মােঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা। কক্সবাজার সদর মডেল থানার চাঞ্চল্যকর কুলছুমা আক্তার (২২) হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোঃ ইরফানকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়া থানাধীন মধুছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪ থেকে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ ও এপিবিএন পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মােঃ আলী "মানবাধিকার খবর " কে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত এ অভিযানে আসামিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। দীর্ঘ কয়েক দিন ধরে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসছিল কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ।
হোটেলকক্ষে ছুরিকাঘাতে ও জবাই করে হত্যার অভিযোগ
মামলার এজাহার ও পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কক্সবাজার সদর থানাধীন কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্টের ৩০২ নম্বর কক্ষে কুলছুমা আক্তারকে ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে মোঃ ইরফানের বিরুদ্ধে। নিহত কুলছুমা আক্তার (২২) আসামির কথিত প্রেমিকা ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
অভিযুক্ত ইরফান (২৫) মৃত লেদু হোসেনের ছেলে। তার মায়ের নাম জরিনা খাতুন। তিনি কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪-এর বাসিন্দা।
ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির নম্বর ২, তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬; দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত রয়েছে বলে পুলিশি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার
ঘটনার পর থেকেই মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এপিবিএন পুলিশের সহযোগিতায় উখিয়ার মধুছড়া ক্যাম্প-৪-এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অভিযুক্ত মোঃ ইরফানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তারের খবর এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে মামলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।