মােঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা:-সারাদেশে কায়িক শ্রমে পরিচালিত প্যাডেলচালিত রিকশা বন্ধ, ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ব্যক্তিগত গাড়ি বা প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর বরাবরে এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু সচিব, পরিবেশ সচিব, বিআরটিএ চেয়ারম্যান এবং এনবিআর চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রয়ােজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে জানানো হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, দেশের মোট জনসংখ্যার এক শতাংশেরও কম মানুষ প্রাইভেট কার ব্যবহার করলেও এই সামান্য সংখ্যক যানবাহনই সড়কের সিংহভাগ দখল করে রাখে। এতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সরকারি ভর্তুকিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত বিষাক্ত ধোঁয়া পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা সংবিধান স্বীকৃত জীবনের অধিকারের পরিপন্থী। তাই এসব ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা সীমিত করার পাশাপাশি উচ্চহারে পরিবেশ কর ধার্যের দাবি তোলা হয়েছে।
অন্যদিকে, প্যাডেলচালিত রিকশাকে `আধুনিক দাসত্ব` হিসেবে উল্লেখ করে নোটিশদাতা আইনজীবী জানান, চরম দারিদ্র্যের কারণে প্রান্তিক মানুষকে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করতে হয়, যা তাদের অকাল বার্ধক্য ও স্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ফেলছে। সংবিধানে জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধ থাকায় এটি দ্রুত বন্ধ করা প্রয়োজন।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের বিষয়টি তুলে ধরে নোটিশে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে একটি আধুনিক ও মানবিক পরিবহন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এই খাতটি পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে বরং গতি ও কাঠামোগত সুরক্ষার লক্ষ্যে একটি বৈজ্ঞানিক নীতিমালা তৈরির তাগিদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি যানজট নিরসন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে রাইড শেয়ারিং এবং মিটারভিত্তিক পরিবহন সেবা উৎসাহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।