মােঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা:- টানা ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন সড়ক। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে নির্ধারিত সময়ে অনেক পরীক্ষার্থীই কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। সড়ক পানিতে ডুবে থাকায় গণপরিবহন চলাচল ব্যাহত হয়। এই পরিস্থিতিতে নিরুপায় হয়ে অনেক পরীক্ষার্থীকে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে, আবার কাউকে নৌকা বা ভ্যানে করে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
কোমরসমান পানি মাড়িয়ে ও নৌকায় চড়ে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে যাওয়ার এমন কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দেশজুড়ে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করে এবং তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে।
প্রধানমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ
ভিডিওটি নজরে আসার পরপরই প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফোন করে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান,
"জলাবদ্ধ কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের নৌকা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি আমাকে কল দিয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। আমরা তাকে জানাই যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। এরপর কুমিল্লার ওই পরীক্ষা কেন্দ্র পরিবর্তন এবং আজকের পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বৃদ্ধি করার কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়।"
পরীক্ষা কেন্দ্রের চিত্র ও সময় বৃদ্ধি
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর জলাবদ্ধতার কারণে ভোগান্তিতে পড়া এইচএসসি পরীক্ষার `কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ` কেন্দ্রটি পরিবর্তন করা হয়েছে। একই সাথে জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে আসতে দেরি হওয়ায় তাদের জন্য বাড়তি ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ করা হয়, যার ফলে পরীক্ষা গ্রহণে কোনো বড় সমস্যা হয়নি।
জানা যায়, সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের পুরো আঙিনা ও সামনের সড়ক তলিয়ে যায়। কলেজের কয়েকটি ভবনের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন কেন্দ্রে আসা ১ হাজার ২০৯ জন পরীক্ষার্থী।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম জানান, অন্য পরীক্ষার সময় নিচতলার কয়েকটি কক্ষে পরীক্ষার্থীদের আসন থাকলেও জলাবদ্ধতার কারণে আজ নিচতলায় কোনো পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। বিকল্প হিসেবে দোতলা ও ওপরের দিকের কক্ষগুলোতে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের বাড়তি ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়। সোমবার এই কেন্দ্রে পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র ও যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রশাসনের উদ্যোগ
পরীক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগের খবর পেয়ে দ্রুত কেন্দ্রে ছুটে যান কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু, ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন এবং কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকটি প্লাস্টিকের নৌকা ও ভ্যানের ব্যবস্থা করে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন জানান, সরকারি মহিলা কলেজ এলাকাটি নিচু হওয়ায় সেখানে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল, তবে অন্য কোনো কেন্দ্রে এমন পরিস্থিতি হয়নি। পরীক্ষার্থীদের যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাদের কিছুটা বাড়তি সময় দিয়েছেন।