মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- কক্সবাজারের চকরিয়ায় চাঞ্চল্যকর যুবদল নেতা মোঃ জিসান (২৬) অপহরণ ও হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সিলভার রঙের নোহা গাড়িও জব্দ করেছে চকরিয়া থানা পুলিশ।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমানের দিকনির্দেশনায়, চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আবদুল আজিজের তত্ত্বাবধানে এবং চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা, বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে আনোয়ার হোসেন প্রকাশ কাল্লু ড্রাইভারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত জিসাত মিয়া প্রকাশ শওকত ড্রাইভার (২৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিলভার রঙের একটি নোহা গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর চট্টমেট্রো-চ-১১-৫৯৬৯।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা জিসানকে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনা এবং কিলিং মিশনে অংশগ্রহণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা এবং অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ও ঘটনার নেপথ্যের বিষয়গুলো উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
যেভাবে ঘটে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দিবাগত রাতে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা এলাকা থেকে মোঃ জিসানকে একটি সাদা/সিলভার রঙের নোহা গাড়িতে করে অপহরণ করা হয়। অপহরণের পর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া এলাকার দিকে। পরবর্তীতে ওই এলাকায় জিসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার পর থেকেই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে মাঠে নামে চকরিয়া থানা পুলিশ। তদন্তের ধারাবাহিকতায় তথ্য-প্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে প্রথমে একজনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় আসামিকেও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নোহা গাড়িটি জব্দ করায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জব্দ করা গাড়ি ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চকরিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, জিসান হত্যা মামলার তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি যাতে আইনের আওতার বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।