মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা : গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এক বড় ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগের প্রায় ১ হাজার ২০০ নেতা-কর্মী ও সমর্থক আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেছেন।
গতকাল বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সদর উপজেলার নিজড়া ইউনিয়নের জাঙ্গাল বাজার এলাকায় এ উপলক্ষে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ছানোয়ার হোসেন মোল্লা।
ফুল দিয়ে বরণ ও প্রধান অতিথি
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য কে এম বাবর। তাঁর হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ছানোয়ার হোসেন মোল্লা এবং নিজড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নূর ইসলাম শেখ। তাঁদের সঙ্গে দলটির প্রায় ১ হাজার ২০০ কর্মী-সমর্থকও একযোগে বিএনপিতে যোগ দেন।
নিজড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় নবাগতদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
কেন এই দলবদল? (নেতৃবৃন্দের বক্তব্য)
-
ছানোয়ার হোসেন মোল্লা জানান:"বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিজড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি দুইবার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। কিন্তু প্রথমবার ভোটগ্রহণের মাত্র তিন দিন আগে বিভিন্ন চাপ ও প্রভাবের মাধ্যমে আমাকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। দ্বিতীয়বারও নানা কৌশল ও অনিয়মের মাধ্যমে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তৎকালীন সময়ে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে সাধারণ নেতা-কর্মীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। অথচ বর্তমান সংসদ সদস্য কে এম বাবর ভাই অত্যন্ত সহজ-সরল ও জনবান্ধব মানুষ। তাঁকে ডাকলেই পাওয়া যায়, তিনি সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তাঁর নেতৃত্ব ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই আমি বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
-
"বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিজড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি দুইবার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। কিন্তু প্রথমবার ভোটগ্রহণের মাত্র তিন দিন আগে বিভিন্ন চাপ ও প্রভাবের মাধ্যমে আমাকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। দ্বিতীয়বারও নানা কৌশল ও অনিয়মের মাধ্যমে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তৎকালীন সময়ে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে সাধারণ নেতা-কর্মীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। অথচ বর্তমান সংসদ সদস্য কে এম বাবর ভাই অত্যন্ত সহজ-সরল ও জনবান্ধব মানুষ। তাঁকে ডাকলেই পাওয়া যায়, তিনি সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তাঁর নেতৃত্ব ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই আমি বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
- নূর ইসলাম শেখ জানান: এলাকার উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই তাঁরা বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়া
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিকদার শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে বলেন, ছানোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে এই ১ হাজার ২০০ নেতা-কর্মী ও সমর্থক একযোগে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। যোগদানের পর তাদের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য কে এম বাবরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের উপস্থিতি
বর্ণাঢ্য এই যোগদান অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন:
- সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিকদার শহিদুল ইসলাম
- বিএনপি নেতা ফজলুল কবির দাড়া
- পৌর বিএনপির সভাপতি শেখ হাচিবুর রহমান
- বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী।
এছাড়া অনুষ্ঠানটিতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।