মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুতে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করে রাতের আঁধারে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি স্থানীয়দের নজরে আসলে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, বাসাইল পৌরসভার মাইঝপাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর নির্মাণাধীন এই সেতুর কাজ পায় ‘মেসার্স ইউনূস আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি)’ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া এই সেতুর কাজ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুর ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ব্রিজের ফুটপাত স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করে। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা বাধা দিলে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ করা হয় এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়। তবে এলাকাবাসী চলে যাওয়ার পর রাতের আঁধারেই ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
খবর পেয়ে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন এবং উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান।
বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদার এস এম জাহাঙ্গীর দাবি করেন, ফুটপাত স্ল্যাবের নিচে শাটারিং হিসেবে বাঁশ বা কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেটির ওপর পলিথিন ও রডের খাঁচা বসিয়ে ঢালাই দেওয়া হয়েছিল।
তবে এই দাবি নাকচ করে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, “ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমাদের না জানিয়ে রাতে কাজের নিয়ম লঙ্ঘন করে ঢালাই করেছে। তারা সঠিক নিয়মে স্ল্যাব না বানিয়ে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অনিয়ম করে ঢালাই দিয়েছে। নিম্নমানের যেসব কাজ করা হয়েছে তা ভেঙে ফেলা হচ্ছে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করা হয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।