| বাংলার জন্য ক্লিক করুন

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   শেয়ার করুন
Share Button
   বিশেষ প্রতিবেদন
  থাই পেয়ারার চাষ পদ্ধতি ও রোগ বালাই
  2, April, 2018, 3:30:58:PM

পেয়ারা আমাদের দেশে একটি অতি পরিচিত ও জনপ্রিয় ফল। এটি একটি দ্রুত বর্ধণশীল গ্রীষ্মকালীন ফল। আমাদের দেশে কম বেশী সব অঞ্চলে এ ফলের চাষ করা হয়। পেয়ারার মধ্যে থাই পেয়ারা খেতে খুবই মজাদার ও সুস্বাদু।
পেয়ারার পুষ্টিগুণ
পেয়ারা ভিটামিন ´সি´ সমৃদ্ধ একটি ফল। এ ছাড়া পেয়ারাতে প্রচুর পরিমান ভিটামিন-বি ও প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ যেমন- ক্যালশিয়াম ও আয়রণ রয়েছে। পেয়ারা কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থায় খাওয়া যায়। এছাড়া পেয়ারায় যথেষ্ট পরিমাণে পেকটিন থাকায় এ থেকে সহজেই জ্যাম, জেলী, চাটনী ইত্যাদি মুখরোচক খাবার   তৈরী করা যায়।
পেয়ারার জাত
আমাদের দেশে বেশ কয়েক জাতের পেয়ারা পাওয়া যায়। এর মধ্যে কাজী পেয়ারা, বারি পেয়ারা-২, বারি পেয়ারা-৩, বাউ পেয়ারা-১ (মিষ্টি), বাউ পেয়ারা-২ (রাংগা), বাউ পেয়ারা-৩ (চৌধুরী) এবং বাউ পেয়ারা-৪ (আপেল) ইত্যাদি। এছাড়াও থাই পেয়ারা, পলি পেয়ারা, আঙ্গুর পেয়ারা ইত্যাদি রয়েছে।
চাষ পদ্ধতি
অন্যান্য জাতের পেয়ারার মতোই জ্যৈষ্ঠ আশ্বিন মাস পর্যন্ত থাই পেয়ারা-৭ এর চারা রোপণ করা যায়। এ পেয়ারা চাষের জন্য নিকাশযুক্ত বেলে দো-আঁশ মাটিই উত্তম। বংশবৃদ্ধির জন্য বীজ থেকে চারা বা গুটি কলম ব্যবহার করা উচিত।  ৪*৪ বা ৩*৩ মিটার দূরত্ব ছকে এ জাতের পেয়ারার চারা রোপণ করতে হয়। রোপণের কয়েক সপ্তাহ আগে ৫০ সেন্টিমিটার  দৈর্ঘ্য, ৫০ সেন্টিমিটার প্রস্থ ও ৫০ সেন্টিমিটার চওড়া গর্ত খনন করতে হবে।  চারা রোপণের ১৫-২০ দিন পূর্বে প্রতিটি গর্তের মাটির সঙ্গে চারা ২০-২৫ কেজি পচা গোবর সার, ১৫০ গ্রাম টিএসপি ও ১৫০ গ্রাম এমওপি সার মিশিয়ে দিতে হবে।  তার পর সার মিশ্রিত মাটি দ্বারা গর্ত ভরাট করে গর্তের ঠিক মাঝখানে চারাটি রোপণ করতে হবে। চারা রোপণের পর গর্তের চারদিকে মাটি দ্বারা উঁচু করে বেঁধে দিতে হবে, যাতে বাইরের পানি এসে গাছের গোড়ায় না জমে।  গাছটি যাতে বাতাসে হেলে না পড়ে সেজন্য বাঁশের খুঁটির সঙ্গে হালকাভাবে বেঁধে দিতে হবে। মাটিতে রসের অভাব হলে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে।
পুনঃরুৎপাদন
বীজ দ্বারা বংশবিস্তার পুনঃরুৎপাদন করা খুব সহজ। কিন্তু বীজের গাছে মাতৃগুনাগুন সম্পন্ন পেয়ারা নাও পাওয়া যেতে পারে। তাই বীজ দিয়ে পুনঃরুৎপাদন না করে কলমের দ্বারাই পুনঃরুৎপাদন করা উত্তম। প্রধানত গুটি কলমের মাধ্যমে পুনঃরুৎপাদন করা হয়। কিন্তু আজকাল দেখা যায় গুটি কলমে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন রোগে আক্রন্ত হয়। তাই গুটি কলমের পরিবর্তে রোগ প্রতিরোধী জাত যেমন -পলি পেয়ারার রুটষ্টকের উপর সংযুক্ত জোড় বা ফাটল জোড় কলমের মাধ্যমে পুনঃরুৎপাদন করা হয়। মে- জুলাই মাস কলম করার উপযুক্ত সময়।
সেচ পদ্ধতি
পেয়ারার ভাল ফলন পেতে হলে ১৫ দিন পর পর গাছে সেচ দিতে হবে। তাছাড়া প্রতিবার গাছে সার প্রয়োগ করে গাছের গোড়ায় প্রয়োজনীয় রস সরবরাহের জন্য সেচ দিতে হবে। এ ছাড়াও বর্ষা কালে পানি নিকাশ ও খরা মৌসুমে নিয়মিত সেচ দিতে হবে।
সার প্রয়োগ
পেয়ারা গাছ থেকে অধিক ফলন পেতে পাঁচ বছরের নিচের একটি গাছে বছরে পচা গোবর ২০ থেকে ২৫ কেজি, ইউরিয়া ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম, টিএসটি ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ও এমওপি ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম এবং পাঁচ বছরের ওপরের প্রতিটি গাছে প্রতি বছর পচা গোবর ২৫ থেকে ৩০ কেজি, ইউরিয়া ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম, টিএসপি ৪৫০ থেকে ৫৫০ গ্রাম, এমওপি ৪৫০ থেকে ৫৫০ গ্রাম সার ব্যবহার করতে হবে।  উল্লিøখিত পরিমাণ সার সমান দুইভাগে ভাগ করে বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ এবং আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে দুই কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। সার প্রয়োগের পর প্রয়োজনে সেচ দিতে হবে।  অনেক সময় জিংকের অভাবে পাতার শিরায় ক্লোরোসিস দেখা যায়। সেক্ষেত্রে ৮০ লিটার পানিতে ৪০০ গ্রাম জিঙ্ক ও ৪০০ গ্রাম চুন মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে হবে। গাছের বয়স ভেদে গাছের গেড়ার ২৫-৫০ সেমিঃ বাদ দিয়ে দুপুর বেলায় গাছ যে পরিমাণ জায়গা জুড়ে ছায়া প্রদান করে সে পরিমাণ জায়গায় গাছের গোড়ার চারদিকে সার প্রয়োগের পর সম্পূর্ণ জায়গা কুপিয়ে উপরোক্ত সার মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে। এসময় পঁচা গোবর, ইউরিয়া, টিএসপি, পটাশ ইত্যাদি সার পরিমাণ মত প্রদান করতে হবে।
অঙ্গ ছাঁটাই
গাছের মরা, রোগাক্রান্ত ও অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ছাঁটাই করতে হবে। বয়স্ক গাছে আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ফল সংগ্রহের পর অঙ্গ ছাঁটাই করতে হবে। অঙ্গ ছাঁটাই এর সময় গাছের গোড়াতে গজানো অফসুট পাতাসমূহ অবশ্যই ছাঁটাই করতে হবে। এতে গাছে নতুন ডালপালা গজায় এবং তাতে প্রচুর ফল ধরে। পেয়ারা গাছের উল্লম্ব ডাল/খাড়া ডাল একটু সমান্তরালভাবে নুইয়ে দিলে উক্ত ডালে পেয়ারার ফলধারণ বৃদ্ধি পায়।
রোগ বালাই
ছাতরা পোকা, সাদা মাছি পোকা, ফল ছিদ্রকারী পোকা ও মাছি পোকাসহ বিভিন্ন রকমের পোকা দ্বারা পেয়ারার গাছ আক্রান্ত হয়। এসব পোকা-মাকড় দমনের জন্য সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করতে হবে। যেমন মাটিতে পড়ে থাকা পোকা বা আক্রান্ত ফল কুড়িয়ে ধ্বংস করা, ফেরোমোন ফাঁদ ও বিষ টোপ ব্যবহার করা। মার্বেল আকার হলে পেয়ারা পলি দিয়ে মুড়ে দেয়া ইত্যাদি। সাদা মাছি দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে পাঁচ গ্রাম ডিটারজেন্ট পাউডার মিশিয়ে গাছে স্প্রে করা যেতে পারে। আর অন্যান্য পোকা দমনের জন্য পেয়ারা গাছে ১০ থেকে ১৫ দিন পর পর দুই থেকে তিনবার সিমবুশ বা মেলাথিয়ন জাতীয় কীটনাশকের যে কোনো একটি প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২৫ মিলি মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। এছাড়া পেয়ারা গাছে অ্যানথ্রাকনোজ রোগ দেখা দিলে প্রথমে পেয়ারার গায়ে ছোট ছোট বাদামি রঙের দাগ দেখা দেয়। দাগগুলো ক্রমান্বয়ে বড় হয়ে পেয়ারার গায়ে ক্ষতের সৃষ্টি করে। আক্রান্ত ফল পরিপক্ব হলে অনেক সময় ফেটে যায়। এ রোগ দমনের জন্য গাছের নিচে ঝরে পড়া পাতা ও ফল সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। গাছে ফুল ধরার পর টপসিন-এম প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর স্প্রে করতে হবে। ভালোভাবে যতœ নিলে একটি পূর্ণবয়স্ক গাছে গ্রীষ্মকালে ৬০ থেকে ৭০ কেজি এবং হেমন্তকালে ৫০ থেকে ৬০ কেজি ফলন পাওয়া যায়।







সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 223        
   আপনার মতামত দিন
     বিশেষ প্রতিবেদন
সুশাসন ও জবাবদিহিতার চরম অভাব মানুষ হত্যা ও পরিবহনের নৈরাজ্য, কেরে নিচ্ছে নাগরিক অধিকার
.............................................................................................
ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
.............................................................................................
কৃষি মাশরুম চাষ : ঘরে বসে আয়
.............................................................................................
পেঁপে চাষ পদ্ধতি
.............................................................................................
ভারতের পাচারকৃত তিন কিশোর দেশে ফেরার অপেক্ষায়
.............................................................................................
স্থগিতই থাকছে খালেদার জামিন
.............................................................................................
বিদায় বীরমাতা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী
.............................................................................................
পরকিয়ায় সংসার ভাংলো পারভিনের. স্বামী জেল হাজতে
.............................................................................................
দুরমুজখালী সীমান্তে উদ্ধার হওয়া লাশ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য
.............................................................................................
ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ জটিলতার অবসান হলো
.............................................................................................
থাই পেয়ারার চাষ পদ্ধতি ও রোগ বালাই
.............................................................................................
৫৭ ধারা বাতিল ॥ আসছে ভয়ঙ্কর ৩২ ধারা
.............................................................................................
মানবাধিকার খবর’র উদ্যোগ
.............................................................................................
১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত
.............................................................................................
১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত
.............................................................................................
নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী সমাজ ও নারী উন্নয়নের কান্ডারী ছিলেন
.............................................................................................
অবক্ষয় ঠেকাতে মানবিকতার চর্চা অপরিহার্য
.............................................................................................
গ্রাফিক্স ডিজাইনার তারেকের অকাল মৃত্যু
.............................................................................................
বিশ্বমানবাধিকার আজ কোথায়?
.............................................................................................
লংগদুতে আদিবাসীদের ওপর হামলার বিচার নিশ্চিত করতে হবে
.............................................................................................
কৃষি উন্নয়নে অবদানে বাকৃবিতে ১১ ব্যক্তিকে সংবর্ধনা
.............................................................................................
বামাফা’র জঙ্গীবাদ সন্ত্রাসবাদ ও মাদক বিরোধী সেমিনার অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
খাদে ভরা স্বর্ণ ব্যবসা
.............................................................................................
একজন ক্রীড়া সংগঠক - দক্ষ রাজনীতিবিদ - সফল মেয়র বাগেরহাটের সর্বস্তরের জনপ্রিয় একটি নাম খাঁন হাবিবুর রহমান
.............................................................................................
মানবাধিকার খবরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন মায়ের কাছে ফিরেছে ভারতীয় কিশোরী বৈশাখী
.............................................................................................
বাবা-মেয়ের আত্মহত্যা এ দায় কার?
.............................................................................................
পরিবারের সাত সদস্য পাগল।
.............................................................................................
মাস্তান প্রকৃতির লোক রাখা হচ্ছে পরিবহনে চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা
.............................................................................................
নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় যত্নবান হতে হবে : হেলেনা জাহাঙ্গীর
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটি: ১৯ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ
.............................................................................................
মানবাধিকার খবরের উদ্যোগ ভারত থেকে দেশে ফিরছেন দুই কিশোর এক নারী
.............................................................................................
দেশ ও মানবতার কল্যাণে কার্যকরী ব্যবস্থা জরুরী
.............................................................................................
সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ, অপপ্রচার ও কুচক্রের শিকার
.............................................................................................
সংকট উত্তরণের উপায় কি নেই? জঙ্গিবাদ : মানবাধিকারের উপর চরম হুমকি
.............................................................................................
মসজিদের আর্থিক ‘কর্তৃত্ব পেতে’ পুরান ঢাকায় দু’বছরের পরিকল্পনায় মুয়াজ্জিন খুন
.............................................................................................
আমি সবার প্রেসিডেন্ট
.............................................................................................
যুক্তরাজ্যের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন বাংলাদেশসহ ৩০টি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

Editor & Publisher: Rtn. Md Reaz Uddin
Mobile:+88-01711391530, Email: md.reaz09@yahoo.com Corporate Office
53,Modern mansion(8th floor),Motijheel C/A, Dhaka
E-mail:manabadhikarkhabar@gmail.com,manabadhikarkhabar34@yahoo.com,
Tel:+88-02-9585139
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-9585140
    2015 @ All Right Reserved By manabadhikarkhabar.com    সম্পাদকীয়    Adviser List

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]