শিশুদের শিক্ষা, সুরক্ষা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে ৪৫ হাজার টাকা জরুরি নগদ সহায়তা প্রদান
কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের টেকনাফে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মুক্তি কক্সবাজার। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের শিশুদের শিক্ষা অব্যাহত রাখা, সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন পুনর্গঠনে জরুরি নগদ সহায়তা (ইসিএ) প্রদান করেছে সংস্থাটি।
রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার দমদমিয়া গ্রামে এ জরুরি সহায়তা প্রদান করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ান এইডের আর্থিক সহায়তা এবং অক্সফাম বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতায় মুক্তি কক্সবাজারের বাস্তবায়নাধীন Bangladesh Rohingya Response Phase IV Extension Project-এর আওতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনাব এস. এম. অনীক চৌধুরীর উপস্থিতিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য আব্দুল্লাহকে ২৫ হাজার টাকা এবং শহিদুল ইসলামকে ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। দুই পরিবারকে সর্বমোট ৪৫ হাজার টাকা জরুরি নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এ সহায়তার মূল লক্ষ্য হলো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ক্রয়, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণে যাতে কোনো শিশু শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ঝরে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা।
সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে ইউএনও এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, টেকনাফে যোগদানের পর থেকেই তিনি জেনেছেন, মুক্তি কক্সবাজার প্রোটেকশন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও সংস্থাটি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সফলভাবে কাজ অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মুক্তি কক্সবাজারের প্রকল্প ব্যবস্থাপক জনাব মো. ফয়সাল বারী বলেন, প্রোটেকশন বা সুরক্ষা বলতে শুধু তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে বোঝায় না। বরং যেকোনো সংকট ও দুর্যোগের সময় শিশু ও পরিবারের মর্যাদা রক্ষা, শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় সেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংকটকালীন সময়ে শিশুদের শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এ ধরনের জরুরি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এ সময় মুক্তি কক্সবাজারের ‘গার্লস গেট ইকুয়াল ২.০’ প্রকল্পের প্রকল্প-সমন্বয়কারী জনাব মো. মনজুরুল আলম এবং হিসাব কর্মকর্তা জনাব মো. ইকবাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অগ্নিকাণ্ডের মতো আকস্মিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য এ ধরনের জরুরি নগদ সহায়তা শুধু আর্থিক সহযোগিতাই নয়, বরং শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথকে আরও সহজ করবে।
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় মুক্তি কক্সবাজারের এ উদ্যোগ মানবিক সহায়তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।j