মোঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- কক্সবাজার পৌরসভা ও আশপাশের ইউনিয়ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনের লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী, মাদক সেবনকারী ও অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্তসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মােঃ আলী “মানবাধিকার খবরে “ কে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ছিনতাইকারী, চারজন মাদক ব্যবসায়ী, সাতজন মাদক সেবনকারী এবং ধর্তব্য অপরাধে অভিযুক্ত একজন রয়েছেন। অভিযানের বিস্তারিত বিবরণে তিন লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা এবং উদ্ধার অভিযানের পৃথক বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার একজন
পুলিশের তালিকায় ছিনতাইকারী হিসেবে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. জিদান (২১)। তিনি কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ তারাবনিয়ারছড়া এলাকার টেকনাফ পাহাড়সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পিতা আবুল ফজল এবং মাতা বুলবুল আক্তার।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মােঃ আলীর সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বের বিভিন্ন মামলা ও অভিযোগের তথ্যও রয়েছে। এর মধ্যে দ্রুত বিচার আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা মামলার উল্লেখ রয়েছে।
মাদক ব্যবসার অভিযোগে চারজনের নাম তালিকায়
মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পুলিশের তালিকায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—
১. আরমান রয়াতী প্রকাশ আরমান বয়াতী (২৭), পিতা আব্দুল কাদের, স্থায়ী ঠিকানা শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার নাউডোবা এলাকা; বর্তমানে ঢাকার মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজার এলাকায় বসবাস করেন।
২. মো. শামীম (৩০), পিতা নুরুল আমিন, মঠবাড়িয়া উপজেলার ওয়াহেদপুর, জেলা পিরোজপুর।
৩. মো. রাকিব (২৫), পিতা আবুল কাশেম, চরফ্যাশন উপজেলার ভূইয়ারহাট, জেলা ভোলা।
৪. মোহাম্মদ ছলিম উল্লাহ (৩২), পিতা খুইল্যা মিয়া, রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের পূর্ব মুরাপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের সরবরাহ করা বিবরণে তিন লাখ (৩,০০,০০০) ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের তথ্য রয়েছে। তবে এই ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা কোন স্থান থেকে, কখন এবং কোন ব্যক্তির কাছ থেকে সংঘটিত হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
মাদক সেবনের অভিযোগে সাতজন গ্রেপ্তার
মাদক সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার সাতজন হলেন—
১. অপু দত্ত (৪২), বর্তমানে কক্সবাজার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পেশকারপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।
২. রনি বড়ুয়া (২৩), উখিয়া উপজেলার পশ্চিম মরিচ্চা এলাকার বাসিন্দা।
৩. সৃজন বড়ুয়া (২৫), রামু উপজেলার মেরংলোয়া এলাকার বাসিন্দা।
৪. হোসেইন আহমেদ (১৯), তাঁর দেওয়া ঠিকানায় খুলনা জেলার দৌলতপুরের উল্লেখ রয়েছে।
৫. মো. আরাফাত হোসেন (২২), কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম কুতুবদিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
৬. মো. ইউনুস (২২), টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা এলাকার বাসিন্দা।
৭. মো. সেলিম (৪৫), তাঁর দেওয়া ঠিকানায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্র এলাকার উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টি পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ধর্তব্য অপরাধে গ্রেপ্তার আরও একজন
ধর্তব্য অপরাধে অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম জাহাঙ্গীর আলম (২৪)। তিনি কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কুতুবদিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পিতা মোহাম্মদ আলম এবং মাতা লায়লা বেগম।
অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত
কক্সবাজার পর্যটননগরী হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন এবং অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।