মােঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা:- বাংলাদেশের ইতিহাস পরিবর্তনের ধারায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতা, ভোটাধিকার হরণ এবং শাসকগোষ্ঠীর একচ্ছত্র কর্তৃত্বের অবসান ঘটিয়ে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব অভ্যুত্থান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনের পতন ঘটায়। এই পতন কেবল একজন শাসকের পদত্যাগ ছিল না; এটি ছিল শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে হাজারো মানুষের সম্মিলিত ক্ষোভের বিস্ফোরণ।
এই আন্দোলনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রতীকী সংযোজন ছিল "৩৬ জুলাই" ধারণাটি। সাধারণ ক্যালেন্ডারে জুলাই মাস ৩১ দিনে শেষ হলেও, আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা ক্যালেন্ডারের সাধারণ নিয়মকে অস্বীকার করে ১ আগস্ট থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়কে জুলাইয়ের ধারাবাহিকতা হিসেবে গণনা শুরু করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল এটি দেখানো যে, জুলাই মাসে শুরু হওয়া আন্দোলন এবং আত্মত্যাগের যে তাগিদ, তা স্বৈরাচারের পতন না হওয়া পর্যন্ত থামবে না। এই প্রতীকী দিনপঞ্জি কেবল একটি তারিখের নামান্তর নয়, বরং জনগণের অদম্য প্রতিরোধ ও জাতীয় ঐক্যের এক অনন্য স্মারক।
পটভূমি ও তাৎপর্য
- স্বৈরাচারবিরোধী রূপান্তর: সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন অতি দ্রুত স্বৈরাচারবিরোধী এক দফায় রূপান্তরিত হয়, যেখানে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়।
- প্রতীকী প্রতিরোধ: "৩৬ জুলাই" সাধারণ সময়সীমাকে অতিক্রম করে সংগ্রামের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার গণমনস্তাত্ত্বিক প্রতীক হয়ে ওঠে।
- গণশক্তির বিজয়: ৫ আগস্টের পতন প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রক্ষমতা যখন জনগণের প্রত্যাশা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তখন গণঅভ্যুত্থানই হয়ে ওঠে পরিবর্তনের একমাত্র অনুঘটক।
তবে যেকোনো বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পর আসল চ্যালেঞ্জ দাঁড়ায় রাষ্ট্র পুনর্গঠনে। ৫ আগস্টের পর যে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, সেখানে কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, সুবিচার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সুরক্ষা।
৩৬ জুলাই এবং ৫ আগস্টের এই শিক্ষা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, রাজনৈতিক ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় এবং জনগণের ইচ্ছাই শেষ কথা। এই ঐতিহাসিক দিনটির চেতনাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনীতির মূল অঙ্গীকার।