মােঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা:- পুলিশ বাহিনীতে ‘সৎ, যোগ্য ও দক্ষ’ কর্মকর্তাদের পদায়নে এবার প্রথমবারের মতো একটি সুনির্দিষ্ট ‘ফিটলিস্ট’ (বাছাই তালিকা) তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পদায়নে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই মূলত এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
যেভাবে কাজ করবে বাছাই প্রক্রিয়া:
- কমিটি গঠন: পদায়নের জন্য কর্মকর্তা বাছাই করতে দুইটি পৃথক কমিটি গঠন করা হচ্ছে। দুইটি কমিটিরই প্রধান থাকবেন একজন অতিরিক্ত আইজিপি।
- এসপি ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তা: পুলিশ সুপার (এসপি) থেকে শুরু করে তদূর্ধ্ব পদের কর্মকর্তাদের যোগ্যতার মানদণ্ড যাচাই করবে ৬ সদস্যের একটি কমিটি।
- পরিদর্শক/ওসি পদ: ইন্সপেক্টর বা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদের সদস্যদের ফিটলিস্ট প্রস্তুত করতে কাজ করবে অন্য দলটি।
- ২০০ নম্বরের মূল্যায়ন: কর্মকর্তাদের সততা, কর্মদক্ষতা, বার্ষিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন ও অন্যান্য সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে মোট ২০০ নম্বরের স্কেলে যাচাই করে এই ফিটলিস্টে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
যেসব পদে অগ্রাধিকার পাওয়া যাবে:
পুলিশ সুপার (এসপি), থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ডিআইজিসহ গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো পদে পদায়নের ক্ষেত্রে প্রথমে ফিটলিস্টে থাকা কর্মকর্তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দুই ধাপে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।
কেন এই নতুন উদ্যোগ?
পুলিশের পদায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই `চুজ অ্যান্ড পিক` এবং রাজনৈতিক বা আঞ্চলিক প্রভাব খাটিয়ে পদায়নের নানা অভিযোগ ছিল। এর আগে লটারির মাধ্যমে কিংবা বিভিন্ন ‘পুলে’ ভাগ করে পদায়নের যে চেষ্টা করা হয়েছিল, তা মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সঠিক ফলাফল আনতে পারেনি। যার ফলে নীতিনির্ধারকরা লটারি ব্যবস্থা থেকে সরে এসে একটি স্বচ্ছ ও ধারাবাহিক ফিটলিস্ট পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মূলত জনপ্রশাসন ক্যাডারে ডিসি নিয়োগের মতো প্রক্রিয়ার আদলেই পুলিশ বাহিনীতেও এই মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে, যাতে মাঠপর্যায়ে কোনো কর্মকর্তা পদায়ন পাওয়ার পর বিতর্ক বা সিদ্ধান্ত বদলের পরিস্থিতি তৈরি না হয়।