মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা : দেশে আবারও বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম। এবার পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বিইআরসির নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম ১৬.৬৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বুধবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এই ঘোষণা দেন। কমিশনের আদেশ অনুযায়ী, চলতি জুন মাসের বিল থেকেই এই নতুন মূল্যহার কার্যকর করা হবে।
ইউনিট প্রতি দামের পরিবর্তন:
বিইআরসির তথ্য অনুযায়ী, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দামের পরিবর্তনগুলো নিচে দেওয়া হলো:
-
পাইকারি পর্যায়: প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৭ টাকা।
-
খুচরা পর্যায়: প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১০ টাকা ৬৩ পয়সায়।
-
সঞ্চালন মূল্যহার (হুইলিং চার্জ): বিদ্যুতের সঞ্চালন মূল্যহারও বিদ্যমান ৩১.৩৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩৮.৮৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও সরকারি ভর্তুকি:
বিইআরসি জানিয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্রয় ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয় এবং সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে এই মূল্যবৃদ্ধির পরও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ঘাটতি পূরণে সরকারকে বছরে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।
এর আগে গত মে মাসের শুরুতে পিডিবি, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ, ডেসকো, ডিপিডিসি, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ওজোপাডিকো ও নেসকো বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব জমা দেয়। সেসব প্রস্তাবের ওপর গত ২০ ও ২১ মে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
সাধারণ মানুষের উদ্বেগ:
বিদ্যুতের এই নতুন মূল্যহার নিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজধানীর মালিবাগের বাসিন্দা কবির হোসেন তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
"সব কিছুর দাম বাড়ছে, কিন্তু সেই অনুপাতে মানুষের আয় বাড়ছে না। এভাবে চলতে থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হলে সেটি বুঝি, কিন্তু অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ব্যয় বেড়ে থাকলে তার দায়ও কি সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হবে?"
বিশেষজ্ঞদের অর্থনৈতিক আশঙ্কা:
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির এই প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ বিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর ফলে শিল্প উৎপাদন ব্যয়, সেচ কার্যক্রম, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। ফলস্বরূপ, ইতিমধ্যেই মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর নতুন করে আর্থিক চাপ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।