আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:- উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে কয়েকদিন ধরে বৃদ্ধি পাওয়া কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীর পানি এখন কমতে শুরু করেছে। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে, যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে।
কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি ৫ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত কমেছে। কিন্তু একই সময়ে এসব নদীর অন্তত ৩০টি পয়েন্টে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে অনেক নিম্নাঞ্চলের কৃষিজমি এখনও পানির নিচে রয়েছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার কৃষক জমশেদ আলী জানান, তার এক বিঘা জমির পটলক্ষেত এখনও ধরলার পানিতে তলিয়ে আছে। দ্রুত পানি না নামলে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।
কৃষি বিভাগ বলছে, পানি দ্রুত নেমে গেলে নিমজ্জিত ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে পানি সরে যাওয়ার পর জমির পরিচর্যায় বাড়তি নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল ইসলাম বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত না থাকায় নদ-নদীর পানি কমছে এবং বন্যার আশঙ্কাও অনেকটা কেটে গেছে। তবে জরুরি বরাদ্দের অভাবে সব ভাঙনকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অর্ণপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তিনি জানান।