ঢাকার কেরানীগঞ্জে দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত দুলাল হোসেন ওরফে দুলু নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত আসামিকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন।
ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিচারক আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে জরিমানার টাকা আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এ মামলার অভিযুক্ত অপর চার আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, ২০০১ সালে আসামি দুলালের সঙ্গে শারমিন আক্তারের বিয়ে হয় এবং তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই দুলাল তাঁর স্ত্রীর কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে প্রায়ই মারধর করতেন। ২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে যৌতুক নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শারমিনের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন দুলাল।
পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ সেপ্টেম্বর মারা যান শারমিন। তাঁর শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।
ওই ঘটনায় নিহতের মা মোসা. মোমেলা বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।