জাতীয়
   | বাংলার জন্য ক্লিক করুন

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   জাতীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
বাংলাদেশ প্রশংসিত প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক বিধানগুলো নিয়ে উদ্বেগ

 

॥মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥
মানবাধিকার পর্যালোচনায় রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশ প্রশংসিত প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক বিধানগুলো নিয়ে উদ্বেগ। আগামী নির্বাচন অবাধ, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার তাগিদ। গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড এবং সেগুলোর বিচারহীনতার বিষয়টি এবার জাতিসংঘ ফোরামে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির পর্যালোচনায় সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। এ ছাড়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের ওপর হামলা ও হুমকি, ভিন্নমতের অনুসারীদের রাজনৈতিক অধিকার, নারীর প্রতি সহিংসতা, বাল্যবিবাহ নিরোধের মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় প্রাধান্য পায়।
১৪ তারিখ সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার সর্বজনীন নিয়মিত পর্যালোচনা বা ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউর তৃতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সভা থেকে আগামী নির্বাচন অবাধ, স্বচ্ছ এবং অর্ন্তভুক্তিমূলক করার তাগিদ এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, জাপানসহ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা অবাধ, স্বচ্ছ এবং সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সভায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশ সবার প্রশংসা পেয়েছে। আলোচনায় ৯৫টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। লক্ষণীয়ভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং বৌদ্ধপ্রধান জনসংখ্যার দেশগুলো (যেমন জাপান, চীন ও থাইল্যান্ড) মিয়ানমার থেকে আগতদের ‘রোহিঙ্গা’ পরিচয় ব্যবহার করেনি এবং তারা দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিয়েছে।
প্রায় কুড়িটির মতো দেশের প্রতিনিধিরা গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এসব বেআইনি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তের সুপারিশ করেন। জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, যে মাত্রায় গুমের কথা বলা হচ্ছে তাতে আপত্তি আছে। ২০১৩ সালে দ্বিতীয় ইউপিআরে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে গুম বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। আনিসুল হক এবার তা পুরোপুরি নাকচ না করে বলেন, গুম সম্পর্কে মাত্রাতিরিক্ত অপপ্রচারের রাজনৈতিক কারণ রয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ গুম হয়েছেন বলা হলেও তাঁকে ভারতে পাওয়া গেছে। হুম্মাম কাদের চৌধুরী, মুবাশ্বির হাসান, সাংবাদিক উৎপল দাসসহ অনেকেই ফিরে এসেছেন, কিন্তু রাজনৈতিক কারণে সেগুলোকে গুম বলে বর্ণনা করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী জাতিসংঘের গুমবিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটির সঙ্গে সহযোগিতা করার কথাও বলেছেন।
বিচারবহির্ভূত হত্যা বা যেকোনো ধরনের আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সরকার শূন্য সহনীয়তার নীতি অনুসরণ করে বলে মন্ত্রী জানান। এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলার বিচারের নজির তুলে ধরেন তিনি।
রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের অধিকার ও নির্বাচনবিষয়ক উদ্বেগের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর জন্য বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতায় অনেক নিরীহ মানুষের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করেন। ২০১৫ সালেও অবরোধ-হরতালের নামে ১০৮ জন নিহত হওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।
সভায় সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের ওপর হামলা, হয়রানি ও হুমকির কারণে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকোচনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অনলাইন-অফলাইন সব জায়গায় এসব বাধা দূর করার আহ্বান জানান। সবাই তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা এবং প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক বিধানগুলো বাতিলের কথা বলেন। আইনমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, ৫৭ ধারা অপপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠায় তা বাতিল করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যেসব ধারা নিয়ে আপত্তি উঠেছে, সেগুলো নিয়ে সরকার সবার সঙ্গে আলোচনা করছে।
গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতার প্রশ্নে আইনমন্ত্রী দেশে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা গত পাঁচ বছরে ১৮ থেকে বেড়ে ৩৪ হওয়া এবং সংবাদপত্রের সংখ্যা ২ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা বলেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষায় সরকার দেশে প্রায় ৫০০ বিশিষ্টজনকে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা দিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ সব ধরনের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষার প্রশ্নটিও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা সভায় উত্থাপন করেন। সমকামিতা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার যে আইন রয়েছে, সেটিও সংশোধনের সুপারিশ করেছে বেশ কয়েকটি দেশ। ইউপিআরে অংশগ্রহণকারীরা বাল্যবিবাহ নিরোধক আইনে বিশেষ পরিস্থিতিতে ছাড় দেওয়ার বিধান বাতিল করে ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার কথা বলেছেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপরাধের অভিযোগ তদন্তে কমিশনকে ক্ষমতায়িত করার ওপর জোর দিয়েছেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। সভায় এ বিষয়ে ব্যাপক সমর্থন লক্ষ করা যায়। মানবাধিকারকর্মীদের কাজ নির্বিঘ্ন করতে তাঁদের সুরক্ষা দেওয়া, তাঁদের ওপর বিভিন্ন হামলা ও হয়রানির অভিযোগ তদন্ত করা এবং বিদেশি অনুদান আইন সংশোধনেরও জোরালো আহ্বানের কথা শোনা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশি অনুদান আইন ব্যবহার করে বেসরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রমকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
আইনমন্ত্রী অবশ্য এ অভিযোগের জবাবে বলেছেন, অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণ, কালোটাকা সাদা করা এবং সন্ত্রাসের অর্থায়ন বন্ধের লক্ষ্যেই বিদেশি অনুদান আইন করা হয়েছে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ বা স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ারদের বাংলাদেশ সফরের সুযোগ দেওয়ার জন্য অনেক দেশের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হলেও আইনমন্ত্রী বিষয়টিতে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ারদের অনুরোধ প্রায় এক দশক ধরে সিদ্ধান্তহীনভাবে পড়ে আছে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের যেসব সনদ বা ঘোষণা ও নীতিমালা এবং আনুষঙ্গিক বা অতিরিক্ত প্রটোকল বাংলাদেশ এখনো অনুমোদন করেনি, সেগুলো গ্রহণের আহ্বানের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নয়টি সনদের আটটিতে স্বাক্ষর করেছে। অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক দায় গ্রহণের আগে এখন প্রয়োজন সক্ষমতা ও সামর্থ্য বাড়ানো।
আলোচনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন শাক্তিশালী করার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক। ইউপিআরে গুমের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে যেকোনো নাগরিক নিখোঁজ অথবা গুম হলে তাঁকে উদ্ধার এবং রহস্য উন্মোচনের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। যাঁরা ফিরে এসেছেন বলা হচ্ছে, তাঁদের বেলায় কী ঘটেছিল তা এখনো জানা যায়নি এবং কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে সেই অপরাধীরও বিচার হয়নি।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শিপা হাফিজ ‘আমরা এমন ঘটনাও দেখেছি, নিখোঁজ থেকে হাজির করে অনেককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বেরিয়ে আসার পর সরকারের পক্ষ থেকে এমন কথাও বলা হয়েছে যে সরকার কাজ করেছে বলেই তারা বেরিয়ে এসেছে। এসব কথাবার্তায় অসংলগ্নতা স্পষ্ট।’
গুমবিষয়ক সনদ স্বাক্ষর প্রশ্নে ঢাকার অসম্মতি
গুম থেকে সবার সুরক্ষার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সনদ স্বাক্ষরের বিষয়ে বেশ কয়েকটি দেশের সুপারিশ গ্রহণে বাংলাদেশ সম্মত হয়নি। এ ছাড়া নির্যাতন ও অমানবিক শান্তি বন্ধের স্বেচ্ছামূলক অঙ্গীকারের দলিল (অপক্যাট), অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারবিষয়ক অতিরিক্ত অঙ্গীকার এবং রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকারবিষয়ক স্বেচ্ছামূলক অঙ্গীকারের দুটি দলিল স্বাক্ষরের বিষয়েও একই রকম সুপারিশ গ্রহণে বাংলাদেশ রাজি হয়নি। এগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে মৃত্যুদন্ড বিলোপবিষয়ক। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সর্বজনীন নিয়মিত পর্যালোচনা, যা ইউপিআর নামে পরিচিত, তার তৃতীয় দফা পর্যালোচনা সভায় এসব সুপারিশ উঠে আসে। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে জেনেভায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১০৫টি দেশের প্রতিনিধি বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে এসব সুপারিশ করেন।
সভায় উত্থাপিত সুপারিশগুলো চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় এগুলোর একটি খসড়া প্রকাশিত হয়।
প্রকাশিত খসড়ায় দেখা যায়, ১৬৭টি সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশের সম্মতি রয়েছে। ২৩টি সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশ তার মতামত জানানোর জন্য সময় নিয়েছে, যা ইউপিআরের পরবর্তী অধিবেশনের মধ্যেই জানাতে হবে। আগামী সেপ্টেম্বরে ইউপিআরের পরবর্তী সভার কথা আছে। ৬১টি সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশের অসম্মতির কথা এই খসড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সুপারিশগুলো সংখ্যায় অনেক হলেও বিষয় ও করণীয় বিবেচনায় অনেকগুলোই পুনরাবৃত্তি।
পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে গুম, হেফাজতে নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগগুলো তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে যে সুপারিশ এসেছে, বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সে বিষয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় চেয়েছে। মতামত জানাতে সময় নেওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে আরও আছে, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি আইনের খসড়া সংশোধন, সংখ্যালঘুদের আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, বাল্যবিবাহ নিরোধক আইনে বিশেষ ছাড় দেওয়ার বিধি, কিশোরদের অপরাধের জন্য দায়ী করার ক্ষেত্রে বয়সসীমা বাড়ানো, দাম্পত্য জীবনে ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, নারী-পুরুষের মজুরিবৈষম্য দূর করার মতো বিষয়গুলো। মীর আহমেদ বিন কাসেম এবং আমান আজমীর গুমের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের তথ্য জানানোসহ নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব অভিযোগ তদন্ত ও বিচারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশের বিষয়েও বাংলাদেশ সম্মত হয়নি।
যেসব সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশ অসম্মতি জানিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে গুমবিষয়ক সনদ ও ওপরে উল্লেখিত স্বেচ্ছামূলক অতিরিক্ত অঙ্গীকারের দলিল ছাড়াও আছে ১৯৫১-এর উদ্বাস্তুবিষয়ক সনদ, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকারবিষয়ক আইএলও সনদ ১৩৮,১৩৯ ও ১৮৯, শিশুশ্রম নির্মূলবিষয়ক সনদ, নারীর বিরুদ্ধে সব ধরনের বৈষম্য অবসানের আইন, নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এখতিয়ার বাড়ানো, সমকামীদের সুরক্ষা এবং সে জন্য ফৌজদারি আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন, মৃত্যুদন্ড বিলোপ করার লক্ষ্যে সব ধরনের ফাঁসির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, মানহানির অভিযোগের ফৌজদারি দায় বাতিল, উদ্বাস্তু ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের বিচারলাভের অধিকার নিশ্চিত করা ইত্যাদি।
যেসব বিষয়ে বাংলাদেশ সম্মত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যক্রম এবং ব্যবস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো, জাতীয় পর্যায়ে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে বিভিন্ন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, মানবাধিকার আন্তর্জাতিক সনদগুলোর সঙ্গে দেশীয় আইনগুলোর সামঞ্জস্য আনার চেষ্টা ত্বরান্বিত করা, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের বিষয়ে দ্বিতীয় ইউপিআরের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন,
পার্বত্য চুক্তির যথাযথ ও পূর্ণ বাস্তবায়ন, মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করা, প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষা, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের হয়রানি ও হুমকির ঘটনাগুলো তদন্ত এবং তাদের সুরক্ষা, এ বিষয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া, বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ জোরদার করা,
ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ, অনলাইন-অফলাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের অধিকারসহ সব রাজনৈতিক গোষ্ঠীর জন্য গণতান্ত্রিক সুযোগ নিশ্চিত করা সম্পর্কিত সুপারিশ।
পড়ে আছে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের যেসব সনদ বা ঘোষণা ও নীতিমালা এবং আনুষঙ্গিক বা অতিরিক্ত প্রটোকল বাংলাদেশ এখনো অনুমোদন করেনি, সেগুলো গ্রহণের আহ্বানের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নয়টি সনদের আটটিতে স্বাক্ষর করেছে। অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক দায় গ্রহণের আগে এখন প্রয়োজন সক্ষমতা ও সামর্থ্য বাড়ানো।
আলোচনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন শাক্তিশালী করার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক। ইউপিআরে গুমের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে যেকোনো নাগরিক নিখোঁজ অথবা গুম হলে তাঁকে উদ্ধার এবং রহস্য উন্মোচনের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। যাঁরা ফিরে এসেছেন বলা হচ্ছে, তাঁদের বেলায় কী ঘটেছিল তা এখনো জানা যায়নি এবং কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে সেই অপরাধীরও বিচার হয়নি।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শিপা হাফিজ ‘আমরা এমন ঘটনাও দেখেছি, নিখোঁজ থেকে হাজির করে অনেককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বেরিয়ে আসার পর সরকারের পক্ষ থেকে এমন কথাও বলা হয়েছে যে সরকার কাজ করেছে বলেই তারা বেরিয়ে এসেছে। এসব কথাবার্তায় অসংলগ্নতা স্পষ্ট।’
গুমবিষয়ক সনদ স্বাক্ষর প্রশ্নে ঢাকার অসম্মতি
গুম থেকে সবার সুরক্ষার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সনদ স্বাক্ষরের বিষয়ে বেশ কয়েকটি দেশের সুপারিশ গ্রহণে বাংলাদেশ সম্মত হয়নি। এ ছাড়া নির্যাতন ও অমানবিক শান্তি বন্ধের স্বেচ্ছামূলক অঙ্গীকারের দলিল (অপক্যাট), অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারবিষয়ক অতিরিক্ত অঙ্গীকার এবং রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকারবিষয়ক স্বেচ্ছামূলক অঙ্গীকারের দুটি দলিল স্বাক্ষরের বিষয়েও একই রকম সুপারিশ গ্রহণে বাংলাদেশ রাজি হয়নি। এগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে মৃত্যুদন্ড বিলোপবিষয়ক। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সর্বজনীন নিয়মিত পর্যালোচনা, যা ইউপিআর নামে পরিচিত, তার তৃতীয় দফা পর্যালোচনা সভায় এসব সুপারিশ উঠে আসে। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে জেনেভায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১০৫টি দেশের প্রতিনিধি বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে এসব সুপারিশ করেন।
সভায় উত্থাপিত সুপারিশগুলো চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় এগুলোর একটি খসড়া প্রকাশিত হয়।
প্রকাশিত খসড়ায় দেখা যায়, ১৬৭টি সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশের সম্মতি রয়েছে। ২৩টি সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশ তার মতামত জানানোর জন্য সময় নিয়েছে, যা ইউপিআরের পরবর্তী অধিবেশনের মধ্যেই জানাতে হবে। আগামী সেপ্টেম্বরে ইউপিআরের পরবর্তী সভার কথা আছে। ৬১টি সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশের অসম্মতির কথা এই খসড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সুপারিশগুলো সংখ্যায় অনেক হলেও বিষয় ও করণীয় বিবেচনায় অনেকগুলোই পুনরাবৃত্তি।
পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে গুম, হেফাজতে নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগগুলো তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে যে সুপারিশ এসেছে, বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সে বিষয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় চেয়েছে। মতামত জানাতে সময় নেওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে আরও আছে, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি আইনের খসড়া সংশোধন, সংখ্যালঘুদের আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, বাল্যবিবাহ নিরোধক আইনে বিশেষ ছাড় দেওয়ার বিধি, কিশোরদের অপরাধের জন্য দায়ী করার ক্ষেত্রে বয়সসীমা বাড়ানো, দাম্পত্য জীবনে ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, নারী-পুরুষের মজুরিবৈষম্য দূর করার মতো বিষয়গুলো। মীর আহমেদ বিন কাসেম এবং আমান আজমীর গুমের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের তথ্য জানানোসহ নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব অভিযোগ তদন্ত ও বিচারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশের বিষয়েও বাংলাদেশ সম্মত হয়নি।
যেসব সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশ অসম্মতি জানিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে গুমবিষয়ক সনদ ও ওপরে উল্লেখিত স্বেচ্ছামূলক অতিরিক্ত অঙ্গীকারের দলিল ছাড়াও আছে ১৯৫১-এর উদ্বাস্তুবিষয়ক সনদ, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকারবিষয়ক আইএলও সনদ ১৩৮,১৩৯ ও ১৮৯, শিশুশ্রম নির্মূলবিষয়ক সনদ, নারীর বিরুদ্ধে সব ধরনের বৈষম্য অবসানের আইন, নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এখতিয়ার বাড়ানো, সমকামীদের সুরক্ষা এবং সে জন্য ফৌজদারি আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন, মৃত্যুদন্ড বিলোপ করার লক্ষ্যে সব ধরনের ফাঁসির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, মানহানির অভিযোগের ফৌজদারি দায় বাতিল, উদ্বাস্তু ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের বিচারলাভের অধিকার নিশ্চিত করা ইত্যাদি।
যেসব বিষয়ে বাংলাদেশ সম্মত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যক্রম এবং ব্যবস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো, জাতীয় পর্যায়ে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে বিভিন্ন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, মানবাধিকার আন্তর্জাতিক সনদগুলোর সঙ্গে দেশীয় আইনগুলোর সামঞ্জস্য আনার চেষ্টা ত্বরান্বিত করা, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের বিষয়ে দ্বিতীয় ইউপিআরের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন,
পার্বত্য চুক্তির যথাযথ ও পূর্ণ বাস্তবায়ন, মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করা, প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষা, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের হয়রানি ও হুমকির ঘটনাগুলো তদন্ত এবং তাদের সুরক্ষা, এ বিষয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া, বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ জোরদার করা,
ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ, অনলাইন-অফলাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের অধিকারসহ সব রাজনৈতিক গোষ্ঠীর জন্য গণতান্ত্রিক সুযোগ নিশ্চিত করা সম্পর্কিত সুপারিশ।

 

বাংলাদেশ প্রশংসিত প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক বিধানগুলো নিয়ে উদ্বেগ
                                  

 

॥মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥
মানবাধিকার পর্যালোচনায় রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশ প্রশংসিত প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক বিধানগুলো নিয়ে উদ্বেগ। আগামী নির্বাচন অবাধ, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার তাগিদ। গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড এবং সেগুলোর বিচারহীনতার বিষয়টি এবার জাতিসংঘ ফোরামে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির পর্যালোচনায় সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। এ ছাড়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের ওপর হামলা ও হুমকি, ভিন্নমতের অনুসারীদের রাজনৈতিক অধিকার, নারীর প্রতি সহিংসতা, বাল্যবিবাহ নিরোধের মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় প্রাধান্য পায়।
১৪ তারিখ সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার সর্বজনীন নিয়মিত পর্যালোচনা বা ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউর তৃতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সভা থেকে আগামী নির্বাচন অবাধ, স্বচ্ছ এবং অর্ন্তভুক্তিমূলক করার তাগিদ এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, জাপানসহ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা অবাধ, স্বচ্ছ এবং সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সভায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশ সবার প্রশংসা পেয়েছে। আলোচনায় ৯৫টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। লক্ষণীয়ভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং বৌদ্ধপ্রধান জনসংখ্যার দেশগুলো (যেমন জাপান, চীন ও থাইল্যান্ড) মিয়ানমার থেকে আগতদের ‘রোহিঙ্গা’ পরিচয় ব্যবহার করেনি এবং তারা দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিয়েছে।
প্রায় কুড়িটির মতো দেশের প্রতিনিধিরা গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এসব বেআইনি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তের সুপারিশ করেন। জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, যে মাত্রায় গুমের কথা বলা হচ্ছে তাতে আপত্তি আছে। ২০১৩ সালে দ্বিতীয় ইউপিআরে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে গুম বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। আনিসুল হক এবার তা পুরোপুরি নাকচ না করে বলেন, গুম সম্পর্কে মাত্রাতিরিক্ত অপপ্রচারের রাজনৈতিক কারণ রয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ গুম হয়েছেন বলা হলেও তাঁকে ভারতে পাওয়া গেছে। হুম্মাম কাদের চৌধুরী, মুবাশ্বির হাসান, সাংবাদিক উৎপল দাসসহ অনেকেই ফিরে এসেছেন, কিন্তু রাজনৈতিক কারণে সেগুলোকে গুম বলে বর্ণনা করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী জাতিসংঘের গুমবিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটির সঙ্গে সহযোগিতা করার কথাও বলেছেন।
বিচারবহির্ভূত হত্যা বা যেকোনো ধরনের আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সরকার শূন্য সহনীয়তার নীতি অনুসরণ করে বলে মন্ত্রী জানান। এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলার বিচারের নজির তুলে ধরেন তিনি।
রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের অধিকার ও নির্বাচনবিষয়ক উদ্বেগের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর জন্য বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতায় অনেক নিরীহ মানুষের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করেন। ২০১৫ সালেও অবরোধ-হরতালের নামে ১০৮ জন নিহত হওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।
সভায় সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের ওপর হামলা, হয়রানি ও হুমকির কারণে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকোচনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অনলাইন-অফলাইন সব জায়গায় এসব বাধা দূর করার আহ্বান জানান। সবাই তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা এবং প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক বিধানগুলো বাতিলের কথা বলেন। আইনমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, ৫৭ ধারা অপপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠায় তা বাতিল করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যেসব ধারা নিয়ে আপত্তি উঠেছে, সেগুলো নিয়ে সরকার সবার সঙ্গে আলোচনা করছে।
গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতার প্রশ্নে আইনমন্ত্রী দেশে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা গত পাঁচ বছরে ১৮ থেকে বেড়ে ৩৪ হওয়া এবং সংবাদপত্রের সংখ্যা ২ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা বলেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষায় সরকার দেশে প্রায় ৫০০ বিশিষ্টজনকে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা দিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ সব ধরনের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষার প্রশ্নটিও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা সভায় উত্থাপন করেন। সমকামিতা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার যে আইন রয়েছে, সেটিও সংশোধনের সুপারিশ করেছে বেশ কয়েকটি দেশ। ইউপিআরে অংশগ্রহণকারীরা বাল্যবিবাহ নিরোধক আইনে বিশেষ পরিস্থিতিতে ছাড় দেওয়ার বিধান বাতিল করে ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার কথা বলেছেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপরাধের অভিযোগ তদন্তে কমিশনকে ক্ষমতায়িত করার ওপর জোর দিয়েছেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। সভায় এ বিষয়ে ব্যাপক সমর্থন লক্ষ করা যায়। মানবাধিকারকর্মীদের কাজ নির্বিঘ্ন করতে তাঁদের সুরক্ষা দেওয়া, তাঁদের ওপর বিভিন্ন হামলা ও হয়রানির অভিযোগ তদন্ত করা এবং বিদেশি অনুদান আইন সংশোধনেরও জোরালো আহ্বানের কথা শোনা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশি অনুদান আইন ব্যবহার করে বেসরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রমকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
আইনমন্ত্রী অবশ্য এ অভিযোগের জবাবে বলেছেন, অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণ, কালোটাকা সাদা করা এবং সন্ত্রাসের অর্থায়ন বন্ধের লক্ষ্যেই বিদেশি অনুদান আইন করা হয়েছে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ বা স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ারদের বাংলাদেশ সফরের সুযোগ দেওয়ার জন্য অনেক দেশের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হলেও আইনমন্ত্রী বিষয়টিতে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ারদের অনুরোধ প্রায় এক দশক ধরে সিদ্ধান্তহীনভাবে পড়ে আছে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের যেসব সনদ বা ঘোষণা ও নীতিমালা এবং আনুষঙ্গিক বা অতিরিক্ত প্রটোকল বাংলাদেশ এখনো অনুমোদন করেনি, সেগুলো গ্রহণের আহ্বানের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নয়টি সনদের আটটিতে স্বাক্ষর করেছে। অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক দায় গ্রহণের আগে এখন প্রয়োজন সক্ষমতা ও সামর্থ্য বাড়ানো।
আলোচনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন শাক্তিশালী করার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক। ইউপিআরে গুমের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে যেকোনো নাগরিক নিখোঁজ অথবা গুম হলে তাঁকে উদ্ধার এবং রহস্য উন্মোচনের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। যাঁরা ফিরে এসেছেন বলা হচ্ছে, তাঁদের বেলায় কী ঘটেছিল তা এখনো জানা যায়নি এবং কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে সেই অপরাধীরও বিচার হয়নি।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শিপা হাফিজ ‘আমরা এমন ঘটনাও দেখেছি, নিখোঁজ থেকে হাজির করে অনেককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বেরিয়ে আসার পর সরকারের পক্ষ থেকে এমন কথাও বলা হয়েছে যে সরকার কাজ করেছে বলেই তারা বেরিয়ে এসেছে। এসব কথাবার্তায় অসংলগ্নতা স্পষ্ট।’
গুমবিষয়ক সনদ স্বাক্ষর প্রশ্নে ঢাকার অসম্মতি
গুম থেকে সবার সুরক্ষার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সনদ স্বাক্ষরের বিষয়ে বেশ কয়েকটি দেশের সুপারিশ গ্রহণে বাংলাদেশ সম্মত হয়নি। এ ছাড়া নির্যাতন ও অমানবিক শান্তি বন্ধের স্বেচ্ছামূলক অঙ্গীকারের দলিল (অপক্যাট), অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারবিষয়ক অতিরিক্ত অঙ্গীকার এবং রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকারবিষয়ক স্বেচ্ছামূলক অঙ্গীকারের দুটি দলিল স্বাক্ষরের বিষয়েও একই রকম সুপারিশ গ্রহণে বাংলাদেশ রাজি হয়নি। এগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে মৃত্যুদন্ড বিলোপবিষয়ক। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সর্বজনীন নিয়মিত পর্যালোচনা, যা ইউপিআর নামে পরিচিত, তার তৃতীয় দফা পর্যালোচনা সভায় এসব সুপারিশ উঠে আসে। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে জেনেভায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১০৫টি দেশের প্রতিনিধি বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে এসব সুপারিশ করেন।
সভায় উত্থাপিত সুপারিশগুলো চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় এগুলোর একটি খসড়া প্রকাশিত হয়।
প্রকাশিত খসড়ায় দেখা যায়, ১৬৭টি সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশের সম্মতি রয়েছে। ২৩টি সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশ তার মতামত জানানোর জন্য সময় নিয়েছে, যা ইউপিআরের পরবর্তী অধিবেশনের মধ্যেই জানাতে হবে। আগামী সেপ্টেম্বরে ইউপিআরের পরবর্তী সভার কথা আছে। ৬১টি সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশের অসম্মতির কথা এই খসড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সুপারিশগুলো সংখ্যায় অনেক হলেও বিষয় ও করণীয় বিবেচনায় অনেকগুলোই পুনরাবৃত্তি।
পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে গুম, হেফাজতে নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগগুলো তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে যে সুপারিশ এসেছে, বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সে বিষয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় চেয়েছে। মতামত জানাতে সময় নেওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে আরও আছে, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি আইনের খসড়া সংশোধন, সংখ্যালঘুদের আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, বাল্যবিবাহ নিরোধক আইনে বিশেষ ছাড় দেওয়ার বিধি, কিশোরদের অপরাধের জন্য দায়ী করার ক্ষেত্রে বয়সসীমা বাড়ানো, দাম্পত্য জীবনে ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, নারী-পুরুষের মজুরিবৈষম্য দূর করার মতো বিষয়গুলো। মীর আহমেদ বিন কাসেম এবং আমান আজমীর গুমের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের তথ্য জানানোসহ নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব অভিযোগ তদন্ত ও বিচারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশের বিষয়েও বাংলাদেশ সম্মত হয়নি।
যেসব সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশ অসম্মতি জানিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে গুমবিষয়ক সনদ ও ওপরে উল্লেখিত স্বেচ্ছামূলক অতিরিক্ত অঙ্গীকারের দলিল ছাড়াও আছে ১৯৫১-এর উদ্বাস্তুবিষয়ক সনদ, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকারবিষয়ক আইএলও সনদ ১৩৮,১৩৯ ও ১৮৯, শিশুশ্রম নির্মূলবিষয়ক সনদ, নারীর বিরুদ্ধে সব ধরনের বৈষম্য অবসানের আইন, নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এখতিয়ার বাড়ানো, সমকামীদের সুরক্ষা এবং সে জন্য ফৌজদারি আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন, মৃত্যুদন্ড বিলোপ করার লক্ষ্যে সব ধরনের ফাঁসির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, মানহানির অভিযোগের ফৌজদারি দায় বাতিল, উদ্বাস্তু ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের বিচারলাভের অধিকার নিশ্চিত করা ইত্যাদি।
যেসব বিষয়ে বাংলাদেশ সম্মত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যক্রম এবং ব্যবস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো, জাতীয় পর্যায়ে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে বিভিন্ন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, মানবাধিকার আন্তর্জাতিক সনদগুলোর সঙ্গে দেশীয় আইনগুলোর সামঞ্জস্য আনার চেষ্টা ত্বরান্বিত করা, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের বিষয়ে দ্বিতীয় ইউপিআরের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন,
পার্বত্য চুক্তির যথাযথ ও পূর্ণ বাস্তবায়ন, মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করা, প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষা, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের হয়রানি ও হুমকির ঘটনাগুলো তদন্ত এবং তাদের সুরক্ষা, এ বিষয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া, বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ জোরদার করা,
ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ, অনলাইন-অফলাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের অধিকারসহ সব রাজনৈতিক গোষ্ঠীর জন্য গণতান্ত্রিক সুযোগ নিশ্চিত করা সম্পর্কিত সুপারিশ।
পড়ে আছে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের যেসব সনদ বা ঘোষণা ও নীতিমালা এবং আনুষঙ্গিক বা অতিরিক্ত প্রটোকল বাংলাদেশ এখনো অনুমোদন করেনি, সেগুলো গ্রহণের আহ্বানের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নয়টি সনদের আটটিতে স্বাক্ষর করেছে। অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক দায় গ্রহণের আগে এখন প্রয়োজন সক্ষমতা ও সামর্থ্য বাড়ানো।
আলোচনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন শাক্তিশালী করার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক। ইউপিআরে গুমের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে যেকোনো নাগরিক নিখোঁজ অথবা গুম হলে তাঁকে উদ্ধার এবং রহস্য উন্মোচনের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। যাঁরা ফিরে এসেছেন বলা হচ্ছে, তাঁদের বেলায় কী ঘটেছিল তা এখনো জানা যায়নি এবং কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে সেই অপরাধীরও বিচার হয়নি।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শিপা হাফিজ ‘আমরা এমন ঘটনাও দেখেছি, নিখোঁজ থেকে হাজির করে অনেককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বেরিয়ে আসার পর সরকারের পক্ষ থেকে এমন কথাও বলা হয়েছে যে সরকার কাজ করেছে বলেই তারা বেরিয়ে এসেছে। এসব কথাবার্তায় অসংলগ্নতা স্পষ্ট।’
গুমবিষয়ক সনদ স্বাক্ষর প্রশ্নে ঢাকার অসম্মতি
গুম থেকে সবার সুরক্ষার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সনদ স্বাক্ষরের বিষয়ে বেশ কয়েকটি দেশের সুপারিশ গ্রহণে বাংলাদেশ সম্মত হয়নি। এ ছাড়া নির্যাতন ও অমানবিক শান্তি বন্ধের স্বেচ্ছামূলক অঙ্গীকারের দলিল (অপক্যাট), অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারবিষয়ক অতিরিক্ত অঙ্গীকার এবং রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকারবিষয়ক স্বেচ্ছামূলক অঙ্গীকারের দুটি দলিল স্বাক্ষরের বিষয়েও একই রকম সুপারিশ গ্রহণে বাংলাদেশ রাজি হয়নি। এগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে মৃত্যুদন্ড বিলোপবিষয়ক। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সর্বজনীন নিয়মিত পর্যালোচনা, যা ইউপিআর নামে পরিচিত, তার তৃতীয় দফা পর্যালোচনা সভায় এসব সুপারিশ উঠে আসে। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে জেনেভায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১০৫টি দেশের প্রতিনিধি বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে এসব সুপারিশ করেন।
সভায় উত্থাপিত সুপারিশগুলো চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় এগুলোর একটি খসড়া প্রকাশিত হয়।
প্রকাশিত খসড়ায় দেখা যায়, ১৬৭টি সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশের সম্মতি রয়েছে। ২৩টি সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশ তার মতামত জানানোর জন্য সময় নিয়েছে, যা ইউপিআরের পরবর্তী অধিবেশনের মধ্যেই জানাতে হবে। আগামী সেপ্টেম্বরে ইউপিআরের পরবর্তী সভার কথা আছে। ৬১টি সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশের অসম্মতির কথা এই খসড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সুপারিশগুলো সংখ্যায় অনেক হলেও বিষয় ও করণীয় বিবেচনায় অনেকগুলোই পুনরাবৃত্তি।
পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে গুম, হেফাজতে নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগগুলো তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে যে সুপারিশ এসেছে, বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সে বিষয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় চেয়েছে। মতামত জানাতে সময় নেওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে আরও আছে, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি আইনের খসড়া সংশোধন, সংখ্যালঘুদের আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, বাল্যবিবাহ নিরোধক আইনে বিশেষ ছাড় দেওয়ার বিধি, কিশোরদের অপরাধের জন্য দায়ী করার ক্ষেত্রে বয়সসীমা বাড়ানো, দাম্পত্য জীবনে ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, নারী-পুরুষের মজুরিবৈষম্য দূর করার মতো বিষয়গুলো। মীর আহমেদ বিন কাসেম এবং আমান আজমীর গুমের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের তথ্য জানানোসহ নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব অভিযোগ তদন্ত ও বিচারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশের বিষয়েও বাংলাদেশ সম্মত হয়নি।
যেসব সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশ অসম্মতি জানিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে গুমবিষয়ক সনদ ও ওপরে উল্লেখিত স্বেচ্ছামূলক অতিরিক্ত অঙ্গীকারের দলিল ছাড়াও আছে ১৯৫১-এর উদ্বাস্তুবিষয়ক সনদ, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকারবিষয়ক আইএলও সনদ ১৩৮,১৩৯ ও ১৮৯, শিশুশ্রম নির্মূলবিষয়ক সনদ, নারীর বিরুদ্ধে সব ধরনের বৈষম্য অবসানের আইন, নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এখতিয়ার বাড়ানো, সমকামীদের সুরক্ষা এবং সে জন্য ফৌজদারি আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন, মৃত্যুদন্ড বিলোপ করার লক্ষ্যে সব ধরনের ফাঁসির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, মানহানির অভিযোগের ফৌজদারি দায় বাতিল, উদ্বাস্তু ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের বিচারলাভের অধিকার নিশ্চিত করা ইত্যাদি।
যেসব বিষয়ে বাংলাদেশ সম্মত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যক্রম এবং ব্যবস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো, জাতীয় পর্যায়ে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে বিভিন্ন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, মানবাধিকার আন্তর্জাতিক সনদগুলোর সঙ্গে দেশীয় আইনগুলোর সামঞ্জস্য আনার চেষ্টা ত্বরান্বিত করা, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের বিষয়ে দ্বিতীয় ইউপিআরের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন,
পার্বত্য চুক্তির যথাযথ ও পূর্ণ বাস্তবায়ন, মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করা, প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষা, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের হয়রানি ও হুমকির ঘটনাগুলো তদন্ত এবং তাদের সুরক্ষা, এ বিষয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া, বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ জোরদার করা,
ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ, অনলাইন-অফলাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের অধিকারসহ সব রাজনৈতিক গোষ্ঠীর জন্য গণতান্ত্রিক সুযোগ নিশ্চিত করা সম্পর্কিত সুপারিশ।

 

এবার যমজ ছেলের বাবা হলেন রেলমন্ত্রী
                                  

 

জাতীয়
এবার যমজ ছেলের বাবা হলেন রেলমন্ত্রী
॥ মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥
কন্যা সন্তানের বাবা হওয়ার দুই বছর পর যমজ ছেলের বাবা হলেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। দুই নবজাতক এবং তাদের মা হনুফা আক্তার রিক্তা সুস্থ আছেন বলেও জানিয়েছেন রেলমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা।
সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা ৩২ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে যমজ সন্তান জন্ম দেন রেলমন্ত্রীর স্ত্রী।
মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এস এন ইউসুফ এই তথ্য জানিয়ে বলেছেন, তিন জনই বর্তমানে সুস্থ আছেন।
মা-মেয়ের অবস্থা জানতে চাইলে স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক ডা.মির্জা নাজিম উদ্দিন মানবাধকিার খবর কে জানান, ‘জন্মের পর মা ও দুই নবজাতক সুস্থ আছেন।
৩১ মে মন্ত্রীর ৭১তম জন্মদিন। আর এর আগেই সুখবরটি পেলেন তিনি।
সন্তানের বাবা হওয়ার খবরে রাতেই মন্ত্রিসভায় তার সহকর্মী এবং দলের নেতা-কর্মীরা ফোন করে শুভেচ্ছা জানান। এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকেও খবরটি চাওর হয়ে গেছে। অচেনা মানুষরাও তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
চার বছর আগে বিয়ে করা মুজিবুল-হনুফার সংসারে ঘর আলো করে প্রথম সন্তান এসেছে ২০১৬ সালে। ওই বছরের ২৮ মে জন্ম নেয়া মেয়েটি এখন ছুটে বেড়ায়। তার নাম রাখা হয়েছে রিমু।
রেলমন্ত্রীর বিয়ে করার বিষয়টি ছিল চমকপ্রদ। চিরকুমার থেকে যাওয়ার কথা নিয়ে যখন আলোচনা চলছিল সেই ৬৭ বছর বয়সে তার বিয়ের সিদ্ধান্তের খবর ২০১৪ সালে চমক তৈরি করেছিল। মন্ত্রিসভায় এই বিষয়টি প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ওই বছরে ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর কুমিল্লার মেয়ে হনুফা আক্তারকে বিয়ে করেন রেলমন্ত্রী। ওই বছরের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল সেই জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ে।
বরযাত্রায় ছিলেন ছয় মন্ত্রী, এমপিসহ ৭০০ বরযাত্রীর বিশাল গাড় বিহর। পরে সময়ে ঢাকায় হয় বিবাহোত্তর সংবর্ধনা।

 

প্রধানমন্ত্রীকে ও সংবাদ সম্মেলনে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া মানবতাবোধ বাংলাদেশের কাছে বিশ্বের শেখার আছে
                                  

জাতীয়
প্রধানমন্ত্রীকে ও সংবাদ সম্মেলনে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
মানবতাবোধ বাংলাদেশের কাছে বিশ্বের শেখার আছে

॥ মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥
কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গা শিশুদের দেখে এসে বলিউড নায়িকা ও ইউনিসেফের শুভে”ছাদূত প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বলেছেন, শিশু শিশুই। সে যারই শিশুই হোক, যেখানেই জন্মগ্রহন করুক, তার প্রতি প্রত্যেকের সমবেদনা থাকা উচিৎ । আজকের শিশুকে সুরক্ষা না দিলে ভবিষ্যত ভালো হবেনা। প্রতিটি রোহিঙ্গা শিশুকে নিজের সন্তানের মতো দেখতে হবে। সুযোগ থাকলে তিনি বিশ্বের সব শিশুর প্রধানমন্ত্রী হতে চান। এসময় তিনি বলেন, বিশ্বকে রোহিঙ্গা শিশুদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।
ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত প্রিয়াঙ্কা চোপড়া আরো বলেছেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ যেভাবে আশ্রয় দিয়েছে তা অভূতপূর্ব। এটা বিশ্বের জন্য অনুসরণীয়। কীভাবে মানবতার পাশে দাঁড়াতে হয় তা বাংলাদেশের কাছে বিশ্বের শেখার আছে।
বাংলাদেশ সফর শেষে ফেরার আগে গত ২৪ মে বৃহস্পতিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ মন্তব্য করেন বলিউড ও হলিউডের জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব এম নজরুল ইসলাম পরে এ বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তার অভিজ্ঞতার কথা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটা প্রজন্ম হারিয়ে যেতে বসেছে। যথাযথ শিক্ষার ব্যবস্থা না হলে এ শিশুরা চরমপন্থার দিকে ঝুঁকতে পারে।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন তিনি। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বলেন, রোহিঙ্গা শিশুরা আগে অস্ত্র, বন্দুক ও মর্টার শেলের ছবি আঁকলেও এখন আঁকছে সূর্য, প্রাণী ও প্রকৃতির ছবি। এতে বোঝা যাচ্ছে যে, তাদের ভেতরের ক্ষত শুকাতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর মাতৃত্বসুলভ আশ্রয় ও নিরাপত্তার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। সাবেক এ বিশ্বসুন্দরী বলেন, রোহিঙ্গারা বিপর্যয়ের মধ্যে আছে। যারা কর্মক্ষম তাদের কাজ নেই। ক্যাম্পের শিশুরা শিক্ষার যথাযথ সুযোগ পাচ্ছে না।
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠালেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, নৃশংসতার মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা এ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে মানবিক কারণে। ক্যাম্পগুলোতে রোহিঙ্গাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা বাংলাদেশের একার পক্ষে কঠিন। তার পরও বাংলাদেশ সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এক লাখ রোহিঙ্গাকে শিগগিরই ভাসানচরে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে তাদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়নে নেপিদোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

 

 

সৌদি থেকে নির্যাতনের শিকার ৮৩ নারী দেশে ফিরেছেন
                                  


জাতীয়
সৌদি থেকে নির্যাতনের শিকার ৮৩ নারী দেশে ফিরেছেন
দিনাজপুরের মনজুরা বেগম দিন বদলের সোনালি স্বপ্ন নিয়ে প্রিয় সংসার কিংবা পরিবার ফেলে পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর সৌদি আরবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন অচিরেই ধুলিসাৎ হয়ে যায় যৌনসহ নানা নির্যাতনে। সৌদি আরবের আলখেল্লা পরা পাষন্ড মালিকদের অসভ্য আর অমানবিক আচরণ সইতে না পেরে দেশে ফিরে এসেছেন মনজুরা বেগম মোত আরও ২১ বাংলাদেশি নারী শ্রমিক। মনজুরা বেগম পাসপোর্টসহ ইজ্জত-সম্মান সব দিয়ে মালিকের নির্যাতন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে ট্রাভেল পাস দিয়ে দেশে আসে . এই সকল নারীদের এখন একটাই আকাক্সক্ষা, প্রাণটা নিয়ে কোনোরকমে দেশে ফেরা। দেশে ফিরে নিপীড়নের রোমহর্ষক বর্ণনা দেন তারা। ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা নিয়ে ফেরা এই নারীরা বললেন, ক্রীতদাসীর মতো আচরণ করা হতো তাদের সঙ্গে। আর কোনো মেয়ে যেন কাজ করতে সৌদি আরব না যায়।দেশে ফেরা নারীরা যৌন নিপীড়নেরও শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন নারীদের দেশে ফেরাতে সহায়তা করা বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা।
স্রোতের মতো দেশে আসতে শুরু করেছে সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশি নারীরা। গত দু’দিনে এসেছেন শতাধিক।হিউম্যান রিসোর্স অ্যান্ড হেলথ ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরো জানান, গত ২৩ এপ্রিল গাফফার নামে এক দালালের মধ্যস্থতায় আল মনসুর ওভারসিজ অ্যান্ড ট্রাভেলসের মাধ্যমে সৌদি আরব যান সুমাইয়া কাজল। সেখানে কাজ শুরু করার পরই গৃহকর্তা ও বাড়ির লোকজনের কাছে নির্যাতনের শিকার হন তিনি। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে দাম্মামের আল খোবার এলাকার একটি ক্যাম্পে ঠাঁই হয় তার। সেখানে থাকা অবস্থাতেও নির্যাতনের শিকার হতে হয় কাজলকে।সৌদি আরবে প্রতিনিয়ত তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়।ঃধফবৎ আটকে রেখে ইলেকট্রিক শক দেয়ার পাশাপাশি রড গরম করে ছেঁকা পর্যন্ত দেয়া হয়।
এছাড়াও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের একজন কর্মকর্তা ।তিনি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক এয়ারলাইন্স এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নির্যাতিতা এই ৮৩ নারী ঢাকায় পৌঁছেন। দালালের মাধ্যমে টাকা দিয়ে ৫ থেকে ৬ মাস আগে তারা গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। ওখানে তারা যৌন হয়রানিসহ নানা নির্যাতনের শিকার হন। বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বিমানবন্দরে তাদের সহায়তা দেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম কর্মকর্তা আল আমিন নয়ন। তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে ফিরে আসা নারীদের পরিবার-পরিজন যোগাযোগ করে আসছিল। ব্র্যাক তাদের আইনি সহায়তা দেবে। ফিরে আসা এই নারী শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন রূপগঞ্জের সাথী, ভোলার জোসনা, কেরানীগঞ্জের মল্লিকা, বরগুনার শাহনাজ, কক্সবাজারের শাকিলা, দিনাজপুরের মনজুরা বেগম, ফরিদপুরের মাজেদা বেগম, নওগার শম্পা রেবা, মৌলভীবাজারের লিলি আক্তার, হবিগঞ্জের রুবীনা ও খাইরুন্নেসা ও ঢাকার কেরানীগঞ্জের ঝর্না প্রমুখ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তারা সবাই অমানবিক নির্যাতন সইতে না পেরে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের আর্থিক সহায়তায় এই নারী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনা হয়।
উল্লেখ্য, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য মতে, ২০১৭ সালে অভিবাসী নারীর সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ১৯ হাজার ৯২৫ জন, যা মোট অভিবাসন সংখ্যার ১৩ শতাংশ।১৯৯১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত অভিবাসন প্রত্যাশী নারী শ্রমিককে একা অভিবাসনে যেতে বাধা দেয়া হলেও পরবর্তীতে ২০০৩ এবং ২০০৬ সালে কিছুটা শিথিল করা হয়। ২০০৪ সালের পর থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত নারী শ্রমিকের অভিবাসন হার ক্রমাগত বাড়তে থাকে। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় মোট অভিবাসনের ১৯ শতাংশে।

২০১৮-২০১৯ অর্থ বাজেট পাস
                                  

জাতীয়
২০১৮-২০১৯ অর্থ বাজেট পাস আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মহিত ২০১৮-১৯ এর নতুন বাজেট পেশ করল। বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে এটাই শেষ বাজেট, ভোটের হিসাব বিবেচনায় সবাইকে খুশি করার চেষ্টা থাকবে এবারের বাজেটে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাছাড়াও অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেছেন যে এবার নতুন কোনো কর বসাবেন না । সবাইকে সন্তুষ্ঠ রাখায় এবারের বাজেট ।

 

মাদকবিরোধী অভিযানঃ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উদ্বেগ
                                  

মাদকবিরোধী অভিযানঃ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উদ্বেগ
মাদকবিরোধী অভিযান সরকারের নিঃসন্দেহে একটি ভাল উদ্যোগ। তবে বিনা বিচারে কাউকে হত্যা করা কারোরই কাম্য নয়। মাদকবিরোধী অভিযানে গত ২৫ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থনে বন্দুকযুদ্ধে ১৩৩ জন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হলেন।তাদের মধ্য পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুেদ্ধ ৭০ জন এবং র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। অর্থাৎ এই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা দাড়াল ১০৪ । বাকি ২৯ জন মাদক ব্যবসায়ী দুই পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।
এদিকে, টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে নিহত পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের পরিবারের দেওয়া অডিও রেকর্ডটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব সদর দপ্তর । গত ২৬ মে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে একরাম নিহত হওয়ার পর র‌্যাব দাবি করে, তিনি মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন । অবশ্য শুরু থেকেই ওই জনপ্রতিনিধির স্বজনরা দাবি করে আসছেন, নির্দোষ একরামকে হত্যা করা হয়েছে। একরামের হত্যাকান্ড নিয়ে চলছে বির্তকের ঝড় ।

মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় অভিযুক্ত মানবাধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে চিঠি দিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের কথা বলেছেন তিনি।
দেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের দশ বিশিষ্ট নাগরিক। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থায় এমন মৃত্যু কখনই গ্রহণযোগ্য নয়।বিবৃতিদাতারা হলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, আতাউর রহমান, মামুনুর রশীদ, কবি নির্মলেন্দু গুণ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ ও হাসান আরিফ।
এছাড়া আরো উদে¦গ জানিয়েছে জাতিয়তাবাদী দল বি এন পি , বাসদ,গনজাগরন মঞ্চ ,মানবাধিকার সংগঠন আসক সহ বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দল।

অধিকারের প্রতিবেদনঃ পাঁচ মাসে ২২২ টি বিচারবহির্ভূত হত্যা
॥মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন॥
২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত পাঁচ মাসে দেশে ২২২ টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে মানবাধিকার সংস্থা অধিকার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করছে। এর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে (ক্রসফায়ার) মারা গেছেন ২১৬ জন। অধিকারের প্রতিবেদনে যেসব বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে বন্দুকযুদ্ধ , গুলিতে নিহত ও নির্যাতনে মৃত্যু । এত বলা হয়, অনেক ক্ষেএে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত মূল অপরাধীকে আড়াল করার জন্যও বিচরবহির্ভূত হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটছে।
অধিকারের তথ্য অনুযায়ী , মে মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ১৪৯ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া গত পাঁচ মাসে সারা দেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৪৭ জন। আহত হয়েছেন ২ হাজার ১০৩ জন। অন্যদিকে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে মারা গেছেন ৩ বাংলাদেশি নাগরিক। আহত হয়েছেন ৯ জন এবং অপহরন করা হয়েছে ৯ জনকে।
অধিকারের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত সারা দেশে ৩০৯ টি ধর্ষনের ঘটনা ঘটে।যৌতুকের কারনে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৭৫ াট । যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ৯৬ জন । প্রতিবেদনে নারী নির্যাতন বৃদ্ধির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অপরাধীদের শাস্তি প্রদান ও গনমাধ্যমের সচেতনতা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়। প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের চিএও তুলে ধরা হয় । সেখানে বলা হয়, বছরের প্রথম পাচঁ মাসে ২৫ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। হুমকি দেওয়া হয় ৭ জনকে, লাঞ্চিত হয়েছেন ৭ জন। এ সময় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৬ সাংবািদক সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখায় এদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ছাদ কেটে আমিন জুয়েলার্স এ চুরি
                                  

গুলশান ২ নম্বরে ডিসিসি মার্কেটে আমিন জুয়েলার্সে দুর্ধষ চুরি হয়েছে। দুর্বৃত্তরা মার্কেটের ছাদের একটি অংশ কেটে দোকানে ঢুকে চুরির পর আবার ঢালাই করে পালিয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও দোকানকর্মীরা জানিয়েছেন, আমিন জুয়েলার্স থেকে আনুমানিক ৩০০ ভরি স্বর্ণ ও ২৪ লাখ টাকা খোয়া গেছে।
পুলিশের গুলশান বিভাগের এডিসি আবদুল আহাদ সমকালকে বলেন, আমিন জুয়েলার্স থেকে চুরির অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। দুর্বৃত্তরা মার্কেটের ছাদ কেটে দোকানে ঢুকেছিল।
জানা গেছে, পহেলা বৈশাখের দিন  কাজ করে রাতে দোকান বন্ধ করে যান কর্মচারীরা। পরদিন সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বন্ধ ছিল মার্কেট।
১৬ এপ্রিল দোকান খুলে দেখা যায়, দোকানের ছাদ ভেঙে স্বর্ণ ও দোকানে থাকা নগদ টাকা চুরি হয়েছে। দোকান খুলে ক্যাশে রাখা অর্ধেক টাকা পাওয়া যায়নি। দোকানে সাজানো শত শত ভরি স্বর্ণ থাকলেও অনেক প্যাকেট খালি পাওয়া যায়। এরপরই তারা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। পরে মার্কেটের লোকজন দোতলার ছাদে গিয়ে দেখেন একটি অংশে নতুন ঢালাই করা হয়েছে। যেভাবে ছাদের এক অংশ কাটা হয়েছিল তাতে একজন মানুষের পক্ষে ভেতরে ঢোকা সম্ভব। ধারণা করা হচ্ছে, চোর সেখান দিয়ে প্রবেশ করে চুরি শেষে ফের ঢালাই করে পালিয়েছে। পুলিশ বলছে, চুরির অভিযোগ পাওয়ার পর তারা আশপাশের এলাকার  সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্নেষণ করে দেখছে।
এ ছাড়া দোকানকর্মী ও আশপাশ এলাকার নিরাপত্তারক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, পরিচিত কেউ স্বর্ণ গায়েবের পর পর ছাদ কেটে রাখার নাটক করেছে কি-না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে চুরির রহস্য উদ্ঘাটনে আশাবাদী তারা। পুলিশ বলছে, এরই মধ্যে এমন কিছু ক্লু তারা পেয়েছে যাতে ধারণা করছেন, কেউ আসল ঘটনা লুকাতে অনেক নাটক সাজানোর চেষ্টা করেছে।

মহাকাশে এক টুকরো বাংলাদেশ
                                  

বাংলাদেশের প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ `বঙ্গবন্ধু-১` স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হয়ে়ছে বাংলাদেশ সময় ১২ মে শনিবার রাত ২টা ১৪ মিনিটে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে মার্কিন কোম্পানি স্পেসএক্স-এর সর্বাধুনিক রকেট ফ্যালকন-৯ স্যাটেলাইটটি নিয়ে কক্ষপথের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বিবিসি বাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "স্যাটেলাইটটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে এবং গ্রাউন্ডে সিগন্যালও পাঠিয়েছে।"
ফ্লোরিডার স্বচ্ছ আকাশে প্রায় সাত মিনিট স্যাটেলাইটটি দেখা যায়।
প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় সহ বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করেন।
ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষকারী আইসিটি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, `বঙ্গবন্ধু-১ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি সময়োপযোগী উদ্যোগও যার ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ভিশন রয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বহু বাংলাদেশীও এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সরাসরি সম্প্রচার ও ওয়েবকাস্ট প্রত্যক্ষ করেন। এর আগে ১১মে শুক্রবার ভোররাতে এটি উৎক্ষেপণের সমস্ত আয়োজন চূড়ান্ত হলেও শেষ মুহুর্তে উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়।
এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃত্রিম উপগ্রহের অধিকারী বিশ্বের ৫৭তম দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে। উপগ্রহটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং পর্যবেক্ষণে দেশের সক্ষমতা বাড়াবে। উপগ্রহটি থেকে সার্ক দেশগুলোর পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং কাজাকিস্তানের একটি অংশ এর সুযোগ নিতে পারবে।
এই স্যাটেলাইট প্রথমে ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর উৎক্ষেপণের কথা ছিল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় ইরমার কারণে এর উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হয়।

রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তায় কাজ করছে ১৬০০ মাঝি
                                  

মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তায় কাজ করছেন ১ হাজার ৬০৯ জন মাঝি। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ছোট-বড় ২৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাতের বেলা দুই শিফটে পাহারা দেওয়ার কাজটি করছেন ‘মাঝি’ পদবির এসব রোহিঙ্গা যুবক ও আরও কিছু স্বেচ্ছাসেবী। ক্যাম্পের ভিতরে চুরি, ডাকাতিসহ নানা অপরাধ ঠেকাতে কাজ করছেন তারা। এ ছাড়া ত্রাণ বিতরণসহ নানা শৃঙ্খলার কাজেও সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনকে এসব মাঝি সহযোগিতা করেন। রোহিঙ্গা যুবকদের মধ্য থেকে বাছাই করে কমিউনিটি লিডার হিসেবে তাদের মনোনয়ন করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে তাদের মাঝি পদবি দেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীর গেঞ্জি পরে, গলায় ‘মাঝি কার্ড’ ঝুলিয়ে তারা দিনরাত নির্ধারিত কাজ করে যান।
জানা গেছে, রোহিঙ্গা তরুণদের ক্যাম্পের মধ্যেই কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে  স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে তাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি ক্যাম্পে তাদের ভাগ করে দেওয়া হয়। তাদের জনগোষ্ঠীকে নেতৃত্ব দিতে এবং রোহিঙ্গাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা মোকাবিলার জন্য তাদের সামাজিক পদ্ধতি অনুসরণ করে এই মাঝিদের কাজে লাগানো হচ্ছে। তাদের মধ্যে একজন হেড মাঝি, একজন মাঝি ও তার পর সাব-মাঝির পদ রয়েছে। একজন মাঝির তত্ত্বাবধানে থাকে এক হাজার থেকে ১২০০ রোহিঙ্গা পরিবার। সাব-মাঝির তত্ত্বাবধানে থাকে ১০০ রোহিঙ্গা পরিবার। তাদের লিডার তারাই মনোনয়ন করে থাকেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাঝে মাঝেই লাল পতাকা দেখা যায়। তার মানে সেই পতাকা নির্দেশিত স্থানে একজন মাঝি আছেন। আর্মি কো-অর্ডিনেশন সেল, উখিয়ার সাবেক চিফ কো-অর্ডিনেটর ও রোহিঙ্গা সংকটের শুরুতে দায়িত্ব পালনকারী লে. কর্নেল শাহ মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের একটা ডাটাবেজ সংরক্ষণ করছি। এই মাঝিদের সিস্টেমটা কাজের সুবিধার্থে গড়ে তুলেছি। রোহিঙ্গাদের প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ তাদের থাকার জায়গারও আলাদা নম্বর দেওয়া আছে। প্রতিটি ব্লক অনুযায়ী মাঝিদের ছবিসহ তালিকা আমরা সংরক্ষণ করছি।
তিনি বলেন, এখানকার রোহিঙ্গাদের ম্যানেজ করতে আমাদের পিসকিপিং মিশনসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে। বাংলাদেশের মিলিটারি এমন ক্রাইসিস প্রায়ই মোকাবিলা করে। আমরা নিজেদের ইনোভেশন দিয়ে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা করেছি।

ডিইউজে নির্বাচনে গনি-শহিদ পরিষদ পূর্ণ প্যানেল বিজয়ী
                                  

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) নির্বাচনে গনি-শহিদ পরিষদ পূর্ণ প্যানেল বিজয়ী হয়েছে। সভাপতি পদে আমার দেশ এর কাদের গণি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক পদে সংগ্রামের মো: শহিদুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন। ২৭ এপ্রিল রাতে ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কায়কোবাদ মিলন এই ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচনে কাদের গণি চৌধুরী পেয়েছেন ৪৯৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাহাঙ্গীর আলম প্রধান পেয়েছেন ৩৮৭ ভোট। এছাড়া বাকের-খুরশীদ পরিষদের মুহাম্মদ বাকের হোসাইন পেয়েছেন ১৭৫ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে গনি-শহিদ পরিষদের মো শহিদুল ইসলাম ৬০৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খুরশীদ আলম পেয়েছেন ৩৭৬ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মাসুদ পেয়েছেন ৫৪ ভোট। সহ-সভাপতির তিনটি পদে গনি-শহিদ পরিষদের বাছির জামাল ৭৩০ ভোট, শাহীন হাসনাত ৫৫২ ভোট এবং আনোয়ারুল কবির বুলু ৫৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এ পদে বাকের-খুরশীদ পরিষদের আবদুল আউয়াল ঠাকুর ৩৪২ভোট, মাইন উদ্দিন আহমেদ ২৩৪ ভোট ও সাহাদত হোসেন খান ১৯০ ভোট পেয়েছেন।
যুগ্ম-সম্পাদক পদে গনি-শহিদ পরিষদের এরফানুল হক নাহিদ ৬৬৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাকের-খুরশীদ পরিষদের মো: আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন ৩৩৩ ভোট। কোষাধ্যক্ষ পদে নিউ নেশনের মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক (গাযী আনোয়ার) বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বাসসের মো: দিদারুল আলম ৮০২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গোলাম কিবরিয়া পেয়েছেন ১৭৯ ভোট।
এছাড়া অপর প্রতিদ্বন্দ্বী হালিম পেয়েছেন ২৮ ভোট। প্রচার সম্পাদক পদে দেওয়ান মাসুদা সুলতানা ৫৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিন্দ্বন্দ্বী জসিম মেহেদী পেয়েছেন ৪২০ ভোট। ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে নয়াদিগন্তের আবুল কালাম ৬৭৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম আলমগীর পেয়েছেন ২২৮ ভোট। জনকল্যাণ সম্পাদক পদে খন্দকার আলমগীর হোসাইন ও দফতর সম্পাদক পদে শাহজাহান সাজু বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ৮ টি সদস্য পদে নির্বাচিতরা হলেন ক্রমানুসারে খন্দকার হাসনাত করিম পিন্টু(৫৭১), রফিক মোহাম্মদ (৫৬৫), এইচ এম আল আমীন ( ৫২৭ ), সৈয়দ আলী আসফার (৪৯৩), শহীদুল ইসলাম (৪৭২), ডিএম আমিরুল ইসলাম অমর (৪৬৭), কাজী তাজিম উদ্দিন(৪৫৬) এবং রফিক লিটন(৩৮৩)।

হাসপাতালে জাফর ইকবালের পাশে প্রধানমন্ত্রী
                                  


ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গিয়ে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালকে দেখে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মধ্যে সন্দেহভাজন জঙ্গি হামলায় আহত জাফর ইকবাল ঢাকা সিএমএইচের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটিটে চিকিৎসাধীন। তাকে দেখতে  হাসপাতালে যান প্রধানমন্ত্রী। তিনি এই জনপ্রিয়  লেখকের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন এবং তার পাশে কিছু সময় কাটান। জাফর ইকবালের স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমিন হক এবং মেয়ে ইয়েশিম ইকবাল সে সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, অধ্যাপক জাফর ইকবালের সুস্থতার জন্য যা যা প্রয়োজন সব কিছু করার নির্দেশ দিয়েছেন সরকার প্রধান। “প্রধানমন্ত্রী প্রায় এক ঘণ্টা হাসপাতালে ছিলেন। অধ্যাপক জাফর ইকবালের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেছেন।” বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে ইলেট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের  ফেস্টিভাল চলাকালে জনপ্রিয় লেখক জাফর ইকবালের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালায় এক তরুণ। হামলার পর অধ্যাপক জাফর ইকবালকে নেওয়া হয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী রাতেই তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা সিএমএইচে  নেওয়া হয়। হামলায় জড়িতদের ধরতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন। সে জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে অধ্যাপক ইয়াসমিন হক ঢাকা সিএমএইচে সাংবাদিকদের বলেন, “তিনি এখানটায় নিয়ে আসার জন্য অ্যারেঞ্জ করেছেন। তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে কাজ করেছেন। আমি শুনেছি, তিনি নিজে  ফোন করে শিক্ষকদের কাছ থেকে খোঁজ নিয়েছেন। ”ঢাকা সিএমএইচের চিকিৎসকরা এক ব্রিফিংয়ে বলেন, অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের মাথা, পিঠ ও হাতে ছুরির আঘাতের ছয়টি জখম রয়েছে। তিনি বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠছেন।


বিনা ভাড়ায় দশ মাস বসবাস
                                  

॥ মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥
দিনের পর দিন রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পের ডরমিটরিতে বিনা ভাড়ায় সপরিবারে বসবাস করছেন ধর্ম মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারিভাবে তাদের নামে হজক্যাম্পের কোনো বাসা বরাদ্দ নেই। হজ মৌসুমে দুই মাস হজক্যাম্পের ডরমিটরি ব্যবহার করেন হজযাত্রীরা। বাকি ১০ মাস অবৈধভাবে সেগুলো ব্যবহার করছেন কর্মীরা। এতে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল বাবদ সরকারের ক্ষতি হচ্ছে প্রায় কোটি টাকা। ডরমিটরিতে বসবাসকারীদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী হজ অফিসার আবদুল মালেক, প্রধান সহকারী আবদুর রহিম, উচ্চমান সহকারী আবদুল আওয়াল, পরিচালকের গাড়িচালক সালাউদ্দিন, অফিস সহকারী আহমেদ মোস্তফা, রাশেদা খাতুন, দেলোয়ার, ফাতেমা খাতুনসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এ ছাড়া হজক্যাম্পের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম সপরিবারে ডরমিটরি ব্যবহার করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আশকোনা হজক্যাম্পে ধর্ম মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রায় একশ`র বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। হজক্যাম্প এলাকায় কর্মচারীদের জন্য সরকারিভাবে কোনো আবাসন নেই। এ ব্যাপারে হজ অফিসের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম মিডিয়াকে বলেন, হজক্যাম্পের ডরমিটরি ব্যবহার অবৈধ। কর্মীরা ডরমিটরি ব্যবহার করায় পানি, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের অর্থ অপচয় হয়। হজক্যাম্প কর্মচারীদের জন্য ক্যাম্প এলাকায় কোনো আবাসন নেই। এ কারণে একটু সুযোগ-সুবিধা পেতে কর্মচারীরা হজক্যাম্পের ডরমিটরি ব্যবহার করছেন। সরকারিভাবে রাজধানীর আশকোনায় হজযাত্রীদের জন্য নির্মাণ করা হয় বহুতলবিশিষ্ট একটি হজক্যাম্প।
হজযাত্রীদের জন্য পৃথকভাবে আটটি বিশাল আকারের ডরমিটরি তৈরি করা হয়। হজ মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হজযাত্রীরা এখানে অবস্থান নিয়ে সৌদি আরবে হজ পালন করতে যান। বছরে দুই মাস হজক্যাম্পের এসব ডরমিটরি হজযাত্রীরা ব্যবহার করলেও বাকি ১০ মাস খালি থাকে। এ সুযোগে ক্যাম্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিনা ভাড়ায় সেখানে বসবাস করছেন।

মনিকাকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য কামনা
                                  

॥ মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥
মনিকা ইসলাম। এক হাস্যোজ্জল প্রানবন্ত তরুণী। ১৯ বছরের কোঠা ছুই ছুই করছে।  যে বয়সে আনন্দ উচ্ছাসে বাড়ি-ঘর মাতিয়ে রাখার কথা। সে বয়সে মনিকা হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। মনিকারও স্বপ্ন ছিল লেখা-পড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হবে। দেশের মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করবে। আরও ১০টা মেয়ের মত একসময় বিয়ের পিড়িতে বসবে।  
কিন্তু সেই  স্বপ্ন ভেঙে খানখান হয়ে গেল। ২০১৬ সালের বছরের নভেম্বর মাসে মনিকার সহপাঠীরা যখন এইচএসসি ফাইনাল পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয় তখন তাঁর স্থান হলো মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালের বিছানায়।
মনিকার চিকিৎসার্থে তহবিল সংগ্রহে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে `মেধাবী ছাত্রী মনিকাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন` ব্যানারে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মনিকার বাবা খুলনার জেলার দিঘলিয়া উপজেলার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী  শেখ মনিরুল ইসলাম। মানববন্ধনে মনিকার ভাই-বোনসহ এলাকার অর্ধশত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।মনিকার বাবা শেখ মনিরুল ইসলাম জানান, মরণঘাতী ব্লø্যাড ক্যান্সার-এ আক্রান্ত মনিকা। একটানা ৬ মাস তার শরীরে কেমোথেরাপি দেওয়া হলে সে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠে। এরপর হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। বাড়িতে আনার পর পুনরায় মনিকা তাঁর পড়াশুনায় মনোযোগী হয়। কিন্তু গত বছরের ২১ নভেম্বর আবারও সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
মনিকার চিকিৎসার দরকার হলো এ্যালোজেনিক বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট যা আমাদের দেশে এখনো চালু হয়নি। বিদেশে এই চিকিৎসার ব্যয় প্রায় এক কোটি টাকা। মনিকার বাবা একজন ক্যান্টিন ব্যবসায়ী, তিনি মেয়ের চিকিৎসার জন্য এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ করেছেন। বর্তমানে বাড়ি ভিটা ছাড়া তার আর কিছুই নেই।
তিনি মনিকাকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান সহ ১৬  কোটি মানুষের অভিভাবক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি কামনা করেন। সকলের সহযোগিতাই পারে মনিকাকে বাচিয়ে তুলতে। যারা মনিকাকে বাঁচাতে সাহায্য করতে চান তারা সঞ্চয়ী হিসাব নং-১২০১৫১১৩৩১৩, ডাচ বাংলা ব্যাংক, খুলনা শাখা, খুলনা। বিকাশ নম্বর ০১৭১১-৪৫০১৯৫-এ সাহায্য পাঠাতে পারেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ৫ বছরের কারাদন্ড খালেদা জিয়ার
                                  

॥ মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥
এতিমদের জন্য পাঠানো ২ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় বিএনপি  চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। ৮ ফেব্রুয়ারী (বৃহস্পতিবার) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশিবাজারের কারা অধিদফতরের মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড.মো. আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। এছাড়া তারেক রহমানসহ অন্য পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।
মামলার অপর আসামিরা হলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমদ আসামি হিসাবে রয়েছেন। এর মধ্যে তারেক রহমান, কামাল সিদ্দিকি ও মমিনুর রহমান পলাতক।
খালেদা জিয়া জামিনে রয়েছেন।
আর সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন কারাগারে আছেন। বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই নগরীর রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের করে দুদক।
মামলায় খালেদা জিয়াসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় যে, এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশে বিদেশ থেকে পাঠানো ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা ক্ষমতার অপব্যহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাত্ করা হয়েছে।
 তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
অরফানেজ মামলা বিচারাধীন থাকাবস্থায় আওয়ামী লীগের  নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের দুর্নীতি সংক্রান্ত আরেকটি মামলা দায়ের করে দুদক।
এই মামলায় খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করা হয়।
 একই দিনে ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ  ট্রাস্ট সংক্রান্ত এই দুইটি মামলার সকল আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক বাসুদেব রায়।
দন্ডবিধির ৪০৯/ ১০৯ ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ গঠনের পরই শুরু হয় দুইটি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ।

তাজরিন ট্র্যাজেডির পাঁচ বছর স্মরণ করলো নিহতদের শোকার্ত সহকর্মীরা
                                  

॥ সৈয়দ তানভীর আহমেদ রনি ॥

আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরিন ফ্যাশনস ট্র্যাজেডির পাঁচ বছর পূর্ন হলো ২৪ নভেম্বর। ভয়াবহ এই অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ১১২ জন পোশাক শ্রমিক পুড়ে মারা যায়। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি। এ ঘটনায় এখনও বহু সংখ্যক শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। দূর্ঘটনায় নয় তলা ভবনের ছয় তলা পর্যন্ত পুরোপুরি আগুনে ভূস্মিভূত হয়।

ভয়াবহ এই ঘটনার শিকার শ্রমিকদের কেহ কেহ সামান্য ক্ষতিপূরণ পেলেও অনেক শ্রমিকের পরিবারক্ষতিপূরণ পায় নাই। শোকাবহ এই দিনে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে গার্মেন্টস শ্রমিকদের একাধিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে। এর মধ্যে ইন্ডাষ্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি) তাজরিন ফ্যাশনের মালিক সহ সকল দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সহ নিরাপদ কর্মস্থল করার দাবী করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা, বিরল রোগে আক্রান্ত জহিরুল বাঁচতে চায়
                                  

 ॥ মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥

 ইঞ্জিঃ জহিরুল ইসলাম চাদপুঁর জেলার কচুয়া থানার ২নং পাথৈর ইউনিয়নের বেরকোটার গ্রামের অধিবাসী। তার বাবা একজন কৃষক, মা অসুস্থ হয়ে পঙ্গু জীবন যাপন করছে। সে একজন Faciio Scapnto Humeral Muscular dystrophy রোগী। দূরারোগ্য এই রোগটি তার ১৮ বছর পর থেকে দৃশ্যমান হয়। তার বর্তমান বয়স ২৬ বছর। সে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশের সব হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসা সেবা নিতে চেষ্টা করে কিন্তু কোন ফলাফল পায়নি।

 

অতঃপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০১৫ সালে ভারত যায়। ভারত কে.পি.সি হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতালে গেলে এই চিকিৎসা নেই বলে জানায়। পরর্বতীতে ২০১৭ সালে আবার চিকিৎসার জন্য ভারতে গেলে তখন কে.পি.সি হাসপাতাল (প্রফেসর ডা: আমলান মন্ডল) কলকাতা, ক্রিস্ট্রিয়ান মেডিকেল কলেজ (ডাঃ কেবিন জন) ব্যাঙ্গালোর চেন্নাই, সি নারায়নী হাসপাতাল (প্রফেসর ড: টি.টু মটু) তামিল নাডু মার্দ্রাজ, ব্যাঙ্গালোর ন্যাশনাল নিওরো সাইন্স এন্ড মেন্টাল হ্যালথ ইন্সটিটিউট (প্রফেসর এ নালনী) ব্যাঙ্গালোর।

 তারা প্রত্যেকেই সর্বোচ্চ সুবিধা প্রধান সাপেক্ষে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমেরিকাতে যাওয়ার জন্য পরামর্শ প্রদান করে এবং বলে যদি এখনি সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা না হয় তাহলে সামনের কয়েক বছরের মধ্যে প্যারালাইসেস হয়ে যাবে। দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস ভারতে অবস্থান শেষে দেশে ফিরে তার মামা (আমেরিকার নাগরিক), মামাত ভাই এবং অন্যান্য আত্মীয় স্বজনের সাথে যোগাযোগ করে অতঃপর তারা তাকে সাহায্য করতে আশস্ত করে। সে তার এই রোগের জন্য আমেরিকার বৃহত্তর চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব রোসেস্টোর মেডিকেল সেন্টরের নিওরো মাসকুলার ডিজোএস সেন্টার অন্তর্গত the fields center of Faciio Scapnto Humeral Muscular dystrophy ও নিওরো মাসকুলার রিচার্জের ডিরেক্টর ডঃ রাবি তাওয়াল সাথে যোগাযোগ করলে তারা তার কাগজ পত্র, পরীক্ষাপত্র এবং সমগ্র শরীরের ছবি দেখে দুই সপ্তাহ পর্যালোচনা করে চিকিৎসার জন্য আশস্ত করে এবং একটি এপয়েন্টমেন্ট দেয় যার তারিখ ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭ ইং অতঃপর ইউ এস মেডিকেল ভিসা সহজে পেতে এম্বেসী বরাবর একটি এপয়েন্টমেন্ট লেটার পাঠায়। এরপর চিকিৎসার খরচের জন্য তার আত্মীয় স্বজন এবং স্থানীয় এমপি সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ডঃ মহীউদ্দীন খান আলমগীর এর কাছে গেলে তিনি যাবতীয় খরচ বহন করবে এবং চিকিৎসার শেষে দেশে ফিরে আসবে এই মর্মে একখানা পত্র এম্বেসী বরাবর প্রেরন করে। এই দিকে আমেরিকার বসবাসরত তার মামা, মামাতো ভাই, মামাতো বোন তার ইউএস এ চিকিৎসার জন্য অবস্থানরত সময় সকল খরচ বহন মর্মে নোটারি পাবলিকেশন করে একখানা পত্র এম্বেসী বরাবর প্রেরণ করে এরপর সে প্রথমবারের মত আমেরিকার মেডিকেল ভিসার জন্য ৩ অক্টোবর লাইনে দাড়ায় কিন্তু ভিসা অফিসার কোন কারন না বলে ডিসকোয়ালিফাই ঘোষনা করে। এমতাবস্থায় সে চরম হতাশাগ্রস্থ হয় এবং বাংলাদেশের উচ্চ পদস্থ লোকদের কাছে বাচার আকুতি জানায়। তাদের সহযোগীতায় সে দ্বিতীয় বারের মত এম্বেসী ফি জমা দিয়ে ভিসার জন্য ১৪ই নভেম্বর লাইনে দাড়ায়। কিন্তু ভিসা অফিসার তাকে আগের মত ডিসকোয়ালিফাই করে। এমতাবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন চেয়াম্যান এর কাছে তার একটাই চাওয়া- “আমি বাঁচতে চাই। আমাকে বাঁচার সুযোগ করে দিন।”


   Page 1 of 4
     জাতীয়
বাংলাদেশ প্রশংসিত প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক বিধানগুলো নিয়ে উদ্বেগ
.............................................................................................
এবার যমজ ছেলের বাবা হলেন রেলমন্ত্রী
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রীকে ও সংবাদ সম্মেলনে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া মানবতাবোধ বাংলাদেশের কাছে বিশ্বের শেখার আছে
.............................................................................................
সৌদি থেকে নির্যাতনের শিকার ৮৩ নারী দেশে ফিরেছেন
.............................................................................................
২০১৮-২০১৯ অর্থ বাজেট পাস
.............................................................................................
মাদকবিরোধী অভিযানঃ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উদ্বেগ
.............................................................................................
ছাদ কেটে আমিন জুয়েলার্স এ চুরি
.............................................................................................
মহাকাশে এক টুকরো বাংলাদেশ
.............................................................................................
রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তায় কাজ করছে ১৬০০ মাঝি
.............................................................................................
ডিইউজে নির্বাচনে গনি-শহিদ পরিষদ পূর্ণ প্যানেল বিজয়ী
.............................................................................................
হাসপাতালে জাফর ইকবালের পাশে প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
বিনা ভাড়ায় দশ মাস বসবাস
.............................................................................................
মনিকাকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য কামনা
.............................................................................................
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ৫ বছরের কারাদন্ড খালেদা জিয়ার
.............................................................................................
তাজরিন ট্র্যাজেডির পাঁচ বছর স্মরণ করলো নিহতদের শোকার্ত সহকর্মীরা
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা, বিরল রোগে আক্রান্ত জহিরুল বাঁচতে চায়
.............................................................................................
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যানের এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার
.............................................................................................
বেপরোয়া রোহিঙ্গা রামুতে এক বাঙালি নিহত ॥ উখিয়ায় আহত ৪
.............................................................................................
সাংবাদিক হত্যায় বিচার না হওয়া দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ দশম
.............................................................................................
রোহিঙ্গাদের কারণে বনের ক্ষতি দেড়’শ কোটি টাকা
.............................................................................................
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস
.............................................................................................
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে চাপ দিন : প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
১০ মাসে ২,৯২৬টি সড়ক দুর্ঘটনা নিহত ৩,৬০৮ আহত ৭,৭৮৬
.............................................................................................
প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ
.............................................................................................
বহিঃবিশ্বে সুনাম অর্জন শত বছরের ভাসমান সবজী ক্ষেত
.............................................................................................
জাতীয় নির্মম নৃশংস !
.............................................................................................
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রতিবাদে বামাফা’র মানব বন্ধন
.............................................................................................
শিশুটিকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয় জানালায় ॥ গ্রেফতার ১
.............................................................................................
প্রধান বিচারপতি অস্ট্রেলিয়া গেলেন
.............................................................................................
ডিজিটাল হেল্থ সার্ভিস বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরন সভা
.............................................................................................
ভারতের সঙ্গে ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি
.............................................................................................
নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশে মানবাধিকার খবর ও উৎস রমনাপার্ক
.............................................................................................
বিশ্বের ১৮ নারী নেতার তালিকায় শেখ হাসিনা
.............................................................................................
চাষী নজরুল মরণোত্তর সম্মাননা পেলেন
.............................................................................................
সীমাখালীর চিত্রা নদীর উপর বেইলী ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষের পথে
.............................................................................................
ভাগডোমায় আশ্রায়ন প্রকল্প না করার দাবীতে মানববন্ধন আবু তাহের, দিনাজপুর
.............................................................................................
সড়ক দূর্ঘটনায় স্কুলছাত্র নিহত
.............................................................................................
এনডিপি’র ইফতার মাহফিলে খালেদা জিয়া আদালতের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ
.............................................................................................
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রধানমন্ত্রী কোনোভাবেই সুন্দরবনের ক্ষতি নয়
.............................................................................................
দ্বিতীয়বার আনন্দ পুরষ্কার পেলেন ড. আনিসুজ্জামান
.............................................................................................
বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণ অবশেষে ধর্ষক সাফাত ও সাদমান গ্রেফতার
.............................................................................................
কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলব- প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
সিংড়ায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই সম্পন্ন
.............................................................................................
এক নজরে ঢাকা-দিল্লী ২২ চুক্তি
.............................................................................................
নতুন বছরে দেশ আরও এগিয়ে যাবে... প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
মধ্যরাতে ৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে ফেসবুক
.............................................................................................
‘অটিজম চ্যাম্পিয়ন’ সায়মা ওয়াজেদ
.............................................................................................
আইপিইউ সম্মেলন ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী
.............................................................................................
শেখ হাসিনার ভারত সফর : সতর্ক দৃষ্টি রাখছে চীন
.............................................................................................
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা বুধবার
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

Editor & Publisher: Rtn. Md Reaz Uddin
Mobile:+88-01711391530, Email: md.reaz09@yahoo.com Corporate Office
53,Modern mansion(8th floor),Motijheel C/A, Dhaka
E-mail:manabadhikarkhabar@gmail.com,manabadhikarkhabar34@yahoo.com,
Tel:+88-02-9585139
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-9585140
    2015 @ All Right Reserved By manabadhikarkhabar.com    সম্পাদকীয়    Adviser List

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]