| বাংলার জন্য ক্লিক করুন

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   জাতীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
জাবিতে ক্লাস নিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

মানবাধিকার ডেস্ক:
জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা বিভিন্ন চমক দেখালেও ব্যতিক্রমধর্মী চমক নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজির হন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে খ-কালীন শিক্ষক হিসেবে মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিয়েছেন তিনি। গত ১৬ জানুয়ারি বিকেল পৌনে ৪টা থেকে ক্লাস শুরু করে এক ঘণ্টা ক্লাস নেন। ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সে গ্লোবাল ক্লাইমেট চেঞ্জ বিষয়ক ৫০২ নম্বর কোর্সের খ-কালীন শিক্ষক হিসেবে শেষ ক্লাস নিয়েছেন তিনি।
গত বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে একটি ক্লাস নেয়ার পর শিক্ষার্থীরা হাছান মাহমুদকে নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি এবং অনুরোধে ড. হাছান মাহমুদ গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে খ-কালীন শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ ক্লাস নিতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা শেষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আগেও আমি পরিবেশ বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ স্টাডিজ বিষয়ে ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি এবং নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেছি। রাজনীতিবিদদের ক্লাস নেয়া নতুন নয়, বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদরা ক্লাস নেন।
পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেয়া অব্যাহত রাখবেন কিনা জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সব কিছু মিলিয়ে সম্ভব হলে শিক্ষকতা অব্যাহত রাখব। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভুঁইয়া বলেন, তথ্যমন্ত্রীকে আমাদের বিভাগের শিক্ষক হিসেবে পেয়ে আমরা খুশি এবং আনন্দিত। আমরা চাই পরবর্তীতে যেন তিনি আমাদের বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। পরিবেশ বিভাগের শিক্ষকরা জানান, এর আগে তিনি আমাদের বিভাগে ক্লাস নিয়েছেন। কিন্তু তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পরে তিনি যে আবার আমাদের বিভাগে ক্লাস নেবেন ভাবতে পারিনি। তার ক্লাস শিক্ষার্থীরা খুব উপভোগ করেন। এর আগে পরিবেশ বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ স্টাডিজ বিষয়ে ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি এবং নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেছেন ড. হাছান মাহমুদ। শিক্ষাজীবনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন বিষয়ে সম্মানসহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন হাছান মাহমুদ। বেলজিয়াম ব্রিজ ইউনিভার্সিটি অব ব্রাসেলস থেকে ‘হিউম্যান ইকোলজি’ ও ইউনিভার্সিটি অব লিবহা দু ব্রাসেলস থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিষয়ে মাস্টার্স করেছেন তিনি। এরপর পরিবেশ রসায়ন বিষয়ে বেলজিয়ামের লিম্বুর্গ ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি অর্জন করেন তিনি। শিক্ষাজীবন শেষ করে ব্রাসেলসের ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে ভিজিটিং ফেলো এবং একাডেমিক বোর্ড মেম্বার হিসেবে মনোনীত হন ড. হাছান মাহমুদ।
বর্তমানে ড. মাহমুদ দেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিম-লে একজন খ্যাতিমান পরিবেশবিদ হিসেবে সুপরিচিত। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সরকারের পরিবেশমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও দলের অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে সফলতার সঙ্গে কাজ করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি হয়ে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান ড. হাছান মাহমুদ। রাজনীতিবিদরা ক্লাস নিলেও মন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশে এর আগে কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিয়েছেন বলে জানা নেই।

জাবিতে ক্লাস নিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
                                  

মানবাধিকার ডেস্ক:
জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা বিভিন্ন চমক দেখালেও ব্যতিক্রমধর্মী চমক নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজির হন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে খ-কালীন শিক্ষক হিসেবে মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিয়েছেন তিনি। গত ১৬ জানুয়ারি বিকেল পৌনে ৪টা থেকে ক্লাস শুরু করে এক ঘণ্টা ক্লাস নেন। ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সে গ্লোবাল ক্লাইমেট চেঞ্জ বিষয়ক ৫০২ নম্বর কোর্সের খ-কালীন শিক্ষক হিসেবে শেষ ক্লাস নিয়েছেন তিনি।
গত বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে একটি ক্লাস নেয়ার পর শিক্ষার্থীরা হাছান মাহমুদকে নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি এবং অনুরোধে ড. হাছান মাহমুদ গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে খ-কালীন শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ ক্লাস নিতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা শেষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আগেও আমি পরিবেশ বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ স্টাডিজ বিষয়ে ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি এবং নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেছি। রাজনীতিবিদদের ক্লাস নেয়া নতুন নয়, বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদরা ক্লাস নেন।
পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেয়া অব্যাহত রাখবেন কিনা জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সব কিছু মিলিয়ে সম্ভব হলে শিক্ষকতা অব্যাহত রাখব। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভুঁইয়া বলেন, তথ্যমন্ত্রীকে আমাদের বিভাগের শিক্ষক হিসেবে পেয়ে আমরা খুশি এবং আনন্দিত। আমরা চাই পরবর্তীতে যেন তিনি আমাদের বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। পরিবেশ বিভাগের শিক্ষকরা জানান, এর আগে তিনি আমাদের বিভাগে ক্লাস নিয়েছেন। কিন্তু তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পরে তিনি যে আবার আমাদের বিভাগে ক্লাস নেবেন ভাবতে পারিনি। তার ক্লাস শিক্ষার্থীরা খুব উপভোগ করেন। এর আগে পরিবেশ বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ স্টাডিজ বিষয়ে ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি এবং নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেছেন ড. হাছান মাহমুদ। শিক্ষাজীবনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন বিষয়ে সম্মানসহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন হাছান মাহমুদ। বেলজিয়াম ব্রিজ ইউনিভার্সিটি অব ব্রাসেলস থেকে ‘হিউম্যান ইকোলজি’ ও ইউনিভার্সিটি অব লিবহা দু ব্রাসেলস থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিষয়ে মাস্টার্স করেছেন তিনি। এরপর পরিবেশ রসায়ন বিষয়ে বেলজিয়ামের লিম্বুর্গ ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি অর্জন করেন তিনি। শিক্ষাজীবন শেষ করে ব্রাসেলসের ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে ভিজিটিং ফেলো এবং একাডেমিক বোর্ড মেম্বার হিসেবে মনোনীত হন ড. হাছান মাহমুদ।
বর্তমানে ড. মাহমুদ দেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিম-লে একজন খ্যাতিমান পরিবেশবিদ হিসেবে সুপরিচিত। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সরকারের পরিবেশমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও দলের অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে সফলতার সঙ্গে কাজ করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি হয়ে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান ড. হাছান মাহমুদ। রাজনীতিবিদরা ক্লাস নিলেও মন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশে এর আগে কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিয়েছেন বলে জানা নেই।

মহাজোটের অভাবনীয় জয় ঃ বিশ্ব নেতাদের অভিনন্দন
                                  

মানবাধিকার খবর ডেস্ক:সব দলের অংশ গ্রহণে বছরের শেষে ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ রবিবার একপ্রকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে, অংশগ্রহণমূলক হলেও নির্বাচন কিন্তু তা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারল না। সব দলের অংশগ্রহণ সত্ত্বেও এটি একতরফা নির্বাচনের মেজাজই লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচনী প্রচারাভিযানে হামলা-মামলার ঘাটতি ছিল না। ফলে, একতরফা এই নির্বাচন প্রত্যাখান করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
কিন্তু প্রধান বিরোধী দলের নেতারাও ধারণা দিয়েছিলেন যে ভোটের দিনে পরিস্থিতির বিরাট পরিবর্তন ঘটবে। উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিশেষ করে এই নির্বাচনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল আড়াই কোটি তরুণ ভোটারের প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া। কিন্তু তাঁদেরও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়নি। নির্বাচনী প্রচারাভিযানে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বহু স্থানে বিরোধী দলের অস্তিত্ব চোখে পড়েনি। আর দেশজুড়ে ভোটের দিনের অভিন্ন চিত্র হচ্ছে, কেন্দ্রগুলোতে ধানের শীষের প্রার্থীর কোনো এজেন্টের দেখা মেলেনি। উপরন্তু নির্বাচনে যে সহিংসতা হয়েছে, তাকেও খাটো করে দেখা যাবে না। অন্তত ১৮ ব্যক্তি নিহত হওয়াসহ বিচ্ছিন্ন সহিংসতা ঘটেছে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন মানেই প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন। আর যত বেশি প্রতিযোগিতা, তত বেশি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই ধারণা অমূলক প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। নির্বাচনী মাঠ যে সমতল ছিল না, তা শুরু থেকেই দেখা গেছে। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন সেটা আরও প্রকটভাবে টের পাওয়া গেল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার যদিও বলেছেন, ‘ধানের শীষের এজেন্টরা কেন্দ্রে না আসলে তারা কী করবে? তাঁরা কেন্দ্রে কেন আসেননি বা কেন কোনো এজেন্ট নেই, সেটা প্রার্থীর নির্ধারিত এজেন্টরাই বলতে পারবেন।’ এই যুক্তি দুর্বল ও নিজের দায়িত্বকে অস্বীকার কারা ছাড়া আর কিছু নয়। গত ১০ বছর নির্বাচন কমিশন পরিচালিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে যে বিএনপিই দেশের বৃহত্তম বিরোধী দল। প্রচ- বৈরী পরিবেশেও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট তিন শ আসনে প্রাথমিকভাবে একাধিক প্রার্থী দিতে সক্ষম হয়েছিল। এ রকম একটি সংগঠনের নির্বাচনী এজেন্টই থাকবে না বা তারা দিতে পারবে না, তা কোনোভাবেই স্বাভাবিক হতে পারে না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৮৮ আসনে অভাবনীয় বিশাল জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। বিপুল ভোটে এই রেকর্ড জয়ে টানা তৃতীয়বারের (হ্যাটট্রিক) মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন জোটটি। এই জয়ের ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড এবং নির্বাচনী প্রচারণায় দলের নেতা-কর্মীদের সরব উপস্থিতি মহাজোটের বড় ব্যবধানে জয়ী হওয়ার নিয়ামক হিসাবে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।ানা ১০ বছর ক্ষমতায় থাকা এই জোট ইতিহাস সৃষ্টিকারী জয় পেলেও তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভরাডুবি হয়েছে। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর এবারই প্রথম বিএনপি সবচেয়ে কম আসন পেয়েছে। দলটির বেশ কয়েকজন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। অনেক স্থানে মহাজোট প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা।এই নির্বাচনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে গাইবান্ধা ৩ আসনে ভোট হয়নি। চুড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, মহাজোটের বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে নৌকা প্রতীক নিয়ে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের ২৫৭ জন, লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টি-জাপার ২২ এবং মহাজোটের শরীকরা পেয়েছেন ৯টি আসন। অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ধানের শীষ প্রতীকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭ টি (গণফোরামের ২টি) এবং ৩ টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। ভোটের দিন বিক্ষিপ্ত সংঘাত ও সহিংসতার কারণে মোট ২৯টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, ২৯৯ আসনে মোট ৪০ হাজার ৫১টি কেন্দ্রে এই ভোটগ্রহণ হয়। এই হিসেবে বাতিল হওয়া কেন্দ্রের সংখ্যা ০.০৫ শতাংশের মতো। অনিয়মের অভিযোগ এনে বিএনপি ৫৫টি আসনে ভোট বর্জন করেছে।ইসির ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সবকয়টি দল এবারের সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগসহ ৫টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ২৭২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। জোটের প্রধান শরীক দল আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৬০টি আসনে, রাশেদ খান মেননের বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ৫টি, হাসানুল হক ইনুর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ৩টি, সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারা বাংলাদেশ ৩টি এবং বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন ২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। বাকি ২৬টি আসন আওয়ামী লীগের শরীক দল জাপাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে বিএনপিসহ ৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ২৮২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে (জামায়াতের ২২টিসহ) ২৫৭টি আসনে, কর্নেল অলির লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি থেকে ৪ জন, কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে ৩ জন, আসম রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি থেকে ৪ জন, আন্দালিব রহমান পার্থের বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি- বিজেপি থেকে ১ জন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ থেকে ৩ জন, ড. কামাল হোসেন এর গণফোরাম থেকে ৭ জন, মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি থেকে ১ জন এবং খেলাফত মজলিশ থেকে ২ জন প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছেন। বাকি ১৭টি আসনে বিএনপি তথা ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থী আদালত কর্তৃক বাতিল হওয়ায় কোন প্রার্থী ছিল না। তবে শেষ মুহূর্তে এসে ৮ বিকল্প প্রার্থীকে সমর্থন দেয় বিএনপি। এবারের নির্বাচনে ১৮৬১ জন প্রার্থী অংশ নেন। ভোটার ছিল প্রায় ১০ কোটি। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে ২৩৪টি আসন পায় আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টি-জাপা ৩৪টি আসনে জয়লাভ করে। অন্যরা পায় ৩২টি আসন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে স্থাপিত ভোটের ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে প্রথম পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণা হয় গোপালগঞ্জ-৩ আসনের। এই আসনে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১০৮টি কেন্দ্রে মধ্যে সবকটি কেন্দ্রের ফলাফলে শেখ হাসিনা পেয়েছেন ২ লাখ ২৯ হাজার ৫২৯ ভোট। মোট ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫১৪টি। গোপালগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন এস এম জিলানী। তার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ১২৩টি। এই আসনে ৯৩ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন বলে ইসি হিসাব দিয়েছে। এদিকে ভান্ডারিয়া, কাউখালী ও ইন্দুরকানী উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর-২ আসন থেকে জয়ী হয়েছেন মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। বাইসাইকেল মার্কা নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৮৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঐক্যফ্রন্টের মোস্তাফিজুর রহম ান ইরান ধানের শীষ মার্কা নিয়ে পেয়েছেন ৬ হাজার ৩৮৪ ভোট।ঢাকার বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন, ঢাকা-১: সালমান এফ রহমান, ঢাকা-২: কামরুল ইসলাম, ঢাকা-৩: নসরুল হামিদ বিপু, ঢাকা-৪: সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা (লাঙ্গল), ঢাকা-৫: হাবিবুর রহমান মোল্লা, ঢাকা ৬: কাজী ফিরোজ রশীদ (লাঙ্গল), ঢাকা-৭: হাজী সেলিম, ঢাকা-৮: রাশেদ খান মেনন (ওয়ার্কার্স পার্টি), ঢাকা-৯:সাবের হোসেন চৌধুরী, ঢাকা-১০: শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা-১১: এ কে এম রহমতুল্লাহ, ঢাকা-১২: আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল , ঢাকা-১৩: সাদেক খান, ঢাকা-১৪: আসলামুল হক, ঢাকা-১৫: কামাল আহমেদ মজুমদার, ঢাকা-১৬: মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, ঢাকা-১৭: আকবর হোসেন পাঠান (ফারুক), ঢাকা-১৮: সাহারা খাতুন, ঢাকা-১৯: এনামুর রহমান এবং ঢাকা-২০: বেনজীর আহমেদ।
বিভাগওয়ারী ফলাফল
রংপুর বিভাগ
পঞ্চগড়-১: আওয়ামী লীগের মো. মজাহারুল হক প্রধান (নৌকা প্রতীকে) ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৮৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপির ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির সানি (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৯ ভোট।
পঞ্চগড়-২: আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন (নৌকা প্রতীক) ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৯৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপির ফরহাদ হোসেন আজাদ (ধানের শীষ) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২৯৫ ভোট।
দিনাজপুর-১: আওয়ামী লীগের মনোরঞ্জন শীল গোপাল ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭৯২ ভোট পেয়ে বিজয়ী। তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধানের শীষের মোহাম্মদ হানিফ (জামায়াত) পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৯২৭ ভোট।
দিনাজপুর-২: আওয়ামী লীগের খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী। তার নিকটতম বিএনপি’র সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৮২২ ভোট।
দিনাজপুর-৩: আওয়ামী লীগের ইকবালুর রহিম ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী। তার নিকটতম ইসলামিক আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) পেয়েছেন ৩৯ হাজার ২৪৭ ভোট।
দিনাজপুর-৪: আওয়ামী লীগের আবুল হাসান মাহমুদ আলী ২ লাখ ৩ হাজার ৮৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী। তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি’র আখতারুজ্জামান মিয়া পেয়েছেন ৬১ হাজার ৭০৬ ভোট।
দিনাজপুর-৫: আওয়ামী লীগের মোস্তাফিজুর রহমান ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী। তার নিকটতম বিএনপি’র এজেডএম রেজওয়ানুল হক পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৬৭ ভোট।
দিনাজপুর-৬: আওয়ামী লীগের শিবলী সাদিক ২ লাখ ৮১ হাজার ৮৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী। তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধানের শীষের আনোয়ারুল হক (জামায়াত) পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৭৬৯ ভোট।
ঠাকুরগাঁও-২ : জয়ী আওয়ামী লীগের দবিরুল ইসলাম পেয়েছেন ২ লাখ ২৪ হাজার ৩শ ১৬ ভোট। তার নিকটতম ধানের শীষের আব্দুল হাকিম পেয়েছেন ৪ হাজার ৩শ’ ২৮ ভোট।
নীলফামারী-১ : নৌকার আফতাব উদ্দিন সরকার ২ লাখ ৩ হাজার ৭ ২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম ধানের শীষের প্রফেসর রফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৯ ভোট।
নীলফামারী-২ : জয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী আসাদুজ্জামান নূর পেয়েছেন ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৯৫ ভোট। নিকটতম ধানের শীষ প্রতীকের জামায়াত নেতা মনিরুজ্জামান মন্টু পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৪২ ভোট।
নীলফামারী-৩ : মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির মেজর (অবঃ) রানা মুহাম্মদ সোহেল ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৩৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত। নিকটতম ধানের শীষ প্রতীকের জামায়াতের আজিজুল ইসলাম পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৯৩ ভোট।
নীলফামারী-৪ : জয়ী মহাজোট প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীকের আদেদুল রহমান আদেল পেয়েছেন ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৩০ ভোট। তার নিকটতম ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহীদুল ইসলাম পেয়েছেন ২৭ হাজার ২৯৪ ভোট।
লালমনিরহাট-১ : জয়ী আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোতাহার হোসেন পেয়েছেন ২ লাখ ৬৪ হাজার ১১২ ভোট। তার নিকটতম ঐক্যফ্রন্টের ব্যারিস্টার হাসান রাজিব পেয়েছেন ১১ হাজার ৩ ভোট।
লালমনিরহাট -২ : মহাজোট প্রার্থী নুরুজ্জামান আহম্মেদ ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম ঐক্যফ্রন্টের রোকন উদ্দিন বাবুল পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৫৩৩ ভোট।
লালমনিরহাট-৩ : জয়ী মহাজোট প্রার্থী জিএম কাদের পেয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৬৩২ ভোট। তার নিকটতম ঐক্যফ্রন্টের অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু পেয়েছেন ৭৯ হাজার ১১৯ ভোট।
রংপুর-১ : মহাজোট প্রাথী জাপার মহাসচিব প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান (রাঙ্গা) ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি রহমত জামান বাবলা ধানের শীষ প্রতীকে ১৯ হাজার ৪৯৪ ভোট পেয়েছেন।
রংপুর-২ : নৌকার প্রার্থী মোঃ আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৬৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী, তার নিকট তম প্রার্থী ধানের শীর্ষ প্রতীকের মোহাম্মদ আলী সরকার ৫৩ হাজার ৩৪০ ভোট পেয়েছেন।
রংপুর-৩ : ইভিএমএ ভোট গ্রহন করা হয়। এখানে জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ ১ লাখ ৪২ হাজার ৯২৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা রিটা রহমান ৫৩ হাজার ৮৯ ভোট পেয়েছেন।
রংপুর-৪ :আওয়ামী লীগের টিপু মুন্সী ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৭৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী। তার নিকটতম বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ১৭০ ভোট।
রংপুর-৫ আসনে নৌকা প্রার্থী এন এইচ আশিকুর রহমান ২ লাক ৫৫ হাজার ১৪৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী, তার নিকট তম ঐক্যেফ্রন্টের প্রার্থী মোফাখখারুল ইসলাম পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৪৬৯ ভোট।
রংপুর-৬ আসনে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী মহাজোট প্রার্থী নৌকা প্রতিকে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী, তার নিকট তম ঐক্যোফ্রন্টের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ২৪ হাজার ৫৩ ভোট।
কুড়িগ্রাম-১: আওয়ামীলীগের আসলাম হোসেন সওদাগড় ১ লাখ ২২ হাজার ১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী। তার প্রতিদ্বন্ধী বিএনপির সাইফুর রহমান রানা পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৩৫ ভোট।
কুড়িগ্রাম-২: পনির উদ্দিন আহম্মেদ লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৪০ ভোট পেয়ে বিজয়ী। তার প্রতিদ্বন্ধী ঐক্যফ্রন্টের গণফোরাম প্রার্থী আমসা আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ১৪৬ ভোট।
কুড়িগ্রাম-৩: আওয়ামীলীগ প্রার্থী অধ্যাপক এম এ মতিন ১ লাখ ৩২ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী। তার প্রতিদ্বন্ধী বিএনপির তাসভিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭০ হাজার ৪২৪ ভোট।
কুড়িগ্রাম-৪: আওয়ামীলীগ প্রার্থী মো: জাকির হোসেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৩৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী। তার প্রতিদ্বন্ধী বিএনপির আজিজুর রহমান ৫৫ হাজার ১৮৯ ভোট পেয়েছেন।
গাইবান্ধা-১: জাপার ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ১ লক্ষ ৯৭ হাজার ৫৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী। ধানের শীষের প্রতীকে জামায়াতের মোঃ মাজেদুর রহমান পেয়েছেন ৬৫ হাজার ১৭৩ ভোট।
গাইবান্ধা-২: আওয়ামী লীগের মাহাবুব আরা বেগম গিনি ১ লক্ষ ৮৯ হাজার ৬১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত। বিএনপির মো. আব্দুর রশীদ সরকার পেয়েছেন ৬৮হাজার ৬৭০ ভোট।
গাইবান্ধা-৩:২০ ডিসেম্বর গাইবান্ধা-৩ আসনের ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষের প্রার্থী ড. টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরী মারা যান। ফলে এ আসনের নির্বাচন স্থগিত করেন ইসি।
গাইবান্ধা-৪: আওয়ামী লীগের মো. মনোয়ার হোসেন চৌধুরী ৩ লক্ষ ৮৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত। জাতীয় পার্টির (জাপা) কাজী মো. মশিউর রহমান পেয়েছেন ৫ হাজার ৭১৭ ভোট।
গাইবান্ধা-৫: আওয়ামী লীগের মো. ফজলে রাব্বি মিয়া ২ লক্ষ ৪২ হাজার ৮৬১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত। ঐক্যফন্ট সমর্থিত বিএনপির মো. ফারুক আলম সরকার পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৯৬ ভোট।
রাজশাহী বিভাগ
জয়পুরহাট-১:আওয়ামী লীগের শামসুল আলম দুদু (নৌকা প্রতীকে) ২ লাখ ১৮ হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্বতন্ত্র আলেয়া বেগম (ডাব প্রতীক) পেয়েছেন ৮৪ হাজার ২১২ ভোট।
জয়পুরহাট-১:আওয়ামী লীগের আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন (নৌকা প্রতীকে) ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৩০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা আবু ইউসুফ মো. খলিলুর রহমান (ধানের শীষ) পেয়েছেন ২৬ হাজার ১২০ ভোট।
বগুড়া-১ : আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নান ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী। তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধানের শীষের কাজী রফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ১৬ হাজার ৬৯০ ভোট।
বগুড়া-২ : মহাজোট প্রার্থী জাপার সভাপতি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ লাঙল প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত। তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ধানের শীষের প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্না পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৬০২ ভোট।
বগুড়া-৩ : জাপার নুরুল ইসলাম তালুকদার ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৯২ ভোট পেয়ে বিজয়ী। তার নিকটতম বিএনপির মাছুদা মোমিন পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৫৮০ ভোট।
বগুড়া-৪ : বিএনপির মোশারফ হোসেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী। তার নিকটতম জাসদের রেজাউল করিম তানসেন (নৌকা প্রতীক) পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৪৮ ভোট।
বগুড়া-৫ : আওয়ামী লীগের হাবিবর রহমান ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৪৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী। তার নিকটতম বিএনপির জিএম সিরাজ পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৫৯৪ ভোট।
বগুড়া-৬ : বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ৫ হাজার ৯৮৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত। নিকটতম জাপার নুরুল ইসলাম ওমর লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৬১ ভোট।
বগুড়া-৭: ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম বাবলু ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯৯৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাব মার্কার ফেরদৌস আরা পেয়েছেন ৬৫ হাজার ২৯২ ভোট।
রাজশাহী-১ : আওয়ামী লীগের ওমর ফারুক চৌধুরী (নৌকা প্রতীকে) ২ লাখ ৩ হাজার ১০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির ব্যারিস্টার আমিনুল হক (ধনের শীষ প্রতীকে) পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৮২০ ভোট।
রাজশাহী-২:ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা (নৌকা প্রতীকে) ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৫৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু (ধানের শীষ প্রতীকে) পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৩২৭ ভোট।
রাজশাহী-৩:আওয়ামী লীগের আয়েন উদ্দিন (নৌকা প্রতীকে) ২ লাখ ২০ হাজার ৩২৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির শফিকুল হক মিলন (ধানের শীষ প্রতীকে) পেয়েছেন ৮১ হাজার ২২৫ ভোট।
রাজশাহী-৪: আওয়ামী লীগের এনামুল হক (নৌকা প্রতীকে) ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৬২টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির আবু হেনা (ধানের শীষ প্রতীকে) পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৬০টি ভোট।
রাজশাহী-৫:আওয়ামী লীগের ডা. মনসুর রহমান (নৌকা প্রতীকে) ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৩৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল (ধানের শীষ প্রতীকে) পেয়েছেন ২৭ হাজার ৯২৭ ভোট।
রাজশাহী-৬:আওয়ামী লীগের শাহরিয়ার আলম (নৌকা প্রতীকে) ২ লাখ ৬০ হাজার ৫৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা ইসলামী আন্দোলনের আব্দুস সালাম সুরুজ (হাতপাখা) পেয়েছেন ২৫ হাজার ৪৩২টি ভোট।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১:আওয়ামী লীগের শামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল (নৌকা প্রতীকে) ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপির অধ্যাপক শাহজাহান আলী মিয়া (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৫০ ভোট।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২:বিএনপির আমিনুল ইসলাম (ধীনের শীষ) ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা আওয়ামী লীগের জিয়াউর রহমান (নৌকা প্রতীকে) পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫২ ভোট।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩:বিএনপির হারুন অর রশিদ (ধানের শীষ) প্রতীকে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৬১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা আওয়ামী লীগের আব্দুল ওয়াদুদ (নৌকা প্রতীকে) পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৯২৮ ভোট।
নওগা-১ : বিজয়ী আওয়ামী লীগের সাধনচন্দ্র মজুমদার পেয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯২ ভোট। নিকটতম বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমান পান ১ লাখ ৪১ হাজার ৩৬৪ ভোট।
নওগা-২ : আওয়ামী লীগের শহীদুজ্জামান সরকার ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী। নিকটতম শামসুজ্জোহা খান পান ৯৯ হাজার ৯৫৪ ভোট।
নওগা-৩ : আওয়ামী লীগের সলিমউদ্দিন তরফদার ১ লাখ ৯৯ হাজার ৭৯৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী। নিকটতম বিএনপির পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী পান ১ লাখ ১৪২ ভোট।
জলিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ১৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী। নিকটতম বিএনপির জাহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৭৫৯ ভোট।
নওগা-৬ : বিজয়ী আওয়ামী লীগের ইসরাফিল আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৪২৯ ভোট। নিকটতম বিএনপির আলমগীর কবির পান ৪৬ হাজার ৫৫৪ ভোট।
নাটোর-১: নৌকার শফিকুল ইসলাম বকুল ২লাখ ৪৪ হাজার ৮১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী। ধানের শীষের কামরুন্নাহার শিরীন পান ১লাখ ৪৮হাজার ৬৯ ভোট।
নাটোর-২: নৌকা প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শিমুল ২লাখ ৬০ হাজার ৫০৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী। ধানের শীষের সাবিনা ইয়াসমিন পেয়েছেন ১৩ হাজার ৬৫৯ ভোট।
নাটোর-৩: নৌকার জুনায়েদ আহমেদ পলক ২ লাখ ৩০হাজার ২৯৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী। ধানের শীষের দাউদার মাহমুদ পেয়েছেন ৮ হাজার ৫৯৩ ভোট।
নাটোর-৪: নৌকার অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস ২লাখ ৮৬ হাজার ২২০ ভোট পেয়ে বিজয়ী। লাঙ্গল প্রতীকের আলাউদ্দীন মৃধা পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৯ ভোট।
পাবনা-১ : জয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু পেয়েছেন ২ লাখ ৮৫ হাজার ৮২৭ ভোট। তার নিকটতম গণফোরামের অধ্যাপক আবু সাইয়িদ পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩৬৪ ভোট।
পাবনা-২ : আওয়ামী লীগের আহমেদ ফিরোজ কবির ২ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে জয়ী। তার নিকটতম বিএনপির একেএম সেলিম রেজা হাবিব পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৮৩ ভোট।
পাবনা-৩ : জয়ী আওয়ামীলীগের প্রার্থী মকবুল হোসেন পেয়েছেন ৩ লাখ ১ হাজার ১৫৬ ভোট। তার নিকটতম বিএনপির কেএম আনোয়ারুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৮২০ ভোট।
পাবনা-৪ : আওয়ামী লীগের শামসুর রহমান শরীফ ডিলু পেয়েছেন ২ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৮ ভোট। তার নিকটতম বিএনপির হাবিবুর রহমান হাবিব পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৫৬৮ ভোট।
পাবনা-৫ : জয়ী আওয়ামী লীগের গোলাম ফারুক খোন্দকার প্রিন্স পেয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ১৪৩ ভোট। তার নিকটতম ধানের শীষ প্রতীকের মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন পেয়েছেন ১৫ হাজার ২৮৩ ভোট।
সিরাজগঞ্জ-১: আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ নাসিম (নৌকা প্রতীকে) ৩ লাখ ২৪ হাজার ৪২৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপির রুমানা মোরশেদ কনকচাঁপা (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ হাজার ৯৩ ভোট।
সিরাজগঞ্জ-২: আওয়ামী লীগের ডা. হাবিবে মিল্লাত (নৌকা প্রতীকে) ২ লাখ ৯৪ হাজার ৮০৫ ভোট পেয়েছে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি রুমানা মাহমুদ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১৩ হাজার ৭২৮ ভোট।
সিরাজগঞ্জ-৩: আওয়ামী লীগের ডা. আব্দুল আজিজ (নৌকা প্রতীকে) ২ লাখ ৯৫ হাজার ৫১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপির আব্দুল মান্নান তালুকদার (ধানের শীষ) পেয়েছেন ২৭ হাজার ২৪৮ ভোট।
সিরাজগঞ্জ-৪: আওয়ামী লীগের তানভীর ইমাম (নৌকা প্রতীকে) ৩ লাখ ৩ হাজার ৬৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা জামায়াতের রফিকুল ইসলাম খান (ধানের শীষ) পেয়েছেন ২৪ হাজার ৮৯৩ ভোট।
সিরাজগঞ্জ-৫: আওয়ামী লীগের আব্দুল মমিন মণ্ডল (নৌকা প্রতীকে) ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৬১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপির আব্দুল আলিম (ধানের শীষ) পেয়েছেন ২৮ হাজার ৩১৭ ভোট।
সিরাজগঞ্জ-৬: আওয়ামী লীগের হাসিবুর রহমান স্বপন (নৌকা প্রতীকে) ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৬৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপির এমএ মুহিত পেয়েছেন ১৪ হাজার ৬৯৭ ভোট।
ময়মনসিংহ বিভাগ
ময়মনসিংহ-২ :আওয়ামী লীগের শরীফ আহেমদ পেয়েছেন দুই লাখ ৯১ হাজার ৪৭২ ভোট। বিএনপির শাহ্ শহীদ সারোয়ার পেয়েছেন ৬২ হাজার ২৩৩ ভোট।
ময়মনসিংহ-৩ : আওয়ামী লীগের নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে বিজয়ী। তার নিকটতম ঐক্যফ্রন্টের (ধানের শীষ) ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন পেয়েছেন ২৪ হাজার ৬৩১ ভোট।
ময়মনসিংহ-৬ : নৌকার মোসলেম উদ্দিন পেয়েছেন ২ লাখ ৪০ হাজার ৫৮৫ এবং নিকটতম ধানের শীষের প্রকৌশলী শামছ উদ্দিন আহমদ পেয়েছেন ৩২ হাজার ৩৩২ ভোট।
ময়মনসিংহ-৮ : লাঙ্গল প্রতীকের ফখরুল ইমাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৬৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী। তার নিকটতম গণফোরামের অ্যাডভোকেট এএইচএম খালেকুজ্জামান পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৬৩ ভোট।
জামালপুর-১: মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ নৌকা প্রতীক নিয়ে ২ লাখ ৭১ হাজার ৭৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত। নিকটতম ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল মজিদ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭০৮ ভোট।
জামালপুর-২: ফরিদুল হক খান দুলাল নৌকা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার ৪১৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত। নিকটতম বিএনপি’র সুলতান মাহমুদ বাবু পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭২১ ভোট।
জামালপুর-৩: মির্জা আজম নৌকা প্রতীক নিয়ে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত। নিকটতম বিএনপি’র মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৮২ ভোট।
জামালপুর-৪: ডাঃ মুরাদ হাসান নৌকা প্রতীক নিয়ে ২ লাখ ১৭ হাজার ১৯৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত। নিকটতম জাপার মোখলেছুর রহমান বস্ত্তু পেয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ ভোট।
জামালপুর-৫: ইঞ্জিনিয়ার মোজাফ্ফর হোসেন নৌকা প্রতীক নিয়ে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত। নিকটতম বিএনপি’র শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুন পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৭ ভোট।
নেত্রকোনা-১ : আওয়ামী লীগের মানু মজুমদার ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৩৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী। তার নিকটতম বিএনপির ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পেয়েছেন ১৬ হাজার ৩৩২ ভোট।
নেত্রকোনা-২ : আওয়ামী লীগের আশরাফ আলী খান খসরু ২ লাখ ৮৩ হাজার ৪৯৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী এবং নিকটতম বিএনপির অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক পেয়েছেন ৩০ হাজার ৫৭৩ ভোট।
নেত্রকোনা- ৩ : আওয়ামী লীগের অসীম কুমার উকিল ২ লাখ ৭০ হাজার ৭৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী। তার নিকটতম বিএনপির ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী পেয়েছেন ৭ হাজার ২২৮ ভোট।
নেত্রকোনা- ৪: রেবেকা মমিন নৌকা প্রতীকে ২ লাখ ৫ হাজার ৯৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী। নিকটতম তাহমিনা জামান শ্রাবনী পেয়েছেন ৩৮হাজার ১০৫ ভোট।
নেত্রকোনা -৫ : আওয়ামী লীগের ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী। তার নিকটতম বিএনপির আবু তাহের তালুকদার পেয়েছেন ১৫ হাজার ৫৮২ ভোট।
শেরপুর-১: আতিউর রহমান আতিক (নৌকা) ২ লাখ ৮৭ হাজার ৪৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী। নিকটতম সানসিলা জেবরিন (ধানের শীষ) ২৭ হাজার ৬৪৩ ভোট।
শেরপুর-২ :বেগম মতিয়া চৌধুরী (নৌকা) ৩ লাখ ৪৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী । নিকটতম ফাহিম চৌধুরী (ধানের শীষ) ৭ হাজার ৬৫২ ভোট।
শেরপুর ৩ : নৌকার একেএম ফজলুল হক ২ লাখ ৫১ হাজার ৯শ’ ৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী। বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ১২ হাজার ৪শ ৮৩ ভোট পেয়েছেন।
ঢাকা বিভাগ
টাঙ্গাইল-১: আওয়ামী লীগের ড. আবদুর রাজ্জাক ২ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত। নিকটতম ধানের শীষের সরকার সহিদ পেয়েছেন ১৬ হাজার ৪০৬ ভোট।
টাঙ্গাইল-২: আওয়ামী লীগের তানভীর হাসান ছোট মনির দুই লাখ ৯৩ হাজার ৩৩২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত। নিকটতম ধানের শীষের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু পেয়েছেন ১১ হাজার ৪০৬ ভোট।
টাঙ্গাইল-৩: নৌকার আতোয়ার রহমান খান দুই লাখ ৩৮ হাজার ৯৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম ধানের শীষের লুত্ফর রহমান খান আজাদ পেয়েছেন আট হাজার ৫৭০ ভোট।
টাঙ্গাইল-৪: আওয়ামী লীগের হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী ২ লাখ ২৪ হাজার ১৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত। নিকটতম ধানের শীষের ইঞ্জি. লিয়াকত আলী পান ৩৪ হাজার ৫৪৪ ভোট।
টাঙ্গাইল-৫: আওয়ামী লীগের সানোয়ার হোসেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম বিএনপির মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান পান ৭৮ হাজার ৯৯২ ভোট।
টাঙ্গাইল-৬: আওয়ামী লীগের আহসানুল ইসলাম টিটু ২ লাখ ৮৫ হাজার ৩০৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত । নিকটতম ধানের শীষ প্রতীকের গৌতম চক্রবর্তী পেয়েছেন ৪০ হাজার ৩২৪ ভোট।
টাঙ্গাইল-৭: আওয়ামী লীগের একাব্বর হোসেন এক লাখ ৬৪ হাজার ৫৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম ধানের শীষ প্রতীকের আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৯৪৯ ভোট।
টাঙ্গাইল-৮: আওয়ামী লীগ প্রার্থী জোয়াহেরুল ইসলাম দুই লাখ আট হাজার ৩৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত। তার নিকটতম জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কুড়ি সিদ্দিকী পেয়েছেন ৭২ হাজার ২১১ ভোট।
কিশোরগঞ্জ-২ : আওয়ামী লীগের নূর মোহাম্মদ পেয়েছেন ২ লাখ ৯৫ হাজার ৮৬০ ভোট। বিএনপির মেজর (অব:) আখতারুজ্জামান রঞ্জন পেয়েছেন ৫১ হাজার ৩২৩ ভোট।
কিশোরগঞ্জ-৫ : আওয়ামী লীগের আলহাজ্ব মো: আফজল হোসেন ২ লাখ ১২ হাজার ৮৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী। নিকটতম বিএনপির শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৫০ ভোট।
মুন্সীগঞ্জ-১ : মহাজোটের প্রার্থী বিকল্প ধারা বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী নৌকা প্রতীকে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৬৮১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম বিএনপির প্রার্থী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৮৮৮ ভোট।
মুন্সীগঞ্জ-২ : সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি নৌকা প্রতীকে ২ লাখ ১৫ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত। তাঁর নিকটতম বিএনপি প্রার্থী মিজানুর রহমান সিনহা পেয়েছেন ১৪ হাজার ৬৫ ভোট।
মুন্সীগঞ্জ-৩ : আওয়ামী লীগ প্রার্থী মৃণাল কান্তি দাস ৩ লাখ ১৩ হাজার ৩৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত। তাঁর নিকটতম বিএনপির সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাই পান ১২ হাজার ৭৩৬ ভোট।
গাজীপুর-১: আওয়ামী লীগের আকম মোজাম্মেল হক ৪ লাখ ১ হাজার ৫১৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী। বিএনপির চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী পেয়েছেন ৯৪ হাজার ৭২৩ ভোট।
গাজীপুর-২: আওয়ামী লীগের জাহিদ আহসান রাসেল ৪ লাখ ১২ হাজার ১৪০ ভোট পেয়ে বিজয়ী। বিএনপির সালাহউদ্দিন সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৪০ ভোট।
গাজীপুর-৩:আওয়ামী লীগের ইকবাল হোসেন সবুজ ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩২০ ভোট পেয়ে বিজয়ী। ঐক্যফ্রন্টের ইকবাল সিদ্দিকী পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৭৮৬ ভোট।
গাজীপুর-৪: আওয়ামী লীগের সিমিন হোসেন রিমি ২ লাখ ৩ হাজার ৩২৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী। বিএনপির শাহ রিয়াজুল হান্নান পেয়েছেন ১৮ হাজার ৫২৮ ভোট।
গাজীপুর-৫: আওয়ামী লীগের মেহের আফরোজ চুমকি ২ লাখ ৭ হাজার ৬৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী। বিএনপির একে ফজলুল হক খান মিলন পেয়েছেন ২৭ হাজার ৯৭৬ ভোট।
নরসিংদী-১: আওয়ামী লীগের নজরুল ইসলাম হিরু (নৌকা প্রতীকে) বিজয়ী হয়েছেন। নরসিংদী-২:আওয়ামী লীগের আনোয়ারুল আশরাফ খান (নৌকা প্রতীকে) বিজয়ী হয়েছেন। নরসিংদী-৩:আওয়ামী লীগের জহিরুল হক ভূইয়া মোহন (নৌকা প্রতীকে) বিজয়ী হয়েছেন। নরসিংদী-৪: আওয়ামী লীগের নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন (নৌকা প্রতীকে) বিজয়ী হয়েছেন। নরসিংদী-৫: আওয়ামী লীগের রাজি উদ্দিন রাজু (নৌকা প্রতীকে) বিজয়ী হয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-১: আওয়ামী লীগের গোলাম দস্তগীর গাজী ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮শত ৫৮ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপির কাজী মনিরুজ্জামান মনির পেয়েছেন ২১ হাজার ৪শত ৮৩ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ-২: আওয়ামী লীগের নজরুল ইসলাম বাবু ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী। তার নিকটতম বিএনপির নজরুল ইসলাম আজাদ পেয়েছেন ৫ হাজার ১৫২ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ-৩: মহাজোট প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকা লাঙ্গল প্রতীকে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৮৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপির আজহারুল ইসলাম মান্নান পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৭ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ-৪: আওয়ামী লীগের শামীম ওসমান ৩ লাখ ৯৩ হাজার ১৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী। নিকটতম ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী (জমিয়তে ইসলাম) মুফতি মনির হোসেন কাসেমী পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৫৫২ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ-৫: মহাজোট প্রার্থী একেএম সেলিম ওসমান লাঙ্গল প্রতীকে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫শত ৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী এসএম আকরাম ধানের শীষ প্রতীকে ৫১ হাজার ১৩১ ভোট পেয়েছেন।
গোপালগঞ্জ-১ :আওয়ামী লীগের প্রার্থী লেঃ কর্নেল (অবঃ) মুহাম্মদ ফারুক খান ৩ লাখ ৩ হাজার ৯৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মিজানুর রহমান হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭০২ ভোট।
গোপালগঞ্জ-২ :আওয়ামী লীগের শেখ ফজলুল করিম সেলিম ২ লাখ ৮১ হাজার ৯০৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তসলিম সিকদার পেয়েছেন ৬০৮ ভোট।
গোপালগঞ্জ-৩ : আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ২৯ হাজার ৫৩৯ ভোট। তার নিকটতম বি

মহান বিজয় দিবস
                                  
আজ মহান বিজয় দিবস। ৪৭ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে দখলদার পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে আমাদের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়েছিল। তার আগে দীর্ঘ ৯ মাসের জনযুদ্ধে ৩০ লাখ প্রাণ ঝরেছে। আজ আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সেই মহান শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করছি। সারা দেশে নানা আয়োজন ও অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে বিজয় দিবস।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করে। সিলেট জেলা স্টেডিয়াম, সিলেট, সকাল সাড়ে ১০টা, ১৬ ডিসেম্বর। ছবি: আনিস মাহমুদদেখে মনে হয় ভাস্কর্য। কিন্তু আসলে দাঁড়িয়ে আছে তিন শিশু। হাতে উড়ছে বিজয়ের পতাকা। সিলেট জেলা স্টেডিয়াম, সিলেট, ১৬ ডিসেম্বর। ছবি: আনিস মাহমুদবিজয় দিবসে সিলেটের সাইক্লিস্টরা। চৌহাট্টা, সিলেট, সকাল ৯টা, ১৬ ডিসেম্বর। ছবি: আনিস মাহমুদবিজয় দিবসে বাংলাদেশের পতাকা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, শহীদ খোকন শিশু উদ্যান, বগুড়া, ১৬ ডিসেম্বর। ছবি: সোয়েল রানাপতাকা হাতে শহীদ মিনারে এসেছে শিশুটি। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, সিলেট, ১৬ ডিসেম্বর। ছবি: আনিস মাহমুদপতাকা হাতে শিশুদের ডিসপ্লে। খুলনা জেলা স্টেডিয়াম, খুলনা, ১৬ ডিসেম্বর। ছবি: সাদ্দাম হোসেনস্কুলের শিক্ষার্থীদের পতাকা প্রদর্শন। চিংহ্লা মং মারী স্টেডিয়াম, রাঙামাটি, ১৬ ডিসেম্বর। ছবি: সুপ্রিয় চাকমাপতাকা হাতে শহীদ মিনারে এসেছে শিশুটি। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, চট্টগ্রাম, ১৬ ডিসেম্বর। ছবি: জুয়েল শীল

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য সকল দলকে সুমতির পরিচয় দিতে হবে
                                  


জনগনের কল্যানের জন্যই রাজনীতি ও সংবিধান, রাজনীতি ও সংবিধানের জন্য জনগণ নয়। সরকার ও প্রধান বিরোধীদলীয় জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে দুই দফা সংলাপ হলেও সত্যিকার অর্থে অর্জন খুবই সীমিত। তবে ইতিবাচক দিক হলো দুই পক্ষই সংলাপকে ব্যর্থ বলতে নারাজ। সংলাপ দৃশ্যত শেষ হলেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সদিচ্ছাও দেখিয়েছে দুই পক্ষ। দুই পক্ষের সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে সৌহার্দ্যরে মধ্য দিয়ে। সংলাপে পক্ষদ্বয় স্ব স্ব অবস্থানে অনড় থাকলেও সৌজন্যবোধের অভাব ছিল না। সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন সরকার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রাখেন ড. কামাল হোসেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা সরাসরি নাকচ করে দেন। বলেন, সংবিধানের বাইরে তিনি যেতে পারবেন না। সরকার পদত্যাগ করবে না বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের দাবি উত্থাপন করে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বলেন, সরকারপক্ষ আদালতে বিরোধিতা না করলেই জামিন সম্ভব। এটি আদালতের বিষয় বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করলেও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংলাপ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া যদি আপিল করেন, আদালত যদি তাকে জামিনে মুক্তি দেয়, আমাদের আপত্তি নেই। এদিকে নাইকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজিরা শেষে আবারো কারাগারে পাঠানোকে কেন্দ্র করে ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ উদ্বিগ্ন। ঐক্যফ্রন্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার আদলে একজন প্রধান উপদেষ্টাসহ ১০ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়। এ প্রস্তাব সংবিধানসম্মত নয় বলে আপত্তি জানান প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, সংবিধানের বাইরে সরকার গঠন হলে তৃতীয় কোনো শক্তি ঢুকে পড়তে পারে। এ বিষয়ে তিনি এক-এগারো সরকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। সরকারি দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। জনগণ ভোট দিলে তার সরকার ক্ষমতায় থাকবে। বিরোধী পক্ষকে ভোট দিলে তারাই জিতবেন। সংলাপে দৃশ্যত বড় ধরনের অগ্রগতি না হলেও বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের প্রশ্নে সরকারি দলের নমনীয়তা একটি ইতিবাচক দিক। নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের ফল জানাতে প্রধানমন্ত্রী যে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিলেন তা স্থগিত করাও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহেরই ইঙ্গিত। একইভাবে ঐক্যফ্রন্টের রোডমার্চ স্থগিত করার ঘটনাও নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়লে রাজনীতি তার পথ হারাতে বাধ্য। যে কারনে আগামী নির্বাচনে দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের কর্মসূচিতে অর্থনীতি-বান্ধব অবস্থান নেবে এমনটিই দেখতে চায় দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়। এছাড়া শেয়ারবাজার, বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট ঘোষনাও থাকা উচিত। দেশের কল্যানেই রাজনীতি। সে উদ্দেশ্য পূরণে অর্থনীতি-বান্ধব রাজনীতি বিকাশে এগিয়ে আসতে হবে। গণতন্ত্র চর্চার শ্রীবৃদ্ধি ঘটিয়ে হরতাল ও নৈরাজ্যের রাজনীতির চির-অবসান ঘটাতে হবে। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ফলে সারাদেশে নির্বাচনী উৎসবে মুখর পরিভেশ পরিলক্ষিত হচ্চে। আমরা আশা করব, সংঘাত এড়াতে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে দুই পক্ষই সুমতির পরিচয় দেবে; যা সময়েরই দাবি।
দেশের মানুষের কল্যাণে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে
সর্বজন স্বীকৃত নিরপেক্ষ নির্বাচন জরুরী
৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট
নির্বাচনী উৎসবে মুখর সারাদেশ
 
 
 
মানবাধিকার খবর প্রতিবেদনঃ-
গণতান্ত্রিক নিয়মে প্রতি ৫ বছর অন্তর এদশের সাধারন জনগন ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান। সেই প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখতে নির্বাচন কমিশন গত ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষনা করে। এই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে. এম. নুরুল হুদা। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি ২৩ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন। পরে গত ১২ নভেম্বর পুনঃ তসসিল ঘোষনা করে নির্বাচন পিছিয়ে ৩০ ডিম্বেবর করা হয়। নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, নিয়মিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়ক শক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে তারা। এ ছাড়া সীমিত পরিসরে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ এবং প্রচার কাজে সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলেছেন তিনি।
ঘোষিত তফসিলে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন রাখা হয়েছে ২৮ নভেম্বর। সারাদেশে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন আগ্রহী প্রার্থীরা। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে ২২ নভেম্বর  এবং প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ নভেম্বর। প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ৩০ নভেম্বর।
তফসিল ঘোষণার সময় সিইসি এবারের নির্বাচনে শহর এলাকার অল্প কয়েকটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি জনগণের হয়ে সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের মধ্যের মতবিরোধ রাজনৈতিকভাবে নিরসনের আহ্বান জানান। রাজনৈতিক দলগুলোর একে অপরের প্রতি সহনশীল ও রাজনীতি সুলভ আচরণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দিতা মূলক নির্বাচনে সমর্থকদের সরব উপস্থিতির ফলে ভোটের অনিয়ম প্রতিহত হয়। প্রতিযোগিতা যেন প্রতিহিংসায় পরিণত না হয় সেদিকে দলগুলোকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার কথাও বলেন তিনি।
প্রার্থী ও সমর্থকদের নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনী কর্মকর্তারা নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনে অটল থাকবেন। পোলিং এজেন্টরা কেন্দ্রের ফলের তালিকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করবেন। ইসি সচিবালয় সামগ্রিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানের আওতায় রাখবে। এভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে।
সিইসি বলেন, সবার জন্য অভিন্ন আচরণ ও সমান সুযোগ সৃষ্টির অনুকূলে নির্বাচনে `লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড` নিশ্চিত করা হবে। এসব নিয়ে দ্রুতই ইসি সচিবালয় থেকে পরিপত্র জারি করা হবে। নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপের কথা উল্লেখ করে সিইসি বলেন, প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি অনলাইনেও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। পুরনো পদ্ধতির পাশাপাশি ইভিএম ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে নির্বাচনের গুণগত মান আরও উন্নত হবে এবং সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে। তাই শহরের কেন্দ্রগুলোর অল্প কয়েকটিতে (দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে বেছে নেওয়া) ইভিএমে ভোট নেওয়া হবে।
এর আগে সিইসির সভাপতিত্বে নির্বাচন কমিশনের সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে পূর্ণাঙ্গ তফসিল অনুমোদন দেয় কমিশন। এরপর সিইসির কক্ষে তার ভাষণ রেকর্ড করা হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার একযোগে সিইসির ধারণকৃত এই ভাষণ প্রচার করে। ইসির সর্বশেষ প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার রয়েছে ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৯ জন ও নারী ভোটার ৫ কোটি ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৫১ জন। ভোটকেন্দ্র ৪১ হাজার ১৯৯টি। ভোটকক্ষ দুই লাখ ৬ হাজার ৫৪০টি। তফসিল ঘোষণার পরপরই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্বাগত জানিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে। সব দল এই নির্বাচনে অংশ নেবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে কোনো সমাধানে পৌঁছার আগেই তফসিল ঘোষণাকে একতরফা নির্বাচন আয়োজনে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করেছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। তবে বর্তমান সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও তফসিল ঘোষণায় ইসিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তফসিল চূড়ান্ত করার আগেই পেছানোর অনুরোধ জানিয়ে ঐক্যফ্রন্ট চিঠি দিলেও তা আমলে নেয়নি ইসি। বিশিষ্টজনের মতে, তফসিল ঘোষণা হলেও সরকার-বিরোধী পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা এখনও সম্ভব। তারা বলেছেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে তফসিল পুননির্ধারণ করা যেতে পারে।
ইসি সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে হলে যে কোনো রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন থাকা বাধ্যতামূলক। সেই হিসেবে এবারের নির্বাচনে ৩৯টি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় জামায়াতে ইসলামী ও ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন এ নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।
এর আগের নির্বাচনগুলোর মতোই এবারও রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকছেন ডিসিরা (জেলা প্রশাসক)। তবে মেট্রোপলিটন শহর এলাকার মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ দায়িত্ব পালন করবেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকবেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা।
২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন শেষ করার আইনি বাধ্যবাধকতার কথা তুলে ধরে সিইসি কে. এম. নুরুল হুদা বলেন, দেশব্যাপী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় সাত লাখ কর্মকর্তা নিয়োগের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় নির্বাহী ও জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন বাহিনীর ছয় লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবে। পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত এ বাহিনীর দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও একাগ্রতার ওপর বিশেষ দৃষ্টি রাখা হবে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণে নির্বাচন ক্ষতিগ্রস্ত হলে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়মিত এই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তার জন্য সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
সিইসি তার ভাষণে বলেন, ভোটার, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রার্থী, প্রার্থীর সমর্থক এবং এজেন্ট বিনা কারণে হয়রানির শিকার বা মামলার সম্মুখীন না হন, তার নিশ্চয়তার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কঠোর নির্দেশ থাকবে। দল-মত নির্বিশেষে সবাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন এবং ভোট শেষে নিরাপদে নিজ বাসস্থানে নিরাপদে অবস্থান করতে পারবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে জল্পনা-কল্পনা ছিল। কমিশনেরও এ নিয়ে অনেক রকম ভাষ্য পাওয়া গিয়েছিল। এমন অবস্থায় গত ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত কমিশনের সভায় ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। ওই দিন জানানো হয়, তফসিল ঘোষণার সময় নির্ধারণ হলেও মনোনয়নপত্র দাখিল ও ভোট গ্রহণের দিনসহ বিস্তারিত সময়সূচি ৮ নভেম্বর আরেকটি সভায় নির্ধারণ করা হবে। সে অনুযায়ী ইসির তফসিল ঘোষণা-সংক্রান্ত কমিশনের ৩৯তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে তফসিল ও সিইসির ভাষণ অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে সিইসি ছাড়াও চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসি সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আগারগাঁও নির্বাচন ভবন এলাকায় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়। পোশাকে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কমিশন কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় সাদা পোশাকে পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে র‌্যাব ও পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নির্বাচনের জন্য ৭০২ কোটি টাকার বাজেট নির্ধারণ করেছে ইসি। প্রতি আসনের জন্য সম্ভাব্য ব্যয় দুই কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ৭০২ কোটি টাকার মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে ব্যয় ৪০০ কোটি টাকার কাছাকাছি।
সভা-সমাবেশসহ নির্বাচনী প্রচার বন্ধ : এদিকে, তফসিল ঘোষণার পর রাত থেকেই নির্বাচনী সভা-সমাবেশ ও প্রচার কার্যক্রম বন্ধ হতে যাচ্ছে। সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধিমালা অনুসারে তফসিল ঘোষণার পর সভা-সমাবেশের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে আসবে। জনচলাচলের বিঘœ সৃষ্টি হতে পারে এমন কোনো সড়কে জনসভা, এমনকি পথসভাও করা যাবে না। মাইকের ব্যবহারও সীমিত করা হবে। শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে নির্বাচনবিরোধী যে কোনো তৎপরতা। ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের আগের ২১ দিন ছাড়া যে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারও নিষিদ্ধ থাকবে।
নির্বাচনী মালামাল পাঠানোর নির্দেশ : মাঠপর্যায়ে মনোনয়ন ফরমসহ নির্বাচনী মালামাল পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার প্রায় ৩৩ হাজার মনোনয়ন ফরম ছাপানো হয়েছে। তেজগাঁও প্রিন্টিং প্রেস থেকে দেশের সব জেলার সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসারের কাছে এগুলো পাঠানো হচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী ৩১ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে হবে। কেননা, বর্তমান দশম জাতীয় সংবিধান অনুযায়ী দশম সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে। ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি দশম সংসদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সে হিসেবে আগামী ২৮ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। ওই ৯০ দিনের ক্ষণগণনা শুরু হয় গত ৩১ অক্টোবর। সব দলের অংশগ্রহন ও দেশের মানুষের কল্যানে গনতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সর্বজন স্বীকৃত নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রয়োজন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারন মানুষের মতামত।
এদিকে আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেই অংশ নিচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনের তফসিল এক মাস পেছানোরও দাবি জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
সংবাদ সম্মেলনে জোটের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে দেশের মানুষ ন্যূনতম অগতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। নিশ্চিতভাবে আগামী নির্বাচনে মানুষ ভোট দিয়ে তাদের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করবেন। সেই লক্ষ্য নিয়ে তারা ভোটের ময়দানে থাকবেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও নির্বাচনে অংশ নেবে।
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচনের পাশাপাশি ৭ দফা দাবিতে জোটের আন্দোলনও চলবে।
এদিকে গত ১২ই নভেম্বর পর্যন্ত আওয়ামীগের প্রায় ৪ হাজার মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়। যার মধ্যে মাশরাফি সহ রয়েছে অসংখ্য তারকা ও ব্যবসায়ী প্রার্থী। অপর দিকে একই দিনে বিএনপি মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করে। বিএনপিতেও অসংখ্য মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়।

সাফজয়ী কিশোরদের ৪ লাখ করে টাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
                                  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্রীড়াপ্রেমী। শত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি নিজে খেলা দেখতে মাঠে ছুটে যান। কোনো খেলায় সাফল্য এলে খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেন। হাতে তুলে দেন নগদ অর্থের পুরস্কার। কিছুদিন আগে সাফল্যের জন্য প্রত্যেক কিশোরী ফুটবলারকে ১০ লাখ করে টাকা পুরস্কৃত করেন। এবার করলেন কিশোরদের। নেপালে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ ফুটবলে বাংলাদেশ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ফাইনালে হারায় পাকিস্তানকে। গতকাল শিরোপাজয়ী কিশোর ফুটবলার, কোচ ও কর্মকর্তাদের গণভবনে সংবর্ধনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে কিশোর ফুটবলাররা ছিলেন উচ্ছ্বসিত। শেখ হাসিনা ফুটবলারদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের সাফল্যে দেশ গর্বিত। আমি আশা করি তোমরা সাফল্যের এ ধারা অব্যাহত রাখবে।’ দক্ষিণ এশিয়াজয়ী কিশোর ফুটবলারদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ফটোসেশনেও অংশ নেন। তিনি দলের ২৩ ফুটবলারের প্রত্যেকের হাতে ৪ লাখ টাকার চেক তুলে দেন। কোচ ও কর্মকর্তারা পান ২ লাখ টাকা করে। অনুষ্ঠানে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সাফজয়ী ফুটবলাদের জন্য নৈশভোজেরও আয়োজন করা হয় গণভবনে। উল্লেখ্য, সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলে বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে মালদ্বীপকে ৯-০, নেপালকে ২-১ গোলে পরাজিত করে। সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে ভারত ও ফাইনালে টাইব্রেকারে পাকিস্তানকে পরাজিত করে।

বাংলাদেশ প্রশংসিত প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক বিধানগুলো নিয়ে উদ্বেগ
                                  

 

॥মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥
মানবাধিকার পর্যালোচনায় রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশ প্রশংসিত প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক বিধানগুলো নিয়ে উদ্বেগ। আগামী নির্বাচন অবাধ, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার তাগিদ। গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড এবং সেগুলোর বিচারহীনতার বিষয়টি এবার জাতিসংঘ ফোরামে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির পর্যালোচনায় সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। এ ছাড়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের ওপর হামলা ও হুমকি, ভিন্নমতের অনুসারীদের রাজনৈতিক অধিকার, নারীর প্রতি সহিংসতা, বাল্যবিবাহ নিরোধের মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় প্রাধান্য পায়।
১৪ তারিখ সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার সর্বজনীন নিয়মিত পর্যালোচনা বা ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউর তৃতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সভা থেকে আগামী নির্বাচন অবাধ, স্বচ্ছ এবং অর্ন্তভুক্তিমূলক করার তাগিদ এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, জাপানসহ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা অবাধ, স্বচ্ছ এবং সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সভায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশ সবার প্রশংসা পেয়েছে। আলোচনায় ৯৫টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। লক্ষণীয়ভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং বৌদ্ধপ্রধান জনসংখ্যার দেশগুলো (যেমন জাপান, চীন ও থাইল্যান্ড) মিয়ানমার থেকে আগতদের ‘রোহিঙ্গা’ পরিচয় ব্যবহার করেনি এবং তারা দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিয়েছে।
প্রায় কুড়িটির মতো দেশের প্রতিনিধিরা গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এসব বেআইনি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তের সুপারিশ করেন। জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, যে মাত্রায় গুমের কথা বলা হচ্ছে তাতে আপত্তি আছে। ২০১৩ সালে দ্বিতীয় ইউপিআরে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে গুম বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। আনিসুল হক এবার তা পুরোপুরি নাকচ না করে বলেন, গুম সম্পর্কে মাত্রাতিরিক্ত অপপ্রচারের রাজনৈতিক কারণ রয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ গুম হয়েছেন বলা হলেও তাঁকে ভারতে পাওয়া গেছে। হুম্মাম কাদের চৌধুরী, মুবাশ্বির হাসান, সাংবাদিক উৎপল দাসসহ অনেকেই ফিরে এসেছেন, কিন্তু রাজনৈতিক কারণে সেগুলোকে গুম বলে বর্ণনা করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী জাতিসংঘের গুমবিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটির সঙ্গে সহযোগিতা করার কথাও বলেছেন।
বিচারবহির্ভূত হত্যা বা যেকোনো ধরনের আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সরকার শূন্য সহনীয়তার নীতি অনুসরণ করে বলে মন্ত্রী জানান। এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলার বিচারের নজির তুলে ধরেন তিনি।
রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের অধিকার ও নির্বাচনবিষয়ক উদ্বেগের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর জন্য বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতায় অনেক নিরীহ মানুষের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করেন। ২০১৫ সালেও অবরোধ-হরতালের নামে ১০৮ জন নিহত হওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।
সভায় সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের ওপর হামলা, হয়রানি ও হুমকির কারণে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকোচনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অনলাইন-অফলাইন সব জায়গায় এসব বাধা দূর করার আহ্বান জানান। সবাই তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা এবং প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক বিধানগুলো বাতিলের কথা বলেন। আইনমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, ৫৭ ধারা অপপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠায় তা বাতিল করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যেসব ধারা নিয়ে আপত্তি উঠেছে, সেগুলো নিয়ে সরকার সবার সঙ্গে আলোচনা করছে।
গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতার প্রশ্নে আইনমন্ত্রী দেশে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা গত পাঁচ বছরে ১৮ থেকে বেড়ে ৩৪ হওয়া এবং সংবাদপত্রের সংখ্যা ২ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা বলেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষায় সরকার দেশে প্রায় ৫০০ বিশিষ্টজনকে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা দিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ সব ধরনের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষার প্রশ্নটিও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা সভায় উত্থাপন করেন। সমকামিতা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার যে আইন রয়েছে, সেটিও সংশোধনের সুপারিশ করেছে বেশ কয়েকটি দেশ। ইউপিআরে অংশগ্রহণকারীরা বাল্যবিবাহ নিরোধক আইনে বিশেষ পরিস্থিতিতে ছাড় দেওয়ার বিধান বাতিল করে ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার কথা বলেছেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপরাধের অভিযোগ তদন্তে কমিশনকে ক্ষমতায়িত করার ওপর জোর দিয়েছেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। সভায় এ বিষয়ে ব্যাপক সমর্থন লক্ষ করা যায়। মানবাধিকারকর্মীদের কাজ নির্বিঘ্ন করতে তাঁদের সুরক্ষা দেওয়া, তাঁদের ওপর বিভিন্ন হামলা ও হয়রানির অভিযোগ তদন্ত করা এবং বিদেশি অনুদান আইন সংশোধনেরও জোরালো আহ্বানের কথা শোনা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশি অনুদান আইন ব্যবহার করে বেসরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রমকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
আইনমন্ত্রী অবশ্য এ অভিযোগের জবাবে বলেছেন, অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণ, কালোটাকা সাদা করা এবং সন্ত্রাসের অর্থায়ন বন্ধের লক্ষ্যেই বিদেশি অনুদান আইন করা হয়েছে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ বা স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ারদের বাংলাদেশ সফরের সুযোগ দেওয়ার জন্য অনেক দেশের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হলেও আইনমন্ত্রী বিষয়টিতে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ারদের অনুরোধ প্রায় এক দশক ধরে সিদ্ধান্তহীনভাবে পড়ে আছে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের যেসব সনদ বা ঘোষণা ও নীতিমালা এবং আনুষঙ্গিক বা অতিরিক্ত প্রটোকল বাংলাদেশ এখনো অনুমোদন করেনি, সেগুলো গ্রহণের আহ্বানের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নয়টি সনদের আটটিতে স্বাক্ষর করেছে। অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক দায় গ্রহণের আগে এখন প্রয়োজন সক্ষমতা ও সামর্থ্য বাড়ানো।
আলোচনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন শাক্তিশালী করার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক। ইউপিআরে গুমের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে যেকোনো নাগরিক নিখোঁজ অথবা গুম হলে তাঁকে উদ্ধার এবং রহস্য উন্মোচনের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। যাঁরা ফিরে এসেছেন বলা হচ্ছে, তাঁদের বেলায় কী ঘটেছিল তা এখনো জানা যায়নি এবং কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে সেই অপরাধীরও বিচার হয়নি।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শিপা হাফিজ ‘আমরা এমন ঘটনাও দেখেছি, নিখোঁজ থেকে হাজির করে অনেককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বেরিয়ে আসার পর সরকারের পক্ষ থেকে এমন কথাও বলা হয়েছে যে সরকার কাজ করেছে বলেই তারা বেরিয়ে এসেছে। এসব কথাবার্তায় অসংলগ্নতা স্পষ্ট।’
গুমবিষয়ক সনদ স্বাক্ষর প্রশ্নে ঢাকার অসম্মতি
গুম থেকে সবার সুরক্ষার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সনদ স্বাক্ষরের বিষয়ে বেশ কয়েকটি দেশের সুপারিশ গ্রহণে বাংলাদেশ সম্মত হয়নি। এ ছাড়া নির্যাতন ও অমানবিক শান্তি বন্ধের স্বেচ্ছামূলক অঙ্গীকারের দলিল (অপক্যাট), অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারবিষয়ক অতিরিক্ত অঙ্গীকার এবং রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকারবিষয়ক স্বেচ্ছামূলক অঙ্গীকারের দুটি দলিল স্বাক্ষরের বিষয়েও একই রকম সুপারিশ গ্রহণে বাংলাদেশ রাজি হয়নি। এগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে মৃত্যুদন্ড বিলোপবিষয়ক। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সর্বজনীন নিয়মিত পর্যালোচনা, যা ইউপিআর নামে পরিচিত, তার তৃতীয় দফা পর্যালোচনা সভায় এসব সুপারিশ উঠে আসে। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে জেনেভায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১০৫টি দেশের প্রতিনিধি বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে এসব সুপারিশ করেন।
সভায় উত্থাপিত সুপারিশগুলো চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় এগুলোর একটি খসড়া প্রকাশিত হয়।
প্রকাশিত খসড়ায় দেখা যায়, ১৬৭টি সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশের সম্মতি রয়েছে। ২৩টি সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশ তার মতামত জানানোর জন্য সময় নিয়েছে, যা ইউপিআরের পরবর্তী অধিবেশনের মধ্যেই জানাতে হবে। আগামী সেপ্টেম্বরে ইউপিআরের পরবর্তী সভার কথা আছে। ৬১টি সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশের অসম্মতির কথা এই খসড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সুপারিশগুলো সংখ্যায় অনেক হলেও বিষয় ও করণীয় বিবেচনায় অনেকগুলোই পুনরাবৃত্তি।
পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে গুম, হেফাজতে নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগগুলো তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে যে সুপারিশ এসেছে, বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সে বিষয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় চেয়েছে। মতামত জানাতে সময় নেওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে আরও আছে, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি আইনের খসড়া সংশোধন, সংখ্যালঘুদের আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, বাল্যবিবাহ নিরোধক আইনে বিশেষ ছাড় দেওয়ার বিধি, কিশোরদের অপরাধের জন্য দায়ী করার ক্ষেত্রে বয়সসীমা বাড়ানো, দাম্পত্য জীবনে ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, নারী-পুরুষের মজুরিবৈষম্য দূর করার মতো বিষয়গুলো। মীর আহমেদ বিন কাসেম এবং আমান আজমীর গুমের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের তথ্য জানানোসহ নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব অভিযোগ তদন্ত ও বিচারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশের বিষয়েও বাংলাদেশ সম্মত হয়নি।
যেসব সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশ অসম্মতি জানিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে গুমবিষয়ক সনদ ও ওপরে উল্লেখিত স্বেচ্ছামূলক অতিরিক্ত অঙ্গীকারের দলিল ছাড়াও আছে ১৯৫১-এর উদ্বাস্তুবিষয়ক সনদ, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকারবিষয়ক আইএলও সনদ ১৩৮,১৩৯ ও ১৮৯, শিশুশ্রম নির্মূলবিষয়ক সনদ, নারীর বিরুদ্ধে সব ধরনের বৈষম্য অবসানের আইন, নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এখতিয়ার বাড়ানো, সমকামীদের সুরক্ষা এবং সে জন্য ফৌজদারি আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন, মৃত্যুদন্ড বিলোপ করার লক্ষ্যে সব ধরনের ফাঁসির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, মানহানির অভিযোগের ফৌজদারি দায় বাতিল, উদ্বাস্তু ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের বিচারলাভের অধিকার নিশ্চিত করা ইত্যাদি।
যেসব বিষয়ে বাংলাদেশ সম্মত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যক্রম এবং ব্যবস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো, জাতীয় পর্যায়ে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে বিভিন্ন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, মানবাধিকার আন্তর্জাতিক সনদগুলোর সঙ্গে দেশীয় আইনগুলোর সামঞ্জস্য আনার চেষ্টা ত্বরান্বিত করা, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের বিষয়ে দ্বিতীয় ইউপিআরের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন,
পার্বত্য চুক্তির যথাযথ ও পূর্ণ বাস্তবায়ন, মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করা, প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষা, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের হয়রানি ও হুমকির ঘটনাগুলো তদন্ত এবং তাদের সুরক্ষা, এ বিষয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া, বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ জোরদার করা,
ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ, অনলাইন-অফলাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের অধিকারসহ সব রাজনৈতিক গোষ্ঠীর জন্য গণতান্ত্রিক সুযোগ নিশ্চিত করা সম্পর্কিত সুপারিশ।
পড়ে আছে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের যেসব সনদ বা ঘোষণা ও নীতিমালা এবং আনুষঙ্গিক বা অতিরিক্ত প্রটোকল বাংলাদেশ এখনো অনুমোদন করেনি, সেগুলো গ্রহণের আহ্বানের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নয়টি সনদের আটটিতে স্বাক্ষর করেছে। অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক দায় গ্রহণের আগে এখন প্রয়োজন সক্ষমতা ও সামর্থ্য বাড়ানো।
আলোচনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন শাক্তিশালী করার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক। ইউপিআরে গুমের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে যেকোনো নাগরিক নিখোঁজ অথবা গুম হলে তাঁকে উদ্ধার এবং রহস্য উন্মোচনের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। যাঁরা ফিরে এসেছেন বলা হচ্ছে, তাঁদের বেলায় কী ঘটেছিল তা এখনো জানা যায়নি এবং কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে সেই অপরাধীরও বিচার হয়নি।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শিপা হাফিজ ‘আমরা এমন ঘটনাও দেখেছি, নিখোঁজ থেকে হাজির করে অনেককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বেরিয়ে আসার পর সরকারের পক্ষ থেকে এমন কথাও বলা হয়েছে যে সরকার কাজ করেছে বলেই তারা বেরিয়ে এসেছে। এসব কথাবার্তায় অসংলগ্নতা স্পষ্ট।’
গুমবিষয়ক সনদ স্বাক্ষর প্রশ্নে ঢাকার অসম্মতি
গুম থেকে সবার সুরক্ষার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সনদ স্বাক্ষরের বিষয়ে বেশ কয়েকটি দেশের সুপারিশ গ্রহণে বাংলাদেশ সম্মত হয়নি। এ ছাড়া নির্যাতন ও অমানবিক শান্তি বন্ধের স্বেচ্ছামূলক অঙ্গীকারের দলিল (অপক্যাট), অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারবিষয়ক অতিরিক্ত অঙ্গীকার এবং রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকারবিষয়ক স্বেচ্ছামূলক অঙ্গীকারের দুটি দলিল স্বাক্ষরের বিষয়েও একই রকম সুপারিশ গ্রহণে বাংলাদেশ রাজি হয়নি। এগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে মৃত্যুদন্ড বিলোপবিষয়ক। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সর্বজনীন নিয়মিত পর্যালোচনা, যা ইউপিআর নামে পরিচিত, তার তৃতীয় দফা পর্যালোচনা সভায় এসব সুপারিশ উঠে আসে। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে জেনেভায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১০৫টি দেশের প্রতিনিধি বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে এসব সুপারিশ করেন।
সভায় উত্থাপিত সুপারিশগুলো চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় এগুলোর একটি খসড়া প্রকাশিত হয়।
প্রকাশিত খসড়ায় দেখা যায়, ১৬৭টি সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশের সম্মতি রয়েছে। ২৩টি সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশ তার মতামত জানানোর জন্য সময় নিয়েছে, যা ইউপিআরের পরবর্তী অধিবেশনের মধ্যেই জানাতে হবে। আগামী সেপ্টেম্বরে ইউপিআরের পরবর্তী সভার কথা আছে। ৬১টি সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশের অসম্মতির কথা এই খসড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সুপারিশগুলো সংখ্যায় অনেক হলেও বিষয় ও করণীয় বিবেচনায় অনেকগুলোই পুনরাবৃত্তি।
পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে গুম, হেফাজতে নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগগুলো তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে যে সুপারিশ এসেছে, বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সে বিষয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় চেয়েছে। মতামত জানাতে সময় নেওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে আরও আছে, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি আইনের খসড়া সংশোধন, সংখ্যালঘুদের আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, বাল্যবিবাহ নিরোধক আইনে বিশেষ ছাড় দেওয়ার বিধি, কিশোরদের অপরাধের জন্য দায়ী করার ক্ষেত্রে বয়সসীমা বাড়ানো, দাম্পত্য জীবনে ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, নারী-পুরুষের মজুরিবৈষম্য দূর করার মতো বিষয়গুলো। মীর আহমেদ বিন কাসেম এবং আমান আজমীর গুমের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের তথ্য জানানোসহ নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব অভিযোগ তদন্ত ও বিচারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশের বিষয়েও বাংলাদেশ সম্মত হয়নি।
যেসব সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশ অসম্মতি জানিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে গুমবিষয়ক সনদ ও ওপরে উল্লেখিত স্বেচ্ছামূলক অতিরিক্ত অঙ্গীকারের দলিল ছাড়াও আছে ১৯৫১-এর উদ্বাস্তুবিষয়ক সনদ, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকারবিষয়ক আইএলও সনদ ১৩৮,১৩৯ ও ১৮৯, শিশুশ্রম নির্মূলবিষয়ক সনদ, নারীর বিরুদ্ধে সব ধরনের বৈষম্য অবসানের আইন, নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এখতিয়ার বাড়ানো, সমকামীদের সুরক্ষা এবং সে জন্য ফৌজদারি আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন, মৃত্যুদন্ড বিলোপ করার লক্ষ্যে সব ধরনের ফাঁসির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, মানহানির অভিযোগের ফৌজদারি দায় বাতিল, উদ্বাস্তু ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের বিচারলাভের অধিকার নিশ্চিত করা ইত্যাদি।
যেসব বিষয়ে বাংলাদেশ সম্মত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যক্রম এবং ব্যবস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো, জাতীয় পর্যায়ে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে বিভিন্ন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, মানবাধিকার আন্তর্জাতিক সনদগুলোর সঙ্গে দেশীয় আইনগুলোর সামঞ্জস্য আনার চেষ্টা ত্বরান্বিত করা, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের বিষয়ে দ্বিতীয় ইউপিআরের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন,
পার্বত্য চুক্তির যথাযথ ও পূর্ণ বাস্তবায়ন, মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করা, প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষা, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের হয়রানি ও হুমকির ঘটনাগুলো তদন্ত এবং তাদের সুরক্ষা, এ বিষয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া, বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ জোরদার করা,
ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ, অনলাইন-অফলাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের অধিকারসহ সব রাজনৈতিক গোষ্ঠীর জন্য গণতান্ত্রিক সুযোগ নিশ্চিত করা সম্পর্কিত সুপারিশ।

 

এবার যমজ ছেলের বাবা হলেন রেলমন্ত্রী
                                  

 

জাতীয়
এবার যমজ ছেলের বাবা হলেন রেলমন্ত্রী
॥ মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥
কন্যা সন্তানের বাবা হওয়ার দুই বছর পর যমজ ছেলের বাবা হলেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। দুই নবজাতক এবং তাদের মা হনুফা আক্তার রিক্তা সুস্থ আছেন বলেও জানিয়েছেন রেলমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা।
সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা ৩২ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে যমজ সন্তান জন্ম দেন রেলমন্ত্রীর স্ত্রী।
মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এস এন ইউসুফ এই তথ্য জানিয়ে বলেছেন, তিন জনই বর্তমানে সুস্থ আছেন।
মা-মেয়ের অবস্থা জানতে চাইলে স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক ডা.মির্জা নাজিম উদ্দিন মানবাধকিার খবর কে জানান, ‘জন্মের পর মা ও দুই নবজাতক সুস্থ আছেন।
৩১ মে মন্ত্রীর ৭১তম জন্মদিন। আর এর আগেই সুখবরটি পেলেন তিনি।
সন্তানের বাবা হওয়ার খবরে রাতেই মন্ত্রিসভায় তার সহকর্মী এবং দলের নেতা-কর্মীরা ফোন করে শুভেচ্ছা জানান। এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকেও খবরটি চাওর হয়ে গেছে। অচেনা মানুষরাও তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
চার বছর আগে বিয়ে করা মুজিবুল-হনুফার সংসারে ঘর আলো করে প্রথম সন্তান এসেছে ২০১৬ সালে। ওই বছরের ২৮ মে জন্ম নেয়া মেয়েটি এখন ছুটে বেড়ায়। তার নাম রাখা হয়েছে রিমু।
রেলমন্ত্রীর বিয়ে করার বিষয়টি ছিল চমকপ্রদ। চিরকুমার থেকে যাওয়ার কথা নিয়ে যখন আলোচনা চলছিল সেই ৬৭ বছর বয়সে তার বিয়ের সিদ্ধান্তের খবর ২০১৪ সালে চমক তৈরি করেছিল। মন্ত্রিসভায় এই বিষয়টি প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ওই বছরে ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর কুমিল্লার মেয়ে হনুফা আক্তারকে বিয়ে করেন রেলমন্ত্রী। ওই বছরের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল সেই জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ে।
বরযাত্রায় ছিলেন ছয় মন্ত্রী, এমপিসহ ৭০০ বরযাত্রীর বিশাল গাড় বিহর। পরে সময়ে ঢাকায় হয় বিবাহোত্তর সংবর্ধনা।

 

প্রধানমন্ত্রীকে ও সংবাদ সম্মেলনে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া মানবতাবোধ বাংলাদেশের কাছে বিশ্বের শেখার আছে
                                  

জাতীয়
প্রধানমন্ত্রীকে ও সংবাদ সম্মেলনে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
মানবতাবোধ বাংলাদেশের কাছে বিশ্বের শেখার আছে

॥ মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥
কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গা শিশুদের দেখে এসে বলিউড নায়িকা ও ইউনিসেফের শুভে”ছাদূত প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বলেছেন, শিশু শিশুই। সে যারই শিশুই হোক, যেখানেই জন্মগ্রহন করুক, তার প্রতি প্রত্যেকের সমবেদনা থাকা উচিৎ । আজকের শিশুকে সুরক্ষা না দিলে ভবিষ্যত ভালো হবেনা। প্রতিটি রোহিঙ্গা শিশুকে নিজের সন্তানের মতো দেখতে হবে। সুযোগ থাকলে তিনি বিশ্বের সব শিশুর প্রধানমন্ত্রী হতে চান। এসময় তিনি বলেন, বিশ্বকে রোহিঙ্গা শিশুদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।
ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত প্রিয়াঙ্কা চোপড়া আরো বলেছেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ যেভাবে আশ্রয় দিয়েছে তা অভূতপূর্ব। এটা বিশ্বের জন্য অনুসরণীয়। কীভাবে মানবতার পাশে দাঁড়াতে হয় তা বাংলাদেশের কাছে বিশ্বের শেখার আছে।
বাংলাদেশ সফর শেষে ফেরার আগে গত ২৪ মে বৃহস্পতিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ মন্তব্য করেন বলিউড ও হলিউডের জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব এম নজরুল ইসলাম পরে এ বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তার অভিজ্ঞতার কথা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটা প্রজন্ম হারিয়ে যেতে বসেছে। যথাযথ শিক্ষার ব্যবস্থা না হলে এ শিশুরা চরমপন্থার দিকে ঝুঁকতে পারে।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন তিনি। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বলেন, রোহিঙ্গা শিশুরা আগে অস্ত্র, বন্দুক ও মর্টার শেলের ছবি আঁকলেও এখন আঁকছে সূর্য, প্রাণী ও প্রকৃতির ছবি। এতে বোঝা যাচ্ছে যে, তাদের ভেতরের ক্ষত শুকাতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর মাতৃত্বসুলভ আশ্রয় ও নিরাপত্তার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। সাবেক এ বিশ্বসুন্দরী বলেন, রোহিঙ্গারা বিপর্যয়ের মধ্যে আছে। যারা কর্মক্ষম তাদের কাজ নেই। ক্যাম্পের শিশুরা শিক্ষার যথাযথ সুযোগ পাচ্ছে না।
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠালেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, নৃশংসতার মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা এ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে মানবিক কারণে। ক্যাম্পগুলোতে রোহিঙ্গাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা বাংলাদেশের একার পক্ষে কঠিন। তার পরও বাংলাদেশ সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এক লাখ রোহিঙ্গাকে শিগগিরই ভাসানচরে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে তাদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়নে নেপিদোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

 

 

সৌদি থেকে নির্যাতনের শিকার ৮৩ নারী দেশে ফিরেছেন
                                  


জাতীয়
সৌদি থেকে নির্যাতনের শিকার ৮৩ নারী দেশে ফিরেছেন
দিনাজপুরের মনজুরা বেগম দিন বদলের সোনালি স্বপ্ন নিয়ে প্রিয় সংসার কিংবা পরিবার ফেলে পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর সৌদি আরবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন অচিরেই ধুলিসাৎ হয়ে যায় যৌনসহ নানা নির্যাতনে। সৌদি আরবের আলখেল্লা পরা পাষন্ড মালিকদের অসভ্য আর অমানবিক আচরণ সইতে না পেরে দেশে ফিরে এসেছেন মনজুরা বেগম মোত আরও ২১ বাংলাদেশি নারী শ্রমিক। মনজুরা বেগম পাসপোর্টসহ ইজ্জত-সম্মান সব দিয়ে মালিকের নির্যাতন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে ট্রাভেল পাস দিয়ে দেশে আসে . এই সকল নারীদের এখন একটাই আকাক্সক্ষা, প্রাণটা নিয়ে কোনোরকমে দেশে ফেরা। দেশে ফিরে নিপীড়নের রোমহর্ষক বর্ণনা দেন তারা। ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা নিয়ে ফেরা এই নারীরা বললেন, ক্রীতদাসীর মতো আচরণ করা হতো তাদের সঙ্গে। আর কোনো মেয়ে যেন কাজ করতে সৌদি আরব না যায়।দেশে ফেরা নারীরা যৌন নিপীড়নেরও শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন নারীদের দেশে ফেরাতে সহায়তা করা বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা।
স্রোতের মতো দেশে আসতে শুরু করেছে সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশি নারীরা। গত দু’দিনে এসেছেন শতাধিক।হিউম্যান রিসোর্স অ্যান্ড হেলথ ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরো জানান, গত ২৩ এপ্রিল গাফফার নামে এক দালালের মধ্যস্থতায় আল মনসুর ওভারসিজ অ্যান্ড ট্রাভেলসের মাধ্যমে সৌদি আরব যান সুমাইয়া কাজল। সেখানে কাজ শুরু করার পরই গৃহকর্তা ও বাড়ির লোকজনের কাছে নির্যাতনের শিকার হন তিনি। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে দাম্মামের আল খোবার এলাকার একটি ক্যাম্পে ঠাঁই হয় তার। সেখানে থাকা অবস্থাতেও নির্যাতনের শিকার হতে হয় কাজলকে।সৌদি আরবে প্রতিনিয়ত তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়।ঃধফবৎ আটকে রেখে ইলেকট্রিক শক দেয়ার পাশাপাশি রড গরম করে ছেঁকা পর্যন্ত দেয়া হয়।
এছাড়াও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের একজন কর্মকর্তা ।তিনি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক এয়ারলাইন্স এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নির্যাতিতা এই ৮৩ নারী ঢাকায় পৌঁছেন। দালালের মাধ্যমে টাকা দিয়ে ৫ থেকে ৬ মাস আগে তারা গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। ওখানে তারা যৌন হয়রানিসহ নানা নির্যাতনের শিকার হন। বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বিমানবন্দরে তাদের সহায়তা দেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম কর্মকর্তা আল আমিন নয়ন। তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে ফিরে আসা নারীদের পরিবার-পরিজন যোগাযোগ করে আসছিল। ব্র্যাক তাদের আইনি সহায়তা দেবে। ফিরে আসা এই নারী শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন রূপগঞ্জের সাথী, ভোলার জোসনা, কেরানীগঞ্জের মল্লিকা, বরগুনার শাহনাজ, কক্সবাজারের শাকিলা, দিনাজপুরের মনজুরা বেগম, ফরিদপুরের মাজেদা বেগম, নওগার শম্পা রেবা, মৌলভীবাজারের লিলি আক্তার, হবিগঞ্জের রুবীনা ও খাইরুন্নেসা ও ঢাকার কেরানীগঞ্জের ঝর্না প্রমুখ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তারা সবাই অমানবিক নির্যাতন সইতে না পেরে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের আর্থিক সহায়তায় এই নারী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনা হয়।
উল্লেখ্য, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য মতে, ২০১৭ সালে অভিবাসী নারীর সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ১৯ হাজার ৯২৫ জন, যা মোট অভিবাসন সংখ্যার ১৩ শতাংশ।১৯৯১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত অভিবাসন প্রত্যাশী নারী শ্রমিককে একা অভিবাসনে যেতে বাধা দেয়া হলেও পরবর্তীতে ২০০৩ এবং ২০০৬ সালে কিছুটা শিথিল করা হয়। ২০০৪ সালের পর থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত নারী শ্রমিকের অভিবাসন হার ক্রমাগত বাড়তে থাকে। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় মোট অভিবাসনের ১৯ শতাংশে।

২০১৮-২০১৯ অর্থ বাজেট পাস
                                  

জাতীয়
২০১৮-২০১৯ অর্থ বাজেট পাস আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মহিত ২০১৮-১৯ এর নতুন বাজেট পেশ করল। বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে এটাই শেষ বাজেট, ভোটের হিসাব বিবেচনায় সবাইকে খুশি করার চেষ্টা থাকবে এবারের বাজেটে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাছাড়াও অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেছেন যে এবার নতুন কোনো কর বসাবেন না । সবাইকে সন্তুষ্ঠ রাখায় এবারের বাজেট ।

 

মাদকবিরোধী অভিযানঃ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উদ্বেগ
                                  

মাদকবিরোধী অভিযানঃ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উদ্বেগ
মাদকবিরোধী অভিযান সরকারের নিঃসন্দেহে একটি ভাল উদ্যোগ। তবে বিনা বিচারে কাউকে হত্যা করা কারোরই কাম্য নয়। মাদকবিরোধী অভিযানে গত ২৫ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থনে বন্দুকযুদ্ধে ১৩৩ জন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হলেন।তাদের মধ্য পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুেদ্ধ ৭০ জন এবং র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। অর্থাৎ এই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা দাড়াল ১০৪ । বাকি ২৯ জন মাদক ব্যবসায়ী দুই পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।
এদিকে, টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে নিহত পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের পরিবারের দেওয়া অডিও রেকর্ডটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব সদর দপ্তর । গত ২৬ মে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে একরাম নিহত হওয়ার পর র‌্যাব দাবি করে, তিনি মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন । অবশ্য শুরু থেকেই ওই জনপ্রতিনিধির স্বজনরা দাবি করে আসছেন, নির্দোষ একরামকে হত্যা করা হয়েছে। একরামের হত্যাকান্ড নিয়ে চলছে বির্তকের ঝড় ।

মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় অভিযুক্ত মানবাধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে চিঠি দিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের কথা বলেছেন তিনি।
দেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের দশ বিশিষ্ট নাগরিক। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থায় এমন মৃত্যু কখনই গ্রহণযোগ্য নয়।বিবৃতিদাতারা হলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, আতাউর রহমান, মামুনুর রশীদ, কবি নির্মলেন্দু গুণ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ ও হাসান আরিফ।
এছাড়া আরো উদে¦গ জানিয়েছে জাতিয়তাবাদী দল বি এন পি , বাসদ,গনজাগরন মঞ্চ ,মানবাধিকার সংগঠন আসক সহ বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দল।

অধিকারের প্রতিবেদনঃ পাঁচ মাসে ২২২ টি বিচারবহির্ভূত হত্যা
॥মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন॥
২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত পাঁচ মাসে দেশে ২২২ টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে মানবাধিকার সংস্থা অধিকার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করছে। এর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে (ক্রসফায়ার) মারা গেছেন ২১৬ জন। অধিকারের প্রতিবেদনে যেসব বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে বন্দুকযুদ্ধ , গুলিতে নিহত ও নির্যাতনে মৃত্যু । এত বলা হয়, অনেক ক্ষেএে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত মূল অপরাধীকে আড়াল করার জন্যও বিচরবহির্ভূত হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটছে।
অধিকারের তথ্য অনুযায়ী , মে মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ১৪৯ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া গত পাঁচ মাসে সারা দেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৪৭ জন। আহত হয়েছেন ২ হাজার ১০৩ জন। অন্যদিকে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে মারা গেছেন ৩ বাংলাদেশি নাগরিক। আহত হয়েছেন ৯ জন এবং অপহরন করা হয়েছে ৯ জনকে।
অধিকারের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত সারা দেশে ৩০৯ টি ধর্ষনের ঘটনা ঘটে।যৌতুকের কারনে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৭৫ াট । যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ৯৬ জন । প্রতিবেদনে নারী নির্যাতন বৃদ্ধির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অপরাধীদের শাস্তি প্রদান ও গনমাধ্যমের সচেতনতা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়। প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের চিএও তুলে ধরা হয় । সেখানে বলা হয়, বছরের প্রথম পাচঁ মাসে ২৫ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। হুমকি দেওয়া হয় ৭ জনকে, লাঞ্চিত হয়েছেন ৭ জন। এ সময় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৬ সাংবািদক সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখায় এদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ছাদ কেটে আমিন জুয়েলার্স এ চুরি
                                  

গুলশান ২ নম্বরে ডিসিসি মার্কেটে আমিন জুয়েলার্সে দুর্ধষ চুরি হয়েছে। দুর্বৃত্তরা মার্কেটের ছাদের একটি অংশ কেটে দোকানে ঢুকে চুরির পর আবার ঢালাই করে পালিয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও দোকানকর্মীরা জানিয়েছেন, আমিন জুয়েলার্স থেকে আনুমানিক ৩০০ ভরি স্বর্ণ ও ২৪ লাখ টাকা খোয়া গেছে।
পুলিশের গুলশান বিভাগের এডিসি আবদুল আহাদ সমকালকে বলেন, আমিন জুয়েলার্স থেকে চুরির অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। দুর্বৃত্তরা মার্কেটের ছাদ কেটে দোকানে ঢুকেছিল।
জানা গেছে, পহেলা বৈশাখের দিন  কাজ করে রাতে দোকান বন্ধ করে যান কর্মচারীরা। পরদিন সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বন্ধ ছিল মার্কেট।
১৬ এপ্রিল দোকান খুলে দেখা যায়, দোকানের ছাদ ভেঙে স্বর্ণ ও দোকানে থাকা নগদ টাকা চুরি হয়েছে। দোকান খুলে ক্যাশে রাখা অর্ধেক টাকা পাওয়া যায়নি। দোকানে সাজানো শত শত ভরি স্বর্ণ থাকলেও অনেক প্যাকেট খালি পাওয়া যায়। এরপরই তারা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। পরে মার্কেটের লোকজন দোতলার ছাদে গিয়ে দেখেন একটি অংশে নতুন ঢালাই করা হয়েছে। যেভাবে ছাদের এক অংশ কাটা হয়েছিল তাতে একজন মানুষের পক্ষে ভেতরে ঢোকা সম্ভব। ধারণা করা হচ্ছে, চোর সেখান দিয়ে প্রবেশ করে চুরি শেষে ফের ঢালাই করে পালিয়েছে। পুলিশ বলছে, চুরির অভিযোগ পাওয়ার পর তারা আশপাশের এলাকার  সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্নেষণ করে দেখছে।
এ ছাড়া দোকানকর্মী ও আশপাশ এলাকার নিরাপত্তারক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, পরিচিত কেউ স্বর্ণ গায়েবের পর পর ছাদ কেটে রাখার নাটক করেছে কি-না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে চুরির রহস্য উদ্ঘাটনে আশাবাদী তারা। পুলিশ বলছে, এরই মধ্যে এমন কিছু ক্লু তারা পেয়েছে যাতে ধারণা করছেন, কেউ আসল ঘটনা লুকাতে অনেক নাটক সাজানোর চেষ্টা করেছে।

মহাকাশে এক টুকরো বাংলাদেশ
                                  

বাংলাদেশের প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ `বঙ্গবন্ধু-১` স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হয়ে়ছে বাংলাদেশ সময় ১২ মে শনিবার রাত ২টা ১৪ মিনিটে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে মার্কিন কোম্পানি স্পেসএক্স-এর সর্বাধুনিক রকেট ফ্যালকন-৯ স্যাটেলাইটটি নিয়ে কক্ষপথের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বিবিসি বাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "স্যাটেলাইটটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে এবং গ্রাউন্ডে সিগন্যালও পাঠিয়েছে।"
ফ্লোরিডার স্বচ্ছ আকাশে প্রায় সাত মিনিট স্যাটেলাইটটি দেখা যায়।
প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় সহ বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করেন।
ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষকারী আইসিটি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, `বঙ্গবন্ধু-১ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি সময়োপযোগী উদ্যোগও যার ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ভিশন রয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বহু বাংলাদেশীও এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সরাসরি সম্প্রচার ও ওয়েবকাস্ট প্রত্যক্ষ করেন। এর আগে ১১মে শুক্রবার ভোররাতে এটি উৎক্ষেপণের সমস্ত আয়োজন চূড়ান্ত হলেও শেষ মুহুর্তে উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়।
এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃত্রিম উপগ্রহের অধিকারী বিশ্বের ৫৭তম দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে। উপগ্রহটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং পর্যবেক্ষণে দেশের সক্ষমতা বাড়াবে। উপগ্রহটি থেকে সার্ক দেশগুলোর পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং কাজাকিস্তানের একটি অংশ এর সুযোগ নিতে পারবে।
এই স্যাটেলাইট প্রথমে ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর উৎক্ষেপণের কথা ছিল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় ইরমার কারণে এর উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হয়।

রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তায় কাজ করছে ১৬০০ মাঝি
                                  

মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তায় কাজ করছেন ১ হাজার ৬০৯ জন মাঝি। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ছোট-বড় ২৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাতের বেলা দুই শিফটে পাহারা দেওয়ার কাজটি করছেন ‘মাঝি’ পদবির এসব রোহিঙ্গা যুবক ও আরও কিছু স্বেচ্ছাসেবী। ক্যাম্পের ভিতরে চুরি, ডাকাতিসহ নানা অপরাধ ঠেকাতে কাজ করছেন তারা। এ ছাড়া ত্রাণ বিতরণসহ নানা শৃঙ্খলার কাজেও সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনকে এসব মাঝি সহযোগিতা করেন। রোহিঙ্গা যুবকদের মধ্য থেকে বাছাই করে কমিউনিটি লিডার হিসেবে তাদের মনোনয়ন করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে তাদের মাঝি পদবি দেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীর গেঞ্জি পরে, গলায় ‘মাঝি কার্ড’ ঝুলিয়ে তারা দিনরাত নির্ধারিত কাজ করে যান।
জানা গেছে, রোহিঙ্গা তরুণদের ক্যাম্পের মধ্যেই কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে  স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে তাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি ক্যাম্পে তাদের ভাগ করে দেওয়া হয়। তাদের জনগোষ্ঠীকে নেতৃত্ব দিতে এবং রোহিঙ্গাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা মোকাবিলার জন্য তাদের সামাজিক পদ্ধতি অনুসরণ করে এই মাঝিদের কাজে লাগানো হচ্ছে। তাদের মধ্যে একজন হেড মাঝি, একজন মাঝি ও তার পর সাব-মাঝির পদ রয়েছে। একজন মাঝির তত্ত্বাবধানে থাকে এক হাজার থেকে ১২০০ রোহিঙ্গা পরিবার। সাব-মাঝির তত্ত্বাবধানে থাকে ১০০ রোহিঙ্গা পরিবার। তাদের লিডার তারাই মনোনয়ন করে থাকেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাঝে মাঝেই লাল পতাকা দেখা যায়। তার মানে সেই পতাকা নির্দেশিত স্থানে একজন মাঝি আছেন। আর্মি কো-অর্ডিনেশন সেল, উখিয়ার সাবেক চিফ কো-অর্ডিনেটর ও রোহিঙ্গা সংকটের শুরুতে দায়িত্ব পালনকারী লে. কর্নেল শাহ মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের একটা ডাটাবেজ সংরক্ষণ করছি। এই মাঝিদের সিস্টেমটা কাজের সুবিধার্থে গড়ে তুলেছি। রোহিঙ্গাদের প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ তাদের থাকার জায়গারও আলাদা নম্বর দেওয়া আছে। প্রতিটি ব্লক অনুযায়ী মাঝিদের ছবিসহ তালিকা আমরা সংরক্ষণ করছি।
তিনি বলেন, এখানকার রোহিঙ্গাদের ম্যানেজ করতে আমাদের পিসকিপিং মিশনসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে। বাংলাদেশের মিলিটারি এমন ক্রাইসিস প্রায়ই মোকাবিলা করে। আমরা নিজেদের ইনোভেশন দিয়ে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা করেছি।

ডিইউজে নির্বাচনে গনি-শহিদ পরিষদ পূর্ণ প্যানেল বিজয়ী
                                  

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) নির্বাচনে গনি-শহিদ পরিষদ পূর্ণ প্যানেল বিজয়ী হয়েছে। সভাপতি পদে আমার দেশ এর কাদের গণি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক পদে সংগ্রামের মো: শহিদুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন। ২৭ এপ্রিল রাতে ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কায়কোবাদ মিলন এই ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচনে কাদের গণি চৌধুরী পেয়েছেন ৪৯৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাহাঙ্গীর আলম প্রধান পেয়েছেন ৩৮৭ ভোট। এছাড়া বাকের-খুরশীদ পরিষদের মুহাম্মদ বাকের হোসাইন পেয়েছেন ১৭৫ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে গনি-শহিদ পরিষদের মো শহিদুল ইসলাম ৬০৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খুরশীদ আলম পেয়েছেন ৩৭৬ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মাসুদ পেয়েছেন ৫৪ ভোট। সহ-সভাপতির তিনটি পদে গনি-শহিদ পরিষদের বাছির জামাল ৭৩০ ভোট, শাহীন হাসনাত ৫৫২ ভোট এবং আনোয়ারুল কবির বুলু ৫৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এ পদে বাকের-খুরশীদ পরিষদের আবদুল আউয়াল ঠাকুর ৩৪২ভোট, মাইন উদ্দিন আহমেদ ২৩৪ ভোট ও সাহাদত হোসেন খান ১৯০ ভোট পেয়েছেন।
যুগ্ম-সম্পাদক পদে গনি-শহিদ পরিষদের এরফানুল হক নাহিদ ৬৬৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাকের-খুরশীদ পরিষদের মো: আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন ৩৩৩ ভোট। কোষাধ্যক্ষ পদে নিউ নেশনের মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক (গাযী আনোয়ার) বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বাসসের মো: দিদারুল আলম ৮০২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গোলাম কিবরিয়া পেয়েছেন ১৭৯ ভোট।
এছাড়া অপর প্রতিদ্বন্দ্বী হালিম পেয়েছেন ২৮ ভোট। প্রচার সম্পাদক পদে দেওয়ান মাসুদা সুলতানা ৫৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিন্দ্বন্দ্বী জসিম মেহেদী পেয়েছেন ৪২০ ভোট। ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে নয়াদিগন্তের আবুল কালাম ৬৭৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম আলমগীর পেয়েছেন ২২৮ ভোট। জনকল্যাণ সম্পাদক পদে খন্দকার আলমগীর হোসাইন ও দফতর সম্পাদক পদে শাহজাহান সাজু বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ৮ টি সদস্য পদে নির্বাচিতরা হলেন ক্রমানুসারে খন্দকার হাসনাত করিম পিন্টু(৫৭১), রফিক মোহাম্মদ (৫৬৫), এইচ এম আল আমীন ( ৫২৭ ), সৈয়দ আলী আসফার (৪৯৩), শহীদুল ইসলাম (৪৭২), ডিএম আমিরুল ইসলাম অমর (৪৬৭), কাজী তাজিম উদ্দিন(৪৫৬) এবং রফিক লিটন(৩৮৩)।

হাসপাতালে জাফর ইকবালের পাশে প্রধানমন্ত্রী
                                  


ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গিয়ে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালকে দেখে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মধ্যে সন্দেহভাজন জঙ্গি হামলায় আহত জাফর ইকবাল ঢাকা সিএমএইচের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটিটে চিকিৎসাধীন। তাকে দেখতে  হাসপাতালে যান প্রধানমন্ত্রী। তিনি এই জনপ্রিয়  লেখকের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন এবং তার পাশে কিছু সময় কাটান। জাফর ইকবালের স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমিন হক এবং মেয়ে ইয়েশিম ইকবাল সে সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, অধ্যাপক জাফর ইকবালের সুস্থতার জন্য যা যা প্রয়োজন সব কিছু করার নির্দেশ দিয়েছেন সরকার প্রধান। “প্রধানমন্ত্রী প্রায় এক ঘণ্টা হাসপাতালে ছিলেন। অধ্যাপক জাফর ইকবালের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেছেন।” বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে ইলেট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের  ফেস্টিভাল চলাকালে জনপ্রিয় লেখক জাফর ইকবালের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালায় এক তরুণ। হামলার পর অধ্যাপক জাফর ইকবালকে নেওয়া হয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী রাতেই তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা সিএমএইচে  নেওয়া হয়। হামলায় জড়িতদের ধরতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন। সে জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে অধ্যাপক ইয়াসমিন হক ঢাকা সিএমএইচে সাংবাদিকদের বলেন, “তিনি এখানটায় নিয়ে আসার জন্য অ্যারেঞ্জ করেছেন। তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে কাজ করেছেন। আমি শুনেছি, তিনি নিজে  ফোন করে শিক্ষকদের কাছ থেকে খোঁজ নিয়েছেন। ”ঢাকা সিএমএইচের চিকিৎসকরা এক ব্রিফিংয়ে বলেন, অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের মাথা, পিঠ ও হাতে ছুরির আঘাতের ছয়টি জখম রয়েছে। তিনি বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠছেন।



   Page 1 of 4
     জাতীয়
জাবিতে ক্লাস নিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
.............................................................................................
মহাজোটের অভাবনীয় জয় ঃ বিশ্ব নেতাদের অভিনন্দন
.............................................................................................
মহান বিজয় দিবস
.............................................................................................
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য সকল দলকে সুমতির পরিচয় দিতে হবে
.............................................................................................
সাফজয়ী কিশোরদের ৪ লাখ করে টাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
বাংলাদেশ প্রশংসিত প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক বিধানগুলো নিয়ে উদ্বেগ
.............................................................................................
এবার যমজ ছেলের বাবা হলেন রেলমন্ত্রী
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রীকে ও সংবাদ সম্মেলনে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া মানবতাবোধ বাংলাদেশের কাছে বিশ্বের শেখার আছে
.............................................................................................
সৌদি থেকে নির্যাতনের শিকার ৮৩ নারী দেশে ফিরেছেন
.............................................................................................
২০১৮-২০১৯ অর্থ বাজেট পাস
.............................................................................................
মাদকবিরোধী অভিযানঃ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উদ্বেগ
.............................................................................................
ছাদ কেটে আমিন জুয়েলার্স এ চুরি
.............................................................................................
মহাকাশে এক টুকরো বাংলাদেশ
.............................................................................................
রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তায় কাজ করছে ১৬০০ মাঝি
.............................................................................................
ডিইউজে নির্বাচনে গনি-শহিদ পরিষদ পূর্ণ প্যানেল বিজয়ী
.............................................................................................
হাসপাতালে জাফর ইকবালের পাশে প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
বিনা ভাড়ায় দশ মাস বসবাস
.............................................................................................
মনিকাকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য কামনা
.............................................................................................
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ৫ বছরের কারাদন্ড খালেদা জিয়ার
.............................................................................................
তাজরিন ট্র্যাজেডির পাঁচ বছর স্মরণ করলো নিহতদের শোকার্ত সহকর্মীরা
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা, বিরল রোগে আক্রান্ত জহিরুল বাঁচতে চায়
.............................................................................................
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যানের এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার
.............................................................................................
বেপরোয়া রোহিঙ্গা রামুতে এক বাঙালি নিহত ॥ উখিয়ায় আহত ৪
.............................................................................................
সাংবাদিক হত্যায় বিচার না হওয়া দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ দশম
.............................................................................................
রোহিঙ্গাদের কারণে বনের ক্ষতি দেড়’শ কোটি টাকা
.............................................................................................
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস
.............................................................................................
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে চাপ দিন : প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
১০ মাসে ২,৯২৬টি সড়ক দুর্ঘটনা নিহত ৩,৬০৮ আহত ৭,৭৮৬
.............................................................................................
প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ
.............................................................................................
বহিঃবিশ্বে সুনাম অর্জন শত বছরের ভাসমান সবজী ক্ষেত
.............................................................................................
জাতীয় নির্মম নৃশংস !
.............................................................................................
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রতিবাদে বামাফা’র মানব বন্ধন
.............................................................................................
শিশুটিকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয় জানালায় ॥ গ্রেফতার ১
.............................................................................................
প্রধান বিচারপতি অস্ট্রেলিয়া গেলেন
.............................................................................................
ডিজিটাল হেল্থ সার্ভিস বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরন সভা
.............................................................................................
ভারতের সঙ্গে ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি
.............................................................................................
নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশে মানবাধিকার খবর ও উৎস রমনাপার্ক
.............................................................................................
বিশ্বের ১৮ নারী নেতার তালিকায় শেখ হাসিনা
.............................................................................................
চাষী নজরুল মরণোত্তর সম্মাননা পেলেন
.............................................................................................
সীমাখালীর চিত্রা নদীর উপর বেইলী ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষের পথে
.............................................................................................
ভাগডোমায় আশ্রায়ন প্রকল্প না করার দাবীতে মানববন্ধন আবু তাহের, দিনাজপুর
.............................................................................................
সড়ক দূর্ঘটনায় স্কুলছাত্র নিহত
.............................................................................................
এনডিপি’র ইফতার মাহফিলে খালেদা জিয়া আদালতের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ
.............................................................................................
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রধানমন্ত্রী কোনোভাবেই সুন্দরবনের ক্ষতি নয়
.............................................................................................
দ্বিতীয়বার আনন্দ পুরষ্কার পেলেন ড. আনিসুজ্জামান
.............................................................................................
বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণ অবশেষে ধর্ষক সাফাত ও সাদমান গ্রেফতার
.............................................................................................
কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলব- প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
সিংড়ায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই সম্পন্ন
.............................................................................................
এক নজরে ঢাকা-দিল্লী ২২ চুক্তি
.............................................................................................
নতুন বছরে দেশ আরও এগিয়ে যাবে... প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

Editor & Publisher: Rtn. Md Reaz Uddin
Corporate Office
53,Modern mansion(8th floor),Motijheel C/A, Dhaka
E-mail:manabadhikarkhabar34@gmail.com,manabadhikarkhabar34@yahoo.com,
Tel:+88-02-9585139
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-9585140
    2015 @ All Right Reserved By manabadhikarkhabar.com    সম্পাদকীয়    Adviser List

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]