বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   জাতীয়
এক সেতুতে দুই দেশঃ ভারত বাংলাদেশ
  Date : 21-03-2021

দিশা বিশ্বাস ও মনোওয়ার ইমাম
প্রথমবারের মতো নদীর ওপর সেতুর দুই প্রান্তে যুক্ত হলো দীর্ঘ সীমান্তের প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও ভারত। গতকাল খাগড়াছড়ির রামগড়ে ফেনী নদীর ওপর দিয়ে ভারতের ত্রিপুরার সাবরুমকে যুক্ত করা ‘বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। ত্রিপুরার আগরতলায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে নয়াদিলি­ থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সেতুর উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে ত্রিপুরার সাবরুমে একটি ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্টেরও ভিত্তি স্থাপন করা হয়। আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ভারত ও ত্রিপুরার জনগণকে শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জানা যায়, ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরামসহ পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ৬ জুন দুই প্রধানমন্ত্রী এ সেতুর ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। ১ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু রামগড়ের সঙ্গে ভারতের ত্রিপুরার সাবরুমকে যুক্ত করেছে। ১৩৩ কোটি রুপি ব্যয়ে টাকার অঙ্কে প্রায় ১৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করেছে ভারতের ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেড-এনএইচআইডিসিএল। এই সেতু থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব মাত্র ৮০ কিলোমিটার। ফলে বন্দর থেকে ত্রিপুরাসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহন অনেক সহজ হয়ে যাবে। অনুষ্ঠানে দেওয়া ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সেতুকে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অব্যাহত সহযোগিতার স্মারক হিসেবে বর্ণনা করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ২০১০ সালে ত্রিপুরার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী আমাকে ফেনী নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করার প্রস্তাব রেখেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের জন্য এই ব্রিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনুরোধটি ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করি। তারপর থেকে বাংলাদেশ সরকার ভারতীয় পক্ষকে সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা করে আসছে। ১০ বছর পর আজ এই সেতুটি একটি বাস্তবতা। ফেনী মৈত্রী সেতু ত্রিপুরা এবং ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোর জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি করবে বলে আশা করছি। আমরা আশা করি মৈত্রী সেতু এই এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের জীবন-জীবিকার উন্নতিতে অবদান রাখবে।

শুধু চট্টগ্রাম পোর্ট নয়, চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও ত্রিপুরাবাসী ব্যবহার করতে পারবে। তিনি বলেন, আমি মনে করি এই সেতু আমাদের দুই দেশের মাঝে শুধু সেতুবন্ধই রচনা করবে না বরং ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখবে। আশা করছি এই সেতু কেবল ভারতের সঙ্গে নয়, নেপাল এবং ভুটানের সঙ্গেও আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করবে। তিনি বলেন, আমরা ভারতকে কানেকটিভিটি দেওয়ার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় একটি নতুন যুগের সৃষ্টি করছি। আমরা এমন একটি অঞ্চলে আছি, যেখানে কানেকটিভিটি চালুর বিষয়ে রক্ষণশীলতা ছিল এবং যেখানে সম্ভাবনার চেয়ে আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য অনেক কম। আমি মনে করি রাজনৈতিক সীমানা ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। ত্রিপুরাবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ভুলিনি- ১৯৭১ সালে কীভাবে আমার জনগণকে আপনারা আশ্রয় দিয়েছিলেন, সমর্থন দিয়েছিলেন, সহযোগিতা করেছিলেন এবং আমরা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছিলাম। কাজেই আজকের দিনে আমি সবাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। মুখ্যমন্ত্রী আপনাকেও আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সেতুকে দুই দেশের মধ্যে নতুন ‘বাণিজ্য করিডর’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এই সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য, মানুষে মানুষে সংযোগের ক্ষেত্রে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। আর এই মৈত্রী সেতুর কারণে ত্রিপুরা হয়ে উঠল চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নর্থ-ইস্টে পৌঁছানোর গেটওয়ে। পরে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 1570
  
  সর্বশেষ
রামিসা ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক ৪ জুন
কক্সবাজারে পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষ: ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, আহত ২
সাবেক এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম রহমতুল্লাহ আর নেই
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বন্ধ ও রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদে হেফাজতের মানববন্ধন

Md Reaz Uddin Editor & Publisher
Editorial Office
Kabbokosh Bhabon, Level-5, Suite#18, Kawran Bazar, Dhaka-1215.
E-mail:manabadhikarkhabar11@gmail.com
Tel:+88-02-41010307
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-41010308