বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   সারাদেশ
অবিরাম ভাঙছে পাহাড়-চা বাগানের টিলা, নেই স্থায়ী প্রতিরোধের ব্যবস্থা
  Date : 15-10-2026

এম এস জিলানী আখনজী,চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:-  হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সংরক্ষিত পাহাড়-টিলা এবং চা বাগানের উঁচু টিলা প্রতিবছর পাহাড়ি ঢল ও প্রবল পানির স্রোতে ভেঙে নদী-ছড়ায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে চা বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে পাহাড়, সড়ক, সেতু ও জনবসতিও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চললেও ভাঙন রোধে সরকারি-বেসরকারিভাবে কার্যকর ও টেকসই কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।স্থানীয়রা জানান, পাহাড় ও চা বাগানের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ছোট-বড় ছড়াগুলো দীর্ঘদিন ধরে বালু ও পলিতে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বর্ষা ও পাহাড়ি ঢলের সময় পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে না পেরে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রবল স্রোত সৃষ্টি করে। এতে পাহাড়ের পাড় ও চা বাগানের টিলা ধসে পড়ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়ক, সেতু ও বসতবাড়ি।ইতোমধ্যে চুনারুঘাটের সাতছড়ি টিপড়া আদিবাসী বসতি, সেতু, রামগঙ্গা সেতু, চা বাগানের বিভিন্ন সেতু এবং ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ ভাঙনের কবলে পড়েছে। কোথাও কোথাও বড় বড় টিলা ধসে ছড়ায় মিশে গেছে।সুরমা বাগানের টিংকু সাঁওতাল বলেন, ‘এ বছর পাহাড়ি ঢলে ২০ নম্বর নির্মাণাধীন সেতুর সংযোগ সড়কের মাটি পানির স্রোতে ধসে গিয়ে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কিবরিয়াবাদ সেকশনে বড় বড় টিলা ভেঙে ছড়ায় মিশে গেছে। সরকার বা বাগান কর্তৃপক্ষ—কেউই এগুলো রোধে এগিয়ে আসছে না। ছড়াগুলো খনন করে গাছ লাগানো হলে মাটি ধস অনেকটা রোধ করা সম্ভব।সাতছড়ি টিপড়া আদিবাসী পল্লির হেডম্যান চিত্ররঞ্জন দেববর্মা জানান, ছড়া খনন না করায় টিপড়া বস্তির পাঁচটি বসতবাড়ি ছড়ায় বিলীন হয়ে গেছে। একটি ছোট ফুটব্রিজও পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। ছড়ায় বালু জমে যাওয়ায় পানি ধারণক্ষমতা কমেছে। ফলে পাহাড় ও ছড়ার পাড় ভেঙে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে। পরিকল্পিতভাবে ব্যবস্থা না নিলে প্রতিবছর পাহাড় ধসে বড় ধরনের ক্ষতি হবে।চাকলাপুঞ্জি চা বাগানের অমর ভূমিজ বলেন, ‘চাকলাপুঞ্জি ও রামগঙ্গার ভাঙন দেখলে আমাদের ভয় লাগে। প্রতিবছর চা বাগানের বড় বড় টিলা ভেঙে যাচ্ছে। এবার ভাঙনে পুরাতন রামগঙ্গা মহাসড়কেরও ক্ষতি হয়েছে। কিছু অংশে পাকা করা হলেও অনেক জায়গা এখনো ভেঙে গেছে।চন্ডি ছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক সেলিমুর রহমান বলেন, চা বাগানের বিশাল এলাকায় টিলা ভেঙে যাচ্ছে। ছড়া খনন করে পানির স্রোত নিয়ন্ত্রণ করা গেলে পাহাড় ও চা বাগানের ভাঙন রোধ করা সম্ভব। বর্তমানে ভাঙনের তীব্রতা অনেক বেশি। এতে চা গাছ, সেতু, সড়ক ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) নেটওয়ার্ক সদস্য ওমাইয়া ফেরদৌস বলেন, পাহাড় ও চা বাগানের টিলা ভেঙে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ভাঙন রোধে সরকারকে টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে পাহাড়ি এলাকা ও চা বাগানের টিলাগুলো ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাবে।হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ বলেন, প্রতিবছর পাহাড় ও নদী ভাঙনের ঘটনা তাঁরা প্রত্যক্ষ করছেন। এ বছরও অনেক পাহাড়ি টিলা, চা বাগান ও সেতু ধসে গেছে। কিছু জায়গায় মেরামত করা হয়েছে। কীভাবে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করা যায়, সে বিষয়ে কারিগরি দিকও দেখা হচ্ছে।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 5
  
  সর্বশেষ
কক্সবাজারে সদর মডেল থানা পুলিশের অভিযানে ১৩ আসামি গ্রেপ্তার, ইয়াবা ও মোটরসাইকেল উদ্ধার
কক্সবাজারে মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ জন আটক, মোবাইল কোর্টে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা
কক্সবাজার জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬-এর প্যারেড পরীক্ষা সম্পন্ন
অবিরাম ভাঙছে পাহাড়-চা বাগানের টিলা, নেই স্থায়ী প্রতিরোধের ব্যবস্থা

Md Reaz Uddin Editor & Publisher
Editorial Office
Kabbokosh Bhabon, Level-5, Suite#18, Kawran Bazar, Dhaka-1215.
E-mail:manabadhikarkhabar11@gmail.com
Tel:+88-02-41010307
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-41010308