| |
| জনতা ব্যাংক কোন পথে চলছে? |
| |
|
|
|
|
|
|
|
| |
| |
|
| |
| |
| খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, “পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা শুধু ইসলামী ব্যাংকগুলোকে ধ্বংস করেননি বরং রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকেও শেষ করে দিয়েছেন। গত ১৫ বছরে ব্যাংকটিতে ব্যাপক লুটপাট করেছে হাসিনা সরকারের দোসররা। ফলে ব্যাংকটি এখন মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে আছে।”জনতা ব্যাংক বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক ব্যাংক। ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদশে ২৬ অনুযায়ী তৎকালীন ইউনাইটেড ব্যাংক লিঃ ও ইউনিয়ন ব্যাংক লিঃ এর সমন্বয়ে জনতা ব্যাংক গটিত হয়। এখান থেকেই জনতা ব্যাংকের সরকারি পরিচয়ের ভিত্তি তৈরি হয়।বর্তমানে ব্যাংকটি ২০২৫ সালে লোকসান আগের বছরের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেড়ে ৩,৯৩১/- কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ব্যাংকটিতে শ্রেণিকৃত বা খেলাপী ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২,৮০০/- কোটি টাকা। সুদ খাতে বড় ধরনের ঘাটতির কারণে নীট সুদ আয় ঋণাত্মক ৫,৯০৩/- কোটি টাকায় ঠেকেছে। বছর শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়ে দাড়িয়েছে ১৬৯.৯০/- টাকায় এবং নীট সম্পদ মূল্য ঋণাত্মক ১০৮.৬১/- টাকায় নেমেছে। অতিরিক্ত খেলাপী ঋণ ও লোকসানের কারণে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি চরম আকার ধারন করেছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে রাষ্ট্রায়াত্ব জনতা ব্যাংকের ৪টি শাখা বন্ধ হওয়ার মুখে পড়েছে। প্রয়োজনীয় পরিমাণ মূলধন সং¯’ান করতে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই শাখাগুলো গুটিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এই ঘটনা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের উপর নেতিবাচক প্রবাহ ফেলতে পারে।জানাগেছে, গত ১৫ই জুলাই আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে জনতা ব্যাংককে চিঠি পাঠায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে জরুরী হস্তক্ষেপ চেয়েছে ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষ।ঘাটতি মূলধন সামাল দিতে গিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ৬ বছরে দ্বিগুণ সুদ প্রদানের মাধ্যমে ডিপোজিট গ্রহণ করে। ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করে এই দ্বিগুণ প্রকল্প ২০৩২ সালে পরিশোধ করতে গেলে ব্যাংকটি আরও ঝুঁকিতে পড়ার আশংকা পোষণ করছে।জনতা ব্যাংক ব্যাংকিং সেক্টরের একটি জনপ্রিয় রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক। ব্যাংকিং সেক্টরে দ্বিতীয় তম ব্যাংকটি বিগত ফ্যাসিস সরকারের আমলে এতো দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও আর্থিক কেলেংকারির মাধ্যমে ব্যাংকটির এখন নাজুক পরিস্থিতি। শুধু কেবল ব্যাংকের ক্ষতি হয়নি জনতা ব্যাংকের অফিসার ও কর্মচারীগণ স্বৈরশাসনের যাতাকলে পিষ্ট ছিল। অত্র ব্যাংকের অফিসার কল্যাণ সমিতির অনেক নেতা ও কর্মী জীবিত নেই। তাদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা যথাক্রমে ডিজিএম- মানসুর আহ্মেদ, অফিসার- সিরাজুল হক খান, এজিএম- আবুল কাশেম, অফিসার- এমদাদুল হক মানিক, পিও- হাজী গিয়াস উদ্দিন ও অফিসার- আসহসান উল্লাহ চৌধুরী, এজিএম- আবুল কালাম আজাদ, সহ অনেকে। কর্মচারী ইউনিয়নের মাহবুব হোসেন ও হুমায়ুন কবির যারা মৃত্যুবরন করেছেন। হুমায়ুন কবির জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত ছিলো।
৫ই আগস্টের পর বর্তমান নেতৃত্বে যারা আছেন তারা মনে হয় এখন আর এদের দীর্ঘদিনের অবদানের কথা সবাই ভুলে গেছে। তাদের অবদানের কথা জনতা ব্যাংকে স্মরণ করার মতো কেউ নেই। বর্তমান নেতৃত্বে যারা আছেন তারা এখন ফ্যাসিস্ট সরকারের অনুসারীদেরকে নিয়ে চলতে বেশি পছন্দ করেন এবং তাদের প্রতিই বেশি আগ্রহ দেখা যা”েছ। ইদানিং জনতা ব্যাংকে আরও কিছু বিষয় চোখের সামনে ভেসে আসছে। জনাব ইকবাল হোসেন, আহ্বায়ক জাতীয়তাবাদী ব্যাংক এসোসিয়েশন যাহা সকল ব্যাংক নিয়ে গঠিত হয়েছিল। জনতা ব্যাংক জাতীয়তাবাদী অফিসার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন পিও তাকে জনতা ব্যাংক, সুনামগঞ্জ এরিয়া অফিসে বদলি করা হয়েছে। এতো দিন যাদেরকে একত্রে বিভিন্ন কর্মকান্ডে দেখা যেতো তাদের একজন সুনামগঞ্জে বদলি। ব্যাংকের সচেতন অফিসারগণ মনে করেন এহেন কাজ সুবিধাভোগীদের ব্যক্তিস্বার্থে হয়েছে। জনতা ব্যাংকে অফিসারদের নেতৃত্বে যারা আছে তাদের মধ্যে এই একজনই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে ছিল। ইকবাল হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদা (জিয়া হল) এর সদস্য ছিলেন। তিনি ৩ ই আগস্ট শহীদ মিনারে ৯ দফা থেকে ১ দফার আন্দোলনে ছিলেন। ব্যাংকিং সেক্টর তথা জনতা ব্যাংকে একমাত্র প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর থাকার কারণে জনতা ব্যাংকের স্বার্থণে¦ষী ও কুচক্রিমহল এক জোট বেঁধে তাকে সুনামগঞ্জে বদলি করেছে। তার ৩ শিশু মেয়ে সন্তানের কাছ থেকে ইকবাল হোসেন পিও ছোঁ মেরে তাকে সুনামগঞ্জে বদলি করা হয়েছে। ইকবাল হোসেনের বদলি জনিত কারণে ৩ শিশু মেয়ের মানবাধিকার লঙ্গিত হয়েছে। এতে জনতা ব্যাংকের অফিসারদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। যিনি জনতা ব্যাংক জাতীয়তাবাদী অফিসার কল্যাণ সমিতির সভাপতি তিনিই আবার জিয়া পরিষদের সভাপতি। যিনি জনতা ব্যাংক জাতীয়তাবাদী অফিসার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তিনিই আবার জনতা ব্যাংক জাতীয়তাবাদী অফিসার কল্যাণ সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। অফিসারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা পরিলক্ষিত হ”েছ যে, ৪/৫ জন মিলেমিশে সব সংগঠন নিজের মধ্যে ভাগাভাগি করে নি”েছ। জিয়া পরিষদ, জিয়াউর রহমানের উপর গবেষণা ও তার নীতি আদর্শ তুলে ধরা মূল লক্ষ্য। এ সংগঠনের দায়িত্বে থাকেন জ্ঞানী ও গুণি ব্যক্তিরা। জিয়া পরিষদ, পেশাজীবি ও বুদ্ধিভিত্তিক সংগঠন। সংগঠনটির মুল লক্ষ্য শহীদ রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এর আদর্র্শ ও দর্শন প্রচার করা। জিয়াউর রহমানের কর্মকান্ড ও রাজনীতির গতি জনগণের মাঝে তুলে ধরাই প্রধান উদ্দেশ্য। কিš‘ ইদানিং জনতা ব্যাংক জিয়া পরিষদের সভায় অফিসারদের দাবী-দাওয়া সম্বলিত এক কর্মীসভায় নোটিশ ফেইজবুকে চোখে পড়ে তাতে দেখা যায়Ñ এহেন কর্মকান্ডে শহীদ রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এর সম্মানহানী ঘটাবে। তাই বলতে হ”েছÑ “সাধু সাবধান!”
|
| |
|
|
|