আদালত প্রতিবেদকঃ ইচ্ছাকৃত ভাবে হাঁটিয়ে পুলিশ তাকে সিঁড়ি দিয়ে ছয় তলায় তোলা এবং পেছন দিকে দুই হাতে হাতকড়া পরানো নিয়ে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক অভিযোগ করেন আদালতে।গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ-৪ রবিউল আলমের আদালতে জুলাই আন্দোলন মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলার চাজ শুনানিতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের অস্বস্তির কথা জানান।একই সঙ্গে সামনের দিকে হাতকড়া পরানোর আবেদন জানান পলক।মামলায় কারাগারে থাকা ১০ আসামির মধ্যে পলকসহ আটজনকে আদালতে হাজির করা হয়। তবে মামলার দুই আসামি সাজ্জাদ হোসেন ও নাইমুল হাসান রাসেলকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করায় তাদের উক্ত আদালতে হাজির করা হয়নি। এজন্য অভিযোগ বিষয় শুনানি পিছিয়ে ২৬ অক্টোবর দিন ধার্য করেছে আদালত । এই সময় পলক আদালতের অনুমতি নিয়ে বলেন, মাননীয় আদালত, এটা কী ধরনের সিস্টেম? লিফট চালু দেখলাম, তারপরও হাতকড়া পেছনে দিয়ে আমাকে ছয় তলা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো হয়েছে। আদালতের কাছে আমার অনুরোধ, মানবিক দিক বিবেচনায় রেখে হাতকড়া সামনে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।তখন আদালত বলেন, এটা আপনাদের নিরাপত্তার জন্যই।তখন পলক বলেন, এটা আপনার অথরিটি না, এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। হাতকড়া সামনের দিকে রাখলেই হয়।এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আনিচুর রহমান বলেন, তিনি যেটা আদালতে দাবি করেছেন, সেটা অনৈতিক।এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে পলক বলেন,‘আপনার থেকে আমার অবস্থান বেশি দূরে নয়।শুনানি শেষে পলককে লিফটে করে নিচে নামানো হয়। এ সময় হাজতখানায় নেওয়ার পথে পলক সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, লিফট শুধু আমাদের জন্য নষ্ট থাকে।মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা মোসাম্মৎ রীনা বেগম, শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে এ মামলাটি করেন।২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. আকরামুজ্জামান তদন্ত করে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন। এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২০ জন পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গত ২৬ জানুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।শেখ হাসিনা ছাড়াও পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু প্রমুখ।