে  শিক্ষার্থীদের  হাতে মোবাইল পৌঁছে  যাওয়ায়  অনেকেই এর অপব্যবহার করছে। বিশেষ  করে  উঠতি  বয়সের  যুবক-যুবতী  ও  শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোনের  মাধ্যমে ফেসবুক ও অন্যান্য  উপায়ে  সম্পর্ক  গড়ছে। এ  সম্পর্কের পরিণতি  সম্পর্কে  তাদের  জানা নেই। এ ছাড়া রাত জেগে পড়াশুনা বাদ দিয়ে মোবাইলের মাধ্যমে বিভিন্ন  খারাপ ছবি দেখে বিপথে  যাবার  প্রবণতা  বৃদ্ধি  পাচ্ছ।  

বিশেষ প্রতিনিধি, বাগেরহাট থেকে


   Page 1 of 1
     পর্যটন
বেড়ানো দিল্লীর কুতুব মিনার
.............................................................................................
ত্রিমাত্রিক সবুজ ক্যানভাস পানিহাতা
.............................................................................................
ঘুরে আসুন সিঙ্গাপুর
.............................................................................................
ঘুরে আসুন লালমাই
.............................................................................................
দূর থেকেই দেখতে হবে তাজমহল
.............................................................................................
ঘুড়ে আসুন সিঙ্গাপুর
.............................................................................................
ঘুরে আসুন সাগরকন্যা
.............................................................................................
বেড়াতে যাইতে পারেন থাইলেন্ড
.............................................................................................
প্রকৃতির নৈসর্গিক মনলোভা দৃশ্যের হাতছানি ঘুরে আসুন পতেঙ্গা
.............................................................................................
নাজিরপুরে বিশ্ব বই দিবস উদযাপন
.............................................................................................
গাজীপুরে ইউপি নির্বাচন আওলীগ ১৭, বিদ্রোহী ৩ প্রার্থীর জয়
.............................................................................................
মোবাইল ফোন অপব্যবহার বাড়ছে অপ্রাপ্ত বয়সে প্রেমে জড়াচ্ছে শিক্ষার্থীরা
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

Editor & Publisher: Rtn. Md Reaz Uddin
Mobile:+88-01711391530, Email: md.reaz09@yahoo.com Corporate Office
53,Modern mansion(8th floor),Motijheel C/A, Dhaka
E-mail:manabadhikarkhabar@gmail.com,manabadhikarkhabar34@yahoo.com,
Tel:+88-02-9585139
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-9585140
    2015 @ All Right Reserved By manabadhikarkhabar.com    সম্পাদকীয়    Adviser List

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]