| বাংলার জন্য ক্লিক করুন

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   সম্পাদকীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
মহান বিজয়ের মাসে শপথ হোক মানবাধিকার সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ার

মানবাধিকার শব্দটি ছোট হলেও এর অর্থের ব্যপ্তি অনেক বিস্তার। প্রত্যেক দেশ ও জাতিরই কিছু গৌরবোজ্জল দিন থাকে। সেই দিনগুলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। আর এই দিবস গুলোর জন্যে কোন না কোন মাস দেশ ও জাতির জীবনে অতি উজ্জ্বল গর্বের মাস হিসেবে পরিলক্ষিত হয়। ডিসেম্বর মাস আমাদের জীবনের তেমনই একটি গর্বিত মাস। ১০ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী পালন করা হয় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস, ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মহান বিজয় দিবস ও ২৫ ডিসেম্বর খ্রিষ্টধর্মালম্বীদের বড় দিন। 

১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারন পরিষদে মানবাদিকার সার্বজনীন ঘোষনাপত্র গৃহীত হয়। ১৯৫০ সালে এই দিনটিকে জাতিসংঘ বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসেবে ঘোষনা দেয়। সেই থেকে বিশ্বজুড়ে এ দিনটি পালিত হচ্ছে। বজ্র আটুনি ফস্কো গিরো। আইন যত কঠিন তা ভাঙ্গা ততই সহজ। ঘটা করে আইন করা হয় যেন তা ভাঙ্গার আনন্দ লাভের জন্য। আইন ভাঙ্গার এই ধারাবাহিকতায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মহা সমারোহে পালিত হয় বিশ্ব মানবাধিকার দিবস।

নারী-পুরুষ ও শিশু নির্বিশেষে সমাজে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে মানবাধিকারের প্রভাব অনস্বীকার্য। তাই খৃষ্টপূর্ব প্রায় ২২৮৮ থেকে ২১৩০ সালে পৃথিবীর প্রাচীনতম আইন সংকলন ব্যবলিনের রাজা হাম্মারাবীর নিয়ামাবলীতে মানবাধিকার সংরক্ষনের কথা পাওয়া যায়। খৃষ্টীয় ৭ম শতাব্দীতে মদিনার বহু ধর্মভিত্তিক সমাজে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কর্তৃক প্রনীত মদিনার সনদ-এ মদিনার সকল নাগরিকই সমান অধিকার ভোগ করবে এ কথা বলা হয়েছিল। বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে আলোচিত ও অবহেলিত প্রসঙ্গটির নাম মানবাধিকার। ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালনে যতটা থাকে আনুষ্ঠানিকতা তার সামান্যতম অংশ বাস্তবায়িত হলে বিশ্ব থেকে নির্বাসিত হত বিচার বহিভূত হত্যা, শিশু ও নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস, ছিনতাই, রাহাজানীসহ হাজারো অপরাধ। জাতিসংঘের সকল সদস্যভুক্ত রাষ্ট সভা, আলোচনা অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালন করে থাকে। সার্বজনীন মানব অধিকার ঘোষনা ছিল ২য় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী নবরূপে সৃষ্ট জাতিসংঘের অন্যতম বৃহৎ অর্জন এছাড়াও, ‘সার্বজনীন মানব অধিকার সংক্রান্ত ঘোষনাকে’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ তারিখকে নির্ধারন করা হয়। বিশ্বজুড়ে যখন মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ পুরো বিশ্বেই। প্রতিদিনই নির্যাতন ও হত্যার শিকার হচ্ছে মিয়ানমারের শত শত রোহিঙ্গা মুসলিম।

বাঙালির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তির দিন। এদিন বিশ্বের মানচিত্রে সৃষ্টি হয় নতুন একটি সার্বভৌম দেশ, বাংলাদেশ। যা বাঙালি জাতিকে এনে দেয় আত্মপরিচয়ের ঠিকানা।যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এ বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন সেসব শহীদকে বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করবে দেশের সর্বস্তরের মানুষ। বিজয়ের ৪৬ টি বছর পেরিয়ে গেলেও রক্তক্ষরণ আজো থামেনি। সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিজয়ের এ দিনে সবার অঙ্গীকার, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ার। যেসব বৈষম্য থেকে স্বাধীনতার জন্ম সেইসব বৈষম্যগুলো থেকে এ জাতি বেরিয়ে আসবে এটাই আমাদের কাম্য হোক।

মহান বিজয়ের মাসে শপথ হোক মানবাধিকার সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ার
                                  

মানবাধিকার শব্দটি ছোট হলেও এর অর্থের ব্যপ্তি অনেক বিস্তার। প্রত্যেক দেশ ও জাতিরই কিছু গৌরবোজ্জল দিন থাকে। সেই দিনগুলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। আর এই দিবস গুলোর জন্যে কোন না কোন মাস দেশ ও জাতির জীবনে অতি উজ্জ্বল গর্বের মাস হিসেবে পরিলক্ষিত হয়। ডিসেম্বর মাস আমাদের জীবনের তেমনই একটি গর্বিত মাস। ১০ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী পালন করা হয় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস, ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মহান বিজয় দিবস ও ২৫ ডিসেম্বর খ্রিষ্টধর্মালম্বীদের বড় দিন। 

১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারন পরিষদে মানবাদিকার সার্বজনীন ঘোষনাপত্র গৃহীত হয়। ১৯৫০ সালে এই দিনটিকে জাতিসংঘ বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসেবে ঘোষনা দেয়। সেই থেকে বিশ্বজুড়ে এ দিনটি পালিত হচ্ছে। বজ্র আটুনি ফস্কো গিরো। আইন যত কঠিন তা ভাঙ্গা ততই সহজ। ঘটা করে আইন করা হয় যেন তা ভাঙ্গার আনন্দ লাভের জন্য। আইন ভাঙ্গার এই ধারাবাহিকতায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মহা সমারোহে পালিত হয় বিশ্ব মানবাধিকার দিবস।

নারী-পুরুষ ও শিশু নির্বিশেষে সমাজে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে মানবাধিকারের প্রভাব অনস্বীকার্য। তাই খৃষ্টপূর্ব প্রায় ২২৮৮ থেকে ২১৩০ সালে পৃথিবীর প্রাচীনতম আইন সংকলন ব্যবলিনের রাজা হাম্মারাবীর নিয়ামাবলীতে মানবাধিকার সংরক্ষনের কথা পাওয়া যায়। খৃষ্টীয় ৭ম শতাব্দীতে মদিনার বহু ধর্মভিত্তিক সমাজে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কর্তৃক প্রনীত মদিনার সনদ-এ মদিনার সকল নাগরিকই সমান অধিকার ভোগ করবে এ কথা বলা হয়েছিল। বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে আলোচিত ও অবহেলিত প্রসঙ্গটির নাম মানবাধিকার। ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালনে যতটা থাকে আনুষ্ঠানিকতা তার সামান্যতম অংশ বাস্তবায়িত হলে বিশ্ব থেকে নির্বাসিত হত বিচার বহিভূত হত্যা, শিশু ও নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস, ছিনতাই, রাহাজানীসহ হাজারো অপরাধ। জাতিসংঘের সকল সদস্যভুক্ত রাষ্ট সভা, আলোচনা অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালন করে থাকে। সার্বজনীন মানব অধিকার ঘোষনা ছিল ২য় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী নবরূপে সৃষ্ট জাতিসংঘের অন্যতম বৃহৎ অর্জন এছাড়াও, ‘সার্বজনীন মানব অধিকার সংক্রান্ত ঘোষনাকে’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ তারিখকে নির্ধারন করা হয়। বিশ্বজুড়ে যখন মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ পুরো বিশ্বেই। প্রতিদিনই নির্যাতন ও হত্যার শিকার হচ্ছে মিয়ানমারের শত শত রোহিঙ্গা মুসলিম।

বাঙালির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তির দিন। এদিন বিশ্বের মানচিত্রে সৃষ্টি হয় নতুন একটি সার্বভৌম দেশ, বাংলাদেশ। যা বাঙালি জাতিকে এনে দেয় আত্মপরিচয়ের ঠিকানা।যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এ বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন সেসব শহীদকে বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করবে দেশের সর্বস্তরের মানুষ। বিজয়ের ৪৬ টি বছর পেরিয়ে গেলেও রক্তক্ষরণ আজো থামেনি। সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিজয়ের এ দিনে সবার অঙ্গীকার, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ার। যেসব বৈষম্য থেকে স্বাধীনতার জন্ম সেইসব বৈষম্যগুলো থেকে এ জাতি বেরিয়ে আসবে এটাই আমাদের কাম্য হোক।

১০ নভেম্বর নূর হোসেন দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধা
                                  

প্রতিষ্ঠিত হোক মানুষের অধিকার ও প্রকৃত গনতন্ত্র

গনতন্ত্রের জন্য নভেম্বর মাস বাংলা ও বাঙ্গালী জাতির স্মরনীয় ও শিক্ষনীয় মাস। ১০ নভেম্বর শহীদ নূর হোসেন দিবস। ১৯৮৭ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু আদর্শে অনুসারী নূর হোসেন “সৈ¦রাচার নিপাক যাক/গনতন্ত্র মুক্তি পাক” শ্লোগান বুকে-পিঠে ধারন করে শহীদ হয়েছিলেন। কবি শামসুর রহমান নূর হোসেনের আত্মত্যাগের বর্ননা করেছিলেন তার “বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়” কবিতায় এ ভাবে উদোম শরীরে নেমে আসে রাজপথে, বুকে-পিঠে/রৌদ্রের অক্ষরে লেখা অনন্য শ্লোগান/বীরের মূদ্রায় হাটে মিছিলের পুরোভাগে এবং হঠাৎ/ শহরে টহলদার ঝাঁক ঝাঁক বন্ধুকের সীসা/নূর হোসেনের বুকে নয় যেন বাংলাদেশের হৃদয় / ফুটো করে দেয়; বাংলাদেশ / বনপোড়া হরিনীর মত আর্তনাদ করে, তার /বুক থেকে অবিরল রক্ত ঝরতে থাকে, ঝরতে থাকে।

নূর হোসেন, এক অমিত সাহসী আত্মোৎসর্গকারী প্রেরনাদায়ক যুবকের নাম। স্বৈরাচারের বুলেট আলিঙ্গন করেছিল যে দ্বিধাহীন চিত্তে। সেদিন নূর হোসেনের জীবনদান ছিল গনতান্ত্রিক আন্দোলনের এক মাইল ফলোক, বিসুভিয়াসের আগ্নেগিরির এক জলন্ত লেলিহান শিখা, সেদিন নূর হোসেন হয়ে উঠেছিল সমগ্র বাঙ্গালীর বাংলাদেশ। ক্ষুদিরাম, মাষ্টারদা সূর্যসেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার প্রমুখ শহীদ যে পথ দেখিয়ে গেছেন সেই পথেই নূর হোসেন যুক্ত হলেন আরেক স্বাধীনচেতা আত্মোৎসর্গকারী যুবক হিসেবে। নূর হোসেনের রক্তে রঞ্জিত অর্জিত গনতান্ত্রিক বাংলাদেশে চলছে জঙ্গি মৌলবাদী গোষ্ঠির উম্মত্ততা, প্রকৃত গনতন্ত্র চর্চার অভাব, সংকীর্ন হয়ে আসছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা।

গত ১০ নভেম্বর রংপুরে ঠাকুরপাড়ায় ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ায় সংঘর্ষে ১ জন নিহত সহ হামলা, লুট, অগ্নি সংযোগ করা হয়। চিরায়িত বাংলা ও বাঙালীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন নষ্ট করার জন্য চলছে হিন্দু ধর্মালম্বীদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নী সংযোগ মন্দিরে আগুন। কয়েক বছর আগে যা হয়েছিল রামুতে বৌদ্ধ বিহারে।

আজ আমরা এই দিনটিকে স্মরন করবো বাংলা ও বাঙালীর চিরায়ত বন্ধনে। কোন অশুভ শক্তি যেন ক্ষতবিক্ষত করতে না পারে। সব অসম্প্রদায়িক শক্তির ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মধ্য দিয়ে তা এগিয়ে যাক নিরন্তর। নূর হোসেন তুমি ঘুমাও শান্তির পতাকার তলে। অমরত্ব লাভ করুক তোমার আত্মত্যাগে। গনতন্ত্র এগিয়ে যাক শোষন মুক্তির অভিষ্ট লক্ষ্যে। প্রকৃত গনতন্ত্রের মধ্যদিয়ে অধিকার ফিরে পাক মুক্তিকামী মানুষ। এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।

মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান হোক
                                  


মিয়ানমার সরকার তাদের দেশে ৭০০-৮০০ বছর ধরে বসবাসরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সামরিক অভিযান চালিয়ে, গণহত্যা চালিয়ে, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে বাংলাদেশে বিতাড়িত করছে।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে আরো পাঁচ লাখের মতো রোহিঙ্গা বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে এসেছে। মিয়ানমার সরকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে বিতাড়িত করছে। প্রক্রিয়াটি চলমান আছে। রোহিঙ্গাদের দুর্দশা অবর্ণনীয়। বিশ্বজুড়ে জনগণ মিয়ানমার সরকারের ভূমিকার নিন্দায় মুখর।

রোহিঙ্গাদের বিতাড়নকে কেন্দ্র করে সমস্যার প্রকৃতি বোঝার জন্য রোহিঙ্গাদের ইতিহাস-ভূগোল নিয়ে বহু তথ্য প্রচারমাধ্যমে আসছে। নানা মহলের গবেষণার মাধ্যমেও উন্মোচিত হচ্ছে নানা তথ্য ও ঘটনা। এসবের মধ্যে নানা মতলবে কোনো কোনো মহল থেকে মিথ্যা প্রচার দিয়ে সমস্যাকে জটিলও করে তোলা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী জনমত আর বিভিন্ন দেশের সরকারের মত একরকম নয়।

রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ে যেসব তথ্য সামনে এসেছে তাতে বোঝা যায়, সমস্যা অতি পুরনো ও অত্যন্ত জটিল। ৭০০-৮০০ বছর ধরে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন বা আরাকানে বসবাস করা সত্ত্বেও মিয়ানমার সরকার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করছে না। বৃহৎ শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে সমস্যাটিকে ব্যবহার করে আসছে। কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন যে সুপারিশ ঘোষণা করেছিল, বাংলাদেশ তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করে আসছে। এখনো সফল হয়নি। বৃহৎ শক্তিগুলোর কূটনীতি সমস্যাকে জটিল করে চলেছে। মিয়ানমার সরকারের বেপরোয়া ভূমিকার সামনে বাংলাদেশ সরকারকে অসহায়ের মতো দেখা যাচ্ছে।

রাশিয়া, চীন ও ভারত মিয়ানমারের পক্ষ অবলম্বন করে সমস্যার সমাধানের কথা বলছে। অনেক সরকার ও কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ মানবিক বিপর্যয় দেখে সেদিক থেকে সমস্যার সমাধানের কথা বলছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, তুরস্ক প্রভৃতি রাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে থেকে সমস্যার সমাধানের কথা বলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ বাংলাদেশের ভূমিকার খুব প্রশংসা করছে কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কথার ওপর আস্থা রাখা যায় না। আর জাতিসংঘে তো শেষ পর্যন্ত সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলোরই সংঘ।

রোহিঙ্গা সমস্যাকে বাংলাদেশের জনগণ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত বড় সমস্যা হিসেবে দেখছে কিন্তু আওয়ামী লীগ, বিএনপি, সিভিল সোসাইটি সেভাবে উপলব্ধি করছে বলে মনে হয় না। তাদের বক্তব্যেও পারস্পরিক ভিন্নতা ফুটে ওঠে। এনজিও মহল তাদের অবস্থানে থেকে কথা বলছে এবং কাজ করছে। এই বহুত্ববাদী বাস্তবতায় বাংলাদেশের জাতীয় অনৈক্য প্রকাশ পাচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুত্ববাদ দারুণ জাতীয় অনৈক্যের পরিচয়কে প্রকটিত করছে। এর ফলে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে দুর্যোগের মুহূর্তে বাংলাদেশ বিশ্ববাসীর সামনে নিজেকে ঐক্যহীন ও দুর্বল প্রমাণ করছে। আমরা চাই, বহুত্ববাদ নয়, বহুত্বমূলক সংহতি; আমরা চাই বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য। বহুত্ব ও বৈচিত্র্যকে যথোচিত গুরুত্ব দিয়ে ঐক্য। এনজিও ও সিএসও মহল থেকে প্রচারিত বহুত্ববাদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব ও জনজীবনের জন্য সমূহ বিপদের কারণ হচ্ছে। বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের কোনো সম্ভাবনাই এখন দেখা যাচ্ছে না

রোহিঙ্গাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে একটি সূক্ষ্ম চক্রান্ত চলছে । রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত আরো অনেক আগেই বাংলাদেশের বোঝা দরকার ছিল। বুঝে কাজ করা দরকার ছিল। এখন সমস্যা যে পর্যায়ে গেছে এবং বাংলাদেশ সরকারের ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের যে অবস্থা, তাতে বাংলাদেশ কী করতে পারবে? বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার দুর্দশাগ্রস্ত বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে সম্পূর্ণ মানবিক বিবেচনায়। বাংলাদেশ তাদের মিয়ানমারের নাগরিক মনে করে। বাংলাদেশ চায়, মিয়ানমার তাদের ফেরত নিক এবং নাগরিকত্ব দিয়ে তাদের সচ্ছল-সম্মানজনক জীবনের অধিকারী করুক। কিন্তু মিয়ানমার তাদের মিয়ানমারের লোক মনে করে না।

এমতাবস্থায় অবস্থা ঘনিভূত থেকে আরও ঘনিভূত হচ্ছে। তাই দল-মত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে অবস্থা মোকাবেলা জরুরী। প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

ঈদ হোক মানবতার কল্যাণে সুখের বারতা
                                  

প্রকৃত অর্থে ঈদের খুশীতে ভরে উঠে অনাবিল পরম সুখের পূত-পবিত্র প্রতিটি হৃদয় আকাশ। যেখানে নেই কোন দুঃখ ভারাক্রান্ত মন, আবিলতা ও হিংসা বিদ্বেষের কোন হঠকারিতাপূর্ণ চিন্তা চেতনা। সেই সমাজ ও পরিবেশ, যাতে আছে কল্যাণ, আছে ভালোবাসা, প্রেম-প্রীতি ও সহমর্মিতা। আছে মানবিক মূল্যবোধের মূল্যায়ন। পরষ্পরের প্রতি সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের অনুরাগ ও মানব কল্যাণের ঐকান্তিক প্রবণতা। মানবের তরে ঈদ-উল-ফিতর সেই শিক্ষা নিয়েই প্রতি বছর আসে আমাদের মাঝে।
ঈদ উল ফিতর। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দুটো সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের একটি। দ্বিতীয়টি হলো ঈদুল আযহা। ধর্মীয় পরিভাষায় একে ‘ইয়াউমুল জায়েয’ (অর্থঃ পুরস্কারের দিবস) হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। দীর্ঘ এক মাস রোযা রাখা বা সিয়াম সাধনার পর মুসলমানেরা এই দিনটি ধর্মীয় কর্তব্যপালনসহ খুব আনন্দর সাথে পালন করে থাকে।
বাংলায় ঈদ এখন সার্বজনিন উৎসব। সকল ভেদাভেদ ভুলে গরিব সকলের মাঝে এবং ঘরে ঘরে আনন্দ আর খুশির শিহরণ জাগায়। ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয় আনন্দ ধারার উৎসব আমেজকে প্রতিটি মুসলিম সমাজে। পাশাপাশি ভিন্ন ধর্মের লোকদের কাছেও জানায় ঈদের সওগাত, স্বাগতম ও শুভেচ্ছা বারতা। মানবতার জয়গান গেয়ে উছে প্রতিটি বনি আদমের হৃদয় কন্দরে।
কিন্তু বর্তমান বিশ্বের প্রতিটি দেশে, সমাজে আজ যে ধরনের বিভৎসতা আর নারকিয়তা, জুলুম-অত্যাচারে চলছে, যা ইসলাম কোন ভাবে সমর্থণ করে না। পরাশক্তির অধিকাপরী দেশগুলো ক্ষমতার দর্পে ক্ষুদ্র রাষ্ট্র ও জনপদগুলোর উপর বেপরোয়াভাবে ক্ষমতার দর্পে ক্ষুদ্র রাষ্ট্র ও জনপদগুলোর উপর বেপরোয়াভাবে তাদের স্বার্থ হাছিলের লক্ষ্যে নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাচ্ছে দুর্বল রাষ্ট্র ও জনগনের উপর। সেখানে মানবতাকে পদদলিত করে জুলুম-নির্যাতনের স্বর্গ রাজ্য প্রতিষ্ঠায় নিজেদের সর্বাত্মক শক্তি প্রয়োগ করছে। আর বিশ্বের জনগনের চোখে ধুলা দিয়ে গণতন্ত্র ও মানবতা প্রতিষ্ঠার মায়াকান্না দেখিয়ে প্রহসনের খবরদারী চালিয়ে যাচ্ছে সব দেশে।
এই ঈদে ছোট-বড়, ধনী-গরীব পার্থক্য ঘুঁচিয়ে দিয়ে সকলের তরে সাম্যনীতি ও ইনসাফপূর্ণ আচরণের মধ্য দিয়ে সুখ-আনন্দ ভাগ করে নিতে হবে। মানুষ মানুষের জন্য, এই অভেদ নীতেতে সাম্য ও ঐক্যের ভিত্তি রচনা করতে হবে সুন্দর পৃথিবী তৈরী করার জন্য। সমস্ত অকল্যাণ ও পাপ-পঙ্কিলতাকে ধুয়ে মুছে পবিত্র ঈদ হোক কল্যাণময় বারতার মহোৎসব। আর বাস্তবেই ঈদ সফল হবে তখনই, যখন মানবতা আর ধুঁকে ধুঁকে মরবে না, দুঃখ-যাতনা থাকবে না সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরাপত্তা হীনতা ও বিপদ আশঙ্কার ঘনঘোর সৃষ্টি হবে না কোন দুর্মদ ও মানবতাবিরোধী কোন অপশক্তিদের দ্বারা।
মুসলিম বিশ্বের ঐক্য গড়তে ইসলামের শাম্বত বিধান অনুসরণ করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই এবং ঐক্য গড়তে ইসলামের শাশ্বত বিধান অনুসরণ করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই এবং ঐক্য ও ভ্রাতৃবন্ধনের অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে প্রতিটি ঈদগাহের লাখো জনতার সারিবদ্ধভাবে ঈদের জামায়াতে সামিল হওয়ার মধ্যে। তাই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সুমহান আদর্শের আলোকে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ হবার গান গেয়েছেন এভাবে-
প্রকৃত অর্থে ঈদের খুশীতে ভরে উঠে অনাবিল পরম সুখের পূত-পবিত্র প্রতিটি হৃদয় আকাশ। যেখানে নেই কোন দুঃখ ভারাক্রান্ত মন, আবিলতা ও হিংসা বিদ্বেষের কোন হঠকারিতাপূর্ণ চিন্তা চেতনা। সেই সমাজ ও পরিবেশ, যাতে আছে কল্যাণ, আছে ভালোবাসা, প্রেম-প্রীতি ও সহমর্মিতা। আছে মানবিক মূল্যবোধের মূল্যায়ন। পরষ্পরের প্রতি সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের অনুরাগ ও মানব কল্যাণের ঐকান্তিক প্রবণতা। মানবের তরে ঈদ-উল-ফিতর সেই শিক্ষা নিয়েই প্রতি বছর আসে আমাদের মাঝে।
ঈদ উল ফিতর। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দুটো সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের একটি। দ্বিতীয়টি হলো ঈদুল আযহা। ধর্মীয় পরিভাষায় একে ‘ইয়াউমুল জায়েয’ (অর্থঃ পুরস্কারের দিবস) হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। দীর্ঘ এক মাস রোযা রাখা বা সিয়াম সাধনার পর মুসলমানেরা এই দিনটি ধর্মীয় কর্তব্যপালনসহ খুব আনন্দর সাথে পালন করে থাকে।
বাংলায় ঈদ এখন সার্বজনিন উৎসব। সকল ভেদাভেদ ভুলে গরিব সকলের মাঝে এবং ঘরে ঘরে আনন্দ আর খুশির শিহরণ জাগায়। ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয় আনন্দ ধারার উৎসব আমেজকে প্রতিটি মুসলিম সমাজে। পাশাপাশি ভিন্ন ধর্মের লোকদের কাছেও জানায় ঈদের সওগাত, স্বাগতম ও শুভেচ্ছা বারতা। মানবতার জয়গান গেয়ে উছে প্রতিটি বনি আদমের হৃদয় কন্দরে।
কিন্তু বর্তমান বিশ্বের প্রতিটি দেশে, সমাজে আজ যে ধরনের বিভৎসতা আর নারকিয়তা, জুলুম-অত্যাচারে চলছে, যা ইসলাম কোন ভাবে সমর্থণ করে না। পরাশক্তির অধিকাপরী দেশগুলো ক্ষমতার দর্পে ক্ষুদ্র রাষ্ট্র ও জনপদগুলোর উপর বেপরোয়াভাবে ক্ষমতার দর্পে ক্ষুদ্র রাষ্ট্র ও জনপদগুলোর উপর বেপরোয়াভাবে তাদের স্বার্থ হাছিলের লক্ষ্যে নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাচ্ছে দুর্বল রাষ্ট্র ও জনগনের উপর। সেখানে মানবতাকে পদদলিত করে জুলুম-নির্যাতনের স্বর্গ রাজ্য প্রতিষ্ঠায় নিজেদের সর্বাত্মক শক্তি প্রয়োগ করছে। আর বিশ্বের জনগনের চোখে ধুলা দিয়ে গণতন্ত্র ও মানবতা প্রতিষ্ঠার মায়াকান্না দেখিয়ে প্রহসনের খবরদারী চালিয়ে যাচ্ছে সব দেশে।
এই ঈদে ছোট-বড়, ধনী-গরীব পার্থক্য ঘুঁচিয়ে দিয়ে সকলের তরে সাম্যনীতি ও ইনসাফপূর্ণ আচরণের মধ্য দিয়ে সুখ-আনন্দ ভাগ করে নিতে হবে। মানুষ মানুষের জন্য, এই অভেদ নীতেতে সাম্য ও ঐক্যের ভিত্তি রচনা করতে হবে সুন্দর পৃথিবী তৈরী করার জন্য। সমস্ত অকল্যাণ ও পাপ-পঙ্কিলতাকে ধুয়ে মুছে পবিত্র ঈদ হোক কল্যাণময় বারতার মহোৎসব। আর বাস্তবেই ঈদ সফল হবে তখনই, যখন মানবতা আর ধুঁকে ধুঁকে মরবে না, দুঃখ-যাতনা থাকবে না সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরাপত্তা হীনতা ও বিপদ আশঙ্কার ঘনঘোর সৃষ্টি হবে না কোন দুর্মদ ও মানবতাবিরোধী কোন অপশক্তিদের দ্বারা।
মুসলিম বিশ্বের ঐক্য গড়তে ইসলামের শাম্বত বিধান অনুসরণ করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই এবং ঐক্য গড়তে ইসলামের শাশ্বত বিধান অনুসরণ করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই এবং ঐক্য ও ভ্রাতৃবন্ধনের অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে প্রতিটি ঈদগাহের লাখো জনতার সারিবদ্ধভাবে ঈদের জামায়াতে সামিল হওয়ার মধ্যে। তাই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সুমহান আদর্শের আলোকে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ হবার গান গেয়েছেন এভাবে-

প্রতিষ্ঠিত হোক শ্রমজীবিদের অধিকার
                                  


১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস, যা বিশ্ব পরিমন্ডলে ‘মহান মে দিবস’ বা শ্রমিক দিবস হিসেবে গুরুত্বসহকারে পালিত হচ্ছে। মে দিবস এলেই আমাদের সামনে ভেসে ওঠে ঘর্মাক্ত মেহনতি-শ্রমজীবী মানুষের প্রতিচ্ছবি। আর এই শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের প্রশ্নটিও সাথে সাথে উঠে আসে এই ঐতিহাসিক দিনে। এই দিবসের তাৎপর্য অনেক, এর পেছনে রয়েছে একটি রক্ত¯œাত ইতিহাস। ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে ৮ ঘন্টা শ্রম দিবস, মজুরী বৃদ্ধি, কাজের উন্নততর পরিবেশ ও শ্রমের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠা করার আন্দোলনে আত্মহুতি দান করেছিলেন শ্রমিকরা। ১ মে তারিখে বিভিন্ন দাবিতে ধর্মঘট সমাবেশে পুলিশের গুলি বর্ষণে ৬ জন শ্রমিক প্রাণ হারায়। এর প্রতিবাদে পরদিন হে মার্কেটে শ্রমিকরা মিলিত করে কারখানার মালিকরা সেখানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এবং এতে ৪ শ্রমিক নিহত হয়। শ্রমিকদের নিয়ে আন্দোলন করার দায়ে আগস্ট স্পাইস নামে এক শ্রমিক নেতাকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল সোশ্যালিষ্ট কংগ্রেসে ১ মে শ্রমিক দিবস হিসেবে ঘোষিত হয় এবং তখন থেকে অনেক দেশে দিনটি শ্রমিক শ্রেণী কর্তৃক উদ্যাপিত হয়ে আসছে। রাশিয়া এবং পরবর্তীতে আরো কয়েকটি দেশে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংগঠিত হবার পর মে দিবস এক বিশেষ তাৎপর্য অর্জন করে। জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শাখা হিসেবে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ইন্টারন্যাশনাল লেবার অরগানাইজেশন বা আইএলও) প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের অধিকার সমূহ স্বীকৃতি লাভ করে। আইএলও কতগুলো নিয়মকানুন প্রতিষ্ঠা করে এবং সকল দেশের শিল্প মালিক ও শ্রমিকদের তা মেনে চলার আহ্বান জানায় এবং এভাবে শ্রমিক ও মালিকদের অধিকার সংরক্ষণ করার চেষ্টা করে। বাংলাদেশ আইএলও কর্তৃক প্রণীত নীতিমালায় স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। বাংলাদেশে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে মে দিবস পালিত হয়ে আসছে। রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার প্রধান, বিরোধীদলীয় নেতা এবং সংশ্লিষ্ট শ্রম মন্ত্রণালয় শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বাণী দিয়ে থাকেন। মে দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার জন্যে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র বা প্রবন্ধ কিংবা বিশেষ নিবন্ধন প্রকাশ করে। মাথায় রঙ-বেরঙের কাপড় বেঁধে নানা রঙের ফেস্টুনসহ শ্রমিকরা মিছিল শোভাযাত্রা বের করে, বেতার ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া বিশেষ অনুষ্ঠানাদির ব্যবস্থা করে। বাংলাদেশে বিভিন্ন পেশাজীবী, শ্রমজীবী এবং সামাজিক-সাংষ্কৃতিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি পালন করে থাকে। দেশের সংবাদপত্র ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এই সকল সভা-সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের খবর গুরুত্বসহকারে প্রচার করে থাকে। বাংলাদেশ মে দিবস পালনের ক্ষেত্রে মোটেও পিছিয়ে নেই। এ দেশে ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৩৮ সালে নারায়ণগঞ্জে প্রথম মে দিবস পালিত হয়। তারপর পাকিস্তান আমলেও মে দিবস যথেষ্ঠ উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে হাজার হাজার শ্রমিক অংশগ্রহণ করে এবং দেশ মাতৃকার জন্য শহীদ হয়। ১৯৭২ সালে ১ মে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১ মে-কে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা সহ রাষ্ট্রপতি আদেশ ২৭(ক) ধারা মোতাবেক এ দেশের সকল ব্যাংক, বীমা, শিল্প-কারখানা, রেল, নৌ-পরিবহনসহ বৈদেশিক বাণিজ্যের সিংহভাগ রাষ্ট্রায়ত্ব ঘোষণা করেন।
এবারের মে দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘শ্রমিক-মালিক গড়ব দেশ; এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’ মে দিবস উদ্যাপনের অংশ হিসেবে এ বছর সরকার প্রথমবারের মতো শ্রমিকদেও মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাসহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিল থেকে শ্রমিকদের মেধাবী সন্তানদের মধ্যে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
শ্রমিকরা যাতে সত্যিকার অর্থেই তাদের ন্যায্য পাওনাদি পায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শ্রমিক-মালিকের স্বার্থ এক ও অভিন্ন হতে হবে। প্রতিষ্ঠিত হোক শ্রমজীবিদের মানবাধিকার। এবারের মে দিবসে এটাই হোক লক্ষ্য।

মানবাধিকার ও শান্তিতে উদ্ভাসিত হোক বিশ্ব মানবতা
                                  

মানবাধিকার ও শান্তিতে উদ্ভাসিত হোক বিশ্ব মানবতা

নারীর ক্ষমতায়ন ও অভিজ্ঞতাকে মানুষের সেবায় কাজে লাগাতে হবে
                                  

মানবাধিকার খবরকে হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের অতিরিক্তি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. দৌলতুন্নাহার খানম

নারীর ক্ষমতায়ন ও অভিজ্ঞতাকে মানুষের সেবায় কাজে লাগাতে হবে

বিশ্বের অনেক দেশেই ব্যাংক ও আর্থিক খাত ব্যবস্থাপনায় নারীরা ভাল করছে। এদেশেও এ খাতে ক্যারিয়ার গড়তে মেয়েরা এগিয়ে আসছে। তবে কর্পোরেট জগতে নারীর এই জয়ধ্বনী শুনতে অপেক্ষা করতে হয়েছে অনেকগুলো বছর। আনিসা হামেদকে দিয়ে ব্যাংকিং এবং শীর্ষ পদে নারীর নেতৃত্ব শুরু। তাঁর দেখানো পথে  এখন যারা হাঁটছেন তাঁদের লাইন ক্রমেই দীর্ঘতর হচ্ছে। সমান যোগ্যতা আর পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে তাঁরা প্রতিষ্ঠানের উন্নতিতে সাফল্যের প্রমাণ দিচ্ছেন। এঁদেরই একজন ড. দৌলতুন্নাহার খানম। যিনি দীর্ঘ চ্যালেজিং পথ পাড়ি দিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন (বিএইচবিএফসি)- এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অতিরিক্তি দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 ১৯৮৪ সালের ১৬ মে সিনিয়র অফিসার হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর ব্যাংকিংয়ে ক্যারিয়ার শুরু। কৃষি ব্যাংক ও পরবর্তীতে বিএইচবিএফসি’র বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ তিনি জেনারেল ম্যানাজার পদে পদোন্নতি পান। বিএইচবিএফসি’র  অর্গানোগ্রামে ডিএমডি পদ না থাকায় সিনিয়র জিএম হিসেবে তিনি দ্বিতীয় দফা এমডির অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রথম বার এবং ১০ মার্চ থেকে অদ্যাবধি দ্বিতীয় বার বিএইচবিএফসি’র শীর্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।

ড. দৌলতুন্নাহার খানম ঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আমি প্রথমেই বলতে চাই, তিনি এবং তাঁর সরকারের সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বে অনন্য নজির স্থাপন করতে পেরেছে। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অবদান অনস্বীকার্য। নারী-পুরুষ সমানতালে এগুতে হবে। তা না হলে দেশ, জাতি, সমাজ এগুবে না। সিংহভাগ নারীকে রাষ্ট্রীয় কর্মযজ্ঞের বাইরে রেখে রাষ্ট্র উন্নতি করতে পানে না। যতবেশি নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পাবে, দেশ ততোটাই উন্নতি শিখড়ে পৌঁছবে। বিশ্বব্যাপি নারীর এই ক্ষমতায়নে একজন নারী হিসেবে আমি অবশ্যই গৌরববোধ করছি। এবং পরবর্তীতে বেগম রায়হানা আনিসা হামেদ আলীকে সরকার যখন মহিলা এমডি হিসেবে পদায়ণ করে, তখন থেকে এ পেশার প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়।

ড. দৌলতুন্নাহার খানম ঃ উন্নয়নশীল বিশ্বের সাথে তারমিলিয়ে বাংলাদেশও এগিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির স্বর্ণযুগ চলছে। আমাদের মেয়েরা সবকিছুর সাথেই সমান তালে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে কঠোর পরিশ্রম করছে। নারী শিক্ষায় অভূতপূর্ব অগ্রগতি এসেছে। বর্তমানে অনেকগুলো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় নারীদের কাজের ক্ষেত্র বেড়েছে। সবক্ষেত্রেই নারীরা যোগ্যতার পরীক্ষায় মেধার পরিচয় দিচ্ছে। সময়ের পরিবর্তনে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এতে সফলতা অর্জন করেই উচ্চ পর্যায়ে যেতে পারছে বা দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হচ্ছে।

ড. দৌলতুন্নাহার খানম ঃ আমি রিসেন্টাল জাপান ঘুরে এলাম। আমার কাছে মনে হত, আমাদের দেশে অধিক জনসংখ্যা বোধহয় একটি বড় সমস্যা। জাপান সফরের পর আমার ধারনা পুরোপুরি পাল্টে গেছে। আসলে মানুষ কোন সমস্যার নয়। মানুষগুলোকে চালানোটাই আসল বিষয়। আমাদের ১৬ কোটি হাতকে দক্ষ কর্মীর হাতে পরিণত করতে হবে। অফিস টাইমে জাপানের প্রতিটি স্টেশন প্রচুর মানুষের ভিড় লক্ষ্য করেছি। এরকম কিছু দৃশ্য ভিড়িও করেও এনছি। হাজার হাজার মানুষ কর্মক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোন বিশৃঙ্খলা নেই। মানুষ হেঁটে যাচ্ছে, গাড়িতে যাচ্ছে। তাদেও শৃঙ্খলাবোধ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে।

ড. দৌলতুন্নাহার খানম ঃ বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন একটি পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে আমার প্রায় বিশ থেকে বাইশ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে দ্বিতীয়বারের  মতো শীর্ষ পদে। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন অবশ্যই গৌরবের। আপনাারা জানেন, এখানে একটি শক্তিশালী পরিচালনা পর্ষদ আছে। পরিচালনা পর্ষদেও সঠিক ও সময়োপযোগী দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। এখানকার কর্মীরা কাজের ক্ষেত্রে দক্ষ। অনেকেই আছেন বেশ অভিজ্ঞ। পরিচালনা পর্ষদ ও আমার সহকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতায় বিএইবিএফসি এখন বেশ গতিশীল। আইডিবি’র সহায়তায় ‘রুরাল এন্ড আরবান হাউজিং প্রজেক্ট অব বাংলাদেশ’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মধ্যদিয়ে বিএইবিএফসি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে। আপনি লক্ষ্য করবেন, অপরিকল্পিত বাড়ি নির্মাণের ফলে দেশের চাষযোগ্য জমি দ্রুত কমে যাচ্ছে। চাষযোগ্য জমি টিকিয়ে রেখে আমরা পরিকল্পিত আবাসিক ভবন নির্মাণে মানুষকে সহায়তা দেব। এর মাধ্যমে শহরের ন্যায় গ্রামেও কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে পারবে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও তাই। মানুষ কেন আমাদের কাছে সেবা নিতে আসবে? আমরাই সেবা নিয়ে মানুষের কাছে যাব।

ড. দৌলতুন্নাহার খানম ঃ কর্পোরেশনের একমাত্র সমস্যা অপর্যাপ্ত তহবিল। এ জন্য চাহিদা মতো ঋণ দেয়া যায় না। এ সমস্যা কারণে ২০১৫-১৬ সালে ঋণ বিতরণ কিছুটা কম হয়েছে। তবে গত ৩০ জুন  ২০০ কোটি টাকার সরকারী ঋণ পাওয়া গেছে। তাই এ বছর বিতরণের লক্ষ্যেও একটু বেশি। আমরা এবার ৩০০ কোটি টাকা বিতরণ করতে চাই। অন্যদিকে ঋণ আদায়ের পারফরমেন্স অত্যন্ত সন্তোষজনক। গত অর্থবছরে ঋণ আদায়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫২৪ কোটি টাকা। আদায়ের হার ৯২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫৮৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছর ঋণ আদায় ও গুণগত উন্নয়নের উপর বেশি জোর দিয়েছি। বর্তমানে শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণও কম। মাত্র ৬.৮১ শতাংশ। অচিরেই শ্রেণীকৃত ঋণের হার ৫ শতাংশের নিচে নিয়ে আসতে চাই।

ড. দৌলতুন্নাহার খানম ঃ বিএইচবিএফসির প্রতিষ্ঠা ১৯৫২ সালে। এ থেকেই এর গুরুত্ব বোঝা যায়। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের গৃহায়ন খাত শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জাতির জনক শেখ মজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনর্গঠন করেন। এ প্রতিষ্ঠান এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ হাউজিং ইউনিট নির্মাণে ঋণ সহায়তা প্রদান করেছে। এক্ষেত্রে উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। বিএইচবিএফসি’কে দেশের গৃহায়ন অবকাঠামো নির্মাণ এবং নির্মাণ উপকরণ ব্যবসার পথপ্রদর্শক ও পৃষ্ঠপোষক বলতে পারেন।

মানবাধিকার খবরকে একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রদীপ ভট্টাচার্য জঙ্গি হামলা উন্নয়ন ও মানবাধিকারের উপর চরম আঘাত
                                  

গত ১১ জুলাই দুই বাংলার মানবাধিকার বিষয়ে কথা বলতে কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যসভার সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য্যরে মুখোমুখী হন মানবাধিকার খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক রোটারিয়ান মোঃ রিয়াজ উদ্দিন।

এ সময় তিনি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং সমসাময়িক বিষয়, বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষন, জঙ্গি হামলা, পুরোহিত হত্যা, এ দেশের মানুষের জীবন যাপন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প, বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ও শিল্পান্নতিসহ সামগ্রিক বিষয়ে খোলামেলা ভাবে কথা বলেছেন।

কলকাতায় তার নিজ কার্যালয়ে এ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করা হয়। মানবাধিকার খবরের পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটির চম্বুকাংশ তুলে ধরা হল-

 

মানবাধিকার খবর: বর্তমান বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি কি অবস্থায় আছে আপনার জানা মতে  ভালো অবস্থায় আছে কিনা?

 

প্রদীপ ভট্টাচার্য্য: আমি কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ গিয়েছিলাম, তখন বাংলাদেশের চেহারা এমন ছিল না। এত নিঃস্বার্থ ঘটনা একেবারেই ছিল না আমাকে যেখানে বক্তৃতার জন্য ডেকেছিল সেটি হচ্ছে ঢাকার শেরাটন। সেখানে বাংলাদেশ এবং ভারতবর্ষের একটা মৈত্রী মেলবন্ধন তৈরি করা হয়েছে। সেখানে কয়েকজন ব্যাংকার,কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং আরো কয়েকজন পন্ডিত ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের ইকোনোমিক স্টাকচার যেভাবে ডেভেলপ হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত মানুষের আয় যেভাবে বাড়ছে তার একটি পূর্নাঙ্গ চিএ আমাদের সম্মুখে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। সেই চিএটা দেখে আমার এত ভালো লাগল, আমার ৩টা রিয়েকশন,

১। আজ থেকে দশ বছর আগে যে বাংলাদেশ দেখেছি, আজকের যে বাংলাদেশ তার থেকে সম্পূর্ন আলাদা। আজকের বাংলাদেশ কলকারখানা নতুন করে তৈরী হচ্ছে, শ্রমিকেরা কলকারখানায় কাজ করছে। গ্রামীণ বাংলাদেশে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হচ্ছে। মানুষের কাছে ক্যাশ টাকা পৌচ্ছাছে। মহিলা শ্রমিকদের সংখ্যা বেড়েছে।

২। তৈরী হয়েছে জামাকাপড় তৈরী করার কারখানা(গার্মেন্টস) ইত্যাদি। এসব বিষয় আমার ভাল লেগেছে।

৩। যেটা সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে সেটা হচ্ছে বাংলাদেশের এক্সপোর্ট। বিভিন্ন  দেশে এক্সপোর্ট করাচ্ছে। এটা আমার কাছে বেশি ভালো লেগেছে। ঢাকা শহরের ডেভেলপমেন্ট দ্রুত গতিতে বাড়ছে। এটা তো আমি নিজের চোখেই দেখেছি। ফলে একটা নতুন বাংলাদেশের মধ্যে একটা নতুন বাংলাদেশ জন্মগ্রহন করেছে।সেই জায়গাটা মনে হল হোচট খেয়ে গেছে। এই অধুনা যে ঘটনা গুলো ঘটছে। জঙ্গী হামলা এগুলো কিন্তু যে একটা ডেভেলপমেন্ট হচ্ছিল এটা কিন্তু আঘাত করে দিয়েছে।

 

মানবাধিকার খবর: সম্প্রতি জঙ্গি হামলার জন্য বাংলাদেশ সরকার কি করতে পারে?এবং কি করনীয়?

 

প্রদীপ ভট্টাচার্য্য: বাংলাদেশের মুখ্য প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছেন প্রত্যেকটি সঠিক সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে কোন সন্দেহ নেই। তিনি চাইলে বাংলাদেশ থেকে এ ধরনের সন্ত্রাসগুলোকে বিতাড়িত করতে পারে।তার প্রচেষ্টা সফল হোক। এটি আমি চাই। ভারত বাংলাদেশের মৈত্রী বিষয়ের এটা একটি বড় বিষয়।

 

মানবাধিকার খবর: বর্তমানে ভারতে মানাধিকার পরিস্থিতি কি অবস্থায় আছে? কেমন আছে? এতে আপনি সন্তোষজনক কিনা?

 

প্রদীপ ভট্টাচার্য্য: ভারতবর্ষ যে মানবাধিকার ব্যবস্থা সেটা বর্তমান সরকার যেভাবে চলছে কেন্দ্রীয় সরকার তাতে যে জিনিসটা আসছে আমার কাছে দু একটা জিনিস ভাল লেগেছে সেটা হচ্ছে,

ভারতবর্ষের কেন্দ্রীয় সরকার ভারতবর্ষ যেভাবে চালাচ্ছে তাতে এখনকার মানবাধিকারের বিষয়ে আমি সন্তুষ্ট। একটা প্রত্যক্ষ ভাবে না হলেও একটা প্রচ্ছন্ন ধর্মীয় ত্রাশ প্রশাসনের মধ্যে মিলিত হয়েছে। এটা ভালো জিনিস তো। ভারতবর্ষেও মত এমন দেশে হওয়া উচিত।

২য় জিনিস হচ্ছে যে ভারতবর্ষে বর্তমান  নীতি হচ্ছে, চিরকাল যারা ভারতবর্ষের নীতি মেনে আসছে সেটা হচ্ছে এই যে মত প্রকাশের  স্বাধীনতা। মত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা। সেই মত  প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা কিন্তু বহু জায়গায় কল্পিত হচ্ছে। তার মানে ভারতবর্ষে অভ্যন্তরে মানবাধিকারে অধিকার টা কিছু কিছু জায়গায় লঙ্ঘিত হচ্ছে।এখন সবচেয়ে ব্রাইটেশ লাইন হচ্ছে ভারতবর্ষের মধ্যে সেটা সোস্যাল মিডিয়া। াবৎু ংঃৎড়হম,াবৎু ঢ়ড়বিৎভঁষ, াবৎু ঢ়ৎড়মৎবংংরাব। এবং এই সোস্যাল মিডিয়া কিন্তু সরকার কি করছে তার দিকে মোটেও তাকাচ্ছে না। মানবাধিকারকে রক্ষা করার জন্য সোস্যাল মিডিয়ার য়ে ভূমিকা সোস্যাল মিডিয়া শুধু পালন করেছে তা কিন্তু না মানুষকে ইন্সপায়ার করছে। ঞযরং রং ুড়ঁৎ জরমযঃ। এগুলো হচ্ছে তোমার অধিকার। ভারতবর্ষের সব পত্রিকা  এবং সব মিডিয়া। ঞযবু ধৎব াবৎু পড়হংপরড়ঁং ঃড় সধরহঃধরহ ঃযরং ঐঁসধহ জরমযঃং। যার ফলে যদিও সরকার  কোথাও কোথাও চুপ করার চেষ্টা করছে অথবা নিশ্চুপ থেকে ব্যাপারটা রহফরৎবপঃষু ংঁঢ়ঢ়ড়ৎঃ  দেবার চেষ্টা  করছে সেটা কিন্তু বাস্তবে হয়ে উঠতে পারছে না কারন জনগনের ৎবংঢ়ড়হংব াবৎু ংঃৎড়হম

 

মানবাধিকার খবর: সম্প্রতি বাংলাদেশে পুরোহিত হত্যা বেড়ে গেছে,প্রচুর  পরিমানে পুরোহিত হত্যা হচ্ছে। এটা সম্পর্কে আপনার কিছু মতামত ও অভিমত সম্পর্কে বলুন?

 

প্রদীপ ভট্টাচার্য্য: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যে কথাগুলো বলেছেন,সেই কথাগুলোকে যদি সমাজকাঠামোর অভ্যন্তরে না পৌছায় এবং সামাজিক মানুষগুলো যদি তাদের মতের পরিবর্তন না করে ধর্মমত, অন্য ধর্মমত সমন্ধে বাংলাদেশের গ্রাম যদি সহিঃস্ফুর্ত না হয়।বাংলাদেশের কিছু কিছু মানুষগুলো এই অন্যায় কাজ গুলো ক্রমাগত করেই যাচ্ছে।তাহলে এটা  কিন্তু খুবই দুঃখজনক এবং  দুঃভাগ্য। বাংলাদেশে শহরে এবং  গ্রামে সব মানুষ তো খারাপ নন।বহু মানুষ আছে যারা খুবই ভালো এবং  তারা সত্যি চায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি থাক  এবং যারা চায় খ্রিষ্টানরা, বৌদ্ধ রা,হিন্দুরা নিজ নিজ ধর্মমত পালন করুক এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু কিছু মানুষ আছে সেই মানুষেরা কিন্তু  সামাজিক সাম্যতাকে নষ্ট করতে চাচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশ সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে আমি মনে করি।

 

মানবাধিকার খবর: বাংলাদেশ এবং ভারত সীমান্তে বিজিবি  এবং বিএসএফ কতৃক প্রতি বছর। প্রতি মাসে অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছে গুলিতে। উভয় সরকার অনেক চেষ্টা করছে কিন্তু সীমান্তে হত্যাকা- বন্ধ হচ্ছে না। এ সম্পর্কে আপনার মতে কি করনীয়?

 

প্রদীপ ভট্টাচার্য্য: আমি এ বিষয় নিয়ে বিএসএফ এর সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছি। আমি ব্যাক্তিগতভাবে বলেছি। এমনকি সীমান্ত এলাকায় যখন মিটিং করেছি বিএসএফদের সাথে কথা বলেছি। বিএসএফ এর সৈনিকরা আমাকে বাংলাদেশের বর্ডাওে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশের বর্ডারে যে সীমান্ত রক্ষাবাহিনী রয়েছে তাদেও হাতে আমরা মিষ্টির প্যাকেট তুলে দিয়েছি। তারা খুব খুশি হয়েছে ফলে তারা বারে বারে বলেছে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক এবং আপনারা শুনলে খুশি হবেন যে বিএসএফ এর সাথে বাংলাদেশের করেসপনডেন্ট পোস্টে যারা আছে তাদের সাথে প্রায়ই মিটিং করে। সেই মিটিং এ তারা মনোভাব বিশ্লেষণ করে আলোচনা করে। কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় গুলি বিনিময় প্রথা আসছে এটা ঠিক কিন্তু গুলি বিনিময় এখন অনেক পরিমানে কমে গেছে। এবং আমার ধারনা সীমান্ত এই ঝামেলাটা মিটে যাবে। ভারতবর্ষে ইন্দ্রেরা গান্ধী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের যে বিশাল কন্ট্রিবিউসন  সেই কন্ট্রিবিউসন এর কথা মাথায় রেখে দুটো দেশ এর মধ্যে সম্পর্ক বজায় আছে। নিজের দেশের এবং বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমার একটাই অনুরোধ যেহেতু আমরা ভাষা দিক দিয়ে এক সামাজিক কাঠামোগত দিক দিয়ে এক এবং সর্বপরি মানসিকতার দিক দিয়েও এক সেখানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ধর্মীয় সংকট হোক এটা আমরা চাইনা তেমনিভাবে সিমিলারলি ভারতের অভ্যন্তরে ধর্মীয় সংঘাত হোক আমরা চাইনা।

 

মানবাধিকার খবর : মনবাধিকার খবর বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক মানবাধিকার বিষয়ক এশিয়ার একমাত্র পত্রিকা। মানবাধিকার খবর বিভিন্ন  দেশ থেকে নারী শিশু উদ্ধার করে। পত্রিকার প্রকাশনা সম্পর্কে কিছু বলেন?

 

প্রদীপ ভট্টাচার্য্য: মানবাধিকার খবর পত্রিকাটি প্রতিমাসে প্রকাশিত হয়। আমি সংবাদপত্রটি দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে। কারন এই সংবাদপত্রের মধ্যে যে আর্টিকেল গুলো এসেছে যে কথাগুলো বলা হয়েছে সেই কথাগুলো সমগ্র বাংলাদেশকে ঘিরে তৈরী করা হয়েছে। শুধুমাত্র সুনির্দিষ্ট সমাজের একটি অংশের আলোকপাত করা হয়নি। সূর্যের আলো যেমন সমস্ত জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে এই মানবাধিকার খবরটি তেমনি বাড়বে। বাংলাদেশের গ্রাম শহর সব জায়গায় তাদের বার্তাকে পৌছে দিতে সক্ষম হচ্ছে। এই কৃতিত্ব এই সংবাদপত্র নিশ্চয় দাবি করতে পারে। যেমন ধরা যাক একটি খবরের কথা বলি,পরিবেশ ও প্রকৃতি ধ্বংস আজকের দিনে পৃথিবীতে এটা একটা বিশাল ব্যাপার। যে ব্যাপারটা নিয়ে সারা বিশ্বে কনফারেন্স হচ্ছে। সেই কনফারেন্সে খবর এবং সেই সম্পর্র্কে আরটিকেল ছাপানো এটা মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে পরিবেশ সম্পর্কে। সুতরাং আমি মনে করি সামাজিক যে দায়িত্ব সেই দায়িত্ব তারা পালন করছে। প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে এই যে এখানে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে নির্বাচিত মহিলা মেম্বার। মানে একজন মহিলা সাহস দেখিয়ে মহিলা মেম্বার হয়েছে। কিন্তু তাকে ভয় দেখিয়েছে যে তাকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এই যে ব্যাপারটা আপনারা তুলে ধরেছেন এই তুলে ধরাটা যে শুধুমাত্র এই মহিলার জন্য নয়,ভবিষ্যতে অন্য মহিলারা যাতে এ কাজে আসলে আপনারা তাদেও পাশে আছেন এই বার্তাটা দিয়েছেন।এটা অন্য মহিলাদের উৎসাহিত করবে যাতে নির্বাচনে তারা প্রতিদন্ধিতা করে। এরকম অসংখ্য আর্টিকেল যা আমার খুব ভালো লেগেছে। পত্রিকাটির গেটআপ খুব সুন্দর। ছাপা খুবই সুন্দও। সুতরাং সব দিক দিয়ে মনরক্ষক।

 

মানবাধিকার খবর: ভারতের বিভিন্ন কারাগারে বিনা বিচারে আটক ও পাচার হয়ে আসা নারী ও শিশু এর আগে আমরা উদ্ধার করেছি। অন্যান্যদের আমরা উদ্ধার করে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি এ ব্যাপারে আপনার সহযোগিতা সবসময় কাম্য করব।

 

প্রদীপ ভট্টাচার্য্য: অবশ্যই মানবাধিকার খবরকে সবধরণের সহায়তা করাে হবে।

 মানবাধিকার খবর: আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য মানবাধিকার খবর পত্রিকার পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

 

প্রদীপ ভট্টাচার্য্য: মানবাধিকার খবর পত্রিকা দীর্ঘজীবি হোক। এটাই কামনা করি।

 

সহযোগিতায়: ভারত প্রতিনিধি মনোয়ার ইমাম, বারাসাত প্রতিনিধি প্রদীপ কুমার চৌধুরীর, নীলোৎপল মৈত্রসহ অন্যান্য

সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

 

অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান: বিদায়ী চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও প্রধান উপদেষ্ঠা মানবাধিকার খবর। টানা দুই দফায় দায়িত্ব পালন করে ২৩ জুন অবসরে গিয়েছেন। অবসরের যাওয়ার আগে ২১ জুন রাজধানীর মগবাজারে  নিজ কার্যালয়ে মানবাধিকার খবরের পক্ষ থেকে একান্ত সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন  সম্পাদক ও প্রকাশক রোটারিয়ান মোঃ রিয়াজ উদ্দিন। পাঠকের উদ্দেশ্যে তার চুম্বকাংশ তুলে ধরা হলো- 

 

 

মানবাধিকার খবর : আপনি দুই বার মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। আগেও মানবাধিকার নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। বিভিন্ন সময় আপনার পাওয়া অনেক পদকের মধ্যে গান্ধী ও ম্যান্ডেলা পদকও দেখা যাচ্ছে। এই দুই বিশিষ্ট জনের মানবাধিকারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আজকের বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়?

 

ড. মিজানুর রহমান  : এই দুই বিশিষ্টজন যে ভাবে আন্তর্জাতিক পরিম-লে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন, তাঁরা যেভাবে মানুষের মর্যাদাকে দেখেছেন ও অনুশীলন করে গেছেন, সেটা বর্তমান বাংলাদেশে নেই। মানুষের মানবিক মর্যাদা যদি মানবাধিকারের প্রাণ হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে বিরাট ঘাটতি আছে। আত্মস্থ করতে হবে যে সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।

 

মানবাধিকার খবর : আমরা জানি সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই। কিন্তু আমাদের দেশে তা কতটুকু প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করেন? বিশেষ করে আপনার দায়িত্বকালিন সময়ে দেশে গুম হলেও কোনো তদন্ত করতে দেখা যায়নি। এনটা কেন ?

ড. মিজানুর রহমান  : জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে আমাদের  দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছি। সরকার বলেছে গুম হচ্ছে না। আমরা বলেছি গুম হচ্ছে। আমরা লুকাইনি। গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের  মধ্যে তফাত করেছি। আর ২০০৯ সালের আইন বলছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা কমিশন তদন্ত করতে পারবে না। আমাদের কাছে আসা অভিযোগগুলোতে নির্দিষ্টভাবে পুলিশ বা র‌্যাবের নাম এসেছে। তাই আইন দ্বারা আমরা বারিত।

 

মানবাধিকার খবর : আপনি তাহলে রাষ্ট্রকে কাঠগড়ায় রেখে যাচ্ছেন?

ড. মিজানুর রহমান  : আমি একমত যে রাষ্ট্র দৃশ্যত কাঠগড়ায় রয়েছে। এর প্রতিটি  ক্ষেত্রে আমরা নির্দিষ্ট দিনক্ষণ উল্লেখ করে বলেছি এ বিষয়ে তদন্ত করে কমিশনকে জানাতে। ইলিয়াস আলীর বিষয়ে আমরা তদন্ত চেয়েছিলাম। সংসদে তুলতে সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির কাছে ২৩টি হত্যাকান্ডের  বিষয়ে তদন্ত চেয়ে কোনো খবর না পাওয়ার একটি তালিকা হস্তান্তর করেছি। কোনোটিতে ২২ বারও তাগাদাপত্র দিয়েছি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে, একটিবারও উত্তর পাইনি।

 

মানবাধিকার খবর : আইন আপনাকে সুযোগ দিয়েছিল মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলায় পক্ষভুক্ত হতে। কেন হননি?

ড. মিজানুর রহমান  : গত ছয় বছরে শুধু সাগর-রুনির মামলায় হয়েছি। বিনা বিচারে আটকে রাখা জনৈক তানভিরকে মুক্ত করেছিলাম।

 

মানবাধিকার খবর : সম্প্রতি ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বাড়ল কেন? হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে  বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- কমে গুমের সংস্কৃতি এসছে। কেন এমন হচ্ছে?

ড. মিজানুর রহমান  :  যদি সত্যিকারার্থে দুই পক্ষ গোলাগুলি করছে বা যুদ্ধ করছে, তাহলে সেটা অন্য ঘটনা। আমরা যে বন্দুকযুদ্ধের কথা বলছি, সেখানে কিন্তু যেনতেন বন্দুকযুদ্ধ নয়। এসব বন্দুকযুদ্ধে যারা নিহত হচ্ছেন, তারা গুপ্তহত্যা করতে গিয়ে মানুষের হাতে ধরা পড়েছেন। যাকে আমরা হাতেনাতে ধরেছি, রিমান্ডে নিয়েছি, তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে। এ তথ্যের মাধ্যমে গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে প্রকৃত অপরাধী, মূল হোতা, অর্থের জোগানদাতা, পরিকল্পনাকারী ও ষড়যন্ত্রকারীর মুখোশ উন্মোচন করা সম্ভব ছিল। কিন্তু এই ক্রসফায়ারে মৃত্যুর ফলে সেই পথটাই বন্ধ হয়ে গেল। এ কারণে জঙ্গিবাদ নির্মূলও থমকে গেল। যে আশার দুয়ার উন্মোচিত হয়েছিল, সেটাও বন্ধ হয়ে গেল।

কিন্তু কারা এটা করল ? সরকার যেখানে চাইছে জঙ্গিবাদকে দ্রুত নির্মূল করতে, তাদের মূলোৎপাটন করতে। এটা তাদেরই কাজ, যারা চায় না সরকারের এ কর্মসূচি সফল হোক। সুতরাং এ ধরনের ক্রসফাসার মানবাধিকার লঙ্ঘন।

আমাদের সমগ্র রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া হলো। এ অপরাধকে ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। আমরা প্রত্যাশা করি, রাষ্ট্র এবং সরকার এ বিষয়টিকে অতি দ্রুত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। যারা যারা এর পেছনে রয়েছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।

নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই কর্তব্য, এ ব্যাপারে সজাগ থাকা। সবারই দায়িত্ব হচ্ছে, আশপাশে সন্দেহভাজন ব্যক্তির গতিবিধি লক্ষ্য রাখা। তাদের কোনো কর্মকা- সন্দেহজনক মনে হলে, তা সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। নাগরিক হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। নাগরিক সমাজ যদি সংগঠিত থাকে, তাহলে কিন্তু অপরাধীরা অপরাধ করতে দুবার ভাববে। তবে যেসব নাগরিক পুলিশের কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ করবেন, তারাও যেন প্রশংসিত হন। কোনো কারণে যেন তাদের হয়রানির শিকার না হতে হয়। এটাও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ মানুষ যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে গিয়ে উল্টো হয়রানির শিকার হয়, তাহলে তারা কিন্তু তাদের কাছে যেতে চাইবে না। অনেক মানুষ এ কারণেই নিরুৎসাহিত বোধ করে। এটা ভালো নয়।

পুলিশ জনগণের কাজ করছে। তারা যে জনগণের বন্ধু। তাদের কর্মকা- দিয়ে তা প্রমাণ করতে হবে। তাহলেই পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস দৃঢ় হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বলা হচ্ছে, ১৯৪ জন জঙ্গি ধরা হয়েছে। আটক করা হয়েছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার। কিন্তু এ ধরনের অভিযান কোনো সভ্য রাষ্ট্রে কাম্য নয়। কারণ ১৯৪ জন ধরতে গিয়ে যদি ১৩ হাজার বা ১৪ হাজার মানুষকে আটকাতে হয়, তাহলে আমার সেই বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা নিয়ে বিরাট বড় প্রশ্ন আছে। তারা আসলেই কতখানি দক্ষ, প্রশিক্ষিত, সেটা জনগণের কাছে প্রশ্ন। তাদের হাতে আমাদের রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জনগণের ভার দিয়ে রেখেছি। তাদের কাছে আমি আশ্বস্ত বোধ করতে পারি, এই প্রশ্ন কিন্তু থেকে যায়। এইভাবে নির্বিচারে সাধারণ মানুষ আটক করা, কোনো সভ্য সমাজ, যেখানে গণতন্ত্র রয়েছে, আইনের শাসন রয়েছে, সেখানে এটা কাম্য হতে পারে না।

এটা আরও খারাপ বিষয় যে, যখনই নির্বিচারে আটক হয়, তখনই গ্রেফতার-বাণিজ্যের একটি সুযোগও সৃষ্টি হয়। আমরা কিন্তু অনেক আগেই, যখন শুরু হয়, তখনই এই সাবধানবাণী দিয়েছিলাম, তারা যেন এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। আমাদের সতর্কবাণী যদি তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতেন, যদি আমাদের হেয় না করা হতো, অবজ্ঞা না করা হতো, তাহলে আজকে যারা অভিযোগ করছেন, গ্রেফতার-বাণিজ্যের শিকার হয়েছেন, তারা তা করতে পারত না।

 

মানবাধিকার খবর : বিচারবহির্ভূত হত্যা ছাড়া সত্যিই কি রাষ্ট্র চলতে পারে না?  এর পরিবর্তন কীভাবে সম্ভব?

ড. মিজানুর রহমান  : বিচার যদি বিকিয়ে দিতে না হতো, বিচার যদি পেশি, রাজনীতি ও অর্থের কাছে বন্দী না থাকত, তাহলে বিকল্প পথের সন্ধান করা দরকার ছিল না। বদলানোর প্রসঙ্গে বলব বিচারিক স্বাধীনতা আমি বজায় রাখি কি না। নিজকে পরাধীন রাখতেই উৎসাহী কি না।

 

মানবাধিকার খবর : আপনি কি মনে করেন, সংবাদক্ষেত্র ও বাকস্বাধীনতা খর্বিত হচ্ছে?

ড. মিজানুর রহমান  : সমাবেশের স্বাধীনতার চেয়ে এখন বাকস্বাধীনতা বেশি। বিএনপি-জামায়াতের বিবৃতি মিডিয়ায় আসে, তাদের সমাবেশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। নার্স ও শিক্ষকদের সঙ্গেও আমরা সদাচরণ দেখিনি।

 

মানবাধিকার খবর : পেট্রলবোমার সময় আপনি শক্তি প্রয়োগের পক্ষে বলেছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার কোনো বিচার বিভাগীয় সম্পৃক্ততা পেলাম না। এটা রাষ্ট্রের অসামর্থ্য নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ?

ড. মিজানুর রহমান  : আপনার এই সমালোচনার সঙ্গে অনেকটাই একমত হব। তাদের সামর্থ্য নেই সেটা বলা সম্ভব নয়। দু-একটা ক্ষেত্রে তারা দেখিয়েছে তারা পারে। অভিজিৎ খুনের পরে এফবিআই এল। ভাবলাম এবার কারও রক্ষে নেই। তাহলে কি তাদেরও সামর্থ্য নেই?  এ কারণে আমারও প্রশ্ন এটা কেন, তাহলে কি তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে? বরং একে কখনো কখনো অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমার কাছে সঠিক তথ্য-উপাত্ত নেই যে এর সঠিক কোনো উত্তর দেব।

 মানবাধিকার খবর : ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের চলমান হত্যাকা-কে কীভাবে দেখছেন?

ড. মিজানুর রহমান  : সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তাহীনতার বোধ তৈরি, একটা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা। যখন একটা সমাজ পুরোপুরি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তখন এটা বলা সহজ হয় যে কোনো কিছুই আর সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই।

 

মানবাধিকার খবর : সাধারণ নির্বাচন বা তেমন ধরনের কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার পুনরুজ্জীবন কি এ থেকে উতরাতে সহায়ক, নাকি তা সংকটকে আরও গভীর করবে?

ড. মিজানুর রহমান  : জামায়াত তার লোগো বদলাচ্ছে কিন্তু এখনো একাত্তরের অবস্থান বদলায়নি। আপনি পেট্রলবোমা মারলেন, ভুল স্বীকার করলেন না, এটা না করা পর্যন্ত আমি আশ্বস্ত হতে পারি না যে এর পুনরাবৃত্তি করবেন কি না।

 

মানবাধিকার খবর : কিন্তু এমনটা মোকাবিলা করতে গিয়ে অন্য কোনো জাতি একতরফা নির্বাচন করেছে কি? বিএনপিকে দায়ী করলেও তো জাতি হিসেবে দায়মোচন ঘটে না। তাই বাংলাদেশ এখানে একা।

ড. মিজানুর রহমান  : সেটা আপনি বলতে পারেন।

 

মানবাধিকার খবর : আপনার দায়িত্বকালে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য কী করলেন? হিন্দুদের অর্পিত সম্পত্তি সমস্যা মেটানোর নয় ?

ড. মিজানুর রহমান  : অর্পিত সম্পত্তি আইনের খ তফসিল চূড়ান্ত করার পরে আমাদের বাধায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তা ২০১৪ সালে বাতিল হয়। ওটা পাস হলে হিন্দুদের জমি যার যা ছিল, তাও হারাত।

 

মানবাধিকার খবর : এঁরা কারা, যাঁরা এই আমলেও এমন বিধ্বংসী বিধান চূড়ান্ত করেন এবং তাতে প্রধানমন্ত্রীর সই আশা করেন?

ড. মিজানুর রহমান  : আপনার সঙ্গে আমি একমত। এঁরা আমলাতন্ত্র, যাঁদের পরাস্ত করা খুব কঠিন এবং আমার আশঙ্কা হচ্ছে সেই আমলাতন্ত্রের কাছেই সরকার আবার বন্দী হয়ে যাচ্ছে কি না। বাংলাদেশে মানবাধিকার উন্নয়নে আমলাতন্ত্রই অন্যতম বড় বাধা। আমলাতন্ত্র মানবাধিকারকে কোনো পাত্তা দেয় না। নাগরিকের মানবিক মর্যাদায় তার কোনো বিশ্বাস নেই। আটক, নিরাপত্তা হেফাজতে নির্যাতন ইত্যাদি বিষয়ে আমরা একটি গাইডলাইন করেছিলাম। ভারতে এটা মানা হচ্ছে। কিন্তু এখানে কেউ পাত্তাই দিল না। দ্বিতীয় বড় বাধা হলো ২০০৯ সালের মানবাধিকার আইন, যা আমাদের পঙ্গু করে রেখেছে।

 

মানবাধিকার খবর : আপনি মানবাধিকার কমিশনের দায়িত্ব শেষে কি করতে চান?

ড. মিজানুর রহমান  : আমি একজন শিক্ষক। ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় আমার ঠিকানা। তাই আমার দায়িত্ব শেষে আমি সেখানে শিক্ষকতায় ফিরে যাব।

 

মানবাধিকার খবর : নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্বে কে আসছেন?

ড. মিজানুর রহমান  : এটা আমি জানি না। সরকার ঠিক করবে। যারাই নতুন দায়িত্বে আসুক তাদের প্রতি আমার এবং  আমাদের শুভ কামনা।

 

মানবাধিকার খবর : আপনার দায়িত্ব কালে মানবাধিকার কমিশন মানুষের কল্যানে কতটুকু সঠিকভাবে কাজ করতে পেরেছে ? আপনার ব্যক্তিগত মুল্যয়ন জানতে চাই ?

ড. মিজানুর রহমান  : আমরা তো মানুষের জন্যই মানুষকে নিয়েই কাজ করেছি। আমাদের এখানে হাজার হাজার মানুষকে তার ব্যক্তিগত ও নাগরিক প্রতিকার দিয়েছি। যদিও সমগ্র আমলাতন্ত্রকে পরিবর্তন করা, সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা সেই জায়গাগুলতে হয়ত আমরা বড় ধরনের সফলতা অর্জন করিনি। কিন্তু ব্যক্তি নাগরিকের অধিকার পুনঃরুদ্ধার আর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা এবং তাকে প্রতিকার পাইয়ে দেওয়া এই কাজগুলোতে কিন্তু আমরা অনেক বেশি করতে সক্ষম হয়েছি। তাই একদিকে যেমন আমাদের তৃপ্তি আছে তেমনি কিন্ত আমাদের মধ্যে একটি অতৃপ্তি এবং  গ্লানিও রয়েছে।

 

মানবাধিকার খবর :  দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার খবর ও মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান উৎপ্রোতভাবে জড়ীত।   বিদায়ী শুভেচ্ছা হিসেবে মানবাধিকার খবরকে কিছু বলতে চান?

ড. মিজানুর রহমান  : আমি শুধু এটুকুই বলবো যে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এবং মানবাধিকারকে সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে সর্বপ্রথম যা প্রয়োজন তা হলো সাধারণ জনগন যেন তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকেন। সাধারণ জনগণকে সচেতন করার কাজটি কিন্তু সবার উপর অর্পিত। এর জন্য যেমন সাংবাদিক দরকার, ঠিক তেমনই এটি কার্যকর করার জন্য গণমাধ্যমকে ব্যবহার করতে হয়। আমরা সচেতনামূলক কার্যক্রম গ্রহন করি। কিন্তু এখানে মানবাধিকার খবর যে কাজটি করছে, বিশেষ করে মানবাধিকারকে কেন্দ্র করে বিশেষ একটি পত্রিকা বের করা, এটি কিন্তু একটি অনন্য অসাধারণ ব্যাপার।

এটা কিন্তু আমরা অন্য কোথাও দেখি না। এমনকি শুধু আমাদের সার্ক আঞ্চলিক দেশগুলোতেই নয় এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপেও কিন্তু মানবাধিকার বিষয়ক এমন জনপ্রিয় একটি মাসিক পত্রিকা আছে বলে আমার জানা নেই যেখানে শুধু মানবাধিকার বিষয়ক সংবাদ থাকবে। বাংলাদেশে এমন একটি পত্রিকা প্রকাশ করে আপনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন এজন্য আপনাকে আমি মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে এবং আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আপনার এই উদ্যোগটি আসলেই একটি সুফল বয়ে নিয়ে আসছে। মানবাধিকার নিয়ে কি কি কাজ হচ্ছে এবং কারা কি করেছেন, কি কি ঘটনা ঘটেছে সেটি সম্পর্কে বিশাল একটি জনগোষ্ঠী জানতে পারছেন। এর প্রভাব কিন্তু সমাজে পড়ছে। মানবাধিকার খবরের এ উদ্যোগ আরো ফলপ্রসু  ও সফল হোক, এর ব্যপ্তি আরও বিস্তৃত হোক সেটি কামনা করি  আপনার ব্যক্তিগত এবং আপনার সাংগঠনিক মঙ্গল হোক সেই প্রত্যাশা করি।

 

মানবাধিকার খবর :  মানবাধিকার কমিশনকে আপনি ভবিষ্যতে কেমন দেখতে চান?

ড. মিজানুর রহমান  :  যদিও আমি দ্বিতীয় চেয়্যারম্যান কিন্তু ইতিহাসে এক সময় বলবে, বস্তুত আমি এবং আমরাই প্রথম মানবাধিকার কমিশন হিসেবে কাজ শুরু করি কেননা আমার পূর্বে যিনি ছিলেন, বিচারপতি আমিরুল কবির চৌধুরী স্যারের অনন্য মেধা এবং জ্ঞান থাকা সতেও নানা তরফ থেকে অসহযোগীতার কারনে স্যার কিন্তু কিছু করতে পারে নি। আসলে তাকে কোন কিছু করতে দেয়া হয়নি।

তাই মানবাধিকার কমিশনের হয়ে কোন কিছু করার ভার এবং দায়িত্ব পরেছে আমাদের উপর। তাই প্রাথমিক ভাবে মানবাধিকারকে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যে সমস্ত কাজগুলো করা দরকার সেগুলো কিন্তু আমরা করার চেষ্টা করেছি। অনেক সফলতাও এসছে।

তাই এখন এই যাবার মুহুর্তে বলতে পারি আজকের এই মানবাধিকার কমিশনের একটি মজবুত প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় রয়েছে। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় থাকার ফলে এখন এই প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর, আরও শক্তিশালি করার দায়িত্ব তাদের যারা ভবিষ্যতে দায়িত্ব বহন করবেন। তবে এই কাজটি যে হবেই তাতে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

 

মানবাধিকার খবর :  ভবিষ্যতে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি কেমন দেখতে চান?

ড. মিজানুর রহমান  : বাংলাদেশ একটি মানবাধিকার বাস্তবায়নের, অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ফসল। তাই আমরা সব সময় স¦প্ন দেখেছি সে রাষ্ট্রটি হবে মানবাধিকার বান্ধব একটি রাষ্ট্র। মানবাধিকার বন্ধব রাষ্ট্র হতে হলে বিশেষ করে এদেশে যারা দরিদ্র শ্রেণীর শ্রমজীবি মানুষ রয়েছে, তাদের মুখে হাসি থাকতে হবে। এই হাসিটি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ভাবে উন্নতি হলেই হবে তা কিন্তু নয়। আপনি ধনী হতে পারেন কিন্তু যদি আপনি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। আপনার যদি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক নিগৃহীত হওয়ার অবধারিত ভয় থাকে, তাদের দ্বারা যদি হযরানি হওয়ার ভয় থাকে তাহলে কিন্ত আপনার পকেটে টাকা থাকা সত্বেও আপনার মুখে হাসি থাকবে না।

কিন্ত আমরা চাই আপনার পেটে যেমন ভাত থাকবে তেমনি আপনার মুখেও হাসি থাকবে এবং এটি তখনই সম্ভব যখন রাষ্ট্র জনগন বান্ধব হবে, মানববন্ধব হবে। আমাদের রাষ্ট্র আরও মানবিক হবে সেরকম একটি বাংলাদেশকে আমরা দেখতে চাই।

 

মানবাধিকার খবর :  আপনি পত্রিকার প্রধান উপদেষ্ঠা হিসেবে আছেন। আমাদের কিছু দিক নির্দেশনা দিবেন। ভবিষ্যতেও আমাদের প্রধান উপদেষ্ঠা ও উপদেষ্ঠা প্রয়োজন আছে কিনা। থাকলে কিভাবে যাচাই বাচাই করে রাখা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

 

ড. মিজানুর রহমান  :  যিনি এখানে চেয়্যারম্যান হিসেবে থাকবেন তাকেই প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রাখাটা উচিত হবে এবং আমি তো আছিই। আমি মানবাধিকার কর্মী ছিলাম আছি এবং থাকব। আমার সুযোগ এবং সাধ্য অনুযায়ী আমার যতটুকু সম্ভব আমি তো আপনাদের সাথেই আছি। আমার সাহায্য এবং সহযোগিতা থাকবেই। তবে এটাই শ্রেয় হবে যিনি চেয়্যারম্যান হবেন তিনিই যদি উপদেষ্টা হিসেবে থাকেন।

 মানবাধিকার খবর : আমরা পত্রিকার শুরু থেকেই আপনাকে উপদেষ্টা হিসেবে পেয়েছি। আপনার উদ্দেশ্যে আমাদের অফিসে বসার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। যখনই সুযোগ পাবেন অবশ্যই আমাদের অফিসে যাওয়ার অনুরোধ করছি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন, দিক নির্দেশনা দিবেন এবং বসে পরামর্শ দিবেন। পত্রিকার শুরু থেকে আমাদের সাথে ছিলেন বর্তমানে আছেন। আমি মানবাধিকার খবরের সম্পাদক হিসেবে আশাবাদ ব্যাক্ত করছি ভবিষ্যতেও থাকবেন। আমাদের জন্য দোআ করবেন।

ড. মিজানুর রহমান  :   আপনারা আমার জন্য বসার ব্যবস্থা করেছেন এ জন্য ধন্যবাদ। আমার জন্যও দোআ করবেন। অবশ্যই দোআ করি আপনারা ভাল থাকবেন। নিশ্চয়ই আপনারা সফল হবেন।

 

মানবাধিকার খবর :   আপনাকে ধন্যবাদ।

ড. মিজানুর রহমান  :   আপনাদেরও ধন্যবাদ।

দেশে সঠিক মানবাধিকার নেই গভর্নমেন্ট বাই দ্যা পুলিশ, ফর দ্যা পুলিশ, অব দ্যা পুলিশ -ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ
                                  

এ এইচ এম ফারুক:

ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ। সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবি এবং বিএনপির বুদ্ধি ভিত্তিক রাজনৈতিক চর্চার সাথে জড়ীত তরুন নেতা। গণমাধ্যমে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করার নেতার সংকটকালে যে কয়জন এগিয়ে এসেছেন, তার মধ্যে তিনি অন্যতম। টেলিভিশন টকশোতে নিয়মিত বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করে বেশ জনপ্রিয় ও মিডিয়াব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন ইতিমধ্যে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্রে অনার্স ও মাস্টার্স গ্রাজ্যুয়েট পারভেজ স্কলারশীপ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আইনে মাস্টার্স শেষে বার এট ’ল ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠায়, দেশে তথ্য প্রযুক্তির প্রসার ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করছেন।

ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদের সাথে সাম্প্রতিক বিষয়ে কথা বলেছেন মানবাধিকার খবরের নির্বাহী সম্পাদক

এ এইচ এম ফারুক

 

বিরতি দিয়ে আবারও দেশে শিশু নির্যাতন, নারী ও শিশু ধর্ষণ ইত্যাদি নির্যতনের ঘটনা ঘটছে। সভ্যযুগে এসেও মানুষ কেন নিষ্ঠুর আচরণ করছে?

 

আওয়ামীলীগ সব সময় বলতে চেষ্টা করে, দেশ নজির বিহীন ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এটিও তাদের নজির বিহীন কর্মকান্ডের বহি:প্রকাশ বলে মনে করছি। এই তো কিছু দিন আগে হবিগঞ্জে চার শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।

মানবাধিকার পরিস্থিতি জানার জন্য মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর রিপোর্ট পর্যালোচনা করলেই বোঝা যাবে। অনেকগুলো মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান আছে। তবুও দেশে-বিদেশে অধিক স্বীকৃত হিসেবে আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং অধিকার এর মাসিক, ত্রৈমাসিক, ষান্মাসিক ও বার্ষিক প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করা যেতে পারে। দেখতে পাবেন প্রতিমাসে, অসংখ্য মানুষ গুপ্ত হত্যার স্বীকার হচ্ছে। সুতরাং যে দেশের মানুষ গুপ্ত হত্যার স্বীকার হয়, বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে পরিগণিত হয়। সেদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি কত উঁচুতে আছে বা কেমন আছে তা সহজেই অনুমান করা যায়। দেশের মানুষ এ থেকেই বুঝে নিবে।

যেখানে বিরোধী দলকে রাজনীতি করতে দেয়া হয় না। কর্মসূচী নিয়ে নামলেই গুলি করা হয়। সেখানে মানবাধিকার কেমন থাকতে পারে!

মানবাধিকার সংস্থা আসক ও অধিকারের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না। ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ৩১ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ বছরে ২২০ জন গুম  হয়েছে।  এদের মধ্যে ৩৯ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। ১৮ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং ২০ জন বিভিন্ন সময়ে মুক্তি পেয়েছেন। বাকি ১৪২ জনের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

পুলিশ কর্তৃক চাঁদা ও ঘুষ আদায়কে কেন্দ্র করে নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে।

 

কেন এমন অনৈতিক কর্মকা-ের সাথে জড়াচ্ছে পুলিশ?

কারণ সরকার পুলিশকে যথেচ্ছ ব্যবহার করছে। তাই পুলিশের মধ্যে নৈতিকতার স্খলন ঘটছে। তাদের মধ্যে যেমন সৎ, মেধাবী ও ভালো অফিসার আছেন, তেমনি উচ্চাভিলাসীও আছেন।

ফলে তারা আইনকে নিজের মতো করে ব্যবহার করছেন।  আইন শৃংখলা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নেয়ার ঘটনারও অভিযোগ আছে। খুব কষ্ট নিয়ে বলতে হয়। পুলিশ জনগণের বন্ধু। পুলিশের কাজ হলো নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু আমাদের দেশে পুলিশের কাজ কী দেখুন। শুধুমাত্র ক্ষমতাসীনদের রক্ষার জন্য পুলিশ। দেখুন পুলিশের পক্ষ থেকে যে সকল মামলা করা হয়, সেখানে সরকার দলীয়দের জন্য এক রকমের ধারা দেয়া হয়। আবার সরকার বিরোধীদের জন্য অন্য রকমের ধারা প্রয়োগ করা হয়।

দেশে সঠিক মানবাধিকার নেই। কারণ; ইদানিংকালে পুলিশের যে আচরণ, যে ব্যবহার এবং পুলিশ যখন স্বগৌরবে বলে আমাদের কারণেই সরকার টিকে আছে। তখন কিন্তু বোঝা যায়, গভর্নমেন্ট বাই দ্যা পিপল, ফর দ্যা পিপল, অব দ্যা পিপল থেকে উল্টো হয়ে যায়- গভর্নমেন্ট বাই দ্যা পুলিশ, ফর দ্যা পুলিশ, অব দ্যা পুলিশ।

 

পুলিশের কাজই তো সরকারের আজ্ঞাবহ হওয়া। তাহলে?

এখানে একটু পার্থক্য আছে। পুলিশ হচ্ছে রাষ্ট্রের, কোন দলের নয়। আর রাষ্ট্রের কাছে সবাই সমান। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এখন পুলিশকে রাষ্ট্রে কাজের চেয়েও দলের কাজে বেশী ব্যবহার করছে। কিন্তু নিয়ম তা নয়। গণতন্ত্রের অর্গানগুলোকে আপনি একচেটিয়ে করতে পারেন না। গণতান্ত্রিক বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে যা ইচ্ছে তাই ব্যবহার করতে পারবেন না।

 

দেশে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কি করা উচিৎ ?

মানবাধিকার বিষয়ক সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো শক্তিশালী ও রাজনৈতিক প্রভাব এবং বলয় মুক্ত করতে হবে। তাদের কাজের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে জবাবদিহিতার ব্যবস্থা থাকবে কিন্তু রাজনৈতিক পেষণ তথা দলন পীড়ণ করা যাবে না।  আমাদের দেশের সব কিছুর সাথে যেহেতু রাজনীতি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়ীত, সেহেতু রাজনীতিকে আগে ঠিক করতে হবে। আমাদের গণতন্ত্র নির্বাসনে চলে গেছে। সরকারের উচিত হবে দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আগে নির্বসিত গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে এনে মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। দেশে রাষ্ট্রয়ী পৃষ্টপোষকতায় যে হারে গুম খুন হচ্ছে, এটা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। কোন সভ্য দেশে এমন হতে পারে না।

 

বিচারাঙ্গন নিয়ে প্রধান বিচারপতি ও সদ্য অবসরে যাওয়া একজন বিচারপতির মধ্যে বাহাস চলছে। এটা কতটুকু সমর্থনযোগ্য?

এটা আইনের শাসনের জন্য খুবই দু:খ জনক। প্রথমত বিচারাঙ্গন এবং বিচারপতি, বিশেষ করে প্রধান বিচারপতিকে কোন ভাবেই জনসম্মুখে নিয়ে আসা উচিত নয়। সদ্য অবসরে যাওয়া একজন বিচারপতি প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে যে পরিমান নোংরা ভাষায় আঘাত করে কথা বলেছেন তা কোন ভাবেই কাম্য নয়। তাও আবার সুপ্রীম কোর্টের মতো পবিত্র জায়গায় দাঁড়িয়ে। তিনি অবসরে গেলেও ঐতিহ্যগত কারণে তিনি বিচারক সুলভ আচরণ করবেন বলেই আমরা প্রত্যাশা করছি। অতীতে এমন নজির নেই।

 

অতীতে এমন নজির না থাকলেও বিচারাঙ্গনের শীর্ষ পর্যায়ে এখন কেন এমন হচ্ছে?

আসলে বিচার বিভাগ নিয়ে কথা বলতে অত্যান্ত সাবধানতা অবলম্ভন করতে হয়। নয়তো অদালত অবমাননার দায়ে পড়তে হবে। তবুও বলছি সরকার বিচারবিভাগসহ রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ছলে-বলে, কলে-কৌশলে কুক্ষিগত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। যার ফলে বিভিন্ন বিভাগে চেইন অব কমা-ে গোলযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে কেউ কাউকে মান্য করছে না বা করতে চাইছে না। 

 

অবসরে গিয়ে রায় লেখা নিয়ে যে বির্তকের অবতারনা হয়েছে সেখানে আইন বিজ্ঞান কি বলে?

অবসরে গিয়ে রায় লেখার বিষয়ে প্রধান বিচারপতি যে বিষয়ের অবতারনা করেছেন তা আইন বিজ্ঞান এবং আমাদের সংবিধানের আলোকে ঠিকই বলেছেন। কারণ একজন বিচারপতি যখন অবসরে যাবেন তখণ তিনি যে শপথের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতেন তা থেকে বেরিয়ে যাবেন। সুতরাং তখন তার শপথ ভঙ্গের বিষয়ে কোন বাধ্যবাধকতা থাকে না।

 

বিচার বিভাগ নিয়ে বিচারাঙ্গনের বাইরে যা ইচ্ছে অভিমত দেয়া কতটুকু গ্রহণযোগ্য?

একেবারেই গ্রহনযোগ্য না। বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ঠরা ছাড়া অন্যকারোই এ নিয়ে ইচ্ছে মত অভিমত দেয়া বা সমালোচনা করার সুযোগ নেই।

 

বিএনপি অন্যতম একজন মুক্তিযোদ্ধার হাতে গড়া দল। কিন্তু এ দলটিকে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির দল হিসেবে গণ্য করা হয়। এ ব্যার্থতা কেন?

এ ব্যপারে আমি আপনার সাথে দ্বিমত করবো না। সরকার বা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী পক্ষ হিসেবে যেভাবে বিএনপির ওপর দায় চাপানো হয় সে অর্থে বিএনপি বিষয়টি সেভাবে হ্যান্ডেল করতে পারে না। এটা আওয়ামী লীগের জন্য একটি বড় সফলতা। যে দলটি একজন সবচাইতে বড় মুক্তিযোদ্ধার গঠন করা দল, যিনি একজন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার। বাংলাদেশে আর কোন সেক্টর কমান্ডারের দল নেই। অথচ দেখুন বিএনপিকে উপস্থাপন করা হয় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী দল হিসেবে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ এটাকে ভালোভাবে ব্র্যান্ডিং করতে সক্ষম হয়েছে। কারণ তাদের মার্কেটিং ক্যাপাসিটিটা খুব ভালো এবং তারা সফলতার সাথে তা করতে পেরেছে।

 

১/১১ পর ক্রাইসিস পরিস্থিতিতে পড়া বিএনপি ক্রাইসিসের মধ্য দিয়েই যাচ্ছে। পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটিয়ে ঘুড়ে দাঁড়াতে কি ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে?

দেশে এখন সরকারের ভিন্নমতের কারো মানবাধিকার বলতে কিছু নেই। বিএনপি একটি বৃহৎ সংগঠন। তার প্রধানতম প্রতিদন্দি হচ্ছে আওয়ামীলীগের মতো আরেকটি বড় ও প্রাচীন দল। কিন্তু তা সত্বেও আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে বিএনপিকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করতে এবং নাম-নিশানা মুছে দিতে ওঠে-পড়ে লেগেছে। নেতা-কর্মীদের হামলা, মামলার উপর মামলা দিয়ে জর্জরিত করছে। পৃথিবীর ইতিহাসে যা ঘটেনি তা আওয়ামীলীগ করেছে। যেমন দলের মহাসচিব কে ৯৬টি মামলা দিয়েছেন। যুবদলের সভাপতি এ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কে ১১৭টি, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নিরবের নামে ১৭৮টি  মামলা দিয়েছেন। এছাড়াও সারা দেশে দের লক্ষ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ৭৮ হাজার মামলা দেয়া হয়েছে। তবুও বিএনপিকে ধ্বংষ করা যাবে না।

কারণ, এ দলটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া। যিনি ছিলেন সততার এক পূর্ত প্রতিক। তার সহধর্মীনী এবং সুযোগ্য উত্তরসূরী তারেক রহমান এ দলের হাল ধরেছেন। দলকে আরো বেশী কার্যকর অবস্থানে রাখতে এবার তরুণদের প্রধান্য দিয়ে দল পূনর্গঠনের প্রকৃয়া চলছে।

 

কিন্তু ঘুড়ে দাঁড়ানোর কোন কার্যকর ফলাফলতো পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

এটা এভাবে হঠাৎ করে বলা যাবে না। কিছুটা সময়তো লাগবেই। একটা দলকে ঘুরে দাড়ানোর বিষয়ে বুঝতে হলে প্রথমে রাজনৈতিক ও গনতান্ত্রিক পরিবেশ থাকতে হবে। এখন দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। সুতরাং কোন মাপকাঠিতে আপনি বলবেন ঘুড়ে দাঁড়ানোর অগ্রগতি নেই। বরং সরকার তার কথা থেকে সরে গেছে। পূণ নির্বাচন দেয়ার অঙ্গীকার করে সংবিধান রক্ষার কথা বলে যে নির্বাচন করেছেন সেই বকেয়া নির্বাচনতো এখনো  ঝুলে আছে।

 

আপনি বকেয়া নির্বচনের প্রসঙ্গে বলেছেন। সরকার কিন্তু ২০১৯ সালেই পরবর্তী সংসদ নির্বাচন দিবে বলছে।

এটাইতে সরকারের খেলা। তারা চাইছে বিএনপিকে মাইনাস করে জাতীয়পার্টিকে বিরোধীদল শো করে একটি নির্বাচন দিবেন। আর ২০১৯ সালে যদি জাতীয় পার্টি সদ্য বিদায়ী বিরোধীদল হয় তাহলে গণতন্ত্র কোথায় আছে তা আমাদের অন্যভাবে ভাবতে হবে।

 

জাতীয় পার্টি দীর্ঘ ৯ বছর সরকারেও ছিলো। তাহলে তাদের বিরোধী দল হতে দোষ কোথায়?

দোষ হলো, জাতীয় পার্টি এমন একটি বিরোধীদল যারা পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র দল, যারা সকল গণতান্ত্রিক ইতিহাসকে পায়ে মাড়িয়ে সরকারের মন্ত্রী সভায় স্থান নিয়েছে। বিরোধীদলের প্রধান আবার সরকার প্রধানের মন্ত্রী মর্যাদায় বিশেষ দূত হয়েছে। আবার তারা মাঝে মধ্যে চিৎকার করে যে আমরা পদত্যাগ করবো। তাদের অবস্থান হলো তারা নির্বাচনের আগেও মহাজোট হিসেবে একজোট ছিলো। যাদের কে ৫ জানুয়ারির পাতানো নির্বাচনে  সরকার আসন ছেড়ে দেয়। সেখানে জাতীয় পার্টি কোন ধরনের বিরোধী দল তা জনগণ বোঝে।

 

বিএনপি সরকারে নেই। সংসদেও নেই। সরকার গত নির্বাচনের মতো আগামী নির্বাচনও একই ভাবে করবেন বলছেন। বিএনপি জোটও তাদের দাবীতে অটল। শেষটা কী হতে পারে?

শেষটা কী হতে পারে এটা এই মুহূর্তে বলা বেশ কঠিন। আমি মনে করি, সব সময় সত্যের জয় সমাগত। আর মিথ্যাকে নিয়ে বেশি দূর এগোনো যায় না। আমাদের বাংলাদেশের যে প্রেক্ষাপট সে প্রেক্ষাপট চিন্তা করলে আমাদের সামনে আরো কঠিন দিন আসতে পারে। তবে আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বিশ্বাস করি, একটা সমাধান নিশ্চয় হবে।

 

সরকার বিএনপি’র দাবি অনুযায়ী আপোষে আগাম নির্বাচন না দিলে বাধ্য করার জন্য বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?

একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের অনেকগুলো পরিকল্পনা থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিশেষ পরিকল্পনার কথা তো আর মিডিয়ায় প্রকাশ করবে না। অপেক্ষা করুন নিশ্চয় দেখতে পাবেন। পরিশেষে আমি একটি কথা বলবো- শহীদ জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বিএনপির বর্তমান সিপাহসালার হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। তারেক রহমান আমাদের আগামীর কা-ারী। তার নেতৃত্বে আমরা এমন একটি দেশ বিনির্মাণ করবো যেটা হবে আগামী প্রজন্মের জন্য আদর্শ একটি রাষ্ট্র। যে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়।


   Page 1 of 1
     সম্পাদকীয়
মহান বিজয়ের মাসে শপথ হোক মানবাধিকার সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ার
.............................................................................................
১০ নভেম্বর নূর হোসেন দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধা
.............................................................................................
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান হোক
.............................................................................................
ঈদ হোক মানবতার কল্যাণে সুখের বারতা
.............................................................................................
প্রতিষ্ঠিত হোক শ্রমজীবিদের অধিকার
.............................................................................................
মানবাধিকার ও শান্তিতে উদ্ভাসিত হোক বিশ্ব মানবতা
.............................................................................................
নারীর ক্ষমতায়ন ও অভিজ্ঞতাকে মানুষের সেবায় কাজে লাগাতে হবে
.............................................................................................
মানবাধিকার খবরকে একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রদীপ ভট্টাচার্য জঙ্গি হামলা উন্নয়ন ও মানবাধিকারের উপর চরম আঘাত
.............................................................................................
সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই
.............................................................................................
দেশে সঠিক মানবাধিকার নেই গভর্নমেন্ট বাই দ্যা পুলিশ, ফর দ্যা পুলিশ, অব দ্যা পুলিশ -ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

Editor & Publisher: Rtn. Md Reaz Uddin
Mobile:+88-01711391530, Email: md.reaz09@yahoo.com Corporate Office
53,Modern mansion(8th floor),Motijheel C/A, Dhaka
E-mail:manabadhikarkhabar@gmail.com,manabadhikarkhabar34@yahoo.com,
Tel:+88-02-9585139
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-9585140
    2015 @ All Right Reserved By manabadhikarkhabar.com    সম্পাদকীয়    Adviser List

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]