| বাংলার জন্য ক্লিক করুন

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   অধিকারের প্রতিবেদন -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
রোটারি বাংলাদেশের নতুন গভর্ণরের দায়িত্ব গ্রহন


গত ১জুলাই বাংলাদেশ-চায়না আন্তর্জাতিক সম্মেলনকক্ষে রোটারী ইন্টারন্যাশনাল-এর ইয়ার লাঞ্চিং সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পীকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী। উক্ত অনুষ্ঠানে এফ এইচ আরিফ আন্তর্জাতিক রোটারি (জেলা ৩২৮১) বাংলাদেশের নতুন রোটারি গভর্ণর পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২০১৭-১৮ বর্ষে ২০৪টি রোটারি ক্লাবসহ ২২২টি রোটার‌্যাক্ট ক্লাব, ৭৯টি ইন্টার‌্যাক্ট ক্লাব, ২৫টি আর্লি অ্যাক্ট ক্লাব, ৩৫০টি রোটারি কমিউনিটি কোর এবং বহু সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে অংশীদারীত্বের মাধ্যমে সমাজসেবা ও সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখতে দেশব্যাপী কর্মব্যস্ত রোটারি নেতাদের নেতৃত্ব দিবেন।
আরিফ ১৯৮৭ থেকে রোটারির সঙ্গে সক্রিয় ভাবে যুক্ত এবং ১৯৯৪-৯৫ বর্ষে রোটারির যুব সংগঠন রোটার‌্যাক্টের নির্বাচিত বাংলাদেশ প্রধানের দায়িত্ব নির্বাহ করেন। তিনি বিসিএস (ট্যাক্স সেশন) ক্যাডারে কর কমিশনার পদে কর্মরত, বিসিএস (ট্যাকসেশন) এসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ এবং অফিসার্স ক্লাব ঢাকার নির্বাচিত নির্বাহী কমিটির সদস্য।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লোক প্রশাসন অ্যালামনাইয়ের মহাসচিবসহ বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় উপ কমিশনার (স্বাস্থ্য) ও অন্যান্য সামাজিক সংগঠনের গুরত্বপূর্ণ দায়িত্বে সেবারত। বিপিএটিসিতে প্রথম স্থান অধিকার করায় রেক্টরস্ স্বর্ণপদক (১৯৯৪), বাংলাদেশ স্কাউটসে রোভারদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রেসিডেন্ট রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড (১৯৮৮), সিএনসি পদক (২০০৯), রাষ্ট্রপতি পদক এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জাতীয় অ্যাওয়ার্ড রৌপ্য ইলিশ অ্যাওয়ার্ড (২০১৩) লাভ করেন।

রোটারি বাংলাদেশের নতুন গভর্ণরের দায়িত্ব গ্রহন
                                  


গত ১জুলাই বাংলাদেশ-চায়না আন্তর্জাতিক সম্মেলনকক্ষে রোটারী ইন্টারন্যাশনাল-এর ইয়ার লাঞ্চিং সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পীকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী। উক্ত অনুষ্ঠানে এফ এইচ আরিফ আন্তর্জাতিক রোটারি (জেলা ৩২৮১) বাংলাদেশের নতুন রোটারি গভর্ণর পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২০১৭-১৮ বর্ষে ২০৪টি রোটারি ক্লাবসহ ২২২টি রোটার‌্যাক্ট ক্লাব, ৭৯টি ইন্টার‌্যাক্ট ক্লাব, ২৫টি আর্লি অ্যাক্ট ক্লাব, ৩৫০টি রোটারি কমিউনিটি কোর এবং বহু সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে অংশীদারীত্বের মাধ্যমে সমাজসেবা ও সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখতে দেশব্যাপী কর্মব্যস্ত রোটারি নেতাদের নেতৃত্ব দিবেন।
আরিফ ১৯৮৭ থেকে রোটারির সঙ্গে সক্রিয় ভাবে যুক্ত এবং ১৯৯৪-৯৫ বর্ষে রোটারির যুব সংগঠন রোটার‌্যাক্টের নির্বাচিত বাংলাদেশ প্রধানের দায়িত্ব নির্বাহ করেন। তিনি বিসিএস (ট্যাক্স সেশন) ক্যাডারে কর কমিশনার পদে কর্মরত, বিসিএস (ট্যাকসেশন) এসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ এবং অফিসার্স ক্লাব ঢাকার নির্বাচিত নির্বাহী কমিটির সদস্য।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লোক প্রশাসন অ্যালামনাইয়ের মহাসচিবসহ বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় উপ কমিশনার (স্বাস্থ্য) ও অন্যান্য সামাজিক সংগঠনের গুরত্বপূর্ণ দায়িত্বে সেবারত। বিপিএটিসিতে প্রথম স্থান অধিকার করায় রেক্টরস্ স্বর্ণপদক (১৯৯৪), বাংলাদেশ স্কাউটসে রোভারদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রেসিডেন্ট রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড (১৯৮৮), সিএনসি পদক (২০০৯), রাষ্ট্রপতি পদক এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জাতীয় অ্যাওয়ার্ড রৌপ্য ইলিশ অ্যাওয়ার্ড (২০১৩) লাভ করেন।

চাচা শ্বশুরের নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ মরিয়ম
                                  


নাটোরের সিংড়া উপজেলার শৈলমারি গ্রামে মরিয়ম বেগম (২৩) নামে এক গৃহবধূ চাচা শ্বশুরের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় মেয়ের মা হাসিনা বেগম বাদী হয়ে সিংড়া থানার নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করেছে।
জানা যায়, মরিয়মের স্বামী একজন দিনমজুর। নয়মাস বয়সের ১টি ছেলে সন্তান নিয়ে ভালোই চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু ঘটনার দিন সকালে বাচ্চাকে বাড়ির উঠানে পায়খানা করানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাচা শ্বশুর জালাল উদ্দিন মরিয়মকে নির্মমভাবে মারধর করে। আঘাতে মরিয়মের এক চোখ নষ্টের পথে। ভেঙ্গে গেছে বাম হাত। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অসহায় মরিয়মের পাশে দাঁড়িয়েছে চলনবিল ফেসবুক সোসাইটির নেতৃবৃন্দ। ঘটনাটি শোনার পর চলনবিল ফেসবুক সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু আহমেদের নেতৃত্বে আহতের খোঁজ খবর নিচ্ছে এই সংগঠনের সদস্যরা। তারা ভুক্তভোগী পরিবারকে সুবিচার পাইয়ে দিতে কাজ করছে।
মরিয়মের মা হাসিনা বেগম বলেন, মেয়ের চাচা শ্বশুর এর আগেও তার মেয়েকে মারধর করেছে। এ নিয়ে শালিস হয়েছে। তিনি আরো বলেন, চাচা শ্বশুর হয়ে ভাতিজার বউকে কেউ এভাবে মারতে পারে এমন ঘটনা আগে দেখিনি। এর সঠিক বিচার চাই। সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি অমানবিক। তদন্ত সাপেক্ষ দোষীর বিরুদ্ধে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এতিমদের ইফতারের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘তৃপ্ত দৃশ্য’র যাত্রা শুরু
                                  


রাজধানীতে এতিমদের ইফতার আয়োজনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন `তৃপ্ত দৃশ্য` । বৃহস্পতিবার ৫ রমযান সন্ধ্যায় মানিক নগর বিশ্বরোড এলাকায় জামিয়া মাহমুদিয়া ইহছানিয়া ম াদরাসার লিল্লাহ বোডিং ও এতিম খানায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংগঠনটি। এতে নিজেদের আয়োজনে প্রায় শতাধিক এতিম শিশুদের নিয়ে ইফতার করে তরুণ-তরুণীরা । `তারুণ্যের জয়গানে মিলেছি মোরা ঐকতানে` এই শ্লোগানকে সামনে রেখে অনুষ্ঠানে সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা অনাথ ,অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আয়োজকরা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন আয়োজক সংগঠনের স্বেচ্চাসেবী ইরফানুর রহমান, রিয়াজ আহমেদ রূপক, মাইশা নাজিয়া, আল কাজিম, মেহেদী হাসান, সৈকত খান সহ সংগঠনের সকল অন্যান্য সদস্যরা।

ফ টো ফি চা র
গত ২০ মে দুপুরে তেজগাঁও ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির ভবন উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুস্তম আলী খান, তানভীর কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ শাহজাহান সহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।


গত ২জুন শুক্রবার জুম্আর নামাজের পর গাজীপুরের শ্রীপুর থানার রাজেন্দ্রপুরে ধলাদিয়া সাইনবোর্ড এলাকায় হযরত ওমর ফারুক (রঃ) জামে মসজিদের ভিত্তি প্রস্থর উদ্বোধনের পর মোনাযাত করছেন স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব এড. মোঃ রহমত আলী। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন, ভাওয়াল রাজবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক হোসেন, সাবেক বনবিভাগের বিট অফিসার মীর আক্তারুজ্জামান সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।


 
গত ১৩ মে কলকাতা প্রেসক্লাবে ভ্রমন বিষয়ক কর্মে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশের অন্যতম ট্যুরিজম কোম্পানী মাহিমা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস-এর কর্ণধার ও মানবাধিকার খবরের সন্মানিত উপদেষ্টা মোঃ জহুরুল ইসলাম মনিরকে শিক্ষা ও পরিবেশ উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিশেষ মেধা বিকাশ সন্মাননা ২০১৭ পদক প্রদান করা হয়। এ সময় কলকাতার বিশিষ্ট ব্যক্তিগন উপস্থিত ছিলেন।
 
জড়ঃধৎু ঈষঁন ড়ভ গড়ঃরলযববষ রিঃয ঃযব ধংংরংঃধহপব ড়ভ উরংঃৎরপঃ এৎধহঃ, ফড়হধঃবফ ২০ পবরষরহম ভধহং, পড়হংঃৎঁপঃবফ ঃড়ি ঃড়রষবঃং ভড়ৎ নড়ুং ংঃঁফবহঃং, ড়হব ফৎবংং পযধহমরহম ৎড়ড়স ধহফ ড়হব ঃড়রষবঃ ভড়ৎ মরৎষং ংঃঁফবহঃং ড়ভ ঔধহধঃধ ঐরময ঝপযড়ড়ষ, ইধমপযধষধ, কধষরধশড়রৎ, এধুরঢ়ঁৎ ধঃ ধ ঃড়ঃধষ পড়ংঃ ড়ভ ঞশ ১৫৯,২৮৬.০০. চধংঃ উরংঃৎরপঃ এড়াবৎহড়ৎ ঝধষরস জবুধ, ঈষঁন চৎবংরফবহঃ কযধহফশধৎ ঝযধভরয়ঁষ ঐধয়ঁব, চধংঃ চৎবংরফবহঃ গ ঋড়ৎযধফ তধসধহ ঝযধযববহ, ওসসবফরধঃব চধংঃ চৎবংরফবহঃ গফ অহরংঁষ ঐধয়ঁব, জঃহ. ঝযবভধঁষ অষষ ঝযরঢ়ষঁ ধহফ জঃহ. চচ গধহড়ৎধহলধহ ইযধশঃধ ধিং ঢ়ৎবংবহঃ ফঁৎরহম রহধঁমঁৎধঃরড়হ ড়ভ ঃযব ঢ়ৎড়লবপঃ ড়হ ১৫ গধু ২০১৭.

গত ২১ মে রোটারী ক্লাব ও রোটার‌্যাক্ট ক্লাব অব গুলশান লেক সিটির উদ্যোগে ঢাকা মিরপুর-১ মডেল একাডেমীতে ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।


পুলিশের নাকের ডগায় ঝাড় ফুকের ব্যবসা ॥ প্রশাসন নিরব আজাদ রহমান
                                  

পুলিশের নাকের ডগার সামনে ঝাড় ফুকের ব্যাবসা। কিছু অসাদু লোক নিরহ মানুষকে ঠকাচেছ। অসাধু লোক ধমের লেবাস পড়ে দাবিয়ে বেড়াচ্ছে এ সমাজে। একাতারে আছে মসজিদের হুজুর লেবাসদারী পীর, হিন্দু ধমীর লোক এবং একশ্রেন্নির প্রতারক চক্র। কিছু ইল্রেকটনিক মিডিয়া ও পত্রিকা বিঙ্গাপন দিয়ে উংসাহ যোগাচ্ছে পুলিশ দেখে না দেখার ভুমিকা পালন করছে। খোদ রাজধানী থেকে আরন্ভ করে পল্লী এলাকার এর বিস্তার, মাই টিভি বিঙ্গাপন  প্রচার করে থাকে প্রতারনার দায়ে জেল খেটেছে লিটন দেওয়ান এ ছাড়া বিভিন্ন পীড় মুরছিদের ফোন নন্বার দিয়ে বিঙ্গাপন। রাজধানী নারিন্দা এলাকায় পীর সাহেবের গলি নামে একটি এলাকা পরিচিত কয়েক গজ দুরের নারিন্দা পুলিশ ফাড়ি. খোজ নিয়ে জানা যায় চান মিয়া নামের একজন পীড় এলাকায় ছিল সে বহু আগে মারা গেছে কিন্তু তার এ ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে তার স্ত্রী ছেলে ও ছেলে বউ, তারা কোন কামিলদার নয়। তাদের দরবারে আসা আলেয়া বেগম নামে এক মহিলা থেকে যানা গেল দীর্ঘ দিন সে এখানে আসতেছে তার ছেলে নিখোঁজ সে জন্য। কিন্তু দোয়া তাবিজ দিয়ে যাচেছ কোন কাজ হয়নি আরো বহু লোক তদবিরের জন্য আছে মাসের পর মাস ঘুরতেছে কোন ফল পায়নি। ১৫৪, উত্তর যাত্রাবাড়ী ইয়াসা-আতুল উলমা মাদ্রসা হাফেজ হাবিবুর রহমান নামের এক হুজুর মাদ্রাসা খোলে কিছু ছাত্র পড়ায় সে ফাঁকে সন্ধ্যায় জন প্রতি ১০০ টাকা করে নিয়ে ঝাড় ফুক করে থাকে । জানা  গেল ঝরনা নামের এক মহিলা দীর্ঘ দিন সে এখানে আসতেছে তার স্বামী নিখোঁজ সে জন্য। কিন্তু দোয়া তাবিজ দিয়ে যাচেছ কোন কাজ হয়নি আরো বহু লোক তদবিরের জন্য আছে মাসের পর মাস ঘুরতেছে কোন ফল পায়নি। যাত্রাবাড়ী থানার দুরত্ব মাত্র ২০০ গজ দুরত্ব থানা অফিসার ইনচাজ আনিসুর রহমানের সাথে কথা বলে জানা গেল এ সম্পর্কে সে কিছু জানে না। মুন্সিগঞ্জ জেলার টংগিবাড়ী থানার উত্তর সোনারং গ্রামের  মকিম পোদ্দারের ছেলে দেলোয়ার পোদ্দার জ্বীন ডাকে এলাকায় বলে বেড়ায় জ্বীন তাকে বাবা ডেকেছে, তাই জ্বীনকে যা বলে তাই শুনে। স্বামী স্ত্রী অমিল থাকলে মিল করে দেওয়া, মনের মানুষকে কাছে নিয়ে আসা, পরকীয়া প্রেম আসক্তি থেকে মুক্ত করা, ব্যবসা লোকসান সব ধরনের সম্যসার  ২৪ ঘন্টার মধ্যে সমাধান, ঘটনার সত্যতা যাচাই করার জন্য বিউটি বেগম এক মহিলার সাথে আলাপ করে জানা গেল ৭ মাস হয়েছে দেলোয়ার পোদ্দারকে ১৫০০০ টাকা দিয়েছে। স্বামী বিদেশ থাকে যোগাযোগ নেই । ১৫ দিনের মধ্যে জ্বীনের মাধ্যামে যোগাযোগ করিয়ে দিবে। কিন্তু ৭ মাস হয়েছে কোন কাজ হয়নি টাকাও ফেরত দেয় না আজ কাল সময় ক্ষেপন করছে। লোক লজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু জানাতে পারেছে না, টাকা ফেরত চাইলে জ্বীনদ্বারা বড় ধরনের ক্ষতি করবে বলে ভয় দেখায় তা ছাড়া কেউ তার প্রতি কোন ক্ষোভ দেখালে সে বলে আমাকে মনে মনে বকা দিয়েছেন তাই কাজ দেরী হবে তার জ্বীন তাকে বলেছে মনে মনে গালি দেন এছাড়া তার সহযোগী হিসাবে কাজ করে জয় সে ও বিভিন্ন লোকের নিকট বিভিন্ন নাম বলে। এ সুযোগ নিচ্ছে প্রতারক চক্র। বিভিন্ন পত্রিকায় বাসে এবং টিভিতে প্রচার করে থাকে মনের মানুষের সাথে মিল, স্বামী স্ত্রীর অমিল, পরকীয়া প্রেম, ব্যবসা লোকসান সব ধরনের সম্যসার  ২৪ ঘন্টার মধ্যে সমাধান। টংগিবাড়ী থানার  অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেনের সাথে কথা বলে জানা গেল এ সম্পর্কে সে কিছু জানে না। ঢাকা শহরে প্রতি এলাকায় দোয়া তাবিজের ব্যবসা জমজমাট। এলকার কিছু বখাটে মাসুহারা নিচেছ প্রতারক চক্র থেকে। জুরাইন আলম মার্কেটের নিকট মুসা ফকির ও হারুন ফকির নামে পরিচিত দু’জন বাবা ছেলে সকাল ১০ থেকে ১ পর্যন্ত এবং বিকাল ৪ থেকে সন্ধ্য পর্যন্ত তাবিজ তদবির করে থাকে। পিছিয়ে নেই অধিকাংশ এলাকার মসজিদের ইমাম সাহেবরা। জুরাইন কমিশনার রোডের মোটকা হুজুর নামে পরিচিত তাবিজের মুল্য ৫০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত এবং একই এলাকায় কাছমিরি হুজুর নামে পরিচিত আর এক হুজুর তার রেট ২০০০ টাকা থেকে  ৫০০০ টাকা পর্যন্ত। দু’জনে এ ব্যবসা করে ঢাকা শহরে বাড়ী গাড়ী সব করেছে কিন্তু ঠিক রাখতে পারেনি মসজিদের ইমামতি, চাকুরি হারিয়েছে। কদমতলী থানার  ওসি ওয়াজেদ আলীর সাথে কথা বলে জানা গেল এ সম্পর্কে সে কিছু জানে না এবং জানার প্রয়োজনও মনে করে না কারন তার অনেক কাজ। ধোলাইপাড়ের বিদ্যুৎ অফিসের পাশে মসজিদের ইমাম লিয়াকত আলী মাঝে মাঝে সে তাবিজ  দিয়ে থাকে বলে জানা যায়। কেরানীগঞ্জের মডেল টাউনের কালী সাধক রাধিকা কবিরাজ সহকারী হিসেবে কাজ করে রিপন হাওলাদার ১০১ টাকা ফ্রি নিয়ে থাকে সমাস্যা শোনার জন্য তাবিজ দেওয়ার আলদা টাকা । কাজ শেষ হলে মোটা অংক নিয়ে থাকে, জানা যায় খরচের কথা বলে যে টাকা নেয় এটা তার লাভ। কাজের নামে কিছু নেই, প্রত্যেক প্রতারক বেশী ঝামেলা দেখলে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায় এবং মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়। বেশীর ভাগ লোক সহজ সরল বা যখন হতাশ হয়ে পড়ে তখন এ প্রতারক চক্র হাতিয়ে নেয় টাকা পয়সাসহ সর্বশ্য। এছাড়া গাজীপুরের রাজু ও রাশেদ পিছিয়ে নেই ব্যবসায়। তবে গোপনে খবর নিয়ে জানা যায় প্রত্যেক থানায় মাস শেষে চাঁদা প্রদান করে থাকে এ প্রতারক চক্র। গেন্ডারিয়া মেলবেরাক এলাকায় পুলিশ ফাড়ি থেকে ১০ গজ দুরে রাড়ী বাড়ী বা শীতল বাড়ী বলে পরিচিত এখানে চলে সকাল বিকাল ঝাড় ফুক সহ বিভিন্ন ধরনের তাবিজ বিক্রয়।

মে দিবস মেহনতী মানুষের মুক্তির বারতা শ্রমিকের ন্যায্য হিস্যা প্রাপ্তির স্বীকৃতি
                                  


আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। মে মাসের প্রথম দিনটি পৃথিবীর অনেক দেশে পালিত হয়। বেশকিছু দেশে মে দিবসকে লেবার ডে হিসাবে পালন করা হয়। এদিনটি সরকারীভাবে ছুটির দিন। ১৮৮৬ সালের ১লা মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে ৮ ঘণ্টা শ্রমদিনের দাবীতে আন্দোলন রত শ্রমিকের ওপর গুলি চালানো হলে ১১ জন শহীদ হয়।
পূর্বে শ্রমিকদের অমানবিক পরিশ্রম করতে হত, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা আর সপ্তাহে ৬ দিন। বিপরীতে মজুরী মিলত নগণ্য, শ্রমিকরা খুবই মানবেতর জীবনযাপন করত, ক্ষেত্রবিশেষে তা দাসবৃত্তির পর্যায়ে পড়ত। ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের একদল শ্রমিক দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজ করার জন্য আন্দোলন শুরু করেন, এবং তাদের এ দাবী কার্যকর করার জন্য তারা সময় বেঁধে দেয় ১৮৮৬ সালের ১লা মে। কিন্তু কারখানা মালিকগণ এ দাবী মেনে নেয় নি। ৪ঠা মে ১৮৮৬ সালে সন্ধ্যাবেলা শিকাগোর হে-মার্কেট নামক এক বাণিজ্যিক এলাকায় শ্রমিকগণ মিছিলের উদ্দেশ্যে জড়ো হন। তারা ১৮৭২ সালে কানাডায় অনুষ্ঠিত এক বিশাল শ্রমিক শোভাযাত্রার সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে এটি করেছিলেন। আগস্ট স্পীজ নামে এক নেতা জড়ো হওয়া শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলছিলেন। হঠাৎ দূরে দাড়ানো পুলিশ দলের কাছে এক বোমার বিস্ফোরন ঘটে, এতে এক পুলিশ নিহত হয়। পুলিশবাহিনী তৎক্ষনাত শ্রমিকদের উপর অতর্কিতে হামলা শুরু করে যা রায়টের রূপ নেয়। রায়টে ১১ জন শ্রমিক শহীদ হন। পুলিশ হত্যা মামলায় আগস্ট স্পীজ সহ আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়। এক প্রহসনমূলক বিচারের পর ১৮৮৭ সালের ১১ই নভেম্বর উন্মুক্ত স্থানে ৬ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। লুইস লিং নামে একজন একদিন পূর্বেই কারাভ্যন্তরে আত্মহত্যা করেন, অন্যএকজনের পনের বছরের কারাদন্ড হয়। ফাঁসির মঞ্চে আরোহনের পূর্বে আগস্ট স্পীজ বলেছিলেন, “আজ আমাদের এই নিঃশব্দতা, তোমাদের আওয়াজ অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী হবে”। ২৬শে জুন, ১৮৯৩ ইলিনয়ের গভর্ণর অভিযুক্ত আটজনকেই নিরপরাধ বলে ঘোষণা দেন, এবং রায়টের হুকুম প্রদানকারী পুলিশের কমান্ডারকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। আর অজ্ঞাত সেই বোমা বিস্ফোরণকারীর পরিচয় কখনোই প্রকাশ পায়নি।
শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের “দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করার” দাবী অফিসিয়াল স্বীকৃতি পায়। আর পহেলা মে বা মে দিবস প্রতিষ্ঠা পায় শ্রমিকদের দাবী আদায়ের দিন হিসেবে, পৃথিবীব্যাপী আজও তা পালিত হয়। শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলনের উক্ত গৌরবময় অধ্যায়কে স্মরণ করে ১৯৮০ সাল থেকে প্রতি বছরের ১লা মে বিশ্বব্যাপী পালন হয়ে আসছে “মে দিবস” বা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস”। পহেলা মে সেই আন্দোলনের কথাই আমাদের স্বরণ করিয়ে দেয়। ১৮৯০ সালের ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল সোশ্যালিষ্ট কংগ্রেসে ১ মে শ্রমিক দিবস হিসেবে ঘোষনা করা হয় এবং তখন থেকে অনেক দেশে দিনটি শ্রমিক শ্রেনী কর্তৃক উদযাপিত হয়ে আসছে। রাশিয়াসহ পরবর্তীকালে আরো কয়েকটি দেশে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হবার পর মে দিবস এক বিশেষ তাৎপর্য অর্জন করে। জাতিসংঘে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শাখা হিসাবে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (অরগানাইজেশন বা আইত্রলও) প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে শ্রমিকদের অধিকার সমূহ স্বীকৃতি লাভ করে এবং সকল দেশে শিল্প মালিক ও শ্রমিকদের তা মেনে চলার আহবান জানায়। এভাবে শ্রমিক ও মালিকদের অধিকার সংরক্ষণ করে। বাংলাদেশ আইএলও কর্তৃক প্রণীত নীতিমালার স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শ্রমিক শ্রেনীর প্রাধান্যের কারনে অধিকাংশ সমাজতান্ত্রিক দেশে বেশ গুরুত্বও সংকল্প সহকারে মে দিবস পালন করা হয়। বাংলাদেশে মে দিবসে সরকারি ছুটি পালিত হয়। এখানে বেশ উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে মে দিবস পালিত হয়।
সমগ্র বিশ্বের মেহনতী মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরে যে আন্দোলন। খেটে খাওয়া সাধারন শ্রমিকের বিদ্রোহ বিস্ফোরণ। রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল তারই সফলতার অংশ হিসেবে মহান মে দিবসটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ন।
এখনও শিশুরা শ্রমিক হিসেবে ঘরে বাইরে কাজ করে। তাদের উপর মালিকের চরম খড়ক নেমে আসে। এখনও এই শিশুদের নির্মম নির্যাতনের শিকারে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয়। নারীরা পুরুষের সমান কাজ করলেও অর্ধেক মজুরি প্রদান এমনকি পুরুষ শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা নিয়ে ঘুরতে হয় দ্বারে দ্বারে। এটি আমাদের দেশে নিত্যনৈমত্তিক বাস্তব চিত্র।
কলে কারখানা জমিতে সর্ব ক্ষেত্রে শ্রমিকরাই ঘাম ঝরিয়ে দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটায়। তাদের মুখের বিষন্নতা দূর করে আনন্দের হাসি ফুটাতে পারলেই জাতি হিসেবে কিছুটা দায় ভার হতে মুক্ত হওয়া যায়। চীনের পন্য সমগ্র বিশ্বে তাদের বাজার দখল করেছে। এটি সম্ভব হয়েছে তাদের শ্রমিকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রায় অধিকাংশ শিল্প ইন্ডাষ্ট্রিতে চায়না শ্রমিক কাজ করছে। এটি তাদের একটি দেশপ্রেমের বড় অংশ।
মহান মে দিবসের ভাবনা মালিক শ্রমিকের মধ্যে ঐক্য। বৈষম্য নয় সমতাই পারে উভয়ের মুষ্ঠিবদ্ধ হাতই গতিশীল করতে। উন্নয়নের চাকা ঘুরিয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিতে পারে দেশকে সমৃদ্ধির পথে। এ যাত্রায় অংশ নিয়ে দেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে রুপান্তরিত করতে পারি। এ হোক আমাদের সত্য উচ্চারন ও দৃঢ় অঙ্গীকার।
আমরা যারা কলম সৈনিক আমরাও শ্রমিক। আমাদের লেখার পারিশ্রমিক পাই না। দেশের মানুষের কথা সংবাদ পত্রে তুলে ধরলেও আমাদের কথা কেউ বলে না। আমাদের অঙ্গীকার হোক মেহনতি শ্রমিকে ন্যায্য অধিকার আদায়ে স্বোচ্চার। শ্রমিকের শরীরের ঘাম শুকানোর আগেই মজুরি প্রদান করে মুক্তিকামী মানুষের পাশে দাড়াই। মালিক শ্রমিক ভাই ভাই শুধু এ শ্লোগান নয়। মহান মে দিবসের এই দিনে বাংলাদেশের সকল শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা পরিশোধের মাধ্যমেই এ দিবসের যথার্থতা ও স্বার্থকতা মিলবে। আর যেন ভবিষ্যতে কোন নর নারী মেহনতী শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত না হয়। তাদের প্রতি যেন কোন রকম বৈষম্যমূলক আচরন ব্যাতিরেকে বিভিন্ন উৎসব আয়োজনে তারা যেন উপেক্ষিত না হয়। পরিবার পরিজন নিয়ে তারা যেন দেশের বিভিন্ন আনন্দ উৎসবে সামিল হয়ে মালিক শ্রমিক এক কাতারে দাড়াতে পারে। আমাদের দেশে যারা বিত্তশালী বা শিল্পপতি তারা জন্মগত সুত্রে কেউই রাজপরিবারের সন্তান নয়। এরাই একদিন আমাদের মত খেটে খাওয়া মানুষ। তাই তারা যখন কোটিপতি বনে গিয়ে আমাদের কথা ভুলে যান। আমরা কেউই প্রতিবাদ করতে পারি না। নিরবে নিভৃতে কাঁদে আমাদের পরিবার, আমাদের সমাজ, আমদের সন্তান। প্রতিবাদী শ্রমিকদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালবাসা প্রদর্শন করছি। তোমাদের এই ঋণ কখনও শোধ হবে না। না..না..না।

 লেখকঃ ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি, মানবাধিকার খবর।
বাগেরহাট প্রতিনিধি, সময় নিউজ।
সাবেক জেলা প্রতিনিধি, বিটিভি ও চ্যালেন ওয়ান।
সাবেক সাধারন সম্পাদক, বাগেরহাট প্রেসক্লাব।

মায়ের কোলে ফিরতে চায় শিশু সুমন
                                  

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দঃ ২৪ পরগনা লক্ষীকান্তপুরে সম্পাদকের সাথে দুই বাংলাদেশী শিশু ও হাসুস সেফহোমের কর্মকর্তাবৃন্দ।

“অনেক দিন মা-বাবা ও ছোট ভাইকে দেখিনা তাদের কথা মনে পরলে কান্দন চলে আসে। আমি মায়ের কাছে ফিরতে চাই। আমাকে কি তাদের কাছে নিয়ে যাবেন? আমি কি কোন দিন ফিরতে পারব না মায়ের কাছে? আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।” দু’হাত দিয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে ক্রন্দনরত অবস্থায় অগোছালো কথাগুলো মানবাধিকার খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক রোটারিয়ান মোঃ রিয়াজ উদ্দিন কে বলছিল ভারতে পাচার হয়ে যাওয়া নিষ্পাপ শিশু সুমন ওরফে দুলাল(১০)। সে বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দঃ ২৪ পরগরায় লক্ষীকান্তপুর হাসুস সেফ হোমে আছে।

নারী ও শিশু উদ্ধারে মানবাধিকার খবর’র ভূমিকা প্রসংশনীয়
                                  

মানবাধিকার খবর প্রতিবেদক
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকের সাথে গত ১৩ এপ্রিল মানবাধিকার খবর প্রত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক রোটারিয়ান মোঃ রিয়াজ উদ্দিন সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এসময় দেশ-বিদেশ থেকে নারী ও শিশু উদ্ধার, সামাজিক কর্মকান্ডসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারসম্যান পত্রিকাটির কর্মকান্ডে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন- আমি নিয়মিত পত্রিকাটি পড়ি, সমাজ ও রাষ্ট্রে দায়বদ্ধতা থেকে পত্রিকাটি যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। নারী ও শিশু উদ্ধারে মানবাধিকার খবর’র ভূমিকা প্রসংশনীয় তিনি পত্রিকার উন্নয়নকল্পে সর্ব প্রকার সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন। সাক্ষাৎকালে সম্পাদক পত্রিকাটির বিভিন্ন রকম সমস্যা ও প্রতিকারের নানান দিক তুলে ধরেন। আগামীতে পত্রিকা দেশ ও বিদেশে প্রত্যেকটি মানুষের কাছে কিভাবে পৌঁছাতে পারে এবং সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে সে ব্যাপারে ব্যাপক পরিকল্পনা প্রনয়ন করা হয়। সম্পাদক জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন যে, পত্রিকাটি নানা প্রতিকুলতার মধ্যে দিযে হাটিহাটি পা পা করে ষষ্ঠ বছরে পদার্পণ করেছে। নিয়মিন প্রকাশিত হয়ে সকল শ্রেণীর পাঠকের কাছে সমাদৃত। দেশ-বিদেশে পত্রিকাটির অনলাইনসহ অসংখ্য পাঠক রয়েছে। গ্রাম-গঞ্জের তৃণমুল পর্যায়ের অসহায় মানুষের কথা তুলে ধরছে। পত্রিকাটি বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র মানবাধিকার বিষয়ক নিয়মিত সৃজনশীল বাংলা প্রকাশনা। এসময় জাতিসংঘের প্রতিনিধিগন উপস্থিত ছিলেন।

পুরুষ নির্যাতনের হাতিয়ার ‘নারী নির্যাতন’ মামলা
                                  

মানবাধিকার খবর প্রতিবেদক
সমাজে নারী ও পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলা হলেও নারীরা পুরুষের তুলনায় কায়িক, মানসিক ও সামাজিকভাবে দুর্বল। তাই নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ ও নির্যাতন রোধে করা হয়েছে নানা আইন। এছাড়া স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় প্রশাসন সবসময়ই নারী নির্যাতন সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। তবে বর্তমান সময়ে নারী নির্যাতন মামলাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে পুরুষদের হয়রানি করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এভাবে নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলায় হয়রানির শিকার হওয়া একজন নারায়ণগঞ্জ জেলার ভূইগড়ের শেখ খায়রুল আলম। একদিনের জন্যও ঘরে বউ তুলতে না পারলেও সেই বউয়ের করা মামলায় হাজতে থাকতে হয়েছে ৭৭ দিন। খায়রুল আলমের দাবি, কোন প্রকার দোষ না করেও থাকতে হয়েছে হাজতে। মামলার সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত ঝুলে আছে ২০১৪ সালের মামলা। প্রতি ২-৩ মাস পর পর দিতে হয় হাজিরা।
খায়রুল আলম জানান, ২০১৩ সালের ১৮ অক্টোবর একই এলাকার মেয়ে রিমিকে (ছদ্ধনাম) এক লক্ষ টাকা মোহরানায় কাবিন করে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন খায়রুল। মেয়ের বাবার ইচ্ছায় বিয়ে হয় ঢাকার মানিকনগরে। কথা ছিলো মেয়ের বাবা দুইমাস পর মেয়েকে তুলে দিবেন। কিন্তু এরই মধ্যে খায়রুল জানতে পারে তার বউয়ের অন্যের সাথে পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জ কোর্টে খায়রুলের বিরুদ্ধে করা হয় যৌতুকের মামলা। তবে তদন্তে মামলার সত্যতা প্রমাণ পায়নি সিনিয়র সহকারী জজ হুমায়রা তাসনিম।
পরে তার বিরুদ্ধে করা হয় নারী নির্যাতন মামলা। এই মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে গ্রেপ্তার হন তিনি। ৭৭ দিন পর তাকে জামিনে মুক্তি দেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ কোর্ট। তবে এখন পর্যন্ত মামলা থেকে অব্যাহতি পাননি খায়রুল। সর্বশেষ ফেব্রুয়ারি মাসে এ মামলায় হাজিরা দিয়েছেন তিনি। এছাড়া চলতি মাসের নয় তারিখ ছিলো নারী নির্যাতন মামলার শুনানি।
খায়রুল আলম আক্ষেপ করে বলেন, ‘মেয়েরা যা বলে আদালত তাই বিশ্বাস করে। বাদীপক্ষ সাক্ষী হাজির করতে না পারায় ২০১৪ সালের মামলা এখন পর্যন্ত ঝুলে আছে। তারা সাক্ষী হাজির করার জন্য শুধু সময় চায়, আর মেয়ে বলে আদালতও তাদের সময় দেয়।’ ৭৭ দিন কারাবাস ও আজ পর্যন্ত মামলা ঝুলে থাকায় শেষ হয়ে গেছে খায়রুলের ব্যবসা বাণিজ্যসহ আয়ের সকল উৎস। মামলার পেছনে দৌড়ে শেষ করেছেন যৌবনও। মানুষের যাতে জীবন যৌবন নষ্ট না হয় তাই সরকারের কাছে এ ধরনের মামলা দ্রুত শেষ করার দাবি জানান খায়রুল।
নারী নির্যাতন মামলা হলেই আসামিকে জেলে পাঠানোর বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে খায়রুল বলেন, ‘নারী নির্যাতন মামলা হলেই আগে জেলে। আগে মামলার তদন্ত হোক, তারপর শাস্তি হোক। কিন্তু নারী নির্যাতন মামলা হলেই আগে হাজত, তারপর তদন্ত।’
হয়রানি বন্ধে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ভূমিকার কথা জানতে চাইলে খায়রুল জানান, বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য স্থানীয় মেম্বর ও চেয়ারম্যান কয়েকবার মেয়েপক্ষকে ডেকেছেন, কিন্তু তারা আসেনি। পরে খায়রুলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করায় স্থানীয়দের কাছে ঘৃনীত মেয়ের পরিবার ঢাকায় চলে আসে। পূর্বে ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার ও বাসা পরিবর্তন করায় মেয়ের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি। শুধুমাত্র মামলার শুনানির সময়ে আদালতে আসে তারা।
৭৭ দিন কারাবাসের পর খায়রুল উপলব্ধি করেন দেশের বহু পুরুষ মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলার শিকার হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে অনুভব করেন সমন্বিতভাবে সোচ্চার হওয়ার প্রয়োজনীয়তা। তাই আর কোন পুরুষকে যেন তার মতো হয়রানির শিকার হতে না হয় তাই "পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধ আইন" বাস্তবায়নের লক্ষে রাস্তায় নেমেছেন খায়রুল। নিজ বাসায় প্রধান কার্যালয় করে গঠন করেছেন “পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধ আন্দোলন বাংলাদেশ (পুনিপ্রআবিডি)” নামের একটি সংগঠন। প্রথম দিকে একা আন্দোলন চালিয়ে আসলেও বর্তমানে তার সাথে যুক্ত হয়েছেন আরো অনেক নির্যাতিত পুরুষ। ইতিমধ্যে ১৫টি জেলায় `পুনিপ্রআবিডি`র কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
বিভিন্ন সময়ে নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার নানা স্থানে পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধ আইন বাস্তবায়নের জন্য মানববন্ধন করছেন খায়রুল আলম। যৌতুকের জন্য মারাতœক জখম করলে যাবতজীবন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচিত করলে ১৪ বছর কারাদণ্ড, এ আইন সংশোধন এবং পুরুষ নির্যাতন দমন আইনের দাবিতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে তার সংগঠন। রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। এছাড়া সম্প্রতি ‘যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৭` এর সংশোধনের জন্যও রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয়।
গত ১৫ মার্চ নির্যাতিত পুরুষদের নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন খায়রুল আলম। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের মাধ্যমে পুরুষদের হয়রানি বন্ধ ও পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধ আইন বাস্তবায়নের জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে মানববন্ধনে সরকারের কাছে ২১ দফা দাবি করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে ঃ
১. নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হলে বাদীকে কঠিন শাস্তির আদেশসহ পর্যাপ্ত জরিমানার ব্যবস্থা করা।
২. বিনা অপরাধে জেল খাটালে বাদীকে ক্ষতিপূরণসহ শাস্তি দেয়া।
৩. স্ত্রীর মামলায় সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা যাবে না।
৪. তদন্ত ছাড়া শ্বশুর-শাশুড়ি, ননদ-দেবরকে আসামি করা যাবে না।
৫. স্বামীর অধিকার থেকে বঞ্চিত করলে তদন্ত সাপেক্ষে স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করার ব্যবস্থা।
৬. সন্তান হওয়ার পর স্ত্রী স্বেচ্ছায় অন্যের কাছে চলে গেলে সন্তানকে স্বামীর হেফাজতে দেয়া।
৭. স্ত্রী স্বেচ্ছায় স্বামীকে তালাক দিলে সে ক্ষেত্রে স্বামীর কোনো দোষ না থাকলে স্ত্রী জরিমানাস্বরূপ স্বামীকে দেনমোহরের সমপরিমাণ টাকা পরিশোধ করবে।
৮. বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে ত্যাগ করতে বাধ্য করলে স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাক দেয় তাহলে স্বামীকে যাতে দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করতে না হয় তার ব্যবস্থা করতে হবে। অবশ্যই সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে।
৯. স্বেচ্ছায় স্ত্রী শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে গেলে কোনো খোরপোষ পাবে না।
১০. স্ত্রী নিজ পিত্রালয়ে অবস্থানকালীন কোনো দুর্ঘটনা ঘটালে বা আত্মহত্যা করলে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া মিথ্যা মামলা দিয়ে স্বামীকে যাতে হয়রানি করতে না পারে সেই ব্যবস্থা করা।
১১. মহিলা কর্তৃক পুরুষ যৌন নির্যাতনের শিকার হলে ওই মহিলার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার ব্যবস্থা করা।
১২. তালাকের পর দেনমোহর ও খোরপোষের মামলা ছাড়া অন্য কোনো মামলা দিয়ে স্বামীকে যাতে হয়রানি করতে না পারে।
১৩. পুরুষ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং সর্বোপরি আইনের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ বিবেচনা না করা।
শেখ খায়রুল আলমই একমাত্র ব্যক্তি নয়, দেশে অগণিত পুরুষ নারী নির্যাতন মামলার হয়রানির শিকার। তাই পুরুষের প্রতি নির্যাতন বন্ধে সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।
খায়রুলের ভাষায়, ‘আমার আন্দোলন করার একটাই উদ্দেশ্য আমার জীবনে যা ঘটেছে আর কারো জীবনে যাতে এ রকম ঘটনা না ঘটে। সবার দাম্পত্য জীবন যেন সুখের হয়। আমাদের ২১ দফা বাস্তবায়ন হলেই সবার দাম্পত্য জীবন সুখের হবে এবং আমরা একটি সুন্দর পৃথিবী পাবো।’

পরিবারে দুমুঠো অন্ন যোগাতে শিশুরা বিভিন্ন পেশায়
                                  

 

মোশতাক রাইহান

নানা উদ্যোগ আর আয়োজনের পরও যেন বেড়েই চলছে শিশু শ্রম। লাখ লাখ শিশু শ্রম দিচ্ছে কল কারখানা, গ্যারেজে, রিকশায় ওয়ার্কশপে। অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা আর দারিদ্রের জন্যই বেড়েই চলছে শিশু শ্রম। জীবিকার তাগিদে জীবনের শুরুতেই কোমলমতি শিশুরা মুখোমুখি হচ্ছে কঠিন বাস্তবতার। যে বয়সে হাতে থাকার কথা বই-কলম।

সেই বয়সেই হাতে তুলে নেয় কঠোর শ্রমের হাতিয়ার। দিনে পর দিনে বাড়ছে জনসংখ্যা আর বাড়ছে হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যা। পরিবারকে দুমুঠো অন্ন আর অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন করতে যোগ দিতে বিভিন্ন পেশায়। এদের মধ্যে অনেক শিশুই ঝুঁকির্পূণ পেশায় নিয়োজিত।

শিশু শ্রম নিরসনে নেই কোন কার্যকর উদ্যোগ। আমাদের দেশে স্কুল পড়ুয়া শিশুদের বৃহৎ একটি অংশ বিদ্যালয়ে যায় না। প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারণে স্কুলে গমন করতে পারে না।অনেকেই বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও চালিয়ে যেতে পারেনা পড়ালেখা। অর্থাভাবে থেমে যায় পড়াশোনা।

পরিবারে অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে গিয়ে বিসর্জন দিতে হয় তার শিক্ষাজীবন। পরিবারকে সাহায্য করার জন্য অল্প বয়সেই কাজে নিযুক্ত হতে হয় অধিকাংশ শিশু। মাছের ভাড় শ্রমিক, ওয়ার্কশপের কারিগর,মিস্ত্রি, মাটি কাটা, রিকশা চালানো,গাড়ির হেলপার, ঠেলা গাড়ি-ভ্যানগাড়ি চালানো, হোটেলবয়সহ বিভিন্ন কাজে জড়িয়ে যাচ্ছে এসব কোমলমতি শিক্ষার্থী। শিশু শ্রম কমিয়ে আনতে হলে প্রয়োজন সুনির্দিষ্টভাবে আইনের প্রয়োগ এবং শিশুদের জন্য সুবেবস্থা।

মিয়ানমারে বিলুপ্ত মানবতা
                                  



সাম্প্রদায়িকতার আগুনে পুড়ছে মানবাধিকার
এম. এম. আবুজাফর:

দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন। বাতসে মানুষ পোড়া গন্ধ। জীবন্ত মানুষকে কোথাও ঘরের দরজা আটকে কোথাও প্রকাশ্যে শরীরে আগুন ধরিয়ে কোথাওবা দেহ থেকে মাথা কেটে হাতে ঝুলিয়ে উন্মত্ত উল্লাসে ফেঁটে পড়ছে মানুষ নামের পশুরা। এক বিভীষিকাময় নারকীয় দৃশ্য। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন সরকারের সেনাবাহিনীর এই বর্বর তম নিষ্ঠুরতায় ভূলুণ্ঠিত মানবাধিকার-ভূলুণ্ঠিত নোবেল পুরস্কারের মর্যাদা!মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে সে দেশের সশস্ত্র বাহিনী ও সাম্প্রদায়িক বৌদ্ধরা যেভাবে হত্যা লীলায় মেতে উঠেছে দূর এবং নিকট অতীতে তার কোনো নজির খুুঁজে পাওয়া যাবেনা।
গত ৯ অক্টোবর প্রশ্নবিদ্ধ ঘটনার অজুহাতে নিরীহ মুসলমানদের ওপর ফের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের যৌথ হামলা শুরু হয়েছে। মিয়ানমার সরকার ও উগ্র সাম্পদা্য়কি সংখ্যাগুরু বৌদ্ধরা একজোট হয়ে নভেম্বর মাসের প্রথম দিক থেকে মুসলমানদেরকে যেভাবে নারী-শিশু-কিশোর নির্বিশেষে হত্যা করে চলেছে তা বিশ্বের সকল নির্মমতা-নিষ্ঠুরতা-নৃশংসতার ইতিহাসকে ছাড়িয়ে গেছে। নির্বিচার হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, ও জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারার এমন বিভৎসতা বিশ্ববাসী  অতীতে আর অবলোকন করেনি।মিয়ানমারের বর্বর সেনা আর উগ্র সাম্প্রদায়িক বুদ্ধরা একজোট হয়ে হেনো কোনো বর্বরতা-নৃশংসতা-নিষ্ঠুরতা নেই যা তারা চালাচ্ছে না।গ্রামের পর গ্রাম রোহিঙ্গাদের সকল সহায় সম্পদ লুটপাটের পর পবিত্র মসজিদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাড়ি ঘর সহ সবকিছু আগুনে পুড়িয়ে ছাই করছে। পশুরা ইতিমধ্যে পুড়িয়ে মেরেছে জীবন্ত নারী-পুরুষ-শিশুদের।দেহ থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন করে জীবন্ত মানুষের দেহে দাহ্য  পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যা করে বিভৎস উল্লাস প্রকাশের মাধ্যমে শুধু অসংখ্য রোহিঙ্গাকেই নয় মানবতাকেই হত্যা করে চলেছে। ঘরবাড়ি ছাড়া করা হয়েছে লাখ লাখ মানুষকে। নিরুপায় হয়েই হতভাগ্য চরম বিপদাপন্নোব¯দায় অসহায় উৎকণ্ঠিত রোহিঙ্গা মুসলমানরা অনেক আশা নিয়েই ভ্রাতৃপ্রতিম বাংলাদেশে ছুটে আসছে প্রাণ বাঁচাতে একটু আশ্রয়ের জন্য! কিšদ বাংলাদেশ এই ভীত-সন্ত্রস্ত, আশ্রয়হীন, স্বদেশে পরবাসী এবং জাতিগত নির্মূলীকরণের শিকার রোহিঙ্গা মুসলিমদের এই দুর্দিনে এতটুকু অভয় ও আশ্রয়তো দিচ্ছেইনা উপরšদ তাদেকে তাদের জীবন হরণকারী হায়েনাদের হাতে  তুলে দিয়ে যেনো হত্যায় সহযোগীর ভূমিকা পালন করে চলেছে। ঐ আরাকানি রোহিঙ্গা আদম সন্তানদের এই চরম বিপন্নতা দেখে জাতিসংঘ সহ প্রথমসারির প্রভাবশালী মানবাধিকার সং¯দা গুলো  সীমান্ত খুলে দিয়ে  রোহিঙ্গাদের জীবন রক্ষা করতে আহ্বান জানানো সত্বেও দসঙ্গত(?)কারণে তাতে সাড়া দিতে পারছেনা বাংলাদেশ সরকার। দুই রাষ্ট্রের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ডুকরে কাঁদছে নারী-শিশু আর বিপন্ন মানবতা ও মানবাধিকার।
রোহিঙ্গা মুসলমান জনগোষ্ঠীকে চূড়ান্তভাবে নির্মূল করার দুরভিসন্ধি নিয়ে শরু করে অপারেশন পাই থায়া’  নামে নিষ্ঠুর অভিযান। এতে সহ¯্রাধিক রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যা করা হয়। উগ্র-সাম্প্রদায়িক বৌদ্ধরা মুসলমানদের গ্রামগুলো নির্বিচারে আগুনে পোড়াতে থাকে মিয়ানমারের বর্ণবাদী সাম্প্রদায়িক সরকার ও সন্ত্রাসী  উগ্র বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর যে নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে তা নিশ্চিতই চরম মানবাধিকার লংঘন এবং মানবতা বিরোধী অপরাধ।
খসে পড়েছে সুচির মুখোশ
মানবাধিকার নিয়ে আগে কথায় কথায় সামরিক জান্তাদের দোষারোপ করলেও ক্ষমতায় আসার পর পারস্পারিক যোগ সাজসে রোহিঙ্গা নির্মূলে মুখে কুলুপ এটে থাকলেও যখন মলয়েশিয়া সহ বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন এর প্রতিবাদ এবং নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেয়ার জোর দাবী ওঠায় তার বক্তব্যের মাধ্যমে মানবাধিকার ও শান্তিবাদীতার মুখোস খসে তার লুকানো কুৎসিৎ স্বৈরাচারী ও চরম বর্ণবাদী চেহারা উন্মোচিত হয়ে পড়েছে। সুচিকে প্রদত্ত নোবেল প্রত্যাহার দাবীর আবেদন ওয়েবসাইটে আশ্রয় দানের আহ্বান। মিয়ানমারে রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নারকীয় হত্যাযজ্ঞ বন্ধে জাতিসংঘকে প্রয়োজনীয় ব্যব¯দা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি সহ দেশী বিদেশী রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক দল ও সংগঠন গুলো। তাদের দাবী চরম বিপদগ্র¯দ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হোক।প্রয়োজনে দেশবাসী সহ বিশ্ববাসী সাধ্যমত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে।
দেশের জনগনের হৃদয়ে রক্ত ঝরলেও এ দেশের সসরকারের মাঝে সঙ্গত কারনে এনিয়ে নেই তেমন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া! বন-জঙ্গল, সাগর পেরিয়ে বাঁচার আশায় মরিয়া হয়ে সীমান্তে ছুটে আসা রোহিঙ্গা মুসলিম নারী-শিশুদের ‘অবৈধ প্রবেশ’ ঠেকানোর অজুহাতে মিয়ানমারের সেই শকুন সেনাদের হাতেই তুলে দিয়ে হতভাগ্যদের মৃত্যু নিশ্চত করে  আমরা অসাম্প্রদায়িক তাই প্রমান করছি কি?নাকি উদ্বাস্তু রোহিঙ্গারা মুসলমান, এটাই তাদের অপরাধ! ৬০ এর দশকে যদি ভিয়েতনাম  যুদ্ধের সময় হাজার হাজার মাইল দূরের দেশ হয়েও যুদ্ধের প্রতিবাদে ভিয়েতনামীদের পক্ষে ঢাকার রাজপথ কাঁপিয়ে মানবতার স্বার্থে ঢাকার রাজপথে গান গেয়ে টাকা তুলে ভিয়েতনামের নির্যাতিত মানুষের জন্য পাঠাতে পেরেছি-তবে কেনো বাড়ির পাশের দেশ মিয়ানমার- হাজার হাজার বছরের আত্মিক সম্পর্ক যাদের সাথে সেই রোহিঙ্গা মুসলিমদের কাতরতা, বিপন্নতা আমাদের হৃদয়কে স্পর্শ করছে না? কেনো তাদের একটু আশ্রয় দিয়ে তাদের জীবন বাঁচাতে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছিনা? আমরা কি সেই বাঙ্গালী যারা ৭১ এ ভারতের মাটিতে আশ্রয় নিয়ে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি! আমরা কি সেই জাতি যারা পাকিস্তানী সেনাদের দ্বারা যে পরিমাণ নির্যাতনের শিকার হয়ে হাতে অস্ত্র তুলে নিয়ছিলাম! তার থেকে সহ¯্র গুণ বর্বরতা ও হিং¯্রতার শিকার রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয়তো দিচ্ছিইনা উপরšদ মিয়ানমারের রক্ত পিপাসু সেনাদের হাতে তুলে দিয়ে নির্দোষ পুরুষ নারী শিশুদের হত্যাযজ্ঞে সহায়তা করে আমাদের কোন ধরনের বৈশিষ্ট প্রদর্শন করছি? এতে কি মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম জাতিগোষ্ঠী নির্মূলে ষে ভয়াবহ মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে তার দায়ভার কি অজ্ঞানে স্বজ্ঞানে কিছুনাকিছু দায় এক সময় নিতেই হবে। ইতিহাস কখনো দায় মুক্তি দেয়না-কাওকে ক্ষমাও করে না। শুধু সমযের অপেক্ষা মাত্র। সুচিকে প্রদত্ত নোবেল প্রত্যাহারের আহবান।
পুরস্কারের প্রবর্তক আলফ্রেদ নোবেলের আত্মায় কষ্ট পাচ্ছে।আর এই পৃথিবীর মানুষগুলো নোবেল পুরস্কারের প্রতি শ্রদ্ধা হারাচ্ছে।প্রখ্যাত রসায়নবিদ আলফ্রেদ নোবেল যে উদেশ্য তার সুবিশাল ধন ভান্ডার উইল করে নোবেল ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন অসাম্প্রদায়িক মানুষের মতে অং সান সুচি‘কে নোবেল দেয়ার মাধ্যমে তা ব্যহত হয়েছে। আজ যদি মহাত্মা আলফ্রেদ নোবেল বেঁচে থাকতেন তাহলে সুচির মত হায়েনাকে এ পুরস্কার দেয়ায় ব্যাথিত হয়ে তিনি নোবেল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা না করে ঐ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের কল্যাণে আর রাক্ষসী সুচি‘র মত রক্তপিপাসুদের বিরুদ্ধে ব্যয় করতেন। নোবেল পুরস্কারের মর্যাদা রক্ষার্থে নোবেল কমিটি অব দি নরওয়েজিয়ান পার্লামেন্টের উচিৎ অবিলম্বে অং সান সুচিকে দেয়া পুরস্কার প্রত্যাহার পুর্বক নোবেলের আত্মার শান্তির ব্যব¯দা করা।
সুচির নোবেল। প্রত্যাহারের আবেদন ওয়েবসাইটে:
এদিকে  সুচির নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহারের দাবি ক্রমাগত জোরালো হচ্ছে।ইতিমধ্যে ‘পিটিশন ওয়েবসাইট চেঞ্জ ডট ওআরজিদ নামে এক ওয়েব সাইটে জমা হচ্ছে তার পুরস্কার প্রত্যাহারের দাবির একের পর এক আবেদন।নরওয়ের নোবেল কমিটির কাছে পিটিশনটি উপ¯দাপন করতে হলে অন্তত দেড় লাখ স্বাক্ষর প্রয়োজন।ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় সংখ্যকের চেয়ে ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারনা করা হ্চ্ছে।এছাড়াও রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যার প্রতিবাদে সু চির বিরুদ্ধে খোলা হচ্ছে নতুন নতুন পিটিশন। চলছে স্বাক্ষর সংগ্রহ। উল্লেখ্য, ২০১২ সালে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে তার ভূমিকার প্রতিবাদে শান্তিতে পাওয়া তার নোবেল পুরস্কার বাতিলের এই ক্যাম্পেইন শুরু হয়।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দিয়ে পুশব্যাক করায় ক্ষুদ্ধ দেশবাসী
রোহিঙ্গারা তাহলে যাবে কোথায়? কে তাদের আশা-ভরসা দেবে, কে আশ্রয় দেবে, নিরাপত্তা,তারা কি এভাবে নিঃশেষ ও নির্মূল হয়ে যাবে? এসব প্রশ্নের জবাব বিশ্ববিবেকের কাছে নেই। বিশ্ববিবেক অথর্ব, নীরব।দেশের জনগনের হৃদয়ে রক্ত ঝরলেও এ দেশের সরকারের মাঝে সঙ্গত(?) কারনে এনিয়ে নেই কোন প্রতিক্রিয়া। দীর্ঘ বিলম্বে দায়সারা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া জানালেও  বন-জঙ্গল, সাগর পেরিয়ে বাঁচার আশায় মরিয়া হয়ে সীমান্তে ছুটে আসা রোহিঙ্গা মুসলিম নারী-শিশুদেরকে ‘অবৈধ প্রবেশ’ ঠেকানোর অজুহাতে মিয়ানমারের সেই শকুন সেনাদের হাতেই তুলে দিয়ে হতভাগ্যদের মৃত্যু নিশ্চত করে  আমরাযে অসাম্প্রদায়িক তা প্রমান করছি। উদ্বাস্তু রোহিঙ্গারা মুসলমান, এটাই কি তাদের অপরাধ? আমরা বাঙ্গালীরা যদি ভিয়েতনাম  যুদ্ধে হাজার হাজার মাইল দূরের দেশ হয়েও ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রতিবাদে ভিয়েতনামীদের পক্ষে ঢাকার রাজপথ কাঁপিয়ে মানবতার স্বার্থে ঢাকার রাজপথে গান গেয়ে টাকা তুলে ভিয়েতনামের নির্যাতিত মানুষের জন্য পাঠাতে পেরেছি-তবে কেনো বাড়ির পাশের দেশ মিয়ানমার- হাজার হাজার বছরের আত্মিক সম্পর্ক যাদের সাথে সেই রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিপন্নতা আমাদের হৃদয়কে স্পর্শ করছে না? কেনো তাদের একটু আশ্রয় দিয়ে তাদের জীবন বাঁচাতে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছিনা? আমরা কি সেই বাঙ্গালী যারা ৭১ এ ভারতের মাটিতে আশ্রয় নিয়ে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি! আমরা কি সেই জাতি যারা পাকিস্তানী সেনাদের দ্বারা যে পরিমাণ নির্যাতনের শিকার হয়ে হাতে অস্ত্র তুলে নিয়ছিলাম! তার থেকে সহ¯্র গুণ বর্বরতা ও হিংস্রতার শিকার রোহিঙ্গারা অথচ তাদেরকে আশ্রয়তো দিচ্ছিইনা উপরšদ পুশব্যাকের নামে মিয়ানমারের রক্ত পিপাসু সেনাদের হাতে তুলে দিয়ে নির্দোষ পুরুষ নারী শিশুদের হত্যাযজ্ঞে সহায়তা করে আমাদের কোন ধরনের বৈশিষ্ট প্রদর্শন করছি?এতে কি মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম জাতিগোষ্ঠী নির্মূলে ষে ভয়াবহ মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে তার দায়ভার কিšদ এক সময় নিতেই হবে।ইতিহাস কখনো দায় মুক্তি দেয়না-কাওকে ক্ষমাও করে না। শুধু সমযের অপেক্ষা মাত্র।
বিস্ময়কর এই যে, বাংলাদেশসহ অন্যান্য প্রতিবেশী দেশ রোহিঙ্গাদের এই নিষ্ঠুর  নিপীড়ন-নির্যাতন ও নির্মূলীকরণ নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করছে না, তাদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে না। জাতিসংঘ, ওআইসি, সার্ক, আসিয়ান, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ রাষ্ট্রসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, সউদী আরবসহ প্রভাবশালী রাষ্ট্রসমূহ কার্যত নীরবতা পালন করে যাচ্ছে। না হয় যৎসামান্য যা কিছু বলছে, তা লোক দেখানো ছাড়া কিছুই নয়। এসব কথার কোনো পাত্তা দিচ্ছে না মিয়ানমার। এই কথিত সভ্যতাগর্বী বিশ্বে সকলের চোখের সামনে একটি সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জাতিকে দেশহীন, নাগরিক পরিচয়হীন করে নির্মম কায়দায় নির্মূলীকরণ, নিশ্চিহ্নকরণ জোরদার করা হয়েছে। মিয়ানমারের সামরিক যান্তা সরকার বছরের পর বছর ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর যে অকথ্য ও দুর্বিষহ আচরণ এবং জুলুম-পীড়ন চালিয়ে আসছিল,আশা করা হয়েছিল অংসান সুচির গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে সে পরি¯িদতির পরিবর্তন হবে, রোহিঙ্গারা তাদের হৃত অধিকার ফিরে পাবে, নিরাপত্তা পাবে, উন্নয়ন ও আত্মবিকাশের সুযোগ লাভ করবে।সেই সরকারের প্রকৃত প্রধান হয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া অং সান সুচি। কিšদ এখন দেখা যাচ্ছে, সামরিক জান্তা সরকারের চেয়েও সুচির গণতান্ত্রিক সরকার অনেক বেশি নিষ্ঠুর, সাম্প্রদায়িক ও অমানবিক। সর্বশেষ ২০১২ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গারা হত্যা-নির্যাতন, উৎখাত-বিতাড়নের শিকার হয়েছিল। তখনো ব্যাপকভাবে হত্যা, গ্রেফতার, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, বিতাড়নের ঘটনা ঘটেছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, এখনকার পরি¯িদতি ২০১২ সালের চেয়ে নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতার মাত্রা তখনকার চেয়ে এখন অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত।
সঙ্গত ভাবেই প্রশ্ন এসে যায় রোহিঙ্গারা কি এভাবেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে? কথিত মানবতাবাদী-বিবেকবাদী বিশ্ব কি তাদের জন্য কিছুই করবে না? তাদের নিজভূমে প্রতিষ্ঠিত ও নিরাপদ করতে উদ্যোগী হবেনা? তবে কেন বিশ্বে রয়েছে রাষ্ট্রসংঘ, মানবতার ধ্বজাধারী রাষ্ট্রসমূহ এবং মানবতাবাদী সং¯দা ও সংগঠন? রোহিঙ্গাদের ‘অপরাধ’ কি এই যে, তারা মুসলমান এবং একটি দেশে সংখ্যালঘু?বাংলাদেশ সহ পার্শ্ববর্তি দেশগুলো, রাষ্ট্রসংঘ এবং প্রভাবশালী মানবাধিকার সং¯দা ও সংগঠন।যুক্তিগত কথা বলতে গেলে বলতে হয় মিয়ানমারের নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকা জোরদার হোলে,এভাবে নির্বিচার পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ চালাতে পারতোনা সুচি বাহিনী।শেষাবধি সরকারের  নিরবতায় জনমত বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠলে দায়সারা গোছের নড়েচড়ে বসেছে।জানিয়েছে কড়া প্রতিবাদ। সরকার রোহিঙ্গাদের প্রতি সদয় হতো,একটু আশ্রয় দিতো তাহলে নৃশংস হত্যার শিকার হতোনা।বেঁচে যেতো নিস্পাপ শিশু সহ অগণিত অসহায় আদম সন্তানের প্রাণ। প্রতিবেশী দেশগুলো চলমান পরি¯িদতির অবসানে মানবাধিকার হরণকারী সুচি সরকারের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকায় এগিয়ে আসা একান্ত উচিৎ ছিলো অনেক আগেই তাহলে আনর্জাতিক মহলও এগিয়ে আসতো। এক্ষেত্রে হিন্দু-মুসলিম নয়, নয় সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু এখানে বিপন্ন মানুষ,মানবতা ও মানবাধিকারকে বাঁচাতে হবে এই চেতনা নিয়ে শক্ত ভাবে এগিয়ে এলে বেঁচে যেতে পারে একটি জাতিগোষ্ঠী। রোহিঙ্গাদের রক্ষা ও অবিলম্বে গণহত্যা বন্ধ করতে  মিয়ানমারের উপর প্রচ-  চাপ সৃষ্টি জরুরী।জাতিসংঘ, বিশ্বসং¯দা, প্রভাবশালী দেশসমূহ এবং বিশেষ করে ইসলামী বিশ্বকে এ ব্যাপারে ত্বরিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের আহ্বান জানাই, এটাই শান্তিপ্রিয়,মানবতাবাদী মানুষ ও মানবাধিকার কর্মীরা আশা করে। এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সং¯দার বাংলাদেশ শাখার কর্মকর্তা জন ম্যাককিসিক বলেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, তারা জাতিগত নির্মূলের লক্ষ্যে অভিযান শুরু করেছে।

অধিকারের মাসিক প্রতিবেদন
                                  

দুদক কর্মকর্তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের দাবি

গুম এবং হত্যার ব্যাপারে সরকারকে ব্যাখ্যা দিতে হবে –অধিকার

 

সংবাদ মাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারি দলের ব্যাপক অনিয়ম, ধরে নিয়ে যাওয়ার পর গুম করার অভিযোগ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, বাঁশখালীর গ-ামারা এলাকাবাসীর ওপর হামলা ও হয়রানি অব্যাহত, আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আইনবহির্ভূত আচরণ, গণপিটুনীতে মানুষ হত্যা অব্যাহত, সীমান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাগরিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘন, নারীর প্রতি সহিংসতা, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মে মাসের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অধিকার। এটি মুলত জুনের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছে।

 

 

মানবাধিকার খবর ডেস্ক:

 

অধিকার মনে করে ‘গণতন্ত্র’ মানে নিছক  নির্বাচন নয়, রাষ্ট্র গঠনের-প্রক্রিয়া ও ভিত্তি নির্মাণের গোড়া থেকেই জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায় নিশ্চিত করা জরুরি। সেটা নিশ্চিত না করে যাত্রা শুরু করলে তার কুফল জনগণকে বয়ে বেড়াতে হয়। রাষ্ট্র পরিচালনার সমস্ত ক্ষেত্রে জনগণ নিজেদের ‘নাগরিক’ হিসেবে ভাবতে ও অংশগ্রহণ করতে না শিখলে সরকার ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা হিসেবে ‘গণতন্ত্র’ গড়ে ওঠে না। নাগরিক হিসেবে নিজেদের ইচ্ছা ও অভিপ্রায় এবং মানবিক চাহিদা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শাসন ব্যবস্থার নি¤œ স্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত জনগণের অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্ত নেবার ব্যবস্থা গড়ে না উঠলে তাকে ‘গণতন্ত্র’ বলা যায় না। অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্ত নেবার প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে নিজের অধিকার ও দায় সম্পর্কে নাগরিকদের উপলব্ধি ঘটে এবং তার মধ্যে দিয়েই অপরের অধিকার এবং নিজেদের সমষ্টিগত স্বার্থ ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়া ও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়। এর কোন বিকল্প নাই। জনগণের সামষ্টিক ইচ্ছা ও অভিপ্রায় যে মৌলিক নাগরিক ও মানবিক অধিকারকে রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে সংসদের কোন আইন, বিচার বিভাগীয় কোন রায় বা নির্বাহী কোন আদেশের বলে সেই সমস্ত অধিকার রহিত করা যায় না। তাদের অলঙ্ঘনীয়তাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

ব্যক্তির মর্যাদা অলঙ্ঘনীয়। প্রাণ, পরিবেশ ও জীবিকার নিশ্চয়তা বিধান করা ছাড়া রাষ্ট্র নিজের ন্যায্যতা নাগরিকদের কাছে প্রমাণ করতে পারে না। বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীদের গণভিত্তিক সংগঠন অধিকার ব্যক্তির মর্যাদা সমুন্নত রাখবার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সমস্ত মানবিক ও নাগরিক অধিকার এবং দায়িত্ব রক্ষা ও পালনের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের মানদ- ঐতিহাসিক লড়াই-সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে মানবেতিহাস অর্জন করেছে এবং এইসব নাগরিক ও মানবিক অধিকারের সার্বজনীনতা নানান আন্তর্জাতিক ঘোষণা, সনদ ও চুক্তির মধ্যে দিয়ে আজ বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এই কারণে অধিকার বাংলাদেশের মানবাধিকার আন্দোলনকে নিছকই রাষ্ট্রের হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ‘ব্যক্তি’কে রক্ষার ব্যাপার মাত্র বলে মনে করে না; বরং ব্যক্তির নাগরিক ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াইকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলন ও সংগ্রামের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য বলে মনে করে। এই লক্ষ্য নিয়েই অধিকার বাংলাদেশের জনগণের নাগরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষায় মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। চরম রাষ্ট্রীয় হয়রানি ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যে থেকেও অধিকার ২০১৬ সালের মে মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করলো।

 

সংবাদ মাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ:

১.  মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সরকার কঠোরভাবে দমন করছে। সংবাদ মাধ্যমের ওপর সরকারি হস্তক্ষেপের জন্য আইন প্রণয়ন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা ও দীর্ঘদিন কারাগারে আটক রাখার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। অপরদিকে জেল-জরিমানার বিধান রেখে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিকরণ অপরাধ আইন ২০১৬ নামে নিবর্তনমূলক আরেকটি আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে এবং বেসরকারী সংস্থা (এনজিও)’র ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিধান রেখে বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম) রেগুলেশন বিল ২০১৬ চূড়ান্ত করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, যা মতপ্রকাশের ও সংগঠনের ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করবে। পত্রিকা বন্ধের বিধান অন্তর্ভুক্ত করে প্রেস কাউন্সিল আইন (সংশোধন) এর খসড়াও চূড়ান্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ব্যাপকভাবে সরকারি নজরদারী বলবৎ রয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের সমালোচনাকারীসহ সরকারের বিরুদ্ধে যায় এমন যে কোন তথ্য প্রকাশের ফলশ্রুতিতে নিবর্তনমূলক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০০৯ ও ২০১৩) প্রয়োগ করা হচ্ছে।

 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিকরণ অপরাধ আইন ২০১৬ এর খসড়া:

২.  আইন কমিশন ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিকরণ অপরাধ আইন ২০১৬’ নামে নিবর্তনমূলক আরেকটি আইনের প্রস্তুতকৃত খসড়ার ওপর মতামত দিয়ে সেটি সরকারের কাছে উপস্থাপন করেছে। এই খসড়া আইনে বলা আছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রচারিত বা প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধের দলিল এবং ওই সময়ের যেকোনো ধরণের প্রকাশনার অপব্যাখ্যা বা অবমূল্যায়ন অপরাধ বলে গণ্য হবে। খসড়ায় মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপ্তি ধরা হয়েছে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর। প্রস্তাবিত আইনের দ্বিতীয় উপদফা বলছে, ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যবর্তী সময়ের ‘ঘটনাসমূহ’ অস্বীকার করা হবে অপরাধ। কিন্তু সেই ঘটনাসমূহ কী, তার কোনো ব্যাখ্যা বা আলোচনা সেই আইনে নেই। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ যেখানে শুরু হয়েছিলো ২৫ শে মার্চ মধ্যরাত থেকে সেখানে ১ লা মার্চ থেকে কেন বলা হচ্ছে তারও কোন ব্যাখ্যা নেই। এর মানে হলো, পুলিশ এবং অভিযোগকারীরা কোনটি ‘ঘটনা’ আর কোনটি ‘বিকৃতি’, তা অনুমান করে নেবে। প্রস্তাবিত এই আইনের খসড়ার ৬(১) ধারায় বলা আছে, ‘কাহাকেও প্ররোচনা দিলে বা কোনরুপ সাহায্য করিলে বা কাহারও সহিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হইলে, অথবা এতদুদ্দেশ্যে কোনো উদ্যোগ বা প্রচেষ্টা গ্রহণ করিলে, ওই ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য ধার্যকৃত দ-ের সমপরিমাণ দ-ে দ-িত হইবে’। এই আইনে যে কেউ থানায় মামলা করতে পারবেন। আইনে পাঁচ বছরের জেল ছাড়াও কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান থাকছে। এই আইনে করা মামলায় সংক্ষিপ্ত ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযোগের অনুসন্ধান, তদন্ত ও বিচারের নির্দেশনা রয়েছে।

 

৩.  ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিকরণ অপরাধ আইন ২০১৬ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বস্তুনিষ্ঠ গবেষণার ক্ষেত্রে অন্তরায় ও মুক্তচিন্তার পথে বাধা হয়ে উঠবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। ১৯৭১ এর নয় মাসের প্রতিটি ঘটনার সমর্থনে দালালিক প্রমাণ নেই; যা অনেক সময় ভুক্তভোগী বা সরাসরি ঘটনায় অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হয়। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধে কয়েকটি রাজনৈতিক ধারার সরাসরি অংশগ্রহণ ছিল; যার মধ্যে শুধুমাত্র একটিকে বেছে নেয়া হবে সরকার মনোনীত একটিমাত্র ধারাকে স্বীকৃতি দেয়া এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অন্য ধারাগুলোর অবদানকে অস্বীকার করা। এই সব বিষয় নিয়ে মতপ্রকাশ বা গবেষণা করতে গেলে এই আইন তার অন্তরায় হয়ে উঠতে পারে এবং রাজনৈতিকভাবে তা অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সর্ম্পকিত কোনো নতুন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে কোনো লেখা, মত প্রকাশ বা মন্তব্য করা অথবা নতুনভাবে কোনো বিষয়কে ব্যাখ্যা করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। এই আইনে যে কেউ মামলা করার বিধান থাকায় মামলার সংখ্যা ভবিষ্যতে কীরকম হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। এই আইন পাশ হলে তা হবে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ সংবিধানে চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা আছে।

 

বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)’র ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিধান রেখে বিল চূড়ান্ত:

৪.  গত ১৮ মে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)’র ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিধান রেখে বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম) রেগুলেশন বিল ২০১৬ চূড়ান্ত করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এই বিলে কোন এনজিও বা এনজিওর কর্মকর্তা সংবিধান বা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিরূপ বা অশোভন কোন মন্তব্য করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। সংসদ, বিচার বিভাগ, আইন কমিশন, নির্বাচন কমিশন ও এ্যাটর্নি জেনারেল সম্পর্কে বিরূপ বা অশোভন মন্তব্য করা হয়েছে এই মর্মে সরকারের কাছে প্রতীয়মান হলে এই প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী এনজিও’র নিবন্ধন বাতিল বা স্থগিত করা যাবে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২ জুন ‘বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম) রেগুলেশন আইন ২০১৪’-এর খসড়া আইনকে অনুমোদন দেয় মন্ত্রীসভা। যা আবারো যাচাই-বাছাই করে বিল আকারে এটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

 

৫.  অধিকার মনে করে, এই বিলটি আইন হিসেবে পাশ হলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আরো সঙ্কুচিত হবে এবং বেসরকারী সংস্থাগুলোকে আরো ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হবে। এই বিলটি আইন হিসেবে কার্যকরী হলে মানবাধিকার সংস্থা ও নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন সংস্থাগুলোর কণ্ঠরোধ করা হবে এবং তাদের নিশ্চিহ্ন করে ফেলার পরিবেশ তৈরি হবে বলে অধিকার আশঙ্কা করছে।

 

পত্রিকা বন্ধের বিধান অন্তর্ভুক্ত করে প্রেস কাউন্সিল আইন (সংশোধন) ২০১৬ এর খসড়া চূড়ান্ত:

৬.  প্রেস কাউন্সিলের রায় বা আদেশ অমান্য করলে কোনো সংবাদপত্র বা সংবাদ সংস্থার প্রকাশনা সর্বোচ্চ তিন দিন বন্ধ অথবা পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রেখে প্রেস কাউন্সিল আইন (সংশোধন) ২০১৬ এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে প্রেস কাউন্সিল। সংবাদ মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকার নতুন নতুন সব আইন তৈরী করছে বলে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন। এর আগে জেল-জরিমানার বিধান রেখে নিবর্তনমূলক ‘জাতীয় সম্প্রচার আইন’ ২০১৬ এর খসড়া প্রকাশ করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। এই ‘জাতীয় সম্প্রচার আইন’ এর বিধিবিধান বা প্রবিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদ- এবং কমপক্ষে পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ- দেয়া যাবে।

 

র‌্যাবের নজরদারীতে সোশ্যাল মিডিয়া:

৭.  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নজরদারী করার জন্য র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এর জন্য ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ‘¯œ্যাপট্রেন্ডস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে একটি সফটওয়্যার আনা হয়েছে। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, গুগল প্লাস, ইউটিউব ও ওয়ার্ডপ্রেসসহ সব ধরনের ব্লগের তথ্য র‌্যাব সংগ্রহ করতে পারবে এবং যে সব পোস্ট সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষে ‘ক্ষতিকর’ মনে করা হবে সেসব পোস্টের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে সরকার।

 

৮.  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০০৯ এবং ২০১৩) এখনো বলবৎ আছে। ফেসবুকে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবার এর বিরুদ্ধে লেখার জন্য নিবর্তনমূলক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০০৯ এবং ২০১৩) ব্যবহার করে ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৭ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

সাংবাদিকদের ওপর হামলা:

৯.  অধিকার এর সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী মে মাসে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ৬ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

১০. অধিকার দেশের নাগরিকদের মত প্রকাশ ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। অধিকার মনে করে কোন নাগরিকের মতামত সরকারের বিপক্ষে গেলেই তাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে গ্রেফতার বা হয়রানি করা হচ্ছে। অধিকার জেলে আটক প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত স¤পাদক মাহমুদুর রহমান এবং বিএফইউজের সভাপতি শওকত মাহমুদ এর অবিলম্বে মুক্তি দাবি করছে। অধিকার অবিলম্বে নিবর্তনমূলক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০০৯ ও ২০১৩) বাতিলের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছে এবং প্রস্তাবিত নিবর্তনমূলক ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিকরণ অপরাধ আইন’ ‘জাতীয় সম্প্রচার আইন’, প্রেস কাউন্সিল আইন এবং বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম) রেগুলেশন বিল ২০১৬ এর ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়াকে নজরদারীর মধ্যে আনার ব্যাপারে সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে আরো সঙ্কুচিত করবে বলে অধিকার আশংকা প্রকাশ করছে।

 

রাজনৈতিক সহিংসতা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারিদলের ব্যাপক অনিয়ম অব্যাহত

 

রাজনৈতিক সহিংসতা:

১১.  অধিকার এর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মে মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় কমপক্ষে ৫১ জন নিহত ও ১৫৬৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় ৪৫ জন নিহত ও ১৪৮৫ জন আহত হয়েছেন। এই মাসে আওয়ামী লীগের ৩৪টি এবং বিএনপি’র ৫টি অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ৬ জন ও বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। একই সময়ে অভ্যন্তরীণ সংঘাতে আওয়ামী লীগের ৪৮৪ জন এবং বিএনপি’র ৪৮ জন আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

১২.  রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত আছেই। দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা আরো তীব্র আকার ধারন করেছে এবং তা দেশের গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ না থেকে প্রতারণামূলক ও বিতর্কিত নির্বাচন করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার চেষ্টার কারণে ক্ষমতাসীনদলের নেতাকর্মীরা একরকম বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে এবং সারাদেশে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের মধ্যে দিয়ে তা ফুটে উঠেছে। তারা বিরোধীদলের নেতাকর্মী, সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ জনগণের ওপর হামলা করছে এবং নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন অন্যায় স্বার্থ হাসিলকে কেন্দ্র করে অসংখ্য অন্তর্দলীয় কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছে। এই কোন্দলের কারণে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত হতে দেখা যাচ্ছে। এইসব বেশিরভাগ ঘটনায় সরকারিদলের নেতাকর্মীদের বিচারের আওতায় আনা যায়নি।

১৩. গত ৬ মে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান স্থল বন্দর পরিদর্শন ও একটি সমাবেশে যোগ দেয়ার জন্য ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলায় যাচ্ছিলেন। এই সময় মন্ত্রীকে অর্ভ্যথনা জানাতে পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম রাকিব হায়দার ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা ফেনী-পরশুরাম সড়কের ধনিকু-া এলাকায় অপেক্ষা করছিলেন। মন্ত্রী ঘটনাস্থলে আসার কিছুক্ষণ আগে ওই জায়গাতেই স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে মন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খায়রুল বাসার মজুমদার তপন ও তার সমর্থকরাও প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম রাকিব হায়দার ওই স্কুলের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খায়রুল বাসার মজুমদার তপনকে ‘সম্মান’ না করার কারণে তপন ও তার সমর্থকরা রাকিব হায়দারের ওপর হামলা করে তাকে শারীরিকভাবে জখম করে। রাকিব হায়দারকে তখন পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ইউএনও’র ওপর হামলার ঘটনায় ওই দিন বিকেলেই তার গাড়ি চালক আবুল কাশেম বাদি হয়ে জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ১০-১২ জনকে আসামী করে পরশুরাম থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওই মামলায় এজাহার নামীয় আসামী পরশুরাম পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও উপজেলা শ্রমিক লীগের আহাবায়ক আবদুল মান্নান, স্থানীয় যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন পারভেজ, ফারুক আহমদ, মো.  মহিউদ্দিন, আবু তৈয়ব মাসুদকে গ্রেপ্তার করেছে। গত ১১ মে ফেনীর দ্রুত বিচার আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালতে মামলার অন্যতম অভিযুক্ত জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি খাইরুল বাশার মজুমদার তপন, চিথলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন আতœসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে বিচারক অভিযুক্তদের জামিন নামঞ্জুর করে তাদের জেল হাজতে পাঠান।

 

প্রথম থেকে পঞ্চম ধাপ পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী সহিংসতায় ১১৫ জন নিহত:

১৪. ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরই নির্বাচনী সহিংসতা ব্যাপক আকার ধারণ করে; যা মনোয়নপত্র জমা দেয়া থেকে শুরু করে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত চলতে থাকে। অধিকারের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রথম থেকে পঞ্চম ধাপের নির্বাচনী সহিংসতায় মোট ১১৫ জন নিহত ও অন্ততপক্ষে ৪৯৫৩ জন আহত হয়েছেন।

১৫. ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির প্রতারণামূলক ও বিতর্কিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন, পৌরসভা নির্বাচন ও সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলো ছিল বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে কলংকিত নির্বাচন। গত ১১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন ছয়টি ধাপে মোট ৪২৭৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করে। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এই নির্বাচনে হত্যা, সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়া, জাল ভোট দেয়া, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনাগুলোর মাধ্যমে সরকার মনোনীত দলীয় প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণের ঘটনা অন্ততপক্ষে তিনগুন বেড়েছে এবং এর জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীদের দায়ী করেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ।

গত ৭ মে চতুর্থ ধাপে ৭০৩টি১০ ইউনিয়ন পরিষদের, ২৫ মে নয়টি পৌরসভায় এবং ২৮ মে পঞ্চম ধাপে ৭৩৩ টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে এবং ২৫ মে অনুষ্ঠিত নয়টি পৌরসভার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকদের কেন্দ্র দখল, প্রকাশ্যে জাল ভোট দেয়া ও হামলার মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে ঘুরিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। অসংখ্য ঘটনার মধ্যে নিচে মাত্র কয়েকটি উল্লেখ করা হলো।

 

চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন:

১৬.  রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের হাটগাঙ্গোপাড়া বাজারে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সরদার জান মোহাম্মদ ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শহীদুজ্জামান শহীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে সিদ্দিকুর রহমান নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার পাড়াতলী ইউনিয়নের মধ্যনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর আনুমানিক আড়াইটায় জাল ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জাকির হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে হোসেন আলী নামে এক ব্যক্তি নিহত ও ৩০ ব্যক্তি আহত হন। মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরের রামপাল ইউনিয়নের কাজী কসবা কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মিল্কীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের সমর্থক ও পুলিশের মধ্যে সহিসংতায় পুলিশের এসআই রবিউলসহ ১০ জন আহত হন। পুলিশ জানিয়েছে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা ওই দু’টি ভোট কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সহিসংতায় জড়িয়ে পড়ে। একই ইউনিয়নের পানাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঘুড়ি প্রতীকের মেম্বার পদ প্রার্থী আসাদুজ্জামানকে কুপিয়ে জখম করে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের কালডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে দুপুর আনুমানিক দু’টায় ভোট চলাকালে তালা প্রতীকের মেম্বার পদ প্রার্থী গিয়াসউদ্দিনের সমর্থকদের সঙ্গে অপর মেম্বার পদ প্রার্থী টিউবওয়েল প্রতীকের আলমের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রথমে রাবার বুলেট ব্যবহার করে এবং পরে গুলি চালায়। এই সময় গুলিতে ঘটনাস্থলে মাছখুরিয়া গ্রামের এইচ এস সি পরীক্ষার্থী মাহবুব হোসেন নিহত হন এবং আরো চারজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের মোমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আমিনুল ইসলাম আমিন ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ওমর আলীর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষই লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে। এই সময় হেদায়েত হোসেন নামে একজন গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন।১৭ ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের অলি নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুর্বৃত্তরা হামলা চালালে পুলিশ বাধা দেয়। এই সময় দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া শর্টগানের ছররা গুলিতে মোহাম্মদ ইয়াছিন নামে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের উত্তর সতর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে কাজী রাসেল, রফিকুল ইসলাম, বাবলু, মুসা মিয়া, আরাফাত, কবির মাস্টারসহ ৬ জন গুলিবিদ্ধ হন। ভোট শুরুর আগে শুভপুর ইউনিয়নের জগন্নাথ সোনাপুর কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই ইউপি মেম্বার পদ প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ইউপি মেম্বার পদ প্রার্থী শাহজাহান, তার স্ত্রী হোসনে আরা বেগম, শাহাদাত হোসেন, জয়নাল আবদীন, আমান উল্লাহসহ ৪ জন গুলিবিদ্ধ হন। ছাগলনাইয়ার ঘোপাল ইউনিয়নের নিজকুঞ্জরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আজিজুল হককে সরকার দলীয় সমর্থকরা পিটিয়ে আহত করে।

ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার হরিশংকরপুর ইউনিয়নের পানামি সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়, হরিশংকরপুর, সিতারামপুর কেন্দ্রে নৌকা প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ছিল না। হরিনাকুন্ডু উপজেলার শিতলী মান্দারতলা, ভাতুড়িয়া, কাপাশহাটিয়া, ঘোড়দা কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের নানাভাবে ভয় দেখানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। ভোটারদের পথে পথে বাধা দেয়ার ঘটনাও ঘটে। রঘুনাথপুর ইউনিয়নের ভবিতপুর কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এই কেন্দ্রে এক মহিলা ভোটার তার ভোট দিতে এসে তা দিতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিত্যানন্দপুর, পোড়াহাটি ও আড়–য়াকান্দি কেন্দ্রে ব্যাপক হারে জাল ভোট দিতে দেখা গেছে। চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার চিকনদন্ডী ইউপির নন্দিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সকাল আনুমানিক ১০. ৩০ টায় এলাকার ২০/৩০ জন যুবক প্রকাশ্যে গুলি ছুঁড়ে ভোটারদের ছত্রভঙ্গ করে ভোটকেন্দ্র দখল করে নিয়ে পুলিশের সহায়তায় জালভোট দিতে থাকে। একই উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের সময় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেট চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন রনি ও হাটহাজারী উপজেলা আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরেফুর রহমানকে পিস্তলসহ আটক করেন। একই উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল আনুমানিক ১১. ০০ টায় কোন ভোটার ছিল না। আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগ এই কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেয় । সকাল আনুমানিক ১০ . ০০ টা থেকে ১১ . ০০ টা পর্যন্ত ফতেপুর লতিফ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষের কারণে ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সুভাষ চন্দ্র জানান, দুবৃর্ত্তরা হামলা চালিয়ে ব্যালট পেপার ও সিল ছিনতাইয়ের কারণে ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল।

 

৯টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত:

১৭. গত ২৫ মে নরসিংদী জেলার ঘোড়াশাল ও রায়পুরা, লক্ষীপুর জেলার সদর, ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার কসবা, নোয়াখালী জেলার সদর ও সেনবাগ, ফেনী জেলার ছাগালনাইয়া, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ এবং খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়সহ মোট ৯টি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র দখল, জাল ভোট দেয়া ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। লক্ষীপুর পৌরসভার অধিকাংশ কেন্দ্রে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম লিটনের কোনো এজেন্ট পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু তাহেরের সমর্থকরা তাঁদের বের করে দিয়ে জাল ভোট দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া পৌরসভায় সকালে ভোট গ্রহণের শুরুতেই বহিরাগতরা অধিকাংশ কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারে। আতংক ছড়াতে ভোর থেকেই ভোট কেন্দ্রের আশে পাশে হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ১০টি কেন্দ্রে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আলমগীরের কোনো এজেন্টকে ঢুকতে দেয়নি সরকার সমর্থকরা। ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার কসবা পৌরসভায় কসবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে প্রকাশ্যে সিল মারার অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া কসবা বালক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে কযেকজন ভোটার অভিযোগ করেন, পোলিং অফিসার শুধু কাউন্সিলারের ব্যালট পেপার দিয়েছেন। মেয়র পদের ব্যালট পেপারে আগে থেকেই ক্ষমতাসীনদলের মনোনীত প্রার্থীর প্রতীকে সিল মারা ছিল।২১ কসবা সরকারি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুলিশ সদস্যদের সামনেই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকরা প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে সিল মারে। এই কেন্দ্রে সাংবাদিকরা প্রবেশ করতে চাইলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়।

 

পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন:

১৮. ব্যাপক সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ভোট ডাকাতি ও বর্জনের মধ্যে দিয়ে গত ২৮ মে ৫ম ধাপে ৭৩৩ টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনকালীন সহিংসতায় ২ জন প্রার্থীসহ অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৬’শ। এছাড়া ভোটগ্রহণকালীন সময়ে ৪৫ জন প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন। নির্বাচন বর্জনকারীদের মধ্যে ৩৮ জন বিএনপি, ২ জন আওয়ামী লীগ, ৪ জন স্বতন্ত্র ও ১ জন জাসদ সমর্থিত প্রার্থী রয়েছেন। ব্যাপক অনিয়ম, ভোটকারচুপি ও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সেনবাগ উপজেলায়। এইসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন বেগমগঞ্জ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৫টি ইউনিয়নের ৫৬টি কেন্দ্রে এবং সেনবাগ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ২৬টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করে। এছাড়া সহিংসতায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়নের দারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে সংঘর্ষ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাড়া খেয়ে সৈয়দ আহাম্মদ (৫৫) মাথা ও পেটে আঘাত পান এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। একই উপজেলার জীরতলী ইউনিয়নের কেবি উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের গুলিতে শাকিল আহমেদ (১৭) নামের এক পথচারি নিহত হন। কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ।

ভোট গ্রহণের দিন বেলা আনুমানিক ৩. ০০ টায় নাগেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের বাইরে এই ঘটনা ঘটে।২৮ জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের খুটারচর এবতেদায়ি মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্র দখল নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাকিরুজ্জামান রাখাল ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শাহজাহান মিয়ার সমর্থক ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এই সময় পুলিশ গুলি চালালে আব্দুল মাজেদ (১৪), জিয়াউর রহমান জিয়া (৩০), নুর ইসলাম (৬০) ও আলতাফ (৩২) নিহত হন।  অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের সবকটিতেই নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। মোগড়াপাড়া ইউনিয়নের মোগড়াপাড়া হাই স্কুল ভোটকেন্দ্রে পরাজিত মেম্বার পদ প্রার্থী প্রায় শতাধিক ব্যালট পেপার ছিঁড়ে ফেললে সেখানে সংঘর্ষ হয়। একই ইউনিয়নের কাবিলগঞ্জ ভোটকেন্দ্রে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুজনের নেতৃত্বে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করা হয়। এই সময় পুলিশ ৫ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। নোয়াগাঁও ইউনিয়নের লক্ষীবরদী এলাকায় দুইপক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় ইদ্রিস আলী (৭৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। ভোট গ্রহণের দিন সকাল আনুমানিক ১১. ৩০ টায় দুদঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে মেম্বার পদ প্রার্থীর ১শ পাতার একটি ব্যালট বই ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।৩০ বেলা আনুমানিক ১২. ০০ টায় চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার আশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের আসাদ আলী মাজার ভোটকেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে বাবুল শীল (৫৭) নিহত হন। বেলা আনুমানিক ১. ০০ টায় বড় উঠান ইউনিয়নের শাহমিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের পাশে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী দিদারুল আলম ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মান্নানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে হয়। এই সময় ওই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার পদ প্রার্থী মোহাম্মদ ইয়াসিন (৪১) ও রিক্সা চালক নুরুল ইসলাম (৫০) ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হওয়ার পর মোহাম্মদ ইয়াসিন ঘটনাস্থলেই এবং নুরুল ইসলাম হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান।

 

১৯.  বর্তমান সরকারের আমলে নির্বাচন ব্যবস্থায় যে ধরনের দুর্বৃত্তায়ন ঘটানো হয়েছে তাতে সম্পূর্ণ নির্বাচন ব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছে। ফলে জনগণ তাঁদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আওয়ামী লীগ বিরোধীদলে থাকাকালীন ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত সময়ে তাদের নেতৃত্বাধীন জোট ও জনগণের আন্দোলনের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজিত হয়। অথচ ২০১১ সালে কোন রকম গণভোট ছাড়াই এবং বিরোধীদলসহ বিভিন্ন মহলের ব্যাপক প্রতিবাদ উপেক্ষা করে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী যুক্ত করার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয় এবং দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার বিধান বলবৎ করা হয়। এরফলে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি’র প্রতারণামূলক ও বিতর্কিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক দলের বর্জন সত্ত্বেও অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনের মধ্যে দিয়েই শুরু হয় নির্বাচন ব্যবস্থার দুর্বৃত্তায়ন। এরপর থেকে অনুষ্ঠিত সবগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি, অনিয়ম ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এই দুবৃত্তায়নের ফলে দেশে ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন

মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের প্রতিবেদন
                                  

গুম রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের হাতিয়ার

মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন

মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা “অধিকার” ‘সংবাদ মাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা প্রদান,  রাজনৈতিক সহিংসতা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সরকারিদলের ব্যাপক অনিয়ম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, আটকের পর আটককৃতদের পায়ে গুলি করার প্রবণতা,  ধরে নিয়ে যাওয়ার পর গুম করার অভিযোগ, গণপিটুনীতে মানুষ হত্যা, সীমান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাগরিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘন, নারীর প্রতি সহিংসতা ও অধিকারের কর্মকা-ে বাধা প্রদানে’র বিষয়ে কিছুটা বিলম্ভে হলেও তাদের এপ্রিল মাসের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

 

 

 

মানবাধিকার খবর ডেস্ক :

 

প্রতিবেদনের শুরুতে বলা হয়, অধিকার মনে করে ‘গণতন্ত্র’ মানে নিছক নির্বাচন নয়, রাষ্ট্র গঠনের-প্রক্রিয়া ও ভিত্তি নির্মাণের গোড়া থেকেই জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায় নিশ্চিত করা জরুরি। সেটা নিশ্চিত না করে যাত্রা শুরু করলে তার কুফল জনগণকে বয়ে বেড়াতে হয়। রাষ্ট্র পরিচালনার সমস্ত ক্ষেত্রে জনগণ নিজেদের ‘নাগরিক’ হিসেবে ভাবতে ও অংশগ্রহণ করতে না শিখলে সরকার ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা হিসেবে ‘গণতন্ত্র’ গড়ে ওঠে না। নাগরিক হিসেবে নিজেদের ইচ্ছা ও অভিপ্রায় এবং মানবিক চাহিদা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শাসন ব্যবস্থার নি¤œ স্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত জনগণের অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্ত নেবার ব্যবস্থা গড়ে না উঠলে তাকে ‘গণতন্ত্র’ বলা যায় না। অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্ত নেবার প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে নিজের অধিকার ও দায় সম্পর্কে নাগরিকদের উপলব্ধি ঘটে এবং তার মধ্যে দিয়েই অপরের অধিকার এবং নিজেদের সমষ্টিগত স্বার্থ ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়া ও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়। এর কোন বিকল্প নাই। জনগণের সামষ্টিক ইচ্ছা ও অভিপ্রায় যে মৌলিক নাগরিক ও মানবিক অধিকারকে রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে সংসদের কোন আইন, বিচার বিভাগীয় কোন রায় বা নির্বাহী কোন আদেশের বলে সেই সমস্ত অধিকার রহিত করা যায় না। তাদের অলঙ্ঘনীয়তাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। ব্যক্তির মর্যাদা অলঙ্ঘনীয়। প্রাণ, পরিবেশ ও জীবিকার নিশ্চয়তা বিধান করা ছাড়া রাষ্ট্র নিজের ন্যায্যতা নাগরিকদের কাছে প্রমাণ করতে পারে না। বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীদের গণভিত্তিক সংগঠন অধিকার ব্যক্তির মর্যাদা সমুন্নত ২ রাখবার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সমস্ত মানবিক ও নাগরিক অধিকার এবং দায়িত্ব রক্ষা ও পালনের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের মানদ- ঐতিহাসিক লড়াই-সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে মানবেতিহাস অর্জন করেছে এবং এইসব নাগরিক ও মানবিক অধিকারের সার্বজনীনতা নানান আন্তর্জাতিক ঘোষণা, সনদ ও চুক্তির মধ্যে দিয়ে আজ বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই কারণে অধিকার বাংলাদেশের মানবাধিকার আন্দোলনকে নিছকই রাষ্ট্রের হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ‘ব্যক্তি’কে রক্ষার ব্যাপার মাত্র বলে মনে করে না; বরং ব্যক্তির নাগরিক ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াইকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলন ও সংগ্রামের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য বলে মনে করে। এই লক্ষ্য নিয়েই অধিকার বাংলাদেশের জনগণের নাগরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষায় মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। চরম রাষ্ট্রীয় হয়রানি ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যে থেকেও অধিকার ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করলো।

 

সংবাদ মাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা প্রদান চলছে :

১. মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সরকার কঠোরভাবে দমন করছে। সংবাদ মাধ্যমের ওপর সরকারি হস্তক্ষেপসহ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা ও দীর্ঘদিন কারাগারে আটক রাখার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। অপরদিকে জেল-জরিমানার বিধান রেখে নিবর্তনমূলক জাতীয় সম্প্রচার আইনের একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ব্যাপকভাবে সরকারি নজরদারী বলবৎ রয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের সমালোচনাকারীসহ সরকারের বিরুদ্ধে যায় এমন কোন তথ্য প্রকাশের ফলশ্রুতিতে নিবর্তনমূলক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০০৯ ও ২০১৩) প্রয়োগ করা হচ্ছে।

 

নিবর্তনকমূলক জাতীয় সম্প্রচার আইনের খসড়া প্রকাশ

২. গত ২০ এপ্রিল জেল-জরিমানার বিধান রেখে ‘জাতীয় সম্প্রচার আইন’ এর খসড়া নামে একটি নিবর্তনমূলক আইনের খসড়া প্রকাশ করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। এই ‘জাতীয় সম্প্রচার আইন’ এর বিধিবিধান বা প্রবিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদ- এবং কমপক্ষে পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ- দেয়া হবে। এরপরও সম্প্রচার আইনে অপরাধ চলতে থাকলে প্রতিদিনের জন্য অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হবে।১ এই আইন লঙ্ঘন করে সম্প্রচার মাধ্যম পরিচালনা করলে লাইসেন্স বাতিল ছাড়াও সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা জরিমানা করা যাবে বলে উল্লেখ রয়েছে এই খসড়াতে। প্রশাসনিক আদেশ বা নির্দেশে এই জরিমানা আদায় করা যাবে। তবে প্রশাসনিক আদেশ বা নির্দেশে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি ক্ষতিপূরণ লাভের অধিকারী হবেন না। এমনকি এমন দাবি আদালত বা কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপনও করা যাবে না। আইনে বলা আছে, ‘যদি কেউ এমন দাবি উত্থাপন করেন, তাহলে আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ তা সরাসরি বাতিল করতে পারবে’।

৩. অধিকার এর সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল মাসে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ৬ জন সাংবাদিক আহত এবং ১ জন হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন। এই সময়ে ৪ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

 

প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেফতার ও ১০ দিনের রিমান্ড

৪. গত ১৬ এপ্রিল সকালে সিনিয়র সাংবাদিক শফিক রেহমানকে (৮২) ঢাকার ইস্কাটনের তার নিজ বাসবভন থেকে বৈশাখী টিভির সাংবাদিক পরিচয়ে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা (ডিবি) বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করে। গোয়েন্দা পুলিশ শফিক রেহমানকে গ্রেফতারের বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে তা স্বীকার করে। ২০১৫ সালের অগাষ্টে ঢাকার পল্টন থানায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা পরিকল্পনার কারণে দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই দিন দুপুরে ডিবি পুলিশ শফিক রেহমানকে ঢাকা মহানগর হাকিম মাজহারুল ইসলামের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। প্রথম ৫ দিনের রিমান্ড শেষে গত ২২ এপ্রিল শফিক রেহমানকে ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদুল হাসানের আদালতে হাজির করে ডিবি পুলিশ পুনরায় সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করে। অন্যদিকে, শফিক রেহমানের আইনজীবীরা রিমান্ডের শুনানি পিছিয়ে দিয়ে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং তার স্ত্রী ও আইনজীবীদের সঙ্গে একান্তে কথা বলার সুযোগ দেয়ার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু আদালত শফিক রেহমানের আইনজীবীদের আবেদন খারিজ করে দিয়ে পুনরায় পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ২০ এপ্রিল শফিক রেহমানের স্ত্রী তালেয়া রেহমান সংবাদ সম্মেলন করে শফিক রেহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট হিসেবে উল্লেখ করে তার মুক্তি দাবি করেন। গত ২৫ এপ্রিল তালেয়া রেহমান আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করে শফিক রেহমানকে দফায় দফায় রিমান্ডে নেয়ায় তার জীবনহানি হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তালেয়া রেহমান বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ শফিক রেহমান সম্পর্কে যেভাবে একপেশে, অসত্য ও বিকৃত তথ্য উপস্থাপন করছেন তাঁতে তিনি শঙ্কিত যে, এই মামলার তদন্ত কাজ সঠিকভাবে এগোবে কিনা এবং তারা ন্যায় বিচার পাবেন কিনা।

 

তিন বছর ধরে জেলে আটক মাহমুদুর রহমান বারবার রিমান্ডে

৫. আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান (৬২) তিন বছর ধরে কারাগারে আটক আছেন। ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল ডিবি পুলিশ মাহমুদুর রহমানকে আমার দেশ পত্রিকা অফিস থেকে গ্রেফতার করে।৫ এরপর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ছাপাখানায় অভিযান চালিয়ে কম্পিউটার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জব্দ করে এবং রাত পৌনে ১১ টায় ছাপাখানা সিলগালা করে দেয়।৬ এর আগে ২০১০ সালের ২১ এপ্রিল ‘চেম্বার জজ মানে সরকার পক্ষের স্টে’ এই শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করায় আদালত অবমাননার একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২০১০ সালের ১৯ অগাস্ট মাহমুদুর রহমানকে ছয়মাসের কারাদ- দেয়। ২০১৫ সালের ১৩ অগাস্ট ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালত সম্পদের হিসাব চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের নোটিশের জবাব না দেয়ার অভিযোগে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে তিন বছরের কারাদ- ও একলাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদ-ের রায় ঘোষণা করে। সারাদেশে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মোট ৭২ টি মামলা দায়ের করা হয়, যার বেশির ভাগই মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা। এরপর বিভিন্ন সময়ে দায়ের করা সবগুলো মামলায় তিনি জামিন পান এবং সর্বশেষ মামলায় ১৪ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ থেকে জামিন পাওয়ার পরও অপর একটি মামলায় প্রডাকশন ওয়ারেন্ট এর আদেশ প্রত্যাহারের পর মাহমুদুর রহমানের মুক্তির ক্ষেত্রে যখন কোন বাধাই ছিল না, তখন প্রডাকশন ওয়ারেন্ট এর আদেশ জেলখানায় পাঠাতে সময়ক্ষেপণ করে এবং ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে শাহবাগ থানায় বিস্ফোরক আইনে দায়ের হওয়া (মামলা নম্বর ৫০(১)/১৩) একটি মামলায় তাকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়। এই মামলায়ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান মাহামুদুর রহমান এবং তার আইনজীবী তার পক্ষে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে তার মক্কেলকে যাতে আর কোন মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানো না হয়, সেই জন্য আদালতের নির্দেশনা চান। সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এই আবেদন মঞ্জুর করে মাহামুদুর রহমানকে আর কোন মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ না দেখানোর জন্য নির্দেশ দেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার জজের কাছে আবেদন করলে চেম্বার জজ হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেন। ফলে গত ২৭ মার্চ মাহমুদুর রহমানকে মতিঝিল থানার একটি মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। গত ৬ এপ্রিল ঢাকা মহানগর হাকিমের আদালতে এই মামলার শুনানীর সময় মাহমুদুর রহমানের আইনজীবীরা বলেন, যে মামলায় তাকে গ্রেফতার ও রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে তার আগে থেকেই তিনি কারাগারে বন্দি আছেন। আদালত এই মামলার শুনানীর পর মামলায় গ্রেফতার দেখানো ও তার রিমান্ডের ব্যাপারে আবেদন নাকচ করে দেয়। এরপর গত ৫ এপ্রিল কোতোয়ালী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। গত ১২ এপ্রিল এই মামলায় ঢাকার মহানগর হাকিম রিমান্ড আবেদন নাকচ করে চার কার্যদিবসে কারাফটকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। গত ১৬ এপ্রিল সিনিয়র সাংবাদিক শফিক রেহমানকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা পরিকল্পনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার করা হয়। এরপর এই মামলাতেও মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গত ২২ এপ্রিল মাহমুদুর রহমানের মা অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগম এক সংবাদ সম্মেলন করে মাহমুদুর রহমানের মুক্তি দাবি করেছেন। গত ২৫ এপ্রিল সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা পরিকল্পনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মাহমুদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন ডিবির সিনিয়র সহকারী কমিশনার হাসান আরাফাত। ঢাকার মহানগর হাকিম গোলাম নবী পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ২৯ এপ্রিল দুপুরে মাহমুদুর রহমানকে কাশিমপুর কারাগার থেকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়।

 

রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন :

৬. বাংলাদেশে রিমান্ডের সমর্থক শব্দ হলো নির্যাতন। রিমান্ডে নিয়ে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায় করে বলে অভিযোগ রয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা শুধু ফৌজদারী অপরাধই নয় বরং মানবাধিকারের চরম লংঘন। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদে বলা আছে “কোন ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেয়া যাবেনা কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দ- দেয়া যাবে না কিংবা কারো সাথে অনুরূপ ব্যবহার করা যাবে না”। ২০১৩ সালে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে ব্লাস্ট বনাম বাংলাদেশ মামলায় সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগ এই নির্দেশনায় বলেছেন, রিমান্ড মঞ্জুরের আগে এবং রিমান্ড থেকে ফেরার পর নিম্ন আদালতকে মেডিকেল রিপোর্ট পরীক্ষা করতে হবে। অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়ার পর তার আত্মীয় স্বজনকে খবর দিতে হবে। আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে দিতে হবে এবং আইনজীবীর উপস্থিতিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। এমন একটি ঘরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে যেখানে তাকে বাইরে থেকে দেখা যায়। কিন্তু পুলিশ ও নি¤œ আদালত হাইকোর্ট বিভাগের এই নির্দেশনাকে প্রতিনিয়ত উপেক্ষা করে চলেছে। নি¤œ আদালত রিমান্ড মঞ্জুরের আগে এবং রিমান্ড থেকে ফেরার পর মেডিকেল রিপোর্ট পরীক্ষা করছে না এবং রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ অভিযুক্তদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। ব্লগার, শিক্ষকসহ সমকামীদের অধিকার বিষয়ক ম্যাগাজিনের সম্পাদক হত্যা

৭. সরকার ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। যতই মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে ততই দেশে চরমপন্থার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে এবং আইন শৃংখলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়ে হত্যাসহ ভয়াবহ বিভিন্ন ঘটনা ঘটছে। ২০১৩ সাল থেকে দেশে ব্লগার অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট, বিদেশী নাগরিক, শিক্ষক, সমকামীদের অধিকার বিষয়ক ম্যাগাজিন এর সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজনকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকা-গুলোর কয়েকটির দায় স্বীকার করেছে একটি চরমপন্থী সংগঠন।

৮. গত ৬ এপ্রিল রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নাজিমউদ্দিন সামাদ সান্ধ্যকালীন ক্লাশ শেষ করে তার গে-ারিয়াস্থ মেসে ফেরার পথে লক্ষীবাজারের একরামপুর মোড়ে পাঁচ-ছয়জন দুবৃর্ত্ত তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে এবং গুলি করে হত্যা করে। নাজিমের পরিবার ও বন্ধুরা বলেন, ফেসবুকের বিভিন্ন স্ট্যাটাসে নাজিম উদ্দিন জঙ্গিবাদ, ধর্মান্ধতা ও সরকারের সমালোচনা করে লেখালেখির কারণে তাকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় সূত্রাপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

৯. গত ২৩ এপ্রিল সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭ টায় রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানার শালবাগান এলাকার বটতলা মোড়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম সিদ্দিকী কে কুপিয়ে হত্যা করেছে অজ্ঞাত দুবৃর্ত্তরা।

১০.গত ২৫ এপ্রিল রাতে ঢাকার কলাবাগান থানাধীন উত্তর ধানমন্ডির বাসায় ঢুকে অজ্ঞাত দুবৃর্ত্তরা সমকামীদের অধিকার বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘রূপবান’ এর সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব রাব্বী তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করে। জুলহাজ মান্নান ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন।

১১. গত ৩০ এপ্রিল দুপুর আনুমানিক ১২ টায় টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার পাকুটিয়া-সূতিকালীবাড়ি সড়কের কাছে নিখিল জোয়ার্দার (৫০) নামে এক দর্জিকে তার দোকান থেকে ডেকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে আসা তিন যুবক কুপিয়ে হত্যার পর আবার মোটরসাইকেলে করেই চলে যায়। এই ব্যাপারে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে নিখিল জোয়ার্দার হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তি করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন।

১২.অধিকার দেশের নাগরিকদের মত প্রকাশ ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। অধিকার মনে করে কোন নাগরিকের মতামত সরকারের বিপক্ষে গেলেই তাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে গ্রেফতার বা হয়রানি করা হচ্ছে। অধিকার অবিলম্বে নিবর্তনমূলক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০০৯ ও ২০১৩) বাতিলের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছে এবং প্রস্তাবিত নিবর্তনমূলক ‘জাতীয় সম্প্রচার আইন’ এর ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। অধিকার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ব্লগার, শিক্ষক, বিদেশী নাগরিক, সমকামী অধিকার বিষয়ক ম্যাগাজিন এর সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাগরিকদের হত্যার সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে এবং সেই সঙ্গে জনগণের স্বাধীন মতপ্রকাশ ও সভাসমাবেশ করার অধিকারকে দমন করা থেকে নিবৃত্ত থাকতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

 

রাজনৈতিক সহিংসতা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, জাল ভোট প্রদান ও কেন্দ্র দখল অব্যাহত

রাজনৈতিক সহিংসতা:

১৩.অধিকার এর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় কমপক্ষে ২৯ জন নিহত ও ১৩৭৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় ২৪ জন নিহত ও ১১৯৩ জন আহত হয়েছেন। এই মাসে আওয়ামী লীগের ৪৮টি এবং বিএনপি’র ২ টি অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ১১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। একই সময়ে অভ্যন্তরীণ সংঘাতে আওয়ামী লীগের ৪৫৬ জন এবং বিএনপি’র ২৭ জন আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

১৪. রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত আছেই। দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরো সহিংসতা তীব্র আকার ধারন করেছে এবং তা দেশের গ্রামঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া সারাদেশে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসংখ্য অন্তর্দলীয় কোন্দলের ঘটনা ঘটছে। রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন অন্যায় স্বার্থ হাসিলকে কেন্দ্র করে এইসব কোন্দলের ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত হতে দেখা গেছে। এছাড়া বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ওপরও হামলা করা হচ্ছে। বেশিরভাগ ঘটনায় সরকারিদলের নেতাকর্মীদের বিচারের আওতায় আনা যায়নি। এই রকম অনেকগুলো ঘটনার মধ্যে দুটি ঘটনা নিচে তুলে ধরা হলো:

১৫. গত ১১ এপ্রিল ঢাকার শিক্ষা ভবনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমানের সমর্থকদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মহসিন হল শাখা আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা মিঠুর সমর্থকদের মধ্যে ৪৪ কোটি টাকার টেন্ডারের দখল নিয়ে সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ জন আহত হয়।

১৬. গত ১১ এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে দশটায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সহসভাপতি ইব্রাহীম খলিল বিপ্লব পরীক্ষার নোট সংগ্রহ করতে ক্যাম্পাসে গেলে তার ওপর হামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগের মানব বিষয়ক উপ-সম্পাদক ফিরোজুর রহমান সবুজ, সহসম্পাদক মেহেদী হাসান রোমানসহ কয়েকজন নেতাকর্মী। লোহার পাইপ ও রড দিয়ে পিটিয়ে ইব্রাহীম খলিল বিপ্লবের ডান হাত ও ডান পা ভেঙ্গে দেয় তারা। ইব্রাহীম খলিলকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

 

তিন ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী সহিংসতায় ৬৪ জন নিহত

১৭.ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরই নির্বাচনী সহিংসতা ব্যাপক আকার ধারণ করে; যা মনোয়ন পত্র জমা দেয়া থেকে শুরু করে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত চলতে থাকে। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের নির্বাচনী সহিংসতায় মোট ৬৪ জন নিহত ও অন্ততপক্ষে ৩১১২ জন আহত হয়েছেন। তৃতীয় ধাপের নির্বাচনের সহিংসতায় মোট ২০ জন নিহত এবং অন্ততপক্ষে ৭৮৪ জন আহত হয়েছেন।

১৮.গত ১১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন ছয়টি ধাপে মোট ৪২৭৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করে। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন হত্যা, সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়া, জাল ভোট দেয়া, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ওপর হামলার মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন, পৌরসভা নির্বাচন ও সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলো ছিল বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে কলংকিত নির্বাচন। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণের ঘটনা অন্ততপক্ষে তিনগুন বেড়েছে এবং এর জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীদের দায়ী করেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ। তারা জানিয়েছে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আট হাজার দুই শত এর বেশি ব্যক্তি, পরিবার এবং তাঁদের প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ২৩ এপ্রিল তৃতীয় ধাপে ৬১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় তৃতীয় ধাপের নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকদের কেন্দ্র দখল, প্রকাশ্যে জাল ভোট দেয়া ও হামলার মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে ঘুরিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। অসংখ্য ঘটনার মধ্যে নিচে মাত্র কয়েকটি উল্লেখ করা হলো।

১৯. মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের নির্বাচন সংঘর্ষ, কেন্দ্র দখল ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। শ্রীকোল ইউনিয়নের বারইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর সমর্থরা জোরপূর্বক কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল দিয়ে বাক্সে ঢুকায়। দুইটি ব্যালট বই ছিনতাই হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঐ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা। ফলে এই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই ইউনিয়নের পূর্ব-শ্রীকোল ভোট কেন্দ্রের সামনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী-সমর্থক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে প্রায় এক ঘন্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টি ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দি¦তায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বাকি ৫টি ইউনিয়ন কলমা, খিদিরপাড়া, বেজগাঁও, কনকসার ও হলদিয়া ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের আগের দিন ২২ এপ্রিল রাতে বেজগাঁও ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাঈনুল ইসলাম ভূঁইয়ার বাড়িতে হামলা করে ভাংচুর করা হয় এবং তার কর্মী-সমর্থকদের পিটিয়ে আহত করা হয়। মাঈনুল ইসলামের বাড়ি থেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহানকে আটক করা হয়। এরপর পুলিশ এলাকায় দুবৃর্ত্তদের ধরার জন্য অভিযানের নামে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে হানা দেয়। এতে বিএনপি সমর্থক ভোটার এবং নেতাকর্মীরা আতংকিত হয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যায়। নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আমির হোসেন তালুকদারের কর্মী সমর্থকরা এলাকায় মহড়া দেয় এবং বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে প্রকাশ্যে নৌকায় সিল মারে। খিদিরপুর ইউনিয়নের বাসুদিয়া নেসারিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ন’টার মধ্যে ৮৭০টি ভোট কাস্ট হয়। কলমা ইউনিয়নের ফলাপাকড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ৭৮৫টি ভোটের মধ্যে বেলা ১১টার মধ্যে কাস্ট হয় ৪৫০টি ভোট। ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের এসি একাডেমী কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে পাঁচটি বুথে জোর করে ঢুকে জাল ভোট দেয়া হয়। এই সময় ছবি তুলতে গেলে দুবৃর্ত্তদের হামলায় এটিএন নিউজের পূর্বাঞ্চলীয় ব্যুরো প্রধান পীযূষ কান্তি আচার্য, ফটো সাংবাদিক সুমন রায় ও হাসান জাবেদ আহত হন।

২০. বর্তমান সরকারের সময়ে নির্বাচন ব্যবস্থায় যে ধরনের দুর্বৃত্তায়ন ঘটানো হয়েছে তাতে সম্পূর্ণ নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং জনগণ তাঁদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আওয়ামী লীগ বিরোধীদলে থাকাকালীন ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত সময়ে তাদের নেতৃত্বাধীন জোট ও জনগণের আন্দোলনের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজিত হয়। অথচ ২০১১ সালে কোন রকম গণভোট ছাড়াই এবং বিভিন্ন মহলের ব্যাপক প্রতিবাদ উপেক্ষা করে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয় এবং দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার বিধান বলবৎ করা হয়। এরফলে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক দলের বর্জন সত্ত্বেও অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনের মধ্যে দিয়েই শুরু হয় নির্বাচন ব্যবস্থার দুর্বৃত্তায়ন। এরপর থেকে অনুষ্ঠিত সবগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, সহিংসতা এবং ভোট জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। স্বাধীনভাবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। অথচ নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হচ্ছে এবং তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু হয়েছে বলে কমিশনের কর্মকর্তারা দাবি করছেন।

 

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে পুলিশী বাধা

২১. কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যাসহ দেশজুড়ে অব্যাহত গুম-খুন-ধর্ষণ ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে সারাদেশে প্রগতিশীল ছাত্র জোট ও সা¤্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্যে গত ২৫ এপ্রিল অর্ধেক দিন দেশব্যাপী হরতাল ডাকে। হরতালের সময় বরিশালে প্রগতিশীল ছাত্র জোট অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে সমাবেশ করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে লাঠিচার্জ করে। এতে ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রংপুর শহরের লালবাগ এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগের কর্মীরা প্রগতিশীল ছাত্র জোটের পাঁচ নেতা-কর্মীকে পিটিয়ে আহত করে। হরতালের সমর্থক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করলে তাঁদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতে ১০ জন আহত হন। পুলিশ ১২ জন শিক্ষার্থীকে আটক করে আশুলিয়া থানায় নিয়ে যায়। হরতালের পর তাঁদের মুক্তি দেয় পুলিশ।

২২. অধিকার মনে করে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন যে পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছিয়েছে, তাতে বাংলাদেশে এক ভয়াবহ অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয়েছে। সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ভীন্নমতাবলম্বীদের নির্মমভাবে দমনের কাজে ব্যবহার করছে। এছাড়া সরকারিদলের সমর্থক দুর্বৃত্তরা প্রাণঘাতি অস্ত্র নিয়ে ও বিভিন্ন সময়ে পুলিশের সঙ্গে থেকে এবং তাদের সহযোগিতায় বিরোধীদল ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করায় বহু নিরীহ মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। অধিকার মনে করে, মানবিক ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

 

বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-

২৩. বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- অব্যাহতভাবেই চলছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- অব্যাহত থাকায় দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। অধিকার এর প্রাপ্ত তথ্য মতে এপ্রিল মাসে ১১ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

মৃত্যুর ধরণ

ক্রসফায়ার/এনকাউন্টার/বন্দুকযুদ্ধঃ

২৪. নিহত ১১ জনের মধ্যে ৭ জনই ‘ক্রসফায়ার/এনকাউন্টার/বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ৩ জন পুলিশের হাতে এবং ৪ জন র‌্যাবের হাতে নিহত হয়েছেন।

 

গুলিতে নিহত:

২৫. এইসময়ে ৪ জন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

নিহতদের পরিচয় ঃ

২৬. নিহত ১১ জনের মধ্যে ১ জন বিএনপি’র কর্মী, ১ জন গণবাহিনীর সদস্য, ৪ জন কৃষক এবং ৫ জন কথিত অপরাধী বলে জানা গেছে।

২৭. চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার গ-ামারা এলাকায় বৃহৎ কয়লা বিদুৎ স্থাপনের জন্য এস আলম গ্রুপ নামের একটি প্রতিষ্ঠান সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। এই প্রকল্পের জন্য ভুমি অধিগ্রহণ নিয়ে শুরু থেকেই এলাকাবাসীর সঙ্গে এস আলম গ্রুপের মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী প্রকল্পের নামে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে প্রতারিত করার কারণে দারুনভাবে ক্ষুদ্ধ ছিল। এই নিয়ে বিভিন্ন সময়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে প্রকল্পের লোকজনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত ২ এপ্রিল এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের ভাই শহীদুল আলম প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গেলে এলাকাবাসী তাদের গাড়ী বহরে হামলা করে। এই ঘটনায় বাঁশখালী থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ হামলাকারী সন্দেহে সাত জন স্থানীয় বাসিন্দাকে গ্রেফতার করে। তাঁদের মুক্তির দাবিতে গত ৪ এপ্রিল এলাকাবাসী ‘বসতভিটা রক্ষা কমিটি’র ব্যানারে গ-ামারা এলাকায় সমাবেশের আয়োজন করে। অন্যদিকে একই জায়গায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের অনুসারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা শামসুল আলম কয়লা ভিত্তিক বিদুৎ প্রকল্প স্থাপনের উদ্দেশ্যে এক সমাবেশের আহ্বান করে। পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডাকায় স্থানীয় প্রশাসন ঐ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু এলাকাবাসী ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে সমাবেশ করতে চাইলে পুলিশ ও তাদের সঙ্গে থাকা দুর্বত্তরা এলাকাবাসীর ওপর গুলি ছোঁড়ে। এতে শতাধিক লোক গুলিবিদ্ধ হয়। এরমধ্যে গ-াগ্রাম এলাকার মরতুজা আলী (৫২) ও তার ভাই আংকুর আলী, জাকের আহমেদ (৩৫) ও জহির উদ্দিন গুলিতে নিহত হন। ২৪ এই ঘটনায় বাঁশখালী থানায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ এবং অপর দুইটি মামলা দায়ের করেছেন নিহতদের স্বজনরা। পুলিশের দায়ের করা মামলায় গ-ামারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলীসহ ৫৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ৩ হাজার ২০০ জনকেও আসামি করা হয়েছে।

 

আটকের পর আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আটককৃতদের পায়ে গুলি করার প্রবণতা

২৮. অধিকার এর প্রাপ্ত তথ্য মতে এপ্রিল মাসে ৩ জনকে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আটকের পর পায়ে গুলি করেছে বলে জানা গেছে।

২৯. সরকার বিরোধী বিক্ষোভ দমন করার নামে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কর্তৃক আটককৃতদের পায়ে গুলি করার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেজনক। এই প্রবণতাটি ২০১১ সাল থেকে শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষও এই পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে অনেকেই পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। এইক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়মুক্তি ভোগ করছে।

৩০. যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার দিকদেনা গ্রামের ইস

খানসামায় হাট-বাজারে অবাধে চলছে মাদক ব্যবসা
                                  

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার প্রায় প্রতিটি হাট বাজারে মুদি, বেকারী ও ঔষধের দোকানে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকারক অবৈধ যৌন উত্তেজক জিনসিন পস্নাস নামক সিরাপ অবাধে অহহর বিক্রি করা হচ্ছে । অনুসন্ধানে জানা যায়, উক্ত যৌন উত্তেজক সিরাপটি দৈহিক মিলনে স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করলেও পরবর্তীতে শরীরের স্বাভাবিক যৌন ক্ষমতা হ্রাস করে থাকে। অপর দিকে এই সিরাপটির নেই কোনো ঔষধ অধিদপ্তরের লাইসেন্স ও বৈধতা ,তার পরও এই ক্ষতিকারক সিরাপটি অবাধে স্বল্পমূল্যে সংগ্রহ ,প্রস্তুতকরণ ,সংরক্ষণ ও সরবারহ করা হচ্ছে ।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, উঠতি বয়সী তারুন ও যুবকরা তাদের বিকৃত মানসিকতার আনন্দ উপভোগ করার জন্য মাত্র ৩০-৪০ টাকার বিনিময়ে সেবন করে থাকে। কয়েকজন চিকিৎসকের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই সিরাপটি অধিক পরিমানে সেবনের ফলে স্মৃতিশক্তি, যৌন ক্ষমতা ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাস সহ শরীলের নানাবিধ রোগের দেখা দেয়। এতে করে একদিকে যেমন যুব সমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাড়িয়েছে অপরদিকে এই অবৈধ ঔষধ প্রস্তুতকারীর মালিকরা কালো টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছে। তাই সচেতন অভিভাবক ও জনসাধারণ ঐ অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচলনা করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য খানসামা উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ সকলের সু-দুষ্টি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কমনা করছে।

আবু তাহের, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) থেকে

কালিগঞ্জে স্বামী কর্তৃক স্ত্রী পাচারের অভিযোগ
                                  

সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার মহেশ্বরপুর গ্রামে স্ত্রীর সন্তান না হওয়ায় স্বামী তার স্ত্রীকে নির্যাতন ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রে ভারতে পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের মহেশ্বরপুর গ্রামের আব্দুল আলিম গাজীর মেয়ে আফিয়া সুলতানা লিপি (২৪) এর সাথে একই উপজেলার উত্তর শ্রীপুর গ্রামের আবদুল্লাহ গাজীর ছেলে আব্দুর রশিদ (৩০) এর সাথে ২০০৯ সালে বিয়ে হয়। বিয়ের পরে দীর্ঘদিন তাদের সংসারে কোন সন্তান না হওয়ায় স্বামী-স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য চলে আসছে। মাঝে মধ্যে স্বামী রশিদ গাজী স্ত্রী আফিয়া লিপির উপর অমানবিক নির্যাতন করে এবং পুনরায় বিয়ে করার অনুমতি চায়। আফিয়া তার স্বামীর কথায় রাজি না হওয়ায় স্বামী- স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি বিরাজ করতে থাকে। গত ৭ মাস পূর্বে রশিদ তার শুশুড়কে ডেকে স্ত্রী আফিয়া লিপিকে শুশুড় বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। তার গোপনভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য পায়তারা চালায়। এখবর আফিয়া লিপি জানতে পেরে স্বামী রশিদকে মোবাইল করলে তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। এক পর্যায়ে গত ২৮ মার্চ রশিদ তার শ্বশুর বাড়িতে যেয়ে তার স্ত্রী লিপিকে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে। গত ২৯ মার্চ বেলা ১১ টায় আফিয়া ভারতের একটি মোবাইল নম্বরে তার পিতা আবদুল আলিম গাজীর কাছে কান্নাকাটি করে তোমার জামাই আমাকে ভারতে পাচার করে রেখে পালিয়ে গেছে।

আফিয়ার পিতা এ সংবাদ পেয়ে রশিদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ খবর নেয় এবং তার মেয়ে ও জামাইযের কোন খোজ না পাওয়ায় এলাকাবাসীর কাছে জানতে পারে রশিদ তার স্ত্রীকে নিয়ে ভারতে গেছে। এ বিষয়ে আফিয়া লিপির পিতা আলিম গাজী স্থানীয় সাংবাদিক টি এম আব্দুল জব্বারকে নিয়ে কালিগঞ্জ থানায় অফিসার ইনচার্জ শেখ মতিউর রহমান এর কাছে তার মেয়ে ভারতে পাচারের বিষয়টি মৌখিকভাবে জানান। আলিম গাজী তার কন্যাকে উদ্ধার ও জামাই রশিদ গাজীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

রফিকুল ইসলাম, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) থেকে

এক মায়ের আকুতি আমার ছেলেকেফিরিয়েদিন
                                  

 

আমার বুকের ধন ছেলেকে উদ্ধার করে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন এ কথা বলে বিভিন্ন রকম আকুতি মিনতি করেন ভারতে নিখোঁজ কালামের(১৭) মা মানবাধিকার খবর পত্রিকার কাছে। মায়ের কান্না দেখে মানবাধিকার খবর তার ছেলেকে উদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টার আশ্বাস প্রদান করেন। গত ৪ মে কালামের মা বাগেরহাট থেকে ঢাকায় ছুটে আসেন ছেলেকে উদ্ধারের জন্য মানবাধিকার খবর অফিসে। মোঃ কালাম হোসেনের মা ফিরোজা বেগম জানান, গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর বঙ্গোপসাগরে গভীর রাতে মাছ ধরতে গিয়ে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্নিঝড়ের কবলে পড়েন তার ছেলেসহ ১৪ জেলে। তাদের মধ্যে ৭ জন সাতরিয়ে তীরে উঠতে পারলেও তার ছেলেসহ অন্য ৭ জন গভীর সমুদ্রে ভেসে যায়। সেই থেকে দীর্ঘ ৮ মাস নিখোঁজ রয়েছেন তারা। মোঃ কালাম হোসেনের বাড়ি বাগেরহাটের কচুয়া থানার ভাষা গ্রামে। তার পিতার নাম আশরাফ আলী। বিভিন্ন তথ্যানুসন্ধানে জানতে পেরেছেন তার ছেলেসহ অন্যরা ভারতের উড়িষ্যা জেলে আটক রয়েছেন। নিখোঁজের পরের দিন ২০ সেপ্টেম্বর সকালে ভারতীয় একটি নাম্বার থেকে উড়িষ্যা ভাষায় ফোন করে তার ছেলে ও অন্যান্যদের ব্যাপারে তথ্য দিতে চেয়েছিল। কিন্তু ভাষা বুঝতে না পারায় বিষয়টি নিয়ে আর কেউ আগায় নি। ঐদিন ঝড়ের কবলে পড়ে এখনও পর্যন্ত ১৯ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে ভারতীয় সীমানায় সাগরের নিকটবর্তী কোন থানায় আটক হয়ে তারা জেলে আছেন। এই সব জেলেদের বাড়ি বাগেরহাট জেলা ও তার পার্শবর্তী এলাকায়। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা তাদের অনুসন্ধানের জন্য ভারতসহ দেশের বিভিন্ন  স্থানে তল্লাসী অব্যাহত রেখেছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারের ব্যাপারে আত্মীয় স্বজনরা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, থানার ওসি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করেছেন। এমনকি তারা বাংলাদেশস্থ ভারতীয় দূতাবাসের কাছেও আবেদন করে কোন উপায়ান্তর না পেয়ে মানবাধিকার খবরের দারস্থ হন। মানবাধিকার খবর এর আগে ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্য থেকে বাংলাদেশী কলেজছাত্রী, হায়দারাবাদ থেকে গৃহবধূ, পশ্চিমবঙ্গের লক্ষীকান্তপুর থেকে শিশু, দিল্লীর তিহার জেল থেকে স্বামী স্ত্রী উদ্বারসহ সাফল্যের সাথে অসংখ্য উদ্ধারের খবর জানতে পেরে ছুটে আসেন মানবাধিকার খবর ঢাকাস্থ অফিসে।

মানবাধিকার খবর ভুক্তভোগী দরিদ্র জেলেদের কথা শুনে ভারতে গিয়ে নিখোঁজদের খুজে বের করে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। চলতি মে মাসের শেষের দিকে যে কোন সময় এ উদ্ধার অভিযান চালানো হবে। এ ব্যাপারে বাগেরহাটের কচুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। যার নাম্বার : ৬৬২, তারিখ: ২০/০৯/২০১৫। মানবাধিকার খবর শুধুমাত্র একটি ভারতীয় নাম্বারের সূত্র ধরে অনুসন্ধান শুরু করবে।

 

আমার বুকের ধন ছেলেকে উদ্ধার করে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন এ কথা বলে বিভিন্ন রকম আকুতি মিনতি করেন ভারতে নিখোঁজ কালামের(১৭) মা মানবাধিকার খবর পত্রিকার কাছে। মায়ের কান্না দেখে মানবাধিকার খবর তার ছেলেকে উদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টার আশ্বাস প্রদান করেন। গত ৪ মে কালামের মা বাগেরহাট থেকে ঢাকায় ছুটে আসেন ছেলেকে উদ্ধারের জন্য মানবাধিকার খবর অফিসে। মোঃ কালাম হোসেনের মা ফিরোজা বেগম জানান, গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর বঙ্গোপসাগরে গভীর রাতে মাছ ধরতে গিয়ে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্নিঝড়ের কবলে পড়েন তার ছেলেসহ ১৪ জেলে। তাদের মধ্যে ৭ জন সাতরিয়ে তীরে উঠতে পারলেও তার ছেলেসহ অন্য ৭ জন গভীর সমুদ্রে ভেসে যায়। সেই থেকে দীর্ঘ ৮ মাস নিখোঁজ রয়েছেন তারা। মোঃ কালাম হোসেনের বাড়ি বাগেরহাটের কচুয়া থানার ভাষা গ্রামে। তার পিতার নাম আশরাফ আলী। বিভিন্ন তথ্যানুসন্ধানে জানতে পেরেছেন তার ছেলেসহ অন্যরা ভারতের উড়িষ্যা জেলে আটক রয়েছেন। নিখোঁজের পরের দিন ২০ সেপ্টেম্বর সকালে ভারতীয় একটি নাম্বার থেকে উড়িষ্যা ভাষায় ফোন করে তার ছেলে ও অন্যান্যদের ব্যাপারে তথ্য দিতে চেয়েছিল। কিন্তু ভাষা বুঝতে না পারায় বিষয়টি নিয়ে আর কেউ আগায় নি। ঐদিন ঝড়ের কবলে পড়ে এখনও পর্যন্ত ১৯ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে ভারতীয় সীমানায় সাগরের নিকটবর্তী কোন থানায় আটক হয়ে তারা জেলে আছেন। এই সব জেলেদের বাড়ি বাগেরহাট জেলা ও তার পার্শবর্তী এলাকায়। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা তাদের অনুসন্ধানের জন্য ভারতসহ দেশের বিভিন্ন  স্থানে তল্লাসী অব্যাহত রেখেছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারের ব্যাপারে আত্মীয় স্বজনরা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, থানার ওসি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করেছেন। এমনকি তারা বাংলাদেশস্থ ভারতীয় দূতাবাসের কাছেও আবেদন করে কোন উপায়ান্তর না পেয়ে মানবাধিকার খবরের দারস্থ হন। মানবাধিকার খবর এর আগে ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্য থেকে বাংলাদেশী কলেজছাত্রী, হায়দারাবাদ থেকে গৃহবধূ, পশ্চিমবঙ্গের লক্ষীকান্তপুর থেকে শিশু, দিল্লীর তিহার জেল থেকে স্বামী স্ত্রী উদ্বারসহ সাফল্যের সাথে অসংখ্য উদ্ধারের খবর জানতে পেরে ছুটে আসেন মানবাধিকার খবর ঢাকাস্থ অফিসে।

মানবাধিকার খবর ভুক্তভোগী দরিদ্র জেলেদের কথা শুনে ভারতে গিয়ে নিখোঁজদের খুজে বের করে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। চলতি মে মাসের শেষের দিকে যে কোন সময় এ উদ্ধার অভিযান চালানো হবে। এ ব্যাপারে বাগেরহাটের কচুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। যার নাম্বার : ৬৬২, তারিখ: ২০/০৯/২০১৫। মানবাধিকার খবর শুধুমাত্র একটি ভারতীয় নাম্বারের সূত্র ধরে অনুসন্ধান শুরু করবে।

মানবাধিকারখবর প্রতিবেদন

কে শুনবে অনিলের আর্তনাদ
                                  

 

সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকের মাধ্যমে বাংলাদেশী এক মিনার সাথে পরিচয় হয় পাকিস্তানী নাগরিক অনিল কুমারের। আট বছর পূর্বের সেই পরিচয় পরিনয়ে রুপ নেয় এবং ২০০৮ সালে তারা বিবাহ বন্দনে আবদ্ব হয়। অনিলের স্ত্রী মিনা পাকিস্তানে তার স্বামীর সঙ্গে নতুন জীবন শুর করে। স্ত্রী একা একাই পাকিস্তানে আসা যাওয়া শিখে নেয়। অনিলের ঘরে নতুন অতিথী, ছেলে  গৌরবের আগমন ঘটে ২০০৯ সালে। অনিল ভ্রমন ভিসা নিয়ে ১০/০৩/২০১৩ সালে সন্তানকে দেখতে বাংলাদেশে আসে। ভিসার মেয়াদ নিয়মানুযায়ী পূর্বের ন্যায় আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে নেন। অনিল গত ১০/০৫/২০১৪ তারিখ পাকিস্তান এয়ারের ০২৬৭ বিমান যোগে নিজ দেশে যাওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। টারমিনাল-৩ এর ৪৪ নং কাউন্টারে বহিরগমন নিবন্ধন সম্পন্ন করার সময় কাউন্টার অফিসার বাংলাদেশ হতে ষ্ট্যাম্পকৃত বর্ধিত ভিসা জাল সন্দেহে অনিলিকে ওসি ইমিগ্রেশনে প্রেরন করেন। একই তারিখে অনিল কুমারের বিরুদ্ধে পুলিশ পরির্দশক মোস্তফা নূর-ই-বাহার বিমান বন্দর থানায় দন্ডবিধির ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ এবং ১৯৪৬ সনের ফরেনার্স এক্টের ১৪ ধারায় মামলা রুজু করেন। পরবর্তীতে গত ৮/৬/২০১৪ তারিখে অনিল কুমার বিজ্ঞ মহানগর দায়রা জজ জহিরুল হক-এর আদালত থেকে জামিন নিয়ে বাংলাদেশে আটকে আছেন।

পাকিস্তানী প্রকৌশলী অনিল কুমার যে স্ত্রী ও সন্তানকে দেখতে বাংলাদেশে এসেছেন এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। সে নিজ দেশে যাওয়ার শেষ প্রান্তে এসে এ মামলার স্বীকার হয়েছেন। এরুপ ক্ষেত্রে সকল দেশেই যাত্রীকে নিজ দেশের বিমানে তুলে দেয়ার রেওয়াজ আছে। আমেরিকা, ইউরোপ সহ পৃথিবীর বহু দেশে বহিরাগমন নিবন্ধনের কোন ব্যবস্থাই নেই। উন্নত দেশে কোন বিদেশিকে যদি অপরাধি বলে মনে হয় তবে তাকে নিজ দেশে ফেরৎ পাঠানোর ব্যবস্থা বেশী প্রযোজ্য।

অনিল কুমারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা অতি নগন্য। পাশপোর্টে বহফড়ৎংবসবহঃ, নবায়ন ভিসা বর্ধিত সহ অন্যান্য সকল কাজেই আমরা দালালের সহযোগিতা নিয়ে থাকি। দালালরা কতটা নৈতিকতার সাথে কাজ করে তাও আমরা বুঝি। অনিলকে যদি অপরাধি হিসাবে মনেই হয় তবে কেন তাকে পাকিস্তানের বিমানে তুলে না দিয়ে পাসপোর্ট আটকে রাখা হয়েছে? এতে অনিলের হয়রানি ও ভোগান্তি বেরেই চলেছে।

এরই মধ্যে সূদর্শন প্রকোশলী অনিল কুমারের (৩৯) জীবন থেকে দুটি বছর ঝরে গেছে। আর্থিক অনটনে স্ত্রীর সাথেও সম্পর্ক ভাল নেই। ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় অনিল এখন অনেক ক্লান্ত। তাকে পাকিস্তানী এক মানবাধিকার আইজীবী গেলাম জীলানী মানবাধিকার খবরের আইন উপদেষ্টা হিসেবে আমার কাছে পাঠিয়েছেন সহযোগিতার জন্য। তার মামলার সকল কাগজ আমি দেখেছি। সাজা হওয়ার কোন উপাদানই এতে নেই। কর্তৃপক্ষের সদয় মনোভাবই পারে তাকে দ্রুত দেশে ফেরৎ পাঠাতে। একটি জীবনকে রক্ষা করতে। শুধু ”পাকিস্তানী” নাগরিক এই অজুহাতে অনিলের এই ভোগান্তি কোন ভাবেই কাম্য নয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী সাধারন লোকের অনেক সমর্থন ছিল এ কথা আমাদের ভুললে চলবেনা। অপরাধ যা করেছে তার জন্য দায়ী পাকিস্তানী রাজনীতিাবিধ তথা তাদের সেনা বাহিনী। তার প্রায়শ্চীত্য তাদের কোন দিনই শেষ হবেনা। কিন্তু নিরপরাধ একটি ব্যক্তিও যেন আক্রোশের শিকার না হয়, সাজা না পায়, সে দিকে কর্তৃপক্ষ দৃষ্টি রাখবেন এরুপই আমরা প্রত্যাশা করি। অপরদিকে অনিলের এই দুর্দশার খবর জানতে পেওে পাকিস্তানে অবস্থানরত তার মা-বাবা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, সারাক্ষণ প্রলাপ করছেন কবে ফিওে আসবে তার ছেলে।

ভজরঙ্গি ভাইজান ছবির নায়ক সালমান খান তীব্র প্রতিকুলতার মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগের কল্যাণে পাকিস্তান সীমানা বিনা ভিসায়, বিনা পাসপোর্টে অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশে সক্ষম হন। তা হলে পাসপোর্ট, ভিসা ও টিকেট থাকা সত্বেও বাস্তবের অনিল কুমার কেন নিজ দেশে যেতে পারবেনা? এ বিষয়টিই যদি সচেতন সমাজ তথা কর্তৃপক্ষ উপলদ্বিতে নিয়ে সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন তবে অবশ্যই অনিল কুমার অতিদ্রুত নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবেন সে সময় আর বেশী দূরে নয়।

এড. দেলোয়ার হোসেন


   Page 1 of 2
     অধিকারের প্রতিবেদন
রোটারি বাংলাদেশের নতুন গভর্ণরের দায়িত্ব গ্রহন
.............................................................................................
চাচা শ্বশুরের নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ মরিয়ম
.............................................................................................
এতিমদের ইফতারের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘তৃপ্ত দৃশ্য’র যাত্রা শুরু
.............................................................................................
পুলিশের নাকের ডগায় ঝাড় ফুকের ব্যবসা ॥ প্রশাসন নিরব আজাদ রহমান
.............................................................................................
মে দিবস মেহনতী মানুষের মুক্তির বারতা শ্রমিকের ন্যায্য হিস্যা প্রাপ্তির স্বীকৃতি
.............................................................................................
মায়ের কোলে ফিরতে চায় শিশু সুমন
.............................................................................................
নারী ও শিশু উদ্ধারে মানবাধিকার খবর’র ভূমিকা প্রসংশনীয়
.............................................................................................
পুরুষ নির্যাতনের হাতিয়ার ‘নারী নির্যাতন’ মামলা
.............................................................................................
পরিবারে দুমুঠো অন্ন যোগাতে শিশুরা বিভিন্ন পেশায়
.............................................................................................
মিয়ানমারে বিলুপ্ত মানবতা
.............................................................................................
অধিকারের মাসিক প্রতিবেদন
.............................................................................................
মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের প্রতিবেদন
.............................................................................................
খানসামায় হাট-বাজারে অবাধে চলছে মাদক ব্যবসা
.............................................................................................
কালিগঞ্জে স্বামী কর্তৃক স্ত্রী পাচারের অভিযোগ
.............................................................................................
এক মায়ের আকুতি আমার ছেলেকেফিরিয়েদিন
.............................................................................................
কে শুনবে অনিলের আর্তনাদ
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধু জাতির জীবনে বসন্ত এনেছিলো মুক্তিযোদ্ধা মো. আশকর আলী
.............................................................................................
দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না- ড. মিজানুর রহমান
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

Editor & Publisher: Rtn. Md Reaz Uddin
Mobile:+88-01711391530, Email: md.reaz09@yahoo.com Corporate Office
53,Modern mansion(8th floor),Motijheel C/A, Dhaka
E-mail:manabadhikarkhabar@gmail.com,manabadhikarkhabar34@yahoo.com,
Tel:+88-02-9585139
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-9585140
    2015 @ All Right Reserved By manabadhikarkhabar.com    সম্পাদকীয়    Adviser List

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]