স্টাফ রিপোর্টার:
আইনের আশ্রয় নিয়ে একাধিক মামলা ও অভিযোগ দায়ের করেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র নামে এক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে লড়াই করতে গিয়ে তাকে হুমকি, হয়রানি ও মামলার নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
অভিযোগকারী জানান, কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা দুটি এফআইআর/জিআর মামলাসহ আদালতে সিআর মামলাও চলমান রয়েছে। এসব মামলায় নামীয় আসামির পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আসামিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও অভিযোগ চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে মামলা ও অভিযোগ দায়েরের পরও তিনি প্রত্যাশিত প্রতিকার পাচ্ছেন না। বরং মামলা করার কারণে তাকে প্রাণনাশের হুমকি, প্রশাসনিকভাবে হয়রানি এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের শিকার হতে হচ্ছে। তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আসামিপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হলে তা যেন একতরফা না হয় এবং নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার তথ্য থানার পাশাপাশি আদালতের নথিতেও রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রশাসন, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ ও আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগকারী বলেন, তিনি একজন সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তার দাবি, আইন নিজের হাতে না নিয়ে তিনি বরাবরই আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধের প্রতিকার চেয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিচিত বা অপরিচিত কেউ কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে সে বিষয়ে আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করেছেন।
তিনি রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তার অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ প্রধান, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন বলে দাবি করেন।
মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র আরও বলেন, আইনের পথে থেকে অপরাধের প্রতিকার চাইতে গিয়ে যদি তার ওপর কোনো হামলা বা প্রাণনাশের ঘটনা ঘটে, তাহলে তার দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তার দাবি, গত এক যুগে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয়, স্থানীয় ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন তার অভিযোগ ও আইনি লড়াইয়ের বিষয়টি তুলে ধরেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।