| বাংলার জন্য ক্লিক করুন

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   শেয়ার করুন
Share Button
   তথ্য - প্রযুক্তি
  রানীনগরে দেড় হাজার বছরের প্রাচীন নিদর্শন!
  2, June, 2016, 8:52:25:PM

মো: ইমরান হোসেন :

ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর সোমপুর বৌদ্ধবিহার, হলুদ বিহার ও ধামইরহাট উপজেলার জগদ্দল বিহারের পর এবার রানীনগর উপজেলার উজালপুরে প্রায় দেড় হাজার বছরের প্রাচীন আরও এরকম চারটি বৌদ্ধ বিহারের সন্ধান পাওয়া গেছে। বিহার ৪টি আবিষ্কার করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষক।

প্রতœতত্ব অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে ব্যক্তি উদ্যোগে এই প্রথম এগুলোর একটিতে খনন কাজও শুরু করা হয়েছে। আর এগুলো আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে জেলার ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন ইতিহাসবিদরা।

রানীনগর উপজেলার একডালা ইউনিয়নের উজালপুর গ্রামে অনুসন্ধানী টিমটি মনোযোগ দিয়ে বিহার আবিস্কারের কাজ করে (২০ এপ্রিল) যাচ্ছেন। প্রতœতত্ত্ববিদ বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা যাদুঘরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবু আল হাসান এর নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি টিম এই খনন কাজ করছে।

জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর ধরে প্রতœতত্ব গবেষক আবু আল হাসান পুরাকির্তী নিদর্শন আবিষ্কারে ব্যাপক গবেষণা কাজ সম্পন্ন করেন। তার গবেষণায় রানীনগর উপজেলার একডালা ইউনিয়নে রাজাপুর ঢিবি, দিঘীর পাড় দ্বীপ, ঘোড়া পাতা ও উজালপুর এই চারটি স্থানে পাল বংশেরও আগের প্রায় দেড় হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন থাকার সম্ভনার তথ্য উঠে আসে। এর পরই তথ্য অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে ব্যক্তিগত অর্থায়নে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় গত ১৭ এপ্রিল  থেকে শুরু করেন খনন কাজ।

আবু আল হাসান জানান, নওগাঁ জেলার বদলগাছি, ধামইরহাট, সাপাহার, নিয়ামতপুরসহ অন্য উপজেলাগুলোতে ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে। তবে জেলার দক্ষিণ নিম্নাঞ্চলের রানীনগর ও আত্রাই এলাকায় অনেক উচু ঢিবি থাকলেও সেখানে কোনো অনুসন্ধান চালানো হয়নি। এমন চিন্তাধারা থেকে ওইসব এলাকা থেকে গত প্রায় দেড় বছর ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে রানীনগর উপজেলার ওই চারটি স্থানে পাল বংশ এবং তার আগের সময়ের প্রাচীন পুরাকির্তীর অস্তিত্তের সন্ধান পাওয়া যায়।

এরপর ২০১৫ সালের জুলাই মাস থেকে উজালপুর গ্রামের ঈদগাহ মাঠের ঢিবি’র পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রাথমিকভাবে এখানে ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে নিশ্চিত হন তিনি। প্রতœতত্ত্ব বিভাগের অনুমতি নিয়ে চলতি বছর ১৭ এপ্রিল থেকে একান্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগে খনন কাজ শুরু করেন আবু আল হাসান। তিনি বলেন, “খননকালে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের আকৃতিতেই অবকাঠামো পাওয়া গেছে। পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও প্রাথমিকভাবে এটি বৌদ্ধদের কোনো জ্ঞান ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। খনন কাজ করতে গিয়ে মাটির নিচে বিহারের অবকাঠামোই বলছে, এটি বৌদ্ধদের ধর্মচর্চার একটি বিদ্যাপিঠ ছিল। কারণ এই বিহারের সাথে জেলার পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের অবকাঠামোর যথেষ্ট মিল রয়েছে। এ ছাড়া খনন কাজ করতে গিয়ে সেখান থেকে চিনামাটির বদনা, বাটি ও মূর্তি পাওয়া গেছে। যেগুলো দেখে সমসাময়িক পাল রাজত্বকালের পূর্বের ইতিহাসের স্বাক্ষ বহন করছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে পুরো খনন কাজ শেষ না করা পর্যন্ত বিহারটি সম্পর্কে সঠিকভাবে কিছু বলা যাবে না।”

খনন কাজ দেখতে ছুটে আসেন ইতিহাস গবেষক ড. পিনাকী ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “এই বিহারগুলো পুরোপুরি উন্মোচিত হলে জেলা তথা দেশের ইতিহাসে নতুন মাত্রার যোগ হবে। এ ধরনের আরও অনেক বিহার ছড়িয়ে আছে। তাই আরও ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন আছে। তবে, এ ধরনের বিহারের খনন অনেক ব্যয় বহুল। তাই ব্যক্তি উদ্যোগে খনন কাজ চালিয়ে যাওয়া খুব কঠিন।” সেই জন্য খনন কাজ চালিয়ে যেতে প্রতœতত্ব অধিদপ্তরের সহযোগিতা চান তিনি।

এদিকে এমন ঐতিহাসিক বিহার আবিষ্কারের খবরে খুশি এলাবাসীও। উজালপুর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুল গণি (৬৫), আলহাজ্ব তফছের আলী (৭০) এবং এই প্রজন্মের ওসমান গনি (৭০) বলেন, শত শত বছর ধরে এই উচু ঢিবি এখানে অবস্থান করছিল। এটি কোনো ইতহাস ঐতিহ্যের নিদর্শন হতে পারে তা তাদের ভাবনায় ছিল না। প্রাথমিকভাবে এই ঢিবির উচ্চতা ছিল ১৫ থেকে ১৭ ফুট পর্যন্ত। পরবর্তীতে সরকারের ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচীর আওতায় এখান থেকে মাটি কেটে ঈদগাহ হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়। বছরে দু’টি ঈদের জামাত পড়ানো শুরু হয়। বর্তমানে এটি কোনো প্রতœতাত্বিক নিদর্শন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে জেনে আমরা আনন্দিত। এজন্য তারা আবিস্কারক প্রতœতত্ববিদ আবু আল হাসানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে ওই এলাকার সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলম একরম প্রতœতত্ব অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতœতত্ব অধিদপ্তর শুধু স্বপ্ন দেখায়, বাস্তবে তারা কিছুই করে না। বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত পতিসর, গান্ধী আশ্রম, পাড়াপুরসহ জেলায় অসংখ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে। প্রতœতাত্বিক অধিদপ্তর এসব নিদর্শন অধিগ্রহণ করলেও দৃশ্যমান কোনো সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। যেটুকু নেয়া হয়েছে তাও মন্থরগতি। যা সাধারণ মানুষের কাছে আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারে না “তিনি এই পুরাকির্তীগুলোতে অর্থ বরাদ্দ করে আন্তরিকতার সাথে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে পারলে একদিকে যেমন প্রাচীন ইতিহাস আজকের প্রজন্ম জানতে পারবে তেমনি নওগাঁ পর্যটন শিল্পেও দ্বার খুলে যাবে বলে দাবি করেন।

প্রতœতত্ব অধিদপ্তরের বগুড়া অঞ্চলের সহকারী কাষ্টডিয়ান মো. জায়েদ বলেন, “উজালপুর গ্রামের ঢিবি খনন করে এখন পর্যন্ত ইটের আকৃতি, বিহারের অবকাঠামো দেখে মনে হচ্ছে, এটি পাল সময় কিংবা তার আগের সময়ের নিদর্শন হতে পারে।” তবে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সরকারি উদ্যোগে আবিষ্কৃত ডিবিগুলো খনন করা হবে কি না, তা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।”



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 561        
   আপনার মতামত দিন
     তথ্য - প্রযুক্তি
এই নিয়ম না মানলে খেলতে পারবেন না পাবজি!
.............................................................................................
তথ্য প্রযুক্তি
.............................................................................................
মহাকাশে যাচ্ছে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’
.............................................................................................
গজমহল ট্যানারী উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২ দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা
.............................................................................................
গুগলে বাংলা নলেজ গ্রাফ চালু
.............................................................................................
আউটসোর্সিংয়ের নতুন খাত খুঁজে পেয়েছি: জুনায়েদ আহমেদ পলক
.............................................................................................
ইয়াহু শেষ, নতুন নাম আলতাবা
.............................................................................................
ভাইবার হোয়াটসএ্যাপ ইমোতে কলরেট বসছে !
.............................................................................................
অনলাইনে কনটেন্ট চুরি ঠেকাতে ডিএমসিএ
.............................................................................................
পর্যটক হারাচ্ছে সুন্দরবন
.............................................................................................
ঘুরে আসুন রূপসী বাংলার সাজেক ভ্যালী থেকে
.............................................................................................
দেশের পুরাকীর্তির ঐতিহ্য রক্ষার্থে ও সৌন্দর্যের বিকাশে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে
.............................................................................................
পুরাকীর্তির আধাঁর ‘মহাস্থানগড়’
.............................................................................................
মালয়েশিয়ায় স্বল্প পুঁজিতে নিরাপদে ব্যবসা ও স্থায়ীভাবে বসবাস
.............................................................................................
ঘুরে আসতে পারেন গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্ক
.............................................................................................
ঘুরে আসতে পারেন প্রকৃতিকন্যা জাফলং
.............................................................................................
রানীনগরে দেড় হাজার বছরের প্রাচীন নিদর্শন!
.............................................................................................
সার্ফিং বাংলাদেশকে তুলে ধরবে সারা বিশ্বে -তথ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
রানীনগরে দেড় হাজার বছরের প্রাচীন নিদর্শন!
.............................................................................................
ঘুরে আসতে পারেন দিল্লীর ঐতিহাসিক স্থান ডলস মিউজিয়ামঃ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

Editor & Publisher: Rtn. Md Reaz Uddin
Corporate Office
53,Modern mansion(8th floor),Motijheel C/A, Dhaka
E-mail:manabadhikarkhabar34@gmail.com,manabadhikarkhabar34@yahoo.com,
Tel:+88-02-9585139
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-9585140
    2015 @ All Right Reserved By manabadhikarkhabar.com    সম্পাদকীয়    Adviser List

Developed By: Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD