| |
| সাতক্ষীরায় হাসপাতালে রোগী সেজে চুরি, টাকা-মোবাইলসহ আটক ৩ |
| |
|
|
|
|
|
|
|
| |
| |
|
| |
| |
মোঃ রফিকুল ইসলাম,সাতক্ষীরাঃ- সাতক্ষীরা শহরের সংগ্রাম হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে অভিনব কায়দায় চুরি করার সময় সংঘবদ্ধ নারী চোরচক্রের তিন সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে পুলিশে দেয়। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া নগদ ২০ হাজার টাকা এবং দুটি দামি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আটক তিন নারীর বাড়ি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। তারা জেলা শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে চুরি ও পকেটমারির কাজ করে আসছিল।প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা জানান, সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় শুক্রবার সকাল থেকেই সংগ্রাম হাসপাতালে চিকিৎসক দেখাতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের প্রচুর ভিড় ছিল। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে চক্রটির নারী সদস্যরা সাধারণ রোগীর ছদ্মবেশে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করে। বিভিন্ন চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রোগীদের অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে তারা ব্লেড ও কাঁচি দিয়ে ব্যাগ কেটে এবং পকেট থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিচ্ছিল।দুপুর ১২টার দিকে এক ভুক্তভোগী রোগী চুরির বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে চক্রটির সদস্যরা দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় আশপাশে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা ধাওয়া দিয়ে তিনজনকে আটক করেন। পরে উপস্থিত জনতার সামনে তাদের তল্লাশি চালিয়ে চুরি হওয়া ২০ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চক্রটি বেশ কিছুদিন ধরে সাতক্ষীরার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সক্রিয় ছিল। গত সপ্তাহেও সংগ্রাম হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর ১৬ হাজার টাকা একই কায়দায় চুরি হয়। সে সময় জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও শুক্রবারের ঘটনার পর ধারণা করা হচ্ছে, ওই চুরির ঘটনাতেও একই চক্র জড়িত ছিল।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনার পরপরই থানা পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার করা আলামতসহ তিন আসামিকে থানায় নিয়ে যায়।বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, আটক নারীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শহরের অন্যান্য হাসপাতাল বা ক্লিনিকে তাদের কোনো সহযোগী সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।এদিকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার, সিসিটিভি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি এবং প্রবেশপথে নিরাপত্তা প্রহরীর সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক ও চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।
|
| |
|
|
|