| |
| কুড়িগ্রামে টানা লোডশেডিং; ২৪ ঘণ্টায় ৬-৭ ঘণ্টাও মিলছে না বিদ্যুৎ, জনজীবন বিপর্যস্ত |
| |
|
|
|
|
|
|
|
| |
| |
|
| |
| |
| আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:- কুড়িগ্রামে টানা লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় অনেক এলাকায় ৬ থেকে ৭ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ সরবরাহ মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকেরা। দিনের পাশাপাশি গভীর রাতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার লাখো মানুষ।স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। অনেক এলাকায় দিনে ৮ থেকে ১০ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। কখন বিদ্যুৎ আসবে, আবার কখন চলে যাবে—তা আগে থেকে বোঝার উপায় নেই। ফলে গৃহস্থালি কাজ থেকে শুরু করে শিক্ষা কার্যক্রম, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।এর আগে কুড়িগ্রামে বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ছিল, ‘কারেন্ট এই আসে, এই যায়’, অনেক সময় ১০ মিনিটও বিদ্যুৎ থাকে না। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিদ্যুৎনির্ভর দোকানপাট, ওয়ার্কশপ, কম্পিউটার ও ফটোকপি ব্যবসা, সেলুনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। অনেক পরিবারে রাতে ঠিকমতো ঘুমানো সম্ভব হচ্ছে না। ঘরে বৈদ্যুতিক পাখা ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় সেগুলো কোনো কাজে আসছে না।বিদ্যুৎ সংকটে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরাও। রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার প্রস্তুতি ও নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ইন্টারনেটনির্ভর কাজ, ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন ব্যবসা ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অনলাইনভিত্তিক কাজের সময়সূচি ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় পানির মোটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে কোথাও কোথাও বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহেও সমস্যায় পড়ছেন বাসিন্দারা।স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত পরিশোধ করেও যদি দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না পাওয়া যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। তারা দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।ভুক্তভোগীদের দাবি, চলমান সংকট নিরসনে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হবে।এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কুড়িগ্রাম জেলা শাখার এজিএম বলেন, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। এর প্রভাব কুড়িগ্রাম জেলার সব উপজেলাতেই পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ সরবরাহও স্বাভাবিক হয়ে আসবে।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি কুড়িগ্রামের গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
|
| |
|
|
|