খোকন মাহমুদ | মানবাধিকার খবর প্রতিনিধি
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের লাহোরের গাজিয়াবাদ থানায় ২০ বছর বয়সী এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণীকে থানার ভেতরে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পর অভিযুক্ত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই থানার ৭৮ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিধিমালা অনুযায়ী থানার ভেতরে সংঘটিত যেকোনো অনিয়ম প্রতিরোধ করা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তা অবহিত করা সংশ্লিষ্ট থানার প্রতিটি সদস্যের দায়িত্ব। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ ওঠে, কোনো নারী পুলিশ সদস্য ছাড়াই ওই তরুণীকে থানায় আনা হলেও উপস্থিত সদস্যদের কেউ এ বিষয়ে আপত্তি জানাননি বা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি। এ কারণেই সংশ্লিষ্ট থানার সব সদস্যের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে পুলিশি জবাবদিহি, হেফাজতে নারীর নিরাপত্তা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নারী অধিকারকর্মীদের দাবি, দেশটিতে পুলিশ হেফাজতে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। সামাজিক লজ্জা, বিচারহীনতার আশঙ্কা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থার সংকটের কারণে অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ দিতেও সাহস পান না।
ধর্ষণ মামলার বিচার প্রক্রিয়াতেও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে। সাসটেইনেবল সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (SSDO) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পাকিস্তানে ধর্ষণ মামলায় দণ্ডাদেশের হার ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পাঞ্জাব প্রদেশে ২০২৫ সালে এ হার ছিল প্রায় ৪ শতাংশ। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, দুর্বল তদন্ত, আলামত সংগ্রহে ব্যর্থতা, দীর্ঘসূত্রতা এবং সামাজিক কলঙ্কের কারণে অধিকাংশ ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন।
এদিকে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে শুধু পাঞ্জাব প্রদেশেই নারীদের বিরুদ্ধে ২০ হাজারের বেশি অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিসংখ্যান নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর তদন্ত, কঠোর জবাবদিহি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
তবে সাময়িক বরখাস্তের এই সিদ্ধান্তকে একটি ব্যতিক্রমী প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং বিচার প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন সংশ্লিষ্টদের নজর রয়েছে।