মোঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- দৈনিক আজাদীর সাবেক প্রধান প্রতিবেদক, দৈনিক সমকাল ও দৈনিক যায়যায়দিনের সাবেক চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন চৌধুরীর ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হচ্ছে।
তিনি ১৯৫৬ সালের ৯ নভেম্বর কক্সবাজারে জন্মগ্রহণ করেন। আমৃত্যু সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত এই কলাম যোদ্ধা কক্সবাজার সরকারি কলেজে অধ্যয়নকালে ১৯৭৪ সালে ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’-এর কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে ‘দৈনিক আজাদী’র কক্সবাজার প্রতিনিধি হিসেবে কাজের পাশাপাশি কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত ‘সাগরবাণী’, ‘সাপ্তাহিক কক্সবাজার’ ও ‘কক্সবাজার বার্তা’র প্রকাশনায় যুক্ত ছিলেন।
১৯৮১ সালের ১ এপ্রিল তিনি ‘দৈনিক আজাদী’র স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে চট্টগ্রামে আসেন এবং ২০০৫ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সিনিয়র রিপোর্টার থেকে প্রধান প্রতিবেদকের দায়িত্ব পালন করেন। দুই যুগেরও বেশি সময় আজাদীতে কর্মরত থাকার সুবাদে তিনি "আজাদীর হেলাল" হিসেবে ব্যপক পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ‘দৈনিক সমকাল’-এর বিশেষ প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান হিসেবে যোগদান করে ২০০৭ সালের ১৬ মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে তিনি ‘দৈনিক যায়যায়দিন’-এর ব্যুরো প্রধান হিসেবে যোগদান করেন এবং জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত এই পত্রিকাতেই কর্মরত ছিলেন।
সাংবাদিকতা পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের দুই মেয়াদে (১৯৯৫-৯৬ এবং ১৯৯৭-৯৮) সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯৯-২০০০ মেয়াদে সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং বিভিন্ন সময়ে যুগ্ম-সম্পাদক, সাংস্কৃতিক ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও কক্সবাজার সাংবাদিক সমিতির বিভিন্ন পদেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি ১৯৯৬-৯৮ মেয়াদে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন রিপোর্টার স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সচিব, কয়েক মেয়াদে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের দৈনিক আজাদী ইউনিটের প্রধান এবং "থ্যালাসেমিয়া সেবা কেন্দ্র বাংলাদেশ"-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।
তাঁর বড় সন্তান ড. তাসনিম উদ্দীন চৌধুরী চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর হিসেবে কর্মরত আছেন।
তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার বাদ আছর হযরত মিসকিন শাহ (র:) কবরস্থানে খতমে কুরআন ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।