বাংলার জন্য ক্লিক করুন

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   অধিকারের প্রতিবেদন -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
শীঘ্রই দেশে ফেরা হচ্ছে না অন্তঃসত্ত্বা রুমার

বর্তমানে নারী পাচার ভিন্ন রূপ ধারণ করছে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে নারী পাচারকারী চক্র। অভিনব কৌশল অবলম্বনে বেড়েছে এর তৎপরতা। ডিজিটাল যুগ তাই পদ্ধতিও নতুন। ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, টিকটক, লাইকিসহ বিভিন্ন ধরণের অ্যাপসের মাধ্যমে সমাজের ঘৃণিত কাজগুলো হচ্ছে। নেটে যোগাযোগের মাধ্যমে পরিচয় বন্ধুত্ব, বিভিন্ন সম্পর্কে জড়িয়ে অডিও ভিডিওর মাধ্যমে নারীরাই বø্যামেলিংয়ের শিকার হচ্ছে। গ্রæপের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করা হচ্ছে। সম্প্রতি নারী সংগ্রহের আরেকটি উপায় টিকটক হ্যান্ডআউট পুলপার্টি। এই পার্টিও নামে সারাদেশ থেকে হাজার হাজার নারীদের একত্রিত করে বিভিন্ন ধরণের চাকরীর প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে ভারতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাচার করে দিচ্ছে। পাচারকারীদের টার্গেট বেশীরভাগই দরিদ্র ঘরের অসহায় নারীরা। এখন আন্তর্জাতিক নারী পাচার কারীদেও টাগের্ট বাংলাদেশ। এই চক্র টি সারাদেশে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে অভিনব উপায়ে সংগ্রহ করছে নারী।
সম্প্রতি ভারতের বেঙ্গালুরুতে এক বাংলাদেশি তরুণীর ওপর নির্যাতনের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর সংঘবদ্ধ নারী পাচারচক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে এই অনুসন্ধান নতুন কিছু নয়। কোনো অঘটন ঘটার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হয়ে ওঠে। সম্প্রতি পাচারের শিকার নারীরা দেশে ফিরে হাতিরঝিলসহ বিভিন্ন থানায় মামলা করলে আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের মডেল নদীসহ ২০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিছুদিন পর বা ঘটনা ধামাচাপা পড়লে আবার সব কিছু আগের মতো চলতে থাকে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উৎকোচের বিনিময়ে পাচারকারীদের সহায়তা করে থাকে। অন্যদিকে মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নজির খুবই কম। অনেকে ধরা পড়েন না, যারা ধরা পড়েন, তারাও আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে আসেন।
গত ৯ জুন পাচারকৃত কিশোরী রুমার বোন মিনু ও তার মামা মানবাধিকার খবর অফিসে এসে রুমাকে ভারতের সেফ হোম থেকে উদ্ধার করে তাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে আকুল আবেদন জানায়। ঘটনার বিবরণে জানা যায় রুমার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখারী বড় দিগেই গ্রামে, পিতার নাম জালাল ফকির। রুমা ছিল সরল মনের মানুষ, সে গান জানত। তাদের পরিবার ঢাকায় কেরানীগঞ্জ থাকা অবস্থায় পাচার হওয়ার কিছুদিন আগে একটি মেয়ের সাতে রুমার পরিচয় হয়। ঐ মেয়ে ছিল পাচারকারী দলের সক্রিয় সদস্য। সে রুমাকে ফুসলিয়ে চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে নিয়ে যায়। ভারতে নিয়ে রুমাকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়। শুরু হয় তার অন্ধকার জীবন। যে মেয়ে পাচার করে নিয়ে যায় তার সাথে রুমার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এদিকে রুমার কাছে দেশে থাকা মা-বাবা ভাইবোন ও আত্মীয় স্বজনের কোনো নাম্বার না থাকায় দীর্ঘ ৭ বছর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এরই মধ্যে রুমা দুই দুইটি বিবাহ করে। প্রথম ঘরে ৬ বছরের একটি ছেলে ও সন্তান রয়েছে। সেই সন্তান ভারতে পিতার হেফাজতে রয়েছে। দ্বিতীয় ঘরে এসে সে ৩ মাসের সন্তান সম্ভবা অবস্থায় অসামাজিক কার্যকলাপের জন্য ভারতের চেন্নাইতে পুলিশের হাতে আটক হয়। বর্তমানে বেঙ্গালুরের ডেভানহালি জেলার উজালা হোমে রয়েছে। ভারতীয় হিসেবে নাম দেওয়া হয়েছে নীলা রানী। নাগরিকত্ব প্রমাণের অভাবে রুমা ওরফে নীলা ৩ মাসের গর্ভবর্তী হয়েও উক্ত হোমে আটক হয়ে মানবেতর জীবনযাবন করছে। মানবাধিকার খবর বিশ^স্ত সূত্রে এ খবর জানতে পেরে কয়েক দফা বেঙ্গালুরের উক্ত হোমে খোজ খবর নেয়। খোজ খবর নেওয়ার এক পর্যায়ে রুমা বাংলাদেশী পরিচয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসার আকুতি জানায়। অনাগত সন্তানকে ভ‚মিষ্টের কোন শিশু সনদে দিবে বা নিজেই লালন পালন করবেন বলেই জানায়।
মানবাধিকার খবরের সূত্র রুমার আত্মীয় স্বজনকে খুজে বের করে ভিডিও কলে পরিচয় করিয়ে দেয়, তখন এক অপরকে দীর্ঘদিন পর দেখতে পেয়ে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি করে। জানা যায় রুমা পাচার হওয়ার তিন বছর আগে তার মা ডালিম বেগমও পাচার হয়ে যায়। এখনো তার খোঁজ মেলেনি। তার বাবা জালাল ফকির পরবর্তীতে বিবাহ করে পটুয়াখালীতে বসবাস করছে। সে ঘরে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
নারী ও শিশু পাচারকারীরা সমাজে যেমন ঘৃণিত অপরাধী। তেমনি তাদেরকে তিরস্কার করা উচিৎ। অপরদিকে নারী ও শিশু উদ্ধারকারীদেরও সমাজ ও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহায়তা এবং যথাযথ পুরষ্কার বা সম্মান দেখানো উচিৎ। তাহলে ভয়াবহ অবস্থার এ সামাজিক ব্যধি নারী ও শিশু পাচার ও পাচারকারী চক্রের তৎপরতা একটু হলেও এই সমাজ থেকে কমবে।
ভারতে পাচার হয়ে যাওয়া এক বোনের মেয়েকে দীর্ঘ আড়াই মাস রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে উত্তরাখন্ড রাজ্যে থেকে উদ্ধার করে মানবাধিকার খবর পত্রিকার সম্পাদক। ভারত,পাকিস্তান, চীন ও নেপাল এ চার দেশের সীমান্ত এলাকা রুদ্র্রপুর থেকে উদ্ধারের মধ্যে দিয়ে মানবাধিকার খবর সম্পাদক ২০১৫ সাল থেকে দেশ- বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া অসহায় নারী ও শিশু উদ্ধার করে আসছে। এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই`শ নারী ও শিশু উদ্ধার করে মা বাবা ও আইনের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হয়েছে। আমার এ সফলতা এদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের চোখে না পরলেও দেশের বাইরে থেকে মানবিক মানুষ হিসেবে ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ মানবাধিকার খবর সম্পাদক পেয়েছে আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার। ২০১৯ সালে নারী ও শিশু উদ্ধার, মানবিক কাজ এবং সমাজ সেবা ও মানবাধিকার রক্ষায় বিশেষ অবদানে ভারত থেকে শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, নারী ও শিশু পাচারের শিকার অধিকাংশই তাদের প্রতোক্ষ পরোক্ষ সহায়তায় পাচার হয়ে থাকে। এজন্য নারী ও শিশু পাচার করা যত সহজ, উদ্ধার করা তার চেয়েও কঠিন। বাঘের মুখ থেকে শিকারকে যত সহজে উদ্ধার করা যায়, তার চেয়েও অনেক বেশি কঠিন একজন সুন্দরী নারীকে পাচারকারী চক্রের হাত থেকে উদ্ধার করা। একজন নারী ও শিশু উদ্ধারকারীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাকে এ কাজটি করতে হয়। এক দেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে আইনি লড়াই করে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে এ কাজটি করে, সেই শুধু যানে কাজটি কত দুরূহ ও কঠিন।
মানবিক কাজে নিয়োজিত মানবাধিকার খবর এ দুরূহ কাজটি করে যাচ্ছে।
মানব কল্যানে নিয়োজিত মানবাধিকার খবর এর এ মানবিক কাজ অব্যাহত রাখতে সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছে। পাশাপাশি পাচারকারী চক্রের তৎপর বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করে তিরস্কার করা ও উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে রাষ্ট্রীয় সহায়তা দেওয়াসহ পুরষ্কারে ভূষিত করলে এধরণের কাজে উৎসাহ পাবে।
৭ বছর আগে ভারতের বেঙ্গালুরে পাচার হয়ে যায় ২২ বছরের এই কিশোরী রুমা। গত ৯ জুন ২০২১ বিকেলে ঢাকার মতিঝিল অফিসে কিশোরীর স্বজনদের আকুতিভরা অনুরোধে উদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে মানব কল্যানে নিয়োজিত "মানবাধিকার খবর"। আশা করা হচ্ছে, খুব শীঘ্রই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারতথেকে কিশোরীকে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে তুলে দিতে সক্ষম হবে।
মানবাধিকার খবরের পক্ষথেকে এর আগেও প্রায় আড়াই`শ নারী ও শিশু উদ্ধার করে মা বাবা ও আইনের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হয়েছে। এজন্য আন্তর্জাতিক পুরষ্কারসহ বিভিন্ন সন্মাননায় ভূষিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছি।
আসুন, আমরা সবাই নারী ও শিশু পাচারের মতো ঘৃণিত অপরাধে অভিযুক্ত পাচারকারীদের সামাজিক ভাবে তিরস্কার করি। পাশাপাশি পাচারের শিকার নারী ও শিশু উদ্ধারকারীদের সার্বিক সহায়তা ও উৎসাহ দিয়ে মনুষ্যত্বের পরিচয়ে মানবিক কাজে পাশে দাঁড়াই।
রুমা বর্তমানে ভারতের বেঙ্গালুরের একটি সেফ হোমে রয়েছে। হোম কর্তৃপক্ষ মানবাধিকার খবর সূত্রকে গত ৯ ডিসেম্বর ২০২১ ইং তারিখে জানায়, মেয়েটি যেহেতু অন্তঃসত্ত¡া, তার বাচ্চা প্রসব অতি নিকটে তাই এ সময় চলাফেলা করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বাচ্চা প্রসবের আগে তাকে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া কোন অবস্থাতেই শুরু করা যাচ্ছে না। বাচ্চা প্রসবের পরও দুই এক মাস অপেক্ষা করতে হবে। এজন্য খুব শীঘ্রই রুমার দেশে ফেরা হচ্ছে না।

শীঘ্রই দেশে ফেরা হচ্ছে না অন্তঃসত্ত্বা রুমার
                                  

বর্তমানে নারী পাচার ভিন্ন রূপ ধারণ করছে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে নারী পাচারকারী চক্র। অভিনব কৌশল অবলম্বনে বেড়েছে এর তৎপরতা। ডিজিটাল যুগ তাই পদ্ধতিও নতুন। ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, টিকটক, লাইকিসহ বিভিন্ন ধরণের অ্যাপসের মাধ্যমে সমাজের ঘৃণিত কাজগুলো হচ্ছে। নেটে যোগাযোগের মাধ্যমে পরিচয় বন্ধুত্ব, বিভিন্ন সম্পর্কে জড়িয়ে অডিও ভিডিওর মাধ্যমে নারীরাই বø্যামেলিংয়ের শিকার হচ্ছে। গ্রæপের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করা হচ্ছে। সম্প্রতি নারী সংগ্রহের আরেকটি উপায় টিকটক হ্যান্ডআউট পুলপার্টি। এই পার্টিও নামে সারাদেশ থেকে হাজার হাজার নারীদের একত্রিত করে বিভিন্ন ধরণের চাকরীর প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে ভারতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাচার করে দিচ্ছে। পাচারকারীদের টার্গেট বেশীরভাগই দরিদ্র ঘরের অসহায় নারীরা। এখন আন্তর্জাতিক নারী পাচার কারীদেও টাগের্ট বাংলাদেশ। এই চক্র টি সারাদেশে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে অভিনব উপায়ে সংগ্রহ করছে নারী।
সম্প্রতি ভারতের বেঙ্গালুরুতে এক বাংলাদেশি তরুণীর ওপর নির্যাতনের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর সংঘবদ্ধ নারী পাচারচক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে এই অনুসন্ধান নতুন কিছু নয়। কোনো অঘটন ঘটার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হয়ে ওঠে। সম্প্রতি পাচারের শিকার নারীরা দেশে ফিরে হাতিরঝিলসহ বিভিন্ন থানায় মামলা করলে আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের মডেল নদীসহ ২০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিছুদিন পর বা ঘটনা ধামাচাপা পড়লে আবার সব কিছু আগের মতো চলতে থাকে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উৎকোচের বিনিময়ে পাচারকারীদের সহায়তা করে থাকে। অন্যদিকে মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নজির খুবই কম। অনেকে ধরা পড়েন না, যারা ধরা পড়েন, তারাও আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে আসেন।
গত ৯ জুন পাচারকৃত কিশোরী রুমার বোন মিনু ও তার মামা মানবাধিকার খবর অফিসে এসে রুমাকে ভারতের সেফ হোম থেকে উদ্ধার করে তাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে আকুল আবেদন জানায়। ঘটনার বিবরণে জানা যায় রুমার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখারী বড় দিগেই গ্রামে, পিতার নাম জালাল ফকির। রুমা ছিল সরল মনের মানুষ, সে গান জানত। তাদের পরিবার ঢাকায় কেরানীগঞ্জ থাকা অবস্থায় পাচার হওয়ার কিছুদিন আগে একটি মেয়ের সাতে রুমার পরিচয় হয়। ঐ মেয়ে ছিল পাচারকারী দলের সক্রিয় সদস্য। সে রুমাকে ফুসলিয়ে চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে নিয়ে যায়। ভারতে নিয়ে রুমাকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়। শুরু হয় তার অন্ধকার জীবন। যে মেয়ে পাচার করে নিয়ে যায় তার সাথে রুমার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এদিকে রুমার কাছে দেশে থাকা মা-বাবা ভাইবোন ও আত্মীয় স্বজনের কোনো নাম্বার না থাকায় দীর্ঘ ৭ বছর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এরই মধ্যে রুমা দুই দুইটি বিবাহ করে। প্রথম ঘরে ৬ বছরের একটি ছেলে ও সন্তান রয়েছে। সেই সন্তান ভারতে পিতার হেফাজতে রয়েছে। দ্বিতীয় ঘরে এসে সে ৩ মাসের সন্তান সম্ভবা অবস্থায় অসামাজিক কার্যকলাপের জন্য ভারতের চেন্নাইতে পুলিশের হাতে আটক হয়। বর্তমানে বেঙ্গালুরের ডেভানহালি জেলার উজালা হোমে রয়েছে। ভারতীয় হিসেবে নাম দেওয়া হয়েছে নীলা রানী। নাগরিকত্ব প্রমাণের অভাবে রুমা ওরফে নীলা ৩ মাসের গর্ভবর্তী হয়েও উক্ত হোমে আটক হয়ে মানবেতর জীবনযাবন করছে। মানবাধিকার খবর বিশ^স্ত সূত্রে এ খবর জানতে পেরে কয়েক দফা বেঙ্গালুরের উক্ত হোমে খোজ খবর নেয়। খোজ খবর নেওয়ার এক পর্যায়ে রুমা বাংলাদেশী পরিচয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসার আকুতি জানায়। অনাগত সন্তানকে ভ‚মিষ্টের কোন শিশু সনদে দিবে বা নিজেই লালন পালন করবেন বলেই জানায়।
মানবাধিকার খবরের সূত্র রুমার আত্মীয় স্বজনকে খুজে বের করে ভিডিও কলে পরিচয় করিয়ে দেয়, তখন এক অপরকে দীর্ঘদিন পর দেখতে পেয়ে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি করে। জানা যায় রুমা পাচার হওয়ার তিন বছর আগে তার মা ডালিম বেগমও পাচার হয়ে যায়। এখনো তার খোঁজ মেলেনি। তার বাবা জালাল ফকির পরবর্তীতে বিবাহ করে পটুয়াখালীতে বসবাস করছে। সে ঘরে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
নারী ও শিশু পাচারকারীরা সমাজে যেমন ঘৃণিত অপরাধী। তেমনি তাদেরকে তিরস্কার করা উচিৎ। অপরদিকে নারী ও শিশু উদ্ধারকারীদেরও সমাজ ও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহায়তা এবং যথাযথ পুরষ্কার বা সম্মান দেখানো উচিৎ। তাহলে ভয়াবহ অবস্থার এ সামাজিক ব্যধি নারী ও শিশু পাচার ও পাচারকারী চক্রের তৎপরতা একটু হলেও এই সমাজ থেকে কমবে।
ভারতে পাচার হয়ে যাওয়া এক বোনের মেয়েকে দীর্ঘ আড়াই মাস রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে উত্তরাখন্ড রাজ্যে থেকে উদ্ধার করে মানবাধিকার খবর পত্রিকার সম্পাদক। ভারত,পাকিস্তান, চীন ও নেপাল এ চার দেশের সীমান্ত এলাকা রুদ্র্রপুর থেকে উদ্ধারের মধ্যে দিয়ে মানবাধিকার খবর সম্পাদক ২০১৫ সাল থেকে দেশ- বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া অসহায় নারী ও শিশু উদ্ধার করে আসছে। এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই`শ নারী ও শিশু উদ্ধার করে মা বাবা ও আইনের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হয়েছে। আমার এ সফলতা এদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের চোখে না পরলেও দেশের বাইরে থেকে মানবিক মানুষ হিসেবে ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ মানবাধিকার খবর সম্পাদক পেয়েছে আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার। ২০১৯ সালে নারী ও শিশু উদ্ধার, মানবিক কাজ এবং সমাজ সেবা ও মানবাধিকার রক্ষায় বিশেষ অবদানে ভারত থেকে শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, নারী ও শিশু পাচারের শিকার অধিকাংশই তাদের প্রতোক্ষ পরোক্ষ সহায়তায় পাচার হয়ে থাকে। এজন্য নারী ও শিশু পাচার করা যত সহজ, উদ্ধার করা তার চেয়েও কঠিন। বাঘের মুখ থেকে শিকারকে যত সহজে উদ্ধার করা যায়, তার চেয়েও অনেক বেশি কঠিন একজন সুন্দরী নারীকে পাচারকারী চক্রের হাত থেকে উদ্ধার করা। একজন নারী ও শিশু উদ্ধারকারীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাকে এ কাজটি করতে হয়। এক দেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে আইনি লড়াই করে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে এ কাজটি করে, সেই শুধু যানে কাজটি কত দুরূহ ও কঠিন।
মানবিক কাজে নিয়োজিত মানবাধিকার খবর এ দুরূহ কাজটি করে যাচ্ছে।
মানব কল্যানে নিয়োজিত মানবাধিকার খবর এর এ মানবিক কাজ অব্যাহত রাখতে সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছে। পাশাপাশি পাচারকারী চক্রের তৎপর বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করে তিরস্কার করা ও উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে রাষ্ট্রীয় সহায়তা দেওয়াসহ পুরষ্কারে ভূষিত করলে এধরণের কাজে উৎসাহ পাবে।
৭ বছর আগে ভারতের বেঙ্গালুরে পাচার হয়ে যায় ২২ বছরের এই কিশোরী রুমা। গত ৯ জুন ২০২১ বিকেলে ঢাকার মতিঝিল অফিসে কিশোরীর স্বজনদের আকুতিভরা অনুরোধে উদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে মানব কল্যানে নিয়োজিত "মানবাধিকার খবর"। আশা করা হচ্ছে, খুব শীঘ্রই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারতথেকে কিশোরীকে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে তুলে দিতে সক্ষম হবে।
মানবাধিকার খবরের পক্ষথেকে এর আগেও প্রায় আড়াই`শ নারী ও শিশু উদ্ধার করে মা বাবা ও আইনের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হয়েছে। এজন্য আন্তর্জাতিক পুরষ্কারসহ বিভিন্ন সন্মাননায় ভূষিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছি।
আসুন, আমরা সবাই নারী ও শিশু পাচারের মতো ঘৃণিত অপরাধে অভিযুক্ত পাচারকারীদের সামাজিক ভাবে তিরস্কার করি। পাশাপাশি পাচারের শিকার নারী ও শিশু উদ্ধারকারীদের সার্বিক সহায়তা ও উৎসাহ দিয়ে মনুষ্যত্বের পরিচয়ে মানবিক কাজে পাশে দাঁড়াই।
রুমা বর্তমানে ভারতের বেঙ্গালুরের একটি সেফ হোমে রয়েছে। হোম কর্তৃপক্ষ মানবাধিকার খবর সূত্রকে গত ৯ ডিসেম্বর ২০২১ ইং তারিখে জানায়, মেয়েটি যেহেতু অন্তঃসত্ত¡া, তার বাচ্চা প্রসব অতি নিকটে তাই এ সময় চলাফেলা করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বাচ্চা প্রসবের আগে তাকে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া কোন অবস্থাতেই শুরু করা যাচ্ছে না। বাচ্চা প্রসবের পরও দুই এক মাস অপেক্ষা করতে হবে। এজন্য খুব শীঘ্রই রুমার দেশে ফেরা হচ্ছে না।

বাল্যবিবাহ থেকে মুক্ত হয়ে রিফাত ফিরে পেল নতুন জীবন
                                  

পড়াশুনা নিয়ে এখন খুব ব্যস্ত সময় কাটছে ওয়ারিশা আক্তার রিফাতের। তবে সে বলছে, এই ব্যস্ততা তাকে ক্লান্তির বদলে আনন্দ স্বস্থি দেয়। সে পড়াশুনার পাশাপাশি ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরিও করছে।  রিফাত বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পেশায় পড়াশুনারত বলে গত ২০ ডিসেম্বর মানবাধিকার খবরকে জানান।

আমাদের সমাজে চলমান নানা ব্যাধির মধ্যে বাল্য বিবাহ অন্যতম একটি সামাজিক ব্যাধি। বাল্য বিবাহের কুফল সমাজ ও রাষ্ট্রের রন্দ্রে রন্দ্রে আমরা ভোগ করছি। যার পরিপ্রেক্ষিতে দেখা দিচ্ছে নানান ধরনের অসামাজিক, মানসিক, শারিরীক সমস্যা। সচেতনতার অভাবে ছেলে মেয়ে উভয় পক্ষের অভিভাবক মহল ও সমাজপতি দের ভুল সিদ্ধান্তে অপরিনত বয়সে অহরহ ঘটছে বাল্য বিবাহ নামক এ দুর্ঘটনা। বাল্য বিবাহের পর পরিনিত বয়সে ছেলে-মেয়েরা যখন নিজের ভুল বুঝতে পারে, তখন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় বিচ্ছেদের। এ বিচ্ছেদে হয়তো উভয়ের জীবনকে সামাজিক, অর্থনৈতিক, শারিরীক, মানসিক ভাবে উন্নতি করতে সাহায্য করে। সমাজে আমরা এ ধরনের ঘটনা অহরহ দেখে আসছি। একটি ছেলে আর একটি মেয়ে বাল্য বিবাহ থেকে মুক্ত হয়ে কঠিন সংগ্রাম ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। এ ধরনের অসংখ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সমাজ পরিবর্তনের মননশীল চ্যালেঞ্জিং ছেলে মেয়েরা। বাল্যবিবাহ রুখে দেওয়ার মাধ্যমে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছে বাংলাদেশের একদল কিশোরী তারা ছুটে যাচ্ছে দেশের নানান প্রান্তে।

 

যা ঘটেছিলো সেদিন

পঞ্চগড় জেলার ওয়ারিশা আক্তার রিফাত ( ১৬ ) বাল্য বিবাহের শিকরের একজন। গত ২১-শে এপ্রিল মানবাধিকার খবরের সহযোগিতায় উভয় পক্ষের সম্মতিতে ওয়ারিশা আক্তার রিফাত নিজের সাহসীকতায় বাল্যবিবাহ থেকে মুক্ত হলেন। এ সময় উভয় পক্ষের অবিভাবক মহলের সাথে রিফাতের বর্তমান স্বামী সোহাগ ( ২৫ ) উপস্থিত ছিলেন। পঞ্চগড়ের পানিহারা গ্রামের মেয়ে রিফাত এস এস সি পাশ ও মেধাবী ছাত্রী। ২০১৫ সালে তার বাবা ওয়াহেদুল ইসলাম মারা যান। তারপর থেকে মা নাজমুন নাহার শামিমা সংসারের হাল ধরেন। অভাবের মধ্য দিয়ে তাদের সংসার চলতে থাকে। রিফাতরা এক ভাই দুই বোন। ২০১৬ সালের ১০ ম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় পরিবারের পছন্দের বিয়েতে রাজি না হওয়া সত্বেও তাকে তার পরিবার জোর পূর্বক বিবাহ করিয়ে দেয়, একই জেলার বোদা থানার শাহাজাহান আলীর ছেলে সোহাগ আব্দুল্লাহ এর সাথে। যা ছিল সম্পূর্ণ অন্যায়, অমানবিক। কিন্তু উভয় পক্ষের অভিভাবকের কথা ছিল ভিন্ন তারা বলেছেন রিফাতের অনুমতিক্রমেই এই বিবাহ হয়। যার অসংখ্য প্রমান রয়েছে। স্বামীর বিরুদ্ধে রিফাতের অভিযোগ গুলির মধ্য রয়েছে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সবকিছু চাপিয়ে দেয়া, এখনই সন্তান ধারন ও পড়াশোনা করতে না দেয়া। মেয়েটি বিয়ের ২/৩ মাস পর এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে উত্তীর্ণ হয়। রিফাতের ভাষ্য মতে বিবাহের পর তাকে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। জোর পূর্বকভাবে তার অনিচ্ছা থাকা সত্বেও শারীরিক মেলামেশা করত। যা সম্পূর্ণ অন্যায় ও বাল্য বিবাহ আইনের পরিপন্থি। বিষয়টি মানবোধিকার খবরের কাছে অভিযোগ আকারে এলে তদন্ত সাপেক্ষে গুরুত্বের সাথে আমলে নেয় মানবাধিকার খবর। এই অনুসন্ধানের ভিত্তিতেই দু-পক্ষই যোগাযোগ করে মানবাধিকার খবরের মতিঝিলের প্রধান কার্যালয়ে। গত ২৪-ই এপ্রিল বিকালে উভয় পক্ষের অভিভাবক মহলের উপস্থিতিতে এক সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সালিশিতে মানবাধিকার খবরে সম্পাদক, প্রকাশক ও রোটারিয়ান মোঃ রিয়াজ উদ্দিন, উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য রাহেলা রহমান, আবু বকর সিদ্দিক সহ মানবাধিকার খবরের কর্মকর্তা, সিনিয়র সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন। নিজের বাল্য বিবাহ রুখে ওয়ারিসা আক্তার রিফাত লেখাপড়া চালিয়ে জীবনকে আরও উন্নত ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়। রিফাতের এই ভূমিকা সালিশিতে উপস্থিত সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছে। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের বাস্তবায়নে বিতর্ক, পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ বিয়ের বয়স কমানোর আইনের বিতর্ক যখন তুঙ্গে উঠে, তখন বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন সংসদে পাশ হয়। এই আইন ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে বাল্যবিবাহমুক্ত করবে বিশেষজ্ঞরা এই মনে করেন। নতুন আইন পাশের পরপরই আইনটির ধারা ১৯ নিয়ে নানান বিতর্ক উঠে আসে। ম্যারেজ রেমট্রেইট এ বলা হয়েছিল কোন নারী ১৮ বছরের আগে এবং কোন পুরুষ ২১ বছরের আগে যদি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, তবে তা শাস্তির যোগ্য অপরাধ। যার পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও কাগজপত্র পর্যালোচনার ভিত্তিতে রিফাতকে নাবালিকা দেখিয়ে বাল্যবিবাহ থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য স্বামীকে অনুরোধ জানানো হয়। বর্তমান স্বামী মোঃ সোহাগ তার স্ত্রী রিফাত এর সাথে বিচ্ছেদে রাজি হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে রিফাত অতি সত্ত¡র তার স্বামীকে মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী তালাক প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। পাশাপাশি কোন পক্ষই রিফাতকে শারীরিক, মানসিক সহ কোন প্রকার অত্যাচার করতে পারবে না। রিফাতের ইচ্ছা অনুযায়ী পড়ালেখা চালিয়ে যাবে তার পাশে থেকে সার্বিক সহযে গীতা করবে মানবাধিকার খবর পরিবার। উভয় পক্ষের মধ্যে জটিলতার অবসান ঘটিয়ে রিফাতকে তার চাচা মোঃ হাবিবুল্লাহ সরদারের কাছে তুলে দেন “ মানবাধিকার খবর ” কর্তৃপক্ষ। তিনি সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে রিফাতকে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ে তার মায়ের কাছে পৌছিয়ে দেন। রিফাত বর্তমানে তার মায়ের কাছে নিরাপদে ভালোই আছেন বলে গত ৯-ই মে সকালে সম্পাদকের সাথে ফোনে কথা বলে নিশ্চিত করেন। রিফাত মায়ের কাছে থেকে লেখাপড়া চালিয়ে যাবেন বলে জানান। রিফাত এর আগে মানবাধিকার খবরের ফেব্রুয়ারী ২০১৮ সংখ্যায় প্রচ্ছদ প্রতিবেদনের কপি ও ফেসবুকে দেখতে পেয়ে তার ফেসবুক বন্ধু ও মানবাধিকার কর্মী তানিয়া আক্তারের সাথে যোগাযোগ করে তার ঢাকার বাসায় আশ্রয় নেয়। তানিয়ার সহযোগিতায় রিফাত মানবা ধিকার খবর অফিসে আসেন। এই সময়ের মধ্য রিফাতের বাড়ি ও শশুর বাড়ির লোকজন থানায় জিটি করা সহ র‌্যাব পুলিশকে অবহিত করে। র‌্যাব, পুলিশ সন্দেহজনক ভাবে অনেককে আটক করে অমানবিক নির্যাতন করে বলে জানা যায়। এতে এক জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এই জটিল পরিস্থিতি থেকে ও রিফাতকে বাল্যবিবাহ থেকে মুক্ত করে নতুন জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য মানবাধিকার খবরের কাছে পত্রিকা সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তার মা, র‌্যাব, পুলিশ, স্থানীয় সংসদ সদস্য, ও জনপ্রতিনিধিগণ সৃষ্ট সমস্যার সুষ্ঠ সমাধানের জন্য মানবাধিকার খবরের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত ২১-শে এপ্রিল ২০১৮ ইং বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পঞ্চগঙ থেকে স্বামী সোহাগের কাছ থেকে পালিয়ে এসে “ মানবাধিকার খবর ” পত্রিকার সম্পাদক বরাবর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে রিফাত একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন আমি নিজ পায়ে দাড়াতে চাই। জোর পূর্বক ভাবে আমাকে বাল্যবিবাহ দেয়া হয়েছে তা থেকে আমি মুক্তি চাই। ওয়ারিসা আক্তার রিফাতের অভিযোগের ভিত্তিতে “ মানবাধিকার খবর ” পত্রিকার মাঠ পর্যায়ের প্রতিনিধিগণ সত্যতা যাচাই ও আবেদনের উল্লেখ্য বিষয় গুলো নিশ্চিত হওয়ার পর উভয় পক্ষকে সালিশের মাধ্যমে সমাধানে আসতে বলা হয়। “ মানবাধিকার খবর ” মানবাধিকার বিষয়ক সংবাদ প্রকাশনার পাশাপাশি দেশ-বিদেশ থেকে নারী ও শিশু উদ্ধার, আইনি সহায়তা, চিকিৎসক, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ ও দারিদ্রের সহায়তা পর্যাটন শিল্পসহ নানাবিধ সামাজিক কাজ করে যাচ্ছে।

 

 

২৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে অধিকার এর বিবৃতি ন্যায় বিচার, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াইয়ের প্রতিজ্ঞা
                                  

মানবাধিকার খবর ডেস্ক :

স্বৈরশাসক লেফটেনেন্ট জেনারেল হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ এর অবৈধ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অংশ নেয়া কয়েকজনের প্রচেষ্টায় ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর মানবাধিকার কর্মীদের সংগঠন অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে অনেক ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচারের কথা। এর ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের এই ঘোষণার ভিত্তিতে গঠনতন্ত্র প্রণীত না হওয়ায় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন সরকারের আমলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটতে থাকে এবং স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও তা ব্যাপকভাবে অব্যাহত রয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এর মূল লক্ষ্যই ছিল রাষ্ট্রের হাতে সংঘটিত সমস্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো, রাষ্ট্রকে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা থেকে বিরত রাখার বিষয়ে সোচ্চার হওয়া এবং জবাবদিহিতার আওতায় আনা, ভিকটিমদের সহযোগিতা করা এবং সর্বোপরি জনগণকে তাদের মানবাধিকার বিষয়ে সচেতন , করা। অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের সদস্য। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নাগরিক, রাজনৈতিক; অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার বাস্তবায়নের সংগ্রামে নিয়োজিত থেকেছে। অধিকার তার মানবাধিকার কর্মকা-ে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, নির্যাতন, বাক্ ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সভা-সমাবেশ ও সংগঠন করার স্বাধীনতা লঙ্ঘন, নারীর প্রতি সহিংসতা; ধর্মীয়, জাতিগত ও ভাষাগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তথ্যসংরক্ষণ, তথ্যানুসন্ধান, প্রতিবেদন তৈরি করাসহ বিভিন্নভাবে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচারাভিযানে নিয়োজিত আছে। এছাড়াও অধিকার ২০০০ সাল থেকে নিয়মিত রাজনৈতিক সহিংসতার বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে এই সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করছে। অধিকার নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন হিসেবেও কাজ করছে এবং মানবাধিকার বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভবিষ্যৎ মানবাধিকারকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশীদের হত্যা, নির্যাতন, অপহরণসহ ভারতের বিভিন্ন ধরনের আগ্রাসন, যা বাংলাদেশের জনগণের মানবাধিকার প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করছে সে বিষয়েও অধিকার সোচ্চার থেকেছে। এছাড়াও মিয়ানমারের রাখাইন (আরাকান) রাজ্যে গণহত্যার শিকার হয়ে বাংদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা, তথ্যানুসন্ধান করা, মিয়ানমারের ওপর গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্যানুসন্ধানী মিশন এবং আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘঠিত গণহত্যার বিচারের জন্য তথ্য এবং প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। অধিকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো ছাড়াও এর দীর্ঘ পথচলায় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রচারাভিযান চালিয়ে গেছে। অধিকার এর প্রচেষ্টার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ ২০১০ সালের ২৩ মার্চ আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালত এর (আইসিসি) রোম সংবিধিতে অনুস্বাক্ষর করে। এছাড়া অধিকার জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের স্পেশাল কনসালটেটিভ স্ট্যাটাস পাওয়া সংগঠন হিসেবে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলসহ বিভিন্ন ফোরামে মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নের লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে যেয়ে বিভিন্ন সরকারের আমলে অধিকার হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসা বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪-দলীয় জোট সরকারের আমলে ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’ এর নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- ও নির্যাতনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে অধিকার সোচ্চার ভূমিকা পালন করে। ফলে ওই সময়ে সরকার অধিকার এর আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালতের রোম সংবিধি অনুস্বাক্ষর করার প্রচারণার জন্য সংগৃহীত তহবিলের অর্থছাড় দিতে বাধা দেয় এবং ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার ক্ষেত্রে আপত্তি জানায়। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের শাসনামলের পুরো সময়ে অধিকার জরুরী অবস্থার মধ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের প্রতিবেদন প্রকাশ করায় অধিকার এর পরিচালককে নৌ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অফিস থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং অধিকার এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানবাধিকারকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও হয়রানির সম্মুখিন হন। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর অধিকার এর ওপর পুনরায় নিপীড়ন শুরু হয়, যা পরবর্তীতে ২০১৩ সাল থেকে চরম আকার ধারণ করে। ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। ঐ ঘটনার ওপর অধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করায় বিনা পরোয়ানায় ২০১৩ সালের ১০ অগাস্ট রাত ১০টায় অধিকার এর সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খানকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)’র সদস্যরা তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আদিলুর রহমান খান এবং অধিকার এর পরিচালক এএসএম নাসির উদ্দিন এলানকে নির্বতনমূলক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ (সংশোধনী ২০০৯) এ অভিযুক্ত করা হয়। তাঁরা যথাক্রমে ৬২ ও ২৫ দিন কারাগারে আটক থাকার পর জামিনে মুক্ত হন। এছাড়া ২০১৩ সালের ১১ অগাস্ট গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা অধিকার কার্যালয়ে তল্লাশী চালিয়ে ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ এবং বিভিন্ন ডকুমেন্ট নিয়ে যায়, যেখানে নারীর প্রতি সহিংসতার শিকার ভিকটিমসহ বিভিন্ন ভিকটিম ও তাঁদের পরিবারের সংবেদনশীল তথ্য ছিল। অধিকার আজ অবধি এই কম্পিউটার ও ডকুমেন্টগুলো ফেরত পায়নি। ২০১৪ সাল থেকে আজ অবধি অধিকার এর কোন প্রকল্পের তহবিল ছাড় করেনি সরকার। ২০১৪ সাল থেকে স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক অধিকার এর একাউন্টগুলো স্থগিত করে রেখেছে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে অধিকার এর নিবন্ধন নবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনস্থ এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে আবেদন করার পর এখনও পর্যন্ত অধিকার এর নিবন্ধন নবায়ন করা হয়নি এবং অধিকার এর কার্যক্রমের অর্থছাড় দেয়া বন্ধ করে রেখেছে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো। ২০১৩ সালের ১০ অগাস্ট থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার সমর্থিত বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে অধিকার এর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট প্রপাগন্ডা ছড়ানো হচ্ছে। এই সময় সরকার অধিকার কে হয়রানি করা এবং অধিকার এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর নিপীড়ন চালানোর জন্য তাদের সমর্থক ব্যক্তিবর্গ দ্বারা পরিচালিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে। এর মধ্যে দুদক অধিকার এর বিরুদ্ধে তথাকথিত দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করে। যদিও দুদক তদন্ত করে অধিকার এর বিরুদ্ধে কোন ধরনের অনিয়ম খুঁজে পায়নি এবং এই মর্মে অভিযোগটির নিষ্পত্তি করে। ২০১৮ এর ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অধিকার যাতে পর্যবেক্ষণ করতে না পারে সে জন্য সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন আইন ও বিধির তোয়াক্কা না করে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে অধিকার এর নিবন্ধন একতরফাভাবে বাতিল করে। এর বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর অধিকার সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দায়ের করলে আদালত অধিকার এর নিবন্ধন বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের দেয়া চিঠির কার্যকারিতা দুই মাসের জন্য স্থগিত করে এবং অধিকার এর নিবন্ধন বাতিল করা কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করে। ১৮ ডিসেম্বর আপিল বিভাগও হাইকোর্ট বিভাগের দেয়া এই আদেশ বহাল রাখে। অধিকার সর্বোচ্চ আদালত থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের রায় পেলেও সময় স্বল্পতার কারণে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে না পারায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পারেনি।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় অধিকার এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানবাধিকারকর্মীরা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে আক্রান্ত হয়েছেন। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ২০১০ সালে ঢাকায় অধিকার এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী আবদুল্লাহ আল ফারুককে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা হত্যা করে। ২০১৬ সালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তথ্য সংগ্রহ করতে যেয়ে ভোলার মানবাধিকারকর্মী আফজাল হোসেন পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন এবং ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সিরাজগঞ্জের মানবাধিকারকর্মী আবদুল হাকিম শিমুল ক্ষমতাসীনদল আওয়ামী লীগের নেতার গুলিতে নিহত হন। স্থানীয় পর্যায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করায় ২০১৭ সালে নিবর্তনমূলক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে অভিযুক্ত করে অধিকার এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কুষ্টিয়ার মানবাধিকারকর্মী হাসান আলী ও আসলাম আলী এবং মুন্সীগঞ্জের মানবাধিকারকর্মী শেখ মোহাম্মদ রতন এবং ২০১৯ সালে নিবর্তনমূলক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ময়মনসিংহের মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুমকে গ্রেফতার করে কারাগারে আটক রাখা হয়। অধিকার এর কর্মীরা প্রতিনিয়ত গোয়েন্দা নজরদারি, হয়রানি এবং হুমকির শিকার হচ্ছেন এবং তাঁদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হচ্ছে। ২০১৩ সালে অধিকার এর ওপর চরম নিপীড়ন চলাকালে দেশের বিভিন্ন জেলায় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও সরকার সমর্থিত দুর্বৃত্তরা অধিকার দ্বারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী মানবাধিকারকর্মীদের ভয়ভীতি দেখায়। ফলে নিরাপত্তার অভাবে তাঁদের অনেকেই মানবাধিকার কর্মকা- থেকে সরে গেছেন।
যেকোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বাধাহীনভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে এবং সরকারকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধের ক্ষেত্রে সহায়তা করে। নিপীড়নমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থাতেই কেবলমাত্র স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে কাজ করতে বাধা দেয়া হয় এবং মানবাধিকারকর্মীরা নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হন। অধিকার বাংলাদেশে এমন ধরনেরই এক পরিস্থিতির শিকার। গত ছয় বছর ধরে চরম নিপীড়নমূলক পরিস্থিতিতেও অধিকার এর মানবাধিকারকর্মীরা মানবাধিকার রক্ষার সংগ্রাম চালিয়ে যাবার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকার কারণেই তাঁরা এখনও কাজ করে চলেছেন। অধিকার মনে করে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করতে পারলেই কেবল বাংলাদেশের জনগণ মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম অবস্থা থেকে রেহাই পাবে।
অধিকার তার ২৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিদের শ্রদ্ধার সাঙ্গে স্মরণ করছে। গত ২৫ বছর ধরে অধিকার তার পাশে দাঁড়ানো সমস্ত মানবাধিকারকর্মী, আন্তর্জাতিক সংস্থা, স্থানীয় নেটওয়ার্ক, সমর্থক এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে; যারা অধিকারের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করার পাশাপাশি অধিকারের ওপর সরকারের নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান চালিয়েছে। অধিকার এর ২৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বাংলাদেশের জনগণকে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে এবং সেই সঙ্গে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এবং আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নিয়োজিত জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে। ন্যায় বিচার, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের পাশাপাশি দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে অধিকার তার লড়াই অব্যাহত রাখবে। (খবর বিজ্ঞপ্তি)

অধিকারের প্রতিবেদনে তথ্য গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ধর্ষণসহ ৩ মাসে মানবাধিকার লঙ্গনের ঘটনা সহস্রাধিক
                                  

 

 

মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন :
গত তিন মাসে সারাদেশে ৮৬ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, ১২ গুম ১৭৪ ধর্ষনের শিকারসহ সহ¯্রাধিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, ধর্ষণ, এসিড সহিংস, যৌন হয়রানি, ধর্মীয় সংখ্যালঘু নাগরিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর মর্যাদাহানিকর আচরণ, গণপিটুনীতে মানুষ হত্যা, মানবাধিকার কর্মকা-ে বাধাসহ প্রভৃতি ঘটনা রয়েছে। অধিকার নামের গণভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনের পরিসংখ্যানে এইসব তথ্য উঠে এসেছে। অতি সম্প্রতি অধিকারের ওয়েব সাইটে জানুয়ারি-মার্চ ২০১৯ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকার নামের গণভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনটি ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকে জনগণের নাগরিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষায় নিরলসভাবে সংগ্রাম করে চলেছে। অধিকার বাংলাদেশের মানবাধিকার আন্দোলনকে নিছকই রাষ্ট্রের হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ‘ব্যক্তি’কে রক্ষার ব্যাপার মাত্র বলে মনে করে না, বরং ব্যক্তির নাগরিক ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াইকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলন ও সংগ্রামের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য বলে মনে করে। একটি মানবাধিকার সংগঠন হিসেবে অধিকার রাষ্ট্রের হাতে সংঘটিত সমস্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো তুলে ধরে জনগণকে সচেতন করা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার এর বিষয়ে প্রচারাভিযান চালানো, প্রতিবাদ জানানো এবং রাষ্ট্রকে মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে বিরত রাখার জন্য সব সময়ই সচেষ্ট থেকেছে। অধিকার দলমত নির্বিশেষে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ভিকটিমদের পাশে দাঁড়ায় এবং ভিকটিমদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে। নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও অধিকার এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার কর্মীদের পাঠানো প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে অধিকার ২০১৯ সালের প্রথম তিন মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ :
১. এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে ২০১৯ সালের প্রথম তিন মাসের (জানুয়ারি-মার্চ) মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। এতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে গণতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতা হরণ এবং জীবনের অধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত করার মত বিষয়গুলো।
২. আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতায় আছে, তাই ২০১৯ সালের মানবাধিকার লঙ্ঘন গত দশ বছরের মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি ধারাবাহিক রূপ। ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্তা¡বধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে ক্ষমতায় আসে। ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার প্রধান বিরোধীদল বিএনপি, নাগরিক সমাজ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আপত্তি উপেক্ষা করে এবং গণভোট ছাড়াই একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সর্বসম্মত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়ে ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের প্রতিবাদে বিএনপিসহ প্রায় সকল বিরোধী রাজনৈতিক দল (আওয়ামী লীগের জোটভুক্ত রাজনৈতিক দল ব্যতীত) ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি’র দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করলে ভোটারবিহীন ও প্রহসনমূলকনির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসে। গত ১০ বছরে সরকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এবং স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে তাদের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করেছে। ফলে নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার তার রাজনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবহার করার সুযোগ পায়। এরমধ্যে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর সরকার নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রহসনমূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে। এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে আগের রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্সে ভরে রাখা, জাল ভোট দেয়া, ভোটারদের প্রকাশ্যে ক্ষমতাসীনদলের প্রার্থীকে ভোট দিতে বাধ্য করা, কেন্দ্র দখল ও বিরোধীদল মনোনীত প্রার্থীর এজেন্টদের আটক ও বের করে দেয়া এবং ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ অন্যান্য অনিয়মের ঘটনা ঘটে যা ছিল নজিরবিহীন । এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটে। একাদশতম জাতীয় নির্বাচনের পর ১০ মার্চ থেকে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে পাঁচ ধাপে উপজেলা নির্বাচন শুরু হয়। একাদশতম জাতীয় নির্বাচন প্রহসনমূলক হওয়ায় এবং এর কোন প্রতিকার না পাওয়ায় প্রধান বিরোধীদল বিএনপি এবং বাম রাজনৈতিক দলগুলো উপজেলা নির্বাচন ২০১৯ বয়কট করে এবং ক্ষমতাসীনদল আওয়ামী লীগ ও তার শরীক রাজনৈতিক দলগুলো এই নির্বাচনে দলীয়ভাবে প্রার্থী দিয়ে অংশ নেয়। অধিকাংশ উপজেলায় প্রতিদ্বন্দ্বীতা না থাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীরাই নির্বাচিত হন। ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতির কারণে ভোট দিতে না পারায় ভোটাররা উপজেলা নির্বাচনে ভোট দিতে আর আগ্রহ দেখাননি। ফলে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রই দেখা গেছে ভোটার শূন্য। একই রকম পরিস্থিতি দেখা যায় ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও।
৩. জনগণের ভোট ছাড়া ক্ষমতায় আসার কারণে সরকারের দায়মুক্তির সংস্কৃতি আরও প্রবল হয়েছে। গত তিনমাসে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। এই সময়ে নাগরিকরা গুম, বিচারবহিভর্ুূত হত্যাকা- এবং নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার লংঘনের শিকার হয়েছেন।
৪. বাংলাদেশে মৃত্যুদ-ের বিধান বিদ্যমান রাখা ছাড়াও বিতর্কিত এবং নিপীড়ণমূলক আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই বললেই চলে। ক্ষমতাসীনদলের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন সভায় মন্তব্য করা, এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখা বা কোন পোস্টে ‘লাইক-শেয়ার’ দেয়ার কারণে ভিন্নমতের অনুসারী, বিরোধীদলের নেতাকর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ ও মানহানির মামলা দিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮’ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা হয়েছে। সরকার বিভিন্নভাবে সংবাদ মাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টি করায় বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ প্রচার ব্যাহত হয়েছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাংবাদিকদের সেল্ফ সেন্সরশিপ প্রয়োগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। বিরোধীদলপন্থী ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া- চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি এবং আমার দেশ পত্রিকা ২০১৩ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত বন্ধ করে রাখা হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে সাংবাদিকরা এই সময়ে সরকারিদলের সমর্থক দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছেন এবং সরকারি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সাংবাদিকদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
৫. সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের পাশাপশি সভা-সমাবেশের অধিকারও হরন করেছে। ২০১৯ সালের শুরু থেকেই বিরোধীদল ও ভিন্নমতাবলম্বীদের সভা-সমাবেশ করার অধিকারকে সংকুচিত করা অব্যাহত থাকে। বিএনপি ছাড়াও অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিকদল ও সরকারের কাছে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনকারী সংগঠনের মিছিল সমাবেশে বাধা ও হামলা করা হয়েছে।
৬. ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে সারাদেশে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের নির্বাচনের সময়ে দায়ের করা গায়েবী মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় কারাগারে পাঠানো অব্যাহত থাকে। ফলে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি থাকার কারণে কারাগারগুলোতে মানবিক বিপর্যয় দেখা দেয় এবং অনেক বন্দি কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এছাড়া চিকিৎসার অপ্রতুলতা থাকায় এবং কারাকর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে আটক বন্দিদের মধ্যে কারো কারো মৃত্যু ঘটছে বলে অভিযোগ আছে।
৭. ক্ষমতাসীনদলের নেতাকর্মীদের দলীয় অন্তর্কলহ ও দুর্বৃত্তায়ন গত তিন মাসে বরাবরের মতোই ছিল দৃশ্যমান। গত ১০ বছরে সারাদেশে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের অপরাধমূলক কর্মকা- সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং তারা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় দায়মুক্তি ভোগ করছে। তারা প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র এবং অন্যান্য মারণাস্ত্র ব্যবহারসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলেও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা তাদের বিরুদ্ধে সচরাচর কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (ডাকসু) আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সহায়তায় ব্যাপক অনিয়ম ও প্রহসনের মধ্যে দিয়ে ৩০ ডিসেম্বর একাদশতম জাতীয় নির্বাচনের মতই অধিকাংশ আসন তাদের দখলে নেয়।
৮. ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়মুক্তি এবং দুর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা বেড়েছে এবং গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনাগুলোও ঘটেছে।
৯. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা অব্যাহত থেকেছে এই তিন মাসে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ও সংখ্যালঘু আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে ও দোকানপাটে হামলা চালায় দুবৃর্ত্তরা। এক পর্যায়ে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।
১০. গত তিনমাসে নারীর ওপর সহিংসতা অব্যাহত ছিল। অনেক নারী ও মেয়ে শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হন। এই সময়ে ধর্ষণ ব্যাপক আকার ধারণ করে। এই সময়ে সরকারি দলের নেতাকর্মী কর্তৃক রাজনৈতিক কারণে বিরোধীদলের কর্মীর স্ত্রীর গণধর্ষণের শিকার হওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
১১. এই তিন মাসে শ্রমিকদের অধিকার ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত শ্রমিকদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে এবং পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা তাঁদের ওপর আক্রমণ করে এবং পুলিশের গুলিতে ১ জন শ্রমিক নিহত হন। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশী নারী শ্রমিকদের ওপর যৌন হয়রানিসহ নানা ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে এবং এইক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর অসহযোগিতার বিষয়ে অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
১২. বাংলাদেশের ওপর ভারতের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বরাবরের মতোই অব্যাহত ছিল। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশীদের হত্যা-নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটেছে এই সময়ে। বিএসএফের সদস্যরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে হামলা চালানোর মতো ঘটনাও ঘটায়।
১৩. মিয়ানমারের বুথিডংয়ে চারটি সীমান্ত চৌকিতে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হামলার জেরে রাখাইনে অবশিষ্ট রোহিঙ্গারা পুনরায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর আক্রমণের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছেন।
১৪. ২০১৩ সালে অধিকার এর ওপর যে সরকারি নিপীড়ন শুরু হয় তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অধিকার এর ওপর নানা ধরনের হয়রানির ঘটনা ঘটে। ২০১৪ সালে অধিকার তার নিবন্ধন নবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনস্থ এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে আবেদন করলেও এই রির্পোট প্রকাশের সময়কাল পর্যন্ত নিবন্ধন নবায়ন করা হয়নি।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড গুম:
১. দুর্বল ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সুযোগে রাষ্ট্র কর্তৃক হত্যাকারীদের দায়মুক্তির কারণে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের ঘটনাগুলো ঘটেই চলেছে। সরকার ২০১৮ সালের ১৫ মে থেকে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- ব্যাপক রূপ নেয়; যা এখনও চলমান রয়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের শিকার কোন কোন ব্যক্তির পরিবার অভিযোগ করেন যে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাঁদের বিরোধী পক্ষ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের ব্যবহার করে হত্যা করেছে।
২. গত ৫ মার্চ ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের শিকার মোহাম্মদ সেলিম (৩৮) এর স্ত্রী নাসরিন বেগম অভিযোগ করেন যে, তাঁর স্বামীকে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে কোন ওয়ারেন্ট ছাড়াই তুলে নিয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশ প্রথমে নির্যাতন করে এবং পরে গত ১ মার্চ ধলেশ্বরী নদীর তীরে গুলি করে হত্যা করে। সংবাদ সম্মেলনে নাসরিন বেগম আরো জানান, তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে সিরাজদিখান থানায় কোন মামলা বা জিডি নাই। তাঁর শ্বশুড় আনোয়ার হোসেনের হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতরা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পুলিশকে দিয়ে তাঁর স্বামীকে হত্যা করিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
৩. গত ১৩ মার্চ কক্সবাজার জেলার টেকনাফে মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দাবি করেছে নিহত ব্যক্তি একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী। কিন্তু নিহতের স্ত্রী পারভিন আক্তার জানান, তাঁর স্বামী ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। তিনি পেশায় একজন টমটম চালক। টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাস জানান, নিহত নুরুল ইসলামের নামে থানায় কোন অভিযোগ বা মামলা নেই।

 

 

৪. জানুয়ারি থেকে মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত ৯১ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে ৫২ জন পুলিশ, ১৯ জন র‌্যাব, ১১ জন বিজিবি, ৩ জন ডিবি পুলিশ, ৪ জন পুলিশ-বিজিবি, ১ জন কোস্টগার্ড ও ১ জন আর্মি প্যারাকমান্ডো’র হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের শিকার ৯১ জনের মধ্যে ৮৬ জন ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। এই সময়ে ৪ জন ব্যক্তি গুলিতে নিহত হয়েছেন। এছাড়া ১ জনকে পুলিশ পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর মর্যাদাহানিকর আচরণ ও জবাবদিহিতার অভাব
৫. আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে নাগরিকদের গুলি করে হত্যা, তাঁদের ওপর নির্যাতন, নির্যাতন না করার জন্য ঘুষ আদায়, ধর্ষণ, হামলা, হয়রানি এবং চাঁদা আদায়ের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।
৬. গত ৬ ফেব্রুয়ারি গাজীপুর জেলার রায়হান সরকার তাঁর বন্ধু লাবিব হোসেন, নওশাদ ইসলাম, তরিবুল্লাহ ও রাকিবুল ইসলামকে নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে ঢাকায় বাণিজ্য মেলায় যাওয়ার সময় কালিয়াকৈর উপজেলার সুত্রাপুর এলাকায় গাড়িতে গ্যাস ভরার জন্য একটি ফিলিং স্টেশনে থামেন। এই সময় তরিবুল্লাহ ও রাকিবুল ইসলাম পাশের দোকানে চা পান করার জন্য যান। কিছুক্ষণ পর সেখানে পৃথক গাড়িতে হাজির হন কালিয়াকৈর থানার এএসআই আবদুল্লাহ আল মামুন এবং মির্জাপুর থানার এএসআই মুসরাফিকুর রহমান। তাঁরা সেখান থেকে রায়হান সরকার, লাবিব হোসেন ও নওশাদ ইসলামকে জোর করে ধরে মাইক্রেবাসে তুলে মির্জাপুরের দেওড়া এলাকায় নিয়ে গিয়ে ৩০ লক্ষ টাকা দাবি করেন; না হলে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যা করার হুমকি দেন। দেনদরবারের একপর্যায়ে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে তাঁদের ছেড়ে দিতে রাজি হন দুই এএসআই। এদিকে তাঁদের দুই বন্ধু ঘটনাটি কালিয়াকৈর থানায় জানালে আটক তিনজনকে প্রথমে মির্জাপুর থানায় এবং পরে কালিয়াকৈর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় রায়হান সরকার কালিয়াকৈর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুই এএসআইকে গ্রেফতার করা হয়।


৭. গত ৬ ফেব্রুয়ারি এক তরুণী তাঁর পূর্ব পরিচিত এক নারীর সঙ্গে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানায় যান। ঐ নারী থানার এসআই সেকেন্দার হোসেনের কাছে তাঁর পাওনা টাকা চাইলে এসআই সেকেন্দার তাঁদেরকে থানার পাশে অবস্থিত জেলা পরিষদের ডাক বাংলোতে নিয়ে যান। পাওনা টাকা নিয়ে আলোচনা করার সময় একই থানার এএসআই মাজহারুল উপস্থিত হন। এরপর পাওনাদার নারীকে একটি কক্ষে আটকিয়ে রেখে দুই পুলিশ ঐ তরুণীকে জোরপূর্বক ইয়াবা সেবন করিয়ে ধর্ষণ করে। এই ব্যাপারে গত ১১ ফেব্রুয়ারি ধর্ষণের শিকার এই তরুণী মামলা দায়ের করলে এসআই সেকেন্দার ও এএসআই মাজহারুলকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এদিকে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রেক্ষিতে ভিকটিমকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রুল জারি করেন।
৮. গত ১০ ফেব্রুয়ারি ভোর ৩ টায় ঢাকার শাহবাগে শিশু পার্কের সামনে মাসুদ নামে এক ব্যাক্তির বাম পায়ের হাঁটুতে গুলি করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে শাহবাগ থানার পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে। আহত মাসুদকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে সে ছিনতাইকারী। তবে মাসুদ জানান, তিনি কেরানীগঞ্জে একটি বোরকা তৈরির কারখানায় কাজ করেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় তিনি বাংলা একাডেমির একুশে বই মেলায় আসার পরে পুলিশ তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে পরে তাঁর বাম পায়ে গুলি করে।
৯. গত ১২ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার রুহিয়া উত্তরপাড়া গ্রামে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা ভারতীয় গরু সন্দেহে স্থানীয়দের গরু জব্দ করলে গ্রামবাসীদের সঙ্গে বিজিবি সদস্যদের বাকবিত-া হয়। তখন বিজিবির সদস্যরা গ্রামবাসীদের ওপর গুলি বর্ষণ করলে সাদেক আলী (৪০), নবাব আলী (২৫) এবং জয়নুল (১২) নিহত হন এবং ১৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। উল্লেখ্য নিহত সাদেক আলী তাঁর মেয়ের বিয়ের খরচের জন্য তাঁর দুটি গরু বিক্রি করতে হাটে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তাঁর গরুগুলোকে ভারতীয় গরু বলে জব্দ করে বিজিবি। অন্যদিকে বিজ্ঞানে ¯œাতক নিহত নবাব আলী স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়াতেন। শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু খাতাপত্র কিনতে তিনি সে সময় হাটে যাচ্ছিলেন। তিনিও বিজিবি’র ছোঁড়া গুলিতে নিহত হন। স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র জয়নুলও হাটে যাচ্ছিল। সেও বিজিবি’র গুলিতে নিহত হয়। এই ঘটনায় বিজিবি হরিপুর থানায় ২৭২ জনকে আসামী করে দুইটি মামলা দায়ের করে এবং বিজিবির গুলিতে নিহত মোহাম্মদ নবাব এবং ছাদেক আলীর নামও মামলায় আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
১০. ঝালকাঠিতে র‌্যাবের গুলিতে পা হারানো লিমন হোসেনের মায়ের দায়ের করা মামলায় ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা জজ এস কে এম তোফায়েল হাসান ২০১৮ এর ১ এপ্রিল লিমনের মামলার পুনরায় তদন্ত করার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে নির্দেশ দেন। কিন্তু পিবিআই এই প্রতিবেদন প্রকাশকালীন সময় পর্যন্ত তদন্ত সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। উল্লেখ্য, লিমনের ওপর গুলির ঘটনায় তাঁর মা হেনোয়ারা বেগম রাজাপুর থানায় র‌্যাব অফিসারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে চাইলে প্রত্যাখ্যাত হন। পরবর্তীতে পুলিশ ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে মামলাটি রেকর্ড করে। গত ১৪ আগস্ট ২০১২ পুলিশ এই মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় এবং দাবি করে যে, তদন্তে কোন সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গত ৩০ আগস্ট ২০১২ হেনোয়ারা বেগম পুলিশ প্রতিবেদন চ্যালেঞ্জ করে একটি আবেদন দাখিল করেন, যা ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়। এরপর তিনি ১৩ মার্চ ২০১৩ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শরণাপন্ন হন। মার্চ ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রসিকিউশন শুনানির জন্য প্রায় ৪০টি তারিখ নির্ধারণ করে।

১১. ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলাদেশে গুমের অভিযোগগুলো নিয়মিতভাবে আসতে থাকে। গুমের ঘটনাগুলো বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের আগে ও পরে বিরোধীদলের অনেক নেতাকর্মী গুমের শিকার হন। গুমের ঘটনাগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোর জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গুমের ঘটনা ঘটে, যা এই তিন মাসেও অব্যাহত আছে। বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদন থেকে প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও সরকারের উচ্চমহল থেকে প্রতিনিয়ত গুমের বিষয়গুলো অস্বীকার করা হচ্ছে।
১২. কোন কোন ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন গুম করে রাখার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ছাড়া পাওয়া ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ভয়ে মুখ খুলেন না। উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ দিবাগত রাত দেড়টায় ১৫ মাস গুম থাকার পর সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান বাসায় ফিরে আসেন। মারুফ জামানের মেয়ে সামিহা জামান জানান, কে বা কারা তাঁকে তাঁদের ধানমন্ডির বাসার নিচে নামিয়ে দিয়ে গেছেন সেটা তিনি জানেন না। তাঁর পরিবার এই ব্যাপারে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
১৩. গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক সাড়ে দশটায় ঢাকার কলাবাগান এলাকার বাসা থেকে সেনাবাহিনীর সাবেক কর্পোরাল মুকুল হোসেনকে গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয়ে ৮-১০ জন অস্ত্রধারী লোক আটক করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় বলে তাঁর স্ত্রী জিয়াসমিন আরা অভিযোগ করেন। মুকুল হোসেনকে তুলে নেয়ার পরদিন ৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর বন্ধু আশিস জিয়াসমিন আরাকে ফোন করে জানান, ডিবি পুলিশ মুকুল হোসেনকে ধরে নিয়ে গেছে। এই ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি নিতে কলাবাগান থানা প্রথমে রাজি না হলেও পরে তা গ্রহণ করে।
১৪. অধিকার এর তথ্য মতে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে ১২ জনকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তাঁদের গুম হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঁদের মধ্যে ২ জনের লাশ পাওয়া গেছে, ৫ জনকে গুম করার পর পরবর্তীতে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ১ জনকে পরবর্তীতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত বাকি ৪ জনের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

 


কারাগারে মানবিক বিপর্যয় :
১৫. ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিরোধীদলের নেতাকর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে গায়েবী মামলা দায়ের এবং বিভিন্ন অজুহাতে ঢালাওভাবে গ্রেফতার অভিযান চালানো হয়। গণগ্রেফতারের ফলে এ সময় কারাগারের ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেকগুণ বেশি বন্দি ছিল বলে জানা গেছে। ডিসেম্বরে গ্রেফতার হলেও জামিন না হওয়ায় পরবর্তী বছর ২০১৯ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত তাঁদের অনেকে কারাগারে আটক ছিলেন। অতিরিক্ত বন্দি থাকার কারণে কারাগারগুলোতে মানবিক বিপর্যয় দেখা দেয়। ধারণক্ষমতার অনেক বেশী বন্দি থাকায় জানুয়ারি মাসে খুলনা জেলা কারাগারের পরিত্যক্ত গোডাউনে একশ বন্দির থাকার ব্যবস্থা করা হয়। মানবিক বিপর্যয়ের কারণে অনেক বন্দি কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারাগারে চিকিৎসার ব্যবস্থার অপ্রতুলতা এবং কারাগার কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে আটক বন্দিদের মৃত্যু ঘটছে বলে অভিযোগ আছে। সারাদেশে কারাগারের মোট ধারণ ক্ষমতা ৩৬ হাজার ৬১৪ জন। কিন্তু ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্দি ছিল ৮৬,৫৫০ জন।
১৬. জানুয়ারি-মার্চ এই তিন মাসে ১২ জন কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছেন। এঁদের মধ্যে ১১ জন ‘অসুস্থতাজনিত’ কারণে এবং ১ জন আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


রাজনৈতিক নিপীড়ন ও সভা-সমাবেশে বাধা :
১৭. ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একটি প্রহসনমূলক ও অগ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট পুনরায় ক্ষমতা নেয়ার পর ২০১৯ সালের শুরু থেকেই বিরোধীদল ও ভিন্নমতাবলম্বীদের সভা-সমাবেশ করার অধিকারকে সংকুচিত করা অব্যাহত থাকে। বিএনপি ছাড়াও অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিকদল ও সরকারের কাছে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর মিছিল সমাবেশেও সরকার বাধা দিয়েছে এবং হামলা করেছে। এই সময় নারী আন্দোলনকারীদের শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত হতে দেখা গেছে। এই ব্যাপারে নিচে কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হলঃ
১৮. গত ১ জানুয়ারি প্রহসনের নির্বাচন প্রত্যাখান এবং অনতিবিলম্বে স্থায়ীভাবে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবিতে ভোটাধিকার ও সুশাসনে জাতীয় ঐক্য নামে একটি সংগঠন ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানবন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করলে পুলিশের হামলায় তা প- হয়ে যায়।
১৯. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রগুলো আবাসিক হলের বাইরে একাডেমিক ভবনে করা এবং ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর সহাবস্থান নিশ্চিতের দাবিতে গত ৪ ফেব্রুয়ারি উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিতে গেলে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে আহত করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগের সূর্যসেন হল শাখার সহ-সভাপতি রাইসুল ইসলামের নেতৃত্বে ৩০/৪০ জন নেতাকর্মী।
২০. গত ৯ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রেসক্লাব চত্বরে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মহানগর বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ পুলিশের বাধায় প- হয়ে যায়।

২১. বুকার পুরস্কার জয়ী ভারতীয় লেখক অরুন্ধতী রায় দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ আলোকচিত্র উৎসব ‘ছবিমেলায়’ যোগ দেয়ার জন্য ঢাকায় আসেন। অনুষ্ঠান করার অনুমতি চেয়ে ছবিমেলার সমন্বয়ক গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ উপ-কমিশনারের কাছে চিঠি দিলে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পুলিশ শর্ত সাপেক্ষ অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেয়। গত ৫ মার্চ ‘আটমোস্ট এভরিথিং অরুন্ধতী রায় ইন কনভারসেশন উইথ শহিদুল আলম’ শিরোনামে অনুষ্ঠানটি ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৪ মার্চ রাত ১২টায় তেজগাঁও থানা পুলিশ আয়োজকদের জানান অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। তবে কি কারণে অনুষ্ঠান বাতিল করা হলো সে ব্যাপারে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি পুলিশ। এরপর আয়োজকরা ঢাকার মাইডাস কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠান করার জন্য অনুমতি নেন। কিন্তু পুলিশী নিষেধাজ্ঞা আছে বলে সেখানেও অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে জনমতের চাপে সরকার অরুন্ধতী রায়ের অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
২২. ডাকসু’র পুর্ননির্বাচনের দাবিতে গত ১২ মার্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীল ছাত্রজোট মিছিল বের করলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা মিছিলে দুই দফা হামলা চালালে মিছিলটি প- হয়ে যায়। এই ঘটনায় প্রগতিশীল ছাত্রজোটের চারজন কর্মী আহত হন। হামলার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নারী কর্মীদের গালিগালাজ করে।
২৩. স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গত ২৬ মার্চ কুষ্টিয়া জেলা সদরের কালেক্টরেট চত্বরে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে বিএনপি নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করার পর জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২৬ মার্চ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করে ফেরার সময় ফরিদপুরে বিএনপি’র অঙ্গ সংগঠন স্বেচ্ছাসেবকদলের মিছিলের ওপর আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। একই সময়ে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাওয়ার সময় শহর বিএনপি ও জেলা যুবদলের আলাদা মিছিলেও হামলা চালানো হয়। দুর্বৃত্তদের হামলায় জেলা বিএনপি’র শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আহতরা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও পুলিশ তাঁদের ওপর চড়াও হয়।


ক্ষমতাসীনদলের দাপট :
২৪. চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় কমপক্ষে ১৯ জন নিহত ও ৫৫১ জন আহত হয়েছেন। এই তিন মাসে আওয়ামী লীগের ৫৭টি অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ১৩ জন নিহত ও ৫০৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
২৫. বাংলাদেশের রাজনীতিতে দাপট বা দুর্বৃত্তায়নের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সব দল অংশ নিলেও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে আগের রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্সবন্দি করা, জাল ভোট দেয়া, প্রকাশ্যে ক্ষমতাসীনদলের প্রার্থীকে ভোট দিতে বাধ্য করা, কেন্দ্র দখল ও বিরোধীদল মনোনীত প্রার্থীর এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, আটক করা এবং ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে, যা ছিল নজিরবিহীন। এই ধরনের একটি অগ্রহণযোগ্য ও প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করার পর তারা বিরোধীদলের নেতাকর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। গত তিনমাসে সারাদেশে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের অপরাধমূলক কর্মকা- অব্যাহত ছিল। এছাড়া তারা বরাবরের মত নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দ্বন্দ্বের কারণেও সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে এবং তাদের আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন মারণাস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে। তবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের বিচারের সম্মুখিন করা হয়নি।
২৬. গত ২ জানুয়ারি রাত ১০টায় নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার হাসান ভুঁইয়ার হাট এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ায় স্থানীয় যুবলীগ কর্মী মো. ফজলু ও মজনুর নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল কর্মীদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এই ঘটনায় ৩ জন বিএনপি নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
২৭. গত ২৪ জানুয়ারি রাতে নোয়াখালী সদর উপজেলার বক্তারপুর গ্রামে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইলিয়াস আলীর বাড়িতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এই সময় তারা ইলিয়াস আলীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। এরপর যুবদল কর্মী শাহজাহানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে শাহজাহানসহ বাড়ির লোকজনকে মারধর ও ঘরবাড়ী ভাংচুর করা হয়। হামলার সময় সুধারাম থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও পুলিশ তাতে সাড়া দেয়নি। ইলিয়াস আলী ও শাহজাহানকে গুরুতর আহত অবস্থায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
২৮. গত ২৪ জানুয়ারি কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের যুগ্ম আহাবায়ক রাশেদ খান নেতৃত্বে অমর একুশে বই মেলার প্রস্তুতি দেখতে বাংলা একাডেমিতে গেলে সেখানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগের ১০-১২ জন নেতাকর্মী তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এরপর কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নুরুল হক, ইনজামুল হক, রাফি আবিয়ান ও মুনতাসীর মাহমুদ নামে চার শিক্ষার্থীকে অবরুদ্ধ করে রাখে। নুরুল হক জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ নির্বাচনে (ডাকসু) অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করায় এবং কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াতে তাঁদের ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে।
২৯. গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ১৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্

কচুয়ায় সাংসদ মীর শওকাত আলী বাদশাহ
                                  


মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রনালয় সম্পর্কীয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বাগেরহাট-২ এলাকার সংসদ সদস্য এ্যাডঃ মীর শওকাত আলী বাদশা বলেছেন বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, ধর্ম যার যার উৎসব সবার, সব সম্প্রদায়ের বসবাস এক সাথে। এখানে সব ধরনের মানুষ এক সাথে থাকে। সারাদেশে শান্তিপূর্ণ উৎসব মুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গা উৎসব পালিত হচ্ছে। বর্তমান দেশে যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে তা সম্ভব হয়েছে শুধূমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সততা, দূরদর্শিতা ও দক্ষতা এবং যোগ্য নেতৃত্বের কারনে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্প ও ব্যাবসা বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশ আজ এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দরবারে রোলমডেল। আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সব সম্প্রদায়ের জনগন উৎসব মুখর পরিবেশে এক সাথে বসবাস করে দেশকে উন্নতির শিখরে পৌছে দিতে হলে নৌকাকে বিজয়ী করে শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রীর আসনে অধিষ্ঠিত করতে হবে।
কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য এ্যাডঃ মীর শওকাত আলী বাদশা প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। এই সময় তার সংগে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান এএস এম মাহফুজুর রহমান,জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠানিক সম্পাদক মীর ফজলে সাঈদ ডাবলু, সংসদ সদস্য পত্মী ও প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা বেবী মোর্শেদা খানম, কচুয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাজরা ওবায়দুর রেজা সেলিম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নাজমা সরোয়ার, কচুয়া থানা অফিসার্স ইন চার্জ রবিউল কবির, অধ্যক্ষ নরেশ চন্দ্র রায়, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাজরা জাহিদুল ইসলাম মন্নু, মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার শিকদার হাবিবুর রহমান, আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক শিকদার কামরুল ইসলাম কচি, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আজাদ হোসেন বালী, মোঃ কামরুল ইসলাম, কচুয়া ইউপি চেয়ারম্যান শিকদার হাদিউজ্জামান হাদিজ, মঘিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এ্যাডঃ পঙ্কজ কান্তি অধিকারী,বাধাল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান  নকীব ফয়সাল অহিদ, মীর আওসাফুর রহমান মরুফ, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি এ্যাডঃ দীলিপ মল্লিক, সাধারন সম্পাদক পুলিন বিহারী সাহা সহ আওয়মীলীগ নেতা জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানগন।

অবহেলিত এলাকায় শিশুদের সুশিক্ষায় কাজ করছে
                                  

আজাদ রুহুল আমিন, বাগেরহাটঃ-
পিরোজপুর নাজিরপুরের রঘুনাথপুর মাঝখানে বয়ে গেছে বলেশ্বর নদী । মোহনা পেরিয়ে বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার একটি অন্যতম বৃহৎ ভাষা বাজার । হোগলা বন, আঁখ, ভুট্টা, সরষে, মশুরি, খেসারি, বিশাল ধান ক্ষেত জুড়ে যার অবস্থান । এরই মাঝে এক সময়ের অবহেলিত শিক্ষা দীক্ষায় আলোর প্রদীপ ছিল নিভু নিভু । এটি ধোপাখালী ইউনিয়নের সবচেয়ে অবহেলিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত । শিক্ষা গ্রহনে মাইলের পর মাইল হেটে যেতে হত নাটইখালী অথবা ধোপাখালী বিদ্যালয়ে । এ অঞ্চলে শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলোয় সুশিক্ষায় সুসন্তান হিসেবে গড়ে তুলতে ভাষা বাজারের উপকন্ঠে গড়ে উঠেছে মাতৃছায়া কিন্ডার গার্টেন । এ অঞ্চলের অতি সাধারন মানুষ মাখন লাল পাইক । তারই জ্যেষ্ট পুত্র রতন পাইক ও কনিষ্ট পুত্র রঞ্জন পাইক । এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে ২০১১ সালে এ বিদ্যালয়টি স্থাপন করে যারা হতাশা ও বেকারত্বে ভুগছিলেন অথচ তারা অনেক নামি দামি ঐতিহ্যবাহী পরিবারের শিক্ষিত সুসন্তান । যারা এলাকার মায়া ত্যাগ করে কখনও বাইরে যান নি । যে কারনে তাদের মেধার সুপ্ত বিকাশ ঘটেনি। তাদের পরিবারের মুখে দু`মুঠো অন্ন জোগারে শিক্ষানুরাগ হিসেবে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত সুপরিচিত দুই ভাই স্বর্ন ব্যবসায়ী চৈতী জুয়েলার্সের মালিক। এ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জনাব রঞ্জন পাইক ও রতন পাইক । তারা তাদের নিজেদের অর্জিত অর্থের বিনিময়ে একটি অত্যাধুনিক দ্বিতলা ভবন নির্মান করে এ অঞ্চলে আলোর প্রদীপ শিখা প্রজ্বলনে শিক্ষার গুনগতমান । শিশুর বিকাশ সাধনে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এখানকার শিশুরা একদিন দেশের হাল ধরতে পারে । সেই অবারিত সুযোগ সুবিধা প্রদানে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে কচুয়া উপজেলায় ভালো ফলাফলে অনন্য অবদান রেখে চলেছে । প্লে নার্সারি এবং প্রথম শ্রেনী থেকে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত প্রভাতী ও দিবা দুই শিপ্টে এক ঝাঁক তরুন শিক্ষক নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন। উপজেলা থেকে শুধুমাত্র সরকারীভাবে বই ছাড়া আর কোন সহায়তা এই পর্যন্ত মেলে নি । বর্তমানে এ স্কুলে প্রায় দু`শ ছাত্রছাত্রী রয়েছে । যাদের সামান্য বেতনে শিক্ষকরা কোন রকমে পরিবার নিয়ে জীবন চালিয়ে এ বিদ্যালয়টিকে এ অঞ্চলের একটি শিক্ষার আদর্শ মডেল হিসেবে অবদান রাখতে চান । ২০১৫ সালে দুইজন শিক্ষার্থী, ২০১৬ সালে দুইজন শিক্ষার্থী, ২০১৭ সালে দুইজন শিক্ষার্থী পিএসসি`তে মেধা তালিকায় বৃত্তি লাভ করেছে । এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে জনাব সমির কৃষ্ণ পাইক একটি ঐতিহ্য পরিবারের সন্তান । তার বাবা স্বর্গীয় ক্ষিরোদ বিহারী পাইক এলাকায় একজন জনপ্রিয় এ্যলোপেথিক ডাক্তার ছিলেন । যে কারনে সমির কৃষ্ণ পাইক উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও নিজের এলাকা না ছেড়ে এ অঞ্চলের মানুষের সেবা প্রদানে পাশাপাশি হোমিওপ্যাথি ডাক্তার হিসেবে যশ খ্যাতি কুড়িয়েছেন । সহকারী শিক্ষক পঙ্কজ কুমার মন্ডল । যার পিতা স্বর্গীয় গোপাল চন্দ্র মন্ডল একজন নটরাজ হিসেবে এলাকায় অধিক পরিচিত ছিলেন । বিধান চন্দ্র পাইক খুবই বিনয়ী ও একজন আদর্শবান হিসেবে এলাকায় যার অনেক সুনাম। যার বড় ভাই সুভাষ চন্দ্র পাইক গোড়াগুড়ি থেকেই ধর্মানুরাগী বৈষ্ণব। শ্রীপতি রঞ্জন মজুমদার, নিবাশ সাহা, হাফিজুর রহমান । সহকারী শিক্ষিকা রিপা মৃধা, বুলু ঘরামী ও অঞ্জনা দাস । এই বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও বিভিন্ন জাতীয় উৎসব পূজা পার্বনে চৈতী জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষ আর্থিক অনুদান সহ শিক্ষকদের উৎসাহ যোগাতে তাদের ব্যাক্তিগত খোঁজ খবর । তাদের সুবিধা অসুবিধা লাঘবে সার্বিক নজরদারীতে তীখœ দৃষ্টি রয়েছে ।
এ বিদ্যালয়ে ধোপাখালী ইউনিয়নের ভাষা, বগা, ছিটাবাড়ি, শানপুকুরিয়া, শিরখালী, বয়ারশিংগা। বাগেরহাট সদরের গোটাপাড়া ইউনিয়নের নাটইখালী, পাতিলাখালী, বেতখালী । নাজিরপুর উপজেলার রঘুনাথপুর। চররঘুনাথপুর ও মঘিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অভিভাবকরা ভালোমানের শিক্ষা গ্রহণে তাদের শিশুদের এ বিদ্যালয়ে পাঠদানে আগ্রহী। প্রতিষ্ঠাতা রঞ্জন পাইক এক সাক্ষাৎকারে মানবাধিকার খবরের প্রতিনিধিকে বলেন, আমি নিজে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করতে না পারলেও তীব্রভাবে অনুভব করেছি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। যে কারনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাজসেবার অন্যতম অংশ হিসেবে সর্বপ্রথম আমারই উদ্যোগে আমাদের শ্রমের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছি । এটি আরো আধুনিক আরো প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি হয়ে উঠবে এ উপজেলার একটি অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যার মাধ্যমে শিশুরা আদর্শ ন্যায়পরায়ন বিনয়ী নিয়মিত পাঠ্যভ্যাস কাজে লাগিয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করে দেশ ও জাতির কল্যানে অবদান রাখতে পারে।  রতন পাইক বলেন, আমরা পেশাগত ব্যবসা পরিচালনায় ঢাকায় অবস্থান করলেও আমাদের মন ও প্রান এলাকার প্রতি। এ যে নাড়ির টান। ফিরে চল মাটির টানে কবি গুরু রবী ঠাকুরের মহা উক্তি একদিন সত্যি সত্যি বাস্তবে রুপায়িত হবে। ফিরে আসতে হবে এই জনপদে এই প্রিয় জন্মস্থান। সেটি যেভাবেই হোক আর যে কারনেই এলাকার মানুষকে সেবা দিতে শুধু এ স্কুল নয় আমাদের আরো অনেক সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবার স্বপ্ন রয়েছে। যার বাস্তবায়ন একমাত্র ভগবানের অপার কৃপা লাভ করতে পারলেই এলাকাবাসীর জন্য আমরা সেগুলো অচিরেই বাস্তবায়ন করতে পারবো।
শুধুমাত্র আমাদের একার প্রচেষ্টায় স্বপ্ন সাধ পূরন হবার নয়। এলাকার সচেতন মানুষেরও সহযোগীতার প্রয়োজন। এলাকার জনপ্রতিনিধি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য এবং মাননীয় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বেসরকারী সাহায্যকারী দাতা সংস্থার সুদৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের সব অগ্রযাত্রা এগিয়ে যাবে সন্মুখপানে - এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ - ছড়িয়ে যাবে গোটা দেশ থেকে বর্হিঃবিশ্বে আমাদের সন্তানরা । তাদের নেতৃত্বে গড়ে উঠবে ডিজিটাল বাংলাদেশ ।

নারী জগতের অহংকার নাজিরপুরের ইউএনও
                                  

পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ পিরোজপুর - নাজিরপুরে জন্মের ২১ দিন পরে মা হারা দরিদ্র পরিবারের সন্তান সূর্য বড়ালের দায়িত্ব নিয়ে মানবীয় ও নারী জগতের অহংকার, প্রমান করলেন নাজিরপুরের ইউএনও রোজী আক্তার। নাজিরপুর উপজেলার শাঁখারিকাঠী ইউনিয়নের বেকারখাল গ্রামের স্বপন বড়ালের ছেলে সমুদ্র বড়াল জীবিকার তাগিদে ঢাকায় রিকশা চালান। চলতি বছরের ৩ জুলাই নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কপ্লেক্স এ সমূদ্র বড়ালের স্ত্রী তারামনি বড়াল একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেয় এবং তারামনি অসুস্থ থেকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরে। অর্থের অভাবে একরকম চিকিৎসা না পেয়েই ২৭ জুলাই তারামনি মারা যায়। এরপর সমূদ্র বড়ালের বৃদ্ধ মা মালতি বড়াল শিশু সূর্য বড়ালকে লালন-পালন করতে থাকেন। মা হারানো ঐ শিশুটিকে দুধ কিনে খাওয়ানোর মত আর্থিক সচ্ছলতা না থাকায় ক্রমে খাবারের অভাবেই শিশুটি অসুস্থ হয়ে পরে। এ অবস্থায় অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের কোন এক রবিবার শিশুটিকে নিয়ে সাহায্যের জন্য ইউএনও এর কাছে আসেন। ইউএনও রোজী আক্তার সবকিছু শুনে শিশুটির ভরন-পোষনের জন্য মালতির হাতে নগদ দশ হাজার টাকা তুলে দেন এবং শিশুটির ভরন-পোষন সহ চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। প্রতিনিধির সাথে উপজেলা চত্ত্বরে কথা হলে মালতি বড়াল বলেন মা হারানো অসহায় শিশুটিকে বাচানোর আর কোন পথ ছিলনা, ঠিক এমন সময় ইউএনও শিশুটির দায়িত্ব নেওয়ায় নিশ্চিন্ত হয়েছি। ইউএনও রোজী আক্তার বলেন শিশুটি অসচ্ছল পরিবারের সন্তান। ঐ পরিবারের পক্ষে শিশুটিকে দুধ কিনে খাওয়ানো বা চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নাই। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আমি শিশুটির দায়িত্ব নিয়েছি। এরূপ একটি দৃষ্টান্ত নাজিরপুর বাসীকে কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করেছে।নারী জগতের অহংকার নাজিরপুরের ইউএনও

পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে টেকনাফের মাদক ব্যবসায়ী নিহত
                                  

মোহাম্মদ জানে আলম সাকী, কক্সবাজার:-
কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে মফিজ আলম নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি মেরিন ড্রাইভ সড়কে ঘটে। সকালে মেরিন ড্রাইভ সড়কের হ্যাচারি জোন এলাকার পার্শবর্তী জঙ্গলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মফিজ আলমের মৃত দেহ পাওয়া যায়। এ সময় ঘটনা স্থলথেকে ৫টি দেশীয় অস্ত্র ও ৫ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। নিহত মফিজ আলম হ্নীলা’র লেদা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মৃত লাল মিয়ার পুত্র বলে জানা গেছে। টেকনাফ মডেল থানা সূত্রে জানান, মেরিন ড্রাইভ সড়কের হ্যাচারি জোন এলাকায় পুলিশের নিয়মিত টহল চলাকালে জঙ্গলে একদল লোকের সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে পুলিশ এগিয়ে গেলে হঠাৎ পুলিশকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মফিজ আলমের মৃত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিহত মফিজ আলমের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মাদক আইনে মামলা রয়েছে। এছাড়া তিনি একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী।

জাতীয় প্রেসক্লাবে “মায়ের ডাক” আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গুম হওয়া স্বজনদের ফিরিয়ে দেয়ার দাবি ৪০টি
                                  

সরকারের কাছে গুম হওয়া স্বজনদের ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ৪০টি পরিবারের সদস্যরা। গত ৩০ আগষ্ট সকালে আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে মায়ের ডাক নামে একটি সংগঠন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন। নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান দাবিতে উপস্থিত হয় পরিবারগুলো। নিখোঁজ হওয়া মানুষদের স্মরণ ও গুমের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতেই, আন্তর্জাতিক গুম দিবস পালনের ঘোষণা দেয় জাতিসংঘ। গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রিয়জনের প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে সবাই। কারো অপেক্ষা এক বছর। কেউ পথ চেয়ে বসে আছেন ৫-৭ বছর। বাবা-ভাই বা প্রিয় সন্তানের জন্য এই অপেক্ষা যেনো শেষ হয় না। বাবাকে ফিরে পাওয়ার দাবি নিয়ে প্রেসক্লাবে এসেছিলো সামিহা। বাবাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য সামিহার সংগ্রাম শুরু ৯ মাস আগে। তারপর থেকে প্রতিদিনই ঘুরছেন সরকারি দপ্তর আর অফিসের দ্বারে দ্বারে। বাবা সাবেক কূটনীতিক মারুফ জামানের কী হয়েছে, কোথায় আছেন, জানা নেই কারো। গত কয়েক বছরে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান দাবিতে, আন্তর্জাতিক গুম দিবসে ৪০ টি পরিবারের সদস্যরা একত্র হন জাতীয় প্রেসক্লাবে। সরকারের কাছে তাদের একটাই দাবি, ফিরিয়ে দেওয়া হোক স্বজনদের। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই এসব গুমের সাথে জড়িত। নিখোঁজ ব্যক্তিদের দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে মনে করেন বক্তারা। প্রতিবাদী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন তেজগাঁও থেকে নিখোঁজ বিএনপি নেতা মো. সাজেদুল ইসলাম সুমনের মা হাজেরা বেগম। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কমরেড সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের চেয়ারম্যান সি আর আবরার। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যে গুমগুলো হয়েছে, তার প্রায় সবগুলোই রাজনৈতিক। মানুষকে দু’ভাবে মারা যায়; মনোবল ভেঙে দিয়ে তাকে মানসিকভাবে দমিয়ে রাখা এবং তাকে ভয়ের মধ্যে রাখা। এভাবে ভয়ের সংস্কৃতি চালু করতে পারলে লাভ সরকারেরই।’ তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বরে দেশে একটি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনের আগে সরকার কোনো ফরিয়াদই আমলে নেবে না। তাই এ নির্বাচনে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেন স্বৈরাচার ফের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না আসতে পারে। আবার ভোটের পরেও খেয়াল রাখতে হবে যেন অন্য কেউ ক্ষমতায় এলেও আবার স্বৈরাচারী না হতে পারে। কমরেড সাইফুল হক বলেন, গুম-খুন নিয়ে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা ক্রমাগত মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে তাদের কোনো সত্য কথাও এখন আর জনগণ বিশ্বাস করতে পারছে না। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশে যদি আরেকটা প্রহসনের নির্বাচন না চান, তবে গুমের শিকার ব্যক্তিদের তাদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিন। কোথায়, কখন কিভাবে দেবেন সেটা আপনারাই ঠিক করুন। দয়া করে এসব স্বজনহারাদের প্রতি আর অবিচার করবেন না। জোনায়েদ সাকী বলেন, গুমের রাজ্যে প্রতিদিনই আমরা নানাভাবে অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। রাষ্ট্রীয় এ অপরাধ বন্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্থান প্রয়োজন। আগামী নির্বাচনে আমাদের সেটিই নির্ধারণ করতে হবে। অধিকারের চেয়ারম্যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যদি সামান্যতম শ্রদ্ধা থাকে, এসব গুমের অবসান হওয়া উচিত। রাষ্ট্র কেবল ক্ষমতাশালীদের জন্য নয়, এ রাষ্ট্র ক্ষমতাহীনদেরও। সমাবেশের শেষে গুমের শিকার সাজেদুল ইসলাম সুমনের মা হাজেরা খাতুন বলেন, ‘আমাদের সন্তাানদের কোনো অপরাধ নেই। আমরা এ জন্য কাউকে দোষারোপও করব না। দয়া করে সন্তানদের ফেরত দিন।’ এ সময় হাজেরা খাতুনসহ অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

অধিকারঃ মানবাধিকার প্রতিবেদন আগষ্ট-২০১৮
গণতন্ত্র ও জবাবদিহি সরকারের অভাবে ব্যাপক দুর্নীতি, বিচার

গণ আজাদী লীগের আলোচনা সভায় মোহাম্মদ নাসিম ৭১ ও ৭৫ খুনিরা যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে
                                  

মানবাধিকার খবর প্রতিবেদনঃ-
আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, একাত্তর ও পঁচাত্তরের খুনি ও তাদের পৃষ্ঠপোষকরা যেন আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় না পারে সেজন্য দেশবাসীসহ ১৪ দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, তারা ক্ষমতায় এলে দেশ আবার অন্ধকারে চলে যাবে, দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটবে। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দেশবাসী আবার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গণআজাদী লীগ আয়োজিত স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও মহান জাতীয় নেতা মাওলানা আবদুর রশিদ তর্ক বাগিস এর ৩২ তম প্রয়ান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না। নির্বাচন বানচালের ক্ষমতা কারো নেই। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন হবে। ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, নির্বাচনে কে আসলো, না আসলো তাতে কিছু যায় আসে না। তবে আমরা আশা করি সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। তিনি বলেন, খুনিদের সঙ্গে কোনো আপোষ করবে না আওয়ামী লীগ।

গণআজাদী লীগের সভাপতি এসকে সিকদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া, জাসদের নাজমুল হক প্রধান এমপি, আবদুল আউয়াল এমপি, বাংলাদেশ গণ আজাদী লীগের মহাসচিব মোহাম্মদ আতাউল্লাহ খান, ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও গণ আজাদী লীগের নের্তৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

 

রোহিঙ্গা গণহত্যা সমাধান কতদুর? দায়এড়াতে পারে না বিশ্ব সম্প্রদায়
                                  

নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী ও দশ অস্থায়ী সদস্যের প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা ও সমাধানের উদ্দেশ্যে তিনদিনের বাংলাদেশ সফর করে গেলেন। এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ আন্তর্জাতিক কোন ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের সকল সদস্য দেশের কোন সংকটস্থলে যাওয়ার ঘটনা বিরল। তাই আশায় বুক বেঁধে আছে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে আসা এবং স্বজন-প্রিয়জন হারানো, আতঙ্কিত, নিষ্পেষিত, নির্যাতিত ও ধর্ষিতা বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা। বাংলাদেশও একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের অপেক্ষায় আছে।
প্রতিনিধিদল ৩০ এপ্রিল ২০১৮ মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। যাওয়ার পূর্বে বাংলাদেশকে তারা জানিয়েছেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে রোহিঙ্গা ইস্যু। তবে দ্রুত এর কোন সমাধান নেই। এটি একটি মানবিক সংকট ও মানবাধিকার ইস্যু। বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারা কাজ করবেন। নৃসংশতার দায়ে মিয়ানমারকে জবাবদিহিতায় আনার উদ্যোগে চীন ও রাশিয়া বাঁধা বলেও তাদের কাছ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যদিও ঐ দুই দেশেরই সদস্য ছিলেন প্রতিনিধি দলে। তাই তারা এটাও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নিরাপত্তা পরিষদকে নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী না হতে। এতবড় গুরুত্বপূর্ণ সফর, বিশ্বসংস্থার এত শক্তিশালী একটি দল রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে, তাদের কান্নার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করার পরেও যদি এ ধরনের বার্তা হয় তাহলে নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষ কোথায় যাবে, কার কাছে বিচার চাইবে?
প্রতিনিধিদল মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও সেনানেতৃত্বের বিপরীতমুখী অবস্থান দেখলেন। তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি বললেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে তার সরকার তৈরি।

রঙ তামাশার দুনিয়া । আমরা কতটা নির্লিপ্ত আর স্বার্থপর !! ??
                                  


পবিত্র সিয়াম সাধনায় রত বিশ্বের কোটি কোটি ধর্মপ্রান মুসলমান । সংযম ত্যাগ আর নিরন্ন অসহায় মানুষের দুঃখ কষ্ট অনুভব করার মধ্য দিয়েই মূলত রমজানের তাৎপর্য প্রতিভাত হয়ে ওঠে ।
দেশের বিত্তশালীরা রমজানে ইফতার থেকে শুরু করে অফুরন্ত হাজারো রকম পাহাড় সমান খাবারের আয়োজন করে থাকেন । তারাই যেন প্রকৃত ঈমানদার । বুক ফুলিয়ে বলেন, রমজানে ইচ্ছেমত খাওয়া যাবে । কোন জবাবদিহিতা করতে হবে না । অথচ এ দেশের মধ্যবিত্ত বা সাধারন মানুষের নাভিশ্বাস । তাদের ইফতার সন্ধ্যা রাতের খাবার কিংবা সেহরী লবন ভাত, আলু, ডিম কাঁচকলা ভর্তা কপালে জুটে কিনা সন্দেহ । আমাদের দেশে রমজান এলে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ক্রয় ক্ষমতার বাইরে গেলেও এক শ্রেনীর কোন অসুবিধা না হলেও সাধারন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে যাওয়ায় রীতিমত হিমসিম খেতে হয় । নেই কোন বাজার নিয়ন্ত্রন ।
সাধারন ধর্মপ্রান মধ্য বা নিম্ন আয়ের পরিবারের কর্তা ঈদের খুশিকে সানন্দে গ্রহন করতে সন্তানের সাধ পূরনে শ্রম দিয়ে জোগাড় করেন অর্থ । অথচ রমজানের শেষ সময়ে তাদের ছেলে মেয়েদের পোশাক পরিচ্ছদ মানসম্মত পাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায় । কারন রমজান শুরুতেই যাদের হাতে প্রচুর টাকা পয়সা রয়েছে তারা পুরো রমজান ভরেই কেনাকাটা করে থাকেন । তাদের ভীড়ে বাজারে ঢোকাই দায় । এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সারাদেশে কেনাকাটা ৭০ শতাংশ ছাড়িয়েছে ।
এখন শেষ রোজায় চাঁদনী রাতে বিপনন কেন্দ্রে ভালো মানের পোশাক বস্ত্র জুতা সেন্ডেল পাওয়া যায় না । রোজার শুরুতেই বেচা কেনার ধুম পড়ে যায় । ঈদ আরো বর্নাঢ্য আরো স্মৃতিময় করতে ইউরোপ আমেরিকা সিঙ্গাপুর সহ বিদেশে ঈদ উদযাপন করতে মহাব্যস্থা । এছাড়া ঈদের কেনাকাটা তাদের রুচি সম্মত হওয়া চাই । দাম যতই হোক । তারা মার্কেটিং করতে রাজধানী ঢাকা বড় বড় বিভাগীয় শহর আর অঢেল বিত্তশালীদের ভারত, সিঙ্গাপুর, মালেয়শিয়া, আরব আমিরাতে অর্ডার দিয়ে তাদের কাংখিত অভিজাত জামা কাপড় আসবাবপত্র সংগ্রহ করে থাকেন । কেউ বা বিলাশবহুল বাড়ি গাড়ি । ঘর সাজানোর দামি দামি আসবাবপত্র ক্রয়ে ব্যস্ত । অথচ অনেকের জীবনে ঈদ খুশি আনন্দ না বেদনা তার মমার্থ কেউ বুঝতে চায় না । সাধারন বা মধ্যবিত্ত শ্রেনীর মানুষ তারা পারে না হাত পাততে । তারা ঠিকমত বছরে এ ঈদ উৎসবে তাদের ছেলেমেয়ে প্রিয়জনদের সাধ্যমত কেনাকাটা করতে পারে না । এছাড়া মফস্বঃল শহর কিংবা জেলা শহরেও বেচাকেনার ধুম সাধারন মানুষ ছাড়া এলাকার বিত্তশালীদের কেনাকাটা না করার প্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত । তারা লাখ লাখ টাকার পণ্য সামগ্রী এনেও তারা কাংখিত মুনাফা করতে পারে না ।
যাকাতের শাড়ি ইফতার সামগ্রী বিত্তশালীরা মাইকিং করে হাজার হাজার গরীব দরিদ্র অসহায় নারী পুরুষ জরো করে লোক দেখানো ঈদ সামগ্রী দিতে গিয়ে গেট ভেঙ্গে কিংবা পদতলে পিষ্ট হয়ে সারাদেশে প্রতি বছর কত শত গরীব অসহায় নারী পুরুষ মর্মান্তিকভাবে প্রান হারিয়েছেন । তার পরিসংখ্যন দেয়া কঠিন । সম্প্রতি ইফতার সামগ্রী যাকাতের শাড়ি নিতে সাতকানিয়ায় প্রচন্ড ভিড়ে পদদলিত হয়ে ৯ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু এবং পাহাড়তলী সহ এ পর্যন্ত শুধু চট্টগ্রামেই গত ৩০ বছরে ২০০ লোকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে । কোন বিচার হয় নি । এরা থাকে ধরা ছোয়ার বাইরে ।
অথচ রাশিয়ায় বসবাসরত জনসংখ্যার দিক থেকে মুসলমানের সংখ্যা ১০ শতাংশ । অর্থ্যাৎ দুই কোটি মুসলিম সেখানে বসবাস করে এবং তাদের এই শহরগুলোতে ৮ হাজার মসজিদ গড়ে উঠেছে । একসাথে ৫ ওয়াক্ত নামাজ সহ তারাবী ও দোয়ায় শরীক হন গরীব ধনী নির্বিশেষে । এক কাতারে সামিল হন । বিশ্বে অন্যান্য দেশে রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা যায় অথচ আমাদের দেশে পুরোটাই উল্টো । প্রতি সবে বরাতের শুরু থেকে এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ীরা নিজেরা সিন্ডিকেট তৈরী করে সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কাউকে ম্যানেজ করে আদা, রসুন, ছোলা, পেয়াজ থেকে শুরু করে সমস্ত জিনিসের দাম বেড়েছে ছাড়া কোণ বছর তার স্থিতিশীলতা পরিলক্ষিত হয় নি । রাশিয়ার মত জায়গায় পবিত্র রমজান মাসে মুসলিম

জমি ফিরে পেতে বৃদ্ধ একরাম উদ্দিনের প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
                                  


বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড ৩১ নং চাপতলা মৌজার পূর্বপাড়া চাপাতলা গ্রামের মৃত শেখ ওতার উদ্দিনের পুত্র শেখ একরাম উদ্দিন (৮৯) তার নিজ পৈত্রিক জমি ভোগ দখল করতে পারছেন না । জবর দখল করে বছরের পর বছর সেখানে মাছের ঘের, বসত ভিটায় ঘর বাঁধার পাকা ভীত ( পোতা ) এবং রেকর্ডিও সড়কের অংশ জুড়ে পোল্ট্রি ফার্ম করছে দাপটের সাথে স্থানীয় শওকত গংরা ।
শেখ একরাম উদ্দিনের মোট পৈত্রিক সম্পত্তি ২৩ বিঘার বেশি হলেও ১৯৮৮ সালে মাঠ পর্যায়ে সেটেলমেন্ট সরেজমিন ডি.পি. জরিপকালীন সময়ে এলাকার দুষ্ট চক্র শওকত গং একরাম উদ্দিনকে মারপিট করে আহত করে। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে থাকাকালীন সময়ে এ শওকত গংরা সংশ্লিষ্ট ডি.পি. জরিপকারী কর্মকর্তাদের ঘুষ প্রদান করে অধিকাংশ জমি তাদের নামে ডি.পি. জরিপ করিয়ে নেয় ।
শেখ একরাম উদ্দিনের নামে মাত্র ৩৩ শতক যা ১৪ কাঠার মত । এই সম্পত্তি শেখ একরাম তার মা নুরজাহান বেগম, বোন রাবেয়া বেগম, সুফিয়া বেগম ( সাবেক ইউপি মহিলা সদস্য ) নামে ডি.পি. জরিপে তালিকাভূক্ত হয় । উক্ত জমির খাজনা বর্তমান ২০১৮ সাল পর্যন্ত পরিশোধ থাকলেও এ সকল জমি বৃদ্ধ একরাম শেখ ভোগ করতে পারছেন না । শওকত গংরা এলাকায় খুবই শক্তিশালী সুবিধাভোগী এবং জনবলে বেশি থাকায় বিভিন্ন ব্যাক্তি পৃষ্টপোশকতায় বা ম্যানেজ করে ভুল বুঝিয়ে অন্যায়ভাবে একরাম শেখের জমি ভোগ দখল করে চলেছে । প্রতিবাদ করার মত এ বৃদ্ধের সাহস নেই । একরাম উদ্দিনের দাদার ক্রয়কৃত সম্পত্তি পিতার সূত্র ধরে সেই বসতভিটায় বর্তমানে তাদের জন্য বসবাস করা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে । তাদের আঙ্গিনায় বনজ, ফলজ প্রচুর গাছ এবং পুকুর ও ক্যানেলে মাছ থাকায় সেগুলো শওকত গংদের গরু ছাগল হাস মুরগী দিয়ে প্রতিনিয়ত আর্থিকভাবে ক্ষতি করলেও প্রতিবাদ করলে সাথে সাথে তার পুত্র কন্যারা মারধরের জন্য ঝাপিয়ে পড়ে । বৃদ্ধ একরাম শেখ সব সময় আশংকা করেন যেকোন সময় তারা জানমালের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করতে পারে বলে তার চার পুত্রের তিন পুত্র অন্যত্র বসবাস করছে । তার ছোট ছেলে এমদাদ শেখ জেলা সার্ভার স্টেশন বাগেরহাট জেলা নির্বাচন কার্য্যালয়ের অধীন স্মার্ট কার্ড প্রদান একটি খন্ডকালীন প্রজেক্টে চাকরীরত । বৃদ্ধ পিতাকে দেখা শোনা করার জন্য চোখ বুঝে বসবাস করছে । ১৯৮৮ সালে এই শওকত গংরা তৎকালীন উপজেলা হাকিম মহোদয়ের নিকট শেখ একরামের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন । মামলা নং ২৭৭/৮৮ । এলাকার তৎকালীন যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুস সত্তার উক্ত মিথ্যা মামলাটি হাকিম বাহাদুর মহোদয়কে প্রত্যাহার করার জন্য লিখিত আবেদন জানান । এছাড়া একই বিষয় নিয়ে যাত্রাপুর ইউনিয়ন, বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন ও বারইপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিন চেয়ারম্যান একরাম উদ্দিনের জানমালের ক্ষয় ক্ষতি লাঘবে সর্বসম্মতিক্রমে একটি লিখিত আবেদন উপজেলা হাকিম মহোদয়কে অবহিত করেন ।
২০১৭ সালে বিষয়টি যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল মতিনকে লিখিত আকারে বৃদ্ধ একরাম শেখ বিষয়টি সুরাহাকল্পে শরণাপন্ন হলে চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল মতিন ২জন ইউপি সদস্য ও ২জন গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ইউনিয়নের আমিনের মাধ্যমে জায়গা পরিমাপ করে । উক্ত শালিসিগন স্ব স্ব স্থানে তাদের জমি ভোগ দখলের মৌখিক নির্দেশনা দেন । কিন্তু শওকত গং তা মানে না । অনেক বার নির্দিষ্ট জায়গায় বাউন্ডারি করার জন্য অস্থায়ী খুঁটি গাড়লেও শওকত গংরা উঠিয়ে ফেলে । যে কারনে একরাম শেখ পরিবার পরিজন নিয়ে নির্বিঘ্নে বসবাসের ক্ষেত্রে আজ পর্যন্ত বাউন্ডারি দিতে না পাড়ায় প্রতিনিয়ত তাদের জীবন নাশের আশংকায় ভুগছেন । একরাম শেখ জানান, যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল মতিনের আন্তরিকতার কোন অভাব নেই । তিনি চান সুষ্ঠু নিরপেক্ষ সমাধান । অথচ শওকত গং তার প্রভাব প্রতিপত্তি খাটিয়ে বাদী একরাম শেখ ও তার পরিবারকে একের পর এক হয়রানী করে চলেছে ।
একরাম শেখ জানান, তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক । তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময় যাত্রাপুর চাপাতলা উচু পোলের নিকট সক্রিয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন মিটিং এ ও সভায় নিয়মিত অংশগ্রহন করতেন । গভীর রাত পর্যন্ত তাদের বৈঠক চলত ।
তিনি সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঐ সকল যুদ্ধে অংশগ্রহনরত মুক্তিযোদ্ধাদের রসদ রান্না করা খাবার এবং নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করতেন । অথচ শওকত গংরা মুসলীম লীগ থেকে বিএনপি এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কায়দায় এলাকার মানুষকে ভুল বুঝিয়ে তার জায়গা অবৈধ অন্যায় অনৈতিকভাবে ভোগ দখল করে আসছে দাম্ভিকতার সাথে । এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা । মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী । জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান । সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন জাতীয় এবং জেলা পর্যায়ের গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত পূর্বক তার বসতভিটায় নির্বিঘ্নে বসবাস এবং ৩৩ শতক জমি অবৈধ দখলদারি শওকত গং দের হাত থেকে মুক্ত করে নিজে এবং তার সন্তানরা আর্থিকভাবে ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারে এ ব্যাপারে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ।

বেশিরভাগ বিরোধ নিষ্পত্তি হচ্ছে
                                  

॥ আতাউর রহমান সোহেল, গাজীপুর ॥
শ্রীপুরের মুলাইদ গ্রামের আফাজ উদ্দিনের কন্যা নাসরিন আক্তার। গত আট মাস আগে বরামা গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে ফারুক মিয়ার সাথে তার বিয়ে হয়। যৌতুকের দাবী নিয়ে স্বামী-স্বজনদের সাথে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়।
তিনি জানান, সুবিচারের আশায় ইউনিয়ন পরিষদের স্মরণাপন্ন হন। পর পর বেশ কয়েকটি তারিখে শুনানী হয়। ১১ ফেব্রুয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের নারী শিশু ও পারিবারিক বিরোধ নিরসন কমিটি এক লাখ ২৫ হাজার টাকা আমাকে দিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়। আগামী এক মাসের মধ্যে সমুদয় অর্থ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে সংরক্ষন বা জমাদানেরও সিদ্ধান্ত হয়। ইউপি সুত্র জানায়, ইতোমধ্যে ২৫ হাজার টাকা জমা করা হয়েছে।
গাজীপুরের শ্রীপুরে নারী সংক্রান্ত বিরোধের বেশিরভাগ নিষ্পত্তি হয় ইউনিয়য়ন পরিষদ কার্যালয়ে। ইউনিয়ন পরিষদের নারী শিশু ও পারিবারিক বিরোধ নিরসন কমিটি এ কাজটি বাস্তবায়ন করেন।
শ্রীপুর উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়ন পরিষদেই নারী শিশু ও পারিবারিক বিরোধ নিরসন কমিটি রয়েছে। তিনজন সংরক্ষিত নারী সদস্যের মধ্যে একজন এ কমিটির সভাপতি মনোনীত হন। তার সাথে আরও কমপক্ষে চারজন সদস্য এ কমিটির সদস্য থাকেন। বরমী ইউনিয়ন পরিষদে এ কমিটির সভাপতি সংরক্ষিত নারী সদস্য রেজিয়া বেগম।
এরকমভাবে নারী নির্যাতনের নানা ঘটনায় নারীরা ইউনিয়ন পরিষদের স্মরণাপন্ন হন। ইউনিয়ন পরিষদের নারী শিশু ও পারিবারিক বিরোধ নিরসন কমিটি নারীদের এসব বিষয় নিয়ে নারীদের পক্ষে কাজ করে থাকে।
বরমী ইউনিয়ন পরিষদে এ কমিটির সভাপতি সংরক্ষিত নারী সদস্য রেজিয়া বেগম বলেন, এ কমিটি মূলত: নারীদের পক্ষে কাজ করে। প্রতি দু’মাস পর পর একটি করে সভা করা হয়। সভায় নারী নির্যাতন শিশু সুরক্ষায় অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
ময়মনসিংহের পাগলা থানার হাজী আব্দুল মান্নানের কন্যা রিমা আক্তার। এক বছর আগে শ্রীপুরের বরামা গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে রুবেল শেখের সাথে বিয়ে হয়। যৌতুকের অভিযোগে রিমা বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। পর পর কয়েকটি শুনানী শেষে তাদের মধ্যে যৌতুকের বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়। সংরক্ষিত নারী সদস্য রেজিয়া বেগম বলেন, শুধু শুনানী নয়, দুই পক্ষের সাথে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে একটি জটিল সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।
বরমী ইউনিয়নের পাঠানটেক গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের কন্যা রুমা আক্তার। তিনি জানান, তার স্বামী চার মাস আগে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ৯ বছরের সংসার জীবন তার। স্বামী অসুস্থের পর শ^াশুড়ী তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। সুবিচারের জন্য টাকা খরচ করার সামর্থও নেই তার। পরে এলাকার লোকজনদের পরামর্শে ইউনিয়ন পরিষদের নারী শিশু কমিটির কাছে আবদেন করেন। সেখানে কয়েক দফা শুনানী ও আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে নারী হিসেবে স্বামী সংসারে তার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি এখন তার স্বামীর ঘরে আছেন।
বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক বাদল সরকার বলেন, প্রতি মাসে গড়ে কমপক্ষে ১৫টি নারী বিষয়ক সমস্যার অভিযোগ আসে। ইউনিয়ন পরিষদের নারী শিশু ও পারিবারিক বিরোধ নিরসন কমিটি এ নিয়ে কাজ করেন। বাদী বিবাদী পক্ষ নিয়ে পর পর চারটি তারিখে আলোচনা ও শুনানী হয়। বিষয়টি চারটি তারিখের মধ্যেই মীমাংসা করা হয়। চারটি তারিখ সাধারণত চার সপ্তাহে দেয়া হয়। কোনো পক্ষ সময় চেয়ে নিলে শুনানী বা আলোচনার দিনক্ষণ কিছুটা বিলম্ব হয়। তবে মোট আবেদন করা ৮৫ ভাগ প্রার্থীর আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়।
যদি ইউনিয়ন পরিষদের আলোচনায় নিষ্পত্তি না হয় তাহলে আদালতে আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। এরকম একটি উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, শ্রীপুরের সোনাকর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে রুবেলের সাথে সাত বছর আগে তার বিয়ে হয়। নেশাগ্রস্ত স্বামী স্ত্রীকে মারপিট ও যৌতুকের দাবীতে মারধোর করে। পর পর চারটি তারিখে আলোচনা ও শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু কোনো মীমাংসায় পৌঁছাতে পারিনি। অবশেষে বাদীনিকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান বাদল সরকার বলেন, নারীদের কল্যাণে এ কমিটি ইউনিয়ন পরিষদে অন্যান্য ১৩টি কমিটির মধ্যে একটি।
শ্রীপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি, শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও ডেইলী স্টারের সাংবাদিক প্রভাষক আবু বকর সিদ্দিক আকন্দ সোহেল বলেন, স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ কাঠামো শক্তিশালী এবং বেগবান হলে তৃণমূলের অধিকাংশ নারী নির্যাতনের ঘটনা সেখানেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব। এতে আদলতে যেমনি মামলাজট কমবে তেমনি নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অব্দুল জলিল বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নারী শিশু ও পারিবারিক বিরোধ নিরসন কমিটি পারিবারিকভাবে বেশিরভাগ নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। এ কমিটিকে আরো বেশি শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এতে তৃণমূল নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আরও ভূমিকা রাখতে সক্রিয় হবে।


    




নিজেকে জানি সেমিনারের বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধ কলুষমুক্ত করতে আরও একটি যুদ্ধ প্রয়োজন
                                  

মানুষ হায়েনাকে ভয় পায় না । মানুষ মানুষকে ভয় পায়। নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। পশু পাখীদেরও প্রভূ ভক্তি রয়েছে। এরা তাদের অনুভূতি এবং ভিন্ন ভিন্ন  আঙ্গিকে সমাজের  শ্রেষ্ট কাজে অংশ নিয়ে সমাজ ও পরিবারে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। বাংলাদেশের সেরা চৌকশ র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান ফোর্স। সন্দেহভাজন, নাশকতামূলক কাজে ডগ স্কয়ার্ড ব্যবহার করে সঠিকাভাবে দেশ বিরোধী অপরাধী চক্রান্তকারীকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়। নিরন্তর বেঁচে থাকার জন্য যতটুবু সময় পাওয়া যাবে তার সঠিক সময়ে মেপে মেপে চলতে পারলেই নির্দিষ্ট লক্ষে পৌছানো সম্ভব। মৃত্যু হলে নতুন কোন জীবন আসবে না। মাহফুজা খানম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হল রুমে  নৈতিক শিক্ষা সহায়ক ``নিজেকে জানি`` এক শিরোনামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। সুপ্রভাত বাংলাদেশ বাগেরহাটের আয়োজনে সংগঠনের নির্বাহী প্রদান মোঃ বাবুল আকতার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, সময় ফুরিয়ে যাবার আগেই সময় থাকতে সময়ের স্বদব্যবহার করতে হবে। বৃদ্ধ বয়সে কাঁদলে হবে না। বিপন্ন  অসহায় সাধারন মানুষের সম্পদ লুন্ঠন অন্যায় করে কোনক্রমে এ জগতে যেমন পার পাওয়া যায় না পরজগতেও রয়েছে বিধাতার চরম শাস্তি। মানুষের নৈতিক চরিত্র দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। সেখান থেকে উত্তরণ ঘটানোর শিক্ষার্থীদের চরিত্রবান এবং সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবার কোন বিকল্প নেই। তাই ছাত্র জীবনই শ্রেষ্ট সময়। নিজেকে গড়ার পাশাপাশি চরিত্র গঠনে আদশ নৈতিকতা সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে নিরলস পাঠ্যভাস পরিবেশ এবং ভবিষ্যতে নিজেকে দেশের একজন আদর্শ সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিতে এক যোগে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিশিষ্ট সাংবাদিক আজাদ রুহুল আমিন বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক রুচি সম্মত ভবন। শিক্ষার্থীদের রুচি সম্মত বসার সুব্যবস্থা এবং অসহনীয় গরে বৈদ্যুতিক পাখার মাধ্যমে শীতল বাতাস আর তাদের জন্য রয়েছে বিনা বেতনে বিশেষ করে মেয়েদের অবৈতনিক ভাবে প্রথম  শ্রেনী থেকে বিএ পর্যন্ত ব্যয় ভার। বিনা মূল্যে বই বিতরন উপবৃত্তি সহ নানা সুযোগ সুবিধা। এছাড়া বিদ্যালয়ে অনেক বিত্তশালীরা শিক্ষার্থীদের মাঝে পোশাক বিতরন এবং দুপুরে মিলডের ব্যবস্থা এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। শুধু তাই নয় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং পিএইচডি করা কালীন সময়ে স্কলারশীপ পেলে তাদের জন্য রয়েছে অবাধ সুবিধা। প্রাথমিক ভীত শক্ত না হলে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো দুষ্কর। শিক্ষা গ্রহন  দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত। শিক্ষাখাতে বড় বিপর্যয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা যতটা উন্নত নয় তার চেয়ে আধুনিক ভবন সুযোগ সুবিধার অন্ত নেই। সারাদেশে কোটি টাকা ব্যয়ে সুউচ্চ ভবন। গ্রীষ্মের দাবানলে আরামদায়ক করতে বৈদ্যুতিক পাখা। বসার উন্নতমানের আসবাবপত্র। এবং প্রাচীর ও আধুনিক তোরন সম্বলিত দৃষ্টিনন্দন অসংখ্য সাইক্লোন সেল্টার নির্মান। বিনা বেতনে পড়ালেখা। বিনা মূল্যে বই বিতরন। উপবৃত্তি। বই উৎসব। মিল ডে আরো নানা আয়োজন। আলাদা পোশাক বিতরন। খেলাধুলা ও বিনোদনে এগিয়ে থাকলেও এক শ্রেনীর অসাধু শিক্ষকদের কোচিং বানিজ্য। শিক্ষকদের তুষ্টি অর্জনে যে সকল বই কোম্পানী সক্ষম সে সকল গাইড শিক্ষার্থীদের কিনতে বলেন। সদ্য প্রকাশিত পাবলিক পরীক্ষা সহ ফাইনাল পরীক্ষায় গনিত ও ইংরেজী পরীক্ষার ফলাফল এবারই সবচেয়ে নিম্নগামী। শিক্ষক নিয়োগের  ক্ষেত্রে মেধা এবং উক্ত দুই বিষয়ে পারদর্শি না হলেও বছর জুড়েই নিয়োগ প্রাপ্তীর পর পিটিআই ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষকদের প্রশিক্ষিত করা হয়। যাতে শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা উপহার দিতে পারে।
শিক্ষকদের কোন দায়বদ্ধতা নেই। নেই কোন মনিটরিং এর ব্যবস্থা। বিদেশে মনিটরিং এর ব্যবস্থা এবং ঠিকমত পাঠদানে ব্যর্থ হলে তাদের বিদায় করা হয়। সিগারেটের বিজ্ঞাপন বন্ধ হলেও টেলিভিশনে পত্রিকায় বিভিন্ন গাইডের বিজ্ঞাপন সরকার তথা শিক্ষা মন্ত্রনালয় বন্ধ করতে পারে নি । অনেক বিদ্যালয়ে জেএসসি, পিএসসি তে আশাব্যঞ্জক জিপি এ+ পাবার আনন্দ যেমন তেমনি যে শিক্ষার্থীরা ফেল করে তাঁর দায়ভারও স্কুল তথা শিক্ষকদের উপর বর্তায়। যখন বৃত্তি পরীক্ষা চালু ছিল তখন পর্যন্ত শিক্ষকরা নিজের পটেকের পয়সা দিয়ে চা বিস্কুট সিঙ্গারা খেয়ে শিক্ষার্থীদের আলাদা অতিরিক্ত ক্লাস এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে তদারকী করতে দেখা যেত। শিক্ষাখাতে অফিস পিয়ন  থেকে রু করে শিক্ষক নিয়োগ। শিক্ষকদের  পোষ্টিং সহ বিভিন্ন অনিয়ম যা ওপেন সিক্রেট। এটি বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে প্রত্যক্ষ করা। যারা দারিদ্র গরীব অর্থনৈতিক দৈন্যতা তারা প্রাইভেট পড়তে পারছে না। এক শ্রেনীর শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট না পড়লে তাদের ভালো চোখে দেখা হয় না এবং তাদের হাতে  যে ক্ষমতা আছে তাঁর অপপ্রয়োগ করা হয়। বিভাগীয়, জেলা, উপজেলার এ সকল আধুনিক শিক্ষা ভবনের ভিত্তি ফলক-ভবন উদ্বোধন করেন সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগন। অথচ তাদের ছেলেমেয়েরা ঢাকার অভিজাত কিংবা এ সকল শহরে কোথায় ভালো কিন্ডার গার্টেন আছে সেখানে তাদের ছেলেমেয়েদের পড়ানো হয়। যে কারনে এ সমাজের সাধারন  ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার মান খুব একটা বাড়ে না। তদারকী না হবার জন্য যেখানে প্রথম শ্রেনীর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাস হয়। সে সকল ছেলেমেয়েরা কি আদৌয় পড়ালেখা ও বইয়ের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারে? যুগ যুগ ধরে গনিত ও ইংরেজীতে ফেল এর কারন ৭০-৮০% শিক্ষকরাই এ সম্পর্কে অভিজ্ঞ নন। বা তারা কোচিং এ যে টিচ দেন তা ক্লাসে দেন না। প্রশিক্ষন গ্রহনে উচ্চ ভাতা এটি কাজে লাগিয়ে পদোন্নতি সহ কোচিং ব্যবসা অন্য ব্যবসায় সফলতা লাভ করে গাড়ি বাড়ি করলেও শিক্ষার মান খুব একটা বাড়ছে না।
অতিরিক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য আরো বিদ্যালয় নির্মান এবং বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ গ্রহন করে। শিক্ষার্থীদের গুনগত মান এবং দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ভবিষ্যৎ দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে সরকারের আরো কার্যকরী ভূমিকা গ্রহন করতে হবে। এ ব্যাপারে আরো তথ্য সমৃদ্ধ শিক্ষাখাতে বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরে পত্রিকায় বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এটি সমগ্র বাংলাদেশের চিত্র। প্রশিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, একটি শিক্ষা কক্ষের  শ্রেনীতে ৪০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও শিক্ষার সুষ্ঠু ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে তারা জ্ঞান আহরন ও সুষ্ঠভাবে পাঠদানে মনযোগ দিতে পারে। দক্ষিন  কোরিয়ায় এক শ্রেনীতে মাত্র ১২ জন শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। জনগনের টাকা দিয়ে এদেশের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। অতএব এরা ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষা লাভ করে  দেশ ও জাতির জন্য কল্যান বয়ে আনবে এবং   দেশের নেতৃত্ব প্রদানে অগ্রনী পালনে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। অন্যান্য বক্তারা বলেন, সিম লাউ আর বীজ সংরক্ষন করে যেমন চাষাবাদ করা হয় তেমনি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার অঙ্কুরিত বীজ বপনের মত এবং মুক্তিযুদ্ধের মত শিক্ষা জীবন কে কলষমুক্ত করতে আর একটি যুদ্ধ প্রয়োজন। সে যুদ্ধ হবে  ভোগ নয় ত্যাগে। আত্ম কেন্দ্রীকতা জাতিকে  দেশকে ভোগান্তির দিকে নিয়ে যায়। মুক্ত চিন্তা আর অদৃশ্যভাবে বিধাতার প্রতি অবিচল আস্থা। শ্রষ্টাকে বিশ্বাস। অন্তরে হৃদয়ে প্রকৃত তার আখলাক পরিবর্তন করে পেতে পারে এ জীবন ও ঐ জীবনের পরম প্রাপ্তি। অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সুপ্রভাত বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোঃ আজিজুর রহমান, স্কুলের প্রশিক্ষক মোঃ ফয়জুম মুনির। সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব হাসিবুর রহমান মিয়া। নির্বাহী প্রধান মোঃ বাবুল আকতার শিক্ষার্থীদের নীতিকথামূলক লিপলেট বিতরন এবং এর উপর বিশদ আলোচনা করেন। অনুরুপভাবে সুপ্রভাত বাংলাদেশ বাগেরহাট খানজাহান আলী মাজার প্রাঙ্গনে অবস্থিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ রকম এক ব্যতিক্রমী সেমিনারের আয়োজন করে। এছাড়া সুপ্রভাত বাংলাদেশের সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক মোঃ বাবুল আকতার নিজ খরচে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষামূলক কর্মসূচী অব্যহত রেখে চলেছেন। বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ সুস্থ্য জীবন সহনশীলতা পারিবারিক স্থিতিশীলতা শান্তিপূর্ন সমাজ গঠনে যথাযথ মূল্যায়ন ভিত্তিক নিজেকে জানি ৩০টি নীতি বাক্য শিক্ষার্থীদের সন্মুখে উপস্থাপন করেন ।


একজনকে গ্রেফতার করেছে। জানা গেছে, আলিম সাতক্ষীরার কালিগজ্ঞ থানায় পুলিশের সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিল । ঘটনা ঘটিয়ে সে এখান থেকে ঝিনাইদহে পালিয়ে যায়। ১৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে সাতক্ষীরা আদালতে পাঠিয়েছে।

গৃহবধুর উপর হামলা নিরাপত্তাহীনতায় বাদী
                                  

॥ ফরিদুর রহমান শামীম, বাগেরহাট ॥
বাগেরহাটের কচুয়া নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় মামলায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো মামলার আসামীদের অব্যাহত হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে দরিদ্র পরিবারটি। মামলার এজাহার ও ক্ষতিগ্রস্থের পরিবার সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার ভাষা গ্রামে রনজু শেখের ছেলে রেজাউল শেখ দীর্ঘদিন যাবত একই এলাকার আলম শেখের স্ত্রী রানী বেগমকে বিভিন্ন সময়ে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো, এতে গৃহবধু রাজী না হওয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লম্পট রেজাউল শেখ গৃহবধুর বাড়ীতে ঢুকে লোহার রড দিয়ে রানী বেগমের মাথায় হত্যার উদ্দেশ্যে  আঘাত করে। হাত দিয়ে ঠেকাতে গিয়ে তার হাত ভেঙ্গে যায়।  তার সহযোগীরা ও একে একে পিটাতে থাকে। পরে গৃহবধুকে অচেতন অবস্থা এলাকাবাসি উদ্ধার করে কচুয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। পুলিশ কোন  আসামীকে আটক করতে পারেনি। মামলার আসামীরা প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের সহায়তায়  মামলা তুলে নিতে একের পর এক হুমকি অব্যাহত রেখেছেন।  পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।





   Page 1 of 3
     অধিকারের প্রতিবেদন
শীঘ্রই দেশে ফেরা হচ্ছে না অন্তঃসত্ত্বা রুমার
.............................................................................................
বাল্যবিবাহ থেকে মুক্ত হয়ে রিফাত ফিরে পেল নতুন জীবন
.............................................................................................
২৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে অধিকার এর বিবৃতি ন্যায় বিচার, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াইয়ের প্রতিজ্ঞা
.............................................................................................
অধিকারের প্রতিবেদনে তথ্য গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ধর্ষণসহ ৩ মাসে মানবাধিকার লঙ্গনের ঘটনা সহস্রাধিক
.............................................................................................
কচুয়ায় সাংসদ মীর শওকাত আলী বাদশাহ
.............................................................................................
অবহেলিত এলাকায় শিশুদের সুশিক্ষায় কাজ করছে
.............................................................................................
নারী জগতের অহংকার নাজিরপুরের ইউএনও
.............................................................................................
পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে টেকনাফের মাদক ব্যবসায়ী নিহত
.............................................................................................
জাতীয় প্রেসক্লাবে “মায়ের ডাক” আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গুম হওয়া স্বজনদের ফিরিয়ে দেয়ার দাবি ৪০টি
.............................................................................................
গণ আজাদী লীগের আলোচনা সভায় মোহাম্মদ নাসিম ৭১ ও ৭৫ খুনিরা যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে
.............................................................................................
রোহিঙ্গা গণহত্যা সমাধান কতদুর? দায়এড়াতে পারে না বিশ্ব সম্প্রদায়
.............................................................................................
রঙ তামাশার দুনিয়া । আমরা কতটা নির্লিপ্ত আর স্বার্থপর !! ??
.............................................................................................
জমি ফিরে পেতে বৃদ্ধ একরাম উদ্দিনের প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
.............................................................................................
বেশিরভাগ বিরোধ নিষ্পত্তি হচ্ছে
.............................................................................................
নিজেকে জানি সেমিনারের বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধ কলুষমুক্ত করতে আরও একটি যুদ্ধ প্রয়োজন
.............................................................................................
গৃহবধুর উপর হামলা নিরাপত্তাহীনতায় বাদী
.............................................................................................
জীবন জীবনের জন্য, মানুষ মানুষের জন্য ক্যান্সারে আক্রান্ত মেধাবী ছাত্র আজিমের বাঁচার আকুতি
.............................................................................................
নিঁখোজের পাঁচদিন পর স্কুলছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার
.............................................................................................
মাতৃভাষা দিবসেও মধুপুুরে শিশু ধর্ষণ
.............................................................................................
কচুয়ায় বসতভিটা নিয়ে বিরোধ সংঘর্ষ ॥ আহত-৭
.............................................................................................
সাউথ এশিয়ান হিউম্যান রাইটস-এর সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল রোহিঙ্গা নারী-শিশুরা তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে
.............................................................................................
রোটারি বাংলাদেশের নতুন গভর্ণরের দায়িত্ব গ্রহন
.............................................................................................
চাচা শ্বশুরের নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ মরিয়ম
.............................................................................................
এতিমদের ইফতারের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘তৃপ্ত দৃশ্য’র যাত্রা শুরু
.............................................................................................
পুলিশের নাকের ডগায় ঝাড় ফুকের ব্যবসা ॥ প্রশাসন নিরব আজাদ রহমান
.............................................................................................
মে দিবস মেহনতী মানুষের মুক্তির বারতা শ্রমিকের ন্যায্য হিস্যা প্রাপ্তির স্বীকৃতি
.............................................................................................
মায়ের কোলে ফিরতে চায় শিশু সুমন
.............................................................................................
নারী ও শিশু উদ্ধারে মানবাধিকার খবর’র ভূমিকা প্রসংশনীয়
.............................................................................................
পুরুষ নির্যাতনের হাতিয়ার ‘নারী নির্যাতন’ মামলা
.............................................................................................
পরিবারে দুমুঠো অন্ন যোগাতে শিশুরা বিভিন্ন পেশায়
.............................................................................................
মিয়ানমারে বিলুপ্ত মানবতা
.............................................................................................
অধিকারের মাসিক প্রতিবেদন
.............................................................................................
মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের প্রতিবেদন
.............................................................................................
খানসামায় হাট-বাজারে অবাধে চলছে মাদক ব্যবসা
.............................................................................................
কালিগঞ্জে স্বামী কর্তৃক স্ত্রী পাচারের অভিযোগ
.............................................................................................
এক মায়ের আকুতি আমার ছেলেকেফিরিয়েদিন
.............................................................................................
কে শুনবে অনিলের আর্তনাদ
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধু জাতির জীবনে বসন্ত এনেছিলো মুক্তিযোদ্ধা মো. আশকর আলী
.............................................................................................
দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না- ড. মিজানুর রহমান
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

Editor & Publisher: Rtn. Md Reaz Uddin
Corporate Office
Kabbocash Bhabon (5th Floor), Room No: 5/18, Kawran Bazar, Dhaka-1215.
E-mail:manabadhikarkhabar11@gmail.com,manabadhikarkhabar34@yahoo.com,
Tel:+88-02-41010307
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-41010308
    2015 @ All Right Reserved By manabadhikarkhabar.com    সম্পাদকীয়    আর্কাইভ

   
Dynamic SOlution IT Dynamic POS | Super Shop | Dealer Ship | Show Room Software | Trading Software | Inventory Management Software Computer | Mobile | Electronics Item Software Accounts,HR & Payroll Software Hospital | Clinic Management Software Dynamic Scale BD Digital Truck Scale | Platform Scale | Weighing Bridge Scale Digital Load Cell Digital Indicator Digital Score Board Junction Box | Chequer Plate | Girder Digital Scale | Digital Floor Scale