মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা : কক্সবাজার শহর ও আশপাশের ইউনিয়ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। অভিযানে বিভিন্ন মামলার সর্বমোট ২৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই অভিযানের অংশ হিসেবে আরও ১৭ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মােঃ আলী "মানবাধিকার খবর " কে জানান, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বিকেল ৫টা থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১০টা পর্যন্ত কক্সবাজার পৌরসভা ও ইউনিয়ন এলাকার বিভিন্ন স্থানে সদর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে গ্রেপ্তার ২৫ জনের মধ্যে ৪ জন চোর/ছিনতাইকারী, ৭ জন মাদকসেবী, ৭ জন ধর্তব্য অপরাধের আসামি, ৬ জন ওয়ারেন্টভুক্ত এবং ১ জন নিয়মিত মামলার আসামি রয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ছিনতাইকারী ৪ জন
গ্রেপ্তার চারজন হলেন—মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ (৩২), কায়সার আলম রিয়াদ (২৩), মো. তৌহিদুল ইসলাম (২৬) এবং লোকমান হাকিম ওরফে হাকিম (৩৫)।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যমতে, গ্রেপ্তার মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন, দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। কায়সার আলম রিয়াদের বিরুদ্ধেও দণ্ডবিধি ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। মো. তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা এবং লোকমান হাকিমের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাদকসেবী ৭ জন গ্রেপ্তার
বিশেষ অভিযানে মাদক সেবনের অভিযোগে রুবেল (৩৬), আরিফা আক্তার (১৮), মুজিবুর রহমান (৩২), মো. রাশেদ (১৯), মো. হারুন আর রশিদ (৩০), মনির হোসেন সায়েম (৩৫) ও আপেল মাহমুদ (২৭)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও বান্দরবান ও চট্টগ্রামের বাসিন্দা রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ধর্তব্য অপরাধে ৭ জন গ্রেপ্তার
ধর্তব্য অপরাধের অভিযোগে কুলসুমা (২২), মো. রিয়াদ বাবু (২৭), আল মাহিন (১৯), সরোয়ার শাহিল (২৬), মো. ইমন (২০), রাকিবুল হাসান (২৩) ও মো. হাসেম (৩২)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওয়ারেন্টভুক্ত ৬ জন গ্রেপ্তার
অভিযানে বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত মো. মফিজুর রহমান (৩২), মো. ইমরান, মোজাম্মেল হক, মো. তৌহিদুল ইসলাম (২০), মো. সাদেক হোসেন খোকা (৪৮) ও মনির আহমদ লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়া নিয়মিত মামলার আসামি হিসেবে মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ (৩২)কেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ হেফাজতে ১৭ কিশোর গ্যাং সদস্য
অন্যদিকে, কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আরও ১৭ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাআরও জানিয়েছে, অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ, ছিনতাই ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ এবং কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।