| বাংলার জন্য ক্লিক করুন

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   পর্যটন -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
ঘুরে আসুন প্রকৃতির লীলাভূমি “চর কুকরি মুকরি”

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। ভ্রমন করে না অথবা করতে চায় না এমন মানুষ এই দুনিয়ায়  পাওয়া বড় মুশকিল। একঘেয়ে জীবন যাত্রায় মানুষ যখন হাঁপিয়ে ওঠেন, তখন তার অন্তত কিছু সময়ের জন্য একটু আরাম, একটু বিরাম, একটু শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পরেন সৃষ্টিকর্তার অপারময় সৃষ্টির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখার জন্য কাছে বা দূরে কোথাও। একজন পর্যটক হিসেবে আপনি ঘুরে আসতে পারেন সারা বিশ্ব। ঢাকার বাইরে ঘুরে আসতে চান? তবে স্বল্প মূল্যে পরিবার নিয়েঘুরে আসতে পারেন দেশের দর্শনীয় স্থান। আমাদের সুজলা-সুফলা নদী মার্তৃক এই দেশের মধ্যেই রয়েছে পাহাড়, পর্বত সমুদ্র, জঙ্গল, স্থাপত্য, পুরাকীর্তি ইত্যাদি। পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য রয়েছে বিনোদনের নানান ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক সম্পদের অফুরন্ত সম্ভার। আর আপনি যদি একজন পর্যটক হিসেবে ভ্রমণ করতে চান, তবে মাথার ওপর নীল চাঁদোয়া, মেঘে-বৃষ্টিতে ভেজা বাতাস। পায়ের নিচে অন্য এক পৃথিবী উপভোগ করতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন চর কুকরি মুকরি। ভ্রমণ পিপাসুদের উদ্দেশে লিখেছেন- মোঃ রিয়াজ উদ্দিন

সভ্যতার বিকাশ, জীবন কিংবা জীবিকা অথবা প্রযুক্তির গতি যাই বলি না কেন আমরা দিনেদিনে কেবলই যন্ত্র হয়ে উঠছি। তাই প্রয়োজন হয় ক্ষণিকের বিরতি। ক্লান্তি দূর হয়, মনে প্রশান্তি আসে আর সামজিক বন্ধন হয় কিঞ্চিৎ দৃঢ়। শহুরে জীবন থেকে, যানবাহনের বিকট শব্দ এবং শিল্পকারখানার দূষণ থেকে মুক্তি পেতে চাইলে যেতে হবে একটু দূরে, সবুজের কাছে। নদী, সমুদ্র কিংবা পাহাড় চূড়া যেখানেই যেতে চান, প্রয়োজন হবে একটু সময় এবং অর্থ। এবারের ঈদে বেশ লম্বা ছুটিছিলো। আমরা যারা সারা বছর কর্ম ব্যস্থ্য থাকি তারা শিকড়ের টানে গ্রামে ছুটে যাই। কেউ কেউ ভীড় করে দেশের ভেতরের বিনোদন কেন্দ্র, কিংবা পর্যটনের জন্য প্রসিদ্ধ স্থান সমূহে। দেশের বাইরেওযাচ্ছেন অনেকে। তবে আমি দেশের গন্ডি পেরুনোর আগে, নিজের দেশ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে অনুরোধ করবো সবাইকে। আমরা ঘর থেকে দুই পা ফেলে সত্যিই দেখিনি প্রকৃতির অপার সম্ভার! নদী মাতৃক বাংলাদেশে এক সময় জলপথ ছিলো যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। তবে তখন প্রচুর সময় লাগতো কোথাও যেতে চাইলে। প্রযুক্তির অপর্যাপ্ততা এবং আমাদের বাণিজ্যিক মানসিকতার বলিহয়ে অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন না করায় ইতিমধ্যে ঝড়ে গেলে বিপুল অমূল্য প্রাণ। তবে আশার কথা হলো এই যে, জলপথ এখন বেশ নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী। যাত্রী এবং পণ্য পরিবহনে এইজলপথ এখনো অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে একনো জন বান্ধব। যারা সমুদ্র দেখতে ট্রেন, বিলাসবহুল বাস কিংবা বিমানে কক্সবাজার গিয়েছেন তাদের বলবো সময় হলে দক্ষিণবঙ্গে পা রাখুন। দেখতেনদী ও সমুদ্রের সঙ্গমে প্রকৃতির রূপ লাবণ্য। বলছি ব-দ্বীপ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দ্বীপ জেলে ভোলার প্রত্যন্ত চরফ্যাশণ উপজেলার সবচেয়ে পুরনো এবং আকর্ষণীয় চর কুকড়ি মুকড়ির কথা।
কিভাবে যাবেনঃ সদরঘাট ঢাকা থেকে আপনি চাইলে লঞ্চে করে চরফ্যাশন এর বেতুয়া ঘাটে যেতে পারেন। বেতুয়ায় প্রতিদিন ৩ টি লঞ্চ যায়। বিলাসবহুল স্যুট, এসি/ননএসি কেবিন এবং ডেক যেযার সমর্থ অনুযায়ী ভ্রমণ করতে পারেন। রাত ৮ টায় ছেড়ে ভোর ৬:৩০ টায় আপনি বেতুয়ায় পৌঁছে যাবেন। রাতের খাবারের ব্যবস্থা লঞ্চেই করা যাবে, মান খারাপ না। বেতুয়া থেকে চরফ্যাশন বাজারে চলে আসুন, অনেক মান সম্পন্ন হোটেল আছে। নিরালা র মিষ্টি ভীষণ মজা। দুপুরে গেলে গরম রসগোল্লার স্বাদ পাবেন। নাস্তা করে চলে যেতে পারেন দৃষ্টিনন্দন জ্যাকব টাওয়ার দেখতে। উপরে উঠেগোটা চরফ্যাশন দেখতে পাবেন। আরো আছে কফি শপ... বিকেলের দিকে ভাটা থাকায় চলে আসুন চর কচ্ছপিয়া। এখান থেকে ট্রালার ২/৩ ঘণ্টা পর পর ছাড়ে, ভাড়া ৫০/৬০ টাকা। আপনি চাইলেরিজার্ভ করে নিয়ে যেতে পারেন হাজার টাকায়। চর কুকড়ি মুকিড়ি যাবার পথটাই সবচেয়ে সুন্দর বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। দুইপাশে প্রচুর সবুজ, ভাগ্য ভালো থাকলে বানর এমন কি হরিণের দেখা পেতেই পারেন... চরে কোন শব্দ দূষণ নেই, এটা একটা সংরক্ষিত বনাঞ্চল। বন বিভাগের আওতায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত আছে কোষ্ট গার্ড। চরে ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় চমৎকার একটা মোটেল। তাছাড়াও বন বিভাগ এবং কোষ্ট ট্রাষ্ট এর গেষ্ট হাউজ আছে। চর কুকরি-মুকরি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং বন্যপ্রানী অভয়ারণ্য। ভোলা শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার, চরফ্যাশন উপজেলা থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যেতে ১ ঘণ্টা সময় লাগে। স্পীড বোটেও যাওয়া যায়। মেঘনাও তেতুলিয়া নদীর মোহনায় বঙ্গোপসাগরের উপকন্ঠে কয়েকশ বছর আগেজেগে ওঠা চর সবুজের চাদরে মোড়ানো এক মনোমুগ্ধকর স্থান। এখানে রয়েছে ১৫ হাজারেরও বেশি হরিণ। এ ছাড়াও অতিথি পাখি, লাল কাঁকড়া, বুনো মহিষ, বানর, বনবিড়াল, উদবিড়াল, শেয়াল, বনমোরগসহ নানা প্রজাতির বন্য প্রাণীর দেখা মেলে। হাতে সময় থাকলে ঘুরে আসুন, ভালো লাগবে।

ঘুরে আসুন প্রকৃতির লীলাভূমি “চর কুকরি মুকরি”
                                  

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। ভ্রমন করে না অথবা করতে চায় না এমন মানুষ এই দুনিয়ায়  পাওয়া বড় মুশকিল। একঘেয়ে জীবন যাত্রায় মানুষ যখন হাঁপিয়ে ওঠেন, তখন তার অন্তত কিছু সময়ের জন্য একটু আরাম, একটু বিরাম, একটু শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পরেন সৃষ্টিকর্তার অপারময় সৃষ্টির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখার জন্য কাছে বা দূরে কোথাও। একজন পর্যটক হিসেবে আপনি ঘুরে আসতে পারেন সারা বিশ্ব। ঢাকার বাইরে ঘুরে আসতে চান? তবে স্বল্প মূল্যে পরিবার নিয়েঘুরে আসতে পারেন দেশের দর্শনীয় স্থান। আমাদের সুজলা-সুফলা নদী মার্তৃক এই দেশের মধ্যেই রয়েছে পাহাড়, পর্বত সমুদ্র, জঙ্গল, স্থাপত্য, পুরাকীর্তি ইত্যাদি। পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য রয়েছে বিনোদনের নানান ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক সম্পদের অফুরন্ত সম্ভার। আর আপনি যদি একজন পর্যটক হিসেবে ভ্রমণ করতে চান, তবে মাথার ওপর নীল চাঁদোয়া, মেঘে-বৃষ্টিতে ভেজা বাতাস। পায়ের নিচে অন্য এক পৃথিবী উপভোগ করতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন চর কুকরি মুকরি। ভ্রমণ পিপাসুদের উদ্দেশে লিখেছেন- মোঃ রিয়াজ উদ্দিন

সভ্যতার বিকাশ, জীবন কিংবা জীবিকা অথবা প্রযুক্তির গতি যাই বলি না কেন আমরা দিনেদিনে কেবলই যন্ত্র হয়ে উঠছি। তাই প্রয়োজন হয় ক্ষণিকের বিরতি। ক্লান্তি দূর হয়, মনে প্রশান্তি আসে আর সামজিক বন্ধন হয় কিঞ্চিৎ দৃঢ়। শহুরে জীবন থেকে, যানবাহনের বিকট শব্দ এবং শিল্পকারখানার দূষণ থেকে মুক্তি পেতে চাইলে যেতে হবে একটু দূরে, সবুজের কাছে। নদী, সমুদ্র কিংবা পাহাড় চূড়া যেখানেই যেতে চান, প্রয়োজন হবে একটু সময় এবং অর্থ। এবারের ঈদে বেশ লম্বা ছুটিছিলো। আমরা যারা সারা বছর কর্ম ব্যস্থ্য থাকি তারা শিকড়ের টানে গ্রামে ছুটে যাই। কেউ কেউ ভীড় করে দেশের ভেতরের বিনোদন কেন্দ্র, কিংবা পর্যটনের জন্য প্রসিদ্ধ স্থান সমূহে। দেশের বাইরেওযাচ্ছেন অনেকে। তবে আমি দেশের গন্ডি পেরুনোর আগে, নিজের দেশ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে অনুরোধ করবো সবাইকে। আমরা ঘর থেকে দুই পা ফেলে সত্যিই দেখিনি প্রকৃতির অপার সম্ভার! নদী মাতৃক বাংলাদেশে এক সময় জলপথ ছিলো যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। তবে তখন প্রচুর সময় লাগতো কোথাও যেতে চাইলে। প্রযুক্তির অপর্যাপ্ততা এবং আমাদের বাণিজ্যিক মানসিকতার বলিহয়ে অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন না করায় ইতিমধ্যে ঝড়ে গেলে বিপুল অমূল্য প্রাণ। তবে আশার কথা হলো এই যে, জলপথ এখন বেশ নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী। যাত্রী এবং পণ্য পরিবহনে এইজলপথ এখনো অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে একনো জন বান্ধব। যারা সমুদ্র দেখতে ট্রেন, বিলাসবহুল বাস কিংবা বিমানে কক্সবাজার গিয়েছেন তাদের বলবো সময় হলে দক্ষিণবঙ্গে পা রাখুন। দেখতেনদী ও সমুদ্রের সঙ্গমে প্রকৃতির রূপ লাবণ্য। বলছি ব-দ্বীপ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দ্বীপ জেলে ভোলার প্রত্যন্ত চরফ্যাশণ উপজেলার সবচেয়ে পুরনো এবং আকর্ষণীয় চর কুকড়ি মুকড়ির কথা।
কিভাবে যাবেনঃ সদরঘাট ঢাকা থেকে আপনি চাইলে লঞ্চে করে চরফ্যাশন এর বেতুয়া ঘাটে যেতে পারেন। বেতুয়ায় প্রতিদিন ৩ টি লঞ্চ যায়। বিলাসবহুল স্যুট, এসি/ননএসি কেবিন এবং ডেক যেযার সমর্থ অনুযায়ী ভ্রমণ করতে পারেন। রাত ৮ টায় ছেড়ে ভোর ৬:৩০ টায় আপনি বেতুয়ায় পৌঁছে যাবেন। রাতের খাবারের ব্যবস্থা লঞ্চেই করা যাবে, মান খারাপ না। বেতুয়া থেকে চরফ্যাশন বাজারে চলে আসুন, অনেক মান সম্পন্ন হোটেল আছে। নিরালা র মিষ্টি ভীষণ মজা। দুপুরে গেলে গরম রসগোল্লার স্বাদ পাবেন। নাস্তা করে চলে যেতে পারেন দৃষ্টিনন্দন জ্যাকব টাওয়ার দেখতে। উপরে উঠেগোটা চরফ্যাশন দেখতে পাবেন। আরো আছে কফি শপ... বিকেলের দিকে ভাটা থাকায় চলে আসুন চর কচ্ছপিয়া। এখান থেকে ট্রালার ২/৩ ঘণ্টা পর পর ছাড়ে, ভাড়া ৫০/৬০ টাকা। আপনি চাইলেরিজার্ভ করে নিয়ে যেতে পারেন হাজার টাকায়। চর কুকড়ি মুকিড়ি যাবার পথটাই সবচেয়ে সুন্দর বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। দুইপাশে প্রচুর সবুজ, ভাগ্য ভালো থাকলে বানর এমন কি হরিণের দেখা পেতেই পারেন... চরে কোন শব্দ দূষণ নেই, এটা একটা সংরক্ষিত বনাঞ্চল। বন বিভাগের আওতায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত আছে কোষ্ট গার্ড। চরে ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় চমৎকার একটা মোটেল। তাছাড়াও বন বিভাগ এবং কোষ্ট ট্রাষ্ট এর গেষ্ট হাউজ আছে। চর কুকরি-মুকরি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং বন্যপ্রানী অভয়ারণ্য। ভোলা শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার, চরফ্যাশন উপজেলা থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যেতে ১ ঘণ্টা সময় লাগে। স্পীড বোটেও যাওয়া যায়। মেঘনাও তেতুলিয়া নদীর মোহনায় বঙ্গোপসাগরের উপকন্ঠে কয়েকশ বছর আগেজেগে ওঠা চর সবুজের চাদরে মোড়ানো এক মনোমুগ্ধকর স্থান। এখানে রয়েছে ১৫ হাজারেরও বেশি হরিণ। এ ছাড়াও অতিথি পাখি, লাল কাঁকড়া, বুনো মহিষ, বানর, বনবিড়াল, উদবিড়াল, শেয়াল, বনমোরগসহ নানা প্রজাতির বন্য প্রাণীর দেখা মেলে। হাতে সময় থাকলে ঘুরে আসুন, ভালো লাগবে।

ভারত ভ্রমণের দিনলিপি
                                  


বিশ্ব পর্যটন
ভারত ভ্রমণের দিনলিপি
ভারত উপমহাদেশ, আসলে মনে হয় মহাদেশ।
ভারত ভ্রমণ করলেই পৃথিবী ভ্রমণ হয়ে গেল। লেখকের বইটি পড়ে আবার আমার ভ্রমণ তৃষ্ণা জেগে উঠেছে। যেতে ইচ্ছে করছে আবার আগ্রা, আগ্রার তাজমহল, আজমির, যমুনা, বৃন্দাবন, পুরী, কোণারক, ভুবনেশ্বর, ব্যাঙ্গলোর, হায়দরাবাদ, মুম্বাই, দিল্লি। অনেক জায়গার নাম শুধু পড়েছি, যাইনি। যাওয়ার সময়ও শেষ। তাই পরিব্রাজকের বই নিয়ে বসলাম। তাতেও ভ্রমণের সাধ মেটে বৈকি। ১৬১ পৃষ্ঠার বইটি পড়তে লাগল কয়েক ঘণ্টা সময়, তার চেয়ে অনেক বেশি মাস-বছর-সময় লাগত ভ্রমণে। কি ভাগ্য, বিনা খরচে সব দেখা হয়ে যায় বই পড়ে।
লেখকের বর্ণনায় কলকাতায় প্রথম গেলাম। ময়দানের পাশেই হাজির হলাম ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে, যেটি বাংলা ভাষার জন্মকেন্দ্র, ১৮০০ থেকে ১৮৫৪ ভাষার যখন ক্রমবিবর্তন চলেছে। ওখানেই কয়েকটি দিন কাটিয়ে দেয়া যায়, চিনে নেয়া যায় কীভাবে সমাজ বিবর্তিত হয় শিক্ষার কল্যাণে। টিপু সুলতানের হত্যাকাণ্ডের এক বছর পর স্থাপিত ফোর্ট উইলিয়াম। উদ্দেশ্য ভাষার প্রসার। আসলে তা নয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অফিসারদের ভারতীয় ভাষার শিক্ষার জন্যে প্রতিষ্ঠিত ওই কলেজটি। এখানে শিক্ষকতা করেছেন— মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, রামনাথ বাচস্পতি, তারিনি চরণ মিত্র, রামরাম বসু, মদনমোহন তর্কালঙ্কার, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। কাজের ভাষা ছিল ফারসি। আর মুসলমানদের শিক্ষা ছিল আরবি, ফারসি। ব্রাহ্মণ পন্ডিতেরা পড়াতেন সংস্কৃত, কারণ বাংলা ছিল নিচু স্তরের ভাষা। বাংলার অধ্যাপকের দায়িত্ব নিয়েছিলেন শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশনের উইলিয়াম কেরি। বাইবেলের প্রথম বাংলা অনুবাদ করলেন তিনি। ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি লিখলেন ‘প্রথম বাংলা ব্যাকরণ’ ও বাংলা গদ্যে ‘কথোপকথন’। রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাংলা গদ্যভাষা চর্চা করেন, যাতে সংস্কৃতের প্রাবল্য। বিদ্যাসাগর যোগালেন শক্তি। সেই পথেই বঙ্কিমচন্দ্র। মধুকবি মাইকেল আনলেন অমিত্রাক্ষর ছন্দ। মুসলমানদের ব্যবহূত পালি, প্রাকৃত, সংস্কৃত, আরবি ও ফারসি অনেকটা অগ্রাহ্য করে ফোর্ট উইলিয়াম নিল উঁচু শ্রেণির ভাষা সৃষ্টির উদ্যোগ।
মুসলমানরা পিছিয়ে ছিলাম ইংরেজি লেখাপড়ায়, তাই সামনের দিকে এগোতে পারিনি। দুজন তিনজন করে গ্র্যাজুয়েট বের হতো আমাদের পক্ষ থেকে। আর ওদের পক্ষ থেকে হাজার হাজার। আর আজ আমরা পৃথিবীতে একমাত্র সার্বভৌম পতাকার নিচে সমবেত ষোলো কোটি বাঙালি, হাজার হাজার লাখ লাখ গ্র্যাজুয়েট, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, স্থপতি, নানা পেশার বাংলাদেশি পুরো পৃথিবীতে। ওই কলেজটি না দেখলে অনেক ইতিহাসের শিড়্গা থেকে হতাম বঞ্চিত।
লেখক নিয়ে গেছেন নিউমার্কেটে, যেখানে ইন্ডিয়ান সিল্ক হাউস। লিন্ডসে স্ট্রিটে যেখানে নিউমার্কেট। তারপর ভার্দান মার্কেট, যেখানে ছাত্রছাত্রীরা বাজার সওদা করেন। আমি খালেদের সঙ্গে সর্বক্ষণ ছিলাম। কারণ কলকাতা আমার জন্ম শহর। ঠিক যেন জন্ম নদী কালজানির মতো। কলকাতার সবকিছু আমার ভালো লাগে। খালেদের ভাষা খুব মিষ্টি, যা নতুন লেখকদের মধ্যে বিরল। নিচের অল্প একটু পড়লেই বুঝতে পারবেন—
‘অন্ধকারের জমিনে আলোর খেলা দেখছি। অন্ধকারের মাঝে যেন আলোর গান শুনতে পাচ্ছি। ধ্বংসের গান, সৃষ্টির গান। আলোর গান, অন্ধকারেরও গান। একই গান। রেলগাড়ির গতির কারণেই অনুভূতিটা আরও প্রগাঢ় হচ্ছে বোধকরি। বাতাস যেন আলোদের গায়ে- অন্ধকারের গায়ে বাড়ি খেতে খেতে মূর্ছনা তুলছে। আমি জানালার পাশে বসে অন্ধকারের গান শুনি।’
কলকাতার পথঘাট ভুলে গেছি। কিছুদিন আগে আতিথ্য পেলাম গঙ্গার পারে একটি দিন শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণের মন্দির ও বিবেকানন্দ কুটিরে। মনটা ভরে গিয়েছিল। বইতে যাদের কথা পড়েছি যেন ওদেরকে দেখতে পাচ্ছি। যার অতিথি তিনি জানতে পারলেন না, আমি কী পেলাম।
এত বড় ভারত। যাকে বলা হয় ভূ-ভারত তার সবটা দেখা হয়নি। হয়তো আর হবে না। কিন্তু ইতিহাসের সাক্ষী দিল্লি এই বইটির সঙ্গে মিলিয়ে পড়বেন, তাহলেই অনেক কিছু জানতে পারবেন। আমার ভালো লেগেছে কলকাতার আখ্যান। কারণ ওইখানেই আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে। মহর্ষি ভবনের দোতলায় একমাথা থেকে অন্য মাথা পর্যন্ত একটানা বারান্দা। ‘জীবন স্মৃতি’ গ্রন্থের ‘দক্ষিণের বারান্দা’, যার সঙ্গে জড়িয়ে রবীন্দ্রনাথের শৈশব স্মৃতি। এই ভবনেই রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ কক্ষ ও শয়ন কক্ষ। রান্নাঘর, খাওয়ার ঘর তেমনটি আছে। তিনতলায় শোভা পাচ্ছে রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, কেশব চন্দ্র সেন, স্বামী বিবেকানন্দ, প্রমুখের তৈলচিত্র।
রবীন্দ্রনাথকে লেখা মৃণালিনী দেবীর পত্র, তাদের বিয়ের আমন্ত্রণলিপি। পুরনো গ্রামোফোন রেকর্ড, সবই আছে। আমরা একদিনেই সব দেখে ফেলতে চাই। তা কখনোই সম্ভব নয়। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে সাত দিন। তেমনি মুর্শিদাবাদে মুসলমানদের যা কিছু সৌন্দর্য চেতনা, তা দেখতে লাগবে সাত দিন। যদি আরেকটা জন্ম পাই, তাহলে নিশ্চয়ই আমি খালেদের সঙ্গী হবো। বড় হোটেলে থাকতে চাই না, যে কোনো খানে ঘুমাতে পারি। মসজিদ হলেও চলবে। আমি মুসাফির। আমার নেই কোনো চাহিদা। এবার পাঠকদের নিয়ে যাই পাহাড়ের হাতছানি দেয়া সিমলা ও মানালিতে। লেখকের লেখা এত মিষ্টি। হিমাচলে পদার্পণের পর পরই একটা এসএমএস এসেছিল, অনুবাদ করলে দাঁড়ায়— ‘দেবতাদের ভূমি হিমাচল প্রদেশে স্বাগতম। আপনার ভ্রমণ সুখময় ও আরামদায়ক হোক। আপনার নিরাপত্তা ও কল্যাণের স্বার্থে নদী তীরে বিপজ্জনক ভ্রমণ বা নদীর পানিতে নামা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করছি’। আমি ঘুমিয়েছিলাম বোধকরি, খেয়াল করে পড়া হয়নি। ফোনের অ্যালার্মে ঘুম ভাঙে, বন্ধ করতে গিয়ে এই বার্তাটি দেখি। আজ ‘দেবতাদের ভূমিতে’ ঘুরে বেড়ানোর দ্বিতীয় দিন। আজকের গন্তব্য কুফরি আইস পয়েন্ট। বরফের দেখা হয়তো পাওয়া যাবে না এখন, তবে সেখান থেকে বেশ দূর পর্যন্ত দেখা যায়। চমৎকার প্যানোরোমিক ভিউ ছাড়াও আট হাজার ৬০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত কুফরি ভারতের অন্যতম স্কিইং পয়েন্ট।’
শাহ মোস্তফা খালেদের কাছে কৃতজ্ঞ, কারণ তার কাছে ভ্রমণের মনটি আবার ফিরে পেলাম। যেতে চাই দার্জিলিং, ভুটান। কুচবিহারের পাশেই। সঙ্গীর প্রয়োজন নেই। ভ্রমণের জন্য প্রয়োজন ভ্রমরের মন। ভ্রমর যাবে মনের সঙ্গে। তা হলেই ভ্রমণ।
বইটি বের করেছেন ”স্বরেআ”। সুন্দর প্রচ্ছদ দাম - ২৭০ টাকা ।
লেখক: সাহিত্য-সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব।

বিশ্ব পর্যটন মেঘের দেশ মেঘালয় ও আসাম আমার দেখা সৌন্দর্যের লীলাভূমিঃ
                                  

প্রকৃতি তার সব সৌন্দর্য যেন দিয়েছে মেঘালয় ও আসাম জুড়ে। পাহাড়ের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে যেন স্বর্গীয় হাতছানি। চোখ জুড়ানো শুভ্র পাহাড়ের আল্পনার সঙ্গে সাদা মেঘের ভেসে বেড়ানো প্রতিটি মুহুর্ত মুগ্ধ করে। ধারণা করা হয়, মেঘালায় নামটি এসেছে মেঘ থেকে। যার অর্থ হলো মেঘের বাসভুমি। ভারতের একটি রাজ্য মেঘলালয়। যা ভারতের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। বাংলাদেশেরও পূর্বে সিলেট সীমান্তের  চারিদিকের মেঘলালয়ের অবস্থান। আর যাদু বিদ্যায় খ্যাত দেশ আসামের কামরুখ কামাক্ষা তার পাশেই অবস্থিত। আসামের নাম শুনলেই  গন্ডার ও যাদু বিদ্যা সহ বিভিন্ন কারণে গা শিহরে উঠে। যাই হোক, মেঘের দেশ মেঘালয় এর সৌন্দর্য ও গন্ডায় যাদু বিদ্যার দেশ আসাম দেখার দীর্ঘদিনের প্রবল ইচ্ছা ছিল আমার। অবশেষে সময়, শ্রম ও অর্থের সমন্বয় করে গত ৩ মে যাত্রা শুরু করি এ দুই রাজ্যের উদ্দেশ্যে। ১৯৯২ সাল থেকে ভারতে বিভিন্ন রাজ্য ঘুরে দেখার সুযোগ হলে প্রকৃতিক সৌর্ন্দযে ভরপুর এ রাজ্য ২টি দেখার সুযোগ হয়নি।
বাংলাদেশের সাথে ভারতের উত্তর-পূর্বের এ রাজ্যগুলির সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন শিল্প বিকাশে সুযোগ-সুবিধা অনেক কম থাকায়, পর্যটকদের সংখ্যা এখনো অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় কম। কারণ হিসাবে দেখা যায়, বাংলাদেশ ও ভারতের অংশে পাহাড়িয়া অঞ্চল হওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থায় রেল, বিমান এর পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় পর্যটকরা এ দুর্গম রাজ্য গুলিতে যেতে চায় না। আগের তুলনায় বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নিরাপওার ব্যবস্থার একটু উন্নতি হওয়ায় পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলি যেমন : - ত্রিপুরা, আসাম, অরুনাঞ্চল, মনিপুরী,  নাগাল্যান্ড সহ এসব রাজ্য গুলির সাথে ব্যবসা বাণিজ্য ও পর্যটনের উজ্জল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে বাংলা-আসাম ফ্রেন্ডশীপ এসোসিয়েশান (বিএএফএ) নামক একটি সংগঠনের আত্ম প্রকাশ করে। দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্প বিকাশে আগ্রহীদের নিয়ে এ সংগঠনের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রেসিডেন্ট হলেন এ,টি,এম জাহিদ হাসনাত বুলবুল ও জেনারেল সেক্রেটারী মোঃ জহিরুল ইসলাম মনির। আমি এ সংগঠনের মিডিয়া সেক্রেটারীর দায়িত্বে আছি। কমিটি গঠনের পর অনেকদিন ধরে চেষ্টা চলছিল দু’দেশের পর্যটনে সৌহার্দ্য বৃদ্ধির জন্য আসাম ও  ভ্রমনের। ভিসা জটিলতা সহ, নানান কারণে তিন তিন বার পিছিয়ে যায় আসাম ভ্রমনের নির্ধারিত তারিখ। সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ৩ মে রাত ১০ টায় ঢাকার গুলশান ১নং-এর মাহিমা টুরস এন্ড ট্রাভেল লিঃ এর কার্যালয় থেকে আমরা আনুষ্ঠানিক ভাবে ৫ দিনের যাত্রা শুরু করি। মেঘালয়-আসাম ট্যুরটির সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনায় ছিলো মাহিমা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেল লিঃ। আমি সহ মোট ১৪জন ছিলাম এ ট্যুরে অন্যান্যদের মধ্যে যারা এ টুরে ছিলেন তারা হলেন-  এ.টি.এম জাহিদ হাসনাত

বুলবুল, ড. লেঃ কর্নেল, মোঃ কবির আহমেদ খান, রেজাউল করিম, এস.এম.এনামুল্লাহ, কাজী নজরুল ইসলাম, সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, মোঃ রিয়াজ উদ্দিন, মোঃ শামীম উদ্দিন সুমন, মিসেস সালমা বেগম, ডা. ফরিদা ইয়াসমিন, ফৌজিয়া রশীদ, মিসেস মমতাজ বেগম, আবুল মোনায়েম, ডা. শফিকুল হাসান চৌধুরী। এর মধ্য ৩ জন ডাক্তার, ১জন অবসর প্রাপ্ত কর্নেল, সাংবাদিকসহ গুরুত্বপূর্ণ পর্যটকবৃন্দ ছিলেন। আমি সহ আরও ২ জন সুমন ও রফিক ভাই যাদের বয়স ৪০ বছর এর নিচে। বাকীরা সবাই ছিলেন ৫০ বছরের উপরে। যারা ৫০ এর উপরে ছিলেন তাদেরকে বয়স্ক যুবকই বলা যায়। কারণ এত বড় লম্বা ভ্রমনে আসা-যাওয়ায় প্রায় তিন হাজার কি.মি পথ পাড়ি দেয়ার পরেও তাদের ক্লান্ত মনে হয়নি। এই ক্লান্ত না হওয়ার অনেক কারণ আছে। তার মধ্য অন্যতম কারন আমার হাসি মাখা কথা সবাইকে প্রতিনিয়ত তরতাজা রাখার সাহস ও উৎসাহ যুগিয়েছে। যাই হোক, আমরা ঢাকা থেকে ১০ জন মাহিমা ট্যুরিজমের অত্যাধুনিক এসি মাইক্রো বাস করে সিলেটে তামাবিল স্থল বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে ৪ তারিখ সকাল ৬টা হযরত শাহাজালাল মাজারে পৌছে যাই। মাজারে নামাজ ও জিয়ারত করে সকালের নাস্তা সম্পন্ন করে শাহ্পরান মাজারে যাই। এরপর আমরা সকাল ৮ টায় তামাবিল পৌছাই। ওখানে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল আরও ৪ জন। সকাল ১০ টার আগে তামাবিল স্থল বন্দরের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস না খোলায় আমরা অপেক্ষা করতে থাকলাম। ১০ টার পর দুই পাশের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস সম্পন্ন করে প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্য দিয়ে আমরা ভারতের ওপারে ডাউকি বর্ডারে রাখা ২৬ সিটের একটি মিনি বাসে ১৪ জন চরে বসলাম। দুই পাশের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে আমাদের প্রায় ৩/৪ ঘন্টা সময় লেগে গেল। যা সবাইকে ধৈর্য্য হারা করে তোলে। এ দুই বর্ডারের  আধুনিক ব্যবস্থাপনায় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন চালু হয়নি। চলছে ধীর গতির ম্যানুয়ালী ব্যবস্থাপনা।
ডাউকি বর্ডার থেকে আমাদের গাড়ি চলা শুরু করল। দক্ষ চালক দক্ষতা দিয়ে আমাদের নিয়ে চলল আকাবাকা পাহাড়ি পথ ও মেঘের উপর এবং মধ্য দিয়ে। অভিজ্ঞ গাইড আসামের নাগরিক বিনজু আমাদেরকে দু’পাশের পাহাড়ও স্থানের ইতিহাস বর্ণনা দিতে থাকল। আমরা অবাক দৃষ্টিতে বিশাল বিশাল পাহাড়ের সৌন্দর্য্য দেখতে থাকলাম। পাহাড়ের কোথাও কোথাও ৭/৮ হাজার ফুট গভীরতা। আমাদের সাথে দুর্বল চিত্তের কেউ কেউ চোখ বন্ধ করে আল্লাহকে স্মরন করতে থাকল। ভারতীয় বেলা ১২টার সময় রওনা দিয়ে বিকাল ৩টায় পৌছাই পৃথিবীর অন্যতম বৃষ্টি প্রবন এলাকা চেরাপুঞ্জীতে। তখনও গুড়ি গুড়ি বৃস্টি হচ্ছিল।  পাহাড়ের সেভেন সিস্টার জলপ্রপাত থেকে নিচে তাকালে বাংলাদেশের সুরমা নদী দেখা যায়। পাহাড়ের পাদদেশে গ্রামগুলির বাড়িঘর অন্যরকম সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে রেখেছে। দুরে বা কাছ থেকে মেঘ ভেসে যাচ্ছে। আমরা চেরাপুঞ্জির সৌন্দর্য্য উপভোগ করে ওখানেই ইকোপার্ক রিসোর্টে  দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম। ক্ষুধার্থ পেটে সবাই তৃপ্তি সহকারে খাবার খেয়ে নিল। হোটেলের সব কর্মচারীই ছিল মহিলা। তাদের আতিথিয়তা সবাইকে মুগ্ধ করে। ওখানকার মহিলারা অনেক

পরিশ্রমী। আরও একটি নতুন তথ্য জানা গেল বিবাহিত মহিলাদের গায়ে ওড়নার মত একটি চাদর পেচানো থাকে। চাদর পেচানো থাকা মানেই সে বিবাহিত। চেরাপুঞ্জিতে নামার পর আমরা প্রচন্ড ঠান্ডা অনুভুত করলাম। তখন তাপমাত্রা ৭/৮ ডিগ্রী ছিল। ঠান্ডায় আমাদের শরীর শীতল হয়ে আসছিল। ২/১ জন ছাড়া কেউ গরম কাপড় নেয়নি। কেউ জানতো না এত শীত ওখানে।
যা হোক, আমরা চেরাপুঞ্জি থেকে রওনা দিয়ে মেঘলায়ের রাজধানী ও পৃথিবীর অন্যতম উচ্চতম শহর শিলং শহরের উপর দিয়ে আমাদের গাড়ী চলতে থাকল। পাহাড়ের উপর থেকে শিলং শহর খুবই আকর্ষনীয় দেখতে পেলাম। মনে হয় যেন, কোন চিত্র শিল্পী শহরটিকে রং তুলি দিয়ে মনের মাধূরী মিলিয়ে একে রেখেছেন। শিলং শহরে আমরা চা বিরতি দিয়ে আমাদের গাড়ী আসামের রাজধানী গোহাটিতে চলতে শুরু করল। তখন রাতের নিরবতা নেমে এসেছে। কারণ, সীমান্তবর্তী গ্রামের রাস্তায় বিকাল ৫ টার পর যাতায়াত নিষিদ্ধ। আমাদের গাড়ী শহর এলাকায় থাকাতে নির্বিঘেœ আকাবাকা  প্রায় একশ কিলোমিটার পথ পারি দিয়ে রাত ১০ টায়  গোহাটিতে হোটেল গ্রাবো গ্রান্ড পৌছাই। উল্লেখ্য যে ডাউকি সীমান্ত থেকে শিলং এর ৮০ কি.মি পথ শুধু পাহাড় বেয়ে উপরে উঠতে হয়। এই সময় বাংলাদেশের জাফলং এর ঘড় বাড়ি ,পাহাড় ও মনোরম দৃশ্য চোখকে খুব আকৃষ্ট করে। পাহাড় ঘুরে ঘুরে গাড়ী শুধু উপরেই উঠতে থাকে । দুপাশের বিভিন্ন গাছ গাছালির সাথে পাহার সমান অসংখ্য লম্বা লম্বা পাহাড়ি গাছ ও ছোট ছোট গ্রাম ও শহর চোখে পড়তে থাকল। শিলং থেকে আবার ১০০ কি.মি. নামতে হয় শুধু পাহাড়ের আকাবাকা পথ বেয়ে। সমুদ্রের সমতল থেকে শিলং এর উচ্চতা প্রায় ৭ কি.মি.। রাত্রে আমরা গোহাটিতে হোটেলে রাত্রি যাপন করে পরের দিন ৫ মে শনিবার সকালে আমরা আসাম-বাংলা এসোসিয়েনের কর্মকর্তাদের অভ্যর্থনা গ্রহন ও সকালের নাস্তা সম্পন্ন করি। রাজধানী গোহাটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা ঘুরতে থাকি। কেউ কেউ মার্কেটিং এর কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। আসামের অন্যতম পর্যটন আকর্ষন কামরুখ কামাক্ষা মন্দির।এই মন্দিরটি প্রায় ১ কি.মি উচু পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। এই কামরুখ কামাক্ষা সারা বিশ্বের অন্যতম যাদু বিদ্যার জন্য বিখ্যাত। পাহাড় ঘুরে ঘুরে আমাকে একা বহনকারী গাড়ী চলল কামরুখ কামাক্ষার পাহাড়ের চূড়ায়। আমার অতি উত্তেজনায়, ভয়ভীতি ও আতংকের  মধ্য দিয়ে শরীর শিহরে উঠছে। কারণ ছোটবেলায় এই কামরুখ কামাক্ষার যাদু বিদ্যার কথা অনেক শুনেছি। আমাদের বাড়ীর কাছে হাটবাজারে হকাররা   ঔষধী গাছ-গাছালীর ঔষধ বিক্রি করার জন্য মজমা মিলিয়ে বিক্রি করত। এই মজমায় বিক্রেতারা বলতো কামরুখ কামাক্ষা থেকে যাদু শিখে এসেছি, সেই যাদু গুলোই প্রদর্শন করত। সাধারন মানুষকে বোকা বানিয়ে যাদু দেখাতো। এই সময়ে সাধারন মানুষকে বলতো যাদু বিদ্যার সময় হাতের মুঠ আটকে রাখবেন না, তাহলে যাদু প্রদর্শনকারী লোকটি মারা যাবে, এই কথা বলে আতংকে সৃষ্টি করত। আমিও মাঝে মাঝে হাটবাজারে এ দৃশ্য দেখে আতংকিত হইতাম। সেই থেকেই কামরুখ কামাক্ষার দেখার আমার বহুদিনের ইচ্ছা ছিল। সকালে আমরা যখন হোটেল থেকে বের হই তখন দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে যাই। একটি গ্রুপ গাড়ি নিয়ে আসামের একটি বিখ্যাত মসজিদ সহ অন্যান্য স্পট  দেখার জন্য বের হয়। অন্য গ্রুপে আর আমার উপর দায়িত্ব পরে আমাদের সাথে যাওয়া মহিলাদের ও আসমের  দুই জন মহিলাকে নিয়ে মার্কেটে যাওয়ার। যথারীতি  সিব্ধান্ত অনুযায়ী আমরা পেন্টোলিন্স মার্কেটে যাই। মার্কেটে গিয়ে ডলার ভাঙ্গাতে না পারায় আমার সাথে থাকা বাংলাদেশী ভদ্র মহিলারা সমস্যায় পড়ে যায়। আমি পেন্টোলিন্স মার্কেটে উক্ত মহিলাদের রেখে রাস্তার অপর পারে ডলার ভাঙ্গাতে

যাই। আমার সাথে আসামের ঐ দুইজন মহিলা পরিচিত ডলারের দোকানে নিয়ে যায়। ডলার ভাঙ্গানোর জন্য আমাদের আসতে দেরি হওয়ায় বাংলাদেশী ভদ্র মহিলারা নিজেরাই অটোতে করে অন্য একটি মার্কেটে চলে যায়। আমি একাকি হয়ে পরি তখন আসামের ঐ দুই মহিলা আমাকে সঙ্গ দেয় এবং তাহাদের সাথে ঘুরতে থাকি। তাদের   মধ্য একজন আসামের ভাষার উপর পিএইচডি করছেন তার নাম ইয়াতান্নেছা । তারা আমাকে দুপুরে আপ্যায়নও করায়। এরপর আমি  গাড়ীতে করে ওখান থেকে একাকি কামরুখ কামাক্ষায় চলে যাই। সেখানে ঘুরে ঘুরে দেখে অনেক অজানা তথ্য নিয়ে ফিরে আসি হোটেলে ।  আগের দিনের হোটেল ছেড়ে পাশেই নতুন  গ্রীন হেরিটেজে  সবাই মিলে উঠি । ঐ হোটেলের লবিতে পরিচয় হয় সিলেট থেকে আগত গোহাটিতে বেড়াতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া রাশেদ, তানভীর ও প্রভার সাথে। পরিচয় সূত্রে সবাই ভ্রমনের খুটিনাটি ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একে অপরকে শেয়ার করলাম। অল্প সময়ে তাদের সাথে ঘনিষ্টতা গড়ে ওঠে। হোটেলে রাত্রি যাপন করে ৬ই মে আমরা শিলং এর উদ্দেশ্যে সকাল ১০ টায় রওনা দিলাম। পথে সৌন্দর্য মন্ডিত লেক, সারে ৩ কিঃ মিঃ র্দৈঘ্য গুহা, পাহাড় ও পবিত্রা সাফারি পার্ক দেখতে দেখতে রাত ১০ টায় শিলং এ পৌছাই। পবিত্রা সাফারি পার্ক দেখে আমরা সবাই হতাশাগ্রস্ত’ হলাম। কারণ সেখানে ২/১ টা গন্ডার ,গরু ,ছাগল ছাড়া কিছুই দেখতে পেলাম না।সাফারি পার্ক ঘুরতে সময় লাগলো ২ঘন্টা। অপরদিকে প্রত্যেক গাড়িতে ৬জন করে পর্যটক ও ১ বন্দুকসহ নিরাপত্তা কর্মী থাকা বাধ্যকতা রয়েছে। নিরাপত্তা কর্মীদের কোন প্রয়োজনই দেখলাম না।  শুধু লোক দেখানোর জন্য নিরাপত্তা প্রহরী রাখা। আমাদের মধ্যে অনেকেই গেল না। কারণ ভারতীয়দের প্রবেশ টিকিট ৫০টাকা হলেও বিদেশীদের ৫০০টাকা। আমরা বাংলাদেশিরাও ওখানে বিদেশী হিসেবে গন্য। আমরা যখন  সাফারি পার্ক ঘুরে ফিরে  এলাম। তখন যারা যায়নি তারা আমাদের সাথে ঠাট্টা মশকারী করতে থাকল। টিকিট সংগ্রহের  সময় মেঘালয় রাজ্য থেকে আশা একদল কলেজ ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে পরিচিত হইলাম। কথার্বতা  এক পর্যায়ে ঘনিষ্ট সম্পর্ক হলে তারা আমাকে তাদের সাথে ভারতীয় হিসেবে টিকিট সংগ্রহের আমন্তণ জানায় । কিন্ত শেষ পর্যন্ত আমাদের দলের দুষ্টু ট্যুরিষ্টদের বাধার কারণে তাদের সাথে আর যাওয়া হল না ।
শিলংয়ে আগে থেকে আমাদের হোটেল রিজার্ভ না থাকায় আমরা একটু বিড়ম্বনায় পড়ে গেলাম। এতগুলো লোক একসাথে রুম পাওয়া খুবই মুশকিল হয়ে গেল। যা হোক শহরের এ পাহাড় ওপাহাড় ঘুরে শিলং এর পলো রোডে ওরসিড হোটেল নামে একটি হোটেলে রুম খুজে পেলেও বাংলাদেশী শুনে তারা আমাদেরকে রুম দিতে রাজি হচ্ছিল না। কারণ এই হোটেলে নাকি বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে একটি ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছিল। শিলং এর পুলিশের হাতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক হয়ে সালাউদ্দিন বর্তমানে জামিনে থেকে শিলং এ অবস্থান করছেন। সেই জন্য বাংলাদেশী হিসেবে আমাদেরকে হোটেলে রুম দিতে বিলম্বিত করে। রাত বাজে তখন ১০টা এত রাতে আমরা এখন কোথায় যাই। অনেক অনুরোধ করে পুলিশের সকল ধরনের নিয়ম কানুন মেনে আমরা ঐ হোটেলেই রাত্রি যাপন করি। পরের দিন  ৭ মে বেলা ১২টার সময় হোটেল থেকে চেকিং করে ডাউকি বর্ডারের উদ্দেশ্যে দেশে আসার জন্য রওনা হই। কিন্তু প্রতিমধ্যে বাধসাধে প্রচন্ড ঘনমেঘ। চারিদিকে শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার। আমাদের গাড়িসহ অন্যান্য বাস ট্রাক, গাড়ির হেডলাইট জালিয়ে আস্তে আস্তে

পিপড়ার মত চলতে লাগল। পাহাড়ি রাস্তা বেয়ে ডাউকি বর্ডারে আসতে আমাদের দুই ঘন্টা পথ লাগল ৩ ঘন্টা। মেঘের  ভিতর ও উপর দিয়ে পথ চলা কি যে রোমাঞ্চকর তা নিজের চোখে না দেখলে আসলে কাউকে বলে বোঝানো যাবে না। দুই বর্ডারে ভিড়াভিড় না থাকায় আমরা ৩০ মিনিটের মধ্যে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে বিকাল ৫ টায় সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা করি। সিলেট শহরের বিখ্যাত পাচভাই হোটেলে গরুর মাংসের কালা ভুনা সহ বিভিন্ন রকমের ভর্তা দিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। রাত ১২ টায় আমরা ঢাকায় পৌছাই। সময়ের অভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা আমরা ভ্রমন করতে পারিনি। আগামীতে আবারো সময় করে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। ভ্রমন পিপাসুদের সৃষ্টিকর্তার অপরূপ সৃষ্টির লীলাভূমি দেখতে পর্যটকদের উক্ত স্থানগুলি ভ্রমনের জন্য আমন্ত্রন জানাচ্ছি। ঢাকা-আসাম-মেঘালয়-ঢাকা এই দীর্ঘ আসা-যাওয়ার পথে নারীদের বিষয়গুলি নিয়ে আমার সাথে সংঘটিত ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনায় মেতে উঠে । ট্যুরিস্ট দলের সবাই নারী প্রীতি এবং নারী ভীতি নামক বিষয়টি নিয়ে আমাকে বলির পাঠা বানিয়ে হাস্য রহস্যে মেতে উঠে। সবার হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যায়।কখন যে ক্ষুধা লেগে গেছে তাও ভূলে যায়, ভূলে যায় ক্লান্তি । সবাইকে চলার পথে আনন্দ দিতে পেরে আমি নিজেও ধন্য। চলতি পথে আনন্দ ভ্রমনে আমাকে দেওয়া হয় রমনীকান্ত সহ নানা রকম উপাধি। অন্যান্য উপাধির কথা না-ই বললাম। এই দীর্ঘ পথ পারি দিয়ে আমরা যে কখন ঢাকায় পৌছে যাই তা বুঝতেই পারলাম না। টুরিস্ট দলের সবার ভাষ্যমতে আমিই ছিলাম হাস্যরহস্যের মধ্যমনি। সারাপথ আনন্দ ও মজা করে সুস্থ্য সফল ভাবে যার যার গন্তব্যে ফিরতে পেরে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
দর্শনীয় স্থান সমূহঃ
আকাশ ছোঁয়া মেঘ, নদ-নদী, মসজিদ, মন্দির, কাজী রাঙ্গা ও মানাস ন্যাশনাল পার্ক সহ রয়েছে আরও দর্শনীয় স্থান।
সাবধানতাঃ

১। মেঘালয় পাহাড় এলাকা হওয়ায় অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। অক্সিজেন স্বল্পতা এড়াতে ধীরে ধীরে থেমে থেমে বেড়ানো উচিৎ।
২। পর্যাপ্ত শীতের কাপড় সঙ্গে রাখা বাধ্যতামুলক।
৩। সাধারণ সর্দি-কাশি, জ্বরের ঔষধ সঙ্গে রাখুন।
৪। পাহাড় ভ্রমনে অভিজ্ঞ গাইডের সহায়তা নিন।
৫। মেঘালয় পাহাড় গুলোর গভিরতা এত বেশী যে, একবার পড়লে আর খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। এ বিষয়ে অবশ্যই সচেতনতা অবলম্বন করুন।
কিভাবে যাবেনঃ
ঢাকা থেকে বাই রোড়ে অথবা রেল কিংবা এয়ারে পৌছে যান কলকাতা। কলকাতা থেকে বাই ট্রেন আসামের রাজধানী গোহাটি। মেঘালয়ে কোন ট্রেন ব্যবস্থা নেই। সব চেয়ে সহজ পথ হচ্ছে ঢাকা থেকে সিলেট তামাবিল স্থল বন্দর দিয়ে ওপারে ডাউকি বর্ডার। যেখান থেকে ট্যুরিষ্ট বাস, বা ভাড়া করা প্রাইভেট গাড়িতে মেঘালয় রাজধানী শিলং যাওয়া যায়।
কোথায় থাকবেনঃ
পাচঁ তারকা হোটেল থেকে শুরু করে সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সব ধরনের হোটেল পাবেন মেঘালয় ও আসামের শহরগুলিতে। ভাড়া পরবে ৫০০-৫০০০ রুপি।
কোথায় খাবেনঃ
মেঘালয় ও আসামের বেশির ভাগ রেস্টুরেন্টই ভেজিটেরিয়ান। তবে শপিংমল এলাকায় বাঙালী ও মুসলিম রেস্টুরেন্ট খুজে পাবেন। পতিবেলায় খাবারে আপনার খরচ হবে ১০০-৫০০ রুপি। এটা আসলে নির্ভর করবে আপনার খাবারের মেন্যু কি নির্বাচন করছেন তার উপর।
প্যাকেজ ব্যবস্থাঃ
মাহিমা ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস-০১৭০৭২৫৫৯০৭। ঢাকা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস-৯৫৮৫১৩৯, সহ বিভিন্ন ট্যুরিজম কোম্পানী সারা বছর প্যাকেজর ব্যবস্থা করে থাকেন।

বাংলার পর্যটন নয়নাভিরাম হামহাম ঝরনা
                                  

সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার (রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্টের কুরমা বনবিট) গহীন অরণ্য ঘেরা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় রয়েছে নৈসর্গিক এই জলপ্রপাত। রোমাঞ্চপ্রেমীদের জন্য হামহাম হতে পারে আদর্শ স্থান।
লোকালয় আর শহর থেকে দূরে, যাওয়ার জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে।
এই জলপ্রপাত সম্পর্কে মানুষের জানাশোনা খুব বেশি দিনের নয়। পরিচিত একজনের কাছ থেকে গল্প শুনেছিলাম। তারপরই এই জলপ্রপাত দেখতে যাওয়ার ভূত মাথায় চাপলো। অবশেষে বন্ধুদের রাজি করানো সবকিছু ঠিকঠাক করা থেকে শুরু করে যাতায়াতের সব খোঁজখবর নেওয়া শেষে একদিন ছুটে গেলাম হামহামের পথে।
কমলগঞ্জের একেবারে শেষ গ্রামের নাম কলাবনপাড়া। তৈলংবাড়ি নামেও জায়গাটি পরিচিত। বলতে গেলে এরপর থেকেই আর তেমন কোনো জনবসতি নেই। আর এখান থেকেই শুরু হয় হামহাম যাওয়ার আসল অ্যাডভেঞ্চার। চারদিকে ঘনজঙ্গল। বিশেষ করে প্রচুর বাঁশবন। বেয়ে উঠছি ছোটবড় পাহাড়। আবার কখনও বেশ খাড়া পথ বেয়ে নিচে নামতে হচ্ছে। প্রচন্ড ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা। তারপরেও মনে আনন্দ, নতুন জায়গা আবিষ্কারের নেশায় আত্মহারা।
অনেকটা পথ যেতে হচ্ছে হিমশীতল ঠান্ডা পানির ঝিরি পথ ধরে। পুরো জায়গা জুড়ে কেমন যেন সুনসান নীরবতা। অনেকটা কাচের ঘরে আটকে থাকলে যেমন লাগে অনেকটা সেরকম। তবে মাঝে মাঝেই খুব কাছে কখনও দূর থেকে ভেসে আসছে অচেনা পাখির মিষ্টি কণ্ঠের গান।
পাহাড়ের গায়ে হালকা বিশ্রাম নিতে নিতেই দেখে নেওয়া যায় অসম্ভব সুন্দর প্রকৃতি। চোখ জুড়ে থাকে মাতাল করা সবুজে ঘেরা চারপাশে। ঘামে ভেজা শরীর ঝিরির পানিতে ভিজিয়ে সমস্ত ক্লান্তি নিমিষেই দূর হয়ে যায়। পিচ্ছিল পাথুরে পথ, সাবধানে পা ফেলতে হয়। এভাবে প্রায় অনেকটা সময় হাঁটার পর হঠাৎ শুনতে পেলাম এক শিহরণ জাগানিয়া শব্দ। সেই কাঙিক্ষত হামহাম জলপ্রপাতের শব্দ। মনে হল এইতো এসে পড়েছি। একটু ভালো করে উঁকি দিলেই দেখা যাবে জলধারা।
 হামহাম জলপ্রপাত
বনকাসি পাহাড়ের নিচে পৌঁছে চলছিল বিশ্রামের আয়োজন। পাহাড়ের ওপরে তৈলংকামী গ্রাম থেকে কয়েকজন আদিবাসী নারী ও শিশু আমাদের দেখছিল। চোখে কৌতূহল।
পাহাড়ের ওপরে এখানে-ওখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ১০-১২টি ঘর নিয়ে আদিবাসীদের ছোট্ট গ্রাম তৈলংকামী। শণ-বাঁশে তৈরি ঘরগুলো। বারান্দা ও উঠোন লাল মাটি দিয়ে নিকানো। নকশা আঁকা, সুন্দর ও পরিপাটি। প্রতিটি ঘরের পেছনের আঙিনায় কলাগাছের ঝোপ। অবিরাম ঝিঁঝি পোকার ডাক, নানা জাতের পাখির কলরব আর বাতাসে দোল খাওয়া গাছগাছালির আওয়াজ একসঙ্গে মিশে প্রকৃতি এক অন্য রকম সুর তৈরি করে রেখেছে গ্রামটিতে। সারাক্ষণ এ সুর-মূর্ছনা সবুজ গ্রামটির বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। প্রকৃতিনির্ভর এই গ্রামের মানুষও যেন প্রকৃতির মতোই সুন্দর। কী সহজ-সরল তাদের প্রকাশভঙ্গি! কী আন্তরিক তাদের আতিথেয়তা। নিজেদের ফলানো কলা, হাতের তৈরি পিঠা দিয়ে তারা আমাদের আপ্যায়িত করল। আর সঙ্গে দিল কুয়ার ঠান্ডা স্বচ্ছ পানি।
এখানে আধঘণ্টা বিশ্রাম শেষে আবারো পথে পা বাড়ালাম। কিছু দূর এগোতেই একটানা নিরবধি হামহামের শব্দ কানে বাজল। ভাবলাম, এই তো এসে গেছি। কিন্তু না। কয়েকটি টিলা মাড়ানোর পর সামনে পড়ল একটা বিশাল পাহাড়। এবার দলের সবার রসিকতা, এই তো এভারেস্ট! এবার আমাদের সামনেও এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার দুর্লভ সুযোগ। মনের মধ্যে ভীষণ অ্যাডভেঞ্চার দানা বেঁধে উঠতে লাগল। এ সুযোগ কিছুতেই হাতছাড়া করা যাবে না। শ্যামল আমাদের হাতে বাঁশের শক্ত লাঠি ধরিয়ে দিলেন। এটাতে ভর দিয়ে পাহাড়ে চড়তে হবে। নামতেও হবে এটাতে ভর দিয়েই। চূড়ায় উঠে দেখি, সামনে নিচে কলকল শব্দে বয়ে চলেছে একটি স্রোতধারা।
সাবধানে পাহাড়ের ওপর থেকে নিচে নেমে শ্যামলের পিছু পিছু এই স্রোতধারা অনুসরণ করে উজানে হাঁটতে লাগলাম। ঠান্ডা পানি। পানির নিচে পিচ্ছিল পাথর। এর ওপর দিয়ে আমরা এগিয়ে চললাম। প্রন্ডচ- গরমের মধ্যেও যেন পা দুটো ঠান্ডায় একসময় স্থির হওয়ার উপক্রম। আর বুঝি পারব না।
হামহাম শব্দ অনেকক্ষণ থেকেই কানে বাজছিল। কিন্তু কোথায় সে শব্দের উৎস? আর কত দূর? একসময় আমরা একটা গিরিপথের মধ্যে গিয়ে পড়লাম। পথের সামনে-পেছনে খোলা। ওপরে গহিন বনের বিচিত্র গাছগাছালির আচ্ছাদন। দুই পাশে পাথর হয়ে যাওয়া পাহাড়। গিরিপথ ধরে প্রায় ২০ মিনিট এগিয়ে যেতেই চোখ জুড়িয়ে গেল। এই তো সেই অপরূপ ঝরনা। এ তো কষ্ট সার্থক। দুই চোখ ভরে দেখে নিলাম। তার জলে গা ভিজিয়ে নতুন উদ্যম ফিরে পেলাম। এখান থেকে আবার ফিরতিপথে হাঁটা।
তবে আমাদের আরও কিছুটা পথ যেতে হল তার দেখা পেতে। অনেকটা কাছে গিয়ে যখন সোজা তাকালাম প্রায় ১৬০ ফিট ওপর থেকে নেমে আসা জলরাশির সেই অসম্ভব সুন্দর দৃশ্য দেখে প্রায় বাকরুদ্ব হয়ে রইলাম কিছুক্ষণ। প্রবল ধারায় উপর থেকে গড়িয়ে পড়ছে পানি। চারদিকে কেমন জানি হিমশীতল পরিবেশ। এক নাগাড়ে ঝরনার পানি পড়ে যাচ্ছে ছোটবড় পাথরের ওপর।
তাতেই তৈরি হচ্ছে এক কুয়াশাময় পরিবেশ। হাঁটুগেড়ে বসে সেই পরিবেশ উপভোগ করলাম অনেক্ষণ ধরে।
একদিকে পাহাড়ে ঘেরা বনজঙ্গল আর অন্যদিকে অবিরাম বয়ে চলা জলরাশি পাথরের খাঁজে খাঁজে ঢেউ খেলে যাওয়া পানিতে ব্যাঙ আর ব্যাঙাচির মেলা।
বনজঙ্গলের মায়া ছেড়ে আসতে আমাদের একটু বেশিই সময় লেগে যায়। যদিও সন্ধ্যার আগেই চলে আসা উচিৎ। তবে সেদিন যে ছিলো জ্যোৎস্নায় মাতাল হওয়ার দিন। দূর পাহাড়ের গায়ে বুকচিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বৃক্ষলতার ফাঁক দিয়ে গলেগলে পড়ছে চাঁদের আলো। এরকম জ্যোৎস্না স্নানের উৎসব এ জীবনে একবারই হয়তো আসে।
আসলে এই অনুভুতি ভাষায় বা লেখায় প্রকাশ করা যায় না। শুধু উপলব্ধি করতে হয়। আর সেই বোধের স্বাদ পেতে যেতে হবে হামহামের পাদদেশে।
যেভাবে যাবেন-
ঢাকা থেকে মৌলভীবাজার যাওয়ার সরাসরি বাস আছে। ভাড়া ৪০০-৪৫০ টাকা। এছাড়া শ্রীমঙ্গল থেকেও যাওয়া যায়। মৌলভীবাজার থেকে যেতে হবে কমলগঞ্জ। সেখান থেকে আদমপুর বাজার, বাস ভাড়া ১৫-২০ টাকা। এখান থেকে ২০০-২৫০ টাকা সিএনজি ভাড়ায় পৌঁছে যেতে পারেন আদিবাসী বস্তি তৈলংবাড়ি বা কলাবনপাড়ায়। এরপর হাঁটা রাস্তা। প্রায় ৮ কিলোমিটারের মতো পাহাড়ি পথ শেষে হামহাম ঝর্ণার দেখা মিলবে। তবে যেখান থেকেই যাওয়া হোক, কলাবনপাড়ার দিকে অবশ্যই সকালে রওনা হতে হবে।
যেখানে থাকবেন-
থাকার ব্যবস্থা বলতে যাওয়ার আগে শ্রীমঙ্গলে এক রাত থেকে পরদিন খুব ভোরে উঠে রওনা দিয়ে সারাদিন কাটিয়ে সন্ধ্যার পরে শ্রীমঙ্গল ফিরতে পারেন।
তবে ওই সময়টায় ফেরার সম্ভাবনা খুব একটা বেশি থাকেনা। সেক্ষেত্রে আদিবাসীদের বাড়িতে থাকা যায়। যদি শ্রীমঙ্গল ফেরা না যায় তবে দুঃচিন্তার কোনো কারণ নেই। কেননা তৈলংবাড়ি বস্তি বা কলাবনপাড়ায় থাকার ব্যবস্থা হয়ে যাবে।
সাবধানতা
যাওয়ার আগে অবশ্যই কলাবনপাড়ার স্থানীয়দের কাছ থেকে ভালো-মন্দ জেনে যাওয়া উচিৎ। সঙ্গে সরিষার তেল আর লবণ রাখতে হবে। কেননা প্রচুর জোঁকের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে এই দুটি ব্যবস্থাই কার্যকরী।
হাতে একটা ছোট বাঁশের টুকরা বা লাঠি সঙ্গে নেওয়া ভালো। এতে পাহাড়ি পথে শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করা থেকে শুরু করে সাপ বা অন্যান্য বন্যপ্রাণী থেকে নিরাপদ রাখবে।
সঙ্গে শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি আর খাবার স্যালাইন রাখতে ভুলবেন না। জীবাণুনাশক ক্রিম আর তুলা সঙ্গে নেবেন। আর খুব সাবধানে চলাফেরা করতে হবে।
প্যাকেজ ব্যবস্থা
ঢাকা ট্যুরসসহ বিভিন্ন ট্যুরিজম কোম্পানী সারা বছর প্যাকেজর ব্যবস্থা করে থাকেন।
 ফোন ঃ ০১৯৭৯-৮৭৪০৪২, ৯৫৮৫১৩৯

ভুলবার নয় ভিয়েতনাম
                                  

জুনের মাঝামাঝি ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে এশিয়ার একটি আন্তর্জাতিক আইন সমিতির আঞ্চলিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তাই সম্মেলনের অন্তর্জালে একটি গবেষণা প্রবন্ধের সারাংশ পাঠিয়ে দিলাম দুরু দুরু বুকে। কিছু দিনান্তে ওপার থেকে সাড়া এলো সম্মেলনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিতে। ভিয়েতনাম সম্পকে খোঁজ নেয়ার সেই শুরু। এমনিতে খুব একটা ধারণা ছিল না দক্ষিণ চীন সাগরের পাড়ে বিস্তৃৃতির পাখা মেলে শুয়ে থাকা লম্বাটে  দেশটি সম্পর্কে। শুধু জানতাম তৈরি পোশাক খাতে এই দেশটি আমাদের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী! চাল রপ্তানিতে দ্বিতীয় কৃষিপ্রধান এক দেশ, যারাও নাকি উন্নয়নের মিছিলে শামিল হতে বাংলাদেশের মতো করেই ছুটছে প্রাণপণে। ইন্টারনেট ঘেঁটে আরও জানলাম চলতি সময়ের লু হাওয়াও আমাদের মতোই সেখানেও উষ্ণতার পরশ বুলিয়ে যাচ্ছে সর্বত্র।ভিয়েতনাম ভ্রমণে তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রয়োজন পড়ে। আয়োজকদের মাধ্যমে সেসব জোগাড় করে ভিসা প্রাপ্তির জন্য অপেক্ষা। অবশেষে অপেক্ষার প্রহর শেষ করে পিঠে দুটি ডানা লাগিয়ে হ্যানয়ের পথে উড়াল দেয়া।ঢাকা থেকে হ্যানয় সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় যাত্রা বিরতিসহ আকাশে উড়ে উড়েই চলে গেল ১২ ঘণ্টা। তাই সূর্য যখন হ্যানয়ের মধ্য গগনে তখন যেয়ে নামলাম নৈ বেই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। নেমেই দে ছুট সম্মেলন পানে। সম্মেলন যে শুরু হয়েছে আগের রাতেই। বিমানবন্দর থেকে শহরের দিকে যেতে যেতেই মুগ্ধ করল হ্যানয়। প্রশস্ত, পরিষ্কার রাস্তা। ঢাকার মতো অসহ্য জট নেই; অযথা ভেঁপুর আওয়াজ নেই। রাস্তার পাশ দিয়ে উদ্যান, ফাঁকা মাঠ, অদূরে অনুচ্চ দালান। এদের বেশিরভাগ বাড়ির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো উপরের তলার ছাদ টিনের চালের মতো মাঝখানে উঁচু হয়ে দু ধারে ঢাল বেয়ে নেমে যাওয়া। ঢাকার মতো সুউচ্চ ঘিঞ্জি বিল্ডিং না থাকলেও তাতে আভিজাত্যের কমতি নেই। সাধারণেই সে অসাধারণ!
যাত্রার শুরুতে প্রস্তুুতি ছিল হ্যানয় এবং তার আশেপাশের অনন্য নিদর্শনসমূহ ঘুরে দেখা। কিন্তু হ্যানয়ে পা রেখে জানলাম ভিয়েতনামের বিখ্যাত নেতা হো চি মিনের নামে নাম রাখা শহরে না গেলে ভিয়েতনাম ভ্রমণ যে বৃথা। তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত; আর কাল বিলম্ব নয়, সেদিন রাতেই হো চি মিনের পানে ডানা লাগিয়ে আবার উড়াল দেয়া। আসলেই তাই; হো চি মিনের সঙ্গে হ্যানয়কে মেলান দায়। সচরাচার যা ঘটে এখানে তার উল্টো। হ্যানয় কাগজে-কলমে ভিয়েতনামের রাজধানীর তকমা পেতে পারে; কিন্তু ভিয়েতনামের পর্যটনের রাজধানীর নাম হো চি মিন! হ্যানয় কিছুটা শান্ত-নিরিবিলি শহর। আর পাঁচটা রাজধানী শহরের মতো না। রাত ১০টা নাগাদ সেখানে নেমে আসে নির্জনতা। আর তার ঠিক উল্টো হলো হো চি মিন। যে শহর কখনো ঘুমায় না; বরং রাতে যার রূপ উপচে পড়ে। সমস্ত আনন্দ-উচ্ছ্বাস রাতের অপেক্ষায় প্রহর গোনে। আর সমগ্র শহরের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণবন্ত যে জায়গা তার নাম ভুই বেন। কপালগুণে আমাদের আবাসও সেই ভুই বেনে। মধ্যরাতে হো চি মিনের মাটি স্পর্শ করার পর কিসের নিস্তব্ধতা? সমস্ত যৌবন নিয়ে যেন এ শহর পর্যটকদের আগমনকে স্বাগত জানানোর জন্যই অপেক্ষায় রয়েছে।
কয়দিনের যাত্রা ক্লান্তির সঙ্গে সকালের অলস ঘুম যোগ হওয়ায় পরদিন তাই হোটেলের ব্যবস্থাপনায় শহর দর্শনের আয়োজন মিস করে উপায়ান্তর না পেয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভিয়েতনাম যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ দেখতে ছুটে চলা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কী প্রতাপের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধ করে ভিয়েতনামের ওপর চাপিয়ে দেয়া অন্যায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে জয় ছিনিয়ে এনেছিল তারই সাক্ষী যুদ্ধাবশেষ জাদুঘর। ভিয়েতনামে সমাজতন্ত্রের উত্থানে আতঙ্কিত যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ফ্রান্সকে লেলিয়ে দিয়ে সুবিধে করতে না পারায় পরবর্তীতে নিজেই দেশটির ওপর অন্যায় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে দখলের অপচেষ্টার নিমিত্তে সাধারণ নাগরিকদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছিল। ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯৬৬-তে শেষ হলেও বাংলাদেশকেও যুক্তরাষ্ট্রের মদদে একই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে দিনানিপাত করতে হয়েছিল। জাদুঘরের একপ্রান্তে স্পষ্ট বাংলায় লেখা ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)’র একটি শুভেচ্ছা বার্তা ‘বিজয়ী ভিয়েতনাম লাল সেলাম, হো চি মিন লাল সেলাম’ শোভা পাচ্ছে। বিদেশ-বিভূঁইয়ে অনাকাক্সিক্ষতভাবে বাংলা পোস্টার শোভা পেতে দেখা যে কী গর্বের তা এর আগে অনুভূত হয়নি। জাদুঘরের একপ্রান্তে যুদ্ধবন্দীদের অত্যাচারের সামান্য নিদর্শন প্রদর্শনের ব্যবস্থা। আর আছে আমেরিকার ব্যবহৃত সমরাস্ত্র। দেখলে বিস্ময়ের ঘোর কাটে না; এই বিশাল অস্ত্রের মুখে দরিদ্র ভিয়েতনাম কীভাবে জয় ছিনিয়ে এনেছিল? আসলে অন্যায্য যুদ্ধ যুগে যুগে নিঃস্ব-দরিদ্রের মনোবলের কাছে কালে কালে পরাভূত হয়। যেমনটা হয়েছিল ১৯৭১-এও!
জাদুঘর ঘুরে দেখে শেষ করে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে চলা কু চি গুহার দিকে। শহর থেকে বাসে প্রায় দু ঘণ্টার যাত্রাপথ কু চি টানেল। টানেল দেখতে যাওয়ার পথে দেখা হলো যুদ্ধের ক্ষত বয়ে নিয়ে বেড়ান বর্তমান প্রজন্মের ভিয়েতনামিদের তৈরি কারুপণ্য ও উৎপাদন কৌশল। তবে টানেল দর্শন স্মরণীয় হয়ে থাকবে ভিয়েতনামিদের গুহা  তৈরির কৌশল, সেখানে কাটান জীবন বা যুদ্ধ জয়ের রণনীতি জানার জন্য নয় বরং আমাদের গাইডের নিদারুণ বর্ণনা, দেশের প্রতি তার মমত্ব, চূড়ান্ত রকমের মজা করতে জানা আর তার ইতিহাস জ্ঞানের দরুন! কী করেনি সে? যেমন চোস্ত তার ইংরেজি, তেমন গানের গলা; তেমনি সে জানিয়েছে যুদ্ধের প্রেক্ষাপট। ভিয়েতনামিদের সম্পর্কে ধারণা দিয়ে, একই শহরের দুই নামের ইতিহাস জানিয়ে আর তার প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব দিয়ে সে মুগ্ধ করেছে আমাদের। গাইড হলে এরকম-ই হওয়া উচিত। অথচ প্রথম দেখাতে মনে হয়েছিল অশিক্ষিত বাসকর্মী হয়তো এক!
ভিয়েতনামিরা ইংরেজিতে খুব একটা পারঙ্গম না, তাতে আপাত অসুবিধা হলেও যোগাযোগ থেমে থাকে না। সবকিছুর শেষে দিনান্তে মানুষে মানুষে যোগাযোগের পথে ভাষা অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে না। নইলে এই ভরা গ্রীষ্মে ভিয়েতনামে কেন পর্যটকে গমগম করবে?
হো চি মিনের পূর্ব নাম আসলে সাইগন। এখনও কেউ কেউ সে নামে তাকে ডাকে। হো চি মিন তার মৃত্যুর পূর্বে জানিয়ে গিয়েছিলেন সাইগন তার জন্মভূমি না হলেও তিনি সাইগনেরই সন্তান এবং সাইগন একদিন ভিয়েতনামের অংশ হবেই। তখন তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন করতে চাইলে যেন সাইগনের নাম হো চি মিন নামে নামাঙ্কিত করা হয়। সেই থেকে এ শহর এই দুই নামেই পরিচিত। তবে ভিয়েতনামিদের যে গুণের প্রশংসা না করলে অন্যায় হবে তা এদের সারল্য এবং পরোপকারিতা। ইংরেজির দক্ষতা কম থাকলেও জাতি হিসেবে এরা যথেষ্ট সভ্য। নইলে কি আর রাতের বেলা ফাঁকা রাস্তায় কেউ ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলে? আর যে বিষয়ে এরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা হলো ট্যাক্সি ব্যবস্থাপনায়। মুঠোফোনে অ্যাপের মাধ্যমে যে কোনো শহরেই ট্যাক্সি ডাকার ৬ মিনিটের মধ্যেই ট্যাক্সি আপনাকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে আপনার দ্বারপ্রান্তে এসে হাজির হবে। সবই মিটার ট্যাক্সি, তাই অযথা দরাদরির কোনো প্রয়োজন পড়ে না। বাংলাদেশের তুলনায় ট্যাক্সি সেবা অনেক সস্তাও বটে।
তবে ভিয়েতনামে সে অর্থে নারীর ক্ষমতায়ন হয়নি। নারীরা নীতিনির্ধারণে এখনও উপেক্ষিত। ভিয়েতনামি ছেলেরা বয়সী বা মোটা মেয়েদের বিয়ে করতে চায় না। কন্যার পিতাদের তাই মেয়েকে রোগা রাখতে তটস্থ থাকতে হয়। তবে নারীরা সেখানে পুরুষের তুলনায় দুর্দান্ত পরিশ্রমী এবং কর্মঠ। সন্তান লালন, ঘরের কাজ এবং উপার্জন সমানতালে করে যায় তারা! তবে এরা অন্যদের মতো কারও সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে তথাকথিত ভদ্রতা দেখায় না। প্রথম দেখাতেই তাই তারা বয়স জানতে চাইবে। কারণ বয়সে বড় হলে তাকে এক নামে সম্বোধন করে সম্মান জানাবে আর ছোট হলে ভিন্ন নামে ডেকে হৃদ্যতা বাড়াবে। কত টাকা বেতন পায় তাও নির্দ্বিধায় শুধাবে। কারণ যে বেশি আয় করে সে চেষ্টা করবে অন্যের জন্য ভালো আয়ের ব্যবস্থা করার। এই হলো ভিয়েতনামিদের স্বভাব! তবে এদের বেশিরভাগই নির্দিষ্ট কোনো ধর্মের অনুসারী নয়। পূর্বপুরুষদের পূজা করা তাদের ধর্ম। ক্ষুদ্রকিছু জনগোষ্ঠী বৌদ্ধ ধর্মানুসারী। এসবই আমাদের মহান গাইড অ্যালেক্সের কাছ থেকে ধার করা জ্ঞান নিয়ে বর্ণনা করা। তবে এদের নারী পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেকেরই আর কিছু না থাকলেও একটি করে স্কুটি আছে। স্কুটিই তাদের মূল বাহন। যারা ধনী তাদের নিজস্ব গাড়ি রয়েছে। গাড়ি এখানে আভিজাত্যের প্রতীক। সঙ্গত কারণেই তাই গণপরিবহন সেভাবে চোখে পড়েনি।
আবার ফিরে আসা যাক যুদ্ধ গুহার গল্পে। মূলত ফ্রান্স যুদ্ধের সময় শুরু হয়েছিল কু চি’র গভীর জঙ্গলে প্রায় ২৫০ কি.মি. দীর্ঘ গুহা তৈরির কাজ যার আরও বিস্তৃৃতি ঘটে মার্কিন আগ্রাসনের সময়। কু চি হলো বিষাক্ত গাছ। কু চি বৃক্ষের আধিক্য থাকায় মার্কিনিরা এই এলাকার নামও সে অনুসারে রেখেছিল। যোদ্ধারা গুহার মধ্যেই জীবনযাপন করত। তাদের প্রাত্যহিক কর্মাদি, খাওয়া-দাওয়া, যুদ্ধ পরিকল্পনা সবই চলত গুহাতে। সেনারা ব্যবহার করত টায়ারের তৈরি জুতো। প্রতিপক্ষকে ধোঁকা দিতে যার অগ্রভাগ থাকত বিস্তৃত আর পশ্চাৎ সুচাল। গুহায় কোনো মার্কিন সেনা প্রবেশ করলে জুতোর গন্ধে প্রতিপক্ষকে চেনা যেত। কারণ টায়ারের জুতো গন্ধ ছড়াত না, অন্যদিকে বৃষ্টি ভেজা এলাকায় মার্কিনিদের জুতো ভিজে দুর্গন্ধ ছড়াত; ফলে আলোবিহীন গুহায় সহজেই শত্রু“ ঘায়েল করা যেত। এ ছাড়াও গুহার চারপাশে বিভিন্ন জায়গায় গুপ্ত ফাঁদ পাতা থাকত শত্রু“দের বাগে আনতে। সবশেষে যুদ্ধ গুহা পাড়ি দেয়ার অভিজ্ঞতা ছিল শ্বারুদ্ধকর! ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বর্তমানে ২০ মিটারের মতো ভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে। তা পাড়ি দিতেই ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা! ভিয়েতনাম সফরের শেষদিন ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য হা লং বে’র অপরূপ রূপের আস্বাদনে বাসযোগে প্রাতেই গমন করা। প্রায় তিন ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে সে রূপের লেশ দেখতে পাওয়ার সৌভাগ্য হলো! প্রকৃতি যেন রূপের ডালি সাজিয়ে বসে আছে যেন হা লং বে-তে। ছোট-বড় প্রায় দুই হাজার দ্বীপ রয়েছে এই উপসাগরে। যাদের নামও বেশ অদ্ভুত! একটার নামতো মোরগ যুদ্ধ দ্বীপ! হা লং বে’র এক পাড়ে রয়েছে পর্যটকদের জন্য কায়াক চালানোর ব্যবস্থা। দু’জন মিলে কায়াক চালাতে চালাতে পাড়ি দিয়ে দেয়া যায় ছোট্ট সুড়ঙ্গ। কী চমৎকার সে নিসর্গ! শহুরে জীবনের সমস্ত ক্লান্তি ভুলে ডুব দিতে মন চায় হা লং বে’র স্বচ্ছ জলে। জাহাজে ঘুরতে ঘুরতে আর মধ্যাহ্নভোজন সারতে সারতে সাগরের রূপ চুপি চুপি আস্বাদন করার মধ্যে যে স্বর্গীয় প্রশান্তি রয়েছে তা এই প্রথম উপলব্ধি করার সৌভাগ্য হলো। তবে বিস্ময়ের শেষ এখানেই নয়। সাগর পাড়ে রয়েছে বিভিন্ন প্রাণীর অবয়ব নিয়ে দাঁড়ানো বিশাল সুড়ঙ্গ। জেলেরা বাঁদরের দলকে অনুসরণ করে এই সুড়ঙ্গ আবিষ্কার করেছিল। সুড়ঙ্গটি চমৎকারভাবে সাজিয়েছে পর্যটন কর্তৃপক্ষ এবং তুলে ধরেছে ভিয়েতনামি ঐতিহ্য। তবে ভিয়েতনাম সম্বন্ধে যে প্রসঙ্গ না পড়লে এ কাহিনি অস¤পূর্ণ থাকবে তা হলো তাদের মুদ্রা। এদের মুদ্রার নাম ভিয়েতনাম ডং বা সংক্ষেপে ঠঘউ। যার সর্বনিম্ন নোটটি ১০০০ মূল্যমানের এবং সর্বোচ্চটির মূল্যমান ৫০০০০০ মাত্র! নোটের অঙ্ক থেকেই অনুমেয় কতটা মূল্য আসলে নোটগুলো বহন করে! বঙ্গ টাকার একটি নোটের বিনিময়ে এদের প্রায় ২৮৫টি নোট পাওয়া যাবে আর শত ডলারের মার্কিন মুলুকের নোটের বিনিময়ে পাওয়া যাবে ২২ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডং! এখানে আসলে তাই ডংয়ের হিসাব মেলাতে কিছুটা বিপত্তিতে পড়তে হয়। উপায়ান্ত না দেখে দোকানি কিংবা ড্রাইভারের সহায়তা নেয়া। সব ডং তার দিকে বাড়িয়ে দিলে সে তার প্রয়োজন মিটিয়ে বাড়তিটা আবার মনিবকে ফিরিয়ে দেয়। অর্ধ লিটারের এক বোতল পানির দাম যেখানে ১৮০০০ ডং! এয়ারপোর্ট থেকে হোটেল পর্যন্ত ট্যাক্সি ভাড়া নিয়েছিল সাড়ে তিন লক্ষ ডং। কিছু ক্ষেত্রে সে অঙ্ক কোটিতেও যেয়ে ঠেকে! ল্যাপটপ বা ফোন কেনা তো মামুলি ব্যাপার। তবে উপায় একটা এতদিনে বের হয়েছে। এরা সাধারণত শেষ তিনটি শূন্য আর বলে না। ফলে ব্যাপারটা বেশ সোজা হয়ে যায়। আবার শেষ তিনটি শূন্যের আগে পয়েন্ট(.) লেখা থাকে। ব্যস, গেল ল্যাটা চুকে। যেমন খেয়ে দেয়ে ১ লক্ষ ৩০ হাজার ডংয়ের বিল বানালে এরা বলে একশো তিরিশ। তবে শুধু আমরা না; অনেক পর্যটককেই দেখেছি নতুন এসে ডংয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে। অবশেষে ত্রাতা হয়ে পাওনাদারকেই কাছা দিয়ে ডংয়ের হিসাব মেলাতে মাঠে নামতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে স্বল্প সময়ের ভিয়েতনাম ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এক কথায় অসাধারণ। মনের স্মৃতিপটে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে কফি উৎপাদনের অন্যতম শীর্ষে থাকা এই আসিয়ান সদস্য। এই কয়েকটা দিনে ভিয়েতনাম যা দিয়েছে, তা সহজে ভোলার নয়। নতুন মানুষ, মূল্যবোধ, সভ্যতা, সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় ঘটা সবসময়ের জন্যই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। সে অভিজ্ঞতার মুকুটে নতুন পালক যোগ করল মায়াবী ভিয়েতনাম আর তার সরল মানুষগুলো।
প্যাকেজ ব্যবস্থাঃ
ঢাকা ট্যুরসসহ বিভিন্ন ট্যুরিজম কোম্পানী সারা বছর প্যাকেজর ব্যবস্থা করে থাকেন।
ফোন ঃ ০১৯৭৯-৮৭৪০৪২, ৯৫৮৫১৩৯

ঘুরে আসুন সৈকত নগরী কক্সবাজারমানুষ
                                  

বিভিন্ন ছুটিতে তাদের গন্তব্য হতে পারে কক্সবাজার। ছুটির এ সুযোগ সবাই পেতে চাই। সেকারণে এসব ভ্রমণ গন্তব্যে পর্যটকদের প্রচন্ড ভিড় লাগে। তাই আগে থেকেই জায়গাটি নির্বাচন করে সেখানে যাওয়া-আসার বাসের টিকেট, হোটেল ইত্যাদি অগ্রিম বুকিং নিশ্চিত না করলে শেষমেশ ভ্রমণটা অনেক সময় সুখকর হয় না। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে শান্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র  সৈকত কক্সবাজার। ১২০ কিলোমিটারের সমুদ্র  সৈকত ঘিরে প্রাচীন ঐতিহ্য এবং দর্শনীয় স্থানের কারণে প্রতিবছর কক্সবাজারে ছুটে আসেন বিপুল সংখ্যক পর্যটক।
কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থানসমূহ
কক্সবাজার এসে আপনি দেখতে পাবেন বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, শহরের মাহাসিংদোগ্রী বৌদ্ধ মন্দির, বার্মিজ মার্কেট, অগ্গমেধা ক্যং, রাডার স্টেশন, হিলটপ সার্কিট হাউজ, হিমছড়ি ঝর্ণা ও সমুদ্র সৈকত, রামুর নবনির্মিত ও পুরনো ঐতিহ্যের ধারক বৌদ্ধ বিহার, রাবার বাগান, চকরিয়াস্থ ডুলাহাজরা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, টেকনাফের সমুদ্র সৈকত, মাথিনের কূপ, সেন্টমার্টিন প্রবালদ্বীপ, ছেঁড়াদ্বীপ, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির ও ক্যাং, সোনাদিয়া দ্বীপ, কুতুবদিয়া বাতিঘর। এসবের সাথে যোগ হয়েছে রামুর উত্তর মিঠাছড়ির ১০০ ফুট সিংহসয্যা বৌদ্ধমূর্তি এবং বোটানিক্যাল গার্ডেন।
কক্সবাজারের উৎপত্তি :
কক্সবাজারের আদি নাম পালংকী। ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স নামের এক ব্রিটিশ কর্মকর্তা ১৭৯৯ সালে এখানে এসে একটি বাজার স্থাপন করেন। তার নাম অনুসারে কক্স সাহেবের বাজার হতে কক্সবাজার এর নাম করণ করা-এমনটিই প্রচলিত। কক্সবাজারের উত্তরে চট্টগ্রাম, পূর্বে-বান্দরবান পার্বত্য জেলা ও মিয়ানমার, পশ্চিম ও দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। ২৪৯১.৮৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে এ জেলার রয়েছে ৫টি নদী। এগুলো হল, মাতামুহুরী, বাঁকখালী, রেজু, ঈদগাঁও ফুলেশ্বরী ও নাফনদী।
এখানকার দ্বীপের সংখ্যা ৫টি। এগুলো হলো- মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন।
কক্সবাজারের প্রাচীন ঐতিহ্য:
প্রাচীন ঐতিহ্যে ভরপুর আমাদের কক্সবাজার। কক্সবাজার ভ্রমণে আসা পর্যটকরা এসব ঐতিহ্য সমূহ ঘুরে দেখেন। যেসব ঐতিহ্য রয়েছে তার মধ্যে আলোচিত হচ্ছে আজগবি মসজিদ। ধারণা করা হয় ১৬০০-১৭০০ খিস্টাব্দে শাহ সুজার আমলে এটি তৈরি হয়েছিল। এটি মোঘল মসজিদ হিসেবেও পরিচিত। কক্সবাজার পৌরসভার বিজিবি ক্যাম্পের উত্তর দিকে এটি অবস্থিত। রিকশা টমটম যোগে ওখানে যাওয়া যায়। কক্সবাজার পৌরসভার গেট থেকে ভাড়া পড়বে ৩০ থেকে ৫০ টাকা।
প্যাগোড়া (জাদী)
১৭৯০ ইংরেজি সালের দিকে বার্মিজরা আরাকান বিজয়ের পর কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় রাখাইন সম্প্রদায় এটি নির্মাণ করে। তারা এটিকে স্মৃতিচিহ্ন জ্ঞান করে। কক্সবাজার সদর, রামু ও টেকনাফের পাহাড় বা উচুঁ টিলায় এ ধরণের অনেক প্যাগোড়া রয়েছে।
রামকোট তীর্থধাম
এটি রামুর রামকোট বনাশ্রমের পার্শে¦র পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। ৯০১ বাংলা সনে এ তীর্থধাম স্থাপিত। কথিত আছে রাম-সীতা বনবাসকালে এই রামকোটে অবস্থান করেছিল। তীর্থধামে মন্দিরের পাশাপাশি আলাদা একটিবৌদ্ধ বিহারে ধ্যানমগ্ন ছোট একটি বৌদ্ধমূর্তিও রয়েছে। জনশ্রুতি আছে, দু’টিধর্ম পাশাপাশি শান্তিতে সহাবস্থানের প্রমাণ স্বরূপ সম্রাট অশোকের সময়ে এই মূর্তি স্থাপিত হয়।
রামুর দৃষ্টিনন্দন ক্যাং
রামুর শ্রীকুলস্থ বাঁকখালী নদীর তীরে ছেংখাইব ক্যাং (বৌদ্ধ বিহার) অবস্থিত। এ বৌদ্ধ বিহারে নানা রকম নকশা খঁচিত আসন ও কাঁচের পাত্রে সংরক্ষিত ১০টিরও বেশি পিতল এবং আরো অনেক শ্বেতপাথরের মূর্তি শোভা পাচ্ছে। সব মিলে রামু থানায় ২৩টি বৌদ্ধ বিহারে শতাধিক মূল্যবান বৌদ্ধ মূর্তি রয়েছে।
২০১২ সালে একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনার পর রামুর প্রাণ কেন্দ্রে লালচিং, সাদাচিং ও সীমাবিহার বৌদ্ধ বিহার গুলো পুনরায় তৈরি করা হয়েছে বিশ্বমানের স্থাপনায়। ঐ ঘটনায় শত বছরের ঐতিহ্য পুড়ে গেলেও নতুন স্থাপনা বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে এগিয়ে দিয়েছে ৫০ বছর! আগুন থেকে রক্ষা পাওয়া পুরনো ক্যাং ঐতিহ্যের জানান দেয় আর নতুন স্থাপনার বিহারগুলো পর্যটনের অংশ হয়েছে।
১০০ ফুট সিংহসয্যা বৌদ্ধমূর্তি
রামুর উত্তর মিঠাছড়ির ভাবনাকেন্দ্র বিহারে উঠানে স্থাপন করা হয়েছে এশিয়ার বৃহত্তম ১০০ ফুট দৈর্ঘের সিংহসয্যার গৌতম বৌদ্ধের মূর্তি। এ মূর্তির চারপাশের স্থানটা এমন পরিবেশ তৈরি করেছে এখানে আসলে মনটা এমনিতে ভাল হয়ে যায়। তাই যেকোনো ছুটি কিংবা বিশেষ দিনে ঘুরে বেড়ানোর জন্য নির্ধারিত স্থান হচ্ছে এটি।
বোটানিক্যাল গার্ডেন
রামুর নারকেল বাগান এলাকার আগে বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে বোটানিক্যাল গার্ডেন। নানা প্রজাতির গাছ ও ফুলের সৌরভের পাশাপাশি বসার জায়গা করা হয়েছে এখানে। তাই কাছের মানুষকে নিয়ে একান্ত কিছু সময় এখানে নির্জনে কাঁটাতে পারেন আপনি।
কানা রাজার সুড়ঙ্গ
উখিয়া থানার জালিয়া পালং ইউনিয়নেপাটুয়ার টেক সৈকতের কাছে নিদানিয়া পাহাড়ের মধ্যে এ সুড়ঙ্গ বা গর্ত। সুড়ঙ্গের ব্যাস ১২ ও ১২। একটা বড় ট্রাক অনায়াসে সুড়ঙ্গ পথে প্রবেশ করতে পারবে। কথিত আছে, জনৈক মগ সম্প্রদায়ের কানা রাজার (এক চোখ অন্ধ) শাসন আমলে আত্মরক্ষার জন্যেই সুড়ঙ্গটি নির্মাণ করেছিল।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ
টেকনাফ থানা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কি. মি. সমুদ্রগর্ভে মনোরম দ্বীপ সেন্টমার্টিন। প্রায় ১৬ বর্গ কি. মি. জুড়ে প্রবাল পাথরের মেলা, সমুদ্র তীরে সারি সারি নারিকেল বৃক্ষ, দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া সমুদ্রের নীল জলরাশি আর এখানকার আদিবাসীদের বিচিত্র জীবনযাপন- সব মিলিয়ে পর্যটকদের আগ্রহ জাগানিয়া উপাদানের বিন্দুমাত্র অভাব নেই।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ স্থানীয়ভাবে নারকেল জিঞ্জিরা নামে পরিচিত। জনশ্রুতি রয়েছে প্রাচীন কালে এই দ্বীপটি ছিল একটি বিশ্রামাগারের মত। বিভিন্ন দেশের বণিকরা বিশেষ করে আরব বণিকরা পণ্য নিয়ে যখন সওদা করতে যেতো তখন তারা এই দ্বীপে বিশ্রাম নিত। আর তখন থেকেই এই দ্বীপের নাম হয় জাজিরা। তবে পরবর্তী সময়ে এটি নারিকেল জিনজিরা বলে পরিচিতি লাভ করে। অসংখ্য নারিকেল গাছের সমারোহ থাকায় এই দ্বীপকে এই নামে ডাকা হয়ে থাকে। সর্বশেষে ইংরেজরা এই দ্বীপটির নামকরণ করে সেন্টমার্টিন এবং দেশ বিদেশের মানুষের কাছে এখন পর্যন্ত এ নামেই পরিচিত।
কুতুবদিয়া বাতিঘর
বাতিঘরের জন্য বিখ্যাত কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপ এ প্রবাদটি ছোটবেলায় বিভিন্ন পাঠ্য পুস্তকে লেখা ছিল। ইদানিং তেমনটি আর লেখা হয় না। কারণ বাতিঘরটি আর কুতুবদিয়াতে নেই। আছে বাতিঘরটির ভগ্নস্তূপ এলাকা নিয়ে গঠিত বাতিঘরপাড়া। চান্স অ্যান্ড ব্রাদার্স কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃক মনোনীত স্থপতি নেয়ার বার্মিংহাম এর তত্ত্বাবধানে ১৮৪৬ সালের দিকে কুতুবদিয়ার উত্তরধুরং ইউনিয়নের আলী ফকির ডেইল নামক স্থানে আটতলা তথা বিশিষ্ট বাতিঘরটি নির্মাণ করা হয়। ১২০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট গোলাকৃতি আলোক স্তম্বের প্রতিটি কক্ষে মূল্যবান কাঁচখচিত জানালা ছিল। কক্ষের চারদিকে রেলিং ছিল। সর্বোচ্চ কক্ষে বাতিঘরটি প্রজ্বলন করা হতো। ১৯ মাইল দূর থেকে নাবিকরা এ বাতিঘর থেকে আলো প্রত্যক্ষ করে দিক চিহ্নিত করতো। শংখ নদীর তীব্র স্রোতের তোড়ে বাতিঘরটি ধ্বংস হতে থাকে। ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে বাতিঘরটি পুরোপুরি ধ্বংস হলে গভীর সমুদ্রে চলাচলরত নাবিক ও মাঝিমাল্লাদের কথা মাথায় রেখে তদানীন্তন সরকার ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ ধুরং এলাকায় আগের স্থান থেকে দু’কিলোমিটার পূর্বে বাঁধের ভেতরে প্রায় সাত একর জমিতে আরো একটি বাতিঘর নির্মাণ করে। বাতিঘরের সাথে কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য একটি রেস্ট হাউস ও দুটি আবাসিক কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়। ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে ২৯ এপ্রিল প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে পুনঃনির্মিত বাতিঘরটি সাগরে বিলীন হয়ে যায়। নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় মেয়াদোত্তীর্ণ এসব স্থাপনা জরাজীর্ণ অবস্থায় কালের নীরব সাক্ষী হিসেবে এখনো সাগরদ্বীপ কুতুবদিয়ায় বিদ্যমান রয়েছে।
কুতুব আউলিয়ার উত্তরসূরি হযরত শাহ আবদুল মালেক আল কুতুবী (রাঃ) এর মাজার শরীফের অসংখ্য ভক্ত প্রায় প্রতিদিন কুতুবদিয়া সফর করে থাকেন। কুতুবদিয়া সফরের প্রাক্কালে ঐতিহাসিক বাতিঘরের অস্তিত্ব সন্ধানের জন্য পর্যটকদের ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।
সোনাদিয়া দ্বীপ
দেশের পাহাড়দ্বীপ মহেশখালীর সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কূল অপূর্ব সৌন্দর্য্য বেষ্টিত পর্যটন স্পট সোনাদিয়া দ্বীপ। মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন সোনাদিয়া দ্বীপের আয়তন ৪ হাজার ৯২৮ হেক্টর। এ দ্বীপটি পূর্ব পশ্চিমে লম্বা। সৃষ্টি  শৈল্পিক আদলে গড়া সোনাদিয়া জেলার পর্যটন শিল্পের আরেক সম্ভাবনাময় সৈকতের নাম। এখানে রয়েছে বালিয়াড়ি, কাছিম প্রজনন ব্যবস্থা, চামচ ঠোঁটের বাটন পাখি এবং অতিথি পাখির অভয়ারণ্য, দূষণ ও কোলাহল মুক্ত  সৈকত, লাল কাঁকড়ার মিলন মেলা, বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক কাছিম, পূর্ব পাড়ার হযরত মারহা আউলিয়ার মাজার ও তার আদি ইতিহাস, জেলেদের সাগরের মাছ ধরার দৃশ্য, সূর্যাস্তের দৃশ্য, প্যারাবন বেষ্টিত আঁকা-বাঁকা নদীপথে নৌকা ভ্রমণ। যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এ দ্বীপে সরকারি বা বেসরকারিভাবে যথাযথ উদ্যোগ ও পরিকল্পনার অভাবে এ পযন্ত পর্যটন আর্কষণের আধুনিক কোনো পদক্ষেপ বলতে গেলে নেয়া হয়নি। এ দ্বীপের শুটকির কদর সবার মাঝে লক্ষ্য করা যায়। সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপনের কথা প্রচার পাবার পর থেকে এখানকার ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিসহ সরকারি জমি উচুঁ দামে হাতবদল ও দখলের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। দ্বীপ হলেও এটি কুতুবজুম ইউনিয়নের ওয়ার্ড হিসেবে এখানে জনবসতি রয়েছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন ০৩ দশমিক ১৫ একর ও  চিংড়ি চাষযোগ্য ৯৮.০০ একর জমিতে চাষ করেই চলে এখানকার বাসিন্দাদের জীবিকা
ডুলাহাজরা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক
কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে ডুলাহাজরায় রয়েছে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। প্রায় ৯০০ একর পাহাড়ি ও সমতল ভূমির সমন্বয়ে এপার্কটি সববয়সের মানুষের কাছে বিনোদনের স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এখানে দেখা মিলবে নানা রকম প্রাণির। প্রতিদিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খোলা থাকে ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক। নিজেদের গাড়ি হলে ভ্রমণে সুবিধাটা বেশি। শহর থেকে খোলা জীপ কিংবা মাইক্রোবাস নিয়ে যাওয়া যায়।
কোথায় থাকবেন
পর্যটক সেবায় কক্সবাজারে রয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ শতাধিক আবাসিক হোটেল মোটেল, রিসোর্ট এবং কটেজ।  এর মধ্যে তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস লি, সায়মান বিচ রিসোর্ট, রয়েল টিউলিপ সি পার্ল এবং তারকা মানের সীগাল হোটেল  হোটেল সী প্যালেস, হোটেল সী ক্রাউন হোটেল দ্য কক্স টু-ডে,  হোটেল মিডিয়া ইন্টার ন্যাশনাল উল্লেøখযোগ্য।
রয়েছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন কর্তৃক পরিচালিত মোটেল শৈবাল , লাবনী ও প্রবাল। এখানে এক রাত্রি যাপনের জন্য রয়েছে ১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা দামের কক্ষ। কক্সবাজারে সড়ক পথে আসা-যাওয়ার তথ্য ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল হতে কক্সবাজার ৪৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। ঢাকা থেকে সৌদিয়া মার্সিডিজ বেন্জ, গ্রিন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহনসহ বিভিন্ন বাসের এসি নন এসি কোচে সব সময় আসা যায়।
প্যাকেজ ব্যবস্থা
ঢাকা ট্যুরসসহ বিভিন্ন ট্যুরিজম কোম্পানী সারা বছর প্যাকেজর ব্যবস্থা করে থাকেন।
 ফোন ঃ ০১৯৭৯-৮৭৪০৪২, ৯৫৮৫১৩৯



বিশ্ব পর্যটন ঘুরে আসুন হিমালয়ের দেশ ভুটান
                                  

একঘেয়ে  জীবন  যাত্রায় মানুষ  যখন হাঁপিয়ে ওঠেন, তখন তার অন্তত কিছু সময়ের জন্য একটু আরাম, একটু বিরাম,একটু শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পড়েন সৃষ্টিকর্তার অপরময় সৃষ্টির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য কাছে বা দূরে কোথাও। ভ্রমণ করে না অথবা করতে চায় না এমন মানুষ এই দুনিয়ায় পাওয়া বড় দুষ্কর। একজন পর্যটক হিসেবে আপনি ঘুরে আসতে পারেন সারা বিশ্ব। দেশের বাইরে ঘুরে আসতে চান? তবে  ঘুরে আসতে পারেন হিমালয়ের কোলে সুখী মানুষদের দেশ ভুটান।  ভ্রমণ পিপাসু পাঠকদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন- নাজিয়া ইসলাম।
  ‘ভুটান যাবা? খালি বলে দেখ এবার, জ্যান্ত পুঁতে ফেলব’, ফোনে ফাহমিদার হুঙ্কার। জ্যান্ত মরার ভয়ে, নাকি খুব দূরে কোথাও ঘুরতে যেতে ইচ্ছা করছিল ঠাহর করে বলতে পারছি না শুধু ঈদের ছুটি শুরুর দু’দিন আগের এক দুপুরে নিজেকে আবিষ্কার করলাম দ্রুক এয়ারলাইন্সের এক ছোট্ট বিমানে; সঙ্গী রেহনুমা আপু, তানজিবা আর ফাহমিদা। জানালা দিয়ে নিচে তাকাতেই দেখি সাদা মেঘের ঝোপ। ওখানে নেমে খানিক গড়াগড়ি খেয়ে আসার পরিকল্পনা করতে করতেই দেখি নীলচে পাহাড় সারি। পাইন গাছেরা রাজকীয় সবুজ পোশাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য দাঁড়িয়ে আছে। পাহাড়কে ডানা দিয়ে প্রায় স্পর্শ করে বিমান থামল পারো বিমানবন্দরে। ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের হলকা থেকে ৫০ মিনিটের মধ্যে ২৩ ডিগ্রির হালকা শীতল স্পর্শে আমাদের ‘পার ক্যাপিটা হ্যাপিনেস’ বেড়ে গেল। সুখী মানুষদের দেশে নেমেছি বুঝতে হবে তো!
কারুকার্যময় পারো বিমানবন্দরের বাইরেই গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছিল আমাদের পরের ৬ দিনের সঙ্গী নরবু। বিমানবন্দর থেকে আমাদের গন্তব্য রাজধানী থিম্পু; রাস্তায় বের হতেই ছিপছিপে তন্বী ‘পারো চু’র সঙ্গে দেখা; ভারি ইচ্ছে হচ্ছিল ওর ঝকঝকে স্বচ্ছ জলে পা ডুবিয়ে পাথরের ওপর বসে থাকি। এইবেলা বলে রাখি কোনো প্যাকেজ ছাড়া ভুটান গেলে দেশ থেকে ট্যাক্সি বা গাড়ি ঠিক করে যদি যান সময় বাঁচাতে পারবেন অনেকখানি। সেই সময়টা বরং ঘোরাঘুরির পেছনে ব্যয় করুন। যাহোক, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি মসৃণ পথ ধরে ছুটে চলেছি আমরা, একপাশে উঁচু পাহাড়ের পাথুরে শরীর; আর অন্য পাশে জলজ শিলা বুকে নিয়ে গর্বিত ছন্দে বয়ে চলা ‘পারো চু’; মনে মনে গান ভাজতে থাকি- ‘তুই লাল পাহাড়ের দেশে যা, রাঙ্গামাটির পথে যা’। পথেই ‘পারো চু’-এর ওপরে লোহার ঝুলন্ত সাঁকো; তার ওপাশে ‘তামচোগ মোনাস্ট্রি’। এ যেন হঠাৎ রূপকথার রাজ্যে চলে আসা অথবা টাইম মেশিনে চড়ে অতীতে পাড়ি জমানো; বুঝে উঠতে পারছিলাম না কোনটা ছেড়ে কোনটা দেখব- রুক্ষ পাহাড়, রোদ্দুর মেখে ছুটে চলা ঝিকিমিকি নদী নাকি অচিন দেশের অদ্ভুত সুন্দর ধর্মশালা। ঘোর কাটতে না কাটতেই পৌঁছে যাই সিলভার পাইন হোটেলে। আমরা আগে থেকে বুকিং করে আসিনি; অফ সিজন বলে লোকজন তেমন নেই; মনুষ্যশূন্য হোটেলে থাকার ঝুঁকি তাই আর নিলাম না। শুনলাম ওয়াইফাইও নেই। এ যুগে আর যা-ই হোক ইন্টারনেট ছাড়া কি দিন কাটে! থিম্পু শহরের ভেতরে পিসফুল রিসোর্টে আমাদের নিয়ে গেল নরবু; দামাদামি করে হোটেল ভাড়াটাও কমিয়ে দিল। শান্তি হোটেলে শান্তিতে দু’দিন থাকব ঘোষণা দিয়ে আমরা নিজেদের বাক্স-পেঁটরা রেখে থিম্পু শহরে গেলুম খাবারের সন্ধানে। ভুটানে খাবার খেতে হয় নির্দিষ্ট সময়ে; ওই সময়ের বাইরে মাথা খুঁড়লেও খাদ্যদ্রব্য পাওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই সকালের খাবার যে হোটেলে থাকবেন ওখানেই খেয়ে নেয়া ভালো। ওখানে রেস্তোরাঁগুলো সাধারণত পারিবারিক ব্যবসা; পরিবারের সদস্যরাই চালায়, ভুটানি, ভারতীয়, তিব্বতি- সব ধরনের খাবার পাওয়া যায়। তবে ভুটান যাবেন আর সুগন্ধি লাল চালের ভাতের সঙ্গে ‘এমা  দাতসি’, ‘কেওয়া দাতসি’, ‘জাশামারো’, ‘ফাকশাপা’ অথবা ‘ মোমো’ না খেয়ে চলে আসবেন তা তো আর হয় না। রাতের থিম্পু শহরটাও দেখার মতো। উঁচুতে দাঁড়িয়ে আলো ঝলমলে জং দেখে শান্তি হোটেলে ফিরলাম আমরা ক্লান্ত চতুষ্টয়। পারো শহর  পরদিন সকাল সকাল নাশতা সেরেই ছুটলাম মেমোরিয়াল চর্তেন বা কিংস মেমোরিয়ালে। লোকজন এখানে প্রধান মন্দিরের চারপাশে চক্রাকারে ঘোরে আর মন্ত্র পড়ে। চত্বরে আছে অসংখ্য পায়রা। আমরাও সবার সঙ্গে একটা চক্কর দিয়ে, পায়রা উড়িয়ে বুদ্ধ দরদেনমা স্ট্যাচু বা বুদ্ধ পয়েন্টে গেলাম। ধ্যানী বুদ্ধ শহরের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়টির ওপরে মেঘের চাদর জড়িয়ে সবাইকে পাহারা দিচ্ছেন। ওখান থেকে গেলাম চাঙ্গাংখা লাখাং-এ; থিম্পুর সবচেয়ে পুরনো দুর্গমন্দির এটা। বাচ্চাদের নাম রাখা আর আশীর্বাদ করার জন্য নিয়ে আসা হয়। এখানে, প্রধান বেদিতে মেয়েরা নিষিদ্ধ তাই খানিক মনের আনন্দে প্রার্থনা হুইল ঘুরিয়ে দুটো ভুটানি বাচ্চার গাল টিপে আদর করে আর ছবি তুলে ছুটলাম দুপুরের খাবার খেতে। এরপর ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে ভিজে গেলাম মোনাস্ট্রিতে। এর পা ঘেঁষে চলা পাথুরে নদীর অধীর ঢেউ, পানিতে সবুজ বনানীর ছায়া, কিনারের ভেজা পাথরে বসে থাকা আনমনা আমাদের চোখে কী যে স্বপ্ন এঁকে দিচ্ছিল তা শুধু আমরাই জানি।
পথে রয়্যাল টেক্সটাইল একাডেমি দেখে বিকেলে গেলাম তাশিচো জংয়ে। ওখানে তখন আমাদের রাষ্ট্রপতি আসবেন বলে তুমুল প্রস্তুতি চলছে। আমাদের একটু আলাদা খাতির করল বাংলাদেশ থেকে এসেছি বলে। জংয়ের পাশেই ওদের পার্লামেন্ট হাউস আর প্রাসাদ। প্রাসাদ বলতে ছোট্ট সুন্দর একটা বাড়ি। কেউ বলে না দিলে বোঝাই যাবে না ওটা প্রাসাদ। রাজা-রানী ওখানটাতেই থাকেন। কী জানি তাদের সম্মানেই কিনা জং চত্বরের মাথায় হ্যাট, হুডি বা ছাতা নিয়ে হাঁটা নিষেধ। বৃষ্টিতে ভিজে একশা হয়ে তাদের সম্মান অথবা নিরাপত্তা রক্ষা করলাম। ভুটানের শহর আর পথঘাট মুগ্ধ করার মতো। উঁচু-নিচু পথ, দু’ধারে প্রাচীন রীতির বাড়ি। একে পরিচ্ছন্ন তাতে যানজট নেই। ট্রাফিক পুলিশ ১০০ বছর আগের মতো হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ করে যানবাহন। আরো আশ্চর্যের ব্যাপার পুরো সময়ে কোনো হর্নের শব্দ শুনিনি। তবে কোলাহল যেমন নেই, তেমনি একটা টং দোকানও খুঁজে পেলাম না তন্ন তন্ন করেও, এক কাপ চা খাবার জন্য।
তৃতীয় দিনে আমাদের গন্তব্য দো-চুলা পাস হয়ে পুনাখা ভ্যালি। দো-চুলা পাস থেকে হিমালয়ের কয়েকটা চূড়ার দেখা মেলে রৌর্দকরোজ্জ্বল দিনগুলোতে। আমরা যখন রাস্তায় পাহাড় ধস এড়িয়ে দো-চুলা পাসে পৌঁছলাম তখন মেঘের ঢেউ জলে আর মেঘ পাহাড়ের আলিঙ্গনের আগুনে গলে গলে পড়ছে আমাদের ওপরে। মেঘের হিমে আচ্ছন্ন পথে চলতে চলতে নামার সময় লাল কাদায় গাড়ির সামনের অংশ ঢেকে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় গাছগুলো ঝুলে আছে রাস্তার ওপরে। পথে ঝিরঝিরে একটা ঝরনাও পড়ল, একেই বুঝি বলে ভয়ঙ্কর সুন্দর। পথে লাম্পেরিতে রয়্যাল বোটানিক্যাল পার্কে ঢুকলাম। মনে হলো হঠাৎ পথ ভুলে  ‘হ্যারি পটার’-এর জাদুর জগতে চলে এসেছি। এক্ষুনি সামনে ঝোপের আড়াল থেকে কেউ বেরিয়ে আসবে। যাহোক কেউ বেরোয়নি। দিব্যি হেঁটে চলে এসেছি; ভাবি একটা লাল পান্ডা বেরিয়ে এলে মন্দ হতো না। হোটেল লোবেসাতে বাক্স-পেঁটরা রেখে দে দৌড় পুনাখা জংয়ে। পাহাড়ের ঢালে পোচু নদ আর মোচু নদীর সঙ্গমে ফুলে ফুলে ঢাকা এই অসম্ভব সুন্দর মন্দির দুর্গ। এখানে না এলে ফণিমনসার ফুল আছে আর সেটা দেখতে এত সুন্দর তা আমার জীবনে জানাই হতো না। এই মন্দির চত্বরেই রাজা-রানীর বিয়ের অনুষ্ঠান হয়, সব রাজকীয় পূজাও এখানে হয়।
পরদিন আবার সেই দো-চুলা পাস হয়ে থিম্পু হয়ে পারোতে; যেতে অনেকটা সময় লাগে। পারো পৌঁছে বিকেলে গেলাম ভুটানের জাতীয় জাদুঘরে। তারপর সেদিনের মতো বিশ্রাম। পরেরদিন কাল বাঘের ডেরায় যেতে হবে কিনা! পারো চু’র পানির অবিরাম বয়ে চলার শব্দ শুনতে শুনতে কখন ঘুমিয়েছি জানি না। সকালে সবার মধ্যেই উত্তেজনা; টাইগার’স নেস্টে যাব; ছবি তুলতে তুলতে পাহাড়ের নিচে থেকে যাত্রা শুরু। পথে দেখা হলো পুনর্জন্ম নেয়া শিশু (!) যাজকের সঙ্গে। জাপানি-ভারতীয়-চীনা-নেপালি-আমেরিকান-বাঙালি কে নেই যে যাচ্ছে না সেখানে। বৃদ্ধ-বৃদ্ধা-বাচ্চা কাঁধে ভারী ব্যাগ নিয়ে যেমন তরতর করে উঠে যাচ্ছিল আমার নিজের ৫ মিনিটে একবার জিরিয়ে নেয়াটা কিছুটা লজ্জার ব্যাপারই হয়ে দাঁড়াল। সে যাহোক, অমন উঁচুতে মন্দির বানানোর বুদ্ধি যার মাথায় এসেছে তার মপাত করতে করতে আর পাহাড়ের ওপর থেকে পারো উপত্যকার সৌন্দর্য দেখতে দেখতে উঠেই পড়লাম পাহাড়ের চূড়ায়। ‘একেবারে চূড়ায়; মাথার খুব কাছে আকাশ, নিচে বিপুলা পৃথিবী, চরাচরে তীব্র নির্জনতা’। এরপরেই খাড়া সিঁড়ি বেয়ে নেমে নিচের ঝরনায় ভিজে আবার উঠলে তবেই মন্দির। ওঠার পর মনে হলো এই মন্দির স্রেফ একটা ছুতো। এমন অদ্ভুত রোমাঞ্চকর একটা পথ বেয়ে চলাটাই মুখ্য উদ্দেশ্য। সেদিন বিশেষ পূজা চলছে, বাচ্চা মঙ্কদের হাসির পেছনে ভীত, বিষণœ মুখগুলো দেখে কেমন অসহায় লাগছিল; ওরা কি ইচ্ছে করে এই কঠিন জীবন বেছে নিয়েছে? কতটুকু দেখেছে ওরা জীবনের? ফিরবার সময় পথ যেন আর ফুরোয় না। যখন নিচে পৌঁছলাম, আর এক পা হাঁটার শক্তি অবশিষ্ট নেই আমাদের, তবু মুখে পাহাড় জয়ের হাসি। ফেরার দিন চলে এলো। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে একই বিমানে করে দেশের মাটিতে পৌঁছলাম; মনে হলো আমরা আর আগের আমরা নেই; বদলে গেছি; সুখী মানুষের দেশে ঘুরে আমাদের মনেও উড়ছে সুখের প্রজাপতি। ভুটান যাওয়ার আগে জেনে নিন কিছু টুকিটাকি
সময়: আগস্ট থেকে অক্টোবর- এই তিন মাস ভুটানে ঘোরার উৎকৃষ্ট সময়। শীতকাল বা বর্ষাকাল ভুটান বেড়ানোর খুব একটা উপযুক্ত সময় নয়।
মুদ্রা: ভুটানে ইন্ডিয়ান রুপি আর গুলট্রাম দুটোই চলে। রুপি আর গুলট্রামের মান সমান। বিমানবন্দর অথবা বর্ডার থেকে ডলার ভাঙাতে পারবেন। তবে কিছু দোকানেও ডলার ভাঙানো যায়, ট্যাক্সিওয়ালাকে বললেই দেখিয়ে দেবে। এক্ষেত্রে দাম কিছু বেশিই পাবেন। ভাঙিয়ে রুপি নিয়ে গেলেও কোনো সমস্যা নেই।
ভিসা: সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ভুটানে যেতে ভিসার দরকার হয় না। কেবল টিকিট কাটুন আর চলে যান। দ্রুক এয়ারওয়েজ ভুটানের একমাত্র বিমান সংস্থা; বাংলাদেশ থেকে কেবল দ্রুক এয়ারওয়েজেই ওখানে যাওয়া যায়। টিকিটের মূল্য ২২ হাজার টাকার মতো। সড়ক পথে যেতে চাইলে প্রথমে ভারতীয় ট্রানজিট ভিসা নিতে হবে। কারণ বাংলাদেশ থেকে আপনাকে ভারত হয়েই ভুটানে প্রবেশ করতে হবে। টিকিটের মূল্য ৩-৪ হাজার টাকা। ভারতীয় ভিসা পাওয়ার ব্যাপারটা একটু ঝক্কির। তবে এটুকু কষ্ট ভুটানের সৌন্দর্যের তুলনায় কিছুই না। ঢাকা থেকে বাস লালমনিরহাট হয়ে শিলিগুড়ির উদ্দেশে ছেড়ে যায়। শিলিগুড়ি পৌঁছানোর পর সেখান থেকে অন্য আর একটি বাসে জয়গাঁ সীমান্ত এবং সেখানে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রবেশ করবেন ভুটানের ফুন্টসলিং। এরপর আপনার যাত্রা থিম্পু অথবা পারোর দিকে। বিমানে বা সড়কপথে যেভাবেই যান, ওরা পাসপোর্টে এন্ট্রি পারমিশনের সিল দিয়ে দেবে, তবে এই পারমিশন শুধুমাত্র থিম্পু, পারো আর ফুন্টসলিংয়ের জন্য। অন্য কোথাও যেতে বা থাকতে হলে থিম্পু থেকে পারমিশন নিতে হবে।
যাতায়াত: ভুটানের বেশিরভাগ গাড়িই ছোট; ৮-৯ জন বসা যায় এমন গাড়ি বা মাইক্রোবাস অবশ্য ভাড়া পাওয়া যায়। চারজনের দল হলে একটা গাড়ি ভাড়া করে নেবেন, খরচ কম লাগবে। শেয়ারের ট্যাক্সিতেও ঘুরতে পারেন কিছু জায়গাতে। ভুটানের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করতে পারেন; কিন্তু এগুলো নির্দিষ্ট কিছু টাইমে ছাড়ে, তাই বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে খুব একটা সুবিধা হবে না। এছাড়া এগুলো সব ট্যুরিস্ট স্পটে যায়ও না। গাড়ি ভাড়া করলে ড্রাইভারের থাকা-খাওয়ার খরচ সে নিজেই বহন করবে। আসলে ভুটানের প্রায় সব হোটেলেই ড্রাইভারদের থাকা-খাওয়া ফ্রি।
ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জায়গায় বেশ কিছু ট্যুর অপারেটর রয়েছে যারা ভুটানে ট্যর পরিচালনা করে। ঈদ উপলক্ষে এরা আকর্ষণীয় অফার দেয়। চার থেকে পাঁচ দিন ভুটান ভ্রমণের প্যাকেজের মূল্য বিমানে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা, সড়কপথে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। আমি অবশ্য পরামর্শ দেব বিমানে ও নিজেদের মতো করে যেতে; এতে বেশি জায়গায় নিজের মতো করে ঘুরতে পারবেন।
হোটেল: হোটেল আগে থেকে বুকিং করে রাখা ভালো। তবে পিক সিজন না হলে থিম্পু বা পারো পৌঁছেও যে কেউ হোটেল ঠিক করতে পারেন। ভুটানে মোটামুটি ভালো মানের হোটেলগুলো ই-মেইলে রুম বুক করে। এদের ভাড়া ২০০০ থেকে ৩০০০ রুপির মধ্যে। অফ সিজনে সব হোটেলই অনেক ছাড় দেয়।
কেনাকাটা: ভুটানে সবকিছুরই দাম অবিশ্বাস্য। ওদের নিজেদের পণ্য নেই বললেই চলে। সব ভারতীয়, চীনা, তিব্বতি বা নেপালি। তবু নতুন দেশে গিয়ে কিছু কিনবেন না তা তো আর হয় না। তাই কিনতে পারেন হাতে বোনা কাপড়, কাঠের জিনিসপত্র, পাথরের গয়না অথবা মুখোশ। থিম্পুতে একটা রাস্তায় হস্তশিল্পের দোকান বসে। স্ট্যাম্প সংগ্রহের শখ থাকলে সেগুলোও কিনে নিতে পারেন। সস্তায় কিছু জিনিস কিনতে চাইলে স্থানীয় কারো কাছ থেকে ঠিকানা জেনে নিতে পারেন অথবা টাইগার’স নেস্ট যাওয়ার পথে কিছু জিনিস পাওয়া যায়, তবে মান খুব একটা ভালো হবে না।
সতর্কতা: ভুটানের মানুষ ধর্ম, সংস্কৃতি এবং আইনের ব্যাপারে খুব সংবেদনশীল। অনেক কিছু দেখে আপনার কালচারাল শক লাগতেই পারে; তবু ওদের মনে আঘাত লাগতে পারে এমন কিছু এড়িয়ে চলুন। ভুটানের রাস্তাঘাটে অনেক বেওয়ারিশ কুকুরের দেখা মিলবে। কারণ ওরা প্রাণী হত্যা করে না। তবে কুকুরের কাজ কুকুর ঠিকই করে। এক হোটেলের কর্মচারী মাত্র পাঁচবার কামড় খেয়েছে! সুতরাং ‘কুকুর হইতে সাবধান’।
প্যাকেজ ব্যবস্থা
ঢাকা ট্যুরসসহ বিভিন্ন ট্যুরিজম কোম্পানী সারা বছর প্যাকেজের ব্যবস্থা করে থাকেন।
ফোন ঃ ০১৯৭৯-৮৭৪০৪২, ৯৫৮৫১৩৯।




ঘুরে আসতে পারেন রাতারগুল
                                  


মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। ভ্রমন করে না অথবা করতে চায় না এমন মানুষ এই দুনিয়ায়  পাওয়া বড় মুশকিল। একঘেয়ে জীবন যাত্রায় মানুষ যখন হাঁপিয়ে ওঠেন, তখন তার অন্তত কিছু সময়ের জন্য একটু আরাম, একটু বিরাম, একটু শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পরেন সৃষ্টিকর্তার অপারময় সৃষ্টির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখার জন্য কাছে বা দূরে কোথাও। একজন পর্যটক হিসেবে আপনি ঘুরে আসতে পারেন সারা বিশ্ব। ঢাকার বাইরে ঘুরে আসতে চান? তবে স্বল্প মূল্যে পরিবার নিয়েঘুরে আসতে পারেন দেশের দর্শনীয় স্থান। আমাদের সুজলা-সুফলা নদী মার্তৃক এই দেশের মধ্যেই রয়েছে পাহাড়, পর্বত সমুদ্র, জঙ্গল, স্থাপত্য, পুরাকীর্তি ইত্যাদি। পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য রয়েছে বিনোদনের নানান ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক সম্পদের অফুরন্ত সম্ভার। আর আপনি যদি একজন পর্যটক হিসেবে ভ্রমণ করতে চান, তবে মাথার ওপর নীল চাঁদোয়া, মেঘে-বৃষ্টিতে ভেজা বাতাস। পায়ের নিচে অন্য এক পৃথিবী। উপভোগ করতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন রাতারগুল জলাবন । ভ্রমণ পিপাসুদের উদ্দেশে লিখেছেন- জুয়েল থিওটোনিয়াস।
রাতারগুল গ্রামের স্লুইসগেইট ঘাটে পৌঁছে নিকটবর্তী দূরে সবুজের রেখা দৃশ্যমান। রাতারগুল জলাবন। রেখার ভেতরেই একপাশে খুব অহংকারী মাথা উঁচু দন্ডায়মান ওয়াচটাওয়ার, তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়েই চলেছে।
ইঞ্জিন নৌকায় উঠলাম। আমি, হাবীব, সাচ্চু ভাই, দিশা, রেদোয়ান ভাই। সঙ্গে শিহাব ভাই, গিয়াস ভাই আর মাঝি রহিম। গিয়াস ভাই স্থানীয় কৃষক রাজনীতির নেতৃত্ব দেন। গেল আষাঢ়ের শেষ দিন। সকালের বৃষ্টি থেমেছে অনেক আগে।
 ঝকঝকে রোদ্দুর, ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ আর বিরতি দেয়া বাতাস। ধূসর ধোঁয়া ছেড়ে জলযান শিয়ালীছড়া খাল হয়ে এগিয়ে চলে। রাতারগুলের পাশ দিয়েই যেতে থাকি আমরা। আমার আর গিয়াস ভাইয়ের কথোপকথনে বেশ কয়েকবার প্রসঙ্গ এলেও দলের সদস্যরা বুঝতে পেরেছিল-পারেনি এমন অবস্থা যে, আমরা রাতারগুল জলাবনের পাশ দিয়েই চলছি। তারা ভেবেছিল এটা রাতারগুলেরই অংশ তবে সামনে নিশ্চয়ই এর আরও বৃহৎ কলেবর। দিশা পরে বলেছিল, সে টের পেলেও নীরব থেকেছিল। আলাপে আলাপে গিয়াস ভাই আমাদের জানালেন, এই অনন্য বনটি ক্রমেই হারাচ্ছে তার অস্তিত্ব। সরকারি নথিতে ৩০০ একরের বেশি উল্লেøখ থাকলেও আছে ২০০ একরের কিছু বেশি। ২০১০-১১ সালের দিকে বনটা বাইরের মানুষের দৃষ্টিগোচর হওয়ার সময় প্রায় ৫০০ একরের বেশি ছিল, এর আগে ছিল আরও বেশি। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের অপরিণত-অপরিপক্ক ভ্রমণ-খড়গ আর সীমাহীন লোভ বনের অন্যান্য সৃষ্টির প্রাণনাশ ও প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে পলায়নের গল্পের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
 আগে তো পাখির কুজনে মেতে থাকতো এই বন, আর আমরা খুব দূর থেকে একটা-দুটা ব্যথিত অভিমানী পাখির ডাক শুনলাম। শিয়ালীছড়া খালের পর নৌকা পড়লো গোয়াইন নদীতে। এ পথ খাল-নদী মিলিয়েই, গোয়াইনের পর মোয়ালীখাল, পূর্ব পেকের খালসহ কয়েকটি খাল পেরিয়ে আমরা উঠবো পিয়াইন নদীতে। যেতে যেতে পরে পূর্ব পেকের গ্রাম, চলিতাবাড়িসহ কয়েকটি গ্রাম। এখানকার মানুষের জীবন জলের সঙ্গে গভীর পরিচয়ের। বর্ষা মৌসুম তো আছেই, বলা যায় অর্ধবছর নৌকা দিয়েই জীবন প্রণালী সচল রাখে এরা। ৪-৫ বছরের এক শিশু পরিণত বয়সের মানুষ সমেত নৌকা অনায়াসে চালাতে পারে। খুব ছোট থেকেই এরা দক্ষ সাঁতরু ও জেলে। নৌকা পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হাসিমুখে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানায়। একটু পিছনে ফেরা যাক।
অনেকদিন থেকেই শুনছিলাম রাতারগুলের অবস্থা বড়ই সঙ্গীন, নিজ চোখে তা দেখার সাধ ছিল। গতবছর ঈদুল ফিতরের দিন দেখে গিয়েছিলাম, মনটা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। এবার আশরাফ ভাইকে আগেই বলে রেখেছিলাম, তিনিও সানন্দে রাজি হলেন। আশরাফ ভাই সিলেটেই থাকেন। একাধারে সাংবাদিক, ‘বাঁচাও রাতারগুল’সহ পরিবেশবাদী আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি এবং অনেক কিছু। অসুস্থতার কারণে নিজে সময় দিতে না পারলেও তার পারিবারিক নোয়া গাড়িটা বিনা ভাড়ায় আমাদের যাতায়াতের জন্য দিয়েছেন। এরই চালক শিহাব ভাই। সিলেট শহরে নাস্তা সেরে বিমানবন্দর সড়ক দিয়ে রাতারগুলের পথে। দীর্ঘদিনের খানা-খন্দের রাস্তার সংস্কার চলছে। এরই মাঝে নামলো বৃষ্টি, সিলেটের বৃষ্টি। সবার আশঙ্কা, কেমনে কী। আর আমার মুচকি হাসি।
জলে ফেরা যাক। প্রকৃতি তার সৌন্দর্র্যের অবগুণ্ঠন নিঃসঙ্কোচে খুলে দিয়েছে, আর তারই শব্দ-স্পর্শ-রূপ-রস-গন্ধে নিমজ্জিত সবাই। কখনো সচেতন, কখনো অবচেতন মনে নৌকার জল কাটার তালে তালে চলছিলো একক আর সম্মিলিত মাটির গান, সমান তালে বাজছিলো মোবাইল ক্যামেরার শাটারের শব্দ। নৌকা একসময় নতুন একটি ঘাটে থামলো। ছোট বিরতি। নতুন ঘাট, নতুন বাজার, নাম তার মুন্সির বাজার। বেশিদিন হয়নি পত্তন হয়েছে। বাজার থেকে একসময় হাট হবে, এরপর গঞ্জ, নৌকার যাতায়াত বাড়বে, বাণিজ্য বাড়বে, পয়সা হবে মানুষের, আর সর্বনাশ ঘটবে নদী-খালের। নৌকা আবারও এগিয়ে চলে। দিশার জিজ্ঞাসা, যাচ্ছি কই। বাকি ৩ জনের জিজ্ঞাসা আর কতদূরে রাতারগুল জলাবন। আমি আর গিয়াস ভাই পরস্পরের দিকে তাকিয়ে হেসে তাদের সবুর করতে বলে নিসর্গে ডুবে যেতে বলি। একটু পরপরই হাঁসের ঝাঁকের জলকেলি, মাছরাঙা, বক আর পানকৌড়ির শিকার-প্রতীক্ষা। হুট করে মিলি সেকেন্ডের জন্য অন্ধকার হয়, ওপরে তাকিয়ে দেখি আমাদের বরাবর সূর্যের নিচ দিয়ে শঙ্খচিল উড়ে যাওয়ায় এমন চকিত আঁধার। শঙ্খচিল যেন জানান দেয়, বিশালতায় একটু ছেদে চমকে ওঠা কেন।
যেতে আসতে অনেক  বৈঠা বাওয়া নৌকা, ইঞ্জিন নৌকার চলাচল, মানুষ, পণ্য। কয়েকটি ভারতীয় গরুবাহী নৌকা দেখলাম, গিয়াস ভাই বলল, ওসব চোরাই। ততক্ষণে মেঘালয়ের পাহাড়শ্রেণী দৃষ্টিসীমার সিংহভাগে। সবার মুখে আকর্ণ হাসি। পরক্ষণেই চুপসে যাওয়া, কেননা পাহাড়ের গা ফুঁড়ে-বেয়ে ঝরনার উৎস সবই ভারতে, পতনের পরে পানি মিশেছে বাংলাদেশের নদীতে। পিয়াইন ঘাটে যাওয়ার রাস্তা দেখে মনে পড়লো ২ বছর আগের কথা। সেবার ভরা বর্ষায় আমরা সারাদিন নৌকায় করে কুলুমছড়া-লক্ষ্মণছড়া-পানথুমাই-বিছনাকান্দি দেখেছিলাম। উজান ক্রমেই কাছে হওয়ায় মোটরের শক্তি বাড়াতে হলো। পিয়াইন ঘাটের কাছে পৌঁছে যতদূর চোখ যায় পাথর ও বালু তোলার যথেচ্ছাচার।
ফলস্বরূপ পরিবেশ ওষ্ঠাগত। প্রশাসন ও অন্য কেউ বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি করেনি বলে দরিদ্র মানুষদের ব্যবহার করে ধনবানদের প্রবল থাবা আঁকড়ে বসেছে। কয়েকটি বাঁক পেরিয়ে, ১৫-২০ কিলোমিটারের ৩ ঘণ্টার যাত্রায় পর্যটক সমেত যে স্থানে পৌঁছে আমিই আগ বাড়িয়ে বললাম, এটা বিছনাকান্দি। সবাই খুশিতে কুটিকুটি।
 একইসঙ্গে জিজ্ঞাসা, রাতারগুল কই? আমি ও গিয়াস ভাই উত্তর দিলাম, সেটা তো ফেলে আসলাম, ফেরার পথে হবেক্ষণ। সবার সে কি আনন্দ-হিল্লোল! পানিতে দাপাদাপি, ক্যামেরার ক্লিক। বিছনাকান্দিতে পানি কম, হয়তো মেঘালয়ে বৃষ্টি কম হয়েছে। তবু তাদের সাবধান করা হলো বেশি গভীরে না যেতে। প্রতিবছর এখানে চোরা পাথরে মানুষ হারিয়ে যায়, পরে তাদের লাশ পাওয়া যায়। যাই হোক, ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আঁতকে উঠলাম। তাগাদা দিয়ে সবাইকে নিয়ে ফেরার সময় অধিকাংশের আবদারে সীমান্ত হাটে ঢুঁ মারলাম।
গরুর দুধের চা খেলাম, কাঁচা সুপারি দিয়ে খাসিয়া পান চিবোলাম। ফিরতি পথে ভাটিতে হওয়ায় নৌকার গতি এমনিতেই বাড়ল। বিকাল নাগাদ রাতারগুল পৌঁছে গিয়াস ভাইয়ের বাড়িতে ভুড়িভোজ। হাঁসের রোস্ট, হাঁসের ডিম ভুনা, হাঁসের গোস্তের ঝোল আর গিলা কলিজা দিয়ে আলুর সঙ্গে মাখা, ডাল আর ছোট মাছ দিয়ে টক জাতীয় ওষুধি ফল, নাম ডেফল। খেয়ে অবিলম্বে আবারও ঘাটে গিয়ে কোষা নৌকায় উঠলাম, এবার মাঝি সিরাজ চাচা, ইঞ্জিন নৌকার কারবার শেষ, গন্তব্য রাতারগুল জলাবন।
বনে কোষা নৌকাতেই যেতে হয়, ইঞ্জিন নৌকার আওয়াজ, তেল, ভারিক্কি, বনের প্রাণবৈচিত্রের জন্য মারণাস্ত্র। তাতে কী? রাষ্ট্রের হর্তাকর্তারা এসব মানেন না, রক্ষকের মুখোশে ভক্ষক হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেরাই ইঞ্জিন নৌকায় বেড়াতে আসেন। বনে ঢুকেই চোখ কপালে! সম্মানিত পর্যটকে ভরপুর, পানিতে তাদের খাবারের অপচনশীল মোড়ক, সমানে সমান।
দেখলাম ঘাটও বেড়েছে। পর্যটকদের উচ্চস্বরে গান, চিৎকার আর হাসাহাসিতে প্রকম্পিত জলাবন! বন আগের মতো ঘন নেই। মরে যাচ্ছে গাছগুলো, পাখি কমছে, পতঙ্গ কমছে, সাপ নেই, বানর নেই। দুঃখ করে এসব বলছিলেন অশীতিপর সিরাজ চাচা। আসলেই তাই। তবে মাছ বেড়েছে, কারেন্টজাল দিয়ে মাছ ধরার উৎপাত কমেছে বলে। দেখতে দেখতে ফাঁকা জায়গায় এলাম, সামনে দাঁড়িয়ে সেই ওয়াচটাওয়ার।
সেখানে পর্যটকদের ভিড়। ছবি তোলার জন্য দলের ৩ জন উঠলো সেখানে, বুঝিয়েও পারা গেল না। জানা দরকার, জলাবনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, কোন স্থাপনা বা অবকাঠামো হওয়া যাবে না, তাতে করে জলাবনের ধ্বংস অনিবার্য। এবং সেদিকেই যাচ্ছে রাতারগুলের ভবিষ্যত। আন্দোলন করেও কুলিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। এসব জায়গায় পর্যটন হতে হবে সংরক্ষিত। রাষ্ট্র এসব বুঝেও বুঝতে চায় না। দিশা বলছিল, বনটা বাঁচবে না।
সাঁঝের মায়া জেঁকে ধরলো। কিন্তু মায়ায় জড়ানো যাবে না, ফিরতে হবে। মন খারাপ করেই বন থেকে বেরুলাম, পথে এ ডালে ও ডালে বসে থাকা আমাদের প্রতি শঙ্খচিলের ভর্ৎসনা। হায়রে মানুষ! হায়রে পর্যটক! শিয়ালীছড়া খাল দিয়ে যাওয়ার সময় সবাই আবারও রোমান্টিক। দিনমণি ডুব দেওয়ার আগেও আকাশজুড়ে হরেক রঙের খেলা দেখাচ্ছে, কাছেই ঘাসের ওপর ফিঙে দম্পতির খুনসুটি, মাথার ওপরে বাঁদুড়ের ডানা ঝাপটে উড়ে যাওয়া, মাছেদের মাঝে মাঝেই জলের ওপর উঁকি দেওয়া, সবই অপার্থিব মনে হচ্ছিলো। ঘাটে পৌঁছে গিয়াস ভাইয়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে শহরে ফেরার সময় আবারও অধিকাংশের আবদার রক্ষায় জাফলং রোডে সাতরঙা, সাত স্তরের স্বাদবিহীন চা খেলাম। শিহাব ভাই বাস কাউন্টার পর্যন্ত পৌঁছে দিলেন। বাসে ওঠার আগে হাবীবের এক বড় ভাইয়ের কল্যাণে রাতের খাবার সারলাম। বাসে উঠে শঙ্কিত হয়ে উঠলাম। এরপর যখন আসবো, রাতারগুলের কী হাল দেখব? বিছনাকান্দিরই বা কী হাল দেখব? গোটা সিলেটের পরিবেশই বা কেমন থাকবে তখন?
যেভাবে যেতে হয়
ঢাকা-সিলেট রুট খুবই অভিন্ন, বাসভাড়া ননএসি ৪৭০ টাকা, এসি ৯৫০-১২০০। ট্রেনভাড়া ১৬০-১১০০। সিলেট শহর থেকে রিজার্ভ সিএনজি ১৫০০-২০০০, মানুষ বেশি হলে রিজার্ভ লেগুনা ২০০০-২৫০০ টাকা। রিজার্ভই সুবিধাজনক। নামতে হবে রাতারগুল ঘাটে। সেখান থেকে কোষা নৌকায় আধা দিন ৬০০-৭০০ টাকা ভাড়া। মাঝিসহ ৪-৫ জনের বেশি ওঠা যাবে না নৌকায়। সাঁতার না জানলে লাইফ জ্যাকেট পরতে হবে। বোট ভাড়া বেশ চড়া। কম করে হলেও ১ হাজার তো নিবেই। মানুষ বেশি হলে ভালো, খরচ ভাগাভাগি হয়।
সতর্কতা
বিছনাকান্দিতে খুবই সাবধান থাকতে হয়, সেখানে অসংখ্য চোরা পাথর, হড়কে গেলে খোঁজ থাকবে না। স্রোত বেশি এমন জায়গায় না যাওয়াই ভালো। রাতারগুল থেকে বিছনাকান্দি যাওয়ার উপায় সাধারণত নেই, আমার গিয়েছিলাম বিশেষ ব্যবস্থায়।
থাকা
সিলেট শহরে হোটেল, মোটেল অহরহ। তবে ঘুরতে গেলে মোটামুটি মানের হলেই ভালো। কেননা সারাদিন তো ঘোরাফেরাই হবে। উচ্চমানের হোটেল নিলে টাকা অপচয়। ৮শ’ টাকা থেকে ওপরে আধা লাখেরও রুম আছে। কোনরকম বা মোটামুটি থাকার জন্য জিন্দাবাজার মন্দ না। খাবারের জন্য চিন্তার কিছু নেই।
প্যাকেজ ব্যবস্থা
ঢাকা ট্যুরসসহ বিভিন্ন ট্যুরিজম কোম্পানী সারা বছর প্যাকেজের ব্যবস্থা করে থাকেন।
ফোন ঃ ০১৯৭৯-৮৭৪০৪২, ৯৫৮৫১৩৯।



ভ্রমণপিপাসুদের নতুন গন্তব্য মিয়ানমার
                                  

একঘেয়ে  জীবন  যাত্রায় মানুষ  যখন হাঁপিয়ে ওঠেন, তখন তার অন্তত কিছু সময়ের জন্য একটু আরাম, একটু বিরাম,একটু শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পড়েন সৃষ্টিকর্তার অপরময় সৃষ্টির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য কাছে বা দূরে কোথাও। ভ্রমণ করে না অথবা করতে চায় না এমন মানুষ এই দুনিয়ায় পাওয়া বড় দুষ্কর। একজন পর্যটক হিসেবে আপনি ঘুরে আসতে পারেন সারা বিশ্ব। দেশের বাইরে ঘুরে আসতে চান? তবে  ঘুরে আসতে পারেন মায়ানমার।
ভ্রমণ পিপাসু পাঠকদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন- মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।
দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক শাসন থেকে সদ্য মুক্ত হওয়া দেশ মিয়ানমার। মোট আয়তন ছয় লাখ ৭৬ হাজার ৫৫২ বর্গকিলোমিটার। উত্তর-দক্ষিণ এর দৈর্ঘ্য প্রায় দুই হাজার ৮৫ কিলোমিটার। সর্বপশ্চিমে এর সর্বোচ্চ বিস্তার প্রায় ৯৩০ কিলোমিটার। উপকূলীয় এলাকাটি নিম্ন মিয়ানমার ও অভ্যন্তরীণ অংশটি ঊর্ধ্ব মিয়ানমার নামে পরিচিত। অশ্বখুরাকৃতি পর্বতব্যবস্থা ও ইরাবতী নদীর উপত্যকা দেশটির ভূ-সংস্থানের প্রধান  বৈশিষ্ট্য। উত্তরের পর্বতগুলোর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হকাকাবো রাজির উচ্চতা ৫ হাজার ৮৮১ মিটার। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। আরো দু’টি পর্বতব্যবস্থা উত্তর থেকে দক্ষিণ বিস্তৃত। আরাকান ইয়োমা পর্বতমালাটি মিয়ানমার ও ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যে একটি প্রাচীরের সৃষ্টি করেছে। এর পর্বতগুলোর উচ্চতা প্রধানত ৯১৫ মিটার থেকে এক হাজার ৫২৫ মিটার পর্যন্ত। অন্য দিকে শান মালভূমি থেকে বিলাউকতাউং পর্বতশ্রেণীটি প্রসারিত হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব নিম্ন মিয়ানমার ও দক্ষিণ-পশ্চিম থাইল্যান্ডের সীমান্ত বরাবর চলে গেছে। শান মালভূমিটি চীন থেকে প্রসারিত হয়েছে। এর গড় উচ্চতা প্রায় এক হাজার ২১৫ মিটার। মিয়ানমারের অভ্যন্তরভাগে কেন্দ্রীয় নিম্নভূমিগুলো মূলত সুরু ও দীর্ঘ। এগুলো ইরাবতী-সিত্তাং নদীর ব-দ্বীপ এলাকায় প্রায় ৩২০ কিলোমিটার প্রশস্ত। এ ব-দ্বীপীয় সমভূমিগুলো অত্যন্ত উর্বর ও দেশের সবচেয়ে অর্থনৈতিক গুরুত্ববিশিষ্ট অঞ্চল। এর মোট আয়তন প্রায় ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার। মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমের আরাকান উপকূল ও দক্ষিণ-পশ্চিমের তেনাসসেরিম উপকূল উভয়েই শিলাময় এবং এগুলোর কাছে অনেক দ্বীপ অবস্থিত। মিয়ানমারে বেশ কিছু উৎকৃষ্ট প্রাকৃতিক পোতাশ্রয় আছে।
মিয়ানমারের প্রাচীন নাম বার্মা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রাকৃতিক স্বর্গীয় দেশ। প্রাচীন ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিতে লালিত মিয়ানমার সত্যিই
অদ্ভুত দেশটির প্রকৃতির রূপ আর অত্যাশ্চর্য সব প্যাগোডা ভিনদেশি পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। উন্নত নাগরিক সভ্যতার মাঝেও এখানে মিলবে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের এক বিরাট অনুভূতি। প্রশস্ত হ্রদ, সবুজ পার্ক, নীল পানির সাগর, শ্যামল ক্রান্তীয় বন, সুবিশাল পাহাড় আর অত্যাশ্চর্য সব ঐতিহাসিক প্যাগোডা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মিয়ানমারের প্রতিটি পরতে পরতে। এখানকার শিল্পীদের ঐতিহ্যবাহী নাচ আর ‘রয়্যাল কারাউইক প্যালেসের’ রাতের খাবার বেশ উপভোগ্য।
রাজনৈতিক ও জাতিগত নানা-টানাপোড়েনে এতদিন পর্যটকরা মিয়ানমার বিমুখ ছিলেন। তবে দিন পাল্টেছে। এখন পর্যটকদের আগ্রহের জায়গায় পরিণত হয়েছে মিয়ানমার।
সম্প্রতি দেশটির সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোও পর্যটকদের বিষয়ে ইতিবাচক নানা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে মিয়ানমারের সড়ক ও অবকাঠামোগত যে উন্নয়ন হয়েছে তা সত্যি অবাক করার মতো। ইয়াঙ্গুন ও আশেপাশে গড়ে উঠছে বেশ কয়েকটি পাঁচতারকা হোটেল।
ইরাবতী ব্রিজ
মিয়ানমার ভ্রমণে এশিয়া ও ইউরোপের পর্যটকদের ভিড় দিন দিন বাড়ছে। ২০১৩ সাল থেকে প্রতি বছর গড়ে ১০ লাখ হারে পর্যটক বাড়ছে দেশটিতে। এর একটি বড় অংশ যাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। পর্যটক বৃদ্ধির এই হার অব্যাহত থাকলে শিগগিরই দেশটি এশিয়ার অন্যতম পর্যটনের দেশ হিসেবে পরিচিতি পাবে বলে ধারনা বিশেষজ্ঞদের। মিয়ানমার সরকার পর্যটন শিল্পের প্রসারে ২০১২ সালে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সহায়তায় পর্যটনের জন্য আট বছরের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৈরি, অত্যাধুনিক হোটেল নির্মাণ ও সড়ক সংস্কারসহ নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৪৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি ব্যয়ে ৩৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে মিয়ানমার।   পর্যটন শিল্প প্রসারের জন্য ভিসা ফি কমাতে মিয়ানমার এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর সাথে আলোচনা করছে। ইয়াঙ্গুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণ সক্ষমতা দুই দশমিক সাত মিলিয়ন থেকে ছয় মিলিয়ন পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া ২০১৭ সালের মধ্যে হানথ্রোরওয়েডি, বাগো রিজিওন-এ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে মিয়ানমার।
ইরাবতী নদী
আগে প্রতি বছর দুই থেকে আড়াই লাখ পর্যটক ইয়াঙ্গুন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর দিয়ে মিয়ানমারে প্রবেশ করতো। সব মিলে বছরে ছয় থেকে আট লাখ পর্যটক যেতো দেশটিতে।
২০১১ সাল থেকে মিয়ানমার ভ্রমণে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বাড়তে শুরু করে। ২০১৩ সালে মিয়ানমারে ২০ লাখ পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। ২০১৪ সালে এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৩০ লাখে। আর ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ৫০ লাখ।
বর্তমানে ইয়াঙ্গুন, নেপিডো, সোয়াডাগুন পেগোডা, বাগান, ইনলে লেক, কিয়াকটো, মান্দালয় ও নেগপালি বিচ আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। এর পাশাপাশি আরো পর্যটন স্পট যেমন পুটো, মায়েক আর্চিপেলাগো, নাগাল্যান্ড, নাট মা টং ও লইকার মত পর্যটন এলাকাগুলোও জনপ্রিয় হচ্ছে। ফলে সারাবছরই ভ্রমণ পিপাসুরা মিয়ানমারে ঘুরতে যেতে পারবে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হোটেলগুলো তাদের রুমের ভাড়া কমানোসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে। একইসাথে বিমান সংস্থাগুলো উড়োজাহাজের বহর ও আন্তর্জাতিক রুট বাড়াচ্ছে। ইতোমধ্যে ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, ঢাকাসহ বেশ কিছু রুটে ফ্লাইট বাড়ানোর অনুমতি পেয়েছে দেশটি।
এবার জেনে নিই মিয়ানমার দর্শনীয় কিছু স্থান সম্পর্কে
গোল্ডেন প্যলেস
মান্দালয় শহরে অবস্থিত ঐতিহাসিক বৌদ্ধবিহার গোল্ডেন প্যলেস। এটি প্যালেসের মূল অংশ ছিলো কিন্তু তৎকালীন রাজার মৃত্যুর পর তার ছেলে এই অংশটি রাজবাড়ি হতে আলাদা করে দেন। কারণ মনে করা হতো ওখানে মৃত রাজার আত্মা ঘুরে বেড়ায়। পরবর্তীতে এটিকে বৌদ্ধ বিহারে পরিণত করা হয়। একসময় এটি স্বর্ণ দিয়ে ঘেরা ছিল।
ম্রাউক উ
এটি মিয়নমারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতœতাত্ত্বিক শহর। এর পুরু ঘেরা দেয়ালের জন্য একে দুর্গ মনে করা হতো। এ দেয়ালটি প্রকৃতপক্ষে নির্মাণ করা হয় এখানে থাকা মন্দিরটিকে ভয়াল ঝড়ো হাওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য।
তুয়াং কালাত
এটি মিয়ানমার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। এই বিহারটি নির্মিত হয় আগ্নেয়গিরির ঠিক মুখে। এই বিহারটিতে যেতে হলে দর্শনার্থীদের ৭৭৭ টি সিঁড়ি পেরুতে হবে। এমন পাহাড় চূড়া থেকে চারপাশের প্রকৃতিকে দেখার অনুভুতি এককথায় অতুলনীয়।
শ্বেন্দাগন প্যাগোডা
একে বৃহত্তম ড্রাগন প্যাগোডাও বলা হয়ে থাকে। বৌদ্ধ ধর্মবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র একটি স্থান কেননা এখানে রাখা হয়েছে গৌতম বুদ্ধের একগাছি চুল ও বৌদ্ধ ধর্মের বহু অমূল্য পান্ডুলিপি।
ইরাবতী নদী
পুরো মিয়ানমারেই ইরাবতীর স্পর্শ। মিয়ানমারের পাথেইন, লাইং ও ইয়াঙ্গুন এই ইরাবতীরই শাখা। প্রধান ১৫টি শহর অবস্থিত ইরাবতীর তীরে। এমনকি একসময়ের রাজধানী মান্দালয় ও ইয়াঙ্গুনও নদীসূত্রেই প্রতিষ্ঠিত। সেই প্রাচীনকাল থেকে ইরাবতীকে কেন্দ্র করেই ব্রহ্মদেশের যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল। যেতে পারেন নদী দেখতে। এখানে বাড়তি পাওয়া যাবে রাস্তার দু’পাশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবন-যাপন, পাহাড়ের চুড়ায় মন্দির। সেই সাথেঙ্গ জেলেদের ধরে আনা প্রচুর মাছ। বেগান ঐতিহাসিক বৌদ্ধমন্দির, প্যাগোডা আর প্রাকৃতিক সবুজে ঘেরা বেগান পর্যটন বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণ। এটি মিয়ানমারের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন স্পট। এখানে প্রায় ১৩ হাজারের বেশি বৌদ্ধমন্দির রয়েছে। এটি নবম থেকে ১৩ শতাব্দীর রাজাদের সা¤্রাজ্য হিসেবে পরিচিত। এটি সোনালি শহর হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
নগেপালি
সাদা বালি আর বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশির নগেপালিকে সাজিয়েছে অপরূপ সৌন্দর্যে। অধিকাংশ পর্যটক এখানে মাছ ধরার জন্য আসেন।
মিয়ানমারের নারীরা আমাদের দেশের মতো নয়। তারা অনেক বেশি পরিশ্রম করে। বেশিরভাগ ছোটব্যবসা প্রতিষ্ঠানই চালায় নারীরা, সাথেঙ্গ বাচ্চাদের দেখাশোনাসহ সংসারের অন্য কাজগুলোও করে হাসিমুখে।
কখন যাবেন
মিয়ানমার বেড়ানোর সবচেয়ে ভালো ও উপযুক্ত সময় শীতকাল। অর্থাৎ অক্টোবর থেকে জানুয়ারি দর্শনার্থীদের জন্য উপযুক্ত সময়। পর্যটকরা স্বচ্ছন্দে তাদের পছন্দের স্থানগুলোতে ঘোরাফেরা করতে পারবেন। তবে অন্য ঋতুতেও মিয়ানমার ভ্রমণ করা যায়।
কীভাবে যাবেন
মিয়ানমার ভ্রমণের সবচেয়ে সহজলভ্য উপায় হলো বিমানে ভ্রমণ। ঢাকা থেকে বাংলাদেশ বিমান ও নোভোএয়ার সপ্তাহে তিনটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। যাওয়া-আসার ভাড়া বাংলাদেশ বিমানে ট্যাক্সসহ সর্বনিম্ন ২৩ হাজার ৭২৩ টাকা আর নোভোএয়ারে ট্যাক্সসহ ২২ হাজার ৪৩০ টাকা।
ভিসা প্রসেসিং
ভ্রমণকারীদের মিয়ানমার সরকার বিভিন্ন মেয়াদের ভিসা প্রদান করে থাকে। সাধারণত অনলাইনে আবেদনের তিন কার্যদিবসের মধ্যে ভিসা প্রসেসিং শেষ হয়ে যায়। ভিসার জন্য িি.িসুধহসধৎ-ারংধ.ড়ৎম ওয়েবসাইট থেকে সব তথ্য জেনে আবেদন করতে পারেন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
মিয়ানমারের ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য দরকার ছয় মাসের মেয়াদসহ বৈধ পাসপোর্ট। দুই কপি ৪/৬ সেন্টিমিটারের রঙিন ছবি, ব্যাকগ্রাউন্ডের রং সাদা হতে হবে। ভ্রমণ ভিসার অনুমোদনপত্র। ভিসা স্ট্যাম্পের নগদ ডলার। বিমানের টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ের কপি। ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট। ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্সের নোটারি কপি ও ভিজিটিং কার্ড, লিমিটেড কোম্পানি হলে মেমোরেন্ডাম। চাকরিজীবী হলে এনওসি, অফিস আইডি ও ভিজিটিং কার্ড।
থাকা-খাওয়া
মিয়ানমার খুব বেশি দিন হয়নি পর্যটন বিশ্বের নজর কেড়েছে। কিন্তু এ স্বল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক আলোচিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশটি। বিদেশী পর্যটকদের জন্য রাজধানী ইয়াঙ্গুনসহ প্রতিটি শহরেই রয়েছে বিলাসী হোটেল ও রিসোর্টের সুবিধা। রয়েছে দেশী-বিদেশী খাবারের ব্যবস্থা। এখানকার নামি হোটেলের মধ্যে ফিফটি স্ট্রিট, গ্রীন এলিফ্যান্ট, লা প্লান্তুর, রয়্যাল কারাউইক প্যালেস অন্যতম।
প্যাকেজ ব্যবস্থাঃ
ঢাকা ট্যুরসসহ বিভিন্ন ট্যুরিজম কোম্পানী সারা বছর প্যাকেজের ব্যবস্থা করে থাকেন।
ফোন ঃ ০১৯৭৯-৮৭৪০৪২, ৯৫৮৫১৩৯।

পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন স্পটগুলো উপভোগ করার এখনই সময়
                                  

॥ মনিরুল ইসলাম মাহিম, খাগড়াছড়ি ॥
বাংলার দার্জিলিং সাজেকসহ অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি পার্বত্য জেলাগুলোর পাহাড় ও ঝর্না পর্যটকদের হাতছানি ডাকছে। এ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবছর  হাজার হাজর পর্যটক আসেন পার্বত্যাঞ্চলে। তবে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ে। এ সময় শীতের হিমেল পরশে পাহাড়ের সজীবতা বাড়ে। যান্ত্রিক জীবনের কর্মতৎপরতা থেকে বেরিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ভিড় জমাচ্ছেন ভ্রমণপিঁপাসু মানুষেরা। প্রকৃতি যেন সবটুকু উজাড় করে দিয়ে পেখম মেলে বসে আছে সৌন্দর্য বিকাশে। তবে সাজেকে দিনে কয়েকবার, সকাল-বিকেল  বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রহরায় পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া হয় আবার তাদের পরিদর্শন শেষ হলে ফিরিয়ে আনা হয় একই ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্য দিয়ে। প্রতিনিয়ত পর্যটকদের আসার কারনে হোটেল গুলোতে   কক্ষ পাওয়া যায়না। তাই থাকার জন্য আগেভাগেই কক্ষ বুকিং দেয়া লাগে। তা না হলে কক্ষ পাওয়া কঠিন। তবে আগের তুলনায় সাজেকেও আবাসিক হোটেলের সংখ্যা বেড়েছে। সাজেক রিসোর্টে  দেখা যাবে কুয়াশার চাদরে মোড়ানো পাহাড়গুলো দূর থেকে দেখে মনে হবে বড় ধরনের বরফের খন্ড। চিরসবুজ সাজেকে মেঘ খেলা করে যায় মাথার উপরে, এ এক অন্য ধরনের অনুভুতি।
পাহাড়ে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়ানো সেখানকার পাহাড়ি-বাঙালি মানুষের আয়, রুটি-রুজির ব্যবস্থা। শীতের সময় পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে আবাসিক হোটেল, রেস্টুরেন্ট, হস্তশিল্পের তৈরি শোপিজ, তাঁতের কাপড়সহ ঐতিহ্যবাহী ব্যবসাগুলোর বেচা-কেনাও জমে উঠেছে। পর্যটকবাহী পিকআপ গাড়িগুলোসহ পরিবহন ব্যবসাও চাঙা হয়ে উঠেছে। সাজেক ছাড়াও পর্যটকেরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন বান্দরবানের অন্যতম পর্যটন স্পট নীলাচলের কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়ে। মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র্রের লেকের স্বচ্ছ জলে, ঝুলন্ত সেতু আর ক্যাবলকারে। সাঙ্গু নদীতে ডিঙি নৌকায় চরে। আর মেঘ পাহাড়ের নীলগিরি, জীবননগর, চিম্বুক, ক্যাওক্রাডং চূড়ায়। অপরদিকে রাঙামাটি জেলার আকর্ষণীয় ঝুলন্ত সেতু, কাপ্তাই লেক, সাজেক ভ্যালি এবং খাগড়াছড়ির আলুটিলা সুরঙ্গর মতো দর্শনীয় স্থানগুলোয়। পর্যটনশিল্পের বিকাশে পাহাড়ের মন্দা অর্থনীতি চাঙা হয়ে উঠেছে। আবাসিক হোটেলগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রেস্টুরেন্ট এবং হস্তশল্পের তৈরি শোপিজ, তাঁতের কাপড়ের দোকানসহ পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও। খাগড়াছড়ি জেলায় ২২-২৫টি বেসরকারি হোটেল, রিসোর্ট, গেস্টহাউজ ও কয়েকটি সরকারি রেস্টহাউস রয়েছে। এগুলোতে ধারণক্ষমতা দুই থেকে আড়াই হাজারের মতো। কিন্তু প্রতিদিনই তিন থেকে চার হাজার পর্যটক বেড়াতে আসেন। পর্যটকের আগমন বাড়ছে প্রতিদিনই। পার্বত্যাঞ্চলের সম্ভাবনায় শিল্প হচ্ছে পর্যটন। এখানকার অর্থনীতির সঙ্গে পর্যটন শিল্প সম্পৃক্ত। পর্যটকনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য পাহাড়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। পর্যটকদের আগমন বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক চাকাও ঘুরতে থাকে। পার্বত্যাঞ্চলসহ সারাদেশেই পর্যটন শিল্পের বিকাশে কাজ করছে সরকার। পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগালে অর্থনৈতিকভাবে দেশ আরও স্বনির্ভর হয়ে উঠবে।

ঘুরে আসতে পারেন ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর
                                  

একঘেয়ে  জীবন  যাত্রায় মানুষ  যখন হাঁপিয়ে ওঠেন, তখন তার অন্তত কিছু সময়ের জন্য একটু আরাম, একটু বিরাম,একটু শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পড়েন সৃষ্টিকর্তার অপরময় সৃষ্টির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য কাছে বা দূরে কোথাও। ভ্রমণ করে না অথবা করতে চায় না এমন মানুষ এই দুনিয়ায় পাওয়া বড় দুষ্কর। একজন পর্যটক হিসেবে আপনি ঘুরে আসতে পারেন সারা বিশ্ব। দেশের বাইরে ঘুরে আসতে চান? তবে  ঘুরে আসতে পারেন কাশ্মীর। ভ্রমণ পিপাসু পাঠকদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন- আনিসুল কবীর খোকন।
বাংলাদেশের মানুষের কাছে যেন এক স্বপ্নের জায়গা। অন্তত আমাদের প্রজন্মের মানুষের কাছে কাশ্মীর অতি আরাধ্য জায়গা। হৃদয়ের খুব কাছের। ধর্মীয় কারণেও অনেকের কাছে আবেগী জায়গা। তবে সবকিছু ছাড়িয়ে, বাংলাদেশের এতো কাছের একটি জায়গা যার সাথে স্বর্গ বা বেহেস্থের তুলনা করা হয়! ভাবাই যায় না! আর সেই জায়গার প্রতি অতি-কল্পনা প্রবণ বাঙালির এক্সট্রা আকর্ষণ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। ভূ-স্বর্গ কাশ্মীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর স্বাস্থ্যকর আবহাওয়ার টানে শত শত বৎসর ধরে মুঘল বাদশাহদের গ্রীষ্মকালিন ছুটি কাটানোর প্রিয় জায়গা ছিলো এই কাশ্মীর। বিশেষত কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরে বেশ কিছু মুঘল বাগানের উপস্থিতিই মুঘলদের কাশ্মীর প্রীতির প্রমাণ বহন করে চলেছে।
আগেই বলেছি বাংলাদেশি মাত্রই কাশ্মীর সম্পর্কে বিশেষ দুর্বলতা আছে। আমারও ছিলো, আছে। তবে কাশ্মীর সম্পর্কে আমার ধারণা অন্য অনেক বাংলাদেশির চেয়ে হয়তো কিঞ্চিৎ বেশি ছিলো। অনেক ভ্রমণকাহীনি পড়া হয়েছে ফেসবুক কিংবা দৈনিক পত্রিকার ভ্রমণ পেজে। তবে কাশ্মীর বিষয়ক সবচেয়ে প্রিয় বই সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা সিরিজের ‘ভূস্বর্গ ভয়ংকর’। ফেলুদার বই আমার অনেক ভ্রমনেরই ভ্রমণ গাইড। ফেলুদার বই থেকেই জানতে পারি, ডাল লেকের নৌকা সদৃশ বাসায় (হোটেল) রাতে থাকা যায়। যাকে বলে ‘হাউসবোট’, বোটহাউস না। ডাল লেকের ওপর যে নৌকাগুলো নৌকাভ্রমণ ও কেনাকাটার জন্য ব্যবহার করা হয়, তাদের বলে ‘শিকারা’। আরও অনেক কিছু। কাশ্মীর দিল্লিø থেকে শ্রীনগর, কাশ্মীরের দিকে উড়ে চলা ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের বিমানটা যখন শ্রীনগরের এয়ারপোর্টে নামার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো, এয়ারহোস্টেজ সবাইকে সিটবেল্ট বেঁধে, জানালার ঢাকনা খোলা রেখে সিট সোজা করে বসতে বললো। আমি তখন প্রবল আগ্রহ নিয়ে বিমানের জানালা দিয়ে নিচের দিকে তাকালাম। মনে মনে যে রকম দ্রশ্য দেখার আশা ছিলো তার সাথে কোনো মিল পেলাম না। দূরে কিছু চোখা চোখা উঁচু পাহাড় দেখা গেলেও নিচে কোনো পাহাড় দেখলাম না। সমতল ভূমির মধ্যে একে বেঁকে চলা একটা নদী বেশ নজরে পড়লো। পুরো এলাকা জুড়ে ধুসর সমতল ভূমি আর গুচ্ছ গুচ্ছ টিনের চালওয়ালা বাড়ি নজরে আসছিলো। বাড়িগুলোর চেহারা ওপর দিয়ে তেমন বোঝা যাচ্ছিলো না। তবে সংখ্যায় ছিলো অগনিত। আমি পাসে বসা বড় আপাকে বললাম, এখানে গরীব মানুষের সংখ্যা খুব বেশি মনে হচ্ছে। সব টিনের বাড়ি। পৃথিবীর কোন বড় শহরে এতো টিনের বাড়ি দেখি নাই। বিমান তখন অনেক নিচে চলে এসেছে, কাছাকাছি একসারি পাহাড়ও দেখা যেতে লাগলো ততক্ষণে। তবে আমার মাথায় কেন যেন ছিলো, কাশ্মীরে তুষারাবৃত পাহাড় দেখতে পাবো। বিমানে বসেও যখন সেটা দেখতে পেলাম না মনে মনে একট দমে গেলাম। তুষারাবৃত পাহাড় না দেখা গেলেও বিমানের জানালা দিয়ে অনেক দুরের উচুঁ একটা পাহাড়ের ফাঁকে বরফের অস্তিত্ব পাওয়া গেল। দুরের পাহাড়ের ভাঁজের সেই গ্লেসিয়ার দেখে আমরা বেশ মুগ্ধ। আমিও নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো বলে মনকে বোঝানোতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। এখন আমাদের কাশ্মীর ভ্রমণের কারণ একটু পিছন থেকে শুরু করা যায়। আমার বড় বোন প্রফেসর ডা. সুফিয়া খাতুন একজন শিশু বিশেষজ্ঞ। উনার কলিগদের একটি টিম যাদের মধ্যে বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে খ্যাতিমান বেশ কিছু শিশু বিশেষজ্ঞ ছিলেন। ওনারা ভারতের খাজুরাহ শহরে এডোলেসেন্ট হেলথয়ের ওপর একটি সেমিনারে অংশগ্রহণ করতে ভারতে এসেছিলেন। সেমিনারে অংশগ্রহণ করার আগে কাশ্মীর ভ্রমণ করে নিজেদের একটু চাঙ্গা করে নেওয়াই সবার উদ্দেশ্য। বলতে গেলে সবাই নিজেদের পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়েই এসেছিলো। সবার মধ্যে আমি ব্যতিক্রম, কারণ আমি আমার বড় বোনের সাথে বোনাস হিসেবে এসেছিলাম। আমাদের কাশ্মীর ভ্রমনের টিম মেম্বার ১৯ জন। বেশ বড় দল। তবে দলে বয়ঃজ্যৈষ্ঠ মানুষের সংখ্যা বেশি থাকাতে হইচই কম ছিলো। শ্রীনগরে আমাদের হোটেলের নাম ছিলো হোটেল এশিয়ান পার্ক। মাঝারী সাইজের ছিমছাম হোটেল। শহরের মধ্যেই অবস্থান।
এখানের প্রতিটি বাড়ির উপরেই টিন ব্যবহার করা হয়। ঢালু চালের চারচালা আটচালা ছাদের বাংলোটাইপ বাড়ি সব। বেশ নান্দনীক চেহারা। দোতালা তিনতালার ওপরে কোনো বাড়ি নাই। সুন্দর বাড়িগুলোকে ওপর থেকে টিনের বাড়ি ভেবে ভুল করেছিলাম। আমাদের ড্রাইভার নিয়াজ কাশ্মীর সম্পর্কে অনেক জ্ঞান দিতে ব্যস্ত ছিলো প্রথম থেকেই। বলছিলো আগামী তিন দিন আপনাদের সাথেই আছি, কাশ্মীর সম্পর্কে সব জানাবো, দেখাবো, সমস্যা নাই সাব। বেশ চালু আর স্মার্ট ছেলে নিয়াজ। এয়ারপোর্ট থেকে হোটেল আসার পথে বেশ গরম লাগছিলো।
হোটেলে চেকইন করে এক-দুই ঘন্টা রেস্ট নিয়েই আমাদের কাশ্মীর ট্যুরের প্রথম পর্ব শুরু হয়ে গেল। প্রথম দিন রাত হয়ে যাওয়াতে দুরে কোথায়ও ঘুরতে যাওয়া সম্ভব ছিলোনা। আমাদের পুরো ট্যুরের সার্বক্ষণীক সঙ্গী বুরহান জানালো ১৩৯৪ খৃস্টাব্দে সুলতান সিকান্দার শাহ কাশ্মীর তৈরী করেন। ছয় শত বছরের পুরাতন মসজিদটি সম্পূর্ণ চালু অবস্থায় রয়েছে এবং প্রতি ওয়াক্তের নামাজ আদায় করা হচ্ছে। আমাদের ১৯ জনের দল পুরুষ এবং মহিলা দলে বিভক্ত হয়ে মসজিদ পরিদর্শন করছিলাম। মসজিদের আকার বিশাল। মাথা ঘুরিয়ে দেবার মতো। ৬০০ বছর আগে কি মনে করে এতো বড় মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিলো এটা নিয়ে প্রশ্ন মাথায় আসছিলো সবার। সেই সময় কাশ্মীরের লোকসংখ্যাই বা কতো ছিলো কে জানে। বর্তমান সময়েই মাত্র এক কোটির একটু বেশি মানুষ বাস করে পুরো রাজ্যে।   মসজিদটি আয়তকার। তারমধ্যে মাঝখানে বিশাল বাগান। তাই আয়তাকার মসজিদটি চারটি বিশাল লম্বালম্বি শাখা তৈরি করেছে। প্রতিটির আকারই বিশাল আকৃতির। প্রায় ৩৮০ ফুট লম্বা।  চারটি গেটের একটির দিয়ে ভিতরের দৃশ্য মসজিদে কর্মরত লোকজনের ভাস্যমতে প্রতি শুক্রবারের জুম্মার নামাজে প্রায় ৪০,০০০ মানুষ একত্রে এই মসজিদে নামাজ আদায় করে। আমাদের অবাক হওয়ার মতো অনেক কিছুই মসজিদটিতে ছিলো। কাশ্মীরের শীতের কথা মাথায় রেখেই মসজিদের মেঝেতে মোটা কার্পেট আর কার্পেটের উপরের হাজার হাজার একই ডিজাইনের জায়নামাজ বিছিয়ে রাখা হয়েছে। এশার নামাজের সময় হয়ে যাওয়াতে আমরা সবাই জামাতের সাথে নামাজ আদায় করে নিলাম। ৬০০ বছর পুরোনো মসজিদের নরম মেঝেতে নামাজ পরতে পরতে একটা অদ্ভূত অনুভূতিতে আচ্ছন্ন হয়ে পরছিলাম বার বার। মসজিদ দেখা শেষে হোটেলে ফিরে হোটেলের রেস্টুরেন্টে ডিনার সেরে নিলাম সবাই। যেহেতু বেশ রাত হয়ে গেছিলো ততক্ষণে, বেশ শীত পরে গেছিলো শ্রীনগরে। ডিনারের শেষে হোটেলের বাগানে পেতে রাখা চেয়ারে বসে বেশ কিছুক্ষন আড্ডা আর কফি খাওয়া হলো।
ডাল লেক কাশ্মীরের বিখ্যাত বেড়ানোর জায়গা। কাশ্মীরি ভাষায় ডাল মানে লেক বা হৃদ। শ্রীনগর শহরের মধ্যে প্রাকৃতিক এই বিশাল জলাভূমি এই নগরকে করেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। আর শত শত হোটেল, হাউসবোট ও শিকারা নৌকা লক্ষ লক্ষ পর্যটককে সেবাদান করে চলেছে। ডাল লেকের পাশদিয়ে যে রাস্তাটি চলে গেছে সেটাকে বলে বুলেভার্ট। ডাল লেকের পাড় থেকে বিখ্যাত সব মুঘল বাগিচা বা বাগান গুলো অবস্থিত। মুঘল বাদশাহ জাহাঙ্গীর শালিমার বাগ (বাগান), নিশাত ইত্যাদি বাগান সৃজন করিছিলেন। ডাল লেক আর এসব অনিন্দ সুন্দর বাগানগুলো শ্রীনগরকে করেছে পর্যটকদের জন্য স্বর্গসম। শ্রীনগরের সৌন্দর্য যেন ডাল লেকের দান। যাকে কিনা বলে `ঔববিষ রহ ঃযব পৎড়হি ড়ভ কধংযসরৎ`। কাশ্মীর বা শ্রীনগরের মুকুটের মনি। আদতে শ্রীনগর নগরটির বড় একটি জায়গা জুড়েই আছে এই প্রাকৃতিক জলাভূমি। লেক। এসব লেকগুলো স্থির জলাভূমি। পদ্মপাতায় ভরা অনিন্দ সুন্দর বিশাল সব হৃদ। পুরো জলাভূমির মোট আয়তন প্রায় ২১ বর্গকিলোমিটার। পাড়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ কিলোমিটার। এই অপূর্ব সুন্দর হৃদের গায়ে হেলান দিয়ে সু-উচ্চ পাহাড় দাড়িয়ে থাকে আর পাহাড়ের সাথে চলে দিনভর মেঘেদের খুনশুটি। কত শত সাহিত্য সিনেমায় ডাল লেকের সৌন্দর্যের কথা লেখা হয়েছে, সিনেমায় দেখানো হয়েছে, ইয়ত্তা নাই। যদিও শ্রীনগরের মধ্যে দিয়ে ঝিলাম নদী বয়ে গেছে। কিন্তু ঝিলাম নদীর চেয়ে শ্রীনগরের হৃদ বা লেকগুলোর সৌন্দর্য মানুষের হৃদয়কে বেশি ছুয়ে যায়। শীতকালে ডাল লেকের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ১১ ডিগ্রী নিচেও নেমে যেতে পারে।  ডাল লেকের পারের রাস্তার নাম বুলেভার্দ মনের মধ্যে চাপা উত্তেজনা নিয়েই ডাল লেক দেখতে বের হলাম আমরা। ৪টা গাড়িতে ১৯ জন। সাথে বুরহান। চমৎকার স্বাস্থ্যবান হ্যান্ডসাম কাশ্মীরি তরুণ। খুব লাজুক। চাচাতো ভাইয়ের স্যারদের সেবা করতে এসে লজ্জায় চুপচাপ একপাসে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছিলো আর ড্রাইভারদের বুঝিয়ে দিচ্ছিলো কোথায় যেতে হবে।
শহরের যে জায়গা থেকে ডাল লেক শুরু হলো সেখানে ডাল লেকের চেহারা হত দরিদ্র। চিকন নদীর মতো। লেকের অপর পারে অজস্র হাউসবোর্ট। এপারে বুলেভার্দ রোড আর রাস্তার পাশে পাশে কমদামি হোটেলের সাড়ি। লেকের ওপারের হাউসবোটগুলোকে পুরাতন আর নোংরা লাগছিলো। হাউসবোর্টগুলোকে দেখে বেশ জীর্নশীর্ন মনে হচ্ছিলো। লেকটাও এখানে চিকন আকৃতির। আমাদের গাড়ি লেকের পাড়ের রাস্তা ধরে সামনে যেতে থাকলে লেকের চেহারা ভালো হতে থাকলো। হাউসবোর্ডগুলোর চেহারাও ভালো হতে থাকলো। লেকের বেশ চওড়া একটি জায়গায় বেশ কিছু শিকারা নৌকা দেখে বুরহান আমাদের সবাইকে গাড়ী থেকে নেমে চারটি নৌকাতে ভাগ করে উঠিয়ে দিলো। শিকারাগুলো সুন্দর করে সাজানো থাকে। দু’জন মানুষ আধশোয়া হয়ে দৃশ্য দেখতে পারে। বালিস টালিস দিয়ে সুন্দর করে সাজানো নৌকার ভিতরটা। অন্য পাশের বেঞ্চে দুইজন বসে বসে দৃশ্য দেখার সুযোগ পায়।  শিকারায় আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা রঙে রঙে সাজানো অপূর্ব সব শিকারা। তবে শিকারা ভ্রমনের শুরুতেই পর্যটকদের বিরম্বনার শিকার হতে হয় ভাসমান হকারদের কাছে। আমাদের নৌকা রওনা দেবার সাথে সাথেই খেয়াল করলাম পাশাপাশি এক ভদ্রলোক নৌকা বেয়ে চলেছে। মিষ্টি করে হেসে সালাম দিলেন। সালামের উত্তর দিতেই জিজ্ঞেস করলেন কোথা থেকে এসেছি, বাংলাদেশ থেকে এসেছি শুনে বাংলাদেশের বেশ প্রশংসা করলেন। আমরা খুশি হয়েছি দেখে তার নৌকাটি আমাদের নৌকার সাথে মিশিয়ে আসল কথায় আসলেন। উনি একজন ইমিটেশন গহনার ব্যবসায়ী, সাথে থাকা ঝোলা খুলে গলার মালা, কানের দুল আংটি ইত্যাদি দেখাতে লাগলেন। আমরা যাত্রার শুরুতে মোটামুটি ধাক্কা খেলাম। সাথে রুপি নাই বলে কাটাতে চাইলাম। বলে আমি ক্রেডিট কার্ড নেই। যাক, এর পর এমন অনেক নৌকাই আমাদের পাশাপাশি এলো গেল। পরের দিকে অনেক কিছুই কিনলেন অনেকে।  
এক নৌকা থেকে অন্য নৌকায় বার্তা আদান প্রদান করে সবাই স্বীকার করলো, ট্যুর জমে গেছে। পানির স্বর্গরাজ্য যেন ওয়াটার ওয়ার্ল্ড সিনেমার জগতের মতো। এক ভাসমান জগৎ। অসংখ্য ভাসমান হাউসবোট, ভাসমান বাজার, কোথায়ও কোথায়ও দেখলাম ভাসমান চায়ের দোকান, ষ্টেশনারী দোকান এমনকি গোসলখানা বা হামামখানা। ডাল লেকের সবচেয়ে আকর্ষনীয় জায়গা এই লেকের মাঝামাঝি অসাধারন একটি দ্বীপে কিছুক্ষন কাটানো। তিন ঘন্টার নৌকা ভ্রমণ শেষে হোটেলে ফিরে আসলাম সবাই। প্রথম পর্বের ডাল লেক ভ্রমণ শেষে হোটেলে গোসল সেরে আবার গাড়ি নিয়ে লাঞ্চ করতে বের হলাম। কাশ্মীরি খাবার পেট ভরে খেয়ে নিয়ে আমাদের দ্বিতীয় পর্বের ভ্রমণ শুরু। এবারের গন্তব্য শ্রীনগরের আরেক বিখ্যাত বস্তু মুঘল সম্রাটদের বানানো সাজানো বাগিচা বা বাগান দর্শন। প্রথম গন্তব্য চশমাশাহী গার্ডেন। ডাল লেকের পাড় দিয়ে পাহাড়ের কিছুটা উপরে চশমাশাহী বাগিচা। চশমাশাহী স্প্রিং বা ঝরণার জন্য বিখ্যাত। বিশাল উঁচু পাহাড়ের গায়ে হেলান দিয়ে থাকা বাগানটি দেখে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নাই। চশমাশাহী গার্ডেন খুব তারা তাড়ি দেখেই আমরা রওনা হলাম পরীমহল গার্ডেনের দিকে। পরিমহল গার্ডেনের বেশ কয়েকটি ধাপ আছে। মুঘলদের তৈরী বাগান, ঐতিহাসিক স্থাপনা মিলে জায়গাটা অসাধারন। ডাল লেকের বেশ সুন্দর ভিউ এখান থেকে পাওয়া যাচ্ছিলো। আমি যেহেতু আগে আগে বাগানের উপরের ধাপে উঠে গেছিলাম তাই উপর থেকে সবার ছবি তুলে দিয়েছিলাম। পাহাড়, ঐতিহাসিক বিল্ডিংস্, ডাল লেকের দৃশ্য সব মিলে পরিমহল গার্ডেনটা আমার বেশ ভালো লেগেছিলো।  
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে ইন্ডিয়া দূতাবাসের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ইন্ডিয়া ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স, স্পাইজেট বিমানযোগে কাশ্মীর যেতে পারেন। বাংলাদেশ বিমানেও যাওয়া যায় কাশ্মীর।
প্যাকেজ ব্যবস্থাঃ
ঢাকা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেল্সসহ বিভিন্ন ট্যুরিজম কোম্পানী সারাবছর ট্যুরস প্যাকেজব্যবস্থা করে থাকেন। ফোন ঃ ০১৯৭৯৮৭৪০৪২
বাংলার পর্যটন
অপার সৌন্দর্যের হতাছানি সুন্দরবন
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। ভ্রমন করে না অথবা করতে চায় না এমন মানুষ এই দুনিয়ায়  পাওয়া বড় মুশকিল। একঘেয়ে জীবন যাত্রায় মানুষ যখন হাঁপিয়ে ওঠেন, তখন তার অন্তত কিছু সময়ের জন্য একটু আরাম, একটু বিরাম, একটু শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পরেন সৃষ্টিকর্তার অপারময় সৃষ্টির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখার জন্য কাছে বা দূরে কোথাও। একজন পর্যটক হিসেবে আপনি ঘুরে আসতে পারেন সারা বিশ্ব। ঢাকার বাইরে ঘুরে আসতে চান? তবে স্বল্প মূল্যে পরিবার নিয়েঘুরে আসতে পারেন দেশের দর্শনীয় স্থান। আমাদের সুজলা-সুফলা নদী মার্তৃক এই দেশের মধ্যেই রয়েছে পাহাড়, পর্বত সমুদ্র, জঙ্গল, স্থাপত্য, পুরাকীর্তি ইত্যাদি। পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য রয়েছে বিনোদনের নানান ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক সম্পদের অফুরন্ত সম্ভার। আর আপনি যদি একজন পর্যটক হিসেবে ভ্রমণ করতে চান, তবে মাথার ওপর নীল চাঁদোয়া, মেঘে-বৃষ্টিতে ভেজা বাতাস। পায়ের নিচে অন্য এক পৃথিবী। উপভোগ করতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন অপার সৌন্দর্যের হতাছানি সুন্দরবন। ভ্রমণ পিপাসুদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন- জহিরুল ইসলাম

বেড়ানো দিল্লীর কুতুব মিনার
                                  


দিল্লীর কুতুব মিনারটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে। কুতুবউদ্দিন আইবেক এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। লাল বেলেপাথরে নির্মিত ২৩৮ ফুট উচ্চতার এ মিনার এখন পর্যন্ত বিশ্বের সর্বোচ্চ পাথর নির্মিত মিনার বা স্তম্ভ বলে স্বীকৃত। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিও পেয়েছে। লাল বেলেপাথরের কুতুব মিনারটি দেখে সত্যিই অবাক হই। কেবল পাথর দিয়েই ২৩৮ ফুট উচ্চতার এ স্তম্ভটি তৈরি হয়েছিল প্রায় সাড়ে ৮০০ বছর আগে। আর এখন পর্যন্ত এটিই পাথর নির্মিত বিশ্বের সর্বোচ্চ মিনার বা স্তম্ভ বলে স্বীকৃত। এ মিনারের পাদদেশেই দিল্লি সফরের এক দুপরে হাজির হই। সঙ্গে ছিল আমার পরিবার ও দিল্লীবাসী সুজিত মন্ডল। মিনারের আশপাশে আছে আরও অনেক প্রাচীন স্থাপনা। সব মিলিয়ে কুতুব কমপ্লেক্স। ইনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিও পেয়েছে এ কমপ্লেক্স।

টিকিট কেটে কমপ্লেøক্সে ঢুকতেই আছে বড় একটি গেট। এ গেটের নাম আলাই দরজা। ছোট-বড় পাথরের মিশেলে ১৩১১ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত এ গেট অনেকটা মসজিদের গেটের মতো। ধারণা করা হয় এ কমপ্লেøক্সে প্রবেশ করার জন্য এই গেটই প্রধান দরজা হিসেবে ব্যবহূত হতো, সে জন্য এর নাম আলাই দরজা। আলাই দরজা পার হয়ে সামনে এগোই আমরা। প্রথমেই আসি কুতুব মিনারের পাদদেশে। ইতিহাস থেকে জানি, কুতুবউদ্দিন আইবেক ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে এ মিনারের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। পরবর্তী সময় ইলতুতমিশের রাজত্বকালে (১২১১-৩৮) মিনারের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। তারপর বেশ কয়েক বছর পর আলাউদ্দিন খিলজির রাজত্বকালে (১২৯৬-১৩১৬) মিনারের প্রাঙ্গণের নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ হয়। নির্মাণের অনেক বছর পর বজ্রপাতে মিনারের কিছুটা ক্ষতি হয়, তবে পরবর্তীতে তা সংস্কারও করা হয়। কুতুবউদ্দিন আইবেক ছিলেন মধ্যযুগীয় ভারতের একজন তুর্কি শাসক।

দিল্লির প্রথম সুলতান ও গোলাম বা মামলুক সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। সুলতান হিসেবে তিনি ১২০৬ থেকে ১২১০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসন করেন। অবশ্য তার জন্ম কোথায় তা জানা যায়নি। ধারণা করা হয় মধ্য এশিয়ার কোনো এক স্থানে তার জন্ম। তার পূর্ব পুরুষরা ছিলেন তুর্কি। শিশু বয়সেই তাকে দাস হিসেবে বিক্রি করা হয় ইরানের খোরাসান অঞ্চলের নিসাপুরের প্রধান কাজী সাহেবের কাছে। কাজী মারা গেলে কাজীর ছেলে কুতুবউদ্দিন আইবেককে আবারও বিক্র করেন গজনির গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ ঘুরির কাছে। নিচ থেকে মিনারের ওপরের দিকে তাকিয়ে সত্যিই বিস্মিত হই। বেলেপাথরের এ উঁচু মিনারটি কেবল মিনারই নয়, নান্দনিক কারুকার্যের স্তম্ভও বটে। মিনারটির নিচের অংশের ব্যাস ৪৭ ফুট। আর একেবারে ওপরের অংশের ব্যাস ৯ ফুট। গোলাকার এ মিনারের চারপাশে লাল বেলেপাথরে খোদাই করা আরবি ক্যালিগ্রাফি বা কোরআনের আয়াত লেখা। আবার এ ক্যালিগ্রাফির ওপর ও নিচে আছে বেলেপাথরেরই খোদাই করা বিভিন্ন নকশা। এসব নকশার মধ্যে আছে ফুল, পাতা ও বিভিন্ন জ্যামিতিক অবয়ব। দূর থেকে দেখলে এ নকশাগুলোকে ক্যালিগ্রাফির ফ্রেমের মতোই দেখায়। মিনারের নিচ থেকে কিছুটা পর পরই মিনারের চারপাশে এ ক্যালিগ্রাফি ও নকশা। ক্যালিগ্রাফি ও নকশা ছাড়াও মিনারের চারটি স্তরে বারান্দা বা বেলকুনির মতো জায়গা আছে। সেই সঙ্গে আছে জানালা। আর মিনারের ভিতর দিয়ে ওপরে উঠার সিঁড়িও আছে। তবে এ সিঁড়ি দর্শনার্থীরা ব্যবহার করতে পারেন না। অবশ্য মিনারের পাদদেশের চারপাশে স্টিলের রেলিং দেওয়া আছে, যাতে দর্শনার্থীরা মিনারের দেয়াল ধরতে না পারেন।

বিস্ময়ের কুতুব মিনার থেকে আসি কুব্বত-উল-ইসলাম মসজিদ প্রাঙ্গণে। মূলত এটি মসজিদের ধ্বংসপ্রাপ্ত অংশ। ধ্বংসপ্রাপ্তের পরও মসজিদটির মূল গেটের অনেকটা এখনো অক্ষত। এ গেটের দেয়ালজুড়েই আছে পাথরের খোদাই করা আরবি ক্যালিগ্রাফি ও নানা ধরনের জ্যামিতিক নকশা। রাজপুতদের ওপর বিজয়ের স্মারক হিসেবে কুতুবউদ্দিন আইবেক ১১৯৩ খ্রিস্টাব্দে এ মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন।

মসজিদটির মূল গেটের সামনে খোলা প্রাঙ্গণ। আর পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে আছে একতলা সমপরিমাণ স্থাপনা। পাথরে খোদাই করা নকশি খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে আছে এ স্থাপনা। এর ছাদও দেওয়া হয়েছে বড় বড় পাথর কেটে। প্রতিটি খুঁটির চারপাশেই আছে নকশি কারুকাজ। সত্যি বিস্ময় জাগে এতদিন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা নান্দনিক নকশার এসব খুঁটির স্থাপনা দেখে। মসজিদের গেটের সামনে লোহার একটি স্তম্ভ দেখি। এটিকে দিল্লির লৌহ স্তম্ভ বলে। এর উচ্চতা ২৩.৭ ফুট। এ স্তম্ভেরও রয়েছে ইতিহাস। কথিত সে ইতিহাস থেকে জানি, ৪০২ খ্রিস্টাব্দে গুপ্ত সাম্রাজ্যের উদয়গিরিতে এ স্তম্ভ প্রথম স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে ১২৩৩ খ্রিস্টাব্দে এটি বর্তমান স্থানে আনা হয়। স্তম্ভটির নিচের অংশের ব্যাস ১৭ ইঞ্চি ও ওপরের অংশের ব্যাস ১২ ইঞ্চি। স্তম্ভটির গায়ে ব্রাহ্মী লিপিতে লেখা আছে এর ইতিহাস। এছাড়া মসজিদের খোলা প্রাঙ্গণে তিনটি সমাধিও আছে। মসজিদ প্রাঙ্গণ ছেড়ে এবার আসি কুতুব কমপ্লেøক্সের আরেক বিস্ময় আলাউদ্দিন খিলজির মাদ্রাসা ভবনে। অনেক কক্ষ নিয়ে এ মাদ্রাসা ভবন। অবশ্য এ ভবনও ধ্বংসপ্রাপ্ত। নানা আকৃতির ছোট-বড় পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এ মাদ্রাসা ভবন। এটা দেখে আবারও বিস্মিত হই সে সময়কার মানুষের নির্মাণ দক্ষতার কথা ভেবে। মাদ্রাসা ভবনের পাশে আছে আলাউদ্দিন খিলজির সমাধি। এর পাশেই আছে ইলতুতমিশের সমাধি ভবন। এ সমাধি ভবনের দেয়াল ও দরজায়ও আছে পাথরে খোদাই করা আরবি ক্যালিগ্রাফি ও নান্দনিক নকশার কারুকাজ।

খিলজির সমাধির পাশে আরও আছে আলাই মিনারের অসমাপ্ত স্তূপ। এ মিনারটির কিছুটা নির্মাণ হলেও পরে আর তা সমাপ্ত হয়নি। অসমাপ্ত এ মিনারের পাশে অব্যবহূত একটি কূপও আছে। এছাড়াও কমপ্লেøক্সের ভিতর দেখি আরও কয়েকটি সমাধি।
যেভাবে যাবেন

বাস, ট্রেন বা বিমানে কলকাতা। শিয়ালদহ বা হাওড়া স্টেশন থেকে রাজধানী এক্সপ্রেস বা দূরন্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে যাওয়া যাবে দিল্লিø। চাইলে কলকাতা থেকে বিমানেও দিল্লি যেতে পারবেন। দিল্লি শহরের যে কোনো স্থান থেকেই ট্যাক্সিতে যেতে পারবেন কুতুব মিনার। এছাড়া দিল্লি শহরের অনেক স্থানে মেট্রোরেলের যাতায়াত আছে। চাইলে মেট্রোরেলে কুতুব মিনার স্টেশনে নেমে সেখান থেকে হেঁটে কুতুব মিনার যাওয়া যাবে।

যেখানে থাকবেন

দিল্লি শহরজুড়েই আছে পাঁচ তারকাসহ নানা মানের হোটেল। অনেক বেশি হোটেল পাবেন পাহাড়গঞ্জ এলাকায়। এটা দিল্লিøর পুরোনো শহর বা বাজার। এখানে নানা মানের হোটেল আছে। ভাড়া ৬০০ রুপি থেকে শুরু করে ৬ হাজার রুপি পর্যন্ত। মোটামুটি মানের হোটেল ৬০০ বা ৮০০ বা ১ হাজার রুপিতে পাবেন এবং দুইজন থাকতে পারবেন ভালোভাবে

খাওয়া-দাওয়া

পাহাড়গঞ্জ এলাকায় ছোট-বড় নানা মানের রেস্টুরেন্ট আছে। সাদাভাত, বিরিয়ানি, মাছ, মাংস, শাক-সবজি সবই পাবেন। ১৫০ থেকে ২০০ রুপিতে থালি প্যাকেজ পাবেন। এক থালিতে ভাত, ডাল, সবজি, সালাদ থাকে। ২০০ বা ২৫০ রুপির মধ্যে মাছ-মাংসও পাবেন।

কেনাকাটা

ভারতের রাজধানী শহর দিল্লিø। তাই শহরজুড়েই আছে ছোট-বড় অসংখ্য শপিং মল। আর এসব শপিং মলে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী পণ্যগুলো পাবেন। বিশেষ করে পাবেন দার্জিলিংয়ের চা, কাশ্মীরের রেশমি কাপড়, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ বা বিভিন্ন রাজ্যের তাঁতের কাপড়। আর পাবেন নানা স্বাদের চকোলেট। এক দামের দোকান ছাড়া দরাদরি কেরে কেনার সুযোগও আছে। তবে যেখানে এক দাম সেখানে দরাদরি করতে যাবেন না।

প্যাকেজ ব্যবস্থাঃ

ঢাকা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেল্সসহ বিভিন্ন ট্যুরিজম কোম্পানী সারা বছর ট্যুরস প্যাকেজ ব্যবস্থা করে থাকেন।

যোগাযোগঃ
ঢাকা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেল্স ৫৩ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ ০২৯৫৮৫১৪০, মোবাঃ +৮৮০ ১৯৭৯ ৮৭৪০৪২,
+৮৮০ ১৯৭৮ ৮৮২২২৩ +৮৮০ ১৯৭৮ ৮৮২ ২২৩

ত্রিমাত্রিক সবুজ ক্যানভাস পানিহাতা
                                  

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। ভ্রমন করে না অথবা করতে চায় না এমন মানুষ এই দুনিয়ায় পাওয়া বড় মুশকিল। একঘেয়ে জীবন যাত্রায় মানুষ যখন হাঁপিয়ে ওঠেন, তখন তার অন্তত কিছু সময়ের জন্য একটু আরাম, একটু বিরাম, একটু শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পরেন সৃষ্টিকর্তার অপারময় সৃষ্টির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখার জন্য কাছে বা দূরে কোথাও। একজন পর্যটক হিসেবে আপনি ঘুরে আসতে পারেন সারা বিশ্ব। ঢাকার বাইরে ঘুরে আসতে চান? তবে স্বল্প মূল্যে পরিবার নিয়েঘুরে আসতে পারেন দেশের দর্শনীয় স্থান।

আমাদের সুজলা-সুফলা নদী মার্তৃক এই দেশের মধ্যেই রয়েছে পাহাড়, পর্বত সমুদ্র, জঙ্গল, স্থাপত্য, পুরাকীর্তি ইত্যাদি। পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য রয়েছে বিনোদনের নানান ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক সম্পদের অফুরন্ত সম্ভার। আর আপনি যদি একজন পর্যটক হিসেবে ভ্রমণ করতে চান, তবে মাথার ওপর নীল চাঁদোয়া, মেঘে-বৃষ্টিতে ভেজা বাতাস। পায়ের নিচে অন্য এক পৃথিবী। উপভোগ করতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন ত্রিমাত্রিক সবুজ ক্যানভাস হালুয়াঘাটের পানিহাতা।

ভ্রমণ পিপাসুদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন- আলমগীর কবির যারা বৈশ্বিক জলবায়ু সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন, তারা একটি বিষয় নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন থাকেন। সাত’শ কোটি মানুষের উনুন জ্বালানোর ঠেলায় পৃথিবী নাকি ক্রমেই উত্তপ্ত। যার ফলে ঘটছে খরা, সুনামি আর উষ্ণায়ন। এতে দেখা দিয়েছে প্রাণভরে সবুজ উপভোগ করার শঙ্কা। এ শঙ্কার কিছুটা হলেও লাঘব হবে হালুয়াঘাটের পানিহাতা ঘুরে এলে।

প্রশাসনিকভাবে পানিহাতা শেরপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও স্থানীয়দের চলাচল ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট দিয়ে। তাই এর পরিচিতিটা হালুয়াঘাটকে কেন্দ্র করেই। ওখানে গেলে মনে হবে, এ ত্রিমাত্রিক সবুজ ক্যানভাস, তার ওপর উজ্জ্বল রঙের আলপনা এঁকে চলেছে বৃষ্টি অরণ্যের ফুল, অদ্ভুত সব রঙিন পাখিরা, ব্যাঙ, মাকড়সা, আর প্রজাপতির দল।

হালুয়াঘাট থেকে পানিহাতার দূরত্ব ৯ কিলোমিটার। স্থানীয় উত্তরবাজার থেকে মোটরসাইকেল যেতে লাগে ২০ মিনিট। তবে মূল জায়গায় পৌঁছানোর আগে হাঁটতে হয় বেশ কিছুটা পথ। পাহাড়ি পথ ধরে এগোনোর সময় যে দৃশ্যপট চোখে পড়বে, মনে হবে রোদের খেলার মাঝে এ এক নতুন মায়া জালের বুনন। সারিবদ্ধ গাছ সরু রাস্তা, কোনো ছিনতাইকারীর কবলে পড়ার আশঙ্কা নেই। তবে মাঝে মধ্যে এলাকাটিতে হাতি আক্রমণ করে। এ বিষয়ে যাওয়ার পথেই স্থায়ীয় বাসিন্দা আর বিজিবির পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেয়া হবে। পানিহাতার মূল আকর্ষণের জায়গাটা হলো খ্রিষ্টান মিশনারি ‘কারিতাস’। এটি তৈরি করা হয়েছে পাহাড়ের ওপর। এটার ভেতরে প্রবেশের সময় সাথে করে বাক্স-পেঁটরা নিয়ে গেলে এখানকার গারো দারোয়ান আপনাকে বা আপনার দলকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেবে না। যেতে হলে বাক্স-পেঁটরা কোথাও রেখে যেতে হবে। অনেকে পিকনিক করতে এসে কারিতাসের মূল এলাকার ভেতরে থাকা ফুলের বাগানের ফুল ছেঁড়া ও তাদের স্থাপনার বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিসাধন করায় এ পদক্ষেপ নিয়েছে তারা।

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের অংশটা দেখতে চাইলে কারিতাসের এই পাহাড়ে উঠতে হবে। কারিতাসে পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে যিশুর বিভিন্ন রকমের বিশেষ কিছু খুঁটি চোখে পড়বে। চমৎকার কিছু স্থাপনাও আছে। এলাকাটায় গারোদের রাজত্ব। ওপর থেকে চার পাশের দৃশ্যটা দেখতে মনোরম। বেশ কাছেই ভারতে মেঘালয় রাজ্যের একটি সেতু চোখে পড়বে। মনে হবে যেন হাতের নাগালের ভেতরই। সেতুর নিচ দিয়ে বয়ে চলেছে ভোগাই নদী। এই নদীই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। শ্রাবণের বৃষ্টিতে মেঘালয়ে পাহাড়ি ঢলের তৈরি হয়। সেই পানি গড়িয়ে পড়ে এই নদীতে। নদী হয়ে ওঠে খরস্রোতা। প্রচণ্ড স্রোতে প্রায়ই ভারতীয় অংশের বড় বড় গাছ ভেঙে নদীতে ভেসে বাংলাদেশের ভেতর এসে পড়ে। স্থানীয় লোকজন এসব গাছ সংগ্রহ করে বিক্রি করে।

বর্ষায় পানি খরস্রোতা থাকায় নদীতে পা ভেজানোর ইচ্ছে পোষণ না করাই ভালো। তবে বৈশাখে পানি কম থাকে। ওই সময়টায় ইচ্ছে করলে গোসলও করা যাবে ভোগাই নদীর স্বচ্ছ পানিতে। স্থানীয় লোকজন নিয়মিতই নদীর পানিতে গোসল করে, খাবারের জন্যও নদীর পানি ব্যবহার করে। গারোদের দেখা যায়, নদী থেকে ঝিনুক সংগ্রহ করতে। স্থানীয় কয়েকজন ছেলের কাছ থেকে জানা গেল, শামুক-ঝিনুক রান্না করে খায় তারা। আরেকটি বিষয় খুব চমকিত হওয়ার মতো, গারো ছেলেমেয়েরা নিজেদের গারো ভাষার পাশাপাশি খুব ভালো বাংলা বলতে পারে। আর এদের দেখলে মনে হয় মোটামুটি বেশির ভাগই শিক্ষিত। পানিহাতা থেকে হালুয়াঘাট ফিরে যেতে পারেন কড়ইতলা। এটি একটি কয়লার বন্দর। প্রতিদিন ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে অসংখ্য ট্রাকভর্তি কয়লা এসে এই স্থলবন্দরে খালাস হয়। অসংখ্য কর্মী সারা দিন ব্যস্ত থাকে বাংলাদেশী ট্রাকগুলোতে কয়লা তুলতে। এদের একেকজনের চেহারা দেখার মতো! হঠাৎ করে দেখলে অনেককেই মনে হবে ঠিক যেন কয়লা-ভূত। তবে এরা দিনভর পরিশ্রম করে পেট চালায়। উপার্জনও নেহাত কম নয়। এদের কেউ কেউ যে পরিসংখ্যান দিলেন, তাতে অনেকেই মাসে ৩০ হাজার টাকাও রোজগার করেন। অর্থাৎ দিনে এক হাজার টাকা করে। তবে চেহারায় সেটি বোঝার উপায় নেই। এই কড়ইতলার আশপাশেই আছে দেখার মতো কয়েকটি জায়গা। রয়েছে প্রচুর গাছপালা। হাতে সময় নিয়ে এর ভেতরটা ঘুরে আসতে পারেন। স্থানীয় কাউকে গাইড হিসেবে নিলে ভালো করবেন।

যেভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে যাওয়া যায়। এই বাস যেখানে থামবে সেটিকে নতুন বাসস্ট্যান্ড বলে। ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে শ্যামলী বাংলা, ইমাম ট্রেইলওয়েজ, ছোঁয়া পরিবহন নামের বাসগুলো নিয়মিত এই রুটে চলাচল করে। ভাড়া বাসভেদে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পড়বে। এগুলোর সবই এসিবিহীন। নতুন বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রথমে যেতে হবে উত্তরবাজার। বিদ্যুৎ চালিত অটোতে এই স্থানটিতে যেতে জনপ্রতি খরচ পড়বে ১০ টাকা উত্তরবাজার থেকে দুইভাবে পানিহাতায় যাওয়া যায়। প্রথম উপায় হলো মোটরসাইকেল এবং দ্বিতীয় উপায় হলো অটো ভাড়া করা। মোটরসাইকেলে শুধু যেতে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৮০ টাকা লাগবে। সময় লাগবে ২০ থেকে ৩০ মিনিট। তবে মোটরসাইকেল ভাড়া করার আগে যতটা সম্ভব দরদাম করতে হবে। নতুন লোক দেখলেই এবং পার্টি মালদার মনে হলে এরা দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। কোনোভাবেই ভাড়া ৮০ টাকার বেশি দিতে যাবেন না।

কোথায় থাকবেন : হালুয়াঘাটে বাস থেকে নেমেই একটু খোঁজ করলে আপনি বেশ কিছু আবাসিক হোটেল পেয়ে যাবেন। রুমের ভাড়া ৫০০-৬০০ টাকা।

ঘুরে আসুন সিঙ্গাপুর
                                  


একঘেয়ে জীবন যাত্রায় মানুষ যখন হাঁপিয়ে ওঠেন, তখন তার অন্তত কিছু সময়ের জন্য একটু আরাম, একটু বিরাম,একটু শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পড়েন সৃষ্টিকর্তার অপরময় সৃষ্টির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য কাছে বা দূরে কোথাও। ভ্রমণ করে না অথবা করতে চায় না এমন মানুষ এই দুনিয়ায় পাওয়া বড় দুষ্কর। একজন পর্যটক হিসেবে আপনি ঘুরে আসতে পারেন সারা বিশ্ব। দেশের বাইরে ঘুরে আসতে চান? তবে ঘুরে আসতে পারেন সিঙ্গাপুর। ভ্রমণ পিপাসু পাঠকদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন- মোঃ রিয়াজ উদ্দিন।

‘পুর’ মানে নগর। জনপদের নামের সঙ্গে ‘পুর’ যুক্ত হলে বিস্তৃত হয় তাৎপর্য। রংপুর, গাজীপুর, ফরিদপুর প্রভৃতি। সিঙ্গাপুরও তেমনই এক নগর। সাগরঘেরা একটা দ্বীপ-দেশ। সেই দেশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বিশাল এক সিংহমূর্তি—নাম মারলায়ন। সিঙ্গাপুর সদলবলে বেড়াতে যাওয়ার পর আমাদের এক বন্ধু ঘোষণা করল, নামটা ছিল আসলে সিংহপুর। এরা ঠিকমতো উচ্চারণ করতে পারে না দেখে সিঙ্গাপুরের মতো শোনায়।

ঢাকা থেকে আকাশপথে কমবেশি চার ঘণ্টার দূরত্ব। কিন্তু গিয়ে মনো হলো সিঙ্গাপুর যেন বাংলাদেশেরই কোনো অংশ। রাস্তায় চলতে দেখা মেলে অনেক বাংলাদেশির। সিঙ্গাপুর শহরটা প্রায় পুরোটাই কৃত্রিম। প্রাকৃতিক বলতে শান্ত-সমাহিত সমুদ্রটাই শুধু। কিন্তু বিশ্বজুড়ে যেখানে যা কিছু ভালো, যা কিছু মহান—সবই যেন কপি-পেস্ট করে রাখা হয়েছে সিঙ্গাপুরে। দারুণ কিছু বানিয়ে ফেলতে তাদের উৎসাহে ভাটা পড়ে না মোটেও। সেটার পেছনে দিন-রাত সে কি যতœআত্তি আর রক্ষণাবেক্ষণ, না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন—তা সে কংক্রিটের ইমারত হোক আর সবুজ বন বা তৃণভূমিই হোক।

এত্তটুকুন একটা শহর, অথচ তার সবকিছু ঠিকঠাক ঘুরেফিরে দেখেশুনে নিতে সপ্তাহ খানেক সময় লাগবেই। অবশ্য ‘সিঙ্গাপুর ফ্লায়ার’ নামে বিশাল যে চরকি বানিয়ে রাখা আছে, সেটায় চড়লে এক দফাতেই একনজর দেখে ফেলা যায় এ-মাথা ও-মাথা।

শহরের প্রাণকেন্দ্র অরচার্ড পয়েন্টে ব্র্যান্ড দোকানগুলোয় উইন্ডো শপিং আর সত্যিকারের কেনাকাটার পর্ব হয়তো চায়না টাউন, ধোবি ঘাট বা লিটল ইন্ডিয়ায়। বাংলাদেশিদের প্রধান আকর্ষণ ‘মোস্তফা সেন্টার’-এর জন্য চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় রাখাই উচিত, অন্তত পুরোটা ঘুরে দেখতে হলেও।

একদিন সন্ধ্যায় খুব আয়োজন করে গেলাম নাইট সাফারিতে। শহরের পশ্চিম প্রান্তে ছোটখাটো কৃত্রিম জঙ্গল বানিয়ে রাখা আছে। পর্যটকদের ট্রামে চড়িয়ে জঙ্গল ঘোরানো হয়। রাতের আঁধারে বাঘ, সিংহ, হাতি, হরিণ, জেব্রা দেখার মধ্যে একধরনের গা-ছমছমে অনুভূতি কাজ করে। ছোট বাচ্চাদের মজাটাই মনে হয় বেশি, তবে বড়রাও কিছু কম যান না।

আরেক দিন খুব সকালে উঠে গেলাম ইউনিভার্সাল স্টুডিওতে। দিনভর সময় কাটানোর দারুণ একটা জায়গা। সকাল ১০টায় খোলে, বিকেল পাঁচটা বাজলেই বন্ধ। কাজেই দেরি করার উপায় নেই। একপাশে মাদাগাস্কারের সব চরিত্র। সেখান থেকে দুর্র্ধষ ওয়াটার ওয়ার্ল্ডের শো। তারপর জুরাসিক পার্কে বহু যুগের হারিয়ে যাওয়া পৃথিবী দেখতে দেখতে আচমকা পানিতে পতন। পাশেই হয়তো প্রাচীন মিসর। সেখানে মমির প্রতিশোধ যে কত ভয়াবহ হতে পারে, সেটা বলার নয়। এরপর চতুর্মাত্রিক ‘শ্রেক’ দেখা শেষ করে, ‘ট্রান্সফরমার মোশন সিমুলেটর’-এ ১০০তলা থেকে পতনের অভিজ্ঞতা নিতেই হবে।ক্যাবল কারে চড়ার জন্য আরেক দিন সকাল-সকাল উঠতে হলো। মাউন্ট ফেবার থেকে সোজা সান্তোসা আইল্যান্ড। সেখানে নানা রকম রাইড।

যাহোক, ‘গার্ডেন বাই দ্য বে’-র টিকিট আগেই করা ছিল। কৃত্রিম ঝরনা, জলপ্রপাত, মেঘ, বৃষ্টি আর হাজার হাজার ফুলের মেলা। এই দারুণ গ্রিন হাউসের বাইরে বিশাল বিশাল সুপার ট্রি। রাত নামলে সেখানে আলো জ্বলে। মুগ্ধ চোখে সেটা কিছুক্ষণ দেখার পর গেলাম মারলায়ন পার্কে। উদ্দেশ্য, রিভার ক্রুজ। সমুদ্রের পানি টেনে এনে শহরের মাঝখানে নদী বানানো হয়েছে। সেই নদীতে নৌকায় চড়ে শহরটা দেখা আর আকাশছোঁয়া দালানগুলো কোনটা কততলা, সেটা গুনতে থাকা।

অভিভূত হওয়ার কিছু বাকি ছিল। রাতের বেলা মেরিনা বের চারপাশে শুরু হয় চোখজুড়ানো লেজার শো। সেটা না দেখলে সিঙ্গাপুর যাওয়াই বৃথা। সিঙ্গাপুরে খাওয়াদাওয়ার অভাব নেই। হরেক দেশের, হরেক স্বাদের। দামি রেস্তোরাঁ যেমন আছে, তেমনি বেশ কিছু হকার্স সেন্টার আর ফুড কোর্টও দেখলাম। সবচেয়ে পছন্দ হলো একধরনের আইসক্রিম। রাস্তার পাশে বিক্রি করে। দামে সস্তা, কিন্তু স্বাদ সেই রকম!

সমস্ত দ্বীপ ঘিরে ছোট ছোট জলাভূমি আর ডোবা। এসবের পাশাপাশি সমস্ত শহর জুড়েও রয়েছে বিলাস বৈভবের এক নান্দনিক অধ্যায়। সন্ধ্যের আলো ঝলমলে শহরে দেদারছে খানাপিনা আর আমোদ প্রমোদের সুব্যবস্থা। এখানকার রেস্তোরাঁয় ঢুকে ‘রুটি পরোটা’র স্বাদ নিতে ভুলবেন না। সবমিলিয়ে সিঙ্গাপুর একবার গেলে শহরটির অনিন্দ্য সৌন্দর্য সারাজীবন আপনার চোখে বিনা সুতোয় সেলাই হয়ে থাকবে।

সিটি ট্যুর

সাড়ে তিন ঘন্টা সময়ের সিটি ট্যুরে দেখানো হয় ‘ক্রিকেট ক্লাব’ ‘পার্লামেন্ট হাউস’ ‘সুপ্রীম কোর্ট’ সিটি হল। এছাড়া চায়না টাউন,শ্রী মারিম্পাম টেম্পল,মাউণ্ট ফাবের, লোকাল হ্যাণ্ডিক্রাফট সেন্টার, ন্যাশনাল অর্কিড গার্ডেন, বোটানিক্যাল গার্ডেন প্রভৃতি। দুপুরের চিড়িয়াখানা ভ্রমণে বন্য জন্তুদের মাঝে দেখা যাবে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত জন্তুদের বিশেষ শো। রাতের বেলা জঙ্গলে যেতে চাইলে রয়েছে ‘নাইট সাফারী’র ব্যবস্থা। রয়েছে ‘সেন্টোসা ওয়াটার ওয়ার্ল্ড’ ট্যুর। যেখানে কেবল কারে চেপে সাগর সান্নিধ্যে কাটাতে পারবেন একান্ত সময়।

শপিং করতে

সিঙ্গাপুরের মত উন্নত আর নান্দনিক শহরে পদার্পন করবেন আর শপিংয়ে যাবেন না তা কি হয়? সারা সিঙ্গাপুর জুড়েই আপনার শপিংয়ের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য রয়েছে অসংখ্য শপিং মল। অরচার্ড রোড এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এখানে পোশাক, জুতো, ইলেকট্রনিক্স গুডস, ফার্নিচার, কসমেটিকস সহ যাবতীয় জিনিস কিনতে পারবেন।

কীভাবে যাবেনঃ

ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর দূতাবাসের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, থাই এয়ারলাইন্সের বিমানযোগে সিঙ্গাপুর যেতে পারেন। বাংলাদেশ বিমানেও যাওয়া যায় সিঙ্গাপুর।

কোথায় থাকবেন

থাকার জন্য সেরাঙ্গুন রোডের ‘গোল্ডেন টেম্পল’ হোটেল,ভিক্টোরিয়া ষ্ট্রিটের ‘হোটেল ভিক্টোরিয়া’ কম বাজেটের পর্যটকের জন্য সুবিধাজনক। যাদের মাঝারী বাজেট তারা ‘হোটেল ইম্পিরিয়াল’ ‘গ্রাণ্ড সেন্ট্রাল’ প্রভৃতি হোটেলে থাকতে পারবেন। বুকিং না করে গিয়েও বিমানবন্দরে পৌঁছেও এইসব হোটেলে অনায়াসে আপনার কাঙ্খিত রুমের বুকিং দিতে পারবেন।

প্যাকেজ ব্যবস্থাঃ

ঢাকা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেল্সসহ বিভিন্ন ট্যুরিজম কোম্পানী সারা বছর ট্যুরস প্যাকেজ ব্যবস্থা করে থাকেন।

যোগাযোগঃ

ঢাকা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেল্স ৫৩ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। ফোনঃ ০১৯৭৭৩৩৮০৯৪,
০১৯৭৭৩৩৮০৯৪, ০২৯৫৮৫১৪০।
লেখক ঃ সম্পাদক, মানবাধিকার খবর।
ই-মেইল ঃ md.reaz09@yahoo.com

ঘুরে আসুন লালমাই
                                  



মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। ভ্রমন করে না অথবা করতে চায় না এমন মানুষ এই দুনিয়ায় পাওয়া বড় মুশকিল। একঘেয়ে জীবন যাত্রায় মানুষ যখন হাঁপিয়ে ওঠেন, তখন তার অন্তত কিছু সময়ের জন্য একটু আরাম, একটু বিরাম, একটু শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পরেন সৃষ্টিকর্তার অপারময় সৃষ্টির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখার জন্য কাছে বা দূরে কোথাও। একজন পর্যটক হিসেবে আপনি ঘুরে আসতে পারেন সারা বিশ্ব। ঢাকার বাইরে ঘুরে আসতে চান? তবে স্বল্প মূল্যে পরিবার নিয়েঘুরে আসতে পারেন দেশের দর্শনীয় স্থান। আমাদের সুজলা-সুফলা নদী মার্তৃক এই দেশের মধ্যেই রয়েছে পাহাড়, পর্বত সমুদ্র, জঙ্গল, স্থাপত্য, পুরাকীর্তি ইত্যাদি। পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য রয়েছে বিনোদনের নানান ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক সম্পদের অফুরন্ত সম্ভার। আর আপনি যদি একজন পর্যটক হিসেবে ভ্রমণ করতে চান, তবে তার আদি গোড়াপত্তন ওইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে জানা দরকার।

ভ্রমণ পিপাসুদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন- আলমগীর কবির কর্ম ব্যস্ততার চাপে ইচ্ছে করলেই দূরে কোথাও ঘুরতে বের হওয়া যায় না। ছুটির জন্য আবেদন, ভ্রমণসঙ্গীদের সাথে ছুটি মেলানোসহ নানা ঝামেলার কারণে শেষ পর্যন্ত আক্ষেপ ছাড়া কিছুই করার থাকে না। এরকম পরিস্থিতিতে পরিকল্পনাটা যদি ভিন্নভাবে সাজানো যায় ভ্রমণ তৃপ্তির অভিজ্ঞতা নিতে পারেন খুব সহজেই। রাজধানী ঢাকা থেকে যারা ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছেন, ছুটি মেলাতে পারছেন না, তাদের জন্য লালমাই হতে পারে পলিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ। আলাদাভাবে কোনো ছুটির প্রয়োজন নেই। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেই গিয়ে দেখে আবার তৃপ্তি নিয়ে ফিরে আসতে পারবেন।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে সড়কপথে চলতে গিয়ে কুমিল্লøা পৌঁছার অনেক আগেই চোখ আটকে যাবে একটি পাহাড়ে। উত্তর দক্ষিণে এঁকে-বেঁকে চলে গেছে পাহাড়টি। এর নাম লালমাই পাহাড়। পাহাড়টি ডানে রেখে আরেকটু এগিয়ে গেলে হাতের ডানে ময়নামতি সেনানিবাস। লালমাই পাহাড় অঞ্চল এবং ময়নামতি এলাকার অনেকটা জায়গা জুড়েই প্রাচীন বাংলার মানুষের গড়া নানা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় অধ্যায়ে ময়নামতি অঞ্চলে পাথরযুগের মানুষেরও সন্ধান পাওয়ার কথা লেখা হয়েছে। লালমাই ছাড়াও এ এলাকাটি ময়নামতি ও হিলটিয়া নামে পরিচিত।

বাংলাদেশের উল্লেখ্য যোগ্য বিহারগুলো হচ্ছে- শালবন বিহার, ভাসু বিহার, সোমপুর বিহার, সীতাকোট বিহার ও দেবীকোট বিহার। মধ্যযুগে বৌদ্ধ রাজত্বের রাজধানী ছিল এই ময়নামতি। ঐতিহাসিকদের মতে, রাজা মানিকচন্দ্রের স্ত্রী রাণী ময়নামতির নামানুসারে লালমাই অনুচ্চ পাহাড়ী এলাকার নাম রাখা হয় ময়নামতি। কুমিল্ল­া জেলার অধিকাংশ প্রত্মতাত্ত্বিক নিদর্শনাদি এখানে অবস্থিত। শালবন বিহার, আনন্দবিহার প্রভৃতি দেশের বৃহত্তম ধ্বংসাবশেষ ময়নামতিতে অবস্থিত। এসব বৌদ্ধবিহারে প্রাচীন বৌদ্ধসভ্যতার বহু নিদর্শনাদি পাওয়া গেছে। ১৯৫৫ সালে এখানে যখন খনন কাজ শুরু হয় তখন এসব নির্দেশনের সন্ধান পাওয়া যায়। বৌদ্ধ ধর্ম ছাড়াও এখানে জৈন ও হিন্দ দেবদেবীর মূর্তিও পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এখানকার আবিষ্কৃত প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণের জন্য একটি জাদুঘরও স্থাপিত হয়েছে। বর্তমানে ময়নামতিতে একটি সেনানিবাস রয়েছে, যেটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশদের একটি যুদ্ধঘাটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

শালবন বৌদ্ধ বিহার বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম। কুমিল্লা জেলার লালমাই-ময়নামতি প্রতস্থলের অসংখ্য প্রাচীন স্থাপনাগুলোর একটি এই বৌদ্ধ বিহার। এতে সপ্তম-১২ শ’ শতকের প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া যায়।

ধারণা করা হয় যে, খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্র্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন। শালবন বিহারের ছয়টি নির্মাণ ও পুননির্মাণ পর্বের কথা জানা যায়। খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীর মধ্যে তৃতীয় পর্যায়ে কেন্দ্রীয় মন্দিরটি নির্মাণ ও বিহারটির সার্বিক সংস্কার হয় বলে অনুমান করা হয়। চতুর্থ ও পঞ্চম পর্যায়ের নির্মাণকাজ ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয় নবম-দশম শতাব্দীতে।

আকারে এটি চৌকো। শালবন বিহারের প্রতিটি বাহু ১৬৭.৭ মিটার দীর্ঘ। বিহারের চার দিকের দেয়াল পাঁচ মিটার পুরু। কক্ষগুলো বিহারের চারদিকের বেষ্টনী দেয়াল পিঠ করে নির্মিত। বিহারে ঢোকা বা বের হওয়ার মাত্র একটাই পথ ছিল। এ পথ বা দরজাটি উত্তর ব্লকের ঠিক মাঝামাঝি স্থানে রয়েছে। প্রতিটি কক্ষের মাঝে ১.৫ মিটার চওড়া দেয়াল রয়েছে। বিহার অঙ্গনের ঠিক মাঝে ছিল কেন্দ্রীয় মন্দির। বিহারে সর্বমোট ১৫৫টি কক্ষ আছে। কক্ষের সামনে ৮.৫ ফুট চওড়া টানা বারান্দা ও তার শেষ প্রান্তে রয়েছে অনুচ্চ দেয়াল। প্রতিটি কক্ষের দেয়ালে তিনটি করে কুলুঙ্গি রয়েছে। কুলুঙ্গিতে দেবদেবী, তেলের প্রদীপ ইত্যাদি রাখা হতো। এই কক্ষগুলোতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা থাকতেন। সেখানে বিদ্যাশিক্ষা ও ধর্মচর্চা করতেন

বিহারের বাইরে প্রবেশ দ্বারের পাশে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে একটি হলঘর রয়েছে। চার দিকে দেয়াল ও সামনে চারটি বিশাল গোলাকার স্তম্ভের ওপর নির্মিত সে হলঘরটি ভিক্ষুদের খাবার ঘর ছিল বলে ধারণা করা হয়। হলঘরের মাপ ১০ মিটার গুণন ২০ মিটার। হলঘরের চার দিকে ইটের চওড়া রাস্তা রয়েছে। প্রতœতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে বিহারটির ধ্বংসাবশেষ থেকে আটটি তাম্রলিপি, প্রায় ৪০০টি স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, অসংখ্য পোড়া মাটির ফলক বা টেরাকোটা, সিলমোহর, ব্রৌঞ্জ ও মাটির মূর্তি পাওয়া গেছে। এগুলো বাংলাদেশের প্রাচীন প্রতœতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের স্বাক্ষর বহন করছে।

সকালে গিয়ে বিকেলে যখন ঢাকায় ফিরবেন সাথে করে নিয়ে আসাতে পারেন কুমিল্লøার বিখ্যাত রসমালাইও।

যেভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে সহজেই বাসযোগে অথবা ট্রেনযোগে পৌঁছা যাবে কুমিল্লøা। কুমিল্লøা শহর থেকে আট কিলোমিটার দূরে লালমাই অবস্থিত। তবে শুধু বৌদ্ধ সভ্যতার প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখতে কুমিল্লøা ক্যান্টনম্যান্ট পেরিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে পাঁচ কিলোমিটার সামনে গিয়ে ডানদিকে তিন কিলোমিটার গেলেই চলবে।

দূর থেকেই দেখতে হবে তাজমহল
                                  



একঘেয়ে জীবন যাত্রায় মানুষ যখন হাঁপিয়ে ওঠেন, তখন তার অন্তত কিছু সময়ের জন্য একটু আরাম, একটু বিরাম,একটু শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পড়েন সৃষ্টিকর্তার অপরময় সৃষ্টির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য কাছে বা দূরে কোথাও। ভ্রমণ করে না অথবা করতে চায় না এমন মানুষ এই দুনিয়ায় পাওয়া বড় দুষ্কর। একজন পর্যটক হিসেবে আপনি ঘুরে আসতে পারেন সারা বিশ্ব। দেশের বাইরে ঘুরে আসতে চান? তবে ঘুরে আসতে পারেন আমাদের চির চেনা পরিচিত আগ্রার তাজমহল থেকে। ভ্রমণ পিপাসু পাঠকদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন- শাহীন আলম জয়।

পদভারে শাহী তাজ কম্পমান!
পর্যটকের ভিড়ে টলমল করছে তাজমহল। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মূল অবস্থান থেকে সামান্য হলেও বিচ্যুত হয়েছে তাজমহলের মিনার। মূল কাঠামোটির ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা। আর এর জন্য পর্যটকদের পায়ের চাপকেই মূলত দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে পর্যটকদের হাতের ঘষা, নিঃশ্বাসের কার্বন ডাই অক্সাইডও তাজের ক্ষতি করছে বলে দেখা গিয়েছে। তাজকে বাঁচাতে তাই অবিলম্বে মার্বেলের কাঠামোর উপরে পর্যটকদের ওঠা বন্ধ করতে চাইছে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (এএসআই)। এ দেশের পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলির রক্ষণাবেক্ষণের দায়ত্বি তাদেরই।

তাজমহলে পর্যটকদের ভিড় রুখতে প্রথম পদক্ষেপ করা হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি সেই প্রথম সপ্তাহে এক দিন তাজমহল বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয়। কিন্তু সেটাই যথেষ্ট নয় বলে এখন মনে করছে এএসআই।

এএসআই-এর পক্ষ থেকে সম্প্রতি ‘সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’কে দায়িত¦ দেওয়া হয়েছিল, তাজমহলের মূল কাঠামোর জিওডেটিক (ভূত্বক) সমীক্ষা করার। এই জাতীয় সমীক্ষা এবং মানচিত্র তৈরির কাজ এই কেন্দ্রীয় ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থাই করে থাকে।

ভবিষ্যতে হয়তো এই চবুতরার সামনে থেকেই তাজ দর্শন করতে হবে।

সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, তাজমহলের চার কোণে যে চারটি মিনার রয়েছে, সেগুলি তাদের নিজেদের অবস্থান থেকে কিছুটা হেলে গিয়েছে। কতটা হেলে গিয়েছে, সেটা এখনই প্রকাশ করা হয়নি। তবে এবার থেকে প্রতি বছর জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে তাজের বিভিন্ন অংশের সরণ ঘটছে কি না, পরীক্ষা করে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এএসআই-কে।
তাজমহলের উপর প্রথম বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয় ১৯৪১ সালে। তখনই দেখা গিয়েছিল, তাজের চারটি মিনারের মধ্যে তিনটি মিনার ৩.৭ থেকে ১১.৪ সেন্টিমিটার হেলে রয়েছে। আর দক্ষিণ প্রান্তের মিনারটি প্রায় ২১.৬ সেন্টিমিটার হেলে রয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছিল, দু’টি কারণে মিনারগুলি হেলে থাকতে পারে। প্রথমত, ওই মিনারগুলি তৈরির সময়েই কিছুটা কাত করে নির্মাণ করা হয়ে থাকতে পারে। (অনেকের মতে, ভূমিকম্প হলে মিনারগুলি যাতে কোনও অবস্থাতেই মূল কাঠামোর উপর না পড়ে, সেই জন্যই বাইরের দিকে কাত করে তৈরি করা হয়েছিল সেগুলি) দ্বিতীয়ত, এলাকাটি যমুনা সংলগ্ন হওয়ায় ভূমিক্ষয়ের কারণে মিনারগুলি হেলে পড়ে থাকতে পারে। ১৯৪১ থেকে ২০১২। মাঝের বছরগুলোয় তাজ যেটুকু হেলেছে, তার পিছনে কিন্তু যমুনার ভূমিক্ষয়ের থেকেও পর্যটকদের চাপকেই দায়ী করছে নতুন রিপোর্ট। পর্যটকদের পায়ের চাপ সব থেকে বেশি পড়ছে মূল সমাধি কক্ষে। তা হলে মিনারগুলি হেলছে কেন? এএসআই বলছে, মিনারগুলি মূল মার্বেল কাঠামোরই অঙ্গ। কয়েক মিটার উঁচু ওই মিনারগুলি মূল কাঠামোর ভিত্তিভূমি থেকে সেই অর্থে কোনও অবলম্বন ছাড়াই দাঁড়িয়ে রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মূল কাঠামোতে ক্ষতি হওয়ায় তার প্রভাব প্রথমে পড়েছে মিনারগুলিতেই।

একটি বেসরকারি রিপোর্টেও একই ধরনের সাক্ষ্য মিলছে। বলা হচ্ছে, শাহজাহান ও মমতাজের সমাধিটি যেখানে রয়েছে, সেই মেঝের উত্তর দিকের অংশটি দক্ষিণ দিকের অংশের থেকে এক ইঞ্চি ঢালু। মুঘল স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ ও রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আর নাথের কথায়, সম্ভবত মূল কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াতেই এই ঢাল তেরি হয়েছে।এএসআইয়ের বক্তব্য, তাজমহলের মূল কাঠামোটিকে দৃঢ় করার জন্য সে সময়কার স্থপতিরা যথাসম্ভব নির্ভুল প্রযুক্তির সাহায্যই নিয়েছিলেন। মার্বেলের ওজন ধরে রাখার জন্য একাধিক স্তম্ভ, ধনুকাকৃতি ছাদ বা খিলান ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতি দিন প্রায় সহস্রাধিক মানুষ এই সৌধ দেখতে আসবেন, স্বাভাবিক ভাবেই এটা তাঁদের চিন্তায় ছিল না।এখন সাধারণ দিনে ২৫ থেকে ৩০ হাজার পর্যটক আসেন তাজমহল দেখতে। শীতকালে সংখ্যাটি বেয়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার হয়ে দাঁড়ায়। গত দু’-তিনটি উৎসবের মওসুমে এএসআই দেখেছে প্রতি দিন লক্ষাধিক মানুষ ভিড় জমিয়েছেন তাজ দর্শনে। সংস্থার মতে, এক লক্ষ পর্যটকদের মধ্যে প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যটক কোনও এক সময়ে তাজের মূল চত্বরে উপস্থিত থাকেন। শুধু পায়ের চাপই নয়। এএসআইয়ের এক কর্তার কথায়, “লক্ষ করলে দেখা যাবে, ক্রমাগত হাতের ঘষায় বিভিন্ন স্থানে মার্বেলের কিনারাগুলি মসৃণ হয়েছে গিয়ছে। জানলার জালিগুলিও নোংরা হয়ে পড়ছে। হারাচ্ছে সূক্ষ্মতা।” এক শ্রেণির পর্যটকের মধ্যে সাদা মার্বেলে পেন দিয়ে নিজেদের নাম লিখে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। এমনকী পরিশ্রান্ত দর্শকেরা তাজের পিছন দিকে চাতালে যে অংশগুলিতে বসেন, সেটিও ক্ষয়িষ্ণু। বর্তমানে মার্বেলের সিঁড়ি কাঠের ধাপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। গর্ভগৃহের ভিতরে কবরের চারপাশে যে সূক্ষ্ম জালির কাজ রয়েছে, সেগুলির চারপাশে কাঠের ব্যারিকেড তৈরি করে দেওয়া আছে। কিন্তু তাতেও সুরাহা হয়নি। কারণ যে বিপুল সংখ্যক মানুষ ওই গর্ভগৃহে প্রবেশ করেন, তাঁদের শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড ও মার্বেলের বিক্রিয়া ঘটছে। সুতরাং তাজকে বাঁচাতে হলে কড়া সিদ্ধান্ত নিতেই হবে বলে মনে করছে এএসআই।
কী সেই সিদ্ধান্ত?

এখন যেখানে জুতো ছেড়ে পর্যটকেরা তাজের মূল চত্বরে ওঠেন, অদূর ভবিষ্যতে সেখান থেকেই বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যটিকে দেখার প্রস্তাব দিতে চলেছে এএসআই। এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছেন ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর আর্ট অ্যান্ড কালচারাল হেরিটেজ-এর অন্যতম শীর্ষ কর্তা এ জি কৃষ্ণ মেনন। তাঁর কথায়, “পর্যটকেরাই তাজমহলের বিপদের কারণ। তাই এই ধরনের সিদ্ধান্ত যত দ্রুত নেওয়া যায় তত ভাল।” গ্রিস, স্পেন বা কম্বোডিয়ার মতো বহু দেশ অনেক আগেই এই ধরনের পদক্ষেপ করেছে। গ্রিসের পার্থেনন ও অ্যাক্রোপলিস-সহ সমস্ত মন্দির বাইরে থেকে দর্শন করতে হয়। কম্বোডিয়ার আঙ্কোরভাট মন্দিরে উপরের অংশে পর্যটকদের যেতে দেওয়া হয় না। স্পেনের আলতামিরা গুহাচিত্র দেখার ক্ষেত্রেও বাধানিষেধ রয়েছে পর্যটকদের জন্য। ইতালিতে পিসার হেলানো মিনারেও বেশ কিছু দিন পর্যটক ওঠা বন্ধ রাখা হয়েছিল। বর্তমানে অবশ্য পর্যটকরা আবার উপরে ওঠার সুযোগ পাচ্ছেন। তাজের ক্ষেত্রে এমন কড়াকড়ি করা হলে পর্যটন শিল্পে তার প্রভাব পড়তে পারে। এএসআই-এর ডিরেক্টর জেনারেল গৌতম সেনগুপ্ত তাই বলছেন, “প্রতি বছর এখানে কত পর্যটক আসেন এবং কাঠামোটি ওই ভার নেওয়ার জন্য কতটা সক্ষম, সেটা আগে খতিয়ে দখবে ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইন্সটিটিউট (নিরি)।” অজন্তার গুহাগুলিতেও ‘নিরি’কে দিয়ে সমীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই সমীক্ষার রিপোর্ট আসার পরেই পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাববে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক। তাজের মূল কাঠামোয় উঠতে না পারলে পর্যটকদের উৎসাহ কমে যাবে কি? ‘ট্র্যাভেল এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া’র প্রাক্তন চেয়ারম্যান অনিস কলসি অবশ্য তেমন আশঙ্কা করছেন না। তাঁর কথায়, “যারা সত্যি তাজমহল দেখতে ইচ্ছুক, তাদের দূর থেকে দেখতেও আপত্তি থাকবে না।”
কিভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে ভারত দূতাবাসের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আগ্রা যাবার রাস্তা হচ্ছে তিনটি- আকাশ পথ, রেলপথ ও গনপরিবহন অথবা রিজার্ভ গাড়ি দিয়ে যেতে পারেন।
কোথায় থাকবেন?

আগ্রার তাজমহল যেহেতু পর্যটন এলাকা তাই থাকার জায়গার সমস্যা নেই। এখানে মাঝারি দাম থেকে স্বল্প দামের হোটেল পাবেন। প্রতি সিঙ্গেল কক্ষের ভাড়া পড়বে ১০০০ রুপি, ডাবল কক্ষের ভাড়া পড়বে ১২০০-১৫০০ রুপি পর্যন্ত।

কি খাবেন?

ভোজন রসিকদের জন্য খুব জনপ্রিয় স্থান হচ্ছে আগ্রা। তবে রেস্টুরেন্টে খাবারের দাম খুব বেশি। তাই আপনি বেছে নিতে পারেন টেস্টি ফুড।

প্যাকেজ ব্যবস্থাঃ

ঢাকা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেল্সসহ বিভিন্ন ট্যুরিজম কোম্পানী সারা বছর ট্যুরস প্যাকেজ ব্যবস্থা করে থাকেন।
যোগাযোগঃ

ঢাকা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেল্স ৫৩ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। ফোনঃ ০১৯৭৭৩৩৮০৯৪, ০১৯৭৭৩৩৮০৯৪, ০২৯৫৮৫১৪০।

 


   Page 1 of 2
     পর্যটন
ঘুরে আসুন প্রকৃতির লীলাভূমি “চর কুকরি মুকরি”
.............................................................................................
ভারত ভ্রমণের দিনলিপি
.............................................................................................
বিশ্ব পর্যটন মেঘের দেশ মেঘালয় ও আসাম আমার দেখা সৌন্দর্যের লীলাভূমিঃ
.............................................................................................
বাংলার পর্যটন নয়নাভিরাম হামহাম ঝরনা
.............................................................................................
ভুলবার নয় ভিয়েতনাম
.............................................................................................
ঘুরে আসুন সৈকত নগরী কক্সবাজারমানুষ
.............................................................................................
বিশ্ব পর্যটন ঘুরে আসুন হিমালয়ের দেশ ভুটান
.............................................................................................
ঘুরে আসতে পারেন রাতারগুল
.............................................................................................
ভ্রমণপিপাসুদের নতুন গন্তব্য মিয়ানমার
.............................................................................................
পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন স্পটগুলো উপভোগ করার এখনই সময়
.............................................................................................
ঘুরে আসতে পারেন ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর
.............................................................................................
বেড়ানো দিল্লীর কুতুব মিনার
.............................................................................................
ত্রিমাত্রিক সবুজ ক্যানভাস পানিহাতা
.............................................................................................
ঘুরে আসুন সিঙ্গাপুর
.............................................................................................
ঘুরে আসুন লালমাই
.............................................................................................
দূর থেকেই দেখতে হবে তাজমহল
.............................................................................................
ঘুড়ে আসুন সিঙ্গাপুর
.............................................................................................
ঘুরে আসুন সাগরকন্যা
.............................................................................................
বেড়াতে যাইতে পারেন থাইলেন্ড
.............................................................................................
প্রকৃতির নৈসর্গিক মনলোভা দৃশ্যের হাতছানি ঘুরে আসুন পতেঙ্গা
.............................................................................................
নাজিরপুরে বিশ্ব বই দিবস উদযাপন
.............................................................................................
গাজীপুরে ইউপি নির্বাচন আওলীগ ১৭, বিদ্রোহী ৩ প্রার্থীর জয়
.............................................................................................
মোবাইল ফোন অপব্যবহার বাড়ছে অপ্রাপ্ত বয়সে প্রেমে জড়াচ্ছে শিক্ষার্থীরা
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

Editor & Publisher: Rtn. Md Reaz Uddin
Corporate Office
53,Modern mansion(8th floor),Motijheel C/A, Dhaka
E-mail:manabadhikarkhabar34@gmail.com,manabadhikarkhabar34@yahoo.com,
Tel:+88-02-9585139
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-9585140
    2015 @ All Right Reserved By manabadhikarkhabar.com    সম্পাদকীয়    Adviser List

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]