মােঃজানে আলম সাকী, ঢাকা : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন আসামিদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে করা বক্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভারতের একটি আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভারতের শিলিগুড়ি সাইবার থানায় রিংকি চ্যাটার্জী সিং নামের একজন আইনজীবী এই মামলাটি দায়ের করেন। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
মমতার বিস্ফোরক দাবি ও অভিযোগের পটভূমি
গত মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলা এলাকায় আয়োজিত এক প্রতিবাদী কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক বিস্ফোরক দাবি করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে পলাতক একাধিক অভিযুক্ত ব্যক্তি মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করার পর রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাদের গ্রেপ্তার করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, এই গ্রেপ্তারের পর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নাকি তাকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন যেন বিষয়টি তিনি প্রকাশ না করেন।
যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি, তবে সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহ থেকে ধারণা করা হচ্ছে—তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় ঘটে যাওয়া বহুল আলোচিত `ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি` হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গটিই তুলে ধরেছিলেন।
মামলার মূল অভিযোগসমূহ
মামলাকারী আইনজীবী রিংকি চ্যাটার্জী তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধরনের মন্তব্য সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মামলার মূল এজাহারে বলা হয়েছে:
-
রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে।
-
কূটনৈতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব: বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যকার সুসম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ও বিরূপ পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
-
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাত: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জনসভা ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীসহ একাধিক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যা জনমনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অবিশ্বাস তৈরির শামিল।
মামলার বাদীর বক্তব্য
মামলাকারী আইনজীবী রিংকি চ্যাটার্জী সিং সংবাদমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশ সরকার কিংবা নিহত ওসমান হাদির পরিবারের পক্ষ থেকেও এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ভারতের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। এমতাবস্থায় এই ধরনের মন্তব্য দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেবলই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।