মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- কক্সবাজার শহর ও আশপাশের ইউনিয়ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনের লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী, মাদক সেবনকারী, বিভিন্ন মামলার আসামি ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ২ জন ছিনতাইকারী, ১ জন মাদক ব্যবসায়ী, ৩ জন মাদক সেবনকারী, বিভিন্ন ধর্তব্য অপরাধে ৮ জন এবং আদালতের পরোয়ানামূলে ২ জন আসামি। অভিযানের সময় একজন মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের এ অভিযান কক্সবাজার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তার দুই ছিনতাইকারী পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুই ছিনতাইকারী হলেন মো. সাইফুল ইসলাম (৩৯) ও সাখাওয়াত বিন কাইয়ুম ওরফে আকাশ (২৮)। সাইফুল ইসলামের স্থায়ী ঠিকানা মহেশখালীর বড়মহেশখালী এলাকার সাতঘরিয়া পাড়া। তিনি বর্তমানে কক্সবাজার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পেশকার পাড়া এলাকায় বসবাস করেন। অপরদিকে, সাখাওয়াত বিন কাইয়ুম ওরফে আকাশ কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের টেকপাড়া এলাকার বাসিন্দা। কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মােঃ আলী “ মানবাধিকার খবর “কে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় ২০১৮ ও ২০২৫ সালের দুটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, সাখাওয়াত বিন কাইয়ুম ওরফে আকাশের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর ও টেকনাফ থানায় বিভিন্ন সময়ে দায়ের করা একাধিক মামলার তথ্য রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা, অস্ত্র আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং অন্যান্য আইনের ধারায় দায়ের করা মামলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ৩৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার অভিযানে মেহেদী হাসান হৃদয় ওরফে বাবু (২৫) নামে এক ব্যক্তিকে মাদক ব্যবসার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কলাতলী লাইট হাউজ পাড়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর কাছ থেকে ৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। মাদক সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩ জন অভিযানে মাদক সেবনের অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন সুমন ধর (৪০), রিসু কান্তি দে (৪১) এবং মিলন কান্তি দাশ (৫৫)। তাঁদের বাড়ি কক্সবাজার শহরের ঘোলদীঘির পাড়, বড় বাজার ও আশপাশের এলাকায়। বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ৮ জন পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন ধর্তব্য অপরাধে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—
১. মুরাদ হাসান মাহি ওরফে কালু (১৯)
২. নিরব হোসেন সাগর (২১)
৩. মো. একরামুল হক (৩২)
৪. আব্দুর রহিম (২৬)
৫. মোজাহারুল ইসলাম (২৮)
৬. মো. আবু তাহের ফাহিম (২০)
৭. মো. জমির উদ্দিন (৪০)
৮. আক্কাছ উদ্দিন (২১)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের পাশাপাশি ঝিলংজা ও খুরুশকুল ইউনিয়ন এবং চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এলাকার বাসিন্দাও রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অপরাধের অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তার আরও ২ জন এ ছাড়া আদালতের পরোয়ানামূলে রাসেল ওরফে ডলার এবং জাহাঙ্গীর ওরফে ডন জাহাঙ্গীর নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাসেল কক্সবাজার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোনার পাড়া এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে, জাহাঙ্গীর পিএমখালী ইউনিয়নের বাংলা বাজার এলাকার দক্ষিণ নয়াপাড়ার বাসিন্দা। অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত কক্সবাজার শহর ও আশপাশের এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মাদক কারবার এবং অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এ ধরনের বিশেষ অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলার তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া মানেই কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন—এমন নয়; অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের মাধ্যমে হবে।