মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা : ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে লাখো পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার। তবে সমুদ্রসৈকতের আনন্দের পাশাপাশি এবার পর্যটকদের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে চরম বিদ্যুৎ বিপর্যয়। শহরের কলাতলী সাবস্টেশনের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে দৈনিক ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং চলছে। এই পরিস্থিতিতে অতিষ্ঠ হয়ে গত এক সপ্তাহে অন্তত ৩০ হাজার পর্যটক তাদের অগ্রিম বুকিং বাতিল করেছেন এবং অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।
হোটেলের লিফটে আটকে পড়া ও পর্যটকদের ক্ষোভ
পরিবার নিয়ে কক্সবাজার ঘুরতে আসা একজন পর্যটক জানান, সম্প্রতি হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা হোটেলের লিফটে প্রায় ২০ মিনিট আটকে ছিলেন। পরে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। আন্তর্জাতিক মানের একটি পর্যটনকেন্দ্রে এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে আখ্যা দেন তিনি।
একইভাবে ঢাকার ফকিরাপুল থেকে আসা পর্যটক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বাইরে ঘুরে এসে হোটেলে একটু বিশ্রাম নেওয়ার উপায় নেই। বিদ্যুৎ না থাকায় এসি কিংবা ফ্যান কোনোটিই ঠিকমতো ব্যবহার করা যাচ্ছে না।"
লোকসানের মুখে হোটেল ব্যবসায়ীরা
কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস, কটেজ ও রিসোর্টে একসঙ্গে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার পর্যটকের আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। কক্সবাজার হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বিভিন্ন গণমাধ্যমকে জানান:
"কয়েক দিন ধরে দৈনিক ৮-১০ ঘণ্টা লোডশেডিং চলায় হোটেলগুলোকে সার্বক্ষণিক জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি জ্বালানি খরচ হলেও আমরা অতিথিদের সন্তোষজনক সেবা দিতে পারছি না। ফলে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।"
মেরামতের কাজ চলছে
কক্সবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের দিন ভোরে কলাতলী সাবস্টেশনের পাওয়ার ট্রান্সফরমারটি বিকল হওয়ার পর থেকেই এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। বিকল ট্রান্সফরমারটি সচল করতে দিন-রাত দ্রুত মেরামতের কাজ চালানো হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, সোমবারের (০৮ জুন) মধ্যে এটি পুরোপুরি সচল করা সম্ভব হলে পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।