মােঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা। বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় একের পর এক নতুন তথ্য ও অভিযোগ সামনে আসছে। যাকে বিশ্বাস করে ব্যবসা দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যাকে আপনজনের মতো বাড়িতে ডেকে এনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আপ্যায়ন করা হয়েছিল, সেই বন্ধু দ্বীপকে ঘিরেই এখন তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, দ্বীপ কি শুধুই একজন বন্ধু, নাকি এই ঘটনার নেপথ্যে তার কাছে রয়েছে আরও গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য? সে কারও নির্দেশে কাজ করছিল কি না, কিংবা তাহসিফের মৃত্যুর আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে সে কতটা জানে—এসব বিষয় এখন তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া জরুরি।
তাহসিফের বাবার দায়ের করা মামলায় দ্বীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় নেওয়া হলে তার বক্তব্যে বিভিন্ন অসংগতি ও পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছিল, দ্বীপের দেওয়া সব বক্তব্য বিশ্বাস করা হচ্ছে না; বরং যেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে, সেগুলোই তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, তাহসিফের মৃত্যুর আগে ও পরের ঘটনাগুলো নিয়ে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সুস্থ-সবল একজন মানুষ মায়ের কাছ থেকে বের হয়ে আর ফিরে এলেন না—কী ঘটেছিল তার সঙ্গে? কেন এমন পরিণতি হলো? সেই রাতের প্রকৃত ঘটনা কী, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এরই মধ্যে তাহসিফকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও নেতিবাচক বক্তব্য সামনে আসছে। এমনকি মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলার চেষ্টার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়। তাহসিফের বাবা দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট এলাকাটিতে তাহসিফ এর আগে কখনো যাননি।
তাহলে প্রশ্ন উঠছে, যে এলাকায় তাহসিফের আগে যাওয়ার কথা নয়, সেই নির্জন এলাকায় তিনি কীভাবে গেলেন? বন্ধু দ্বীপই বা কী বলে তাকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল? সেখানে যাওয়ার উদ্দেশ্য কী ছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।
আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, তাহসিফকে সেখানে রেখে দ্বীপ কেন একা বাসায় ফিরে গেল? যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে সে কেন তাহসিফের পরিবারকে বিষয়টি জানাল না? কেন দ্রুত পুলিশকে অবহিত করা হলো না? একজন বন্ধুকে ওই অবস্থায় রেখে ফিরে আসার পেছনে কী কারণ ছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তাহসিফের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের পরিবর্তে নানা ধরনের বক্তব্য ও অভিযোগ সামনে এনে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তবে কারও বক্তব্য বা অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আগেভাগে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। দ্বীপের বক্তব্য, তাহসিফের পরিবারের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-প্রমাণ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এখন জনমনে একটাই প্রত্যাশা—তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হোক।
দ্বীপের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় কি না, সেই রাতের ঘটনাপ্রবাহে তার প্রকৃত ভূমিকা কী ছিল এবং তাহসিফের মৃত্যুর পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তেই বেরিয়ে আসতে হবে।
তাহসিফের পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়, প্রকৃত ঘটনা যেন আড়ালে না থাকে এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন—এটাই সবার প্রত্যাশা।