| বাংলার জন্য ক্লিক করুন

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   শেয়ার করুন
Share Button
   মানবাধকিারের কথা
  সচেতনতা জরুরি বাল্যবিবাহ ঃ সামাজিক ব্যাধি
  15, February, 2018, 10:14:37:PM

॥ মানবাধিকার খবর প্রতিবেদন ॥
বাল্যকালে বা পূর্ণ বয়স্ক হওয়ার পূর্বে যে বিবাহ সম্পন্ন হয় তাকে বাল্যবিবাহ বলে। বাল্যবিবাহ বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি ভয়াবহ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রামীণ সমাজে এখনও বাল্যবিবাহ হচ্ছে যা সকলেই অবগত। কিন্তু এই বিবাহ বন্ধে আইন থাকলেও নেই তার কার্যকারিতা। আইনের চোখে ধূলো দিয়ে প্রায়ই হচ্ছে এই বিবাহ। বাল্যবিবাহের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সমাজের সর্বস্তরে প্রতিফলিত। মানব সামাজে অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের কারণে সেসব ক্ষতের সৃষ্টি হচ্ছে বাল্যবিবাহ তা  র মধ্যে অন্যতম। জীবন সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়ার আগে একটি মেয়ে বউ হচ্ছে- মা হচ্ছে এবং সংসার জীবনে প্রবেশ করছে। অথচ সমাজের অন্য মেয়েদের মতো শিক্ষিত, স্বাবলম্বী কিংবা সুন্দর জীবন হতে পারত তার। বাল্য বিবাহের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হলো, অপরিণত গর্ভধারণ ও অকালমাতৃত্ব। প্রতি বছর গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসবকালীন সমস্যার কারণে কমপক্ষে ৬০ হাজার অপরিণত মা মারা যায়। বাল্যবিবাহের পরিণতিতে শুধু শিশু অল্প বয়সী নারী বা তার পরিবারই আক্রান্ত হয় না। এতে দেশ হয় অপুষ্টি ও দুর্বল ভবিষৎ প্রজন্মের উত্তরাধিকারী।
বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের কারণ
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে বাল্যবিবাহের কয়েকটি উল্লেøখযোগ্য কারণঃ-
অনটনের সংসারে ব্যয় হ্রাস বা আয় বৃদ্ধির তাড়না থাকে প্রায় সকল অভিভাবকের অন্তরে।
(ক) ভবিষ্যতে `কন্যাদায়` যেন বড় খরচের দায় হয়ে না দাঁড়ায় সেকথা মাথায় রেখে অল্পবয়সে বিয়ে সেরে ফেলতে পারলে একটা "খরচের দায়" কমে গেল!
(খ) বিপরীতে পুত্রের কর্মসংস্থান কিম্বা বহির্গামী প্রবণতাকে অন্তর্মুখী করে সংসারে আটকানোর জন্য দ্রুত বিয়ে দিতে চান। অভিভাবকদের পছন্দমতে অন্ততঃ ৫/৭ বছরের বয়স ব্যবধান মাথায় রেখে স্বাভাবিকভাবেই ১৬/২০বছরের তরুণের জন্য ১১/১৫ বছরের কিশোরী খোঁজেন। তখন ক+খ মিলে গেলে বাল্য বিবাহ আবধারিত হয়ে যায়! ভবিষ্যতে সংসারের উন্নয়নে আর্থিকভাবে অংশগ্রহন করা ছেলেদের জন্য বাধ্যতামূলক, অথচ মেয়েরা স্বামী/শ্বশুরপক্ষ থেকে হাজারো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয় নিজের আয় পিতামাতার সংসারে ব্যয় করতে। সংগত কারণেই অধিকাংশ পিতামাতা ছেলেকে শিক্ষিত ও উপার্জনক্ষম করায় যতটা মনযোগ দেন মেয়ের জন্য ততটা দেননা, বরং তাকে `বিদায়` করতেই আগ্রহী থাকেন! কোনো পিতামাতার এক/একাধিক বড় সন্তান যদি কন্যা হয় তবে তারা বড় হয়ে সংসারের হাল ধরবে এমনটা যেমন পিতামাতা মনে করেন না, তেমনি আমাদের সামাজিক ব্যবস্থাও সে পরিবেশ দেয়না; আবার পিতামাতা অনেক কষ্টে সেটাই করতে চাইলেও বয়সের কারণে একসময় মেয়ের বিয়ে দিতেই হয় এবং তখন মেয়ের আয় থেকে পিতামাতা বঞ্চিত হয়ে যান! দেখা যায় ছোট ছেলেটার এখনো সে বয়স/যোগ্যতা/সামর্থই হয়নি সংসারের হাল ধরার জন্য! কোনো পিতামাতাই চাননা এ অনিশ্চয়তার মুখোমুখী হতে। যৌতূক সমস্যাও অনেক সময় বাল্যবিবাহের কারণ হিসেবে কাজ করে। পুত্রের বাবা মা আশা করেন যে ছেলে বিয়ে দিলে ছেলের স্ত্রী বাপের বাড়ি থেকে যৌতূক হিসেবে যে টাকা পয়সা নিয়ে আসবে তা সংসারের দারিদ্র্য দূর করবে। ইভটিজিং এ দেশের সমাজ ব্যবস্থা এখনও নারীকে পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে পারে না। সমাজের কতিপয় বখাটে ছেলেরা এর জন্য দায়ী। তারা মেয়েদের লক্ষ্য করে নানা ধরণের কটুক্তি করে। তাই মেয়েদের পরিবার তাদের স্কুল-কলেজে দিতে ভয় পায়।  বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ছেলেরা `দোষী হলেও প্রচার ও সামাজিক দৃষ্টি-ভংগীর কারণে কিন্তু বিপদে পড়ে মেয়েরাই বেশী। পিতামাতা মেয়েকে নিয়ে এ বিপদে পড়তে চাননা, তাই মেয়েকে `বিদায়` করে বিপদমুক্ত থাকতে চেষ্টা করেন। এদেশের সমাজে এখনও অনেক কুসংস্কার প্রচলিত। দাদী-নানী পর্যায়ের বৃদ্ধ আত্মীয়দের "নাতবৌ/নাতজামাই" দেখার (অন্তিম) সখ পূরণের জন্য ও অনেক বাল্য বিবাহ সংঘটিত হয়।
অভিভাবকত্বের সমস্যাঃ
পিতামাতার বিচ্ছেদ কিম্বা মৃত্যুর কারণে যে কন্যাশিশু অন্য আত্মীয়ের কাছে ঠাঁই পেয়ে বড় হয় তারা প্রায়ই অযতেœর শিকার হয় এবং কোনো মতে বিদায় করতে পারলেই ঐ আত্মীয় বেঁচে যান। আবার কোনো আত্মীয় সন্তানস্নেহে ঐ কন্যাশিশুকে "মানুষ" করতে চেষ্টা করলে এবং মেয়েটির যেকোন বেঠিক আচরণের কারণে তাকে শাসন করলে অন্য আত্মীয়রা ও মেয়েটি নিজেও সেটাকে "অত্যাচার" মনে করতে থাকে, তখন তাকে "মানুষ" করা খুব কঠিণ হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রেও অভিভাবক তাকে বিদায় করে বাঁচতে চান।
ইভটিজিং ও দারিদ্রতা বাল্যবিবাহের অন্যতম প্রধান কারণ
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হলে ছেলেদের বয়স ২১ বছর এবং মেয়েদের বয়স ১৮ বছর হতে হয়। কিন্তু এই আইন ভঙ্গ করে অসংখ্য বিবাহ হচ্ছে। মেয়েদের বয়স ১৮ বছর হওয়ার আগেই তাদের বিবাহ দেয়া হচ্ছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে ইভটিজিং এবং দারিদ্রতা।
প্রত্যেক বাবা-মায়ের স্বপ্ন থাকে তাদের মেয়েকে লেখাপড়া শেখাবে। আর সেই জন্য তাদের স্কুল-কলেজে পাঠানো হয়। কিন্তু সেই স্কুল-কলেজে যাওয়ার পথে তারা নানা বাঁধার সম্মুখিন হয়। সমাজের কতিপয় বখাটে ছেলেরা এর জন্য দায়ী। তারা মেয়েদের লক্ষ্য করে নানা ধরণের কটুক্তি করে। তাই মেয়েদের পরিবার তাদের স্কুল-কলেজে দিতে ভয় পায়। মেয়েদের স্কুল-কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিতে হয় যাতে তাদের কোন ক্ষতি না হয়। এবং তাদের বয়স ১৮ বছর হওয়ার আগেই বিয়ে দিতে বাধ্য হয়।
বাল্যবিবাহের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে দারিদ্রতা। এটি মানবজীবনের জন্য অভিশাপ স্বরুপ। আর এই অভিশাপ গিয়ে পড়েছে বাংলার নিরহ, অবলা মেয়েদের ওপর। প্রত্যেক মেয়ে চায় লেখাপড়া শিখবে, ভবিষ্যতে তারা পরিবারের জন্য দেশের জন্য কিছু করবে। কিন্তু সকল মেয়েদের আশা পূরণ হয় না। দারিদ্রতা তাদের স্বপ্ন পূরণের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। কারণ তাদের পরিবারের খরচ চালানো সম্ভব হয় না। তাই লেখা পড়ার প্রবল আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও লেখাপড়া করতে পারে না। তাই তাদের পরিবার তাদের বিয়ের বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দিয়ে দেয়।
বাংলাদেশের বর্তমান বাল্যবিবাহ পরিস্থিতি
বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যাগুলোর মধ্যে বাল্যবিবাহ হচ্ছে সবচেয়ে মারাত্মক সমস্যা। বর্তমানে বাল্যবিবাহ এমন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে এটি নারী নির্যাতন ও জনসংখ্যা বিস্ফোরণের অন্যতম কারণ হিসাবে আখ্যায়িত হচ্ছে। বাল্যবিবাহের প্রচলন আছে এমন ২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ২০০৬ সালের আগে প্রায় ৯০ ভাগ বিয়ে ১৮ বছরের আগে হতো। বর্তমানে এর সংখ্যা কিছুটা কমলেও কিছু কিছু এলাকায় এটি বেড়েই চলেছে। দেশে বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছে নারীরা। যে সময় একজন নারীর স্কুলে যাওয়ার কথা সেই সময় তাকে ধর্ম ও সামাজিক নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। লেখাপড়া ও খেলার সময়ে বিয়ে দিয়ে একজন পুরুষের পুতুল খেলার সামগ্রী হিসাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বাল্যবিবাহ বন্ধ হচ্ছে না এর মূল কারণ হচ্ছে আমাদের সংস্কৃতি বিবাহের সংস্কৃতি। তবে বর্তমানে আমরা একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে গড়ে উঠছি। তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের ফলে সারাবিশ্ব ঘরের কাছে এসেছে। ফলে মেয়েরা আগের চেয়ে অনেকে বেশি সুযোগ পাচ্ছে। এতে সে স্বাবলম্বী হতে পারছে। ফলে সচেতন পরিবারে বাল্যবিবাহের সুযোগ থাকছে না। আমাদের দেশে বাল্যবিবাহ গ্রামে বা বিশেষ এলাকায় হচ্ছে। এসব পরিবারের বাবা-মা মনে করে এটি বিয়ের সঠিক সময় মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে। ফলে বাল্যবিবাহ হচ্ছে। অনেক সময় বয়স্ক লোক যৌতুক ছাড়া কম বয়সী মেয়েদের বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এক্ষেত্রে দরিদ্র বাবা-মা তাদের কম বয়সী মেয়েকে বিয়ে দিচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে বিদেশে কাজের কথা বলে বিয়ের শর্তে নারী পাচার করা হচ্ছে। বাবা-মা মনে করে তাদের মেয়ে কাজের জন্য বিদেশে যাচ্ছে কিন্তু তারা বুঝতে পারেন না কি সর্বনাশ করছেন। এ অবস্থার উন্নতিতে পিতা-মাতাকে বাল্যবিবাহের ধ্যানধারণা থেকে বের করে নিয়ে আসতে হবে। সন্তানকে অল্প বয়সে বিয়ে দেবে না। এমন শর্তে কাজের উৎস সৃষ্টি করে দিতে হবে। কাজী যেন বেশি বয়স লিখে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে না পারে সে দিক থেকে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। গ্রাম অঞ্চলে বাল্যবিবাহ বেশি হচ্ছে কারণ এখানে নিরক্ষরতা সামাজিক চাপ ও দরিদ্রের সংখ্যা বেশি। কিছু মানুষ সচেতন হলেও ব্যাপক পদক্ষেপ নেই। নারী মনে করে তার নিজস্ব কোনও পরিচয় নেই। পুরুষের পরিচয়ে সে পরিচিত হবে, ফলে সে তার অধিকার কিংবা সচেতনা মূলক কাজ থেকে অনেক দূরে থাকে। আমাদের দেশের আইনে বলা হচ্ছে ১৮ বছরের পূর্বে একজন নারীর বিয়ে হলে সেটা বাল্যবিবাহ। কিন্তু একবার বাল্যবিবাহ হলে সেটা নিষিদ্ধ করার মতো কোনও আইন নেই অর্থাৎ বিয়ের পরে সেটা বৈধ হয়ে যাচ্ছে। দেশে বাল্যবিবাহের বিবাহের বিভিন্ন কারণ রয়েছে। আমাদের সমাজ একজন মেয়ের জন্মকে সর্বনাশ হিসাবে ধরে নেয়। কম বয়সে কম যৌতুক দিয়ে মেয়ের বিয়ে দিতে পারবে, ফলে নির্দিষ্ট বয়সের আগেই ছোট মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। ছেলেদের ক্ষেত্রে পারিবারিক  সম্পদের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। বাবা-মা শখ করে অল্প বয়সে বিয়ে দেয়। আবার অনেকে মনে করে নিজের আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে হলে নিজেদের সম্পদ নিজেদের মধ্য থেকে যাবে। বর্তমানে বাল্যবিবাহ বন্ধের জন্য বিভিন্ন এনজিও কাজ করে যাচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে এনজিওর সঙ্গে রাষ্ট্রের ঐক্যবদ্ধতার দরকার। আমাদের সবাইকে বসে সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে এবং বাল্যবিবাহ বন্ধের জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে’।
বিয়ের আগে একজন নারীর দেহ মন বিয়ের উপযুক্ত হতে হবে। যদি এই উপযুক্ত সময়ের আগে বিয়ে দেওয়া হয় তাহলে তার দেহ ও মনে নানা রকম খারাপ প্রভাব পড়ে। অল্প বয়সে বিয়ের ফলে একজন নারীকে প্রায়ই যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়। সন্তান ধারনে স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলেও তাকে সন্তান ধারণে বাধ্য করা হয়। যেখানে সে নিজেই একজন শিশু, সেখানে জন্ম নেয় আরও একটি শিশু। আর এই সময় মা ও শিশুটি রোগ শোক ও অপুষ্টিহীনতায় ভুগে এক সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। বিআইটিএ এর একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায় প্রায় ৩২.৭৪ শতাংশ মা শারীরিক সমস্যা এবং ৫১.৫১ শতাংশ অপুষ্টিহীনতায় ভুগছে। সামাজিক কারণে বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। আমাদের কৃষিনির্ভর পুরুষশাসিত সমাজ ব্যবস্থায় কন্যা সন্তান জন্ম হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন অবহেলার শিকার হতে থাকে। অশিক্ষা ও অসচেতনতার কারণে অভিভাবকরা কন্যা সন্তানকে বোঝা মনে করে। তারা মনে করে কন্যা সন্তান ভবিষ্যতে তাদে কোনও কাজে তো আসবেই না বরং বিয়ে দিতে গিয়ে বাড়তি খরচ যেমন যৌতুকসহ নানারকম ঝামেলায় পড়তে হবে। ফলে বাবা-মা অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়াটাকেই যুক্তির কাজ মনে করে। বিআইটিএ-এর একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে দেশের ৬৩.৭২ শতাংশ মানুষ মনে করে বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে অভিভাবক সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দেয়। দেশে ৫৩.১০ শতাংশ বাল্যবিয়ে বাবা-মার কারণে ১০.৬২ শতাংশ আত্মীয় স্বজনের কারণে, ১৩.২৭ শতাংশ নিজের আগ্রহে এবং ১.৭৭ শতাংশ অন্যান্য কারণে বাল্যবিবাহ হচ্ছে। বিয়ের ক্ষেত্রে যে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে সেটিও অনেক সময় মানা হচ্ছে না। শুধু মুখে কলেমা পড়ে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার অনেক সময় যৌতুকের টাকা দিতে না পারলে রেজিস্ট্রেশন পরে করা হবে এ ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে পরবর্তী সময়ে মেয়ে স্বামীর ঘর থেকে পরিত্যক্ত কিংবা তার সঠিক অধিকার না পেলেও আইনের সম্মুখীন হতে পারছে না। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ৩৩ শতাংশ বিয়ে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই সম্পন্ন করা হচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নারী পাচারের ঘটনাও অহরহ ঘটছে। বিয়ে সম্পর্কিত আইন (মেয়েদের জন্য ১৮ ছেলেদের জন্য ২১ বছর থাকলেও দেশের অধিকাংশ জনগণের আইন সম্পর্কে কোনও জ্ঞান নেই। তাদের এই অজ্ঞতা বাল্যবিবাহের সংখ্যা দিন দিন বাড়িয়েই চলছে। একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৬৬.৩৭ শতাংশ মানুষ আইন সম্পর্কে জানে না এবং ২৬.৫৫ শতাংশ আইনটি সম্পর্কে জানে। যারা জানে না তারা বাল্যবিবাহে আগ্রহের পাশাপাশি যারা জানে তাদের মধ্যেও এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশের সব জেলায় বাল্যবিবাহ থাকলেও সবচেয়ে বেশি দেখা যায় রাজশাহী বিভাগের মঙ্গা এলাকায়, চট্টগ্রামের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর, সিলেটের হাওর এলাকায় ও বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকায়। যদি ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত করা হয় তাহলে দেখা যায় বিহারি মুসলিম, নিম্নবিত্ত মুসলিম পরিবার ও মৎস্যজীবী হিন্দু পরিবারে বাল্যবিবাহের প্রবণতা বেশি। তবে খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও হিন্দু সুইপারদের মধ্যে এই প্রবণতা অনেকটা কম। দেশের অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষিত নারী মনে করে ১৮ বছরের আগে বিয়ে ও সন্তান ধারা জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিআইটিএ-এর একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায় ৭৫.২২ শতাংশ নারী মনে করে ১৮ বছরের পর মেয়েদের বিয়ে করা উচিত। এতে তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে পূর্ণতাপ্রাপ্ত হতে পারে। কিন্তু আমাদের সমাজ নারীকে সেই সুযোগ দিচ্ছে না। বর্তমানে বাংলাদেশের অসংখ্য এনজিও বাল্যবিবাহ রোধে কাজ করে যাচ্ছে। তারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ও চর, হাওর এলাকায় বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছে। তবে এক্ষেত্রে শুধু এনজিওগুলোকে একা কাজ করলে হবে না। সবাইকে এ কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
বাল্যবিবাহ রোধে করনীয়
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাল্যবিবাহ একটি সাধারণ ব্যাধি। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য যেখানে বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সেখানে বাল্যবিবাহ ও এর পরিণতি সংক্রান্ত বিষয়ে নিস্পৃহ দৃষ্টিভঙ্গি কোন সচেতন নাগরিকের কাম্য হতে পারেনা। তাই এ অবস্থা উত্তরণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। বাল্যবিবাহ রোধে কার্যকরী কিছু পদক্ষেপ নিচে আলোচিত হলঃ
এক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হয় সরকারকে। কেননা সরকার যদি নমনীয় হয় এবং বাল্যবিবাহ বন্ধে আইনের সঠিক প্রয়োগ করে তাহলে বাল্যবিবাহ রোধ বহুলাংশে সম্ভব। আমাদের সদিচ্ছাই পারে বাল্যবিবাহ রোধ করতে। তাই বাল্যবিবাহ রোধে ব্যপকভাবে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। দারিদ্রতা দূরীকরণের যথেষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কেননা যারা দরিদ্র তাদের মধ্যে বাল্যবিবাহের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। আবার যারা দারিদ্র্য থেকে উঠে এসেছে তারা চেষ্টা করে বাল্যবিয়ে না দিতে। দরিদ্র পরিবারে একজন মেয়েকে বোঝা মনে করা হয় এবং দ্রুত বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ফলে এই মেয়ে পড়ালেখার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামে বলা হয় যে, মেয়ে ঋতুপ্রাপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দাও। এর ফলে বাল্যবিবাহের সংখ্যা বাড়ছে। তাই যৌতূক, অশিক্ষা আর কুসংস্কার এর ন্যায় অনাচার দূর করতে হবে সমাজ থেকে। আমাদের গণমাধ্যমগুলোকেও কার্যকর দায়িত্ব পালন করতে হবে। আগে বাল্যবিবাহ ব্যাপক আকারে হলেও সেটা পত্রিকায় বা গণমাধ্যমে আসত না। ফলে মানুষ এটি সম্পর্ক জানতে পারত না। কিন্তু বর্তমানে গণমাধ্যমগুলোর ইতিবাচক ভূমিকার ফলে অনেক ঘটনা জানতে পাচ্ছি এবং সেই অনুসারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে গণমাধ্যমকে সামাজিক দায়বদ্ধতার দৃষ্টিকোণ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে। পত্র-পত্রিকায় বিভিন্ন কেস স্টাডির মাধ্যমে ও ইলেক্ট্রোনিক মিডিয়ায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান যেমন নাটক, চলচ্চিত্র, টকশো ইত্যাদির মাধ্যমে সচেতন কাযর্ক্রম দৃঢ় করতে হবে। বাল্য বিবাহ রোধে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে সচেতনা ও শিক্ষা। কেননা যখন সবাই সচেতন হবে তখন বাল্য বিবাহ রোধে সবাই ভূমিকা রাখতে পারবে। এছাড়া শিক্ষা হলো নারীদের জন্য অপরিহার্য। শিক্ষিত নারী-ই পারে সমাজের সকল অনিয়মেয় বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে। নারীরা যখন তাদের অধিকার আদায়ের ব্যাপারে সচেতন হবে তখন আশে পাশের মানুষগুলো অন্তত নড়েচড়ে বসবে। কোন কিছু চাপিয়ে দিতে তারা ভাববে।এখন সময় এসেছে নারীদের নিজেদের অধিকার বুঝে নেয়ার। আমাদের পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা যদিও কর্তৃত্বের সুযোগ থেকে পিছিয়ে আছে তথাপি এ গন্ডি থেকে নারীদের নিজে থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বাল্য বিবাহ রোধে নারীদের কেই কার্যকরী ভূমিকা রাখতে হবে। পরিবারে বোঝা না হয়ে নিজেকে শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করতে হবে। মোটকথা বাল্যবিবাহ বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এবং সচেতন করতে হবে পিতা-মাতাকে, বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিতে হবে। তা হলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা যাবে।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 109        
   আপনার মতামত দিন
     মানবাধকিারের কথা
মানবসেবায় মানবাধিকার খবরের এ মহতি উদ্যেগে বিত্তবানদের পাঁশে থাকার আহবান।
.............................................................................................
যেন ধর্ষিত হওয়া এদেশে নারী ও শিশুই অপরাধ
.............................................................................................
ধর্ষকের উল্লাস ধর্ষিতার কান্না, আমি অন্ধ আমি বোবা
.............................................................................................
নারী অঙ্গন সীমা ভিন্নধর্মী উদ্যোগে সফল নারী উদ্যোক্তা!
.............................................................................................
সাদিয়া রহমান সাথীর অসামান্য সাফল্য
.............................................................................................
সচেতনতা জরুরি বাল্যবিবাহ ঃ সামাজিক ব্যাধি
.............................................................................................
বাঁচতে চায় জুঁই
.............................................................................................
নারী ও শিশু উদ্ধারে অন্যতম সহযোগিতা দান কারী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যানের সাথে সম্পাদক
.............................................................................................
শিলার পাশে উত্তরা ইউনিভার্সিটি
.............................................................................................
৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সম্মানিত পাঠকের প্রত্যাশা ও আমাদের প্রাপ্তি
.............................................................................................
মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত মানবাধিকার খবরের নতুন অফিস উদ্ভোধন
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

Editor & Publisher: Rtn. Md Reaz Uddin
Mobile:+88-01711391530, Email: md.reaz09@yahoo.com Corporate Office
53,Modern mansion(8th floor),Motijheel C/A, Dhaka
E-mail:manabadhikarkhabar@gmail.com,manabadhikarkhabar34@yahoo.com,
Tel:+88-02-9585139
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-9585140
    2015 @ All Right Reserved By manabadhikarkhabar.com    সম্পাদকীয়    Adviser List

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]