| |
| সাতক্ষীরায় ৪১ কুষ্ঠরোগী, কুসংস্কার ভাঙতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান |
| |
|
|
|
|
|
|
|
| |
| |
|
| |
| |
মোঃ রফিকুল ইসলাম,সাতক্ষীরাঃ- সাতক্ষীরায় বর্তমানে ৪১ জন কুষ্ঠরোগী রয়েছেন। কুষ্ঠরোগ নিয়ে সমাজে প্রচলিত ভয়, কুসংস্কার ও সামাজিক বৈষম্য দূর করতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে সাতক্ষীরা শহরের পানসির কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত ‘কুষ্ঠরোগ ও এর পরিণতি বিষয়ে ওরিয়েন্টেশন’ অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেশ টিভির সাতক্ষীরা স্টাফ রিপোর্টার শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খ্রিস্টিয়ান সার্ভিস সোসাইটির (সিএসএস) পরিচালক (স্বাস্থ্য) সাজ্জাদুর রহিম পান্থ।
এ সময় চ্যানেল ২৪-এর জেলা প্রতিনিধি আমিনা বিলকিস ময়না, প্রথম আলোর ইমতিয়াজ উদ্দিন, নাগরিক টিভির কৃষ্ণ মোহন ব্যানার্জি, মানবজমিনের এস এম বিপ্লব হোসেন, বাংলা ট্রিবিউনের আসাদুজ্জামান সরদার, সমকালের কিশোর কুমার, চ্যানেল ওয়ানের নাজমুস শাহাদাত জাকির, স্বদেশ প্রতিদিনের হাবিবুর রহমান সোহাগ, টাইমস টুডের মিলন বিশ্বাস, গ্লোবাল টিভির রাহাত রাজা, খোলা কাগজের ইব্রাহিম খলিল, বার্তা ২৪-এর মৃত্যুঞ্জয় রায়, সাতক্ষীরা সকালের আলতাব বাবু, ঢাকা পোস্টের ইব্রাহিম খলিল এবং সিএসএসের শরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ওরিয়েন্টেশনে জানানো হয়, কুষ্ঠরোগ সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য এবং সরকারিভাবে এর চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়া হয়। তবে সচেতনতার অভাব, কুসংস্কার ও সামাজিক বৈষম্যের কারণে অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসার আওতায় আসেন না।
বক্তারা বলেন, কুষ্ঠরোগের প্রাথমিক লক্ষণ, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। একই সাথে কুষ্ঠরোগীদের প্রতি ভয়, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে মানবিক ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাজ্জাদুর রহিম পান্থ বলেন, কুষ্ঠ একটি প্রাচীন রোগ। প্রাচীনকাল থেকেই এ রোগ নিয়ে সমাজে নানা ধরনের ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকে কুষ্ঠকে অভিশাপ বা পাপের ফল বলে মনে করেন। আবার কেউ কেউ রোগটিকে গুরুত্বহীন মনে করে চিকিৎসা নিতে অবহেলা করেন।
তিনি বলেন, এসব ভুল ধারণা ও অসচেতনতার কারণে অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসা নেন না। অথচ কুষ্ঠরোগ নিরাময়যোগ্য এবং সরকারিভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা পর্যায়ে এর সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সাজ্জাদুর রহিম পান্থ আরও বলেন, সারা বাংলাদেশেই এখনো কুষ্ঠরোগী পাওয়া যাচ্ছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠরোগীর সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। খ্রিস্টিয়ান সার্ভিস সোসাইটি (সিএসএস) ২০১৩ সাল থেকে বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে আসছে। এখনো এসব এলাকায় নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শরীরে দাগ বা অনুভূতিহীনতার মতো লক্ষণ দেখা দিলেও ব্যথা না থাকায় অনেকেই বিষয়টিকে সাধারণ সমস্যা মনে করে অবহেলা করেন। ফলে সময়মতো চিকিৎসা না নিলে একজন কুষ্ঠরোগী ধীরে ধীরে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়তে পারেন।
তাই কুষ্ঠরোগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগী শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসার আওতায় আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কুষ্ঠমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সিএসএসের প্রজেক্ট অফিসার মো. খালেকুজ্জামান।
|
| |
|
|
|