| বাংলার জন্য ক্লিক করুন

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   শেয়ার করুন
Share Button
   সম্পাদকীয়
  প্রতিষ্ঠিত হোক শ্রমজীবিদের অধিকার
  1, May, 2017, 10:27:5:PM


১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস, যা বিশ্ব পরিমন্ডলে ‘মহান মে দিবস’ বা শ্রমিক দিবস হিসেবে গুরুত্বসহকারে পালিত হচ্ছে। মে দিবস এলেই আমাদের সামনে ভেসে ওঠে ঘর্মাক্ত মেহনতি-শ্রমজীবী মানুষের প্রতিচ্ছবি। আর এই শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের প্রশ্নটিও সাথে সাথে উঠে আসে এই ঐতিহাসিক দিনে। এই দিবসের তাৎপর্য অনেক, এর পেছনে রয়েছে একটি রক্ত¯œাত ইতিহাস। ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে ৮ ঘন্টা শ্রম দিবস, মজুরী বৃদ্ধি, কাজের উন্নততর পরিবেশ ও শ্রমের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠা করার আন্দোলনে আত্মহুতি দান করেছিলেন শ্রমিকরা। ১ মে তারিখে বিভিন্ন দাবিতে ধর্মঘট সমাবেশে পুলিশের গুলি বর্ষণে ৬ জন শ্রমিক প্রাণ হারায়। এর প্রতিবাদে পরদিন হে মার্কেটে শ্রমিকরা মিলিত করে কারখানার মালিকরা সেখানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এবং এতে ৪ শ্রমিক নিহত হয়। শ্রমিকদের নিয়ে আন্দোলন করার দায়ে আগস্ট স্পাইস নামে এক শ্রমিক নেতাকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল সোশ্যালিষ্ট কংগ্রেসে ১ মে শ্রমিক দিবস হিসেবে ঘোষিত হয় এবং তখন থেকে অনেক দেশে দিনটি শ্রমিক শ্রেণী কর্তৃক উদ্যাপিত হয়ে আসছে। রাশিয়া এবং পরবর্তীতে আরো কয়েকটি দেশে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংগঠিত হবার পর মে দিবস এক বিশেষ তাৎপর্য অর্জন করে। জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শাখা হিসেবে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ইন্টারন্যাশনাল লেবার অরগানাইজেশন বা আইএলও) প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের অধিকার সমূহ স্বীকৃতি লাভ করে। আইএলও কতগুলো নিয়মকানুন প্রতিষ্ঠা করে এবং সকল দেশের শিল্প মালিক ও শ্রমিকদের তা মেনে চলার আহ্বান জানায় এবং এভাবে শ্রমিক ও মালিকদের অধিকার সংরক্ষণ করার চেষ্টা করে। বাংলাদেশ আইএলও কর্তৃক প্রণীত নীতিমালায় স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। বাংলাদেশে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে মে দিবস পালিত হয়ে আসছে। রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার প্রধান, বিরোধীদলীয় নেতা এবং সংশ্লিষ্ট শ্রম মন্ত্রণালয় শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বাণী দিয়ে থাকেন। মে দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার জন্যে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র বা প্রবন্ধ কিংবা বিশেষ নিবন্ধন প্রকাশ করে। মাথায় রঙ-বেরঙের কাপড় বেঁধে নানা রঙের ফেস্টুনসহ শ্রমিকরা মিছিল শোভাযাত্রা বের করে, বেতার ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া বিশেষ অনুষ্ঠানাদির ব্যবস্থা করে। বাংলাদেশে বিভিন্ন পেশাজীবী, শ্রমজীবী এবং সামাজিক-সাংষ্কৃতিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি পালন করে থাকে। দেশের সংবাদপত্র ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এই সকল সভা-সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের খবর গুরুত্বসহকারে প্রচার করে থাকে। বাংলাদেশ মে দিবস পালনের ক্ষেত্রে মোটেও পিছিয়ে নেই। এ দেশে ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৩৮ সালে নারায়ণগঞ্জে প্রথম মে দিবস পালিত হয়। তারপর পাকিস্তান আমলেও মে দিবস যথেষ্ঠ উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে হাজার হাজার শ্রমিক অংশগ্রহণ করে এবং দেশ মাতৃকার জন্য শহীদ হয়। ১৯৭২ সালে ১ মে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১ মে-কে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা সহ রাষ্ট্রপতি আদেশ ২৭(ক) ধারা মোতাবেক এ দেশের সকল ব্যাংক, বীমা, শিল্প-কারখানা, রেল, নৌ-পরিবহনসহ বৈদেশিক বাণিজ্যের সিংহভাগ রাষ্ট্রায়ত্ব ঘোষণা করেন।
এবারের মে দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘শ্রমিক-মালিক গড়ব দেশ; এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’ মে দিবস উদ্যাপনের অংশ হিসেবে এ বছর সরকার প্রথমবারের মতো শ্রমিকদেও মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাসহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিল থেকে শ্রমিকদের মেধাবী সন্তানদের মধ্যে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
শ্রমিকরা যাতে সত্যিকার অর্থেই তাদের ন্যায্য পাওনাদি পায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শ্রমিক-মালিকের স্বার্থ এক ও অভিন্ন হতে হবে। প্রতিষ্ঠিত হোক শ্রমজীবিদের মানবাধিকার। এবারের মে দিবসে এটাই হোক লক্ষ্য।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 100        
   আপনার মতামত দিন
     সম্পাদকীয়
মহান বিজয়ের মাসে শপথ হোক মানবাধিকার সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ার
.............................................................................................
১০ নভেম্বর নূর হোসেন দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধা
.............................................................................................
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান হোক
.............................................................................................
ঈদ হোক মানবতার কল্যাণে সুখের বারতা
.............................................................................................
প্রতিষ্ঠিত হোক শ্রমজীবিদের অধিকার
.............................................................................................
মানবাধিকার ও শান্তিতে উদ্ভাসিত হোক বিশ্ব মানবতা
.............................................................................................
নারীর ক্ষমতায়ন ও অভিজ্ঞতাকে মানুষের সেবায় কাজে লাগাতে হবে
.............................................................................................
মানবাধিকার খবরকে একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রদীপ ভট্টাচার্য জঙ্গি হামলা উন্নয়ন ও মানবাধিকারের উপর চরম আঘাত
.............................................................................................
সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই
.............................................................................................
দেশে সঠিক মানবাধিকার নেই গভর্নমেন্ট বাই দ্যা পুলিশ, ফর দ্যা পুলিশ, অব দ্যা পুলিশ -ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

Editor & Publisher: Rtn. Md Reaz Uddin
Mobile:+88-01711391530, Email: md.reaz09@yahoo.com Corporate Office
53,Modern mansion(8th floor),Motijheel C/A, Dhaka
E-mail:manabadhikarkhabar@gmail.com,manabadhikarkhabar34@yahoo.com,
Tel:+88-02-9585139
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-9585140
    2015 @ All Right Reserved By manabadhikarkhabar.com    সম্পাদকীয়    Adviser List

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]