মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- কক্সবাজার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনের লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে ছিনতাইকারী, মাদকসেবী, বিভিন্ন অপরাধের আসামি ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ মোট ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ২ জন ছিনতাইকারী, ৪ জন মাদকসেবী, ধর্তব্য অপরাধে ৭ জন এবং ওয়ারেন্টভুক্ত ২ জন আসামি। পৌরসভা ও ইউনিয়ন এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়
১. ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ জন
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—
১. মো. শাকিল (১৮), পিতা—মৃত মুন্না, মাতা—জোসনা আক্তার। ঠিকানা—দক্ষিণ আদর্শগ্রাম, ১ নম্বর ওয়ার্ড, ঝিলংজা ইউনিয়ন, কক্সবাজার সদর, কক্সবাজার।
২. আব্রাহাম আলভী রাফি (১৯), পিতা—আব্দুর রহিম। ঠিকানা—দক্ষিণ মিঠাছড়ি, ১ নম্বর ওয়ার্ড, রামু, কক্সবাজার।
২. মাদকসেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪ জন
এ শ্রেণিতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—
১. মো. জোবায়ের (২৫), পিতা—ছবির আহমদ। ঠিকানা—সমিতিপাড়া, ৯ নম্বর গলি, ১ নম্বর ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা।
২. মো. মোজাম্মেল (৩০), পিতা—মৃত আবুল হোসেন, মাতা—টুলু বেগম। স্থায়ী ঠিকানা—বনগ্রাম, আবুল হোসেনের বাড়ি, ১ নম্বর ওয়ার্ড, খেতুপাড়া ইউনিয়ন, সাঁথিয়া, পাবনা। বর্তমান ঠিকানা—জিয়া গেস্ট হাউস, মঞ্জুর কোম্পানির অটোগ্যারেজ, ১২ নম্বর ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা।
৩. মো. ফয়সাল উদ্দিন অমি (২৮), পিতা—সিরাজুল, মাতা—সমিরা কাদের বেগম। ঠিকানা—বার্মিজ মার্কেট, স্কুল রোড, ৪ নম্বর ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা।
৪. উদ্যিমা রাখাইন (৫৫), পিতা—মৃত চেনচা অং রাখাইন, মাতা—ভোমারী। ঠিকানা—বড় বাজার, ৩ নম্বর ওয়ার্ড, রাখাইনপাড়া, কক্সবাজার পৌরসভা।
৩. ধর্তব্য অপরাধে গ্রেপ্তার ৭ জন
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ধর্তব্য অপরাধে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—
১. সৈয়দ আমিন (২৬), পিতা—মো. মোস্তাফিজ, মাতা—জুলেখা বেগম। ঠিকানা—টেকপাড়া, ফুলবাগ সড়ক, মাস্টারবাড়ি, ৪ নম্বর ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা।
২. অভি দাশ (২৯), পিতা—মৃত শ্যামল দাশ, মাতা—মৃত বাসন্তি দাশ। ঠিকানা—গোলদীঘির পাড়, রশিদের বাড়ির ভাড়াটিয়া, কক্সবাজার পৌরসভা।
৩. মোহাম্মদ আরমান (২০), পিতা—মামুন মিয়া। ঠিকানা—পূর্ব মোহাজেরপাড়া, ১০ নম্বর ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা।
৪. আশ্রাফ আলী (২৮), পিতা—মৃত আব্দুর রশিদ, মাতা—ছেমনা বাহার। ঠিকানা—ফকিরপাড়া, ৪ নম্বর ওয়ার্ড, খুরুশকুল ইউনিয়ন, কক্সবাজার সদর।
৫. মো. সাইফুল ইসলাম (২৫), পিতা—মো. আমানুল হক, মাতা—মোসা. জাহানারা বেগম। ঠিকানা—নতুন ঘোনারপাড়া, ২ নম্বর ওয়ার্ড, দফাদারবাড়ি, কক্সবাজার সদর।
৬. ইমরান (২২), পিতা—মো. জসিম, মাতা—সাজেদা। ঠিকানা—দক্ষিণ হাজীপাড়া, ২ নম্বর ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা।
৭. হাবিব (২৮), পিতা—মোহাম্মদ সিরাজ। ঠিকানা—দক্ষিণ মুহুরিপাড়া, ৪ নম্বর ওয়ার্ড, কক্সবাজার সদর।
৪. ওয়ারেন্টভুক্ত গ্রেপ্তার ২ জন
পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—
১. মহি উদ্দিন (৩৫), পিতা—দিল মোহাম্মদ। ঠিকানা—সমিতিপাড়া, মোস্তাকপাড়া, ১ নম্বর ওয়ার্ড, নাজিরারটেক, কক্সবাজার পৌরসভা।
২. সাহাদাত (২৩), পিতা—শফিউল হক। ঠিকানা—কাউয়ারপাড়া, খুরুশকুল ইউনিয়ন, কক্সবাজার।
একাধিক মামলার তথ্য
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মােঃ আলী " মানবাধিকার খবর " কে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী বিভিন্ন মামলা রয়েছে।
সৈয়দ আমিনের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের চুরি ও ক্ষতিসাধনের অভিযোগসংক্রান্ত মামলা এবং ২০২৫ সালের দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভি দাশের বিরুদ্ধে ২০১৬ ও ২০১৭ সালের ডাকাতির প্রস্তুতি, ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়া এবং অস্ত্র আইনের ধারায় একাধিক মামলার তথ্য রয়েছে।
মোহাম্মদ আরমানের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের একটি মামলায় মারধর, আঘাত, অপহরণ ও হুমকিসংক্রান্ত ধারার উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, হাবিবের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধসংক্রান্ত আইনে মামলার তথ্য দেওয়া হয়েছে।
অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত
কক্সবাজার শহর ও আশপাশের ইউনিয়ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মাদকসেবন এবং অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এ ধরনের অভিযান জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অপরাধপ্রবণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে পুলিশের নিয়মিত তৎপরতা অব্যাহত রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উল্লিখিত অভিযোগ ও মামলার বিষয়গুলো আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তিযোগ্য; অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না।