মােঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা:- রাজধানীর উত্তরখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলা ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জাকির হোসেনসহ ২২ আসামির জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। গ্রেপ্তারের পরদিনই সোমবার (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত) তাদের জামিনের নির্দেশ দেন।
আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আবু বকর সিদ্দিক জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
ঘটনার পটভূমি ও কারণ
স্থানীয় ও সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর উত্তরখানের রাজাবাড়ি এলাকার `রাজাবাড়ি বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র` (এসটিএস) থেকে ময়লা পরিবহন করা নিয়ে `নেপচুন অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেড` নামক তৈরি পোশাক কারখানার কর্তৃপক্ষের সাথে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
গত রবিবার সকালে ওই বিরোধের জেরে কারখানাটির শ্রমিক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে প্রথম দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ডিএনসিসির কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হন।
ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, রবিবার দুপুরে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থলে যান। সিটি করপোরেশনের অভিযোগ, তাদের উপস্থিতিতেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। এ সময় পুলিশ পোশাক কারখানার এক কর্মকর্তাকে আটক করার চেষ্টা করলে শ্রমিকদের একটি অংশ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া
ঘটনার পর রবিবার উত্তরখান থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়:
১. পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলা মামলা: ডিএনসিসির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘উথুপিয়া কনস্ট্রাকশন’-এর সুপারভাইজার আনিসুর রহমান পলাশ বাদী হয়ে ৩৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২৫০-৩০০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
২. পুলিশের কাজে বাধা ও হামলা মামলা: উত্তরখান থানার এসআই সফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে দ্বিতীয় মামলাটি করেন।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে নেপচুন অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেডের পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জাকির হোসেনসহ ২২ জনকে গ্রেপ্তার করে।
আদালতে শুনানি
সোমবার পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় উত্তরখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছামিউল হক আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। অন্যদিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলার মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন এসআই অনুপম দাস।
আদালত প্রথমে তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট সৈয়দ নজরুল ইসলাম জামিনের আবেদন জানিয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হলেও উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিনপ্রাপ্ত ২২ আসামি:
১. অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জাকির হোসেন (পরিচালক, নেপচুন অ্যাক্সেসরিজ লি.)
২. মাসুম রহমান
৩. লিটন
৪. চঞ্চল মিয়া
৫. ইসমাইল
৬. রুহুল কুদ্দুছ ওরফে ছাদেক
৭. রায়হান
৮. জুয়েল
৯. শরিফুল ইসলাম
১০. রেজাউল
১১. সিয়ামুজ্জামান সৈকত
১২. আসাদুজ্জামান
১৩. সৈয়দ খালেদ মনসুর
১৪. মেহেদী হাসান প্রান্ত
১৫. এইচ এম তারেক রাফি
১৬. নাহিদ সরকার
১৭. শিমুল মহসীন তালুকদার
১৮. লিটন তালুকদার
১৯. রাজু চৌধুরী
২০. নূর উদ্দিন সেলিম
২১. তানভীর
২২. (এবং অপর ১ জন সহ মোট ২২ জন)