| বাংলার জন্য ক্লিক করুন

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   শেয়ার করুন
Share Button
   প্রবন্ধ
  বড়দিন : মঙ্গল আলোকে উদ্ভাসিত হোক মানবজীবন : শান্তা মারিয়া
  25, January, 2020, 12:57:22:PM

শান্তা মারিয়া , কবি ও সাংবাদিক

আমি যখন খুব ছোট তখন ‘বড়দিন’ কথাটি শুনে মনে মনে ভাবতাম, ২৫ ডিসেম্বর ‘বড়দিন’ কেন? শীতের এই মাসে দিন তো খুবই ছোট। বিকেল পাঁচটা বাজতে না বাজতেই সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। বাবাকে কথাটা জিজ্ঞেস করতে তিনি হেসে বললেন, দিন বড় বা ছোটর ব্যাপার নয়, বড়দিন সত্যিই বড় তার মানব কল্যাণ ও মঙ্গলচিন্তার আদর্শে। পরে ধীরে ধীরে বুঝেছি কথাটার সত্যিকার অর্থ।


ক্রিসমাস স্পিরিট বা বড়দিনের চেতনা হলো সব মানুষের কল্যাণ ও প্রীতির আদর্শ প্রতিষ্ঠা। দুহাজার বছরেরও বেশি সময় আগে বেথেলহেম শহরের প্রান্তে একটি গোশালায় যে আলোকোজ্জ্বল শিশুর জন্ম হয়েছিল তিনি পরবর্তিতে মানবজাতিকে দেখিয়েছিলেন ক্ষমা ও মুক্তির পথ। মহামানব যিশুখ্রিস্টের জন্মদিনকে ঘিরে পঁচিশে ডিসেম্বর সারা বিশ্বের খ্রিস্টান স¤প্রদায়ের মানুষ পালন করেন ক্রিসমাস বা বড়দিন।


বড়দিন মানেই স¤প্রীতি ও ভালোবাসার উৎসব। কালক্রমে ক্রিসমাস হয়ে উঠেছে বিশ্ব সংস্কৃতিরও প্রতীক। বড়দিনের গাছ সাজানো, সান্তাক্লজের কাছ থেকে শিশুদের উপহার পাওয়া, স্নোম্যান, ক্রিসমাস বেল, ক্রিসমাস স্টার, রেইন ডিয়ার আর এলফদের নিয়ে মজার গল্প, ক্রিসমাস কেক এগুলো এখন শুধুমাত্র খ্রিস্টান স¤প্রদায়ের নয় বরং বিশ্ব সংস্কৃতিরই অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


সারাবিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও খ্রিস্টান স¤প্রদায়ের প্রধান উৎসব বড়দিন পালিত হচ্ছে প্রার্থনা, উপহার, আনন্দ ও সম্মিলনের মধ্য দিয়ে। ঢাকার কাকরাইল চার্চ, তেজগাঁওয়ের হলি রোজারি চার্চ বা জপমালা রানীর গির্জার মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎসব রীতিমতো জমকালো। সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা চার্চগুলোতেও পালিত হচ্ছে বড়দিনের উৎসব। যা সারাদেশেই একটা উৎসবের আবহ তৈরি করেছে সব স¤প্রদায়ের মানুষের মধ্যেই।


বাংলাদেশে খ্রিস্ট ধর্মের আদর্শ প্রচারিত হয় প্রধানত চারশ’ বছর আগে। মূলত পর্তুগিজ ও ওলন্দাজ মিশনারিদের মাধ্যমে প্রথম যুগে খ্রিস্ট ধর্মের প্রসার ঘটে। ভারতীয় উপমহাদেশে অবশ্য অনেক আগেই খ্রিস্ট ধর্মের প্রবেশ ঘটেছিল। সেন্ট টমাস ৫০ খ্রিস্টাব্দে ভারতে আসেন।


৫৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি মালাবার উপকূলে একদল মানুষকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করেন। তবে অবিভক্ত বাংলায় খ্রিস্ট ধর্মের প্রচারকদের আগমন অনেক পরে। জেসুইট স¤প্রদায়ের প্রচারকদের মাধ্যমে খ্রিস্ট ধর্মের প্রচারকরা বাংলার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ১৫৭৬ সালে ফাদার অ্যান্টোনি ভাজ ও ফাদার পিটার ডায়াস এবং ১৫৮০ সালে রোমান ক্যাথলিক যাজকরা বাংলায় আসেন।


ষোল শতকে পর্তুগিজ ক্যাথলিক অগাস্টিনিয়ানরা হিজলিতে দুটি চার্চ নির্মাণ করে। বলেশ্বর, ঢাকার তেজগাঁও, হাসনাবাদ, রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম এবং বাকেরগঞ্জে ষোল ও সতের শতকে বেশ কয়েকটি চার্চ নির্মিত হয়। তেজগাঁওয়ের হলি রোজারি চার্চ এবং আরমানিটোলার আর্মেনীয় গির্জা ঢাকার দুটি প্রাচীন খ্রিস্টান উপাসনালয়। ঢাকায় সতেরশ ও আঠারশ শতকে আর্মেনীয় খ্রিস্টান স¤প্রদায়ের মানুষের বসতি গড়ে ওঠে ব্যবসা সূত্রে। ১৭৮১ সালে আর্মেনীয় গির্জাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর আগে এখানে আর্মেনীয় খ্রিস্টান স¤প্রদায়ের একটি কবরস্থান ছিল।


বাংলায় খ্রিস্টান ক্যাথলিক ও প্রোটেসটান্ট উভয় স¤প্রদায়ের মিশনারিরাই জনকল্যাণমূলক কাজ করেছেন। সারা উপমহাদেশেই খ্রিস্টান মিশনারিরা অনেক জনকল্যাণমূলক কাজ করেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পরপরই নির্যাতিত নারী ও যুদ্ধশিশুদের পুনর্বাসনে মাদার তেরিজা প্রতিষ্ঠিত দ্য মিশনারিজ অফ চ্যারিটিজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। অন্যান্য মিশনারি প্রতিষ্ঠানও সেসময় যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠনে এগিয়ে আসে।

 

মুক্তিযুদ্ধের পর সেসময়কার আর্চবিশপ টি এ গাঙ্গুলী বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করে নিজের গলার স্বর্ণের চেইন ও ক্রুশ দান করেছিলেন দেশ গঠনের কাজে ব্যয় করার জন্য। মিশনারি পরিচালিত আশ্রমগুলোতে আশ্রয় জুটেছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার যুদ্ধাহত নারীদের। এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে মিশনারিদের কল্যাণমূলক ভূমিকাও অনবদ্য। সেন্ট গ্রেগরীস, সেন্ট ফ্রান্সিস, নটরডেম কলেজ, হলিক্রস স্কুল ও কলেজের মতো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এদেশে অসংখ্য মেধাবী কৃতী শিক্ষার্থীর জীবনে আলোর বার্তা নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশে সেবামূলক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, অনাথ আশ্রম এখনও পরিচালিত হচ্ছে খ্রিস্টান মিশনারিদের অক্লান্ত পরিশ্রমে।


বাংলাদেশের জনসংখ্যার অধিকাংশ মুসলিম হলেও এদেশ মূলত ধর্মীয় স¤প্রীতি ও ভালোবাসার দেশ। বহুযুগ ধরেই এদেশে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও আদিবাসী ধর্মীয় স¤প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক স¤প্রীতির মধ্যে বাস করছেন। কখনও কখনও কুচক্রী ও স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রে সা¤প্রদায়িক অস্থিরতা দেখা দিলেও এদেশে শান্তিপ্রিয় মানুষের সংখ্যাই অনেক বেশি। ক্রিসমাস বা বড়দিনের উৎসব দেশের সকল ধর্মের মানুষের জন্যই সেবা, ভালোবাসা ও ত্যাগের বার্তা বয়ে আনে।


এবারে বড়দিন এমন একটি সময় পালিত হচ্ছে যখন প্রতিবেশি দেশ ভারতে চলছে সামাজিক অস্থিরতা। যদিও ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যার বিষয়ে কিছু বলার নেই, তবুও বন্ধুপ্রতীম দেশটির সংকট উত্তরণ নিশ্চয়ই আমাদের কাম্য।


ক্রিসমাসের প্রেম ও শান্তির বাণী বিশ্বের সকল দেশের, সকল মানুষের জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসুক। যুদ্ধ নয়, হানাহানি নয়। পরম করুণাময়ের মঙ্গল আলোকে উদ্ভাসিত হোক মানবজীবন। মেরি ক্রিসমাস।

লেখক : কবি, সাংবাদিক, শিক্ষক।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 50        
   আপনার মতামত দিন
     প্রবন্ধ
বড়দিন : মঙ্গল আলোকে উদ্ভাসিত হোক মানবজীবন : শান্তা মারিয়া
.............................................................................................
ঐতিহাসিক বদর দিবসের তাৎপর্য, গুরুত্ব ও শিক্ষা
.............................................................................................
নির্বোধ
.............................................................................................
বাংলাদেশের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক সূচনা ২৬শে মার্চ
.............................................................................................
আজন্ম অধিকার বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার নারী
.............................................................................................
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়
.............................................................................................
ঈদ-উল ফিতরঃ জয়হোক মানবতার
.............................................................................................
বেলা ডুবে যায়, জাগ্রত হও
.............................................................................................
আমাদের ঘুম ভাঙবে কবে!
.............................................................................................
মানবাধিকার
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রী ও রোহিঙ্গানীতি এবং দেশের সংখ্যালঘু ইস্যু
.............................................................................................
পরিবর্তিত জলবায়ু ও আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা
.............................................................................................
একজন নোবেল বিজয়ী বনাম রাষ্ট্রহীন একজাতি এবং কিছু কথা
.............................................................................................
বাংলাদেশে ধর্ষণপ্রবণতা ও প্রতিকার ড. খুরশিদ আলম
.............................................................................................
নবায়নযোগ্য জ্বালানি চাই, কয়লা নয়
.............................................................................................
চৌদ্দ এপ্রিল মানেই পহেলা বৈশাখ?
.............................................................................................
ভালোবাসার পয়লা বৈশাখ
.............................................................................................
নতুন ধারায় আসছে মানবাধিকার খবর
.............................................................................................
বড়দিন বারতা ও তাৎপর্য
.............................................................................................
মানবাধিকার সংস্কৃতির স্বরূপ
.............................................................................................
বিজয় দিবসটি একান্তভাবে বাঙালির
.............................................................................................
বুলবুল চৌধুরী বেঁচে আছেন তার সংস্কৃতি ও মানবতাবাদী কর্মকান্ডে
.............................................................................................
পর্নোগ্রাফি জীবন ধ্বংসের হাতিয়ার
.............................................................................................
বাঙালির দুর্গোৎসব: ইতিহাস ফিরে দেখা
.............................................................................................
বঞ্চিত ও দরিদ্রদের জন্য কোরবানীর পশু বন্টনঃ একটি মডেল উপস্থাপন
.............................................................................................
ঈদ মোবারক! ঈদ আসলো ফিরে খুশির ঈদ, মানবতার ভাঙুক নীদ
.............................................................................................
রোযা: খোদাভীতি ও মানবতাবোধের শ্রেষ্ঠ দর্শন - আবুবকর সিদ্দীক
.............................................................................................
গরম ভাতের পান্তা : আনন্দের না উপহাস
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

Editor & Publisher: Rtn. Md Reaz Uddin
Corporate Office
53,Modern mansion(8th floor),Motijheel C/A, Dhaka
E-mail:manabadhikarkhabar34@gmail.com,manabadhikarkhabar34@yahoo.com,
Tel:+88-02-9585139
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-9585140
    2015 @ All Right Reserved By manabadhikarkhabar.com    সম্পাদকীয়    Adviser List

Developed By: Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD