বাংলার জন্য ক্লিক করুন

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   সম্পাদকীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
অবশ হাতে অনুভূতি ফিরে পাচ্ছেন ইউএনও ওয়াহিদা

মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন  :
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম তার অবশ হয়ে যাওয়া ডান হাতের আঙ্গুলে অনুভূতি ফিরে পাচ্ছেন। এটা তার শারীরিক অবস্থার অনেক বড় উন্নতি বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। এ ব্যাপারে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক বদরুল আলম বলেন, ডান হাত এবং ডান পা অবশ হলেও ওয়াহিদা তার হাতের আঙ্গুল নড়াচড়া করতে পেরেছেন। এটা খুবই ভালো একটি দিক। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে বেশ সময় লাগবে। এখন ফিজিওথেরাপি চলছে।


তিনি আরও বলেন, অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান ফিরলে ওয়াহিদার স্মৃতিশক্তি স্বাভাবিক হতে থাকে। তিনি তার স্বামীকে চিনতে পেরেছেন। কথা বলছিলেন ধীরে ধীরে। হালকা খাবারও খাচ্ছেন।


প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনওর সরকারি বাসভবনে ঢুকে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। ভিতরে ঢুকে ভারী ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং আঘাত করে ইউএনও ওয়াহিদাকে গুরুতর আহত করে তারা। এ সময় মেয়েকে বাঁচাতে এলে বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকে (৭০) জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে তারা অচেতন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।


বর্তমান তিনি শেরেবাংলানগরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অবশ হাতে অনুভূতি ফিরে পাচ্ছেন ইউএনও ওয়াহিদা
                                  

মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন  :
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম তার অবশ হয়ে যাওয়া ডান হাতের আঙ্গুলে অনুভূতি ফিরে পাচ্ছেন। এটা তার শারীরিক অবস্থার অনেক বড় উন্নতি বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। এ ব্যাপারে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক বদরুল আলম বলেন, ডান হাত এবং ডান পা অবশ হলেও ওয়াহিদা তার হাতের আঙ্গুল নড়াচড়া করতে পেরেছেন। এটা খুবই ভালো একটি দিক। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে বেশ সময় লাগবে। এখন ফিজিওথেরাপি চলছে।


তিনি আরও বলেন, অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান ফিরলে ওয়াহিদার স্মৃতিশক্তি স্বাভাবিক হতে থাকে। তিনি তার স্বামীকে চিনতে পেরেছেন। কথা বলছিলেন ধীরে ধীরে। হালকা খাবারও খাচ্ছেন।


প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনওর সরকারি বাসভবনে ঢুকে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। ভিতরে ঢুকে ভারী ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং আঘাত করে ইউএনও ওয়াহিদাকে গুরুতর আহত করে তারা। এ সময় মেয়েকে বাঁচাতে এলে বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকে (৭০) জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে তারা অচেতন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।


বর্তমান তিনি শেরেবাংলানগরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু ঐতিহাসিক রায় আইনশৃংখলা বাহিনী আইনের উর্দ্ধে নয়
                                  

জবাবদিহি নেই বলে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলো দায়িত্ব পালনের নামে বিচারবহিভূর্ত হত্যা, নিরাপত্তা হেফাজতে নির্যাতন কিংবা ক্রসফায়ার দেওয়ার হুমকি দিয়ে নিরীহ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অন্যায় চর্চা চলে আসছে বছরের পর বছর ধরে। ৩১ জুলাই কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভে সেনাবহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যাকান্ডে ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জবাবদিহির অনুপস্থিত পরিনাম।


পুলিশ হেফাজতে ইশতিয়াক হোসেন জনি নামে এক গাড়িচালককে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার অভিযোগে রাজধানীর পল্লবী থানার তিন পুলিশ সদস্যের যাবজ্জীবন ও কথিত দুই সোর্সকে সাত বছর করে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। সাত বছর আগে ২০১৩ সালে প্রণীত নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের আওতায় এই প্রথমবারের মতো আদালতে কোনো রায় দেওয়া হলো।

যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন পল্লবী থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক জাহিদুর রহমান, সহকারী উপপরিদর্শক রাশেদুল ইসলাম ও কামরুজ্জামান মিন্টু। অন্য দুই আসামি পুলিশের কথিত সোর্স রাজধানীর মিরপুর সেকশন-১১-এর রাসেল ও সুমন। তাদের সাত বছর করে কারাদন্ড হয়েছে। দন্ডিত আসামিদের মধ্যে এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু ও রাসেল পলাতক। এ ছাড়া আগে থেকেই কারাগারে আছেন এসআই জাহিদুর রহমান ও সুমন। জামিনে ছিলেন এএসআই রাশেদুল ইসলাম।

রায়ের পর রাশেদুলকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। রায়ে পাঁচ আসামির সবাইকে অর্থদন্ড, অনাদায়ে বিভিন্ন মেয়াদের বাড়তি কারাদন্ডে দন্ডিত করার রায় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ২ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে।

২০১৪ সালের ৭ আগস্ট জনির ভাই রকি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে নির্যাতন ও পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা দায়ের করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রæয়ারি যে প্রতিবেদন দেন তাতে তিন পুলিশ কর্মকর্তা ও দুই কথিত সোর্সের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি বলেছেন, এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তবে আসামিপক্ষ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। পুলিশ হেফাজতে কাউকে নির্যাতন চালানো আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমাদের বিশ্বাস, এ রায়টি পুলিশ সদস্যদের আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করবে। পুলিশ বাহিনীর সুনাম রক্ষায় যার বিকল্প নেই।


সুতরাং পুলিশ হেফাজতে প্রত্যেকটি হত্যা, নির্যাতন, আইন ও বিচার বিভাগে আমলে নেওয়া হলে দেশ ও জাতির উপকারই হবেনা বরং আইন শৃংখলা বাহিনী যে আইনের উর্দ্ধে নয় তা জাতির কাছে স্পষ্ট হবে।

বঙ্গবন্ধু ছিলেন মুক্তি ও মানবতার অগ্রদূত
                                  

 

দেশবাসী শোকাহত চিত্তে স্মরণ করছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের কালরাতে শাহাদাতবরণকারী সবাইকে।প্রতি বছর আমরা যেভাবে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালির ইতিহাসে প্রথম স্বাধীন রাষ্ট্রের স্থপতিকে স্মরণ করি, এবারের প্রেক্ষিত তা থেকে ভিন্ন। এ বছর জাতীয় শোক দিবস পালিত হচ্ছে এমন সময়, যখন চলছে স্বাধীনতার এই মহানায়কের জন্মশতবার্ষিকী। যদিও বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে জন্মশতবার্ষিকীর সব আয়োজন স্থগিত রয়েছে; বঙ্গবন্ধু স্মরিত হবেন কোটি কোটি বাঙালির হৃদয়ে।


দুর্ভাগ্য আমাদের। পঁচাত্তরের পর ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্র থেকে গণতন্ত্র, মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও সম্প্রীতির সুমহান আদর্শ মুছে ফেলার অপচেষ্টা চলেছিল। কিন্তু কালের পরিক্রমায় তা ব্যর্থ প্রমাণ হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া আওয়ামী লীগ তারই আত্মজার নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর ক্রমেই ফিরেছে মুক্তিযুদ্ধের ধারা। একদিকে যেমন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া অনেকাংশে সম্পন্ন হয়েছে, অন্যদিকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দৃশ্যমান অর্জন সম্ভব হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে নিম্নআয়ের দেশ থেকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে উত্তরণ ঘটেছে বাংলাদেশের। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু নিজের পায়ে দাঁড়ানোর যে প্রত্যয় বারংবার ব্যক্ত করতেন; নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ তারই সার্থক রূপায়ণ। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে নিঃশেষ করতে পারেনি খুনিরা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সংহতির প্রতীক বঙ্গবন্ধু এখনও তার জীবন, কর্ম ও বাণী দিয়ে জাতিকে শক্তি জুগিয়ে চলেছেন। আমরা নিশ্চিত, অনাগত দিনগুলোতেও বঙ্গবন্ধু হয়ে থাকবেন বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য প্রেরণার অনিঃশেষ বাতিঘর।


এক শতাব্দী আগে বাংলার প্রত্যন্ত পল্লীতে জন্মগ্রহণ করে বঙ্গবন্ধু যেভাবে উপমহাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিয়েছিলেন, তা বিশ্বেরও বিস্ময়। কিন্তু প্রতি বছর ১৫ আগস্ট সেই বিস্ময় ছাপিয়ে আমাদের মধ্যে নিখাদ বেদনার জন্ম দেয়। বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনের নানা আয়োজনের মধ্যেও তাই আমাদের হৃদয়ের তন্ত্রীতে বেজে ওঠে সকরুণ সুর। বস্তুত পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের ললাটে যে অমোচনীয় কলঙ্ক লেপ্টে দিয়েছিল, তা থেকে যেন বাঙালি জাতির মুক্তি নেই। আমরা এও দেখতে চাই, বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমিত থাকছে না। তার জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে মুক্তি ও মানবতার পক্ষে কাজ করছে সবাই- এই আহ্বান দল-মত নির্বিশেষে সবার প্রতি। আমরা বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধু নির্দিষ্ট কোনো দলের নন। বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সবাই যদি বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে দেশ গড়ায় আত্মনিয়োগ করি, সেটাই হবে তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জ্ঞাপন। করোনা পরিস্থিতিতে এই উপলব্ধি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।


আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে দেখতে পাচ্ছি, বঙ্গবন্ধুর অন্তরজুড়ে ছিল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা। তিনি চেয়েছিলেন, রাজনৈতিক মুক্তির পর বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি আসবে। বিশ্বের বুকে মর্যাদার সঙ্গে মাথা তুলে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।

অসহায় মায়েদের পাশে অনন্ত জলিলের স্ত্রী বর্ষা
                                  

মানবাধিকার খবর প্রতিবেদক  :
ব্যবসায়িক কাজ কিংবা বেড়ানোর জন্য বছরে অনেকবার বিদেশে যান চিত্রনায়িকা বর্ষা। বিশেষ করে থাইল্যান্ডে নিয়মিতই যাতায়াত রয়েছে এ নায়িকার। সেই সুবাদে নিজের দুই ছেলে আরিজ ও আবরারের জন্য পছন্দের বিভিন্ন খাবারের পাশাপাশি দুধও দেশটি থেকে নিয়ে আসেন। করোনাভাইরাসের কারণে গত মার্চ থেকেই বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচল বন্ধ। সঙ্গত কারণে তারও আর বিদেশ যাওয়া হয়নি। এরই মধ্যে আরিজের খাবার দুধ শেষ হয়ে যায়। নির্দিষ্ট একটি ব্র্যান্ডের দুধ খাওয়াচ্ছেন বলে অন্য দুধে ছেলেটি অভ্যস্তও নয়। তাই বাচ্চার দুধ সংগ্রহে বর্ষা চিন্তায় পড়েন।

দেশের কোনো সুপারমলেই এ দুধটি পাচ্ছিলেন না। এরপর থাইল্যান্ড থেকে কেউ বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরেন কি না সেই অপেক্ষায় ছিলেন এ নায়িকা। উদ্দেশ্য তাকে দিয়ে আবরারের জন্য দুধ নিয়ে আসার অনুরোধ করবেন। এক সময় পেয়েও যান। ঠিক এ সময় বর্ষা উপলব্ধি করেন নিজের সন্তানের দুধ শেষ হয়ে যাওয়াতে মা হিসেবে তিনি কতটা চিন্তিত ছিলেন, না জানি অসহায় কত মা সন্তানের জন্য দুধ কিনতে পারার কষ্টে আছেন? বিষয়টি তাকে খুব পীড়া দেয়।

সে চিন্তথেকে নিয়ত করেছেন, আবরারের দুধ সংগ্রহ করার পরপরই তিনি অসহায় সেসব মা ও সন্তানের জন্য এক মাসের দুধ কিনে দেবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী অবশেষে সে কাজটি সম্পন্ন করছেন এ চিত্রনায়িকা। তার রাজধানীর বাসার নিচেই তিনশ’ অসহায় মায়ের হাতে তার সন্তানের জন্য এক মাসের দুধ, চিনি ও হাত ধোয়ার উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।


এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আবরারের দুধের জন্য আমি যখন চিন্তিত তখনই বিষয়টি আমার মাথায় আসে। আমাকে তো আল্লাহ অনেক দিয়েছেন, তাই যেভাবে হোক আমি আমার বাচ্চার জন্য দুধ সংগ্রহ করে নিতে পারছি; কিন্তু যেসব মা অসহায়, সন্তানের মুখে দুধ তুলে দিতে পারছেন না, তারা কী করছেন? বিষয়টি ভেবে খুব খারাপ লাগল। তখনই নিয়ত করেছি, এরকম বেশকিছু মানুষকে আমি সহযোগিতা করব। ভাবনা অনুযায়ীই কাজটি করছি। আশা করি এভাবেই অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর তওফিক আল্লাহ আমাকে দেবেন।’

এদিকে করোনাভাইরাসের কারণে তার অভিনীত সর্বশেষ ছবি ‘দিন দ্যা ডে’র শুটিং আটকে আছে। এরই মধ্যে ছবির ৮০ শতাংশ শুটিং শেষ হয়েছে। এ ছবিতেও তিনি বরাবরের মতোই স্বামী চিত্রনায়ক ও প্রযোজক অনন্ত জলিলের বিপরীতে অভিনয় করছেন। ইরানের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এ ছবিটি পরিচালনা করছেন ইরানি পরিচালক মুস্তফা অতাশ জমজম।

পবিত্র ঈদুল আযহা মহামারি করোনার নিয়ন্ত্রন করা হোক
                                  

সম্পাদকীয় :

করোনা ভাইরাস নিজেই অদৃশ্য এক মহাশক্তি। বিশ্বের রাজনিৈতক দর্শন নিয়ে সে অভিভূত হয়নি। বিশ্বের বড় বড় পারমানবিক শক্তিধর দেশ তার কাছে নাস্তানাবুদ হয়ে গেছ্ েবিশেষ করে যারা তাকে প্রথম অবস্থাতেই অমূল্যায়ন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইত্যালীসহ ইউরোপিয়ান দেশগুলো কি নিদারুন ভাবে বিদ্ধস্ত অবস্থায় চলে গেছে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য ফি আরোপ, উপসর্গহীন ব্যক্তিদের পরীক্ষার সুযোগ বন্ধ করা, নমুনা সংগ্রহের বুথগুলোতে নমুনা গ্রহণের সংখ্যা কমানো ইত্যাদি নানা পন্থায় বাংলাদেশে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ পরীক্ষার দৈনিক হার কমিয়ে আনা হয়েছে। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ এর সমালোচনা করেছেন এবং সরকারকে সতর্ক করতে বলেছেন, এভাবে সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা কম দেখানোর মাধ্যমে মহামারির প্রকৃত পরিস্থিতি লুকানোর চেষ্টার পরিণতি আরও বড় বিপদ ডেকে আনবে।

কারণ, সারা দেশে সংক্রমিত ব্যক্তিদের একটা বড় অংশ উপসর্গহীন বলে শনাক্ত রোগীদের তালিকার বাইরে থেকে গেলে তাঁদের সংস্পর্শে আরও অনেক মানুষ সংক্রমিত হবেন। এভাবে মহামারি আরও ছড়িয়ে একপর্যায়ে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।বাস্তবে সেই লক্ষণ সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর আগে দেখা গেছে, পরীক্ষার সংখ্যা কম হলে শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও কম হয়। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে পরীক্ষার সংখ্যা কমানোর পরও শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আগের মতো কমছে না, বরং আরও বেড়ে যাচ্ছে।

যেমন গত ১৫ জুন দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিং থেকে জানা গেল, আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৪ হাজার ২টি নমুনা পরীক্ষা করে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৫৩৩ জনের। এ হিসাবে সংক্রমণের হার দাঁড়ায় ২৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। এ হার জুনের শেষ সপ্তাহের তুলনায় গড়ে প্রায় ৪ শতাংশ বেশি, সে সময় সংক্রমণের হার ছিল ২১ শতাংশের কিছু বেশি।


এর মধ্যে ঈদুল আজহা এগিয়ে আসছে। কোরবানির পশুর হাটগুলোতে লোকসমাগম নিয়ন্ত্রণের সক্রিয় তৎপরতা নেই। অনলাইনে পশু কেনাবেচার কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু সেটা কতটা কার্যকর হচ্ছে, সে ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই। জনপরিসরে লোকসমাগম অনেক বেড়ে গেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার খবর আসছে; মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে শিথিলতা বেড়েছে। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণগুলো স্পষ্টভাবেই দেখা যাচ্ছে।


এ পরিস্থিতিতে আসন্ন ঈদের সময় যেন ঢাকাসহ আরও তিনটি বেশি সংক্রমিত শহর থেকে লোকজন বাইরে যেতে না পারে তেমন পদক্ষেপ নিতে। কিন্তু সরকার সারা দেশে সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যেই ঈদুল আজহার আগে–পরে কয়েক দিন গণপরিবহন চালু রাখার ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নিয়েছে। এখন লোক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।

ফলে আরও অনেক মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল। ঈদের আর এক সপ্তাহ বাকি আছে। সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব। ঈদের আগে–পরে মোট ৯ দিন গণপরিবহন বন্ধ রাখার পূর্ব সিদ্ধান্তটিই কার্যকর করা অথবা সারাদেশে নির্দিষ্ট মেয়াদে লকডাউন দিয়ে মহামারি করোনার ভাইরাস নির্মূল ও নিয়ন্ত্রনে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

বিশ্ব মানবাধিকার দিবস ও মহান বিজয়ের মাসে শপথ হোক মানবাধিকার সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ার
                                  

সম্পাদকীয়

মানবাধিকার শব্দটি ছোট হলেও এর অর্থের ব্যপ্তি অনেক বিস্তার। প্রত্যেক দেশ ও জাতিরই কিছু গৌরবোজ্জল দিন থাকে। সেই দিনগুলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। আর এই দিবস গুলোর জন্যে কোন না কোন মাস দেশ ও জাতির জীবনে অতি উজ্জ্বল গর্বের মাস হিসেবে পরিলক্ষিত হয়। ডিসেম্বর মাস আমাদের জীবনের তেমনই একটি গর্বিত মাস। ১০ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী পালন করা হয় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস, ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মহান বিজয় দিবস ও ২৫ ডিসেম্বর খ্রিষ্টধর্মালম্বীদের বড় দিন।

 

নারী-পুরষ ও শিশু নির্বিশেষে সমাজে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে মানবাধিকারের প্রভাব অনস্বীকার্য। তাই খৃষ্টপূর্ব প্রায় ২২৮৮ থেকে ২১৩০ সালে পৃথিবীর প্রাচীনতম আইন সংকলন ব্যবলিনের রাজা হাম্মারাবীর নিয়ামাবলীতে মানবাধিকার সংরক্ষনের কথা পাওয়া যায়। খৃষ্টীয় ৭ম শতাব্দীতে মদিনার বহু ধর্মভিত্তিক সমাজে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কর্তৃক প্রনীত মদিনার সনদ-এ মদিনার সকল নাগরিকই সমান অধিকার ভোগ করবে এ কথা বলা হয়েছিল।

 

বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে গুরত্বের সাথে আলোচিত ও অবহেলিত প্রসঙ্গটির নাম মানবাধিকার। ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালনে যতটা থাকে আনুষ্ঠানিকতা তার সামান্যতম অংশ বাস্তবায়িত হলে বিশ্ব থেকে নির্বাসিত হত বিচার বহিভূত হত্যা, শিশু ও নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস, ছিনতাই, রাহাজানীসহ হাজারো অপরাধ। জাতিসংঘের সকল সদস্যভুক্ত রাষ্ট সভা, আলোচনা অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালন করে থাকে। সার্বজনীন মানব অধিকার ঘোষনা ছিল ২য় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী নবরূপে সৃষ্ট জাতিসংঘের অন্যতম বৃহৎ অর্জন এছাড়াও, ‘সার্বজনীন মানব অধিকার সংক্রান্ত ঘোষনাকে’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ তারিখকে নির্ধারন করা হয়। বিশ্বজুড়ে যখন মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ পুরো বিশ্বেই। প্রতিদিনই নির্যাতন ও হত্যার শিকার হচ্ছে মিয়ানমারের শত শত রোহিঙ্গা মুসলিম।


বাঙালির সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ দিন। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তির দিন। এদিন বিশ্বের মানচিত্রে সৃষ্টি হয় নতুন একটি সার্বভৌম দেশ, বাংলাদেশ। যা বাঙালি জাতিকে এনে দেয় আত্মপরিচয়ের ঠিকানা।যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এ বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন সেসব শহীদকে বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করবে দেশের সর্বস্তরের মানুষ। বিজয়ের ৪৬ টি বছর পেরিয়ে গেলেও রক্তক্ষরণ আজো থামেনি। সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিজয়ের এ দিনে সবার অঙ্গীকার, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ার। যেসব বৈষম্য থেকে স্বাধীনতার জন্ম সেইসব বৈষম্যগুলো থেকে এ জাতি বেরিয়ে আসবে এটাই আমাদের কাম্য হোক।

 সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. রিয়াজ উদ্দিন

প্রতিষ্ঠিত হোক শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার
                                  

সম্পাদকীয়

মহান মে দিবসের প্রত্যাশা

বিশ্বের কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন মহান মে দিবস। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮৮৬ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোসহ বড় বড় শহরে শ্রমিকরা দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ ও শ্রমের ন্যায্য মজুরির দাবিতে সর্বাত্মক ধর্মঘট শুরু করে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মালিকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মিছিল-সমাবেশ করে। এর আগে শ্রমিকরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করত। দৈনিক ১৪-১৮ ঘণ্টা অমানুষিক পরিশ্রম করার পরও তারা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হতো। তাদের শোষণেরও শিকার হতে হতো। শ্রমিকের শ্রমের ওপর ভিত্তি করে সভ্যতা গড়ে উঠলেও তারা বরাবরই ছিল উপেক্ষিত। এমনকি তাদের নির্দিষ্ট কোন ছুটির দিনও ছিল না। এ শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে শ্রমিকরা সংঘবদ্ধ হতে থাকে। শোষণ-বঞ্চনার প্রতিবাদে সংঘবদ্ধ শ্রমিকরা ১৮৮৬ সালের ১ মে থেকে যে আন্দোলনের সূচনা করে তা চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে যায় ৩ ও ৪ মে। শাসকগোষ্ঠী আতঙ্কিত ও দিশেহারা হয়ে পড়ে। তারা শ্রমিকের ওপর পুলিশ লেলিয়ে দেয়। শিকাগো শহরের ওই শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের বেপরোয়া গুলিতে কমপক্ষে ১০ শ্রমিক নিহত এবং বহু আহত হয়। অনেক শ্রমিক নেতাকে গ্রেফতারসহ দিনের পর দিন আটকে রাখা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৭ জনকে মৃত্যুদ-ে দ-িত করা হয়। ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত শ্রমিকদের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রতিবছর দিবসটিকে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। সেই থেকে সারা দুনিয়ার মেহনতি মানুষ বিশেষ মর্যাদায় দিবসটি পালন করে আসছে। বাংলাদেশেও শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠন যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে দিবসটি পালন করে থাকে। শ্রমিক বঞ্চনার ইতিহাস নতুন নয়। সব যুগে, সব সমাজে এটি ছিল। শ্রমিকের ঘামে মালিকের প্রাসাদোপম অট্টালিকা তৈরি হলেও অনেক শ্রমিককে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়। তারা দিন-রাত অক্লান্ত শ্রম দিয়েও জীবনের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করতে পারে না। অনেক সময় তারা প্রাপ্য অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নামতে বাধ্য হয়। সাম্প্রতিক সময়ে শ্রমিক কল্যাণে আমাদের দেশে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও তাদের সার্বিক কল্যাণ সুনিশ্চিত হয়েছে তা বলা যাবে না।
আমরা লক্ষ্য করলে দেখতে পাবো মানবসভ্যতার চাকা এগিয়েছে শ্রমদানকারী শক্তির শ্রম, ঘাম আর রক্তের ওপর দিয়ে। এ প্রেক্ষাপটে একজন শ্রমিক অবশ্যই মূল্যায়িত হবে তার অবস্থান থেকেই। সুস্থ রাজনীতি যেমন একটি দেশের জন্য অপরিহার্য, তেমনি সুস্থ ট্রেড ইউনিয়নও জরুরি। বৈষম্য হ্রাস করে শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষার বিষয়ে সরকারসহ সব সামাজিক শক্তিকে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। শিল্পের মালিকদেরও হতে হবে আরো মানবিক। তাঁদের মানবিকতা শুধু শ্রমিককে তার কাজে অধিক উদ্বুদ্ধই করবে না-এর বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব রাষ্ট্রেও পড়বে। শ্রমিক-মালিক কিংবা সরকার মিলিতভাবেই সমৃদ্ধির চিত্র উত্তরোত্তর পুষ্ট করতে পারে সবার সদিচ্ছা পোষণের মধ্য দিয়ে। কাজেই তৈরি করতে হবে শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ। মেহনতি মানুষের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশে সব শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত হোক, প্রতিষ্ঠিত হোক শ্রমিকের অধিকার-মে দিবসে এটাই সবার প্রত্যাশা।

ঈদুল ফিতর ঈদের আনন্দ হোক সার্বজনীন ।
                                  

সম্পাদকীয়
ঈদুল ফিতর
ঈদের আনন্দ হোক সার্বজনীন ।
ইসলাম ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় দুইটি উৎসবকে মধ্যে একটি হলো ঈদুল ফিতর।২য় টি হলো ঈদুল আজহা দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনা রোজা পর পালিতহয় ঈদুলফিতর। ঈদ এসেছে, সঙ্গে এনেছে শান্তি আর আনন্দের সওগাত। সব ভেদা ভেদ ও পরিচয় ভুলে সেই দিন মানুষ কেবল একে অপরকে বুকে জড়াবে। কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘আজ ভুলে যা সব হানাহানি, হাত মেলা হাতে’। এই আয়োজন তো জীবনেরই উয্যাপন। ঈদের এই আনন্দ আমরাও ভাগ করে নিতে চাই আমাদের প্রিয় পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্টসহ সব শুভানুধ্যায়ীর সঙ্গে। সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
এই উৎসব জীবনকে নতুন করে রাঙানোর উৎসব। সব সংকীর্ণতা ও ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের সঙ্গে মিলিত হওয়ার উৎসব। পরস্পরের বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হয়ে ওঠার এক মহান উপলক্ষ ঈদ। ঈদের আগমনী সুরেও বেজে চলেছে মানুষে মানুষে মিলনের এই আকুতি। তাই মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ সব ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের প্রতিবেশীদের নিয়ে তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব বরণের জন্য প্রস্তুত।
ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে কর্মজীবী মানুষের বাড়ি ফেরায় প্রতিবছর বেশ ভোগান্তির সৃষ্টি হয় যানবাহনের অপ্রতুলতার কারণে। ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ট্রেন ও বাড়তি বগি সংযোজন করার পরও অনেক মানুষকে ট্রেনের ছাদে চড়ে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। রমজানে দ্রব্যমূল্য আগেরবারের তুলনায় কিছুটা নিয়ন্ত্রিত ছিল। দেশে বিশেষ কোনো রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিলনা; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বছরের অন্যান্য সময়ের মতোই , বিশেষ উন্নতি ঘটেনি।
সামাজিক উৎসব সমাজের সবার অংশগ্রহণ ছাড়া সুন্দর হয় না। মানুষে মানুষে মিলনের উৎসব যখন আসে, তখন আমাদের এটাও ভাবতে হয় যে, আমাদের দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মানুষে মানুষে বৈষম্য প্রকটতর হচ্ছে। দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে বিপুলসংখ্যক মানুষ। খুবই স্বল্পসংখ্যক মানুষের হাতে পুঞ্জীভূত হয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থবৃত্ত। ঈদের সর্বজনীনতার পথে এই বৈষম্য পথের কাঁটা। গত ....চট্টগ্রাম সাতকানিয়ায় ইফতারি সামগ্রী নিতে গিয়ে পদতলিত হয়ে ১০ নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এটা কি ছিল অবেবস্থাপনা, না অভাবী মানুষের ঢল । কোনটা আমাদের কাম্য নয় । ঈদ আমাদের সামষ্টিক জীবনে যে মিলন ও শুভবোধের চর্চার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, তা সঞ্চারিত হোক সবার প্রতিদিনের জীবন যাপনে। ঈদ নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, জীবনকে নবায়ন করার আহ্বান।
ঈদে প্রবাসীরা দেশে ফিরতে আকুল হয়, শহরবাসী গ্রামে ফেরায় রোমাঞ্চ পায়, একাকী মানুষ বন্ধুমহলের সঙ্গে মেলার জন্য ব্যাকুল হয়। অনেক ভোগান্তি শেষে নিজ প্রাঙ্গণে প্রিয়জনের আলিঙ্গনের সুখ উপভোগ করে। এই সুযোগ থেকে কেউ যাতে বঞ্চিত না হয়, তার জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
বিশ্ব মুসলিমের এই উৎসবে ধরণী সজীব হবে, যেখানেই তারা থাকবে, সেখানেই ঈদ উৎসবের পবিত্র সৌন্দর্যে অপরের মনের প্রীতি আদায় করে নেবে, এটাই কাম্য। ঈদ আমাদের সমষ্টিক জীবন নিছক আনুষ্টানিকতা নয় ,ঈদ হোক জীবনকে নবায়ন করার আহ্বান । ঈদের আনন্দ হোক সার্বজনীন ।
শিয়ার মত জায়গায় পবিত্র রমজান মাসে মুসলিম

মানবাধিকার ও শান্তির বারতা নিয়ে আসুক
                                  

স্বাগতম পহেলা বৈশাখ।এ দিনে সব বাঙালি প্রানের উচ্ছ্বাসে দিনটি বরণ করে থাকে। পালন করে নববর্ষ। বাংলাদেশেই শুধু নয়, ভারত সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাঙালিরাও পালন করে এ দিনটি।
দুঃখজনক যে, বাঙালি হয়েও আমাদের জীবনে বাংলা সন বা মাস গণনার গুরুত্ব কি তা নিয়ে সংশয় আজও চালু রয়েছে সচেতন মহলে। বহুকাল ধরে শহর-গ্রাম নির্বিশেষে এখানকার নাগরিকরা খ্রিষ্টীয় সাল-তারিখেই অভ্যস্থ হয়ে উঠেছে। পঞ্জিকা জানা গুটিকায় মানুষ বাদ দিলে সহসা কেউ বাংলা মাসেরও তারিখ বলতে পারেন না। তবু ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালির এই সর্বজনীন উৎসবের দিনে সারাদেশে উৎসবের আমেজ থাকে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক  অস্থিরতা দেশবাসির মনে আতংকের ছাপ ফেলায় কিছুটা হলেও উৎসবের আমেজ ম্লান হয়েছে বৈকি।
বাঙালি আবেগী ও উৎসবপ্রবণ জাতি হিসেবে পরিচিত। বাংলার লোকজীবনে নির্মল আনন্দ উপভোগের জন্য বিভিন্ন মেলা বা উৎসবের আয়োজন হয়ে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। সুতরাং উৎসবের কথা যদি ওঠে তবে প্রথমেই আসে পহেলা বৈশাখের কথা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আদর্শে উজ্জীবিত হয়েই নববর্ষ উৎসবে মিলিত হয় আপামর বাঙালি জাতি। একদা এ নববর্ষ উৎসব গ্রাম থেকে শহরমুখী হয়েছেএবং শহরে এসে যোগ দিয়েছে নানা মাত্রা। রাজধানী ঢাকায় পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রা। চারুকলা ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে প্রথম যে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়েছিল, তা আজও বাঙালির সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। শুধু রমনা বা চারুকলা নয়, গোটা রাজধানী জুড়েই থাকবে উৎসবের আমেজ।  আমরা মনে করি, এ দিনে আমাদের বাঙালি জাতিকে সব অশুভ পেছনে ফেলে নব জাগরণে উদ্ভাসিত হতে হবে।আসুন আজ সবার কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে বলি- ‘বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক’। প্রকৃতি যেমন নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ‘নব পত্র-পল্লবে’ সুশোভিত হয়েছে তেমনি বাঙালিকেও নববর্ষের এ দিনটি নব জাগরণে উদ্ভাসিত রাখুক সারাবছর এ প্রত্যাশা আমাদের।
নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধারন করে শান্তি-শৃঙ্খলা, রুচিশীলতা ও নীতি-নৈতিকতার পরিমন্ডলে শালীনতার মধ্যে দিয়ে আনন্দ-উৎসবে ‘বাংলা নববর্ষ’ উদযাপিত হোক এ কামনা করি।
শুভ নববর্ষ উপলক্ষ্যে মানবাধিকার খবর’র দেশ-বিদেশের সকল পাঠক, লেখক, সংবাদকর্মী, উপদেষ্টা, এজেন্ট, শুভাকাঙ্খি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
বাংলা নববর্ষের এ শুভ দিনে সকলের সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করছি। সেই সাথে প্রত্যাশা করছি মানবাধিকার ও শান্তির বারতা নিয়ে আসুক শুভ নববর্ষ ১৪২৫।



ফটো ফিচার
                                  

গত ৪ এপ্রিল বিশিষ্ট আইনজীবি, আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক, ঢাকা বার কাউনসিলের ফাইনান্স কমিটির চেয়ারম্যান, মানবাধিকার খবরের সন্মানিত উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শ.ম. রেজাউল করিম অসমান্য কৃতিত্ব সিনিয়র আডভোকেট পদমর্যাদা লাভ করায় মানবাধিকার খবর পত্রিকার পক্ষ থেকে ফুলের শুভেচছা জানানো হয়। এ সময় পত্রিকার সন্মানিত উপদেষ্টা, প্রতিনিধি, কর্মকর্তা- কর্মকারীগন  উপস্থিত ছিলেন।
 

গত ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় গুলশান নর্থ কøাব লি: এ রোটারী ক্লাব অব গুলশান লেকসিটির উদ্যোগে রোটারিয়ান মোঃ রুবায়েত হোসেন রোটারী ইন্টারন্যাশনাল ডিষ্ট্রিক্ট-৩২৮১ এর রোটারী ইয়ার-২০২০-২০২১ ডিষ্ট্র্রিক্ট গভর্নর নমিনি ডেজিনেটেড হওয়ায় ও সাদিয়া রহমান সাথী বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী অর্জনের পর ২০১০ সালে ইউনিলিভার বাংলাদেশের ইমপোর্ট প্লানার হিসাবে যোগদান করেন। বর্তমানে সে চারটি উপ বিভাগ এবং বিশ জন ম্যানেজারসহ লজিসটিক ডিপার্টমেন্ট নেতৃত্ব দান করছেন। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ইউনিলিভার বাংলাদেশ তথা বাংলাদেশের অন্য কোন শিল্পে  কোন নারী এই পদে অধিষ্ঠিত হতে পারেন নাই। তিনিই প্রথম নারী হিসাবে এই পদে অধিষ্ঠিত  হয়েছেন যে কারনে ইউনিলিভার বাংলাদেশ সাদিয়াকে একজন গেম চেঞ্জার নারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং তাদের ওয়েব সাইটে নিউজ আকারে প্রকাশ করেছেন। আরও উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্রান্ড ফোরাম আন্তর্জাতিক নারী দিবসে তাকে প্রগ্রেছিং উয়েমেন লিডার হিসাবে সম্মাননা দিয়েছেন।এ উপলক্ষে তাদের সংবর্ধনা আয়োজন করে। সাদিয়া রহমান সাথী রোটারিয়ান মজিবুর রহমান মৃধা এবং মিসেস সুলতানা রহমানের জৈষ্ঠ্য ও একমাত্র কন্যা। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করছেন শিউলি হক, মোঃ কামাল উদ্দিন ও শর্মী। অনুষ্ঠানে রোটারিয়ান ও তাদের পরিবারবর্গ উপস্থিত ছিলেন।



২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস শান্তির পথে এগিয়ে যাক স্বপ্নের পৃথিবী
                                  

মার্চ হলো লাল-সবুজের পতাকা ওড়ানোর  মাস। ১৯৭১ সালের এই মাসে বাংলার ছাত্র, যুবক, কৃষক, মজুর ঝাপিয়ে পড়েছিলো মুক্তির সংগ্রামে। দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন তার চূড়ান্ত পরিণতি। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের সূচনার সেই গৌরব ও অহংকারের মাস। ১৯৭১ এর ৭ মার্চ সাবেক রেসর্কোস ময়দান অর্থাৎ আজকের  সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেয়া ঐতিহাসিক ভাষণের সময় মুহুর্মুহু গর্জনে উত্তাল ছিল জনসমুদ্র। লক্ষ কন্ঠের একই আওয়াজ উচ্চারতি হতে থাকে  দেশের এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে।
২৫ মার্চের কালোরাতে পাকিস্তানিরা বাঙ্গালির কন্ঠ চিরতরে স্তব্দ করে দেয়ার লক্ষ্যে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে বাঙালি নিধনে গণহত্যা শুরু করে। ঢাকার রাস্তায় রাস্তায়  গর্জে ওঠে পাকিস্তানিদের ট্যাঙ্ক ও কামানের ঘোলা তারা নির্বিচারে হাজার হাজার লোককে হত্যা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ছাত্র-শিক্ষককে হত্যা করে।
এর পরের ঘটনাপ্রবাহ প্রতিরোধের ইতিহাস। আবাল বৃদ্ধ বনিতা যোগ দেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে জাতি লাভ করে স্বাধীনতা।
এ মাসেই জাতি এবার পালন করবে মহান স্বাধীনতার ৪৭ বছর।
শুধু আনুষ্ঠানিকতার মাঝে স্বাধীনতার বিষয়টিকে আবদ্ধ রাখলে হবেনা। যে লক্ষ্যে স্বাধীনতার জন্য অগণিত প্রাণ উৎসর্গ করেছিল জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা তার কতটুকু আমরা পেয়েছি এবং কতটুকুু পাওয়া উচিৎ ছিল তা এখন মূল্যায়নের সময় এসেছে। অগ্নিঝরা এই মার্চ মাসে দেশের সকল নাগরিকের গণতান্ত্রিক ও  রাজনৈতিক অধিকার যেন অক্ষুন্ন থাকে। সেজন্য প্রধানত সরকার ও প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের পারষ্পারিক সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে।
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শান্তির পথে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বহু স্বপ্ন এখনো অপূর্ণ রয়ে  গেছে। মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সে সব স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের আরো অনেক পরিশ্রম করতে হবে, জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবাধিকার সমৃদ্ধ স্বপ্নের পৃথিবী। তবেই আমরা উপভোগ করতে পারবো স্বাধীনতার প্রকৃত স্বা’দ।



মহান ২১শে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস চিরন্তন হোক অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও প্রতিষ্ঠিত হোক মানবাধিকার সমৃদ্ধ বাংলাদেশ
                                  

গত শতাব্দীতে বাঙালি জাতির জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ। এবং এরপর ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, এটিও একটি অন্যতম অর্জন।
২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে’ পরিণত করার ভাবনা প্রথমে আসে কানাডার ভাংকুভারে প্রবাসী বাঙালি রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালামের মাথায়। বাংলা ভাষা রক্ষার জন্য বাঙালিরা প্রাণ দিয়েছে, কাজেই তাদের এই অবদানের সম্মানার্থে ২১শে  ফেব্রুয়ারিকে যেন ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ঘোষণা করা হয়, এ ব্যাপারে তারা ১৯৯৮ সালের জানুয়ারী মাসে জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানকে চিঠি লেখেন। ইতিমধ্যে প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেছে। এরপর জাতিসংঘ থেকে দিকনির্দেশনা পেয়ে তারা বিষয়টি প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দফতরে প্রেরণ করেন।
সেখান থেকে তাদের ১৯৯৯ সালের এপ্রিল মাসে জানানো হলো, ‘তোমাদের বিষয়টি খুবই ইন্টারেস্টিং, ইউনেস্কো এ ধরনের প্রস্তাব পেলে তা আলোচনা করে থাকে। বিষয়টি অক্টোবরে প্যারিসে অনুষ্ঠেয় ইউনেস্কো সম্মেলনে তুলতে হবে এবং তা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে হলে চলবে না, কোনো সদস্য রাষ্ট্র কর্তৃক অফিসিয়াল ভাবে উত্থাপন করতে হবে।’ এরপর রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালাম বিষয়টি সবিস্তারে ব্যাখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠান। । এদিকে হাতে সময় ছিল খুবই কম। কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে ইউনেস্কো সদর দফতরে এ প্রস্তাব পাঠানোর শেষ তারিখ ছিল ১০ সেপ্টেম্বর। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আনেন। তখন দেশটি মাত্র ক্রিকেট টেষ্ট স্ট্যাটাস পেয়ে উজ্জিবিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে সময় নষ্ট না করে ত্বরিত সিদ্ধান্ত দেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ  নেওয়ার জন্য।
সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ‘ভাষা ও সংস্কৃতির বিভিন্নতা সংরক্ষণ’ সম্পর্কিত ইউনেস্কোর নীতিমালার আলোকে ইউনেস্কোর ৩০ তম সাধারণ সম্মেলনে ২১শে ফেব্রুয়ারীকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার জন্য প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করার ব্যাবস্থা করা হয়।
-এভাবেই ২১শে ফেব্রুয়ারী ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ এর স্বীকৃতি অর্জন করে।
১৯৫২ সালে বাংলা ভাষার জন্য প্রান দিয়েছে সালাম, বরকতসহ অসংখ্য বাঙালী। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের হাত থেকে আজকের বাংলাদেশ ৯মাস যুদ্ধ করে স্বাধীনতার পাশাপাশি ভাষার অধিকার ফিরে পায়; ‘মোদের গর্ব মোদের আ  শা, আমরি বাংলা ভাষা।’ বাংলা ভাষার মর্যাদা চিরন্তন হোক। গুছে যাক অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও প্রতিষ্ঠিত হোক মানবাধিকার সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

স্বাগত-২০১৮ নতুন বছর হোক শান্তি ও মানবাধিকার সমৃদ্ধ
                                  

নববর্ষ উদযাপন  মানব সভ্যতার অনুষঙ্গ। কালের বিবর্তনে গ্রেগরীয় ক্যালেন্ডারের ১ জানুয়ারি দিনটি দুনিয়াজুড়ে নববর্ষ হিসেবে পালিত হচ্ছে। ৩১ ডিসেম্বর বিদায় নিয়েছে স্মৃতিমন্ডিত ২০১৭ সাল। পরবর্তী ১২টা ১ মিনিট থেকে শুরু হয়েছে ২০১৮ সালের পথপরিক্রমা। নববর্ষ প্রতিটি মানুষের জীবনে বিশেষ তাতপর্যের দাবি রাখে। নতুন বছরকে সামনে রেখে বা নতুন বছরে পা দিয়ে মানুষ শপথ নেয় আগত দিনগুলোকে সুন্দরভাবে সাজানোর। বিদায়ী বছরের যা কিছু ভুলত্রুটি, যা কিছু গ্লøানিময় পরিহার করার। শুধু ব্যক্তি জীবনই নয়, জাতীয়ভাবেও নতুন বছরটি ইতিবাচক হয়ে দেখা দেবে এমনটি আশা করা হয়। বাংলাদেশের জন্য বিদায়ী বছরটি ছিল দুর্যোগ-দুর্বিপাকের বছর। পাহাড়ি ঢলে হাওর এলাকায় ফসল নষ্টের পাশাপাশি বন্যার করাল গ্রাসে বোরো ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দেশকে ব্যাপক খাদ্য ঘাটতির মুখে ঠেলে দেয়। কোটি কোটি মণ চাল আমদানি করতে হয়েছে বিদায়ী বছরে। প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর আগমন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা  দেয়। অভাবনীয় সংকট সত্ত্বেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার এ বছরটি ছিল অর্থনৈতিক দিক  থেকে একটি সফল বছর। উন্নয়নের সোপানে আরও একধাপ অগ্রগতির সাফল্যও অর্জিত হয়েছে বিদায়ী বছরে। ইতিহাসের বিবেচনায় বাঙালি এক প্রাচীন জাতি। গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের অধিবাসীদের রয়েছে পাঁচ হাজার বছরের ঐতিহ্য। আমাদের আধুনিক ইতিহাসও অহঙ্কার করার মতো। জাতিগতভাবে বাঙালিরা যে সচেতন এবং আত্মমর্যাদাসম্পন্ন তা ফুটে উঠেছে ভাষা ও স্বাধীনতার জন্য এ জাতির আত্মত্যাগের ইতিহাসে। প্রকৃতি উদারভাবে আমাদের দান করেছে উর্বর মাটি। এ মাটিতে বীজ বুনলেই সহজে ভরে যায় ফসলের মাঠ। এ  দেশের নদ-নদী, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় যতœ  পেলে সোনার খনিতে রূপান্তরিত হয়। মানব সম্পদে সমৃদ্ধ এ দেশকে দরিদ্র বলার অবকাশ  নেই। বাংলাদেশের মানুষ প্রতিকূল অবস্থাকে জয় করার সাহসও রাখে। প্রকৃতি আমাদের  সেভাবেই সৃষ্টি করেছে। আমাদের রয়েছে পরিশ্রমী মানুষ। ঐক্যবদ্ধভাবে প্রয়াস চালালে এ জাতিকে সমৃদ্ধ বিশ্বের কাতারে নিয়ে যাওয়া কঠিন কিছু নয়। তবে এ জন্য দরকার জাতীয় ঐক্য। দরকার হীনমন্যতাকে ঝেড়ে ফেলে শিরদাঁড়া সোজা করা। দরকার পারস্পরিক সহনশীল পরিবেশ।
এ জন্য গণতান্ত্রিক  চেতনায় আত্মস্থ হতে হবে। চলতি বছরের  শেষভাগে যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তাতে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। দেশে গণতন্ত্র চর্চা ও সব মতের সহাবস্থানও নিশ্চিত করতে হবে।  গড়ে তুলতে হবে সুদৃঢ় ঐক্য। গ্রেগরিয়ান নববর্ষে দেশ ও বিশ্ববাসীকে আমাদের শুভেচ্ছা।

মহান বিজয়ের মাসে শপথ হোক মানবাধিকার সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ার
                                  

মানবাধিকার শব্দটি ছোট হলেও এর অর্থের ব্যপ্তি অনেক বিস্তার। প্রত্যেক দেশ ও জাতিরই কিছু গৌরবোজ্জল দিন থাকে। সেই দিনগুলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। আর এই দিবস গুলোর জন্যে কোন না কোন মাস দেশ ও জাতির জীবনে অতি উজ্জ্বল গর্বের মাস হিসেবে পরিলক্ষিত হয়। ডিসেম্বর মাস আমাদের জীবনের তেমনই একটি গর্বিত মাস। ১০ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী পালন করা হয় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস, ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মহান বিজয় দিবস ও ২৫ ডিসেম্বর খ্রিষ্টধর্মালম্বীদের বড় দিন। 

১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারন পরিষদে মানবাদিকার সার্বজনীন ঘোষনাপত্র গৃহীত হয়। ১৯৫০ সালে এই দিনটিকে জাতিসংঘ বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসেবে ঘোষনা দেয়। সেই থেকে বিশ্বজুড়ে এ দিনটি পালিত হচ্ছে। বজ্র আটুনি ফস্কো গিরো। আইন যত কঠিন তা ভাঙ্গা ততই সহজ। ঘটা করে আইন করা হয় যেন তা ভাঙ্গার আনন্দ লাভের জন্য। আইন ভাঙ্গার এই ধারাবাহিকতায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মহা সমারোহে পালিত হয় বিশ্ব মানবাধিকার দিবস।

নারী-পুরুষ ও শিশু নির্বিশেষে সমাজে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে মানবাধিকারের প্রভাব অনস্বীকার্য। তাই খৃষ্টপূর্ব প্রায় ২২৮৮ থেকে ২১৩০ সালে পৃথিবীর প্রাচীনতম আইন সংকলন ব্যবলিনের রাজা হাম্মারাবীর নিয়ামাবলীতে মানবাধিকার সংরক্ষনের কথা পাওয়া যায়। খৃষ্টীয় ৭ম শতাব্দীতে মদিনার বহু ধর্মভিত্তিক সমাজে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কর্তৃক প্রনীত মদিনার সনদ-এ মদিনার সকল নাগরিকই সমান অধিকার ভোগ করবে এ কথা বলা হয়েছিল। বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে আলোচিত ও অবহেলিত প্রসঙ্গটির নাম মানবাধিকার। ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালনে যতটা থাকে আনুষ্ঠানিকতা তার সামান্যতম অংশ বাস্তবায়িত হলে বিশ্ব থেকে নির্বাসিত হত বিচার বহিভূত হত্যা, শিশু ও নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস, ছিনতাই, রাহাজানীসহ হাজারো অপরাধ। জাতিসংঘের সকল সদস্যভুক্ত রাষ্ট সভা, আলোচনা অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালন করে থাকে। সার্বজনীন মানব অধিকার ঘোষনা ছিল ২য় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী নবরূপে সৃষ্ট জাতিসংঘের অন্যতম বৃহৎ অর্জন এছাড়াও, ‘সার্বজনীন মানব অধিকার সংক্রান্ত ঘোষনাকে’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ তারিখকে নির্ধারন করা হয়। বিশ্বজুড়ে যখন মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ পুরো বিশ্বেই। প্রতিদিনই নির্যাতন ও হত্যার শিকার হচ্ছে মিয়ানমারের শত শত রোহিঙ্গা মুসলিম।

বাঙালির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তির দিন। এদিন বিশ্বের মানচিত্রে সৃষ্টি হয় নতুন একটি সার্বভৌম দেশ, বাংলাদেশ। যা বাঙালি জাতিকে এনে দেয় আত্মপরিচয়ের ঠিকানা।যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এ বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন সেসব শহীদকে বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করবে দেশের সর্বস্তরের মানুষ। বিজয়ের ৪৬ টি বছর পেরিয়ে গেলেও রক্তক্ষরণ আজো থামেনি। সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিজয়ের এ দিনে সবার অঙ্গীকার, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ার। যেসব বৈষম্য থেকে স্বাধীনতার জন্ম সেইসব বৈষম্যগুলো থেকে এ জাতি বেরিয়ে আসবে এটাই আমাদের কাম্য হোক।

১০ নভেম্বর নূর হোসেন দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধা
                                  

প্রতিষ্ঠিত হোক মানুষের অধিকার ও প্রকৃত গনতন্ত্র

গনতন্ত্রের জন্য নভেম্বর মাস বাংলা ও বাঙ্গালী জাতির স্মরনীয় ও শিক্ষনীয় মাস। ১০ নভেম্বর শহীদ নূর হোসেন দিবস। ১৯৮৭ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু আদর্শে অনুসারী নূর হোসেন “সৈ¦রাচার নিপাক যাক/গনতন্ত্র মুক্তি পাক” শ্লোগান বুকে-পিঠে ধারন করে শহীদ হয়েছিলেন। কবি শামসুর রহমান নূর হোসেনের আত্মত্যাগের বর্ননা করেছিলেন তার “বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়” কবিতায় এ ভাবে উদোম শরীরে নেমে আসে রাজপথে, বুকে-পিঠে/রৌদ্রের অক্ষরে লেখা অনন্য শ্লোগান/বীরের মূদ্রায় হাটে মিছিলের পুরোভাগে এবং হঠাৎ/ শহরে টহলদার ঝাঁক ঝাঁক বন্ধুকের সীসা/নূর হোসেনের বুকে নয় যেন বাংলাদেশের হৃদয় / ফুটো করে দেয়; বাংলাদেশ / বনপোড়া হরিনীর মত আর্তনাদ করে, তার /বুক থেকে অবিরল রক্ত ঝরতে থাকে, ঝরতে থাকে।

নূর হোসেন, এক অমিত সাহসী আত্মোৎসর্গকারী প্রেরনাদায়ক যুবকের নাম। স্বৈরাচারের বুলেট আলিঙ্গন করেছিল যে দ্বিধাহীন চিত্তে। সেদিন নূর হোসেনের জীবনদান ছিল গনতান্ত্রিক আন্দোলনের এক মাইল ফলোক, বিসুভিয়াসের আগ্নেগিরির এক জলন্ত লেলিহান শিখা, সেদিন নূর হোসেন হয়ে উঠেছিল সমগ্র বাঙ্গালীর বাংলাদেশ। ক্ষুদিরাম, মাষ্টারদা সূর্যসেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার প্রমুখ শহীদ যে পথ দেখিয়ে গেছেন সেই পথেই নূর হোসেন যুক্ত হলেন আরেক স্বাধীনচেতা আত্মোৎসর্গকারী যুবক হিসেবে। নূর হোসেনের রক্তে রঞ্জিত অর্জিত গনতান্ত্রিক বাংলাদেশে চলছে জঙ্গি মৌলবাদী গোষ্ঠির উম্মত্ততা, প্রকৃত গনতন্ত্র চর্চার অভাব, সংকীর্ন হয়ে আসছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা।

গত ১০ নভেম্বর রংপুরে ঠাকুরপাড়ায় ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ায় সংঘর্ষে ১ জন নিহত সহ হামলা, লুট, অগ্নি সংযোগ করা হয়। চিরায়িত বাংলা ও বাঙালীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন নষ্ট করার জন্য চলছে হিন্দু ধর্মালম্বীদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নী সংযোগ মন্দিরে আগুন। কয়েক বছর আগে যা হয়েছিল রামুতে বৌদ্ধ বিহারে।

আজ আমরা এই দিনটিকে স্মরন করবো বাংলা ও বাঙালীর চিরায়ত বন্ধনে। কোন অশুভ শক্তি যেন ক্ষতবিক্ষত করতে না পারে। সব অসম্প্রদায়িক শক্তির ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মধ্য দিয়ে তা এগিয়ে যাক নিরন্তর। নূর হোসেন তুমি ঘুমাও শান্তির পতাকার তলে। অমরত্ব লাভ করুক তোমার আত্মত্যাগে। গনতন্ত্র এগিয়ে যাক শোষন মুক্তির অভিষ্ট লক্ষ্যে। প্রকৃত গনতন্ত্রের মধ্যদিয়ে অধিকার ফিরে পাক মুক্তিকামী মানুষ। এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।

মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান হোক
                                  


মিয়ানমার সরকার তাদের দেশে ৭০০-৮০০ বছর ধরে বসবাসরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সামরিক অভিযান চালিয়ে, গণহত্যা চালিয়ে, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে বাংলাদেশে বিতাড়িত করছে।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে আরো পাঁচ লাখের মতো রোহিঙ্গা বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে এসেছে। মিয়ানমার সরকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে বিতাড়িত করছে। প্রক্রিয়াটি চলমান আছে। রোহিঙ্গাদের দুর্দশা অবর্ণনীয়। বিশ্বজুড়ে জনগণ মিয়ানমার সরকারের ভূমিকার নিন্দায় মুখর।

রোহিঙ্গাদের বিতাড়নকে কেন্দ্র করে সমস্যার প্রকৃতি বোঝার জন্য রোহিঙ্গাদের ইতিহাস-ভূগোল নিয়ে বহু তথ্য প্রচারমাধ্যমে আসছে। নানা মহলের গবেষণার মাধ্যমেও উন্মোচিত হচ্ছে নানা তথ্য ও ঘটনা। এসবের মধ্যে নানা মতলবে কোনো কোনো মহল থেকে মিথ্যা প্রচার দিয়ে সমস্যাকে জটিলও করে তোলা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী জনমত আর বিভিন্ন দেশের সরকারের মত একরকম নয়।

রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ে যেসব তথ্য সামনে এসেছে তাতে বোঝা যায়, সমস্যা অতি পুরনো ও অত্যন্ত জটিল। ৭০০-৮০০ বছর ধরে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন বা আরাকানে বসবাস করা সত্ত্বেও মিয়ানমার সরকার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করছে না। বৃহৎ শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে সমস্যাটিকে ব্যবহার করে আসছে। কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন যে সুপারিশ ঘোষণা করেছিল, বাংলাদেশ তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করে আসছে। এখনো সফল হয়নি। বৃহৎ শক্তিগুলোর কূটনীতি সমস্যাকে জটিল করে চলেছে। মিয়ানমার সরকারের বেপরোয়া ভূমিকার সামনে বাংলাদেশ সরকারকে অসহায়ের মতো দেখা যাচ্ছে।

রাশিয়া, চীন ও ভারত মিয়ানমারের পক্ষ অবলম্বন করে সমস্যার সমাধানের কথা বলছে। অনেক সরকার ও কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ মানবিক বিপর্যয় দেখে সেদিক থেকে সমস্যার সমাধানের কথা বলছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, তুরস্ক প্রভৃতি রাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে থেকে সমস্যার সমাধানের কথা বলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ বাংলাদেশের ভূমিকার খুব প্রশংসা করছে কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কথার ওপর আস্থা রাখা যায় না। আর জাতিসংঘে তো শেষ পর্যন্ত সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলোরই সংঘ।

রোহিঙ্গা সমস্যাকে বাংলাদেশের জনগণ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত বড় সমস্যা হিসেবে দেখছে কিন্তু আওয়ামী লীগ, বিএনপি, সিভিল সোসাইটি সেভাবে উপলব্ধি করছে বলে মনে হয় না। তাদের বক্তব্যেও পারস্পরিক ভিন্নতা ফুটে ওঠে। এনজিও মহল তাদের অবস্থানে থেকে কথা বলছে এবং কাজ করছে। এই বহুত্ববাদী বাস্তবতায় বাংলাদেশের জাতীয় অনৈক্য প্রকাশ পাচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুত্ববাদ দারুণ জাতীয় অনৈক্যের পরিচয়কে প্রকটিত করছে। এর ফলে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে দুর্যোগের মুহূর্তে বাংলাদেশ বিশ্ববাসীর সামনে নিজেকে ঐক্যহীন ও দুর্বল প্রমাণ করছে। আমরা চাই, বহুত্ববাদ নয়, বহুত্বমূলক সংহতি; আমরা চাই বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য। বহুত্ব ও বৈচিত্র্যকে যথোচিত গুরুত্ব দিয়ে ঐক্য। এনজিও ও সিএসও মহল থেকে প্রচারিত বহুত্ববাদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব ও জনজীবনের জন্য সমূহ বিপদের কারণ হচ্ছে। বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের কোনো সম্ভাবনাই এখন দেখা যাচ্ছে না

রোহিঙ্গাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে একটি সূক্ষ্ম চক্রান্ত চলছে । রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত আরো অনেক আগেই বাংলাদেশের বোঝা দরকার ছিল। বুঝে কাজ করা দরকার ছিল। এখন সমস্যা যে পর্যায়ে গেছে এবং বাংলাদেশ সরকারের ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের যে অবস্থা, তাতে বাংলাদেশ কী করতে পারবে? বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার দুর্দশাগ্রস্ত বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে সম্পূর্ণ মানবিক বিবেচনায়। বাংলাদেশ তাদের মিয়ানমারের নাগরিক মনে করে। বাংলাদেশ চায়, মিয়ানমার তাদের ফেরত নিক এবং নাগরিকত্ব দিয়ে তাদের সচ্ছল-সম্মানজনক জীবনের অধিকারী করুক। কিন্তু মিয়ানমার তাদের মিয়ানমারের লোক মনে করে না।

এমতাবস্থায় অবস্থা ঘনিভূত থেকে আরও ঘনিভূত হচ্ছে। তাই দল-মত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে অবস্থা মোকাবেলা জরুরী। প্রচ্ছদ প্রতিবেদন


   Page 1 of 2
     সম্পাদকীয়
অবশ হাতে অনুভূতি ফিরে পাচ্ছেন ইউএনও ওয়াহিদা
.............................................................................................
পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু ঐতিহাসিক রায় আইনশৃংখলা বাহিনী আইনের উর্দ্ধে নয়
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধু ছিলেন মুক্তি ও মানবতার অগ্রদূত
.............................................................................................
অসহায় মায়েদের পাশে অনন্ত জলিলের স্ত্রী বর্ষা
.............................................................................................
পবিত্র ঈদুল আযহা মহামারি করোনার নিয়ন্ত্রন করা হোক
.............................................................................................
বিশ্ব মানবাধিকার দিবস ও মহান বিজয়ের মাসে শপথ হোক মানবাধিকার সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ার
.............................................................................................
প্রতিষ্ঠিত হোক শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার
.............................................................................................
ঈদুল ফিতর ঈদের আনন্দ হোক সার্বজনীন ।
.............................................................................................
মানবাধিকার ও শান্তির বারতা নিয়ে আসুক
.............................................................................................
ফটো ফিচার
.............................................................................................
২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস শান্তির পথে এগিয়ে যাক স্বপ্নের পৃথিবী
.............................................................................................
মহান ২১শে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস চিরন্তন হোক অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও প্রতিষ্ঠিত হোক মানবাধিকার সমৃদ্ধ বাংলাদেশ
.............................................................................................
স্বাগত-২০১৮ নতুন বছর হোক শান্তি ও মানবাধিকার সমৃদ্ধ
.............................................................................................
মহান বিজয়ের মাসে শপথ হোক মানবাধিকার সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ার
.............................................................................................
১০ নভেম্বর নূর হোসেন দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধা
.............................................................................................
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান হোক
.............................................................................................
ঈদ হোক মানবতার কল্যাণে সুখের বারতা
.............................................................................................
প্রতিষ্ঠিত হোক শ্রমজীবিদের অধিকার
.............................................................................................
মানবাধিকার ও শান্তিতে উদ্ভাসিত হোক বিশ্ব মানবতা
.............................................................................................
মানবাধিকার খবরকে একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রদীপ ভট্টাচার্য জঙ্গি হামলা উন্নয়ন ও মানবাধিকারের উপর চরম আঘাত
.............................................................................................
সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই
.............................................................................................
দেশে সঠিক মানবাধিকার নেই গভর্নমেন্ট বাই দ্যা পুলিশ, ফর দ্যা পুলিশ, অব দ্যা পুলিশ -ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

Editor & Publisher: Rtn. Md Reaz Uddin
Corporate Office
Kabbocash Bhabon (5th Floor), Room No: 5/18, Kawran Bazar, Dhaka-1215.
E-mail:manabadhikarkhabar11@gmail.com,manabadhikarkhabar34@yahoo.com,
Tel:+88-02-41010307
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-41010308
    2015 @ All Right Reserved By manabadhikarkhabar.com    সম্পাদকীয়    আর্কাইভ

   
Dynamic SOlution IT Dynamic POS | Super Shop | Dealer Ship | Show Room Software | Trading Software | Inventory Management Software Computer | Mobile | Electronics Item Software Accounts,HR & Payroll Software Hospital | Clinic Management Software Dynamic Scale BD Digital Truck Scale | Platform Scale | Weighing Bridge Scale Digital Load Cell Digital Indicator Digital Score Board Junction Box | Chequer Plate | Girder Digital Scale | Digital Floor Scale