| বাংলার জন্য ক্লিক করুন

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   সাক্ষাতকার -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
অসহায় মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব হঠাৎ রান্নার অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন, কারণ কী?

সাক্ষাৎকার
অসহায় মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব
হঠাৎ রান্নার অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন, কারণ কী?

সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও এতিমদের কথা ভেবে `তারকার রান্নাঘর` অনুষ্ঠানটি তৈরি করা হয়েছে। ইফতারে তাদের প্রিয় রান্নাগুলো নিয়ে প্রতিটি পর্ব সাজানো হবে। নির্মাতা অনন্যা রুমা যখন এ আয়োজনের কথা বলেছেন, তখনই এর আয়োজনের সঙ্গে থাকব বলে কথা দিয়েছি। মানবিক দায় থেকেই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া। অসহায় মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব বলেই মনে করি। এ আয়োজনে আমার সঙ্গে অভিনেত্রী মৌসুমী থাকছেন- এটাও আনন্দের বিষয়।
আপনার নতুন গান `মন গাড়ি` নিয়ে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
যারা গানটি শুনেছেন, তাদের অনেকেই ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন। এই ভালো লাগার পেছনে গীতিকার প্লাবন কোরেশী ও সুরকার জাহিদ বাশার পঙ্কজের কৃতিত্ব স্বীকার করতেই হয়।
`মন গাড়ি`র নতুন কোনো গান নিয়ে কিছু ভাবছেন?
নতুন গানের আয়োজন তো চলছেই। অ্যালবাম না হলেও ঈদে কিছু একক গান প্রকাশের পরিকল্পনা আছে।
শুনলাম `দেবী` ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন?
ঠিকই শুনেছেন। `দেবী` ছবিতে `দোয়েল পাখি কন্যারে` শিরোনামের একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছি। ছবির কাহিনীর সঙ্গে মিলিয়ে গানের কথা লিখেছেন রাকিব হাসান রাহুল। সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন প্রীতম হাসান। এর আগে প্রীতমের সঙ্গীতে `লোকাল বাস` গানটি গেয়ে শ্রোতাদের কাছে দারুণ সাড়া পেয়েছি। এবারের গানটিও অনেকের ভালো লাগবে বলে আমার ধারণা।
অনেকদিন ধরে প্রচলিত গান সংগ্রহ করছেন। সেগুলো নিয়ে কোনো সংকলন প্রকাশ করবেন কী?
ইচ্ছা আছে, যেসব লোকগান অনেকে শোনার সুযোগ পাননি, তা নিয়ে একটি সংকলন প্রকাশ করার। গানগুলো খুঁজে পেতেও সময় লাগছে। এ জন্য বেশ কষ্টও করতে হচ্ছে।
আশার কথা হলো, এ কাজে অনেকেই আমাকে সাহায্য করছেন। যে জন্য অনেক ব্যস্ততার মাঝেও গান সংগ্রহ ও রেকর্ড করার সুযোগ পাচ্ছি।

অসহায় মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব হঠাৎ রান্নার অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন, কারণ কী?
                                  

সাক্ষাৎকার
অসহায় মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব
হঠাৎ রান্নার অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন, কারণ কী?

সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও এতিমদের কথা ভেবে `তারকার রান্নাঘর` অনুষ্ঠানটি তৈরি করা হয়েছে। ইফতারে তাদের প্রিয় রান্নাগুলো নিয়ে প্রতিটি পর্ব সাজানো হবে। নির্মাতা অনন্যা রুমা যখন এ আয়োজনের কথা বলেছেন, তখনই এর আয়োজনের সঙ্গে থাকব বলে কথা দিয়েছি। মানবিক দায় থেকেই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া। অসহায় মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব বলেই মনে করি। এ আয়োজনে আমার সঙ্গে অভিনেত্রী মৌসুমী থাকছেন- এটাও আনন্দের বিষয়।
আপনার নতুন গান `মন গাড়ি` নিয়ে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
যারা গানটি শুনেছেন, তাদের অনেকেই ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন। এই ভালো লাগার পেছনে গীতিকার প্লাবন কোরেশী ও সুরকার জাহিদ বাশার পঙ্কজের কৃতিত্ব স্বীকার করতেই হয়।
`মন গাড়ি`র নতুন কোনো গান নিয়ে কিছু ভাবছেন?
নতুন গানের আয়োজন তো চলছেই। অ্যালবাম না হলেও ঈদে কিছু একক গান প্রকাশের পরিকল্পনা আছে।
শুনলাম `দেবী` ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন?
ঠিকই শুনেছেন। `দেবী` ছবিতে `দোয়েল পাখি কন্যারে` শিরোনামের একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছি। ছবির কাহিনীর সঙ্গে মিলিয়ে গানের কথা লিখেছেন রাকিব হাসান রাহুল। সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন প্রীতম হাসান। এর আগে প্রীতমের সঙ্গীতে `লোকাল বাস` গানটি গেয়ে শ্রোতাদের কাছে দারুণ সাড়া পেয়েছি। এবারের গানটিও অনেকের ভালো লাগবে বলে আমার ধারণা।
অনেকদিন ধরে প্রচলিত গান সংগ্রহ করছেন। সেগুলো নিয়ে কোনো সংকলন প্রকাশ করবেন কী?
ইচ্ছা আছে, যেসব লোকগান অনেকে শোনার সুযোগ পাননি, তা নিয়ে একটি সংকলন প্রকাশ করার। গানগুলো খুঁজে পেতেও সময় লাগছে। এ জন্য বেশ কষ্টও করতে হচ্ছে।
আশার কথা হলো, এ কাজে অনেকেই আমাকে সাহায্য করছেন। যে জন্য অনেক ব্যস্ততার মাঝেও গান সংগ্রহ ও রেকর্ড করার সুযোগ পাচ্ছি।

মানবাধিকার খবরকে একান্ত সাক্ষাৎকার ড.মোঃ আব্দুর রহিম খান
                                  

মানবাধিকার খবরঃ বর্তমান বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি কি অবস্থায় আছে বলে আপনি মনে করেন ?
ড. আব্দুর রহিম খানঃ বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি অনেক ভালো আলহামদুলিল্লাহ,  তবে আরো চেষ্টা করতে হবে আমাদের।
হিউম্যান রাইটস কিন্তু সাধারণ মানুষ জানে না ও বোঝেনা নিজের কি ক্ষতি  নিজের কি প্রটেকশন আছে, নিজের যে কি কি অধিকার আছে। স্বাধীনতা ও যে একটা অধীকার এটা বোঝাতে বঙ্গবন্ধুকে দীর্ঘ সময় জেল খাটতে হয়েছে, সংগ্রাম করতে হয়েছে। আমি মনে করি আমাদের অধিকার, খাদ্যের অধিকার, বাঁচার অধিকার, শিক্ষার অধিকার, বাসস্থানের অধিকার, চিকিৎসার অধিকার। তথা মানুষ হিসেবে বাঁচার সব রকমের অধিকার সুরক্ষা করতে হবে। মানবাধিকার সু-রক্ষার জন্য  বাংলাদেশে এখনও অনেক বাকি। এর জন্য চেষ্টা করতে হবে। তবে আমাদের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী এজন্য যথেষ্ট চেষ্টা করছেন। আমরা ফল পাচ্ছি এবং আরো পাবো।
মানবাধিকার খবরঃ মিয়ানমার পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি ?
ড. আব্দুর রহিম খানঃ মিয়ানমারের বিষয়টা এতটা "ডিটোরিয়েট"  এত খারাপ অবস্থা, এটা আন্তর্জাতিভাবে স্বীকৃত মিয়ানমারের সমর্থক দেশ গুলো ছাড়া বাকি দেশ গুলো আমাদের আর্থিক সহযোগিতা করছে, যুক্তরাষ্ট্র,  সৌদিআরব, মালয়েশিয়া,  ভারত, সিঙ্গাপুর, মিডেলইস্ট-এর সব দেশ ইত্যাদি। আমরা চাই আমাদের এই সহযোগিতার হাত আরো বাড়ুক, আমরা যেন এই দুস্থ রোহিঙ্গাদের ভরণপোষণ দিতে পারি এবং সুন্দরভাবে তাদের ভিটে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে  পারি। পরিস্থিতি যেন ঠিক হয়ে যায় সেই আশাটা করছি রোহিঙ্গাদের জন্য।
মানবাধিকার খবরঃ বাংলাদেশের সাথে  ভারত সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যা নির্যাতন সহ সবধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে এ ব্যপারে আপনার মন্তব্য কি ?
ড. আব্দুর রহিম খানঃ ভারতের সাথে আমাদের সীমান্তবর্তী সমস্যাগুলি অনেক কমে গেছে। আগে যেমন পাকিস্তান আমলে অনেক সহিংসতা হতো বা পরে হয়েছে। সে তুলনায় বর্তমানে অনেক কম হচ্ছে। আমার নিজস্ব "অবজাররেশন" থেকে আমি বলব যেহেতু আমি বাংলাদেশ পুলিশের "এডিশনাল আই জি অব এডমিন" ছিলাম সে সময়ে দেখেছি বি ডি আর ও বি এস এফের কর্মকান্ড অনেক খারাপ ছিলো। মুক্তিযোদ্ধের পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারত ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশ হিসেবে পরিচিত  লাভ করেছে। কিন্তু সীমান্তে হত্যা ও অপরাধ প্রবনতার কারনে দুই দেশের সীমান্তে সেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক কঠিন হয়ে দাড়ায়। সম্প্রতি বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ  (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি  ফোর্স (বি এস এফ) যৌথভাবে  যশোর ও চব্বিশ পরগনার সোয়া আট কিলোমিটার সীমান্ত এলাকাকে ক্রাইম ফ্রি জোন ঘোষণার পর পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। বি এস এফ বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত ১২ সাংবাদিককে ক্রাইম ফ্রি জোন ঘোষিত সীমান্ত  এলাকা ঘুরিয়ে দেখায়। সীমান্ত এলাকায় সাংবাদিকরা বি এস এফ, বিজিবি এবং সব ধরণের মানুষের সঙ্গে কথা বলে সীমান্তের ইতিবাচক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পেরেছে। দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর যৌথ তৎপরতায় সীমান্তের চোরাকারবারিদের আনাগোন কমেছে। সীমান্তের কৃষকদের জমি চাষের সময় প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সন্দেহের স্বীকার হতে হচ্ছে না। ক্রাইম ফ্রি জোন সীমান্তে শান্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি হত্যা চোরাচালান সহ সব অপরাধের অবসান ঘটাতেও সামর্থ্য হয়েছে। শুধু সোয়া আট কিলোমিটার নয় পুরো সীমান্ত এলাকা যেন ক্রাইম ফ্রি জোন হয় সে উদ্দেশ্যে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।
মানবাধিকার খবরঃ বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সমাজে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কি কি কাজ করছেন।  কোনে প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন কি ?
ড. আব্দুর রহিম খানঃ আমাদের মানবাধিকার সংস্থা অনেক ধরণের কাজ করে যাচ্ছে।  সকল স্তরে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা সচেষ্ট।  মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিতদের সহায়তা করা হচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে অগ্রনী ভূমিকা পালন করা হচ্ছে।সকল স্তরের সকল প্রকার আইনি সহায়তা  দেওয়া হয়। পথশিশুদের উন্নয়নে কাজ করছি তাদের থাকার ব্যবস্থা, খাওয়ার ব্যবস্থা,  কাপড় সহ যাবতীয়  ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে মামলা গুলো গুরুত্ব সহকারে দেখছি। ইদানিং আমরা একটা কার্যক্রম শুরু করেছি প্রতিবন্ধীদের নিয়ে। তাদের শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা  করছি। বাংলাদেশে সবচাইতে প্রতিবন্ধীর সংখ্যাধিক্য হচ্ছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানায়, কারণ বাংলাদেশে যত তামাকের চাষ হয় তার ৯০শতাংশ চাষ হয় এই দৌলতপুর থানায়। সে জন্য সেখানে প্রতিবন্ধীর সংখ্যা সবচাইতে বেশী,  তাই আমরা সেখানে স্কুল গড়েছি তাদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য, আমরা এতে খুব ভালো সাড়া পেয়েছি।
এর প্রেক্ষিতে সারা বাংলাদেশ থেকে আমাদের অনুরোধ করা হচ্ছে আমরা যেন বাংলাদেশের সব অঞ্চলেও এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বা স্কুল প্রতিষ্ঠা করি বিশেষ করে যেখানে প্রতিবন্ধী রয়েছে। আমরা প্রতিবন্ধীদের নিয়ে বেশ কিছু পরিকল্পনা করেছি। ইনশাআল্লাহ আমরা এগুলো বাস্তবায়ন করবো। স্বাধীনভাবে কাজ করতে আমরা চেষ্টা করি। অনেক সময় আমাদের যে পরিকল্পনা থাকে, সে অনুযায়ী কাজ করতে পারিনা বিভিন্ন কারণে। আমাদের অনেক কিছু বাকি আছে আশা করি আমরা করতে পারবো। অগ্রগতি হচ্ছে কাজের সুবিধা বাড়ছে কাজ করবার, সরকারের সু-দৃষ্টি বাড়ছে, জনগনের সহযোগিতা বাড়ছে, যেখানে যাই আমরা সহযোিতা পাই। তারপরও প্রতিবন্ধকতা থাকেনা এমন নয় থাকে, তারপরও আমরা এগুলোকে মেনে নিয়ে নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছি।
মানবাধিকার খবরঃ মানবাধিকার বিষয়ক বিশ্বের একমাত্র নিয়মিত সৃজনশীল জনপ্রিয় বাংলা প্রকাশনা  সম্পর্কে আপনার অভিমত জানতে চাই ?
ড. আব্দুর রহিম খানঃ মানবাধিকার খবর পত্রিকাটির জন্মলগ্ন থেকে আমি আপনাদের সাথে আছি এবং কাজ করে যাচ্ছি এর কার্যক্রম মহৎ ও ভাল। বিশেষ করে আপনারা যে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া,  হারিয়ে যাওয়া, এতিম শিশু, ছাত্রছাত্রীদের ও নারীদের ভারত থেকে  উদ্ধার করে আনছেন ভারত সরকারের মাধ্যমে এতে আমি মুগ্ধ হয়েছি। নারী ও শিশু উদ্ধার কর্মসূচি  অব্যাহত রেখেছেন এতে দেশে যেমনি প্রশংসিত হয়েছেন, ভারত সরকারও ঠিক তেমনি আপনাদের প্রশংসা করেছেন। এবং আপনাদের সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে অধিকার বঞ্চিত অসহায় মানুষের সেবা প্রদান করছেন দেশ-বিদেশ থেকে নারী ও শিশু উদ্ধার, আইনি সহায়তা,  চিকিৎসা শিক্ষা সংস্কৃতি নানাবিদ সামাজিক কাজ করে যাচ্ছেন তা যেন অব্যাহত থাকে  এটাই আমি চাই। আজ আপনারা যে আমাকে এই পত্রিকার প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব  দিয়েছেন, আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। এতে করে আমরাও আপনাদের সাথে আরও বেশী  করে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। তাই আমি সত্যিই আনন্দিত। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আপনারা যেন আরো এগিয়ে যেতে পারেন তার জন্য আমি সর্বাত্মক আপনাদের সাথে কাজ করে যাব।

দেশটা নামে স্বাধীন বাংলাদেশ, কিন্তু আইন-কানুনে পাকিস্তান
                                  

মানবাধিকার খবরের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ প্রদেশ বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক সিরাজুল আলম খান  বাংলাদেশ প্রদেশ বাস্তবায়ন পরিষদের রাষ্টীয় কাঠামো শাসন ব্যবস্থা সম্বলিত ১৪ দফার বাস্তবায়ন সম্পর্কে যা বলেন তা থেকে গুরুত্ব পূর্ণ অংশ পাঠকদের উদ্দেশ্যে  তুলে ধরা হল।
সিরাজুল আলম খান ঃ ব্রিটিশদের করা ১৮৬১ সালের যে আইন করেছিলো তা এখনো বলবৎ, যে আইন দিয়ে পাকিস্তান আমাদের শাসন করেছে সে আইনে এই স্বাধীন বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে এটা জনগণের জন্য এক ধরনের পরাধীনতা। ব্রিটিশরা শাসন শোষনের উদ্দেশ্যে ১৮৬১ সালে যেসব আইন করেছিলো তা আজো বহাল আছে। বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি বলেছে ব্রিটিশরা এ দেশ শাসনের উদ্দেশ্যে ১৮৬১ সালে যেসব আইন করেছিলো তা দিয়ে আজও কাজ চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রচলিত আইনের সংখ্যা বারো শতাধিক। এর প্রায় সবই ব্রিটিশ আমলে প্রণীত, পাকিস্তান আমলেও এসব আইনের পরিবর্তন করা হয়নি। এসব আইন হলো উপনিবেশিক আইন। এ ধরনের আইন দিয়ে বিদেশি শক্তিরা তাদের উপনিবেশে (অধীনস্ত দেশ) করে থাকে, তার নামই পরাধীনত এ ধরনের আইন ও বিধিমালা দিয়েই ব্রিটিশ পাকিস্তানিরা আমাদেরকে শাসন, শোষণ এবং নির্যাতন করতো। ৯ মাস ব্যাপীসশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে এই দীর্ঘ কালের সংগ্রাম শেষ হয় ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। এ দেশ স্বাধীন হতে ২ লাখ মা-বোনের মান-সম্ভ্রম ও ৩০ লাখ বাঙালি শহীদের রক্তের বিনিময়ে এসেছে। বাংলার মানুষ হাজার বছর ধরে কোটি কোটি নর-নারী সীমাহীন দুর্দশা-দুর্ভোগকে উপেক্ষা করে ইতিহাস সৃষ্টির লক্ষে সংগ্রাম করেছে, যার ফলশ্রুতিতে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর মাত্র কয়েকদিন প্রবাসী সরকারের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ পরিচালনা করে। কিন্তু অবাক বিস্ময়ে বাঙালিরা এবং বিশ্ব দেখলো বাংলাদেশ সরকার ব্রিটিশ পাকিস্তানিদের আইন-কানুন বজায় রেখেই এই দেশকে শাসন করা শুরু করলেন। তারপর জিয়া, এরশাদ, খালেদা, হাসিনা সকলে একইভাবে এইসব ঔপনিবেশিক আইনের মাধ্যমে দেশ শাসন করেছে এবং এখনো করছে। কার্যত যা হলো স্বাধীনতার এতোদিন পরেও দেশটা নামে স্বাধীন বাংলাদেশ, কিন্তু আইন-কানুনে ‘পাকিস্তান’। এ প্রসঙ্গে বলতে হয় ‘যে আইন ও বিধির দ্বারা বিদেশি শাসকরা শাসন করে সে আইন ও বিধি বদলিয়ে নিজেদের উপযোগী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই স্বাধীনতার মূল কথা। বিদেশি শাসক বদলিয়ে দেশীয় শাসকদের ক্ষমতায় বসিয়ে ঔপনিবেশিক আমলের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও শাসন ব্যবস্থা দিয়ে দেশ পরিচালনা করা জনগণের জন্য এক ধরনের পরাধীনতা; যাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় “অভ্যন্তরীন’ পরাধীনতা। গণপ্রজাতন্ত্রী, বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির জন্য ১৯৭২ সালে প্রবর্তিত সংবিধানের পর্যালোচনা করলে দেখতে পাবো, প্রচলিত সংবিধান বস্তুতপক্ষে অভ্যন্তরীন পরাধীনতা, অভ্যন্তরীন উপনিবেশবাদ সংরক্ষণ করার জন্য একটি অকাট্য দলিল, যার প্রায় সকল ধারা-উপধারাই জনগণের গণতন্ত্র চর্চা মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শ্রমজীবি-কর্মজীবি, পেশাজীবি জনগোষ্ঠীর কাঙ্খিত মুক্তির প্রতিবন্ধক। এই সংবিধান সাধারণ জনগণ যারা তাদের জীবন-জীবিকার ক্ষেত্রে শ্রমজীবি-কর্মজীবি-পেশাজীবি হিসেবে সমাজে বিভাজিত তাদেরকে রাষ্ট্র পরিচালনায় ও রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারণে অংশীদার করার বিন্দুমাত্র সুযোগ না দিয়েই কেবলমাত্র দলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেয়। এই সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যে সকল রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের জন্ম দিয়েছে, তা ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক আমলের চেয়ে নতুন কিছু নয়। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক আমলেই প্রবর্তিত জনগণের অধিকার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উপযোগী অনেক প্রয়োজনীয় বিষয়াবলীকে, বিকশিত করার পরিবর্তে পরিকল্পিত ভাবেই বর্জন করা হয়েছে, তাই স্বাধীন দেশ পরিচালনা করার উপযোগী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পক্ষে প্রচলিত সংবিধানই সীমাহীন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলেছে। এই সংবিধান কার্যত জনগণের অধিকার, জনগণের ক্ষমতায়ন এবং জনগণের কর্তৃত্ব কায়েমের পরিবর্তে দল বা মহল বিশেষকে ক্ষমতায়িত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে চলছে। এই কারণে এই সংবিধানকে ভিত্তি করেই গত ৪৮ বছরে গণতন্ত্র চর্চার পরিবর্তে রাষ্ট্র-পরিচালনায় ব্যক্তিশাসন এক দলীয় শাসন, দলীয় শাসন সামরিক শাসন সহ মহল বিশেষের পর্যায়ক্রমিক পালাবদল হচ্ছে। কিন্তু দেশের এ সকল আইনে গণতন্ত্র রক্ষা হচ্ছেনা। তাই আমরা ব্রিটিশ-পাকিস্তানি নির্যাতন ও শোষণমূলক আইন-কানুন জরুরিভিত্তিতে সংস্কার করে এই পরাধীনতা থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই। স্বাধীনতার প্রথম প্রহরে ১৯৭২ সালের (ফেব্রুয়ারী মাসে) আমার উত্থাপিত ১৫ দফা সুপারিশমালা গুরুত্ব সহকারে বিবেচিত হলোনা। এদিকে ৪৮ বছর পার হয়ে যাচ্ছে এখনো পরাধীন আমলের আইন-কানুন দিয়ে চলছে। জে এসডির ১০ দফা, আমার ১৪ দফা উত্থাপিত হয়েছে। এ হলো স্বাধীন দেশ উপযোগী নতুন ধারার রাজনীতি -এর কর্মসূচি। সেই প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে দেশের পরিস্থিতি আজ এমন হতো না। পুরোনো সংবিধান দিয়ে বর্তমান সংকট নিরসন করা কনোভাবেই সম্ভব নয়। এই পরাধীনতাকে নির্মূল করার জন্য আমাদের প্রস্তাব-১। দুই কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট ও ফেডারেল সরকার গঠন করতে হবে। ২। নি¤œ কক্ষ (তিনশত) ও উচ্চ কক্ষ (দুইশত) সদস্য নিয়ে দুইক্ষ বিশিষ্ট জাতীয় সংসদ (পার্লামেন্ট) গঠন করতে হবে। ৩। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য থাকতে হবে। ৪। ৯টি প্রদেশ, প্রাদেশিক সরকার ও প্রাদেশিক পরিষদ থাকতে হবে।  ৫। প্রত্যেক প্রাদেশিক পরিষদে একশত পঞ্চাশ (১৫০) সদস্যের প্রতিনিধি থাকবে। এ তৃতীয়াংশ আসবে শ্রেণী পেশার প্রতিনিধি হিসেবে। উচ্চ কক্ষে প্রাদেশিক পরিষদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। ৬। ‘স্ব-শাসিত’ উপজেলা ব্যবস্থা থাকবে। ‘স্ব-শাসিত’ ব্যবস্থা সংসদ সদস্য ও আমরঅ প্রভাব মুক্ত থাকতে হবে। ৭। প্রবাসীদের অর্থায়নে প্রতি উপজেলা ও পৌরসভায় শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে হবে। ৮। সিটি কর্পোরেশন সমূহে মেট্রোপলিটন সরকার গঠন করতে হবে। ৯। উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট, মেগা-সী-পোর্ট ও কানেকটিভিটি স্থাপন করতে হবে। ১০। পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ থেকে গঠিত হবে নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকার। ১১। জাতীয় অর্থনৈতিক কমিশন (ঘঊঈ) গঠন করতে হবে। ১২। জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল (ঘঊঈ) গঠন করতে হবে। ১৩।উচ্চকক্ষে প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে। ১৪। ২০২০ সাল নাগাদ প্রত্যেক নাগরিককে বছরে কমপক্ষে দুই লক্ষ টাকা হারে পাঁচ সদস্যের প্রতি পরিবারের জন্য দশ লক্ষ টাকা আয় নিশ্চিত করতে হবে।          অনুলিখন-রুবিনা শওকত উল্লাহ।


রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতির অগ্রপশ্চাৎ
                                  


চারটি রাষ্ট্রীয় মূলনীতি আমাদের সংবিধানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবেই গ্রহীত হয়েছিল। মনে করা হয়েছিল যে এরা হলো রাষ্ট্রের মতাদর্শিক স্তম্ভ এবং সেই সঙ্গে গৌরবোজ্জ্বল অর্জনের স্মারক। আশা করা গিয়েছিল যে তারা কখনোই পরিত্যক্ত হবে না। তাদের নির্দেশনাতেই আমরা সামনে এগোব। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে  যে মূলনীতিগুলো আর আগের মতো নেই, বদলে গেছে। আর বদলে যে গেছে সেটা বোঝার জন্য সংবিধানের সংশোধনীগুলোর অবস্থার খোঁজ করার দরকার হয় না, সর্বত্রই তাদের মলিনতা টের পাওয়া যায়। পরিবর্তন গোটা আর্থসামাজিক আবহাওয়াজুড়েই ঘটেছে। আবহাওয়াটা ভালো নয়।
মূলনীতি চারটি কেন এসেছিল? এসেছিল আমাদের সমষ্টিগত সংগ্রামের ফলে এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি হিসেবে। না এসে উপায় ছিল না। শুরুতে, যুদ্ধকালে, মূলনীতি ছিল তিনটি: ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র। এদের কেউই ভুঁইফোড় নয়। আকাশ থেকেও পড়েনি। কোনো ষড়যন্ত্রের কারণে কিংবা করুণার পথ ধরে আবির্ভূত হয়নি। তাদের আসাটা ছিল যেমন অনিবার্য, তেমনি স্বাভাবিক।
একেবারে প্রাথমিক প্রয়োজন ছিল ধর্মনিরপেক্ষতার। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের শুরুই হয়েছিল দ্বিজাতিতত্ত্বকে প্রত্যাখ্যান করে। দ্বিজাতিতত্ত্বটা ছিল ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের ওপর নির্ভরশীল। বাঙালিরা সেটাকে প্রত্যাখ্যান করেছে দেখে পাকিস্তানি হানাদারেরা ক্ষিপ্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত উন্মাদের মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ঘা লেগেছিল তাদের স্বার্থে। তারস্বরে তারা ঘোষণা করেছিল, ইসলামকে রক্ষা করবে; ইসলাম রক্ষা আর পাকিস্তান রক্ষা তাদের কাছে একাকার হয়ে গিয়েছিল। হানাদারদের যারা পালের গোদা, সামরিক বাহিনীর মস্ত মস্ত বীরপুরুষ, তারা ধর্মকর্মের জন্য বিখ্যাত ছিল না। নিজেদের শৌর্যবীর্য তারা ধর্মাচরণের ভেতর দিয়ে প্রদর্শিত করেনি। পাকিস্তানি জাতির পিতা কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ নামাজ পড়তেন বলে জানা যায় না; রোজার মাস কখন আসে কখনই বা বিদায় নেয়, তার খবর যে রাখতেন না এমন প্রমাণ আছে। অখন্ড পাকিস্তান রাষ্ট্রের শেষ প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানের বিশেষ খ্যাতি জঙ্গের ময়দানে যতটা না প্রকাশ পেয়েছে, ততোধিক ধরা পড়েছে মদ্যপানের আসরে। কিন্তু ওই রাষ্ট্রনায়কেরা কেউই রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহার করতে কার্পণ্য করেননি। ধর্মকে তাঁরা ব্যবহার করেছেন ধর্মের স্বার্থে নয়, নিজেদের স্বার্থেই। অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সূত্রপাতই হয়েছিল ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদকে নাকচ করে দিয়ে। বাংলাদেশের মানুষ হানাদারদের চেয়ে বেশি ধার্মিক; কিন্তু ধর্ম ও রাষ্ট্রকে তারা কখনোই একাকার করে ফেলতে চায়নি। আলাদা করে রাখতে চেয়েছে। এমনকি পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠার জন্য তারা যে উৎসাহী হয়েছিল, সেটাও ধর্মের প্রয়োজনে নয়, ইহজাগতিক প্রয়োজনেই। তারা আশা করেছিল, পাকিস্তান তাদের শোষণ থেকে মুক্ত করবে। হুজুরদের স্ফীতি দেখলে এখনো তারা অস্বস্তিই বোধ করে, ভরসা পাওয়া দূরের কথা।
মূলনীতির আরেকটি ছিল গণতন্ত্র। পাকিস্তানে গণতন্ত্রের নাম-নিশানা ছিল না। সেখানে শাসন ছিল পুরোপুরি আমলাতান্ত্রিক; অসামরিক কখনো কখনো, সরাসরি সামরিকই ছিল বড় একটা সময়জুড়ে। এটা তো জানা সত্য যে প্রকৃত গণতন্ত্র ভোটের চেয়ে বেশি; সে গণতন্ত্রের ভিত্তি হচ্ছে নাগরিকদের অধিকার ও সুযোগের সাম্য, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং প্রকৃত জনপ্রতিনিধিদের কর্তৃত্ব। যথার্থ গণতন্ত্র তো ছিলই না, ভোটের গণতন্ত্রও দেখা যায়নি। পাকিস্তানের ২৩ বছরের ইতিহাসে কোনো সাধারণ নির্বাচন হয়নি, শেষমেশ যখন হলো তখন রাষ্ট্র নিজেই গেল দুই টুকরো হয়ে। গণতন্ত্রের প্রাথমিক শর্তও কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতাই। ইহজাগতিকতার প্রতিষ্ঠার জন্য তো অবশ্যই, নাগরিকদের মধ্যে সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্যও ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন দূর করাটা ছিল অত্যাবশ্যকীয়।
যাকে প্রকৃত গণতন্ত্র বলছি, সেটার অর্জন সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছাড়া সম্ভব নয়। তার কারণ, সম্পত্তির সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠা না করলে অধিকার ও সুযোগের সাম্য আসে না; ধনবৈষম্য বহুবিধ বৈষম্যের আকর হয়ে দেখা দেয়। পাকিস্তান আমলে সব ক্ষেত্রেই সেটা ঘটেছে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার জন্য যে সংগ্রাম হয়েছে, তাতে জাতীয়তাবাদীরা ছিলেন, সমাজতন্ত্রীরাও ছিলেন। বড় দুটি ঘটনায়, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে এবং উনসত্তরের জনঅভ্যুত্থানে, সমাজতন্ত্রীরাই ছিলেন সম্মুখবর্তী শক্তি। কিন্তু রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত লড়াইটাতে তাঁরা নেতৃত্ব দিতে পারেননি। সেটা দিতে পারলে লড়াইয়ের মীমাংসাটা হয়তো অন্য রকমের হতো এবং রাষ্ট্রীয় চার নীতির মধ্যে সর্বশেষ যেটি, অর্থাৎ সমাজতন্ত্র, সেটিই এককভাবে প্রতিষ্ঠা পেত; অন্য তিনটির আবশ্যকতা থাকত না।
মনে আছে যে, যুদ্ধের সময়ে তিনটি নীতির কথাই শোনা গেছে; জাতীয়তাবাদ যুক্ত হয়েছে যুদ্ধজয়ের পরে। সংযোজনটা জাতীয়তাবাদীরাই করেছেন। আগে যে করেননি, সেটা হয়তো প্রয়োজন মনে করেননি বলেই। কেননা যুদ্ধটা তো আত্মস্বীকৃত ও ঘোষিত রূপেই ছিল জাতীয়তাবাদী। কিন্তু মূলনীতির তালিকায় পরে যে জাতীয়তাবাদকে যুক্ত করলেন, তার পেছনে তাড়নাটি কী ছিল? সেটা কি এই যে, নিজেদের এই মর্মে আশ্বস্ত করাটা দরকার পড়েছিল যে তাঁরা জাতীয়তাবাদ থেকে বিচ্যুত হবেন না? নাকি অন্য তিনটি মূলনীতিকে নিয়ে তাঁদের অস্বস্তি ছিল, সেগুলো যাতে জাতীয়তাবাদকে অভিভূত করে না ফেলে তার জন্যই জোরেশোরে জানিয়ে দেওয়া যে, জাতীয়তাবাদ আছে এবং থাকবে? এই জিজ্ঞাসাটা কিন্তু রয়েই যাচ্ছে। তাত্ত্বিকভাবেও জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের দূরত্বটা কোথায় ও কতটা, সে নিয়েও তদন্ত চলতে পারে। বিশেষ করে, এই জন্য যে, হানাদার পাকিস্তানিরাও জাতীয়তাবাদীই ছিল এবং তারা খুবই দূরে ছিল অন্য তিনটি মূলনীতি থেকে। আর এটাও তো জানা আছে আমাদের, জাতীয়তাবাদীরা যদি সমাজতন্ত্রের আওয়াজ তোলে, তাহলে সেটা হয়ে দাঁড়ায় অশনিসংকেত। হিটলার তো জাতীয় সমাজতন্ত্রের আওয়াজ তুলেই তাঁর দেশের লোককে খেপিয়েছিলেন; নিজের দলের নামও রেখেছিলেন জাতীয় সমাজতন্ত্রী জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি। আর গণতন্ত্র অর্থ যদি কেবলই ভোট হয়, তবে তো একনায়ক বা ‘ডিক্টেটর’ হিসেবে আবির্ভাবের সময় তাঁর পক্ষে ভোট পড়েছিল শতকরা ৮৮টি। তাহলে? মুসোলিনিও যাত্রা শুরু করেছিলেন সমাজতন্ত্রের পতাকা হাতেই, পরে সুযোগ বুঝে তুলেছেন জাতীয়তাবাদের পতাকা। সমাজতন্ত্রীদের সমাজতন্ত্র আর জাতীয়তাবাদীদের সমাজতন্ত্র এক বস্তু নয়, একেবারেই আলাদা।
মোটা দাগে সত্যটা এই রকমের যে, জাতীয়তাবাদ যখন আত্মরক্ষামূলক না হয়ে ক্ষমতালিপ্সু হয়, তখন তার হাতে কোনো নীতিই নিরাপদ থাকে না। একাত্তরে প্রকাশ্যে যুদ্ধটা চলছিল পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে বাঙালি জাতীয়তাবাদের; এতে পাকিস্তানিরা ছিল ক্ষমতালিপ্সু, বাঙালিরা আত্মরক্ষাকারী। ক্ষমতালিপ্সু হিটলার, মুসোলিনি ও ইয়াহিয়া খানের জাতীয়তাবাদ আবার পুঁজিবাদীও বটে। পুঁজিবাদের প্রথম কাজ বৈষম্য সৃষ্টি করা; যে জন্য চরিত্রগতভাবেই সে ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের বিরোধী। ওই তিনটি নীতি বৈষম্য মানে না, উল্টো তার অবসান চায়।
বাংলাদেশের আদি রাষ্ট্রীয় মূলনীতিগুলোর বর্তমানে যে দুর্দশা, এর ভেতরে আমাদের গত ৪৬ বছরের আর্থসামাজিক ইতিহাসটা লুকিয়ে রয়েছে। এটি পুঁজিবাদী উন্নতির ইতিহাস। একদিকে ঘটেছে উন্নতি, অন্যদিকে অবনতি। যেমন ঢাকা শহরে প্রচুর মোটরগাড়ি এসেছে, কিন্তু তাতে শহরের বাসিন্দাদের চলমানতা বাড়েনি, উল্টো কমেছে। দেশে কেউ কেউ ধনী হয়েছে, ইতিমধ্যে বিশ্বমানের অন্তত একজন ধনীর সন্ধান পাওয়া গেছে, অচিরেই তাদের সংখ্যা বাড়বে। এর বিপরীতে দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও বেড়েই চলেছে। দুর্নীতিতে আমরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি, বায়ুদূষণে ঢাকা সারা প্রথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। কর্মক্ষেত্রে মেয়েদের উপস্থিতি অত্যন্ত উজ্জ্বল, কিন্তু নারী নির্যাতনের মাত্রা ক্রমাগত নিষ্ঠুরতর হচ্ছে। শিক্ষিতের হার বাড়ছে; কিন্তু তিন ধারার শিক্ষা তিন দিকে ছুটছে। আধুনিকতা বেপরোয়া হতে চাইছে, আবার হেফাজতিরাও বেগে ধেয়ে আসছে। পুঁজিবাদী এই উন্নতির পক্ষে রাষ্ট্রীয় মূলনীতিগুলোর সঙ্গে শত্রুতা না করে উপায় নেই; এবং সেটাই সে নিয়ম মাফিকই করে চলেছে। মূলনীতিগুলোর দুর্দশা সামাজিক দুর্দশারই প্রতিচ্ছবি। অতিশয় বিশ্বস্ত। উন্নতির নিচে চাপা পড়ে নিঃশব্দে ক্রন্দন করছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।
পুঁজিবাদ দৃশ্যত বেশ ভদ্র, কিন্তু ভেতরে অতিশয় নির্মম। এই নির্মমতার চেহারাটা ভয়াবহ রকমের দানবীয়। প্রতীক দেখতে চাইলে দেখতে পাব ড. জেকিল এবং মিস্টার হাইডের সম্পর্কের মধ্যে। ড. জেকিল একজন চিকিৎসাবিজ্ঞানী, সে অত্যন্ত সজ্জন ও জ্ঞানী। ভদ্রলোক এমন একটা ওষুধ আবিষ্কার করেছে, যার প্রয়োগে তার নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কুপ্রবৃত্তি ব্যক্তির অবয়ব নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে। এই লুকানো মানুষটি যেমন কদর্য, তেমনি নিষ্ঠুর। চিকিৎসাবিজ্ঞানী ড. জেকিল প্রায়ই মি. হাইডের চেহারা নিয়ে বের হয়ে আসত এবং তান্ডব বাধাত। আস্তে আস্তে দেখা গেল, দানবীয় মি. হাইড ভদ্রলোক ড. জেকিলের নিয়ন্ত্রণ আর মানছে না, যখন তখন বের হয়ে পড়ছে এবং জেকিলের ওষুধের ক্ষমতাও ক্রমে কমে আসছে, হাইডকে জেকিলের ভেতর ফেরত পাঠাতে তার কষ্ট হচ্ছে। পুঁজিবাদের উন্নত ও সভ্যতার নিচে ওই দুরাচারীটি বসবাস করে। সে ন্যায়-অন্যায় মানে না, নিজের সুখ ছাড়া অন্য কিছু বোঝে না, সবকিছু ছারখার করে দেয়। মি. হাইডরূপী পুঁজিবাদ আজ বিশ্বব্যাপী তান্ডব চালাচ্ছে, রূপ নিয়েছে সে ফ্যাসিবাদের। আমরাও তার দৌরাত্ম্যের অধীনেই আছি। মুক্তির লালিত স্বপ্ন পদদলিত হচ্ছে। চতুর্দিকে তাই আতঙ্ক ও হতাশা।
রবার্ট লুই স্টিভেনসনের উপন্যাসে ড. জেকিল শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করেছিলেন। তার সঙ্গে সঙ্গে মি. হাইডেরও মৃত্যু ঘটে। কিন্তু পুঁজিবাদ যে আত্মহত্যা করবে, এ ভরসা আজ মিছে। তাকে তাড়াতে হবে; তার জায়গায় মানবিক এক সভ্যতা এখন প্রতিষ্ঠার জন্য অপেক্ষায় আছে। সে প্রতিষ্ঠা এমনি এমনি ঘটবে না, তার জন্য সংগ্রামের প্রয়োজন হবে। বিশ্বব্যাপী সে সংগ্রাম এখন চলছে। উগ্র জাতীয়তাবাদীরা নয়, অঙ্গীকারবদ্ধ সমাজতন্ত্রীরাই সেটা করছেন এবং করবেন।
আমাদের রাষ্ট্রীয় মূলনীতিগুলোর দুর্দশাও সে খবরটাই দিচ্ছে। একাত্তরে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েছে, কয়েক লাখ নারী সম্ভ্রম হারিয়েছে। রাষ্ট্রীয় মূলনীতিগুলো ওই সংগ্রামেরই অর্জন। তাদের রক্ষা ও প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব আজ দেশবাসীর; নীতিগুলোর স্বার্থে নয়, নিজেদের স্বার্থে; বাঁচার প্রয়োজনে। এবং ভুলবার কোনো উপায়ই নেই যে লড়াইটা পুঁজিবাদবিরোধী। রাষ্ট্রীয় চার নীতির দুর্দশা পুঁজিবাদই ঘটিয়েছে, তাকে না তাড়ালে আমাদের মুক্তি নেই। এটা একাত্তরে সত্য ছিল, আজ সেটা সত্য আরও স্পষ্টরূপে।
                                                                     লেখক : ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মানবাধিকার খবরকে একান্ত সাক্ষাৎকারে সোহেল রানা
                                  

আমাদের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম সোহেল রানা। তিনি প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে
মাসুদ পারভেজ, আর অভিনেতা হিসেবে সোহেল রানা নামে খ্যাত। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলার প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক পূর্ণ দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ওরা ১১ জন ছবির মাধ্যমে তার পদযাত্রা। এরপর থেকে তিনি অসংখ্য চলচ্চিত্রে
অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শক হৃদয় জয় করেন। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্রের পুরস্কার সহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। সোহেল রানার একটি সন্তান মাশরুর পারভেজ জীবরার, স্ত্রী ডা. জিনাত পারভেজ। সোহেল রানা বাস্তব জীবনের সত্যিকার এক নায়ক তাইতো ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দেশ রক্ষা করতে ঝাপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে এবং যুদ্ধ করে আনতে পেরেছেন দেশের স্বাধীনতা। মানবাধিকার পরিস্থিতির সামগ্রিক অবস্থা ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা চলচিত্রের কিংবদন্তি সোহেল রানা মানবাধিকার খবরকে একান্ত সাক্ষাৎ প্রদান করেন। যার বিশেষ অংশ মানবাধিকার খবর-এর পাঠকের জন্য তুলে ধরা হল-
মানবাধিকার খবর ঃ বর্তমানে আপনার কিভাবে সময় কাটছে। আপনার লেখা একাধিক বইতো প্রকাশ পেয়েছে। সম্প্রতি কোন লেখায় কি হাত দিয়েছেন?
সোহেল রানা ঃ আমার সময়টা কাটছে ধর্মীয় কর্মের মাধ্যমে। বই পড়ে, সমাজ ও মানুষকে নিয়ে ভেবে। কিছুটা সময় রাজনীতিকে ঘিরে। সম্প্রতি একটি চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। পাশাপাশি আমার আত্ম-জীবনি লেখায় হাত দিয়েছি, এইতো এভাবেই সময় অতিবাহিত হচ্ছে।
মানবাধিকার খবর ঃ বর্তমান বিশ্বে মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার অভিমত জানতে চাই?
সোহেল রানা ঃ দেখুন আগে তো মানবতা বোধটা থাকা দরকার তারপর হচ্ছে অধিকারের কথা। যে মানুষের মধ্যে মানবতা বোধ থাকে, মানবিক মূল্যবোধ থাকে ও মানুষের প্রতি মায়া-মমতা থাকে তবেই না সে মানব হবে। তারপর আসবে অধিকারের কথা। মানব না হলে মানবাধিকার বিষয়টি যথার্থ হবে না। বিশ্বের সব ক্ষমতাধর দেশগুলো নিজেদের সভ্য বলে দাবি করলেও তারা কি আসলেই সভ্য বা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। বিশ্বের শক্তিধর সভ্য জাতি যুক্তরাষ্ট্র তাদের কথা যদি বলি সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হিলারি থেকে পঞ্চাশ হাজার ভোট কম পেয়ে পরাজিত হয়েছে। কিন্তু দেখা গেল ভোট নির্বাচকগণ সিলেকশানের মাধ্যমে ট্রাম্পকে জয়ী করলো, অথচ তারা বিশ্ব বাসীর কাছে গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে বেড়ায়। কোথায় গণতন্ত্র, কোথায় মানবাধিকার। যেমন লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট গাদ্দাফীর কথা যদি বলি তাকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দোহাই দিয়ে আমেরিকা হত্যা করল, বিশ্ববাসী শুধু দেখেই রইল। মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো হচ্ছে খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পোশাক অথচ এর সবকটি গাদ্দাফীর আমলে ফ্রি ছিল। এটাকেই বলে মানবাধিকার, গণতন্ত্রের অধিকার। আমেরিকার নিজেরই গণতন্ত্র ঠিক নেই তার দেশে খাদ্য বাসস্থান চিকিৎসা, শিক্ষা ও পোশাক কোনটাই ফ্রি না, আবার অভিবাসী বিতাড়িত করতে চাচ্ছেন অথচ তারাই বিশ্ববাসীর উপর মাতাব্বরী করে চলেছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া রোহিঙ্গা জাতির উপর যে নির্যাতন চলছে এটি একটি জাতির জন্য চরমভাবে মানবাধিকার লংঘন বলে মনে করি। এই যে সূচি দশ লক্ষ রোহিঙ্গাদের আমাদের দেশে আসতে বাধ্য করেছে। তারা অত্যাচারের মুখে পৈতৃক ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। অনেক নারী ধর্ষিত হয়েছে শিশু, যুবক ও বৃদ্ধ খুন হয়েছে তার সেনাবাহিনীর হাতে। বিশ্ববাসী চুপ একের পর এক রোহিঙ্গা খুন হচ্ছে, বিতাড়িত হচ্ছে নিজ ভূমি থেকে। এই যে হত্যাযজ্ঞ মিয়ানমার চালাচ্ছে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতাধর কোনো দেশ শক্ত ভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছে না কারণ তাদের অনেক স্বার্থ নিহিত আছে এই আরাকান রাজ্যে সব ক্ষমতাধর রাষ্ট্রই তাদের বিভিন্ন ইন্ডাষ্ট্রি ও শিল্প কারখানা গড়তে চায় কারণ পৃথিবীর সব চাইতে বৃহৎ গ্যাসের খনি মিয়ানমারের মাটির নিচে সে সব দেশ চাইছে, সে গ্যাস উত্তোলন করবে এবং নিজ দেশেও নিয়ে যাবে। বিশ্বের প্রত্যেকটি ধনী রাষ্ট্রেরই চোখ পড়েছে বার্মার আরাকান রাজ্যে। রোহিঙ্গাদের বলা হচ্ছে ওরা সে দেশের নাগরিক না ওরা বাংলাদেশী। কিন্তু রোহিঙ্গারা বলছে আমরা রোহিঙ্গা বাংলাদেশী নয়। দুইশত বৎসর পেছনে গেলে আমরা ইতিহাসে দেখতে পাব, তৎকালীন আরাকান রাজ্যের রাজ্য পালকে সাহায্য করতে আমাদের দেশ থেকে সৈন্য প্রেরণ করা হয়েছিল। সে যুদ্ধে আরাকান রাজ্যের বিজয় হয়। যুদ্ধ বিজয়ের পর আমাদের দেশের সৈনিকরা যথারীতি ফিরে আসে তবে কিছু সৈনিক আরাকান রাজ্যেই থেকে যায় স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে। যা কিনা যুদ্ধ সমাপ্তির পর সব দেশেই হয়ে থাকে। রোহিঙ্গারা তো আজকের নয় দুইশত বৎসর পুরোনো জাতি মিয়ানমারের। তাহলে মুষ্ঠিমেয় কিছু রাষ্ট্রের স্বার্থের কারণে ওরা কেন নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত হলো। আজ বাংলাদেশকে বিশ্ববাসী খুব ভাল দেশ বলছে কারণ এতগুলো রোহিঙ্গাদের আমরা থাকতে দিয়েছি। যারা আমাদের প্রশংসা করছে ওদের তো কোন সমস্যা হচ্ছে না হচ্ছে আমাদের, এতগুলো মানুষকে নিয়ে বাংলাদেশ রীতিমত হীমশিম খাচ্ছে। যারা রোহিঙ্গাদের জন্য উপরি মায়া দেখায় তাদেরকে বলছি তারা তাদের দেশের ইমিগ্রেশান ফ্রি করে দিকনা, রোহিঙ্গারা যেকজন যেতে পারে যাবে। আমেরিকায় তো মাইলের পর মাইল জায়গা খালি পড়েই আছে। মোট কথা কোনো জাতিকে নিধন করে সে জায়গায় নতুন কিছু প্রতিষ্ঠা করা মানবাধিকারের চরম লংঘন। তাই বিশ্ব নেতাদের একসাথে আলোচনায় বসে মূল সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে, শুধুমাত্র রোহিঙ্গা ইস্যু নয় বহির্বিশ্বের সব ধরনের যুদ্ধ ও অনাচার বন্ধ করে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তাহলেই গোটা বিশ্বে আমরা মানবাধিকার সংরক্ষণ করতে পারবো।
মানবাধিকার খবর ঃ এ মাস তো স্বাধীনতার মাস আপনাদের মত মুক্তি যোদ্ধাদের জন্যই আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আপনার কিছু চাওয়া ছিল সে সম্বন্ধে আপনার কাছ থেকে আমরা কিছু জানতে চাই।
সোহেল রানা ঃ দেশ স্বাধীন হয়েছে সত্যি কিন্তু আমরা কতটুকু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি এটি সবার কাছে প্রশ্ন? আমাদের দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের যে তালিকা তৈরী হয়েছে তা আমি মানিনা। এক সরকার এসে বলে তুমি মুক্তিযোদ্ধা আরেক সরকার এসে বলে তুমি মুক্তিযোদ্ধা না। এছাড়া যে নিয়মে মুক্তিযোদ্ধা গন্য করা হয় তা আমি মানতে পারিনা। দেখা যায় যারা মুক্তিযুদ্ধ করেনি এবং যাদের সে সময় জন্মও হয়নি তাদের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় উঠে এসেছে। ধরুন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফুটবলার ছিলাম, আমি যদি যুদ্ধের সময় পালিয়ে ভারতে গিয়ে ফুটবল খেলতাম তারপর যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দেশে এসে বলি খেলার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস দিয়েছি, মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম উঠাতাম এটাকি বিবেকের কাছে গ্রহণযোগ্য হতো নিশ্চয়ই হতোনা। যেমন যুদ্ধে অনেক মা-বোন তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছিলো তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই তারাতো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে তাদের সম্ভ্রম হারাননি। ইতিহাস বলে পৃথিবীতে এ যাবত যত যুদ্ধ হয়েছে নারীরা ধর্ষিত হয়েছে, এজন্য তারা তো মুক্তিযোদ্ধা হননি। আবার গায়ক গায়িকারা জীবন বাচানোর জন্য শহর ছেড়ে ঘুরে ঘুরে গান গেয় বেড়িয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহিত করেছেন, এটাও নিঃসন্দেহে মহৎ কাজ কিন্তু তারা মুক্তিযোদ্ধা হন কিভাবে? এরা যদি মুক্তিযোদ্ধা হন তাহলে সে সময়ের সাড়ে সাত কোটি মানুষুও মুক্তিযোদ্ধা কারণ তারা আমাদের খেতে দিয়েছেন, আশ্রয় দিয়েছেন ও নিরাপত্তা দিয়েছেন। তবে তাদের কেন আমরা মুক্তিযোদ্ধা বলিনা। যেমন বলা যায় বিদ্যালয়ের ছাত্র সকল মানে তো এই নয় যে প্রথম শ্রেণীতে যে পড়ছে এবং দশম শ্রেণীতে যে পড়ছে এরা এক হয়ে গেল। আমাদের দেশে এমনটা ঘটেছে। মুক্তিযোদ্ধা তাদেরকে বলা হয় যারা অস্ত্র হাতে নিয়ে মৃত্যুকে প্রত্যক্ষ করে শত্রুর মুশোমুখি হয়। যেমন হানাদার বাহিনী আমাদের গুলি করেছে আমরাও তাদের লক্ষ করে গুলি করেছি। যারা মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও জন্মভূমির মুক্তির জন্য শত্রুর উপর ঝাপিয়ে পড়েছে তারাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। যারা যোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছে ও সমর্থন করেছে তারা হচ্ছে সহ-মুক্তিযোদ্ধা বা সমর্থক মাত্র। আরেকটি বিষয় আমরা যখন মৃত্যুর মুখোমুখি শত্রুর মোকাবিলা করছিলাম তখন সরকারি কর্মকর্তারা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পুলিশ ও বুদ্ধিজীবিরা ১৪ই ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় কি করছিলেন। তারা কেনই বা পাকিস্তান সরকারের বেতন-ভাতা ভোগ করছিলেন। তাদের কি সন্দেহ ছিল যে আমরা বিজয়ী হবনা? এই প্রশ্নটি আমার জাতির কাছে রইল।  মুক্তিযোদ্ধারা একটি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, তাই প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে আমার অনেক ভাবনা এবং চাওয়া রয়েছে। একজন পুলিশকে দেখলে আমরা বুঝি তিনি পুলিশের সদস্য, কিংবা একজন আর্মিকে দেখলে আমরা বুঝি তিনি সেনা বাহিনীর সদস্য, কিভাবে চিনি আমরা চিনি তাদের ইউনিফর্ম দিয়ে। তাই আমি সরকারের কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ইউনিফর্ম চেয়েছিলাম যেন তাঁরা সরকারী অনুষ্ঠান বা ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে এ পোশাক পড়ে যাবে প্রত্যেকটা মানুষ দেখলেই যেন বোঝেন তিনি আমাদের একজন গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটা কার্ড চেয়েছিলাম যা দিয়ে হাসপাতাল, গনপরিবহন, ট্রেন ও অন্যান্য জায়গায় বিশেষ সুবিধা ভোগ করা যায়। বিশেষ করে সরকারী মেডিকের ও প্রাইভেট হাসপাতালে বিশেষ কক্ষ সংরক্ষণ করা যেমনটা ভি,আই,পি দের জন্য সংরক্ষিত থাকে। খারাপ লাগে যখন দেখি একজন মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে থাকে। একজন এমপি মন্ত্রীর আগে মুক্তিযোদ্ধারা চিকিৎসার প্রাধান্য পাবে এটাইতো সম্মান। সরকার তাদের চিকিৎসা ছাড়া অন্যান্য সুবিধাগুলো ফ্রি করে দিতে পারেন। এখানে ইচ্ছেটাই যথেষ্ট, মুক্তিযোদ্ধাদের বা তাদের সন্তানদের হাতে ভাতা তুলে দেয়া মানে সম্মান নয়। মুক্তিযোদ্ধারা জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় যেন তাদের প্রাপ্য সব সুবিধাগুলো ভোগ করে যেতে পারে। সরকারকে সেই পদক্ষেপ নিতে হবে। বঙ্গবন্ধু যখন আদেশ করেছিলেন যা সাথে আছে তা নিয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ো দেশ রক্ষা করো, আমরা জীবন বাজী রেখে ঝাপিয়ে পড়েছিলাম একটি পতাকার জন্যে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্যে। টাকার জন্য আমরা যুদ্ধ করিনি। দেশ এখন স্বাধীন তাই আমাদের চাওনা হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করা হোক, মূল্যায়ন করা হোক তথা প্রাধান্য দেয়া হোক এর চাইতে আর কিবা চাওয়ার আছে।
মানবাধিকার খবর ঃ মানবাধিকার খবর পত্রিকা সম্পর্কে আপনার অভিমত জানতে চাই।
সোহেল রানা ঃ পত্রিকার মাধ্যমে আপনারা কষ্ট করে যে কাজগুলো করছেন। নিঃসন্দেহে ভালো কাজ। আপনারা এভাবেই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাবেন এটাই কাম্য।
সাক্ষাৎকার গ্রহনে-
রুবিনা শওকত উল্লাহ


মানবাধিকার খবরকে পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি গিরিশ চন্দ্র গুপ্ত
                                  

শুধু দরিদ্রদের নয়, ধনীদেরও মানবাধিকার ক্ষুন্ন হয়
মানবাধিকার পরিস্থিতির সামগ্রিক অবস্থা ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলকাতা সল্টলেক পূর্ত ভবনে পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশন কার্যালয়ে কলকাতা হাইকোর্ট এর সাবেক প্রধান বিচারপতি ও পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি গিরিশ চন্দ্র গুপ্ত মানবাধিকার খবরকে একান্ত সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। যার বিশেষ অংশ মানবাধিকার খবর-এর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল-
মানবাধিকার খবর ঃ মানবাধিকার কি? জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকারের ৩০টি ধারার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন?
বিচারপতি গিরিশ চন্দ্র গুপ্ত ঃ যে ৩০টি ধারা-জাতিসংঘে রয়েছে তার মধ্যে দুটি গ্রুপ আছে, একটি হচ্ছে সিবিলিয়ান পলিটিক্যাল রাইটস্, আরেকটা হচ্ছে সোশিয়াল কালচারাল এন্ড ইকোনিমিকস্ রাইটস্ দু’টি গ্রুপ রয়েছে এ দু’টো গ্রুপের পরবর্তীকালে সেগুলোকে বলবৎ করার জন্য ১৯৬৬ সালে দু’টো সেপার‌্যাট কবিনেট তৈরী হয় এবং সেই দুটো কবিন্যান্ট ভারত সরকার ১৯৭৯ সালে রেডিফাই করেছিল আর এ দুটির প্রয়োজনীয়তা এক কথায় বলতে পারা যায় যে, সিবিলিয়ান পলিটিক্যাল রাইটস্ “উই দাউট” সোশিয়াল কালচারাল এন্ড ইকোনমিকস্ রাইটস্, অর্থহীন হয়ে পড়তে পারে, কারণ যে মানুষটার পেট অভুক্ত তার কাছে সিবিলিয়ান পলিটিক্যাল, রাইটসই কি আর সোশিয়াল কালচারাল এন্ড ইকোনমিকস্ রাইটস্ই কি, কাজেই একে অপরের পরিপূরক বলেই আমি মনে করি, কাজেই এ কথাটি বলা যায়না যে ৩০টি অনুচ্ছেদ কোন প্রয়োজন ছিলনা।
মানবাধিকার খবর ঃ ভাররেত বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি কি অবস্থায় আছে বলে আপনি মনে করেন?
বিচারপতি গিরিশ চন্দ্র গুপ্ত ঃ আমাদের দেশে মানবাধিকার লংঘন হচ্ছেনা একথা আমি বলতে পারবনা, মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে কিন্তু তার প্রতিকারেরও চেষ্টা হচ্ছে। ধরুন বিশেষ করে নারী বিষয়ক যেসব ঘটনা ঘটছে সেগুলোর জন্য আমাদের সুপ্রীম কোর্ট তার “বিলিংস” দিয়েছে এবং আইনও তৈরী হয়েছে, কাজ হচ্ছে এইসব নিয়ে তবুও আমি ব্যক্তিগতভাবে এ কাজের গতিকে নিয়ে আমি সন্তুষ্ট নই।
মানবাধিকার খবর ঃ মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন নির্যাতন এ সম্পর্কে আপনার মতামত কি?
বিচারপতি গিরিশ চন্দ্র গুপ্ত ঃ দেখুন মানবাধিকার কর্মী হিসেবে আমার ‘সহানুভূতি যে তাদের প্রতি আছে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। আমি কেন প্রত্যেকটি মানুষেরী সহানুভূতি রয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক স্তরে এর বিভিন্ন রকম মাপ হয়ে গেছে যেমন ঃ আমাদের ভারত সরকারের একসময়ে যে নীতি দেখতে পাচ্ছি, তাদের নিজের জায়গায় ফিরে যেতে হবে, ফিরে যেতে হবে এ কথাটি খুব একটা খারাপ কথা নয় কারণ তারা আজকে যদি রিফিউজি হিসেবে এখানে থেকে যায়।এমনতো নয় রোহিঙ্গারাতো মায়ানমারে ছিল ওরা সবাই চলে এসেছে। ওখানে আরো রোহিঙ্গারা রয়েছে, অতএব, এরা যদি এখানে থেকে যায় তর্কের খাতিরে ধরে নিন এরা এখানে কিংবা বাংলাদেশে রয়ে গেলো এদেরতো আপনি প্রটেকশন দিতে পারছেন কিন্তু যারা মায়ানমারে রয়ে গেলো তাদের আপনি কি করবেন। এর যদি একটা দীর্ঘস্থায়ী সমাধান করতে হয় রাজনৈতিক স্তরে এবং ইন্টারন্যাশনাল ফোরামে এ বিষয়টি একটি সুষ্ঠ সমাধান হওয়া প্রয়োজন যাতে করে রোহিঙ্গারা মানুষ হিসেবে মানুষের মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারে।
মানবাধিকার খবর ঃ মানবাধিকার রক্ষায় কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই স্বাধীনভাবে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে পারছেন কি?
বিচারপতি গিরিশ চন্দ্র গুপ্ত ঃ ২১ শে ডিসেম্বর ২০১৬ পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে এসেছি এর মধ্যে কখনোও মানবাধিকার কমিশনের কোন কাজে সরকার কিংবা অন্য কেউ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে বলে আমি বলতে পারবনা, এ যাবত আমি কোন প্রতিবন্ধকতা দেখিনি।
মানবাধিকার খবর ঃ মানবাধিকার খবরের প্রকাশনা ও কর্মকান্ড সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি?
বিচারপতি গিরিশ চন্দ্র গুপ্ত ঃ আপনারা সেবামূলক যে কাজগুলো করছেন সেটা মানবাধিকারের ক্ষেত্র থেকে বাইরে। তার কারণ সেবামূলক কাজ মানবাধিকার গোষ্ঠীর বেশী প্রয়োজন আছে, তাদের জন্য করছেন। আপনারা আর্তের সেবা করছেন তাহলো আর্ত একজন গরীবও হতে পারে, ধনীও হতে পারে। মানবাধিকার প্রসঙ্গে সে একই প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে, একথা বলা যায় না যে, শুধু দরিদ্রদের মানবাধিকার ক্ষুন্ন হয়, ধনী লোকেরও মানবাধিকার ক্ষুন্ন হয়, সুতরাং মানবাধিকার রক্ষা করার জন্য কাজগুলোকে সেবামূলক কাজ গুলো থেকে আলাদা করে দেখতে হবে। মানবাধিকার হচ্ছে একটা দিক এবং সেবামূলক কাজ আরেকটা দিক দুটো দুদিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, কিন্তু মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে যাই কিছু করছেন এর চাইতে অনেক বেশী সুফল পাচ্ছেন মানব সেবামূলক কাজে আপনারা নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। আর ফলাফলটাও আপনারা সঙ্গে সঙ্গে পাচ্ছেন, একজন ক্ষুধার্তের মুখে যখন অন্ন যুগিয়ে দিচ্ছেন ফলাফলটা সাথে সাথে পাচ্ছেন। আার মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছেন এগুলো সুদৃঢ় প্রসারী পরিকল্পনা এগুলোর ফলাফল পেতে সময় লাগে। তাই আমি মানবাধিকার খবর এর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি আশা করি ও প্রার্থনা করি।
অনুলিখন : রুবিনা শওকত উল্লাহ

ভিসির ‘রড বাহিনী’
                                  

যাদের চোখের দৃষ্টি একেবারে বিলীন হয়ে যায়নি, তারা ঘটনা দেখেছেন, জেনেছেন-বুঝেছেনও। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে দেখার সুযোগ দেশের মানুষের হয়নি। দেখেছেন টেলিভিশনের পর্দায়, পত্রিকার পাতায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ঘটনার পর্যালোচনা বা বিশ্লেষণের কিছু নেই, সব কিছু এতটাই স্বচ্ছ। সেই স্বচ্ছ ঘটনার দু’একটি বিষয় উল্লেøখ করছি শুধু।
১. আমাদের সমাজে তো অতি বুদ্ধিমান ‘ধুরন্ধর’র সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ‘ধুরন্ধর’রা প্রপাগান্ডায় সব সময়ই খুব পারদর্শী হয়। তারা এখন প্রশ্ন তুলছেন, ‘শিক্ষার্থীরা কেন আন্দোলন করবে? তালা কেন ভাঙলো? প্রক্টরকে কেন অবরুদ্ধ করলো, ভিসিকে কেন অবরুদ্ধ করলো?’
কিছু ‘ধুরন্ধর’র তোলা এসব প্রশ্নে আরও কিছু ‘ধুরন্ধর’ কোরাস গাইছে, ‘ঠিকই তো কেন আন্দোলন, কেন তালা ভাঙা?’
এসব তথ্য ‘ধুরন্ধর’দের যে অজানা তা নয়, তারপরও বলছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে গৌরবের ইতিহাস, তা এই আন্দোলন-অবরোধ, তালা ভাঙার ইতিহাস। ডাকাতি করার জন্য তালা ভাঙা নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্যে তালা ভাঙার ইতিহাস।
২৪ জানুয়ারি ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান দিবস। সেদিন এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কী করেছিলেন, কোন প্রক্রিয়ায় আন্দোলনকে কোন মাত্রায় নিয়ে গিয়েছিলেন, সেই ইতিহাস জানা খুব কঠিন কিছু নয়। ‘৬৯ নিয়ে গর্ব করবেন, তালা ভাঙার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ইতিহাস জানবেন না?
চারুকলায় যেদিন ছাত্রদল তথাকথিত ভিসি উদ্ধারে এসে শিক্ষার্থীদের পিটিয়েছিল, সেই আন্দোলনের ইতিহাস ভুলে গেছেন? শামসুন নাহার হলে ছাত্রদল কর্তৃক নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে গড়ে তোলা প্রতিবাদ-প্রতিরোধের কথাও ভুলে গেছেন? সেদিন ছাত্রলীগও প্রতিবাদী ‘তালা ভাঙা’ দলে ছিল।
আন্দোলন বা তালা ভাঙা যদি অপরাধ বা অন্যায় হয়, ‘৯০-এর আন্দোলন নিয়েও তাহলে গর্ব করার কিছু থাকে না। প্রশ্নের মুখে পড়ে যায় গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিরোধী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন-প্রতিবাদ প্রতিরোধও।
‘জেলের তালা ভাঙবো শেখ মুজিবকে আনবো’- এটা শুধু প্রতীকী স্লোগান নয়। এটাই আওয়ামী লীগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।
‘আন্দোলন কেন করলো, তালা কেন ভাঙলো’ প্রশ্ন করার আগে আয়নায় নিজেদের একবার দেখেন।
২. এবার সংক্ষেপে আন্দোলনের প্রেক্ষাপটটা বলি। ঢাকার ৭টি বড় কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত করা হয়েছে। এক সময় এমনই ছিল। তারপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দিয়ে দেওয়া হয়। যখন এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল, তখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অসুবিধার দিক তুলে ধরেছিলেন। সেসব উপেক্ষা করে, ভিসি আরেফিন সিদ্দিকীর প্রশাসন ৭টি বড় কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার। ৭টি কলেজের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমপক্ষে ১ লাখ ৩০ হাজার। ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীর ব্যবস্থাপনা করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হিমশিম খেয়ে যায়। তারা কী করে আরও ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে? এই প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন এই আশঙ্কা থেকে যে, বাড়তি ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর চাপে তাদের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে। অধিভুক্ত ৭টি কলেজের শিক্ষার্থীরা ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে আন্দোলন করছেন। তারাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকতে চাইছেন না। এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক, অবকাঠামোসহ কোনও সুযোগ-সুবিধা বা সক্ষমতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, ৭টি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাখা যাবে না। এত যৌক্তিক বিষয়ে কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কথা বলতে পারবেন না, কেন আন্দোলন করতে পারবেন না?
৩. ‘তালা না ভেঙে কি আন্দোলন করা যেত না’ ‘ধুরন্ধর’রা আবারও এই প্রশ্ন তুলবেন। ‘তালা ভাঙা’র বিষয়টি কখন এসেছে, বিবেচনায় রাখতে হবে। একথা অস্বীকার করলে সত্য চাপা দেওয়া হবে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সব সময় বাম ছাত্র সংগঠনগুলো থাকে। এই আন্দোলনের সঙ্গেও বাম ছাত্রসংগঠন আছে। ‘শিবির বা ছাত্রদল আছে’ বলে ধুরন্ধররা যে পানি ঘোলা করতে চাইছেন, তা সম্ভব নয়। কারণ এই আন্দোলনের সঙ্গে ছাত্রদল বা শিবির নেই।
প্রথমে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মিছিল মিটিং করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ১৫ জানুয়ারি প্রতিবাদ মিছিল করে অবস্থান নিয়েছেন। ছাত্রলীগ এসে তাদের পিটিয়েছে, ছাত্রীদের মৌখিক এবং শারীরিকভাবে যৌন নিপীড়ন করেছে। ছাত্রলীগের যেসব নেতাকর্মী যৌন নিপীড়ন করেছে, তার কিছু ভিডিও চিত্র আছে মোবাইলে ধারণ করা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চিত্রের যৌন নিপীড়কদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে প্রতারণামূলক পুরনো কৌশলের আশ্রয় নেয়। ‘তদন্ত কমিটি, কেউ সাক্ষী দিতে আসেনি’ প্রপাগান্ডা চালিয়ে ঘটনা চাপা দেওয়ার নীতি নেয়। ভিডিও দেখে নিপীড়কদের কাউকে ডাকাও হয়নি।
আন্দোলনকারীদের সমন্বয়কারীকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভিসির রুমে ধরে নিয়ে গেছে। প্রক্টরের সামনে নির্যাতন করেছে। প্রক্টরের হাতে তুলে দিয়েছে। প্রক্টর তাকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়েছে। এর প্রতিবাদে প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলতে গেছেন আন্দোলনকারীরা। প্রক্টর গেটে তালা দিয়ে রুমে বসে থেকেছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রথমাবস্থায় কথা বলেননি। সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নির্যাতনকারীদের বিচার চেয়েছেন। প্রক্টর আশ্বাস দিয়েছেন ‘প্রক্রিয়া অনুসরণ করে’ ব্যবস্থা নেবেন। তারপর প্রক্টর তার শিক্ষার্থীদের নামে মামলা করার ব্যবস্থা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে, যাদের দেখে রাখার দায়িত্ব তাদের নামে মামলা করেছে। পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দিয়েছে।
এরকম প্রেক্ষাপটে ভিসির কাছে আন্দোলনকারীরা এসেছিলেন প্রতিকারের দাবি নিয়ে। তারা ভিসির থেকে প্রতিকারের আশায় কথা বলতে চেয়েছেন। ভিসি গেটে তালা দিয়ে রুমে বসে থেকেছেন, কথা বলেননি।
তালা ভাঙা হয়েছে, এত কিছু ঘটে যাওয়ার পরে। যেসব ‘ধুরন্ধর’রা প্রশ্ন তুলছেন, তারা ভিসি প্রক্টোর বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আচরণ দেখছেন না। তারা বিবেচনায় নিচ্ছেন না, তালা ভাঙার প্রেক্ষাপট রচনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা নিরূপায় হয়ে ‘তালা ভেঙে’ বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা অক্ষুন্ন রেখেছেন।
৪. ১৯৮৯ সালের সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনের পরের দিন বিজয়ী ছাত্রদলের বিজয় মিছিল থেকে পেটানো হয়েছিল ছাত্রীদের। তখন ছাত্রদল দেশের সবচেয়ে বড় ছাত্র সংগঠন। ছাত্রদলের সেই দাম্ভিকতার পরিণতি কারও অজানা নয়।
সন্ত্রাসের অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বহু আগে থেকেই ছিল। সন্ত্রাসের দায়ে অভিযুক্ত জাসদ ছাত্রলীগ, বিএনপির ছাত্রদলও। এদের বিরুদ্ধে সেই অর্থে যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণের অভিযোগ নেই। যৌন নির্যাতনের দিকে ছাত্রলীগ-ধাবিত হয়েছে গত পনেরো বিশ বছরে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা মানিকের ধর্ষণের সেঞ্চুরি উৎসব পালন, এক জঘন্য উদাহরণ হয়ে আছে। মানিককে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিলেও, সেই আন্দোলনে নিপীড়ন-নির্যাতন চালিয়ে ছাত্রলীগ প্রতিহত করতে পারেনি। বিজয় প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদেরই হয়েছিল।
শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর সংস্কৃতি ছাত্রলীগ আইয়ুব খানের থেকে ধার করেছে। আইয়ুব খানের এনএসএফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাপ দিয়ে ভয় দেখানোর কৌশল নিয়ে ব্যর্থ হয়েছিল। ভিসি আনোয়ারুল্লøাহ চৌধুরী ছাত্রদলকে দিয়ে নির্যাতন করিয়ে রক্ষা পায়নি।
২৩ জানুয়ারি ভিসি আখরুজ্জামানের ‘রড বাহিনী’র তান্ডবে শিক্ষার্থীদের আর্ত চিৎকারে ভয়ার্ত এক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সারা দেশের মানুষ টেলিভিশনে দেখে শিহরিত হয়েছেন। তা যদিও ভিসির চোখ- কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি।
ভিসি আখতারুজ্জামান ছাত্রলীগকে দিয়ে শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে, যৌন নির্যাতন করিয়ে রক্ষা পাবেন, বিশ্বাস করার কোনও কারণ নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবের বহু ঘটনা আছে। আছে ইতিহাসের কিছু কালো দাগ, কলঙ্কিত ঘটনা। ১৫ জানুয়ারি এবং ২৩ জানুয়ারি কালো দাগ বা কলঙ্কিত ঘটনা হিসেবে নতুন যুক্ত হলো। এই কালো দাগ বা কলঙ্কের সঙ্গে নিজের নাম অমোচনীয় অক্ষরে সম্পৃক্ত করে রাখলেন ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান। ইতিহাস তাকে এই ঘটনা দিয়েই স্মরণীয় করে রাখবে।
৫. বিশ্বজিৎকে যারা কুপিয়েছিল তাদের হাতে ছিল চাপাতি। চাপাতির পরিবর্তে এবার তারা হাতে তুলে নিয়েছিল রড।
খালি হাতের নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ চাপাতি ব্যবহার করেনি। চাপাতি ব্যবহার করে নিজেদের দলের প্রতিপক্ষ গ্রুপের ওপর। যাদের হাতেও চাপাতি থাকে। গত সাত আট বছরে ৬০ জনের অধিক নিজেদের নেতাকর্মীকে তারা হত্যা করেছে সফলভাবে। তাদেরই একজন জোবায়ের হত্যার দায়ে ৫ জনের ফাঁসি আদালতে বহাল থাকলো।
এবার রডের আঘাতে ঢাকা মেডিক্যালে যেতে হয়েছে, আজিমপুর কবরস্থানে যেতে হয়নি শিক্ষার্থীদের। ‘অবরুদ্ধ ভিসিকে’ উদ্ধারে ছাত্রলীগের রড বাহিনী এগিয়ে এসেছে। ছাত্রলীগ পেটানোর জন্যে নারী বাহিনীকেও সঙ্গে নিয়ে এসেছিল। তাদের কথায় মনে হয় ভিসিকে সম্ভবত অপহরণ করে দূরে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ফলে ভিসি পুলিশের ওপর নির্ভর না করে, ‘রড বাহিনী’র ওপর নির্ভর করেছে। ‘রড বাহিনী’ ভিসিকে উদ্ধার করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবস্থানকে ‘অবরুদ্ধ’ ‘প্রায় অপহরণ’ মর্যাদা দেওয়াটাও বেশ চমকপ্রদ। ছাত্রলীগ শির্ক্ষার্থীদের রড দিয়ে পিটিয়ে, কিল-ঘুষি-লাথি মেরে, যৌন নিপীড়ন করে ‘ভিসির সম্মান রক্ষা’ করেছে। সম্মান রক্ষার পুরস্কারস্বরূপ নির্যাতিত-নিপীড়িত শিক্ষার্থীদের শাস্তির ব্যবস্থা এখন ভিসি করতেই পারেন, ছাত্রলীগের দাবিকে তো আর তিনি উড়িয়ে দিতে পারেন না। ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন, ছাত্রলীগ দায়ি থাকলে শাস্তি হবে। তবে গেট যারা ভাঙলো তাদের শাস্তি হওয়া দরকার। ‘ছাত্রলীগ যদি অন্যায় করে’ অপকর্ম চাপা দেওয়ার সেই পুরনো কৌশল!
সত্যকে অসত্য হিসেবে চালানোর প্রপাগান্ডায় ছাত্রলীগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাকার হয়ে গেছে।
এই অর্থে তারা একটি ছবি প্রচার করছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে একজন ছাত্রী আরেকজন ছাত্রীর চুল টেনে নির্যাতন করছে। একজন নির্যাতন থেকে ছাত্রীকে রক্ষার জন্যে হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। ছাত্রলীগ বলার চেষ্টা করে, তাদের নেত্রীকে আক্রমণ করা হয়েছে। অথচ ছবিটি লক্ষ্য করলেই স্পষ্ট দেখা যায়, ছাত্রলীগের চিহ্নিত নেত্রী আন্দোলনরত এক ছাত্রীর চুল টেনে ধরে আছে।
প্রপাগান্ডা চালানোয় তারা সকল সীমা অতিক্রম করেছে। শিক্ষার্থীদের বস্ত্রহরণে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছে। নিজেরা আক্রমণ করে যৌন নিপীড়ন করে, বাম ছাত্র সংগঠনকে সন্ত্রাসী বলছে। যাদের সঙ্গে আর যাই হোক সন্ত্রাসের কোনও সম্পর্ক নেই। আক্রমণ করে, আক্রান্ত হয়েছে বলে প্রপাগান্ডা চালানোর অভিনব কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে ছাত্রলীগ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের পক্ষে দাঁড়িয়ে কোরাস গাইছে। ছাত্র ইউনিয়ন নেতা লিটন নন্দীরা যখন পহেলা বৈশাখে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন, তখন থেকেই তাদের পেটানোটা ছাত্রলীগ নিয়মিত বিষয়ে পরিণত করে ফেলেছে। এদেশের সকল নারী নেত্রী, সংগঠন, এনজিও, মানবাধিকার সংগঠন রিপভ্যান উইঙ্কেলর মতো ঘুমিয়ে আছেন। যদি কোনোদিন তাদের ঘুম ভাঙে, তাহলে নিশ্চয় তারা নারী নিপীড়ন নিয়ে কথা বলবেন!
প্রতিটি হলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কিছু পরিচালনার দায়িত্ব ভিসি আরেফিন সিদ্দিকী ছাত্রলীগকে দিয়ে গেছেন। প্রশ্ন হলো, সবই তো দিয়ে গেছেন, ভিসি আখতারুজ্জামান তাদের এখন নতুন কী দিয়ে সন্তুষ্ট করবেন? ডাকসু নির্বাচন? প্রশ্নই আসে না। ডাকসু নির্বাচন হলে তো ছাত্র লীগের একক রাজত্ব থাকবে না। খুবই চিন্তার বিষয়!
লেখক: সম্পাদক, সাপ্তাহিক

মানবাধিকার খবরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রদীপ ভট্টাচার্য
                                  

ভারত ও বাংলাদেশ সীমানায় মানবাধিকারের শান্তি প্রতিষ্ঠিত হউক
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাবেক শ্রম মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় বোর্ডের চেয়ারম্যান ও মেম্বার তথ্য-প্রযুক্তি সংসদীয় কমিটি, মেম্বার নিরাপত্তা  বিশ্লেøষক সংসদীয় কমিটি এবং রাজ্যসভার এমপি শ্রী প্রফেসর প্রদীপ ভট্টাচার্য তার কলকাতা পালম এ্যভিনিউ অফিসে মানবাধিকার খবরকে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। তিনি মানবাধিকার, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, মায়ানমারে রোহিঙ্গা সমস্যা সহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন-
মানবাধিকার খবর : মানবাধিকার কি? জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকারের ৩০টি ধারার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পাঠকদের উদ্দেশ্য কিছু বলুন ?
প্রদীপ ভট্টাচার্য : মানবাধিকার হচ্ছে যে, আমি একটা দেশে জন্মগ্রহণ করার পর থেকে সেই দেশের সব নিয়ম কানুন আমি নিশ্চয়ই মানবো। কিন্তু আমি যদি নিয়ম কানুন না মানি তাহলে পরে আইন অনুযায়ী আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কোন রাষ্ট্র তাঁর নিজের দেশের নাগরিকদের নিতে পারে। কিন্তু এমন কিছু করতে পারবেনা যেটা বেআইনিভাবে কোনো একজন মানুষকে শাস্তি দেওয়া বা আমার যেটা অধিকার আছে আমার যেটা অভিযোগ করার অধিকার আছে  যেমন ধরা যাক আমার দেশের কোনো মানুষ অন্যায় করেনি, কিন্তু পুলিশ তাকে অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করে নিয়ে চলে যায়। তখন আমি মানবাধিকারে যেতে পারি। কারণ এভাবে আমাকে গ্রেফতার করার অধিকার আইনের নেই এটা আমার অধিকারকে ক্ষুন্ন করছে আমি যদি কোন কথা বলি সে কথা বলার অধিকার আমার আছে। আমার কথা বলার অধিকার গণতান্ত্রিক দেশের রাষ্ট্রের ব্যবস্থা সম্পর্কে সমালোচনা করতে পারি। এই সমালোচনা করার জন্য যদি রাষ্ট্র আমার বিরুদ্ধে কোন এ্যাকশান নিতে চায় আমি এটাকে মানবাধিকার লংঙ্ঘিত হচ্ছে বলতে পারি। যেমন ধরা যাক যে ভারতীয় এক নাবিককে পাকিস্তান সরকার গ্রেফতার করে রেখেছে যার ফাঁসির অর্ডার হওয়ার কথা তাঁর সঙ্গে মা-বাবা, আত্মীয়দের দেখা করতে দিতে চাইছে না। কিন্তু আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার কমিশন এগিয়ে এসেছে, মানবাধিকার সংস্থা এগিয়ে আসার আমার কারণে আজকে তাঁর পরিবার ইসলামাবাদ যাচ্ছে নাবিকের সাথে দেখা করার জন্য এটাই হচ্ছে মানবাধিকার। অর্থাৎ আমি মানুষ হয়ে জন্মেছি বা আমার যে অধিকার সে অধিকারগুলি কখনো কেউ কেড়ে নিতে পারে না এমনকি রাষ্ট্রও না যদি আমি আইন মানি।
মানবাধিকার খবর : ভারতের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে কি অবস্থায় আছে বলে আপনি মনে করেন?
প্রদীপ ভট্টাচার্য : ভারত বর্ষের মাটিতে আজকে মানবাধিকার অনেক জায়গায় লংঘিত হচ্ছে ধর্মের নামে মানুষের যে নিজস্ব অধিকার, আমার ভরন-পোষণ করার অধিকার, আমার খাবার অধিকার আমার কথা বলার অধিকার, আমার নিয়মকানুন মানার অধিকার ধর্মীয় আচার পালন করার যে অধিকার সেই অধিকারের আইন ভঙ্গ করার চেষ্টা করছে, জোড় করে গায়ের জোরে বন্ধ করার চেষ্টা করছে এটা কিন্তু মানুষের মানবাধিকারকে লংঘিত করার চেষ্টা করছে। এর বিরুদ্ধে ভারতবর্ষের মানবাধিকার কমিশন গুলো আছে মানবাধিকার রক্ষ করার জন্য যারা বিভিন্ন এনজিও তৈরী হয়ে আছে সে এনজিওরা প্রবল ভাবে বাধা দিয়ে সারা ভারত ব্যাপি আন্দোলন তৈরী করার ফল অনেকাংশে মানবাধিকার রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। আপনারা জানেন যে কর্নাটাকের লেখিকাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে কারণ তিনি কেন লিখছে তার লেখা তাদের বিরুদ্ধে যেতে পারে না। এটাতো অন্যায় কিছুনা তিনি লিখতেই পারেন বলতেই পারেন কিন্তু তাই বলে কি তাকে হত্যা করা এটাতো হতে পারেনা। এর বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ এটাই মানবাধিকার।
মানবাধিকার খবর : মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন ও হত্যা নির্যাতন সহ বহিঃ বিশ্বের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি?
প্রদীপ ভট্টাচার্য : আমি মনে করি এ সমস্যাটার অবিলম্বেই সমাধান করা উচিত রাষ্ট্রের সঙ্গে আােচনার মাধ্যমে এবং কফি আনানকে দিয়ে যে কমিটি তৈরী করা হয়েছে আনানের যে কমিটি রিকমন্ডেশন গুলো আছে আমার মনে হয় সেগুলো মায়ানমার মানেনি। মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর যে ধরনের অমানসিক অত্যাচার হয়েছে এটা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল আমরা এক সময় হিটলারের ইতিহাস  পড়েছি, শুনেছি হিটলার ইহুদিদের উপর কিভাবে অত্যাচার করেছে। ঠিক সে রকম রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার এটা একেবারে অমানবিক। এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত বলছে। ভারতবর্ষ তাদের খাবার, অন্যান্য সাহায্য দিচ্ছে এবং অন্যান্য দেশ থেকে সহযোগিতা দিচ্ছে আমি চাই এ সমস্যার সমাধান যেন হয়।
মানবাধিকার খবর : বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মায়ানমার সীমান্ত প্রতিদিন বাংলাদেশীদের হত্যা নির্যাতনসহ সবধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। হত্যা নির্যাতন বন্ধে উভয় দেশ উদ্যোগ নিলেও কোন কাজে আসছেনা। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্যও পরামর্শ কি?
প্রদীপ ভট্টাচার্য : বাংলাদেশ, মায়ানমার, ভারত, এ তিনটি দেশ পাশাপাশি আছে। এ তিনটি দেশের মধ্যে যদি সম্পর্ক নিবিড় হয় তাহলে অনেক সমস্যা, সীমান্ত সমস্যা থেকে শুরু করে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। ভারতের সঙ্গে মায়ানমার সম্পর্ক অনেক আন্তরিক। অস্বীকার করে কোন লাভ নেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতবর্ষের সম্পর্ক আত্বিক, বন্ধুত্বের সম্পর্ক সেই সম্পর্কে আমরা কোনভাবে চির ধরতে দেবনা।
কিন্তু মায়ানমারের উপর কোন ছায়া বিস্তার করছে এবং কারা বিস্তার করছে। এটা একমাত্র মায়ানমার বলতে পারবে। মায়ানমারের সঙ্গে ভারতের কোন বিরোধ হওয়ার কারণ নেই। মায়ানমার যদি মনে করে যে বাংলাদেশের প্রতি অত্যাচার হবে ভারতবর্ষ বসে থাকবে সমাধান করবেনা এটা ভুল। মায়ানমারের সঙ্গে চাই আমরা গভীর সম্পর্ক আত্মীক সম্পর্ক। বাংলাদেশ, ভারত মায়ানমার এ তিনটি দেশ অত্যন্ত গভীর ও আন্তরিক সম্পর্কে গড়ে তোলা আমাদের করতে হবে এবং এ ব্যাপারে তিনটা রাষ্ট্রের প্রধানরা দায়িত্ব নিক, নিয়ে কাজ করুক। এ ব্যাপারে চাই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ গ্রহণ করুক অত্যন্ত খুশি হব বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তিনি তো সবসময় চাইছেন আমরা তা সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানছি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে যদি উদ্যোগ গ্রহণ করে, কারণ তিনি বড় রাষ্ট্রের প্রধান এই তিন রাষ্ট্রের একটি মেল বন্ধন যদি তৈরী করতে পারেন। তাহলে এশিয়া মহাদেশে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে।
মানবাধিকার খবর : ভারত বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক সম্পর্কে কিছু বলুন?
প্রদীপ ভট্টাচার্য : ভারত বাংলাদেশ এই দুই দেশের মধ্যে অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস আছে যে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসে, আবার ভারত থেকে বাংলাদেশ যায় চাল, ডাল, থেকে শুরু করে এমন অনেক কিছু। ভারতবর্ষ জুট কিনে আনছে। এখন বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেক শক্তিশালী হচ্ছে। বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বি করার জন্য ভারতবর্ষ সব সময় এগিয়ে আসছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ভারতবর্ষ সবসময় যেমন ছিল আমি বিশ্বাস করি বর্তমান সরকার ইন্দিরা গান্ধীর মানসিকতাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক নিবিড়িতর করবে।
মানবাধিকার খবর : ভারত সরকার সমাজে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে কি কি কাজ করছে? ভবিষ্যতে কি ধরনের কাজ করতে চায়?
প্রদীপ ভট্টাচার্য : ভারত সরকার সমাজে মানবাধিকার রক্ষার জন্য প্রত্যেকটি মানবাধিকার গঠন করেছে এবং মানবাধিকার কমিশনে একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসার, কিংবা রিটায়ার্ড জার্জ তাদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং মানবাধিকার কমিশন ইতিমধ্যে বহু আবেদন গ্রহণ করেছে। অনেক সময় এটা দেখা যাচ্ছে মানবাধিকার কমিশনে কোন একজন এসপি সম্পর্কে অভিযোগ নিয়ে এলে সেই অভিযোগ সম্পর্কে মানবাধিকার কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সে ব্যাপারে ভারত সরকারের উচিত তাদের সাথে থাকা। মানবাধিকার কমিশন তার কাজ স্পষ্টভাবে পশ্চিম বাংলাসহ ভারতবর্ষে করছে। সেজন্য ভারতবর্ষে শান্তি দেখতে পাচ্ছেন। তারপরও যারা মানবাধিকার ভাঙ্গাতে চাচ্ছে তারা দুর্বল হয়ে পড়ছে এ মানবাধিকার কমিশনের জন্য। যারা পৃথিবীর মধ্যে যে সমস্ত মানবাধিকার কমিশন কাজ করছে তাদের মধ্যে ভারতবর্ষ সবচেয়ে বেশী পাওয়ারফুলি এবং বেশী কাজ করছে।
মানবাধিকার খবর : মানবাধিকার বিষয়ক বিশ্বের একমাত্র নিয়মিত সৃজনশীল জনপ্রিয় বাংলা প্রকাশনা মানবাধিকার খবর তার লেখনী ও সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে অধিকার বঞ্চিত অসহায় মানুষের সেবা প্রদান করছে। এছাড়া দেশ-বিদেশ থেকে নারী ও শিশু উদ্ধার, আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ ও দরিদ্রদের সহায়তাসহ নানাবিদ সামাজিক কাজ করে যাচ্ছে। মানবাধিকার খবরের কর্মকান্ড সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি?
প্রদীপ ভট্টাচার্য : মানবাধিকার খবর সংবাদপত্রের মাধ্যমে এই যে মানবাধিকার কি এটা মানুষের কাছে জানিয়ে দিচ্ছেন। মানবাধিকার খবর এই যে, শব্দটার মধ্য দিয়ে মানুষকে বুঝিয়ে দিয়েছেন মানুষ হিসেবে এবং আইন মোতাবেক তোমার হাতে কি ক্ষমতা আছে সেটা তুমি জানো ও প্রয়োগ কর এই ক্ষমতাটা মানুষকে আপনারা কাগজের মাধ্যমে জানিয়ে দিচ্ছেন এবং আপনাদের কাগজের মাথায় একটি পায়রার ছবি অর্থাৎ শান্তির প্রতিক। বাংলাদেশ এবং ভারতবর্ষের যে সীমানা আছে সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হউক। আমাদের পৃথিবীতে আজকের এই দিনে অশান্তি তৈরী করার জন্য বহু মানুষ তৈরী হয়েছে। কিন্তু শান্তির জন্য একটা সংবাদ পত্র প্রতিষ্ঠিত করেছে। যে সংবাদপত্র মানুষের দরজায় পৌঁছে যাচ্ছে এর থেকে আনন্দ আর কি হতে পারে। আমি মানবাধিকার খবরের দীর্ঘায়ু কামনা করছি। যাতে এ পত্রিকা মানবতার কল্যাণে নির্মল ভাবে কাজ করে যেতেে পারে। মানবতায় শান্তির বানী নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ মায়ানমারসহ সারা বিশ্বে পত্রিকাটি পদচারনায় মুখর থাকুক।
মানবাধিকার খবর : দীর্ঘসময় আপনার মুল্যবান সময় ব্যয় করে মানবাধিকার খবরকে পাঠকদের গঠন মূলক সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য আপনাকে মানবাধিকার খবরের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
প্রদীপ ভট্টাচার্য : আপনাদেরকে ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সময় শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে বাংলাদেশ থেকে এসে আমার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করার জন্য।
সাক্ষাৎকার গ্রহনে- মানবাধিকার খবর’র সম্পাদক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন
সহযোগিতায়- মনোয়ার ইমাম, ভরত প্রতিনিধি
 অনুলিখন- রুবিনা শওকত উল্লাহ

হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ ও সাবধানতা
                                  

হৃদপিণ্ড আক্রান্ত হওয়ার আগেই সতর্ক হন। হার্ট অ্যাটাক বা ‘করোনারি আর্টারি ডিজিস’য়ের পূর্বাভাস সম্পর্কে ‘হার্ট ফেইলি আর সোসাইটি অফ আমেরিকা’ ঋঅঈঊঝ বিষয়ে সাবধান থাকতে পরামর্শ দিয়েছে।

-এখানে ‘এফ’ হল অবসাদ বা ‘ফাটিগ’য়ের সংক্ষিপ্ত রূপ। হৃদযন্ত্র যখন শরীরের চাহিদা অনুযায়ী অক্সিজেন-সমৃদ্ধ রক্ত সরবরাহ করতে পারে না, তখনই শরীর ক্লান্ত এবং অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
- ‘এ’ দিয়ে বোঝায় ‘অ্যাকটিভিটি লিমিটেইশন’ অর্থাৎ শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারানো। এক্ষেত্রেও ক্লান্তি ঘিরে ধরে এবং দম ফুরিয়ে আসে।
- ‘সি’ হল ‘কনজেসচন’ অর্থাৎ ফুসফুসে পানি জমা হওয়া। যার ফলাফল হতে পারে কাশি, হাঁচি, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি।
- ‘এডিমা’ বা পা ফুলে যাওয়া বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘ই’। হৃদযন্ত্র যখন শরীরের নিম্নাংশ থেকে ব্যবহৃত রক্ত উপরে ঠেলে দেওয়ার শক্তি কমে যায়, তখন পা, উরু এবং তলপেটে তরল জমা হতে থাকে। অতিরিক্ত তরল জমা হওয়ার কারণে দ্রুত ওজন বাড়ে।
- ‘এস’ দিয়ে বোঝানো হয়েছে ‘শর্টনেস অফ ব্রেথ’ অর্থাৎ হাঁসফাঁস করা। ফুসফুসে পানি জমে থাকলে ব্যবহৃত রক্তের কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে অক্সিজেনের সঙ্গে অদল-বদল করা কঠিন হয়ে যায়। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা হয়। দৈনন্দিন কাজ করার সময়, বিশ্রামের সময় এমনকি বিছানায় শোয়া অবস্থায়ও এমনটা হতে পারে।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত সিরাজুল ইসলাম মেডিকাল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. এম শাখাওয়াত হোসেন ‘হার্ট অ্যাটাক’য়ের লক্ষণগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।

“বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি হার্ট অ্যাটাকের সবচাইতে প্রচলিত লক্ষণ। হৃদযন্ত্রের একটি বন্ধ হয়ে যাওয়া রক্তনালী এই ব্যথার সুত্রপাত ঘটাতে পারে। বুকে প্রচণ্ড চাপ অনুভূত হতে পারে। এই অনুভূতি যে কেনো অবস্থাতেই হতে পারে এবং স্থায়ী হতে পারে কয়েক মিনিট। তাই বুকব্যথা কখনও অবহেলা করা যাবে না।”

“এছাড়াও বমিভাব, বদহজম, বুক জ্বালাপোড়া, পেটব্যথা ইত্যাদি হতে পারে হার্ট অ্যাটাকের কারণে। এই সমস্যাগুলো নারীর ক্ষেত্রে বেশি হয়। তবে মনে রাখতে হবে, যে কোনো কারণেই এই সমস্যাগুলো হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।”

হাত ব্যথা

হার্ট অ্যাটাকের এই পূর্বাভাসের সুত্রপাত হয় শরীরের বাম পাশ থেকে। ব্যথাটা বুক থেকে শুরু হয়ে ক্রমশ হাতের দিকে ছড়াতে থাকে। অনেকসময় রোগী তার বাম হাতে বিরতিহীন ব্যথা অনুভব করতে থাকেন, যা পরে হার্ট অ্যাটাক হিসেবে চিহ্নিত হয়।

মাথা ঘোরা ও ঝিমঝিম ভাব

বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে মাথা ঘোরাতে পারে। তবে মাথা ঘোরার সঙ্গে শরীর বেসামাল লাগা, বুকে অস্বস্তি এবং হাঁসফাঁস লাগলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হতে হবে। এর মানে হল রক্তচাপ কমে গেছে। কারণ হৃদযন্ত্র চাহিদা মাফিক রক্ত সরবরাহ করতে পারছে না।

গলা কিংবা চোয়ালে ব্যথা

সরাসরি গলা কিংবা চোয়ালে ব্যথা শুরু হওয়ার সঙ্গে হৃদরোগের সম্পর্ক নেই। তবে ব্যথা যদি বুক থেকে শুরু হয়ে চোয়াল কিংবা গলায় ছড়ায় তবে সতর্ক হতে হবে।
দ্রুত ক্লান্ত হওয়া

সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় কিংবা হাঁটতে হাঁটতেই যদি দ্রুত হাঁপিয়ে ওঠেন তবে ডাক্তার দেখান। অল্প পরিশ্রমে প্রচণ্ড ক্লান্তি কিংবা দুর্বলতা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ, বিশেষত নারীদের ক্ষেত্রে

নাক ডাকা

বিষয়টা স্বাভাবিক মনে হলেও বিকট শব্দে নাকা ডাকা, সেই সঙ্গে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো শব্দ হওয়া ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’র লক্ষণ। অর্থাৎ ঘুমের মধ্যে দমবন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে।

এতে হৃদযন্ত্রের উপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে, যার ফলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

অতিরিক্ত ঘাম

স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কোনো কারণ ছাড়াই ঘাম হওয়া হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। এরসঙ্গে যদি হার্ট অ্যাটাকের অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দেয় তবে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

দীর্ঘদিন ধরে কফ জমা

সাধারণত এর সঙ্গে হৃদরোগের সম্পর্ক নেই। তবে যাদের হৃদযন্ত্রের সমস্যা আছে কিংবা হৃদরোগের ঝুঁকি আছে তাদের কফ জমাকে অবহেলা করা উচিত নয়। কাশির সঙ্গে যদি সাদা কিংবা গোলাপি রংয়ের কফ যায় তবে তা হৃদপিণ্ডের কর্মক্ষমতা হারানোর লক্ষণ হতে পারে।

পা ফোলা

হৃদযন্ত্র সঠিকভাবে রক্ত সরবরাহ করতে না পারলে শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলতে পারে। আর যখন হৃদপিণ্ড প্রয়োজন মতো দ্রুত ‘পাম্প’ করতে পারে না তখন রক্তনালীতে রক্ত ফেরত আসে। ফলে পাকস্থলি ফোলে। হৃদযন্ত্রের সমস্যা থাকলে শরীর থেকে বাড়তি পানি ও সোডিয়াম অপসারণ করতেও হিমশিম খায় কিডনি বা বৃক্ক।

অনিয়মিত হৃদস্পন্দন

ভয় কিংবা উত্তেজনায় হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়। সেটা যদি কয়েক সেকেন্ডের বেশি স্থায়ী হয় তবে চিকিৎসকের পরামশ নেওয়া উচিত। কারণ এটি হতে পারে ‘এইট্রিয়াল ফাইব্রালেইশন’ বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের পূর্বাভাস।

এই রোগে প্রাথমিকভাবে বুকে মৃদু ব্যথা হতে পারে। তবে পরবর্তী সময়ে আরও বেশি যন্ত্রণাদায়ক উপসগ দেখা দেবে।

কিছ ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক কোনো পূর্বাভাসই দেয় না, যাকে বলা হয় ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’। ডায়বেটিস রোগীদের এই পরিস্থিতে পড়ার আশঙ্কা বেশি।
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ আধা ঘণ্টা কিংবা তারও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে।

বিশ্রাম নিয়ে কিংবা ওষুধ খেয়েও অনেক সময় উপকার মেলে না। হার্ট অ্যাটাক এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এক নয় আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশ’য়ের ব্যাখ্যায়-যখন উচ্চমাত্রার অক্সিজেন মিশ্রিত রক্ত বন্ধ হয়ে যাওয়া ধমনীর মধ্যে দিয়ে হৃদপিণ্ডের কোনো অংশে যেতে বাধা পায়, আর সেই ধমনী নুতনভাবে কাজ করতে পারে না, তখন মরে যেতে থাকে।

যা থেকে হয় হার্ট অ্যাটাক। অপরদিকে হৃদযন্ত্রে তড়িৎ প্রবাহের ত্রুটি হলে হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হয়ে যায়। এতে হৃদযন্ত্রের রক্ত সরবরাহ প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দেয়, ফলে মস্তিষ্ক, ফুসফুসে ও অন্যান্য অঙ্গে রক্ত পৌঁছায় না। ফলাফল কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট।

 

 

সম্পাদকের জন্মদিন পালিত
                                  


প্রতিবেদক রুবিনা শওকত উল্লাহ

মানবাধিকার বিষয়ক বিশ্বের একমাত্র নিয়মিত জনপ্রিয় বাংলা সৃজনশীল প্রকাশনা মানবাধিকার খবর এর সম্পাদক ও প্রকাশক রোটারীয়ান মোঃ রিয়াজ উদ্দিন এর ৪০তম শুভ জন্মদিন গত ৫ নভেম্বর পরিবার, রোটারী ক্লাব ও অফিসসহ বিভিন্ন সংস্থা পালন করে।

তিনি এই দিনে বাংলাদেশের পূন্যভুমি বাগেরহাটের কচুয়ার সহবৎকাঠী গ্রামে মা আমিনার গর্ভে ও প্রয়াত পিতা আঃ হামিদের ঔরষে জন্ম গ্রহন করে। ভুমিষ্টের পর থেকে মাতৃ স্নেহে বেড়ে ওঠা তিনি যেন জীবনকে মানব কল্যানে উৎসর্গ করতে পারেন, সেজন্য তিনি এ শুভ জন্মদিনে পিতা-মাতা ও তার জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন। আমিন।

মানবাধিকার খবরকে একান্ত সাক্ষাৎকারে সেলিনা হোসেন
                                  

মানবাধিকার বিশ্বজুড়ে চুড়ান্ত বিপর্যয়ের মধ্যে আছে আমাদের সাহিত্য জগতের জ্যোতির্ময় এক নক্ষত্রের নাম সেলিনা হোসেন। তার জন্ম ১৯৪৭ সালের ১৪ জুন রাজশাহীতে, পৈতৃক নিবাস লক্ষীপুর জেলার হাজীপাড়ায়। মাতা মরিয়মন্নেসা বকুল পিতা একে মোশারফ হোসেন রাজশাহী রেশমশিল্প কর্পোরেশন এর পরিচালক ছিলেন। কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের লেখায় বাংলার মানুষের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লোক-পুরানের উজ্জল চরিত্র সমূহকে তুলে আনেন। তাঁর উপন্যাসে প্রতিফলিত হয়েছে সমকালের সামাজিক ও রাজনৈতিক দন্ধ সংকটের সামগ্রিকতা। মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তাঁর লেখায় নতুন মাত্রা অর্জন করেছে। তিনি শুধু কথা সাহিত্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি শানিত ও শক্তিশালী গদ্য নির্মানে প্রবন্ধ আকারেও উপস্থাপন করেন। এ পর্যন্ত তার লেখা গ্রন্থ একশ এর অধীক প্রকাশ পেয়েছে। তার লেখা গ্রন্থ বিভিন্ন ভাষায় যেমন ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি, কন্নড়, রুশ, ফরাশি, জাপানি, কোরিয়ান, উর্দূ, মালায়লাম। আরবি প্রভৃতিতে অনুদিত হয়েছে তিনি দীর্ঘ পঁচিশ বছর শিশু-কিশোর পত্রিকা ‘ধান শালিকের দেশ, এ সম্পাদনা করেন। তাঁর লেখায় শিশুদের বর্নমালার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য ‘বাংলা একাডেমি গল্পে বর্নমালা, বই প্রকাশ করেন। কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের লেখা বিভিন্ন পাঠ্য সূচি অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।

১৯৯৬ সালে ‘কাকতাডুয়া, উপন্যাস নবম শ্রেনির পাঠ্য সূচিতে অন্তর্ভূক্ত হয়। বাইরের দেশের পশ্চিম বঙ্গে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘যাপিত জীবন,। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি, উপন্যাস। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা, নীল ময়ূরের যৌবন ও হাঙর নদীর গ্রেনেন্ড, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ত্রমফিল থিসিস হয়েছে। মার্কিন যুক্ত রাষ্টের ইলিনয় রাজ্যের ওকটন কমিউনিটি কলেজ ২০০৬ সালে দুই সেমিস্টারে পাঠ্য ছিল হাঙর নদী গ্রেনেড উপন্যাস ইংরেজি অনুবাদে। তিনি সূদীর্ঘ ৩৪ বছর সফল ভাবে বাংলা একাডেমির দায়িত্ব পালন করে ২০০৪ সালে পরিচালক পদে অবসর নেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মানবাধিকার কমিশনের অনারারি মেম্বার হিসেবে বিভিন্ন কাজ করছেন। সেলিনা হোসেন সমাজের জনকল্যানে সেবামূলোক কাজ করে যাচ্ছে। সামাজিক নানান ধরনের কর্মকান্ডে নিজেকে সক্রিয় রেখেছেন। তার ভাবনায় অনেক খানি জুড়ে রয়েছে শিশুদের অধিকার বিষয়। তিনি সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতিতে জীবনের শুরু থেকেই বিভিন্ন পদকে ভূষিত হয়েছেন। স্বল্প পরিসরে তুলে ধরছি, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিতে প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়নশিপ স্বর্নপদক। ১৯৬৯ সালে প্রবন্ধের জন্য ডক্টর মুহাম্মদ এনামুল হক স্বর্নপদক ১৯৮০ সালে। উপন্যাসের জন্য বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার। ১৯৮১ সালে মগ্ন চৈতন্য শিস উপন্যাসের জন্য আলাওয়াল পুরস্কার ১৯৮৭ সালে ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ উপন্যাসের জন্য ‘কমর মুশতারী পুরস্কার’ ১৯৯৮ সালে। জেবুন্নেসা ও মাহবুবুল্লাহ ইনস্টিটিইট প্রদত্ত সাহিত্য পুরস্কার ও স্বর্নপদক। ২০০৯ সালে একুশে পদক । ২০০৩ সালে মেয়রের গাড়ি উপন্যাসের জন্য ইউরো সাহিত্য পুরস্কার। ২০১০ সালে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কোলকাতা থেকে ডক্টর অব লিটারেচার ডিগ্রি লাভ করেন। ২০১১ সালে দিল্লির সাহিত্য একাডেমী থেকে প্রেম চাঁদ ফেলোশিপ লাভ করেন। ২০১৫ সালে আনন শিশু সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১৬ সালে চন্দ্রাবতী একাডেমি প্রদও শিশু সাহিত্য পুরস্কার সহ অসংখ্য সম্মামনা তার প্রাপ্তিতে রয়েছে।

মানবাধিকার ঃ ‘‘আপনার ফারিয়া লারা ,, ফাউন্ডেশন সম্পর্কে জানতে চাই?

সেলিনা হোসেন ঃ ফারিয়া লারা আমার সন্তান। বিমান চালানো শিখে ২০০ ঘন্টা ফ্লাইং করে। ফ্লাইং স্কুলে খুব ভালো করে , তখন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিল তাকে ফ্লাইং ইন্সটেক্টর করবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে আরো ৫০ ঘন্টা ফ্লাইং করতে হবে। ছোট্ট একটি ট্রেনিং প্লেন নিয়ে উড়ল একসময় প্লেনটিতে আগুন ধরে যায় সেই দুর্ঘটনায় কবলিত হয়ে প্রান হারায়। ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮ সালে একই বছর তার শোক সভা আয়োজনে সবার সিদ্ধান্তে সে বছররের নভেম্বরে প্রতিষ্টিত হয় “ফারিয়া লারা ফাউন্ডেশন,, গাজীপুরে আমাদের ৭ বিঘা জমির উপর গড়ে তুলি এ ফাউন্ডেশন । এই ফাউন্ডেশন মানুষের জন্য কাজ করে মা ও শিশুদের নিয়ে, বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের জন্যে বিনামূল্যে চিকিৎসা ঔষধ বিতরন স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হয়। একটা সময় আমরা অনুভব করি এ ফাউন্ডেশনে আসা বেশির ভাগ শিশু পুষ্টি হীনতার স্বীকার তাই ওদের সাথে আলোচনা করে তাদের পছন্দে অনুযায়ী সিন্ধান্ত নিলাম সপ্তাহে দুদিন আপেল, ডিম, খিচুরী, মুরগীর মাংস রান্না করে বিতরন করার। এভাবেই ১৬ বছর ধরে শিশুদের জন্য পুষ্টিহীনতা দুরিকরন কার্যক্রম করে যাচ্ছে এ ফাইন্ডেশন। বরগুনা জেলার ছয়টি উপজেলায় ছয়টি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করি। হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সহযোগীতায়। বরগুনায় আরও ১টি স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি মহিলা হোস্টেলের ব্যাবস্থা সহ। কলেজটির এক্সিকিউটিভ কমিটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমাদের উদ্দেশ্য ‘ফারিয়া লারা, ফাউন্ডেশনের মাধমে পিছিয়ে পরা নারী ও শিশুদের উন্নয়নে কাজ করা।

মানবাধিকার ঃ বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতী সম্পর্কে আপনার অভিমত কি?

সেলিনা হোসেন ঃ বর্তমান মানবাধিকার বিশ্বজুড়ে চুড়ান্ত বিপর্যয়ের মধ্যে আছে। এর মূল কারন বিশ্ব শক্তিধরদের মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে যেভাবে সচেতন হয়ে বিশ্ব বিপর্যয় কমিয়ে রাখা প্রয়োজন ছিল তা কেউ করেনি। এখন পশ্চিমা দেশ সহ বিভিন্ন দেশ গুলোর মানবাধিকার বিপর্যস্ত। সস্প্রতি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর যে বর্রবরত এটা মানতে পারছিনা। যেভাবে আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা,নারী শিশুদের উপর সীমাহীন অত্যাচার রোহিঙ্গাদের উৎখাত,মিয়ানমার সরকার হত্যাযঙ্গের মাধ্যমে তাদের হেনস্থা করে অন্য দেশে আসতে বাধ্য করছে। এটা মিয়ানমার সরকারের নৈতীক কার্যক্রম বলে মনে হয় না। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো বিশ্বের বড় বড় দেশ মিয়ানমারের পক্ষে কথা বলছে। তাহলে বুঝতে হবে বিশ্ব মানবাধিকার কত বড় ভয়াবহ বিপর্যয়ে আছে। এই বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদের সবার বিশ্ব সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানুষের মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে।

মানবাধিকার ঃ আপনার তো যত ভাবনা শিশুদের নিয়ে, গত মাস বাংলাদেশেও বিশ্ব শিশু দিবস পালন করেছে এ সম্পর্কে আমরা কিছু জানতে চাই?

সেলিনা হোসেন ঃ আজকের শিশুই আগামী দিনের পরিণত মানুষ। একটি শিশুর স্বপ্নের জগৎ ও ক্ষেএ প্রস্তুত করে দিতে হয় পরিবার, সমাজ ও রাষ্টকে,বাংলাদেশ সরকার জাাতি সংঘ সনদ অনুযায়ী শিশু অধিকার সংরক্ষন, শিশুর জীবন ও জীবিকা উন্নয়নে প্রশিক্ষন প্রদান, প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচি সহ শিশু নির্যাতন বন্ধ কন্যা শিশুদের বৈষম্য বিলোপ সাধনে বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। জাতীয় শিশু শ্রম নিরসন নীতি ২০১১ এসব কর্মসূচি ও নীতিমালা শিশুর শারীরিক ও বুদ্ধিবৃওিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করছে। শিশুরা পিতা-মাতার পরম অরাধনার ধন হলেও প্রকৃতপক্ষে তারা রাষ্টেরই সম্পদ। বিশ্ব পরিমন্ডল শিশু অধিকার সংরক্ষনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ ঘোষনা করেছে,এটি শুধু সনদ নয় মানবাধিকারের দলিল। বাংলাদেশ এই সনদে গর্বিত অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ শিশুদের আলোকিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে সরকারের এই নীতি আর্দশের আলোকে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী শিশু কিশোরদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু কিশোরদের ব্যাপক অংশগই্রনের মাধ্যমেই শিশু একাডেমী সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা শিশুদের ভালোবাসি। আমরা দেখতে চাই তাদের মূখের হাসি। বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ ২০১৭ উদযাপন যেন একটি সপ্তাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে।আমাদের সারা বছরের কর্মকান্ডে আমরা যেন শিশু অধিকার বিষয়ে সচেতন থাকি এ দিকটিতে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।

মানবাধিকার ঃ আপনার মূল্যবান সময় প্রদানের জন্য ধন্যবাদ।
সেলিনা হোসেন ঃ তোমাকে ও ধন্যবাদ।

অং সান সু চি’র মুসলমান রোহিঙ্গাদের হত্যা ও নির্যাতন সারাবিশ্ব হতাশ হয়েছে
                                  




কাজী রিয়াজুল হক ২০১৬ সালের ২ আগস্ট জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানো এবং নির্যাতনের ঘটনায় মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক গণআদালতে ১৮-২১সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতীকী বিচারে শুনানিতে তিনি বিভিন্নœ তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন। মালয়েশিয়া থেকে ফিরে বিচার ও রায় নিয়ে তার গুলশান সরকারি বাসভবনে মিডিয়ার সাথে একান্তে খোলামেলা কথা বলেছেন। যা মানবাধিকার খবর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল-

প্রশ্ন : মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক গণআদালতের বিচার কীভাবে বিশ্লেষণ করবেন, রায়ের প্রধান বিশেষত্ব কী মনে করেন?

রিয়াজুল হক : মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে আন্তর্জাতিক গণআদালত মুসলমান রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানো এবং কাচিনদের ওপর নির্যাতনের দায়ে ২২ সেপ্টেম্বর বিচারে যে রায় দিয়েছেন, তা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের রায়। এই রায় মান্য করতে মিয়ানমার সরকার বাধ্য নয়। তথাপি বিশিষ্ট বিজ্ঞ ব্যক্তিরা ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের কথা শুনে, বিভিন্নœ তথ্য-উপাত্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই রায় দিয়েছেন। রায়ে মিয়ানমারের নেত্রী স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি ও সেনাবাহিনীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। বিচারের রায়ে মিয়ানমারের নির্যাতিতদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। তবে যে সংগঠনটি এ রায় দিয়েছে তার একটা বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। রায়ে শক্ত নৈতিক ভিত্তি রয়েছে। রায়ের ফলে নৈতিকভাবে মিয়ানমারকে দুর্বল করে ফেলবে এবং এতদিন তারা যে একগুঁয়ে মনোভাব দেখিয়েছিল, তা থেকে হয়তোবা আলোচনার টেবিলে আসার মনোভাব দেখানো হতে পারে। আমি চাই পৃথিবীর অন্যান্য আদালত ও মানবাধিকার সংগঠন এ ধরনের গঠনমূলক রায় দিক। তাহলে মিয়ানমার অবশ্যই রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ ও তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবে। এই রায় মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টিতে সহায়তা করবে বলে আমি মনে করি।
এ প্রসঙ্গে একটা কথা বলতেই হয় যে, রোহিঙ্গাদের আসার বিষয়ে আমরা (জাতীয় মানবাধিকার কমিশন) মিয়ানমার হিউম্যান রাইটস কমিশনকে গত ৮ সেপ্টেম্বর চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলাম। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারের ন্যাশনাল কমিশন ১৮ সেপ্টেম্বর আমাদের লিখিতভাবে জবাব দিয়েছে। সেখানে যদিও তারা এদেরকে রোহিঙ্গা হিসেবে স্বীকার করেনি। তারপরও তারা প্রকারান্তরে মেনে নিয়েছে মিয়ানমারে দুই পক্ষের মধ্যে একটা সংঘর্ষ হয়েছে। অর্থাৎ উগ্রপন্থি বৌদ্ধদের সঙ্গে রোহিঙ্গা মুসলমানদের জাতিগত সংঘর্ষ হয়েছে এবং তারা স্বীকার করেছে যে, সংঘর্ষের পর নির্যাতনের কারণে মিয়ানমার থেকে প্রচুর সংখ্যক লোক বাংলাদেশে চলে এসেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয়ভাবে আলাপ-আলোচনা করে সমাধান করা যেতে পারে।

প্রশ্ন : প্রতীকী এই রায়ের কার্যকারিতা কতটুকু এবং বাস্তবে কী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন?

রিয়াজুল হক : ওই যে বললাম, এটা প্রতীকী বিচার। এই বিচারের রায় মিয়ানমার সরকার মানতে বাধ্য নয়। গণআদালতের বিচারে মিয়ানমারের অং সান সু চি ও সে দেশের সেনাবাহিনীকে দোষী সাব্যস্ত করে যে রায় দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা যাবে না। তবে রায়টা ভবিষ্যতের জন্য অনেক গুরুত্ব বহন করবে এবং দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। রোহিঙ্গাদের হত্যা ও নির্যাতনের জন্য সারাবিশ্বের মানুষ যেভাবে আহত হয়েছে, নিন্দা জানিয়েছে, সেই দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতীকী এই বিচারটা প্রাতিষ্ঠানিক বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত হলো। ভবিষ্যতের বিচারের পথ উন্মোচিত হলো।

প্রশ্ন : আপনারা যে তথ্য-উপাত্ত প্রদর্শন করেছেন, তাতে কী ছিল?

রিয়াজুল হক : ১৯৭৫ সাল থেকে রোহিঙ্গা নির্যাতনের অনেক তথ্য ছিল এ ডকুমেন্টারিতে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটনাগুলোর তথ্যই বেশি। আমরা রোহিঙ্গাদের তোলা ভিডিওগুলো যোগ করেছি। তাদের বক্তব্যের গুরুত্ব দিয়েছি। রোহিঙ্গা শিশুদের করুণ কাহিনীও তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। মোদ্দা কথা, মোটামুটিভাবে নির্যাতনের একটা সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়েছি ওই ডকুমেন্টারিতে।

প্রশ্ন : এক দেশে সংঘটিত অপরাধের বিচার অন্য দেশে কতটুকু গ্রহণযোগ্য?

রিয়াজুল হক : অপরাধ যে দেশেই হোক না কেন, এই বিচারের আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাযেন মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে এবং সে ক্ষেত্রে জাতিসংঘের বড় ভূমিকা রয়েছে। জাতিসংঘ যদি সঠিকভাবে সেই ভূমিকা পালন করে, তাহলে মিয়ানমার সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে।

প্রশ্ন : এই রায়ের ফলে অং সান সু চি ও সে দেশের সেনাবাহিনী চাপের মুখে পড়বে কি-না?

রিয়াজুল হক : অবশ্যই পড়বে। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের বক্তব্য ও বিবৃতি থেকেই বোঝা যাচ্ছে, মিয়ানমার চাপের মুখে রয়েছে। যতদিন এ অবস্থা চলবে, ততদিন তারা বিশ্ববাসীর কাছে চাপের মুখে থাকবে। কারণ তাদের নৈতিক মনোভাবটা বিশ্ববাসীর কাছে ইতিমধ্যেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়া ২৫-২৬ সেপ্টেম্বর তুরস্কে ইন্টারন্যাশনাল একটি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেখানে আমি অংশগ্রহণ করে এ বিষয়গুলো উপস্থাপন করব।

প্রশ্ন : মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও এই আন্তর্জাতিক গণআদালতের মধ্যে পার্থক্য কী?

রিয়াজুল হক : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জাতিসংঘের একটি আইনগত প্রতিষ্ঠান। তাদের বিচার করার সম্পূর্ণ এখতিয়ার রয়েছে। আর আন্তর্জাতিক গণআদালত হচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তাদের বিচারের রায় মানতে আইনগত কেউ বাধ্য নয়- এটাই হচ্ছে ব্যবধান। তবে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে এই প্রতীকী রায় সহায়তা করতে পারে বলে আমি মনে করি।

প্রশ্ন : বাংলাদেশেও এ ধরনের বিচার করা সম্ভব কি-না?

রিয়াজুল হক : বাংলাদেশের সুশীল সমাজ ও বিভিন্নœ মানবাধিকার সংস্থা বা সিভিল একাডেমি উদ্যোগ নিলে বিচার করতে পারে। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশে এ ধরনের মানবাধিকারভিত্তিক আদালত নেই। আর মালয়েশিয়ার এই প্রতিষ্ঠানটি পার্মানেন্ট পিপলস ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘদিন ধরে এই বিচার কাজ করে আসছে। বিশ্বের যেসব জায়গায় গণহত্যা হয়েছে, সেসব বড় বড় অপরাধের বিচার করে রায় দিয়েছে। তাদের একটা বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা আছে। তাছাড়া সংশ্নিষ্ট বিচারকরা সারাবিশ্বে সমাদৃত। এ ছাড়া ওই গণআদালতের যিনি চেয়ারম্যান ছিলেন, তিনি বিজ্ঞ এবং গণহত্যার ওপর তার যথেষ্ট কাজ রয়েছে।

প্রশ্ন : আন্তর্জাতিকভাবে চাপ তৈরি করতে বাংলাদেশের করণীয় কী?

রিয়াজুল হক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা উল্লেøখ করে জাতিসংঘ, আসিয়ান, ইউনিসেফ, ওআইসিসহ বিশ্বের অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা চিঠি দিয়েছি। ৬ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে এসব চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে, যেন মিয়ানমার সরকারের ওপর তারা চাপ সৃষ্টি করে। যাতে এ ধরনের নৃশংস হত্যা ও নির্যাতন বন্ধ করা হয় এবং মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে চলে আসা নাগরিকদের যেন নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, সে জন্য অন্যান্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে কাজ করতে হবে এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

প্রশ্ন : মিয়ানমারের রাষ্ট্রনেতা হিসেবে অং সান সু চি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

রিয়াজুল হক : মিয়ানমারের নেত্রী স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি মুসলমান রোহিঙ্গাদের হত্যা ও নির্যাতনের ভূমিকায় সারাবিশ্ব হতাশ হয়েছে। গণহত্যা ও নির্যাতন চালিয়ে মৌলিক ও মানবাধিকার থেকে রোহিঙ্গাদের বঞ্চিত করে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। মিয়ানমারের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য অং সান সু চির এত ত্যাগ ছিল, তা আজ ভূলুণ্ঠিত। বিশ্ববাসী তাকে যে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়েছিল, তার স্খলন ঘটেছে। তিনি আগের সেই অবস্থানে নেই। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অং সান সু চি নোবেলকে অমর্যাদা করেছেন। শান্তিতে নোবেল পাওয়ার আগে তার প্রকৃত চেহারা বোঝা যায়নি। এখন তাকে চিনতে পারছে বিশ্ব। উপরন্তু কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকার কারণে তাকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে বলে এখন অনেকে মনে করেন।

প্রশ্ন : আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধে কীভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে?

রিয়াজুল হক : আমরা বিশ্বের কয়েকটি সংগঠনকে চিঠি দিয়েছি। ওআইসি, আসিয়ান, জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইন্ডিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, তুরস্কসহ আরও কয়েকটি দেশের মানবাধিকার সংগঠনকে রোহিঙ্গা বিষয়ে সোচ্চার হতে বলেছি ওই চিঠিতে। সব দেশই আমাদের চিঠিতে সাড়া দিয়েছে। এর মধ্যে জাতিসংঘ, ইউনিসেফসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন ও দেশ রোহিঙ্গা বিষয়ে সোচ্চার হয়েছে। আমাদের দেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদেরকে সাহায্য করছে।

প্রশ্ন : আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধে কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে?

রিয়াজুল হক : মিয়ানমারের ঘটনায় চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে। এই নৃশংস ও মর্মান্তিক ঘটনাগুলো ফলাও করে তারা প্রচার করতে পারে। গণমাধ্যমের ভূমিকার কারণে জাতিসংঘের কাছেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এ প্রসঙ্গে বলা যায়, একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিরা মিডিয়াকে ভাড়া করে নিয়ে এসেছিল। পাকিস্তানিরা সে সময় ভাড়া করা সাংবাদিকদের বলেছিল, পূর্ব পাকিস্তানে কোনো যুদ্ধ হচ্ছে না, শান্ত পিসফুল।
এখন মিয়ানমার ঠিক একই ধরনের কাজ করছে। তারা মিডিয়াকে ভাড়া করে নিয়ে এসেছে। সামরিক সরকার সব সময় এ ধরনের অন্যায়, অত্যাচার ও নির্যাতন চালায় এবং তারা নিজস্ব ভাড়া করা লোক দিয়ে এমন সব কাজ করায়।

প্রশ্ন : আপনাকে ধন্যবাদ।

রিয়াজুল হক : আপনাকেও ধন্যবাদ।

মানবাধিকার খবরকে একান্ত সাক্ষাৎকারে মোস্তফা জামান আব্বাসী আমার ইচ্ছে অধিকার বঞ্চিত মানুষদের পাশে দাড়ানো
                                  

মুস্তাফা জামান আব্বাসী অনবদ্য সৃষ্টির নাম। অসাধারণ এক গুনের অধিকারী। তিনি ভাটিয়ালী, ভাওয়াইয়া গানের স¤্রাট আব্বাস উদ্দিন আহমদের পুত্র। তিনি একাধারে সাহিত্যিক, সঙ্গীত শিল্পী, গবেষক, মঞ্চ অভিনেতা, ও শিক্ষক। সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন পদকে ভূষিত হয়েছে এর মধ্যে সংগীতের বিশেষ অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক সহ আব্বাস উদ্দিন স্বর্ণ পদক, নাট্যসভা পদক, বেংগাল সেন্টারি পদক, এপেক্স ফাউন্ডেশন পদক, মানিক মিয়া পদক, সিলেট সঙ্গীত পদক, লালন পরিষদ পদক সহ বিভিন্ন কর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ পদকের সম্মাননা তাঁর প্রাপ্তিতে রয়েছে। বর্তমানে ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির কাজী নজরুল ইসলাম এবং আব্বাস উদ্দিন “রিসার্চ এন্ড ষ্টাডি সেন্টার” এর ‘সিনিয়র রিসার্চ স্কলার’ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।
মানবাধিকার খবর ঃ আপনার জন্মস্থান কোথায় ও আপনার সম্পর্কে জানতে চাই?
মোস্তফা জামান আব্বাসী ঃ আমার জন্ম ৮ই ডিসেম্বর ১৯৩৬ সালে যশোরের কোচ বিহারে। আমার পিতা সঙ্গীত শিল্পী আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। আমরা ভাই বোন তিনজন ভাই সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামাল ও বোন শিল্পী ফেরদৌসী রহমান। আমার দু’টি সন্তান সরমিনী আব্বাসী ও সামিরা আব্বাসী। আমার স্ত্রী আসমা আব্বাসী।
মানবাধিকার খবর ঃ আপনার সঙ্গীত শিক্ষা ও লেখালেখি সম্পর্কে জানতে চাই?
মোস্তফা জামান আব্বাসী ঃ সঙ্গীত আমার আত্মায় ও রক্তে মিশে আছে। সঙ্গীতের প্রথম তালিম আব্বার কাছ থেকে; এরপর ভারতীয় ক্লাসিক্যাল সংগীতের স¤্রাট “উস্তাদ মুহাম্মদ হুসাইন খসরু ও উস্তাদ গুল মুহাম্মদ খান” এর কাছ থেকে সঙ্গীত শিক্ষা নিই। আর লেখালেখি তো করে যাচ্ছি। আল কোরআন ব্যাখ্যা সহ অনুবাদ করেছি ৭০০ পৃষ্ঠায়। বর্তমানে হাত দিয়েছি ১২০০ পৃষ্ঠায় ব্যাখ্যা সহ আল কোরআন অনুবাদে। আর আমার লেখায় ৫৪টি বই বের হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখ্য কবিতার বইয়ের মধ্যে “জালাল উদ্দিন রুমী” নিফারী ও “সুলতা বাহু” প্রমূখ, প্রবন্ধে রয়েছে আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, মানুষ ও শিল্পী, কাজী নজরুল ইসলাম, মানুষ এবং কবি ও পুড়িব একাকী। এছাড়া ভাওয়াইয়া সংগীতের উপর দু’টি বই যেগুলোতে ১২০০ গানের সংগীতের নোট দেয়া আছে। “তুমি আমার” নামে একটি উপন্যাস লিখছি। আরো বিভিন্ন রকমের লেখালেখি চলছে।
মানবাধিকার খবর ঃ বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার অভিমত কি?
মোস্তফা জামান আব্বাসী ঃ মানুষকে মর্যাদা দিয়েছেন আমাদের প্রভু কিন্তু আমরা মানুষরাই সেই মর্যাদা ক্ষুন্ন করি। মানুষকে বিবেচনা করি অর্থ দিয়ে, আমরা যখন ধনী হয়ে যাই গরীবদের দিকে নিচু নজরে তাকাই তাদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করিনা তাদেরকে গাল মন্দ করি। কি অফিস কি রাস্তা যেখানেই পাই অমর্যাদা করি। আমাদের জীবনে তাদেরকে যা দেই তাতে ভালবাসার স্থান নেই, অথচ আমরাই সেই জাতি যার নবী (সা.) বলেছিলেন হে আল্লাহ আমাকে গরিব থাকতে দিও, আমি যেন গরীব হিসেবে মারা যাই। দারিদ্র যেন আমার মুকুট হয়। উনার জীবন আদর্শ থেকে আমরা কত দূরে। আজ যারা আমাদের অধীনে কাজের লোক হিসেবে শ্রম দিচ্ছে। ছেলে হউক বা মেয়ে তারা কি আমাদের সম্মান, ¯েœহ পায়? না তারা ভাল ব্যবহার পায় না ! তাদের ন্যায্য পাওনাটুকু পায়না ! অধিকার তো দূরের কথা।
  আমরা কি শ্রমিকদের ন্যয্য মূল্য দিচ্ছি আমরা   কি তাদের মানবাধিকার সংরক্ষণ করতে পারছি। অথচ সভ্যতার বিকাশে শ্রমিকের অবদান সবচেয়ে বেশি। কিন্তু তারাই পায়না। শ্রমের মর্যাদা। অবহেলায় কাটে তাদের দিন। প্রাপ্য মর্যাদাটুকু মেলেনা তাদের ভাগ্যে। তাদের শ্রমের প্রাপ্য মর্যাদা আদায়ের জন্য নির্যাতনের শিকার হতে হয়। বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবিদের যেমন রিক্সাচালক থেকে শুরু করে গাড়ীর হেল্পার, মুজুড়, কর্মচারী, গার্মেন্টস্ শ্রমিকদের সাথে তাদের মালিক কর্তৃপক্ষ অথবা তাদের কাছ থেকে যারা শ্রম নিচ্ছে, তারাই এই শ্রমজীবিদের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে, শ্রমিকদের কাছ থেকে মাত্রাতিরিক্ত শ্রম আদায় করে অথচ প্রাপ্য পাওনাটুকু দেয়না।
আল্লাহ তায়ালা কোনো সৃষ্টিকেই তার ধারণ ক্ষমতার বাইরে কোনো কাজকর্মের নির্দেশ চাঁপিয়ে দেননা, এটা যদি আল্লাহর নীতি হয় তবে আমরা কেন এর বাইরে চলি। শ্রমিক অধিকারের জন্য যিনি জীবনব্যাপী সংগ্রাম করেছেন মুহাম্মদ (সা.) শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় উম্মতকে উদ্দেশ্য করে বলেন তোমরা শ্রমিককে তার সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ দিওনা যদি কখনো এমনটি করতেই হয় তবে তুমি নিজে তাকে সাহায্য করবে। মজদুর শ্রমিকদের মৌলিক সমস্যা এ দুটোই। তাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রম করানো হচ্ছে অথচ তাদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য দেওয়া হচ্ছে না। শ্রমিকের অধিকার আদায় সম্পর্কিত হাদিসে আল্লাহ বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি কোনো মজদুরকে শ্রমিক নিয়োগ করে তার কাছ থেকে পূর্ণ কাজ বুঝে নিল কিন্তু তাকে তার মজুরি দিল না, কাল কেয়ামতের ময়দানে আমি এ ধরনের ব্যক্তির প্রতিপক্ষ হব’। এ থেকে বুঝা যায় শ্রমিকদের প্রতি ইসলামের কতটুকু দায়িত্ব রয়েছে। অথচ আজ আমরা এ সভ্য সমাজে বাস করেও শ্রমিকদের মর্যাদা, প্রাপ্য অধিকার দিতে পারছিনা। যতদিন পর্যন্ত শ্রমিক মালিকের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ উন্নত না হয় ততদিন শ্রমিকের অধিকার ও আদায় হবে না। রসুল (সা.) যে শ্রমনীতি ঘোষণা করেছেন তা বাস্তবায়ন হলে সমাজের উন্নতি হবে, শান্তি আসবে। যদি আমরা মুসলমান হই, নবীর উম্মত হই তাহলে কি করতে হবে? তাদের ঘাম শুকানোর আগেই তাদেরকে নায্য মজুরি দিতে হবে এটাই মানবাধিকারের প্রথম শিক্ষা।
মানবাধিকার খবর ঃ আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
মোস্তফা জামান আব্বাসী ঃ আসলে পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কাজ তো হয় না। আমার ইচ্ছে অসহায়, দুস্থ্য, দুঃখী, অধিকার বঞ্চিত মানুষদের পাশে দাড়ানোর, সঙ্গীতকে সমৃদ্ধি করা। লেখালেখি করা। সমজের যেন উন্নতি সাধন হয় সে জন্য ভাল কিছু করার চেষ্টা করে যাব।
মানবাধিকার খবর ঃ আপনার মূল্যবান সময়টুকু আমাদের দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
মোস্তফা জামান আব্বাসী ঃ তোমাদের মানবাধিকার খবর পত্রিকার সকলকে রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও আর্শিবাদ।
সাক্ষাৎকার গ্রহনে ঃ মানবাধিকার
খবর’র নিজস্ব প্রতিবেদক রুবিনা শওকত উল্লাহ।

মানবাধিকার লগ্ঘন চিন্তার বাইরে কাদের সিদ্দিকী
                                  

মানবাধিকার খবর ঃ বর্তমানে আপনার কিভাবে সময় কাটছে? মানবাধিকার খবর ঃ বর্তমানে আপনার কিভাবে সময় কাটছে? সা  ক্ষা ৎ কা রমানবাধিকার খবর ঃ বর্তমানে আপনার কিভাবে সময় কাটছে?
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ঃ একজন মুসলমান হিসেবে মহান আল্লাহর ঈবাদত করে। প্রতি সপ্তাহে টাঙ্গাইলে যাচ্ছি এলাকার প্রতিটি মানুষের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করছি। রাস্তার মানুষদের সাথে থাকছি। বাংলার যে প্রান্তেই কোন সমস্যা হচ্ছে ছুটে যাচ্ছি। দেশে যেন অরাজকতা, রাহাজানি, খুনাখুনি বন্ধ হয় নিরলস ভাবে সে চেষ্টাই করে যাচ্ছি লেখার মাধ্যমে ও স্বশরীরে।
মানবাধিকার খবর ঃ আমরা আপনার পরিবার সম্পর্কে কিছু জানতে চাই?
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ঃ আমার বাবা মৌলভী মুহাম্মদ আব্দুল আলী সিদ্দিকী। মা লতিফা সিদ্দিকী। আমরা ভাই বোন ১৬ জনের মধ্যে জীবিত আছি সাত ভাই ও তিন বোন। আমার তিন সন্তান দ্বীপ, কুড়ি ও কুশি। আমার সহধর্মীনি নাসরিন কোরাইশী (ডান্নু)।
মানবাধিকার খবর ঃ আপনি রাজনীতিতে কিভাবে আসলেন?
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ঃ আমাদের পরিবারের সবাই রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আমার দাদু আলাউদ্দিন সিদ্দিকী মহাত্মা গান্ধীর অনুরক্ত ছিলেন। তিনি কংগ্রেস করতেন এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। আমার বাবা, চাচারা বড় ভাই সবাই যুক্তফ্রন্টের সমর্থক ছিলেন। আর আমার রাজনীতির সূচনা হয় কলেজ জীবনের শুরুতেই।
মানবাধিকার খবর ঃ মুক্তিযুদ্ধে আপনার অংশগ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাই?
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ঃ মুক্তিযুদ্ধ আমাদের বাঙ্গালী জাতির মুক্তির সংগ্রাম এটা একদিনে আসেনি শুধু ’৭১ -এর মার্চ থেকে ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ নয়, মুক্তিযুদ্ধের শিকড় আরো অনেক গভীরে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে সৃষ্ট পাকিস্তানে শুরু থেকেই পশ্চিমাদের চরম বঞ্চনা, মাতৃভাষা কেড়ে নেয়ার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কুমিল্লার বীরেন্দ্রনাথ দত্তের সোচ্চার প্রতিবাদে পুরো জাতি এক কাতারে শামিল হয় ’৫৪ এর প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের নিরঙ্কুশ জয় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কারাগার ভেঙ্গে বের করে এনে শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু বানানো, তারপর ৭০’র নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালীর বিজয়ের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শুরু। আমরা আইয়ুব, ইয়াহিয়ার বিরোধী সংগ্রাম না করতাম তাহলে ২৫শে মার্চ পাকিস্তান হানাদাররা ঝাঁপিয়ে পড়তো না, আমরাও প্রতিরোধে গর্জে উঠতাম না। যদি ৭০’র নির্বাচনে আপামর দেশবাসী বঙ্গবন্ধুর পিছনে কাতারবন্দী না হতো, তাহলে মুক্তিযুদ্ধ হতো কিনা কেউ আমরা বলতে পারব না। তাই মুক্তিযুদ্ধ একের পর এক ঘটনার প্রতিফলন এই মুক্তিযোদ্ধা ২৫শে মার্চ রাতে ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকান্ড সংঘটিত হয় রাজধানী ঢাকা। তখন আমি নিজ শহর টাঙ্গাইলে ২৬ মার্চ ভোর হতে না হতেই হাজার হাজার ভীত দিশেহারা মানুষ ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময় পলায়নপর জন¯্রােতের একটি বড় অংশ মৃত্যুপুরী ঢাকা থেকে পালিয়ে আসা মানুষগুলোর দিকে তাকানো যাচ্ছিনা কি অবর্ননীয় কষ্ট এক অপার্থিব বিভীষিকা তাদের তাড়া করছিল। এই অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখে প্রায় মূহ্যমান হয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ এক ভদ্রলোকের হাউমাউ করে কাঁদছিলেন আর বুক চাপড়াচ্ছিলেন কিছুই বলছিলেননা অনেক সান্তনার পর মুখ খুললেন তিনি বললেন, আমার বাড়ি ধানমন্ডিতেই বঙ্গবন্ধুর বাড়ির পাশের কিন্তু কি বলবো, সব শেষ হয়ে গেছে রাত বারোটার পর একদল সৈন্য এসে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ঘিরে ফেলে বেধড়ক গুলি চালাতে শুরু করে। একটু পরে, বঙ্গবন্ধুর নাগাল পেল ওরা বন্দুকের বাঁট ও নল দিয়ে তাঁকে গুতো মারে ধাক্কা দিতে থাকে দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। ওরা তো শেখ মুজিবকে ধরে নিয়ে গেছে এ কথা শুনে আমার সারা গায়ে যেন আগুন ধরে গেল। কারণ বঙ্গবন্ধু শুধু নেতাই নন তিনি আমাকে সন্তানের মত ¯েœহ করতেন ভদ্রলোকের মুখ থেকে বঙ্গবন্ধুর এই লাঞ্জনার ও ঢাকা শহর ধ্বংস করার বিবরণ শুনে আমি আর স্থির থাকতে পারছিলাম না ছুটে গেলাম জেলা সংগ্রাম পরিষদের অফিসের দিকে। মাইক্রো ফোনের সামনে দাঁড়িয়ে ঘৃণা আর আক্রোশে চিৎকার করে বলি আমাদের ওপর পাকিস্তান খুনিরা ট্যাঙ্ক, কামান মেশিনগান নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে মানুষ হত্যা করছে রক্তের বন্যায় রাজধানী ঢাকাকে ভাসিয়ে দিচ্ছে। এই রক্তের জবাব রক্ত দিয়েই নিতে হবে দীর্ঘ পঁচিশ বছর ওরা তিল তিল করে আমাদের শোষণ করেছে আজ সভ্য জগতের সমস্ত রীতি নীতি অগ্রাহ্য করে বর্বরতার চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে নিরপরাধ নিরস্ত্র নিরীহ সাধারণ মানুষের বুকে পৈশাচিক থাবা হেনেছে। সেই নৃশংস থাবা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতে না পারলে বাঙালি জাতির অস্তিত্ব চির দিনের জন্য বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আজ আমাদের প্রমাণ করতে হবে ঐক্যবদ্ধ বাঙালির কাছে দানবীয় পশুশক্তির হার মানতে বাধ্য। তখন রাস্তার বড় হতে থাকা ভিড়ের দিকে হাত তুলে সবাইকে বললাম আপনারা বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের আহ্বানের কথা ভূলে যাবেন না। জীবন দিয়ে হলেও নেতার নির্দেশের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। জীবন দেবো। তবুও অধিকার দেবনা কোন অপশক্তির কাছে মাথা নোয়াবো না। এ কথার মাধ্যমেই আমি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি দেশকে স্বাধীন করার জন্য। আসলে যুদ্দ জিনিসটাই অনেক ভয়ঙ্কর এটা বলে বুঝানো যাবেনা। একমাত্র যারা এ সময়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে শুধু তারাই বলতে পারবে। এই পরাধীনতার শেকল থেকে জাতিকে মুক্ত করার লক্ষেই মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ি।
মানবাধিকার খবর ঃ বঙ্গবন্ধুর সাথে আপনার পরিচয় ও মুক্তিযুদ্ধের পরে আপনার বাহিনীর অস্ত্র জমা নিয়ে যে ঘটনা তা জানতে চাই?
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ঃ ৬১-৬২ সালের দিকে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুকে প্রথম দেখেছিলাম আমাদের বাড়িতে। বুনিয়াদি গণতন্ত্রের এক উপনির্বাচনে খোদাবক্স মোক্তার বাসাইল থেকে নির্বাচনে দাড়িয়েছিলেন অন্যদিকে করাটিয়ার কোন এক জমিদার। সেই নির্বাচনে প্রচারে অনেকের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুও গিয়েছিলেন। সেই প্রথম আমাদের বাড়িতে উনার আগমন টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে গিয়ে গ্লাস ভেঙে গিয়ে কেটে রক্তাক্ত হয়েছিলাম সেই রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথম পরিচয় বঙ্গবন্ধুর সাথে এরপর ধীরে ধীরে আমদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছিল পিতা-পুত্রের ন্যায়।
১০ জানুয়ারী ’৭২ দুপুর বঙ্গবন্ধু তেজগাঁও বিমান বন্দরে যখন প্রথম স্বাধীন বাংলায় পা রেখেছিলেন, পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে। সেদিন বিমান বন্দরে আমি যেতে পারিনি কিন্তু পরদিন বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাড়িতে দেখা করতে গিয়েছিলাম সে মুহুর্ত চিরস্মরণী। বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা হবে তখন কারো চোখে ঘুম নেই। আনন্দ, উত্তেজনা রাত কেটে গেল ভোর সাড়ে চারটায় রওনা হয়ে সাতটায় ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা হলো আমাকে দুই হাতে জাপটে ধরে হারানো পুত্র ফিরে পাওয়ার মতো আনন্দে কোলে তুলেছিলেন। এতোদিন পর ওনার সাথে দেখা সে কি যে অনুভূতি ছিল। বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাত শেষে চলে আসার পর আমাকে আবার খবর দিলেন, গেলাম। তিনি বললেন কাদের শুনলাম তোর নাকি সবচেয়ে বড় দল, বেশি অস্ত্র সারা দুনিয়ায় তোকে নিয়ে কথা হচ্ছে। এত ছড়ানো ছিটানো অস্ত্র। তুই যদি আনুষ্ঠানিক ভাবে জমা দিস অন্যদের কাছে আমি বড় গলায় বলতে পারব। তখন বললাম। কখন দরকার তখনই দিয়ে যব। চলুন টাঙ্গাইলে অস্ত্র নিয়ে আসবেন। বঙ্গবন্ধু সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়েছিলেন। তিনি নাকি লন্ডনে একমাত্র আমাকে নিয়েই প্রশ্নের সম্মুখীন হউন। অসংখ্য সাংবাদিক জিজ্ঞাসা করেছিলেন হু ইজ কাদের সিদ্দিকী? তিনি স্বভাবসূলভ দৃঢ়তায় বলেছিলেন ওহ্। হি ইজ্ মাই সান, মুক্তিবাহিনীর প্রধান জেনারেল আতাউল গনি ওসমানি ও হোম মিনিষ্টারকে টাঙ্গাইলে পাঠানোর কথা হয়। বলেছিলাম ‘কী যে বলেন ! পাকিস্তান আর্মির হাত থেকে ছিনিয়ে আনা অস্ত্র তাদের হাতে দেব? তারা কি আমাদের নেতা? এরপর ঠিক হলো চব্বিশ জানুয়ারী ’৭২ রাজধানীর বাইরে প্রথম টাঙ্গাইলে যাবেন অস্ত্র নিতে। মাত্র দেশ সৃষ্টি হলো তখন ষড়যন্ত্র বাড়বাড়ন্ত। আমরা যদি বঙ্গবন্ধুকে জিম্মি করে ক্ষমতা নিয়ে নিই তাই কতজন বঙ্গবন্ধুকে টাঙ্গাইল যেতে বারন করেছিলেন, বাধা দিয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু আমার প্রতি ভালবাসা ও বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গে কেউ গেলেন না। তিনি একাই টাঙ্গাইল গিয়েছিলেন, একে একে সব অস্ত্র বঙ্গবন্ধুর  সামনে জমা দিলাম।
মানবাধিকার খবর ঃ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আপনিই প্রথম সম্মানী ভাতা প্রসঙ্গে উদ্যোগ নিয়েছিলেন?
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ঃ একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সমগ্র দেশবাসী আমাকে ভালোবাসে। সেই বিবেকের টানে তাদের জন্য যারা এই দেশকে রক্ষা করে স্বাধীন করেছিল বহু ত্যাগে বিনিময়ে তাদের ঋণ কোনদিন পরিশোধ হবার নয়। তারপরও ক্ষুদ্র একটা চাওয়া আমার তারা যেন এদেশে সুন্দর জীবন-যাপন করতে পারে এ আশায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দু’হাজার টাকা ভাতা চেয়ে দাবি করি, দাবি পুরোন হয়েছিল তিনশ টাকা সম্মানী ভাতার মাধ্যমে, আজ সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দশ হাজার টাকা আহতদের তারও বেশী, আর যারা খেতাব প্রাপ্ত তাদেরও ভালো সম্মানী ভাতা দেয়া হচ্ছে। যাই হউক মুক্তিযোদ্ধারা তো কিছু হলেও পাচ্ছে, তবে আমি সবসময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের এ বিষয়ে সোচ্ছার থাকব, তাদের ভাতা যেন আরোও বাড়ে।
মানবাধিকার খবর ঃ বর্তমান মানবাধিকার সম্পর্কে আপনার অভিমত কি?
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ঃ বর্তমানে এতো বেশী মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন রকমে যা কিনা চিন্তারও বাইরে। কেন যে মানুষের মানবিক দিকগুলি হারিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে। যুব সমাজ আজ নেশার ছোবলে নিজেদের অধিকার নিজেরাই হরণ করছে। মা সন্তানকে খুন করে আত্মহত্যা করছে কি কারণে যে এই অবক্ষয়। বর্হিবিশ্বে বিনা কারণে যুদ্ধ আক্রমণ হচ্ছে যার ফলে ছোট্ট শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় ভর করছে, নারীরা বিপদগ্রস্থ হচ্ছে। আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানবাধিকার লংঘন বেড়েই চলেছে। এসব সমস্যা অস্থিরতা অশান্তিগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে হলে, পুরো বিশ্ব নেতাদের এক হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের দেশের শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে আলোচনার মাধ্যমে, মতবিনিময়ের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে। মানবাধিকার রক্ষায় সমাজের প্রতিটি পরিবারকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে সমাজের উন্নয়নের জন্য। তাহলেই প্রতিটি পর্যায়ে মানবাধিকারের যে পরিস্থিতি তা রক্ষা হবে।
মানবাধিকার খবর ঃ আমাদেরকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ঃ তোমাকেও ধন্যবাদ।
সাক্ষাৎকার গ্রহনে ঃ মানবাধিকার খবর’র নিজস্ব প্রতিবেদক রুবিনা শওকত উল্লাহ। 
মানবাধিকার খবর ঃ বর্তমানে আপনার কিভাবে সময় কাটছে?
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ঃ একজন মুসলমান হিসেবে মহান আল্লাহর ঈবাদত করে। প্রতি সপ্তাহে টাঙ্গাইলে যাচ্ছি এলাকার প্রতিটি মানুষের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করছি। রাস্তার মানুষদের সাথে থাকছি। বাংলার যে প্রান্তেই কোন সমস্যা হচ্ছে ছুটে যাচ্ছি। দেশে যেন অরাজকতা, রাহাজানি, খুনাখুনি বন্ধ হয় নিরলস ভাবে সে চেষ্টাই করে যাচ্ছি লেখার মাধ্যমে ও স্বশরীরে।
মানবাধিকার খবর ঃ আমরা আপনার পরিবার সম্পর্কে কিছু জানতে চাই?
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ঃ আমার বাবা মৌলভী মুহাম্মদ আব্দুল আলী সিদ্দিকী। মা লতিফা সিদ্দিকী। আমরা ভাই বোন ১৬ জনের মধ্যে জীবিত আছি সাত ভাই ও তিন বোন। আমার তিন সন্তান দ্বীপ, কুড়ি ও কুশি। আমার সহধর্মীনি নাসরিন কোরাইশী (ডান্নু)।
মানবাধিকার খবর ঃ আপনি রাজনীতিতে কিভাবে আসলেন?
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ঃ আমাদের পরিবারের সবাই রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আমার দাদু আলাউদ্দিন সিদ্দিকী মহাত্মা গান্ধীর অনুরক্ত ছিলেন। তিনি কংগ্রেস করতেন এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। আমার বাবা, চাচারা বড় ভাই সবাই যুক্তফ্রন্টের সমর্থক ছিলেন। আর আমার রাজনীতির সূচনা হয় কলেজ জীবনের শুরুতেই।
মানবাধিকার খবর ঃ মুক্তিযুদ্ধে আপনার অংশগ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাই?
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ঃ মুক্তিযুদ্ধ আমাদের বাঙ্গালী জাতির মুক্তির সংগ্রাম এটা একদিনে আসেনি শুধু ’৭১ -এর মার্চ থেকে ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ নয়, মুক্তিযুদ্ধের শিকড় আরো অনেক গভীরে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে সৃষ্ট পাকিস্তানে শুরু থেকেই পশ্চিমাদের চরম বঞ্চনা, মাতৃভাষা কেড়ে নেয়ার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কুমিল্লার বীরেন্দ্রনাথ দত্তের সোচ্চার প্রতিবাদে পুরো জাতি এক কাতারে শামিল হয় ’৫৪ এর প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের নিরঙ্কুশ জয় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কারাগার ভেঙ্গে বের করে এনে শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু বানানো, তারপর ৭০’র নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালীর বিজয়ের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শুরু। আমরা আইয়ুব, ইয়াহিয়ার বিরোধী সংগ্রাম না করতাম তাহলে ২৫শে মার্চ পাকিস্তান হানাদাররা ঝাঁপিয়ে পড়তো না, আমরাও প্রতিরোধে গর্জে উঠতাম না। যদি ৭০’র নির্বাচনে আপামর দেশবাসী বঙ্গবন্ধুর পিছনে কাতারবন্দী না হতো, তাহলে মুক্তিযুদ্ধ হতো কিনা কেউ আমরা বলতে পারব না। তাই মুক্তিযুদ্ধ একের পর এক ঘটনার প্রতিফলন এই মুক্তিযোদ্ধা ২৫শে মার্চ রাতে ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকান্ড সংঘটিত হয় রাজধানী ঢাকা। তখন আমি নিজ শহর টাঙ্গাইলে ২৬ মার্চ ভোর হতে না হতেই হাজার হাজার ভীত দিশেহারা মানুষ ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময় পলায়নপর জন¯্রােতের একটি বড় অংশ মৃত্যুপুরী ঢাকা থেকে পালিয়ে আসা মানুষগুলোর দিকে তাকানো যাচ্ছিনা কি অবর্ননীয় কষ্ট এক অপার্থিব বিভীষিকা তাদের তাড়া করছিল। এই অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখে প্রায় মূহ্যমান হয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ এক ভদ্রলোকের হাউমাউ করে কাঁদছিলেন আর বুক চাপড়াচ্ছিলেন কিছুই বলছিলেননা অনেক সান্তনার পর মুখ খুললেন তিনি বললেন, আমার বাড়ি ধানমন্ডিতেই বঙ্গবন্ধুর বাড়ির পাশের কিন্তু কি বলবো, সব শেষ হয়ে গেছে রাত বারোটার পর একদল সৈন্য এসে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ঘিরে ফেলে বেধড়ক গুলি চালাতে শুরু করে। একটু পরে, বঙ্গবন্ধুর নাগাল পেল ওরা বন্দুকের বাঁট ও নল দিয়ে তাঁকে গুতো মারে ধাক্কা দিতে থাকে দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। ওরা তো শেখ মুজিবকে ধরে নিয়ে গেছে এ কথা শুনে আমার সারা গায়ে যেন আগুন ধরে গেল। কারণ বঙ্গবন্ধু শুধু নেতাই নন তিনি আমাকে সন্তানের মত ¯েœহ করতেন ভদ্রলোকের মুখ থেকে বঙ্গবন্ধুর এই লাঞ্জনার ও ঢাকা শহর ধ্বংস করার বিবরণ শুনে আমি আর স্থির থাকতে পারছিলাম না ছুটে গেলাম জেলা সংগ্রাম পরিষদের অফিসের দিকে। মাইক্রো ফোনের সামনে দাঁড়িয়ে ঘৃণা আর আক্রোশে চিৎকার করে বলি আমাদের ওপর পাকিস্তান খুনিরা ট্যাঙ্ক, কামান মেশিনগান নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে মানুষ হত্যা করছে রক্তের বন্যায় রাজধানী ঢাকাকে ভাসিয়ে দিচ্ছে। এই রক্তের জবাব রক্ত দিয়েই নিতে হবে দীর্ঘ পঁচিশ বছর ওরা তিল তিল করে আমাদের শোষণ করেছে আজ সভ্য জগতের সমস্ত রীতি নীতি অগ্রাহ্য করে বর্বরতার চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে নিরপরাধ নিরস্ত্র নিরীহ সাধারণ মানুষের বুকে পৈশাচিক থাবা হেনেছে। সেই নৃশংস থাবা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতে না পারলে বাঙালি জাতির অস্তিত্ব চির দিনের জন্য বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আজ আমাদের প্রমাণ করতে হবে ঐক্যবদ্ধ বাঙালির কাছে দানবীয় পশুশক্তির হার মানতে বাধ্য। তখন রাস্তার বড় হতে থাকা ভিড়ের দিকে হাত তুলে সবাইকে বললাম আপনারা বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের আহ্বানের কথা ভূলে যাবেন না। জীবন দিয়ে হলেও নেতার নির্দেশের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। জীবন দেবো। তবুও অধিকার দেবনা কোন অপশক্তির কাছে মাথা নোয়াবো না। এ কথার মাধ্যমেই আমি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি দেশকে স্বাধীন করার জন্য। আসলে যুদ্দ জিনিসটাই অনেক ভয়ঙ্কর এটা বলে বুঝানো যাবেনা। একমাত্র যারা এ সময়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে শুধু তারাই বলতে পারবে। এই পরাধীনতার শেকল থেকে জাতিকে মুক্ত করার লক্ষেই মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ি।
মানবাধিকার খবর ঃ বঙ্গবন্ধুর সাথে আপনার পরিচয় ও মুক্তিযুদ্ধের পরে আপনার বাহিনীর অস্ত্র জমা নিয়ে যে ঘটনা তা জানতে চাই?
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ঃ ৬১-৬২ সালের দিকে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুকে প্রথম দেখেছিলাম আমাদের বাড়িতে। বুনিয়াদি গণতন্ত্রের এক উপনির্বাচনে খোদাবক্স মোক্তার বাসাইল থেকে নির্বাচনে দাড়িয়েছিলেন অন্যদিকে করাটিয়ার কোন এক জমিদার। সেই নির্বাচনে প্রচারে অনেকের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুও গিয়েছিলেন। সেই প্রথম আমাদের বাড়িতে উনার আগমন টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে গিয়ে গ্লাস ভেঙে গিয়ে কেটে রক্তাক্ত হয়েছিলাম সেই রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথম পরিচয় বঙ্গবন্ধুর সাথে এরপর ধীরে ধীরে আমদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছিল পিতা-পুত্রের ন্যায়।
১০ জানুয়ারী ’৭২ দুপুর বঙ্গবন্ধু তেজগাঁও বিমান বন্দরে যখন প্রথম স্বাধীন বাংলায় পা রেখেছিলেন, পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে। সেদিন বিমান বন্দরে আমি যেতে পারিনি কিন্তু পরদিন বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাড়িতে দেখা করতে গিয়েছিলাম সে মুহুর্ত চিরস্মরণী। বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা হবে তখন কারো চোখে ঘুম নেই। আনন্দ, উত্তেজনা রাত কেটে গেল ভোর সাড়ে চারটায় রওনা হয়ে সাতটায় ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা হলো আমাকে দুই হাতে জাপটে ধরে হারানো পুত্র ফিরে পাওয়ার মতো আনন্দে কোলে তুলেছিলেন। এতোদিন পর ওনার সাথে দেখা সে কি যে অনুভূতি ছিল। বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাত শেষে চলে আসার পর আমাকে আবার খবর দিলেন, গেলাম। তিনি বললেন কাদের শুনলাম তোর নাকি সবচেয়ে বড় দল, বেশি অস্ত্র সারা দুনিয়ায় তোকে নিয়ে কথা হচ্ছে। এত ছড়ানো ছিটানো অস্ত্র। তুই যদি আনুষ্ঠানিক ভাবে জমা দিস অন্যদের কাছে আমি বড় গলায় বলতে পারব। তখন বললাম। কখন দরকার তখনই দিয়ে যব। চলুন টাঙ্গাইলে অস্ত্র নিয়ে আসবেন। বঙ্গবন্ধু সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়েছিলেন। তিনি নাকি লন্ডনে একমাত্র আমাকে নিয়েই প্রশ্নের সম্মুখীন হউন। অসংখ্য সাংবাদিক জিজ্ঞাসা করেছিলেন হু ইজ কাদের সিদ্দিকী? তিনি স্বভাবসূলভ দৃঢ়তায় বলেছিলেন ওহ্। হি ইজ্ মাই সান, মুক্তিবাহিনীর প্রধান জেনারেল আতাউল গনি ওসমানি ও হোম মিনিষ্টারকে টাঙ্গাইলে পাঠানোর কথা হয়। বলেছিলাম ‘কী যে বলেন ! পাকিস্তান আর্মির হাত থেকে ছিনিয়ে আনা অস্ত্র তাদের হাতে দেব? তারা কি আমাদের নেতা? এরপর ঠিক হলো চব্বিশ জানুয়ারী ’৭২ রাজধানীর বাইরে প্রথম টাঙ্গাইলে যাবেন অস্ত্র নিতে। মাত্র দেশ সৃষ্টি হলো তখন ষড়যন্ত্র বাড়বাড়ন্ত। আমরা যদি বঙ্গবন্ধুকে জিম্মি করে ক্ষমতা নিয়ে নিই তাই কতজন বঙ্গবন্ধুকে টাঙ্গাইল যেতে বারন করেছিলেন, বাধা দিয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু আমার প্রতি ভালবাসা ও বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গে কেউ গেলেন না। তিনি একাই টাঙ্গাইল গিয়েছিলেন, একে একে সব অস্ত্র বঙ্গবন্ধুর  সামনে জমা দিলাম।
মানবাধিকার খবর ঃ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আপনিই প্রথম সম্মানী ভাতা প্রসঙ্গে উদ্যোগ নিয়েছিলেন?
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ঃ একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সমগ্র দেশবাসী আমাকে ভালোবাসে। সেই বিবেকের টানে তাদের জন্য যারা এই দেশকে রক্ষা করে স্বাধীন করেছিল বহু ত্যাগে বিনিময়ে তাদের ঋণ কোনদিন পরিশোধ হবার নয়। তারপরও ক্ষুদ্র একটা চাওয়া আমার তারা যেন এদেশে সুন্দর জীবন-যাপন করতে পারে এ আশায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দু’হাজার টাকা ভাতা চেয়ে দাবি করি, দাবি পুরোন হয়েছিল তিনশ টাকা সম্মানী ভাতার মাধ্যমে, আজ সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দশ হাজার টাকা আহতদের তারও বেশী, আর যারা খেতাব প্রাপ্ত তাদেরও ভালো সম্মানী ভাতা দেয়া হচ্ছে। যাই হউক মুক্তিযোদ্ধারা তো কিছু হলেও পাচ্ছে, তবে আমি সবসময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের এ বিষয়ে সোচ্ছার থাকব, তাদের ভাতা যেন আরোও বাড়ে।
মানবাধিকার খবর ঃ বর্তমান মানবাধিকার সম্পর্কে আপনার অভিমত কি?
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ঃ বর্তমানে এতো বেশী মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন রকমে যা কিনা চিন্তারও বাইরে। কেন যে মানুষের মানবিক দিকগুলি হারিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে। যুব সমাজ আজ নেশার ছোবলে নিজেদের অধিকার নিজেরাই হরণ করছে। মা সন্তানকে খুন করে আত্মহত্যা করছে কি কারণে যে এই অবক্ষয়। বর্হিবিশ্বে বিনা কারণে যুদ্ধ আক্রমণ হচ্ছে যার ফলে ছোট্ট শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় ভর করছে, নারীরা বিপদগ্রস্থ হচ্ছে। আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানবাধিকার লংঘন বেড়েই চলেছে। এসব সমস্যা অস্থিরতা অশান্তিগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে হলে, পুরো বিশ্ব নেতাদের এক হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের দেশের শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে আলোচনার মাধ্যমে, মতবিনিময়ের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে। মানবাধিকার রক্ষায় সমাজের প্রতিটি পরিবারকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে সমাজের উন্নয়নের জন্য। তাহলেই প্রতিটি পর্যায়ে মানবাধিকারের যে পরিস্থিতি তা রক্ষা হবে।
মানবাধিকার খবর ঃ আমাদেরকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ঃ তোমাকেও ধন্যবাদ।
সাক্ষাৎকার গ্রহনে ঃ মানবাধিকার খবর’র নিজস্ব প্রতিবেদক রুবিনা শওকত উল্লাহ। 

নাটোরে বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস পালিত
                                  

মোঃ এমরান আলী রানা, নাটোর থেকে:

                

নাটোরে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। ৩১ মে দিবসটি পালনে জেলা তামাক নিয়ন্ত্রণ ট্রুাস্টফোর্স কমিটির আয়োজনে মাদরাসা মোড় থেকে একটি র‌্যালী বের করা হয়। নাটোরের জেলা প্রশাসক মোঃ খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে র‌্যালীটি শহরের প্রধান সড়ক হয়ে ডিসি অফিসে ফিরে গিয়ে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়। আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্ব্য রাখেন, অধ্যক্ষ একেএম নজরুল ইসলাম, আরএমও ডাঃ আবুল কালাম আজাদ, জেলা তথ্য কর্মকর্তা সামিউল আলম, সাথীর নির্বাহী পরিচালক সিবলী সাদিক ও বন্ধুমহল সমাজ কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দীপক চৌধুরী। বক্তারা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় বিশ্বকে তামাক মুক্ত রাখতে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি সহ আগামী বাজেটে সব ধরনের তামাকের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের আবেদন জানান। এছাড়াও নলডাঙ্গার উপজেলার পাটুল বাজারে গ্রীণ হাউজের আয়োজনে মো:  রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

“বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ,বাঁচাও প্রাণী বাঁচাও দেশ” তালায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০১৬ উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা
                                  

বাবলু রহমান, তালা সাতক্ষীরা থেকে:

 

“বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ,বাঁচাও প্রাণী বাঁচাও দেশ”এ শ্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা তালা উপজেলায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার সকাল ১০টায় তালা উপজেলা প্রশাসনের  আয়জনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উত্তরনের সহযোগিতায় তালা উপজেলা চত্বরে এ র‌্যালির আয়জন করা হয়। র‌্যালি শেষে তালা শিল্পকলা একাডিমীতে আলোচনা সভার আয়জন করা হয়। আলোচনা সভা এ র‌্যালিতে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফরিদ হোসেনর সভাপত্বিতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোস সনৎ কুমার, বিশেষ আতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইখতিয়ার হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জৈবুন্নেসা খানম, খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান রাজু, তালা সদর ইউপি চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন, তেতুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, ইসলামকাটি ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক সুভাস চন্দ্রসেন, উক্ত আলোচনা সভা ও র‌্যালিতে তালা সদরের বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্র,ছাত্রি স্বতস্ফুতভাবে অংশগ্রহন করে।


   Page 1 of 2
     সাক্ষাতকার
অসহায় মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব হঠাৎ রান্নার অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন, কারণ কী?
.............................................................................................
মানবাধিকার খবরকে একান্ত সাক্ষাৎকার ড.মোঃ আব্দুর রহিম খান
.............................................................................................
দেশটা নামে স্বাধীন বাংলাদেশ, কিন্তু আইন-কানুনে পাকিস্তান
.............................................................................................
রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতির অগ্রপশ্চাৎ
.............................................................................................
মানবাধিকার খবরকে একান্ত সাক্ষাৎকারে সোহেল রানা
.............................................................................................
মানবাধিকার খবরকে পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি গিরিশ চন্দ্র গুপ্ত
.............................................................................................
ভিসির ‘রড বাহিনী’
.............................................................................................
মানবাধিকার খবরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রদীপ ভট্টাচার্য
.............................................................................................
হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ ও সাবধানতা
.............................................................................................
সম্পাদকের জন্মদিন পালিত
.............................................................................................
মানবাধিকার খবরকে একান্ত সাক্ষাৎকারে সেলিনা হোসেন
.............................................................................................
অং সান সু চি’র মুসলমান রোহিঙ্গাদের হত্যা ও নির্যাতন সারাবিশ্ব হতাশ হয়েছে
.............................................................................................
মানবাধিকার খবরকে একান্ত সাক্ষাৎকারে মোস্তফা জামান আব্বাসী আমার ইচ্ছে অধিকার বঞ্চিত মানুষদের পাশে দাড়ানো
.............................................................................................
মানবাধিকার লগ্ঘন চিন্তার বাইরে কাদের সিদ্দিকী
.............................................................................................
নাটোরে বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস পালিত
.............................................................................................
“বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ,বাঁচাও প্রাণী বাঁচাও দেশ” তালায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০১৬ উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা
.............................................................................................
নওগাঁয় পাখির অভয়ারণ্য
.............................................................................................
ক্ষতবিক্ষত উপকূল : ভোগান্তিতে লাখো মানুষ রোয়ানু কেড়ে নিল ২৪ প্রাণ
.............................................................................................
পরিবেশ বিধ্বংষী তামাক চাষ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে বিষাক্ত বিষ
.............................................................................................
বন খেকো গাছ চোরদের কাজ সুন্দরবনে আগুন পরিকল্পিত
.............................................................................................
পরিবেশ বিধ্বংষী তামাক চাষ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে বিষাক্ত বিষ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

Editor & Publisher: Rtn. Md Reaz Uddin
Corporate Office
53,Modern mansion(8th floor),Motijheel C/A, Dhaka
E-mail:manabadhikarkhabar34@gmail.com,manabadhikarkhabar34@yahoo.com,
Tel:+88-02-9585139
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-9585140
    2015 @ All Right Reserved By manabadhikarkhabar.com    সম্পাদকীয়    Adviser List

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]