মােঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা।
সিলেটে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার পর ইউনিক ও বেঙ্গল পরিবহনের দু’টি বাসের রেজিস্ট্রেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। ঘটনার অনুসন্ধানে বিআরটিএ-এর একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি বর্তমানে মাঠে কাজ করছে।
ঘটনার বিবরণ ও বিআরটিএ-এর পদক্ষেপ
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরের দয়ামীর খাসিকাপন এলাকায় ইউনিক ও বেঙ্গল পরিবহনের দু’টি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন নিহত হন এবং ২৪ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিআরটিএ সিলেটের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) আবদুর রশিদ জানান, বিআরটিএ সিলেট সার্কেল থেকে বাস দু’টির রেজিস্ট্রেশন স্থগিত চেয়ে ঢাকার অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, উভয় বাস কর্তৃপক্ষকে ঢাকায় বিআরটিএ ভবনে স্বশরীরে হাজির হয়ে কার ণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্দেশ মেনে যথাসময়ে জবাব না দিলে বাসগুলোর রেজিস্ট্রেশন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হতে পারে।
অনুমোদনহীন স্লিপার বাস ও বেপরোয়া ওভারটেকিং
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার পেছনে মূলত বেঙ্গল পরিবহনের ওভারটেকিংয়ের চেষ্টা দায়ী ছিল। বেঙ্গল পরিবহনের স্লিপার বাসটি অন্য একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীতমুখী লেনে চলে আসলে এ মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিআরটিএ-এর তথ্যানুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত স্লিপার বাসটির কোনো বৈধ রোড পারমিট ছিল না। অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও বাসটি রাস্তায় চলাচল করছিল। ইতিপূর্বে মোবাইল কোর্ট অভিযানের মাধ্যমে এটিকে জরিমানা করা হলেও এটি অবৈধভাবে চলাচল অব্যাহত রেখেছিল। এসব অবৈধ স্লিপার বাসের চলাচল পুরোপুরি বন্ধেরও সুপারিশ করা হয়েছে।
ক্ষতিপূরণের জন্য দরখাস্ত আহ্বান
দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত শনিবার থেকেই বিআরটিএ সিলেট অফিসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছ থেকে দরখাস্ত গ্রহণ শুরু হয়েছে। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে দাবিদাররা আবেদন জমা দিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা গ্রহণ করতে পারবেন।