| বাংলার জন্য ক্লিক করুন

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   আন্তর্জাতিক -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
শান্তিনিকেতনের এক মঞ্চে হাসিনা-মোদি-মমতা সবার কন্ঠে মৈত্রী বন্ধন দৃঢ় করার ডাক

শান্তিনিকেতনের এক মঞ্চে হাসিনা-মোদি-মমতা
সবার কন্ঠে মৈত্রী বন্ধন দৃঢ় করার ডাক

দিশা বিশ্বাস , কলকাতা থেকে
গত ২৫ মে বৃহস্পতিবার ছিল কবিগুরুর স্মৃতি বিজড়িত শান্তিনিকেনের এক ঐতিহাসিক দিন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একযোগে এসেছিলেন শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী শ্বিবিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসব আর বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। দুটি অনুষ্ঠানেই এসেছিলেন এই তিন নেতা।
প্রথমে এই তিন নেতা যোগদেন বিশ্বভারতীর সমাবর্তন উৎসবে। মোদি আবার বিশ্বভারতীর আচার্য। তিনি এই প্রথম এলেন বিশ্বভারতীতে। বিশ্বভারতীরেও দীর্ঘ ৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হলো এই সমাবর্তন উৎসব। সমাবর্তন উৎসব সেরে হাসিনা-মোদি-মমতা চলে আসেন বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনের জন্য। বিশ্বভারতীর পূর্বপল্লীতে বাংলাদেশের অর্থানুকল্যে নির্মিত হয়েছে এই বাংলাদেশ ভবন।
এরআগে বিশ্বভারতীর সমাবর্তনে ভাষণ দিতে গিয়ে আচার্য নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশ দুটি আলাদা দেশ হলেও পারস্পরিক সহযোগিতা এই দুই দেশকে জুড়ে দিয়েছে মৈত্রির বন্ধনে। আর তারই উদাহরণ হল বাংলাদেশ ভবন। তিনি আরও বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের পরিপূরক। এটি একটি দুর্লভ ঘটনা যেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী অংশ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছেন, আমি অতিথি হিসেবে এখানে আসিনি। আমি এসেছি আচার্য হিসেবে। তিনি বলেছেন, রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে এসে নিজেকে গর্বিত মনে হ”েছ। গোটা বিশ্বে রবীন্দ্রনাথ বন্দিত। তিনিই প্রথম বিশ্বনাগরিক। এখনও তিনি বিশ্বনাগরিক হিসেবে রয়ে গিয়েছেন। মোদী তার দীর্ঘ ভাষণে বলেছেন, রবীন্দ্রনাথ গোটা বিশ্বকে আপন করে নিযেছিলেন। আর তার সেই বিশ্বভাবনার ফসল হল বিশ্বভারতী। মোদি তার ভাষণ শুরু করেছিলেন বাংলায়। সমাবর্তন উৎসবও ছিল ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী।
মোদির ভাষায়, এই আ¤্রকুঞ্জ অতীতে বহু ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থেকেছে। এদিনও বিশ্বভারতীর সমাবর্তন উৎসবে ঐতিহাসিক মুহুর্তের সাক্ষী থেকেছে। একই মঞ্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রথম বিশ্বভারতীর কোন সমাবর্তন মঞ্চে উপ¯ি’ত থাকলেন কোনও রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ৪২ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় সমাবর্তনে উপ¯ি’ত থাকলেও ছিলেন দর্শক আসনে। এছাড়াও এদিন মঞ্চে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরিনাথ ত্রিপাঠি এবং বিশ্বভারতীর উপাচার্য অধ্যাপক সবুজকলি সেন। প্রচন্ড গরম সত্ত্বেও প্রায় দশ হাজার ছাত্রছাত্রী ও ¯’ানীয় মানুষ এদিনের সমাবর্তনে উপ¯ি’ত ছিলেন। তবে সমাবর্তনে আসা সকলের পাণীয় পাণি না পাওয়ায় যে অসুবিধার সম্মুখীণ হয়েছিলেন, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে শুরুতেই ক্ষমা চেয়ে নেন। সমাবর্তন শেষে মমতাকে সঙ্গে নিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রী পূর্বপল্লীতে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করেছেন।
এদিন সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে দুদিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট কলকাতার দমদম নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নগর উন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে কলকাতা থেকে ১৮০ কিলোমিটার উত্তরে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতনে পৌঁছান। হেলিপ্যাড থেকে শেখ হাসিনা রবীন্দ্রভবনে পৌঁছালে মোদি তাকে স্বাগত জানান। এই সময় হাসিনার সঙ্গে ছিলেন তার বোন শেখ রেহানা। সেখানে পুষ্পার্ঘ দিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীরা।
এরপর দুজনই সেখানে রাখা স্মারক মন্তব্য বইতে তাদের মতামত লিপিবব্ধ করেন। সেখান থেকে বিশ্বভারতীর প্রথা অনুযায়ী দুদেশের প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ও মোদি, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরী লাল ত্রিপাঠি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়সহ সকলেই হেঁটে আম্রকুঞ্জের মূল অনুষ্ঠান¯’লে আসন গ্রহণ করেন। মঞ্চে দুদেশের প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ও মোদির পাশেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপ¯ি’ত ছিলেন। প্রথানুযায়ী আচার্য মোদি উপাচার্যের হাতে একটি ছাতিম পাতা তুলে দেওযার মাধ্যমে সমাবর্তন সূচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বেদ গান ও রবীন্দ্রসঙ্গীত দিয়ে সমাবর্তনের উদ্বোধন করা হয়েছে। স্বাগত ভাষন দিয়েছেন উপাচার্য সবুজকলি সেন।
তখন দুপুর ১২টা বেজে ৩০ মিনিট। শান্তিনিকেতনের ঘরানায় তৈরি মঞ্চের বাঁদিকের তিনটি গদিতে বসেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য সবুজকলি সেন। এরপরে বাংলাদেশের পররাস্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাঝের দুটি গদির বাঁদিকে বসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের টপ্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর ডানপাশের অন্য তিনটি গদিতে বসেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি, বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।
প্রথমে কথা বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিতো বাংলাদেশ ভবন দেখে হতবাক হয়ে যান। বলেই ওঠেন , দারুণ লেগেছে আমার বাংলাদেশ ভবন। দারুণ পছন্দ হয়েছে। এই বাংলাদেশ ভবনের মধ্য দিয়েই আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃড় হবে। রবীন্দ্র-নজরুল আমাদের চেতনায় বহ্নিমান। আমরা দুদেশ রবীন্দ্র নজরুল ছাড়া ভাবতে পারিনা। মমতা বলেন, এই বাংলাদেশ ভবন তীর্থ¯’ান হয়ে যাবে। তবে তিনি রাজনৈতিক কোনও কথাবার্তা বলেননি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মনে করি রবীন্দ্র নাথ আমাদের। তাঁর গান আজ আমাদের দুদেশের জাতীয় সঙ্গীত। আমাদের বাংলাভাষা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হ”েছ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বিশ্বদরবারে। বলেন, ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে। ভারত আমাদের বন্ধ দেশ। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের পাশে দাড়িয়েছে। ছিটমহল সমস্যার সমাধান করেছে। তবে শেখ হাসিনা তিস্তা নিয়ে কোনও কথা বলেননি।
এখানে মোদি তাঁর ভাষণ শুরু করেন বাংলা ভাষায়। বলেন, ’বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করে সৌভাগ্য হল। খুব গর্ব অনুভব কররাম। হাসিনা সময় দেওয়ায় আমার আন্তরিক অভিনন্দন। বাংলাদেশ ভবন ভারত-বাংলাদেশের সংস্কৃতি বন্ধনের প্রতীক। বলেন, গুরুদেবের গান আজ আমাদের দুদেশের জাতীয় সঙ্গীত। গুরদেব আমারও প্রেরণা। আমাদের সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। সাম্প্রতিককালে আমাদের দুদেশের মধ্যে চলছে এক সোনালী অধ্যায়। দুদেশের মধ্যে যোগাযোগ বেড়েছে। কলকাতা-খুলনা বন্ধন ট্রেন চালু হয়েছে। বলেন, ভারত বাংলাদেশ বন্ধুত্ব চিরজীবী হোক। মোদির ভাষণের পর মোদি- হাসিনা এক একন্ত বৈঠকে বসেন। তবে কী আলোচনা হয়েছে সে ব্যাপারে দুই প্রধানমন্ত্রী সে ব্যপারে কিছু বলেননি। বা বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

শান্তিনিকেতনের এক মঞ্চে হাসিনা-মোদি-মমতা সবার কন্ঠে মৈত্রী বন্ধন দৃঢ় করার ডাক
                                  

শান্তিনিকেতনের এক মঞ্চে হাসিনা-মোদি-মমতা
সবার কন্ঠে মৈত্রী বন্ধন দৃঢ় করার ডাক

দিশা বিশ্বাস , কলকাতা থেকে
গত ২৫ মে বৃহস্পতিবার ছিল কবিগুরুর স্মৃতি বিজড়িত শান্তিনিকেনের এক ঐতিহাসিক দিন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একযোগে এসেছিলেন শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী শ্বিবিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসব আর বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। দুটি অনুষ্ঠানেই এসেছিলেন এই তিন নেতা।
প্রথমে এই তিন নেতা যোগদেন বিশ্বভারতীর সমাবর্তন উৎসবে। মোদি আবার বিশ্বভারতীর আচার্য। তিনি এই প্রথম এলেন বিশ্বভারতীতে। বিশ্বভারতীরেও দীর্ঘ ৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হলো এই সমাবর্তন উৎসব। সমাবর্তন উৎসব সেরে হাসিনা-মোদি-মমতা চলে আসেন বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনের জন্য। বিশ্বভারতীর পূর্বপল্লীতে বাংলাদেশের অর্থানুকল্যে নির্মিত হয়েছে এই বাংলাদেশ ভবন।
এরআগে বিশ্বভারতীর সমাবর্তনে ভাষণ দিতে গিয়ে আচার্য নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশ দুটি আলাদা দেশ হলেও পারস্পরিক সহযোগিতা এই দুই দেশকে জুড়ে দিয়েছে মৈত্রির বন্ধনে। আর তারই উদাহরণ হল বাংলাদেশ ভবন। তিনি আরও বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের পরিপূরক। এটি একটি দুর্লভ ঘটনা যেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী অংশ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছেন, আমি অতিথি হিসেবে এখানে আসিনি। আমি এসেছি আচার্য হিসেবে। তিনি বলেছেন, রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে এসে নিজেকে গর্বিত মনে হ”েছ। গোটা বিশ্বে রবীন্দ্রনাথ বন্দিত। তিনিই প্রথম বিশ্বনাগরিক। এখনও তিনি বিশ্বনাগরিক হিসেবে রয়ে গিয়েছেন। মোদী তার দীর্ঘ ভাষণে বলেছেন, রবীন্দ্রনাথ গোটা বিশ্বকে আপন করে নিযেছিলেন। আর তার সেই বিশ্বভাবনার ফসল হল বিশ্বভারতী। মোদি তার ভাষণ শুরু করেছিলেন বাংলায়। সমাবর্তন উৎসবও ছিল ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী।
মোদির ভাষায়, এই আ¤্রকুঞ্জ অতীতে বহু ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থেকেছে। এদিনও বিশ্বভারতীর সমাবর্তন উৎসবে ঐতিহাসিক মুহুর্তের সাক্ষী থেকেছে। একই মঞ্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রথম বিশ্বভারতীর কোন সমাবর্তন মঞ্চে উপ¯ি’ত থাকলেন কোনও রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ৪২ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় সমাবর্তনে উপ¯ি’ত থাকলেও ছিলেন দর্শক আসনে। এছাড়াও এদিন মঞ্চে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরিনাথ ত্রিপাঠি এবং বিশ্বভারতীর উপাচার্য অধ্যাপক সবুজকলি সেন। প্রচন্ড গরম সত্ত্বেও প্রায় দশ হাজার ছাত্রছাত্রী ও ¯’ানীয় মানুষ এদিনের সমাবর্তনে উপ¯ি’ত ছিলেন। তবে সমাবর্তনে আসা সকলের পাণীয় পাণি না পাওয়ায় যে অসুবিধার সম্মুখীণ হয়েছিলেন, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে শুরুতেই ক্ষমা চেয়ে নেন। সমাবর্তন শেষে মমতাকে সঙ্গে নিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রী পূর্বপল্লীতে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করেছেন।
এদিন সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে দুদিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট কলকাতার দমদম নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নগর উন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে কলকাতা থেকে ১৮০ কিলোমিটার উত্তরে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতনে পৌঁছান। হেলিপ্যাড থেকে শেখ হাসিনা রবীন্দ্রভবনে পৌঁছালে মোদি তাকে স্বাগত জানান। এই সময় হাসিনার সঙ্গে ছিলেন তার বোন শেখ রেহানা। সেখানে পুষ্পার্ঘ দিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীরা।
এরপর দুজনই সেখানে রাখা স্মারক মন্তব্য বইতে তাদের মতামত লিপিবব্ধ করেন। সেখান থেকে বিশ্বভারতীর প্রথা অনুযায়ী দুদেশের প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ও মোদি, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরী লাল ত্রিপাঠি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়সহ সকলেই হেঁটে আম্রকুঞ্জের মূল অনুষ্ঠান¯’লে আসন গ্রহণ করেন। মঞ্চে দুদেশের প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ও মোদির পাশেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপ¯ি’ত ছিলেন। প্রথানুযায়ী আচার্য মোদি উপাচার্যের হাতে একটি ছাতিম পাতা তুলে দেওযার মাধ্যমে সমাবর্তন সূচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বেদ গান ও রবীন্দ্রসঙ্গীত দিয়ে সমাবর্তনের উদ্বোধন করা হয়েছে। স্বাগত ভাষন দিয়েছেন উপাচার্য সবুজকলি সেন।
তখন দুপুর ১২টা বেজে ৩০ মিনিট। শান্তিনিকেতনের ঘরানায় তৈরি মঞ্চের বাঁদিকের তিনটি গদিতে বসেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য সবুজকলি সেন। এরপরে বাংলাদেশের পররাস্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাঝের দুটি গদির বাঁদিকে বসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের টপ্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর ডানপাশের অন্য তিনটি গদিতে বসেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি, বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।
প্রথমে কথা বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিতো বাংলাদেশ ভবন দেখে হতবাক হয়ে যান। বলেই ওঠেন , দারুণ লেগেছে আমার বাংলাদেশ ভবন। দারুণ পছন্দ হয়েছে। এই বাংলাদেশ ভবনের মধ্য দিয়েই আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃড় হবে। রবীন্দ্র-নজরুল আমাদের চেতনায় বহ্নিমান। আমরা দুদেশ রবীন্দ্র নজরুল ছাড়া ভাবতে পারিনা। মমতা বলেন, এই বাংলাদেশ ভবন তীর্থ¯’ান হয়ে যাবে। তবে তিনি রাজনৈতিক কোনও কথাবার্তা বলেননি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মনে করি রবীন্দ্র নাথ আমাদের। তাঁর গান আজ আমাদের দুদেশের জাতীয় সঙ্গীত। আমাদের বাংলাভাষা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হ”েছ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বিশ্বদরবারে। বলেন, ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে। ভারত আমাদের বন্ধ দেশ। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের পাশে দাড়িয়েছে। ছিটমহল সমস্যার সমাধান করেছে। তবে শেখ হাসিনা তিস্তা নিয়ে কোনও কথা বলেননি।
এখানে মোদি তাঁর ভাষণ শুরু করেন বাংলা ভাষায়। বলেন, ’বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করে সৌভাগ্য হল। খুব গর্ব অনুভব কররাম। হাসিনা সময় দেওয়ায় আমার আন্তরিক অভিনন্দন। বাংলাদেশ ভবন ভারত-বাংলাদেশের সংস্কৃতি বন্ধনের প্রতীক। বলেন, গুরুদেবের গান আজ আমাদের দুদেশের জাতীয় সঙ্গীত। গুরদেব আমারও প্রেরণা। আমাদের সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। সাম্প্রতিককালে আমাদের দুদেশের মধ্যে চলছে এক সোনালী অধ্যায়। দুদেশের মধ্যে যোগাযোগ বেড়েছে। কলকাতা-খুলনা বন্ধন ট্রেন চালু হয়েছে। বলেন, ভারত বাংলাদেশ বন্ধুত্ব চিরজীবী হোক। মোদির ভাষণের পর মোদি- হাসিনা এক একন্ত বৈঠকে বসেন। তবে কী আলোচনা হয়েছে সে ব্যাপারে দুই প্রধানমন্ত্রী সে ব্যপারে কিছু বলেননি। বা বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

আন্তর্জাতিক কারাগারে এক বাংলাদেশি বন্দির মৃত্যুর চার বছর পর পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশন খুনের মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে
                                  

২০১৪ সালের ১৮ অক্টোবর অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢোকার অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছিল বাংলাদেশের নাগরিক আল আমিন সরদার। ২২ বছরের এই  আল আমিনের বাড়ি ছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরায়। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার  হাসনাবাদ থানার পুলিশ আলআমিনকে বিদেশী আইনে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পরেরদিন ধৃত বন্দিকে টাকি গ্রামিন হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়। চিকিৎসক আলআমিনকে পরীক্ষা করে তার শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন   বা শারীরিক অসুস্থতার কোনও প্রমাণ পাননি বলে মেডিক্যাল রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। এরপরেই আদালতের নির্দেশে বন্দিকে বসিরহাট কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু কারাগারে ঢোকার পর বন্দি ক্রমশ আচ্ছন্ন হতে থাকে। এরপরে  তাকে বসিরহাটের সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে বন্দির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল  কলেজ হাসপাতালে পাাঠানো হয়। ওই হাসপাতালেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে তার মস্তিস্কের স্কান করানোর  চেস্টা করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু তা আর সম্ভব হয়নি। আলআমিন মারা যান।  এরপরেই অভিযোগ ওঠে বন্দি অবস্থায় তাকে মারধর করার।
এই ঘটনার পর রাজ্য মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠান। ওই রিপোর্টে মানবাধিকার কমিশন সন্তুস্ট হতে না পেরে কমিশনই ঘটনার তদন্তে নামে। তারপরে মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত টিমের সদস্যরা কারাগারের কর্তব্যরত ওয়ার্ডার, অফিসার, চিকিৎসক সহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন। প্রত্যেককেই জানান আল আমিনকে মারধরের কোন প্রমান মেলেনি।
এরপরেই আলআমিনের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেখে কমিশনের সদস্যরা বুঝতে পারেন মাথায় গুরুতর আঘাতের জন্য  আলআমিনের মৃত্যু হয়েছে। সেই আঘাতও লেগেছিল ময়না তদন্তের ৭ থেকে ১০ দিন আগে। সেই আঘাত দুকারণে হতে পারে হয় দুর্ঘটনাজনিতকারণে অথবা বাইর থেকে পাওয়া আঘাতে । এরপরে কমিশন শুরু করে  তদন্ত। যে পুলিশ কর্মকর্তা আলআমিনকে গ্রেপ্তার করেছিল সেই অফিসারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কমিশন জানতে পারে ওই পুলিশকর্মকর্তা  বেশ কিছুক্ষণ ধাওয়া করে আলআমিনকে গ্রেপ্তার করেছিল। এসময় হয়তো পড়ে গিয়ে আল আমিন  আঘাত পেতে পারেন বলে পুলিশ কর্মকর্তা জানান।
এদিকে টাকির গ্রামীন হাসপাতালেও শারীরিক পরীক্ষায় কোনও সমস্যা ধরা পড়েনি। পুলিশ, চিকিৎসক, কারাকর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নানা অসঙ্গতি পেয়ে কমিশন মনে করে এই মৃত্যুর পেছনে পুলিশ এবং চিকিৎসকদের যথেষ্ট গাফিলতি ছিল। তাই মৃত্যুর কারণ খুঁজতে পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গিরীশচন্দ্র গুপ্তর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ  সুপারিশ করেছে, ভারতীয় দন্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করে সিআইডিকে দিয়ে ঘটনার তদন্ত করানোর। পাশাপাশি যে পুলিশ কর্মকর্তা আল আমিনকে গ্রেপ্তার করেছিল এবং  যে চিকিৎসক প্রথম তাকে পরীক্ষা করেছিল তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে। এই সুপারিশের চিঠি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবকেও পাঠিয়েছে মানবাধিকার কমিশন।

ভারত-বাংলাদেশে সন্তানহীন দম্পতিদের সংখ্যা বাড়ছে উন্নত হচ্ছে সন্তানলাভের চিকিৎসা
                                  

॥ অমর সাহা, কলকাতা ॥
এখন ভারত সহ পাশ্ববর্তী বাংলাদেশেও বাড়ছে সন্তানহীন দম্পতির সংখ্যা। সন্তানহীন দম্পতিরাও একটি সন্তানলাভের আশায়  ছুটছেন দেশ বিদেশের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছে। সে কলকাতা হোক বা বিদেশের মাটিতে। কলকাতায় এই সন্তানহীন দম্পতিদের কোলে একটি সন্তান দেওয়ার জন্য প্রথম মাঠে নেমেছিলেন ডাঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায়।  তারপর বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী, সুদর্শন ঘোষ দস্তিদার সহ আরও বেশ ক’জন চিকিৎসক। তাঁরা সন্তানহীন দম্পতির কখনো চেস্টটিউব বা নলজাত শিশু উপহার দিয়েছেন, আবার সুচিকিৎিসায় সফলতা এনে সন্তান দিয়েছেন। তবুও এখনো এই সন্তানহীন দম্পতিদের নিয়ে গ্রাম গাঁয়ে কুসংস্কারের শেষ নেই। কোনও দম্পতির সন্তান না হলে ওই দম্পতি বা বিশেষ করে নারীকে বাজা নারী হিসেবে চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে হেয় করা হত। এখনো এই চিত্র শহরে তেমনটা না থাকলেও গ্রামে বর্তমান। কোনও  নারীর সন্তান না হলে তাকে বাজা বলে অবজ্ঞার চোখে দেখা হয়। কোনও অনুষ্ঠানে যোগদিতে আপত্তি তোলা হয় এই যুক্তিতে যে  এই দম্পতি বা নারীর ছোঁয়া  অমঙ্গল হবে। আর মূলত দোষ গিয়ে লাগে মেয়েদের ওপর। বলা হয় বউয়ের কারণে সন্তান হলোনা তার পুত্রের। ফলে অনেক সময় এই পুত্রকে বিয়ে দিয়েও যখন সন্তানের মুখ দেখতে পায়না তখনও এরা থেমে থাকেননা কুসংস্কার  ছোঁয়া থেকে। এমনও দেখা গেছে অনেকসময় তিনবার বিয়ে দিয়েও সন্তানের মুখ দেখতে পায়নি বাবামায়েরা।  
কিন্তু সত্যি কি তাই ? সবক্ষেত্রে কি দায়ী নারীরা ? পুরুষরা কি সন্তান না হওয়ার জন্য দায়ী নন? অথবা পুরুষ বা নারীর কে কতটা দায়ী বা এই সমস্যার সমাধানের জন্য কোনও চিকিৎসা নেই? ইত্যাদি প্রশ্নের খোঁজে আমরা হাজির হয়েছিলাম কলকাতার এ সংক্রান্ত প্রখ্যাত চিকিৎসক সুদর্শন ঘোষ দস্তিদারের কাছে। ঘোষ দস্তিদার এই সন্তানহীন দম্পতিদের কোলে নতুন একটি শিশু উপহার দেওয়ার জন্য সেই আশির দশক থেকে লড়াই করে যাচ্ছেন। সফলতাও পেয়েছেন। এখন তার প্রচুর রোগী। এই রোগী আসছে শুধু ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে নয় ; আসছে পাশ্ববর্তী বাংলাদেশ, নেপাল, ভূটান থেকেও।
ডা: ঘোষ দস্তিদার বললেন, এখন সন্তানহীন দম্পতিদের জন্য আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করেছেন তারা। আগের তুলনায় সফলতা বেড়েছে। তিনি বললেন, এতদিন সন্তান না হওয়ার জন্য আমাদের সমাজ শুধু নারীদেরই দোষ দিয়ে আসছিল। পুরুষরাও যে বাজা হতে পারেন এই ধারণাটা একসময় কোন পরিবারের ছিলনা। এখন দেখা যাচ্ছে সন্তান না হওয়ার জন্য পুরুষ ও মহিলা সমানভাবে দায়ী। দস্তিদার বলেছেন, এখন এই সন্তানহীন দম্পতিদের ৪০ শতাংশ নারী এবং ৪০ শতাংশ পুরুষ। আর যৌথভাবে দায়ী ২০ শতাংশ দম্পতি অর্থ্যাৎ স্বামী এবং স্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে কেবল নারীরাই বাজা হন এই ভুল ধারণা ক্রমে ভাঙছে। মানুষও বুঝতে পারছে পুরুষও সমানদায়ী। ফলে এই সন্তান না হওয়ার জন্য কেবল নারীদের দোষারোপ করার পালা এখন আমাদের দেশের শহরাঞ্চলে কমে  এলেও গ্রামগাঁেয় সেই ছোঁয়া এখনো লেগে আছে। আর সেই কারণে সন্তানহীন দম্পতিরা এখন অনেকটা গোপনেই সন্তানলাভের চিকিৎসা নিচ্ছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের।
ঘোষ দস্তিদার বলেছেন, ১৯৭৮ সালে প্রথম টেস্টটিউব শিশু ভুমিস্ট করার ডা: সুভাষ মুখোপাধ্যায়। তবে তাঁর এই সৃস্টিকে মূল্যায়ন করা হয়নি সেদিন। এরপর ১৯৮১-৮৬ সালের মধ্যে গবেষণা চালিয়ে প্রখ্যাত  চিকিৎসক বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী এবং সুদর্শন ঘোষ দস্তিদার ১৯৮৬ সালে দ্বিতীয় টেস্টটিউব সন্তান ভূমিস্ট করান।
সেটি ছিল আইভিএফ পদ্ধতিতে। এরপরে ডা: ঘোষ দস্তিদার ১৯৯২-৯৩ সালে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইকসি বা আইসিএসআই  ( ইন্ট্রা-সাইটোপ্লাসমিক স্পার্ম ইনজেকশন)  পদ্ধতিতে শিশু ভুূমিস্ট করান সেখানকার চিকিৎসক পার্লেসো । এরপরে এই ইকসি পদ্ধতিতে ১৯৯৫ সালে মার্চ মাসে কলকাতায় এই পদ্ধতিতে শিশু ভূমিস্ট করান ঘোষ দস্তিদার।
ঘোষ দস্তিদার বলেছেন, ইকসি থেকে এখন সন্তানহীন দম্পতিদের সন্তানলাভের জন্য আরও উন্নত চিকিসা পদ্ধতি টেসা-ইকসি শুরু করা হয়েছে।  এরআগে করা হয়েছে  জিফট                                 ( জাইগোট ইন্ট্রা- ফলোপিয়ান ট্রান্সফার) পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে।  এই পদ্ধতির চিকিৎসা খরচ এক লাখ ১০ হাজার রুপির মত। এই পদ্ধতিতে মুম্বাইয়েও শিশু জন্ম নিয়েছে।
ঘোষ দস্তিদার একথাও বলেছেন, এমনও দেখা গেছে নারীর গর্ভধারণ হচ্ছে কিন্তু থাকছেনা। এক্ষেত্রে তিনি জরায়ুর মুখে ছোট্ট একটি অপারেশন করে সন্তানহীন দম্পতির মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছেন। এই পদ্ধতিতে অবশ্য খরচের পরিমাণ সামান্য। হাজার পনের। ঘোষ দস্তিদার আরও বলেছেন, তাঁর কাছে আসা রোগীদের ২৫ শতাংশই আসছেন বাংলাদেশ থেকে।
তাঁর রয়েছে নিজস্ব চিকিৎসালয়, গবেষণাগার। জিডি ইস্টিটিউট অফ ফার্টিলিটি রিসার্চ। এই রিসার্চ সেন্টার দক্ষিণ কলকাতার এসপি মুখার্জি রোডে অবস্থিত। ঘোষদস্তিদার এ কথাও বলেছেন, আগে যেমন সন্তানহীন দম্পতিদের সন্তানলাভের সফলতা কম ছিল এখন তা বহুগুনে বেড়ে গেছে আধুনিক চিকিসা পদ্ধতির ছোঁয়ায়। বলেছেন, তবে সন্তানহীন দম্পতিদের অল্প বয়সে চিকিৎসকের কাছে আসা উচিৎ। নারীদের বয়স যত কম হবে তত বেশি সাফল্য আসবে। চিকিৎসার খরচও কমবে। বিশেষ করে ৩২/৩৩ বছর পর মেয়েদের শারীরিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসে।
তাই তার আগে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে সফলতা আসে বেশি। আবার যেসব নারীদের জরায়ুর মুখের সিস্ট অপারেশন করার প্রয়োজন হয়, সেই সিস্ট অপারেশন করা হলে ওই দম্পতি শিশুর নতুন মুখ দেখতে পারেন। এজন্য খুব একটা বেশি খরচ নয়। তবে থাইরয়েড  এবং ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারে। তিনি একথাও বলেছেন, এখন আর এই রোগীদের বিছানায় শুয়ে থাকার প্রয়োজন নেই।

কলকাতায় বিজয় দিবস উদ্যাপন অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে
                                  

॥ দিশা বিশ্বাস, কলকাতা ॥
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতে এখনো স্বাধীনতাবিরোধীদের ষড়যন্ত্র চলছে। ষগযন্ত্রের ছুরি ও বুলেট এখনো তাড়া করছে বঙ্গন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে । সেই ষড়যন্ত্র সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হবে। ভারতের পুশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বাংলাদেশের বিজয় দিবস উপলেক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন । ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব চিরদিনের উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে, তা আজও অটুট। আমরা এখনো সেই বন্ধুত্বের বন্ধনে আছি এবং থাকব। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ আমাদের অভিন্ন শত্রু। এই অভিন্ন শত্রুকে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে।’
তিস্তার পানিবণ্টনের ব্যাপারে ওবায়দুল কাদের বলেন, ৬৮ বছরের ছিটমহল সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে। তিস্তার পানিবণ্টন সমস্যাও অেিচরে সমাধান হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের উত্তরাঞ্চলে পানির সমস্যা রয়েছে ভারত সরকার এ ব্যাপারে আমাদের আশ্বস্ত করেছে। আমরা চাই তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনে ন্যায়সম্মত সমাধান।’ এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইতিবাচক সমর্থন প্রত্যাশা করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ মমতা দিদির সঙ্গে আমাদের সুমধুর সম্পর্ক রয়েছে। আমরা মনে করি, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমধান হবে।’ এই অনুষ্ঠানেরর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে আরও বক্তৃতা করেন পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, সাংবাদিক আবেদ খান ও ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন কলকাতায় নিযুক্ত উপহাইকমিশনার তৌফিক হাসান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মানবাধিকার খবর সম্পাদক  মোঃ রিয়াজ উদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন শমী কায়সার ও রোকেয়া প্রাচী। পাঁচ দিনের এই অনুষ্ঠানে ছিল মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা সভা, নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, লোকসংগীত, বাউলগান, লালনগীতি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোকচিত্র, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ইত্যাদি।

মিয়ানমারে পরিকল্পিত ধর্ষণের শিকার রোহিঙ্গা নারীরা
                                  

॥ মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥
রোহিঙ্গা নারীরা মিয়ানমারে দেশটির সেনাবাহিনীর সংঘবদ্ধ এবং পরিকল্পিত ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। কখনও কখনও স্বামীকে বেঁধে তার সামনেই স্ত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। আবার কখনও স্বামী-সন্তানকে হত্যার পর সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে তাদের। এমনকি শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরাও রেহাই পাননি সেনাদের হাত থেকে। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এপির করা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পুলিৎজার  সেন্টার অন ক্রাইসিস রিপোর্টিংয়ের অর্থায়নে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ২৯ রোহিঙ্গা নারীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে সংস্থাটি এই বিশেষ প্রতিবেদন করে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীদের সংখ্যা দেখে বিস্মিত এপির প্রতিবেদকরা। বিষয়টি নিয়ে এপি একাধিকবার মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অবস্থান জানার চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের কাছ থকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ধর্ষণের শিকার এসব নারীর বয়স ১৩ থেকে ৩৫-এর মধ্যে। তাদের অনেকেই এখন অন্তঃসত্ত্বা। তবে তাদের কেউ নিজের আসল নাম প্রকাশ করেননি। কারণ তাদের ভয়, এতে পরিবারের অন্য সদস্যদের খুন করে ফেলবে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তাই প্রত্যেকেই নিজের নামের প্রথম অক্ষর বলতে রাজি হন। তেমনি `এফ` অদ্যাক্ষর দিয়ে নামের শুরু এক নারীর ঘটনা তুলে ধরা হয়। ওই নারী জানান, তার সঙ্গে যখন এই বর্বরতা ঘটে তখন তিনি ছিলেন নববধূ। মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলে গত জুনের এক রাতে স্বামীসহ ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন তিনি। এমন সময় মাঝরাতে ঘরের দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ে মিয়ানমারের সাত সেনা। ঘরে ঢুকেই সেনারা তার স্বামীকে  বেঁধে ফেলে ও মুখে কাপড় গুঁজে দেয়। এরপর তার সামনেই সেনারা একে একে তাকে ধর্ষণ করে। একই সঙ্গে চলতে থাকে বেত্রাঘাত। এক পর্যায়ে তার স্বামী মুখের কাপড় ফেলতে সক্ষম হয়ে চিৎকার দেন। তখন এক সেনা খুব কাছ  থেকে তাকে গুলি করে। তারপর তারা গলা  কেটে তার স্বামীর মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর তাকে টেনেহিঁচড়ে সেনারা বাইরে এনে তাদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনার দু`মাস পর ওই নারী জানতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা। নির্যাতনের শিকার প্রত্যেকেই সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সেনাবাহিনীর একদল কর্মী ধর্ষণের সঙ্গে যুক্ত ছিল। একজন বাদে প্রত্যেক নারীই বলেছেন, হামলকারী সেনাদের পরনে ইউনিফর্মও ছিল। সেনাদের পোশাকে তীর কিংবা সামরিক বাহিনীর অন্যান্য চিহ্ন দেখতে  পেয়েছেন তারা।

বিহারে নতুন ফরমান বিয়েতে পণ নিলে চাকরি যাবে সরকারি কর্মচারিদের
                                  

॥ দিশা বিশ্বাস, কলকাতা ॥

ভারতের বিহার রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ বুমার এক ফরমান জারি করে বলেছেন, বিহারের কোনও সরকারি কর্মচারি বিয়ের সময় পণ নিলে তাদের খোয়াতে হবে চাকরি। বিহারে এখনো অবিবাহিত সরকারি কর্মচারির প্রচুর চাহিদা মেয়ের বাবামাদের কাছে। মেয়ে পক্ষ প্রচুর অর্থ পণ দিয়ে এক প্রকার কিনে নেয় ওইসব সরকারি কর্মচারিদের জামাই হিসাবে।

তাই মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার বিহারে পণপ্রথা রোধ এবং বাল্যবিয়ে রোধ করতে এই নতুন ফরমান জারি করেছে। এখন থেকে কোনও সরকারি কর্মচারি বিয়ের সময় পণ গ্রহণ করলে রাজ্য সরকার ওই কর্মচারিকে বরখাস্ত করে দেবে। বিহারে এখনো সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় সকলকে এই মর্মে শপথ নিতে হয়, তারা নিজেরা বা নিজের ছেলে মেয়ের বিয়েতে কোনও পণ নেবেনা। বা বাল্য বিয়েও দেবেনা। বিহারের নারী উন্নয়ন দপ্তরের তরফে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে এ সংক্রান্ত নির্দেশ পাঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে, বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল কুমার মোদি বলেছেন, বাল্য বিয়ে বন্ধ করার জন্য, ’বন্ধন তোড়’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করা হচ্ছে।এই অ্যাপে থাকবে একটি এসওএস বোতাম। যদি কাউকে মতের বিরুদ্ধে নাবালিকা অবস্থায় জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেস্টা করা হয়, তাহলে সেই মেয়েরা এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রশাসনের সাহায্য নিতে পারবে।

সু চিকে রোহিঙ্গা তরুণের খোলাচিঠি চোখের জলে লিখে গেলাম আপনার ভবিষ্যৎ
                                  

॥ মানবাকিার খবর প্রতিবেদন ॥

ছাব্বিশ বছর বয়সী রোহিঙ্গা তরুণ রো মাইয়ু আলি। স্বপ্ন দেখতেন একজন লেখক হওয়ার। রাখাইনের মংডু এলাকায় নিজ বাড়িতের গড়ে তুলেছিলেন পাঠাগার। মিয়ানমারের সেনাদের দেওয়া আগুনে সেই পাঠাগার হারিয়েছেন। পুড়ে গেছে তাকে অনুপ্রেরণা দেওয়া পছন্দের বইগুলো। প্রাণ বাঁচাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাখাইন থেকে পালিয়ে এসেছেন বাংলাদেশে। ঠাঁই হয়েছে কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে। নিজের স্বপ্ন পুড়ে নিঃশেষ হওয়া এই তরুণ রাখাইন সংকটের জন্য শান্তিতে নোবেলজয়ী মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকেই দায়ী করেছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার মাধ্যমে সু চির কাছে এক খোলা চিঠি লিখেছেন মাইয়ু আলি। চিঠিতে সু চির কাছে বেশ কিছু প্রশ্ন রাখার পাশাপাশি মন্তব্য করেছেন, চোখের জলেই তিনি লিখে গেলেন সু চির ভবিষ্যৎ। ইতিহাসে একজন সামরিক জান্তার সমান্তরালেই উচ্চারিত হবে সু চির নাম।

সু চিকে খোলা চিঠিতে মাইয়ু আলি লেখেনঃ

যে বছর আপনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান, সেই বছরেই আমার জন্ম। আমাদের দেশের যে কারও পাওয়া সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার এটি। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডুতে আমার জন্ম। আমাদের এখানকার সবাই সেদিন আনন্দে আত্মহারা হয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, আমরাই যেন এ পুরস্কার পেয়েছি। বছরের পর বছর সামরিক জান্তার অত্যাচারে নিষ্পেষিত রোহিঙ্গারা আপনার পুরস্কার পাওয়ায় নতুন করে অনুপ্রেরণা পায়। স্বাধীনতার পর ওই ঘটনায় প্রথমবারের মতো অনুভব করেছিলাম, আমরাও মিয়ানমারের অংশ। মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে গর্ববোধ করেছিলাম।

আমার দাদা সব সময় আপনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করতেন। আপনার দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির লোকজন যখন আমাদের বাড়িতে আসত, তখন তিনি সবচেয়ে বড় ছাগল ও গরু জবাই করতেন। তিনি তাদের খুবই আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাতেন। আমার বাবা ও প্রিয় দাদা চেয়েছিলেন, আমি যেন আপনার পথ অনুসরণ করি। নির্যাতিতদের পক্ষে আপনার সোচ্চার কণ্ঠস্বর ও জীবনবোধ আমার মাকেও আকৃষ্ট করেছিল।

২০১০ সালে সামরিক বাহিনী যখন আপনাকে গৃহবন্দিত থেকে মুক্তি দেয়, তখন আমরা রোহিঙ্গারা খুবই আনন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তু মাত্র সাত বছরের মাথায় আমরা, রোহিঙ্গারা আবারও বর্বরতা ও গণহত্যার শিকার হলাম। এবার তা আপনারই হাতে।

২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর আপনি দল থেকে মুসলিম প্রতিনিধিদের বের করে দিলেন। এটি ছিল আপনার রাজনৈতিক ভীরুতার প্রথম চিহ্ন। এর কয়েক মাস পরেই উত্তর রাখাইনে আপনার প্রশাসন রাখাইন `জাতিগত নিধন` অভিযান শুরু করল। হত্যা করা হলো অসংখ্য বেসামরিক লোককে। গণধর্ষণের শিকার হলো অসংখ্য নারী। বিশ্বজুড়ে এর ব্যাপক নিন্দা হলো। কিন্তু আপনি সেই অপরাধের কথা স্বীকার করেননি। এমনকি আপনি আমাদের রোহিঙ্গা পরিচয় দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অথচ শত বছর ধরে আমরা রাখাইন রাজ্যে বসবাস করে আসছি এবং রোহিঙ্গাই আমাদের জাতিগত পরিচিতি।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতা শুরুর পর থেকে পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এক হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। ১৫ হাজারের বেশি বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা এখনও রাখাইন ছাড়তে পারেনি, তারা আতঙ্ক ও নির্যাতনের মধ্যে রয়েছে।

গত ১ সেপ্টেম্বর আমাকে ও আমার বাবাকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। ছোট্ট একটি নৌকায় করে নাফ নদ পাড়ি দিয়ে তিন দিন ও দুই রাত পর আমরা বাংলাদেশে আসি। আমাদের আশ্রয় হয় কুতুপালংয়ের একটি শরণার্থী ক্যাম্পে। এরপর খবর পেলাম, মংডুতে আমাদের বাড়িটি জ্বালিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই বলছে, এটি সেনাবাহিনী কিংবা স্থানীয় বৌদ্ধরা করেছে। কিন্তু আমি বলব, সু চি আপনিই এগুলো করছেন। এর জন্য আপনাকেই দায়ী করব আমি।

আপনি শুধু আমার বাড়িই জ্বালিয়ে দেননি, আমার বইগুলোও পুড়িয়ে দিয়েছেন। আমি সব সময় েেলখক হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। আমি সিত্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে পড়ছিলাম। কিন্তু আপনি জানেন, সেখানে রোহিঙ্গাদের পড়াশোনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই আমি বই ও আর্টিকেল পড়ে অনুপ্রেরণা পেতাম। আপনি নেলসন ম্যান্ডেলার `লং ওয়াক টু ফ্রিডম` বইটি পুড়িয়ে দিয়েছেন। মহাত্মা গান্ধীর জীবনী পুড়িয়েছেন, লিমাহ জিবোইয়ের `মাইটি বি আওয়ার পাওয়ার` বইটিও আপনি পুড়িয়েছেন। এমনকি আপনি নিজের `ফ্রিডম ফ্রম ফেয়ার` বইটিও পুড়িয়ে দিয়েছেন। আমার সব আশা ও স্বপ্নকে পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমি শুধু আপনাকেই দায়ী করব। আপনার কাছে আমার বাবার একটি প্রশ্ন রয়েছে, সবকিছু ঘটার পরও আপনি কেন রোহিঙ্গাদের একবারও দেখতে আসেননি, হোক সেটা রাখাইন রাজ্যে কিংবা বাংলাদেশে, যেখানে আমাদের পালিয়ে আসতে বাধ্য করা হয়েছে। আপনি কি একবারও আমাদের খবর জানতে চেয়েছেন?

আমরা রোহিঙ্গারা পৃথিবীর সবচেয়ে নিপীড়িত সম্প্রদায়। আমার হৃদয় ভেঙে যায়, যখন আমি শুনি যে সু চির দেশ মিয়ানমারের একটি জনগোষ্ঠী পৃথিবীতে সবচেয়ে নির্যাতিত। আপনি যে পথ বেছে নিয়েছেন, তা আজ সবার কাছেপরিস্কার। ইতিহাসে আপনার নাম একজন অত্যাচারী সামরিক জান্তার কাতারেই লেখা হবে। লাখ লাখ রোহিঙ্গার রক্ত আর বিলাপে লেখা আপনার নাম ইতিহাসে অবশ্যই থাকবে। তবে তা শান্তিতে নোবেলের জন্য, নাকি আপনার নারকীয় নৃশংসতার জন্য- তার জবাব সুদূর ভবিষ্যতের কোনো এক পাতায় আমরা রোহিঙ্গারা চোখের জলে লিখে রেখে গেলাম।

ভারতে জাতীয় খাবারের তকমা পেতে চলেছে খিচুরি
                                  

॥ কলকাতা প্রতিনিধি ॥

ভারত এবং বাংলাদেশের আম জনতার এক খাবারের নাম খিচুরি। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, ঝাড়খন্ড, বিহার , উড়িষ্যা, উত্তর প্রদেশ সহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং বাংলাদেশে চালডালের এই খাবার খিচুরি হিসাবে সর্বত্র পরিচিত হলেও ভারতের সব রাজ্যেই খিচুরি খেয়ে থাকে আমজনতা।

তবে পশ্চিমবঙ্গ সহ উত্তর এবং পশ্চিম ভারতে খিচুরি নামে পরিচিত হলেও দক্ষিণ ভারতে এই খিচুরি তাদের আঞ্চলিক ভাষার নানা নামে পরিচিত। ভারতে জাতীয় পশু পাখি ফুল ইত্যাদি থাকলেও নেই জাতীয় খাবারের নাম। তাই ভারতের কেন্ত্রীয় সরকার এবার জাতীয় খাদ্য হিসাবে খিচুরি নাম ঘোষণার প্রস্তাব তুলেছে। কারণ, ভারতের সর্বত্র খিচুরি খাওয়ার প্রচলন আছে। খিচুরি তৈরি করতে সময় কম লাগে। খরচ কম হয় ।

আমজনতার রসনাতৃপ্তিতে এই খিচুরির তুলনা নেই। চাল ডালের সঙ্গে মাছ মাংস ডিমের সংমিশ্রনেও তেরি হচ্ছে এই খিচুরি। তাছাড়া খিচুরির সঙ্গে বেঙ্গুন, আলু, পাপর ভাজা ইত্যাদি এনে দেয় রসনা তৃপ্তিতে নতুন মাত্রা। ভারতে জাতীয় খাবার হিসাবে কোনও খাদ্যদ্রব্যের নাম তালিকায় না থাকলেও পৃথিবীর বহুদেশে রয়েছে তাদের দেশের নিজস্ব খাদ্যদ্রব্যের নাম। বৃটিশদের মূল খাদ্য ফিস অ্যান্ড চিপস, জাপানের সুসি, হাঙ্গেরির গুলাস, ইতালির পিৎজা, পাস্তা, রিসোত্তো, ফ্রান্সের ক্রেপ, নেপালের ডালভাত, পাকিস্তানের বিরিয়ানি, নেহারি ইত্যাদি।

এবার সেই তালিকায় ঠাঁই পেতে চলেছে ভারতের খিচুরি। যদিও এখনো পৃথিবীর বহুদেশে ভারতীয় নানাখাদ্যের ডিস জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এদিকে ভারতের খিচুরিকে জাতীয় খাদ্য হিসাবে ঘোষণা দেওয়ার জন্য উদ্যাগ নেওয়া হয়েছে। উদ্যোগ নিয়েছে

ভারতের কেন্দ্রীয় খাদ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রক। এই মন্ত্রকের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হরসিমরত কৌর বাদল। তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন ভারতের জাতীয় খাবার হিসাবে খিচুরির নাম ঘোষণার। ৩ নভেম্বর থেকে ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লিতে শুরু হ”েছ তিনদিনব্যাপী ’ওয়ার্ল্ড ফুড ইন্ডিয়া মেলা’ ।

এর মূল আয়োজক ভারত। সঙ্গী রয়েছে ডেনমার্ক, জাপান এবং জার্মানি। ফোকাস কান্ট্রি হিসাবে থাকছে ইটালি ও নেদারল্যান্ডস। ৩ নভেম্বর শুক্রবার এই মেলার উদ্বোধন করবেন ভারতের উপরাস্ট্রপতি ভেংকাইয়া নাইডু। আর এই উৎসব ঘিরে ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে খিচুরি রান্নার এক মহোৎসব। এখানে ভারতের খিচুরি রান্না করতে উপস্থিত হবেন ভারতের সেরা শ্যেফরা।

তারা একসঙ্গে এক হাড়িতে রান্না করকেন ৮০০ কেজি চালডালের খিচুরি। এদিন উপ¯ি’ত থাকবেন গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এর কর্মকর্তারা। এর আগে একসঙ্গে ৮০০ কেজির খিচুরি রান্নার রেকর্ড কোথায়ও নেই। ফলে এই খিচুরি রান্নার রেকর্ড ঠাঁই পেতে চলেছে গিনেস বুকে। পাশাপাশি এদিনই ঘোষণা হতে পারে ভারতের জাতীয় খাবার হিসেবে খিচুরির নাম।

পশ্চিমবঙ্গ’র নাম বদলে হচ্ছে ’বাংলা’
                                  

॥ দিশা বিশ্বাস, কলকাতা ॥

পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে হচ্ছে বাংলা। ইংরেজি, বাংলা এবং হিন্দিতেও হবে বাংলা নাম। সম্প্রতি রাজ্য মন্ত্রীসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। গত বছর পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের নাম পরিবর্তণ করে বাংলা রাখলেও ইংরেজিতে এই নাম রাখা হয় বেঙ্গল আর হিন্দিতে বাঙ্গাল। মন্ত্রীসভায় এই সিদ্ধান্তের পর গত বছর ২৯ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভায় নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব বিপুল ভোটের ব্যবধানে পাস হয়ে যায়।

প্রস্তাবের পক্ষে পড়ে ১৮৯ ভোট আর বিপক্ষে পড়ে ৩১ ভোট। পরে নাম পরিবর্তণের এই প্রস্তাব যথারীতি অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। কিন্ত কেন্দ্রীয় সরকার একই রাজ্যের তিনভাষায় তিনটি নাম থাকায় আপত্তি তুলে তা জানিয়ে দেয় রাজ্য সরকারকে। এরপরেই রাজ্য মন্ত্রীসভা বাংলা, হিন্দি এবং ইংরেজিতে রাজ্যের না ’বাংলা’ হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। মন্ত্রীসভার বৈঠকের পর রাজ্যের শিক্ষা ও পরিষদীয় দফতরের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, রাজ্য বিধানসভায় রাজ্যের নাম বদলের প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর তা পাঠানো হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। বহুদিন অপেক্ষা করার পরও কোনও সদর্থক উত্তর মেলেনি। পরে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়, রাজ্যের ক্ষেত্রে একটি নাম হওয়াই বাঞ্ছনীয়। তাই কেন্দ্রের প্রস্তাব মেনে শুধু ’বাংলা’ নামকরণ করার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে মন্ত্রীসভার বৈঠকে।

রাজ্য বিধানসভায় প্রস্তাব পাসের পর গত বছর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, নাম পরিবর্তণের প্রস্তাব পাসের ঘটনা আমাদের কাছে এক ঐতিহাসিক দিন। বাংলা নামের প্রতি আমাদের আবেগ জড়িত। তাই এই রাজ্যের নাম বাংলা হওয়ায় আমরা গর্বিত। আশাকরি রাজ্যবাসীও খুশি। তাই রাজ্যবাসীকে জানাই অভিনন্দন। বলেছিলেন, বাংলা নামে আমরা আজও স্বচ্ছন্দ বোধ করি। তাই আজ এই রাজ্যবাসীর জন্য এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হল। মমতা বলেন, যুগের প্রয়োজনে কখনও সিদ্ধান্ত বদল করতে হয়। আমরা সেই পথে এগিয়ে আমাদের রাজ্যের নাম বাংলা করেছি। কবিগুরুর নানা লেখায় ফুটে উঠেছে এই বাংলা নামের কথা। পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন নিয়ে রাজ্য মন্ত্রীসভায় গত বছরের ২ আগস্ট দুটি নামের প্রস্তাব গৃহীত হয়।

বাংলা এবং বঙ্গ। তবে অধিকাংশের মত ছিল বাংলা’ নামের পক্ষে। সেই নামকেই অনুমোদন করেন মমতা। তারপরে এই নাম পরিবর্তণের প্রস্তাব পেশ হয় বিধানসভার অধিবেশনে। সেদিন অবশ্য কেউ কেউ বলেছিলেন, আমাদের প্রতিবেশী রাস্ট্র বাংলাদেশ । রাজ্যের নাম বাংলা হলে সমস্যা হতে পারে। তাই এই প্রসঙ্গে মমতা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন , ’বাংলার মাটি , বাংলার জল ঠিকই আছে। পাশে বাংলাদেশ তো একটা দেশ। আর রাজ্যের নাম বাংলা হলে অসুবিধে কোথায়? পাকিস্তানেও পাঞ্জাব আছে, আমাদের দেশেও পাঞ্জাব আছে।’ প্রসঙ্গত, এর আগেও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের নাম পরিবর্তন হয়েছে সংযুক্ত প্রদেশের নাম পরিবর্তন হয়ে হয়েছে উত্তরপ্রদেশ, হায়দারাবাদের পরিবর্তে হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ , মধ্য ভারতের নাম হয়েছে মধ্যপ্রদেশ ,উত্তরাঞ্চলের পরিবর্তে হয়েছে উত্তরাখন্ড , উড়িষ্যার পরিবর্তে হয়েছে ওডিশা , ত্রিবাঙ্কুর -কোচিনের পরিবর্তে কেরালা ,মাদ্রাজের পরিবর্তে তামিলনাড়– এবং মহীশূরের পরিবর্তে হয়েছে কর্ণাটক রাজ্য ।

বলা বাহুল্য, ২০১১ সালে মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের শাসন ক্ষমতায় প্রথম আসার পর মমতা আগস্ট মাসে এক সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন। তখন সেখানেই ওঠে আসে ওয়েস্ট বেঙ্গলের নাম ইংরেজিতে পশ্চিমবঙ্গ লেখা হোক। বৈঠকে এই প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর তা পাঠানো হয় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অনুমোদনের জন্য।

২০১৪ সালে কেন্দ্র-রাজ্য বিষয়ক তৎকালিন যুগ্ম সচিব সুরেশ কুমার জানিয়ে দেন, সংবিধান সংশোধন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংসদে আনা হবে ’ওয়েস্ট বেঙ্গল অল্টারেশন অফ নেম-অ্যাক্ট ২০১৪’ নামের একটি সংশোধনী বিল।কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও সংসদে আসেনি সেই বিল।

মন্ত্রীর ঘুম, মমতার শাসানি এবং ছোট চোখের গল্প
                                  


॥ কলকাতা প্রতিনিধি ॥

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে তৃণমূলের কোর কমিটির এক বৈঠক ডেকেছিলেন সম্প্রতি । সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীরা। মমতা মন্ত্রীদের কাজ নিয়ে সমালোচনা করছিলেন এবং কাউকে কাউকে শাসাচ্ছিলেনও। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা।

মমতা যখন ভাষণ দিচ্ছিলেন তখন মৃদৃ গুমোচ্ছিলেন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা। এই ঘুমের দৃশ্য হঠাৎ চোখে পড়ে যায় মমতার। ব্যস, তখনই মমতা ধমক দিয়ে মন্টুরামকে বলেন, একি মন্টু তুমি ঘুমোচ্ছো’? দলনেত্রীর আচমকা ধমকে হুঁশ ফেরে মন্ত্রীর। বলে উঠেন তিনি ঘুমোচ্ছিলেননা। তাঁর চোখ দুটি ছোট বলেই এমন মনে হয়েছে। মন্ত্রীর এই ব্যাখ্যা শুনে হাসির রোল পড়ে বৈঠকে। বাদ যায়নি মুখ্যমন্ত্রীর হাসিও।

মদ্যপ পিতা সন্তান বিক্রি করে কিনলেন মোবাইল!
                                  


॥ দিশা বিশ্বাস, কলকাতা ॥

নিজের ১১ মাসের একটি পুত্র সন্তানকে বিক্রি করে এক মদ্যপ পিতা ২ হাজার রুপি দিয়ে কিনেছেন একটি মোবাইল। আর ৭ বছরের কন্যার জন্য কিনেছেন একটি রুপোর অ্যাঙ্কলেট। আর বিক্রির বাকি টাকা উড়িয়ে দিয়েছেন মদ পান করে। পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছে মদ্যপ সেই পিতাকে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের ওডিশা রাজ্যের ভদ্রকে। ভদ্রকের পুলিশ সুপার অনুপ সাহু সাংবাদিকদের বলেছেন, মদ্যপ বলরাম মুখি টাকার জন্য মাঝেমধ্যে পাগল হয়ে যেত।

ইতিমধ্যে এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী সোমনাথ শেঠির পরিবার মুখির ১১ মাসের শিশু পুত্রকে তাঁর শ্যালক ও অন্য এক ব্যক্তির সহযোগিতায় বিক্রি করে ২৩ হাজার রুপিতে। এরপর ওই টাকার ২ হাজার রুপি দিয়ে কেনেন একটি মোবাইল, আর নিজের ৭ বছরের কন্যার জন্য কেনেন একটি রূপোর অ্যঙ্কলেট। বাকি টাকাটা মদ খেয়ে উড়িয়ে দেয়। বলরাম মুখির রয়েছে আরও একটি ১০ বছর বয়সী পুত্র সন্তান। এরপরে পুলিশ বলরাম মুখিকে ভদ্রক থেকে গ্রেপ্তার করে। মুখি পুলিশের কাছে সব দোষ স্বীকার করেছে। পুলিশ এবার মুখির স্ত্রী এবং শিশুটিকে ক্রয়করা দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পুলিশ আরও বলেছে, সোমনাথ শেঠির পরিবার কিছুদিন আগে তাঁর ২৪ বছরের পুত্র সন্তানকে হারায়। এরপরেই স্ত্রী শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। স্ত্রীকে সান্তনা দেওয়ার জন্য তিনি এই শিশুপুত্রটিকে কেনেন।

মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম গনহত্যার প্রতিবাদে কলকাতায় লক্ষাধিক মানুষের প্রতিবাদ মিছিল
                                  


॥ ভারত প্রতিনিধি ॥

মায়ানমারে রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু মুসলিম জনজাতি মানুষের ওপর চলমান নিপীড়ন এবং গনহত্যার ও নৃশংস পাশবিক অত্যাচারের প্রতিবাদে পঃবঃ- এর ১৮টি মুসলিম সংগঠনের ডাকে সারা বিশ্বের মানুষের সাথে প্রতিবাদে শামিল হল বাংলার মানুষ। এই প্রতিবাদ মিছিলে বৌদ্ধ সংখ্যালঘু এবং মায়ানমার থেকে আগত শরনার্থীরা মিলিত হয়। কলকাতার পার্কসার্কাস সেভেন পয়েন্ট মোড় থেকে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের প্রতিবাদ মিছিল বের হয় ধর্মতলার রানি রাসমনি রোডের উদ্দেশ্যে।

সারা বাংলা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস, ট্রাক, রেলে করে মিছিলে হাজির হয়। আগত প্রতিবাদী মানুষের হাতে ছিল মায়ানমারের চলতে থাকা অত্যাচারিত হওয়া মানুষের ছবিসহ ব্যানার এবং প্ল্যাকার্ড। অনেকের হাতে ছিল মায়ানমারের প্রধানমন্ত্রী সূচির ছবিসহ প্রতিবাদ। উল্লেখ্য মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে উগ্র বৌদ্ধ ও সেনাবাহিনীর হাতে বর্বরোচিত পাশবিক অত্যাচার, গনহত্যা সারা বিশ্বের মানুষকে বিচলিত করেছে। তার প্রতিবাদে ভারতে এই প্রথম প্রতিবাদ মিছিল। এই মিছিল থেকে মায়ানমারের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে হুশিয়ারী দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে ভারত সরকার যেন মায়ানমারের সংখ্যালঘু মানুষের পাশে দাঁড়ায় এবং আন্তর্জাতিক জাতিসঙ্ঘ প্রতিবাদ জানায়।

এদিন কলকাতায় অবস্থিত মায়ানমারের উপরাষ্ট্রদূতের হাতে প্রতিবাদের স্বারকলিপি তুলে দেয় এবং অবিলম্বে যাতে বন্ধ হয় জাতিদাঙ্গা। এইদিন মহামিছিলের প্রতিবাদসভায় বক্তব্য রাখেন, পঃবঃ প্রদেশ কংগ্রেস এর সভাপতি শ্রী অধীর চৌধুরী (এমপি), বিধায়ক জনাব মিলটগ রসিদ, সি.পি. এম নেতা এবং বিধায়ক শ্রী সূজন চক্রবর্তী , ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা মাওলানা ত্বহা সিদ্দিক, জনাব কামরুজ্জামান, জামাতে ইসলামী পঃবঃ আমীর মাওলানা নুরউদ্দিন সাহেব। পীরজাদা সাহাফিকু ইসলাম, মুফতি ইমদাদুল্লা, বৌদ্ধ সংখ্যালঘু নেতা হেমেন্দু বিশ্বাস চৌধুরী, মাওলানা বাহাউদ্দিন সাহেব। মিছিল শেষে বিশ্ববাসীর জন্য শানিত দেওয়া হয়।

ত্রিপুরায় বৃষ্টিতে বিলিন হলো দুর্গাপূজার আনন্দ
                                  


॥ শাহীন আলম জয় ॥

আগরতলা থেকে ফিরে: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব দুর্গাপূজা। এবছর আগরতলাসহ গোটা ত্রিপুরা রাজ্যে চতুর্থী, পঞ্চমী ও ষষ্ঠীর দিন ভালোই কেটেছে। সপ্তমীর দিনে সন্ধ্যা নামতেই ভিড় বাড়তে থাকে আগরতলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে। কিন্তু বাধ সাধে বৃষ্টি, পূজার আনন্দকে মাটি করে দিতে সন্ধ্যা থেকেই বিলিন হয়ে নেমে এলো বৃষ্টি।

অন্যদিকে আগরতলাসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু যারা পূজা দেখতে এসেছিলেন বৃষ্টির কারণে তাদের আশ্রয় নিতে হয়েছে বিভিন্ন মণ্ডপ, দোকানসহ অন্যান্য স্থানে। এই বৃষ্টিতে উৎসব মুখর মানুষের যেমন মন খারাপ তেমনি মন খারাপ অস্থায়ী দোকানীদের। অস্থায়ী দোকানীরা বাংলানিউজকে জানান, যে পরিমাণ কেনাবেচার আশা করেছিলেন তারা বৃষ্টি আসায় সে আশা শেষ হয়ে গেছে। আর যদি আশানুরূপ বিক্রি না হয় তাহলে যে টাকা খরচ করেছেন সেটাও উঠবে না।

এদিকে আবহাওয়া দফতরের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, মহা অষ্ঠমী ও মহা নবমীর দিনেও রাজ্য জুড়ে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

কলকাতার ঐতিহ্যের দুর্গা পূজো
                                  



॥ অমর সাহা, কলকাতা ॥

এই উপমহাদেশে কলকাতার দুর্গাপূজোর একটা আলাদা নাম আছে, মাত্রা আছে। দুর্গাপূজো বলতে এখনো প্রথম উঠে আসে কলকাতার নাম। শারদীয় এই দুর্গাপূজো বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সেরা পূজো। বসন্তকালেও এই পূজো হয়। কিন্তু বাঙালিদের কাছে এখনও সেরা পূজো বা উৎসব হল এই শারদীয় দুর্গোৎসব। যেখানে বাঙালির বাস সেখানেই দেবী দুর্গা পূজিত হন। যেমন পূজিত হন বাংলাদেশে। শুধু বাংলাদেশ কেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও বাঙালি হিন্দুরা ঘটা করে আয়োজন করেন এই দুর্গোৎসবের। আর ভারতের কথাতো বলার অপেক্ষা রাখেনা। পশ্চিমবঙ্গ আর ত্রিপুরা হল বাঙালিদের সেরা ভুমি। এছাড়া দিল্লি , মুম্বাই, আসাম, মেঘালয়, বিহার, ঝাড়খন্ড, উত্তর প্রদেশ, ওডিশা, ছত্রিশগড়, মধ্য প্রদেশ সর্বত্রই অনুষ্ঠিত হয় এই দুর্গোৎসব। আর একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরার সেরা উৎসবও এই শারদীয় দুর্গোৎসব। যেমনটা মহারাষ্ট্রের সেরা উৎসব গনেশ পুজো, উত্তর প্রদেশে রামনবমী, জন্মাস্টমী, দেওয়ালি। ওডিশার রথযাত্রা, আহমেদাবাদে রামনবমী, তামিলনাড়–র পোঙ্গল উৎসব, কেরলের ওনাম উৎসব, গুজরাটে নবরাত্রি উৎসব, হিমাচল প্রদেশ ও দিল্লির দশেরা উৎসব ইত্যাদি। তাই বলতে দ্বিধা নেই, এখনো পশ্চিমবঙ্গের সেরা উৎসব হিসাবে ইতিহাসের পাতায় রয়েছে এই দুর্গোৎসব। এবারও তাঁর ব্যতিক্রম হয়নি।

বাঙালিদের এই সেরা পূজাকে ঘিরে সেজে উঠেছে কলকাতা সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গ। আলোকমালায় ¯œাত হয়েছে কলকাতা শহর সহ গোটা রাজ্য। অলিতে গলিতে তৈরি হয়েছে চমক দেওয়া নানা পূজা মন্ডপ আর ছড়িয়ে পড়ছে আলোর রোশনাই। লাখো লাখো টাকা খরচ হয় এই উৎসবকে ঘিরে। এই উৎসবে কলকাতা ফিরে পায় এক নতুন জীবন। শরতের আগমনী বার্তা দিতে চারদিকে ফোটে কাশফুল। ঢাকের শব্দে মুখরিত হয় কলকাতা সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গ। বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের চন্ডীপাঠের কন্ঠ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।

প্রতিটি মন্দিরে আলাদা মাত্রা এনে দেয়, মনে করিয়ে দেয় দেবী দুর্গা এসেছেন এই মর্ত্যভূমিতে। তোমাদের দ্বারে। বরণ করে নাও। কলকাতার পূজোর একটি আলাদা মাত্রাই আজও সেরা পূজোর তালিকায় বসিয়েছে কলকাতাকে। আজও চলছে এখানে সেই সাবেকি পূজো আর আধুনিক থিমের পূজোর লড়াই। কে কাকে টেক্কা দেবে তার লড়াই। তবে এবারও এগিয়ে থিমের পূজো। এবারও পিছিয়ে নেই কলকাতা। কলকাতার পূজো দেখতে এবারও হাজির দেশবিদেশের ভক্ত আর পর্যটকরা। এসেছে বাংলাদেশ থেকে হাজারো ভক্ত ও পর্যটক। সীমান্তে এখন বিদেশী পর্যটকদের ভিড়ে হিমসিম খেয়েছে শুল্ক ও অভিবাসন দপ্তরের কর্মকর্তারা। বেনাপোল-হরিদাসপুর, গেদে-দর্শনা, আগরতলা, ভোমরা, সব সীমান্তেই মানুষের ঢল নেমেছিল। ছুটে এসেছিল বাংলাদেশের প্রচুর মানুষজন। সেই সঙ্গে কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মানুষ ছুটছেন বাংলাদেশে। কারণ, কলকাতার পর এখন নাম বাংলাদেশের। তাইতো শিকড়ের খোঁজে দুর্গোৎসববে সঙ্গী করে অনেকেই পাড়ি জমায় বাংলাদেশেও। এই চিত্র আজ পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশ সীমান্তের সর্বত্র। কলকাতায় এবারের দুর্গাপুজোয়ও সেই লড়াই অব্যাহত ছিল। সাবেকি বনাম আধুনিকতার লড়াই। তবে এগিয়ে আধুনিকতা বা থিমের লড়াই বা ভাবনা। একইধারার এতটুকু খামতি নেই। কোথাও সাবেকিয়ানায় সেই দোচালা বা চৌচালায় মন্ডপ আবার কোথায়ও আধুনিকতার নানা থিম নিয়ে তৈরি মন্ডপ। প্রতিমা নির্মাণেও একইধারা বর্তমান। কোথায় সেই যুগযুগ ধরে চলে আসা দুর্গার সেই পুরনো মুখ। আবার কোথাও আধুনিকতার প্রলেপে নতুন থিম নিয়ে তৈরি হয়েছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। কলকাতার অহিরিটোলা যুবকবৃন্দ এবার তাদের পূজোর থিম করেছে মোবাইল ফোনের নেতিবাচক দিকগুলোকে তুলে এনে। তুলে ধরেছে মোবাইল ফোন কিভাবে মানুষের জীবনের ছন্দপতন ঘটাচ্ছে। পুরীর রথকে থিম করেছে জগৎপুর যুবকবৃন্দ। মানসবাগ সার্বজনীনের এবারের থিম বৃষ্টি

কলকাতার বিবেকানন্দ সংঘ থিম করেছে জলের অপচয় রোধকে। রাশিচক্রকে থিম করেছে আদি লেক পল্লি। বেহালার বুড়ো শিবতলার থিম লাঠি। বড়িশার তরুণ তীর্থের থিম আধাঁর শীতলাতলার কিশোর সংঘের থিম রবীন্দ্র-নজরুল-জীবনানন্দের কবিতা। কুমোরটুলির সার্বজনীনের থিম শিল্পসৃস্টির আঁতুরঘর। বাঁশের বিস্ময়কে থিম করেছে সল্টলেকের এইচ ব্লক দুর্গোৎসব কমিটি। বেহালার নেতাজি স্পোটিং ক্লাবের থিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। কাঁকুরগাছি যুবকবৃন্দের থিম মোবাইল ফোন নয়, পোস্টকার্ড, রেডিও, গ্রামোফোন আর টাইপরাইটার যুগকে। কালিঘাট মিলন সংঘ থিম করেছে ’অসষ্ণিুতা নয় , শান্তি চাই’কে। চোরবাগান থিম করেছে সার্কাস প্যান্ডেলকে নিয়ে। দমদম পার্ক তরুণ সংঘ’র থিম গুজরাটের এক বিলুপ্ত গ্রামকে। দমদমপার্ক সার্বজনীনের থিম জাতক কাহিনী। উল্টোডাঙ্গার বিধান সংঘ’র থিম স্মৃতি চিহ্ন। বেহালার জয়শ্রী ক্লাবের থিম স্বর্গ। বেলেঘাটার সরকার বাজার বিবেকানন্দ সংঘের থিম বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা আর পুরুলিয়ার ছৌনৃত্য। নারী শক্তিকে থিম করেছে উল্টোডাঙ্গা যুববৃন্দ। লেকটাউন প্রগতি পল্লির থিম ত্রিশূল, গদা আর চক্র। নিমতলা সার্বজনীনের পুজোয় এবার ফুটে উঠেছে ছাপাখানার ইতিকথা। দুর্গার কেল্লা দেখা যাবে বিশালাক্ষীতলা সার্বজনীনের পুজো মন্ডপে।

বাঁশের নানা কারুকার্য দিয়ে মন্ডপ তৈরি করেছে পূর্ব কলকাতা সার্বজনীন। প্রদীপ সংঘ নতুন পল্লীর থিম এবার সভাঁড়ার ঘরে পড়ছে টান, মা-ই দেবে বাঁচার ত্রাণ’। দমদম মল পল্লীর থিম আমার মুক্তি আলোয় আলোয়। ভবানীপুর স্বাধীন সংঘের থিম মুখ্যমন্ত্রী মমতার কবিতা সবুজ’। অন্ধকার থেকে আলোয় থিম করেছে কালিন্দীর নবদিগন্ত। পৃথিবীর সেরা কয়েকটি চিত্রকলাকে থিম করেছে জোড়াসাঁকো সাতের পল্লি। দুষণমুক্ত পরিবেশ গড়াকে থিম করেছে সন্মিলিত মালপাড়া সার্বজনীন। জিয়নকাঠিকে থিম করেছে পাটুলি সার্বজনীন। প্রাচীন জমিদার বাড়ির আদলে মন্ডপ গড়েছে হাজরার ২২ পল্লি সার্বজনীন। নিউগিনির এক লুপ্তপ্রায় শিল্পকলা কোমা’কে থিম করেছে সল্টলেক এ-ই ব্লক। সাবেকি প্রতিমাকে তুলে এনেছে বড়িশা মৈত্রী সংঘ। খিদিরপুর মিলন সংঘের থিম ’করেন কী কালিদাস ?’।

’অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো’কে থিম করেছে নবপল্লি সংঘ। হরিদেবপুরের বিবেকানন্দ স্পোটিং ক্লাবের থিম বিহারের এক আদিবাসী গ্রাম। দক্ষিণ কলতাতার দেশপ্রিয় পার্কের এবারের পুজোর মন্ডপ তৈরি হয়েছে থাইল্যান্ডের হোয়াইট ট্যাম্পলের অনুকরণে। হিন্দুস্থান পার্কের মন্ডপ তৈরি হয়েছে ’মিলে গেছে আধাঁর আলোয়’ ভাবনাকে নিয়ে। সন্তোষপুর লেকপল্লি এবার তৈরি করেছে ঘূর্ণায়মান মন্ডপ। ’চাইনা বন্দিত্ব, চাই মুক্তি’কে থিম করেছে চালতাবাগান সার্বজনীন। কলেজ স্কয়ারের মন্ডপ তৈরি হয়েছে জয়পুরের রাণী সতী মন্দিরের আদলে। শিয়ালদহ অ্যাথলেটিক ক্লাবের মন্ডপ হয়েছে মুম্বাইর ছত্রপতি রেল স্টেশনের ধাঁচে। সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের মন্ডপ তৈরি হয়েছে লন্ডনের ওয়াচ টাওয়ার, বিগবেন এবং লন্ডন ব্রিজের অনুকরণে।

এখানে দেবী দুর্গা পরেছেন ৮ কোটি রুপি মূল্যের ২৮ কেজি ওজনের সোনার শাড়ি। সিংহী পার্কের মন্ডপ তৈরি হয়েছে মহীশূরের নমদ্রলিং গুম্ফার আদলে। একডালিয়া এভার গ্রিন মন্ডপ তৈরি করেছে চেন্নাইয়ের অস্টলক্ষী মন্দিরের ধাঁচে। বোস পুকুর তালবাগানের এবারের পূজোর থিম ’ যা দেবী সর্বভূতেষু’। আর বোসপুকুর শীতলা মন্দির থিম করেছে ,’পুকুরে সোনার জল’। কলকাতায় এবার সার্বজনীন পুজো হচ্ছে ২ হাজার ৬০০আর রাজ্যে ৩০ হাজার। সেই পূুজো দেখার জন্য এবারেও প্রতিদিন লাইন দিয়ে প্রতিমা আর মন্ডপ দর্শন করেছেন লাখো মানুষ।

কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনের প্রতিষ্ঠা দিবস
                                  

দিশা বিশ্বাস, কলকাতা
বিশ্বে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশ মিশনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মর্যাদার সঙ্গে কলকাতায় পালিত হয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল মঙ্গলবার বাংলাদেশ উপদূতাবাসের কূটনীতিকরা যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালন করেছেন ঐতিহাসিক দিনটি। চার কূটনীতিক জাতীয পতাকার চারটি কোন ধরে উপদূতাবাস প্রাঙ্গণ পরিক্রমা করেন। পরে যথাযোগ্য সম্মানের সঙ্গে জাতীয পতাকা উত্তোলন করা হয়।
কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনার জকি আহাদ বলেছেন, ১৯৭১ সালে ১৮ এপ্রিল এই দূতাবাসই প্রথম পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের সরকারের প্রতি আনুগত্য ঘোষনা করেছিল। আজ স্বাভাবিকভাবেই শুধু কলকাতায় কর্মরত কূটনীতিকরা নয়, বাংলাদেশের মানুষের কাছেও এই দিনটি অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। উপহাই কমিশনার বলেছেন, আমি খুবই গর্বিত যে, দেশের বাইরে যে মিশনে প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলিত হয়েছিল সেই মিশনেই আমি পতাকা উত্তোলন করলাম।  তিনি বলেছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল সাধারণ জণগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায়।এখন সেখানেও আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।
 ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল কলকাতায় কর্মরত ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ হোসেন আলী কলকাতা দূতাবাসকে বাংলাদেশের প্রথম মিশন হিসেবে ঘোষনা দিয়েছিলেন। ঠিক একদিন আগে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের অস্থায়ী সরকার গঠন হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হোসেন আলী ১৮ এপ্রিল দুপুরে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে তুলেছিলেন লাল-সবুজ বাংলাদেশের পতাকা। উপ দূতাবাসে সেই সময়ে কর্মরত ৭০ জন কর্মকর্তা বাংলাদেশের প্রতি তাঁদের আনুগত্য ঘোষনা করেছিলেন। এরই মধ্য দিয়ে বিশ্বে প্রথম বাংলাদেশি মিশন হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে কলকাতার উপদূতাবাসটি।

হাসিনা-মোদি শীর্ষ বৈঠকে ২২ চুক্তি-সমঝোতা স্মারক সই
                                  


আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে শীর্ষ বৈঠকের পর দু’দেশের মধ্যে ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

হায়দরাবাদ হাউসের ডেকান স্যুটে দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন করে দুটি রুটে বাস ও ট্রেন সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়। সেই সঙ্গে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র হিন্দি সংস্করণেরও মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

পরে বল রুমে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি। তবে এতে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার কোনো সুযোগ ছিল না।
মোদি তার বক্তব্যের শুরতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত সফরে আসার জন্য ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি আসছে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে উভয় দেশের জনগণকে অগ্রীম বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।

মোদি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত ভারতের সৈন্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিও শ্রদ্ধার কথা জানান।

তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তা চুক্তির সমাধান খুব শিগগিরই হবে। এটি আমাদের সরকারের আমলেই হবে। এ জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ একই সঙ্গে তিনি অভিন্ন নদীর পানির সুষ্ঠু বণ্টনের কথাও জানান।

প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনার এ সফর ঘিরে শুরু থেকেই তিস্তা চুক্তির বিষয়টি আলোচনায় ছিল।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক দুই দেশের মানুষের কল্যাণের জন্যই। এ কারণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

এছাড়া অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অতি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সাড়ে চারশ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি এবং সামরিক সরঞ্জামাদি ক্রয়ে বাংলাদেশকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার দেয়ার ঘোষণা দেন মোদি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার বাংলাদেশে আরও পাঁচশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, তাদের মধ্যে তথ্য-প্রযুক্তির যৌথ সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যার মাধ্যমে দু’দেশের তরুণরা উপকৃত হবেন।

জঙ্গি দমনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসাধারণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বিষয়টি ‘প্রশংসনীয় উদ্যোগ’ বলেও জানান।

মোদির পর কথা বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ভারতের উপর আস্থা আছে বাংলাদেশের। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ভারতীয় জনগণকে ধন্যবাদও জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেয়া হয় শেখ হাসিনাকে। ভারতের তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে রাজঘাটে ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ২০১৫ সালের জুনে মোদির ঢাকা সফরে দু’দেশের মধ্যে ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।


   Page 1 of 3
     আন্তর্জাতিক
শান্তিনিকেতনের এক মঞ্চে হাসিনা-মোদি-মমতা সবার কন্ঠে মৈত্রী বন্ধন দৃঢ় করার ডাক
.............................................................................................
আন্তর্জাতিক কারাগারে এক বাংলাদেশি বন্দির মৃত্যুর চার বছর পর পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশন খুনের মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে
.............................................................................................
ভারত-বাংলাদেশে সন্তানহীন দম্পতিদের সংখ্যা বাড়ছে উন্নত হচ্ছে সন্তানলাভের চিকিৎসা
.............................................................................................
কলকাতায় বিজয় দিবস উদ্যাপন অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে
.............................................................................................
মিয়ানমারে পরিকল্পিত ধর্ষণের শিকার রোহিঙ্গা নারীরা
.............................................................................................
বিহারে নতুন ফরমান বিয়েতে পণ নিলে চাকরি যাবে সরকারি কর্মচারিদের
.............................................................................................
সু চিকে রোহিঙ্গা তরুণের খোলাচিঠি চোখের জলে লিখে গেলাম আপনার ভবিষ্যৎ
.............................................................................................
ভারতে জাতীয় খাবারের তকমা পেতে চলেছে খিচুরি
.............................................................................................
পশ্চিমবঙ্গ’র নাম বদলে হচ্ছে ’বাংলা’
.............................................................................................
মন্ত্রীর ঘুম, মমতার শাসানি এবং ছোট চোখের গল্প
.............................................................................................
মদ্যপ পিতা সন্তান বিক্রি করে কিনলেন মোবাইল!
.............................................................................................
মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম গনহত্যার প্রতিবাদে কলকাতায় লক্ষাধিক মানুষের প্রতিবাদ মিছিল
.............................................................................................
ত্রিপুরায় বৃষ্টিতে বিলিন হলো দুর্গাপূজার আনন্দ
.............................................................................................
কলকাতার ঐতিহ্যের দুর্গা পূজো
.............................................................................................
কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনের প্রতিষ্ঠা দিবস
.............................................................................................
হাসিনা-মোদি শীর্ষ বৈঠকে ২২ চুক্তি-সমঝোতা স্মারক সই
.............................................................................................
বাংলাদেশকে সতর্ক করলো মিয়ানমার
.............................................................................................
ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনের নিন্দায় জাতিসংঘ
.............................................................................................
আফ্রিকার দ্বীপ রাষ্ট্র মাদাগাস্কারে ঘূর্ণিঝড়ে নিহত ৩৮, ঘরছাড়া ৫৩ হাজার
.............................................................................................
বিশ্বের ধনী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ
.............................................................................................
নারী দিবসে বদলে গেল ট্রাফিক সিগনালের প্রতীক
.............................................................................................
সৌদিতে বিদেশি শ্রমিকরা বছর শেষে দুই মাসের অতিরিক্ত বেতন পাবে!
.............................................................................................
‘যুক্তরাষ্ট্রে কিছু হলে ওই সব বিচারক ও বিচারব্যবস্থা দায়ী থাকবে ’
.............................................................................................
ট্রাম্পের শপথ গ্রহণ আজ
.............................................................................................
জাতিসংঘের দূতকে রোহিঙ্গাদের প্রদেশে ঢুকতে বাধা
.............................................................................................
মিশেলের কথা বলতে গিয়ে কাঁদলেন ওবামা
.............................................................................................
ভারতের মুম্বাই থেকে বাংলাদেশে ফিরছে পাচার হওয়া ১২ নারী
.............................................................................................
৬০ কোটি ডলারে ভারী ‍অস্ত্র কিনছে ভারত
.............................................................................................
১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস, মহান বিজয়ের মাসে শপথ হোক মানবাধিকার সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ার
.............................................................................................
১০ টাকা কেজির চাল নিয়ে চালবাজি হতদরিদ্রের অধিকার বাস্তবায়ন হোক
.............................................................................................
মেরুদন্ড শক্ত করে দুর্বলদের পাশে দাঁড়ান
.............................................................................................
ঈদ হোক মানবতার কল্যাণে সুখের বারতা
.............................................................................................
রক্ষা করতে হবে জীবের পরমবন্ধু প্রকৃতি ও পরিবেশ
.............................................................................................
প্রতিষ্ঠিত হোক শ্রমজীবী মানুষের অধিকার
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

Editor & Publisher: Rtn. Md Reaz Uddin
Mobile:+88-01711391530, Email: md.reaz09@yahoo.com Corporate Office
53,Modern mansion(8th floor),Motijheel C/A, Dhaka
E-mail:manabadhikarkhabar@gmail.com,manabadhikarkhabar34@yahoo.com,
Tel:+88-02-9585139
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-9585140
    2015 @ All Right Reserved By manabadhikarkhabar.com    সম্পাদকীয়    Adviser List

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]