মােঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা:- ময়মনসিংহের তারাকান্দায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা জলাবদ্ধতা নিরসনে ও কচুরিপানা পরিষ্কারে নিজেই হাঁটু পানিতে নেমে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছেন ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের পঙ্কুয়াই খালে নেমে তিনি এ কার্যক্রমের সূচনা করেন।
এমপিকে নিজ হাতে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে এলাকার শতাধিক বাসিন্দা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার সাথে এই কাজে যোগ দেন। সকলের যৌথ প্রচেষ্টায় খালের বিভিন্ন অংশ থেকে বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা সরিয়ে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, একসময় কাকনী ইউনিয়নের ডিমুর বিল থেকে পানি পঙ্কুয়াই খাল হয়ে কাকনী খালে এবং সেখান থেকে দিয়ারা নদীতে প্রবাহিত হতো। কিন্তু কাকনী খালের সম্মুখভাগের কিছু জমি স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের দাবি করে আটকে দিলে গত প্রায় সাত-আট বছর ধরে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
এর ফলে পঙ্কুয়াই খালে বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা জমে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় দুয়াই, বরুয়াই, তিলাটিয়া, পারতলা, দন্তা, তিতপুর, সুতিয়াপয়ারী, মাটিচাপুর ও কাকনী গ্রামসহ আশপাশের প্রায় দুই হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি এবং শত শত একর ফসলি জমি দীর্ঘসময় জলাবদ্ধ হয়ে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছিল।
পঙ্কুয়াই গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, "বহুদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা বিপুল লোকসানের মুখোমুখি হচ্ছিলেন। আজ এমপি সাহেব নিজে নেমে কচুরিপানা পরিষ্কারের পর আশপাশের আটকে থাকা পানি নামতে শুরু করেছে। এতে আমরা দারুণ স্বস্তি পেয়েছি।"
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন জানান, শুধু কচুরিপানা সরালেই চিরস্থায়ী সমাধান হবে না। খালটি কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত পুনঃখনন করা প্রয়োজন। সংসদ সদস্য পূর্বে তাদের দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়নে নিজেই মাঠে নামায় গ্রামবাসীরা নতুন আশার আলো দেখছেন।
খাল পরিষ্কার কার্যক্রম শেষে সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, "একসময় দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি ও মৎস্য সম্পদের মূল প্রাণশক্তি ছিল আমাদের খাল-বিলগুলো। অথচ দখল, ভরাট ও অবহেলার কারণে এগুলো আজ নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। কেবল সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভর না করে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে আমাদের খালগুলোকে সচল ও দূষণমুক্ত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।"
একই সাথে তিনি স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ঘোষণা দেন যে, পঙ্কুয়াই খালের শেষ প্রান্তে ব্যক্তিমালিকানাধীন যে জমিটুকু পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে, তিনি তা নিজ খরচে কিনে নেবেন। পরবর্তীতে খালটিকে কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত খনন করে কাকনী বিলের সাথে সংযুক্ত করার মাধ্যমে এই অঞ্চলের স্থায়ী নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
খালটির পানি প্রবাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে এলাকার সামগ্রিক কৃষি, যোগাযোগ ও বসতবাড়ির জলাবদ্ধতা দূর হয়ে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান ঘটবে বলে আশা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।