আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:- কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সার বিতরণকে কেন্দ্র করে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ ও মারধরের অভিযোগে করা মামলার পর কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদামতো সার চাইতে গিয়ে তাদের আসামি করা হয়েছে। তবে কৃষি কর্মকর্তার দাবি, তাকে অবরুদ্ধ ও মারধরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের শহীদ মোড় এলাকায় বিএডিসি সার ডিলার মোঃ আমজাদ হোসেনের মেসার্স আফি সার ঘরে সার বিতরণের সময় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন রাতেই ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার গনাইয়েরকুটি মধ্যপাড়া গ্রামের কৃষক মোঃ সুলতান মোল্লা (৩৮) গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। তার স্ত্রী মোছাঃ শিউলী বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী শুধু সার চাইতে গিয়েছিলেন। এখন তিনি ঘরছাড়া। জমির ফসলের দেখভাল করার কেউ নেই। টাকার অভাবে জামিনও করাতে পারছি না।’
একই মামলায় গ্রেফতার হওয়া কৃষক মোঃ আল আমিন মোল্লা (৪৭) আট দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো অপরাধ করিনি। শুধু সার চেয়েছিলাম। সারের জন্য জেল খাটতে হয়েছে, এই কষ্ট কোনো দিন ভুলতে পারব না।’
মোঃ আল আমিনের স্ত্রী মোছাঃ রওশান আরা বেগম বলেন, স্বামীকে মুক্ত করতে প্রায় ২০ হাজার টাকা ঋণ করতে হয়েছে। জেল থেকে ফেরার পর তার স্বামী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলেও জানান তিনি।
আরেক স্থানীয় কৃষক মোঃ সুরুজ মিয়া (৪৫) বলেন, ‘আমরা বিক্ষোভ করেছি, কিন্তু কৃষি কর্মকর্তার গায়ে কেউ হাত দেয়নি। দেশের জন্য ফসল ফলাতে গিয়ে জেল খাটতে হয়েছে। এখন কৃষিকাজে মন বসে না।’
স্থানীয় আরেক কৃষক মোঃ কলিম উদ্দিন বলেন, আমার ভাইসহ অনেক কৃষক গ্রেফতার আতঙ্কে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। দিনে ভয় নিয়ে খেতে কাজ করি, রাতে আত্মীয়ের বাড়িতে থাকি। পুলিশ দেখলেই ভয় লাগে।
কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোঃ জহুরুল ইসলাম বলেন, মামলার পর কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের মধ্যে ভয় কাজ করছে। অনেকেই বাড়ি ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না। সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান আলী মোল্লাও অজ্ঞাত আসামিদের বাদ দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল জব্বার বলেন, সার বিতরণের সময় উসকানিতে বিক্ষোভ হয়। তাকে ও অন্য কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়েছে। এ কারণে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়েছে।কুড়িগ্রামে সার বিতরণে হট্টগোল, সড়ক অবরোধ ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপর আর কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রকৃত অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে। নিরপরাধ কাউকে গ্রেফতার করা হবে না।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন। যারা দোষী নন, তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। উপজেলা প্রশাসন সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণে কাজ করছে।