মােঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা:- কক্সবাজার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকায় চুরি-ছিনতাইসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ১১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মােঃ আলী “ মানবাধিকার খবর “কে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৬ জন মাদকসেবী, ৪ জন ধর্তব্য অপরাধে অভিযুক্ত এবং ১ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছেন। কক্সবাজার পৌরসভা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের এ বিশেষ অভিযানকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারকৃত মাদকসেবীদের পরিচয়
পুলিশের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, মাদকসেবী হিসেবে গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন—
১. শুভ দে (২২): পিতা মৃত রতন দে, মাতা ববিতা দে। ঠিকানা: হাসিনা পাড়া, ঈদগাঁও, হিন্দু পাড়া, ৫ নম্বর ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, কক্সবাজার সদর।
২. রানা ধর (২৩): পিতা মিন্টু ধর, মাতা কল্পনা ধর। ঠিকানা: জামিজুরি, দোহাজারী, চন্দনাইশ পৌরসভা, চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম।
৩. সুমন পাল (২৬): পিতা মিহির পাল, মাতা রুনু পাল। ঠিকানা: পাল পাড়া, ৬ নম্বর ওয়ার্ড, খুরুশকুল ইউনিয়ন, কক্সবাজার সদর।
৪. সজিব পাল (২৫): পিতা সুধাংশু পাল, মাতা রত্না পাল। ঠিকানা: পাল পাড়া, ৬ নম্বর ওয়ার্ড, খুরুশকুল ইউনিয়ন, কক্সবাজার সদর।
৫. মৃদুল রুদ্র (৩৯): পিতা হরিসাধন রুদ্র, মাতা কাঞ্চন বালা রুদ্র। ঠিকানা: রুদ্র পাড়া, ৬ নম্বর ওয়ার্ড, খুরুশকুল ইউনিয়ন, কক্সবাজার সদর।
৬. সুজন দাশ (৩৪): পিতা রবীন্দ্র দাস, মাতা শান্তি দাস। ঠিকানা: পূর্ব হিন্দু পাড়া, খুরুশকুল, কক্সবাজার সদর।
ধর্তব্য অপরাধে গ্রেপ্তার চারজন
ধর্তব্য অপরাধে গ্রেপ্তার চারজন হলেন—
১. মো. রাসেল (২০): পিতা আবদু শুক্কুর, মাতা জাহানারা বেগম। ঠিকানা: রাজার পাড়া, ফায়ার সার্ভিস রাস্তার মাথা, ৩ নম্বর ওয়ার্ড, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম।
২. রবিউল হাসান (২২): পিতা নাজিম হোসাইন, মাতা ছেনোয়ারা বেগম। ঠিকানা: দক্ষিণ মহাজের পাড়া, ৭ নম্বর ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা।
৩. মো. রাহেল সিদ্দিকী মাসকট (২৬): পিতা মৃত নবী হোসেন, মাতা নুর বাহার। ঠিকানা: পূর্ব পানখালী ওয়াকিয়া পাড়া, টেকনাফ, কক্সবাজার।
৪. মো. নাসির হোসেন (৩০): পিতা মৃত জামাল উদ্দিন, মাতা জোলেখা বেগম। স্থায়ী ঠিকানা: মাসুমপুর, তিতাস, কুমিল্লা। বর্তমানে বসবাস করছেন গাড়ির মাঠ, ঝাউতলা, ১১ নম্বর ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা এলাকায়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আগের মামলার তথ্য
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত মো. রাসেলের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দায়ের করা জিডি নম্বর ১৩৭৮-এ দণ্ডবিধির ২৯০ ধারার উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে, রবিউল হাসানের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
৬ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখের কক্সবাজার সদর থানার এফআইআর নম্বর ১১, জিআর নম্বর ১১; দণ্ডবিধির ৩৭৯/৪১১ ধারায় মামলা।
২৭ নভেম্বর ২০২১ তারিখের এফআইআর নম্বর ৬৩/৭০১; ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(ই) ধারায় মামলা।
১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখের এফআইআর নম্বর ৪৬, জিআর নম্বর ৭১৭; মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৮(২)/১১/১২/১৩ ধারায় মামলা।
উল্লেখিত মামলাগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এ তথ্যে কিছু বলা হয়নি। তাই অভিযোগ ও মামলার তথ্যকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিও গ্রেপ্তার এ ছাড়া ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে আরিফ উল্লাহ (২০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি অলি উল্লাহর ছেলে। তাঁর ঠিকানা উত্তর পেচার ঘোনা, সিরাজুল মোস্তফা বাড়ি, খুরুশকুল, কক্সবাজার সদর।অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান অব্যাহত কক্সবাজারের পর্যটননির্ভর অর্থনীতি, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে অপরাধীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের অভিযান চুরি-ছিনতাই, মাদকসেবন এবং অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে সর্বমোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযানের নির্দিষ্ট তারিখ, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানোর সর্বশেষ অবস্থা এবং পুলিশের পক্ষ থেকে পরবর্তী কোনো বক্তব্যের তথ্য সরবরাহ করা হয়নি।