মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- কুমিল্লার সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার ফেসবুক পরিচয়ের সূত্রে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্ক এবং শেষ ফোনালাপের বিষয়টি। তাজমিনের সঙ্গে শেষ কথোপকথন ও তাদের সম্পর্কের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন প্রেমিক হিসেবে পরিচিত রাজু চৌধুরী। অন্যদিকে, পুলিশি তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডে অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়ার জড়িত থাকার তথ্য উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রাজু চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর তিনি তাজমিনকে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। ওই দিন রাতেই কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর তাজমিন তাকে ফোন করেন। ফোনালাপে তাজমিন জানান, বাসায় ফেরার পর মূল ফটক বন্ধ থাকায় তিনি ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না। এ সময় তিনি বাবাকে ফোন দেওয়ার কথাও জানান।
রাজুর দাবি, তাজমিনের সঙ্গে সেটিই ছিল তার শেষ ফোনালাপ। এরপর কী ঘটেছিল, তা তিনি জানতেন না বলে তার বক্তব্য থেকে জানা যায়।
শেষ ফোনালাপে কী বলেছিলেন তাজমিন?
রাজুর বর্ণনা অনুযায়ী, ফোনে তাজমিন বলেছিলেন, “মেইন গেট বন্ধ করে দিছে, এখন আমি বাসায় ঢুকতে পারতেছি না। আমার আব্বুকে কল দিচ্ছি।”
এই কথোপকথনের পর তাজমিনের সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি বলে জানান রাজু। ওই রাতের পর স্কুলছাত্রীর মৃত্যু ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
হত্যাকাণ্ডে রাজুর সম্পৃক্ততা নিয়ে পুলিশের বক্তব্য
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, তাজমিন হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় রাজু চৌধুরীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যের বিস্তারিত ও মামলার নথি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
পুলিশি তদন্তে এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়া (৩৫)-এর নাম উঠে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে তাজমিন কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় বাস থেকে নামেন। সেখান থেকে রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার জন্য তিনি একটি অটোরিকশা ভাড়া করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন তাকে গন্তব্যে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন ধানখেতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
আদালতে স্বীকারোক্তি, উদ্ধার আইফোন
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া তাজমিনের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া একটি আইফোনও তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি, জবানবন্দি এবং উদ্ধার হওয়া আলামত মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিচারিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।
একটি ফোনকলের পর থেমে গেল সব যোগাযোগ
একটি স্বাভাবিক ফোনালাপের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল তাজমিনের সঙ্গে রাজুর যোগাযোগ—এমনটাই দাবি করেছেন রাজু চৌধুরী। সেই কথোপকথনের পরপরই ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় স্বজন ও এলাকাবাসী।
একটি কিশোরী প্রাণের এমন নির্মম পরিণতি সমাজে শিশু-কিশোরীদের নিরাপত্তা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের গুরুত্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই তাজমিন হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ বিচারিক নিষ্পত্তি প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।