মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা : বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণার মাত্র এক দিনের মাথায় সাধারণ ও নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর আসছে। আবাসিকের প্রথম ও নিম্ন ধাপের গ্রাহকদের বাড়তি দামের চাপ থেকে রেহাই দিতে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের আবেদন করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। ফলে এই দুই শ্রেণীর গ্রাহকেরা আগের দামেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন। আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যেই বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এই বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, সব বিতরণ কোম্পানির পক্ষ হয়ে পিডিবি দুই শ্রেণীর গ্রাহকের দাম প্রত্যাহারের এই আবেদনটি করেছে। কমিশন বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনায় নিয়ে ইতোমধ্যে প্রতিটি কোম্পানির সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা শুরু করেছে এবং দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির চাপ
গত বুধবার পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯.৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩.৯৬ শতাংশ এবং গ্রাহক বা খুচরা পর্যায়ে গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়, যা চলতি জুন মাস থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
এই ঢালাও দাম বৃদ্ধির ফলে গ্রামের প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ চরম আর্থিক চাপের মুখে পড়েন। কারণ, মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের প্রায় ৬৫ শতাংশই এই দুই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।
স্বস্তি পাচ্ছেন যে দুই শ্রেণীর গ্রাহক
পিডিবির প্রস্তাবটি গৃহীত ও সংশোধিত হলে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের একটি বিশাল অংশ বাড়তি বিলের হাত থেকে বাঁচবেন:
-
লাইফলাইন শ্রেণী (০-৫০ ইউনিট): এই শ্রেণীর গ্রাহকেরা সাধারণত বাসায় একটি ফ্যান এবং একটি বা দুটি বাতি ব্যবহার করেন। নতুন মূল্যে তাদের প্রতি ইউনিটে ৬৯ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল, যা কার্যকর হলে মাসে বিল বাড়ত ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা। দাম প্রত্যাহার হলে তারা আগের মতোই প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৬৩ পয়সা দরে বিল দিতে পারবেন।
-
প্রথম ধাপ (০-৭৫ ইউনিট): এই শ্রেণীর গ্রাহকদের নতুন মূল্যে প্রতি ইউনিটে ৯২ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল, যার ফলে মাসে বিল বাড়ত প্রায় ৬৯ টাকা। সংশোধনীর পর তারা আগের নির্ধারিত রেট প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ২৬ পয়সা দামেই বিদ্যুৎ পাবেন।
উল্লেখ্য, লাইফলাইন শ্রেণীর গ্রাহকদের দাম না বাড়ানোর জন্য শুরুতেই পিডিবি প্রস্তাব করেছিল। তবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ভিন্ন প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে দাম বাড়ানো হয়েছিল, যার ফলে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের কাছ থেকে বছরে অতিরিক্ত ৭৮১ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা তৈরি হয়। তীব্র জনঅসন্তোষ ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত গ্রাহকস্বার্থ রক্ষায় এই বাড়তি দাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিইআরসি।